বৃহস্পতিবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৩

অভিযোগ বিহীন সম্পর্ক

 


অভিযোগ বিহীন সম্পর্ক অনেকটা লবণহীন তরকারীর মতো, যেটাতে কোনো স্বাদ পাওয়া যায় না। যদি দুটো মানুষই একে অপরের খোঁজ না নিয়ে দিনের পর দিন কাটিয়ে দেয়, আর সেইটা নিয়ে যদি একে অপরের মাঝে কোনো অভিযোগ না থাকে, তাহলে সেই সম্পর্ক একদিন বিচ্ছেদে গড়াবেই। অতিরিক্ত অভিযোগ যেমন লবণপোড়া অখাদ্য, তেমনই হিমশীতল সম্পরর্কের আয়ুও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারেনা। পরিমিতবোধ এটার জন্য জরুরী, কোনটা আমার আর কোনটা আমার নয়। কোনটা দীর্ঘস্থায়ী আর কোনটা ক্ষণস্থায়ী। কোনটা দায় আর কোনটা দায়িত্ব, এই সুক্ষ বিষয়ের মধ্যে দিয়েই হিমালয়সম সুউচ্চ মায়া, সমুদ্রের মত গভীর প্রেম- ভালবাসার সকল বড় বড় প্রতিশ্রুতি উবে যায় কর্পূরের মত।

যে মানুষটা তোমাকে ভালোবাসবে, সে অভিযোগ করবেই, কারণে অকারণে অভিযোগ করবেই, খোঁজ নিলেও করবে, না নিলেও করবে। হ্যাঁ, এটাই ভালোবাসার ধর্ম, পজেসিভনেস বা অধিকারপ্রিয়তা সম্পর্কের আশির্বাদদুটো মানুষের মাঝের দৃষ্টিভঙ্গির কারনে এর রূপ নানা ভাবে ধরা দেয়। যারা একে অপরকে ভালবেসে সম্পর্কে জড়ায়, তাদের প্রথম প্রয়রিটি তথা অগ্রাধিকার যদি একে অন্যের প্রতি না হয়ে- পেশা, বা অন্য তৃতীয় কেউ হয়– হতে পারে সেটা বাবা, মা বা অন্য নিকটআত্মীয়, কিম্বা সন্তানই সই, সেই সম্পর্ক শুকিয়ে যাওয়া সময়ের দাবী। ক্রমশ টানহীনতা অনুভব করবে উল্টদিকের মানুষটা, আর এর রাশ টের পাবে অন্য মানুষটাও, যে ভালবাসার মানুষকে উপেক্ষা করে বাকি পৃথিবীকে দায় বা দায়িত্ব ভেবে অস্থির হয়ে রয়েছে। সম্পরর্কের মাঝে টান কমে আসে, দূরত্ব বাড়ে, যোগাযোগ কমে যায়। টানহীন সম্পর্ক হচ্ছে ছাদহীন ঘরের মতো, যেখানে একে অপরের জন্য টান নে, মায়া নেই, সেখানে সম্পর্কের কোনো মূল্যও নেই। এ সম্পর্ক মৃত, আর মৃতের শুধুই সৎকার করা যায়।

ভালোবাসার বিপরীতে মানুষ অভিযোগ করবেই, অল্পবিস্তর সন্দেহ থাকাটাও সুস্থতার লক্ষণ, এতে করে ভালবাসার গভীরতা প্রকাশ পায়, সাথীকে হারিয়ে ফেলার ভয়ের অস্থির একটা মধুময় ভাবের চিত্র ফুটে উঠে, কারন ভালোবাসা এখানে গভীর থাকে। যেখানে কৈফিয়ত দেবার প্রয়োজন নেই, যেখানে অভিযোগ নেই, যেখানে সন্দেহ নেই, যেখানে অধিকারপ্রিয়তা নেই, সেখানে ভালোবাসাও নেই। পরে থাকে শুষ্ক মৃত সামাজিকতা, আর যেচে নেওয়া কিছু দায়- বস্তুত যা ছিল একান্ততই অপ্রয়োজনীয় দুজনের সম্পর্কের মাঝে। মৃতের সাথে সংসার হয়না, সহবাস হয়না, ভালবাসাও হয়না, শুধু সৎকার হয়।

একটু খোঁজ না নিলে যে মানুষটা অভিযোগ কর, একবেলা ফোন না করলে বা না ধরলে যে মানুষটা রেগে বেহুঁশ যেতো, সে তোমাকে ভালোবাস বিধায় এমনটা কর। মানুষটা তোমার আরও কাছে যাবার আশায় অভিমান করত, তোমার এ্যাটেনশন পেতে চাইতোযেদিন ভালবাসা মরে যায়, মাস ঘুরে বছর গেলেও সেই ফোন না করা বা না ধরা নিয়ে আর কোনো মানবিক বিকার মনের পটে দাগ কাটেনা। স্নায়ু আর সেই উত্তেজনা বোধ করেনা, কারন কমিটমেন্ট যেখানে মরে যায়, সেই সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক শ্রাদ্ধ শান্তি করে মৃতদের তালিকাতে নাম লেখাতে হয়, সময়ের দাবী মেনে।  

সত্য হচ্ছে, যেখানে অভিযোগের কদর পাওয়া যায় না, সেখানে মানুষ থাকতে চায় না, অভিযোগ ছাড়া কোনো সম্পর্ক হয় না, মনের চাওয়া পাওয়া থেকেই মানুষ মূলত অভিযোগ করে। ভেবে দেখো তো, আজ যে মানুষটার অভিযোগ তোমার কাছে বিরক্তিকর মনে হচ্ছে, কাল সেই মানুষটা অভিযোগ করা বন্ধ করে দিলে তখন পরিবর্তনটা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? হ্যাঁ, একসময় অভ্যস্ত হয়ে যাবে সেই নতুন জীবনে, হত নতুন কেউ আসবে, কিম্বা গতানুগতিক ধারাতে চলবে। কিন্তু ফেলে আসা অনেক স্বপ্নের সম্পর্কটাকে কবর দিতেই হবে, কারন অবহেলার আঁচে এতদিনে সে মৃত। আর মৃতকে ঘরে ফেলে রাখলে সে দুর্গন্ধের ছাড়া কিছুই দেবেনা।

যে মানুষটা ভালবাসে, কদর করে, তার অভিযোগ, অভিমান, রাগ সবকিছুর সমান গুরুত্ব দাবী রাখে। নতুবা যে ‘দায়’দের জন্য এই অভিযোগ, উপযোগের, মিষ্টি মধুর তিক্ততা থেকে দূরে গিয়ে সম্পর্কটাকে মেরে ফেলা হয় অবহেলা দিয়ে, সেই ‘দায়’রা আগামীতে নিজেদের জীবনে সেটেলড হয়ে তোমাকে নিয়ে আহা উহু করে খানিকটা করুণা দেখাবে বড়জোর। আর তখনকার তুমি খানিকটা অভিযোগ শোনার জন্য, খানিকটা ফোনের আশায়, খানিকটা সেই টক মিষ্টি তিক্ততার আশাতে হাপিত্যেশ করবে চাতকের মত শেষ নিঃশ্বাস অবধি। কারন তুমি জানো, তুমি খুন করেছো সম্পর্ককে মিথ্যে ‘দায়’ এর অজুহাতে, নিজেকে, নিজের সুবর্ণ রঙিণ অতীতকে আর একটা দুর্দান্ত সম্ভাবনাময় আগামীকে। অন্যের সুখ দেখে, ভালবাসাময় ঘরগার্হস্থ্য দেখে হাহাকার, ঈর্শা আর লোভটুকুই দৈনন্দিনের সাথী হবে।

ভালবেসে যে একদিন বেহায়া হয়েছিল, দুনিয়ার প্রতি অন্ধ হয়েছিল, তারও চোখ খুলে দেয় সময়। গুরুত্ব পাচ্ছেনা জেনে সে চিৎকার করতে থাকে, অপরাধ নেই জেনেও ক্ষমা চায়, কারন মায়ায় ঘেরা স্মৃতির জঙ্গলে সে হাঁসফাঁস করতে থাকে। ভালবাসাকে লালন করাটা বড় জরুরী, তাকে যত্নআত্তি না করলে, তাকে অভিযোগ- অনুযোগ আর অধিকারপ্রিয়তার মসলাতে না নিত্য সেঁকলে একদিন সে মরে যায়, সৎকারের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে নেয়, আর সেটা ছবি হয়ে যায় একদিন। ভালবাসা এমন এক অনুভবের নাম, যা মানুষকে দিয়ে সব করাতে পারে, জীবন দিতেও পারে, নিতেও পারে।

রবিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৩

এক পাহাড় প্রেম



সৃষ্টিকর্তা পাহাড় বানিয়েছে, সেখানে সবুজ বন দিয়েছে, আর আছে সেই সবুজ বনের খাঁজে খাঁজে উচ্ছল ঝর্ণা। রয়েছে খরস্রোতা পাহাড়ি নদীর কলধ্বনি যারা বাতাসের সাথে যুগলবন্দিতে একটা মিলনাত্বক বন্দিশের সৃষ্টি করে। পাহাড়ি বনের মাঝে জমে থাকা লক্ষ লক্ষ বছরের প্রাচীন দই-জমা কুয়াশাতে লেখা ছিল আমার ঠিকানা।

আমাদের জীবনটাও এই পাহাড়ের মতই, দাঁড়িয়েই থাকি অধিকাংশ সময়, কত এবড়োখেবড়ো পথ, কান্নার নদী, হাসির ঝর্ণা, অন্ধকার কুয়াশাচ্ছন্ন আগামীকাল, পাকদণ্ডী বেয়ে শুধুই চড়াই আর উৎরাই, দু'ধারে কত সম্পর্কেরা পরে রয়ে যায় রঙিন পাহাড়ি ফুলের মতো, মেঘের মতই ঋজু বনানীতে জমা থাকে বেদনা, হতাশা আর ব্যর্থতার বাষ্প, ভোরের সুর্যের মত উঁকি দেয় সুখ, তারপর সেই সুখ পুড়িয়ে দিয়ে অস্ত যায় আরেকটা সুখকে আনবে বলে। হিমেল ঠান্ডা, একটা অন্ধকারের চাদর গায়ে শুয়ে পরে পাহাড়, জীবনও। পাহাড়েও ভূমিধ্বস হয়, ঝরে যায় জীবন- কত সমার্থক এই জীবন নামের পাহাড়ের সাথে- জীবন্ত পাহাড়ের। আমরা তো শুধু হেঁটে পেড়িয়ে যাবার চেষ্টা করি মাত্র। না পাহাড়ে বাস করি, না জীবনে- শুধু দৌড়ে মরি।
অথচ আমরা কোথায় ঘুরে মরছি! ভেবে দেখেছেন, আমরা কার সাথে জিতে কী হাসিল করতে চাইছি? সত্যিই আমরা কত কাজ করি, পরিশ্রম করি, বাড়ি-গাড়ি-সংসার-অর্থসম্পদ সঞ্চয় করি, কিন্তু হিসাব কষে বলতে পারবেন- কদিন বেঁচেছিলেন ঠিক যেমনটা বাঁচতে চেয়েছিলেন বা বাঁচা উচিৎ ছিল! আপনার স্মৃতি পটে কী নিজেকে সঞ্চয় করতে পেরেছেন?
এমন কোথাও, এমন কোনোখানে, আমরা গোটা জীবনটা কাটিয়ে দিই, যে জায়গার অধিকাংশটা 'আমার' ছিলইনা কখনও। নিজের সাথে জেতার বদলে আমরা সেই মানুষগুলোর সাথে অলীক রেস লাগিয়ে দিই, যারা কখনই 'আমার' ছিলনা।
বিলাস বস্তু সুখ দিলেও, মানসিক শান্তি দিতে অক্ষম। অভিলাষ আর প্রয়োজনের মাঝে যে বিষয়টা থাকে তার নাম মানসিক পরিতৃপ্তি।
আর এই পরিতৃপ্তির জন্যই আমরা বেড়িয়ে পরি- সেই পরিবেশের উদ্দেশ্যে, যা আমাদের আসল ঠিকানা, যেখানে কৃত্রিমতা নেই, প্রকৃতির মোহনীয় রূপটানের কৌমার্য আজও অক্ষতযোনি-
সময় হলে আসবেন কখনও আমাদের পাড়ায়, হিমালয়ে- যেখানে আনাচেকানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে তাল তাল জীবন.....

শনিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

শিল্প পতি সৌরভ গাঙ্গুলী

 


অপর্ণা- কৌশিক থেকে শাঁওলী, বাইচুং, প্রসুন থেকে লক্ষী-মোনজ, ওদিকে সন্ধ্যা রায় থেকে অদিতি মুন্সী- দেব থেকে শুভাপ্রশন্ন হয়ে ব্রাত্য বসু, এমনকি হালের সায়নী থেকে অপগণ্ড সায়ন্তিকা, কিম্বা টিকটক স্টার সুজতা মণ্ডলকেও ছাড়েনি পিসি। সিমি থেকে হিন্দু সংহতিমঞ্চ, এঁটোকাঁটা খেকো সাংবাদিক- যার যতটুকু ফেম ছিল- অর্থ আর যশের লোভ দেখিয়ে পাবলিক্যালি তাদের সবটা নিংড়ে ব্যবহার করে নিয়েছে উন্ননেশ্বরী। অবশ্য যারা এসেছিল তারাও কম কিছু লাভবান হয়নি উপযোজী মডেলে।

এখন আর শতাব্দী চিরঞ্জিৎকে দেখতে বাচ্চারাও জোটেনা, সোহম বা কবি সুবোধের থেকে রানু মণ্ডলের ক্রেজ বেশী। অথচ শিয়রে লোকসভা, চমক চাই

যেকোনো নেটো বা যাত্রাপালাতে চমকটাই মূল আকর্ষণ - বাকি সবই গতে বাঁধা। তাই সুপার সাইক্লোরামা আলো, কখনও ঘূঁর্নায়মান মঞ্চ তো কখনও বুগিবুগি ড্যান্স- যাত্রার শুরুতে লোক জড়ো করতে এই ভড়ং গুলো বড্ড জরুরী

যারা মাদারীর খেলা দেখায়- তারা মূলত মাদুলি বা শেকড়বাকড় তথা তেল ইত্যাদি বেচে, কিন্তু বাঁদর নাচ বা মাদারির খেলা না দেখালে লোক জড়ো হবেনা

রাজ্যে এখন তাজা বাঁদরের বড় অভাব, অতীতের সব বাঁদর এখন উন্নয়নের কলা খেয়ে আত্মলিঙ্গমপশ্চাদপুরম দশা। কমবেশী সকলেই প্রতিষ্ঠিত চোর যা নিয়ে তাদের কোনো হীনমন্যতা নেই, বরং চোর হিসাবে কাগজে নাম না উঠলে বা তদন্তকারী সংস্থা না ডাকলে এদের বাড়ির লোক বিশ্বাসই করেনা যে তোলামূল দলে কল্কে পেয়েছে এরা

এখন এই আকালের বাজারে সৌরভ ছাড়া তেমন মুখ কই, যাকে দিয়ে সর্বভারতীয় ভাবে চমক দেওয়া যায়। BCCI থেকে একপ্রকার বিতারিত হয়ে প্রায় কর্মহীণ মিঃ গাঙ্গুলী। পাপা-কি-পরা জয় শাহ এর বোর্ড- কমেন্ট্রিতেও নেয়না। এমতাবস্থায় একটা রাজ্যসভার টিকিট- আগামী ৬ বছর ধরে মাসিক ৪-৫ লাখের একটা নিশ্চিত রোজগার দেবে। অতঃপর অবশিষ্ট জীবনভর পেনশনের নিশ্চয়তা।

জগমোহন ডালমিয়ার নিজশ্ব ব্যবসা ছিল, ক্রিকেট পরিচালনাতে ছিল মূলত যশের লোভে, বাকিটা ক্রিকেটের প্রতি ভালবাসা। সেখানে গাঙ্গুলী বাবুর ক্রিকেটই রোজগারের জাইগা, যে দুয়ার আপাতত বন্ধ। সুতরাং, নিত্য রোজগারের একটা তো জাইগা চা- নাকি! তাছাড়া একজন প্রতিষ্ঠিত ধান্দাবাজের কাছে এটাই স্বাভাবিক

কে ছাড়ে এমন সুযোগ! কোনো ব্যবসায়ীই এটা ছাড়বেনা। ফ্যাক্টিরি ট্যাক্টরির কথা হলো- ঐ পার্সেলের মোড়ক, যেটার কাজ শুধু আসল বিষয়টা বহনে, মূল জিনসটা সার্ভ হয়ে গেলে প্যাকেজ তখন আস্তাকুঁড়ে চলে যাবে

এই আরকি-

 

বুধবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

দেশজ বিমান ব্যবস্থা- INDIA নয়, IndiGo


 

বিমান পরিবহন, আজকের দিনের ভারতের ১৪৩ কোটি জনসংখ্যার দেশে শুধুই বড়লোকের যান নয়

২০২৩ এর মে মাসের DGCA এর ডেটা অনুযায়ী- ১,৩২,৬৭০০০ মানুষ গত বিমান পরিসেবা নিয়েছেন, যার মধ্যে ১,১৪,৬৭০০০ মানুষ আন্ত:দেশীয় বিমান পরিসেবা নিয়েছে। যেটা আমেরিকা, চীন ও রাশিয়ার পরেই আমাদের দেশ চতুর্থ স্থানে আছে

এমতাবস্থায় দাঁড়িয়ে দেশের বিমান পরিসেবা প্রদানকারী সংস্থা গুলো হাল কী অবস্থায় আছে?

এই মুহুর্তে Pan India জুড়ে পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা রয়েছে খাতায় কলমে ৯ টি, যার মধ্যে TATA Group এরই ৪টে- এয়ার ইন্ডিয়া, ভিস্তারা, এয়ার এশিয়া ও এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস। এছাড়া AIX Air, Akasha Air, Go First, Spice Jet, ও ইন্ডিগো

আঞ্চলিক ভাবে- দিল্লি কেন্দ্রিক এলায়েন্স এয়ার, বেঙ্গালুরু কেন্দ্রিক স্টার এয়ার, গুয়াহাটি কেন্দ্রিক ফ্লাইবিগ, ও ভুবনেশ্বর কেন্দ্রিক ইন্ডিয়া ওয়ান এয়ার। এগুলো সব কটা নাম কা ওয়াস্তে, যারা বিমানযাত্রা সম্বন্ধে খোঁজখবর রাখেন তারা প্রত্যেকেই জানেন। Welcome সিনেমার ডন উদয় শেট্টীর Sanjana Airlines এর মতই

সংখ্যার হিসাবে ১৩টি, কিন্তু actual functioning condition এ কতগুলো সংস্থা আছে! টাটারা এয়ার ইন্ডিয়া অধিগ্রহনের পর এখনও অবধি সেভাবে শুরুই করতে পারেনি। স্পাইস জেটে যেকোনোও দিন তালা ঝুললো বলে, আকাশ এয়ার কোনোদিন চলে কোনো দিন চলেনা। বাকিদের অবস্থাও তথৈবচ

অথচ ভারতের এয়ারপোর্ট গুলোতে দৈনিক ৬৯০০ এরও বেশি বিমান অবতরন করে, যার মধ্যে গড়ে ২৬০০টি আন্ত:দেশীয় প্যাসেঞ্জার বিমান, বাকিগুলো আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী ও কার্গো বিমান

অফিসিয়াল ডেটা অনুযায়ী, ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলো কতগুলো ফ্লাইট দেশের ভিতরে দৈনিক গড়ে উড়ে বেড়াচ্ছে তার তালিকা-

Ari Asia- 28

Air India- 31

Akasha Air- 20

Alliance air - 22

Air India Express- 19

Fly Big- 4

India one Air- 2

SpiceJet- 35

Star Air- 8

Vstara- 37

এবং

Indigo - 330

মজা হলো- আপনি টিকিট কাটতে গিয়ে বিপুল দাম বিশিষ্ট এয়ার ইন্ডিয়া ব্যাতিরেকে আর কাউকে পাবেননা, অগত্যা Indigo ই অন্ধের যষ্টি। কারন বাকিদের ১০% বিমানও আসলে আকাশে থাকেনা, বিমানপোতের খুঁটোতে নোঙোর করাই থাকে

হ্যাঁ, এটাই সত্য। মাত্র কয়েকদিন আগে দিল্লি ডোমেস্টিক T2 টার্মিনালের একটা ভিডিও, Indigo ছাড়া নেই, কিচ্ছু নেই। অথচ এটা দেশের কোনো প্রান্তিক বিমানপোত নয়- দেশের রাজধানীর একমাত্র বিমানপোত, আর এটাই বাস্তব। এটাই বিভীষিকাময় আগামীর সঙ্কেত

অথচ অর্থনীতির বিচারে আমাদের চেয়ে পিছিয়ে থাকা অনেক দেশেও বিমান পরিষেবার ক্ষেত্রে নানাবিধ কোম্পানি আছে, যেখানে উপভোক্তা তার সুবিধামত সংস্থাকে বেছে নিতে পারেন

আজকে হঠাৎ যদি কোনো কারনে ১ দিন Indigo Airlines বসে যায়- গোটা দেশের বিমান পরিবহন জাষ্ট চুরমার হয়ে যাবে। সেকেন্ডারি কোনো অপসন নেই, জাষ্ট নেই। এটাই ৫৬ ইঞ্চির বিকাশ সন্দেহ নেই

গত ৯ বছরের মধ্যে ভারতীয় বিমান পরিষেবাদায়ক সংস্থা গুলোকে আজদের এই দিনে এনে উপস্থিত করেছে "বিশ্বগুরু" তথা বিকাশ পুরুষ। আপনি বলতেই পারেন- এখানে উনি কি করলেন? আচ্ছা- চন্দ্রযান ল্যান্ডিং এর সময় কার মুখ দেখেছিলেন টিভির পর্দায়? চন্দ্রযানের কৃতিত্ব যদি ওনার হয়- দেশজ বিমান সংস্থার বর্তমান হালের দায় জহরলাল নেহেরুর?

দেশের টেলিকম সেক্টরে যেমন জিও ছাড়া দ্বিতীয় একমাত্র অপসন এয়ারটেল। হ্যাঁ ভোডাফোন আর BSNL আছে, কিন্তু খাতাতেই- যেমন indigo ছাড়া বাকিরাও খাতায় আছে, আকাশে নয়

এর পিছনে কোন স্ক্যাম আছে সেটা বিশেষজ্ঞরা বলতে পারবেন ভালো, কিন্তু যেহেতু এটা আম মানুষের দৈনন্দিন বিষয়ের মধ্যে পরেনা, তাই এটা প্রদীপের আঁধারের নিচেই রয়ে গেছে

বিমানবন্দর গুলোকে আদানীর হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে, আদানি মালগাড়ি চালাচ্ছে, কে বলতে পারবে এ সবই ADANI Airlines এর জন্য মঞ্চ প্রস্তুত হচ্ছে কিনা!

Indigo ছাড়া দেশের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ রুটে দ্বিতীয় কোনো অপসনই নেই, গেলে যাও নতুবা যেওনা- dynamic fair system এর গুঁতোতে ফ্লাইটে যাতায়াতকারী জনগনের নাভিশ্বাস অবস্থা, রীতিমতো দিনে ডাকাতি করছে। মেডিকেল ইমারজেন্সীর ক্ষেত্র গুলোতে রোগীকে প্রাণে বাঁচাবার দায়ে ঘটিবাটি বিক্রি করে বিমানে যাতায়াতের সুবিধা কিনতে হচ্ছে।

ইনকিলাব জিন্দাবাদ বা আসসালামু আলাইকুম বলা জনগোষ্ঠীকে নাহয় বাদ দিন। তারা দ্বিতীয় শ্রেনীর নাগরিক, মাত্রাতিরিক্ত দাম দিয়ে কিনতে বাধ্য। আমি জয় শ্রীরাম ধ্বনি তুলে আমি নিজে দেখেছি, আমার অন্তত ভাড়া কিছু কমেনি, সহি ভক্তরা সঠিকটা বলতে পারবেন।

সরকার অবশ্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ব্যস্ত- " India না ভারত" এই নিয়ে

রবিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

যুবভারতীতে পুলিশ প্যারেড



আজ যুবভারতীতে ডুরান্ড কাপের ফাইনালের আগে দেখছি কোলকাতা পুলিশের নানান ধরনের কর্মকুশলতা, বিষয়টা দারুন সন্দেহ নেই।

কিন্তু, কোলকাতা পুলিশের দক্ষতা সবচেয়ে বেশি যে বিষয়ে- সেই "চলন্ত ট্রাকের জানালা দিয়ে টাকা অর্থাৎ তোলা আদায়" এটার ডেমোস্ট্রেশনটা দেখতে পেলামনা।
বাইক শো গুলো যে ট্রাকে হচ্ছিলো- সেখানে কিছু ছোট ট্রাক ঢুকিয়ে দিলেই কেল্লা ফতে, কী অসাধারণ দক্ষতাতে টাকা আদায় করতে হয় সেটা সকলে দেখতো।
এছাড়া- টেবিলের তলায় লুকানো বিষয়ে দক্ষতা, ShiT গঠনের নামে চোরামুলের ডাকাতির ফাইল লোপাট, ইত্যাদি- এগুলোও এক একটা স্মরণীয় show হতে পারতো।
দেখাচ্ছোই যখন সবটা দেখাও, নিজেদের সেরা প্রতিভাগুলোকে এভাবে চেপে রাখাটা জাতির জন্য ক্ষতিকর।
এখানেই একটু হতাশ হলাম-

শুক্রবার, ২১ জুলাই, ২০২৩

রুচির দুর্ভিক্ষ- অভাগীর স্বর্গ



শিল্পে যখন দুর্ভিক্ষ নামে, সংস্কৃতি তখন চুটুল মনোরঞ্জনের পাঁকে নিজেকে মেলে ধরে। দীর্ঘ দেড় দশকের সালতামামির নিরিখে তথাকথিত পরিবর্তনের ধ্বজাধারী বাবুদের মনোরঞ্জনের জন্য তাবড় খেমটাওয়ালি বিবিদের ভিড় জমেছিল মোকাম কালীঘাটেশ্বরীর দরবার শরীফে। অত:পর এনারা রাজবদান্যতায় আইন সভার হর্তাকর্তা বিধাতা রূপে আবির্ভূত হয়েছেন এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় সমাসীন হয়ে কর্ত্রীর আজ্ঞাবহ দাসে পরিনত হয়েছে।

এভাবেই সময়ের আবর্তনে একটা রাজনৈতিক দল, গোটাটাই বাইজিখানায় রূপান্তরিত হয়, যেখানে যেকোনো মূল্যে সেঁধিয়ে যেতে পারলেই- রোজ মেহফিল। ওনার 'কন্ট্রোলিত' গুন্ডা বাহিনীর সমস্বরে ক্যায়া বাত ক্যায়াবাত ও নাজুক নাজুক জাতীয় তারিফ লফজের মেহেরবানিতে মেহফিল-ই-মিদাল রোজই নরক গুলজারের খুশবুতে মাতোয়ারা হয়ে থাকে।
আর এই মেহফিলের রসদের জন্য নির্বিচারে আর্থিক লুঠ আসলে প্রয়োজনের দাবী, নতুবা প্রত্যেকেই শিল্পী মানুষ সন্দেহাতীত ভাবে। বঞ্চিত জনগনের কাছে এ তো হরির লুঠ, পেটে ভাত থাক বা না থাক, নায়ক নায়িকা গায়ক গায়িকার এমন "দুয়ারে বিনোদন" অতীতে ঘটেনি। সুতরাং, চালাও পানসি আদি গঙ্গা।
এ দলে কোনো নবিশ কেউ এলে, তাকে মুজরা দিয়েই শুরু করতে হবে। কারন পঞ্চায়েত প্রধান থেকে শুরু করে MLA/MP হতে গেলে- আর কিছু হোক বা না হোক, বাজারি নাঁচনকোঁদন জানাটা আবশ্যিক। এর সাথে থাকতে হবে লজ্জাহীনতা, নির্বুদ্ধিতা আর জ্বী-হুজুরি করার বিরল গুণের সমাবেশ।
চুরিতে হাত পাকানোর কাজটা ভবনে অধিষ্ঠিত কোনো না কোনো শিল্পী পরে হাতেকলমে শিখিয়ে দেবেন। এ দলের সুপ্রিমোই একধারে চিত্রকর, কবি, গায়িকা, সাহিত্যিক, আইনজীবী সহ অনেক অনেক শিল্পসত্ত্বার অধিকারীনি। শিল্পের তিনিই সূচক, তিনিই একক। সুতরাং, রাজনীতির কী জানো এটা ধর্তব্যের মধ্যে আসেনা, রাজনীতি ছাড়া আর কী কী গুণ আছে এটা সবচেয়ে বড় বিষয়।
এই কন্যাটি ভুল কিছু করেনি, এক্কেবারে পার্টি লাইনে রয়েছে। শুধু কিছু প্রশ্ন রয়ে যায়- সন্দীপ ঘোষেদের লালন-পালন ও রক্ষাকবজ দেওয়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা তিলোত্তমা খুনের প্রমাণ লোপাট ও ভাংচুরের কাজে প্রত্যক্ষ সংযোগ থাকা পুলিশ দপ্তরের মন্ত্রীর ভূমিকাতে কে অভিনয় করছেন?

বৃহস্পতিবার, ১৮ মে, ২০২৩

সিভিক ভলেন্টিয়ারঃ- তৃণনমূলের ক্যাডার


বিধি বাম- ২


সিভিক ভলেন্টিয়ারদের ১০১% তৃণমূলের অশিক্ষিত লুম্পেন ক্যাডার। আজকে সুপ্রিম কোর্টের সাওয়াল দেখার পর আমার প্রশ্ন- বামেরা কেন ভালো আইনজীবী দিয়ে, এই অপ্রশিক্ষিত রাজনৈতিক ক্যাডার বাহিনী দিয়ে রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলানোর বিরুদ্ধে রিট ফাইল করবেনা? কেন এই সিভিক ভলেন্টিয়ার নামের বকচ্ছপ প্রজাতির বিলুপ্তিকরণ ঘটিয়ে রাজ্য পুলিশের কনস্টেবল পদে স্বচ্ছ নিয়োগের দাবী তুলবেনা?
শুধুমাত্র সাংগঠনিক শক্তির জোরে অন্তত প্রাথমিক পর্যায়ের এই লড়াই ডাক্তাররা প্রশাসনকে বাধ্য করেছে তাদের অধিকাংশ দাবি মেনে নিতে। এই আন্দোলনের অন্তিম ফলাফল সময়ের গর্ভে, জনগণ রাস্তায় আছে, সরকার বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলো রাস্তায় আছে। তবে, শেষ কবে মমতা ব্যানার্জী এমনটা করেছেন, কেউ একটা প্রমান দেখাতে পারবেন? কোন রাজনৈতিক দল, আন্দোলন করে এইভাবে মমতা ব্যানার্জীকে "বাধ্য করেছেন"?
এখানে একটা বিষয়ই সত্য, সেটা হল সংগঠন। এর জন্য লাগে যোগ্য নেতৃত্ব, আধুনিকমনস্ক ও ট্যেকস্যাভি একটা উইং, আইনজীবীদের একটা টিম। আর ভিন্ন ভিন্ন স্ট্রিম থেকে লড়াই এর মাধ্যমে উঠে আসা লড়াকু মেধাজীবীদের নিয়ে গড়া একটা যুব টিম। এবং এই সবগুলোর মাঝে একটা সমন্বয়। উচ্চ নেতৃত্বের তরফে আস্থা দেওয়া, সকলের কথা সহানুভূতি ও গুরুত্বের শোনার মানসিকতা, সর্বশেষে দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিয়ে আগামীর দিশা দেখানো।
তৃণমূল, রীতিমতো কি-ওয়ার্ড বিন্যাস করে সোস্যাল মিডিয়াতে আন্দোলনের বিপক্ষে পালটা পোষ্ট যুদ্ধ শুরু করে দিয়েছে, হরেক ফিকির হরেক ফালতু বিষয় সৃষ্টি করে, যেটা বিজেপি সফলভাবে করে। সেখানে বামেদের রাস্তার আন্দোলন টুকু পাবলিকের কাছে তুলে ধরার কোনো যন্ত্র নেই। ছাগল দিয়ে হাল চষতে চষতে বাকি রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে ফারাক ক্রমশ আলোকবর্ষে পৌঁছে গেছে এদের।
যা কিছু করার সেটা- জনগণ করবে, পুলিশ করবে, আমলারা করবে, ED করবে, CBI করবে, হাইকোর্ট করবে, সুপ্রিম কোর্ট করবে, কংগ্রেস করবে ইত্যাদি ইত্যাদি। তাহলে বাম নেতৃত্ব কী করবে? কেন- সেটিং আর বিজেমূল তত্ত্বের প্রতি গভীর আস্থা ও ভরষা সহ প্রচারণা করবে।
বামেদের সবটাই আছে, সংগঠন ছাড়া। তার বদলে রয়েছে অজুহাত..... অনন্ত অজুহাত। যেটার অভাব নেই সেটা হলো, সর্বজ্ঞ মনোভাব, আত্মঅহংকার, নিজেদের মাঝে অকারন লেঙ্গি, আর লক্ষ্য। লক্ষ্যহীন, সংগঠন হীন, যোগ্য নেতৃত্বহীন একটা দল চোখের সামনে রোজ একটু একটু করে ডোডোপাখি হয়ে যাচ্ছে।
রাষ্ট্র যেমন সংরক্ষিত জঙ্গলে বাঘ, গন্ডারদের সংরক্ষণের জন্য রিজার্ভ ফরেষ্ট করে রাখে, অদূর ভবিষ্যতে আলিমুদ্দিনকেও তেমনই বিলুপ্তপ্রায় বাম রাজনীতির সংরক্ষিত অঞ্চল ঘোষনা করে তাদের জন্য বিশেষ বাজেট বরাদ্দ ঘোষনা করলেও আশ্চর্যের কিছু নেই। কৃষকসভা, শ্রমিক সংগঠন, মহিলা সমিতি, শিক্ষক সংগঠন- আছে খাতায় কলমে, দু একটা পাড়ায়। ব্যাস। নতুবা কলতান কান্ডে এক শতরূপ ছাড়া আর কেউ দেখলামনা গলার শিরা ফুলিয়ে সত্যটা বললো চিৎকার করে, তারপর সব স্তিমিত। কোনো ধারাবাহিকতা নেই।
বাকি প্রগতিশীল বাম কর্মী সকর্থকেরা-
৩৬৪ দিন ফেসবুকে।
১ দিন ব্রিগেডে।
সাথে আছে অর্গাজমের স্লোগান- "শূন্য হলেও আমরা ..... "
কারো কারো এই পোষ্ট পড়ে জ্বালা ধরবে, আসলে এই জ্বলাটুকুর বাইরে আপনার অউকাতই বা কী? আপনার কথা শুনছেনা কে? যারা উপরে বসে, তারা সর্বজ্ঞ, সর্বদর্শী, স্বয়ং সম্পূর্ণ এবং ত্রিকালজ্ঞ পন্ডিত। বেঁচে আছি প্রমাণের জন্য পাক্ষিকভাবে ১টা সাংবাদিক সম্মেলন কর, আবার শ্রীবিষ্ণুর মত চক্ষু মুদিয়া অনন্ত শয্যায় শুয়ে নবম বামফ্রণ্ট সরকারে কাকে কাকে কোথায় রাখা হবে তার জটিল হিসাবনিকাশ করতেই ব্যস্ত- দিবাস্বপ্নে।
বিপ্লবের জন্য আর কীইবা চায়?
এই রাজ্যে মমতার চেয়ে ভালো প্রশাসক এই মুহুর্তে আর কেউ কী ডিজার্ভ করে? প্রত্যেকেই তো তার যোগ্যতা অনুযায়ীই পায়।

বৃহস্পতিবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৩

যৌনতা ফ্যান্টাসিঃ- ওভাররেটেড বিষয়



যৌনতা জরুরী এবং অপরিহার্য কিন্ত একটা অত্যন্ত ওভাররেটেড বিষয়।

এর চেয়ে একশো গুণ সুন্দর ব্যাপার হলো একজন বন্ধু, একজন পার্টনার, একজন আত্মার আত্মীয় পাওয়া। যেহেতু আমাদের সমাজে সেক্স একটা ট্যাবু, সেজন্য আমরা সেক্সকে রসগোল্লা ভাবতে শিখি, ভাবি সেক্সই জীবনের সব। লিটারেলি আমরা সেক্স করার একজন বৈধ (আইনগতভাবে) পার্টনার পেতেই বিবাহ নামক মাটন বিরিয়ানি খাওয়ার আয়োজন করি। যদি দূর থেকে দেখি, তাহলে কী পুরো ঘটনা হাস্যকর মনে হয় না?
অবশ্যই প্রকৃতিতে মানুষ জন্মেছে সেক্স এর মাধ্যমেই, পুরুষ উপভোগও করে যৌনতাকে, নারীর কাছে বিলাসিতা, কিন্তু বংশবৃদ্ধি করতে যৌন সঙ্গম একমাত্র উপায়। বয়সে পরিনত হওয়ার সাথে সাথেই একদিন আমরা বুঝে যাই আমরা আমাদের সবচেয়ে কাছের মানুষটাকেই চিনি না! অথচ শেষ ১০-২০ বছর তার সাথেই কত রোমান্স, কত যৌনতা হলো- কিন্তু ঠুনকো ঘটনাতে বিচ্ছেদ হয়ে যায়। মানুষটাকেই চেনা হয়ে উঠেনা।
সেক্স জীবনের খুব অল্প একটা অংশ, সামান্য অংশ। একজন শিল্পীর কাছে একটা মনের মতো ছবি আঁকা, একজন লেখকের কাছে একটা অসাধারণ উপন্যাস লেখা- সেক্সের চেয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। অর্গাজম কখনই জননাঙ্গের বিষয় না, সকল অর্গাজমই মস্তিষ্ক কেন্দ্রিক। একটা দারুণ মনেরমত শিল্পকর্ম একজন শিল্পীকে সেক্সের চেয়েও বেশি তৃপ্তি দেয় বৈকি।।
সালভাদর দালি'কে গত শতাব্দীর সবচেয়ে শক্তিমান শিল্পীদের মাঝে গন্য করা হয়। তার ব্যাপারে ইন্টারেস্টিং একটা তথ্য আছে- তিনি সেক্স করতে ভয় পেতেন, কথিত আছে তিনি আক্ষরিক অর্থেই একজন ভার্জিন পুরুষ এবং এই কারণেই উনার স্ত্রী গালাকে উৎসাহ দিয়ে অন্য পুরুষদের সাথে মিলিত হতে দিতেন যৌনক্ষুধা নিবৃত্তির জন্য। সত্যমিথ্যা জানিনা।
লালন ফকিরের গেয়েছিলেন 'মিলন হবে কতদিনে', এটা কোনো ভাবেই শুধুমাত্র যৌনক্ষুধার তাড়নাতে আহ্বান করছেনা। এটাটা আত্মার সাথে আত্মার মিলন। এই মিলন সংসারে খুঁজে পায়না বলেই যোগী, সুফিরা গৃহত্যাগী হয়ে মিলনের সন্ধান খোঁজে। স্বয়ং বুদ্ধ নিজে স্ত্রী, সংসার, সাম্রাজ্য সবকিছু সবকিছু ফেলে নিজেকে জিজ্ঞেস করেছিলেন- সুখ কি? নির্বান কি?
যৌনতাতে নির্বান কেউ কখনও পেয়েছে ইতিহাসে?
রবী ঠাকুরও জিজ্ঞাসেছে- সখী ভালবাসা কারে কয়? যৌনিতাতে ভালবাসা নেই, ভালবাসাতে যৌনিতা থাকলেও থাকতে পারে।
মানুষের বুকের ভেতর নদী বয়ে চলে, আহ্লাদিত হয়, পুলকিত হয়, হাহাকার কঅরে উঠে- সেটা যৌন মিলনের জন্য নয়। মানুষ ঠিক যেমন ভাবে সঙ্গী চায়, প্রায় কেউই তেমনটা পায়না, তাই জীবনটাও তেমন হয়না যেমনটা তার চাহিদা। এর পরেও দম্পতিদের মাঝে বিচ্ছেদ, হাহাকার, অশান্তি ঝগড়াতে মানব সমাজ জর্জরিত। সকলেই তো সুল, অবাধ ও অগাধ যৌনতা পেয়েছিল, তাহলে এতো সমস্যার কারন কী? নারীপুরুষ নির্বিশেষে বেশিরভাগই মানুষ পছন্দের মানুষ তথা পছন্দের জীবন পায়না বলেই তাদের এতো হাহাকার।
সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে যৌনতা একটা অনুসঙ্গ মাত্র, আসল হলো মস্তিষ্ক। যে নিজের মস্তিষ্ককে বুঝতে পেরেছে, সে সেক্সের কথা শুনলে এইজন্য মুচকি হাসবে। মস্তিষ্ক জানে, মানুষ সেক্সের জন্য বাঁচে না, মস্তিস্কে সুখানুভব পেতে বাঁচে, যৌনতা যার একটা অংশ মাত্র। বেঁচে থাকাত অর্থটা যার কাছে স্পষ্ট, যার কাছে তীব্র আকাঙ্খা রয়েছে কোনো একটা লক্ষ্যে পৌঁছানো, প্রায় অরতিটা ক্ষেত্রে যৌনতা গায়েব হয়ে যায় জীবন থেকে।
মানুষ একমাত্র জীব যারা যৌনিতা থেকে মনোরঞ্জন এর রসদ খুঁজে পায়। যে বেঁচে থেকেও বাঁচার আনন্দ পেলোনা, সে কীভাবে যৌনতার সুখকে উপলব্ধি করতে পারবে! পারলে কোনো বিবাহিত নারী/পুরুষ কখনও আত্মহত্যা করতনা।
কী মনে হয় আপনার?

বৃহস্পতিবার, ৯ মার্চ, ২০২৩

করাল গ্রাসে বাংলা




তৃণমূল, রাজনৈতিক পোশাক পরিহিত একটা নৈরাজ্যবাদী সংগঠন।

তৃণমূল কোনো রাজনৈতিক দল নয়, একদল গুন্ডার সমাহার। প্রতিটা অঞ্চলের দুষ্কৃতীদের সম্মিলিত একটা রাজ্যওয়ারি সিন্ডিকেট। তৃনমূল দল করাটা ওদের প্রত্যেকের রুটিরুজির প্রশ্ন, পেটের বিষয়। তাই ওরা জান-প্রাণ লড়িয়ে দেয়, দলের উপরে যদি কেউ প্রশ্ন তোলে বা দলের কোনো বিপদ আসে।
সুতরাং, আজ যে লোকটা তৃণমূল দলের সাথে সম্পৃক্ত, কাল দুম করে সে দল ছেড়ে দিয়ে বসে যাবে বা বিরোধী দলের হয়ে যাবে- এমনটা কখনও হবেনা।
সুতরাং, গান্ধীবাদী আন্দোলনের পথে প্রতিবাদ হলেই যে রাজ্যজুড়ে সমস্ত তৃণমূলীর বিবেক জাগ্রত হয়ে যাবে, তারা মরমে মরে যাবে এমনটা ভাবা নির্বোধের পরিচয়। কশাইকে রোজ হত্য করতে হয় তার পেট চালাতে, এই হত্যাতে তার কোনো পাপবোধ নেই, বিবেকের কাছে কৈফিয়ত দেবার কোনো দায়ও থাকেনা, তাতে যতই সে রক্তপাত ঘটাক। তৃণমূল দলের প্রতিটা সদস্যও তাই, বিবেক নেই, নৈতিকতা নেই, এদের কাছে আতুপাতু আন্দোলন বা বিপ্লব মূল্যহীন।
বিগত ১৩ বছর ধরে চুরি চামারি করে বসে খেয়েছে ও খাচ্ছে প্রতিটি তৃনমূল সদস্য, আজ হঠাৎ সেই আয়েসের হারাম রোজগারে বাঁধা এলে, এরা প্রত্যেকে হিংস্র হয়ে উঠবে। পুলিশ লেলিয়ে দেবে, আদালতের ফাঁকফোঁকর খুঁজে সেখানে বেঁধে রেখে দেবে। আলাদা করে দুষ্কৃতী বা গুন্ডা লেলিয়ে দেবার দরকার নেই, প্রতিটি তৃনমূল ঘোষিত গুন্ডা। চোর বা সমাজবিরোধী হিসাবে পাড়া লেভেলে প্রতিষ্ঠা না পেলে কাউকে দলে নেয়না তৃনমূল।
ওরা আন্দোলনরত প্রতিটি ব্যাক্তির কাছে আতঙ্কের আবহ সৃষ্টি করবে। বিরোধী নেত্রী মমতা ব্যানার্জির উত্থানই নৈরাজ্য সৃষ্টি করে। বিধানসভা ভাঙচুর যাদের সর্বোচ্চ কীর্তি, বাকি অপরাধের হিসাব আর দেবার দরকার লাগে কী! ভোটের সময় একমাত্র ২৯৪ আসনে সবক্ষেত্রেই মমতা, বাকি সারাবছর বাংলাজুড়ে মমতার অস্তিত্ব নেই,
এখানে প্রত্যেকটি বুথে এক একজন মমতা রয়েছে, এরাই তোলাবাজি ও থ্রেট সিন্ডিকেটের একক। রাজ্যের ৮০৪৫৩ টি বুথের, এই প্রতিটি দুর্নীতির একক মিলে একটা কালীঘাটের নেত্রী, বখরার সিংহভাগ যায় যার একাউন্টে। ভাইপো হলো কালেকশন এজেন্টদের পাতি শীর্ষনেতা।
আজকের দিনে মমতা ব্যানার্জী শুধু পুলিশ নিয়ন্ত্রণ করে, আর প্রতিটি বুথের গুন্ডারা ও তাদের মাথারা মমতাকে নিয়ন্ত্রণ করে।
কিন্তু পুলিশ কেন এদের হয়ে কাজ করে? কারণ পুলিশের ওপর তলা থেকে নিচের তলা অবধি দলদাসে ভর্তি করে ফেলেছে। অধিকাংশ থানা গুলো এই দুর্নীতি চক্রের এপিসেন্টার, পুলিশ পরিকাঠামোর প্রায় প্রত্যেকে এর সাথে জড়িত। প্রত্যেকটি অঞ্চলের তৃণমূলের ব্লক সভাপতি আসলে লোকাল থানার আইসি, এ নিয়ে এখন আর কারোর মধ্যে কোন দ্বিমত নেই। কেউ কেউ কোন থানাতে আট থেকে দশ বছর বসে আছে, স্বভাবতই বিরোধীদের জাঙ্গিয়ার সাইজ পর্যন্ত এদের মুখস্থ। অসংখ্য প্রাক্তন পুলিশ কর্তা আজকে নির্বাচিত প্রতিনিধি, অবসরের পরেও বহু শীর্ষপদস্থ আমলা ও পুলিশকর্তা নানান পদ সৃষ্টি করে প্রশাসনের মধ্যে স্বমহিমাতে রাজত্ব করছে তৃণমূলী সিন্ডিকেটে।
হাফ পুলিশের বেশে তৃণমূলের নিজশ্ব গুন্ডাবাহিনী যা জনগণের কাছে সিভিক নামে পরিচিত, এই চুরি রাহাজানি সিন্ডিকেটের এরা পদাতিক বাহিনী, কোনো কোনো অঞ্চলে দুষ্কর্মের উদ্ভাবক পর্যন্ত এই সিভিক ভলেন্টিয়ার। অর্থাৎ অবৈধ ইনকাম কমে গেলে শুধু তৃণমূল নেতাদের ভাগে কম পরবে এমনটা নয়, একেবারে অধিকাংশ পুলিশের মাসিক ভাগাতে হাত পরে যাবে। তৃতীয় বিশ্বের প্রায় সকল দেশের পুলিশ কমবেশি দুষ্কর্মের সাথে যুক্ত, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মতো এরকম সর্বগ্রাসী দুর্নীতির উৎস নয়। তাই সবার আগে সেই সিভিক ভলেন্টিয়ার নামের বকচ্ছপ তৃণমূলী ক্যাডার বাহিনীকে উচ্ছেদ করতে হবে প্রশাসন থেকে।
আতঙ্কের ঘরে আতঙ্ক না ঢোকালে তারা আতঙ্কিত হবেনা, জানিনা সেটা কোন গণতান্ত্রিক পথে হওয়া সম্ভব। বিজেপি কিছু করবেনা, কারন দুজনের মালিকই এক- RSS, মালিকের নীতি স্পষ্ট। সুতরাং, যাত্রাদলের বিবেক সেজে কাঁদুনি গান গেয়ে, বা নেচেকুঁদে এই অর্গানাইজড দুর্বৃত্তদের উচ্ছেদ করা যাবেনা। যাত্রা দলের বিবেক কখনও সরাসরি ভিলেনের সাথে লড়াই করেনা, তৃতীয় লিঙ্গের মত গাঁ বাঁচিয়ে উৎকট শব্দে তালি বাজায় বড়জোর।
সংখ্যাগুরু বাঙালীর সবচেয়ে বড় উৎসব চলছে, আগামী ১-২ সপ্তাহে এর রেশ কাটলে অবশ্যই নাগরিক আন্দোলনের ঝাঁঝ বৃদ্ধি পাবে, কিন্তু সেটা কি এই দূর্বৃত্ত সংগঠনের সাথে লড়াই করার জন্য যথেষ্ট? বিরোধী রাজনৈতিক পরিসর কী এমনই খোঁজা বন্ধ্যা হয়ে তামাশার যাত্রাপালা করবে? কোন অদ্ভুত ‘সেটিং’ এর রাজনীতি দিয়ে মমতা ব্যানার্জী এই রাজ্যের বিরোধী রাজনৈতিক পরিসরকে নপুংসক বানিয়ে রেখেছে?

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...