বৃহস্পতিবার, ৩১ মে, ২০১৮

কিছুনা- ৩


সফলতা আসলে একটা ক্ষণের নাম,
যার নির্দিষ্ট একটা জীবনরেখা রয়েছে;
সময় বয়ে চলে সামনের দিকে।
সফলতাকেও পাল্লা দিতে হয় সেই পথেই,
নতুবা সেই সাফল্যও পরক্ষণে ব্যার্থ নামে ভূষিত বা চিহ্নিত হয়।

মঙ্গলবার, ২৯ মে, ২০১৮

।। মেঘ মল্লারঃ ঘোষণা ।।




আষাঢ়ষ্য বাদল দিনে
যখন মনের ঘাটের সিঁড়িতেও শ্যাওলা জমে। উত্তাল প্রেম মিলন বিরহে, বৃষ্টির স্যাঁতস্যাঁতে পনার সাথে মিশে ভাবনার আকাশ ঝাপসা করে দেয়- শ্রান্ত মন পরিতৃপ্তির অভিলাষে ব্যাকুল হয়। বিবস্ত্র হৃদয় আলুলায়িত স্পন্দনে ক্ষণেক্ষণে কম্পিত হয় প্রতীক্ষার অনুশাসনসংবলিত হয়ে।

তখনি তো রাতের বুক চিরে যদি কেউ মল্লার রাগের মুর্চ্ছনাতে বিভোর করে, তবেই বাকি সকল কিছু ভুলিয়ে দেবার ক্ষমতা রাখে।
এমনই মহেন্দ্রক্ষণে যদি কাব্যের আকাশ থেকে ঝড়ে পড়ে সেই মেঘমল্লার- অকপট রূপে!! কেমন হয়?
সুধী-
আসছে
মেঘমল্লার সংখ্যা
স্বপ্নের আখ্যান

রবিবার, ২৭ মে, ২০১৮

শিক্ষক আন্দোলনঃ ৩


অরাজনৈতিক কর্মচারী আন্দোলন-
মোটামুটিরকমভাবে তুলসীতলায় অন্তিমশয্যা নিয়েছে। এটাই স্বাভাবিক। আন্দোলনের একটা গতিধারা চায়, পরিকল্পনা চায়, নির্ভীক নেতৃত্ব চায়, আপসহীন সৎ সাহসী একটা মঞ্চ চায়। যেগুলো বর্তমানে "বেতনের সুরক্ষাতে" "ঘেউ ঘেউ" দের নেই।

এগুলো সবই উন্নয়নের ভাষা, সংবাদে প্রকাশ ৭০ জন শিক্ষকের বেতন বন্ধ ও বেতনের ঘরে উন্নয়ন ঢুকবো ঢুকবো প্রায়। তার আগে তিনজন গ্রেপ্তার, এবং মাজায় দড়ি।
বিজেপি নামক জীবানুর উপস্থিতি এই গনপ্রতিবাদে অণুবীক্ষণযন্ত্র দিয়ে খুঁজে পাওয়া গেছে বলে কেউ অপবাদ দেয়নি। ওরা যে জনবিচ্ছিন্ন আর উপস্থিতি বিকৃত ও বিক্রিত সংবাদ মাধ্যমে সেটা আজ প্রমানিত। শুধুমাত্র হিংসা ছড়াতে ওরা সিদ্ধ হস্ত।

রাজ্যে সিপিএম কে আঁটকাতে বিজেপির তিনু বিরোধিতা আসলে একটা সুপরিকল্পিত প্রোপাগান্ডা। আসলে ওরা দুটো মিলে একটাই। সেই "মমতা- মুকুল" হিট জুটি।

হৃত সম্মান পুনরুদ্ধারে, সুরক্ষিত চাকুরি জীবনের দাবিতে, রাজকুমার বাবুর মৃত্যুর সঠিক তদন্ত কোর্টের নজরদারিতে, মাননীয় শিক্ষক সমাজের হেনস্থা রুখতে-
লাল পতাকার নিচে আওয়াজ তুলুন। সারা পৃথিবীর সমস্ত প্রলেতারিয়েতের একটা ঠিকানা। বুর্জোয়াতন্ত্র ও লুম্পেনবাজের বিরুদ্ধে আদর্শ ভিত্তিক লড়াই করুন, যার নাম বাম আদর্শ।
বামেদের বিকল্প আজও নেই গোটা দেশে।

তাই একটাই প্রতিকার-
বাম আন্দলোনের সাথে যুক্ত হওয়া।
বাম আদর্শ কোনো ফিনিক্স আন্দোলন নয়, বরং এটা একটা শৃঙ্খলিত জীবনধারা।
আপনারা শিক্ষক- ভাল আর মন্দের ফারাক বুঝুন। আগামী ভোটের বাক্সে এই ক্ষোভের প্রতিফলন ঘটান। তার আগে মানুষের মত বাঁচার জন্যই বাম আন্দোলনে সামিল হন।

কথায় আছে -
সুবহাকে ভুলা আগর সামকো ঘর ওয়াপাস আ যায়ে, তো উসকো ভুলা নেহি ক্যাহেতে।

(ছবিঃ একটা জনপ্রিয় শিক্ষক ফেসবুক গ্রুপ থেকে)



কিছুনা- ২


সম্পর্কে জড়ানোর চেয়ে সেটা ভাঙার সিদ্ধান্ত আরো কঠিন;
কিন্তু বেঁচে থাকার শর্তে অপ্রিয় সিদ্ধান্তও নিতে হয়। 
ক্ষমা কোরো, কারন আমি নিরুপায় আর তুমি অবিচল।

বৃহস্পতিবার, ২৪ মে, ২০১৮

নীলিনায়িত অভিবাসীঃ বাঙালীর ভাষা

 



প্রতিটি জীবই তার মনের ভাব বিনিময় করে থাকে নিজস্ব উপায়ে, আর এভাবেই সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব মানুষ- তার অন্তরের ভাব বিনিময়ের জন্য ‘ভাষার’ সূচনা করেছিল সভ্যতার আদি লগ্নেই।

প্রতিটি ভাষা কোনোনা কোনো আদি মূল ভাষা হতে জন্ম নিয়েছে, এরপর সময়ের সাথে সাথে হরেক সংস্কৃতি, জাতি, গোষ্ঠী, ব্যাক্তির সংস্পর্শে এসে সেই ভাষায় অল্প অল্প করে সংমিশ্রণ ঘটতে থাকে; ভাষা ঋদ্ধ হয়, উদবর্তীত হয়।

ভারতীয় পুরাণের কাহিনী থেকে ভাষার ইতিহাস খুঁজতে গেলে সেই আর্যদের ইতিহাসের গভীরে যেতে হয়। নর্ডিক(!) জাতিগোষ্ঠীর মানুষ আর্যরা ছিল ককেশাস ও স্তেপ অঞ্চলের বাসিন্দা, উত্তর-পশ্চিম ইউরেশিয়া অঞ্চল থেকে আর্যরা তৎকালীন আনাতোলিয়া, পারস্য, খোরাসান, মেহেরগড়, হরপ্পা হয়ে আজকের ভারতীয় মূল ভুখন্ডে প্রবেশ করেছিল বলে অনুমান করা হয়।

আজকের পৃথিবিতেও কমবেশি ৭০০০ এরও বেশি ভাষা রয়েছে, যদিও কয়েকটি ভাষার দাপটে প্রতিমাসেই একাধিক ভাষা কালের অন্তরালে হারিয়ে যাচ্ছে বলে দাবী করেছে ইউনেস্কোর এক বিশেষজ্ঞের দল। মন্দারিন (১১.৯০%), হিস্পানিয় (৬%), ইংরাজি (৫%), ও হিন্দির (৪.৫০%) পরেই আমাদের বাংলা ভাষা- যা প্রায় ৩ শতাংশ মানুষের প্রাণের ভাষা এই বিপুলা পৃথিবীর সর্বমোট জনসংখ্যার নিরিখে।

সুদীর্ঘ ইসলামিক শাসনের সুবাদে বাঙলাতে প্রভূত পরিমাণে আরবি ও ফার্সি শব্দের অনুপ্রবেশ ঘটেছিল। প্রশাসনিক ও আইন-আদালত সম্পর্কীয় শব্দে- ‘আর্জি, আলামত, উকিল, এজলাস, কসম, কানুন, খারিজ, মৌজা, মহকুমা, রায়, হাজত’ ইত্যাদি আরবি শব্দ বাংলা শব্দকোষে ঢুকে গেছে। ধর্মগত শব্দ গুলো ছাড়াও, শিক্ষা সংক্রান্ত বহু শব্দ আরবি জাত, যেমন- ‘উস্তাদ, কলম, কিতাব, কুর্সি, খাতা, তর্জমা, দাখিল, দোয়াত, মুন্সি’ ইত্যাদি। ‘গরীব, খেয়াল, খবর, জমা, জিনিস, দুনিয়া, ফকির, বাতিল, সাহেব, জবাব, খালি, ওজন, আসল, গায়েব, নগদ, বাকি, হাজির’ ইত্যাদি বিবিধ শব্দের সাথে সংস্কৃতি বিষয়ক শব্দ- ‘আক্কেল, আদব, আদাব, আতর, কবর, কিসমত, খাস, তাজ্জব, তালিম, দুনিয়া, বিদায়, মজলিস, মঞ্জিল, মাহফিল’ শব্দগুলো বাঙলাতে বহুল ব্যবহৃত। এছাড়া আম (আমজনতা), গড় (গড় হাজির) ইত্যাদি উপসর্গ শব্দগুলোও আরবি।

‘হুঁশিয়ার, চশমা, মেজাজ, রকম, হজম, নাগাদ, লাগাম, লোভ, নতুন, নজর, রসদ, হালনাগাদ, হল্লা, তোষক, আদমি, হুজুকে, আমদানি, রফতানি, জানোয়ার, জিন্দা, নমুনা, বদমাস, হাঙ্গামা,’ ইত্যাদি শব্দগুলোর সাথে বিভিন্ন প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও ফার্সি শব্দেরা নিজেকে বাঙালী করে নিয়েছে, যেমন- ‘দপ্তর, তারিখ, দস্তখত, নালিশ, মেয়াদ, হুজুর, জবানবন্দি, দরবার, মোর্চা’ ইত্যাদি। আবার ‘দোকান, খরিদ্দার, দড়, দাম, রেজকি, মুনাফা, কারখানা, মেহনত, ধন-দৌলত, বাদশাহ, বান্দা, বেগম, মেথর’ শব্দগুলোও ফারসি থেকে আমদানিকৃত।

‘আয়না, কাগজ, গরম, পর্দা, বাগান, আস্তে, রাস্তা, বদ, মতলব, খুব, পছন্দ, রোজ, আন্দাজ, আওয়াজ, আরাম, হারাম’ এর পাশাপাশি ইসলামিক ধর্মবিষয়ক শব্দে গোটা ভারত উপমহাদেশে যেগুলো আরবি শব্দ নামে পরিচিত আসলে সেগুলো খাঁটি ফারসি শব্দ, যেগুলো কোরান হাদিশে উল্লেখই নেই, কিন্তু ‘জরথুস্ট্রীয়’ জিন্দা-আবেস্তায় বিলকুল রয়েছে। যেমন- ‘খোদা, গুনাহ, দোজখ, নামাজ, পীর, পয়গম্বর, ফেরেশতা, বেহেশত, রোজা’ ইত্যাদি। প্রসঙ্গত মাথার ফেজ টুপি ও পুঁতির তসবিও এই পারস্য সভ্যতার স্মারক, ইসলামিক সভ্যতার নয়।

বিভিন্ন রঙের নাম যেমন- ‘লাল, সাদা, আসমানী, বাদামি, সবুজ, গোলাপী’ শব্দগুলো খাঁটি ফারসি শব্দ। এগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন প্রত্যয় যুক্ত শব্দ, বাংলার সাথে জুড়ে একধরণের যৌগিক শব্দ তৈরি করেছে, যথা- দার (তালুকদার, জমাদার, হাবিলদার, চৌকিদার ইত্যাদি), বাজ (জাঁহাবাজ, দুর্নীতিবাজ, ধোঁকাবাজ ইত্যাদি), বন্দী (নজরবন্দী, জবানবন্দী, কারাবন্দী ইত্যাদি), সই (মানানসই, চলনসই, টিপসই ইত্যাদি), চি (কলমচি, তবলচি ইত্যাদি), নবীশ (শিক্ষানবীশ, নকলনবীশ ইত্যাদি)

এছাড়া কিছু শব্দ আছে যেগুলো আরবি ফার্সি দুই ভাষাতেই রয়েছে, যেগুলো বাংলাতে কৃতঋণ ভাষা হিসাবে ঢুকে গেছে, যথা- ‘পোলাও, অছিলা, জ্যান্ত, দেওয়াল, জবরদস্তি, পাঁজা, তরফ, ফতুর, জমি, প্যাঁইতাড়া, জাইগা, খতম, মিহি, খ্যাসারত, ক্যাদ্দানি, কয়াল, জৌলুস, গরজ, মিছরি, কারচুপি, দানা, পোস্ত, উয়ার (লেপ কাঁথার), পেঁয়াজ, আদায়, ফারাক, দেমাক, পয়মাল, কাতার, আলবাৎ, বস্তা, বোড়া, বুজরুগি, খবিশ, আলিশান, দেদার, খয়রাত, আসান, লাট্টু, সবক, ফ্যাসাদ, কিল, জরুরী, খানকা, দেদার, ফানুস, কারচুপি, জেদ, তোড়া, কুলুপ, তামাম, পয়দা, গোস্ত, শাদি, সানাই, কেচ্ছা, খানকি, খামোখা, ব্যাজার, খিল, খেয়াল, খঞ্চা, চুপ, কাছারি, তবক, তৈরি, দোহায়, নাকাল, তরফ, মুরোদ’ ইত্যাদি।

তৎকালীন আনাতোলিয়া বা আজকের তুরস্কের কিছু তুর্কি শব্দও বাংলায় ঢুকে গেছে, যথা- ‘বাবুর্চি, দাদা, বাবা, বেগম, চকচকে, উজবুক, কাঁচি, বোঁচকা, কোর্মা, বিবি, তাগড়াই, চমকা, কল্কে, চাকু, ভাগাড়, মুচলেকা, তোপ, আলখাল্লা, খাতুন, চাকর, বারুদ, সুলতান, শিকার, দারোগা’ ইত্যাদি।

বর্তমানে নাগপুরী গেরুয়া ভক্তের দল আরবি সংস্কৃতি বাদ দিয়ে স্বদেশী সংস্কৃতি আনতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে, তাদের সুবিধার্থে এই প্রবন্ধটা কাজে আসতে পারে, যে- ঠিক কোন কোন শব্দগুলোকে বাদ দিলেই চলবে। অবশ্য এই বাদ দেওয়াদেয়ীর গপ্পো নতুন কিছু নয়।

‘জয়গোপাল তর্কালঙ্কার’ (১৭৭৫-১৮৪৬) তার জীবনের এক্কেবারে শেষ লগ্নে এসে উপলব্ধি করতে পারেন যে, দীর্ঘ ইসলামিক ‘কু’শাসনে- কুলীন বাংলা ভাষায় যতেচ্ছ পরিমাণে আরবি-পারসি ভাষার ‘যবন’ অশুদ্ধি ঢুকে গেছে, যেগুলো বাংলার মর্যাদা ও মাহত্ব্যকে হানি করছে। এভাবে চললে বাংলার বুক থেকে সনাতনী হিন্দু ঐতিহ্য অচিরেই বিলুপ্ত হবে। যথারীতি এই নিয়ে তিনি বই ও লেখেন।

তার আপন ভাষ্যে- “…ভারতের পবিত্র ভূমিতে ‘যবনসঞ্চার’ রোধ করতে হলে সর্বাগ্রে ‘যাবনিকভাষা’ পরিত্যাগ করতে হবে,… আমি বহু পরিশ্রম ব্যায়ে ক্রমে ক্রমে সংকলন করিয়া সেই বিদেশীয় ভাষার স্থলে স্বদেশীয় সাধুভাষা পূনঃস্থাপন করিবার হেতু অভিধানটি রচনা করিয়াছি। স্বকীয় ভাষার মাঝে বিদেশী ভাষা লুক্কায়িত হইয়া চিরকাল বিহার করতে পারেনা, পরকীয় বস্তুর ব্যবহারে যে লজ্জা ও গ্লানি তাহা হইতে আমাদের মুক্ত হইতে হইবে…”।

সেইকালে ইংরাজি আমজনতার মাঝে ততটা জনপ্রিয়তা লাভ করেনি, তাই তাঁরা এই ‘জয়গোপাল’ পণ্ডিতের ভাবনাকে প্রত্যাখ্যান করার পর কি বলেছিল তা অনুমান করা খুব কষ্ট; আজকের দিনে হলে যেকোনও ভাষাবিদ, বিশুদ্ধ বাংলায় বলে উঠবেন- “ওহ সিট”

-সংক্ষেপিত

বুধবার, ২৩ মে, ২০১৮

ছিঃ বেদান্ত

স্টারলাইট তামা কারখানার দুষণ বিরোধী বিক্ষোভে গুলি চালানো তামিলনাড়ু পুলিশ। তুতিকোরিনে, জেলাশাসক দপ্তরের সামনে রীতিমত স্নাইপার রাইফেল দিয়ে পরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় খুন।

এরা সেই বেদান্ত গোষ্ঠী যারা ওড়িশাতে আদিবাসীদের জমি কেড়ে নিয়ে চেয়েছিল। এরা সেই বিদেশী গোষ্ঠী যারা কংগ্রেস বিজেপি উভয় দলকেই কোটিকোটি টাকা অনুদান দেয়-

এরা সেই গোষ্ঠী, যারা পুলিশ দিয়ে গণগত্যা চালালো।

ছিঃ পুলিশ

ধিক্কার জানাই

মঙ্গলবার, ২২ মে, ২০১৮

প্রসঙ্গঃ রাজকুমার বাবু


হত্যার তদন্ত, বিচার, ওনার পরিবারের সুরক্ষা ও আপনাদের মত বাকি সরকারী কর্মীদের সুরক্ষা।
------------

কাউকে পাশে পাচ্ছেননা প্রতিবাদে?
আপনারা কি মাত্র মেরেকেটে ২-১০ জন?
 
যার জন্য মনে কিন্তু কি
ন্তু?
অথচ যা অন্তরে যা বিপ্লবের গরম- বগলে ডিম দিলে সিদ্ধ না হলেও মুরগির বাচ্চা হয়ে যাবে এমন অবস্থা?
বেশ-

তাহলে রাজনীতি, চোখরাঙানী, শো-কজ, হুমকি ইত্যাদি নাহয় এ কদিন একটু ভুলেই যান। আর চলুন "নেই প্রজাতির প্রতিবাদ" শুরু হোক।

এবারে? এখনি? আজকেই? হ্যাঁ এবারেই, এখনিই, আর আজ সম্ভব না হলে, কাল পরশু বা তারপরদিন। কিন্তু এ সপ্তাহেই, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব।

কোলকাতা, রায়গঞ্জ, হিল্লি, দিল্লি কালীঘাট, সুজন কুজন মুকুল বকুল ড্যাস ড্যাস সব ভুলে যান। নিজের এলাকাতেই "পোতিবাদ" হবে, মানে আপনি পারলেই হবে।

আপনার এলাকাতে ওই ২-১০ জন মিলে হল্লা করুন নিকটস্থ প্রশাসনিক ভবনটির সামনে বা থানার সামনে একটা স্থানে। সংবিধান মেনে প্রকাশ্য ও রিলে-প্রতিবাদ করুন। যেন একজন গেলে অন্যজন সেই ধারা বজায় রাখবেন।
বিশ্বাস করুন, কিছু মাতাল দাঁতাল হার্মাদ 'হেয়ার & স্কিন' পাবলিক মিছিলে যাবার অভ্যাসেই পা মিলিয়ে সংখ্যাটাকে ঠিক দ্বিগুন করে দেবেই। আর যদি এলাকাতে শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষের বাস থাকে, তাহলে তো কথাই নেই, নিচে ৫০ উপরে ৫০০-১০০০ মানুষের জমায়েত হলেও আশ্চর্যের কিছু নেই।

তবে হ্যাঁ, এসবই আপনাদের অনভিজ্ঞতা আর অনভ্যাসের ফোঁটা তো, তাই চড়চড় করতে পারে। সুতরাং- অবশ্যই একটা প্ল্যাকার্ড ফেস্টুন বা পোষ্টার বা ঐ জাতীয় কিছু হাতে রাখুন, মানে ঘাবড়ে গিয়ে মুখ নিরব(মোদী নয়) হলে গেলে যেন রাষ্টযন্ত্র চিনে নিতে পারে, যে এনারা কি চাইছেন।

আমাদের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে-
৬ টা কর্পোরেশন
১২১টা পুরসভা
৩৪১ টা প্রশাসনিক ব্লক
৬৬ টা সাবডিভিশন
 
২৩ টা জেলা
৩ টে ডিভিশন

মোট কটা হল? হবে শ-পাঁচেক কত, যাই হোক-
এই সব কটা স্থানে ওই ২-১০ জন করেই হল্লা করুক, নিয়মিত।

অবশ্য উন্নয়ন দেখে ভয় পেলে বা মাসিক বেতনের স্বাচ্ছন্দ্য, চোখে তুলসি পাতা আর কানে হেডফোন গুঁজে দিলে আপনি সাক্ষৎ মহাপুরুষ। আর আপনার পরেই মহামতী শিক্ষক শ্রী বিজন সরকার।

তবে যদি এগুলো করতে পারেন, মাইরি বলছি-
নবান্ন, পিসার টাওয়ার হতে সময় নেবেনা।
_________________
উন্মাদ-ইয়ো-পরামর্শ
(ইয়ে, আমি শিক্ষক নই তো, লাষ্ট বেঞ্চের লাথখোর ছাত্র। বানান ভুল নিজগুণে মাফ করে দিয়েন। আর, দয়া করে আমার মাঝে ফেক আবিষ্কার করে, নিজেকে ফেলুদা ভেবে মস্তিষ্কে রজঃস্রাব ঘটিয়ে লাভ নেই, আমি জেনুইন ফেক।)


রবিবার, ২০ মে, ২০১৮

ভাগ্যিস আমি মাস্টার নই



একটা সময় ছিল এই বাংলাতে- MLA, জেলাপরিষদ সদস্যপঞ্চায়েত প্রধান মানেই তারা অধিকাংশ জন পেশাগত ভাবে শিক্ষক। দলমত নির্বিশেষে। আজকের শিক্ষকেরা ফেসবুক, হোয়াটসেপ গ্রুপের এডমিন। শখের কবি, বিশুদ্ধ ভার্চুয়াল বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষক - তা সে বিষয়ই হোক।

আজকের সমাজের সবচেয়ে ক্লীব, ভীরু, কাপুরুষ ও নির্লজ্জ স্বার্থপর প্রজাতিটা হল বঙ্গীয় সরকারি কর্মচারীরা। এরা না ফোঁস করে না ফাঁস, কিন্তু পৃথক ভাবে কথা বলুন, মুখে মারিতং জগৎ প্রতিজনেই। আর শিক্ষকেরা এই প্রজাতির পতাকাবাহী।

আগামী প্রজন্ম চরিত্রগত ভাবে নপুংসক হয়ে বড় হচ্ছে এনাদের তত্বাবধানে। যার জন্য সামান্য আর্থিক সঙ্গতি থাকলে সাধারনত কেউ সরকারি স্কুলে নিজ বাচ্চাকে পাঠাননা। সামান্য, রাজকুমার বাবুর মৃত্যু সংক্রান্ত আন্দোলন দেখে ভেবেছিলাম এনাদের বিবেক বোধহয় জাগল, ওমা যেই কাউন্টিং থেকে অব্যাহতি দেওয়া হল, অমনি IPL আর সোস্যালমিডিয়াতে জ্ঞানদা ফার্মেসি খুলে বসলেন।

এই বাংলার সবচেয়ে বড় সদস্যপদ বিশিষ্ট সকল ফেসবুক গ্রুপ গুলোই শিক্ষক গ্রুপ। এক আধটা বাদ দিলে সবকটাই প্রায় উদাসীন। একটা বড় শিক্ষক গ্রুপ আজও 'কবিপক্ষ' পালন করছে নির্লজ্জ ভাবে। তাদের প্রতিবাদ হাততালি আর কবিতাতে সীমাবদ্ধ। এনাদের ঘরের সব সমস্যা বোধহয় তালি মেরে আর কবিতা লিখে গান গেয়ে সমাধান করেন। মানে নুন্যতম বোধবুদ্ধি টুকু হারিয়ে ফেলেছেন, যে কি করা উচিৎ!

সাবাস, মাস্টার মশাই- আপনারা ধন্য। কিন্তু কাল আপনিও বিপদে পড়লে বাকিরাও আন্দোলন করবে নিজে বাঁচার জন্য, আর লাগাতার "পোতিবাদ" হবে ফেসবুকে হোয়াটসএপে- গান গেয়ে, তালি মেরে, কবিতা লিখে। আপনাদের দেখেই তো ভবিষ্যৎ শিখছে।

দুজন শিক্ষক লকআপে পচছে এই গরমে? জানেন লকআপ কি? আমি ছিলাম বেশ কয়েকবার, ১০ ফুট বাই ১০ ফুট জানালা বিহীন ঘরে অন্তত ২০-৩০ জন। তার মাঝেই এক কোনে একটা পায়খানা প্যান বসানো। ভিতরে কোনো সিলিং ফ্যান নেই, যদি কেউ তাতে ঝুলে পড়ে বা ঝুলিয়ে দেয়। একেকটা ঘন্টা একেকটা দিন মনে হয়। জীবন্ত নরক দর্শন।

ওখানে শিক্ষকেরা আছেন ছিঁচকে চোর, ধর্ষক, সব বাকি অনেক অপরাধীর সাথে। কেন আছে আপনি শুধাবেননা সরকারকে? দয়ার দানে পাওয়া চাকরি!! যে এতো ভয়? কাল আপনাদের উই পোকাতে খেয়ে নেবে জীবন্ত, এতটাই নির্জীব আপনারা।

ভাগ্যিস আপনি নেই ওই লকআপে।

সত্যিই কি আপনি নেই স্যার? দেখুননা একটিবার মুখটা আয়নাতে, লজ্জা না পেলে সত্যিই আপনি আধুনিক প্রজন্মের শিক্ষক। পেলে এখনও অবশিষ্ট বিবেক রয়েছে আপনার। আওয়াজটা তুলুন, শুরুটা করুন একাই। দেখুন অনেকের স্বরে স্বর মিলে যাবেই, ক্ষোভের আগুন সকলের বুকেই আছে, একত্রিত হোন। নাহলে রাষ্ট্র আরো নিপীড়ন করবে।

চলুন এই অবস্থাতে আমিও প্রতিবাদে ফেটে পড়ে "তালি" দিলাম। সুধীজনের ভাষাতে- "নোয়েল পোপেসোন" বাওয়া। আমি তুমি বেনিয়া বুঝবো না।

নিজেকে বড় সৌভাগ্যবান মনে হয় একেকসময়, আর সেটা আপনাদের দয়াতে। সরকারি চাকরি না পাওয়ার আক্ষেপ কোনোদিনিই ছিলনা। আজ মনে হয় বেঁচে গেছি বড় সর্বনাশের হাত থেকে। বৃহন্নলা সেজে বাঁচা আর হয়ে বাঁচার ফারাকটা বুঝতে শিখেছি। আর যে পেশা তেই থাকিনা কেন- অন্তত পশ্চিমবঙ্গের "ম্যাস্টার" নই।



বৃহস্পতিবার, ১৭ মে, ২০১৮

বিজয়ের অপেক্ষা


দৃশ্যঃ- বাংলার যে কোনো গ্রাম

প্রেক্ষাপটঃ- পঞ্চায়েত প্রহসনের অন্তিম তথা শেষ লগ্ন।

কুশীলবঃ- বিবেক ছাড়া সকল চরিত্রই উপস্থিত।

দেদার চকলেট বোমা, পটকা, সবুজ আবির, ডিজে, চুল্লু, কান্ট্রি, সাথে নাগিন ডান্স ও ঢালাও পোল্ট্রি মাংস। এবং কিছু উন্মত্ত মানুষ!) - উপলক্ষ্য বিজয় মিছিল।
প্রতি আধা কিলোমিটারে মুখগুলো বদলে একই কার্যপন্থার পুণঃরাবৃত্তি।

আমিঃ- কৌতুহলী আকাট ও আবাল। অতএব

শুধালামঃ- কাকে হারালেন কাকু? প্রথম দফাতে তো নমিনেশন ফাইলই করতে দিলেননা, তার পর বুথে আসতে দিলেননা ভয় দেখিয়ে। এরও পর বেলা ১১ টার পর বুথ দখল করে নিয়ে দেদার ছাপ্পা মারলেন। এর মাঝে খুন খারাপি লুট দাঙ্গা যা কিছু করা অসম্ভব, সবই করলেন অত্যন্ত সুষ্ঠ ও পরিকল্পিত ভাবে। সেই ধারাপাত ধরে, গণণা কেন্দ্রেও অবশিষ্ট ধর্ষণ টুকু করলেন, যেটুকু বাকি ছিল। অধিকাংশ স্থানে ছাপ্পা মারলেন, বিরোধী এজেন্টদের ঢুকতে দিলেননা, ব্যালট ফেলে দিলেন, আগুন ধরিয়ে দিলেন, সার্টিফিকেট নিজেদের নামে করালেন, তা সে যে ই জিতুক। বেলা দুটোর মধ্যেই গণণা কেন্দ্র ফাঁকা করে দিলেন, কারন এর পর জেলা পরিষদ, তাই মোটেই রিস্ক নিলেননা সত্যিকারের গণণার। পুলিশ দুষ্কৃতীর যোগ্য যুগলবন্দীতে আজ বাংলা সবুজ শ্যাওলাতে ঢাকা পড়ে গেল- বিরোধী কি অদৌ ছিল কাকা? কয়েকটা টিভিতে খেপ খাটা বিরোধী মুখ আছে, কিন্তু ওই পর্যন্তই। কাকে হারালেন ভেবেছেন?

উত্তর এলোঃ- "তোর ক্যালানির বড্ড অভাব পরেছে"। (নাচতে নাচতে সবটা না শুনেই এই উক্তি, গোটাটা মন দিয়ে শুনলে নিশ্চিত আমাকেও পেটো মারত)

বুঝলামঃ- ক্যালানিই এদের ওষুধ কারন ক্যালানি ছাড়া বাকি আর কিছু বোঝে বলে মনে হয়না।

উপসংহারঃ- জীবন জীবিকার জন্য সেই আদিম কাল থেকে মানুষ আর পশুর লড়াই চলছে। কখনও মানুষ জেতে কখনও পশু।

মানুষ অপেক্ষা করছে বিজয়ের-
___________
উন্মাদ হার্মাদ


শনিবার, ১২ মে, ২০১৮

জনপ্রিয় ফেসবুক গ্রুপ গুলোর সাফল্যের কারন


যেখানে-
১) আমরা কবি হলেও, যাচ্ছেতাই ব্যাতিক্রম না হলে অন্যের কোবতে পড়না।

২) লেখা যদি লম্বা হয়, সে যতই ভাল হোকনা কেন ছুঁই না। ছুঁলেও প্রথম দু-চার লাইন।

৩) অথচ ফেবুতে অতৃপ্ত আত্মা, ধর্ম/রাজনীতির পচা লাশখোর কীট, নেকু আঁতেল, গাঁয়ে মানেনা আপনি এলিট শ্রেনীর বলদ, মোটা বৌদির বগলকাটা ব্লাউজের সাথে ফ্রিতে ক্লিভেজ প্রদর্শন কারী ৮-৮০ এর ঠাকুরপোর দল, মনোপজ আধবুড়ি ও হাওয়া-বেড় হওয়ায়া বুড়ো দামড়াদের কচিসাজার কীর্তনীয়া দল, সমাজসেবার নামে পেশাখোরদের দল, শিল্পী ভিক্ষুক ও ভিক্ষুক শিল্পীর দল, ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো সাহিত্যে-সংস্কৃতির স্বঘোষিত গার্জেনকুল, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খিল্লি করা ভাগ্নে মদন- সে নিজের বাপ হোক বা পরের- খিল্লিটাই যাদের জীবনের একমাত্র সত্য, পেশাদার স্যাডিষ্ট, লাইন চোরা- মানে কোথাও একটা লাইন পেলেই নিজের টাইমলাইনে ছেড়ে দেন যারা, শেয়ারবাজ ভার্চুয়াল ভৃত্যকুল, বিপ্লবী বৌদি মোর্চা- যেনারা আপন পাছার ফোঁড়া থেকে সোনম কাপুর নিমাই কেন সকল কিছু রিসার্চ সহ লেখেন, সকালের হাগা থেকে রাত্রের বিছানাতে ফুলকপির পাঁদ- সবের দু লাইন বর্ণনাকারী ফুলকলি ও ফুলকলার দল, আগুনখেকো বিপ্লবী প্রতিবাদী যারা এস্যিড মোতে আর আংরা হাগে, বাপ বলেছে সুধীরভাই আনন্দের আর সীমা নাই পাবলিক গ্যাং এরা পোষ্ট করে কম কমেন্টে বেশি, চাঁটা কমেন্টার- যা ই লিখুন চাঁটবেই ঋতব্রতর মত, কারো বাপ মরলেও কিছু আবাল লেখে- অসাধারন, অনবদ্য, আরো চাই”; দলীয় কর্মী, ধর্ম প্রচারক, নিঃশব্দ আত্মা- যাদের চলাফেরা সবটাই রহস্যজনক, কবীন্দ্রপ্রেমী ও পানু খোরের ককটেল, বউ পালানো মরদ যাদের ইজেকশনের স্থান ফেসবুক, স্বামী তাড়ানো তেজস্বিনী যারা ফোরপ্লে থেকে অর্গাজম সবটাই ফেবুতে সারে, সেলফি মামনী, ফোটোগ্রাফার, ফেক সেজে আমার মত ক্যালোয়াতি করা চোদনা, ইনবক্সে মাগীবাজ হিরো, ওপেনে ছেলেধরা ললনা ইত্যাদি ইত্যাদি ও ইত্যাদি...

মোদ্দা কথা হল উপরের প্রত্যকেই কেউ নিজের এরিয়ার বাইরে যাবেনা। যেমন আপনা পাড়াতে কুত্তা শের-

এর পরেও গ্রুপ সফলের মন্ত্র কি?

ঈশারাবাজ ঝিঙ্কু মামনি ও বিবাহিত অথচ অতৃপ্ত আত্মা, এদের ধরে এনে গ্রুপে এডমিন বানাও। তার পর যত আবাল মার্কা পোষ্ট করুক তারা-

ধর্ম আর রাজনীতির এক্কেবারে কাঁচা আর ছাল ক্যালানো পোষ্ট করুন নিয়মিত। কারন শকুনেরা ভাগড়ে কম ফেবুতে বেশি থাকে
কোলকাতার কয়েকজন মেম্বার দরকার, যাদবপুর /প্রেসিডেন্সী গন্ধি পড়ুয়া ও PG পাঠরতা, NRI, যাদের সাকিলা মাল্লু থেকে ঠেকের চুল্লু অবাধ যাতায়াত

বাংলাদেশের মত লতা পাতা ফুল ঠাকুর কলমা ইত্যাদি সমর্থনে বা বিপক্ষে ট্রল বানিয়ে, ক্রমাগত সত্যমিথ্যা প্রচার
কটা স্কুল শিক্ষককে এডমিন বানিয়ে দিয়ে গ্রুপ বানিয়ে দিন, ব্যাস- বাকিটা ইতিহাস হয়ে যাবে


বুধবার, ৯ মে, ২০১৮

সরোচিতো রোবিন্দসোঙগিত- ২


"পিসি কুৎসা কাহারে বলে
পিসি কুচুটে কাহারে বলে

তোমরা যে বলো দিবস রজনী,
উন্নয়ন উন-নয়ন-
পিসি উন-নয়ন কাহারে কয়!
সে কি কেবলি যাতনাময়?

সেকি কেবলি পাবলিকের লাশ..
সিঙ্গুরে সরিষা চাষ.....

লোকে তবে করে
কি সুখেরও তরে
এমনও ঘাসের আশ...."


শুক্রবার, ৪ মে, ২০১৮

স্বরচিত রোবিন্দোসঙ্গীত- ১


-কবি উন্মাদ গোস্বামী

হরিদাসি, হরিদাসি, তোমার বাড়ি যাবো
হরিদাসি, তুমি কি আর আমার কথা ভাবো?

হরিদাসি, গীটারখানা বাবুঘাটে বসে
বাজিয়েছিলাম, তুমি তখন Convent ইস্কুলে
ক্যান্টিনেতে Hot Dog খাও, মাংস from ভাগাড়
বাইরে ‘Molly’ মিসের পাশে তার লিভইন পার্টনার
তুমি তখন নবম শ্রেণী, তুমি মিনিস্কার্ট
আলাপ হলো, হরিদাসি, ঝকঝকে ইস্মার্ট।

হরিদাসি, হরিদাসি, লেখাপড়ায় একঘর
শহর থেকে বেড়াতে এলে, বুকেতে ধড়পড়
তোমায় দেখে এক দৌড়ে, বাথরুমেরই ঘরে
হরিদাসি, আমি বের হতাম ১০টি মিনিট পরে
সানি খলিফা গুঞ্জে সেথা, ফুটিত মঞ্জরী
সন্ধেবেলা পড়তে বসে, সেই ক্লিপিংস মনে করি
তুমি তখন নবম শ্রেণী, আমার সবে রোঁয়া
আইনক্সে, হরিদাসি, ঠোঁটেতে ঠোঁট ছোঁয়া

হরিদাসি, হরিদাসি, এতদিনের পরে
সত্যি বলো, সে সব কথা এখনো মনে পড়ে?
সে সব কথা বলেছো তুমি তোমার হাবিকে?
আমি দেখি প্রত্যেক দিন, তোমার পাশে তাকে
দেখেছিলাম ফেবুর DP; টোটাল Hot কাপল
জিজ্ঞাস করিনি, Background কি South City Mall!
 
মেট্রোয় বসে hugging দেখি, হতাশায় করি tweet
কমেন্টে তবু লিখেছিলাম, “wow, so sweet”

রাতে এখন ঘুমাতে যাই দুটো বাজালে পরে
মেসেঞ্জার আর হোয়াটসএপে, পরকীয়া করে
আমার পরে যে ভাই ছিলো মোটা পণের দামে
বিকিয়ে গেছে ঘরজামায়ে, নবদ্বীপের ধামে
তার জুটেছে, মোর কী হবে? – রোজগারপাতি ক্ষীন
আমি এখন ফেবু পাড়ায় সেলেব এডমিন
তবু আগুন, হরিদাসি, আগুন জ্বলে কই?
কেমন হবে, আমিও যদি কনুই বুড়োহই?

(নিজগুণে ক্ষমা করে দেবেন)


মঙ্গলবার, ১ মে, ২০১৮

।। মেদি বসীয় ত্রিপুরা থুরি খোরাক।।


যারা "বুড়ো" গুলোর বাপান্ত করছেন, পারলে এখনি ক্যালাতেন আর কি- তাদের সাথে আপনার ফারাক কোথায়?
আর আনন্দবাজারী খবর কি সুপ্রিম কোর্টের রায়? যে ওটাই একমাত্র ধ্রুবক সত্য?
আমরা কি বাসে ট্রেনে পাবলিক ট্রান্সপোর্টে যাবার সময় মহিলা ও বাচ্চাদেরকে বুকের কাছে আগলায়না? অনেক সময় চিঁড়েচ্যাপটা হয়ে বুকে সেঁধিয়েও নিতে 'বাধ্য' হই। কই কোথাও তো কেউ কাউকে ক্যালায়না। তাহলে এখানে কেন এমন হল?

এরাই তো সিউড়ির ক্যারাটে কন্যাকে আরেকটু হলে নোবেল পাইয়ে দিয়েছিল, এখন ভাগাড়ে ক্লান্ত হয়ে 'ব্রেকিং নিউজ' এনেছে। এরাই ঠিক করে দেবার চেষ্টা করে আপনি কাকে ভোট দেবেন। দেবনারায়ন থেকে গুঁফো সুমন তো এদেরই আমদানি! শ্রদ্ধেয় বিজন সরকার? থাক আমি নিজেই কেঁদে ফেলব আপ্লুত হয়ে। গাঁধী হোক বা গঙ্গোপাধ্যায়, সচীন থেকে শুরু করে জাপানী তেল হয়ে সপ্তাহে তিন বার- দুষ্টু.... ভাবুন ভাবুন ভাবা প্রাক্টিস করুন।
এদের থেকে সংস্কৃতি শিখব? ছ্যাঃ

হতেই পারে 'বুড়ো' গুলো অনেকটাই বাড়াবাড়ি করেছেন, মানে আইনের চোখেও অপরাধ করেছেন হয়ত। মেট্রোকে বেডরুম ভেবে প্রেমিক যুগল একটু জড়াজড়ি করে ফেলেছে যেমন, তেমনই বুড়োগুলো নিজের ছেলে ভেবে উদোম কেলিয়েছে। ভুলে গেছিলেন- পরের ছেলে পরমানন্দ, যত উচ্ছুন্নে যায় তত আনন্দ।

ভুল করবার অধিকার কি যৌবনের একচেটিয়া? আর বুড়ো বা প্রবীন কারা? এর সংজ্ঞা কি?

যুগলটি ভিড়কে উপেক্ষা করে নিভৃত ভাবার ভুল করেছে, বাকি কি করেছে কে জানে। বুড়ো গুলোও মরাল পুলিশ গিরি করে সমান ভুল করেছে। এইভাবে ভাবলে দেখুন, বুড়োগুলোকে অপরাধী মনে হলেও অসামাজিক মনে হবেনা। এই সমাজেই আমাদের বাবা দাদু বাস করে, তাদের শুধান, দেখুননা তারা কি বলেন! এবার পালটা ক্যালানি যদি দিতেই হয় তাহলে নিজের ঘর থেকেই শুরু হোক। বৌ এর আঁচলের সামিয়ানাতে নিশ্চিন্ত বাঙালীর বিপ্লবে নতুন দিগন্ত- স্ট্যাটাস লিখন।

আচ্ছা আপনি নিজে কবে এমন প্রকাশ্যে রমন থুরি সোহাগ করেছেন? সোহাগ তো একান্ত ব্যাক্তিগত বলেই জানতাম। অবশ্য কুত্তার ভাদ্রমাস আর শুয়োরের সম্মিলিত যৌনাচার যারা জানেন তারা বাকিটা বুঝে গেছেন।
আসলে যে কি হয়েছে কেউ জানিনা। সবটাই আনন্দবাবুদের কর্মচারীর বয়ান। সত্য হতেও পারে যতটা, মিথ্যা হবার চান্সও ততটাই।

আপনাদের বলি- যারা ফেনিয়ে ফেললেন, "মে দিবসের একটা বিপলোব বলে কতা" ভেবে একটা দ্বিপ্রাহরিক সংগ্রামের ঢেকুর তুলছেন তারা খানিক পরেই ঝিঙ্কু মামনির ইনবক্সে প্রেম খুঁজে ফিরবেন।
দেখুননা ইনবক্সে গিয়ে- আসলে কি জানেন বিপ্লব মানেই আজকাল যেমন খোরাক, জোকারের নামান্তর তেমনই আপনাদের পোতিবাদের ধরন। জাষ্ট খোরাক-

আপনাদেরও কি খড়িয়েই থাকে! ঈশ্যু পেলেন কি না, অমনি হামলে পড়লেন। সেকেন্ড ওপিনিয়ন নামে একটা শব্দ ছিল বাজারে। তার আগেই আপনি 'রায়' ঘোষনা করে দিয়ে বিপ্লবের মাকে গর্ভবতী করে দিচ্ছেন দু খোঁচাতেই।
ক্যাল দেওয়া কখনই সমর্থনযোগ্য নয়, যেমন ঘৃন্য মরাল পুলিশগিরি মাড়ানো। কিন্তু পাবলিক প্লেসে "আমাদের ভারতে" প্রকাশ্যে টেপাটেপি বা চুম্মাচাটি বা জাপটে ধরারই বা কারন কি? যদি এতই খড়িয়ে গিয়ে থাকে - ২-৩০০ টাকাতে হোটেল পাওয়া যায় ঘন্টা হিসাবে। দো-বুন্দ জিন্দেগিকি ফেলে আসুন, চামড়া বা রাবারে। এর পর পার্ক বেডরুম সিনেমাহল ইত্যাদি কত কত জাইগা আছে উনুমুনু করার জন্য। রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের থেকে ধাতুক্ষয়ী সংগ্রাম কম কুলীন নয়। পৃথীবির যাবতীয় বড় যুদ্ধ গুলোই এই 'প্রেমের অধিকার' নিয়ে।
তাই রসো বৎস রোসো.....

জানুন গোটাটা, দুই দিক থেকেই। তার পর মারুন, বাতেলা। তার আগে আপনার সাথে কোনো ফারাক নেই, আপনার অভিষ্ট ব্যাক্তিটির সাথে, যার মা মাসি উদ্ধার করছেন। কি আশ্চর্য নিজেই নিজেকে খিস্তাচ্ছেন-
এটাই ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বা রিয়েলিটি ভার্চুয়াল।

কে দেয় আপনাদের?
___________




তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...