চতুর্দিকে PM CARES নিয়ে বেশ একটা হইচই রইরই বিষয় চলছে। তবে বিষয়টার উদ্দেশ্য মহৎ, অন্তত রাষ্ট্র তেমনই জানিয়েছে জনগণকে, আর আমরা জানি রাষ্ট্র সর্বশক্তিমান, অতএব রাষ্ট্র যাহা বলিবে তাহাই সত্য।
কোনো এক অজানা কারনে হঠাৎ করে ভাবনাস্থল গর্ভবতী হওয়ার কারনে অক্ষরের রূপে প্রসবিত কিছু প্রলাপের সংকলন এই ঠেক। গুনী লেখকের সমৃদ্ধশালী লেখনি পড়তে পড়তে, অক্ষমের প্রয়াসে কম্পিউটারের কিবোর্ডে হাত চলে যায়। ফল স্বরূপ, ঘটে চলা রাজনীতি, সমকাল, মানবিক বিকার, সময়চর্চা, ছ্যাঁচোর এর মত রিকেটগ্রস্থ লেখনীর জন্ম হয়। এরই রেশ ধরে সময়চর্চা, রবিবাসরীয়, সমকাল সহ রম্য, রচনা, গল্প ইত্যাদি ভুলভাল গুলোকে সংরক্ষিত করা হয়েছে এই টোলে। এটা সমমনষ্ক মানুষদের ভাব বিনিময়ের স্থান। উন্মাদের টোলে সকলকে স্বাগতম জানাই।
বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২০
PM Care Fund- কার যত্নের জন্য?
মোদ্দাকথা বিষয়টা পাতি বাংলায় হল- প্রধানমন্ত্রীর যত্নসমূহ।
বাখ্যাতে- প্রধানমন্ত্রীর যত্নসমূহ ‘দরকার’ এটাও হতে পারে, প্রধানমন্ত্রীর যত্নসমূহ ‘পাবেন কেউ কেউ’ এটাও হওয়ার চান্স সমপরিমাণ।
নামকরণে যে বিশেষ মুন্সিয়ানা রয়েছে এটা মানতেই হবে, যার দ্বারা বাক্যগত মূল ভাবার্থটা কিন্তু উহ্য রয়েছে, যা পরস্পরবিরোধী। অথচ একটা ‘Relief’ শব্দ থাকলেই ত্রান বিষয়টা জুড়ে যেত, স্বাভাবিকভাবেই প্রধানমন্ত্রী ত্রানের জন্য আহ্বান করছেন বোঝা যেত। কিন্তু এখানে দ্বন্দ্বমূলক নামকরণের মধ্য দিয়েই বহু সম্ভাবনা খুলে দিয়েছেন।
প্রথমেই জেনে নেওয়া দরকারঃ রাষ্ট্র কি জানিয়েছিল ওয়েবসাইটে-
1. মহামারিকে কেন্দ্র করে উত্থাপিত এই দাতব্য তহবিল- ক্ষতিগ্রস্থদের নিকটে ত্রাণ সরবরাহই ‘প্রাথমিক’ লক্ষ্য।
2. জনস্বাস্থ্য বিষয়ক জরুরী পরিস্থিতি, মনুষ্যনির্মিত বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ তথা সঙ্কট মোকাবিলা, স্বাস্থ্য পরিসেবা সংক্রান্ত ও ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির উন্নতি সাধনে, অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, প্রাসঙ্গিক গবেষণা, ও বিবিধ যে কোনও প্রকারের সহায়তায় এই তহবিল অর্থ যোগান দেবে।
3. ট্রাস্টের গঠনতন্ত্র- মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে, মাননীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মাননীয় অর্থমন্ত্রী, ও মাননীয় ভারত সরকার ‘ট্রাস্টি তহবিলের’ প্রাক্তন কার্যনির্বাহী প্রধান।
4. ট্রাস্টির চেয়ারমান তথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বোর্ডের যেকোনো তিনজন মাননীয় সদস্যকে বেছে নেবেন। যে সদস্যেরা সমাজের সবচেয়ে বিশিষ্ট ব্যাক্তিদেরকে বেছে নেবেন- যারা সিদ্ধান্ত নেবে যে- গবেষণা, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান, সমাজিককর্ম, আইন, জনপ্রশাসন এবং সমাজসেবা ক্ষেত্রে এই তহবিল থেকে সাহায্য পাবে।
5. ট্রাস্টি যেকোনো ব্যাক্তিকে ‘জনস্বার্থের’ কারনে নিয়োগ করতে পারে।
6. তহবিলটি সম্পূর্ণরূপে- সাধারণ ব্যাক্তি, কোম্পানী বা সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের দানের অর্থেই পুষ্ট থাকবে, সরকারী বাজেট তথা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে এখানে কোনো অর্থ বরাদ্দ হবেনা।
7. এই তহবিলের যেকোনো দান, আয়কর আইন ১৯৬১ অনুসারে, ৮০-জি ধারার অধীনে ১০০% করছাড়ের সুবিধা যোগ্য। এছাড়া কোনো কোম্পানি যদি এখানে অনুদান দেয় সেটাও- Corporate Social Responsibility (CSR), ২০১৩ আইনের অধীনে গণ্য হবে।
8. PM Care বিদেশী অনুদানও নিতে পারবে, তার জন্য আলাদা একাউন্ট খোলা হয়েছে।
9. ২০১১ সালে Prime Minister’s National Relief Fund (PMNRF)’ বিদেশী অনুদান নিয়েছিল, তাই PM Care ও বিদেশী অনুদান নিতেই পারে, কারন সম্মান ও মর্যাদার দিক থেকে PM Care- (PMNRF) এর সমান ও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
খুবই সরল কিছু নিয়ম। উদাত্ত কন্ঠা দানের আহ্বান জানিয়েছেন মাননীয় প্রধানসেবক। কিন্তু কিছু প্রশ্ন উঠেই যায়, পূর্বের নাম্বার অনুয়ায়ী যথাক্রমে-
1. প্রাথমিক লক্ষ্য ক্ষতিগ্রস্থদের ত্রান দান, তাহলে মধ্যমপর্যায়ের বা আনুষাঙ্গিক তথা গৌণ বিষয় গুলি কি কি? সেগুলো স্পষ্ট নয় কেন?
2. স্বাস্থ্য পরিসেবা সংক্রান্ত ও “ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির উন্নতি সাধনে” এই টাকা খরচ হবে। স্বাস্থ্যের দিক থেকে এই মুহুর্তে সবচেয়ে বাজে অবস্থায় দেশের অর্থনীতি। অনিল ভাই দেউলিয়া হয়ে গেছে, লকডাউনে মুকেশ ভাই এর সম্পদ হুড়হুড় করে কমে গেছিল, অনেকটা জিও বেচে সামাল দিয়েছে। আদানি ভাই, মেহুল ভাই, নীরব ভাই, সুভাস চন্দ্র ভাই, মালিয়া ভাই সহ অনেক এমন ভাই আছেন যাদের ‘স্বাস্থ্য’ অত্যন্ত খারাপ।
সরকারের তো কোনো নিজস্ব ফার্মা কোম্পানি নেই, তাহলে কোন ফার্মা কোম্পানি গুলো এই তহবিলের দান পাবে? কি তার যোগ্যতামান? মোহাল সারাভাই ভাই, পঙ্কজ প্যাটেল ভাই দের মত কজনের ভাগ্য খুলবে এই যতন ফান্ডের অর্থে?
মনুষ্য নির্মিত সঙ্কট তো রয়েইছে, প্রধানমন্ত্রী ঘনিষ্ট ব্যবসায়ীরা জনগণের টাকা নিয়ে বিদেশে পালিয়েছে, বা পালাবার ফিকির খুঁজছে। ব্যাঙ্কগুলোই যে শুধু চরম সঙ্কটে তা নয়, সেই ব্যবসাদারেদের পরিবারগুলো তো ভারতে রয়ে গেছে- তারা কি এই তহবিলের সেবার আওতাধীন?
প্রধান সেবকের বন্ধু গুলো, যারা ঋণখেলাপি করে বিদেশবিভূঁইতে পরে রয়েছে অনেকদিন হল, তারাও কি ভাগ পাবে এই অর্থের?
বিধায়ক কেনাবেচা করে স্থিতিশীল সরকারকে টলিয়ে দেওয়া মনুষ্য নির্মিত সঙ্কট, সেই সংকটমোচনের একমাত্র উপায় হচ্ছে বিজেপির সরকার গঠন। এই অর্থ কি ঐ বিরোধী বিধায়কদের কিনতে ব্যবহৃত হবে?
বিবিধ কোন ক্ষেত্রে এই তহবিল অর্থ যোগান দেবে? তারই বা যোগ্যতা মান কি?
3. ইকির মিকির চাম চিকির, ট্রাস্টি বোর্ড গঠন শেষ। সবই সেই রসুনের কোয়া, যার উৎস মুখ একটিই।
4. আচ্ছে দিনের গণতন্ত্রে ৩ জন মিলে সিদ্ধান্ত নেবে কে কি পাবে না পাবে, সেই ‘ব্যানানা রিপাবলিকে’র মতই- আমাদের দেশজ সংস্করণ ‘কাউ রিপাবলিক’ চলছে। এখন সামাজিক কর্ম, সমাজসেবার ক্ষেত্র গুলোর কোনো পরিসীমা নির্ধারিত নেই, তাই এগুলোর সঠিক সংজ্ঞা বা ব্যাখ্যা কি! ভক্তদের ইশকুল RSS ও তো নিজেদের সমাজসেবী সংস্থাই বলে, তাহলে তাদের জন্যই কি এই সাহায্যের অবতারণা?
5. যে কোনো কাউকে নিয়োগ করতে পারে ট্রাস্টি, এই ‘যে কেউ’ কাদের মধ্যে থেকে হবে? ‘যে কেউ’ হবার যোগ্যোতামান কি? IT Cell এর ভাইটিও কি এই এ কেউ এর মধ্যে আসতে পারে? তাদেরও তো নিয়মিত বেতন হয়না, সাংসারিক স্বাস্থ্য ভীষণ খারাপ।
6. সরকারী কোষাগার থেকে চার পয়সাও আসবেনা এই তহবিলে, মানে বাকিরা কেউ কিছুই জানতে পাববেনা তথা তাদের জানার এক্তিয়ার থাকবেনা যে এই ঘুঘুর বাসায় আসলে কটা ডিম বাকি রয়েছে ও যতগুলো থাকার কথা সেগুলো কোথায় গেছে।
7. যে সকল বাক্তি বা কোম্পানি জাতীয় সম্পদের তহবিলে কর হিসাবে টাকাটা জমা করত, তাদের এই কর ছারের সুবিধা দিতেই- তারা অনেকেই ‘এই সুবিধা’ নিতে ঘুঘুর বাসায় গিয়ে ডিম দেবে। এ প্রসঙ্গে একটা কথা- যারা বা যে কোম্পানিগুলো কোটি কোটি টাকা দান করছেন বা করেছিলেন সরকারী দান তহবিলে, সকলেই সেই টাকার করছারের সুবিধা নিয়ে নিয়েছে। এই দানের টাকার বেশ অনেকটা অংশ তাকে এমনিতেই দিতে হত ট্যাক্স হিসাবে, এখানে দানকারী ‘দানীর’ সার্টিফিকেট পেয়ে গেলেন বা গেছেন রাষ্ট্রের কাছে। কি নিষ্পাপ সিস্টেম। করের টাকা ঘুরিয়ে দান হিসাবে রাষ্ট্রকে কিছু দিলে তিনি শুধু সতীই নন- মহৎ দানবীরও বটে। এ এক আজব খুড়োর কল।
8. বিদেশ থেকে ফান্ডিং নিতে পারবে, ডলারে বা দিনারে কামাই হবে; যেটা অর্নব গোস্বামী গবেষণার বিষয়- ওগুলো ইতালি থেকে আসবে না হনুলুলু থেকে। যদিও ওই ‘ইকির মিকির’ এর ৩ জন ট্রাষ্টি ছাড়া কেউ জানবেনা কোত্থেকে কি এলো আর কত এলো।
9. ‘কেন তোমাকে দেব’, এটা প্রমানের জন্য সেই নেহেরু আমলের লেগাসির সাথে এই তহবিলকে সমান ও সামঞ্জস্যপূর্ণ দেখানো হয়েছে সম্মানের দিক থেকে। এরা ঘুরিয়ে স্বীকার করে নিল, নিজেদের উচ্চতা মাপার একমাত্র পরিমাপক যন্ত্র হল নেহেরু বা মনমোহন আমল। নেহেরু বা মনমোহন ছাড়া এদের মূল্য গণনার হিসাবেও আসেনা এতই অপদার্থ নিকৃষ্ট।
এবার আপনি আমাকে বলুন, এমন একটা খুড়োর কলকে কোন গাড়ল CAG এর অডিটের সামনে নিয়ে যাবে? যদি অডিটই করাবার হত, তাহলে তো ট্রাস্টিতে ‘যৌথ সংসদীয় কমিটি’ থাকত। আপনি কি ‘ভক্তদের আধারকে’ও ভক্তদের মত ‘হাঁটুতে বুদ্ধি’ ভাবেন! ঘাপলার উদ্দেশ্য নিয়েই তো এই ঘুঘুর বাসা বানানো হয়েছে।
অবশ্য নামেই তো বলা রয়েছে, এই তহবিল প্রধানমন্ত্রীর যত্নসমুহের জন্য। রিটায়ার্ড পরবর্তী- বেচারির সিকিউরিটি বিদেশভ্রমন সহ বাকি জিনিস গুলো কীভেব হবে শুনি! প্রসূন যোশীকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেখেননি বেচারা প্রধানসেবক আসলে একজন ‘ফকির’, যে ফকিরি ধীরে ধীরে ওনার মধ্যে বেড়েই চলেছে। এটা তো সেই ফকিরেরই ঝোলা ভরার আমন্ত্রণ।
মিছিমিছি এই লেখাজোখা করলাম,
বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২০
গণতন্ত্র মিথ ও আগামীর পৃথিবীঃ ৩
তৃতীয় পর্ব
iv) গনভোট বা প্রবর্তনা জাতীয় মৌলিক বিষয়গুলি কখনই প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রে আলচোনার জন্য উন্মুক্ত তথা উত্থাপিত হবেনা; এগুলো ধ্রুবক, যা ভোটাধিকার দ্বারা কখনও সংশোধন করা যাবেনা। এগুলো সংবিধানের সেই মৌলিক আইন যা অন্যান্য সাধারণ আইনের চেয়ে উচ্চতর ও নির্বাচিত সংসদদের এক্তিয়ারের বহির্ভুত।
v) ভোটদান প্রক্রিয়াকে নিরপেক্ষ, নির্ভেজাল, বিশ্বাসযোগ্য এবং কর্যকরী রাখতে হবে। নাগরিককে এই সংক্রান্ত যাবতীয় সত্যতা ও বৈধতা সংক্রান্ত প্রশ্ন করার সুযোগ দিতে হবে।
vi) ভোট দ্বারা নির্বাচিত সরকার কতদিনের জন্য ক্ষমতাতে থাকবে সে বিষয়ে জনগণকে সুস্পষ্ট ভাবে নির্দেশনা দিয়ে রাখবে ভোটের আগেই, এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে কোনো ভাবেই তারা আর ক্ষমতাতে থাকতে পারবেনা, পুনরায় ভোটের মাধ্যমে জনগণের কাছে ফিরে যেতেই হয়। প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের জনগণ নির্বাচিত সরকারের যে কোনো নীতিকে জনবিরোধী মনে করলে সরকার ভেঙে দিয়ে নতুন করে ভোটের প্রস্তাবনা করতে পারে।
vii) প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রে সংখ্যাগরিষ্টদের স্বৈরাচারী মানসিকতা থেকে সার্বভৌম রাষ্ট্র ও তার নাগরিককে সুরক্ষিত রাখে। মানবাধিকার ও সংখ্যালঘুদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখার জন্য প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের বিকল্প নেই; আর এই সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে হলে ভোট প্রক্রিয়ার আগে রাজনৈতিক দলগুলির মাঝে জনহিত পরিকল্পনায় যে মৌলিক বিরোধ গুলি রয়েছে, সেগুলি সম্বন্ধে স্পষ্ট ঘোষণা দিতে হয়।
viii) ভোটপরবর্তী সরকার গঠন হতে পরবর্তী ভোটের আগে পর্যন্ত সরকার তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে, বিরুদ্ধ মতাদর্শী জনগণকে হানি না পৌঁছিয়ে। বৈধ যুক্তির অধিকারী জনগণকে- সরকারকে প্রত্যাখ্যানের ক্ষমতায়ন বিষয়ে সুনিশ্চিত করতে হয় ও একে দ্বন্দ্বযুক্ত মৌলিক অধিকারের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে হয়। এর মাধ্যমেই পূর্ব উল্লেখিত মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত হয়।
ix) রাষ্ট্রের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে যেকোনো প্রস্তাবনার সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতাধারী হয়- নির্বাচিত সংসদদের দ্বারা গঠিত কোনো কমিটি, কখনই ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল নয়। সেই কমিটি গুলোর আইনি বৈধতা থাকে রাষ্ট্র স্বীকৃত, যা সর্বোতোভাবে রাজনৈতিক স্বার্থ ও পরিচয়ের উর্ধ্বে থাকবে। কিন্তু পররাষ্ট্র বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সমস্ত জনগণের প্রতিনিধি স্বরূপ সকল রাজনৈতিক দলের শীর্ষ স্থানীয় প্রতিনিধিদের দ্বারা আপদকালীন কমিটি গঠিন করতে হয়।
সমস্ত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও গণতন্ত্র বিষয়ক পণ্ডিত, বিশেষজ্ঞ এবং রাজনীতিবিদের একটা অংশ গণভোটের আজকের প্রক্রিয়াকে পক্ষপাতদুষ্ট হিসাবে ব্যাক্ত করেছেন। আবার আরেকটা দল মনে করেন, রাষ্ট্রের মৌলিক সিদ্ধান্তগুলি জনগণের হাতে ছেড়ে দেওয়া আসলে জনগণের পক্ষেই ঝুঁকিপূর্ণ, যা গণতন্ত্রের পক্ষে বিপদজনক। কারন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা গুলো আসলে আমলাতন্ত্র এবং সরকারের মুল নীতিনির্ধারক গোষ্ঠীগুলিতে কেন্দ্রীভূত থেকে যায় ‘প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রে’, রাষ্ট্রের যারা আসল কর্তৃপক্ষ- সেই জনগণের হাতে কখনই প্রকৃত ক্ষমতার হস্তান্তর করেনা বা করার উত্সাহও দেয়না, যেটা রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও শান্তিশৃঙ্খলাতে হরেক সময়ে বিপর্যয়কর পরিণতি ঘটায়। প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের আদর্শ উদাহরন হল- সুইজারল্যান্ড।
আমার বিচারে, প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রই একমাত্র সর্বরোগহরা পন্থা নয়, তাই একে ত্রুটিমুক্ত হিসাবে দেখা উচিৎ নয়। তারমানে এই নয় যে জনগণ তার সহজাত সমালোচনার বিষয়বস্তু হিসাবে সরকারকেই বেছে নেবে, বরং সার্বভৌমত্ব বিষয়ে জনগণকে সুস্পষ্টভাবে শিক্ষিত করে তুলে তাকে জানাতে হবে, সার্বভৌমত্ব বিষয়টি আসলে কি! জনগণ, রাষ্ট্র, রাজনৈতিক দল, প্রশাসন যন্ত্র না সরকার- কে এই সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে বা কোথায় কীভাবে এটা অবস্থান করে সে বিষয়েও জনগণকে প্রত্যয়িত করতে পারলে তবে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের লাভ পাওয়া সম্ভব।
প্রশ্ন করা মানুষের সহজাত চরিত্র, কিন্তু ক্ষমতার সামনে তা সকলসময় বিকশিত হয়না; রাষ্ট্রের উচিৎ জনগণকে প্রশ্ন করার বিষয়ে নিয়মিত অনুশীলন করিয়ে তাকে অভ্যস্ত করে তোলা। কারন সুস্থ ও শক্তিশালী গণতন্ত্রে জনগণের প্রশ্নই নির্বাচিত সরকারকে সঠিক দিশা প্রথপ্রদর্শন করে। নিয়মিত পর্যালোচনার মাধ্যমে জনগণকে তার মৌলিক অধিকার ও ক্ষমতা বিষয়ে অবগত করতে হবে। জনগণ যে শুধুই ভোটদেওয়ার রোবট নয় সবার আগে এই ধারণা দূর করতে হবে। নতুবা কোনো গনতন্ত্রই রক্ষিত হবেনা, আর দীর্ঘকাল জনগণকে উপেক্ষা করতে থাকলে রাষ্ট্র তার সার্বভৌমত্বের পরিচয় রক্ষা করতে পারবে না।
খুব সামান্য পরিসরে ‘প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র’ সম্বন্ধে একটা প্রাথমিক ধারণা দিতে প্রচেষ্টা করলাম। এবারে আমরা গণতন্ত্রের অন্য ধরনটা বিষয়ে আলোচনা করব।
দ্বিতীয় পন্থাটা হচ্ছে ‘প্রতিনিধিত্ব মূলক গণতন্ত্র’, নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে এখানে জনগণের তরফে কিছু প্রতিনিধিরা রাষ্ট্র পরিচালনা বিষয়ক সিদ্ধান্ত নেয়। এসকল দেশের রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত হন প্রতিটি অঙ্গ রাজ্যের জেলাগুলি থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধি বা ইলেক্টোরাল দ্বারা। এই ইলেক্টোরালদের নির্বাচিত করে সরাসরি সাধারণ জনগণ, অনেকটা আমাদের মত করেই, তবে সবটা নয়। এদের সংসদেরও দুটো কক্ষ থাকে, একটা নির্বাচিত প্রতিনিধি অপরটি মনোনীত। এক্ষেত্রে কোনো একটি রাজ্যের জেলাগুলি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কোনো প্রার্থী ৫১% ইলেক্টোরাল ভোট পেলে- ধরে নেওয়া হয় যে তিনি ১০০% ইলেক্টোরাল জনমত পেয়েছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই ধরনের গণতন্ত্র বিদ্যমান। প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের কাঠামোটির জনগণ নির্দিষ্ট নির্বাচিত আধিকারিককে ভোট দেয়, যারা সরকারের ভিতরে তাদের প্রয়োজনীয়তা উপস্থাপন করেন। প্রতিটি সমস্যার ক্ষেত্রে এই প্রতিনিধিরা তাদের রাজ্যের পক্ষে ভোট দিতে সক্ষম হন। যদিও এই ‘প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রে’ জনগণও তাদের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সরাসরি ভোট দেয়, কিন্তু সেই ভোটের কোনো গ্রহনযোগ্যোতা নেই তাদের সাংবিধানে। যেমন আমেরিকার জর্জ বুশ কম ‘পাবলিক ভোট’ পেয়েছিল প্রতিদ্বন্দী আল গোরের থেকে; আবার তাদের শেষ নির্বাচনে হিলারি ক্লন্টন জনগণের ভোটে সর্বোচ্চ ভোট পেলেও, ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ইলেক্টোরাল ভোটে এগিয়ে থাকায় তিনিই রাষ্ট্রপ্রধান হিসাবে মনোনীত হয়েছিলেন।
প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের কতগুলো ধ্বনাত্বক দিক রয়েছে-
<<<<<<<<<<<<<<<>>>>>>>>>>>>>>
a) এই ধরনের রাষ্ট্রব্যবস্থায় আইন ও সংবিধানের প্রয়োগতম দিক অনেক বেশি সফল। যে কোনো প্রস্তাব, তার খসড়া, ও সিদ্ধান্তের প্রয়োগতম দিক দিয়ে এই ধরনের সংসদ ব্যবস্থা অত্যন্ত দক্ষ হয়ে থাকে।
b) এক্ষেত্রে কোনো ইশ্যুভিত্তিক ভোট হয়না, ইলেক্টোরালরা নির্বাচিত হয় রাজনৈতিক দলের নীতি ও ব্যাক্তির গুণের উপরে।
c) দ্বিদলীয় বা বহুদলীয় ‘প্রতিনিধিত্বমূলক’ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে একটি দল কখনই ক্ষমতাসীন দলের চেয়ে বেশি শক্তি অর্জন করে সরকার ফেলে দিতে পারেনা।
d) সমানুপাতিক সিদ্ধান্তগ্রহনের ক্ষেত্রে এই জাতীয় গণতন্ত্র বেশি কুশলী।
e) এই গণতন্ত্রে জনগণ যোগ্য কর্মকর্তা বেছে নেয়, যে কর্মকর্তারা রাষ্ট্র যন্ত্রের চালকদের বেছে নেয়।
f) এই ধরনের গণতন্ত্রে যেকোনো সিদ্ধন্তগত সমস্যার সমাধান অতি দ্রুত ও তাৎক্ষণিক ভাবে মিটিয়ে ফেলা সম্ভব।
g) নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে যেকোনো সময়, সমবেত জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ সিদ্ধান্তে দ্বারা বদলে ফেলার সুযোগ থাকে, এমনকি সেই প্রতিনিধিকে অপসারণের জন্যও ভোট দানের সুযোগ থাকে।
h) জনগণকে প্রতিনিয়ত ভোটদানের মত একটা অস্বস্তি থেকে মুক্ত রাখে।
ঋণাত্বক দিক গুলো হল-
a) জনগণ যাদের নির্বাচন করে তাদের জবাবদিহি করতে হয়না, আরা জবাবদিহি করতে বাধ্য তাদের সাথে জনগণের প্রতক্ষ্য সংযোগ থাকেনা কারন তারা প্রতিনিধিদের ভোটে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতাসীন হয়েছে।
b) এই ধরনের গণতন্ত্র জনগণের ভাবনাকে অনেকাংশে প্রতিহত করে, কারন এই ইলেক্টোরালদের সংঘবদ্ধ হবার কোনো স্থান নেই। এক্ষেত্রে একবার ভোটপ্রক্রিয়া শেষ হয়ে গেলে সরকার ও জনগণের সাথে আর প্রতক্ষ্য কোনো সম্পর্ক থাকেনা। সরকারের ভালমন্দ নিয়ে নিজেদের মত জাহির একমাত্র জাইগা আগামী নির্বাচন।
c) নির্বাচিত ইলেক্টোরালরাও সকলে সমান গুরুত্ব পায়না। “winner-take-all” আইনের বলে, বিরোধী দলের কোনো ভূমিকাই থাকেনা ইলেক্টোরাল বোর্ডে।
d) গোটা সিস্টেমটা ক্ষমতাসীনদের পক্ষ নিয়ে থাকে, ফলস্বরূপ বিরুদ্ধ মতযুক্ত জনগণের কন্ঠরোধ হয়।
e) রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন সহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহনের বিষয়ে প্রতারণার সুযোগ বহুলাংশে বেড়ে যায়, কারন একটা অঞ্চলের সমস্ত জনগণকে বিভ্রান্ত বা উৎকোচ দিয়ে দলে টানার চেয়ে একজন প্রতিনিধিকে ফুসলিয়ে নিজেদের পক্ষে টানা অনেক সহজ। এক্ষেত্রে একক সিদ্ধান্ত গ্রহনের সুযোগ অনেক বেড়ে যায়।
f) সংসদের উচ্চকক্ষ, নিন্মকক্ষ, ইলেক্টোরাল কলেজ, ও স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রতিনিধিরা সমান সময় পায়না। কেউ ২ বছর, কেউ ৪ বছর, কেউবা দশ বছর।
g) বিভিন্ন “লবি” গুলো এখানে খুল্লামখুল্লা তাদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য তদ্বির করতে পারে।
...ক্রমশ
মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২০
সরকারকে কেন অনুদান দেবেন?
দৃশ্য ১- ধরুন, আপনারা আমাকে একটা চাকরি দিয়েছেন। আপনাদের নিজ রোজগার থেকে আমাকে কিছু কিছু দেন যাতে আমি ও আমার দলবল আপনাদের সকলকে সু-পরিষেবা দিই। এখন সেই টাকা নিয়ে আমি বেড়াতে যাচ্ছি, বাপের স্ট্যাচু বানাচ্ছি, উৎসব ফুর্তি করছি, আমার চামচাদের মাঝে বিলিবন্টন করছি ইত্যাদি। এসব দেখেশুনে আপনারা অধিকাংশ লোক আমাকে মানা করেছেন পইপই করে, যে- “ওরে তুই ওই সব উল্টাপাল্টা খর্চা করিসনা, বিপদে পরবি” ইত্যাদি। সেদিন আপনাদের সকলকে ভাগ ‘চারঅক্ষরের বোকা’ বলে নাকের সিকনির মত ছুড়ে ফেলেছিলাম ধুলোতে।
দৃশ্য ২- আমি ভীষণ অসুস্থ, বাইরে বের হবার শক্তি নেই। টাকা নেই- খাবার নেই, পরিবেষা দেওয়ার মুরোদ নেই যার জন্য আপনারা আমাকে চাকরিতে বহাল করেছিলেন। এখন আমি আবার আমি কাতরভাবে চাইছি- ‘বাবু কিছু দান করুন, আপনার ভাল হবে’।
প্রশ্নঃ দেবেন আপনি?
সুতরাং, কেন আমার রোজগারের অর্থ সরকারকে অনুদান দেব?
সরকারের কাজ ট্যাক্স সংগ্রহ করে জনগণকে উন্নততম পরিসেবা দেওয়া। প্রতিটি সংসারেই কিছু উদ্বৃত্ত সম্পদ বা অর্থ, দুর্দিনের জন্য গচ্ছিত রাখা থাকে, সরকারও একটা বড় সংসার বই অন্য কিছু নয়। কিন্তু আমাদের কেন্দ্র সরকার হোক বা রাজ্যসরকার, আজকের দিনে হোক বা বিগত ইতিহাসে- “সরকারী মাল, দরিয়াতে ঢাল” হিসাবে যা ইচ্ছা তাই করেছে।
• সরকার আমাদের অর্থ দিয়ে কী করেছে? স্ট্যাচু বানিয়েছে। সেটা মায়াবতীর আমলে হাতি বা নিজের ঢাউস মুর্তিই হোক বা আজকের ‘শিবাজীর’ মুর্তি, ‘স্ট্যচু অফ ইউনিটি’, প্রস্তাবিত রামের মুর্তি সহ এমন অনেক প্রোজেক্ট।
• সরকার কি করেছে? প্রাধান সেবকের ঘনিষ্ট কিছু দুষ্কৃতি ব্যবসায়ীর ছদ্মবেশে দেশের সম্পদ লুঠ করেছে। লুঠেরাদের লুণ্ঠিত সম্পদের খতিয়ান খাতা থেকে মুছে দিয়েছে সরকার। জনগণের করের টাকা দিয়ে ঋণখেলাপিদের ভর্তুকি দিয়েছে সমপরিমাণে।
• সরকার কি করেছে? বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লে বাড়িয়েছে, কমলে ‘হা হতোস্মি’। এখন ২৫ টাকার পেট্রোল ৭৫ টাকায় কিনতে বাধ্য করছে সরকার।
• সরকার কি করেছে? রাম মন্দির বানাচ্ছে, কুম্ভমেলার জন্য বিপুল অর্থ বরাদ্দ করেছে, হজ্বের জন্য আর্থিক ভর্তুকি দিয়ে এসেছে, দিল্লি সরকার আবার তীর্থে নিয়ে গিয়েছে। রাষ্ট্রের তো ধর্মীয় পরিচয় নেই, তাহলে ব্যাক্তির ব্যাক্তিগত বিশ্বাসের ক্ষেত্রে সরকার কেন অফেরৎযোগ্য লগ্নি করবে? তাও সরকার এটাই করেছে।
• সরকার কি করেছে? কখনও পাকিস্তান, কখনও চীন বা কখনও অন্য কিছুর জুজু দেখিয়েছে। কোটি কোটি টাকা দিয়ে যুদ্ধান্ত্র কিনেছে, যেখানে কফিন কেলেঙ্কারি, বোফর্স কেলেঙ্কারি থেকে আধুনা রাফাল কেলেঙ্কারি ও করোনা কিট কেলেঙ্কারি ঘটিয়েছে। চোরছ্যাঁচড় নিকৃষ্ট ''নেতা আমলারা সরকারের টাকা আত্মসাৎ করেছে।
• সরকার কি করেছে? কয়লা কেলেঙ্কারি, টু’জি কেলেঙ্কারি, ব্যাপম কেলেঙ্কারি, সারদা কেলেঙ্কারি, নারদা কেলেঙ্কারি, নোটবন্দি কেলেঙ্কারি, ইলেকট্রোরাল বন্ড কেলেঙ্কারি, খনি কেলেঙ্কারি, পশুখাদ্য কেলেঙ্কারি, বাঙ্কর্যাপ্ট কেলেঙ্কারির মত অজস্র অপরাধকে ধামাচাপা দিয়ে রেখেছে সরকারী অর্থ ব্যায়ে।
• সরকার কি করেছে? শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোকে কব্জায় করতে অশান্তি করেছে রাজনৈতিক দলদাসেরা, প্রশাসন-সরকার অন্ধ নির্বিকার থেকেছে দোষীদের শাস্তি দিতে।
• সরকার কি করেছে? আইন ব্যবস্থাকে কাঠের পুতুল বানিয়েছে, মিডিয়াকে দলদাস বানিয়েছে।
• সরকার কি করেছে? জনপ্রতিনিধিদের অনৈতিক বিপুল সুযোগসুবিধা দিয়েছে ব্রিটিস লেগাসি মেনে, তাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিয়েছে। সারা জীবনের পেনশনের ব্যবস্থা দিয়েছে। আপনি সেই তেলিই রয়ে গেছেন।
• সরকার কি করেছে? পয়সা দিয়ে ওয়াইসি বা মেহবুবা মুফতিদের পেলেছে। দাঙ্গাবাজ কপিল মিশ্র, ইদ্রিস আলীদের সুরক্ষা দিয়েছে। অর্ণব গোস্বামী, সুধীর চৌধুরী, সম্বিৎ পাত্র, ঘন্টাখানেক সুমন, দেব নারায়নেদের, শাঁওলি-অপর্ণাদের মত উমেদার চামচা পালন করেছে।
• সরকার কি করেছে? ‘মন কি বাত’ শুনিয়েছে। ‘কড়ি নিন্দা’ করেছে, ‘ক্রনোলজি’ বুঝিয়েছে, ‘গুন্ডা কন্ট্রোল’ করেছে, ‘উন্নয়নকে’ রাস্তায় দাঁড় করিয়েছে, ‘সব্জি বাজারে গণ্ডি’ কেটেছে, ‘থালা বাজাতে’ বলেছে, ‘হিন্দু-মুসলমান’ চিনিয়েছে, একজন করে ভীষণ ‘অপমানবোধ সম্পন্ন’ রাজ্যপাল পাঠিয়েছে।
• সরকার কি করেছে? প্রধানমন্ত্রীকে গোটা বিশ্বভ্রমন করিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীকেও গোটা বিশ্ব না হলেও বহু স্থানেই ঘুরে নিয়েছেন সরকারী অর্থে, যার কোনো সুফল দেশ বা রাজ্য পায়নি।।
• সরকার কি করেছে? প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীদের আগামীর চেয়ার সুরক্ষিত করার জন্য- সরকারী প্রচারের বাহানাতে নিজেদের মুখের বিজ্ঞাপন দিয়েছে।
• সরকার কি করেছে? নমস্তে ট্রাম্প থেকে রাজ্যের শিল্প সম্মেলনের নামে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকার শ্রাদ্ধ করেছে।
• সরকার কি করেছে? আমাদের দেশত্ববোধক ভক্তিকে কাজে লাগিয়ে তারা ভোটের প্রচার করেছে, সাম্প্রদায়িকতার তাস খেলে নিজেদের আখের গুছিয়েছে। কখনও সেনার নামে কখনও দেশমাতার নামে।
• সরকার কি করেছে? লুটিয়েন দিল্লি বানিয়েছিল, এখন সেন্ট্রাল ভিস্তার নামে কোটি কোটি টাকার নয়ছয় শুরু করেছে। বুলেট ট্রেনের নামে কোটি কোটির প্রোজেক্ট বানিয়ে সেগুলোকে বাতিল কাগজের ঝুড়িতে ফেলেছে।
• সরকার কি করেছে? উৎসব, মেলা, খেলা, সরকারি কমিটির প্রধান, ইমামভাতা, ক্লাবের নামে সরকারী সম্পদ দেদার বিলিয়েছে।
• সরকার কি করেছে? নির্বোধ ভাঁড়কে বুদ্ধিজীবী বানিয়ে পুষেছে।
• সরকার কি করেছে? ‘আইনকে আইনের পথে’ নির্বিকার ও বিচারহীনভাবে শত শত বছর ধরে চরকি পাকে চলার জন্য পথ বানিয়েছে।
• সরকার কি করেছে? কেউ বিপরীত মত বললেই তাকে রাষ্ট্রের শত্রু বানিয়ে গারদে ভরেছে।
• সরকার কি করেছে? ক্ষমতাসীন দল যেন আজীবন ক্ষমতায় থাকে সেই প্রচেষ্টা করেছে।
এভাবে লিখতে থাকলে তালিকা চিত্রগুপ্তের ফর্দ হয়ে যাবে।
যেগুলো করার ছিল সেগুলো করেনি, বা করলেও তার শম্বুক গতি। আর কি কি করেছে তার একটা ছোট্ট তালিকা তো উপরে দিলাম।
এসবের পর অতি নির্লজ্জ না হলে, কেউ আবার কীকরে সাহায্য বা অনুদান চাইতে পারে?
উপরোক্ত সবেতেই বিপুল পরিমাণে ‘সরকারী অর্থ খরচা’ হয়, যার অধিকাংশ বরাদ্দই সাইফন হয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছেই ফিরে আসে। তখন তারা-
*নির্বাচনী প্রচারে দেদার খরচা করে ভোট কেনে।
*ফাইভস্টার পার্টি অফিস বানায়।
*সরকার গঠনে MLA/MP কেনাবেচা করে।
*ভোটের সংঘর্ষের জন্য বোমা বারুদ মস্তান কেনে।
*বিরোধী রাজনৈতিক দলকে শায়েস্তা করতে এই ‘টাকা লিঙ্গ’ দিয়ে গণতন্ত্রকে ধর্ষণ করে।
*নেতারা বৌ-ছেলের নামে বড় বড় কোম্পানি কেনে, বাড়ি কেনে, গাড়ি কেনে,
*সুইস ব্যাঙ্কে একাউন্ট খোলে, বিদেশ ভ্রমণে যায়।
*উদ্ধত নেতার বিদেশী বৌ এয়ারপোর্টে সোনা পাচার করতে গিয়ে ধরাও পরে।
রাজনৈতিক দলগুলো কি দিয়েছে জানেন- কিছু উন্মাদ দিয়েছে।
এত সব কিছু বললাম- ‘সরকার কি দিয়েছে’, কিন্তু সরকার কি দেয়নি জানেন? শিক্ষিত, প্রাজ্ঞ, ভবিষ্যৎ দ্রষ্টা জনদরদি নেতা আমাদের দিইনি সরকার। সরকার ক্ষমতাসীনেদের হয়, আর ক্ষমতার কাছে সকলকিছুই পদানত, যদু গেলে মধু আসে- রাষ্ট্রের সার্বভৌম জনগণ সেই ‘চারঅক্ষরের বোকা’ হয়েই রয়ে যায়।
ভেবে দেখুন তো- না পাড়ার নেতা, না পঞ্চায়েত-পুরসভায়, না রাজ্যস্তরে, না কেন্দ্রীয় স্তরে, না রাষ্ট্র নেতা- না বিরোধী দলনেতা। এমন কোন একজন কি আছে, যাকে এই মুহুর্তে পাতে দেওয়ার যোগ্য!
সরকারকে দান দেবেননা সে কথা বলার এক্তিয়ার আমার নেই, দেশদ্রোহী তকমা জুটে যেতে পারে। তার পরেও বলব- দান যদি করতেই হয়, আপনার প্রতিবেশীটিকে করুন যিনি দৃশ্যতই সহায়হীন, গরীব আত্মীয়কে করুন। কারন চুরিচামারির পর রাষ্ট্রীয় ত্রানের যেটুকু পাব্লিকের কাছে পৌছায় তাতে গলাও ভেজেনা।
অনুদান দিন বেসরকারী গোষ্ঠী গুলোকে যারা রেজিস্টার সংস্থা, কিম্বা রেজিস্টার্ড না হলেও যারা বাজারে সৎ হিসাবে নিজেদের প্রমান করেছেন।
দান করুন গুরুদ্বারে লঙ্গরখানায়, মন্দিরের ভোগ বাবদ, মাদ্রাসার খাদ্য খাতে- এখানে কোনো আম্বানি, বিল গেটস বা সৌদির যুবরাজ খেতে আসেনা। সঙ্কটের সময়ে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে আপনার দান দিন উজার করে যতটা আপনার সামর্থ্য।
তাদের দিন যারা কমিউনিটি কিচেন চালাচ্ছে। পাড়ার ‘আমরা কজন যুবক সঙ্ঘ’ কে দান দিন, তারা চুরি করবেনা, বিদেশে পাচার করবেনা, মুর্তি বানাবেনা, বোমা কিনবেনা।
দান করুন, দানই হল মানুষের মহত্তম গুণ; তবে অপাত্রে নয়।
সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২০
করোনোত্তর পৃথিবীঃ যুদ্ধাশঙ্কা
আমেরিকা, রাশিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন, দক্ষিন কোরিয়া, চীন, ইংল্যান্ড, ইজরায়েল ও ইতালি।
কী, করোনার তালিকার কথা ভাবছে! ঠিক তাই, কিন্তু এই তালিকার বাইরেও আরেকটা তালিকা রয়েছে, যেখানে এই পর্যয়ক্রমেই এই দেশ কটিই বিরাজমান।
কথায় আছে ভাগ্যের বোঝা ভগবানে বয়। আপনি আব্রাহামীয় বা প্যাগান তথা সনাতনী যে ধর্মেরই হোন- আপনার নির্দিষ্ট ভগবান আছে; নাস্তিকদেরও ভগবান আছে- আস্তিকেরা। কারণ নাস্তিকেরা আস্তিকদেরই জপেন দিবানিশি। সে যাই হোক, প্রশ্নটা ভগবান নিয়ে, আস্তিক বা নাস্তিক নিয়ে নয়। ঘটনা হলো ভগবান দেশ শাসন করেনা, করে মানুষ। কেউ ভগবানদের দোহায় দিয়ে তো কেউ গণতন্ত্রের দোহায় দিয়ে, বাকি মুষ্টিমেয় লেজেন্ডরা 'এলিট-বুড়ো' দিয়ে।
ভগবান থাকার একটা মস্ত সুবিধা আছে, বোঝা’র সব দায় সব তার; অপরদিকে এলিট-বুড়োরা ভুল করেন না, তাই বোঝাও নেই, সুতরাং দায়ের প্রশ্নও দেই সেসব দেশে। বাকি রইল গণতন্ত্রী দেশগুলো! এখানে জনগণই ভগবান, সুতরাং স্বরলিপির তৃতীয় ও পঞ্চম সুরের মিলন ঘটিয়ে- সব দায় আমাদের; আমরা জনগণ। আইনানুসারে সব বোঝা আমাদের, দায়ও। বাকিরা ভক্ত ও প্রশাসন, এবং আইন আইনের পথেই চলে।
কিছুদিন আগে আমি একটা পোস্ট করেছিলাম, যুদ্ধবাজ অস্ত্র বিক্রেতা ও শীর্ষ করোনা আক্রান্ত দেশগুলি। বেশ গুছিয়ে গালিমন্দ খেয়েছিলাম। হ্যাঁ, হতেই পারে গোটা বিষয়টাই কাকতালীয়, ইরানের মতো এক আধজন বাদ দিলে ‘এক থেকে দশ’ নম্বরের দিকে চেয়ে দেখুন- দেখবেন করোনা তালিকায় উজ্জ্বল প্রতিটা দেশই অস্ত্র রপ্তানিতেও বিশ্বের শীর্ষস্থানীয়। একবার স্মরণ করিয়ে দিই, আমেরিকা, রাশিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন, দক্ষিন কোরিয়া, চীন, ইংল্যান্ড, ইজরায়েল ও ইতালি।
2018 সালের এক sipri এর প্রতিবেদনে(1) অনুযায়ী- বর্তমানে অস্ত্রের বাজার হচ্ছে ৪২০ বিলিয়ন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় অঙ্কতে- বত্রিশ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার কোটি টাকারও বেশি। শূণ্য গুণে শেষ করা যাচ্ছিল না, যা অঙ্ক। এটা টাকা আমাদের এই ১৩৮ কোটি জনসংখ্যার দেশের ২০২০ সালের মোট বাৎসরিক বাজেটের(2) সমান। আল’জাজিরার(3) একটা প্রতিবেদনের হিসাবে এই বাজার বিগত ১০ বছরে বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই বিপুল টাকা কাদের পকেটে যায় ভেবে দেখেছেন কখনও? এতটুকুও আশ্চর্য না করে বলি- অস্ত্র রপ্তানি কারক প্রথম ৪টি কোম্পানিই আমেরিকার যথাক্রমে, ‘লকহেড মার্টিন’, ‘বোয়িং’, ‘রেদিওন’, ‘নরথর্প গ্রুম্ম্যান’। একটি ব্রিটিশ কোম্পানি, ‘BAE Systems’, ষষ্ঠটি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ‘এয়ারবাস’; একচেটিয়া বাজার তাতে সন্দেহ নেই। এদের ভাগযোগটাও দেখে নিন এই ঠিকানাতে(4) ঘুরে এসে, দেখুন এই লুটের বখরা কে কত পায়। মোদ্দা এই দেশগুলর রাষ্ট্রীয় সংসারের একটা বড় আয়ের উৎসই হচ্ছে এই অস্ত্র বিক্রি। প্রতিটি দেশকে চমকে ধমকে অস্ত্র কিনতে বাধ্য করে হয় মিত্র পক্ষ সেজে, না হলেই ইরাক, লিবিয়া বা সিরিয়া করে ছেড়ে দেবে।
এটা তো গেল শুকনো তথ্যের ক্লিশে খটখটানি। বলবেন, নতুন কী এর আছে এতে! আছে দাদা আছে, সেটাই তো আমাদের বিষয়।
এখানে বলে রাখি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ‘যুদ্ধের বাজার’ এশিয়াতে স্থানান্তরিত হয়েছে, অল্প কিছুটা আফ্রিকা ও বাকি সামান্য লাতিন আমেরিকাতে।
বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি মোটামুটি গোটা বিশ্বকেই গৃহবন্দী করে দিয়েছে। বাইরে যাওয়াই শুধু বন্ধ নেই, বরং সব্জি-মুদি-ওষুধ ছাড়া প্রায় সকল রোজগারই বন্ধ; সকলেই আমরা ঘরে বসে খাচ্ছি। কেউ সঞ্চিত অর্থ ভেঙে, কেউ ঋণ করে, আবার কেউবা সরকারের দয়াদাক্ষিণ্যে। আপনি বলবেন চাকুরিজীবি! উনারা মোট জনসংখ্যার দেড়জন মাত্র, বাকি সাড়ে ৯৮ জনের কথা বলছি, তেমনভাবে দেখলে সরকারী কর্মচারিরাও সরকার পোষিত।
ঠিক কতদিন লকডাউন থাকবে আমরা কেউ জানি না, খুব দ্রুত বিশ্ববাসী মুক্তি পাবে করোনার ত্রাস থেকে সে আশাও নেই। তারপর? মানুষ খাবে কী! রাতারাতি তো সকলে কাজ ফিরে পাবে না, সঞ্চিত পুঁজি ফুরাবে, ঋণের দরজা বন্ধ হবে। সরকারও কোনো কল্পতরু নয় যে অনন্তকাল বসে খাওয়াবে জনগণকে, সে সমর্থ কোনো দেশের সরকারেরই নেই। অতএব, কৃচ্ছসাধন অনিবার্য, মাংসে বদলে ফুলুরি দিয়েই ভাত খেতে হবে।
প্রতিটা দেশেই যে বিপুল অর্থনৈতিক দুরবস্থা এসেছে এটা একটা বাচ্চা ছেলেও জানে। আমাদের দেশও যেমন তার বাইরে নয় তেমনই উন্নত দেশগুলোও, সকলেরই হাঁড়ির হাল অবস্থা। ‘যুদ্ধের বাজার’ ও ‘অস্ত্রের উৎপাদক’ সকলেই মোটামুটি অর্থনৈতিক ভাবে ধুঁকছে, দিনে দিনে পরিস্থিতি রোজই খারাপ হচ্ছে। আমেরিকার টেক্সাস, ওকলাহোমা, জর্জিয়া, সাউথ ক্যারোলাইনা, কোলারডো, টেনিসি, মন্টানা প্রদেশ তাদের দেশের ওই ভয়াবহ মহামারীর উপেক্ষা করে সব খুলে দিয়েছে, বা দিতে বাধ্য হয়েছে। মদের বার, সেলুন, ট্যাটু পার্লার, রেস্টুরেন্ট ইস্কুল সহ সব খুলে গেছে; পেটের জ্বালা বড় জ্বালা যে। বর্তমান আমেরিকার অর্থনীতির বিষয়ে একটা ছোট্ট আঁচ বা অনুমান পেতে এই লিঙ্কে(5)। ঘুরে আসতেই পারেন লিঙ্ক থেকে, জ্ঞান বাড়বে বই কমবে না। বাকি উন্নত বিশ্বের অর্থনৈতিক হালহকিকৎও নেটে একটু ঘাঁটলেই পেয়ে যাবেন।
আমাদের দেশেও লকডাউন খুললো বলে, নিরুপায়; তাতে করোনার ভাক্সিন বাজারে আসুক বা না আসুক। আশার কথা হচ্ছে আমাদের দেশজ অর্থনীতি মূলত কৃষি নির্ভর। উন্নত দেশগুলোর সে সুবিধা নেই, তারা প্রযুক্তি, ভোগ্যপণ্য ও অস্ত্র বিক্রি করা অর্থের বলে বলিয়ান। স্বভাবতই, আমরা সরু চালের বদলে মোটা চাল একবেলা খেয়ে জীবন ধারণ করে নেবো কিন্তু উন্নত দেশগুলো কী খাবে! তাদের ঠাটবাট কী দিয়ে চলবে!
এখন এই পরিস্থিতিতে এই “যুদ্ধ বাজারের দেশের” সরকার চাল কিনবে না অস্ত্র কিনবে? চাল না দিলে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে, সাথে লুঠতরাজ-অরাজকতা। এক্ষেত্রে উত্তরটা খুব স্বাভাবিক, অস্ত্র কিনবে না। সাধারণ মানুষও ভোগ্যপণ্য খুবই কম কিনবে, প্রযুক্তি খরিদও তথৈবচ। এদিকে বিশ্ববাজারে ভোগ্যপণ্য বিক্রি বিপুল হ্রাস, মানে উন্নত দেশগুলোর উৎপাদন ঝাড় খাবে। প্রযুক্তিও বেঁধে খাওয়াবার বস্তু নয়, সে ব্যবসাও ঝাড় খাবে উন্নত বিশ্বের। মানুষের হাতে আবার ক্রয়ক্ষমতা না ফিরলে এই ক্ষেত্রগুলোতে বিপুল আর্থিক মন্দা দেখা দেবে, যা রাতারাতি শুধরাবার নয়। তাহলে তাদের বাঁচার উপায় কী?
সিম্পলি একটাই, যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করা।
সেটা করতে পারলেই, খেয়ে না খেয়ে অস্ত্র কিনতে বাধ্য প্রতিটা দেশ। এদের সাথে আছে পাকিস্তানের মতো পরজীবি রাষ্ট্রগুলো, যাদের জন্মই হয়েছে যুদ্ধবাজেদের পোষা নেড়ির মতো ঘেউ ঘেউ করে মাতিয়ে ব্যস্ত রাখা পড়শীকে।
একটা বৃহৎ যুদ্ধই পারে লকডাউনে শুয়ে পড়া ইউরোপ-আমেরিকার অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে। কোটি কোটি মানুষের কাছে গিয়ে যেচে যেচে ভোগ্যপণ্য বা প্রযুক্তি ফেরি করার চেয়ে শ'খানেক রাষ্ট্রপ্রধানকে কব্জা করা সহজ। প্রতিটি দেশের বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি রয়েছে তাদের নিজেদের মধ্যে বা রাষ্ট্রের সাথে লেলিয়ে দেওয়া আরো সহজ। যেকোনো ছুতোয় অস্ত্রগুলো কিনতে বাধ্য করতে পারলেই তাদের রোজগার, এটাই তাদের জরুরীকালীন ঘুরে দাঁড়ানো একমাত্র পন্থা। প্রসঙ্গত এই এপ্রিলেই ভারত সরকার আমেরিকার থেকে কয়েক হাজার কোটির অস্ত্র কিনেছে, বা কিনতে বাধ্য হয়েছে।
সুতরাং করোনার ছোঁয়াছুঁয়ি শেষ হয়ে গেল মানেই দুর্যোগ শেষ হবে, আমার অন্তত তা মনে হয়না। কারণ উন্মত্ত যুদ্ধবাজ রাষ্ট্রপ্রধানগুলোর উপর যেমন পূর্ণ ভরসা আছে ঠিক তেমনি পুঁজিবাদের উপরেও আমার ভরসা অটুট। তারা একে অপরের পরিপূরক, নিজের স্বার্থের বাইরে কিচ্ছুটি বোঝে না। যুদ্ধের ফলে যদি দু'একশ কোটি ভোগে যায় যাবে, আমরা তো তৃতীয় বিশ্বের সংখ্যা মাত্র। তাতে তাদের কী ক্ষতি! দুর্বল মাত্রেই ক্ষমতার বলিপ্রদত্ত, নতুবা ছাগলের বদলে সিংহ বলি দিত আস্তিকেরা।
যুদ্ধ তো হয় বা হবে এশিয়া আফ্রিকা অঞ্চলে। যুদ্ধোন্মাদ ট্রাম্প ইতিমধ্যেই ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে, চীনও সমুদ্রে নতুন দখলদারিত্বের খেলায় মত্ত, মধ্যপ্রাচ্যের অশান্তি সামান্যও কমেনি করোনার প্রভাবে। ভয়ঙ্কর কথাটা হলো এশিয়া মহাদেশের বেশ কয়েকটি দেশ পরমাণু শক্তিধর। এই করোনা আবহে চীন পারমানবিক অস্ত্র পরীক্ষা করেছে এই এপ্রিলেই। আগামীর যুদ্ধ হলে সেখানে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহৃত হবে না, এ ভাবনা বালখিল্যতার পরিচয়।
চীন এই তথাকথিত ‘ইউরোপ-আমেরিকা’ নাম্নী উন্নত বিশ্বের কাছে বিশাল চ্যালেঞ্জ। তাদের সস্তার শ্রমিক, উন্নত প্রযুক্তি, সস্তা দাম ও উন্নত বিপণন নিয়ে গোটা বিশ্বে জাঁকিয়ে বসেছে। কিন্তু তাদের দেশজ যে বাজার, যা গোটা আফ্রিকা ও আমেরিকার জনসংখ্যার সমান- তা বাকি বিশ্বে জন প্রায় বন্ধ। বাকি ভোগ্যপণ্য ছেড়ে দিন, মার্কিন ট্যেকনোলজি জায়েন্ট গুগুল, ফেসবুকেরও সেখানে ব্যবসার অধিকার নেই; উল্টে এ্যপলের মত বহু মার্কিন সংস্থার প্রোডাকশন ইউনিট চীনে।
সুতরাং, ‘উন্নত বিশ্বগুলো’ তাদের আর্থিক সঙ্কটে তাদের ‘সকলের প্রতিদ্বন্ধী’ চীনকে যে শায়েস্তা করার চেষ্টা করবে তা বলাই বাহুল্য। আমাদের দেশ সহ চীন, আফ্রিকা ইত্যাদি হলো অত্যন্ত ঘন বসতির দেশ। সুতরাং আগামীতে এই মানব সম্পদ লোভের জন্য আমাদের দেশকে যে টার্গেট বানাবে না, সে কথাও জোর দিয়ে বলতে পারা যাবেনা।
তাই ঠিক সঠিকভাবে এখনই নির্দিষ্ট করে সময় অনুমান না করা গেলেও যুদ্ধ যে অতি সন্নিকটে তা বলাই বাহুল্য। বলা ভালো আমরা যুদ্ধের ছায়াতেই শ্বাস নিচ্ছি। এই যুদ্ধে কে জিতবে কে হারবে জানি না, জ্ঞান ও বিজ্ঞান হেরে যাবে লোভ আর লালসার কাছে, তা নিশ্চিত।
মানবতা শব্দ শুধুই গরিবের জন্য, সম্মান-অহংকার-হার-ঔদ্ধত্য পুরোটাই ধনীর অলঙ্কার। সুতরাং আগামী আরও দুঃসহ ও ভয়ঙ্কর। পয়সা নয়, সম্পদ জমিয়ে রাখুন বেহিসাবি খরচা না করে। গুলি বোমাতে কত মানুষ মরবে জানি না, কিন্তু যুদ্ধের সাইডএফেক্ট হিসাবে বহু মানুষের অনাহারে মৃত্যু হবেই। তাদের মধ্যে আমি আপনি যে থাকবো না সে কথা বলা দুষ্কর।
আমাদের আছে সেই নেতারা, যাদের না আছে জ্ঞান, না আছে প্রজ্ঞা, না আছে সাহস, না আছে আছে লড়াই করার ক্ষমতা। সুতরাং এমতাবস্থায় আমরা কেউই এই করোনা পরবর্তী এফেক্ট থেকে ছোঁয়াচ বাঁচাতে পারব না, তাতে ঘরে যুদ্ধ লাগুক বা পড়শীর ঘরে।
আমাদের জনসাধারণের লড়াই এখনই শেষ হচ্ছে না বরং এটাকে শুরুর শুরু ভাবাটাই বিচক্ষণতার কাজ। এই বিচক্ষণতা আপনাকে আমাকে বাঁচিয়ে দেবে কিনা নিশ্চিত ভাবে না জানলেও আমাদের জীবনকে কিছুটা হলেও দীর্ঘায়িত করবে পুঁজির বিরুদ্ধে লড়াই দেবার জন্য।
যদি এই আশঙ্কা অমূলক হয়, এর চেয়ে বাজে ভাবনা আর দ্বিতীয়টি হয় না। কিন্তু সত্য হলে?
ভয় পেয়ে লাভ নেই, আমরা সব দিক থেকে মার খেয়েই রয়েছি। মরা আর দ্বিতীয় বার মরেনা, এই চরিত্রই আমাদের বাঁচিয়ে দেবে না সেটার গ্যারান্টি কে নিয়েছে!
ভালো থাকবেন।
1) https://www.sipri.org/.../global-arms-industry-rankings...
2) https://www.india.gov.in/spotlight/union-budget-2020-2021
3) https://www.aljazeera.com/.../huge-arms-trade-fair-draws...
4) https://www.weforum.org/.../5-charts-that-reveal-the.../
5) https://www.cbo.gov/about/privacy
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যসমূহ (Atom)
তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না
⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...
-
ছোটবেলায় বাবা বলতেন "শাগ খেলে বাঘের বল"। যদিও তিনি ওটাকে শাকই বলতেন আমরা কচি কানে বাঘের সাথে মিলিয়ে শাগ শুনতাম। এহেন পরিস্থ...
-
(১) জাতীয় ডিম্ভাত দিবস ১৯৯৩ সালের ২১শে জুলাই এর জমায়েত কী উদ্দেশ্যে হয়েছিলো জানেন? তোলামূলের রাজ্যে না জানাটাই আপনার অধিকার। ভোটার তাল...