বিধি বাম- ২
সিভিক ভলেন্টিয়ারদের ১০১% তৃণমূলের অশিক্ষিত লুম্পেন ক্যাডার। আজকে সুপ্রিম কোর্টের সাওয়াল দেখার পর আমার প্রশ্ন- বামেরা কেন ভালো আইনজীবী দিয়ে, এই অপ্রশিক্ষিত রাজনৈতিক ক্যাডার বাহিনী দিয়ে রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলানোর বিরুদ্ধে রিট ফাইল করবেনা? কেন এই সিভিক ভলেন্টিয়ার নামের বকচ্ছপ প্রজাতির বিলুপ্তিকরণ ঘটিয়ে রাজ্য পুলিশের কনস্টেবল পদে স্বচ্ছ নিয়োগের দাবী তুলবেনা?
শুধুমাত্র সাংগঠনিক শক্তির জোরে অন্তত প্রাথমিক পর্যায়ের এই লড়াই ডাক্তাররা প্রশাসনকে বাধ্য করেছে তাদের অধিকাংশ দাবি মেনে নিতে। এই আন্দোলনের অন্তিম ফলাফল সময়ের গর্ভে, জনগণ রাস্তায় আছে, সরকার বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলো রাস্তায় আছে। তবে, শেষ কবে মমতা ব্যানার্জী এমনটা করেছেন, কেউ একটা প্রমান দেখাতে পারবেন? কোন রাজনৈতিক দল, আন্দোলন করে এইভাবে মমতা ব্যানার্জীকে "বাধ্য করেছেন"?
এখানে একটা বিষয়ই সত্য, সেটা হল সংগঠন। এর জন্য লাগে যোগ্য নেতৃত্ব, আধুনিকমনস্ক ও ট্যেকস্যাভি একটা উইং, আইনজীবীদের একটা টিম। আর ভিন্ন ভিন্ন স্ট্রিম থেকে লড়াই এর মাধ্যমে উঠে আসা লড়াকু মেধাজীবীদের নিয়ে গড়া একটা যুব টিম। এবং এই সবগুলোর মাঝে একটা সমন্বয়। উচ্চ নেতৃত্বের তরফে আস্থা দেওয়া, সকলের কথা সহানুভূতি ও গুরুত্বের শোনার মানসিকতা, সর্বশেষে দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিয়ে আগামীর দিশা দেখানো।
তৃণমূল, রীতিমতো কি-ওয়ার্ড বিন্যাস করে সোস্যাল মিডিয়াতে আন্দোলনের বিপক্ষে পালটা পোষ্ট যুদ্ধ শুরু করে দিয়েছে, হরেক ফিকির হরেক ফালতু বিষয় সৃষ্টি করে, যেটা বিজেপি সফলভাবে করে। সেখানে বামেদের রাস্তার আন্দোলন টুকু পাবলিকের কাছে তুলে ধরার কোনো যন্ত্র নেই। ছাগল দিয়ে হাল চষতে চষতে বাকি রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে ফারাক ক্রমশ আলোকবর্ষে পৌঁছে গেছে এদের।
যা কিছু করার সেটা- জনগণ করবে, পুলিশ করবে, আমলারা করবে, ED করবে, CBI করবে, হাইকোর্ট করবে, সুপ্রিম কোর্ট করবে, কংগ্রেস করবে ইত্যাদি ইত্যাদি। তাহলে বাম নেতৃত্ব কী করবে? কেন- সেটিং আর বিজেমূল তত্ত্বের প্রতি গভীর আস্থা ও ভরষা সহ প্রচারণা করবে।
বামেদের সবটাই আছে, সংগঠন ছাড়া। তার বদলে রয়েছে অজুহাত..... অনন্ত অজুহাত। যেটার অভাব নেই সেটা হলো, সর্বজ্ঞ মনোভাব, আত্মঅহংকার, নিজেদের মাঝে অকারন লেঙ্গি, আর লক্ষ্য। লক্ষ্যহীন, সংগঠন হীন, যোগ্য নেতৃত্বহীন একটা দল চোখের সামনে রোজ একটু একটু করে ডোডোপাখি হয়ে যাচ্ছে।
রাষ্ট্র যেমন সংরক্ষিত জঙ্গলে বাঘ, গন্ডারদের সংরক্ষণের জন্য রিজার্ভ ফরেষ্ট করে রাখে, অদূর ভবিষ্যতে আলিমুদ্দিনকেও তেমনই বিলুপ্তপ্রায় বাম রাজনীতির সংরক্ষিত অঞ্চল ঘোষনা করে তাদের জন্য বিশেষ বাজেট বরাদ্দ ঘোষনা করলেও আশ্চর্যের কিছু নেই। কৃষকসভা, শ্রমিক সংগঠন, মহিলা সমিতি, শিক্ষক সংগঠন- আছে খাতায় কলমে, দু একটা পাড়ায়। ব্যাস। নতুবা কলতান কান্ডে এক শতরূপ ছাড়া আর কেউ দেখলামনা গলার শিরা ফুলিয়ে সত্যটা বললো চিৎকার করে, তারপর সব স্তিমিত। কোনো ধারাবাহিকতা নেই।
বাকি প্রগতিশীল বাম কর্মী সকর্থকেরা-
৩৬৪ দিন ফেসবুকে।
১ দিন ব্রিগেডে।
সাথে আছে অর্গাজমের স্লোগান- "শূন্য হলেও আমরা ..... "
কারো কারো এই পোষ্ট পড়ে জ্বালা ধরবে, আসলে এই জ্বলাটুকুর বাইরে আপনার অউকাতই বা কী? আপনার কথা শুনছেনা কে? যারা উপরে বসে, তারা সর্বজ্ঞ, সর্বদর্শী, স্বয়ং সম্পূর্ণ এবং ত্রিকালজ্ঞ পন্ডিত। বেঁচে আছি প্রমাণের জন্য পাক্ষিকভাবে ১টা সাংবাদিক সম্মেলন কর, আবার শ্রীবিষ্ণুর মত চক্ষু মুদিয়া অনন্ত শয্যায় শুয়ে নবম বামফ্রণ্ট সরকারে কাকে কাকে কোথায় রাখা হবে তার জটিল হিসাবনিকাশ করতেই ব্যস্ত- দিবাস্বপ্নে।
বিপ্লবের জন্য আর কীইবা চায়?
এই রাজ্যে মমতার চেয়ে ভালো প্রশাসক এই মুহুর্তে আর কেউ কী ডিজার্ভ করে? প্রত্যেকেই তো তার যোগ্যতা অনুযায়ীই পায়।
