বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬

হুমায়ূন ও হাজার কোটির ডিলের ভিডিও

 


না মানে আপনি আজকে টের পেলেন যে হুমায়ুন কবির মানুষটা আসলে খারাপ লোক! নতুবা এতদিন উনি নিরীহ নিষ্পাপ ও ‘নির্দোষ’ ছিলেন! না মানে, আপনি যে এমন অপাপবিদ্ধ নির্মলমতি সরল ও কোমল যে, আপনাকে বা আপনাদের তো ডায়পার পরিয়ে রাখা উচিৎ, কখন যে শিশুর মতো হেগে মুতে ফেলবেন প্যান্টে, টেরই পাবেন না। ভাগ্যিস আপনাদের গোপনাঙ্গে বা বগলে লোম গজায়নি, নাহলে এতদিন লজ্জাতেই মরে যেতেন বার চারেক।

মুর্শিদাবাদের হুমায়ুন কবির সম্পর্কে নতুন একটা ভিডিও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে আজ। যেখানে ব্যক্তি হুমায়ুনের মুখ দেখিয়ে কিছু বক্তব্য শোনা ও দেখা যাচ্ছে। যার মাধ্যমে তোলামূল ও তাদের পোষিত সংবাদ মাধ্যম প্রমাণ করার চেষ্টা করছে যে, হুমায়ুন বিজেপির কাছ থেকে টাকা খেয়ে তৃণমূলের সর্বনাশ করার চেষ্টা করেছে। সেই ভিডিও অনুযায়ী, মোট ১০০০ কোটি টাকার ডিল হয়েছে, যার মধ্যে আপাতত ৩০০ কোটি টাকা এডভান্স হিসেবে পেয়েছে, বাকিটা ধাপে ধাপে পাবে। এই হচ্ছে মোদ্দা গল্প। ভিডিও সত্য মিথ্যা আমি কিছুই জানি না, জানার আগ্রহও নেই।  

মাকুন্দ গোপোনাঙ্গ বিশিষ্ট এলিট আঁতেল সমাজ, নাবালক ও নিতান্ত মূর্খ ছাড়া প্রত্যেকেই জানে হুমায়ুনের সাথে বিজেপির যোগাযোগ গভীর, যেটা কোনো ভাসা ভাসা লিঙ্ক নয়- একদম গলায় গলায় দহরম মহরম। কারণ তিনি হুমায়ুন কবির ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটে বিজেপির প্রার্থী হওয়ার দরুন, বিজেপির অন্দরমহলে পৌঁছে ‘ভক্ত’দের বাবাদের সাথে এক বিছানাতে শুয়ে এসেছে, এক থালায় খেয়েও এসেছে। এই সবকিছু জেনেও ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস তথা মমতা ব্যানার্জী এই হুমায়ূন কবিরকে জামাই আদর করে ঘরে নিয়ে এসে প্রার্থী করে জিতিয়ে ছিল বিধানসভাতে। 

শুধু কী তাই? ২০২৪ এর লোকসভা ভোটের প্রচার চলাকালীন যোগীর বিরোধী মুখ হিসেবে এই হুমায়ূন কবিরকেই তোলামূল ব্যবহার করেছিল। অধীর চৌধুরী আর মোহাম্মদ সেলিমের বিরুদ্ধে নিকৃষ্ট দৃষ্টিভঙ্গিমূলক চূড়ান্ত সাম্প্রদায়িক ভাষণ দিয়ে মুর্শিদাবাদ জেলার দুটি লোকসভা আসনে তৃণমূলের নিশ্চিত পতন বাঁচিয়ে ছিল। সুতরাং, হুমায়ুন নিজে কাঁচা না পাকা খেলোয়ার জানি না, তবে তার যাবতীয় কিছু খারাপ ও সেই সমস্ত খারাপত্বকে তৃণমূল সর্বোচ্চ পর্যায়ে ব্যবহার করেছে নিয়মিত ও দীর্ঘদিন। 

প্রয়াত ‘চাণক্য’ মুকুল রায়, বঙ্গ বিজেপির পোস্টারবয় শুভেন্দু অধিকারী, আর বর্তমান পাবলিক একাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান সুমন কাঞ্জিলাল, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, সব্যসাচী দত্ত, অর্জুন সিং, সৌমিত্র খাঁ, অনুপম হাজরা, দীনেশ ত্রিবেদী, জিতেন্দ্র তিওয়ারি, রুদ্রনীল ঘোষ, হীরণ চ্যাটার্জী, তন্ময় ঘোষ, বাবুল সুপ্রিয়, দীপেন্দু বিশ্বাস, কৃষ্ণ কল্যাণী, মুকুটমনি অধিকারী, লাভপুরের মনিরুল প্রমুখেরা আসলে কোন দলের প্রতিনিধি? এরা সকলেই আসলে RSS এর প্রতিনিধি, গোয়ালঘর থেকে যে দোকানে ডিউটি দেয় নাগপুরের হেড অফিস, এরা সেই দোকানে গিয়ে তেড়েফুঁড়ে লেগে পড়ে। এটা কেবল পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য পর্যায়ের নেতাদের একটা সংক্ষিপ্ত তালিকা দিলাম, জেলা বা ব্লক স্তরের তালিকা দিলে তো বিয়েবাড়ির মুদিখানার ফর্দ হয়ে যাবে। 

অনেকেই পাল্টা প্রশ্ন করবে, সিপিএম থেকেও তো তোলামুল আর বিজেপিতে দলে দলে নেতা গেছে, তার বেলা। হ্যাঁ, ধান্দাবাজ চোরগুলো গেছে তো, অন্দরে এরা ঘুঘুর বাসা বেঁধে ছিল বলেই তো আজ দল ‘শূন্য’। প্রশ্ন হচ্ছে চলে যাওয়া কাউকে কি কাউকে পুনরায় ফেরানো হয়েছে? তোলামুল বিজেপির কথা বাদ দিন, এরা একে অন্যের বমি-গু সব খায়। বাম দল থেকে যারা যায়, সেগুলো হেগে ফেলার মতো। একবার মলাশয় থেকে বেরিয়ে গেলেই সোজা ফ্ল্যাশ করে দেওয়া হয়। এর পর সেই বর্জ্য ভেসে ভেসে কার দুয়ারে গিয়ে উঠল সেটা খুঁজে ফেরা পোষিত মিডিয়া আর দক্ষিণপন্থী দলগুলোর কাজ। একবার হেগে দিয়ে গু খালাস হয়ে গেলে, শতচেষ্টা করেও তা আর পায়ুপথে ফেরত পাঠানো যায় না। 

হুমায়ুন নতুন কোনটা করেছে যা মমতা ব্যানার্জী করেনি? হুমায়ুন নতুন দল খুলেই ১৮২টা কেন্দ্রে প্রার্থী দিয়েছেন, ঠিক মমতা ব্যানার্জী যেমন ১৯৯৮ সালে ২৯টা লোকসভা আসনে প্রার্থী দিয়েছিল বিজেপির বগলদাবা করে। হুমায়ুনও তাঁর একদা নেত্রীর দেখানো পদাঙ্কই অনুসরণ করেছে মাত্র। ঠিক যেভাবে মমতা ব্যানার্জী দল খোলার প্রায় সাথে সাথে ‘জোড়াফুল’ প্রতীক পেয়ে গিয়েছিল বিজেপির সৌজন্যে, হুমায়ুনের দলও তেমন ‘বাঁশি’ চিহ্ন পেয়ে গেছে নাগপুরের বংশী বাদকদের বদান্যতায়। হুয়ায়ুন সাহেব কোলকাতার এক ফাইভস্টার হোটেলে ঘাঁটি বেঁধে রয়েছেন বিগত দেড় মাস, ১ মাস আগে থেকে হেলিকপ্টারে চড়ে প্রচারের ঘোষণা করে রেখেছেন- সেদিন গোপনাঙ্গে মাকুন্দর দল টেরই পায়নি এই টাকার আসলে উৎস কোথায়! আজ ভিডিও প্রকাশ পেতে হুমায়ুনের নাকি জাত নষ্ট হয়েছে! বলি তোদের দেয় কে?

একটা ত্রিভুজের তিনটে বাহু, উপরের শীর্ষ বিন্দুতে নাগপুরের গোয়ালঘর, বাকি দুটো বিন্দুর একটা কালীঘাটের বিন্দুপিসি, অন্যটাতে মুরুলীধর স্ট্রিট- এই বৃত্তে প্রতিনিয়ত নিজেদের মধ্যে চলাচল করে সর্বক্ষণ ‘হটলাইন’ রক্ষা করে চলেছে দুই ফুল। এই ‘নাগপুর ট্রায়াঙ্গেল’ অনেক বেশি প্রকাশ্য বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের চেয়ে, কই এই ‘হটলাইন’ গ্রিন চ্যানেল নিয়ে কোনো গোপোনাঙ্গ মাকুন্দো তো কোনো প্রশ্ন তোলেনি। 

প্রশ্ন কখন উঠেছিল? তখন যখন মহঃ সেলিমের সঙ্গে দেখা করার পর, হুমায়ুন কবির তার অতীত কৃতকর্মের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছিল জনগণের কাছে- তখন সুশীল সমাজ আর আনন্দবাজার যাত্রাদলের বিবেকের ভূমিকাতে অবতীর্ণ হয়ে রীতিমতো গেলো গেলো রব তুলেছিল। সেদিনও গোপনাঙ্গে মাকুন্দের দল বুঝে উঠেনি হুমায়ুনের সাথে বিজেপির সম্পর্ক ছিল। মিডিয়ার নামে পশ্চিমবঙ্গে যে সব গাজনের সঙের দলেরা হাতে মাইকের বুক আর কপালে অণ্ডকোষ নিয়ে সারাদিন দৌড়ে বেড়ায়, তারাও এতদিন হুমায়ুনের সাথে বিজেপির সংযোগ বিষয়ে জানতে পারেনি। আজ ভিডিও লিক হওয়ার পর বুঝেছে, হুমায়ুন নামের টগর বোষ্টমী, বিজেপি নামক নন্দ মিস্ত্রিকে রান্না ঘরে ঢুকতে দিয়ে আসলেই জাত খুইয়েছে।   

আচ্ছা ভেবে দেখুন তো, আজকের এই ভিডিও কোন মিডিয়া হাউস এর কাছে না গিয়ে সরাসরি তৃণমূলের কাছে চলে এলো কীভাবে? এর দ্বারা অন্তত একটা জিনিস নিশ্চিত হওয়া গেল যে, ওই চুক্তির মধ্যে একা হুমায়ুনই শুধু নেই, বিজেপির সাথে তাদের সহোদর তৃণমূল কংগ্রেসও একই সাথে উপস্থিত ছিল ঐ আলোচনার টেবিলে। ওই আলোচনার টেবিলের উল্টো দিকে দাঁড়িয়ে ভিডিওটা কে করছিলো তৃণমূল সে বিষয়ে কিছু বলেছে, বলতেই পারতো বিমান বসু, সেলিম, অধীর চৌধুরী কিম্বা রাহুল গান্ধী নিদেনপক্ষে শুভঙ্করের নামও নিতেই পারতো। ট্রুথ সোশ্যালও ফলো করলাম, ট্রাম্পের তরফেও কোনো ক্রেডিট দাবী করে পোষ্ট আসেনি। কোন গ্রীন চ্যানেলে ভিডিওটা তৃণমূলের কাছে চলে এলো, প্রশ্ন তো এটাও!!    

হুমায়ুন সাহেব দাবী করতেই পারেন যে ভিডিওটা AI জেনারেট, কারণ বিষয়টাকে আইনি দীর্ঘসূত্রিতার মাঝে একবার ফেলে দিতে পারলে বিষয়টা সময়ের কবরে দাফন হয়ে যাবে, তারপর মানুষের আর মনেই থাকবে না। সারদা কেসে যেখানে হাজার কোটি টাকার নয় ছয় হয়েছিল সরাসরি তৃণমূলের নেতৃত্বে, আজ তার মালিক জামিন পেয়ে গেলেও কোথাও কোনো সামান্য বিক্ষোভ প্রদর্শনটুকু হয় না- সেখানে ১০ বছর পর যখন এই ভিডিওর সত্যতা সামনে আসবে ল্যাব থেকে, ততক্ষণে মানুষ ভুলেই যাবে কীসের ভিডিও ছিল ওটা। 

আসলে জাপানি তেল প্রয়োগ করেও কোনো মিডিয়া হাউস এখন অবধি পশ্চিমবঙ্গের এই ভোটের বাজারে তৃণমূল-বিজেপি বাইনারি সেট করতে পারেনি। তাই এতদিন বিজেপির সাথে ঘর করে চলা তৃণমূলের এই সতীপনা, রাজ্যের সাধারণ জনগণ- বিজেপির সাথে গোপন চুক্তিতে বাইনারি সৃষ্টির প্রচেষ্টা বলেই ধরে নিয়েছে। অনেকে ভাবছে মুসলমান সমাজে বিপরীত প্রতিক্রিয়া হবে হুমায়ুনকে নিয়ে, বরং উল্টোটা হবে। তার যে সব প্রার্থীরা ও সমর্থকেরা দোলাচলে ছিলো যে- বুথ স্তরে তোলামুলের সাথে লড়তে গেলে একটা তো পুঁজি দরকার, হুমায়ুন সাহেব সেটা দিতে পারবেন তো? হুমায়ুনের যারা ভোটার বা সমর্থক ও প্রার্থী তাদের ক্লাসও তো তাদের নেতার মতোই, একটা ভিডিও দেখে তারা কেউ পালাবে না, বরং উল্লসিত হবে যে এত বিপুল পরিমান টাকা আসছে। এরা সকলে আজ আশ্বস্ত হলো যে, ‘নাহ, হুমায়ুন সাহেবের কাছে ‘মাল’ আছে, অতএব, লড়াইটা দিতে পারবে কাঠে কপাটে’।

আরেকটা জিনিস ভুলে যাচ্ছে পাব্লিক তথা বাম সমর্থকেরা, হুমায়ুন তৃণমূলের বাক্স থেকে কিছুটা মুসলমান ভোট কাটবে, এটাকে ধরে নিয়েই তো বামেরা কিছু আসন পেতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে সংখ্যালঘু বেল্টে। পাশাপাশি তোলামুলও এমন খেঁকি কুত্তার মতো চেঁচাচ্ছে মুসলমান ভোট চলে যাওয়ার আতঙ্কে! কারণ এই সেই সংখ্যালঘু ভোট ব্যাঙ্ক, যাদেরকে দুধেলগাই সাজিয়ে মমতা ব্যানার্জী ওনার পৈতৃক সম্পত্তি ভেবে রেখেছিলেন। বিজেপির ঔরসে জন্মানো তৃণমূল কংগ্রেস, আজ বিজেপির সাথে পরকীয়া করতে গিয়ে ধরা খাওয়া হুমায়ুনের জাত নিয়ে প্রশ্ন তুলছে! তৃণমূলকে শুধাচ্ছি আপনাদের যে জন্ম হয়েছিল, সেই জন্মদাতা বাপের নামটা কী? 

তবে কী জানেন, দিনের শেষে জয়ের হাসিটা কিন্তু আজ হুমায়ুনই হাসল। এই ভিডিওর কল্যাণে আবার ফোকেটে একটা গোটা দিন রাজ্যের সংবাদ শিরোনামে তিনি রয়ে গেলেন। ভোটের বাক্সে তিনি সত্যিকারের হ্যামলিনের ‘বাঁশিওয়ালা’ হয়ে উঠতে পারেন কিনা ৪ঠা মে তার জবাব মিলবে।



রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬

ক্ষুদ্র ঋণের ফাঁদে গ্রাম বাংলার মা বোনেরা

 

❌ ক্ষুদ্র ঋণের ফাঁদে গ্রাম বাংলার মা-বোনেরা ও তৃণমূল এর তোলাবাজি আর কাটমানির অন্ধকারের রাজত্ব। ❌

🟥 অনিয়ন্ত্রিত ঋণ + উচ্চ সুদ + কম আয় = ঋণের ফাঁস

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষুদ্রঋণ এখন “double-edged sword”, সঠিক ব্যবহার হলে উন্নয়ন, ভুল ব্যবস্থায় ঋণের ফাঁস। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর (Self-Help Group) ঋণ বর্তমান ক্ষেত্রে গরিব মানুষের জন্য আশীর্বাদের বদলে অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষুদ্র ঋণের প্রাথমিক উদ্দেশ্য অত্যন্ত ভালো ছিলো। এতে করে গ্রামীণ মহিলাদের স্বনির্ভরতা বেড়েছিলো। নানান ধরণের ছোট ব্যবসা, পশু পালন, মাছচাষ ইত্যাদি শুরুও হয়েছিলো। ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার বাইরে থাকা একটা বিপুল সংখ্যার মানুষ বিশেষত মহিলারা, রাষ্ট্রের মূল অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে চলে এসেছিলো। গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হয়েছিলো। তোলাবাজ সরকারের অপদার্থতা আজকে এটাকে মারন ফাঁদে পরিণত করেছে।

বিগত ১৫ বছরে রাজ্যে কোনো শিল্প আসেনি, ভারি বহু কোম্পানি রাজ্য ছেড়ে পালিয়েছে; ফলত কর্মসংস্থান নেই। কৃষি পণ্যের দাম নেই, রাজ্যের ১৮% চাষযোগ্য জমি অনাবাদি হয়ে পরে রয়েছে। সারের কালোবাজারি, কীটনাশকের অভাবের সাথে রয়েছে কৃষিতে কাজ করা শ্রমিকের সমস্যা। কারন, বহু গ্রামীণ মানুষ যারা জমিতে ‘মুনিশ’ খাটতেন তারা পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে ভিনরাজ্যে চলে গেছে। ভাতা রাজনীতি আর করোনার সময় থেকে পাওয়া ‘ফ্রি’ চালের কল্যাণে সমাজের একটা কর্মঠ অংশের মানুষকে মানসিকভাবে ঘড়কুনো কুঁড়ে বানিয়ে দিয়েছে। 

🟢 বাংলার প্রেক্ষাপটে সমস্যা কেন বেড়েছে? 

প্রথমেই রয়েছে কৃষিতে প্রাকৃতিক অনিশ্চয়তা, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি তো আছেই; উচ্চমূল্যের ডিজেল, ততোধিক চড়া বিদ্যুতের বিল, বহু স্থানে জলস্তর নেমে যাওয়াতে গভীর নলকূপ সেচ বন্ধ, মেলা খেলার সরকার নদী থেকে ক্যানালের মাধ্যমে সেচের বন্দোবস্ত করতে পারেনি। ফলত, রাজ্যজুড়ে কৃষিতে একটা হাহাকার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এরপর ফসলের ন্যায্য দাম পেতে গেলে সেখানেও শাসক দলের ভয়াবহ তোলাবাজি। অধিকাংশ ‘কোটা’ ফড়েরা ভুয়ো কাগজ জমা করে ভরিয়ে দিচ্ছে তৃণমূলের ক্যাডার আর কিছু অসৎ অফিসারের সাথে ষড়যন্ত্র করে, আসল চাষীরা বঞ্চিত থেকে যাচ্ছে। স্থানীয় নেতাদের চাঁদাবাজি, রাস্তায় পুলিশের তোলাবাজির উৎপাতে ভিনরাজ্যে কৃষিপন্য রপ্তানি শিল্প এক দুঃস্বপ্ন আজকের পশ্চিমবঙ্গে। ফলত চাষীর হাতে টাকা নেই, গ্রামীণ অর্থনীতি বন্ধ্যা হয়ে গেছে একপ্রকার। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, শ্রমজীবী পরিবারগুলোতে নুনভাত টুকু কোনোক্রমে জুটে গেলেও, অন্য মৌলিক চাহিদা মিটছেনা।

যেহেতু নির্দিষ্ট আয়ের উৎস নেই, ব্যবসা নেই, চাকরি নেই। শিল্প বলতে তোলাবাজি, কাটমানি আর চপ ঘুগনি। প্রথম দুটো তোলামূলের জন্য সংরক্ষিত, বাকি দুটো রাজ্যে শিক্ষিত বেকারদের নিয়ে চরম তাচ্ছিল্য। সরকারের গৃহ প্রকল্পে যে টাকা আসে, তা কাটমানির নামে অর্ধেক আগেই কেটে রাখে তোলামুলের সম্পদেরা, ফলে সেই ঘর শেষ করতে ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছে দরিদ্র মানুষেরা। এমন উদাহরণ ভুরিভুরি রয়েছে। এরপর, মেয়ের বিয়ে, চিকিৎসা, পড়শির সাথে তাল রেখে ঠাটবাট বাড়াতে গিয়ে ভোগ্যপন্য ক্রয়ের ফাঁদ ইত্যাদিতে, মানুষ মাকরসার জালের মত আঁটকা পরে গেছে। ফলত, ঐ ঋণের টাকা কোনো লাভজনক ব্যবসায় না খাটিয়ে পারিবারিক খরচ বা আপদকালীন প্রয়োজনে ব্যয় করলে তা আর ফেরত দেওয়ার ক্ষমতা থাকছে না। লোন নেওয়া পর থেকে- Collection agent-এর চাপ, সাপ্তাহিক মিটিংয়ে অপমান, পরিবারের ওপর মানসিক চাপ ও শেষে গয়না/সম্পত্তি বিক্রি; এই হচ্ছে চক্র।

গ্রামে স্বনির্ভর গোষ্ঠী (SHG), মাইক্রোফাইন্যান্স কোম্পানি বা NGO গুলো খুব সহজ শর্তে ঋণ দেয়। ক্ষুদ্রঋণের সুদ সাধারণ ব্যাঙ্কের তুলনায় ভয়ানক বেশি, অনেক সময় ২৪%–৩৬% পর্যন্ত হয়। ফলে ঋণ ছোট অঙ্কের হলেও অল্প দিনেই সুদ জমে বিপুল বড় বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই উচ্চ সুদের হার সর্বগ্রাসী হয়ে লেলিহান আগুনের মত গ্রাস করেছে গোটা সমাজকে। প্রায় প্রতিটা ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ঋণদানকারী সংস্থাগুলোর সুদের হার ভয়াবহ, সেই সুদ মেটাতে গিয়ে গরিব মানুষ আরও ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। একটা ঋণের কিস্তি মেটাতে গিয়ে আরেকটা ঋণ নিচ্ছে, ফলত চক্রবৃদ্ধি ঋণের ফাঁদ জড়িয়ে যাচ্ছে গরীব মানুষ। 

পাহাড়প্রমাণ সাপ্তাহিক বা মাসিক কিস্তির কড়াকড়ি গরিব মানুষের সঞ্চয় করার ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে। যাচ্ছে। আয়ের স্থায়িত্ব না থাকা কৃষক, দিনমজুরের নিয়মিত কিস্তি দেওয়া কঠিন। সারামাসে যা খুদকুঁড়ো জুটিয়ে আনছে, এই মহাজনী সুদের চক্করে ঘটি বাটি সব বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। এরপর শুরু হচ্ছে আসল যন্ত্রণা, অধিকাংশ গ্রামীণ গরীব পরিবারগুলো চরম আতঙ্কে থাকে, এ এক ভয়ানক সামাজিক চাপ। ঋণের কিস্তি সময়মতো দিতে না পারলে গোষ্ঠীর অন্য সদস্যদের চাপ ও সামাজিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার ভয়ে অনেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন, যা চরম ক্ষেত্রে আত্মহত্যার মতো ঘটনাও ঘটাচ্ছে। 

✅ সমাধান-

🔸সর্বপ্রথম প্রতিটা হাতে স্থায়ী কাজের যোগান দিতে হবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করে, দয়া ভিক্ষা নয়, কাজের পরিবেশ সৃষ্টি করে দিলে শ্রমজীবী মানুষ খেটে খাবে। আগামী সরকারকে সকলের হাতে কাজের বন্দোবস্ত করতে হবে। 

🔸 দুর্যোগ হলে যাদের আয় বন্ধ হয়ে যায়, ও যারা মৌসুমি কৃষি শ্রমিক হিসাবে কাজ করে, তাদেরকে বৃত্তিমূলক কাজের প্রশিক্ষণ দিয়ে ‘অফ সিজেনে’ রোজগারের বিষয়টা সুনিশ্চিত করতে হবে।

🔸 উৎপাদনমুখী কাজে ঋণ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

🔸 গ্রামের স্বল্পশিক্ষিত মানুষের মাঝে আর্থিক সচেতনতা বাড়াতে হবে, যাতে এই চক্রব্যূহ্যে না ফেঁসে যায়। 

🔸 প্রয়োজনে সরকারের তরফে একবার গণহারে ঋণমুক্তি করে পুনরায় এই সাইকেল নতুনভাবে চালু করতে হবে। 

🔸 কম সুদের বিকল্প ঋণ দিতে হবে সরকারি ও কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের মাধ্যমে। 

🔸 সুদের সর্বোচ্চ হার বেঁধে দিয়ে ‘টেনিয়োর’ বাড়িয়ে দিতে হবে। 

🔸 অধিক সুদের লোভে যে সকল সংস্থ পুরাতন ঋণের স্ট্যাটাস না দেখে তার উপরে পুনরায় ঋণ দেয়, তাদের কালো তালিকা ভুক্ত করতে হবে। 

🔸 সরকারি নজরদারি ও নিয়ম কঠোর করতে হবে।

🔸 সরকারকে বাজারের সাপোর্ট নিশ্চিত করতে হবে।



তৃণমূলের স্ট্যাটেস্টিক জালিয়াতি


SIR প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই মমতা ব্যানার্জীর দাবী ছিল ২০২৪ সালের ভোটারলিস্ট দিয়ে এই বিধানসভা নির্বাচনটা করাতে হবে। সুপ্রিম কোর্টে এ বিষয়ে রীতিমতো হলফনামা দিয়ে তার ওই দাবী রেজিস্টার করে এসেছে। কেন ২০২৪ এর ভোটারলিস্ট এত গুরুত্বপূর্ণ ছিল মমতা ব্যানার্জীর কাছে, সেটার জন্য কেন্দ্র সরকারের একটা ডেটার দিকে আপনাদের নজর রাখতে হবে। আমরা রোজ বলে এসেছি ভুতুড়ে আর মৃত ভোটারে ভর্তি ২০২৪ এর ভোটারলিস্টই মমতার কারচুপির প্রাণভোমরা। সায়েন্টিফিক রিগিং এর অনুরূপ স্ট্যাটেস্টিক জালিয়াতি।  

🔰 নিচের চার্টের দিকে খেয়াল করুন, এটা ২৮শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বের হয়েছিল। 

🟥 ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গের মোট জনসংখ্যা ছিল ৯ কোটি ১৩ লাখ, যার মধ্যে ১৮+ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ছিল ৬ কোটি ১১ লাখ, আর ভোটার ছিল ৫ কোটি ৬৩ লাখ। 


✅ প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ ও ভোটারের অনুপাত ছিলো ৯২.১%


👉 এরপর ২০১৪ সালে দেখুন, উপরোক্ত অনুপাত বেড়ে ৯৮.১% তে পৌঁছে গেছে। ২০১৬ সালে সেটা ৯৯.৪%, এবং যাবতীয় নির্লজ্জতার সীমা অতিক্রম করে ২০১৯ সালে ১০১.৬%, ২০২১ সালে ১০২.৬%, ২০২৪ সালে ১০১.২% ও ২০২৫ সালে সর্বোচ্চ ১০২.৮% তে পৌঁছে যায়। মানে মূল প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের চেয়ে ভোটারের সংখ্যা বেশি। উন্নয়নের জোয়ার আসলে কোন গুপ্ত নদীতে বইছিল আশাকরি বুঝে গেছেন। 


🔸 প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ১০০ জন, কিন্তু ভোটার প্রায় ১০৩ জন- একেই বলে পারফেক্ট উন্নয়ন। 


এমতোবস্থায় কেন মমতা ব্যানার্জী একটা সুষ্ঠু SIR করতে দেবে বলুন তো? যেই মুহূর্তে SIR লাগু হয়েছে, মমতা ব্যানার্জীর উন্নয়নের ঝুলির বেড়াল গায়েব হয়ে সেই ২০১১ সালের হিসাবের কাছাকাছি ফের ৯২.৬%তে এসে পৌঁছে গেছে প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যা আর ভোটারের আনুপাতিক হার। তৃণমূল তাদের জামানার শুরু থেকে ভোটারলিস্ট কারচুপি করে এসেছে, আসলে শুধু তৃণমূল বললে দুর্বৃত্তায়নের বৃত্তকে খাটো করে দেওয়া হবে, এটা আসলে নাগপুরের মাস্টার গেমপ্ল্যান, তাদের শরিক তৃণমূল এই রাজ্যে সেই গেমপ্ল্যান ইমপ্লিমেন্ট করেছিল মাত্র। ফলত, শুরু থেকেই ২০২৪ এই ভোটারলিস্ট ধরে ভোট করতে মরিয়া মমতা ব্যানার্জী, শেষমেষ BLO ও BDO দের দিয়ে গোটা বিষয়টাকে ঘেঁটে দিয়ে, তার ‘দুধেল গাই’দের জিম্মি বানিয়ে নিল।

আপনি ক্রনোলজি খেয়াল করুন, লাইনে দাঁড়িয়ে মানুষ অসুস্থ হওয়া, কাজের চাপে BLO এর মৃত্যুর প্রোপাগাণ্ডা, পর্যাপ্ত অফিসার না দিয়ে চূড়ান্ত অসহযোগিতা- মানে মমতা ব্যানার্জির পক্ষে যে যে ভাবে সমস্যা তৈরি করা সম্ভব ছিল, সেই সাম-দাম-দন্ড-ভেদ সমস্ত কিছু এপ্লাই করে আজকের এই ডিলিটেড ভোটারের হাহাকার অব্দি পৌঁছে দিয়েছে মুসলমান সম্প্রদায়, তপশিলি জাতি এবং উপজাতি সম্প্রদায়ের মানুষকে। আসলে তৃণমূল চেয়েছিল ঠিক চাকরি চুরির ফর্মুলা অনুযায়ী খেলতে, ঘেঁটে গুলিয়ে দিয়ে চাল কাঁকর মিলিয়ে ভাত রেঁধে খাইয়ে দেবো। SIR এর ক্ষেত্রে এক পলিসি- অফিসার দেবো না, BLO দের দিয়ে ভুল ডেটা ফিড করব, সেম ফর্মুলা সেম প্যাটার্ন। কিন্তু এবারে শেষ রক্ষা করতে পারেনি, নিজেই নর্দমার মধ্যে ডুবে গেছে।

সাবিনা ইয়াসমিনকে দিয়ে বিচারকদের আঁটকে হেনস্থা করাটাও মমতা ব্যানার্জীরই নিঁখুত পরিকল্পনার অংশ। মাঝখান থেকে মোফাক্কেরুল খোদার খাসি হয়েছে কিম্বা খোঁচর হিসাবে 'জেলে যাওয়া ডিরেক্টর হিসাবে' এপোয়েন্টেড ছিল। নতুবা মমতা ব্যানার্জীর অধীনে থাকা SDO/DM/SP এরা কি পায়ে ঘুঙুর বেঁধে মুজরো দেখছিল? নির্দিষ্ট অর্ডার বিনা তারা যদি ইচ্ছাকৃতই ভাবে ১৪ ঘন্টা ধরে নিশ্চুপ থাকে, তাহলে আজও তাদের কাউকে কেন সাসপেন্ড করা হয়নি? তাদের বিরুদ্ধে কেন মামলা করা হয়নি? একটা চুনোপুঁটি মোফাক্কেরুল, একটা বেচারা সাংবাদিক আর একজন ISF এর প্রার্থী, তিনজন 'মুসলমানকে' গ্রেফতার করে বিরাট বীরত্ব দেখাচ্ছে পুলিশের কর্তারা, তার চেয়েও বেশি বগল বাজাচ্ছেন মাননীয়া নিজে। আসলে তিনি প্রমাণ করতে চাইছেন মুসলমানকে মারলে তিনিই মারবেন, বাঁচালে তিনি বাঁচাবেন। যেন উপরওয়ালার কাছ থেকে ইজারা নিয়ে এসেছেন। 

তবে সাবিনা ইয়াসমিন কেন এখনও জেলের বাইরে এ নিয়ে মমতার কোনো জবাব নেই। নির্বাচন কমিশনও বেশ্যাবাড়ির দালালের মতো চক্ষু লজ্জাহীন হয়ে চুপটি মেরে বসে আচ্ছে সাবিনা বিষয়ে। উচ্ছিষ্টভোগী পাপোশ মিডিয়া সানাই এর পোঁ ধরে ‘মূল চক্রী’ গ্রেফতারের ব্রেকিং নিউজ চালিয়ে মানুষকে ধোঁকা দেবার ব্যর্থ চেষ্টা করলেও, বঙ্গ সমাজে হাসির খোরাক হয়েছে গত পাকিস্তান যুদ্ধে গদি মিডিয়ার লাহোর দখল করে নেওয়ার ফ্যান্টাসি রিয়েলিটি শো এর অনুরূপ।

বিচারক আঁটকে রাখার ঘটনাটা ঘটেছে মালদার কালিয়াচক দুই নম্বর ব্লকে। সেখানকার আসল গল্পটা জানেন? 

জনগণ কিন্তু ওখানে মোটেই অবরোধ করতে যায়নি। যেহেতু বিপুল পরিমাণ মানুষের নাম ‘ডিলিট’ হয়ে গেছে, যাদের বড় অংশটাই স্বল্পশিক্ষিত, তারা বিডিও অফিসে গিয়ে পরিত্রাণের উপায় জানতে গিয়েছিল- কীভাবে এই পরিস্থিতি থেকে তারা মুক্তি পেতে পারে অর্থাৎ বিডিও অফিসের থেকে তারা সাহায্য ও সহযোগিতা চাইতে গেছিল। যেহেতু তৃণমূল সরকারের উদ্দেশ্য অসৎ এবং থানার OC/IC ও BDO দের দলীয় ক্যাডার বানিয়ে বা বাধ্য করে দল চালিয়েছে, এখানেই তার ব্যতিক্রম ঘটনি।  ভুলে গেলে চলবে না যে গত লোকসভার নিরিখে মালদার প্রতিটা বিধানসভা আসনে তৃণমূল গোহারা হেরে রয়েছে।

কালিয়াচক দুই নম্বর ব্লকের BDO কৈলাশ প্রসাদ, বিচারক আঁটক কান্ডে এই অফিসারকে কেন আঁচলের ছায়াতলে আইসোলেট করে রেখেছে মমতা ব্যানার্জী। এই লোকটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বহু অনৈতিক কাজ করেছেন অতীতে, যার মধ্যে বিপুল পরিমাণ মানুষের নামকে এডজুডিকেশনে পাঠানো এনারই হাতযশ। পুরো প্রক্রিয়াকে গুলিয়ে দিয়ে জনগণের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দেওয়ার জন্য, অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে জমায়েত হওয়া মানুষকে এই বিডিও আর সাবিনা ইয়াসমিন সহ তৃণমূল নেতৃত্ব মিথ্যা আশ্বাস দিতে থাকে যে- ‘এইবার তোমাদের সাথে কথা বলা হবে। উপর তলার অফিসারেরা রয়েছেন, ওনারা তোমাদের কথা শুনবে’। বিচারপতিরা যে ওই অফিসের মধ্যে ছিলেন, এই ব্যাপারে সাধারণ মানুষের কাছে কোনো তথ্যই ছিল না। ক্রমশ উদ্বিগ্ন মানুষের সংখ্যা ক্রমশ বাড়তে থাকে, যথারীতি শয়তানি কুবুদ্ধি খাটিয়ে সাধারণ মানুষের ধৈর্যকে বিক্ষোভের দিকে নিয়ে যায় মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন সমেত সংশ্লিষ্ট বিডিও ও ওই অফিসের সরকারি কর্মচারীরূপী তৃণমূল ক্যাডার বাহিনী, সিভিক পুলিশের দল। এই বিডিও কৈলাশ প্রসাদ, গাড়ি চাপা দিয়ে মানুষ খুন করার অপচেষ্টা অবধি করেছিল ওইদিন। অন্যান্য সরকারি কর্মীরা যেখানে নূন্যতম DA টুকু পায় না, সেখানে এই BDO গুলো স্পেশাল ইনক্রিমেন্ট পেয়ে তাদের সেই ‘রেলা’ সাধারণ মানুষের উপরে দেখায়। সরকার পরিবর্তন হলে এদেরকেও পাই পাই হিসাব চুকাতে হবে জনগণ ও আইনের কাঠগড়াতে দাঁড়িয়ে। 

জনগণকে ভিলেন বানানো হচ্ছে সর্বোচ্চ আদালতের সামনে।

গত ০২/০৪/২৬ তারিখ অবধি ৫.৬২ লাখ ভোটারের নাম ডিলিট হয়েছে। এইগুলোর প্রতিটাতেই ভুলভাল আছে, এর পিছনে সঙ্গত কারণও আছে। যে ভুলের মূল চক্রী BLO রূপী তৃণমূলের ক্যাডার বাহিনী, যারা মূলত সরাসরি তোলামূলের কর্মী। AI যেমন যন্ত্র, যারা বিচারক তারাও আসলে যন্ত্রই, প্রাপ্ত ডকুমেন্টের ভিত্তিতে তারা নাম রেখে দিচ্ছেন কিম্বা পর্যাপ্ত ডকুমেন্ট না পেয়ে নাম ডিলিট করে দিচ্ছেন। এখানে কারো সাথে তো ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই বিচারকদের। বিচারকদেরকে ভিলেন বানিয়ে দিচ্ছে তৃণমূলের মিডিয়া সেল, যাতে মানুষ ভুল দিশাতে ছুটে যায় শত্রুর সন্ধানে।

কেন সুপ্রিমকোর্টকে বিচারকদের এই কাজে নিয়োগ করতে হলো? তারা কি কেরানি? নাকি তাদের কাজ বাড়ন্ত ছিল? তারা মানুষের দুর্দশা দূর করতে এসে তৃণমূলের পাঁকে ডুবে গেছেন। ওনারা সারাজীবন সংবিধান, তথ্য, যুক্তি আর প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে বিচার করেন, এখানেও তারা ডকুমেন্ট পেলে অনুমোদন করছেন না পেলে করছেন না।  মমতা ব্যানার্জীর চাল কাঁকর মিলিয়ে গুলিয়ে ঘেঁটে দেওয়ার খেলায় তারা তো শুধু ক্রীড়নক মাত্র। এই যে প্রতিবাদের অপভ্রংশ, জজসায়েবদের অবরোধ করে রাখলেই ওনারা নাম তুলে দেবে, এটা কি আদৌ সম্ভব?

BLO দের দিতে মমতা ব্যানার্জী ঠিক কোন পাপটা করিয়েছে, জানেন?

👇👇👇👇👇👇👇

🔹১) জনগণ ডকুমেন্ট জমা দিয়েছে কিন্তু BLO আপলোড করেনি।

🔹২) আপলোড করলেও অত্যন্ত খারাপ মানের অস্পষ্ট ঝাপসা ছবি আপলোড করেছে, যা দেখে কারও বোঝার ক্ষমতা নেই ওটা বার্থ সার্টিফিকেট নাকি, পাশপোর্ট নাকি তালাকনামা।

🔹৩) হেয়ারিং এ নেওয়া ডকুমেন্ট নিয়ে স্থানীয় তৃণমূল পার্টি অফিসে দিয়ে এসেছে, সেখানে তৃণমূলের নেতার দল, আইপ্যাকের ভাড়াটে কর্মী আর ডেটা এন্ট্রি অপারেটরেরা মিলে ঠিক করেছে কতগুলো নাম বাদ দেবে। সেইমতো তৃণমূল বিরোধী নাম বেছে বেছে তাদের ডকুমেন্ট ওখানেই পুড়িয়ে দিয়েছে। AERO, ERO, DEO এই প্রতিটা লেভেলে এই পাপ সংগঠিত করিয়েছে তৃণমূল।

🔹৪) BLO কে একটা সার্টিফিকেট দিতে হয় পুরো আপলোড প্রক্রিয়ার শেষে- ‘verified with the original document and found in order অথবা verified with the original document and found correct’. ৯০% এর বেশী ক্ষেত্রে এটা দেয়নি।

নতুবা এমন গণহারে ডিলিট হতে পারে না নাম। উদাহরণ হিসাবে, সামসেরগঞ্জ বিধানসভায় মুসলমান নাম ডিলিটেড ৩৬৭৩৫ জন, অমুসলিম নাম ডিলিটেড ১৫৬ জন। আইনের চোখ বাঁধা থাক বা না থাক, রাষ্ট্র ব্যবস্থা কিন্তু হিন্দু মুসলমান ঠিকিই চিনে নিয়েছে। এটার জবাব অবশ্যই মাননীয় বিচারকদের দিতে হবে, তারা ইচ্ছাকৃত এভাবে মুসলমানদের নাম বাদ দিয়েছে নাকি ওনারা ডকুমেন্টস পাননি বলে নাম বাদ দিতে বাধ্য হয়েছে, এখানেই মমতা ব্যানার্জী ও তার সরকারের যাবতীয় ষড়যন্ত্র ধরা পড়ে যাবে। সুপ্রিম কোর্টকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন হল RSS কি তার দুর্গার বিরুদ্ধে যাবে? 

যে সকল রাজ্যে বিজেপির শাসন রয়েছে, এবং মুসলমান নিগ্রহে যে উত্তরপ্রদেশ দৈনিক শিরোনামে থাকে, সেখানেও মুসলমান এভাবে অত্যাচারিত হয়নি SIR এর নামে। সেখানে তার নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত হয়নি, এই নির্বাচন কমিশনই সেখানে SIR এর কাজ করেছে। অন্যান্য সকল রাজ্যে এরকম 'এডজুডিকেশন' বলে কোনো তালিকা হয়নি- গুজরাটে নয়, উত্তরপ্রদেশে নয় এমনকি বিহারেও নয়। ভোটের মুখে বিহারে বহু জলজ্যান্ত ভোটারের নাম স্রেফ মৃত হিসেবে বাদ পড়েছিল বলে জাতীয় রাজনীতিতে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। আসলে সেই সকল রাজ্যের শাসক দল SIR কে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানায়নি এই পর্যায়ে। মমতা ব্যানার্জী মুসলমান, SC/ST ভোটারদের একাংশকে জিম্মি বানিয়েছিল ভোটের স্বার্থে। মুসলমানের নাম আগে কেটে, পরে মসিহা সেজে তাদের বাঁচানোর নাটক করে বলবে- দেখো আমিই মুসলমানদের ত্রাতা, আমি না থাকলে বিজেপি এসে যাবে। বিজেপি নিকৃষ্ট সাম্প্রদায়িক দল সন্দেহ নেই, কিন্তু মমতা ব্যানার্জী বিজেপির চেয়েও নিকৃষ্ট মিথ্যাবাদী নির্লজ্জ আর বেহায়া।

কেরালা বা তামিলনাড়ুতে কিছু মানুষের তো ১ কিমি লম্বা নাম, ভীষণ খটমট। তারা শুরুতেই হলফনামা করে ইলেকশন কমিশনকে জানিয়ে দিয়েছিলো যে অমুক অমুক অমুক নাম বা পদবী আসলে একই। যেমন Sk, Shek, Seikh কিম্বা মুখার্জী, মুখোপাধ্যায়, Haque, Hoque, Haq এমন তো বাংলার সর্বত্র। মমতা এসবের ধারে কাছে যায়নি, উনি কেবল গুলিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। কেরালা সরকার প্রশাসনিক চাপ ও ভোটারদের সমস্যার কথা উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিল SIR বন্ধ/স্থগিত করার জন্য, কারণ একই সময়ে লোকাল বডি নির্বাচন চলছিল। IUML সহ বহু রাজনৈতিক দল SIR বন্ধ করার জন্য সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল। তামিলনাড়ুতে সিপিএম সহ আরো অনেক রাজনৈতিক দল সুপ্রিম কোর্টে SIR-এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মামলা করেছিল, আমাদের রাজ্য সিপিএমও মোস্তারি বানুকে বাদী করে মামলা করেছিল। যার ফলে আদালত SIR প্রক্রিয়ায় “logical discrepancy”তে থাকা নাম প্রকাশ করতে বাধ্য করে নির্বাচন কমিশনকে। মমতা ব্যানার্জি নাটক ছাড়া কি করেছিল এই পর্যায়ে?

প্রতিটা সংখ্যালঘু মেজরিটি বিধানসভা আসন গুলিতে SIR এর কারণে বিপুল সংখ্যক ভোটারকে ‘লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সির’ মাধ্যমে ডিলিট করা হয়েছে, যেগুলোর একটি সিটেও বিজেপি প্রতিযোগিতাতেই নেই। ভোটার ডিলিট করে বিজেপি অন্তত ওই আসন গুলিতে কোন লাভ করতে পারবে না, ওরা তিন নম্বর ছাগলছানা হয়েই রয়ে যাবে। লড়াই CPIM, ISF, কংগ্রেসের সাথে তৃণমুলের। যে নামগুলো ডিলিট করা হয়েছে, তারা প্রায় সকলেই অঞ্চলে তৃণমূল বিরোধী হিসেবে সুপরিচিত। সাদা খাতার দলদাস BLOরা স্থানীয় তৃণমূল পার্টি অফিসে বসে এদের নাম দায়িত্ব নিয়ে adjudication পাঠিয়ে দিয়েছিল। এইসব মুসলমান ভোট না দিতে পারলে একমাত্র লাভবান হবে তৃণমুল কংগ্রেস।

শুরুর দিন থেকে আমরা রোজ চেঁচিয়ে গেছি, মমতা ব্যানার্জী রাজ্যের একাংশের মুসলমানকে জিম্মি করেছে SIR এর নামে। অন্য কোনো রাজ্যে ডিসক্রিপেন্সি নেই, কিন্তু এ রাজ্যে আছে। প্রতিটা রাজ্যে এই একই SIR প্রক্রিয়া নির্বিগ্নে মিটেছে, কিন্তু বাংলাতে মুসলমানকে আঁটকে দেওয়ার জন্য এই ষড়যন্ত্র মমতা ব্যানার্জী রচনা করেছে। শুরুতেই ১ কোটি ৬৭ লাখ মানুষকে লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সিতে ফেলে দিয়ে পারফেক্ট হাহাকার পরিস্থিতি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিল। হেয়ারিং এ যখন ১ কোটি ৭ লক্ষ ব্যাক্তি ষড়যন্ত্রের জাল কেটে বেরিয়ে এল, মমতা ব্যানার্জী আরও মরিয়া হয়ে অফিসার দেওয়া বন্ধ করে দিল। ৬০ লাখ মানুষকে আন্ডার এডজুডিকেশনে পাঠিয়ে পুরো কাজ থমকে দিল। সুপ্রিম কোর্টের আদেশে রাজ্যের প্রায় সমস্ত আদালতের স্বাভাবিক কাজকর্ম স্তব্ধ রেখে বিচারকেরা ওই এডজুডিকেট ভোটারের ঠিকুজি কোষ্ঠী বিচারে বসে গেলেন, তারপর আজকের এই ‘ডিলিট’ পরিস্থিতি। বাদ পড়ে যাওয়া বৈধ মানুষেরা জানে না কবে ট্রাইবুনাল চালু হবে, আতঙ্কে দিশাহারা হয়ে প্রতিবাদ জানাতে গেলে রাষ্ট্রীয় খড়্গ নেমে আসছে। মুসোলিনি বেঁচে থাকলে ফ্যাসিবাদের ম্যানিফেস্টো যে মমতা ব্যানার্জীকে দেখেই লিখতেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। 

কেন মালদাতেই সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে! মালদা জেলার মৌলভীবাজার সাব ডিভিশন কেটে স্বাধীনতার সময় পূর্ব পাকিস্তানকে দেওয়া হয়েছিল। বিনিময়ে ওখান থেকে যশোর জেলার বনগাঁ সাব ডিভিশন এখানে এসেছিল। মতুয়াদের মধ্যে যে সমস্যা আছে, মালদা জেলায় গাজোল আর হাবিবপুর বাদ দিয়ে প্রত্যেকটি বিধানসভা কেন্দ্রে সেই একই সমস্যা আছে। বাংলাদেশের সাথে মুর্শিদাবাদ জেলার পুরোটাই নদী সীমান্ত। কোনো আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট নেই যেখান দিয়ে মানুষজন যাতায়াত করতে পারে, কিন্তু মালদা জেলায় দুটোই আছে। মালদা মুর্শিদাবাদ জেলায়, বিশেষ করে মালদা জেলায় প্রচুর পরিমাণ বাংলাদেশি হিন্দু আছে যারা সাম্প্রতিককালে এসেছে। মুসলমানকে জিম্মি করতে গিয়ে কমপক্ষে ৮-১০ লাখ হিন্দু অনুপ্রবেশকারী বহাল তবিয়তে ভোটারলিস্টে রয়ে গেছে। অবশ্য শুরু থেকেই রাজ্যের একটি রাজনৈতিক দলও হিন্দু অনুপ্রবেশকারীদের কোনোভাবে তাড়াতে চায়নি, সেটা কংগ্রেস হোক, সিপিএম হোক, বিজেপি হোক বা তৃণমূল। তৃণমূল মুসলমানকে জিম্মি করাতে এই অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের তাড়ানোটা ধামাচাপা পড়ে গেছে এই পর্বে।

মমতার পুলিশ সাবিনা ইয়াসমিনকে গ্রেপ্তার করবে না। দাঙ্গা লাগাবার কারিগরদের মমতা ব্যানার্জী মন্ত্রীত্বের পুরস্কার দেয়, রাজ্যসভায় পাঠায়। অতীতে হাজি নুরুল যেমন ছিল, টাটকা উদাহরণ- আসানসোল দাঙ্গার নায়ক বাবুল সুপ্রিয়র মতো একটা নিকৃষ্ট নর্দমার ছুঁচোকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছে। স্বভাবতই, সাবিনা ইয়াসমিন বা বাকি তোলামূলের নেতৃত্বরা আগামীতে পুরষ্কিত হওয়ার আশায় দিন গুণছে। প্রতিদিন মমতা ব্যানার্জীর মুখোশ একটু একটু করে খসে যাচ্ছে, সরকার থেকে বিসর্জন এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা, তারপর মানুষ এদের সুদে-আসলে বুঝে নেবে পাড়ায় পাড়ায়।

SIR এ যাদের নাম ‘Delete’ গেছে, বৈধতার সমস্ত ধরণের প্রমানাদি থাকা সত্বেও, রাষ্ট্র যন্ত্র তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়েছে। ঠিক এই মুহূর্তে তারা বেনাগরিক ও রাষ্ট্রহীন। সেই তারা যখন বাপ দাদা চোদ্দ পুরুষের ভিটেতে দাঁড়িয়ে বৈধ কাগজাদি নিয়ে রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন করছে কেন আমাকে বাদ দেওয়া হলো- বিজেপি, RSS, নির্যাতন কমিশন আর মমতা ব্যানার্জী তাদের হিংস্র দাঁত নখ নিয়ে হামলে পড়ছে নিজের নাগরিকের উপরে সর্বশক্তি দিয়ে, যেন ‘বেনাগরিক’ বানিয়ে দেওয়া মানুষগুলো দুষ্কৃতি বা রাষ্ট্রদ্রোহী। রাষ্ট্রযন্ত্র নিজে ব্যর্থ হয়েছে বা তাকে ব্যর্থ হতে বাধ্য করেছে তার নিজের নাগরিককে চিহ্নিত করতে, সেই ব্যর্থতার দায় থেকে মুখ লুকাতে, পুনরায় সেই আক্রান্ত মানুষগুলোকেই আবার টার্গেট করা হচ্ছে। এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটা পরিকল্পিত চক্রান্ত। 

SIR দুর্নীতিতে তৃণমূল কংগ্রেস তার অতীতের সমস্ত ধরণের জালিয়াতি শয়তানিকে ছাড়িয়ে গেছে। মালদা, মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান, নদীয়া তো ছিলই, ৪ঠা এপ্রিল তারিখে মতুয়া সমাজও যশোর রোড অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। কোলকাতার বিভিন্ন ওয়ার্ডে লাগাতার বিক্ষোভ প্রদর্শন চলছে। চালাকি ধরে পরে যাওয়াতে ব্যাকফুটে থাকা মমতা ব্যানার্জী, RSS, ইলেকশন কমিশন আর বিজেপি, প্রত্যেকে একই ভাষায় কথা বলছে; যেন একজন কেউ লিখে দিয়েছে আর সকলেই মূল ভাব বজায় রেখে কপি পেস্ট করে চলছে। ফলত ঠকে যাওয়া মানুষগুলো গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গেলেই - রাষ্ট্র তখন গ্রেফতারি, জামিন অযোগ্য মামলা আর CBI/NIA লেলিয়ে দিচ্ছে। এমতাবস্থায় একটাই উপায় বেঁচে থাকে, আদর করা। কিন্তু কাকে আদর করবেন? 

ইরানের মতো নিখুঁত টার্গেট সেট করে ভালবাসাবাসি শুরু করুন। সবার আগে অঞ্চলের BLO কে গিয়ে চেপে ধরুন, প্রশ্ন করুন- তুই কী কী আপলোড করেছিলি দেখা। না দেখাতে পারলেই হালকা করে সোহাগ করে দিন। গড়গড় করে সব সত্য উগরে দিতে শুরু করবে। এরপর তৃণমূলের নেতারা যখন ভোট চাইতে আসবে, অক্টোপাসের মতো জড়িয়ে ধরে চুমু খান। বেশি নয়, ব্লক, জেলা আর রাজ্য স্তরের ১ গণ্ডা করে তোলামূলের নেতাকে উপর্জুপরি ‘চুমুতে চুমুতে’ ভিজিয়ে দিন, দেখবেন আপনার নাম ডিলিটেড থেকে নিজে থেকেই সাপ্লিমেন্টারি তালিকাতে চলে এসেছে, গণতান্ত্রিক আন্দোলন করলে যারা মিথ্যা মামলা দেয়, 'আদরই' তাদের একমাত্র ওষুধ। এখানে আদর কিন্তু ডাকনাম।

ভাইপো সহ তৃণমূলের নেতারা কোন এমন তালেবর যে তাদের সুরক্ষার জন্য ৩০০০ এর বেশি পুলিশের বহর থাকবে! ৪ঠা মে এর পর এই পুলিশ ওদের কে দেবে? পাব্লিকের ক্যালানির হাত থেকে বাঁচতে ওরা নিজেরাই না কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলোর কাছে গিয়ে ধর্না দেয় যে- আমাকে এরেস্ট করো, জেলে অন্তত বেঁচে থাকব। লাথোকা ভুত বাতোসে নেহি মানতা হ্যায়।



হুমায়ূন ও হাজার কোটির ডিলের ভিডিও

  না মানে আপনি আজকে টের পেলেন যে হুমায়ুন কবির মানুষটা আসলে খারাপ লোক! নতুবা এতদিন উনি নিরীহ নিষ্পাপ ও ‘নির্দোষ’ ছিলেন! না মানে, আপনি যে এমন ...