শনিবার, ২৪ জুন, ২০১৭

।। তৃষিত যোগী ।।


আজি সাত্ত্বিক মতে প্রেমজর্জর
বরষা আইল সমীপে;
মানসী, তব দেখা দাও সখী,
যৌবনমদ নীপে।
আকুলিত প্রাণে দুইচোখে হেরি
কোন সে অন্তরাল
অন্তর মম সঁপেছি তোমাতে
বেহায়া সুরের তাল।
প্রণয়আশে নয়নের ভ্রমে
বিলম্বিত লয় নৃত্য,
 
মলয়বায়ু বিষাদসিন্ধু
 
উন্মাদ সম চিত্ত।
আলোঁনীল চাঁদে লাগিছে গ্রহণ
হরষ চিতকাননে
মহলাতে আসি বাজাও গো বীণা
কুসুমিত যৌবনে।
আঁখিপটে লেপি স্বপন সুরভি 
মোহিনী প্রিয়ার তরে,
নিজহতে তুমি আসিয়া সমুখে
নাওগো আপন করে।

।। পরকীয়া ।।

চেনা পরিসরে অজানা আপদ
ভালনাম যার বিয়া,
অচেনা পথের চেনা যন্ত্রনা
লোকে বলে পরকিয়া।

সোমবার, ১৯ জুন, ২০১৭

।। গান স্যালুট ।।

স্বামী আত্মস্থানন্দ মহারাজ ও গান স্যালুট
*************
ওসব কিছু বুঝিনা, মাথায় হিজাব পরে যেমন ইফতার পার্টি এটেন্ড করে নিজেকে মুসলমান দরদি প্রমান করার হাস্যকর নাটক করে, এটাও নরম হিন্দুত্বকে প্রোমোট করার ব্যার্থ প্রয়াস। দেখাচ্ছেন দেখো আমিই এই ধর্মীয় মহাপুরুষ দের শ্রদ্ধা দিই।
গান দিয়ে নয় মান দিয়ে পাশে থাকতে হয়। একটা ফুল দিয়েই সম্মান দেখানো যায়, বিশ্বজুড়ে সেটাই রীতি। কিন্তু আপনি হলেন গিয়ে মহান চৌর্যবংশীয় থুরি সূর্য বংশীয় মমহারানী হাতসেপ্সুৎ, এক্সট্রা ক্যালি না দেখালে ভাইএর দল কথা কইবে কি নিয়ে! চুরি, মাফ করবেন; ডাকাতি আর কাঠিবাজির বাইরে বাংলাতে কিই বা আর অবদান রেখেছেন! ভাষণ আমাদের ভিত্তি, তেলেভাজা আমাদের ভবিষ্যত। আম আর আমাশার ফারাক রইল না। সুকুমার রায় এ আমলে জন্মালে নির্ঘাৎ দর্জি হতেন, ননসেন কমেডিরর সাক্ষাৎ প্রতিরূপ থাকতে উনি কি রিস্ক নিতেন?
রামকৃষ্ণ মিশন কি মঙ্গল গ্রহে? নিজেদের আদি তিনুগুলোকে কে ছারেনা এরা।কোন বেফন্দিতে ফন্দি লাগিয়ে সরল ব্রহ্মচারী মানুষগুলোকে ফাঁসাবে।যেচে বাঁশ মানা যায়, কিন্তু গোটা ঝাড় কেও নেয় পাগল ছাড়া! সবাই তো আর বরকতি বা পোষা মেনি তোহা নয় যে দাড়ি নেড়ে একটা ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠীর ঠিকেদারি নিয়ে রাখবে।

আমি নিশ্চিত রামকৃষ্ণ মিশন কতৃপক্ষ এই ভেবেই অনুমতি দিয়েছেন।

পিসিগো, তোমার আঁচলের ছায়াতে থাকা বীর্যহীন পুলিশ বাহিনী দার্জিলিং থেকে ভাঙরে যা গান স্যালুট দিচ্ছে, সেই সোপ অপেরার কাছে এ নাটক বড় ঝনঝনে মস্করা মনে হয়।
আপনার দান স্যালুটের অবশ্য কোনো জবাব নেই। শুধু বিরোধীতা করবিনা আর সব জয়ন্তীতে আমার ছবি ছাপাবি, ব্যাস। আমিও তোদের ছাপিয়ে দেব। যেমন লুটেখাই শিল্পীবৃন্দ কে দিয়েছি। মদনা, বেচা থেকে শুরু করে কেষ্টাকেও উত্তরপ্রদেশীয় ঢঙে কালো ফেট্টির বডিগার্ড দান করেছেন। তবে হ্যাঁ একটা কাজলও পুঁষে রেখেছেন, বেচাল করলেই ওটা দিয়ে সাইজ করে দেন। বাকিটা দানের সাক্ষাৎ দেবি। সবের রেট আছে, করা থেকে মড়া সবের জন্য তিনি দান করেন। স্বচ্ছল চাষীকে তিনি চালের ভিখিরি বানান, পরে সরিষা দান করেন। সন্ধ্যা মুনমুন বেদম্যান অর্পিতা সহ কত্তোজনকে হাইকেলাস জীবন দান করলেন। ভাইপোকে, না ওটা বলবনা, আমার ক্যালান তাহলে এক ঘা ও মাটিতে পরবেনা।
তবে হ্যাঁ, ওই দান যে নিয়েছে তারই ইয়েটা মারা গেছে। ওই দানস্যালুট, তবে DA তিনি দেবেননা। নচিকেতা, সুমন, শাঁওলি, অপর্ণা, কাকপ্রশন্ন, চন্দননগরের মাল, কুণাল ছিনাল সহ পগেয়া পট্টির 'লুটেখাই শিল্পী বৃন্দ' সকল যারা আপনাকে সাথ দিয়েছিল সকলকেই এমন গান স্যালুট দিয়েছেন, যে যার জন্য তারা অল্পবিস্তর খ্যাতি লভেছিল সেটাই তারা ভুলে গেছে। এরা মরলে কি স্যালুট দেবেন ভেবেছেন?
কাল মনিরুল , আরাবুল, কেষ্টা সহ সম্পদ গুলো আপনার রাজত্বে খেয়োখেয়ি করে মরলে কি পেটোচার্য করে সম্মান প্রদর্শন করা হবে? ববির অন্তেষ্টিতে কি বগলের লোম আহুতি দিয়ে সেটা লাহোরের পূন্যভুমিতে কবর দেওয়া হবে? মদনা, ইকবাল, সুদীপরা যখন যাবে তখন নাহয় গন প্যনিক এট্যাক করে নিকটবর্তী হাসপাতাল বা নার্সিংহোমে ভর্তি হয়ে এ্যাটাকস্যালুট দেবে। গরমেন্ট অবস্য সব বিল পে করে দেবে দান স্যালুটের বিল বলে। নির্মল মাঝিকে নিয়ে আরো চিন্তিত; হয়ত ১০১ টা কুত্তার ডায়ালিসিস করে তার আত্মার স্যালুট করা হবে। ভবনে অবশ্য লেহনকারী যুধিষ্ঠির সাথীর অভাব নেই।
এছারা, চমকানি স্যালুট, কোমরে দড়ি স্যালুট, বিশ্ব বাংলা স্যালুট, আরো কত্তো কি। তবে ওই রাষ্ট্রভাষা স্যালুটটা সবচেয়ে বিষাক্ত, জাষ্ট নেওয়া যায়না।
কি জানি যেদিন কালের নিয়মে কালীপিসির মরবে, রাজ্যজুড়ে ওনার ভাইয়ের দল গন ডাকাতিতে মাতবে কিনা। ইতিহাসের কয়েকটি প্রসিদ্ধ চুরির মূল কান্ডারী বলে কথা। পরে অবশ্য মিনিমাম ম্যাক্সিমাম ভাগ বাঁটোয়ারা করে নিলেই শুদ্ধ হয়ে যাবে।
ওয়েট করছি, বেঁচে থেকে সেই দিনটা দেখে যাবার খুব শখ। কিজানি এই পোষ্টের পর আমায় আবার গান স্যালুট দেয় কিনা।


রবিবার, ১৮ জুন, ২০১৭

।। ইয়ে, আমি রাআআ...ইটার।।


টু হুম, ইট মে কনসার্ণ
       *****************

একটা পত্রিকাতে যখন কিছু লেখা ছেপে বেড় হয় তার পিছনে অনেকেগুলো মানুষের অনেক মেহনত থাকে। একটা লেখাকে সাধারনত কখনই এডিট করার ঝুঁকি নেয়না সম্পাদক মন্ডলী; কিন্তু অনুরোধ, উপরোধ বা নামের গুঁতোতে অনেক সময় নামটাকে স্থান দিতে, তিনটে বা চারটে নজরে বারবার সেই লেখা পড়ে বুঝে দেখা হয়। একদম বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে জানি, একদম শেষ পরিস্থিতিতে এডিট করা হয়। অনেক অনাম্নী সম্পাদক নামী লেখকদের লেখা উড়িয়ে দিয়েছেন। অবশ্য যারা ফেবু সেলিব্রিটি লেখক, তারা এগুলো জানবেননা। অদ্দুর তাদের মুরোদ নেই।
লেখালেখির সাথে আমি বিভিন্নভাবে জড়িয়ে, যোগাযোগটাও সেই যাদবপুরে থাকাকালীন কলেজ লাইফ থেকে। বইপাড়াতে যাতায়াতটা এক্কেবারে নতুন কিছু নয়। অকপট সাহিত্য পত্রিকা করতে গিয়ে শুধু সর্বদিক থেকেই একটু বেশি দায়িত্ব নিয়ে হয়েছিল পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে, বাকি সম্পাদকমন্ডলীর সাথে।
আজকে ফেসবুক এসেছে, বাজারে লেখকের কমতি নেই। আগে একটা লেখা ছাপাতে পায়ের সুতো ছিড়তো, এখন বেশ কিছু "সেচ্ছাসেবক" প্রকাশনা সংস্থা নতুনদের সুযোগকে সহজলভ্য করে দিয়েছে। ফেসবুক লেখকদের কিছু লেখা তো এমন গুনসম্পন্ন, যেগুলো বিনা দ্বিধায় সেরা সাহিত্যের সরনিতে স্থান পেয়ে যাবে। কিন্তু বাকি গুলো?
সুব্রত মন্ডলদার ভাষাতে, অমন লেখা ঝাড়ু দিয়ে ঝাঁট দিলে সদরের বাইরে জমে ভ্যাট হয়ে গন্ধ বেড় হবে। কিছু লেখক ফেসবুকে কিছু লাইক কমেন্ট পেয়ে লক্কা পায়রার মত এমন দেমাক নিয়ে বকবকুম শুরু করেন, যেন বঙ্কিমচন্দ্র স্বয়ং তার একটা দাদের জার্মযুক্ত ইজের এই লেখকের নামে উইল করে উত্তারাধিকার স্বরুপ দিয়ে গেছিলেন। সেই অন্তর্বাসের গন্ধিওয়ালা লেখা আর সেই মানানের ফুলে কোলাব্যাঙ হওয়া।
বলি দাদা, নিজের নামে মাত্র একটা বই ছাপিয়ে দেখুননা, বাজারে ১০ পিস বিক্রি হয় কিনা! ঠিকিই শুনেছেন, মেজ শ্বশুরের বড় শালার ছোট মেয়ের ননদের বর যেটা কিনেছেন ওটা উপরোধে ঢেঁকি গিলেছেন। বই পাড়াতে ১০ পিস বিক্রি করে দেখান। ওখানে অন্ডকোষ কিসমিস হয়ে যায় কাকা। উদাহরন নেবেন? ট্রাক পাঠান আমামার ঠিকানাতে, লিষ্টি পাঠাবো বই নয়। অতদুরও যেতে হবেনা, গত সপ্তাহে যেটা লিখেছিলেন সেটা আপনার নিজেরই মনে নেই। চেষ্টা করেই দেখুননা। আসলে ফেসবুকে আপনি যেমন প্রাতঃকৃত্য করেন, বাকিরাও সেটাকে মানস জমিতে ওটাকে সার হিসাবে ছিটিয়ে দেয়, সেই মুহুর্তের খোরাক হিসাবে। তার পরেই ফুস....
যারা এই পত্রিকা গুলো ছাপাই না, সত্যিই প্রতিটা লোক সাহিত্য মাতাল। এরা আছে বলেই প্রকৃত গুনীদের পাশাপাশি কিছু পাবলিকের গু-গোবর গুলো, প্রথম কাগজে অক্ষরের রূপ পায়। এরা পকেটের পয়সা, আর অনেক মুল্যবান সময় জাষ্ট নষ্ট করে আপনাদের মত আবাল গুলোর জন্য। কারন যারা প্রকৃত ভাল লেখক, তাদের জন্য তো কোনো খাটনি নেই।
দাদা সম্মান করতে শিখুন, পাবেন। সম্মান নাইবা দিতে পারেন অসম্মান করবেননা দয়াকরে, কারন আপনার মত একপিস না থাকলেও পত্রিকাগুলোর চলে। আপনি পুরুষ হলে পত্রিকাগুলোকে উহ্য করে বীর্যের প্রমান দিন। উঁহু আমাদের নয়, আমরা তো আজ আছি কাল নেই। আপনার যে আত্ম অহং এর ফানুষটা উড়ছে ওটাকে টেষ্ট করিয়ে নিন যদি আত্মসম্মান বলে কিছু থাকে।
Top of Form
Bottom of Form


।। অংশুমানের গল্প ।।

রোববারের সকালে একটু বেলা করেই ঘুম ভাঙে অংশুর। এসিটা ২৪ শেই আছে, সুতরাং ঘরটা মিনি দার্জিলিং এ পরিণত; এখানেই হানিমুন চলছে ওদের। আসলে করবীর সাথে লাভ ম্যারেজটা গত পরশুই করেছে অংশুমান।

ব্যাঙ্গালোরে এসেছে বছর পাঁচেক হল, IT Sector এ এক বিদেশি কোম্পানির উচ্চপদস্থ চাকুরে। পুরুলিয়ার ঘটিব্রাহ্মন সন্তান সে, ছুটির দিনেও মন্দিরে যাওয়ার ভক্তিতে কমতি ছিল না অংশুমানের। বছর তিনেক আগে এক ভোরে সে করবীকে দেখে। সূর্যের নরম আলোতে কোনো রকম প্রসাধন ছাড়া এক অপরুপ দেব প্রতিমা মনে হয়েছিল অংশুর। তারপর থেকে ওই সপ্তাহে এক আধবার দেখা সাক্ষাৎ কয়েক মুহূর্তের জন্য, ব্যাস এটুকুই। ওদিকে বাড়িতে অংশুর মা তার রায়গঞ্জের বান্ধবীর একমাত্র মেয়ে অমলার সাথে যে বিয়ে প্রায় পাকা করে ফেলার উপক্রম। একথা জানতেই কিছু বন্ধুর সাহায্যে বিয়েটা চটপট সেরে নেয় অংশু। তারপর বাড়িতে বাবাকে ফোন করে খবরটা দেয়। যাইহোক এ খবর শুনে তারা আর কালক্ষেপ না করে আজই দুপুর ১২টা কুড়ির ফ্লাইটে চড়ে বসেছেন।
চাদরের বাইরে বের হয়ে থাকা মুখটুকুতে হঠাৎ বৃষ্টির ফোটা মত পড়তেই আধাঘুমের ম্যাড়ম্যাড়ে চোখে চেয়ে দেখলো করবী ওর দাড়ি সেভ করার ছোট্ট আয়নাটা নিয়ে কপালে সোহাগের সিঁদুর লাগাচ্ছে। আর সেই ভিজে চুল থেকেই শিশিরবিন্দুর মত জল ঝরে পড়ছে। চাদর থেকে হাতদুটো বের করে যেইনা কোমরটা ধরেছে অংশু, অমনি পাঁকাল মাছের মত শরীরটাকে হিলহিলিয়ে কপট রাগ সহ চোখ বড় বড় করে করবী ইশারা করলো অংশুকে ফ্রেশ হয়ে নিতে। পটে আঁকা সুন্দরী না হলেও, যে রূপ থেকে চোখ ফেরানো যায়না, করবী সেই সুন্দরী।
প্রাতঃরাশে পোহা মানে চিড়ের একটা পদ সাথে একটা ডিমের পোচ আর এক পেয়ালা চা। লাঞ্চের জন্য বাবা মায়ের পছন্দের সব্জি আর মাছ এনে, পাশের ফ্ল্যাটের বাঙালী সহকর্মীর বাঙালী স্ত্রী ইশানী বৌদিকে ডাকতেই, তিনি স্ব-উৎসাহে রান্নাবান্না করে দিয়ে গেলেন।
বৌদিই করবীকে একটা ঢাকাই জামদানি সুন্দর করে পরিয়ে দিয়ে গেলেন। ত্রয়োবিংশী করবীর চোখেমুখে শিশুসুলভ উচ্ছ্বাস। যথা সময়ে হৈ হৈ করে অংশুর বাবা ফ্ল্যাটে পৌঁছে গেলেন ওর মাকে সাথে করে। করবী শ্বশুর শাশুড়িকে টুপ করে প্রণাম করে এক্কেবারে লজ্জাবতী লতার মত ঘরের এক কোণে সরে দাঁড়িয়ে রইলো। এদিকে মা বাবার সাথে অংশু, শরীর স্বাস্থ্য, চাকুরি, এলাকা ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা মগ্ন রইলো। করবী সবটাই দেখছে কিন্তু সে অংশগ্রহন করলোনা। অংশুর মাও যেন বৌমা হিসাবে করবীকে ঠিক মেনে নিতে পারছিলেন না। যাইহোক, ক্লান্ত শরীরে বাবা মা ফ্রেশ হয়ে বিশ্রাম নিতে গেলে করবীও একটু গা এলিয়ে দিল।
হঠাৎই অফিস থেকে বসের জরুরী একটা ফোনের জন্য অংশু বেরিয়ে গেল। মা বাবা, করবী তিনজনেই ঘুমাচ্ছে, ‘এই যাব আর এই আসব, অযথা জাগিয়ে লাভ কিএই ভেবে অংশু বেরিয়ে গেল। ঘুমভাঙা শাশুড়ি বৌমার দরজার সামনে গিয়ে অনেক ডেকেও সাড়া না পেয়ে রুষ্ট মনে বললেন-
"বাব্বা, মেয়েছেলের এতো দেমাক কেন বাবা। ছেলেটা যেন আমার নয়, টিকলে হয়!
সন্ধ্যার দিকে অংশুর সাথে ফোনে কথা বলে ওর বাবা জানলো তার আসতে লেট হবে। ওদিকে ওর মা স্থানীয় বাজারে যাবার জন্য উদগ্রীব, বিবাহ আশীর্বাদের লোকাচারের সামগ্রী কেনার জন্য। তিনি অংশুকে সে কথা বলতেই অচেনা জায়গার জন্য করবীকে সাথে নিয়ে যেতে বললেন-
" মা, আমি করবীকে মেসেজ দিয়ে দিচ্ছি। ওর সাথে চলে যাও।"

মায়ের ঠিক মনপুতঃ নাহলেও ছেলের কথাটা ফেলতে পারলেন না। তিনি বৌমার ঘরের দিকে যাওয়ার আগেই দেখেন করবী একটা শালোয়ার স্যুট পড়ে এক্কেবারে তৈরী। শাশুড়ি কোনো কথা বাড়ালেন না, চুপচাপ করবীর পিছনে অনুসরণ করলেন।
ব্যাঙ্গালোরের ভিড় রাস্তাতে করবী, শাশুড়ির হাতটা কয়েকবার ধরার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তিনি বললেন-
"থাক, আর আদিখ্যেতা করতে হবেনা, আমিও গড়িয়াহাটে শপিং করি। গেয়ো ভূত ভেবোনা। উঁ, আমার সোনার টুকরো ছেলেটার উপরে কালাজাদু করে বস করে আবার ঢং হচ্ছে! "
ফেরার সময় রাস্তাটা শাশুড়ি বৌমা পার হচ্ছিলেন, হঠাৎ দড়াম করে একটা শব্দ। তার পর লোকে লোকারণ্য।

আউটার রিং রোডের একটা হাসপাতালের মর্গের সামনে লাশ শনাক্ত করছে অংশু। ওর স্ত্রী করবী গাড়ি এক্সিডেন্টে মৃত। যাকে তিন দিন আগে একটি মন্দিরের অনাথ আশ্রম থেকে বিবাহ করেছিল। অংশুর মা ও কপাল চাপড়ে কেঁদে চলেছেন, "
যদি জানতাম বৌমা আমার মুক ও বধির, আমি কি ওর হাত ছাড়তাম?"
---- সমাপ্ত


শুক্রবার, ১৬ জুন, ২০১৭

এবং শেহনাজ

এই সারসংক্ষেপটি পাওয়া যাবে না। পোস্ট দেখার জন্য এখানে ক্লিক করুন

শুভেচ্ছা বাংলাদেশ।



তোমাদের বোলারা নি:সন্দেহে বিশ্বমানের। সাকিব, মুস্তাফিজুররা ভাল সঙ্গত পেলে কি করতে পারে IPL বড় প্রমান। দু একজন ব্যাটসম্যানও তাই। ফিল্ডিং অনেক উন্নত ও বেশ ভাল কিছু অলরাউন্ডার রয়েছে।

বড় কষ্ট হয়, ওদের কিছু ছোটলোক সাপোর্টারেরা অশ্লীলতা শুরু করে। নাচনকোঁদন দেখে ঝাঁট জ্বলে যায় আর কি।
সুতরাং, সেই ভাষাতে বাধ্য হলেও খিল্লি করতেই হয়। কারন জাত্যভিমান ও ক্রিকেটীয় গর্ব আমাদেরও কিছু কম নেই। ম্যাচ শেষ খিল্লি শেষ।
তবুও বলব-
সাবাস বাংলাদেশ। অষ্ট্রেলিয়া ইংল্যান্ড ওয়েষ্ট ইন্ডিজের মত কুলীন দল গুলোকে টপকে শেষ চারে থাকাটা গর্বের বইকি।
বেষ্ট অফ লাক।


শুক্রবার, ৯ জুন, ২০১৭

।। কালিম্পং ভ্রমণ - ১ ।।

চলতে চলতে
পঞ্চম পর্ব-১
..................

"স্যারজি, ই তো হামারা হোটেল নাই হেই, ঘর আছে। থোরা এডজাষ্ট কিজিয়ে, আপ মেহমান হ্যায় হামারা, কাষ্টমার নেহি"
খানিকক্ষন আগে মনোসভাই যখন ডিনার সার্ভ করতে করতে কথাগুলো বলছিল, তখন একবারের জন্যও মনে হয়নি এই মানুশটি আমার আত্মীয় নন। অদুরেই রান্নাঘরে ওনার স্ত্রী দাঁড়িয়ে, স্টাটারের সাবুর বড় পাঁপড়ে কামর দিয়ে চোখাচোখি হতেই দেখি, তাঁরও নির্বাক চোখে সেই একই কথার জোরালো প্রতিধ্বনি।
এই প্রত্যন্ত পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড় সুলভ কঠিন পেটানো চেহারা ও মুখমন্ডলে যতটা সম্ভব হাসি আর উজ্জ্বল্য আনা যায়, তার চেয়েও একটু বেশি এনে, সত্যিই এনারা যেন মেয়ের শ্বশুরবাড়ির কুটুম্ব সদৃশ্য খাতিরতোয়াজ করছেন। বসুধৈব কুটুম্বকমের সাক্ষাৎ বিজ্ঞাপন, এটাই ইনক্রেডিবল ইন্ডিয়া, আমার স্বদেশ আমার বাংলা।
গতকাল যখন শিয়ালদা থেকে ট্রেনটা দুপুরে ছাড়ল, গনগনে জৈষ্ঠ্যের বেলা তখন গামছা নিচরানোর মত গতর থেকে ঘাম বের করে চলেছে। চালু টিকিটে ট্রেনে উঠে ভ্রমণ এ আমাদের ভবঘুরে বন্ধু কজনের অনেক দিনের রোগ। যথারীতি টিটিকে ম্যানেজ করা গেল। খাগড়াতে এসে স্থায়ী একটা সিট পাওয়ার আগে পর্যন্ত বেদের দলের মত কাঁধে রুকস্যাক আর হাতের ঝোলা ব্যাগ নিয়ে আর্ধেক ট্রেন চষে ফেললাম। পিঠের ব্যাগে সেই চিরাচরিতভাবে নির্দিষ্ট কিছু জরুরী জিনিস। আর হাতের ঝোলাতে মায়ের গুছিয়ে দেওয়া ভাতের টিফিন, তরকারির কৌটো আর জলের জার। কে ওনাকে বোঝাবে যে আজকাল অনলাইনে রাস্তা জুড়েই খাবার পাওয়া যায়, আর জল? অন্তত শখানেক হকার বোধহয় 'ঠাণ্ডাপানি" বিক্রি করে চলেছে।

সিটটা জুটলো ৭১ নং এ বাথরুমের এক্কেবারে কাছেই। বসেই যেতে হবে গোটা রাস্তাটা, আরেকজনের সাথে। তিনি মাঝবয়সী কোচবিহারী মহিলা, সাথে একটি কিশোর ছেলে ও স্বামী। উল্টোদিকে ৬ টা সিট গোটাটাই আলিপুরদুয়ারের একটা পরিবারের দখলে, সাথে একটা কচি বাচ্চা। ব্যাগপত্তর সিটের নিচে চালান দিয়ে টিশার্ট টা খুলে বসেবসে যেই গা টা এলিয়ে দিয়েছি, ওমনি নিদ্রাদেবী ঢুলুনির প্রোমো চালিয়ে দিয়েছে।
কতক্ষন পর জানিনা, বাঁজখাই গলায় 'উঠুনতো মশাই' আওয়াজ সহ কাঁধে একটা মৃদু ধাক্কা অনুভুত হতেই, মেজাজটা চিড়বিড়িয়ে গেল। কাঁচা ঘুম ভাঙলে যা হয় আর কি। শকুনিমামা স্টাইলে একটা চোখ খুলেই মুখ ফসকে যথারীতি খাঁটি বাংলা উবাচ নির্গত হল- ধুর ওয়ারা, খোঁচাচ্চেন কেনে!!
-কি, আমাকে খিস্তি? টিটি কোথায় টিটি, টিটি.... পুলিশ...
- কি কেলো, আমি তো ঘুমাচ্ছিলাম, কি কেলো হল?
ব্যাগ গুলোর দিকে একবার চোখ বুলিয়ে দেখলাম, ওরা এই ঝামেলার আঁচ পাইনি, শান্তিতেই ঘুমাচ্ছে।

- আপনি জানেন আমি কে? অভদ্র চুয়ার....
এবারে একটু হাসিই পেয়ে গেল, বললাম-
- আপনার পরিচয় পেয়ে পেয়ে ভালই লাগল। তা বলুন কি সাহায্য করতে পারি!
- ওঠ আমার সিট থেকে, আমাকে কিনা খিস্তি! উঠ আমার সিট থেকে

পাশ থেকে একজন বয়স্ক ভদ্রলোক বলে উঠলেন, আহা মাস্টারমশাই অপেক্ষা করুন, এই জাতের লোকজনে আজকাল দেশ ছেয়ে গেছে, আমি রেলের হেল্পলাইনে কল করে দিয়েছি, পুলিশ এলো বলে। উল্টোদিক থেকে একজন মহিলা বলে উঠলেন ক্ষ্যাপা পাগল নয়ত আবার! কেজানে বাবা ভদ্রলোকের মতই কাপড় জামা... আরো বহুকিছু বলছিলেন। 
মজাটা হল এর পর, আমি কানে হেডফোন লাগিয়ে আবার চক্ষু মুদিতেই, ওদের আক্রোশ ফেটে পড়ল। পুরুষটি পুলিশ খুঁজতে গেছে, মহিলাগুলো রীতিমত উচ্চশ্রবে চেঁচিয়ে আমার চোদ্দগুষ্ঠি উদ্ধার করার দরুন কম্পার্টমেন্ট মাথায় তুলে বকি যাত্রিদের বিনোদন যোগাচ্ছেন। আমিও আজন্ম বেয়াড়া ত্যাঁদড়, শিব সেজে জানালাপানে মুখ করে বসে আছি, কারণ টিটি বাবাজী স্বয়ং নিয়মমাফিক চালান কেটে আমার সিট কনফার্ম করে এখানে বসিয়েছেন। তাই সে ব্যাটা না আসা পর্যন্ত এই বান্দর বন্দর ছেড়ে নড়ছেনা।

গাড়ি নিউ ফারাক্কা স্টেশনে পৌছাতেই কিছু হকার উঠল, এক ঝালমুড়ি ওয়ালার থেকে আমতেল মিশ্রিত ঝালমুড়ি আমেজ নিয়ে খাওয়া দেখে ওই ঝিমিয়ে যাওয়া মহিলারা আবার নতুন উদ্যোমে সিরিয়াল শুরু করেদিলেন। ট্রেন এতক্ষণ পর্যন্ত ঠিকঠাকই চলছিল, এখানে প্রায় টানা ২৮ মিনিট পর হুইসেল দিয়ে চাকা গড়াতেই দেখি সেই ভদ্রলোক গোটা দুই RPF আর খান তিনেক TTE নিয়ে হাজির আমাকে সবক শেখাতে। তারপরে সব কিছু চেকচাক করে কিছু না বলেই এক RPF বাবু আচমকা সেই "আমি কে জানিস" ভদ্রলোকের গালে সটান চড়। ফারাক্কা ব্রিজের ঝনঝনা আওয়াজকে ছাপিয়ে পুরো ইয়র্করের মত সকলের কানের পাতায় ধাক্কা খেয়ে বগিময় প্রতিধ্বনিত হতে লাগল সেই সুমিষ্ট আওয়াজ।
যেটা জানলাম, ওই ভদ্রলোকেরও ৭১ নং সিট, কিন্তু S5, আর এটা S4আর যেটা বুঝলাম যে, হামবড়া ব্যাক্তিটি নির্ঘাত এতো পরিমাণ হম্বিতম্বি করে এনাদেরকে এনেছিল, সেটারই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এই ঊনআশি শিক্কার চড়। মহিলাগুলো হঠাৎ করেই যেন লজ্জাবতী লতার মত কেমন নেতিয়ে গিয়ে সঙ্গী বীর পুরুষটির প্রতি কটাক্ষপাত করতে লাগলেন। যথারীতি রাত নটার কাঁটা পার হতেই ট্রেন মালদা টাউনে ঢুকলো। অতএব খাওয়াদাওয়া শুরু, ৫-৭ মিনিটেই আমার পর্ব শেষ হয়ে গেল। এদিকে সামনের সেই বৃহদ পরিবারে আরো বেশ কিছু সদস্য জুটেছে খাবার সময়ে, যারা হয়ত এদিকওদিক ছিটিয়েছড়িয়ে বসেছিল।

মজাটা আরো দীর্ঘায়িত হল এবারে; মালদা স্টেশন এক্কেবারে হকার শুন্য। বন্ধু Debesh নিশ্চই আসল কারনটা বলতে পারবে। অতএব জলওয়ালারা ট্রেন থেকে হাপিস। এদিকে ওই পরিবারের সঞ্চিত জল শেষ। সেই মাঝবয়েসী ভদ্রমহিলা আমাকে অমন একটা পঞ্চাশের দশক মার্কা বেঢপ জারে করে জল বইতে দেখে বেশ মুখ টিপে হেসেছিলেন, তার মাথাতেই এলো কথাটা।
- বলছিলাম কি দাদাভাই, জল আছে? 
জল বলে জল! সেই অবাক জলপানের মত, চোখের জল নাকের জল, ঘামের জল, ট্রেনের ট্যাঙ্কির জল... কত জল চাই! নাহ এ কথাগুলো শুধু ভেবেছি, ওনাদের বলিনি। যেটা বললাম সেটা হল-
- কেন থাকবেনা জল!! আছে তো। বলেই আমিও জারটা ব্যাগ থেকে বেড় করে দিলাম। এমনিতেই NJP তে ফেলেই দিলাম, যাক সৎকারে লেগে গেল।
- জলে কি সুগন্ধী দেওয়া আছে দাদা?

আমি শুনেও অগ্রাহ্য করলাম কথাটা, কারন জানি ওটা আমার মায়ের কীর্তি। উনি যে, ১০০ লেবুর শক্তি সম্পন্ন ভিম লিকুইড দিয়ে জারটি পরিষ্কার করেছিলেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। যথারীতি প্রায় নিরুপদ্রবেই বাকি পথটা অতিক্রম করে, ভোর শোয়া তিনটের সময় নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে নেমে এক কাপ চা-পান করে ঘুম তারালাম।

মনের সুখে একটা মান্নাদের গান গুনগুন করতে করতে দীর্ঘ ফুট ওভারব্রিজ বেয়ে বাইরে ট্যক্সি স্ট্যান্ডে এসেই বাজটা পড়ল। একটা গাড়িও পাহাড়ে যাবেনা, গুরুঙ এর নাকি পুরকি আবার চেগেছে। স্বয়ং বড়লাট (স্ত্রীলিঙ্গে পড়ুন) পাহাড়ে অধিষ্ঠান করছেন ভাইগুলোকে (কি জানি কিসের ভাই!!) নিয়ে, অতএব একটা হেব্বি থ্রিলিং। অধিকাংশ পর্যটকের দল ডুয়ার্স, গ্যাঙটক, নেপাল ভুটানের দিকে রওনা দেবে বলে সেই মাঝরাত্রে ডিসিসন নিয়ে অনলাইনে হোটেল খুঁজে বেড়াচ্ছে।
অনেক উঁচু থেকে ঠিকরে পরা সাদা আলোতে ধুয়ে দেওয়া হেরিটেজ রেল ইঞ্জিনের কাছে বসে খান দুয়েক সিগারেটের মুখাগ্নি করে ভাবতে লাগলাম-
যাব্বো কি যাবো না!!!
........ক্রমশ


বৃহস্পতিবার, ৮ জুন, ২০১৭

।। নদিয়া ২ বর্ধমান ।।


নিরুপায় দশা মাঝামাঝেই চর্ম চক্ষুর সাথে সাথে মনের চোখও খুলে দেয়। নাহলে এই ভরা জ্যৈষ্ঠের গ্রীষ্মে কেনই বা বাইক নিয়ে সফরের ভূত মাথায় উঠবে। প্রান্তিক নদীয়া থেকে যাব আধুনা পূর্ব বর্ধমান জেলা সদর বর্ধমানে, মিহিদানার শহর বর্ধমান। গ্রামীণ বর্ধমানের গ্রামাঞ্চলের প্রবাদ “ধান-আগুরি-মুসলমান , তিন নিয়ে বর্ধমান”। কথাটা যে কতটা সত্যে, সেটা একমাত্র এসেই উপলব্ধি করতে হবে। অবশ্য বর্ধমানকে সাবেক বাম আন্দোলনের আতুর ঘর বললেও অত্যুক্তি হয়না। গতমাসে আমাদের পিসিমনি বর্ধমানের লেজ কেটে দিয়েছে, শিল্পাঞ্চল আলাদা, বাকিটা গ্রামীণ।

গ্যারাজে আমার বুলেট বাবাজি স্টার্ট নিলেননা সকালসকাল, অবশ্য সুইচ টিপেই চেষ্টাটা করছিলাম। মেন গেটের বাইরে ঠেলে এনে লাগালাম কিক, এ কি আর যার তার কম্ম! গতরাত্রের ঝড়-বৃষ্টির স্যাঁতসেঁতে পনাতে সম্ভবত ব্যাটারি চার্য ছেরে দিয়েছে। যাই হোক বার পাঁচেকের চেষ্টায় ৫০০ সিসি এর ইঞ্জিন গগনভেদি চিৎকার করে জানান দিল, সে ছোটার জন্য প্রস্তুত। পিঠে হালফ্যাসানের একটা ব্যাকপ্যাক; তাতে একটা গামছা, একটা লুঙ্গি, পাতলা টিশার্ট, ডেলি ব্যবহারের টয়লেট এক্সেসারিজ, পানীয় জলের, আধুনা মোবাইলের পাওয়ার ব্যাকআপ, একটা বোতল আর দুটো বিস্কুটের প্যাকেট একটা খোপে থাকেই থাকে। বাকিগুলোতে যে উদ্দেশ্য নিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছি, তার মানানের কাগজপত্র ফাইল ইত্যাদি। আমার কাছের দুটো পাওয়ার ব্যাকআপই জয়দার দেওয়া। এমাসের বাক্সপ্যাটরাতে নতুন সংযোজন বলতে একটা বিগসপার সাইজের ঢাউস নাইলন ব্যাগ। তাতে অত্যন্ত সযত্নে মুড়ে রাখা আমাদের অকপট সাহিত্য পত্রিকা। পথে যদি বড় ও চালু কোনো ম্যাগাজিন স্টল পায়, ২-৫ পিস রেখে যাব এই অভিপ্রায়ে।

আজকাল পিসির ‘সেফ ড্রাইভ- সেভ লাইফ’ বিজ্ঞাপনের জন্য নয়, সেই বাইক প্রেমের শুরুর দিন থেকেই স্টাইলিশ হেলমেটের প্রতিও একটা ভীষণ দুর্বলতা রয়েছে আমার। এখন অবশ্য স্টাইল আর বেঁচে নেই তেমন, কিন্তু হেলমেটের সু অভ্যাসটা যথারীতি রয়েছে। রওনা শুরু করতে করতে দেখি পৌনে নটা, প্রাতরাশ হয়নি; পথে কোথাও একটা করে নিলেই হবে।

প্রথম আধা ঘন্টা তেমন কিছু বলার মত নয়। গঙ্গার উপরে শ্রীচৈতন্য সেতু, পশ্চিমমুখী হয়ে ডানদিকে নদীর নিচে অনেকটা স্থান জুড়ে চড়া পরেছে, ডানদিকে নব নির্মীয়মান ISCON মন্দিরের সুউচ্চ চূড়া চূড়ান্ত বৈভবের প্রতিমূর্তী হয়ে নিজেকে জানান দিচ্ছে। রাস্তার দুধারে টিপিক্যাল নদীয়ার খালবিল, আর দূরে দিগন্তরেখানে কিছু গ্রাম ও মন্দিরের চুড়ো অথবা মসজিদের মিনার। নদীর চড়াতে বেশ কিছু সব্জির চাষ, ফুটি, তরমুজ, শশা, পটল, ঝিঙে ইত্যাদি। দূরে আখ ও ভুট্টার ক্ষেতও জনজরে আসছে। গাঙ্গেয় পলিমাটির উর্বরতার প্রভাবে গঙ্গার দুইপাড়ের বেলেমাটিতে সব্জির চাষ সেই নদীমাতৃক সভ্যতার শুরু থেকেই যে সমৃদ্ধ, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। নদীয়ার সীমানা অতিক্রম করে বর্ধমানে ঢুকে কয়েক কিমি এসেই একটা তেমাথার মোর মত জাইগাতে জানলাম দুটো রাস্তাই বর্ধমান যাচ্ছে; একটা ভায়া ধাত্রি গ্রাম, অন্যটা ভায়া কুসুমগ্রাম। শেষেরটা ৫-৭ কিমি কম ও সোজা রাস্তা, অতএব সেই পথেই পা বাড়ালাম। তবে আসার পর দেখলাম, এ পথের আসেপাসের ঘরবাড়িগুলোর উঠোন কিন্তু এই রাস্তাটাই।

রাস্তার কথাতে বলি, বেশ কিছুদিন ধরেই দেখছি, গ্রাম বাঙলার রাজ্যসড়ক গুলোর দারুণ ভাবে হাল ফিরেছে। বেশ চওড়া, দুপাশে সহ মাঝে সাধা রঙের বর্ডার, গাঢ় সবুজ বোর্ডে সাদা রঙ দিয়ে জনপদের নাম লেখা ইত্যাদিজনপদগুলোতে দেখি রাস্তার পিচে রেডিয়াম লাইট রিফ্লেক্টার বসানো। বেশ ঝকঝকে, আর বাইক আরহীদের জন্য এই ধরনের রাস্তা এক কথায় স্বর্গ। কিন্তু শুধু সুন্দর রাস্তা আমি বা আমরা বললে তো হবেনা, অন্যেদেরও সুন্দর লাগে অন্যভাবেঅতএব অনেক চাষির কাছে এটাই খামার, ফসল পেটাচ্ছে, শুকাচ্ছে, গাদা দিচ্ছে সহ আর কতো কি। দুএক স্থানে তো গোটা হাটটাই রাস্তার উপরে বসে পরেছে, সে এক কেলেঙ্কারিয়াস কাণ্ডকারখানা। আর সেই দানা বা শাকপাতারির লোভে যতো রাজ্যের পোষ্যের আমদানি এই রাস্তার উপরেই; হাঁস, মুরগি, ছাগল, ভেড়া, গোমাতা, গোপিতা, গোহধর সহ কুকুর, বেড়াল সকল কিছুর অবাধ বিচরন ক্ষেত্র। আর দুরন্ত আবাল মানবশিশুর কথা তো জাষ্ট ইচ্ছা করে উহ্য রাখলাম। জানিনা এমন রাস্তা বাঙলার আর কোথায় আছে গাড়ি ঘোড়ার চাপ তুলনামূলক বেশ কম, অথচ উপরোক্তদের দাপটে মাইল মিটারের কাঁটা ৩০ থেকে পঞ্চাশের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে।

বর্ধমান জেলা ঢুকে প্রায় ৫-৭ কিলোমিটার যাবার পরেই জীবনানন্দের বাংলার সেই চিরাচরিত রূপ। গ্রামীণ বর্ধমানের পরিবেশের সাথে আমি কিছুটা হুগলী, দক্ষিন ২৪ পরগনা আর পূর্ব মেদনীপুর জেলা ছারা সবুজের সাথে মাটির এমন মমত্ব ও এই বিপুল বৈচিত্র আর কোথাও দেখিনি। চাষি ধান কেটে নিয়ে গেছে গত মাসেই, কোথাও সামান্য পাটের ক্ষেত কোথাও কিছু তিল বোনা; বাকিটা কাটা ধান গাছের গোঁড়া বা চলতি ভাষায় নাড়া ভর্তি খালি জমি মাইলের পর মাইল। মাঠে ট্রাক্টারের চাকার ধান বয়ে নিয়ে যাবার দাগ এখনও স্পষ্ট, সেখান থেকে ঝরে পরা ধান গুলো ইতি মধ্যেই অঙ্কুরিত হয়ে বিঘৎ খানিক করে লম্বা হয়েছে বিনা পরিচর্যাতেই। দিগন্ত জোড়া সেই সবুজ গালিচার মধ্যে, জলে পচা, রোদে পোড়া সেই নাড়াগুলো গোটা মাঠটাকে একটা অদ্ভুত সুন্দর পান্ডুর সবুজাভ বর্ণ দান করেছে। মাটি যথারীতি ফুটিফাটা, চাষিও বৃষ্টির প্রতীক্ষায়, এই অনাহুত ঝরে পরা ধান থেকে জন্ম নেওয়া চারা গুলোও বৃষ্টির প্রতীক্ষাতে। অথচ দুজনের লক্ষ্য আলাদা, চাষী এই নাড়া সহ সবুজ চারাগুলোকে ট্রাক্টারের ধারালো ফাল দিয়ে কাঁদার মধ্যে মিশিয়ে দেবে। যেগুলো সার হিসাবে পুষ্টি প্রদান করবে বর্ষার ধানের চারাগুলোকে। আর এদিকে এই ঝরে পরা ধান থেকে জন্মানো চারাগুলো বৃষ্টির আকুল প্রতীক্ষাতে শুধু বেড়ে উঠার জন্য , বাঁচার জন্য। এ এক চরম ও অসম প্রতিযোগিতা।

গোমাতা-পিতা-ভাতৃ-ভগীনের দল রীতিমত পিকনিকের মুডে মাঠের আলের লকলকে ঘাস সহ, কচি ধানের চারা খেয়ে চলেছে। সাথে মোষও চড়ছে ভারী সংখ্যাতে। একটা জিনিস কিছুতেই ভেবে উদ্ধার করতে পারিনি, আজও সেই ভাবনাই ভাবতে লাগলাম। গরুও ঘাস খায়, খড় খায়, খোল খায়, পাচনের বারিও একই। দুজনেই গোবর নাদে, ছরছর করে বালতি বালতি মোতে, সিং আছে, একই ধরনের লেজ এমনকি গাছে মাছি ভনভন করে, গুঁতায় সুযোগ পেলেই এবং হাটেই কেনাব্রচা হয় উভয়েই হাম্বা ডাকে, জাবর কাটে, চাঁট মারে। দুজনেই দুধ দেয়, চারটে করে বাঁট। কারোরই ছাগলের মত দাড়ি নেই যে বুদ্ধিজিবী হিসাবে গন্য হবে। বরঞ্চ মোষ পরিমাণে অনেকটা বেশি দেয়। দুজনেরই মাংস খাওয়া হয়, সারা পৃথিবী জুড়ে। শরীরে যৌনাঙ্গের অবস্থান থেকে রতিক্রিয়ার পদ্ধতিও একই স্টাইলের।

পিতা মোষ বেশি শক্তিশালী গোপিতার চেয়ে, অতএব গাড়ি বা নাঙল- যোঙাল জুড়তে মোষই শ্রেষ্ঠ। গোপিতা মহাদেবের সাথে পূজিত হলে, মোষ মা দূর্গার সাথে পুজিত হয়। এমন কত্তো কি সিমিলারিটিস ছরাছরিঅথচ গো মাতা হয়ে গেল, আর মোষ? সে কিনা মোষই রয়ে গেল? সৎ মা না হয় নাইবা হল, মাতার পিতৃকুল মাতৃকুলের কোনো আত্মীয় তো হতেই পারত। শ্যালিকা, বৌদি, বান্ধবী, সই, সেলুজ ইত্যাদি গুলো নাহয় ফচকে সম্পর্ক, কিন্তু মাসীমা, পিসিমা ঠাকুমা, দিদিমা, রাঙ্গাপিসি, ফুল মাসি, ইত্যাদি নামে তো ডাকাই যেত, এগুলো কি গম্ভীর রিলেসন নয়! মায়ের অধিকার গোমাতা পেলেও এমন তো নয় যে গোমাতার জন্মদাত্রী মা টিকে দিদিমা ডাকার বিলটাও পাস হয়ে গেছে! চূড়ান্ত ফেমিনিজমে আক্রান্ত এই সমাজের সংবিধানে তো শুধুই মা শব্দ ভাই, ভগীনি, নাতি পুতি তো কোন ছার এমনকি পিতারও কোনো ক্রেডিট নেই। গোমাতা যেন এ্যামিবার মত নিজে নিজেই গোহদরা বা গোহদরি প্রসব করেন। 

গো পিতার এমন দুর্ভোগ যে গেরস্তের ঘরে থাকলে আগেই নর সন্তানেরা শিশুপিতার অন্ডকোষ কেটে খোঁজা করে হাতে ধরিয়ে দেয়, থুড়ি মুখে জাল পরিয়ে দেয়। অন্য ভাগ্য হল ভগার নামে রাস্তাতে ছেরে দেওয়া। যত রাজ্যের ফল পাকুরের দোকানে হুজ্জুতি বা তোলা আদায় করার পাশাপাশি ময়লা ফেলা ভ্যাটগুলোর সবুজ সাফ করা, পাইকারি হারে গুতানো ও রাস্তা অবরোধতার ফাঁকে রাস্তা গোবর নাদার ফাঁকে কোনো গোমাতা সু-নজরে এলো, নধর দেহ ছুটিয়ে ইমানদন্ড তরিবারির মত উঁচিয়ে তাঁকে ধাওয়া করে আদর সোহাগ করা। এবিষয়ে অবশ্য কুমারি বা বাচ্চার মাতা ইত্যাদির বাছবিচারের মত নিকৃষ্ট বিলাসিতা গোপিতাদের থাকেনা। অথচ এদিক থেকে মোষ এই সকল চরিত্র গুণ থেকে মুক্ত। প্রকাশ্য রাস্তাতে ধাওয়া করে লাগাতার অন্যের স্ত্রী কন্যা পুত্রবধু ইত্যাদি সম্পর্কিত মহিলাদের ধর্ষনের ইতিহাস মোষেদের বংশে নেই। পার্থক্য বলতে মোষের বাসস্থান খাটাল হয় আর গরুর গোয়াল। দু স্থানেই মশার ভনভনানি, রক্তচোষা ডাঁশ, আর বিচ্ছিরি গন্ধ।

তাহলে এই বৈষম্যের পিছনে কি কারন থাকতে পারে? একটা চক্রান্ত, সেই চিরাচরিত বর্ণ প্রথা। মোষ এলোমেলো লোমযুক্ত কালো বলে ব্রাত্য, আফ্রিকান মানুষদের মত। সেখানে গরু হল গিয়ে হিপিদের মত, কত রঙের বাহার, পেলব কোমল শরীর। তাই গো হল মাতা, আর মোষ রয়ে গেল অসুরই।

এরই নাম কপাল। সে যাই হোক, মাথা থেকে এই সকল আলতু ফালতু ভাবনা ঝেড়ে ফেলতে একটা সিগারেট না ধরালেই নয়, একটা ছোট জনপদে দাঁড়ালাম। আরো কিছু দূর চলে এসেছি, এখানে মাটির চরিত্রে কিছুটা বদল লক্ষ্যনীয় হলজনপদগুলোতে চা, পান, বিড়ি, মিষ্টান্ন, মোবাইল রিচার্জ এর দোকানই বেশি, তাছারা বাকিগুলো সবই প্রায় ব্যাবসায়িক ছোট ছোট আড়ত। গোটা রাস্তা জুড়েই ধানের বস্তা বোঝায় ট্রাকের ছড়াছরি, নিকটবর্তী চালকল গুলো খোরাক এই ট্রাক গুলোই প্রায় প্রতিটি জনপদের কাছে একটা করে স্কুল বিশেষ লক্ষ্যনীয়। দূরে ঘন কালচে সবুজ গাছের সারির ফাঁক দিয়ে ছোট্ট ছোট্ট গ্রাম নজরে আসছে, বাকিটা সেই তেপান্তরের সমতুল্য। রাস্তার ধারের কয়েকটি  বাড়ির পাশের জমিতে কচু, ভেন্ডি, বরবটি, করলা বা উচ্ছে, বারমেসে লঙ্কা, বেগুন সহ বিক্ষিপ্তভাবে শব্জি চাষ হচ্ছে, তবে গোটা রাস্তা জুড়ে মাংসের জন্য বিক্রি হওয়া পোল্ট্রি ফার্ম বেশ উল্লেখযোগ্য সংখ্যাতে চোখে পড়ল। এছারা বলার মত একমাত্র চালকলের চিমনীগুলো। পরিবেশ দূষনের ভারী ভারী আপ্তবাক্য তথা নিষেধাজ্ঞাকে মধ্যমা আঙুল দেখিয়ে গলগল করে ছাই সহ কালো ধোঁয়াতে আকাশকে ঢেকে দেবার ব্যার্থ প্রচেষ্টাতে রত।

যাত্রা শুরু থেকে প্রায় ৩৫ কিমি চলে এসেছি, সময় ৪৫ মিনিট। এবারে রোদের তেজ বেশ অনুভূত হচ্ছে। হেলমেট মাথাকে এক্সট্রা ঘামিয়ে দিচ্ছে। অতএব আবার বাইক দাঁড় করাতেই হত। কিন্তু রাস্তা চওড়া করতে গিয়ে রাস্তার ধারের গাছগুলো সব আত্মাহুতি দিয়েছে, বেড়েছে শুধু দুধারের নয়ানজুলি গুলো, আড়ে ও বহরে। একটু ছাওয়া খুঁজতে গিয়ে সামান্য দুরেই সেটা পেলাম। একটা বাবলা গাছ। এই চাঁদি ফাটা রোদ্দুরে বাবলা গাছের ওই ছোটছোট পাতার পাতলা ছায়াও যে কতটা স্বস্তিদায়ক, সে শুধু ভুক্তভোগীই জানে। এর আগে বোধহয় কখনই বাবলা গাছকে এতোটা ভাললাগেনি, এতো ভালো করে দেখিওনিএই গরমেও দেখি কি সুন্দর হলুদ হলুদ ফুল ফুটেছে। দু ঢোক জল খেয়ে, একটা পিওর শান্তিনিকেতনী সুতির বড় রুমালকে; বীরেন্দ্র সেহবাগ স্টাইলে মাথায় ব্যান্ডেনা মত বেঁধে মুখটাও মাওবাদীদের মত করে চোখে খোলা রেখে আবৃত করে নিলাম।  নচেৎ পোড়া মুখ আরো পুড়ে জয় বজরঙবালীড় বংশতুতো ভাই সদৃশ্য ধারণ করব।

ওই বাবলার ছায়া এক আশ্চর্য পরিবর্তন আনল মনজগতে, আলফাল ভাবনা সরিয়ে হঠাত করেই দেখার পরিসরকে বিস্তৃত করে দিল। বাইক যত এগোয় ততই দুধারের অবশিষ্ট গাছগাছালি গুলোকে খেয়াল করি মন দিয়েতিরতিরে হাওয়ায় সোনাঝুড়ির ডালে যেন হলুদ রঙের বন্যা লেগেছে, আবার কোথাও কৃষ্ণচূড়ার লাল আগুনে ফুলে সেজে গ্রীষ্ম তার নিজের রূপ জাহির করছে। রংগনের লাল থোকা হোক বা শিরীষের সাদা তীব্র গন্ধ যুক্ত গোটা পরিবেশকে একটা অন্য মাত্রা দান করেছে। রাস্তার ধারের ঝোপ গুলোতেও টগর, জবা, বুনো বেলফুল, সহ অনামী নানান গুল্মতে যে কত রকমের রঙের পসরা, আমরা যাত্রা পথে যদি একটু খেয়াল করি, গরম কোথায় যেন উধাও হয়ে যায়। হলুদ টিকুমা, রাধাচূড়া, কলকেফুল, চাঁপা এমনকি আকন্দও নিজেকে ফুলের সাজে সাজিয়ে রেখেছে। গোটা মাঠ জুড়ে অসংখ্য তাল গাছে জলভরা তালকাঁদি গুলো দুর থেকে পুঁই মিচুরির মত লাগছে, আবার পুরুষ তালগাছ গুলোতেও পুরুষ ফুলের দণ্ড অনেক সুউচ্চে কি গাম্ভির্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এলোমেলো হাওয়ার জন্য পথের ধারের কলাগাছের পাতা গুলো শতচ্ছিন্ন হয়ে কি সুন্দর ছন্দবদ্ধভাবে হাওয়াতে নেচে চলেছে। 

ইউক্যালিপটাস বা ওই জাতীয় কোন গাছের চ্যাপ্টা শুকনো কালো সিমের মত ফলগুলো গোটা রাস্তাময় বিছিয়ে ছরানো। দুধারে পিটুলি, বহল, আঁশ ফল, কড়ুই, গামারি, আঁটির আম, প্যাঁক গজানো সজনের গুড়ি, জারুল, ফলসা, পাকুড়, শ্যাওড়া, ঘোড়ানিম, পাহাড়ি শিমুল, বকুল, কদম সহ কত্তকি যে আমরা অদেখা করে চলে যায় তার লেখাজোখা নেই। বাঁশ ঝাড়েও নতুন কোঁড়া গজিয়েছে, কোঁড়া মানে নতুন চারা বাঁশ গাছ। একটা গ্রাম্যক উন্নয়ন সমিতি দেখলাম লোহার খাঁচা দিয়ে ঘিরে বেশ কয়েক কিলোমিটার জুড়ে রাস্তার দুধারে কলম আমের চারা বসিয়েছে, যদিও তাতে আমের চিহ্ন মাত্র নেই। তাছারা ফল যুক্ত গাছের মধ্যে জাম আর তেঁতুল লক্ষ্যনীয়, ফলের ভারে যেন প্রতিটি গাছই ভেঙে পড়ার উপক্রম। নয়ানজুলির ভিজে জমিতে বড় চওড়া ও ধারালো প্রান্ত যুক্ত লম্বা ঘাসেরই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য, পাশে ঢোলকলমির ঝাড়, কোথাও নোটে শাক, কোথাও মেঠো লতানে কলমি, খারকোন, মানকচুর ঝোপ; এটাই তো আমার শস্য শ্যামলা বাংলা। শুধু কিছু স্থানে পার্থেনিয়ামের বিষ প্রায় সমগ্র অঞ্চলটাকে গ্রাস করে নিয়েছে, যা এক অশনি সঙ্কেত।

কতকিছুই আমাদের রোজকার চলতি পথে দেখেও অদেখা রয়ে যায়, অথচ আমরা বৈচিত্রের খোঁজে কি কি না করে বেড়ায়। সামান্য বট বা অশ্বত্থের নতুন গজানো কালচে পাতা গুলোতে এই নির্দয় জ্যৈষ্ঠের সূর্যকিরন প্রতিফলিত হয়ে চোখে আসলে যে কি এক অপরূপ রূপ পরিলক্ষিত হয় তা কেবল জনান্তিকিই জানে। এর মধ্যেই কখন যে এই গরম, দুরত্বকে অনায়াসে টপকে বর্ধমান শহরের উপকন্ঠে নির্মিয়মান রেলওভার ব্রিজে পৌঁছে গেলাম সেটাই জানিনা। এর পর তো সেই পুর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী কাজে হারিয়ে গেলাম। প্রাতরাশটাও কি সুন্দর মধ্যাহ্ন ভোজে রুপান্তরিত হয়ে গেল। 

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...