রবিবার, ৩ মে, ২০২০

তোমার মাঝে বসত করে কয়জনাঃ করোনা ভাইরাস (২)



দ্বিতীয় পর্ব

রোগের হেতু যদি একটাই হয়, তাহলে দেশভেদে মৃত্যু হারে এই ভয়ানক অসামঞ্জস্য কেন? বিজ্ঞানীরা প্রথমে বলেছিলেন মোট ৬টি প্রজাতির করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে যা মানুষকে সংক্রামিত করে, পরে বাদুড়ের মধ্যে আরো ৫০০ প্রজাতির করোনা তারা আবিষ্কার করেছেন, সুতরাং প্রতিটি আলাদা আলাদা দেশের নমুনা গুলো সেই আলাদা কিনা এ বিষয়েও কোনো গ্রহনযোগ্য সমাধান আসেনি। কেউ কেউ বলছে তাপমাত্র, আদ্রতা, উচ্চতা ভেদে ভাইরাস নাকি ভিন্ন ভিন্ন আচরণ করে, কিন্তু শেষ ২ দিনে ভারতে আক্রান্তের হার বৃদ্ধি মোটেই এই কথাকে পুষ্টি করছেনা। ফেব্রুয়ারি ২০২০ থেকে এপ্রিলের ২৬ তারিখ পর্যন্ত সংক্রমণ ছিল- ২৮০০০ জন- সেখানে আজ ৩ রা মে এর মধ্যেই ১২ হাজার বেড়ে ৪০ হাজার পৌঁছে গেছে মাত্র ৭ দিনে। এছাড়া বিবিসি এর একটা প্রতিবেদনে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞদের মতামত উল্লেখ রয়েছে, তারাও এমন কোনো বিষয়ে সদুত্তর দিতে পারেননি।

বরং WHO এর পক্ষ থেকে স্পষ্ট ঘোষণা রয়েছে যে –তাপমাত্রর গল্পটা একটা গুজব। নিচের লিঙ্কে ফ্যাক্ট-চেক দেওয়া রয়েছে। https://www.who.int/.../un-rumour-tracking-english-issue...

তাহলে এমত পরিস্থিতিতে সমাধান কি? আপনি বলবেন ভ্যাক্সিন আবিষ্কার হলেই সব সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু উপরের প্রশ্নগুলো ও তার পরিসংখ্যান অনুযায়ী- যাকে এখনও সঠিকভাবে চিহ্নিতই করা যায়নি, তাকে তাক করে গুলি ছুড়বে কীভাবে? আগামী নিশ্চই এর সমাধান করবে, কিন্তু এখন কি হবে? সেই আগামীর মেয়াদই বা কতদিন?

প্রথমেই বলেছি, এটা সম্ভবত একই ‘গণ’ ভুক্ত বিভিন্ন প্রজাতির সংক্রমণ, যার কোনো নির্দিষ্ট তথ্য হয় WHO এর কাছে নেই বা সত্য গোপন করছে। করোনার ‘এপিসেন্টার’ যদি চীন’ই হয় তাহলে ধরে নিতে হবে এই জীবানু কয়েকদিনের মধ্যেই নিজের বিবর্তন ঘটিয়ে পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে। কিন্তু এ বিষয়ে গবেষকদের তরফে কোনো প্রামাণ্য দলিল নেই, তাই এটা আপাতত হিসাবের বাইরে চলে যায়। বিখ্যাত ব্রিটিশ দৈনিক দ্য ডেইলি মেলও এমনই একটা সন্দেহ জ্ঞাপন করে গত ৯ই এপ্রিলের একটা প্রবন্ধ পাব্লিশকরেছিল, যেখানে প্রথম তারা A, B, ও C ক্যাটাগরির কথা উল্লেখ করে, যেখানে A এর আবার দুটো সাব-কাটাগোরি ছিল। কিন্তু মে’এর ৩ তারিখ পর্যন্ত কোনোটাই গবেষকদের তরফে নিশ্চিত করা হয়নি।

রাজনৈতিক বাকবিতণ্ডার সুত্র ধরে যদি ধরে নিই, চীন’ই রাসায়নিক অস্ত্রের পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে গিয়ে ভুলবশত দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ছড়িয়েছে, সেক্ষেত্রেও রোগের লক্ষণ বিশ্বব্যাপী একই পরিসংখ্যান হওয়ার কথা বিগত চার মাসের নিরিখে। উল্টোদিকে চীনের দাবী মোতাবেক এটা আমেরিকার ষড়যন্ত্র, সেক্ষেত্রেও জীবানুর চরিত্র এতটা অসামঞ্জস্যমূলক হওয়ার ছিলনা। তাহলে দেখা যাচ্ছে দুটো তথ্যই নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে অক্ষম।

বিশ্বের তাবড় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা সকলে মিলে সম্মিলিতভাবে একটা মঞ্চ বানিয়েছে, যেখানে ‘Artificial Intelligence’ ব্যবহার করে গোটা বিশ্বে এই রোগে ব্যবহৃত বিভিন্ন ক্যেমিকেল এজেন্টের ডিজিটাল স্ক্যান করে একটা ‘Common Database’ তৈরি করে তার বিশ্লেষণ করছে। এই কাজে IBM তাদের সুপার কম্পিউটার ব্যবহার করতে দেবার বিষয়েও এগিয়ে এসেছে- যাতে করে জটিল গানিতিক সমাধান অতি দ্রুত সম্পন্ন করে, একটা শক্তিশালী প্রতিষেধক আবিষ্কার করা সম্ভব যা গোটা বিশ্বকে ত্রাসের হাত থেকে মুক্তি দেবে। আতঙ্কের গল্পটা হল- অধিকাংশ বড় ফার্মা কোম্পানিগুলো তাদের ‘ব্যবসায়িক গোপনীয়তা’ রক্ষার স্বার্থে তারা ‘Covid Data’ দিতে সটান মানা করে দিয়েছে, অথচ তাদের কাছে সবচেয়ে বেশি ও বৈচিত্রময় তথ্য থাকার কথা। এই গোপনীয়তা রক্ষার একটাই কারন- মুনাফা।

এদিকে আমাদের দেশের সিরাম ইন্সস্টিটিউট বলছে, অতিশীঘ্র তারা বেশ কয়েকলক্ষ ভ্যাকসিন বাজারজাত করার জন্য প্রস্তুত। প্রশ্ন- এটা কোন ভাইরাসের ভ্যাকসিন? এ বিষয়ে আমেরিকা এমন নিশ্চুপ কেন, যেখানে আমেরিকা প্রায় সমস্ত বড় বড় রিসার্চ সেন্টার গুলোকে অর্থের জোরে কিনে নেবার প্রস্তাব দিতে দিতে অতিষ্ট করে রেখেছে। তেমনই এক জার্মান বায়ো রিসার্চ কোম্পানি CureVac কে কিনে নেওয়ার জন্য বিপুল অর্থের প্রস্তাব দিয়েছিল ট্রাম্প, যাতে তারা যেন শুধুই আমেরিকার জন্য কাজ করে। যদিও ওই CureVac, ট্রাম্পের প্রস্তাব নাকচই করে দেয়নি, বরং এই ঘৃণ্য মুনাফাখোরী চক্রান্তের বিষয়ে প্রকাশ্যে টুইটারে জানিয়েও দেয় বিশ্বকে। সুতরাং, সেই আমেরিকা ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেছে বলে দাবী করা সিরাম ইন্সিটিটিউট নিয়ে এক্কেবারে চুপ। প্রসঙ্গত- এই CureVac কোনো ফার্মা কোম্পানি নয়, এরা শুধুই গবেষণা প্রতিষ্ঠান, তারপরেও তাকে কিনে নিতে চাওয়ার ঘৃন্য প্রয়াস চালিয়েছিল।

মুনাফার জন্য পারেনা এমন কোনো কাজ নেই আমেরিকা ও তার বন্ধুদের কাছে। প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালে HIV এর ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেছিল আমেরিকার ফেডারাল গর্ভমেন্ট, কয়েকটি ফার্মা কোম্পানির সাথে সম্মিলিত উদ্যোগে, সেবারও গবেষণা চুরি ও অনৈতিক ক্ষমতা প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছিল, প্রমানের অভাবে কারো শাস্তি হয়নি। এইডস ভাইরাসের এই AntiRetroViral ভ্যাকসিন সফল প্রমাণিত হতেই, আমেরিকা সেই ফার্মা কোম্পানীগুলোর বকলমে একগাদা পেটেন্ট লাগু করে ভ্যাকসিনের দাম ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে চলে যায়। গরীব দেশ তো ছার- আমাদের ভারতেই ওই ১৯৯৬-২০০৪ পর্যন্ত একেকজনের জন্য তৎকালীন মুদ্রাতে প্রায় ৬ লক্ষ টাকা খরচা পড়ত AntiRetroViral এর জন্য। ২০০৪ সালে T cells চিকিৎসা পদ্ধতি বাজারে আসলে তবে HIV ভ্যাকসিন জনসাধারনের জন্য সহজলভ্য হয়েছিল।

সুতরাং করোনার মত এই মহামারী রোগের প্রতিষেধক থেকে মুনাফা কামাবার জন্য যে, জায়ান্ট ফার্মা কোম্পানিগুলোর জিভের লালা ঝরছে সেটা বলাই বাহুল্য। একটা দল লেগে পরে আছে কীভাবে পরিত্রান পাওয়া যায় সেই গবেষণায়, আরেকটা দল রয়েছে কীভাবে কোনো সফল গবেষণাকে করায়ত্ত করে তা থেকে মুনাফা করা যায় সেই ধান্দায়।

২০১৪ সালে যখন ইবোলা ভাইরাস মহামারির মত ছড়িয়ে পরেছিল আফ্রিকাতে, ইউরোপ-আমেরিকার একটাও বড় ফার্মা কোম্পানী ওষুধ প্রস্তুত করার বিষয়ে নূন্যতম আগ্রহ দেখায়নি। আরব পেনিনসুলার ধনকুবের রাষ্ট্র গুলোও চোখে পটি বেঁধে ছিল। কারন যে দেশটিতে প্রথম এটা ছরিয়েছিল তার নাম- গিনি, যেখানকার মানুষেরা দরিদ্রদের মধ্যে দরিদ্রতম।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা দেখে ‘গ্যারি কোবিঙ্গার’ নামের এক কানাডিয়ান ভাইরাস গবেষক নিজ উদ্যোগে গবেষণা করে- ইবোলার ভ্যাকসিন স্যাম্পেল তৈরি করে WHO এর কাছে সেটা পরীক্ষা করার অনুমতি চেয়েছিল, হু পত্রপাঠ সেটা বাতিল করে দিয়েছিল ফার্মা কোম্পানীদের লবির দৌলতে। পরবর্তীতে মৃত্যুহার আরো বেড়ে গেলে, গিনি, সিয়েরা লিওন, লাইবেরিয়া, মালি এর সরকার নিজ দায়িত্বে ‘কোবিঙ্গারের’ ভাক্সিনের ট্রায়াল শুরু করে, এগুলো কানাডা সরকার বিনামূল্যে দান করেছিল, যাতে সফলতাও আসে।

এই একই বিষয়ে আমেরিকার বিজ্ঞানী ফিল্ডম্যান এবং স্টিভেন জোনস পরিচালিত উইনিপেগ ল্যাব’ নাম্নী একটা গবেষণা সংস্থা- মার্কিন সেনেটের কাছে চেয়ে চেয়েও চার পয়সার অনুদান পাওয়া তো দূরঅস্ত, বরং তাদের ইবোলা সংক্রান্ত গবেষনাই বন্ধ করে দিয়েছিল- “প্রয়োজন নেই” বলে। পরবর্তীতে উইনিপেগ, কানাডায় তাদের পরীক্ষাগার স্থাপন করে কানাডীয় প্রতিরক্ষাখাতের কিছু বরাদ্দের সহযোগিয়তায়। ইবোলা ভাক্সিনের বানিজ্যিক ডেভলপ এরাই শুরু করে।

সুতরাং, দেড় পয়সার মুনাফা না থাকলে উন্নত বিশ্ব এক পা’ও কোথায় ফেলেনা। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ২০১৯ এর সেপ্টম্বরে এই রোগ ও তার ভাইরাসকে মান্যতা দিয়েছে। বাকিদের ভয় দেখিয়ে অস্ত্র বিক্রি করেছে, আর নিজেরা একে অন্যের সাথে টক্কর দিয়ে বিশ্বের সুপার পাওয়ার হওয়ার দৌড়ে লেগে রয়েছে। আমেরিকা তো আছেই, সাথে চীন, রাশিয়া আর ইজরায়েল। ঠিকিই শুনছেন, ইজরায়েল। এ নিয়ে পরবর্তী পর্বে আলোচনা করব।

তাহলে- i) ‘প্রকৃতিগত ভাবে এই ভাইরাস সংক্রমণ করেছে’ তত্ত্ব কিম্বা ii) ‘চীন/আমেরিকার যে কেউ ছড়িয়েছে’ তত্ত্ব- এই দুই সম্ভাবনার মাঝে কি কোনো “তৃতীয় পক্ষ” কাজ সেরে নিচ্ছে কৌশলে? ওই শুরুর বিল্ডারটির মত, যে কৌশলে বস্তির জমিতে নিজের বহুতলটি বানাতে চায়। যদি তাই হয়, তাহলে কে সেই পক্ষ? কি তার গোপন ইচ্ছা? এমন অনেক সদ্যজাত প্রশ্নেরা চেঁচামেচি জুড়ে দেবে। পরবর্তী পর্বগুলোতে এ নিয়ে বিষয়ে আলোচনা করব।

আজকের দিনের এই লকডাউনে গোটা বিশ্বই কার্যত একই আদেশের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, তাহলে কি এটাই সেই ‘New World Order’ এর সূচনা? যে লালসা শতকের পর শতক ধরে লালন করে এসেছে ‘গুপ্ত’ সংগঠনগুলি।

ভবিষ্যৎ নিশ্চই এর জবাব দেবে, দিতে বাধ্য।

…ক্রমশ 

শুক্রবার, ১ মে, ২০২০

তোমার মাঝে বসত করে কয়জনাঃ করোনা ভাইরাস (১)

 


প্রথম পর্ব

অনেকসময় দেখা যায় বস্তির দুটো বাড়িতে আগুন লেগেছে, সকলে ভীষণ কলরবে জলের বালতি নিয়ে সেই আগুন নেভাতে ব্যাস্ত- এই ফাঁকতালে কোনো ‘বিল্ডারের পোষা গুন্ডা’ আরো কিছু ঘরে সেই আগুন ছড়িয়ে দেয়, কারন বস্তির জাইগাটাতে ওই বিল্ডার বহুতল বানাতে চায় মুনাফার লোভে। সিনেমার পর্দাতে আমরা এমন স্ক্রিপ্ট হামেশাই দেখতে অভ্যস্ত।

যে যাই হোক, শুরুতেই একটা প্রশ্ন রাখি- প্রতিটি দেশের করোনা-ভাইরাস কি অদৌ একই প্রজাতির?

মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ২৭শে এপ্রিল ২০২০ তারিখে একটা সরকারী প্রেস কনফারেন্সে নিছক মজা করে ‘করোনা ভাইরাস’ সম্বন্ধে বলেছেন- “একে ফ্লু বলতে পারেন, আবার জীবানু বলতে পারেন, আবার ভাইরাসও বলতে পারেন, আমরা সম্ভবত কেউই জানিনা একে কী নামে ডাকা উচিৎ, তাই যেকোনো একটা নামে ডাকলেই হয়”। ট্রাম্প সুকুমার রায় পড়েছেন কিনা জানিনা, যদি পড়িতেন তিনি নিশ্চই জানতেন, কেউ ভীষণ রকমের ভেবলে গেলে ‘হিজবিজবিজ’ নামটা টুক করে তকাই হয়ে যায়, আবার ধমক দিলে নামটা বিস্কুট হয়ে যায় মুহুর্তেই। শুধু তাইই নয়, গুষ্টি শুদ্ধু সকলেই এই একটাই নাম। যেকোনো একটা নামে ডাকলেই হয়। আক্ষরিক অর্থেই সুকুমার রায় এই ‘ননসেন্স রাইম’ রচনা করেছিলেন, আজকের ননসেন্স গুলো ওনাকেই প্রতিষ্ঠা করছে মাত্র। তো সে যাই হোক, বিষয়ে আসি-

SARS-CoV2/Covid-19 পরিচয়ের যে ভাইরাস বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাস চালাচ্ছে সে কি একটাই প্রজাতি নাকি অনেকগুলো আলাদা আলাদা প্রজাতির। কারন আলাদা বর্গের, আলাদা গণ ও আলাদা গোত্রের এই SARS বা MARS জীবানু ইতিমধ্যেই রয়েছে! হতেই পারে এটা অলীক ও অমূলক, কিন্তু সন্দেহটা আমার প্রথম শুরু হয় ওই কিটের গণ্ডগোল শুরু হওয়ার পর থেকে। এ যেন সেই- ‘হেড আপিসের জাঁদরেল রাশভারী বড়বাবুটি, ঘরে বৌ’এর সামনে পোষ্য মেনি’। চীনে এ কিট রোগ ধরে দিচ্ছে, স্পেনে তা অকেজো, দক্ষিণ কোরিয়ান কোম্পানির কিটে ভারতে আরামসে রোগ নির্নয় হচ্ছে অথচ লাতিন আমেরিকার দেশ চিলি তা ফিরত পাঠিয়ে দিয়েছে, আয়ারল্যান্ড আমেরিকার তৈরি কিট নিয়ে অভিযোগ করেছে। এমনটা কিন্তু হরদম চলছেই।

ঠিক কীভাবে সংক্রমণ শানাচ্ছে মারাত্মক ভাইরাসটি? কতজন মানুষ আসলে সংক্রামিত হয়েছে? সামাজিক নিষেধাজ্ঞাগুলি কতদিন চলবে? এ সব উত্তরহীন প্রশ্নগুলো সকলের, আমি সেগুলোতে যাচ্ছিনা

প্রশ্ন এক
°°°°°°°°
কেউ বেশি অসুস্থ কেউ কম অসুস্থ, কোথাও যুবক মারা আচ্ছে, কোথাও বৃদ্ধ বেঁচে ফিরে আসছেন। কেন?

প্রশ্ন দুই
°°°°°°°°
সাধারণ জ্বর হলে তা প্যারাসিটামলের একটা নির্দিষ্ট মাত্রা শরীরে গেলেই সেরে যায়, তা সেটা আফ্রিকা হোক বা ইউরোপ, এশিয়া হোক বা লাতিন আমেরিকা- চিকিৎসা বিজ্ঞানের নিয়মে আসলে সেটাই হয় বা হওয়া উচিৎ। সামান্য কিছু ব্যাতিক্রমী ক্ষেত্র ছাড়া আমরা প্রেগনেন্সি কিট বিষয়েও এই একই সিদ্ধান্তে আসতে পারি যা প্রায় সর্বত্রই একই রেজাল্ট দেয়। কিন্তু করোনার কিট এই মাত্রার সার্বজনীন ফলাফল দিতে অক্ষম।

প্রশ্ন তিন
°°°°°°°°°
করোনা ভাইরাস নিয়ে WHO এর গাইডলাইন আমাদের মনে করিয়ে দের সেই নোটবন্দির সময়কার বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির কথা, প্রায় প্রতিদিনিই নতুন নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করত। সেটা নাহয় ছিল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রজ্ঞা বিহীন আনাড়ী রাষ্ট্রনেতার নির্বুদ্ধিতা, কিন্তু WHO তো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সংস্থা- গোটা বিশ্বের তাবড় চিকিৎসক, গবেষক ও জ্ঞানীগুণী মানুষদের সম্মেলনে গঠিত একটা সংস্থা, তারাও নির্দিষ্ট করে কিছু জানাতে পারেননি এই মে মাসের শুরুর দিনেও।

কখনও বলছে এটা বায়ুবাহিত জীবানু নয়, কখনও বলছে বায়ুবাহিত। কখনও বলছে অসুস্থ ছাড়া মাস্কের প্রয়োজন নেই, কখনও বলছে আবালবৃদ্ধবনিতা সকলের জন্য মাস্ক বাধ্যতামূলক। কখনও বলছে এটা সবচেয়ে বেশি আক্রমণ করে বৃদ্ধ ও শিশুদের, আবার বলছে এটা মহিলাদের জন্য প্রাণঘাতী। সামাজিক দুরত্ব মানে ঠিক কতফুট হলে একজন সুস্থ মানুষ নিরাপদ, এ বিষয়ে তারা আজও পর্যন্ত ঐক্যমতে পৌঁছাতে পারেনি। কোয়ারেন্টিন পিরিয়ড কতদিনের তাও অজানা!

কখনও জানাচ্ছে ফুসফুস এবং শ্বাসনালীতে সংক্রমণ হয়, কখনও হৃৎপিণ্ড, রক্তনালী, কিডনি, বিভিন্ন অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি এবং স্নায়ুতন্ত্রগুলিতে আক্রমণ শানাচ্ছে বলে জানাচ্ছে, কিন্তু বাকি অঙ্গপ্রত্যঙ্গে কি প্রতিক্রিয়া করছে তা অজানাই রয়ে গেছে। পাতিবাংলায় তারা নিজেরাই ঘ্যেটে ঘ হয়ে রয়েছেন। কেউ জানেনা এটা জলবাহিত কিনা, প্রানীজ বর্জ্য বাহিত কিনা! কোন পৃষ্ঠতলে আসলেই কতক্ষণ বাঁচে ইত্যাদি। গোটাটাই একটা অনন্ত গোলকধাঁধার মত।

প্রশ্ন চার
°°°°°°°°
যারা মারা গেলেন তারা তো মরে বাঁচলেন, কিন্তু যারা সেরে উঠছেন তারা ঠিক ‘কি কারনে’ সেরে উঠছে এবিষয়ে কোনো গবেষণাপত্র বৈশ্বিক মান্যতা পায়নি। সেরে ওঠা ওই ১০ লক্ষ নির্দিষ্ট রোগীর মাঝে কোন উপাদানটা ‘Common element’ যার কারনে ওনারা এই যুদ্ধে জয়ী হয়েছেন, এ নিয়েও গোটা বিশ্ববাসী অন্ধকারে।

প্রশ্ন পাঁচ
°°°°°°°°°
কিছু রোগীর বাহ্যিক উপসর্গ দেখে সনাক্ত করা গেলেও কিছু রোগী সম্পূর্ণরূপে উপসর্গহীন। এরই বা কারন কি? কেনই বা একজন সেরে উঠা রোগী আবার ওই একই জীবানু দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছেন? কীভাবে এই রোগ বিস্তার করছে সেটাই সঠিকভাবে জানা যায়নি। কমিউনিটি স্প্রেডিং এর মাধ্যমেই যদি এ জীবানু বিস্তার লাভ করে, তাহলে আমাদের দেশ তো এতদিনে শ্মশান হয়ে যেত, কারন নামে লকডাউন হলেও আসলে কি হচ্ছে তা আমাদের নিজেদের চেয়ে কেউ বেশি ওয়াকিবহাল নয়। বারো ঘর এক উঠোনের কমন টয়লেট সহ ঘিঞ্জি বস্তিগুলো সেক্ষেত্রে জনশূণ্য হয়ে যেত- সেখানে কোনো লকডাউনই হয়নি। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে তা মোটেই হয়নি।

প্রশ্ন ছয়
°°°°°°°°
মৃত্যুর হারে এত তারতম্য কেন? আমেরিকার ১১ লাখ আক্রান্তে যেখানে মৃত্যু হয়েছে ৬২ হাজারের একটু বেশি, মানে সাড়ে পাঁচ শতাংশের একটু বেশি। আবার মোট ইউরোপ মহাদেশের আক্রান্ত ১৪ লাখের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার, শতাংশের হারে আমেরিকার প্রায় দ্বিগুন। আফ্রিকাতে এই হার ৪ শতাংশ, লাতিন আমেরিকায় সাড়ে চার শতাংশ।

দেশ হিসাবে যদি ধরা হয়, ইংল্যান্ডে আক্রান্তদের মধ্যে মৃতু হার সর্বোচ্চ- ১৬%; কিন্তু জার্মানিতে সেটাই ৪ শতাংশের একটু কম।

‘সেরে উঠা ও মৃত্যুর’ আনুপাতিক হারের নিরিখে ইংল্যান্ডে মৃত্যুহার সর্বোচ্চ, যা ভয়াবহ- 7:93 Ratio। কিন্তু গোটা ইউরোপের নিরিখে এই হিসাব 88:22 । আমেরিকাতে এই হার 70:30 ratio, আমাদের ভারতে এটা 89:11 ratio তে রয়েছে।

প্রসঙ্গত এখানের সমস্ত তথ্যই চীনকে উহ্য রেখে, কারন তাদের প্রকৃত তথ্য সম্বন্ধে কেউই জ্ঞাত নয়।

সুতরাং স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, সব দেশের ভাইরাস আসলে একটাই নয়। আমি আগেও ‘গবেষণা কোরনা’ প্রবন্ধে লিখেছিলাম যে- সকলে ভ্যাকসিন আবিষ্কারে উদ্যোগী, কারন তা লাভজনক। কিন্তু অধিকাংশ গবেষকই- দেশ ভিত্তিক ভাইরাসের জাত বিচার, তার Genetic গঠন বিশ্লেষণ, তার বংশবিস্তার, সংক্রমণের পদ্ধতি ইত্যাদি অর্থনৈতিক ভাবে অলাভজনক বিষয়ে গবেষনাতে খুব একটা উৎসাহী নয়, উপরোক্ত প্রবন্ধে এর কারন সবিশেষে বিশ্লেষণ করা রয়েছে।

প্রশ্ন উঠা কি তাহলে স্বাভাবিক নয় যে, সত্যিই এই ‘Coronavirus Pandemic’ আসলে এক প্রজাতিরিই ভাইরাস নাকি অনেকগুলো জাত?

আগামী নিশ্চই এর জবাব দেবে, কিন্তু ততদিনে ভাইরাস আর তাকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত অর্থনৈতিক দুর্ভোগের শিকার হওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

…ক্রমশ

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২০

PM Care Fund- কার যত্নের জন্য?


 

চতুর্দিকে PM CARES নিয়ে বেশ একটা হইচই রইরই বিষয় চলছে। তবে বিষয়টার উদ্দেশ্য মহৎ, অন্তত রাষ্ট্র তেমনই জানিয়েছে জনগণকে, আর আমরা জানি রাষ্ট্র সর্বশক্তিমান, অতএব রাষ্ট্র যাহা বলিবে তাহাই সত্য।


মোদ্দাকথা বিষয়টা পাতি বাংলায় হল- প্রধানমন্ত্রীর যত্নসমূহ।
বাখ্যাতে- প্রধানমন্ত্রীর যত্নসমূহ ‘দরকার’ এটাও হতে পারে, প্রধানমন্ত্রীর যত্নসমূহ ‘পাবেন কেউ কেউ’ এটাও হওয়ার চান্স সমপরিমাণ।

নামকরণে যে বিশেষ মুন্সিয়ানা রয়েছে এটা মানতেই হবে, যার দ্বারা বাক্যগত মূল ভাবার্থটা কিন্তু উহ্য রয়েছে, যা পরস্পরবিরোধী। অথচ একটা ‘Relief’ শব্দ থাকলেই ত্রান বিষয়টা জুড়ে যেত, স্বাভাবিকভাবেই প্রধানমন্ত্রী ত্রানের জন্য আহ্বান করছেন বোঝা যেত। কিন্তু এখানে দ্বন্দ্বমূলক নামকরণের মধ্য দিয়েই বহু সম্ভাবনা খুলে দিয়েছেন।

প্রথমেই জেনে নেওয়া দরকারঃ রাষ্ট্র কি জানিয়েছিল ওয়েবসাইটে-

1. মহামারিকে কেন্দ্র করে উত্থাপিত এই দাতব্য তহবিল- ক্ষতিগ্রস্থদের নিকটে ত্রাণ সরবরাহই ‘প্রাথমিক’ লক্ষ্য।

2. জনস্বাস্থ্য বিষয়ক জরুরী পরিস্থিতি, মনুষ্যনির্মিত বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ তথা সঙ্কট মোকাবিলা, স্বাস্থ্য পরিসেবা সংক্রান্ত ও ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির উন্নতি সাধনে, অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, প্রাসঙ্গিক গবেষণা, ও বিবিধ যে কোনও প্রকারের সহায়তায় এই তহবিল অর্থ যোগান দেবে।

3. ট্রাস্টের গঠনতন্ত্র- মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে, মাননীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মাননীয় অর্থমন্ত্রী, ও মাননীয় ভারত সরকার ‘ট্রাস্টি তহবিলের’ প্রাক্তন কার্যনির্বাহী প্রধান।

4. ট্রাস্টির চেয়ারমান তথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বোর্ডের যেকোনো তিনজন মাননীয় সদস্যকে বেছে নেবেন। যে সদস্যেরা সমাজের সবচেয়ে বিশিষ্ট ব্যাক্তিদেরকে বেছে নেবেন- যারা সিদ্ধান্ত নেবে যে- গবেষণা, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান, সমাজিককর্ম, আইন, জনপ্রশাসন এবং সমাজসেবা ক্ষেত্রে এই তহবিল থেকে সাহায্য পাবে।

5. ট্রাস্টি যেকোনো ব্যাক্তিকে ‘জনস্বার্থের’ কারনে নিয়োগ করতে পারে।

6. তহবিলটি সম্পূর্ণরূপে- সাধারণ ব্যাক্তি, কোম্পানী বা সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের দানের অর্থেই পুষ্ট থাকবে, সরকারী বাজেট তথা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে এখানে কোনো অর্থ বরাদ্দ হবেনা।

7. এই তহবিলের যেকোনো দান, আয়কর আইন ১৯৬১ অনুসারে, ৮০-জি ধারার অধীনে ১০০% করছাড়ের সুবিধা যোগ্য। এছাড়া কোনো কোম্পানি যদি এখানে অনুদান দেয় সেটাও- Corporate Social Responsibility (CSR), ২০১৩ আইনের অধীনে গণ্য হবে।

8. PM Care বিদেশী অনুদানও নিতে পারবে, তার জন্য আলাদা একাউন্ট খোলা হয়েছে।

9. ২০১১ সালে Prime Minister’s National Relief Fund (PMNRF)’ বিদেশী অনুদান নিয়েছিল, তাই PM Care ও বিদেশী অনুদান নিতেই পারে, কারন সম্মান ও মর্যাদার দিক থেকে PM Care- (PMNRF) এর সমান ও সামঞ্জস্যপূর্ণ।



খুবই সরল কিছু নিয়ম। উদাত্ত কন্ঠা দানের আহ্বান জানিয়েছেন মাননীয় প্রধানসেবক। কিন্তু কিছু প্রশ্ন উঠেই যায়, পূর্বের নাম্বার অনুয়ায়ী যথাক্রমে-

1. প্রাথমিক লক্ষ্য ক্ষতিগ্রস্থদের ত্রান দান, তাহলে মধ্যমপর্যায়ের বা আনুষাঙ্গিক তথা গৌণ বিষয় গুলি কি কি? সেগুলো স্পষ্ট নয় কেন?

2. স্বাস্থ্য পরিসেবা সংক্রান্ত ও “ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির উন্নতি সাধনে” এই টাকা খরচ হবে। স্বাস্থ্যের দিক থেকে এই মুহুর্তে সবচেয়ে বাজে অবস্থায় দেশের অর্থনীতি। অনিল ভাই দেউলিয়া হয়ে গেছে, লকডাউনে মুকেশ ভাই এর সম্পদ হুড়হুড় করে কমে গেছিল, অনেকটা জিও বেচে সামাল দিয়েছে। আদানি ভাই, মেহুল ভাই, নীরব ভাই, সুভাস চন্দ্র ভাই, মালিয়া ভাই সহ অনেক এমন ভাই আছেন যাদের ‘স্বাস্থ্য’ অত্যন্ত খারাপ।

সরকারের তো কোনো নিজস্ব ফার্মা কোম্পানি নেই, তাহলে কোন ফার্মা কোম্পানি গুলো এই তহবিলের দান পাবে? কি তার যোগ্যতামান? মোহাল সারাভাই ভাই, পঙ্কজ প্যাটেল ভাই দের মত কজনের ভাগ্য খুলবে এই যতন ফান্ডের অর্থে?

মনুষ্য নির্মিত সঙ্কট তো রয়েইছে, প্রধানমন্ত্রী ঘনিষ্ট ব্যবসায়ীরা জনগণের টাকা নিয়ে বিদেশে পালিয়েছে, বা পালাবার ফিকির খুঁজছে। ব্যাঙ্কগুলোই যে শুধু চরম সঙ্কটে তা নয়, সেই ব্যবসাদারেদের পরিবারগুলো তো ভারতে রয়ে গেছে- তারা কি এই তহবিলের সেবার আওতাধীন?

প্রধান সেবকের বন্ধু গুলো, যারা ঋণখেলাপি করে বিদেশবিভূঁইতে পরে রয়েছে অনেকদিন হল, তারাও কি ভাগ পাবে এই অর্থের?

বিধায়ক কেনাবেচা করে স্থিতিশীল সরকারকে টলিয়ে দেওয়া মনুষ্য নির্মিত সঙ্কট, সেই সংকটমোচনের একমাত্র উপায় হচ্ছে বিজেপির সরকার গঠন। এই অর্থ কি ঐ বিরোধী বিধায়কদের কিনতে ব্যবহৃত হবে?

বিবিধ কোন ক্ষেত্রে এই তহবিল অর্থ যোগান দেবে? তারই বা যোগ্যতা মান কি?

3. ইকির মিকির চাম চিকির, ট্রাস্টি বোর্ড গঠন শেষ। সবই সেই রসুনের কোয়া, যার উৎস মুখ একটিই।

4. আচ্ছে দিনের গণতন্ত্রে ৩ জন মিলে সিদ্ধান্ত নেবে কে কি পাবে না পাবে, সেই ‘ব্যানানা রিপাবলিকে’র মতই- আমাদের দেশজ সংস্করণ ‘কাউ রিপাবলিক’ চলছে। এখন সামাজিক কর্ম, সমাজসেবার ক্ষেত্র গুলোর কোনো পরিসীমা নির্ধারিত নেই, তাই এগুলোর সঠিক সংজ্ঞা বা ব্যাখ্যা কি! ভক্তদের ইশকুল RSS ও তো নিজেদের সমাজসেবী সংস্থাই বলে, তাহলে তাদের জন্যই কি এই সাহায্যের অবতারণা?

5. যে কোনো কাউকে নিয়োগ করতে পারে ট্রাস্টি, এই ‘যে কেউ’ কাদের মধ্যে থেকে হবে? ‘যে কেউ’ হবার যোগ্যোতামান কি? IT Cell এর ভাইটিও কি এই এ কেউ এর মধ্যে আসতে পারে? তাদেরও তো নিয়মিত বেতন হয়না, সাংসারিক স্বাস্থ্য ভীষণ খারাপ।

6. সরকারী কোষাগার থেকে চার পয়সাও আসবেনা এই তহবিলে, মানে বাকিরা কেউ কিছুই জানতে পাববেনা তথা তাদের জানার এক্তিয়ার থাকবেনা যে এই ঘুঘুর বাসায় আসলে কটা ডিম বাকি রয়েছে ও যতগুলো থাকার কথা সেগুলো কোথায় গেছে।

7. যে সকল বাক্তি বা কোম্পানি জাতীয় সম্পদের তহবিলে কর হিসাবে টাকাটা জমা করত, তাদের এই কর ছারের সুবিধা দিতেই- তারা অনেকেই ‘এই সুবিধা’ নিতে ঘুঘুর বাসায় গিয়ে ডিম দেবে। এ প্রসঙ্গে একটা কথা- যারা বা যে কোম্পানিগুলো কোটি কোটি টাকা দান করছেন বা করেছিলেন সরকারী দান তহবিলে, সকলেই সেই টাকার করছারের সুবিধা নিয়ে নিয়েছে। এই দানের টাকার বেশ অনেকটা অংশ তাকে এমনিতেই দিতে হত ট্যাক্স হিসাবে, এখানে দানকারী ‘দানীর’ সার্টিফিকেট পেয়ে গেলেন বা গেছেন রাষ্ট্রের কাছে। কি নিষ্পাপ সিস্টেম। করের টাকা ঘুরিয়ে দান হিসাবে রাষ্ট্রকে কিছু দিলে তিনি শুধু সতীই নন- মহৎ দানবীরও বটে। এ এক আজব খুড়োর কল।

8. বিদেশ থেকে ফান্ডিং নিতে পারবে, ডলারে বা দিনারে কামাই হবে; যেটা অর্নব গোস্বামী গবেষণার বিষয়- ওগুলো ইতালি থেকে আসবে না হনুলুলু থেকে। যদিও ওই ‘ইকির মিকির’ এর ৩ জন ট্রাষ্টি ছাড়া কেউ জানবেনা কোত্থেকে কি এলো আর কত এলো।

9. ‘কেন তোমাকে দেব’, এটা প্রমানের জন্য সেই নেহেরু আমলের লেগাসির সাথে এই তহবিলকে সমান ও সামঞ্জস্যপূর্ণ দেখানো হয়েছে সম্মানের দিক থেকে। এরা ঘুরিয়ে স্বীকার করে নিল, নিজেদের উচ্চতা মাপার একমাত্র পরিমাপক যন্ত্র হল নেহেরু বা মনমোহন আমল। নেহেরু বা মনমোহন ছাড়া এদের মূল্য গণনার হিসাবেও আসেনা এতই অপদার্থ নিকৃষ্ট।

এবার আপনি আমাকে বলুন, এমন একটা খুড়োর কলকে কোন গাড়ল CAG এর অডিটের সামনে নিয়ে যাবে? যদি অডিটই করাবার হত, তাহলে তো ট্রাস্টিতে ‘যৌথ সংসদীয় কমিটি’ থাকত। আপনি কি ‘ভক্তদের আধারকে’ও ভক্তদের মত ‘হাঁটুতে বুদ্ধি’ ভাবেন! ঘাপলার উদ্দেশ্য নিয়েই তো এই ঘুঘুর বাসা বানানো হয়েছে।

অবশ্য নামেই তো বলা রয়েছে, এই তহবিল প্রধানমন্ত্রীর যত্নসমুহের জন্য। রিটায়ার্ড পরবর্তী- বেচারির সিকিউরিটি বিদেশভ্রমন সহ বাকি জিনিস গুলো কীভেব হবে শুনি! প্রসূন যোশীকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেখেননি বেচারা প্রধানসেবক আসলে একজন ‘ফকির’, যে ফকিরি ধীরে ধীরে ওনার মধ্যে বেড়েই চলেছে। এটা তো সেই ফকিরেরই ঝোলা ভরার আমন্ত্রণ।

মিছিমিছি এই লেখাজোখা করলাম,

বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২০

গণতন্ত্র মিথ ও আগামীর পৃথিবীঃ ৩

 



তৃতীয় পর্ব

iv) গনভোট বা প্রবর্তনা জাতীয় মৌলিক বিষয়গুলি কখনই প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রে আলচোনার জন্য উন্মুক্ত তথা উত্থাপিত হবেনা; এগুলো ধ্রুবক, যা ভোটাধিকার দ্বারা কখনও সংশোধন করা যাবেনা। এগুলো সংবিধানের সেই মৌলিক আইন যা অন্যান্য সাধারণ আইনের চেয়ে উচ্চতর ও নির্বাচিত সংসদদের এক্তিয়ারের বহির্ভুত।

v) ভোটদান প্রক্রিয়াকে নিরপেক্ষ, নির্ভেজাল, বিশ্বাসযোগ্য এবং কর্যকরী রাখতে হবে। নাগরিককে এই সংক্রান্ত যাবতীয় সত্যতা ও বৈধতা সংক্রান্ত প্রশ্ন করার সুযোগ দিতে হবে।

vi) ভোট দ্বারা নির্বাচিত সরকার কতদিনের জন্য ক্ষমতাতে থাকবে সে বিষয়ে জনগণকে সুস্পষ্ট ভাবে নির্দেশনা দিয়ে রাখবে ভোটের আগেই, এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে কোনো ভাবেই তারা আর ক্ষমতাতে থাকতে পারবেনা, পুনরায় ভোটের মাধ্যমে জনগণের কাছে ফিরে যেতেই হয়। প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের জনগণ নির্বাচিত সরকারের যে কোনো নীতিকে জনবিরোধী মনে করলে সরকার ভেঙে দিয়ে নতুন করে ভোটের প্রস্তাবনা করতে পারে।

vii) প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রে সংখ্যাগরিষ্টদের স্বৈরাচারী মানসিকতা থেকে সার্বভৌম রাষ্ট্র ও তার নাগরিককে সুরক্ষিত রাখে। মানবাধিকার ও সংখ্যালঘুদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখার জন্য প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের বিকল্প নেই; আর এই সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে হলে ভোট প্রক্রিয়ার আগে রাজনৈতিক দলগুলির মাঝে জনহিত পরিকল্পনায় যে মৌলিক বিরোধ গুলি রয়েছে, সেগুলি সম্বন্ধে স্পষ্ট ঘোষণা দিতে হয়।

viii) ভোটপরবর্তী সরকার গঠন হতে পরবর্তী ভোটের আগে পর্যন্ত সরকার তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে, বিরুদ্ধ মতাদর্শী জনগণকে হানি না পৌঁছিয়ে। বৈধ যুক্তির অধিকারী জনগণকে- সরকারকে প্রত্যাখ্যানের ক্ষমতায়ন বিষয়ে সুনিশ্চিত করতে হয় ও একে দ্বন্দ্বযুক্ত মৌলিক অধিকারের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে হয়। এর মাধ্যমেই পূর্ব উল্লেখিত মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত হয়।

ix) রাষ্ট্রের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে যেকোনো প্রস্তাবনার সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতাধারী হয়- নির্বাচিত সংসদদের দ্বারা গঠিত কোনো কমিটি, কখনই ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল নয়। সেই কমিটি গুলোর আইনি বৈধতা থাকে রাষ্ট্র স্বীকৃত, যা সর্বোতোভাবে রাজনৈতিক স্বার্থ ও পরিচয়ের উর্ধ্বে থাকবে। কিন্তু পররাষ্ট্র বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সমস্ত জনগণের প্রতিনিধি স্বরূপ সকল রাজনৈতিক দলের শীর্ষ স্থানীয় প্রতিনিধিদের দ্বারা আপদকালীন কমিটি গঠিন করতে হয়।

সমস্ত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও গণতন্ত্র বিষয়ক পণ্ডিত, বিশেষজ্ঞ এবং রাজনীতিবিদের একটা অংশ গণভোটের আজকের প্রক্রিয়াকে পক্ষপাতদুষ্ট হিসাবে ব্যাক্ত করেছেন। আবার আরেকটা দল মনে করেন, রাষ্ট্রের মৌলিক সিদ্ধান্তগুলি জনগণের হাতে ছেড়ে দেওয়া আসলে জনগণের পক্ষেই ঝুঁকিপূর্ণ, যা গণতন্ত্রের পক্ষে বিপদজনক। কারন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা গুলো আসলে আমলাতন্ত্র এবং সরকারের মুল নীতিনির্ধারক গোষ্ঠীগুলিতে কেন্দ্রীভূত থেকে যায় ‘প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রে’, রাষ্ট্রের যারা আসল কর্তৃপক্ষ- সেই জনগণের হাতে কখনই প্রকৃত ক্ষমতার হস্তান্তর করেনা বা করার উত্সাহও দেয়না, যেটা রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও শান্তিশৃঙ্খলাতে হরেক সময়ে বিপর্যয়কর পরিণতি ঘটায়। প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের আদর্শ উদাহরন হল- সুইজারল্যান্ড।

আমার বিচারে, প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রই একমাত্র সর্বরোগহরা পন্থা নয়, তাই একে ত্রুটিমুক্ত হিসাবে দেখা উচিৎ নয়। তারমানে এই নয় যে জনগণ তার সহজাত সমালোচনার বিষয়বস্তু হিসাবে সরকারকেই বেছে নেবে, বরং সার্বভৌমত্ব বিষয়ে জনগণকে সুস্পষ্টভাবে শিক্ষিত করে তুলে তাকে জানাতে হবে, সার্বভৌমত্ব বিষয়টি আসলে কি! জনগণ, রাষ্ট্র, রাজনৈতিক দল, প্রশাসন যন্ত্র না সরকার- কে এই সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে বা কোথায় কীভাবে এটা অবস্থান করে সে বিষয়েও জনগণকে প্রত্যয়িত করতে পারলে তবে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের লাভ পাওয়া সম্ভব।

প্রশ্ন করা মানুষের সহজাত চরিত্র, কিন্তু ক্ষমতার সামনে তা সকলসময় বিকশিত হয়না; রাষ্ট্রের উচিৎ জনগণকে প্রশ্ন করার বিষয়ে নিয়মিত অনুশীলন করিয়ে তাকে অভ্যস্ত করে তোলা। কারন সুস্থ ও শক্তিশালী গণতন্ত্রে জনগণের প্রশ্নই নির্বাচিত সরকারকে সঠিক দিশা প্রথপ্রদর্শন করে। নিয়মিত পর্যালোচনার মাধ্যমে জনগণকে তার মৌলিক অধিকার ও ক্ষমতা বিষয়ে অবগত করতে হবে। জনগণ যে শুধুই ভোটদেওয়ার রোবট নয় সবার আগে এই ধারণা দূর করতে হবে। নতুবা কোনো গনতন্ত্রই রক্ষিত হবেনা, আর দীর্ঘকাল জনগণকে উপেক্ষা করতে থাকলে রাষ্ট্র তার সার্বভৌমত্বের পরিচয় রক্ষা করতে পারবে না।

খুব সামান্য পরিসরে ‘প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র’ সম্বন্ধে একটা প্রাথমিক ধারণা দিতে প্রচেষ্টা করলাম। এবারে আমরা গণতন্ত্রের অন্য ধরনটা বিষয়ে আলোচনা করব।

দ্বিতীয় পন্থাটা হচ্ছে ‘প্রতিনিধিত্ব মূলক গণতন্ত্র’, নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে এখানে জনগণের তরফে কিছু প্রতিনিধিরা রাষ্ট্র পরিচালনা বিষয়ক সিদ্ধান্ত নেয়। এসকল দেশের রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত হন প্রতিটি অঙ্গ রাজ্যের জেলাগুলি থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধি বা ইলেক্টোরাল দ্বারা। এই ইলেক্টোরালদের নির্বাচিত করে সরাসরি সাধারণ জনগণ, অনেকটা আমাদের মত করেই, তবে সবটা নয়। এদের সংসদেরও দুটো কক্ষ থাকে, একটা নির্বাচিত প্রতিনিধি অপরটি মনোনীত। এক্ষেত্রে কোনো একটি রাজ্যের জেলাগুলি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কোনো প্রার্থী ৫১% ইলেক্টোরাল ভোট পেলে- ধরে নেওয়া হয় যে তিনি ১০০% ইলেক্টোরাল জনমত পেয়েছেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই ধরনের গণতন্ত্র বিদ্যমান। প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের কাঠামোটির জনগণ নির্দিষ্ট নির্বাচিত আধিকারিককে ভোট দেয়, যারা সরকারের ভিতরে তাদের প্রয়োজনীয়তা উপস্থাপন করেন। প্রতিটি সমস্যার ক্ষেত্রে এই প্রতিনিধিরা তাদের রাজ্যের পক্ষে ভোট দিতে সক্ষম হন। যদিও এই ‘প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রে’ জনগণও তাদের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সরাসরি ভোট দেয়, কিন্তু সেই ভোটের কোনো গ্রহনযোগ্যোতা নেই তাদের সাংবিধানে। যেমন আমেরিকার জর্জ বুশ কম ‘পাবলিক ভোট’ পেয়েছিল প্রতিদ্বন্দী আল গোরের থেকে; আবার তাদের শেষ নির্বাচনে হিলারি ক্লন্টন জনগণের ভোটে সর্বোচ্চ ভোট পেলেও, ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ইলেক্টোরাল ভোটে এগিয়ে থাকায় তিনিই রাষ্ট্রপ্রধান হিসাবে মনোনীত হয়েছিলেন।

প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের কতগুলো ধ্বনাত্বক দিক রয়েছে-
<<<<<<<<<<<<<<<>>>>>>>>>>>>>>

a) এই ধরনের রাষ্ট্রব্যবস্থায় আইন ও সংবিধানের প্রয়োগতম দিক অনেক বেশি সফল। যে কোনো প্রস্তাব, তার খসড়া, ও সিদ্ধান্তের প্রয়োগতম দিক দিয়ে এই ধরনের সংসদ ব্যবস্থা অত্যন্ত দক্ষ হয়ে থাকে।

b) এক্ষেত্রে কোনো ইশ্যুভিত্তিক ভোট হয়না, ইলেক্টোরালরা নির্বাচিত হয় রাজনৈতিক দলের নীতি ও ব্যাক্তির গুণের উপরে।

c) দ্বিদলীয় বা বহুদলীয় ‘প্রতিনিধিত্বমূলক’ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে একটি দল কখনই ক্ষমতাসীন দলের চেয়ে বেশি শক্তি অর্জন করে সরকার ফেলে দিতে পারেনা।

d) সমানুপাতিক সিদ্ধান্তগ্রহনের ক্ষেত্রে এই জাতীয় গণতন্ত্র বেশি কুশলী।

e) এই গণতন্ত্রে জনগণ যোগ্য কর্মকর্তা বেছে নেয়, যে কর্মকর্তারা রাষ্ট্র যন্ত্রের চালকদের বেছে নেয়।

f) এই ধরনের গণতন্ত্রে যেকোনো সিদ্ধন্তগত সমস্যার সমাধান অতি দ্রুত ও তাৎক্ষণিক ভাবে মিটিয়ে ফেলা সম্ভব।

g) নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে যেকোনো সময়, সমবেত জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ সিদ্ধান্তে দ্বারা বদলে ফেলার সুযোগ থাকে, এমনকি সেই প্রতিনিধিকে অপসারণের জন্যও ভোট দানের সুযোগ থাকে।

h) জনগণকে প্রতিনিয়ত ভোটদানের মত একটা অস্বস্তি থেকে মুক্ত রাখে।

ঋণাত্বক দিক গুলো হল-


a) জনগণ যাদের নির্বাচন করে তাদের জবাবদিহি করতে হয়না, আরা জবাবদিহি করতে বাধ্য তাদের সাথে জনগণের প্রতক্ষ্য সংযোগ থাকেনা কারন তারা প্রতিনিধিদের ভোটে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতাসীন হয়েছে।

b) এই ধরনের গণতন্ত্র জনগণের ভাবনাকে অনেকাংশে প্রতিহত করে, কারন এই ইলেক্টোরালদের সংঘবদ্ধ হবার কোনো স্থান নেই। এক্ষেত্রে একবার ভোটপ্রক্রিয়া শেষ হয়ে গেলে সরকার ও জনগণের সাথে আর প্রতক্ষ্য কোনো সম্পর্ক থাকেনা। সরকারের ভালমন্দ নিয়ে নিজেদের মত জাহির একমাত্র জাইগা আগামী নির্বাচন।

c) নির্বাচিত ইলেক্টোরালরাও সকলে সমান গুরুত্ব পায়না। “winner-take-all” আইনের বলে, বিরোধী দলের কোনো ভূমিকাই থাকেনা ইলেক্টোরাল বোর্ডে।

d) গোটা সিস্টেমটা ক্ষমতাসীনদের পক্ষ নিয়ে থাকে, ফলস্বরূপ বিরুদ্ধ মতযুক্ত জনগণের কন্ঠরোধ হয়।

e) রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন সহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহনের বিষয়ে প্রতারণার সুযোগ বহুলাংশে বেড়ে যায়, কারন একটা অঞ্চলের সমস্ত জনগণকে বিভ্রান্ত বা উৎকোচ দিয়ে দলে টানার চেয়ে একজন প্রতিনিধিকে ফুসলিয়ে নিজেদের পক্ষে টানা অনেক সহজ। এক্ষেত্রে একক সিদ্ধান্ত গ্রহনের সুযোগ অনেক বেড়ে যায়।

f) সংসদের উচ্চকক্ষ, নিন্মকক্ষ, ইলেক্টোরাল কলেজ, ও স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রতিনিধিরা সমান সময় পায়না। কেউ ২ বছর, কেউ ৪ বছর, কেউবা দশ বছর।

g) বিভিন্ন “লবি” গুলো এখানে খুল্লামখুল্লা তাদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য তদ্বির করতে পারে।

...ক্রমশ

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২০

সরকারকে কেন অনুদান দেবেন?



দৃশ্য ১- ধরুন, আপনারা আমাকে একটা চাকরি দিয়েছেন। আপনাদের নিজ রোজগার থেকে আমাকে কিছু কিছু দেন যাতে আমি ও আমার দলবল আপনাদের সকলকে সু-পরিষেবা দিই। এখন সেই টাকা নিয়ে আমি বেড়াতে যাচ্ছি, বাপের স্ট্যাচু বানাচ্ছি, উৎসব ফুর্তি করছি, আমার চামচাদের মাঝে বিলিবন্টন করছি ইত্যাদি। এসব দেখেশুনে আপনারা অধিকাংশ লোক আমাকে মানা করেছেন পইপই করে, যে- “ওরে তুই ওই সব উল্টাপাল্টা খর্চা করিসনা, বিপদে পরবি” ইত্যাদি। সেদিন আপনাদের সকলকে ভাগ ‘চারঅক্ষরের বোকা’ বলে নাকের সিকনির মত ছুড়ে ফেলেছিলাম ধুলোতে।

দৃশ্য ২- আমি ভীষণ অসুস্থ, বাইরে বের হবার শক্তি নেই। টাকা নেই- খাবার নেই, পরিবেষা দেওয়ার মুরোদ নেই যার জন্য আপনারা আমাকে চাকরিতে বহাল করেছিলেন। এখন আমি আবার আমি কাতরভাবে চাইছি- ‘বাবু কিছু দান করুন, আপনার ভাল হবে’।

প্রশ্নঃ দেবেন আপনি?

সুতরাং, কেন আমার রোজগারের অর্থ সরকারকে অনুদান দেব?

সরকারের কাজ ট্যাক্স সংগ্রহ করে জনগণকে উন্নততম পরিসেবা দেওয়া। প্রতিটি সংসারেই কিছু উদ্বৃত্ত সম্পদ বা অর্থ, দুর্দিনের জন্য গচ্ছিত রাখা থাকে, সরকারও একটা বড় সংসার বই অন্য কিছু নয়। কিন্তু আমাদের কেন্দ্র সরকার হোক বা রাজ্যসরকার, আজকের দিনে হোক বা বিগত ইতিহাসে- “সরকারী মাল, দরিয়াতে ঢাল” হিসাবে যা ইচ্ছা তাই করেছে।

• সরকার আমাদের অর্থ দিয়ে কী করেছে? স্ট্যাচু বানিয়েছে। সেটা মায়াবতীর আমলে হাতি বা নিজের ঢাউস মুর্তিই হোক বা আজকের ‘শিবাজীর’ মুর্তি, ‘স্ট্যচু অফ ইউনিটি’, প্রস্তাবিত রামের মুর্তি সহ এমন অনেক প্রোজেক্ট।

• সরকার কি করেছে? প্রাধান সেবকের ঘনিষ্ট কিছু দুষ্কৃতি ব্যবসায়ীর ছদ্মবেশে দেশের সম্পদ লুঠ করেছে। লুঠেরাদের লুণ্ঠিত সম্পদের খতিয়ান খাতা থেকে মুছে দিয়েছে সরকার। জনগণের করের টাকা দিয়ে ঋণখেলাপিদের ভর্তুকি দিয়েছে সমপরিমাণে।

• সরকার কি করেছে? বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লে বাড়িয়েছে, কমলে ‘হা হতোস্মি’। এখন ২৫ টাকার পেট্রোল ৭৫ টাকায় কিনতে বাধ্য করছে সরকার।

• সরকার কি করেছে? রাম মন্দির বানাচ্ছে, কুম্ভমেলার জন্য বিপুল অর্থ বরাদ্দ করেছে, হজ্বের জন্য আর্থিক ভর্তুকি দিয়ে এসেছে, দিল্লি সরকার আবার তীর্থে নিয়ে গিয়েছে। রাষ্ট্রের তো ধর্মীয় পরিচয় নেই, তাহলে ব্যাক্তির ব্যাক্তিগত বিশ্বাসের ক্ষেত্রে সরকার কেন অফেরৎযোগ্য লগ্নি করবে? তাও সরকার এটাই করেছে।

• সরকার কি করেছে? কখনও পাকিস্তান, কখনও চীন বা কখনও অন্য কিছুর জুজু দেখিয়েছে। কোটি কোটি টাকা দিয়ে যুদ্ধান্ত্র কিনেছে, যেখানে কফিন কেলেঙ্কারি, বোফর্স কেলেঙ্কারি থেকে আধুনা রাফাল কেলেঙ্কারি ও করোনা কিট কেলেঙ্কারি ঘটিয়েছে। চোরছ্যাঁচড় নিকৃষ্ট ''নেতা আমলারা সরকারের টাকা আত্মসাৎ করেছে।

• সরকার কি করেছে? কয়লা কেলেঙ্কারি, টু’জি কেলেঙ্কারি, ব্যাপম কেলেঙ্কারি, সারদা কেলেঙ্কারি, নারদা কেলেঙ্কারি, নোটবন্দি কেলেঙ্কারি, ইলেকট্রোরাল বন্ড কেলেঙ্কারি, খনি কেলেঙ্কারি, পশুখাদ্য কেলেঙ্কারি, বাঙ্কর্যাপ্ট কেলেঙ্কারির মত অজস্র অপরাধকে ধামাচাপা দিয়ে রেখেছে সরকারী অর্থ ব্যায়ে।

• সরকার কি করেছে? শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোকে কব্জায় করতে অশান্তি করেছে রাজনৈতিক দলদাসেরা, প্রশাসন-সরকার অন্ধ নির্বিকার থেকেছে দোষীদের শাস্তি দিতে।

• সরকার কি করেছে? আইন ব্যবস্থাকে কাঠের পুতুল বানিয়েছে, মিডিয়াকে দলদাস বানিয়েছে।

• সরকার কি করেছে? জনপ্রতিনিধিদের অনৈতিক বিপুল সুযোগসুবিধা দিয়েছে ব্রিটিস লেগাসি মেনে, তাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিয়েছে। সারা জীবনের পেনশনের ব্যবস্থা দিয়েছে। আপনি সেই তেলিই রয়ে গেছেন।

• সরকার কি করেছে? পয়সা দিয়ে ওয়াইসি বা মেহবুবা মুফতিদের পেলেছে। দাঙ্গাবাজ কপিল মিশ্র, ইদ্রিস আলীদের সুরক্ষা দিয়েছে। অর্ণব গোস্বামী, সুধীর চৌধুরী, সম্বিৎ পাত্র, ঘন্টাখানেক সুমন, দেব নারায়নেদের, শাঁওলি-অপর্ণাদের মত উমেদার চামচা পালন করেছে।

• সরকার কি করেছে? ‘মন কি বাত’ শুনিয়েছে। ‘কড়ি নিন্দা’ করেছে, ‘ক্রনোলজি’ বুঝিয়েছে, ‘গুন্ডা কন্ট্রোল’ করেছে, ‘উন্নয়নকে’ রাস্তায় দাঁড় করিয়েছে, ‘সব্জি বাজারে গণ্ডি’ কেটেছে, ‘থালা বাজাতে’ বলেছে, ‘হিন্দু-মুসলমান’ চিনিয়েছে, একজন করে ভীষণ ‘অপমানবোধ সম্পন্ন’ রাজ্যপাল পাঠিয়েছে।

• সরকার কি করেছে? প্রধানমন্ত্রীকে গোটা বিশ্বভ্রমন করিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীকেও গোটা বিশ্ব না হলেও বহু স্থানেই ঘুরে নিয়েছেন সরকারী অর্থে, যার কোনো সুফল দেশ বা রাজ্য পায়নি।।

• সরকার কি করেছে? প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীদের আগামীর চেয়ার সুরক্ষিত করার জন্য- সরকারী প্রচারের বাহানাতে নিজেদের মুখের বিজ্ঞাপন দিয়েছে।

• সরকার কি করেছে? নমস্তে ট্রাম্প থেকে রাজ্যের শিল্প সম্মেলনের নামে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকার শ্রাদ্ধ করেছে।

• সরকার কি করেছে? আমাদের দেশত্ববোধক ভক্তিকে কাজে লাগিয়ে তারা ভোটের প্রচার করেছে, সাম্প্রদায়িকতার তাস খেলে নিজেদের আখের গুছিয়েছে। কখনও সেনার নামে কখনও দেশমাতার নামে।

• সরকার কি করেছে? লুটিয়েন দিল্লি বানিয়েছিল, এখন সেন্ট্রাল ভিস্তার নামে কোটি কোটি টাকার নয়ছয় শুরু করেছে। বুলেট ট্রেনের নামে কোটি কোটির প্রোজেক্ট বানিয়ে সেগুলোকে বাতিল কাগজের ঝুড়িতে ফেলেছে।

• সরকার কি করেছে? উৎসব, মেলা, খেলা, সরকারি কমিটির প্রধান, ইমামভাতা, ক্লাবের নামে সরকারী সম্পদ দেদার বিলিয়েছে।

• সরকার কি করেছে? নির্বোধ ভাঁড়কে বুদ্ধিজীবী বানিয়ে পুষেছে।

• সরকার কি করেছে? ‘আইনকে আইনের পথে’ নির্বিকার ও বিচারহীনভাবে শত শত বছর ধরে চরকি পাকে চলার জন্য পথ বানিয়েছে।

• সরকার কি করেছে? কেউ বিপরীত মত বললেই তাকে রাষ্ট্রের শত্রু বানিয়ে গারদে ভরেছে।

• সরকার কি করেছে? ক্ষমতাসীন দল যেন আজীবন ক্ষমতায় থাকে সেই প্রচেষ্টা করেছে।

এভাবে লিখতে থাকলে তালিকা চিত্রগুপ্তের ফর্দ হয়ে যাবে।

যেগুলো করার ছিল সেগুলো করেনি, বা করলেও তার শম্বুক গতি। আর কি কি করেছে তার একটা ছোট্ট তালিকা তো উপরে দিলাম।

এসবের পর অতি নির্লজ্জ না হলে, কেউ আবার কীকরে সাহায্য বা অনুদান চাইতে পারে?

উপরোক্ত সবেতেই বিপুল পরিমাণে ‘সরকারী অর্থ খরচা’ হয়, যার অধিকাংশ বরাদ্দই সাইফন হয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছেই ফিরে আসে। তখন তারা-

*নির্বাচনী প্রচারে দেদার খরচা করে ভোট কেনে।
*ফাইভস্টার পার্টি অফিস বানায়।
*সরকার গঠনে MLA/MP কেনাবেচা করে।
*ভোটের সংঘর্ষের জন্য বোমা বারুদ মস্তান কেনে।
*বিরোধী রাজনৈতিক দলকে শায়েস্তা করতে এই ‘টাকা লিঙ্গ’ দিয়ে গণতন্ত্রকে ধর্ষণ করে।
*নেতারা বৌ-ছেলের নামে বড় বড় কোম্পানি কেনে, বাড়ি কেনে, গাড়ি কেনে,
*সুইস ব্যাঙ্কে একাউন্ট খোলে, বিদেশ ভ্রমণে যায়।
*উদ্ধত নেতার বিদেশী বৌ এয়ারপোর্টে সোনা পাচার করতে গিয়ে ধরাও পরে।

রাজনৈতিক দলগুলো কি দিয়েছে জানেন- কিছু উন্মাদ দিয়েছে।

এত সব কিছু বললাম- ‘সরকার কি দিয়েছে’, কিন্তু সরকার কি দেয়নি জানেন? শিক্ষিত, প্রাজ্ঞ, ভবিষ্যৎ দ্রষ্টা জনদরদি নেতা আমাদের দিইনি সরকার। সরকার ক্ষমতাসীনেদের হয়, আর ক্ষমতার কাছে সকলকিছুই পদানত, যদু গেলে মধু আসে- রাষ্ট্রের সার্বভৌম জনগণ সেই ‘চারঅক্ষরের বোকা’ হয়েই রয়ে যায়।

ভেবে দেখুন তো- না পাড়ার নেতা, না পঞ্চায়েত-পুরসভায়, না রাজ্যস্তরে, না কেন্দ্রীয় স্তরে, না রাষ্ট্র নেতা- না বিরোধী দলনেতা। এমন কোন একজন কি আছে, যাকে এই মুহুর্তে পাতে দেওয়ার যোগ্য!

সরকারকে দান দেবেননা সে কথা বলার এক্তিয়ার আমার নেই, দেশদ্রোহী তকমা জুটে যেতে পারে। তার পরেও বলব- দান যদি করতেই হয়, আপনার প্রতিবেশীটিকে করুন যিনি দৃশ্যতই সহায়হীন, গরীব আত্মীয়কে করুন। কারন চুরিচামারির পর রাষ্ট্রীয় ত্রানের যেটুকু পাব্লিকের কাছে পৌছায় তাতে গলাও ভেজেনা।

অনুদান দিন বেসরকারী গোষ্ঠী গুলোকে যারা রেজিস্টার সংস্থা, কিম্বা রেজিস্টার্ড না হলেও যারা বাজারে সৎ হিসাবে নিজেদের প্রমান করেছেন।

দান করুন গুরুদ্বারে লঙ্গরখানায়, মন্দিরের ভোগ বাবদ, মাদ্রাসার খাদ্য খাতে- এখানে কোনো আম্বানি, বিল গেটস বা সৌদির যুবরাজ খেতে আসেনা। সঙ্কটের সময়ে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে আপনার দান দিন উজার করে যতটা আপনার সামর্থ্য।

তাদের দিন যারা কমিউনিটি কিচেন চালাচ্ছে। পাড়ার ‘আমরা কজন যুবক সঙ্ঘ’ কে দান দিন, তারা চুরি করবেনা, বিদেশে পাচার করবেনা, মুর্তি বানাবেনা, বোমা কিনবেনা।

দান করুন, দানই হল মানুষের মহত্তম গুণ; তবে অপাত্রে নয়।

ফেসবুকীয় সিপিএমঃ ফিউজড আইনগাইডেড কামিকাজে ড্রোন

  ফেসবুকের ‘সিপিএম’ নামক এই চুড়ান্ত আঁতেল ও প্রায় সর্বজ্ঞ গোষ্ঠীটার পূর্ণ বোধোদয় বা পূর্ণ বিনাশ না ঘটা অবধি রাজ্যের বাম নেতৃত্বের খুব বেশী ...