মাতৃত্বের মর্ম উপলব্ধি করতে হলে 'মা' হতে হয়, যাত্রা পার্টির সং সাজা হিংস্র বর্বর চোর-খুনি-ধর্ষকদের দিয়ে তৈরি মামা-টিমা-নুষ নয়।
কোনো এক অজানা কারনে হঠাৎ করে ভাবনাস্থল গর্ভবতী হওয়ার কারনে অক্ষরের রূপে প্রসবিত কিছু প্রলাপের সংকলন এই ঠেক। গুনী লেখকের সমৃদ্ধশালী লেখনি পড়তে পড়তে, অক্ষমের প্রয়াসে কম্পিউটারের কিবোর্ডে হাত চলে যায়। ফল স্বরূপ, ঘটে চলা রাজনীতি, সমকাল, মানবিক বিকার, সময়চর্চা, ছ্যাঁচোর এর মত রিকেটগ্রস্থ লেখনীর জন্ম হয়। এরই রেশ ধরে সময়চর্চা, রবিবাসরীয়, সমকাল সহ রম্য, রচনা, গল্প ইত্যাদি ভুলভাল গুলোকে সংরক্ষিত করা হয়েছে এই টোলে। এটা সমমনষ্ক মানুষদের ভাব বিনিময়ের স্থান। উন্মাদের টোলে সকলকে স্বাগতম জানাই।
শুক্রবার, ২২ এপ্রিল, ২০২২
হাঁসখালি
শনিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২২
বর্তমান পশ্চিমা সভ্যতার পতন ও উত্থান
বর্তমান বিশ্বের চলমান রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ দেখে যেটা মনে হচ্ছে- গণতন্ত্রের নামে বর্তমানে দেশে দেশে যে প্রহসন চলছে, তার এক মর্মান্তিক অবসান হতে চলেছে অতিশীঘ্র।
যারা ইতিহাস জানেনা বা বিস্মৃত- তারা আমাকে পাগল বলতেই পারেন, কিন্তু সত্যটা হলো আধুনিক গণতন্ত্র কিন্তু দ্বিতীয়
বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী একটা শাসনব্যবস্থা, যার বয়স মেরেকেটে সর্বোচ্চ ৮০ বছর। এর মাঝে আমরা যাকে গণতন্ত্রের ধ্রুবক
হিসাবে মানি সেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫২টা রাজ্যের মধ্যে গত ১০০ বছরে সরকার
পরিবর্তন হয়নি এমন রাজ্যের সংখ্যা ৩৬, বুঝে যান কেমন গণতন্ত্রের চাষ হয় সেখানে। এর পর গোটা বিশ্বজুড়ে সামরিক
অভ্যুত্থান লেগেই আছে দেশে দেশে।
মজা হলো, বিশ্ব পরাশক্তিদের আজ্ঞাবহ
দাসানুদাস না হলে আপনি যতই জনগণের ভোটে নির্বাচিত হননা কেন- আপনার সরকারকে ফেলে
দেবেই দেবে। এর উদাহরণ নিষ্প্রোয়োজন। আমরা যে সভ্যতার ধ্বজা উড়িয়ে চলছি- সেই
ব্রিটেনে আজও রাজতন্ত্র স্বমহিমায় বিরাজমান। তথাকথিত কমিউনিস্ট শাসিত দেশ গুলোতে
অন্তত "গণতন্ত্র" ছিল বলে কেউ অন্তত বদনাম দেবেনা, এখানে পলিটব্যুরো তন্ত্র চলে।
ইতিহাসে উল্লেখিত প্রাচীন গ্রীক বা রোমে যে গণতন্ত্র ছিল, তার সাথে আজকের দিনে যে সব গণতন্ত্রের প্রাক্টিস হচ্ছে
তার সাথে কোনো মিল নেই। এথেনিয়ান গণতন্ত্রের জনক 'ক্লিসথেনিস' এর যে ফান্ডা
ছিল তার সাথে আধুনা পশ্চিমা সভ্যতার সৃষ্ট এই গণতন্ত্র আসলে একটা মস্ত বড় ধোঁকা-
যা আজকে দেশে দেশে প্রমানিত।
বর্তমান পশ্চিমা সভ্যতার যে দর্শন, তার জনক এ্যারিস্টটলের "পলিটক্সে" বর্ণিত গণতন্ত্র সম্বন্ধে
ধারনা,
কিম্বা তাঁর গুরুদ্বয়- প্লেটো ও সক্রেটিস, কিম্বা তারও আগে মেটাফিজিক্স এর জনক ডেমোক্রেটাস- এদের
কারোর কথিত গণতন্ত্রের চর্চা আজ কোথাও হয়না।
প্রসঙ্গত বলে রাখি- এই মেটাফিজিক্সের 'মেটা' কে ইউনিভার্সের সাথে জুড়েছিলেন
উপন্যাসিক নীল স্টিফেনসন তার কল্পবিজ্ঞান বই "স্নো ক্রাশ" উপন্যাসে। আর
আজকের ফেসবুক কর্তা সেখান থেকেই মেটা শব্দটিকে নিয়ে তাদের কোম্পানির নাম রেখেছে।
যাই হোক,
প্রসঙ্গে ফিরি...
গণতন্ত্রের নামে আজ আমাদের পড়শী দেশ গুলোর হালত দেখুন, শ্রীলঙ্কায় রাজাপক্ষেতন্ত্র, বাংলাদেশে বিরোধী বল্লেই কল্লা কেটে যাবে, পাকিস্তানের মত টয়লেটের কথা নাইবা বললাম। নেপাল তথৈবচ, আফগানিস্তানে তালিবান।
আমাদের দেশে?
তীব্র ধর্মীয় মেরুকরন আর লুটেপুটে খাওয়া। বাকিটা বললে দেশদ্রোহী তকমা জুটতে
সময় নেবেনা, পদবী দেখে গন্ধবিচার চলছে যখন, বালবাচ্চা আছে ঘরে।
রাজ্যে- জনগণ কোথায়! কিছু চোর চাট্টা আর গায়ক নায়ক তাদের বিকল্প কিন্তু
নিশ্চিত রোজগারের প্রকল্পে লুঠতরাজ চালাচ্ছে গণতন্ত্রের নামে।
গণতন্ত্রের যে মূল পিলার- সেগুলোর প্রতিটা আজ দেশে দেশে ধর্ষিত।
১) ফ্রিডম অফ অ্যাসেম্বলি- আপনার ক্ষমতা নেই ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে গিয়ে খুব বেশি সভাসমাবেশ করার। লোক দেখানি কিছু অনুমতি দিলেও সেটাও থাকে কঠোর নজরদারির মধ্যে।
২) বাকস্বাধীনতা- সত্য বললেই জেলে চালান ও বিনা বিচারে জীবন শেষ। চাটুকার হও, রাষ্ট্রীয় জামাই সেজে মন্ডা খাও।
৩) ভোটের অধিকার- ভোটের নামে যে কি হয়, তা আমাদের পশ্চিমবঙ্গ বাসীর চেয়ে এই তামাশার মর্ম আর কে বেশি জানে।
৪) নাগরিকত্ব- সংখ্যালঘু মানেই তাদের খেদাও, এটাই বিশ্বজুড়ে চলছে প্রতিটা গণতান্ত্রিক দেশে, সেটা ভারতে NRC নামে হোক বা বাংলাদেশে মালাউন হত্যা কিম্বা মিয়ানমারে রোহিঙ্গা- সীমানা বদলালেও অত্যাচারের ভাষা বদল হয়না।
৬) সংবাদ মাধ্যম- বিষয়টাই এতোটা হাস্যকর যে এ নিয়ে আর একটা শব্দও যদি লিখি- লেখাটারই গুরুত্ব হারিয়ে যাবে যদি সামান্যতম গুরুত্বও থেকে থাকে।
তাহলে ভবিষ্যৎ কি?
ডেমোক্রাটাস, পিথাগোরাস সহ
অনেকেই সেকালে নতুন আমদানী "ডেমোক্রেসি" কে একটা মেটা বা কল্পনা বলে
বর্ননা করেছিলেন। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে মনে হয়না তারা খুব ভুল ছিলেন। ইয়ে, সেই পিথাগোরাসই, যার উপপাদ্য করেছিলাম। আসল গণতন্ত্র সত্যিই একটা সোনার পাথরবাটি- যাকে
নিঃসন্দেহে মেটা বলাই যায়। গণতন্ত্রের নামে দুর্নীতি আর জনগণকে ধোকা দিয়ে শোষণের
একটা নতুন পন্থা চলছে সমাজে।
আমার মতে ইউক্রেন যুদ্ধর ফলাফল- সভ্যতার এক মাইলফলক হতে যাচ্ছে। যদি
ন্যাটো-মার্কিন জোট টিকে যায় তাহলে গণতন্ত্র নাম নিয়ে থাকলেও
"ডেমোক্রেসি" শব্দটা আরো কয়েকদশক টিকে থাকবে। কারন মার্কিন সভ্যতার এটাই
অন্যতম হাতিয়ার।
আর যদি রাশিয়া জেতে, দীর্ঘমেয়াদি কাল
হলেও- সেক্ষেত্রে অটোক্রেসি খুব দ্রুত বিশ্বকে গ্রাস করবে। একদিকে পুতিন অন্য দিকে
জিংপিং। এর মাঝে মোদী-মমতারাবতো আছেই যারা একনায়কতন্ত্র চালাচ্ছে গণতন্ত্রের চাদর
গায়ে। এর মাঝে প্রযুক্তিগত ভাবে শীর্ষে থাকা ইজরায়েলের লক্ষ্যই "One world
order" নামে এক নায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা।
আমাদের এই তথাকথিত যে ভার্চুয়াল দুনিয়া, এটাও রাতারাতি বদলে যাবে যদি ন্যাটো ভেঙে যায়। মার্কিন আধিপত্যে থাকা
সেন্ট্রালাইজড ডাটাবেস যুক্ত ইন্টারনেট পরিসেবার রাতারাতি বিলুপ্তি ঘটবে। ঠিকিই
পড়ছেন,
আজকের এই গুগুল, ফেসবুক, মাইক্রোসফট সহ সব বিগ বুল কোম্পানি অপ্রাসঙ্গিক হয়ে ঝাঁপ বন্ধ করে
দিতে বাধ্য হবে- আর এটা আগামী ৫ বছরের মধ্যেই হয়তবা হতে পারে। তার বদলে কৃত্রিম
বুদ্ধিমত্তা যুক্ত ওপেনসোর্স ডিসেন্ট্রালাইজড ব্লকচেইন সিস্টেম ইন্টারনেট এর সূচনা
হবে।
হ্যাঁ সেই ব্লকচেইন- যা দিয়ে ক্রিপ্টোপারেন্সি তৈরি হয়।
আসলে কিছুই কাকতালীয় বা সমাপতন নয়, সবটাই একটা বৈশ্বিক প্রোগ্রামিং এর ফসল।
তাহলে কি দাঁড়ালো!
খাদের কিনারাতে- ডেমোক্রাসি, সেন্ট্রালাইজড ডেটাসেন্টার যুক্ত ইন্টারনেট যুগ, ডলার ও পশ্চিমা সভ্যতা, সাদা চামড়ার প্রভুত্ব।
আগামী পৃথিবী = অটোক্রেসি বা ব্যুরোক্রেসি, AI নির্ভর ব্লকচেইন
ওপেনসোর্স ইন্টারনেট, ক্রিপ্টোকারেন্সি
ও এশিয়ান দাদাগিরি।
আপনি কি মনে করেন?
তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না
⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...
-
ছোটবেলায় বাবা বলতেন "শাগ খেলে বাঘের বল"। যদিও তিনি ওটাকে শাকই বলতেন আমরা কচি কানে বাঘের সাথে মিলিয়ে শাগ শুনতাম। এহেন পরিস্থ...
-
(১) জাতীয় ডিম্ভাত দিবস ১৯৯৩ সালের ২১শে জুলাই এর জমায়েত কী উদ্দেশ্যে হয়েছিলো জানেন? তোলামূলের রাজ্যে না জানাটাই আপনার অধিকার। ভোটার তাল...