ব্ল্যাক হোল কী বা কাকে বলে?
একটি নক্ষত্র মৃত্যুর মাধ্যমে নিঃশেষিত হয়ে গেলে, অস্থির কেন্দ্রীয় অংশ নিজের ভিতরের দিকেই ধসে যায় এবং এমন সর্বগ্রাসী হয়ে উঠে, যেখান থেকে আলোরও সাধ্য নেই বাইরে পালাবার।
হাসিনা পরবর্তী বাংলাদেশ রাষ্ট্র বর্তমানে ঐ ব্ল্যাকহোলেই পরিনত হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এই নিঃশেষ সংগঠিত করার বিষয়টার একমাত্র কৃতিত্ব সেখ হাসিনা ও তার ১৬ বছর ধরে চলা সরকারের। সরকারী সম্পদকে কীভাবে কুক্ষিগত ও আত্মসাৎ করে নিজের ও পারিষদদের ব্যক্তিগত সম্পদে পরিনত করে বিদেশে পাচার করা যায় তার একটা বৈশ্বিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে রেখেছে। এর সাথে সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সর্বোচ্চ অপপ্রয়োগ করে বিরোধীদের যেকোনো মর্মে দমন উৎপীড়ন করেছে, কর্মহীন যুবসমাজকে লাগাতার মিথ্যা প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে ফাঁসিয়ে রাখাটাও শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল।
ফলত বেকারত্ব, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, অরাজকতা আর অপশাসনের চাপে নুজ্ঝ একটা সমাজ মুক্তি চাইলো। এটা রাতারাতি কোনো দাবী ছিলোনা, কিন্তু বাংলাদেশের শেষ ‘জাতীয় নির্বাচন’টা পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত নির্বাচনের মতই, প্রকাশ্য প্রহসনের পর সম্পূর্ণ বিষয়টা আয়ত্তের বাইরে চলে যায়, গোটা রাষ্ট্রটা একটা বারুদের স্তুপে পরিনত হয়ে যায়। প্রতিটা স্বৈরাচারীই এই স্তুপকে গ্রাহ্য করেনা ক্ষমতার দম্ভে, হাসিনা ও তার উপদেষ্টারাও সেটা করেনি ইতিহাসের ধারাবাহিকতায়। কোটা আন্দোলন এই বারুদের স্তুপে স্ফুলিঙ্গের কাজটি করেছিল মাত্র। বাকিটা সকলের জানা।
দীর্ঘদিনের পুষে রাখা রাগকে কেন্দ্রীভূত করানোটা সবসময় সমস্যাকর, কোটা আন্দোলনকে তাই কুলোর বাতাস দিতে শুরু করে স্বার্থান্বেষী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহল। আজকের বিকারগ্রস্থ বাংলাদেশী যুবসমাজ যেভাবে ভারত বিদ্বেষের স্রোতে ডিঙা ভাসিয়েছে, তার কারন ভারতের সাথে কূটনৈতিক ও ব্যবসায়িক স্তরে অতি ভালো সুসম্পর্ক। ৪০৯৬ কিলোমিটারের বিশাল দৈঘ্যের সীমান্ত এলাকা ভারতের সাথেই, যা তাদের সর্বমোট আন্তর্জাতিক সীমান্তের প্রায় ৯৪ শতাংশ। সুতরাং, ভারতে ঘেরা একটা দেশকে সেই বৃহৎ প্রতিবেশীর সাথে যে সুসম্পর্ক রাখতেই হবে, এটা কোনো জটিল মহাকাশ বিদ্যা নয়। স্বাভাবিকভাবেই সেদেশের অফিসিয়ালি আমদানির প্রায় ১৯ শতাংশ ব্যবসায়িক অংশীদার ভারত, চীনের ঠিক পরেই। আন-অফিসিয়ালি হিসাবটা এটা এর দ্বিগুন হুন্ডি পথে। প্রসঙ্গত এই হুন্ডি লেনদেনের পথিকৃৎ কিন্তু আমাদের ভারতই, এবং ভারতীয়রাই এই হুন্ডি ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করে বিশ্বজুড়ে।
বাংলাদেশে নিজেদের পণ্যের বাজার দখলের পাশাপাশি, ভারতের বগলের মধ্যে নিজেদের সেনা উপস্থিতি রেখে ভারতকে চাপে রাখার কৌশল হিসাবে আমেরিকার ভীষণ দরকার বাংলাদেশ নামের এই ভূমিটা। প্রসঙ্গত বাংলাদেশের রপ্তানি বানিজ্যে সর্ববৃহৎ অংশীদার কিন্তু এই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই। সুতরাং, ছাত্র আন্দোলনের আগুনে যথারীতি মদত দেয় মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা CIA, সহযোগী ছিল পাকিস্থানি ISI, ঠিকিই শুনছেন ISI, আর দেশজভাবে সাথ দিয়েছিল জামাত শিবির, যারা ঘোষিতভাবে পাকিস্তানপন্থী। আজকের দিনে ছাত্রসমাজের বহু সমন্বায়ক সরাসরি জামাতের ছাত্র শিবির থেকে এসেচছে, তা তাদের স্বীকারোক্তিতেই স্পষ্ট।
হাসিনা কার কাছে পদত্যাগ জমা করেছিল, তার চেয়ে বড় প্রশ্ন প্রফেসর ইউনুসই কেন? ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাষনের মতন করে মার্কিনিরা উপনিবেশ স্থাপন করেনা, তারা অস্ত্রবহরে সজ্জিত নিজেদের সেনাসম্ভার রাখে। চেয়ারে বসায় নিজেদের বিশেষ শিক্ষায় শিক্ষিত একটা জড়ভরত বা সাক্ষীগোপাল ঠুঁটো পুতুল, যার কাজ প্রভুর নির্দেশাবলী যথাযথ প্রয়োগ করা। ইউনুস সাহেব এই ঠুঁটোর একটা কপিবুক ‘নোবেল’ সংস্করণ। ওনার অধীনে যারা সমন্বায়ক হয়েছেন, তারা আসলে সিনেমার নায়িকার মৃত বাবার ভূমিকাতে আছেন – শুধু দায় নেওয়ার জন্য একটা ছবি হয়ে। মূল সিনেমাতে যার ১ সেকেন্ডেরও অভিনয় দৃশ্য নেই।
ক্রীড়াকে হাতিয়ার বানিয়ে জনগণকে বোকা বানিয়ে রাখাটা মানব সভ্যতার মতই সুপ্রাচীন। দেশজুড়ে উত্তাল সময়ে যখন সদ্য ‘স্বাধীন’ দেশের জনগণ ও ছাত্রসমাজ সমন্বায়কের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রায় সব ক্ষেত্রে নিজেদের মতামত রাখছে ও শরিকানা দাবী করেছে, সেই সময় আহাম্মক যুবসমাজকে অন্যদিকে ভুলিয়ে দেওয়া ভীষণ জরুরী ছিল। পাকিস্তানের সাথে ক্রিকেট ম্যাচ ও তার ফলাফল এর প্রকৃষ্ট প্রমাণ। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের পর আগামী ২০ বছর ধরে তপস্যা করলেও, বাংলাদেশ আর একটিও টেষ্ট ম্যাচ জয়ের আশেপাশেও পৌঁছাবেনা পাকিস্তানের বিপক্ষে। কিন্তু জনগণ পাতানো ম্যাচ জয়ের উৎসবে ভেসে গেলো, পরবর্তীতে ভারতের সাথে প্রথম ম্যাচে হেরে আবার প্রবল সমালোচনায় ধুইয়ে দিলেও, ফোকাসটা কিন্তু ক্রিকেটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেল। তাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যতই পিটিয়ে মানুষ খুন করুক ছাত্রদল কিম্বা ত্রাণের টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ উঠুক নাবালক সমন্বায়কদের বিরুদ্ধে। সেদেশের সাধারণ মানুষের তাতে এই মুহুর্তে তত আগ্রহ নেই যতটা ক্রিকেট নিয়ে রয়েছে। আর এই আগ্রহ ফেরাতে ISI এর অঙ্গুলীহেলনে চলা পাকিস্তান ছাড়া সম্ভব ছিল কী?
জাতীয় সঙ্গীত বদল নিয়ে আলাপ অনেক বেশী জরুরী, কারন বিল্পব বিপ্লব আবহাওয়াটা জিইয়ে রাখাটা জরুরী। সাধারণ মানুষ যেন মনে করে তারাই এই মুহুর্তে দেশ চালাচ্ছে বা তাদের সরকার চলছে, যাতে তৃতীয়পক্ষে আরো সুসজ্জিত হয়ে ময়দানে নামতে পারে। কারা এই তৃতীয় পক্ষ? যারা ইতিমধ্যে জিন্নাকে জাতির পিতা হিসাবে দাবী করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ের এক স্মারক অনুষ্ঠানে, প্রকাশ্যে- তারা? এদের যুক্তি, জিন্না না থাকলে পাকিস্তান হয়না, পাকিস্তান না হলে বাংলাদেশের জন্ম হতোনা। অতএব, দুয়ে দুয়ে চার।
মার্কিনিদের অঙ্ক হলো- এলোমেলো করে দে মা, লুটেপুটে খায়। আরব বসন্তের নামে ‘বিল্পব’ ঘটানো প্রতিটি দেশ সহ ইরাক ও আফগানিস্তানে এটাই করেছে আমেরিকা। প্রত্যেকটা দেশকে নির্মমভাবে ব্ল্যাকহোলে রূপান্তরিত করে ছেড়েছে। বাংলাদেশও ব্যতিক্রম নয়, যত দুর্বল বাংলাদেশ, তত বেশি বেশি লোন ভিক্ষা। তত বেশী মহান দাতা হিসাবে কিছু ছাপানো ডলার ছড়িয়ে দিয়ে দেশটাকে কুক্ষিগত করবে। নতুবা বাংলাদেশের সেনা কীভাবে ম্যাজিস্ট্রেট ক্ষমতা পায়? এখানেই আবির্ভুত হবে তৃতীয় পক্ষ, তাহলে এরা কারা?
যে দেশের ৯২% জনগনই মুসলমান, সেখানে মসজিদের খতিব, মাদ্রাসার শিক্ষক সমাজ ও মিলাদ-মেহফিল করা হুজুরদের উপেক্ষা করে দেশ পরিচালনা অসম্ভব, তাদের সমাজ ব্যবস্থা, রাজনীতি ও অর্থনীতিকেও বোঝা যাবেনা এদের উপেক্ষা করলে। হাসিনা সরকার শেষ ৭ বছরে এই সম্প্রদায়টিকে চরমভাবে অবহেলা করে রীতিমত দমনপীড়ণ নামিয়ে এনেছিল। সারা বিশ্বে সুন্নি ধারার ইসলামিক জনসমাজে ভারতের দেওবন্দী ধারার শিক্ষা ব্যবস্থার প্রভাব সবচেয়ে ব্যাপক। ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, বাংলাদেশেও যার ব্যতিক্রম নেই, এমনকি ইসলামের মূল পীঠস্থান সৌদি ও গোটা মধ্যপ্রাচ্য থেকে উত্তরপ্রদেশের দেওবন্দে আসে ইসলামিক পড়াশোনা করতে। কিন্তু, বাংলাদেশের মুসলমান সমাজে পীরেদের উপস্থিতি ভয়ানক ও ভয়ঙ্করভাবে, কোটি কোটি এদের অনুগামী সংখ্যা, আর এরা অধিকাংশই মধ্যপ্রাচ্যের তথা নির্দিষ্টভাবে সৌদি সরকার নিয়ন্ত্রিত ইসলামিক মতাদর্শ দ্বারা পরোক্ষে পরিচালিত, কারন অবশ্যই পয়সা ও দ্বিতীয় হলো সরাসরি ‘আরবের স্বীকৃতি’ দেখিয়ে মুসলমান সমাজে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি। কামলা খাটতে যাওয়া শ্রমিক দলের মাধ্যমেই যে এই অনুপ্রবেশ, তা বলাই বাহুল্য।
তৃতীয় দলটা হলো দেওবন্দ ও আরবি যোগ ব্যাতিত এক পৃথক সম্প্রদায়, যাদের জন্ম মূলত এই দুই গোষ্ঠী থেকে আসা মানুষজনদের নিয়েই। হাসিনা শাসনামলে এরা অরাজনৈতিকতার মোড়কে নিজেদের শক্তিসঞ্চয় করে সুযোগের অপেক্ষাতে ছিল। হাসিনার পলায়ন, ইউনুসের সিংহাসন আরোহন, দেশে আইনশৃঙ্খলার অরাজকতা, মুদ্রাস্ফিতি, ব্যাঙ্কের পতনের পর খুব শীঘ্রই এই গোষ্ঠী ক্ষমতা অধিগ্রহণ করলো বলে, শুধু সময়ের অপেক্ষা। অর্থাৎ বাংলাদেশ সম্পূর্ণভাবে ইসলামিক মৌলবাদীদের করায়ত্তে আত্মসমর্পন করতে বাধ্য হবে, সে দেশের সেনার সহায়তায়। সাম্প্রতিক বন্যাতে সরকারী সাহায্যের চেয়ে এই সংগঠনের তরফে ত্রাণসামগ্রী ও তৎপরতা অনেক বেশী ছিল। সমন্বায়ক প্রফেসর ইউনুস পর্ব একটা সার্কাস পর্ব মাত্র, যার মেয়াদ খুব বেশী নয়। এই তৃতীয় পক্ষের মুখটা শুধু দেখা যাচ্ছে, এদের বাকি শরীরটা অপ্রকাশ্য এখনও। এদের পিছনে কোন কোন শক্তি আছে সেটাও অতি শীঘ্রই প্রকাশ পাবে নিশ্চিত।
বর্তমানে কী অবস্থা বাংলাদেশে?
☞চাল ডাল পিঁয়াজ ডিম আলু সমেত প্রায় সমস্ত নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম যথেষ্ট পরিমাণ বেড়েছে।
☞৫৪ টা ব্যাংকের মধ্যে মাত্র সাতটা ব্যাংক মোটামুটি টিকে আছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর স্বীকার করে নিয়েছে বাংলাদেশ যেকোনো সময় শ্রীলঙ্কা হয়ে যেতে পারে। অধিকাংশ ব্যাঙ্ক গণেশ উল্টিয়ে শুয়ে আছে, আর সেই ভিডিও বাইরে প্রকাশ হয়েছে অতএব এটা আর সেটা অস্বীকার করার পরিস্থিতিতে নেই।
☞অধিকাংশ পোশাক কারখানা বন্ধ, প্রায় ১১৪টা। সংশ্লিষ্ট শিল্পের সাথে জড়িত প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষের মধ্যে ৮০% মানুষ গত দুই মাসে বাড়িতে টাকা পাঠাতে পারেনি। উল্টে তারা সবাই বেতন বৃদ্ধি আন্দোলনে নেমে পরেছে। বিদ্যুতের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ ফলে পোশাক শিল্পের কারখানা গুলো বিদ্যুতের অভাবে এরপর নতুন করে ভুগবে।
☞ডলারের মজুদ তলানিতে, দেশের ক্যাপিটাল রির্জাভ হু হু করে কমে গেছে। নতুন ঋণ নিয়ে সংসার চালাচ্ছেন ইউনুস সাহেব। বকেয়া পরিশোধ না করলে পেট্রোলিয়াম জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট ভয়ঙ্কর হতে চলেছে। ভারত ডিজেল পাইপ লাইন প্রজেক্ট সম্প্রসারণ বন্ধ রেখেছে।
☞বিশ্বজুড়ে বিপুল পরিমাণ কামলাখাটা শ্রমিক থাকলেও, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা ধীরে ধীরে কমে গেছে, নতুন করে বিদেশে কাজ করতে যাওয়ার পরিসর ছোট হয়ে এসেছে। মেডিকেল আর স্টুডেন্ট ভিসা ছাড়া ভারত সব ভিসা বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকি বাংলাদেশের সাথে যাত্রীবাহী ট্রেন পরিষেবা ভারত বন্ধ করে দিয়েছে।
☞মাজারে হামলা হচ্ছে, কারন সম্পদ লুঠ। মসজিদের কোনো সম্পত্তি নেই, কিন্তু মাজারের রয়েছে। লোকে মাজারে মানত করে, রীতিমতো টাকা পয়সা সোনা দানা দেয়। যারা এই দান দেয়, তারা ধর্মস্থান মনে করে দেয়, পূণ্যার্জনের জন্য। যে লুঠছে- সে অর্থ সম্পদের লোভে লুঠছে, ধর্মস্থানের জন্য নয়।
☞ভারত এবং রাশিয়া বিভিন্ন খাতে দেওয়া ঋণের টাকা ফেরত চেয়েছে তার মধ্যে রাশিয়া আবার সুদ সমেত চেয়েছে।
☞ইন্ডিয়ার সেভেন সিস্টার্স দখল করতে গিয়ে, নিজেদের পার্বত্য চট্টগ্রাম তিন তালাকের হুমকি দেওয়াতে হাতছাড়া হওয়ার মুখে।
☞ক্রীড়া ক্ষেত্রে থেকে বাংলাদেশ মোটামুটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবার পথে।
☞তাদের ইনসাফ বাহিনী গণ্ডগোল শুরু করেছে।
এমন বেগতিক পরিস্থিতিতে জামাত শিবির বাধ্য হয়ে ভারতের প্রতি নরম হয়ে গেছে, যদি তাতে ওদের ভাগ্যে ক্ষমতার শিকে ছেঁড়ে। মোদ্দা কথা ওরা না ধর্মান্ধ মুসলমান হতে পারছে না সেকুলার হতে পারছে না নাস্তিক।
ইন্ডিয়া কিন্তু বাংলাদেশের বিকল্প বাজার খুঁজে নিয়েছে আফগানিস্তানে, যা ডেভলপড হতে সময় লাগলেও, অল্পদিনের মধ্যেই রপ্তানি বানিজ্য ঘাটতি পুষিয়ে নেবে। ইতিমধ্যেই কাবুলে ইন্ডিয়ান এম্বাসি খুলে দিয়েছে। কাবুলও ইন্ডিয়ানদের জন্য আলাদা অঞ্চল সংরক্ষিত করে দিয়েছে এবং আমাদের অবাধ ও মুক্ত ব্যবসা-বাণিজ্য করার ক্ষেত্রে যদি কোন সমস্যা উদ্ভুত হয়, সেক্ষেত্রে তালিবান সরকার স্পষ্টভাবে বয়ান দিয়েছে “আমরা সেসব বুঝে নেব” ।
আমাদের তৃতীয় বিশ্বের দেশ যেমন বুঝতেই পারবনা – পশ্চিমা সভ্যতাতে ব্যাক্তিস্বাধীনতার বিষয়টা ঠিক কোন পর্যায়ে, তাদের নির্বাচনে ভোটলুঠ বা রিগিং নামের শব্দই নেই, তাদের গণতন্ত্র আর আমাদের ভারতীয় গণতন্ত্র- দুই এর প্রাক্টিসে আলোকবর্ষের ফারাক। তেমনই লাঠিসোটা নেওয়া বাংলাদেশী 'মেধাবী'দের সাথে যে কোনো সভ্য ভদ্র গণতান্ত্রিক দেশের আচার ব্যবহারের ফারাক সুবিপুল। আন্দোলনেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। দিশাহীন অশিক্ষিত যুবসমাজের সাথে গণতান্ত্রিক জাতির ফারাক যে আচরণে, সেটা গণভবন লুঠের দৃশ্যে বিশ্ববাসী চাক্ষুষ করে নিয়েছে।
প্রচণ্ড বেগে ছুটে চলা পৃথিবীতে বাস করে যেমন পৃথিবীর ঘূর্ণন গতি টের পাওয়া যায়না, তেমনই বাংলাদেশে বাস করে নিজেদের নিকৃষ্টতর, কুৎসিত, পাশবিক, অশিক্ষাময় যুব চরিত্রকেও ধরা যায়না। পাশাপাশি ইন্ডিয়া বা এই ধরনের যে সকল দেশে গণতন্ত্রের কালচার এখনও টিকে আছে, সেগুলোকেও ঠিক কেমন দেখতে, তার একটা বাস্তবসম্মত অবয়বের কল্পনাও কঠিন বর্তমান বাংলাদেশ যুব প্রজন্মের কাছে, নতুবা হাসিনার পলায়ন তাদের কাছে স্বাধীনতা হিসাবে গ্রাহ্য হতনা। গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা ঠিক কীভাবে কাজ করে, এটা বুঝতে গেলে যে শিক্ষা, পরিবেশ আর দর্শন লাগে- সেসব থেকে বর্তমান বাংলাদেশী যুবসমাজের দুরত্ব কয়েক আলোকবর্ষের।
ভারতের মেধাবীরা যেখানে বিশ্বের ৫০%বড় কোম্পানির শীর্ষকর্তা, সেখানে বাংলাদেশের মেধাবীরা হয় রাস্তার ট্রাফিক সামলাচ্ছে, কিম্বা বিদেশে গিয়ে কাজের কামলা খাটছে। কামলা খাটা শ্রমিকের রক্ত জল করে পাঠানো ডলার রেমিটেন্সের টাকায় দেশে রয়ে যাওয়া বেকার যুবসমাজ ফুটানি মেরে সোস্যালমিডিয়াতে বয়কট ইন্ডিয়ার হ্যাজ নামাচ্ছে। স্বাধীনতাকামী সাধারণ বাংলাদেশী জণগণ বুঝে গেছে, তারা চরম ঠকে গিয়েছে।
মুসকিল হচ্ছে পড়শি অস্থিতিশীল হলে তার আঁচ আমাদের ভারতে লাগতে বাধ্য। রুমমেটের ইনফ্লুয়েঞ্জা জ্বর হলে, সাথের জনের নাক সড়সড় করার মত অস্বস্তি তৈরি হবেই। আগষ্ট বিপ্লব পরবর্তী অস্থিরতার কারনে মার্কিন পররাষ্ট্রদপ্তর বাংলাদেশকে লাল তালিকাভুক্ত করেছে, ইচ্ছাকৃত ও জবরদস্তি করে, যাতে আরো দুর্বল হয় সে দেশের ভাবমুর্তি। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন আমেরিকাকে ফলো করাটাকেই দায়িত্ব হিসাবে নেয়, মানে সেখানেও একই নিয়ম লাগু। আগামীতে উল্লেখিত দেশগুলো সহ মধ্যপ্রাচ্যের বহু দেশ বাংলাদেশীদের ভিসা দেওয়া স্থগিত করে দেবে চলমান অস্থিরতার কারন দর্শিয়ে, কেউ কেউ ইতিমধ্যেই সেই কাজ করে ফেলেছে। ফলত দেশের জনগণের কাছে অগাধ সময়, আর সময়গুলো ব্যায় করবে, শিলিগুড়ি করিডরকে কব্জা করে সেভেন সিস্টার্স দখল করে, কোলকাতার ৫০০০ টাকা ইলিশের দাম আবিষ্কারে, ঠাকুরগাঁও তে বিমানবন্দর তৈরি করে, ২৬ লক্ষ ভারতীয়কে তাড়াতে পরিকল্পনা করে যারা বাংলাদেশে কাজ করে কিম্বা ফারাক্কার অদূরে ৩০০ ফুট উঁচু বাঁধ নির্মান করে, ফেসবুক ও ইউটিউবে।
এগুলো আমাদের পশ্চিমবঙ্গের বাঙালীদের কাছে এলোমেলো পর্যায়ের বিনোদনের যোগান দিলেও, এতে পেটের খিদে ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের যোগান দেবেনা বাংলাদেশী আমজনতাকে। খিদে অপরাধের আঁতুড়ঘর, এখন এত বিপুল সংখ্যক আবাল যদি আমাদের এদিকে চলে আসে বা আসার চেষ্টা করে তখন কী হবে? ওদের ৯৪% বর্ডার তো আমাদের সাথেই। সমস্যা এখানেই। ওরা ব্ল্যাকহোলে তলিয়ে গেলে, আমাদেরও সেই আলোকহীন মলিনতাকে স্পর্শ করতে হবে, বিশেষত আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের মানুষদের। এরা তো আর কেউ মায়ানমার যাবে না, না যাবে নাগাল্যান্ড, মনিপুর বা অরুণাচলে।
পাকিস্তানের লোকেরা আফগানিস্তান ইরান ইরাক মধ্যপ্রাচ্য মধ্য এশিয়া এইসব অঞ্চলের ডাঙ্কি রুটে ইউরোপে পৌঁছে যায় ও পরবর্তীতে ঠিক ইউরোপ ও আমেরিকার বড় শহরে সিফট করে যায়। এই মহামূর্খ বাংলাদেশী গুলো যাবে কোথায়, যারা বয়কট ইন্ডিয়া স্লোগানে আর্তনাদ করছে? খুব শিজ্ঞিরি এরা ইন্ডিয়াতে আসার জন্য যেকোনো কিছু করতে রাজি হয়ে যাবে একই উগ্রতার সাথে, যেকোনো মূল্যে। এটা কবে হবে নির্দিষ্ট তারিখ বলা না গেলেও, সময় যে একদম শিয়রে- তা বলাই বাহুল্য।
আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাননীয় রাজনাথ সিং দেশের সেনাকে প্রস্তুত থাকতে বলেছেন। বাংলাদেশের উদভ্রান্ত জনগণ ভাবছে এটা যুদ্ধের প্রস্তুতি। আজ্ঞে না, এটা আপনাদের ওই আবালদের ঠেকানোর প্রস্তুতি, যারা তারকাঁটা ডিঙিয়ে ফাঁকিদিয়ে এদেশে ঢুকে পরার তাল করছে। পাতি অনুপ্রবেশ আঁটকানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত, যাতে পিটিয়ে গরুখেদানি দিয়ে সীমান্ত চোরা বন্ধ করা যায়।
অতি দুঃস্বপ্নে, বাংলাদেশের সঙ্গে যদি দুর্ভাগ্যবশতঃ ভারতের কোনদিন যুদ্ধ লাগে তাহলে- ভারতের গ্রাম চৌকিদার, স্কাউট, NCC, পশ্চিমবঙ্গের সিভিক পুলিশ ও হোম গার্ড, কোলকাতা শহরের ট্রাফিক পুলিশ, সীমান্তবর্তী ভারতীয় জেলা গুলোর ATM ও ব্যাংকের সিকিউরিটি গার্ড জাতীয় ব্যক্তিদের, কোনো একদিন টিফিন টাইমে ১৫ মিনিটের জন্য পাঠাবে। এটাই বর্তমান বাংলাদেশ আর্মিদের সম্মানজনক পরাজয়ের জন্য যথেষ্ট।
সুতরাং, অতি দুর্বল বাংলাদেশ আমাদের ভারতের জন্য ভীতিকর সমস্যাদায়ক। তাদের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতা করতে হবে ব্যবসায়িক পর্যায়ে। শিক্ষাক্ষেত্রগুলোকে পঠনপাঠনের উপযোগী গড়ে তুলতে সাহায্য করতে হবে। ওদের যুব সমাজকে বোঝাতে হবে, খেয়ালি ভারত বিরোধিতা দিয়ে ওদের পেট ভরবেনা, যেমন পাকিস্তানি পেঁয়াজ বা ডিমে বাজারের মূল্য কমেনি, ইন্ডিয়ার পণ্যই সেই কাজ করেছে। যেমন ডলারের জন্য ইলিশ পাঠাতে বাধ্য হয়েছে উপায়ন্তর না থাকার কারনে। নির্মান শিল্পের স্টোনচিপস, সিমেন্ট সিল্পের ইন্ড্রাস্টিয়াল ছাই বা ডলোমাইট ইন্ডিয়া থেকেই যায় বা ইন্ডিয়ার ভূমি ব্যবহৃত হয়। চিকিৎসার জন্য অর্ধলক্ষ টাকার বিমান ভাড়া গচ্চা দিয়ে সিঙ্গাপুর মালয়েশিয়া যাওয়ার চেয়ে, ৩০০ টাকায় কোলকাতা যাওয়াটা যে ঢের সুবিধার। উপরন্তু ডাক্তারকে ও পথেঘাটে বাংলাতে কথা বলতে পারার সুবিধা যে পরে-পাওয়া চোদ্দআনা- সেটা নিশ্চই বলার অপেক্ষা রাখেনা। প্রোপ্যাগান্ডা দিয়ে শিক্ষিত হওয়া যায়না। ধর্ম আর ধর্মান্ধতার মাঝের ফারাকটা ধরিয়ে দিতে হবে।
মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে সে দেশের জান্তা সরকার একপ্রকার পালিয়ে গেছে রাখাইন আর্মির দাপটে। রোহিঙ্গাদের দেশ স্বাধীন হবার পথে একপ্রকার। সুতরাং, বাংলাদেশে থাকা প্রায় ১০ লক্ষ রোহিঙ্গাকে এবারে তাদের স্বদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা নিতে হবে ইউনুস সরকারকে।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঘটে চলা অরাজকতা নিয়ে দিল্লিকে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করতেই হবে কূটনৈতিক স্তরে, বিবিধ বৃত্তকলায়। নতুবা আমরা যারা আসাম বা পশ্চিমবঙ্গবাসী, তাদের জীবন অতিষ্ট হয়ে উঠবে।
আরো কিছু যদি গঠনমূলক সহযোগিতার ক্ষেত্র থাকে, আপনি কমেন্টে তার উল্লেখ করতেই পারেন।