বৃহস্পতিবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৩

অভিযোগ বিহীন সম্পর্ক

 


অভিযোগ বিহীন সম্পর্ক অনেকটা লবণহীন তরকারীর মতো, যেটাতে কোনো স্বাদ পাওয়া যায় না। যদি দুটো মানুষই একে অপরের খোঁজ না নিয়ে দিনের পর দিন কাটিয়ে দেয়, আর সেইটা নিয়ে যদি একে অপরের মাঝে কোনো অভিযোগ না থাকে, তাহলে সেই সম্পর্ক একদিন বিচ্ছেদে গড়াবেই। অতিরিক্ত অভিযোগ যেমন লবণপোড়া অখাদ্য, তেমনই হিমশীতল সম্পরর্কের আয়ুও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারেনা। পরিমিতবোধ এটার জন্য জরুরী, কোনটা আমার আর কোনটা আমার নয়। কোনটা দীর্ঘস্থায়ী আর কোনটা ক্ষণস্থায়ী। কোনটা দায় আর কোনটা দায়িত্ব, এই সুক্ষ বিষয়ের মধ্যে দিয়েই হিমালয়সম সুউচ্চ মায়া, সমুদ্রের মত গভীর প্রেম- ভালবাসার সকল বড় বড় প্রতিশ্রুতি উবে যায় কর্পূরের মত।

যে মানুষটা তোমাকে ভালোবাসবে, সে অভিযোগ করবেই, কারণে অকারণে অভিযোগ করবেই, খোঁজ নিলেও করবে, না নিলেও করবে। হ্যাঁ, এটাই ভালোবাসার ধর্ম, পজেসিভনেস বা অধিকারপ্রিয়তা সম্পর্কের আশির্বাদদুটো মানুষের মাঝের দৃষ্টিভঙ্গির কারনে এর রূপ নানা ভাবে ধরা দেয়। যারা একে অপরকে ভালবেসে সম্পর্কে জড়ায়, তাদের প্রথম প্রয়রিটি তথা অগ্রাধিকার যদি একে অন্যের প্রতি না হয়ে- পেশা, বা অন্য তৃতীয় কেউ হয়– হতে পারে সেটা বাবা, মা বা অন্য নিকটআত্মীয়, কিম্বা সন্তানই সই, সেই সম্পর্ক শুকিয়ে যাওয়া সময়ের দাবী। ক্রমশ টানহীনতা অনুভব করবে উল্টদিকের মানুষটা, আর এর রাশ টের পাবে অন্য মানুষটাও, যে ভালবাসার মানুষকে উপেক্ষা করে বাকি পৃথিবীকে দায় বা দায়িত্ব ভেবে অস্থির হয়ে রয়েছে। সম্পরর্কের মাঝে টান কমে আসে, দূরত্ব বাড়ে, যোগাযোগ কমে যায়। টানহীন সম্পর্ক হচ্ছে ছাদহীন ঘরের মতো, যেখানে একে অপরের জন্য টান নে, মায়া নেই, সেখানে সম্পর্কের কোনো মূল্যও নেই। এ সম্পর্ক মৃত, আর মৃতের শুধুই সৎকার করা যায়।

ভালোবাসার বিপরীতে মানুষ অভিযোগ করবেই, অল্পবিস্তর সন্দেহ থাকাটাও সুস্থতার লক্ষণ, এতে করে ভালবাসার গভীরতা প্রকাশ পায়, সাথীকে হারিয়ে ফেলার ভয়ের অস্থির একটা মধুময় ভাবের চিত্র ফুটে উঠে, কারন ভালোবাসা এখানে গভীর থাকে। যেখানে কৈফিয়ত দেবার প্রয়োজন নেই, যেখানে অভিযোগ নেই, যেখানে সন্দেহ নেই, যেখানে অধিকারপ্রিয়তা নেই, সেখানে ভালোবাসাও নেই। পরে থাকে শুষ্ক মৃত সামাজিকতা, আর যেচে নেওয়া কিছু দায়- বস্তুত যা ছিল একান্ততই অপ্রয়োজনীয় দুজনের সম্পর্কের মাঝে। মৃতের সাথে সংসার হয়না, সহবাস হয়না, ভালবাসাও হয়না, শুধু সৎকার হয়।

একটু খোঁজ না নিলে যে মানুষটা অভিযোগ কর, একবেলা ফোন না করলে বা না ধরলে যে মানুষটা রেগে বেহুঁশ যেতো, সে তোমাকে ভালোবাস বিধায় এমনটা কর। মানুষটা তোমার আরও কাছে যাবার আশায় অভিমান করত, তোমার এ্যাটেনশন পেতে চাইতোযেদিন ভালবাসা মরে যায়, মাস ঘুরে বছর গেলেও সেই ফোন না করা বা না ধরা নিয়ে আর কোনো মানবিক বিকার মনের পটে দাগ কাটেনা। স্নায়ু আর সেই উত্তেজনা বোধ করেনা, কারন কমিটমেন্ট যেখানে মরে যায়, সেই সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক শ্রাদ্ধ শান্তি করে মৃতদের তালিকাতে নাম লেখাতে হয়, সময়ের দাবী মেনে।  

সত্য হচ্ছে, যেখানে অভিযোগের কদর পাওয়া যায় না, সেখানে মানুষ থাকতে চায় না, অভিযোগ ছাড়া কোনো সম্পর্ক হয় না, মনের চাওয়া পাওয়া থেকেই মানুষ মূলত অভিযোগ করে। ভেবে দেখো তো, আজ যে মানুষটার অভিযোগ তোমার কাছে বিরক্তিকর মনে হচ্ছে, কাল সেই মানুষটা অভিযোগ করা বন্ধ করে দিলে তখন পরিবর্তনটা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? হ্যাঁ, একসময় অভ্যস্ত হয়ে যাবে সেই নতুন জীবনে, হত নতুন কেউ আসবে, কিম্বা গতানুগতিক ধারাতে চলবে। কিন্তু ফেলে আসা অনেক স্বপ্নের সম্পর্কটাকে কবর দিতেই হবে, কারন অবহেলার আঁচে এতদিনে সে মৃত। আর মৃতকে ঘরে ফেলে রাখলে সে দুর্গন্ধের ছাড়া কিছুই দেবেনা।

যে মানুষটা ভালবাসে, কদর করে, তার অভিযোগ, অভিমান, রাগ সবকিছুর সমান গুরুত্ব দাবী রাখে। নতুবা যে ‘দায়’দের জন্য এই অভিযোগ, উপযোগের, মিষ্টি মধুর তিক্ততা থেকে দূরে গিয়ে সম্পর্কটাকে মেরে ফেলা হয় অবহেলা দিয়ে, সেই ‘দায়’রা আগামীতে নিজেদের জীবনে সেটেলড হয়ে তোমাকে নিয়ে আহা উহু করে খানিকটা করুণা দেখাবে বড়জোর। আর তখনকার তুমি খানিকটা অভিযোগ শোনার জন্য, খানিকটা ফোনের আশায়, খানিকটা সেই টক মিষ্টি তিক্ততার আশাতে হাপিত্যেশ করবে চাতকের মত শেষ নিঃশ্বাস অবধি। কারন তুমি জানো, তুমি খুন করেছো সম্পর্ককে মিথ্যে ‘দায়’ এর অজুহাতে, নিজেকে, নিজের সুবর্ণ রঙিণ অতীতকে আর একটা দুর্দান্ত সম্ভাবনাময় আগামীকে। অন্যের সুখ দেখে, ভালবাসাময় ঘরগার্হস্থ্য দেখে হাহাকার, ঈর্শা আর লোভটুকুই দৈনন্দিনের সাথী হবে।

ভালবেসে যে একদিন বেহায়া হয়েছিল, দুনিয়ার প্রতি অন্ধ হয়েছিল, তারও চোখ খুলে দেয় সময়। গুরুত্ব পাচ্ছেনা জেনে সে চিৎকার করতে থাকে, অপরাধ নেই জেনেও ক্ষমা চায়, কারন মায়ায় ঘেরা স্মৃতির জঙ্গলে সে হাঁসফাঁস করতে থাকে। ভালবাসাকে লালন করাটা বড় জরুরী, তাকে যত্নআত্তি না করলে, তাকে অভিযোগ- অনুযোগ আর অধিকারপ্রিয়তার মসলাতে না নিত্য সেঁকলে একদিন সে মরে যায়, সৎকারের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে নেয়, আর সেটা ছবি হয়ে যায় একদিন। ভালবাসা এমন এক অনুভবের নাম, যা মানুষকে দিয়ে সব করাতে পারে, জীবন দিতেও পারে, নিতেও পারে।

রবিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৩

এক পাহাড় প্রেম



সৃষ্টিকর্তা পাহাড় বানিয়েছে, সেখানে সবুজ বন দিয়েছে, আর আছে সেই সবুজ বনের খাঁজে খাঁজে উচ্ছল ঝর্ণা। রয়েছে খরস্রোতা পাহাড়ি নদীর কলধ্বনি যারা বাতাসের সাথে যুগলবন্দিতে একটা মিলনাত্বক বন্দিশের সৃষ্টি করে। পাহাড়ি বনের মাঝে জমে থাকা লক্ষ লক্ষ বছরের প্রাচীন দই-জমা কুয়াশাতে লেখা ছিল আমার ঠিকানা।

আমাদের জীবনটাও এই পাহাড়ের মতই, দাঁড়িয়েই থাকি অধিকাংশ সময়, কত এবড়োখেবড়ো পথ, কান্নার নদী, হাসির ঝর্ণা, অন্ধকার কুয়াশাচ্ছন্ন আগামীকাল, পাকদণ্ডী বেয়ে শুধুই চড়াই আর উৎরাই, দু'ধারে কত সম্পর্কেরা পরে রয়ে যায় রঙিন পাহাড়ি ফুলের মতো, মেঘের মতই ঋজু বনানীতে জমা থাকে বেদনা, হতাশা আর ব্যর্থতার বাষ্প, ভোরের সুর্যের মত উঁকি দেয় সুখ, তারপর সেই সুখ পুড়িয়ে দিয়ে অস্ত যায় আরেকটা সুখকে আনবে বলে। হিমেল ঠান্ডা, একটা অন্ধকারের চাদর গায়ে শুয়ে পরে পাহাড়, জীবনও। পাহাড়েও ভূমিধ্বস হয়, ঝরে যায় জীবন- কত সমার্থক এই জীবন নামের পাহাড়ের সাথে- জীবন্ত পাহাড়ের। আমরা তো শুধু হেঁটে পেড়িয়ে যাবার চেষ্টা করি মাত্র। না পাহাড়ে বাস করি, না জীবনে- শুধু দৌড়ে মরি।
অথচ আমরা কোথায় ঘুরে মরছি! ভেবে দেখেছেন, আমরা কার সাথে জিতে কী হাসিল করতে চাইছি? সত্যিই আমরা কত কাজ করি, পরিশ্রম করি, বাড়ি-গাড়ি-সংসার-অর্থসম্পদ সঞ্চয় করি, কিন্তু হিসাব কষে বলতে পারবেন- কদিন বেঁচেছিলেন ঠিক যেমনটা বাঁচতে চেয়েছিলেন বা বাঁচা উচিৎ ছিল! আপনার স্মৃতি পটে কী নিজেকে সঞ্চয় করতে পেরেছেন?
এমন কোথাও, এমন কোনোখানে, আমরা গোটা জীবনটা কাটিয়ে দিই, যে জায়গার অধিকাংশটা 'আমার' ছিলইনা কখনও। নিজের সাথে জেতার বদলে আমরা সেই মানুষগুলোর সাথে অলীক রেস লাগিয়ে দিই, যারা কখনই 'আমার' ছিলনা।
বিলাস বস্তু সুখ দিলেও, মানসিক শান্তি দিতে অক্ষম। অভিলাষ আর প্রয়োজনের মাঝে যে বিষয়টা থাকে তার নাম মানসিক পরিতৃপ্তি।
আর এই পরিতৃপ্তির জন্যই আমরা বেড়িয়ে পরি- সেই পরিবেশের উদ্দেশ্যে, যা আমাদের আসল ঠিকানা, যেখানে কৃত্রিমতা নেই, প্রকৃতির মোহনীয় রূপটানের কৌমার্য আজও অক্ষতযোনি-
সময় হলে আসবেন কখনও আমাদের পাড়ায়, হিমালয়ে- যেখানে আনাচেকানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে তাল তাল জীবন.....

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...