বুধবার, ২৪ জুলাই, ২০১৯

মেঘের ফেরিওয়ালা



মেঘের ফেরিওয়ালা

মেঘ নেবে মেঘ? এই গ্রীষ্মে ঠান্ডা শীতল ছায়া দেবে যে মেঘ, গৃহপালিত একরত্তি মেঘ। এর শুধু আদর চাই, অনেক অনেক আদর। আদরের এই কাঙালের চাই ভেজা আদর, গোপন সোগাহে মাখা সেই অনাবৃত আদর যা সারা গায়ে পুরোটা মেখে নেবে লোলুপ মেঘ। এই সোহাগের আস্কারাতেই ফুরফুরে হয়ে ভেসে বেড়াবে সে, তোমার আকাশ জুড়ে। যে আকাশে তোমার সুপ্ত কামনার নীলরং ছড়ানো, তোমার ব্যাক্তিত্বের লাল দ্বীপ্তি ছড়ানো সূর্যের সামনে নির্দ্বিধায় ভেসে বেড়াবে এই মেঘ, তোমারই প্রেষণে। যদি কখনো তোমার মনে হতাশার শূন্যস্থান বাসা বাঁধে, মেঘকে বোলো; সে নিন্মচাপের ঘূর্ণি দিয়ে উড়িয়ে নেবে সকল হতাশা। 

ভিনদেশ থেকে বয়ে আনা টাটকা বাতাস ভরে দেবে প্রানে, যা শীতলতার স্বাদ দেবে। এই শীতলতা মৃত্যুর মত শীতল নয়, আমার এই মেঘ মৃত্যুকে উপেক্ষা করেনা বরং তাচ্ছিল্য করে। “মৃত্যু তুমি সত্য বলে আমি মেঘ দমে যাব কেন! আমিও বাঁচব পুরোটা জীবন আত্মভূত করে- যাতে আমার দয়িত, স্বচ্ছন্দের আশ্রয় পাবে”- এটাই মন্ত্র মেঘে’টির। ক্লান্ত রাত্রে মেঘের বিছানাতে গা এলিয়ে যদি কখনো মনের কথা শোনাও তাকে, যেটা তোমার ভীষণ গোপন- জেনো মেঘে চুলে বিলি কেটে দেবে পরম মমত্বে; যাতে তুমি প্রবোধ শান্তিতে ঘুমাতে পারো, সকল কিছু ভুলে। জানো, সেই হাওয়ার চাদরের সাথে মেঘের খুবই মিতালী; যে চাদরে অজানা বুনো ফুলের সুগন্ধ মাখা, অজস্র তারার ফুলকারি নক্সা চাদরের আঁচল জুড়ে। 

এই চাদরে একটিবার নিজেকে মুড়ে নিলেই, সেই রামধুনু মাখা স্বপ্নের রাজ্যে যাবার ছাড়পত্র মেলে অনায়াসে। মেঘের পিঠে চড়েই যেখানে যাওয়া যায়; যেখানে গোলাপি হলুদ পাখিরা পরী’দের গান শোনায়, সেই পরীরা যাদের রূপের চ্ছটায় চাঁদে জ্যোৎস্না লাগে। ঐ পরীদের বিষাদে অমানিশাতে ডেকে উঠে কর্কশ রাতচড়া খেচরেরা। আচ্ছা তোমার কি বিষাদও আছে? থাকলে মেঘকেই বলে দিও, সে সবকিছু শুষে নেবে যাবতীয় কালিমা; তারপর হাউহাউ গর্জনে কেঁদে ঝরে পড়বে। 

যদি ক্রোধ থাকে সেটাও তাকেই বোলো, বিদ্যুতের ঝলকানি রূপে আছড়ে ফেলবে কোনো অজানা প্রান্তরের কোনো সুউচ্চ তরুদ্রুমে, অতঃপর সেই ভীষণ ক্রোধ জ্বলিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দেবে যাবতীয় অশুভ। বড় গুণের কারুশিল্পী এ মেঘ জানো! সবই আছে জানো এ মেঘের, শুধু মানবীয় অনুভূতিটুকু নেই। খুনসুটিতে পারমীর নয় এ মেঘ, না পারে অনুরাগ আসঙ্গ দিতে। শুধু নেয়-

আচ্ছা আমি যদি মেঘ হই! আমিতো তোমার মতই সত্তা, আমাকে গ্রহণ করবে প্রিয়!

খেয়ালপত্র



খেয়ালপত্র

আতু তোমারে-

সেদিন বিষ্যুধবার বারবেলা, আকাশ জুড়ে চোখধাঁধানো রঙধনুরই মেলা। পেঁজা তুলো বারিদবরণে গোটা নীলাকাশ ছাওয়া, গুণগুণ সুরে তোমারে দেখিয়া হঠাৎ দুকলি গাওয়া। অনেক দিনের জমানো ব্যাথা হৃদিমাঝে অভিঘাত, শুষ্ক আঁখি শুকায়ে রুধির হারায়েছে যেন খাত।

প্রতীক্ষা আতু.... প্রতীক্ষা... আজও, অনাদি অনন্ত; সেদিন কি আর জানতেম আমি, স্থগনেতে এলি পান্থ।

আসিয়া দাঁড়ালে ভীরু ভীরু চাহি কম্পিত তনুকায়া, আলতা রাঙানো মুখেতে সহষা তমসা ঘনের ছায়া। চন্দ্র ললাটে স্বেদবিন্দু, শাসনের ভ্রূকুটি; মনের অতলে প্রেমঅধিকার, দ্বন্দ্ব উঠিছে ফুটি। আলতো করিয়া ঠোঁটের স্পর্শ, অতল জলের আহ্বান, ভরাট সমাজে লোকলাজ সব টুটিয়া খানখান। জড়তা মাখানো কন্ঠে তখন সোহাগের আখ্যান, এমনই দিবসে ছ-সন পূর্বে মিলিছিল দুই প্রাণ। কালের নিয়মে নিয়তির কোপে- ঘেরে বিচ্ছেদ সুর, স্বদেশ ছাড়ায়ে আপনা ভুলিতে পাড়ি দেওয়া বহুদূর। চিরঋণী করে কিভাবে নাজানি রহিয়াছো ধীরলয়ে, এতদিনে কি একটিবারও যায়নি চিত্ত বয়ে? আমাপানে!

কখনও যদি ভালোবাসা পায়, জেনে রেখো আমি আছি; উন্মাদ মাঝি- প্রেমের নোঙর, স্বপ্ন ডিঙার কাছি।

বেহায়ার মত জিতিয়াই গেলে, আমিও হারিনি নিত্য; তোমার বিজয়ে আমারও কুলায়, জেনো এ চির সত্য। অনুরক্তির চাদরে মুড়িয়া রাখিছিলে তুমি সদা, বাদল দিনের নির্জনতায় তুমিই প্রিয়ম্বদা। বন্ধু হইয়া আসিছিলে, সাজায়ে গেছো জীবন; ঠোঁটের কোনের লাজুক হাসি, স্বপ্নে সারাক্ষণ। বুকফাটানো আর্তনাদে কাঁদিতে চাই যে খুব, লক্ষ সংস্রবের ভিড়ে, তোমাতেই দেব ডুব। দূর আকাশে তোমার ডানায় ভাসব দেশান্তরে, তোমার রাজপুত্র হব পক্ষিরাজে চড়ে। আমার সকল কবিতাতে ছন্দ হয়ো তুমি; বৃষ্টি হয়ে ঝরার ছলে, আমায় যেও চুমি।

মনের অবচেতন জুড়িয়া ‘তুই’ ই যত্রতত্র; লুকায়ে খোঁজা সত্তা’রে মোর, তাইতো রচি পত্র।

~ইতি

-তোমার প্রেম

।অবসর বাটিকা, দেওঘর। ২৮শে বৈশাখ ১৪২৫ সন। অপ্রকাশিত 'হা-ঘরে' কাব্যগ্রন্থ হইতে। ২৩৫ শব্দ।

রবিবার, ৭ জুলাই, ২০১৯

অকপটে সাহিত্য বাসর

 


"কস্য ফেসবুক পরগণাস্থিত গ্রুপ এস্টেটের রায়তস্থিতিবান অকপট তফসিলস্থ সাহিত্য বাসরং পত্রমিদং কার্যাঞ্চাগে মিদং"

সোপর্দ হইতেছে যে, কলমচি বাবুদের তরফে ছাত্রিক জীবনসম্বন্ধীয় রচনার স্মৃতিচারণ দলিল- খতিয়ানের উপযুক্ত দাগ, মৌজা উল্লেখ সহ অকপটস্থ কাছারির শামিয়ানাতে নায়েবদের নিকটে প্রেরণ করুন। রায়তলেখক গোষ্ঠীকুলশীলদের মধ্য হইতে তালুকদার, জায়গীরদার, জমিদার, ভূইঞা সহ সকল শ্রেনীর লেখকদের আহ্বান করা হইতেছে।

যেথা উপাখ্যানের পর্চাখানি রায়তবান কতৃক সর্বসমক্ষে উল্লেখিত হইবেনা, লিপিকার সরাসরি অকপটের খাজাঞ্চী মহাশয়ের নিকটে উহা তার মারফৎ প্রেরণ করিবেন। অকপট মুন্সি ও জমাদারেরা প্রত্যহ সান্ধ্যকালীন নির্দিষ্ট সময়ে একটি একটি করিয়া অকপটুদের সম্মুক্ষে অনাবৃত করিবে, মাসাধিকাল যাবৎ।

দপ্তরীবর্গ যদি কোনো প্রকারের দেওয়ানী বা ফৌজদারি অপরাধমূলক গতিবিধির প্রামাণ্য সংবাদ পান লস্করদের হইতে, সেক্ষেত্রে কোটাল কাছারির চৌকিতে সালিশি মাধ্যমে পরিস্থিতির পক্ষে/বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

অকপটুদের মধ্যিহতে মগ, ফিরিঙ্গি বা বর্গি হানাদারদের ন্যায় হামলার আশঙ্কা দেখা দিলে, সেই ষড়যন্ত্রও কড়াহস্তে দমন করা হইবে। অকপটের নিজস্ব পাইক বরকন্দাজ সদা সতর্ক।
শ্রেষ্ঠ তিন কলমচাষাকে পুস্তক পরিতোষিক দিয়া সম্মান প্রদর্শন করার ব্যবস্থাপনাও রইয়াছে।

অতএব স্মৃতির কুলুঙ্গি ঘ্যাঁটিয়া, তোরঙ্গ তছনছ করিয়া, আপনি পরিবেশন শুরু করিয়া দিন।
বুভুক্ষু পাঠককুল আবেগের খঞ্চা, প্রশংসার নৌকা, সমালোচনার ডেকচি লইয়া প্রস্তুত রহিয়াছে।

মুসাবিদাঃ হকসাহেব

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...