শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২২

বিহার নির্বাচনঃ পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ৫


পঞ্চম পর্ব


বিহারের ফলাফলে ফিরি।

১১ নভেম্বর ২০২০ তারিখে The Quint অনলাইন পোর্টালের দেওয়া তথ্য বলছে চিরাগ পাশোয়ানের দল LJP, নীতিশ কুমারের JDU এর ভোট অনেকটাই কেটে তাদের আসন কমিয়েছে ‘ভোট কাটার’ হিসাবে। আলাউলি, দরভাঙ্গা পল্লী, ধৌরাইয়া, দিনারা, ইসলামপুর, সমস্তিপুর, সুরজগড় ইত্যাদি এমন ৩২ টি বিধানসভা আসন আছে যেখানে JDU এর হারের ব্যবধানের চেয়ে LJP এর প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা অনেকটাই বেশি। মহাগঠবন্ধনের মোট ৩৮টা আসনে জয়ী প্রার্থীর ব্যবধানের চেয়ে LJP এর পক্ষে ভোট বেশি পড়েছে।

কিন্তু বিষয়টা কি এতটাই জলবৎ তরলং! যতই JDU ও LJP দুটি দলের ভোটব্যাঙ্ক একই হোক জাতপাতের নিরিখে! তাহলে মাঝি-মাল্লাদের সম্প্রদায়ের VIP পার্টি- বনিয়াপুর, মধুবানী, সিমরি বখতিপুর ও সুগৌলি এই ৪টে; জিতিনরাম মাঝির ‘হাম’ পার্টিও কসবা আসনে হেরেছে কীভাবে, এই সব আসনেও LJP ফ্যাক্টর হয়েছে দৃশ্যত। খোদ বিজেপির হারা ভাগলপুর আসনে হারের ব্যবধান চেয়ে LJP এর প্রাপ্ত ভোট অনেকটাই বেশি। তথ্য বলছে JDU গত বারের চেয়ে মাত্র ১.৪৪% ভোট কম পেয়েছে, আর LJP ০.৭৭% ভোট বেশি পেয়েছে। সাধ করে কি বিখ্যাত ক্রীড়া সাংবাদিক নেভিল কার্ডাস বলেছিল যে- “স্কোরবোর্ড আসলে একটা গাধা”।

এই ছিল ভোট কাটুয়ার আসল হিসাব, তাহলে বিহার ভোট পরবর্তী মাত্র ৫টি আসনে জেতা মিমকে নিয়ে এমন প্রচারণা কেন বা কাদের স্বার্থে? সত্যিই কি ‘ভোট কাটার’ এর ভূমিকাতে ছিল মিম, যা বিজেপির পক্ষে গিয়েছে! তথ্য কী বলছে?

মিম মোট ২০টা আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল, ২৪৩ আসনের নিরিখে ৮.২৩ শতাংশ আসনে। এর মাঝে তারা জেতে ৫টি আসনে। লোকসভার নিরিখে কিষাণগঞ্জ লোকসভারই ৫টি আসন।

(i) নেপাল লাগোয়া আরারিয়া জেলার জোকিহাট বিধানসভা কেন্দ্রে ৩৪.২২% ভোট পেয়ে জিতেছে মিম, RJD (২৯.৯৮%) এর মুসলমান প্রার্থীকে হারিয়ে। বিজেপি এখানে তৃতীয় ২৮.১% ভোট পেয়ে। এর লাগোয়া কেন্দ্র কিষাণগঞ্জ জেলায় দুটো আসনে জিতেছে মিম।
(ii) কিষাণগঞ্জের বাহাদুরগঞ্জ আসনে মিমের প্রাপ্ত ভোট ৪৯.৭৭% যেখানে দ্বিতীয় প্রতিদ্বন্দ্বী VIP পেয়েছে ২৩.৫৬%, আর তৃতীয় কংগ্রেসের ঝুলিতে ১৭.৫১% ভোট। এখানে VIP ও কংগ্রেস সম্মিলিভাবেও মিমের চেয়ে ৮ শতাংশের নিচে।
(iii) আমাদের উত্তরবঙ্গ যাবার পথে যে অংশটা রেল ও সড়কপথ বিহারের মাঝে ঢুকে যায় সেই কিষাণগঞ্জ জেলার ‘কোচধামন’ বিধানসভা কেন্দ্রটি জিতেছে মিম। এখানে RJD ভোট পেয়েছে ১৬.১৮%, JDU ২৭.০৮% ও LJP পেয়েছিল মাত্র ১৬০৬টি ভোট। কিন্তু এদের সম্মিলিত ভোটের চেয়েও বেশি ৪৯.৪৫% ভোট পেয়ে জিতেছে।
(iv) ডালখোলার পশ্চিম দিকটাই পুর্নিয়া জেলা। কিষাণগঞ্জ লাগোয়া এখানে দুটো সিটে জিতেছে মিম। তার একটা ‘আমোর’ বিধানসভা কেন্দ্র। এখানেও মিমের প্রাপ্ত ভোট বাকিদের সম্মিলিত ভোটের চেয়েও বেশি।
(v) এই জেলারই ‘বৈশি’ কেন্দ্রে মিম ৩৮.২৭% ভোট পেয়ে বিজেপিকে (২৯.১১%) হারিয়েছে ১৬ হাজার ভোটে, এখানে RJD পেয়েছে ২১% ভোট।

সুতরাং বোঝা যাচ্ছে যেখানে মিম জিতেছে, নিরঙ্কুশ ভাবেই জিতেছে। কংগ্রেস, আরজেডি, বিজেপি, কমিউনিস্টেরা কোনো ফ্যাক্টর ছিলনা।

বাকি ১৫টি সিটের হিসাব দেখা যাক, যার মধ্যে ৯টা কেন্দ্রে মহাগঠবন্ধন জিতেছে।

(i) আরারিয়া কেন্দ্রে কংগ্রেস জিতেছে জেডিইউকে ৪৮ হাজার ভোটে হারিয়ে, মিম পেয়েছে ৮৯২৪টি ভোট।
(ii) কিষাণগঞ্জ সিটে কংগ্রেস ৬১ হাজার ভোট পেয়ে জিতেছে বিজেপিকে হারিয়ে, তাদের প্রাপ্ত ভোট ৫৯ হাজার। মিম পেয়েছে ৪২ হাজার ভোট।
(iii) মনিহারী (উপজাতি সংরক্ষিত) কেন্দ্রে কংগ্রেস জিতেছে ১২ হাজার ভোটে, মিমের জামানত জব্দ হয়েছে মাত্র ২৪৫৮টি ভোট পেয়ে।
(iv) কসবা কেন্দ্রে কংগ্রেস জিতেছে এলজেপিকে হারিয়ে, মিম পেয়েছে ৫৩১৬টি ভোট।
(v) ফুলবাড়ি কেন্দ্রে কমিউনিস্টরা জিতেছে জেডিইউকে হারিয়ে, এখানেও মিমের জামানত জব্দ হয়েছে ৫০১৯টি ভোট পেয়ে।
(vi) সাহেবপুর কামাল কেন্দ্রে আরজেডি জিতেছে জেডিইউকে হারিয়ে, মিম পেয়েছে মাত্র ৭৯৩৩ ভোট।
(vii) শেরঘাটি বিধানসভায় আরজেডি জিতেছে জেডিইউকে হারিয়ে, ব্যবধান ১৬ হাজার, মিম ভোট টেনেছে ১৫ হাজার।
(viii) শিক্তা কেন্দ্রে কমিউনিস্টরা জিতেছে জেডিইউকে হারিয়ে, মিম পেয়েছে ৮৫১৯ ভোট।
(ix) ঠাকুরগঞ্জ কেন্দ্রে আরজেডি জিতেছে নির্দলকে হারিয়ে, মিমের প্রাপ্তি ১৮৯৯০ ভোট।

NDA জিতেছে ৬টি আসনে।

(i) বারাড়ি কেন্দ্রে জেডিইউ জিতেছে প্রায় ১০ হাজার ভোটে, মিম পেয়েছে ৬৫৯৮ টি ভোট।
(ii) ছাত্তাপুর কেন্দ্রে বিজেপি জিতেছে ২০ হাজার ভোটে, এখানে মিমের জামানত জব্দ হয়েছে ১৯৯০টি ভোট পেয়ে।
(iii) নরপতগঞ্জ কেন্দ্রে বিজেপি জিতেছে ২৯ হাজার ভোটে আরজেডিকে হারিয়ে, মিম পেয়েছে ৫৪৯৫টি ভোট।
(iv) প্রাণপুরে বিজেপি প্রায় ৩ হাজার ভোটে জিতেছে কংগ্রেসকে হারিয়ে, মিমের জামানত জব্দ হয়েছে মাত্র ৫০৮টি ভোট পেয়ে।
(v) রানিগঞ্জ কেন্দ্রে বিজেপি জিতেছে প্রায় আড়াই হাজার ভোটে আরজেডিকে হারিয়ে, এখানে মিমের জামানত গেছে ২৪১২টি ভোট পেয়ে।
(vi) সাহেবগঞ্জ কেন্দ্রে VIP জিতেছে প্রায় ১৬ হাজার ভোটে আরজেডিকে হারিয়ে, মিম পেয়েছে মাত্র ৪০৫৫টি ভোট।

এই হল তথ্যপঞ্জী। মিম ভোট পেয়েছে ১.২৪%, যা নোটার (১.৬৮%) চেয়েও কম। বরং প্রায় সমসংখ্যক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা CPI(ML) বরঞ্জ ১৯টি আসনে প্রায় সাড়ে তিন শতাংশ ভোট পেয়েছিল।

...ক্রমশ

বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২

তেনার শারদীয় চিত্রাঙ্কন

 


একটা ভাবসম্প্রসারন

 

দৃশ্য ১- পিছনে ডাকের সাজ......

দৃশ্য ২- দরজার সামনে শুয়ে থাকা ভাঁটাংশু আজ বক সেজে এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছে। তারই পিছনে চোর্মানিক (ব্যাক্তিকে নিজেকে খুঁজে নিতে হবে)

দৃশ্য ৩- একটা ধেঁড়ে ছুঁচো খাবারের লোভে এসে ভাঁটাংশুর পশ্চাদ্দেশে মুখ ঢুকিয়ে গোধূমবর্ণা কিছু পেয়ে, সেটাকে মণ্ডা ভেবে মুখে চালান করতেই- ছুঁচোর মুখ ছানা বড়া, পেটে হলুদ জন্ডিস। পেটে এক টুকরো সেই হরিদ্রাবর্ণযুক্ত অংশ- দৃশ্যমান

ওদিকে ছুঁচোর গোঁফ ও সরু মুখ/দাঁতের দ্বারা পায়ুমর্দনের সুখে ভাঁটাংশুর পূর্ণ অর্গাজম দশা উপনীত হয়েছে। চোখ মুখ সব মুদে নিয়ে (যদিও স্থানটা মুদিয়ালী নয়) কুঞ্চিত দশায়, শরীর ছোট্ট এট্টুখানি করে ছুঁচোর কাছে সম্পূর্ণ রূপে ধরা দিয়ে পশ্চাদ দেশ থেকে অর্গাজমের ফলস্বরূপ হলদে-সবুজে মোড়া অর্গাজমীয় উন্নয়নের ধারা ছাগলের নাদির মত ঝরে পরছে

এদিকে ছুঁচোর লেজ ঝুলে পরলেও, তুড়িও উল্লাসে লেজের লোমগুলো ময়ুরের পেখমের মত মেলে ধরেছে। ছুঁচোর নিচে ববির স্যান্ডো গেঞ্জিটা রয়েছে ঋতব্রতর বালিসে জড়ানো অবস্থায়- আসলে ভিতরে লুকিয়ে চোর্মানিক। ছুঁচোর একটা চোখ স্বস্থানে গোল্লাপ্রাপ্তি হলেও, আরেকটা চোখ তখন মুষ্ক প্রদেশের দিকে রওনা করেছে- স্থানের অদল বদলের জন্য

প্রেক্ষাপট ও সিদ্ধান্তঃ এটা কানতলা অস্তয়ন সঙ্ঘের জন্য আঁকা চোরাচার্য দ্য চটির আঁকা একটা মহার্ঘ্য মূর‍্যাল, অপার সংসারের জন্যএখানে ধর্ম আছে- ডাকের সাজের প্রতিরূপ, রাজনীতি আছে- ভাঁটাংশুর শুয়ে থাকা, উন্নয়ন আছে, পশুপ্রেম আছে, ইরোটিক বিষয়টা আছে, মানে সব সব সব আছে।

সাফল্যঃ- সবচেয়ে বড় কথা- তিনোমুলের যে মূল থিম, ‘যত পারো পোঁ* মেরে খাও ধর্মকে পাহাড়াতে রেখে, সেটাকে এর চেয়ে ভালো আর তুলে ধরা যেতোনা। এখানেই শিল্পীর সাফল্য।

 

মরাল অফ দ্য স্টোরি- পেরেচি, পেরেচি, মানে উদ্দার কর্তে পেরেচি......


বিঃদ্রঃ- আমায় জেলে নিয়ে গেলে, জিলাপি সহ দেখা করতে যে তোমরা।

 


শুক্রবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২

লন্ডলে পিসি


 

পিসি কোলকাতাকে লন্ডন বানিয়েছেন।

লন্ডন কি পিসিকে রানী বানাতে পারেনা, কি কমতি আছে পিসির মধ্যে? দরকারে আমরা দেবাংশুকে বাকিংহাম প্যালেসের সামনের গেটে শুয়ে দেব‘কিং অফ আর্মস’ কুণালদা মুখপাত্র আর ডি জুরে গ্রিমাল্ডি পাত্তোতা - না, পাত্তোদা খারাপ লোক।

আজ বাংলার যুবরাজ কাল ব্রিটেনের যুবরাজ, রয়্যাল হাইনেস দ্য প্রিন্স, মহামহিমসোনাবৌদির নামের আগে "ডয়েচ অফ কর্ণওয়েল এন্ড কেমব্রিজ"। আহা, রঞ্জু পিসে বেঁচে থাকলে রাজা হতেন, ভাবলেই শিহরিত হচ্ছিডিউক অফ ওয়েলিংটনের হাউস অফ লর্ডস, ব্যারন সৌকত রথসচাইল্ড মোল্লা। লর্ড বালু, মার্কেস মদনা, নাইট কেষ্টা, কাউন্ট ববি, আর্ল অরুপ সকলেই Royal Family র সদস্য, স্যার উপাধি পেয়ে- একেকজন এক একেকটা কমনওয়েলথ রাষ্ট্রের তোলাধিপতি।

নতুন ইতিহাসে জানবো টাইটানিকের প্রথম যাত্রী ছিলেন মিস পিসি ব্যানার্জী, যাকে দেখে রবার্ট ব্রুশ অনুপ্রেরণা পেয়েছিল। এটাও জানবেন, নিউটনকে কে আপেল গাছের নিচে ঠিক ঐ দিন পাঠিয়েছিল ও কেন!

ডারউইন থেকে হকিং, লেনন থেকে ফ্যারাডে হয়ে চার্চিল- সকলকেই তিনি মঞ্চের উপরে প্যারেড করিয়ে লণ্ডবিভুষণ দেবেন, লণ্ডশ্রী দেবেন, সাথে একটা করে সবুজ সাথীর সাইকেল

ভাবুন দেখি, এমন সব কি হতে পারেনা?

🔷 ম্যাঞ্চেস্টারের চপ শিল্প। ‘ফিস এন্ড চিপস’ এ হ্যাডক মাছের চপ।

🔷 লর্ডসের মাঠে পাত পেরে ডিম্ভাত সহ ২১শে জুলাই উদযাপন। একটা টার্কির ডিমে ১০ জন তোলামূলের বরাদ্দ।

🔷 অক্সফোর্ডের চ্যান্সেলর পদে বৈশাখী। পুরো পুদিচ্চেরী।

🔷 MI6 এর শীর্ষে রাজীব কুমার

🔷 দেব্দা 007 এর ভূমিকাতে

🔷 বাফটার চেয়ারম্যান রাজ চক্কোত্তি

🔷 ব্রিটিশ মিউজিয়ামের মাথায় কাকপ্রশন্ন

🔷 ব্রিটিশদের দুয়ারে সরকার

🔷 মেম সাহেবদের মাসে ৫০০ স্টারলিং

সবচেয়ে বড় কথা- পেঙ্গুইন ও হার্পার কলিন্স বেচবে পিসির লেখা - Julies Mukul, Gublet, K'Khelo! Merchants of the Birbhum, A Kalighat'D Dreams, Joshio & Nusrothet এর মত কালজয়ী নাটক উপন্যাস। নস্টালজিক হয়ে যাচ্ছি মাইরি। সদবি আর ক্রিষ্টির মাঝে অশান্তি বাঁধবে পিসির আঁকা ব্যাঙের পৌষ্টিকতন্ত্রের মত ধুতরো থুরি কুমড়ো, ধুর - ধুমরো ফুলের স্বত্ত্ব আসলে কার!

স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড ভর্তি সিভিক ভলেন্টিয়ারনীলসাদা স্কারলেট টিউনিক পরিহিত রয়্যাল সিভিক গার্ডেরা ডাম্পারে চড়ে গার্ডও অনার দেবে পিসিকে পিসির পরনে তখন ব্যারিষ্টারের কালো গাউন, আহারয়্যাল সোস্যাইটির প্রফেসারেরা মিডডে মিল দেবেকেমব্রিজের পরিচালন সমিতির মাথায় আরাবুল

ব্রিটিশ চ্যানেলের নাম বদলে হবে উন্নয়ন চ্যানেল, এখান দিয়েই অর্জুন, বাবুলরা নিয়মিত যাতায়াত করবেএদিকে নাগপুর হেব্বি খুশি, তাদের পিতৃপুরুষের ভিটেতে তাদেরই প্রোডাক্ট অধিষ্ঠান করছে। ‘মুচলেকার রক্ত, হয়নিকো ব্যর্থ- স্লোগানে ভরে উঠবে ক্রানবেরী স্ট্রিট, ব্রিক লেন, ডাউনিং স্ট্রিটে

বেকার স্ট্রিটের নাম বদলে হবে কোনান ডয়েল ধরনী

ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আবার পুনর্জীবন লাভ করবে, ব্রিটিশরা উপনিবেশিক উপমহাদেশের রাজধানী করেছিল কোলকাতাকে, আর কোলকাতার চটিপিসি ওয়েষ্টমিনিস্টারকে ভবন বানিয়ে চরম 'পোতিসোদ' নেবে। ‘ লোগো দিয়ে ব্রিটিশ এম্পায়ার বোঝানো হবে, ইউনিয়ন জ্যাকে রেড ক্রশের বদলে ব আঁকা থাকবে।

ব্রিটিশ ভূমে MSN (মাইক্রোসফট নয়), Mom, Soil & Neanderthal গরমেন্ট রচিত হবে। হ্যাঁ, খাঁটি সায়েব সুবোরাও ব্যাগপাইপের সুরে সুরে ছন্দ মিলিয়ে গাইবে- "বোণ্ডু এবা কেলা ওবে"

হাইগেট সিমেন্ট্রিতে মার্ক্সের সমাধী, অর্থাৎ লণ্ডনে 'সিপিএন' আচে। খেলা হবেই।

ইয়ে, কিছু বাদ গেলে বা জুড়তে হলে কমেন্টে লিখে দিও। ভাটাঙশু পড়ে নিয়ে পিসিকে শুনিয়ে দেবে

 


রবিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২

KiD- BabY- ChilD নিয়ে চাইল্ডিস অভিজ্ঞতা


 

বিধিসম্মত সতর্কীকরণঃ এটা সমাজের একটা অংশের বিরুদ্ধে খাপ বসানো, যাতে সন্দেহের অবকাশ নেই 

মাঝে মাঝে বড্ড আত্মশ্লাঘায় ভুগি আমাদের এই জাতিটার জন্য, হলোটা কি আমাদের!

ভ্রমণ শিল্পের সাথে যুক্ত থাকার সুবাদে ভারতের প্রায় প্রতিটা প্রদেশের মানুষেরই সাথেই প্রতক্ষ্যভাবে যোগাযোগের সুযোগ নিয়মিতভাবে ঘটে। এছাড়া বাংলাদেশ, নেপাল, এবং ইংল্যান্ড সহ ইউরোপের বেশ কিছু দেশের নাগরিকদের সাথেও আলাপচারিতা হয় নিয়মিত অবসরে

হলফ করে বলতে পারি- ধাপ্পাবাজি করা, কীভাবে ফাঁকি দিয়ে আর্থিক লাভবান হবো, কীভাবে তথ্য গোপন করে ‘বিনা মাশুল’ এর অনৈতিক মুনাফা নেবো- এই মানসিকতা সবচেয়ে বেশী ভারতীয় বাঙালীদের মধ্যে, আরো নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে- গোটা মধ্যবিত্ত সমাজের মহিলাদের মধ্যে। অবশ্য এটার জন্য আমার এই পোষ্ট দিয়ে সেটা প্রমান করার কিছু নেই- ৫০০ টাকার লক্ষীর ভান্ডারের জন্য যে জাতি হত্যে দিয়ে লাইনে পরে থাকাতে পারে, তারা এই চিটিংবাজি করবেনা তো কারা করবে। বিনামূল্যে পাওয়াটা তো জন্মগত অধিকার ভেবে নিয়েছেন অনেকেই

সস্তার জন্য দর কষাকষি করাটা অন্যায় নয় বরং এটা উপভোক্তার অধিকার। বাজেট অনুযায়ী গোটা ভ্রমণকে একটা সুষ্ঠু পরিকল্পনা দিতে- দামদস্তুর করাটা অতি স্বাভাবিক বিষয়। আমরা সারাদিনে যে পরিমান ফোন বা মেসেজ পায়- তার ৩০%ও যদি ফাইনাল হয়, আমাদের রেভিনিউ তাজ হোটেল গোষ্ঠীকেও ছাপিয়ে যাবে, আমাদের সাফল্যের হার মাত্র ৩-৪ % কখনও একটু বেশী, অত্যন্ত সফল প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও সেটা কখনই ১০% এর উপরে নয়। আর এটাই স্বাভাবিক।

গ্রাহক দামদড় জিজ্ঞাসাবাদ করবেই, তার পোষালে বা পছন্দ হলে, ভরসা পেলে তিনি নেবে না হলে নেবেনা। আমি দোকান খুলে বসে আছি মানে দাম বলতে বাধ্য, এটাই ন্যায্য অনুশীলন। এখানে বিরক্তি বা অধৈর্য্যের নুন্যতম জাইগা নেই। তাবলে কেউ চালাকি করে অন্যায্য লাভ পেতে গেলে তাকে সমুচিত জবাব দেওয়াও ন্যায্য অনুশীলনেরই অঙ্গ বলে আমি বিশ্বাস করি

সম্প্রতি এক ভদ্রমহিলা নিজেকে একটা স্কুলের শিক্ষিকা হিসাবে পরিচয় দিয়ে- শুরু থেকেই ফোনে হিন্দিতে কথা বলছিলেন, যদিও আমি বাংলাতেই কথোপকথন চালিয়ে গেছি, উনার হিন্দি কষ্ট করে উচ্চারিত বাংলা উচ্চারণশৈলী যুক্ত, তবুও হিন্দিতেই চালিয়েই গেলেআত্মবিশ্বাসের সাথে। মেসেজেও প্রথমে হিন্দি ও পরে ইংরেজি ও তারও পরে রোমান হরফে বাংরেজিতে আলাপচারিতা চালিয়ে গেলেন।

ওনারা মোট কতজন আছে উনি কিছুতেই বলবেননা, শুধু ওনার ডাবল এ্যাকোমোডেশন বেডরুম হলেই হবে সেটাই জানালেন ফোনে বা মেসেজে লিখিত

সমস্যা হয়- বাচ্চাদের বয়স না জানলে খাটে হবে কিনা সেটা নিয়ে; শীতের দেশ- এক্সট্রা বালিশ - কুইল্টের বিষয় আছে। খাবার দাবারের পরিমানের বিষয় আছে। পাহাড়ে জল কেনা, তার খরচা আছে। সুতরাং সাথে বাচ্চা আছে কিনা বা থাকলে কত বছর বয়সের সেটা জানা আমাদের জন্য বাধ্যতামূলক

বড়দের থেকে বাচ্চাদের নিয়ে ঝামেলা সবচেয়ে বেশী, এটা আমাদের মত হোটেলিয়ার বা ট্রাভেল কোম্পানি চালানো মানুষেরা কমবেশী সকলেই জানি। বাচ্চা বলে তো আর তাকে ডিম বা মাছের পিস কেটে আর্ধেক দেওয়া যানা, মাংসও ১ পিস দেওয়া যাবেনা। বাচ্চা খায় কম নষ্ট করে বেশী, প্রসঙ্গত- আজকালকার বাবা মায়েরা কখনও আক্ষেপ করেনা বাচ্চার দরুন নষ্ট হওয়া খাবারের জন্য।

প্রাপ্তবয়স্কদের চেয়ে বাচ্চাদের পরিষেবা বেশী দিতে হয়। গরম জল দাও বারে বারে, প্রেসারকুকারে গলানো খাবার দাও, ঝাল ছাড়া তরকারী দাও ইত্যাদি সহ নানান গল্পকাহিনী থাকে। এগুলো করতে তো খরচা লাগে, কিন্তু অধিকাংশ বাঙলী বাবা মা বাচ্চার খাবারকে হিসাবেই ধরেনা- ও তো আমাদের পাতেই খেয়ে নেবে। আমরা পালটা শুধাতে পারিনা- ঐ পাতে খেয়ে নেবার খাবারের দামটা তাহলে দেবেননা? কিম্বা বাচ্চার জন্য গাড়িতে সিট দরকার, কোলে কেউ আনেনা বা সেটা সম্ভবও নয়- কিন্তু তার জন্য অর্থব্যয় করতে নারাজ

এছাড়াও, রুমের বিছানায় খাবার ফেলে বিছানা বালিস কম্বল নষ্ট করা, অর্ধেক সময় যা আর ব্যবহারের যোগ্য থাকেনা, হলুদের ছোপ পরে যায়। বমি বা পায়খানা করা, রুমে দেওয়ালে আঁকিবুঁকি, পর্দা ছেঁড়া, বাথরুমের কল নষ্ট করা, বেসিনে বমি করে নালি বন্ধ করা, কমোডে ন্যাপকিন ফেলে পয়ঃপ্রনালী জ্যাম করা নিত্য দিনের ঘটনা। টিভি বা ইলেকট্রনিক গেজেট নষ্ট এগুলো আছেই

তাবলে কী বাচ্চা আসবেনা? অবশ্যই আসবে, সবটা নিয়েই তো একটা ফ্যামিলি। বাচ্চা আমার আপনার প্রতিজনের ঘরেই আছে। বাচ্চার জন্য পরিষেবা সবটা নেবো, শুধু তার জন্য কোনো অর্থ খরচা করবোনা- এটা নিকৃষ্ট ধরণের নোংরামি। আমার বাচ্চা ক্ষয়ক্ষতি করলে সেটা আমাকেই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, আমার বাচ্চা কেন হোটেলওয়ালার টাকায় খাবে?

অথচ এই টুরিষ্টরা রেলকে বা বিমান কোম্পানিকে কেউ শুধায়না ১ বছরের বাচ্চার জন্য কেন টিকিট নেবেন? চকোলেটের দোকানে বা দুধের দোকানে কেউ বাহানা জোড়েনা- এ তো বাচ্চা খাবে, কেন দাম নেবেন! বাচ্চা বাড়িতে বাবামায়ের পাতে যে খাবারটা খায়, সেই চাল, ডাল, আটা, সব্জি বা মাংসটা কী দোকানদার ফ্রিতে দিয়েছিলো বাচ্চার জন্য? স্কুলবাসের সিটের জন্য কিন্তু এনারাই পুরো পয়সা দেয়, সেখানে বলেনা- বাচ্চার বসার জাইগার জন্য আবার পয়সা নেবেন? বাচ্চার জামাকাপর কী কেউ ফ্রিতে দেয় বাচ্চার বাপমায়ের কাপ কিনলে?

এরাই ঘুরতে এলে যেনতেন প্রকারে বাচ্চাটার ভ্রমণের জন্য পয়সা না দেবার- সব ধরনের অপচেষ্টা করবেই, সেটা যত নিকৃষ্টই হোকনা কেন; কিছু সফল হয়, অধিকাংশ হয়না। কিন্তু চেষ্টার ঘাটতি থাকেনা মধ্যবিত্ত বাঙালী মায়ের। ভাবখানা এমন- যেন বাচ্চাটার যাবতীয় আর্থিক দায়ভার হোটেলের বা ট্রাভেল এজেন্সিরকিম্বা আমরা বেড়াতে এসে হোটেলিয়ার বা ট্রাভেল এজেন্সির উপরে দয়া করেছি, তাই বাচ্চার কোনো দায়িত্ব আর অভিভাবকের নয়।

কিছুজন অসাধারণ নির্লিপ্ততা সহ আশ্চর্যের সপ্তমাকাশে চড়ে বিহ্বল হয়ে শুধান- বাচ্চার খরচাও লাগবে? আচ্ছা, আমাকে বলুন- বাচ্চাটাকে দুনিয়াতে আনা ইস্তক আপনার ব্যয় রোজই বেড়ে চলেছে পাল্লা দিয়ে। দৈনন্দিন জীবনে কোনটা ফ্রিতে পান বাচ্চার অজুহাতে? কোথায় তার জন্য খরচা লাগেনা, যে ভ্রমণে গেলে ট্রাভেল এজেন্ট বা হোটেলওয়ালা বাচ্চার খরচের কথা বললে- আকাশ থেকে পরেন? অবশ্য হাতে বাটি নিয়ে অনেকেই বাচ্চার অজুহাতে মাধুকরীবৃত্তি করে- সেটা হলে আলাদা

সত্য বলতে ৯৯% হোটেলিয়ার ৪-৫ বছরের বাচ্চার কোনো খরচা নেয়না, কিন্তু ৬ বছরের উপরে গেলে খাবারের দরুন একটা খরচা যোগ করে যেটা একটা প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের অর্ধেক খরচা বা তারও কম। তবে ৯-১০ বছরের বা তার বেশী হলে খাবারের খরচা পুরোটাই লাগে, ১২ বছরের বাচ্চার জন্য লজিং এর খরচাও লাগে বৈকি।

উপরোক্ত ভদ্রমহিলা মোনোভাবেই বলবেননা কতজন আছেন। শেষে আমি আর এন্টারটেইন না করাতে উনি বললেন হাজব্যান্ড ওয়াইফ এন্ড কিড। কজন কিড আর কতবছরের কিড সেটাও বলবেননা- প্রায় ৭ দিন পর জানালেন। ১৫ বছরের কিড। মেসেজ করতেই পুরো সত্যটা জানা গেল, ৩টে বাচ্চার মধ্যে ১টি পূর্ণ এডাল্ট ও ২ জনের জন্য আধা-আধা করে একজন পূর্ণ বয়সের খরচা যুক্ত হবে। অর্থাৎ ২ জনের ৫-৬ দিনের খরচা মোটামুটি ১-২০ হাজারের কমে হবেনা কোনোভাবেই। সেটাকেই ইনি চেপে গিয়ে বুকিং করতে চেষ্ট ছিলেন।

বাইচান্স এমন নোংরা গেষ্ট চলে এলে কী হয়? এনারা আসা ইস্তক সপ্তম মুডে থাকে, মানে অফেন্স ইজ দ্য বেষ্ট ডিফেন্স। হোটেলিয়ার কিছু বলবে কি, গেষ্ট শুরুটাই এমন রেঞ্জে করে- যেন মধ্যযুগীয় ক্রীতদাসদের উপরে জমিদারের আচরণ। মোদ্দা কথা- বাচ্চাদের লুকিয়ে যাওয়াটা যেন কথোপকথনের মধ্যেই না আসে চেক-আউটের আগে অবধি

হোটেল ওয়ালারাও বদমায়েশি শুরু করে, নিম্নমানের রুম দেয়, খাবারের মান কমিয়ে দেয়। মানে টুরিস্ট ৪ জনের হিসাবে পেমেন্ট করেছেন বা করবেন, কিন্তু ৪ জনের বদলে ৬ জনে খাবে। স্বভাবতই ৪ জনের জন্য প্রদেয় অর্থতেই ৬ জনের জন্য বানিয়ে দেওয়া হয়, তাতে যেমনটা হওয়া উচিৎ তেমনই হবে পরিমান ও মানের নিরিখে

আর তখনই আসে- আমি কেন ছবিতে দেখানো রুম পেলামনা? কেন প্রতিশ্রুতি মত পরিষেবা পেলামনা! অথচ এরা কোথাও উল্লেখ করবেনা, ৬ জন বলে আন্ডা বাচ্চা সহ ১১ জন হাজির হয়েছি। অনেকে আবার পার্সোনাল ড্রাইভার বা বাচ্চাধরার জন্য maid নিয়ে আসেন, যাদের উপস্থিতি একমাত্র জানা যায়- এসে পৌছাবার পর। এদের জন্যও গেষ্ট কোনো ধরনের অর্থ দিতে রাজী থাকেনা সিংহভাগ ক্ষেত্রে

সুতরাং, অবধারিত একটা ক্যাঁচালময় পরিস্থিতি উদ্ভুত হয়। হোলেটিয়ার কেন সে থাকা খাওয়ার দাম ছাড়বে ২ জনের, এরাও দেবেনা। অনেক ক্ষেত্রেই থানা পুলিশে দৌড়ায়

এবারে এনারা ঘরে ফিরে, সোস্যালমিডিয়াতে ইয়া লম্বা লম্বা পোষ্ট দিয়ে হোটেল, গাড়ি বা ট্রাভেল এজেন্টের নামে খাপ বসিয়ে বিকৃতকাম মস্তিষ্ককে আরেকটু পুষ্টি দেয়

আবারও বলি, বাঙালী ছাড়া এই রোগ অন্য প্রদেশের গরীবস্য গরীবদের মাঝে যেটা দেখা যায়, সেটা শতাংশের বিচারে ১ অঙ্কেই থাকে

আফশোস হয়- পশ্চিমবঙ্গের বাঙালীর এই অংশটার জন্য

 

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...