কোনো এক অজানা কারনে হঠাৎ করে ভাবনাস্থল গর্ভবতী হওয়ার কারনে অক্ষরের রূপে প্রসবিত কিছু প্রলাপের সংকলন এই ঠেক। গুনী লেখকের সমৃদ্ধশালী লেখনি পড়তে পড়তে, অক্ষমের প্রয়াসে কম্পিউটারের কিবোর্ডে হাত চলে যায়। ফল স্বরূপ, ঘটে চলা রাজনীতি, সমকাল, মানবিক বিকার, সময়চর্চা, ছ্যাঁচোর এর মত রিকেটগ্রস্থ লেখনীর জন্ম হয়। এরই রেশ ধরে সময়চর্চা, রবিবাসরীয়, সমকাল সহ রম্য, রচনা, গল্প ইত্যাদি ভুলভাল গুলোকে সংরক্ষিত করা হয়েছে এই টোলে। এটা সমমনষ্ক মানুষদের ভাব বিনিময়ের স্থান। উন্মাদের টোলে সকলকে স্বাগতম জানাই।
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০১৫
আনাড়ি উন্মাদ
রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০১৫
বন্ধু
উন্মাদীয় রবিবাসর
*******************
বন্ধু।
মিত্র।
विद्या मित्रं प्रवासेषु भार्या मित्रं गृहेषु च।
व्याधितश्यौषधं मित्रं धर्मो मित्रं मृतस्थ च।।
শব্দটি বুৎপত্তি গত ভাবে বহু পুরাতন। এক্ষেত্রে বন্ধন শব্দটিই বোধকরি সর্বাপেক্ষা, বন্ধু শব্দটির উপর অধিকার দাবি করিতে পারে। বন্ধুত্ব সুবিশাল, তার মাহত্ব, তৎসহ সেই নামের ভার। ইহা পারস্পরিক বিশ্বাস, সমর্থন, যোগাযোগ, আনুগত্য, অন্য কে বোঝা, সহানুভূতি, এবং অন্তরঙ্গতার মিশ্রনে গড়ে ওঠা একটি গভীর জৈবিক সম্পর্ক। মনুষ্যজাতী জন্মাবধি আসলে পরজীবী প্রানী। সম্পর্কের বিবিধ জটিলতার মাঝে পথের সন্ধান পাইবার নিরন্তন প্রচেষ্টাতে নিবিষ্ট থাকে।
বন্ধুত্ব হইলো সেই সরাইখানা , প্রতি পথের বাঁকেই যে দ্রব্যটির নিয়মিত দেখা মিলিয়া থাকে। কিছু বন্ধুত্ব, বাকি অবশিষ্ট জনমের মত সঙ্গী বনিয়া যায়, তখন উহা নূতন নামে সম্ভাষিত হইয়া থাকে। কিছু পথি মধ্যি অকালেই হারাইয়া যায়। কিছু বন্ধুজনকে স্বজ্ঞানেই ত্যাজ্য করিতে হয়। বন্ধুত্বের তালুকে স্বার্থের উপস্থিতি, বন্ধুত্বসাধনের ক্ষেত্রে বিঘ্নকারক হয় না, কিন্তু অসদভিসন্ধি তথা প্রবঞ্চনার উদয় হইলেই, উহার অকাল মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী।
নির্দিষ্ট বিশেষ কোন কারন ছাড়া উদ্ভুত বন্ধুত্বের বন্ধন, কোন অবস্থাতেই সমূলে উৎপাটিত হইতে পারে না। লালসা তে আরক্ত চক্ষুর উপস্থিতি, বন্ধুত্বের স্থায়িত্ব কালের সাথে ব্যাস্তানুপাতিক।
আজিকাল অন্তর্জালীয় বন্ধুত্বের হাতছানি আমাদের ন্যায়, অন্তর্মূখি, কিছুটা আনাড়ি উন্মাদদের সম্মুখে এক সুবিশাল বাতায়ন উন্মুক্ত করিয়া দিয়াছে। বাস্তবের রূঢ মৃত্তিকা, পরিবার পরিজনের মঙ্গলার্থে দৈনন্দিন রোজগারের প্রচেষ্টার নিমিত্ত, বড় স্বার্থ সচেতন মানব জাতি, নিষ্ফলা লঙ্গুল আষ্ফালন করিয়ায় ক্ষান্ত রহিয়া যান। মুক্ত বন্ধুত্বের সোনালি রোদ্দুর তাহাদের আবশিষ্ট জীবনে অধরাই রহিয়া যায়।
এই শূন্য স্থান পূরনের উদ্দেশ্যেই আপনজন এর বিশেষ প্রয়োজন। অগোছালো ম্যারাপ, অবিন্যস্ত আলুথালু কতিপয় তথাকথিত নিঃসঙ্গ “অর্কিড” এর শাখাগত আবাসস্থল। ভদ্রজনে স্নানাহার সারিয়া নিদ্রা সুখের উদ্দেশ্যে শ্বয়নমন্দিরে স্থিত পর্যঙ্কের দিকে ধাবিত হয়, তখন এই বন্ধুরা অপার বিস্ময়ের উদ্রেগ ঘটাইয়া স্নানাহারের সহিত, প্রতিনিয়ত বিমাতৃসুলভ আচরনের চরম নিদর্শন দর্শাইয়া বৃদ্ধাঙ্গুল দ্বয় একত্রে করিয়া , মুষ্টি তে আবদ্ধ দুরাভাষ যন্ত্রের উপর বিলীন হইয়া যায়। অনেকেই আপনি “ক্রোড়োস্থিত উচ্চ” যন্ত্র টি ও সম্যক ভাবে ব্যাবহার করিয়া থাকেন। চলিতে থাকে অকপট আড্ডার মিলনসমিতি।
একজন ব্যাক্তি কেবলমাত্র তখনি বিশ্বস্ত ও সত্যবাদি হইয়া থাকেন, যখন তাহাকে বন্ধু বলিয়া স্বিকৃতি প্রদান করিয়া থাকি। ইহা ‘সত্য’ যে ‘শিল্পী’ মনের না হইলে বন্ধুত্বের শিখর “জয়” করা অসম্ভব। ‘প্রশান্ত’ চিত্তে ‘সুমন’ এর অধিকারী হইতে হলে “নির্মল” চিত্তে বন্ধুত্বের আবাহন হরিতে হয়। তাহলেই এই শিল্পে ‘ভাষ্কর; এর ‘রজত’কমল সোন্দর্য , জনগন ‘তন্ময়’ হয়ে অবলোকন করিবে। ‘আফরোজি’ সুগন্ধ ‘সুধা’ , ‘যামান’আ ছারিয়ে যাই একমাত্র এই পরিসরে আসিয়া। ‘প্রেমানন্দের’ আতিসায্য অবলোকনের মাধ্যম হইল এই ‘রম্য’ ‘সাগর’।
বন্ধু নামক ‘চন্দনের’ ‘সৌরভে’ চিরিতরে ‘লেখা’ হইয়া যায় ‘প্রিতমের’ নাম। প্রখর রৌদ্রে ‘বরুনের’ তেজে, ছত্রধারী ‘অমলিন’ রা বন্ধুত্বের কারাগারে চিরতরে বিশ্রাম করিয়া। অমিয় পরিতোষের অধিকারিগন বন্ধুত্বের ক্যাংসাপাত্রে সহ ভোজনের ‘শ্রিতোষ’, কূট প্রশ্ন উত্থাপন ব্যাতিত ই সম্পাদিত করিয়া থাকেন। অকথিত বাক্যধারা, প্লিহায় পরিপূর্ন উদরের ন্যায় ফুলিয়া উঠে, শুধু মাত্র বন্ধু নামক প্রানীই তাহার এই ব্যামো উপশম করিতে সক্ষম।
বন্ধুত্বের আবহ তে ই, বিষপূর্ন কটাক্ষও মধুর ধ্বনিত হইয়া থাকে। নিষ্কলঙ্ক ‘তুহিন শুভ্রের” ন্যায়। বন্ধুত্ব সদা যৌবন পূর্ন, বৈধব্যের মলিনতা ইহাকে স্পর্শ করিতে পারে না। ‘নীলমাধব’ ‘শিব’ বা বৃষভারূঢ় এর উন্মত্ততা বন্ধ্বুত্বের অধরে পরতে পররে জড়িয়া থাকে। জীবন সঙ্গমে আগত সকল-সকল মানবাত্মারা, স্বার্থপরতার ঘোরান্ধকারের মধ্যে বিরহস্নতপ্তা লোলায়মান মন নেত্রপাত করিয়া থাকেন, মিত্রতা ভিন্ন আর বাকি সকল কিছুই মিথ্যা বলিয়া, বলিয়া পরিগনিত হয়। এ অনন্ত সংসারে পুর্বজন্মার্জিত সুকৃত সৌন্দর্য বলিয়া কিছু, রহিয়া থাকে , তাহা হইলে সে, বন্ধুত্ব ভিন্ন আর কিছু হইতে পারে না। জীবনের কুসুমিত কুঞ্জবনে একমাত্র চম্পররাজী নির্মিত কাঞ্চনগৌড় হইল মিত্রতা।
দুর্বিপাক দ্বারা ক্ষয়প্রাপ্ত একজন ব্যক্তির জীবনে “একটি প্রকৃত বন্ধু” ই একমাত্র বহুমূল্য ঔষধি।
*******************
व्याधितश्यौषधं मित्रं धर्मो मित्रं मृतस्थ च।।
রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০১৫
বোকা আমি আর উন্মাদ রোগ
মানুষ কত বোকা। অন্তত আমার মতে আমি।
কতটা পাবো, সেটা না জেনেই, অনেকটা পাবার আশা করে বসে থাকি। অলীক কল্পনা আসলে অশ্বডিম্বই
প্রসব করে। নিষিদ্ধ বস্তুর প্রতি আকর্ষনের কারন কি! নিছকই খেয়াল বসে, নাকি ওটা নিষিদ্ধ
বলেই? উত্তর ভবিষ্যতের গর্ভে। আর যে
জানতো,
তার কিছুক্ষন আগে কোমা তে আচ্ছন্ন হয়েছে। তাই
এই পৃথিবীর কোলাহল থেকে নিঃশব্দে সকলের
চোখের আড়ালে একা একা চিকিৎসালয়ের এই শক্ত বিছানায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।
আমার প্রানাধিক প্রিয়
বন্ধু, বর্তমানে সম্পূর্ন রূপে স্মৃতিভ্রষ্ট হয়েছে।
কোমাতে যাওয়ার জন্য যতটা না শক পেয়েছি, তার থেকেও বেশি আশ্চর্যের রোগের কারন দেখে। আমি একই সাথে
আমোদিত,
উৎফুল্লিত, ও বেদনার কষ্টে জীর্ণবিদীর্ণ। ও নিজের সাথে নিজেই অত্যাচার করেছে, নিজের উপর। বেশ কিছুদিন থেকেই জেনেবুঝে আগুনের পাহাড় দেখতে গিয়েছিল। গলিত লাভার ছাই এর
উর্বরাশক্তির জোরে উৎপন্ন ঘণ সবুজ বনানি, ওর চোখকে মোহাবিষ্ট করে দিয়েছিল। নিজের সামাজিক অবস্থান, সমাজে ওর গ্রহনযোগ্যতা কিছুই ওকে আঁটকাতে পারেনি। কিন্তু
প্রত্যেক বস্তুর মধ্যে দ্রব্যগুন বর্তমান। লঙ্কা খেলে ঝাল লাগবেই, তেমনি তেঁতুল খেলে টক- তা আমরা জেনে খায় বা না জেনে। সেই নিষিদ্ধ সেই ফল যেভাবেই হোক সে খেয়ে ফেলেছিলো, যার জন্য চরম মুল্য তাকেই গুনতে হচ্ছে।
আসুন, তার জন্য একটু পার্থনা করি। যত শীঘ্র সে যেন মৃত্যু মুখের লেলিহান জিহ্বার ছোঁয়াচ থেকে বেঁচে উঠে। এর জন্য চায় সেবা, শুশ্রূষা, আর শুশ্রূষাকারিণী।
যদি কোনো সহৃদয় ব্যাক্তি, অসহায়, সম্বলহীন প্রায়
বাউন্ডুলে, চালচুলোহীন, কিন্তু আমার এই অবিচ্ছেদ্য প্রানাধিক বন্ধুকে সুস্থ করে
সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার দায়িত্বভার নেন, তার কাছে আমি চির কৃতজ্ঞ হয়ে থাকবো। আমি নিজেকে বিলিয়ে দিতে পারি আমার বন্ধুর জন্য।
আফিমের নেশা সর্বনাশা, তার থেকেও বড়
নেশা ধর্মের নামে সুড়সুড়ির নেশা।
কিন্তু কোনোটায় বন্ধুর করা নেশার চেয়ে বড় নয়, সে হোলো রাজ
রোগ। ক্রমে ক্রমে মানসিক ভাবে ছিন্নভিন্ন করে দেয় মানব কুলকে- কর্কট সম রোগ। কখন যে অজান্তে বাঁসা বেঁধে বসবে, তা সকলেরই অজ্ঞাত। এ হলো অদৃষ্টের পরিহাসের উপর এক সম্যক নির্যাতন।
আত্মহনন বা আত্মহত্যা খুন করারই সামিল, এক ধরনের অপরাধমূলক মানসিকতা। অন্যকে খুন করার বদলে, নিজেকেই নিশানা বানানো। কত বড় আঘাত পেলে তবে একজন সুস্থ মানুষ
আত্মহত্যার মত একটা ঘৃন্য পন্থা বেছে নেয়! শারিরিক আঘাতের চিহ্ন মুছে যাবে কিন্তু মনে যখন আঘাত লাগে, সে ব্যাথা জানানোর লোক না পেলে, মানুষ উন্মাদ হয়ে যায়। ব্যাথা কমানোর জন্য আসা ডাক্তারই যদি রোগের কারন হয়, ঔষুধ হয় রোগের বীজ, তাহলে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করা ছাড়া, রোগীর আর উপায় থাকে কী!
আমার হৃদয়ের অলিন্দে ঘটে চলা মুহুর্মুহু উথালিপাথালি অবস্থার বিবরণ, আমার বন্ধুর জন্য আমি রাত জেগে লিখছি শরীর খারাপের পোরোয়া না করেও। হতে পারে আমি আগামিতে সারাদিন ঘুমাবো, চোখের নিচে কালি ও জমতে পারে। সমস্ত শরীরের পার্টস ঢিলা
হয়ে যেতে পারে। প্রাত্যহিক তথা দৈনন্দিন জীবনে বিশৃঙ্খলা নেমে আসতে পারে।
তা বলে বন্ধুকে ছেরে যেতে পারবো না। তার সুখের দিন একসাথে, সাফল্য উদযাপন করেছি সাড়ম্বরে। মৃত্যু সজ্জায় আমি তার শিয়রেই আছি, বড় অসহায় বেচারা বন্ধু।
তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না
⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...
-
ছোটবেলায় বাবা বলতেন "শাগ খেলে বাঘের বল"। যদিও তিনি ওটাকে শাকই বলতেন আমরা কচি কানে বাঘের সাথে মিলিয়ে শাগ শুনতাম। এহেন পরিস্থ...
-
(১) জাতীয় ডিম্ভাত দিবস ১৯৯৩ সালের ২১শে জুলাই এর জমায়েত কী উদ্দেশ্যে হয়েছিলো জানেন? তোলামূলের রাজ্যে না জানাটাই আপনার অধিকার। ভোটার তাল...
