রাজ্যে লকডাউন উঠে গিয়ে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরলেই আবার ৫টি কেন্দ্রে বিধানসভা উপনির্বাচনের দামামা বেজে যাবে। সামসেরগঞ্জ ও জঙ্গীপুর কেন্দ্রে ভোটের আগেই প্রার্থী মারা যায়, সেখানে নির্বাচনই হয়নি। খড়দহে ফলপ্রকাশের আগেই জয়ী প্রার্থীর মৃত্যু ঘটে। দিনহাটা ও শান্তিপুর কেন্দ্রে জয়ী প্রার্থীরা পদত্যাগ করেছে।
২০১৯ লোকসভায় এই কেন্দ্র গুলোতে গত দলের ভোট কত ছিল, দেখে নেওয়া যাক।
- দিনহাটা, ফঃবঃ- প্রাপ্ত ভোট ৬০৩৭, ২.৬২%,
- জঙ্গীপুর, সিপিএমঃ- প্রাপ্ত ভোট ৯৯২৭, ৫.০৯%
- সামসেরগঞ্জে কংগ্রেস প্রার্থী ছিল, NO Data
- শান্তিপুর, সিপিএমঃ- প্রাপ্ত ভোট ১১৬২৮, ৫.৫০%
- খড়দহ, সিপিএমঃ- প্রাপ্ত ভোট ২০০৬৯, ১১.৪০%
২০২১ নির্বাচনে ৫টা আসনে সংযুক্ত মোর্চার তরফে ৩টে আলাদা আলাদা দলের কোনো প্রার্থীর জামানত বাঁচেনি।
- দিনহাটা, ফঃবঃ- প্রাপ্ত ভোট ৫৯১৬ ভোট, ২.৪৯%
- শান্তিপুর, কংগ্রেসঃ- প্রাপ্ত ভোট ৯৭২৫, ৪.৪৮%
- খড়দহ, সিপিএমঃ প্রাপ্ত ভোট ২৬৭৩০, ১৪.৭০%
- সামসেরগঞ্জে ভোট হয়নি
- জঙ্গীপুরে ভোট হয়নি
এই হচ্ছে পরিসংখ্যান।
২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে আমাদের দলীয় ইস্তেহারে উল্লেখ ছিল পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য আলাদা দপ্তর খোলা হবে। ভোটে আমরা না জিতলে কী হবে, আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি পূরণে অটল আছি, সেই বার্তা পরিষ্কারভাবে দেওয়া দরকার। পাশাপাশি ‘পরিযায়ী শ্রমিক সংগঠন’ নামের গণসংগঠন তৈরি করা হোক কেন্দ্রীয় ভাবে, যারা ব্লকে ব্লকে ইউনিট বানিয়ে পরিযায়ী শ্রমিক ও তাদের পরিবারের পাশে থাকবে নানা দাবী-দাওয়া বিষয়ে।
রাজ্যের সবচেয়ে বেশি পরিযায়ী শ্রমিক কোচবিহার জেলার, তার পরেই মুর্শিদাবাদ জেলা। সুতরাং, এই দুই জেলার ৩টে আসনের প্রতিটিতে মানুষের মতিগতি বুঝে নেওয়ার স্বার্থে- পরিযায়ী শ্রমিক কিম্বা তাদের পরিবার থেকে প্রার্থী দিতে হবে। এরাই তো আমাদের শ্রেণী, এরাই তো পার্টির পাঁজর, এদের জন্যই তো সংগ্রাম।
‘রেড ভলেন্টিয়ার্স’ শেষ কয়েক দশকের ভিতরে, বাম প্রচার দলের আশ্চর্য আবিষ্কার। তাদেরই দাবী অনুসারে- ২০২১ ভোটের ফল বের হওয়ার দিনে যেখানে মাত্র ২০০০ সদস্য ছিল, ১৭ই মে তারিখ পর্যন্ত তা নাকি লক্ষের সীমা ছাড়িয়েছে। এত দ্রুত ভলেন্টিয়ারের সদস্য বৃদ্ধি, গোটা বিশ্বে এক ঐতিহাসিক নজির সৃষ্টি করেছে। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে আলোড়ন সৃষ্টি করে- ব্রিটেনের সংবাদপত্রেও ‘রেড ভলেন্টিয়ার্স’ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়েছিল।
গোটা বিষয়টা পার্টিকর্মী ও অজস্র দলীয় সমর্থকদের মাঝে চরম উন্মাদনা সৃষ্টি করেছ। সাধারণ মানুষ সহ বিরোধী পক্ষও ভীষণ ভাবে স্বাগত জানিয়েছে এবং চরম উৎসাহ দিচ্ছে। তথাকথিত মেইনস্ট্রিম মিডিয়া যারা কার্যত বামেদের অচ্ছুত করে রেখেছিল- তারাও দেখাতে বাধ্য হচ্ছে। মাত্র ১৫ দিন আগে ভোটের ফলাফলে ‘শূন্য’ পাওয়া একটা দলের জন্য এ এক আশ্চর্য চাঁদমারি।
এমতাবস্থায় গোটা রাজ্য তথা দেশের কাছে ‘রেড ভলেন্টিয়ার্স'কে স্বীকৃতি দিতে, সমর্থক ও কর্মীদের উৎসাহ শতগুণ বাড়িয়ে তুলতে- পুরসভা বিশিষ্ট শান্তিপুর বিধানসভা কেন্দ্র, এবং কোলকাতা সন্নিহিত খড়দহ কেন্দ্রে- পরিচিত রাজনৈতিক কর্মীদের বদলে, আক্ষরিক অর্থে রাস্তায় থাকা পরিশ্রমী ‘রেড ভলেন্টিয়ার্স’ এর মধ্য থেকে ক্যান্ডিডেট বেছে নেওয়া হোক।
এখন যদি পার্টি নতুন ভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে তো কবে করবে! এদের ভোটের ময়দানে নামিয়ে সরাসরি রাজনৈতিক লাভ যদি না নেয় তো কবে নেবে? সুতরাং এখন থেকেই পরিকল্পনা করে প্রার্থী বাছাই করে নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া হোক, যাতে বিধানসভায় একটিও বাম মুখ দেখতে পাওয়া যায়, শূন্যের লজ্জা কাটিয়ে।