শেক্সপিয়ার বলেছিলেন এই কথা, অবশ্য না বললেও আমাদের অন্তত ক্ষতি হতোনা। করোনা কখন যে ওমিক্রণ থেকে ফ্লোরোনা হয়ে যাবে ধরতেই পারবেননা, যেমন 'লকডাউন' নাম বদলে 'করোনা প্রোটোকল' হয়ে যাবে ধরতে পারা যাবেনা। সে যাই হোক- নামে যে কিছু যায় আসেনা সেটা আমাদের চেয়ে আর কে ই বা বেশি জানে! মুঘলসরাই, সরি পন্ডিত দীনদয়ালজীর দিব্যি।
করোনা আছে কি নেই, চরিত্র বদলাচ্ছে কি বদলাচ্ছেনা, ভ্যাক্সিন কার্যকরী না ভুয়ো - এগুলোর বিষয়ে যা যা কিছু বলার সেগুলো সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা কেউ বলছেন না। বললেও তাদের কথা আমাদের কানে আসছেনা, যা আসছে সবই ভায়া। যা কিছু বলার তার সবটাই বলছে সংবাদমাধ্যম, বাকিটা সরকার করছে ও করাচ্ছে। আর সরকার যখন বলছে সেটাই আদেশ, না মানলেই জেল জরিমানা।
'besarkari hola porisaba bhala hoba' বিশ্বাসীদের মতই "করোনা ভ্যাক্সিন নিলে, ইমিউনিটি বাড়ে" মন্ত্রে বিশ্বাসী একজাতের ভক্তের জন্ম হয়েছে। এদের কাছে কোনো যুক্তি নেই, তবুও পবিত্র বিশ্বাসে কোনো কমতি নেই। যারা যারা ভ্যাক্সিনেশন কমপ্লিটেড, তাদের অধিকাংশেরই আবার করোনা হয়েছে। Covid ভ্যাক্সিনের ফয়েলের গায়েই লেখা আছে- ইমারজেন্সি ইউজ অনলি ইত্যাদি। এর পরেও সরকার প্রায় জোর করে ভ্যাক্সিন দিচ্ছে। কিন্তু ভ্যাক্সিনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন করলেই "লাদেনের নাতিকে" দেখার লুক নিয়ে আমার দিকে চেয়ে থাকবে অর্ধেক সমাজ। ফলাফল- বেনিয়ারা চুটিয়ে ভ্যাক্সিন ব্যবসা করছে।
আসলে আমরা রয়েছি বৃহৎ যন্তরমন্তর ঘরে।
করোনা নাকি বাড়ছে। যে কিটে করোনা ধরা পরছে- আপনি কি জানেন ওটাতে ক্যামিকেলের মাত্রা কমবেশি করলে পজিটিভ/নেগেটিভ সূচক বদলে যায়। আর এই কিট কেবলমাত্র সরকার অনুমোদিত কয়েকটি হাতে গোনা কোম্পানিই তৈরি করে, যেগুলোর ডিটেলস- সাধারন মানুষের জানার অধিকারের বাইরে।
ইন্টারনেটের যুগে মেইনস্ট্রিম মিডিয়াতে এমনিতেই বিজ্ঞাপনের অর্থে ভাটির টান। সেই সুযোগে বিকৃত ও বিক্রিত মিডিয়া মালিকেরা ফার্মা কোম্পানির থেকে মোটা পয়সা খেয়ে গুছিয়ে ভয়ের চাষ করাচ্ছে। আর সাংবাদিকদের কথা নাইবা বললাম, সমাজের নিরেট মূর্খ, মানে যাদের কোনো কাজ জোটেনা তারাই সাংবাদিক হয় আজকের দিনে, যেমন অধিকাংশ শিক্ষক মানেই বাস্তববোধ হীন একপ্রকারের ক্লীব জীব, যারা মানুষের মতই বাচ্চা উৎপাদন করে। তাহলে জানাবেটা কে বা শেখাবেটা কে, যে- চারিদিকে যা হচ্ছে তা ভালো হচ্ছেনা বা ভুল হচ্ছে।
আচ্ছা এই যে ২ তারিখ থেকে লকডাউন হয়ে গেল, কেন হলো? জনগণের কথা ভেবে? সরকার মানুষের কথা ভাবলে তো ২৫শে ডিসেম্বর বা ১লা জানুয়ারি জমায়েতে বাঁধা দিতো। ট্রেন বন্ধের সময় সন্ধ্যা ৭টা থেকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে বাড়িয়ে রাত্রি ১০টা করে দিলো। কিন্তু সবার আগে যে সিদ্ধান্ত নিলো- ইস্কুল বন্ধ, সেটা বহাল রইলো। মদ যেহেতু 'নেই রাজ্যের' একমাত্র রোজগেরে দপ্তর, তাই ওটা খোলা রইলো। ইস্কুল বন্ধ মানেই হাজার হাজার কোটি টাকার ঘাপলা করার সুযোগ, তৃণমূল স্তর থেকে আমলা স্তর অবধি, সর্বত্র।
ইস্কুলে যারা যায়, তাদের বাড়ির লোক কি রাস্তাঘাটে যাচ্ছেনা ঝুলেঝুলে! বাচ্চারা কি বাপ-মায়ের হাত ধরে মেলা, খেলা, পার্কস্ট্রিট, মন্দির, মসজিদ, ভ্রমণ করতে যাচ্ছেনা? কিন্তু ইস্কুলে গেলেই নাকি এদের করোনা হবে। অথচ গোটা পৃথিবীতে করোনাতে আক্রান্ত কোনো শিশুর সন্ধান মেলেনি আজ অবধি।
কিন্তু কেন ইস্কুল বন্ধ? মানে আমাদের বাংলাতে? কেন আনন্দ গ্রুপের সংবাদমাধ্যম করোনা নিয়ে সারাক্ষণ হুমকি ধমকি বা বলা ভালো ভয় দেখাচ্ছে? কেউ প্রশ্ন তুলছেনা অশুভ আঁতাত নিয়ে।
রাজ্যে কোনো বিরোধী দল না থাকলে এটাই হয়। তৃণমূল নামক দলের প্রতিষ্ঠাতা নিজেই স্বীকার করছে বিজেপি মানেই তৃণমূল, আর সরকার পোষিত কিছু বুড়ো-হাবড়া আর গিটারিষ্ট/নির্বীজ, ভীতু আঁতেল ছেলেপুলে কমিউনিষ্ট সেজে পদে পোঁদ গুঁজে রয়েছে, যারা- না হোমে লাগে না যজ্ঞে। ফেসবুকে এসে দুটো বৈপ্লবিক কথাবার্তা বলে ফেললেই এদের অর্গাজম হয়ে যায়, ব্যাস তাহলে আর বাকি কী থাকে! গোটাটা নীলসাদা অনুপ্রেরণা। সরকারের সমালোচনা করা বা ভুল ধরার কেউ নেই।
আমরা ইন্টারনেটে 'হোয়াইট হ্যাট জুনিয়ার', বা বাইজুস এ্যাপসের বিষয়ে জানি। এমন আরো বেশ কিছু এ্যাপস রয়েছে যারা অনলাইন দোকান খুলেছে ইস্কুলের। জয় শাহ এর নামে বকলমে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রবল ক্ষমতাশালী অমিত শাহ BCCI এর প্রেসিডেন্ট, তারাই বাইজুকে প্রোমোট করছে ক্রিকেটের উন্মাদনার আড়ালে। ভাবুন, এই অমিতক্ষমতাধর 'বাইজু' কি চাইবে- সনাতন পদ্ধতির স্কুল খোলা থাকুক?
বাংলাতে 'টিউটোপিয়া' নামের একটা এ্যাপ চালু হয়েছে, যাদের উদ্বোধনে বাংলার তথাকথিত "বুদ্ধিজীবিদের" প্রায় সকলে উপস্থিত ছিল। তাদের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখুন, রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী, হার্ভার্ড প্রবাসী সরকারী দলের অধ্যাপক সাংসদ, মধ্যশিক্ষা পর্ষদের চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে কে নেই সেখানে। ঘোষীত বিবৃতি রয়েছে এদের প্রত্যেকের। আর আমরা কে না জানি,"তাঁর অনুপ্রেরণা" ছাড়া শিক্ষামন্ত্রী বা অন্য যে কেউ- কারো স্বেচ্ছা পাঁদার অনুমতিটুকুও নেই। অতএব....
এই টিউটোপিয়ার পার্টনার কে? আমাদের ABP গ্রুপ, মানে আনন্দবাজার পত্রিকা, ABP আনন্দ ও টেলিগ্রাফ। শহরের সকল গুরুত্বপূর্ণ বিলবোর্ড জুড়ে রয়েছে টিউটোপিয়া। কয়েকলাখের অথোরাইজড ক্যাপিটালের কোম্পানির মুল্য সাড়ে পাঁচকোটি আজকের দিনে, কয়েক বছরে এরাই হাজার কোটিতে পৌছাবে- যদি ইস্কুল এইভাবে বন্ধ থাকে। এই টিউটোপিয়া প্রাঃ লিঃ এর যারা ডিরেক্টর তাদের সম্বন্ধে MCA তে গিয়ে একটু খোঁজ নিয়ে দেখুন- সরকার সহ মিডিয়া, এদের অবাধ যাতায়াত। কমেন্টে লিঙ্ক চাইবেননা, সামান্য খুঁজলেই সব লিঙ্ক পাওয়া যায়। আর না পেলে আপনার মত হাঁটুতে বুদ্ধিওয়ালা পাব্লিকের জন্য 'এক্স হ্যামস্টার ডট দেশিই" শ্রেষ্ঠ ঠিকানা, ইয়েস- বিপ্লবের।
সুতরাং, টিউটোপিয়া-সরকারে থাকা মন্ত্রী সান্ত্রী ও আমলা- ABP গ্রুপ সহ এদের এই পূর্ণ চক্রের- ইস্কুল খোলা থাকলে লাভ নাকি বন্ধ থাকলে লাভ? সুতরাং সামান্য ধোঁয়ার গন্ধ পেলেই মনসা এবার নেত্ত্য করবেই, ঢাক বাজুক বা না বাজুক। সামান্য ছুতোনাতা পেলেই ইস্কুল বন্ধ করে দেবে। এর বেশি বলবোনা, আমারও প্রোফাইল বাঁচাবার ভয় আছে, বেফালতু মামলা খেয়ে যাবার ভয় রয়েছে।
সুতরাং বুঝেই গেছেন, গোটাটাই একটা অর্থনৈতিক দুর্নীতি, যার পরিকল্পিত স্ক্রিপ্টে ফেঁসে গেছি আমি, আপনি, আমরা সহ গোটা সমাজ। কাল হোক বা পরশু, ইতিহাসের চাবুক এই সত্য একদিন দিনের আলোতে আনবেই। সেদিনের সংবাদপত্রে আজকের দুর্নীতির খবরও ছাপবে, কিন্তু সেটা পড়ার মত শিক্ষিত থাকবেনা আপনার আগামী পুরুষ। অত্যন্ত দামী অনলাইন শিক্ষা কেবল ধনীদের জন্যই সংরক্ষিত হতে চলেছে অদূর ভবিষ্যতে।
সস্তার অদক্ষ শ্রমিক তৈরির জন্য পুঁজিবাদী বিশ্ব সবার আগে শিক্ষাই বন্ধ করবে এবং করেছেও। আপনি সতর্ক হননি, হবেনওনা। ভুগবে আপনারই উত্তরপুরুষ, না হবে মানুষ না হবে মুনিশ।
টিউটোপিয়া বা এই বাইজুস- এদের বিরুদ্ধে পালটা ক্যাম্পেন চালু করুন আমাদের জনগণের তরফে। এদেরকে গণ বয়কট করুন, পুঁজি কেবল লাভ বোঝে, বয়কট করে এদের লোকশানের ব্যালেন্সসিট ধরান, দেখবেন BlackBerry মোবাইলের মত এরাও জাষ্ট গায়েব হয়ে যাবে। ইস্কুলও খুলবে। হোয়াইট হ্যাট ইতিমধ্যেই 'কোডিং শেখো' থেকে সরে গিয়ে মিউজিক শিক্ষার এ্যাপে পৌঁছে গেছে, কাল ঝাঁপ বন্ধ হলো বলে। আমাদের গণ বয়কটই আমাদের আগামীকে সুরক্ষিত করতে পারে, আমরা ছাড়া আমাদের বাঁচাবার কেউ নেই।
বাকিটা মাস্টারদের হাতে, কারন ছাত্ররা জিয়ো বা এয়ারটেলের মত বিকল্প বেছে নেবে যা পাবে সামনে, অদূর ভবিষ্যতে মাস্টারদের BSNL কর্মীদের হয়ে যাওয়ার দিনটা আজই দেখা যাচ্ছে। সরকারি স্কুলই থাকবেনা যখন, তখন সরকারি স্কুল টিচারদের কী প্রয়োজন! আজ মাস্টাররাই ঠিক করুক, এই অশান্ত সময়ে তারা বেতনযুক্ত আরাম সুখ ভোগ করে আগামীর BSNL কর্মী হবে, নাকি ইস্কুল খোলার জন্য জঙ্গি আন্দোলন করবে।
সহমত হলে লেখাটা শেয়ার করে সমাজকে জানাতেই পারেন।