পশ্চিমা মিডিয়ার গণ প্রোপাগাণ্ডা মূলক মিথ্যাচারের বাইরে গিয়ে তুলনামূলক নিরপেক্ষ কিছু সংবাদমাধ্যম এর দ্বারা প্রচারিত সংবাদ ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে একটা প্রাথমিক ধারনার উপরে ভিত্তি করে চলমান ঘটনাপ্রবাহের উপরে এই লেখা। আমাদের গোদি মিডিয়ারও বাপ এই পশ্চিমা মিডিয়া, যার পেটে ছেলে নেই তাদের কোলে ছেলে করে দিতে এরা উস্তাদ। কিন্তু মজা হল, প্রোপ্যাগান্ডা দিয়ে যুদ্ধে জেতা যায়না, গেলে হি’টলার ও তার প্রোপ্যাগান্ডা মন্ত্রী গোয়েবলস জিততো।
যদিও ঠান্ডা ঘরে বসে গলায় পাউডার, মুখে স্নো লাগিয়ে বুদ্ধিজীবী সেজে বসা কিছু আবাল, আর ইজেরে মগজ রাখা একাংশ ফেসবুকীয় বিশ্লেষক, সোস্যাল মিডিয়ার তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ লাগিয়ে দিয়ে সর্বজ্ঞ পন্ডিত সাজার ভান করলেও বাস্তব পরিস্থিতি মোটেও তেমন নয়। প্রাক্তন KGB চর ও পরে তাদের সার্বিক প্রধান ভ্লাদিমির পুতিন- সাদ্দাম হোসেন বা মুয়াম্মার গাদ্দাফি নয়। প্রতিপক্ষের প্রতিটি সম্ভাব্য চাল কী হতে পারে সেই সম্বন্ধে সম্যক ধারনা রেখে ক্যালকুলেটেড রিস্ক নিয়েই যুদ্ধে নেমেছে- যা রাশিয়ার পরিভাষায় “বিশেষ সামরিক অভিযান”।
১) আজদের দিনে দাঁড়িয়ে রাশিয়া তার লক্ষ্যে ৯০% সফল, কাল কী হবে জানিনা তবে রাশিয়ার বিপক্ষে যাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীন। ইউরোপের খোঁজা রাষ্ট্রপ্রধানগুলো সবকটা কাগুজে বাঘ, সিরিয়া-ইরাক-লিবিয়া-আফগানিস্থানের মানুষদের উপরেই যত কেরামতি ছিল। পুতিনের রাশিয়া যেই একটা করে হুমকি দিচ্ছে, অমনি লেঙ্গুর গুটিয়ে আরো চারটে বাক্যবাণ ছুড়ে ‘চাচা আপন প্রাণ বাঁচা’ প্রকল্পের অধীনে ‘অবরোধ অবরোধ’ খেলায় ছক্কা-পুট গুনছে।
রাশিয়ার লক্ষ্য কখনই গোটা ইউক্রেনের দখল নেওয়া ছিলনা, তাদের মূল লক্ষ্য ছিল নিপার নদীর উত্তর-পূর্ব অংশটা। ইউক্রেনের মোট উর্বর কৃষিক্ষেত্রের ৭০% এই অঞ্চলেই অবস্থিত, যেখানে উৎপাদিত গম বিশ্বের ১৭% চাহিদা মেটায় ও সূর্যমুখী তেলের ৬৫% এর চাহিদা মেটায়। এর বাইরে আরো যে সব অন্যান্য কৃষিজাত ফসল রয়েছে সেগুলো নাহয় উহ্যই থাকুক।
ইউক্রেনের প্রাকৃতিক গ্যাসের ভান্ডারের ৭৭% এই নিপার নদীর উত্তরপূর্ব প্রান্তেই অবস্থিত। সেটাকেও প্রায় নিজেদের দখলে করে এনেছে রাশিয়া। এই প্রান্তেই ইউক্রেনের ৬০% তেলের কূপ গুলো রয়েছে। পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালাতে সুপেয় জলের দরকার হওয়ার দরুন প্রায় সবকটি ইউক্রেনীয় পারমানবিক চুল্লি এই প্রান্তেই অবস্থিত। এর জন্যই ইরপিন নদী লাগোয়াও অঞ্চলও রাশিয়া দখল করে নিয়েছে।
ইতিহাস বলছে, হি’টলারের অজেয় বাহিনী যখন রাশিয়া আক্রমণ করেছিল, এই নিপার নদী অতিক্রম করে করে যাওয়া অধিকাংশ জার্মান সৈন্য বেঁচে ফেরেনি। সুতরাং ভূপ্রকৃতিকগত ভাবেই এই নদীর সীমানা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে ইউক্রেনের সাথে কৃষ্ণসাগরের একমাত্র সম্পর্ক ছিল মারিওপোল সমুদ্রবন্দর, সেটাও রাশিয়ার করায়ত্ত হয়েছে বা দু-এক দিনেই হবে বলে ধারনা করাই যায়। সব মিলে রাশিয়ার জন্য ১০১% ‘উইন উইন সিচুয়েশন’ না হলেও ক্ষতিতে অন্তত নেই।
২) রাশিয়া বা বলা ভালো পুতিন- পশ্চিমা জোট ন্যাটোকে এমন আব্বুলিশ দুদুভাতের দলে ফেলে রেখেছে যে তারা নিজেদেরই নিজেরা চিনতে পারছেনা। এতোদিন তারা নিজেদের বিশ্বের মড়ল ভাবতো ও সেটা অন্তর থেকে বিশ্বাসও করত, পুতিনের এক ইউক্রেন আক্রমন রাতারাতি তাদের নেড়িকুত্তার দশাতে পরিনত করে দিয়েছে। পুতিন ন্যাটোর সাথে যে আচরণ করছে তার নিরিখে- 'চল ফোট' বা কুত্তা তাড়ানো ‘ছেই’ তার চেয়ে অনেক বেশি সম্মানের। অবরোধের ফাঁপা বুলি আউরানো কয়েকটা ইউরোপিয়ান জোকারকে অনেক বেশি হাস্যকর মনে হতো- কিন্তু রোজ পুতিনের হাতেপায়ে ধরা আরো বড় ভাঁড় জেলেনস্কি এদের ভাঁড়ামো গুলোকে একাই অনেকটা ঢেকে দিয়েছে।
সুতরাং গতকাল রাশিয়ার দাবী করা প্রথম মিশন সফলের যে দাবী করা হয়েছে, তা অনেককাংশেই সফল। উল্টো দিকে পশ্চিমা জোট সকাল বিকেল কিছু অশ্বডিম্ব প্রসব করে- শীৎকার করে যাচ্ছে রাশিয়ার রমণ সুখের চরম সুখানুভূতির পালে হাওয়া দিয়ে। এটাও রাশিয়ার নৈতিক জয়, কারন রাশিয়া ন্যাটোকে বাধ্য করেছে মুখ দিয়ে নিয়মিত বাতকর্ম করতে।
৩) ইউক্রেনের দক্ষিন পশ্চিম প্রান্ত নিয়ে রাশিয়ার সামান্যতম মাথা ব্যাথা নেই, অথচ এই দিকের পোল্যান্ড সীমানা দিয়ে আমেরিকা সহ ন্যাটোর বৃহন্নলারা অস্ত্রসহ পাঠাচ্ছেল, রাশিয়া চাইলেই বেলারুশ সীমান্ত দিয়ে সেনা পাঠিয়ে এটাকে আঁটকাতে পারত অতি সহজে। কিন্তু ন্যাটোকে খাটো করে বাঁদরনাচ নাচাবার জন্যই সম্ভবত- এই প্রান্ত অবাধে খুলে রেখেছে। ভাবখানা এমন, "পারলে লড়ে দেখা"। পুতিন তথা রাশিয়া, ৩০ দেশের জোট ন্যাটোকে চুড়ান্ত অপমান করে উলঙ্গ করে দেওয়ার খেলাতে এই যাত্রায় চুড়ান্ত সফল। ন্যাটো যেটুকুও চুড়ুং ফুরুং করছিল- রাশিয়া পরমানু অস্ত্রের গল্প শোনাতেই ‘জোঁকের মুখে নুনের’ মত ন্যাটো আবার পাড়ার বাইড়ে গিয়ে ঘেউ ঘেউ শুরু করেছে।
৪) যুদ্ধে যদি কেউ লাভবান হয়, দৃশ্যত সেটা অস্ত্র বেচে মুনাফা করা আমেরিকা- যাদের প্রেসিডেন্ট গতকাল ইউরোপে গিয়ে গ্যাস বিক্রির একটা অবাস্তব মুলো ঝুলিয়ে দিয়ে এসেছে। কিন্তু যার লাভটা খালি চোখে দেখা যাচ্ছেনা তার নাম হল চীন। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক লেনদেন ব্যবস্থা "SWIFT" থেকে রাশিয়াকে বাদ দিতেই, মার্কিন বিরোধী দেশগুলো সবাই চীনের CIPS এর দিকে ঝুঁকে গেছে। এই সুইফট মূলত মার্কিন ডলার ভিত্তিক একটা সিস্টেম, চীনা বিকল্প অবশ্যই চীনা মুদ্রা দ্বারা পরিচালিত।
সুইফট থেকে বাদ তো দিয়ে দিয়েছে মার্কিন বাবার চাপে, কিন্তু রাশিয়ান তেল গ্যাস বন্ধ করলে তো রাতারাতি ইউরোপে লালবাতি জ্বলবে। সুতরাং, এই সুযোগে রাশিয়া কি করেছে, ইউরোপীয় সমস্ত দেশ গুলোকে আত্মলিঙ্গম পশ্চাদপূরম দশাতে এনে- বাধ্য করছে নিজেদের মুদ্রা রুবেলের বিনিময়ে তেল, গ্যাস ও কয়লা কিনতে। এখানেও ডলারের ঘরে লালবাতি। এ যেন যেই গ্রাম্য প্রবাদের মার্কিন সংস্করণ- “ভাতার মরলে মরুক, সতীন যেন বিধবা হয়”।
সাধে কি আর বাইডেন তড়িঘরি ব্রাসেলসে উড়ে এসে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছে। কিন্তু সে গুড়ে বালি, এক্ষেত্রেও হম্বিতম্বি টুকুই সার। রাশিয়ার উপরে দেওয়া নিষেধাজ্ঞায় রাশিয়ার যা ক্ষতি হয়েছে, ইউরোপের ক্ষতির পরিমাণ তার চেয়ে কয়েকগুন বেশি। তবে যেহেতু হানিমুন পিরিয়ড শেষ, তাই মুখ ফোটার পাশাপাশি- বুক ও পেছন একসাথে ও স্বশব্দে ফাটছে সকলের। বেলজিয়াম সাফ জানিয়ে- যুদ্ধ আমাদের দেশে বাঁধেনি, তাই রাশিয়ান তেল-গ্যাস তারা বন্ধ করবেনা। জার্মানি, অষ্ট্রিয়া, নেদারল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, লাটাভিয়া, এস্তোনিয়া সহ ২৪টা ন্যাটো ভুক্ত দেশ কাগজে কলমে নিষেধাজ্ঞা দিলেও বস্তুত রাশিয়া থেকেই গ্যাস আনছে। তবে আগে লেনদেন হতো ডলারে, এখন হচ্ছে রুবেলে বা চাইনিস ইউয়ানে।
তাহলে আসলে ফাটলো কার! মারছে ইউক্রেনে, লাশ পরছে আমেরিকায়। তবে সবচেয়ে শকিং বিষয়টা পোল্যান্ডের, তাদের রাষ্ট্রপতি- বাইডেনের সাথে দেখা করার জন্য যে প্রাইভেট প্লেনে রওনা দিয়েছিল- কোনো এক অজানা কারনে সেটা জরুরী অবতরন করেছে ও রাষ্ট্রপতি অন্তর্ধানে চলে গেছেন। কেউ জানেনা এর কারন কি! পুরো ঘ্যেটে ঘ...
বাইডেন তার ছেলে হান্টার বাইডেনের ব্যবসা বাঁচাতে এসেছে, আর তার মাঝে যদি একটা অবাস্তব শর্তে ইউরোপে কিছু গ্যাস বিক্রি করা যায় চড়া দামে- সেটা তো চাঁদমারি। কিন্তু ইউরোপের চাহিদা যদি একটা কুমড়োর সাইজের হয় সেখানে আমেরিকার গ্যাসের সাপ্লাই বড়জোর একটা আঙুরের মাপের। অতএব, রাশিয়া বিনে গতি নেই। গোটা ইউরোপ যতই তম্বি আর মুখে ও খাতায় বাঘ মারুক, তাদের মিডিয়া যতই রাশিয়ার অর্থনীতিকে আতালান্তিকে তলিয়ে দিন- রোজ পয়সা দিয়ে তেল গ্যাসটা রাশিয়া থেকেই কিনছে ও কিনবে। G-20 থেকে রাশিয়াকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করা মাত্রই চীন যেভাবে রে রে করে বিরোধিতা করেছে, বাকি একটা সেয়ানাও আর টুঁ শব্দটি করেনি। তাহলে দাঁড়ালো কি! ন্যাটো আসলে হাতির দাঁত মাত্র, যাদের আগামী অস্তিত্ব সঙ্কটে।
ডুবছে আসলে ডলার, বিশ্ববানিজ্যের লেনদেনগত স্থিতাবস্থা ঘ্যেটে গেছে, নতুন বৈশ্বিক অর্থব্যবস্থার আগমন আসন্ন আর সেটা কখনই ডলার নির্ভর না, হবে এটা লিখে দিয়ে গেলাম।
গল্পটা কিন্তু এখানেই শেষ নয়।
<<<<><<>>>>>>>>>><<>>>
আরব আমিরাত বা বলা ভালো দুবাই যে দেশের অর্থনৈতিক রাজধানী, যাদের OPEC এর বাইরে অস্তিত্ব পোস্তদানার সাইজের, তারাও গত দু-এক দিনের মধ্যে মস্কো সফর করে এমন তম্বি করছে - যেন সেও কিম জং এর মত একটা মিনি সুপার পাওয়ার। প্রশ্ন হচ্ছে, এরা তো এতোদিনের মার্কিন রক্ষীতা, আজ সেই "বাবু" আমেরিকার বিরুদ্ধে যাবার সাহসটা কে দিল বা কোথা থেকে পেলো?
ওদিকে গত সপ্তাহে মার্কিন বিদেশমন্ত্রী এ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন সৌদি সফর করেছিল, সেখান থেকে ঠনঠন গোপাল হয়ে ফিরেছে। ইরাণ, ভেনেজুয়েলা, কাতার সহ অন্যান্য তেল সমৃদ্ধ দেশ গুলোও যুক্তরাষ্ট্রকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দর্শন করিয়ে রাশিয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে একপ্রকার।
মধ্যপ্রাচ্যে বন্ধুত্বের সংজ্ঞা বদলে যাওয়ার সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। ইজরায়েল কখনই রাশিয়াকে চটাবেনা, সেক্ষেত্রে সিরিয়ান বিদ্রোহীদের যদি রাশিয়া অস্ত্র সরবরাহ শুরু করে, ইজরায়েলের দখলে থাকা গোলান মালভূমি সহ অনেকটা জমি খুইয়ে ফেলবে। নিজের ভালো ক্ষ্যাপাতেও বোঝে, সেখানে ইজরায়েল তো মহা সেয়ানা।
এদিকে বাকসর্বস্ব আমেরিকার ফাঁপা দশা আমাদের মত তৃতীয় বিশ্বের নাগরিকেরা দেখে নারকীয় সুখ অনুভব করলেও- দাদা হওয়ার নেশায় বুঁদ ইজরায়েল কিন্তু বসে থাকবেনা। সে আমেরিকাকে মেরেই উত্থান ঘটাবে, এই মার হাতে নয়, ভাতে হবে।
সৌদি, মিশর, বাহারাইন, জর্ডন, সুদান, আমিরাতের মত দেশ গুলোকে নিয়ে যদি কোনো নতুন একটা গোষ্ঠী বানিয়ে ফেলতে সক্ষম হয়- দাঁওটা ইজরায়েলই মারবে দিনের শেষে। প্রযুক্তিগতভাবে তেলসমৃদ্ধ ইসলামিক দেশগুলো বস্তুত "ক অক্ষর গোমাংস", উলটো দিকে ইজরায়েলই আজকের দিনে প্রযুক্তিগত ভাবে বিশ্বের টপ বস। সুতরাং উপরোক্ত দেশগুলো সহ- ইরাক, সিরিয়া, ওমান বা কাতারের মত দেশগুলোর সাথে দৌত্য করে রাতারাতি কোনো আঞ্চলিক গ্রুপ বানিয়ে না ফেলাটাই এখন আশ্চর্যের হবে। এমন একটা অসম্ভব ‘আঞ্চলিক মিত্র গ্রুপ’ তৈরি হয়ে গেলে মরোক্কো থেকে সুদান কেউ ই কিন্তু যোগ দিতে বাদ থাকবেনা। অচিরেই আমরা এমনই কিছু একটা অসম্ভব দেখতে চলেছি সম্ভবত।
এতে অনেক পাখি একসাথে মরবে। প্রথমত মার্কিন যুগের অফিসিয়াল পরিসমাপ্তি ঘটবে। রাশিয়াকে সুইফটে ব্যান করার মাধ্যমে নিজেরাই নিজেদের তৈরি ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে রুবেলে তেল কিনছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এখন তেল কেনা দেশ গুলো যদি ডলারে লেনদেন না করে, তাসের ঘরের মত রাতারাতি ধ্বসে যাবে ঋণে জর্জরিত মার্কিন অর্থনীতি। সোনা সম্পদ লুঠ করে কাগজকে বৈশ্বিক মুদ্রা বানানো ভুঁয়ো অর্থনীতির সলিলসমাধি ঘটতই, সেটা এখন দিনের আলো দেখবে।
চীনেরও সামরিক অগ্রগতি রুখে দেওয়া যাবে। কারন চীনের ৯৫% জ্বালানি তেল বাইরে থেকে আনতে হয়, যার ৭০% সরবরাহ করে মধ্যপ্রাচ্য। সুতরাং ইজরায়েল যদি এমন একটা জোট বানাতে সক্ষম হয়, সেক্ষেত্রে চীন যতবড় অর্থনীতিই হওক আর যত অস্ত্রেরই মালিক হোকনা কেন, তেলের জন্য ইজারেয়েলের মাথায় কখনই চড়তে পারবেনা চীন।
গোদা বাংলায় মোদ্দা কথা হচ্ছে, খনিজ তেলের নিয়ন্ত্রণ যার হাতে আগামীর বিশ্বের দাদা সে হবে।
আর মুর্খ ইসলামিক দেশগুলোর গাণ্ডু বাদশা সুলতানগুলোর ঘটে সেই বুদ্ধি নেই যে নিজেরা জোট বেঁধে এই মুহুর্তে পূর্ব পশ্চিমের সব ব্যাটাদের জুতো চাঁটতে বাধ্য করে।
উপসংহার
++++++
গত শতকের ধারাবাহিকতা অনুযায়ী, বিশ্বের প্রতিটি যুদ্ধ থেকে একটা দেশই লাভবান হয়েছে- তার নাম ইজরায়েল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট থেকে ফিলিস্তিনের ভূখন্ডের সনদ পেয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে সেই সনদপ্রাপ্ত দখলি ফিলিস্তিনি জমিতে বসতি স্থাপন করে হলোকাস্টের জুজু দেখিয়ে। তাই, এই ইউক্রেন যুদ্ধ শেষে কে হারলো- রাশিয়া না ন্যাটো সেই গল্প ভুলে যান।
কারন এখানেও জিতবে ইজরায়েল।
মিলিয়ে নেবেন, উত্তর ২০২৩ ই দিয়ে দেবে।