রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০১৫

বোকা আমি আর উন্মাদ রোগ

 


মানুষ কত বোকা। অন্তত আমার মতে আমি।

কতটা পাবো, সেটা না জেনেই, অনেকটা পাবার আশা করে বসে থাকি। অলীক কল্পনা আসলে অশ্বডিম্বই প্রসব করে। নিষিদ্ধ বস্তুর প্রতি আকর্ষনের কারন কি! নিছক খেয়াল বসে, নাকি ওটা নিষিদ্ধ বলেই? উত্তর ভবিষ্যতের গর্ভে। আর যে জানতো, তার কিছুক্ষন আগে কোমা তে আচ্ছন্ন হয়েছে। তাই এই পৃথিবীর কোলাহল থেকে নিঃশব্দে সকলের চোখের আড়ালে একা একা চিকিৎসালয়ের এই শক্ত বিছানায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।

আমার প্রানাধিক প্রিয় বন্ধু, বর্তমানে সম্পূর্ন রূপে স্মৃতিভ্রষ্ট হয়েছে

কোমাতে যাওয়ার জন্য যতটা না শক পেয়েছি, তার থেকেও বেশি আশ্চর্যের রোগের কারন দেখে আমি একই সাথে আমোদিত, উৎফুল্লিত, ও বেদনার কষ্টে জীর্ণবিদীর্ণ। ও নিজের সাথে নিজেই অত্যাচার করেছে, নিজের উপর। বেশ কিছুদিন থেকেই জেনেবুঝে আগুনের পাহাড় দেখতে গিয়েছিল। গলিত লাভার ছাই এর উর্বরাশক্তির জোরে উৎপন্ন ঘণ সবুজ বনানি, ওর চোখকে মোহাবিষ্ট করে দিয়েছিল। নিজের সামাজিক অবস্থান, সমাজে ওর গ্রহনযোগ্যতা কিছুই ওকে আঁটকাতে পারেনি। কিন্তু প্রত্যেক বস্তুর মধ্যে দ্রব্যগুন বর্তমান। লঙ্কা খেলে ঝাল লাগবেই, তেমনি তেঁতুল খেলে টক- তা আমরা জেনে খায় বা না জেনে। সেই নিষিদ্ধ সেই ফল যেভাবেই হোক সে খেয়ে ফেলেছিলো, যার জন্য চরম মুল্য তাকেই গুনতে হচ্ছে

আসুন, তার জন্য একটু পার্থনা করি। যত শীঘ্র সে যেন মৃত্যু মুখের লেলিহান জিহ্বার ছোঁয়াচ থেকে বেঁচে উঠে। এর জন্য চা সেবা, শুশ্রূষা, আর শুশ্রূষাকারিণী।

যদি কোনো সহৃদয় ব্যাক্তি, অসহায়, সম্বলহীন প্রায় বাউন্ডুলে, চালচুলোহীন, কিন্তু আমার এই অবিচ্ছেদ্য প্রানাধিক বন্ধুকে সুস্থ করে সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার দায়িত্বভার নেন, তার কাছে আমি চির কৃতজ্ঞ হয়ে থাকবো। আমি নিজেকে বিলিয়ে দিতে পারি আমার বন্ধুর জন্য।

আফিমের নেশা সর্বনাশা, তার থেকেও বড় নেশা ধর্মের নামে সুড়সুড়ির নেশা। কিন্তু কোনোটায় বন্ধুর করা নেশার চেয়ে বড় নয়, সে হোলো রাজ রোগ। ক্রমে ক্রমে মানসিক ভাবে ছিন্নভিন্ন করে দেয় মানব কুলকে- কর্কট সম রোগ। কখন যে অজান্তে বাঁসা বেঁধে বসবে, তা সকলের অজ্ঞাত। এ হলো অদৃষ্টের পরিহাসের উপর এক সম্যক নির্যাতন

আত্মহনন বা আত্মহত্যা খুন করার সামিল, এক ধরনের অপরাধমূলক মানসিকতা। অন্যকে খুন করার বদলে, নিজেকেই নিশানা বানানো। কত বড় আঘাত পেলে তবে একজন সুস্থ মানু আত্মহত্যার মত একটা ঘৃন্য পন্থা বেছে নেয়! শারিরিক আঘাতের চিহ্ন মুছে যাবে কিন্তু মনে যখন আঘাত লাগে, সে ব্যাথা জানানোর লোক না পেলে, মানুষ উন্মাদ হয়ে যায়। ব্যাথা কমানোর জন্য আসা ডাক্তার যদি রোগের কারন হয়, ঔষুধ হয় রোগের বীজ, তাহলে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করা ছাড়া, রোগীর আর উপায় থাকে কী!

আমার হৃদয়ের অলিন্দে ঘটে চলা মুহুর্মুহু উথালিপাথালি অবস্থার বিবরণ, আমার বন্ধুর জন্য আমি রাত জেগে লিখছি শরীর খারাপের পোরোয়া না করেও। হতে পারে আমি আগামিতে সারাদিন ঘুমাবো, চোখের নিচে কালি ও জমতে পারে। সমস্ত শরীরের পার্টস ঢিলা হয়ে যেতে পারে। প্রাত্যহিক তথা দৈনন্দিন জীবনে বিশৃঙ্খলা নেমে আসতে পারে

তা বলে বন্ধুকে ছেরে যেতে পারবো না। তার সুখের দিন একসাথে, সাফল্য উদযাপন করেছি সাম্বরে। মৃত্যু সজ্জায় আমি তার শিয়রেই আছি, বড় অসহায় বেচারা বন্ধু

 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...