যৌনতা জরুরী এবং অপরিহার্য কিন্ত একটা অত্যন্ত ওভাররেটেড বিষয়।
এর চেয়ে একশো গুণ সুন্দর ব্যাপার হলো একজন বন্ধু, একজন পার্টনার, একজন আত্মার আত্মীয় পাওয়া। যেহেতু আমাদের সমাজে সেক্স একটা ট্যাবু, সেজন্য আমরা সেক্সকে রসগোল্লা ভাবতে শিখি, ভাবি সেক্সই জীবনের সব। লিটারেলি আমরা সেক্স করার একজন বৈধ (আইনগতভাবে) পার্টনার পেতেই বিবাহ নামক মাটন বিরিয়ানি খাওয়ার আয়োজন করি। যদি দূর থেকে দেখি, তাহলে কী পুরো ঘটনা হাস্যকর মনে হয় না?
অবশ্যই প্রকৃতিতে মানুষ জন্মেছে সেক্স এর মাধ্যমেই, পুরুষ উপভোগও করে যৌনতাকে, নারীর কাছে বিলাসিতা, কিন্তু বংশবৃদ্ধি করতে যৌন সঙ্গম একমাত্র উপায়। বয়সে পরিনত হওয়ার সাথে সাথেই একদিন আমরা বুঝে যাই আমরা আমাদের সবচেয়ে কাছের মানুষটাকেই চিনি না! অথচ শেষ ১০-২০ বছর তার সাথেই কত রোমান্স, কত যৌনতা হলো- কিন্তু ঠুনকো ঘটনাতে বিচ্ছেদ হয়ে যায়। মানুষটাকেই চেনা হয়ে উঠেনা।
সেক্স জীবনের খুব অল্প একটা অংশ, সামান্য অংশ। একজন শিল্পীর কাছে একটা মনের মতো ছবি আঁকা, একজন লেখকের কাছে একটা অসাধারণ উপন্যাস লেখা- সেক্সের চেয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। অর্গাজম কখনই জননাঙ্গের বিষয় না, সকল অর্গাজমই মস্তিষ্ক কেন্দ্রিক। একটা দারুণ মনেরমত শিল্পকর্ম একজন শিল্পীকে সেক্সের চেয়েও বেশি তৃপ্তি দেয় বৈকি।।
সালভাদর দালি'কে গত শতাব্দীর সবচেয়ে শক্তিমান শিল্পীদের মাঝে গন্য করা হয়। তার ব্যাপারে ইন্টারেস্টিং একটা তথ্য আছে- তিনি সেক্স করতে ভয় পেতেন, কথিত আছে তিনি আক্ষরিক অর্থেই একজন ভার্জিন পুরুষ এবং এই কারণেই উনার স্ত্রী গালাকে উৎসাহ দিয়ে অন্য পুরুষদের সাথে মিলিত হতে দিতেন যৌনক্ষুধা নিবৃত্তির জন্য। সত্যমিথ্যা জানিনা।
লালন ফকিরের গেয়েছিলেন 'মিলন হবে কতদিনে', এটা কোনো ভাবেই শুধুমাত্র যৌনক্ষুধার তাড়নাতে আহ্বান করছেনা। এটাটা আত্মার সাথে আত্মার মিলন। এই মিলন সংসারে খুঁজে পায়না বলেই যোগী, সুফিরা গৃহত্যাগী হয়ে মিলনের সন্ধান খোঁজে। স্বয়ং বুদ্ধ নিজে স্ত্রী, সংসার, সাম্রাজ্য সবকিছু সবকিছু ফেলে নিজেকে জিজ্ঞেস করেছিলেন- সুখ কি? নির্বান কি?
যৌনতাতে নির্বান কেউ কখনও পেয়েছে ইতিহাসে?
রবী ঠাকুরও জিজ্ঞাসেছে- সখী ভালবাসা কারে কয়? যৌনিতাতে ভালবাসা নেই, ভালবাসাতে যৌনিতা থাকলেও থাকতে পারে।
মানুষের বুকের ভেতর নদী বয়ে চলে, আহ্লাদিত হয়, পুলকিত হয়, হাহাকার কঅরে উঠে- সেটা যৌন মিলনের জন্য নয়। মানুষ ঠিক যেমন ভাবে সঙ্গী চায়, প্রায় কেউই তেমনটা পায়না, তাই জীবনটাও তেমন হয়না যেমনটা তার চাহিদা। এর পরেও দম্পতিদের মাঝে বিচ্ছেদ, হাহাকার, অশান্তি ঝগড়াতে মানব সমাজ জর্জরিত। সকলেই তো সুল, অবাধ ও অগাধ যৌনতা পেয়েছিল, তাহলে এতো সমস্যার কারন কী? নারীপুরুষ নির্বিশেষে বেশিরভাগই মানুষ পছন্দের মানুষ তথা পছন্দের জীবন পায়না বলেই তাদের এতো হাহাকার।
সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে যৌনতা একটা অনুসঙ্গ মাত্র, আসল হলো মস্তিষ্ক। যে নিজের মস্তিষ্ককে বুঝতে পেরেছে, সে সেক্সের কথা শুনলে এইজন্য মুচকি হাসবে। মস্তিষ্ক জানে, মানুষ সেক্সের জন্য বাঁচে না, মস্তিস্কে সুখানুভব পেতে বাঁচে, যৌনতা যার একটা অংশ মাত্র। বেঁচে থাকাত অর্থটা যার কাছে স্পষ্ট, যার কাছে তীব্র আকাঙ্খা রয়েছে কোনো একটা লক্ষ্যে পৌঁছানো, প্রায় অরতিটা ক্ষেত্রে যৌনতা গায়েব হয়ে যায় জীবন থেকে।
মানুষ একমাত্র জীব যারা যৌনিতা থেকে মনোরঞ্জন এর রসদ খুঁজে পায়। যে বেঁচে থেকেও বাঁচার আনন্দ পেলোনা, সে কীভাবে যৌনতার সুখকে উপলব্ধি করতে পারবে! পারলে কোনো বিবাহিত নারী/পুরুষ কখনও আত্মহত্যা করতনা।
কী মনে হয় আপনার?