তৃণমূল, রাজনৈতিক পোশাক পরিহিত একটা নৈরাজ্যবাদী সংগঠন।
সুতরাং, আজ যে লোকটা তৃণমূল দলের সাথে সম্পৃক্ত, কাল দুম করে সে দল ছেড়ে দিয়ে বসে যাবে বা বিরোধী দলের হয়ে যাবে- এমনটা কখনও হবেনা।
সুতরাং, গান্ধীবাদী আন্দোলনের পথে প্রতিবাদ হলেই যে রাজ্যজুড়ে সমস্ত তৃণমূলীর বিবেক জাগ্রত হয়ে যাবে, তারা মরমে মরে যাবে এমনটা ভাবা নির্বোধের পরিচয়। কশাইকে রোজ হত্য করতে হয় তার পেট চালাতে, এই হত্যাতে তার কোনো পাপবোধ নেই, বিবেকের কাছে কৈফিয়ত দেবার কোনো দায়ও থাকেনা, তাতে যতই সে রক্তপাত ঘটাক। তৃণমূল দলের প্রতিটা সদস্যও তাই, বিবেক নেই, নৈতিকতা নেই, এদের কাছে আতুপাতু আন্দোলন বা বিপ্লব মূল্যহীন।
বিগত ১৩ বছর ধরে চুরি চামারি করে বসে খেয়েছে ও খাচ্ছে প্রতিটি তৃনমূল সদস্য, আজ হঠাৎ সেই আয়েসের হারাম রোজগারে বাঁধা এলে, এরা প্রত্যেকে হিংস্র হয়ে উঠবে। পুলিশ লেলিয়ে দেবে, আদালতের ফাঁকফোঁকর খুঁজে সেখানে বেঁধে রেখে দেবে। আলাদা করে দুষ্কৃতী বা গুন্ডা লেলিয়ে দেবার দরকার নেই, প্রতিটি তৃনমূল ঘোষিত গুন্ডা। চোর বা সমাজবিরোধী হিসাবে পাড়া লেভেলে প্রতিষ্ঠা না পেলে কাউকে দলে নেয়না তৃনমূল।
ওরা আন্দোলনরত প্রতিটি ব্যাক্তির কাছে আতঙ্কের আবহ সৃষ্টি করবে। বিরোধী নেত্রী মমতা ব্যানার্জির উত্থানই নৈরাজ্য সৃষ্টি করে। বিধানসভা ভাঙচুর যাদের সর্বোচ্চ কীর্তি, বাকি অপরাধের হিসাব আর দেবার দরকার লাগে কী! ভোটের সময় একমাত্র ২৯৪ আসনে সবক্ষেত্রেই মমতা, বাকি সারাবছর বাংলাজুড়ে মমতার অস্তিত্ব নেই,
এখানে প্রত্যেকটি বুথে এক একজন মমতা রয়েছে, এরাই তোলাবাজি ও থ্রেট সিন্ডিকেটের একক। রাজ্যের ৮০৪৫৩ টি বুথের, এই প্রতিটি দুর্নীতির একক মিলে একটা কালীঘাটের নেত্রী, বখরার সিংহভাগ যায় যার একাউন্টে। ভাইপো হলো কালেকশন এজেন্টদের পাতি শীর্ষনেতা।
আজকের দিনে মমতা ব্যানার্জী শুধু পুলিশ নিয়ন্ত্রণ করে, আর প্রতিটি বুথের গুন্ডারা ও তাদের মাথারা মমতাকে নিয়ন্ত্রণ করে।
কিন্তু পুলিশ কেন এদের হয়ে কাজ করে? কারণ পুলিশের ওপর তলা থেকে নিচের তলা অবধি দলদাসে ভর্তি করে ফেলেছে। অধিকাংশ থানা গুলো এই দুর্নীতি চক্রের এপিসেন্টার, পুলিশ পরিকাঠামোর প্রায় প্রত্যেকে এর সাথে জড়িত। প্রত্যেকটি অঞ্চলের তৃণমূলের ব্লক সভাপতি আসলে লোকাল থানার আইসি, এ নিয়ে এখন আর কারোর মধ্যে কোন দ্বিমত নেই। কেউ কেউ কোন থানাতে আট থেকে দশ বছর বসে আছে, স্বভাবতই বিরোধীদের জাঙ্গিয়ার সাইজ পর্যন্ত এদের মুখস্থ। অসংখ্য প্রাক্তন পুলিশ কর্তা আজকে নির্বাচিত প্রতিনিধি, অবসরের পরেও বহু শীর্ষপদস্থ আমলা ও পুলিশকর্তা নানান পদ সৃষ্টি করে প্রশাসনের মধ্যে স্বমহিমাতে রাজত্ব করছে তৃণমূলী সিন্ডিকেটে।
হাফ পুলিশের বেশে তৃণমূলের নিজশ্ব গুন্ডাবাহিনী যা জনগণের কাছে সিভিক নামে পরিচিত, এই চুরি রাহাজানি সিন্ডিকেটের এরা পদাতিক বাহিনী, কোনো কোনো অঞ্চলে দুষ্কর্মের উদ্ভাবক পর্যন্ত এই সিভিক ভলেন্টিয়ার। অর্থাৎ অবৈধ ইনকাম কমে গেলে শুধু তৃণমূল নেতাদের ভাগে কম পরবে এমনটা নয়, একেবারে অধিকাংশ পুলিশের মাসিক ভাগাতে হাত পরে যাবে। তৃতীয় বিশ্বের প্রায় সকল দেশের পুলিশ কমবেশি দুষ্কর্মের সাথে যুক্ত, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মতো এরকম সর্বগ্রাসী দুর্নীতির উৎস নয়। তাই সবার আগে সেই সিভিক ভলেন্টিয়ার নামের বকচ্ছপ তৃণমূলী ক্যাডার বাহিনীকে উচ্ছেদ করতে হবে প্রশাসন থেকে।
আতঙ্কের ঘরে আতঙ্ক না ঢোকালে তারা আতঙ্কিত হবেনা, জানিনা সেটা কোন গণতান্ত্রিক পথে হওয়া সম্ভব। বিজেপি কিছু করবেনা, কারন দুজনের মালিকই এক- RSS, মালিকের নীতি স্পষ্ট। সুতরাং, যাত্রাদলের বিবেক সেজে কাঁদুনি গান গেয়ে, বা নেচেকুঁদে এই অর্গানাইজড দুর্বৃত্তদের উচ্ছেদ করা যাবেনা। যাত্রা দলের বিবেক কখনও সরাসরি ভিলেনের সাথে লড়াই করেনা, তৃতীয় লিঙ্গের মত গাঁ বাঁচিয়ে উৎকট শব্দে তালি বাজায় বড়জোর।
সংখ্যাগুরু বাঙালীর সবচেয়ে বড় উৎসব চলছে, আগামী ১-২ সপ্তাহে এর রেশ কাটলে অবশ্যই নাগরিক আন্দোলনের ঝাঁঝ বৃদ্ধি পাবে, কিন্তু সেটা কি এই দূর্বৃত্ত সংগঠনের সাথে লড়াই করার জন্য যথেষ্ট? বিরোধী রাজনৈতিক পরিসর কী এমনই খোঁজা বন্ধ্যা হয়ে তামাশার যাত্রাপালা করবে? কোন অদ্ভুত ‘সেটিং’ এর রাজনীতি দিয়ে মমতা ব্যানার্জী এই রাজ্যের বিরোধী রাজনৈতিক পরিসরকে নপুংসক বানিয়ে রেখেছে?
