বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

বুদ্ধের দেশ ভারত


 

তৃনমূল নামের রাজনৈতিক দলটির কল্যাণে আমাদের পশ্চিমবাংলার জনসমাজ চুরিকে নিও-নর্মালাইজ করে ফেলেছে। সততার ছদ্মবেশে রাজক্ষমতা হাসিল করার পর, চুরির ডিজাইনকে আরও কার্যকরী এবং সঙ্গতিপূর্ণ ভাবে একটা ব্যাপ্তিময় সমবায় তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে দল তৃনমূল। একই পদ্ধতির পুনরাবৃত্তি হ্রাস করে, আমলা ও প্রশাসন তন্ত্রকে সঙ্গতিপূর্ণ ভাবে ব্যবহার করে গত ১৫ বছরে নিশ্চিত ভাবে চুরিকে শিল্পের মর্যাদায় উন্নত করেছে।

শিল্পের নৈপুণ্য নির্ভর করে কারিগরি দক্ষতা সম্পন্ন উচ্চমানের শিক্ষকের উপরে। মুকুল রায় থেকে শোভনদেব চ্যাটার্জি বা মদন মিত্র কিম্বা জল শোভন, এদের মত প্রতিভাধর ওস্তাদ আচার্য্যরা রিটায়ার্ড করার আগে পরবর্তী বাটপার প্রজন্ম তৈরি করে দিয়ে গেছে। পার্থ চ্যাটার্জি, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, অনুব্রত মণ্ডলদের ইতিহাস কীভাবে মনে রাখবে তা জানিনা, তবে সততার অনুপ্রেরণায় দীক্ষিত এই শিল্পীরা ফলিত চৌর্যবিদ্যার যুগপুরুষ হিসাবে রয়ে যাবে। ফলত জোচ্চুরি, প্রতারণা, ঘুষ ও কাটমানি শিল্পের পরম্পরা অখণ্ড ভাবে রক্ষা হয়ে চলেছে সাফল্যের সাথে

প্রত্যেকটা দুর্নীতির ক্ষেত্র আপোষে ভাগ বাটোয়ারা করে নেওয়া থাকে এদের। কালীঘাটের বৃহত্তর কালেকশন এজেন্ট, ব্যাক্তির ক্ষমতা বুঝে সকলকে নিয়োগ করে। যেমন চিটফান্ডে মুকুল, শিক্ষায় পার্থ ও ব্রাত্য, খাদ্যে জ্যোতিপ্রিয়, সমবায়ে অরূপ, পঞ্চায়েতের সুব্রত,  দমকলে শোভন ও জাভেদ। ওয়াকফ, রাস্তা-সেতু কর্পোরেশনের ববি। লাইব্রেরী যে দুর্নীতির আখড়া হতে পারে তা কোন মানুষের চোদ্দ পুরুষের সঞ্চয়িত জ্ঞানের মধ্যে ছিলোনা, সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীকে খুঁজে এনে মন্ত্রী না বানালে জাতি জানতেই পারতনা। তবে ওয়াকফের জমি মারার জন্য একমাত্র মুসলমান সিদ্দিকুল্লা, ববি বা জাভেকে দায়ী করে দুর্নাম দেয়া যাবে না। প্রতিটি ক্ষেত্রে এদের কোথাও না কোথাও হিন্দু সারেদ আছেই।

গুন্ডামির মাধ্যমে এলাকা দখলের নামে আসলে আঞ্চলিক অর্থনীতি দখল হয়, এভাবেই রাজ্য অর্থনীতির বৃহত্তর অংশের নিয়ন্ত্রক হয়ে গেছে তৃনমূলের এই ‘তোলা’ সাম্রাজ্য। ভাঙরের আরাবুল পথ দেখালেও ধীরে ধীরে সন্দেশখালির জাহাঙ্গীর, ফলতার শাজাহান, বীরভূমের অনুব্রত মণ্ডলরা বুঝতে পারে এটাই সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা এদের দেখানো পথেই রঙ পাল্টানো ক্যানিং এর শওকত মোল্লা, দিনহাটার উদয়ন গুহ বা চোপড়ার হামিদুর রহমান দু-একটা হাতে গোনা উদাহরণ মাত্র। চলন্ত সিড়ি চড়ে আত্মপ্রকাশ করা সততার প্রতীকের ঝাড়বাতি ভাইপো, সমস্ত তোলাবাজদের নিয়ন্ত্র হয়ে যায় কালের নিয়মে।

রাজ্যের এ মাথা  থেকে ও মাথা কালেকশনের জাল বিছিয়ে ফেলা আজকের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে বাদ দিয়ে তৃনমূলের দুর্নীতি উপাখ্যানের প্রথম পৃষ্ঠা উল্টানো যাবে না।

একসময় মহকুমা শহর গুলোতে ‘employment exchange’ নামের একটা দপ্তর থাকত, সেখানে বেকার যুবকেরা নাম লেখাতো। এখন তৃনমূলের পার্টি অফিসে নাম লেখালেই হাতেকলমে চুরির শিক্ষা পাওয়া যায়। রাজ্যে কোনো শিল্প নেই, বরং যেগুলো ছিলো- তোলাবাজির অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে তারা রাজ্য ছেড়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য  মতে জুন ২০২৫ সাল অবধি ৬৬৮৮টি কোম্পানি বাংলা ছেড়েছে। স্বভাবতই কর্মস্থান নেই, হয় পরিযায়ী হও অথবা তৃণমূল করো। এই দুটোই স্থায়ী রোজগারের পথ, সাহসীরা পরিযায়ী হচ্ছে, বাকিরা তৃণমূল। কেউ কেউ বিরোধী দলের মুখোশ পরে দালালি করে লুকিয়ে কাটমানি খাচ্ছে। তৃনমূল দলে চুরি শিল্পে যে যত বেশী মেধাবী, যত বেশী দক্ষতা দেখাতে পারবে, দলীয় পদের উন্নতি সাধন হতে হতে একসময় উন্নয়নের মন্ত্রীসভায় দপ্তর পাওয়ার সুযোগ এসে যায় তার। তাই এরা শুধু অধ্যাবসায় দিয়ে চুরিটা করে যায়।

মার্কসের তত্ত্বকে লেনিন হাতে-কলমে করে দেখিয়েছিল, তেমনি গান্ধীজীর পঞ্চায়েত রাজ স্বপ্নের বাস্তব কারিগর ছিল বামফ্রন্ট সরকার কিন্তু রাজীব গান্ধী একটা অমোঘ সত্য উপলব্ধি করেছিলেন পঞ্চায়েত সিস্টেম সম্বন্ধে। তার বিখ্যাত উক্তি- দিল্লি থেকে যদি একশ টাকা পাঠায়, মানুষের হাতে পৌঁছাতে পৌঁছাতে সেটা ১৫ টাকায় পরিনত হয়”। তৃণমূল এই ১৫ টাকা টাকেও রাখেনি, সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্মতর ফাঁক ফোকর খুঁজে- সরকারী ঋণ করে সেই টাকাও লুটে খেয়েছে।

গণতন্ত্রকে উপজুপোরি ধর্ষণ করার জন্য পেশাদার হিসাবে বিধানসভার স্পিকার আসনে বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় ধর্ষকশ্রী উপাধির দাবীদার। প্রত্যেকটি সর্বোচ্চ পর্যায়ের দুর্নীতিগ্রস্থর তালিকাতে রয়েছে পঞ্চায়েত মেম্বার, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, সিভিক ভলেন্টিয়ার, এসপি, ডিএম এবং বিপুল IAS অফিসারের এক কর্মীবাহিনী। এদের সকলের মাথার উপরে ছাতা হয়ে বসে আছে সস্ত্রীক কয়লা কুমার। এটাই তোলামুল দলের ইকোসিস্টেম।

রাজ্যে তৃণমূল দলটা দলীয় লোকজন দিয়ে চলেনা, তারা শুধু চুরি-চামারি করে তোলা তোলে। দিদির ভাইয়েরা বোমা মারে, নিচুতলার পুলিশ আর সরকারী কর্মীদের যখন খুশি চাবকায়, ভোটের সময় বুথ দখল করে। গোটাটা নিখুঁত মাফিয়া কার্টেল, যাদের নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা মমতা ব্যানার্জীর নিজেরও অসাধ্য। তাই i-PAC এর মত পেশাদার রেখে দিয়েছে, যারা মূলত অডিটারের কাজ করে, তোলাবাজির টাকা সময়মত হিসাব কষে কালীঘাটের ভাগা পৌঁছে দেওয়ানো করায়।

মমতা ব্যানার্জী দলটা চলছে প্রশাসনের লোকজন দিয়ে, কিছু জনকে ভয় দেখিয়ে বাধ্য করে, আর বাকীটা অসৎ লোকেদের খুঁজে খুঁজে এনে। ব্লক স্তরের প্রতিটা উচ্চ পদে এদেরই পোষ্টিং করেছে বিগত ১০ বছর ধরে। সরকারী অফিসারদের যেহেতু সাসপেন্ড করা যা, চাকরি খাওয়া যায়, তাই এদের দিয়েই গোটা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে মমতা আসল সংগঠনটা চালাচ্ছে এলাকার BDO গুলোকে বকলমে দলের সভাপতি বানিয়েছে, লোকাল থানার ওসি হলেন পার্টির সম্পাদক, তিনিই মূলত পঞ্চায়েত গুলোকে নিয়ন্ত্রণ করেন। সৎ অফিসারদের হয় ওয়েটিং এ বসিয়ে রাখে অথবা গুরুত্বহীন পদে গ্যারেজ করে দেয়।

বাকি সরকারী কর্মীরা DA না পেলেও, BDO নামের অফিসারেরা cash compensation নামের অতিরিক্ত অর্থ পায় সরকারীভাবে, যাতে তাদের পুষিয়ে যায়। থানার OC/IC দের মান্নীয়া কীভাবে compensation দেন সেটা গুপ্তবিদ্যা। উপরি কামাই যা আছে সে তো তোলামূলের শিল্পেরই অঙ্গ, কালীঘাটে ভাগা পৌঁছে দিলেই সব বৈধ। এই লেখার দোষে কাল আমার ঘরে যে উন্নয়নের পুলিশ আসবেনা তা গ্যারান্টি দিয়ে বলা যাবেনা। পুলিশ আসুক বা না আসুক, বর্তমান তোলামূলের দলীয় গঠনতন্ত্রের এই সত্যতা- রাজ্যের প্রতিটি সুস্থ মানুষই জানে।   

স্বভাবতই, চোর পরিচয় ছাড়া এদের কোনো দ্বিতীয় পরিচয় নেই। বেশ্যা পাড়ায় যে মহিলারা থাকেন, তারাও সন্তান জন্ম দেন, অধিকাংরই পরিবার থাকে, তারা কী কেউ লজ্জা পায় নিজের মাকে, স্ত্রীকে, বোন বা মেয়েকে রোজ রাত্রে আলাদা পুরুষের সাথে দরজাতে খিল দিতে দেখলে? বরং এটাই পতিতাপল্লীর জীবনের স্বাভাবিক ঘটনা। তোলামুলেরও তাই চোর শব্দে আজ সম্মান হানি হয়না, বরং চোর না বললে তাদের আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি দেখা দেয়।

সারদা নারদা নাহয় বিস্মৃতির আঁধারে তলিয়ে গেছেইলেক্টোরাল বন্ড দুর্নীতি, কয়লা, বালি, রেশন, মইদুল মিদ্যা, আনিশ খান এসব ঘটনা আলঝাইমার রোগীর মত আবছা হতে শুরু করেছে। আরজিকর, ২৬ হাজার চাকরি নেই হয়ে যাওয়া, মুর্শিদাবাদ দাঙ্গা, চন্দন দাস, তামান্না, ধুলিয়ান, মহেশতলার ঘটনা গুলোকেও আমরা ডিমেনশিয়া আক্রান্তের মত এড়িয়ে যাচ্ছি সাফল্যের সাথে। শরীরের অবাঞ্ছিত লোম অযত্নে বেড়ে উঠেই অস্তিত্ব বাঁচিয়ে রাখে, সেখানে আমরা মাকুন্দ। ঘৃণা বা প্রতিবাদের গুপ্ত লোমও আজকাল আর গজায়না। “অতীতে বাস করো না, ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখো না’ এই বানীকে আঁকড়ে ধরে রয়েছি, ভারত যে বুদ্ধের দেশ।

বিগত ১২-১৩ বছর ধরে তৃনমূলের চুরির ঘটনা শুনে শুনে জনগনের কান পচে যাওয়াটাই স্বাভাবিকমেথরের কাজ করা শ্রমিকের যেমন গু'য়ে গন্ধ লাগেনা, পার্কসার্কাস বা রাজাবাজারের বাসিন্দারা পচা চামড়ার গন্ধ আলাদা করে ফারাক করতে পারেনা কিম্বা ঘাটালের মানুষের কাছে জন্ম মৃত্যুর মতই বন্যা স্বাভাবিক- আমাদের পশ্চিমবঙ্গের সাধারন জনগণ তেমনি একখানা আটপৌরে সহাবস্থান গড়ে নিয়েছে তোলামূলের চুরির সাথে। তাই নতুন কোনো চুরি, রাহাজানি বা খুনের ঘটনা ঘটলে- অভ্যস্ত ইন্দ্রিয়ে কোনো হেলদোল হয়না গড়পরতা জীবনেবুদ্ধ বলে গেছেন- সবকিছুর মধ্যে ভালো কিছু দেখার জন্য তোমার মনকে প্রশিক্ষণ দাওভারত বুদ্ধের দেশ, তাই আমরা তৃনমূলের মাঝে খারাপ দেখতে নারাজ।

রাজ্যে বিরোধী বলে তেমন কিছু অস্তিত্ব নেই, ব্যতিক্রমী সাজানো আন্দোলন মঞ্চস্থ করে এরা। যাতে গণতন্ত্রের ‘ধরাচূড়া’ খসে না যায় জনগণের চোখে। পাঁজি এবং তিথি নক্ষত্র দেখে এরা রাস্তায় নামে। সরকার পোষিত ‘বাপুরাম সাপুড়ের’ সেই বিখ্যাত সাপ এরা, যে সাপের চোখ নেই, যাদের শিং নেই, নখ নেই, ছোটে না, হাঁটে না, কাউকে কাটে না, করে নাকো ফোঁস্‌ফাঁস্‌, মারে নাকো ঢুঁশঢাঁশ, নেই কোন উৎপাত, খায় শুধু দুধ ভাত। হুম, দুধ ভাত খায়। যেকোনো সরকারের জন্য- রাশিচক্রের লগ্ন মিলিয়ে রাজজোটক বিরোধীপক্ষ। “দুঃখের মূল হলো আসক্তি”- ভারত শাক্যমুনির দেশ, তাই বিরোধীরা ‘শূন্য’, রাজনৈতিক আসক্তিতে

এই কারনেই মমতা ব্যানার্জী প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে ঘোষণা করতে পারে- তিনি না চাইলে তাকে ক্ষমতা থেকে কেউ উৎখাত করতে পারবে নাকারন উনি বিরোধী স্বত্তারই অবশেষ রাখেনি। একই সাথে গত ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পরেও বিরোধী ইজম গুলোর প্রতি তীব্র ঘৃণা জিইয়ে রেখেছে তার সমর্থকদের মাঝে। বিকিয়ে যাওয়া বিরোধী সত্তা গণতন্ত্রকে ফ্যাসিজমের দিকে ঠেলে দেয়। এই কারনে উনি হিটলার থেকে ক্রমশ মুসোলিনি হয়ে উঠেছেন। মার খাওয়া জনগণ একসময় ভুলে যায়- বেঁচে থাকাটা তার অধিকার, দয়া নয়। আমরা পশ্চিমবাংলা বাসীরা যেন পরের দিন সকালবেলা বেঁচে উঠলেই নিজেকে ধন্যবাদ দিচ্ছি। জীবনে ব্যাথা থাকবেই, কিন্তু কষ্টকেই ভালোবাসতে শেখোআমরা কষ্টকে ভালবেসে ফেলেছি, ভারত যে বুদ্ধের দেশ।

চাকরি চোর সরকারের শিক্ষা দপ্তর থেকে লিখিতভাবে নোটিফিকেশন বের হচ্ছে- আমরা এতজনকে ঘুষ দেয়ার বিনিময়ে চাকরি দিয়েছি। একটা স্বাধীন দেশে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত রাজ্য সরকার এটা করছে, প্রকাশ্যে। জানিনা গণতন্ত্রের ইতিহাসে এর দ্বিতীয় কোনো নজির আছে কিনা! আজ SSC এর অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশের চতুর্থ দিন, রাজ্যের কোনো রাস্তায় কোনো জঙ্গি আন্দোলন হয়েছে? কোনো বিরোধী রাজনৈতিক দল জ্বালাময়ী বক্তব্য রেখেছে?

বিজেপিকে ছেড়ে দিন, ওদের নিজশ্ব ভোটব্যাঙ্ক থাকলেও, নিজশ্ব কোনো নেতৃত্ব নেই। শুরুতে কিছুজনকে বিক্ষুব্ধ তৃনমূল সাজিয়েছে, পরে সেগুলোকেই কেশব ভবনে পোষ্টিং করেছে মমতা ব্যানার্জী, নিজের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও কাছের লোকগুলোকে। বঙ্গ বিজেপি মুরুলীধর স্ট্রিট থেকে নিয়ন্ত্রিত হয় বলে যারা ভাবে, তারা আবার নতুন করে হাগিস পরতেই পারেন, আপনাদের নাবালকত্ব এখনও ঘোঁচেনি। নাগপুরের গোয়ালঘরে জন্মানো দুটো দলেরই রাজনৈতিক কার্যকরী দপ্তর কালীঘাটের টালির চাল। রাজ্য বিজেপির বিরোধীতার ব্যাঞ্জনে কতটা লবন থাকবে, কতটা লঙ্কার ঝাঁঝ থাকবে, সেটা মাস্টার সেফ মমতা ব্যানার্জী নিজে পরিমাপ করে দেন।

ভারত সত্যই নৈতিকতার দেশ, এখানেই পঞ্চতন্ত্রের গল্প লেখা হয়েছিল, জাতকের গল্প লেখা হয়েছিলো, গ্রীক ইশপের গল্প জনপ্রিয় হয়। এখানে সরকার চলে আদালতের পদাঘাত খেয়ে। বুদ্ধ বলে গেছেন- “সুখের জন্ম হয় মনের গভীরে। এটি কখনও  বাইরের কোনো উৎস থেকে আসে নাতাই বিরোধী শীর্ষ নেতৃত্ব সেভাবে ঘরের বাইরে বের হয়না তিথি নক্ষত্র বিচার না করে। স্বাভাবতই আমাদের রাজ্যের বিরোধী দলের শীর্ষ নেতৃত্বদের কারো বিরুদ্ধে তেমন কোন মামলা নেই, যেটাকে তারা উদযাপন করে সফলতা হিসাবে। মীনাক্ষী হোক বা নৌশাদ- এদের মত মুষ্টিমেয় যে কজন রাস্তায় নামে, মমতাকে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়, তাদের নামে মামলার শেষ নেই।

ভারত গৌতম বুদ্ধের দেশ। আর পশ্চিমবঙ্গে বাম ধারার রাজনীতিতে এখন ‘মহাসঙ্গীতি কাল’ চলছে। আলিমুদ্দিন যেন ‘মহাবোধি মন্দির’ এর মুর্ত রূপ। মহাপরিনির্বাণের আগে অবলোকিতেশ্বর ও মৈত্রেয় দের জন্য এখান থেকে নতুন ‘জাতকের গল্প’ রচিত হচ্ছে বৌদ্ধিক আর্য্য সত্য মেনে। যেটা শুধুই দুঃখময়। এখানে কোনো সেলিম নেই, বিমান, সুজন, সৃজন, শতরূপ কেউ নেই। কেউ শ্রেষ্ঠী, কেউ ভদ্রবর্ণীয়, কেউ বুদ্ধবোধি, গঙ্গাপাল, ক্ষান্তি, কাল্মষ, মৈত্রীবল, মৎস্যমৃগ… গোটা দলটাই যেন জাতকের চরিত্র। এখানে রাজনীতি নয়, মৈত্রী, ভ্রাতৃত্ববোধ, মানবতা, সৌহার্দ্যের মতো সম্পর্কগুলো গড়ে তুলেতে উদ্বুদ্ধ করা হয়। তেমনি তৃণমূলকে দয়াবান, সৎ, আদর্শবান ও নীতিবোধসম্পন্ন হয়ে ওঠার মতো নৈতিক শিক্ষা দিয়ে থাকে। নিজেরা পরমতসহিষ্ণু ও পরধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে অষ্টশীল  ভিত্তিকে রক্ষা করে।

যেখানে কলকাতা মহানগরের অবস্থান, সেই হুগলী নদীর পূর্বদিকে- বৃহত্তর কলকাতা এবং দুই ২৪ পরগনা মিলিয়ে ৭৫ টি বিধানসভা আসন রাজ্যের ভোট আসনের ২৫% আর GDP র প্রায় ২৯%। শিয়রে ভোট, এই অঞ্চলের তথাকথিত নেতারা দৈনিক সন্ধ্যেবেলা বাতানুকুল স্টুডিওতে বসে, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া ক্যামেরার সামনে কফি খেতে খেতে- শুধুমাত্র সর্বজ্ঞ সেজে বক্তব্য দিয়ে মাছিমারা পালোয়ান সাজে। মহিলাদের মাসিক ঋতুস্রাব এর মতন মাসে ২-৩ দিন আলিমুদ্দিনের প্রেস কনফারেন্স ছাড়া, সাংগঠনিক এবং রাজনৈতিকভাবে এক সময়ের শাসক পার্টিটা চোখের সামনে উঠে গেলো।

যার যোগ্যতা যত কম, তার অহংকার ঠিক ততটাই বেশি। স্বভাবতই খুচরো বাম্বাচ্চা গুলো সমালোচনাকারী দেখলেই ‘ষড়যন্ত্রকারী’ হিসাবে চিহ্নিত করে দেয়। সমালোচনাকারীও যে একজন বিশুদ্ধ সমর্থক ও পরামর্শক হতে পারে, সেই বোধ বা শিক্ষা এদের নেইআসলে  সমালোচিত হতে যোগ্যতা লাগে, যা ক্রমশ এরা হারিয়ে ফেলছে

কংগ্রেস বা বাকি অপগন্ডদের বিরোধী হিসাবে আলোচনা করলে, রঞ্জু ঘোষের আত্মা ডাঙ্গসপেটা করবে মাঝরাত্রে একা পেলে।

ED /CBI এর মতো কেন্দ্রীয় এজেন্সিরা দুর্নীতি বিষয়ে চোর গুলোকে ধাওয়া করবে, আর আদালতের বিচারকেরা মমতাকে ক্ষমতা থেকে সরালে তবে বিরোধী দল ক্ষমতার মসনদে বসবে বিরোধীরা শুধু মমতা ব্যানার্জির কাছে ন্যায় এবং বিচার চাইবে। নতুন করে চাকরি চাইবে, স্বচ্ছতা চাইবে, গণতন্ত্র চাইবে, সবকিছু মমতা ব্যানার্জির কাছেই চাইবেনিজেরা যাত্রাদলের বিবেক সেজে রইবে। একটা নির্দিষ্ট বিরামে- মঞ্চের পিছন থেকে দর্শকের মনে ন্যায়বোধ জাগ্রত করতে, পথহারা মানুষকে সঠিক পথ দেখাতে এবং অত্যাচারীদের সতর্ক করতে মমতা ব্যানার্জীকেই অনুরোধ করবে।

জীবনে হাজার লড়াই জেতার থেকে ভাল, তুমি নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করে ফেল। তখন সর্বদা তোমারই জয় হবে। আমাদের রাজ্যের বর্তমান বিরোধী দলেই এটাই ইষ্ট মন্ত্র, কোনো লড়াই না করেই নিজেদের উন্নত ঘোষণা করে দিয়েছে; ভারত যে বুদ্ধের দেশ।

আপনি ভাবছেন, এই বর্তমানের বিরোধীরা- যারা তৃনমূলের কলকেতে তামাক খাচ্ছে, তারা তৃনমূলেরই বিরুদ্ধে আপনার হকের হয়ে লড়াই করবে? যারা নিজেরা মরার আগে চেয়ার ছাড়বেনা, তারা নাকি গণতন্ত্র রক্ষা করবে? মহাস্থবিরেরা এখন অস্তাচলের পথে, বুদ্ধের ভাষায় এনাদের ‘গামিনী প্রতিপদে’ প্রেরণ না করা অবধি পশ্চিমবঙ্গের মানুষের আশু মুক্তি নেই।


রবিবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৫

একাদশে অকপট


 


কথা কও, কথা কও।

অনাদি অতীত, অনন্ত রাতে

কেন বসে চেয়ে রও?

কথা কও, কথা কও”

বাঙালি মানুষ, কবিগুরুকে পাশ কাটিয়ে কোনো কিছুর উদযাপন করবে এমন ভয়াবহ ও অসম্ভবতম দুঃস্বপ্ন কোনো শিক্ষিত বাঙালিই দেখতে পারে না। অকপট, দিনের শেষে শত তর্ক-বিতর্ক, রাজনীতি-সমাজনীতি, আড্ডা-মন্তাজ, দেশীয়-আন্তর্জাতিক, খেলা-তামাশা ইত্যাদির মাঝে সাহিত্যকে ভালোবেসে এর চর্চা করে যাওয়াটাকেই মূল পরিচয় হিসাবে আঁকড়ে ধরে বেড়ে উঠেছে জন্মলগ্নকাল থেকে।

সুতরাং কবিগুরুর চরণস্পর্শ না করে এই পথের পথিক হওয়া গেলেও টিকে থাকা যায় না। তা সে যাই হোক- এরপর সময়ের চাকা দ্রুত ঘুরেছে, আশা-নিরাশা, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হরেক দোলাচলের মাঝে, ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টিয়ে স্মৃতিগুলো অবগুণ্ঠনের জট পাকিয়ে বুকের অতল গভীরে সেঁধিয়ে গেছে, কিন্তু তারা এতোটা দূরেও যায় নি যে- আত্মিক নাড়া দিলে তা ভোরের শিউলির মতো ঝরে পড়বে না। তাইতো কবিগুরুর লাইন ধার করে মনে করিয়ে দিই-

তোমায় খোঁজা শেষ হবে না মোর,

যবে আমার জনম হবে ভোর

চলে যাব নবজীবন-লোকে,

নূতন দেখা জাগবে আমার চোখে,

নবীন হয়ে নূতন সে আলোকে

পরব তব নবমিলন-ডোর

তোমায় খোঁজা শেষ হবে না মোর”

স্মৃতিগুলোকে ফিরে পাওয়া, ফিরে দেখা, সাম্প্রতিক সমসাময়িকালের সমস্যা সমাধানের প্রত্যাশায় বিতর্কের আয়োজনে বসা মিলন মেলার মানচিত্রে 'অকপট' আসলে একটা ঐতিহ্যবাহী মেলবন্ধন- নবীন ও প্রবীণ কিছু মানুষের মাঝে, যে মেলবন্ধন আয়োজন করে মাত্র ৪২টা রেলের কনফার্ম টিকিটে ৫২জনের একটা দলের প্রফুল্লতামাখা যাত্রাপথ, যার কোথাও কোনও অভিযোগ নেই; অকপট মানে সেই ফেলে আসা দিন, ফেলে আসা শৈশবের সরলতা মাখা বন্ধুত্ব- যাকে চাওয়া ও পাওয়ার মাপকাঠিতে পরিমাপ করা যায় না। আজকাল তো আর কেউ জিজ্ঞাসাও করেনা কোথায় গেট্টু করতে যাওয়া হচ্ছে, যাব বললেই সবাই রেডি। বহু ক্ষেত্রেই পৌঁছে যাবার পর শুধায়- এটাই কি আমাদের গন্তব্য ছিল! আসলে এটা ভরষা, এটা ভালবাসা একে অপরের প্রতি, এটাই অকপট। গুরুদেবের ভাষায় অকপট মানে-

নাই, নাই, কিছু নাই, শুধু অম্বেষণ--

নীলিমা লইতে চাই আকাশ ছাঁকিয়া

কাছে গেলে রূপ কোথা করে পলায়ন,

দেহ শুধু হাতে আসে-- শ্রান্ত করে হিয়া”

অকপট শিক্ষা দেয় নতুন করে পুরাতনকে জানার, নিত্য অন্বেষণের। ইতিহাসের গলি বেয়ে ভবিষ্যতের ওয়ারর্মহোল আবিষ্কারের যৌথ খামার। ক্ষুদ্রজীবনে বিরামহীন যে খোঁজ- তার মাঝেই আমার আমিকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব। অকপট অন্বেষণের মোক্ষ তো তখনই, যখন কেউ নিজেকে উপলব্ধি করতে পারে এককভাবে এই বিশ্বচরাচরে

জন্মজয়ন্তীর উৎসব পালনে দৃষ্টিগোচর বাঁধ ভাঙা উল্লাসের পুনরাবৃত্তি এবারে হয়নি আনুষ্ঠানিকতার বাগড়ম্বরা সহ, কিন্তু অকপটের যে মূল চালিকা শক্তি তা হলো- সম্পর্কের বন্ধন; পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস। অকপটের যে প্রত্যয় তা আসলে সম্পর্কের সংস্কৃতিতে উচ্চমর্যাদা দিয়ে, সেই কৃষ্টিকে পারিবারিকভাবে হৃদয়ে লালন করার মাধ্যমে, এর জন্য কে কোথায় ভৌগলিকভাবে অবস্থান করছে তার চেয়েও বড় হয়ে দেখা দেয়- আমার হৃ্দয়ে তাকে বা তাদের আসন দিতে পেরেছি কিনা! এভাবেই রাত্রি দেড়টার সময় হিমালয়ের পাদদেশে, ৩ ডিগ্রি শীতল আবহাওয়াতে বিনা নুনের বিরিয়ানিও অমৃতের স্বাদে ধরা দেয় অকপটুদের কাছে, আসলে এটা কোনো একক প্রচেষ্টার সফলতা নয়, দলগতভাবে আমিত্বের বিসর্জন দিয়ে আমরা হয়ে উঠার নামই 'অকপট'তাই তো কবিগুরু লিখেছেন-

মুক্ত করো হে মুক্ত করো আমারে,

তোমার নিবিড় নীরব উদার

অনন্ত আঁধারে

নীরব রাত্রে হারাইয়া বাক্

বাহির আমার বাহিরে মিশাক,

দেখা দিক মম অন্তরতম

অখণ্ড আকারে”

'অকপট' মানে তো নস্টালজিয়া, যেখানে হারিয়ে যায় উত্তর ও দক্ষিণের ভেদাভেদ, মুছে যায় পূর্ব-পশ্চিমের সীমানা। অবসরপ্রাপ্ত সম্মানীয় সদস্যেরাও অনায়াসে পাল্লা দেয় সদ্য যুবকের সাথে, আসলে বয়স এখানে কেবলই একটা ধ্রুবক মাত্র, অকপট আসলে একটা নিম্ন বুনিয়াদী বিদ্যালয়, যেখানে আমরাই আমাদের শিক্ষক, আবার সকলেই মনোযোগী শিক্ষার্থী।

যে যেভাবে পারে খুঁজে ফেরে জীবনের একান্ত স্বাদটুকু, অকপট ‘ডেকার্স লেনের’ ব্যস্ত ফুটপাতের একটা ছোট্ট কাউন্টার স্বরূপ। এখানে খাবারের নামে আদর পরিবেশনা করা হয়, বিনিময়ে ঘৃণা দিলে অগ্নিবর্ষণ করতে পিছুপা হয় না কেউ- এটাই 'অকপট'যারা মানিয়ে নিতে পারেনা, তারা হয় সাথে পথচলা থামিয়ে স্তব্ধ হয়ে যায়, কেউ বা কক্ষ থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়। ইতিউতি আলাপচারিতায় ভেসে বেড়ায় অকপটের সমাপ্তিকাব্য। যখনই এমন কিছু শ্রুতিগোচর হয়, মনে পড়ে যায় কবিগুরুর অমোঘ সৃষ্টি-

শেষের মধ্যে অশেষ আছে,

এই কথাটি মনে

আজকে আমার গানের শেষে`

জাগছে ক্ষণে ক্ষণে

সুর গিয়েছে থেমে তবু

থামতে যেন চায় না কভু,

নীরবতায় বাজছে বীণা

বিনা প্রয়োজনে”

আসলে শেষের যে শেষ নেই এটাই তো অকপটের ধমনীর মূল তন্ত্র, ব্যস্ত জীবনের মাঝে ঝরে পড়া শিউলির গন্ধ নিয়ে মাতোয়ারা হতে অকপটের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ঠিকানা আর কিই বা হতে পারে, এখানে জীবন আছে, তাই তো বিচ্ছেদ আছে, অভিমান আছে, বিষাদ আছে, প্রেম আছে, পরিণয় আছে, আছে কত শত অপত্য, রয়েছে মিলনান্তক-বিয়োগান্তক কতই না অধ্যায়, আসলে ব্যক্তিপরিসর যেখানে দলে এসে মিশে যায় তখন তাকে ‘অকপট’ ডাকনামে ডাকা হয়।

চলার পথে দিন যাপনের নানা ধরণের গ্লানির পলি জমে জমে অকপটের ভিত মজবুত না হলে, জনসেবার নামে লক্ষ লক্ষ টাকার সংস্থান করা সম্ভব হতো না, কৈশোরের অকপট সেই স্মৃতির ভারে তলিয়ে না গিয়ে তাকে ভর করেই নতুন উচ্চতায় উঠে এসেছে, মাথা তুলেছে নতুন ভোরের স্বপ্নে। অতিক্রান্ত ঋতুপর্যায়ে শীতের শেষে নব বসন্তের দখিনা হওয়ার সাথে অকপট প্রতিদিন চোখ মেলে পৃথিবীর পানে নতুন প্রত্যাশাতে। মনে পড়ে যায় কবিগুরুর লেখনী-

মনে করি এইখানে শেষ

কোথা বা হয় শেষ

আবার তোমার সভা থেকে

আসে যে আদেশ

নূতন গানে নূতন রাগে

নূতন করে হৃদয় জাগে,

সুরের পথে কোথা যে যাই

না পাই সে উদ্দেশ”

'অকপট' মানে তো নতুনকে গড়ে তোলার স্বপ্নকে লালন করা, পথ ভিন্ন হতেই পারে, মতের অমিল হতেই পারে কিন্তু অকপট শেখায় গন্তব্য যখন একটিই তখন সকল বৈরিতাকে একটি খোলসের মাঝে আবৃত রেখে যদি আমরা সাথে সাথে পথ চলি তাহলেই তো প্রাণে সমৃদ্ধি আসে জীবনীশক্তিতে- আর এই প্রাণশক্তিটার নামই তো আসলে অকপটতা। অকপট ভীরুতা, কাপুরুষতাকে প্রশ্রয় দেয় না, কিন্তু অশ্লীলতাকে কঠোর ভাবে দমন করার প্রেরণা দেয়, ক্ষমতার চোখে চোখ রাখতে শেখায়। দাসত্ব, অন্ধত্বের গরল থেকে স্বতন্ত্রতার গরিমার পথের প্রতিটি যাত্রীই আসলে একজন অকপটুএকাদশের অকপট আজ সত্যিকারের একটা ক্রিকেট/ফুটবলের টিম হয়েছে- বয়স নামের সংখ্যার নিরিখে।

ওজোনের চাদর যেমন ঢেকে রাখে প্রকৃতির শুদ্ধতাকে, অকপটের শ্রেষ্ঠ সদস্যেরা পরিচালক রূপে অকপটের সেবা করে চলেছে প্রতিনিয়ত। বিদ্বেষ, হীনতা, স্বার্থপরতা, মিথ্যাচারের উত্তুরে হাওয়া যখন মুহূর্তে কাঁপন ছড়িয়ে দেয় শিরা-উপশিরায়, শক্ত হাতে তাঁরা পাল সামলে অকপট নামের ডিঙিকে ভাসিয়ে রাখে এই মহাসমুদ্রে।

আজকে ‘একাদশে অকপট’ অকপটজয়ন্তী উৎসবের প্রেক্ষাপট একেবারেই ভিন্ন, দেশ ব্যাপী স্বৈরাচারের করাল থাবা রোগের মত সর্বত্র ছড়িয়ে রয়েছে। সর্বগ্রাসী চোরের দল রাজনৈতিক ক্ষমতার দম্ভে অন্ধ, ক্লীব ও মানসিক পঙ্গুত্বে ভোগা একদল মানসিক বৃদ্ধ বিরোধীর ভূমিকাতে হামাগুড়ি দিচ্ছে। সর্বত্র ছড়িয়ে পড়া দেউলিয়া রাজনীতির নগ্নতা, অপরিকল্পিত রাষ্ট্রব্যবস্থা, অতি দক্ষিনপন্থী পুঁজিবাদী হায়েনার ক্যানাইন, সাম্রাজ্যবাদীদের যুদ্ধের দামামার সাথে সর্বগ্রাসী কর্পোরেটের ক্ষিদের সাথে যুঝতে গিয়ে আমরা সকলেই রণক্লান্ত, আমাদের হৃদয়ের উষ্ণতা হারিয়ে গেছে সামান্য খিদের চাহিদা মেটাতে। মিথ্যা প্রচারের অনন্ত শীতলতায় ঢেকে যাওয়া সমাজের বুকে একটুকরো রোদ হয়ে বুকের ভিটেতে একটুখানি ওম পৌঁছে দেওয়ার নামই অকপটতা। এ উষ্ণতায় কোনো ভেদাভেদ নেই, আছে মিলন পিয়াসী শুধু সুখ, আর ভাগ করে নেওয়া সুখানুভূতি।

সামাজিক বৈষম্য, জাত, ধর্ম, বর্ণ কিছুই অকপটের বাধা হতে পারে না, আর যেখানে এই বন্ধন আছে তা কখনও অকপট হতে পারে না। তাইতো কবিগুরু বলে গেছেন-

ললাটে দিয়েছে চিহ্ন ‘তুমি আমাদের চেনা' বলে

খসে পড়ে গিয়েছিল কখন পরের ছদ্মবেশ;

দেখা দিয়েছিল তাই অন্তরের নিত্য যে মানুষ;

অভাবিত পরিচয়ে

আনন্দের বাঁধ দিল খুলে

ধরিনু চিনের নাম, পরিনু চিনের বেশবাস

এ কথা বুঝিনু মনে,

যেখানেই বন্ধু পাই সেখানেই নবজন্ম ঘটে

আনে সে প্রাণের অপূর্বতা”

আর এই প্রাণের অপূর্বতা আছেই বলেই কখনও একঘেঁয়েমি গ্রাস করে না অকপটকে, অকপট কঠোর কিন্তু স্বাধীনতায় বিশ্বাসী, ব্যক্তিত্ববোধের স্বতঃস্ফূর্ত বিকাশের সহায়ক, মোহনীয় মানবিক গুণের পৃষ্ঠপোষক। অকপট বর্তমানে বাঁচে ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুকে এঁকে, কিন্তু নিজেদের গৌরবোজ্জ্বল অতীতকে বর্তমানের অকপটুদের সাথে ভাগ করে নিয়ে স্মৃতিময় করে তোলে বর্তমানকে, আগামীর জন্য।

অকপট মানে তো সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের উজ্জ্বল্যের গান, স্মৃতিচারণা কেবলই একটা পথ নির্দেশনা মাত্র- সমাজের মাঝে ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত অকপটুদের সাথে নিশ্চিন্তে বেড়ে উঠে নব প্রজন্ম, তাদের অভিজ্ঞতা থেকে প্রেরণা নিয়ে বস্তু জীবনকে সমৃদ্ধ করতে পারার নামই অকপট অনুশীলন। স্মৃতিধন্য বর্তমান প্রজন্মই পারে আগামীর স্বপ্ন পূরণে আন্তরিকতার অভিব্যক্তিময় পরম্পরা চালিয়ে যেতে। অকপট জানে কবিগুরুর এই কবিতাখানি-

সমুখে শান্তিপারাবার,

ভাসাও তরণী হে কর্ণধার

তুমি হবে চিরসাথি,

লও লও হে ক্রোড় পাতি,

অসীমের পথে জ্বলিবে জ্যোতি ধ্রুবতারকার”

অকপট সদা সর্বদা একটি অকৃত্রিম সংস্করণ, এখানে থাকা মানেই মনের স্ফূর্তি। সংসার-জীবনের কৃত্রিমতার বাধা পেরিয়ে সবাই নিজেকে হালকা করতে অকপট হওয়া, যেখানে কোনো অভিনয় থাকে না। নিজেকে খোলস থেকে বের করে আনার একটা প্রক্রিয়ার নাম 'অকপট'অকপট আসলে অনেক নাম, হরেক চেহারা, ভিন্ন ভিন্ন চঞ্চলতা, অপ্রতুল হর্ষ, অনিঃশেষ পরিতৃপ্তি ঘিরে ভিড় করে থাকা মানুষের দল। তাদের সামঞ্জস্যই হলো তাদের তারতম্যতায়, যেখানে রঙ, রূপ, বর্ণ, গন্ধ সবেতেতেই আছে দৃষ্টান্তমূলক ভিন্নতা; তা সত্ত্বেও প্রত্যেকের উজ্জ্বলতা ও আত্মার পরিশুদ্ধতা একইরকম দীপ্তিময়। একে বিচ্ছিন্ন করে এমন সাধ্যি কার!

কথিত আছে- ‘বিজ্ঞান আমাদের দিয়েছে বেগ, কেড়ে নিয়েছে আবেগ’; কিন্তু অকপট একটা ভার্চুয়াল মাধ্যম হয়েও এর মানে হলো- বিগলিত আবেগের বারিধারা। জীবিকার তাগিদে যতই যান্ত্রিকতায়- বস্তুজীবনের মানবিকতা পথ হারিয়ে ফেলুক, অন্তরের আবেগ কখনও ফুরিয়ে যায় না, আর এই আবেগকেই পুঁজি করে যারা বাসা বেঁধেছে, তাদের সেই বাসার নামই যে 'অকপট'নিরন্তর সংগ্রামে লিপ্ত সকলেই এক সমান্তরালে এসে পূর্ণ করে তুলেছে শ্রদ্ধা ও স্নেহের অপূর্ব এক মেলবন্ধনে। এমনই কোনো জন্মদিনের অবসরে কবিগুরু বলে গেছেন-


আজি এই জন্মদিনে

দূরের পথিক সেই তাহারি শুনিনু পদক্ষেপ

নির্জন সমুদ্রতীর হতে”

চোখ আমাদের সামনের দিকে হলেও আমরা দেখতে পায় কেবলমাত্র পিছনের অতীতকে, সেই নির্লোভ, নির্ভেজাল, নিষ্কলুষ শৈশবের কাছে বাঁধা আছে আমাদের প্রাণভোমরা। যাকে আক্ষরিকভাবে ছোঁয়া যায় না ঠিকই, তাই তো অকপট নামের এমন মঞ্চের প্রবর্তনা। অসীম আকুলতা মহাকালের পথ দিয়ে আমরা জীবনের সেই চরম সত্যের দ্বার প্রান্তে পৌঁছে যায়- ‘সময় কখনও ফিরবার নয়’। তবুও মনের জানালা খুলে দিলে অকপট সমাজ আমাদের সামনে এসে দাঁড়ায় মূর্তিমান হয়ে। তাই তো কবিগুরু প্রশ্ন করেছেন-

তোমার গেছে যে দিন সে কি একেবারেই গেছে? কিছুই কি নেই বাকি?

বিড়বিড় করতে করতে মন বলে উঠে- ‘রাতের সব তারা-ই আছে দিনের আলোর গভীরে’

কবি শঙ্খ ঘোষের একটি লাইন দিকে আমি নিজেকে অকপটের সাথে সম্পর্ক সম্পৃক্ত করতে পারি আজকের ন্যাংটা সমাজে, যেখানে আমার যা কিছু আছে সবটাই আসলে অকপটের জন্য- তাই তো এই কবিতাটা ‘আমি ও অকপটের’ মাঝে যোগসূত্র স্বরূপ


আমার জন্য একটুখানি কবর খোঁড়ো সর্বসহা

লজ্জা লুকোই কাঁচা মাটির তলে --

গোপন রক্ত যা-কিছুটুক আছে আমার শরীরে, তার

সবটুকুতে শস্য যেন ফলে”

শুভ জন্মবার্ষিকী 'অকপট', পায়ে পায়ে এই পথ চলা শতাব্দীর প্রাচীরকে ভেদ করে কালের গর্ভে যাত্রা করুক এটাই তো অকপট কামনা

শেষে বলি, কবিগুরু যেন অকপটের জন্যই এমন একটা কবিতা এঁকেছিলেন বোধহয়- একে ছাড়া যেন এই আত্মচর্চাটাই অসম্পুর্ণ-

 

সীমার মাঝে, অসীম, তুমি বাজাও আপন সুর

আমার মধ্যে তোমার প্রকাশ তাই এত মধুর

কত বর্ণে কত গন্ধে, কত গানে কত ছন্দে,

অরূপ তোমার রূপের লীলায় জাগে হৃদয়পুর

আমার মধ্যে তোমার শোভা এমন সুমধুর

তোমায় আমায় মিলন হলে সকলি যায় খুলে--

বিশ্বসাগর ঢেউ খেলায়ে উঠে তখন দুলে

তোমার আলোয় নাই তো ছায়া, আমার মাঝে পায় সে কায়া,

হয় সে আমার অশ্রুজলে সুন্দরবিধুর

আমার মধ্যে তোমার শোভা এমন সুমধুর”


-চরৈবেতি



শনিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৫

যৌনতাঃ সুস্থ দাম্পত্যের চাবিকাঠি


শখের পুরুষ/নারীকে বিয়ে করেছেন?

তার পরেও অকারন মনোমালিন্য; আর সেই থেকে নিত্য অশান্তি?
দাম্পত্য কলহ যে সকল সময় হাতাহাতি পর্যায়েই পৌছাতে হবে তেমন কোনো মানে নেই, মানসিক দুরত্ব সবচেয়ে বড় সমস্যার কারন। দীর্ঘদিনের এই দুরত্ব ক্রমশ ফাটলে পরিনত হয়, পরকিয়ার জীবানু বাসা বাঁধে।
‘ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর সেক্সুয়াল মেডিসিন’ নামের একটা আন্তর্জাতিক সংস্থা ২০২০ সালে একটা জরিপ করে ২০-৪৫ বছর বয়সী বেশ কয়েক হাজার স্যাম্পল দম্পতির উপরে। তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এই সংস্থার মতে, সেই সকল সম্পর্কই সুখী, যারা নিজেরা স্বেচ্ছায় যৌনতাকে উপভোগ করে, বাৎসরিক হিসাবে ১৫০ বার- সপ্তাহে নুন্যতম ৩ বার, অর্থাৎ মাসে ১২ যৌন মিলন করে।
পুরুষের চোখে নারী শরীরের সবটাই শিল্পকর্ম, তার কামনা কখনও শেষ হয়না। চোখের ভাষা, ঠোঁটের ইশারা, মুখশ্রীর মায়া, আলগা চুলের হালকা আলগোছামো, আঙুলের সরল সৌন্দর্য, ত্বকের কোমল উজ্জ্বলতা কিংবা নিতম্বের সূক্ষ্ম গড়ন- সব কিছুই মুগ্ধ বিস্ময়ে ছুঁয়ে যায় পুরুষের সচেতন অবচেতন অনুভব। পুরুষের ইন্দ্রিয়ের পর্দায়, কল্পনার ক্যানভাসে চিরস্থায়ী রঙিন মুর্তি কোন এক প্রেয়সীরই হয়। অপরদিকে শখের পুরুষের তারিফ করার মাঝেই নারী তার সৌন্দর্যের সার্থকতা খুঁজে পায়, নিজের পুরুষের শক্ত বাহুডোরেই তার যাবতীয় আত্মিক তৃপ্তি।
সুতরাং, পূর্ণ যৌবনে কোনো দাম্পত্যে যদি স্বাভাবিক যৌনমিলন না হয়, তা নারী পুরুষের স্বাভাবিক চরিত্রের পরিপন্থী, অসুস্থতার লক্ষণ- যেটা শারিরীক হতে পারে বা মানসিক।
একজন দম্পতির কতবার যৌন মিলন করা উচিত তা নির্ভর করে সেই দম্পতি এই বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার উপর। যেসব স্বামী স্ত্রীর মাঝে ঝগড়া ও মনোমালিন্য বেশি হয়, তাদের ‘ডেটা’ পর্যালোচনা করলে দেখা গেছে, তারা নিয়মিত যৌন সহবাস করেনা।
সহবাস করলে দেহ থেকে অক্সিটোসিন সহ নানা হরমোন নির্গত হয়ে দেহ এবং মনে প্রশান্তি-স্বাচ্ছন্দ্য আনে। ঘুম ভালো রাখে, হৃৎপিণ্ড সুস্থ রাখে,শরীরের রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতা বাড়ানো সহ বিভিন্নভাবে স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। বিশেষ করে মহিলাদের জন্য সুস্থ যৌনসম্পর্ক তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ জরুরী। বিয়ের আগের মাইগ্রেন বিয়ের পর ভালো হয়ে গেছে এমন উদাহরণ ভারিভুরি।
স্বামী স্ত্রীর মধ্যে অনিয়মিত যৌন সহবাস এক অদ্ভুত ধরনের বৈরিতা শুরু করে, একে অন্যের প্রতিদ্বন্দ্বী মনে হওয়া শুরু হয় এবং যা বাড়তেই থাকে, ওভার থিঙ্কিং শুরু হয়, আত্মবিশ্বাসের অভাব দেখা দেয়, ডিপ্রেশন আসার ফলে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। ফলে ছোটখাটো বিষয়, নন-ঈশ্যুকে ইশ্যু বানিয়ে নিয়ে আপসে ঝগড়া শুরু করে দেয়।
উপরোল্লেখিত সংস্থার জরিপ মতে, যে সকল স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক স্বাভাবিক ও হাসিখুশি, তারা সপ্তাহে অন্তত পক্ষে ৩ বার বা তার অধিকবার যৌনমিলন করে বাৎসরিক গড়ের হিসাবে। ডেটা এ্যানালিসিস করে দেখা গেছে যে দম্পতিদের মাঝে যৌনমিলন যদি সপ্তাহে ২ বারের কম হয়, তথা বাৎসরিক ৫০ বারের কম মিলিত হয় (২০-৪৫ বছরের দম্পতিদের মধ্যে), তাহলে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে যে দম্পতিটি তাদের দাম্পত্য নিয়ে অসুখী।
যৌনমিলন স্ত্রী-পুরুষকে সবচেয়ে কাছাকাছি নিয়ে আসে, নিজেদের মাঝে রসাত্বক একান্ত আলাপচারিতা সম্পর্ককে স্বাভাবিক করে, সন্দেহ দূর করে, পরকিয়ার সম্ভাবনাকে কমিয়ে দেয়, পর্ণ আশক্তিকে নির্মূল করে দেয়। স্বাভাবিকভাবেই আত্মিক বন্ধন গভীর হয়। যে সম্পর্ক যতো গভীর, তাদের সুখী হওয়ার সম্ভাবনাও ততটাই বেশী।
স্পর্শ, দৃষ্টি বিনিময়, নিঃশ্বাসের উষ্ণতা অনুভবই হলো ভালোবাসার নীরব ভাষা। একসময় শরীর কেবলমাত্র আকর্ষণের বাহক হয়ে রয়ে থাকে না, হয়ে ওঠে হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের নিঃশব্দ সংলাপের সেতু। চরম মুহূর্তে কামনা আর ঐশ্বরিক প্রেম মিশে যায় এক অনির্বচনীয় পূর্ণতায়, যেখানে শরীর আর মন একে অপরকে জড়িয়ে এক পরিপূর্ণ অভিজ্ঞতায় পরিনতি পায়।
সঙ্গীর প্রতি অধিক যৌনতা অনুভব কোনো কুপ্রবৃত্তি নয়, বরং প্রকৃতির স্বাভাবিক আহ্বান, আগামীকে টিকিয়ে রাখার একমাত্র পদ্ধতি। পুরুষের সহজাত আকর্ষণ চোখ দিয়ে হৃদয়ে প্রবেশ করে, একজন স্ত্রী তার পছন্দের পুরুষের স্পর্শে আদরে তার মানসিক প্রশান্তি খুঁজে পায়। সুস্থ স্বাভাবিক সাংসারিক জীবনে যৌনতা হল পেন্ডুলামের ছন্দ, যাতে মিশে থাকে মায়াবী কোমলতা, যা হৃদয়ের মাঝে ভালবাসাকে উষ্ণ রাখার কৌশলও বটে।
ডিভোর্স হওয়া ৩০০০ স্যাম্পল দম্পতির মধ্যে দেখা গেছে ৮৩% ক্ষেত্রে সেই দম্পতিদের মধ্যে শেষ ৪ বছরের সম্পর্কে, বাৎসরিক গড়ে ৫০ বারেরও কম তারা যৌনসম্পর্কে মিলিত হয়েছিল।
দৈনিক শত সহস্র সংসার ভেঙে যায় অহেতুক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অ-কারনে, যার সত্যিই তেমন কোনো ভিত্তি নেই। সঠিক বোঝাপড়া না হওয়ার কারণে, বন্ধন দানা বাঁধতে বাঁধতে রয়ে যায়, এই সময় দম্পতির মাঝে নিয়মিত দৈহিক সম্পর্ক অনেক ফুটোফাটা মেরামত করে দেয় রাগে অনুরাগে।
তাই নিজের সঙ্গী/সঙ্গীনীর সাথে মনোমালিন্য থাকলে যত দ্রুত সম্ভব সমাধান করার চেষ্টা করুন উভয়ের ইচ্ছাকে সম্মান করে, অবশ্যই অনিয়মিত যৌনমিলনকে স্বাভাবিক করার মাধ্যমে, কারন একটা নারী পুরুষের জুটিকে এই সময়ের থেকে কাছে আর কোনো পরিস্থিতিই আনতে পারেনা।
পার্টনারের তরফে কবে শুরু হবে তার প্রতীক্ষায় সময় আর যৌবনকে খুন করবেন! নাকি আপনি নিজেই উদ্যোগী হবেন একটা দুর্দান্ত ‘শরীরী’ শুরুর জন্য, যা খাদের কিনারা থেকে দাম্পত্যকে বাঁচিয়ে একটা নতুন শুরু দেবে। আজই.....

ফেসবুকীয় সিপিএমঃ ফিউজড আইনগাইডেড কামিকাজে ড্রোন

  ফেসবুকের ‘সিপিএম’ নামক এই চুড়ান্ত আঁতেল ও প্রায় সর্বজ্ঞ গোষ্ঠীটার পূর্ণ বোধোদয় বা পূর্ণ বিনাশ না ঘটা অবধি রাজ্যের বাম নেতৃত্বের খুব বেশী ...