অমুসলিম MLA দের RSS এর মূল দল BJP তে সরাসরি যাওয়া মারাত্বক অসুবিধাজনক, কারন মুসলমান সমাজে সে গণশত্রু হয়ে যাবে। মুসলমান এমএলএ হলেই সবাই মনিরুল ইসলাম হবেনা, কারন সকলে তো আর পাড়ার স্বেচ্ছাসেবকের ঔরসজাত নয়।
সুতরাং নাগপুরের হাফ প্যাণ্টুলুন কমিটির প্রত্যক্ষ নির্দেশে তাদের দূর্গা মমতা ব্যানার্জি এক ধাক্কায় যখন ২৯৪টি কেন্দ্রে মাত্র ১৪.২৮% মুসলমানকে প্রার্থী করে তখনও তৃণমোল্লাদের "চাঁটা" অংশ সহ লিবেরাল ঝাণ্ডু দের ডায়লোগ চেঞ্জ হয়ে যায়। তারা এখন বলছে এই ঠিক আছে- তোষন হয়নি। অথচ ঝাড়গ্রামে আদিবাসী প্রার্থী, ভাটপাড়া অঞ্চলে হিন্দিভাষী প্রার্থী, উত্তরবঙ্গে উপজাতী প্রার্থী, কোথাও মতুয়া, কোথাও সিডিউলকাষ্ট সহ গায়ক নায়ক- দেড় পয়সার সিরিয়াল অভিনেত্রী বা মূলধারার সিনেমা থেকে বাতিল হয়ে যাওয়া কিছু টালীগঞ্জী জঞ্জাল। সবাই তার কোটা পেয়েছে- শুধু মুসলমান কমেছে। কেন কমেছে? নাহ, জবাব নেই। কারন RSS ঘোষীত মুসলিম বিদ্বেষী, তার শাখা দল তৃণমূল কীভাবে মুসলমানকে জাইগা দেবে, যেখানে বিজেমূলের আঁতাত আর গোপন নেই।
এরা আসলে কারা? এরা এতোদিন অতিবাম, আর কলম বিপ্লবী সেজে থাকত- হঠাৎ করে একজন ভুলভাল বাংলা উচ্চারণ করা, প্রথাগত শিক্ষায় স্বল্প শিক্ষিত টুপিওয়ালা মুসলমান যুবক- মুসলমানদের নিজশ্ব অধিকারের দাবী করতেই এদের দাঁত মুখ বেড়িয়ে এসেছে সুশীলের পোশাক মুখোস খুলে। এরাই এদ্দিন রামরেড বা রাম্বাম বলে তৃপ্তির ঢেকুর তুলতো, এক আব্বাসে বামৈশ্লামিক বলে তুরিও সুখ নেওয়ার আগেই বামেদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা মঞ্চে সিমুল সোরেন হাজির ISF এর হয়ে। মিডিয়ার তিনু-রাম বাইনারি উড়ে গেছে পালকের মত।
মাননীয় মনমোহন সিং তাঁর শিখ ধর্মের পাগড়ী পরিহিত হয়ে ১০ বিছর প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, যোগী মুখ্যমন্ত্রী, বামেদের হরকিষেন সিং সুরজিৎ ছিলেন পাগড়ি পরিহিত শিখ- কারো কোনো সমস্যা ছিল। আব্বাস মুসলমানের অধিকারের দাবী জানাতে, আর বামেরা সেই দাবীকে মান্যতা দিতেই চিঁড়ে-চ্যাপ্টা হয়ে গেছে মুখোশধারীদের অসাম্প্রদায়িক চরিত্র। এরা এখন আব্বাস ও বামেদের মাঝে সাম্প্রদায়িকতা খুঁজে পেয়েছে। আসলে RSS এর ঔরসে জন্ম যাদের তাদের তো জিনে সাম্প্রদায়িকতা- বামেরা ভোটের আগেই তাদের চিহ্নিত করে ফেলেছে আব্বাস তাস ফেলে।
মমতা ব্যানার্জী ভবানীপুর থেকে নন্দীগ্রামে পালিয়ে এসেছে কারন সেখানে মাত্র ১৮% মুসলমান ভোট, অথচ নন্দীগ্রামে ৩৫% মুসলমানের ভোট- যা পোলিং ভোটে ৪৬% তে দাঁড়াবে। এই মুসলমান ভোটকে পুঁজি করে যে মমতা ভোট বৈতরনী পার হতে চাইছে- তার দলের প্রার্থীপদে মুসলমানের সংখ্যা নামতে নামতে লোকসভা ভোটের বাম+কংগ্রেসের মিলিত ভোটের পার্সেন্টেজে নামিয়ে দিয়েছে। যদিও অপরাধী তার অপরাধস্থলে ফিরে আসবে এটাই দস্তুর।
এরাই বামেদের ৭% বলতো, আর মমতা মুসলমানেদের সাতের কাছাকাছি এনে দিয়েছে, অথচ রাজ্যে মুসলমান ২৮%, সেই হিসাবে ৮২টা প্রার্থী প্রাপ্তি ছিল অধিকার। কিন্তু নাগপুরের নির্দেশে- যাতে বিজেপির সাথে MLA বিনিময় করতে পারে তার জন্য যত পারা যায় মুসলমান কমিয়ে দাও।
তাহলে মুসলমানের কী হবে? কেন চটি নিজেই তো হিজাব পরে মোনাজাতের ভড়ং করবে। ওতেই তৃণমোল্লাদের ধর্মীয় অর্গাজম হয়ে যায়। হজ্বের বদলে কালীঘাটে তাওয়াফ করলে আর টালিনালার পানিকে জমজম স্বরূপ পান করলেই ঘরের বৌ পোয়াতি হয়ে যায় চটিপন্থী মোল্লাদের। দুধেল গাই বললে এদের শরীরে কামোদ্রেগ হয়ে স্খলনর শিহরন হয়।
বাকি যারা বামেদের নিয়ে হ্যাজ নামাচ্ছে- তাদের শুধানঃ আপনি কী বামেদের ভোট দিয়েছিলেন শেষ দুটো নির্বাচনে? উত্তর আপনি জানেন, তাকে বলুন- "ফোট শালা, আমার খাসি আমি লেজ দিকে কাটব"। এরা কেউ সাধারন ভোটার নয়, বিজেমূলের হয়ে ভাড়ায় খাটা ২ পয়সার আঁটিসেল কর্মী।
এরা ভেবেছিল- বামেরা বিবেকের ভূমিকায় অভিনয় করতে থাকবে, আর বিজেমূল নিজেরাই নায়ক আর ভিলেনের ভূমিকাতে অভিনয় করে গণতন্ত্রকে নাচিয়ে গাইয়ের দল দিয়ে ভর্তি করবে। সোজা কথা- এখন ক্যালাতে এলে পালটা ক্যালান হবে। গায়ক নায়কের রাজনীতিকে গাধার ইয়েতে পাঠিয়ে সভ্যভদ্র শিক্ষিত লোকেদের রাজনীতিতে নিয়ে আসার সময় এটা। বাংলা কাজের লোক চাই, নিজের মেয়ে তো নিজের ঘরে আছে।
মুসলমানের অধিকার চাই, চটির দয়া নয়। বিজেপি RSS এর চোখ রাঙানিও নয়। তৃণমুলের আমলে রাজনৈতিক হিংসার বলি হয় মুসলমান, মারেও মুসলমানকেই গুণ্ডা বানিয়ে। ফলত- মরেও মুসলমান মারেও মুসলমান। শেষ হয় দুটো মুসলমান পরিবার। ব্রাহ্মণ্যবাদী মমতা ক্ষমতা লোটে-
বামফ্রণ্ট- কংগ্রেস মুসলমানকে অধিকার দেবার জন্য যুবক মুসলমান নেতার সাথে জোট বেঁধেছে- যে প্রকাশ্যে মুসলমানের অধিকারের দাবী জানায়। কারো হিম্মৎ বা জিগর হয়নি এই রিস্ক নেওয়ার, বামফ্রণ্ট নিয়েছে, গোঁড়া হিন্দু ভোট কমে যেতে পারে সেই আশঙ্কার পরেও বামফ্রণ্ট মুসলমান নেতাকে নিয়ে জোট করেছে।
আর এতেই জট পাকিয়ে গেছে সুশীল দের - যারা অণ্ডকোষ চুলকে এতদিন" বিকল্প আছে?" বলে উদোম হেসে প্রশ্ন ছুড়ত আজ তারাই দিশেহারা। সরাসরি মাথায় ফেজ টুপি পরিহিত একজন মুসলমান মূলধারার সেকুলার রাজনীতিতে অন্ন বস্ত্র কর্মসংস্থানের দাবীতে গলা তুলে দাবী জানাচ্ছে - এ হজম করা মুসকিলই নয়- অসম্ভবও বটে। সেটা হাড়েমজ্জায় টের পাচ্ছে বিক্রিত মিডিয়া।
আজ মুসলমানদের ভাবতে হবে, তৃণমূল প্রার্থীদের ভোট যে দেবেন- যে কাল জিতে এসে বিজেপিতে চলে যাবেনা তার গ্যারান্টি কি?
আপনি কিন্তু নজরে আছেন জনাব, কাল বিজেপির হাত থেকে তৃণমূল বাঁচাবেনা- ওরা একটাই দল। নিজের ভালো ক্ষাপাতেও বোঝে।
দাড়িওয়ালা আরবী নামধারী কেউ মমতার পক্ষে লিখছে মানেই জানুন- এরা ভাড়াটে, এদের জন্মের দোষ আছে। কারন আজকের পরিস্থিতিতে জারজ ছাড়া কেউ চটির মাঝে মুসলমানের মসিহা খোঁজে না। মমতা ব্যানার্জী কখনই দেশবেচা বিজেপির সাম্প্রদায়িক হিংসার থেকে আপনাকে বাঁচাবেনা, কারন বিজেপি ওনার 'ন্যাচেরাল এ্যালি'। তাই এই সব মুসলমান গুলো RSS এর বীর্য জাত হারামি। এদেরকে শুধু চিহ্নিত করে রাখুন, বাকিটা ক্রমশ প্রকাশ্য
এরাই আগামীতে NRC ক্যাম্পে থাকবে।
আপনি কোথায় থাকবেন? মাতৃভূমি ভারতে না ডিটেনশন ক্যাম্পে?