বুধবার, ১ অক্টোবর, ২০২৫

২০২৬ এ সিপিএম অষ্টম বামফ্রন্ট সরকার গড়বে

 



“২০২৬ এ সিপিএম অষ্টম বামফ্রন্ট সরকার গড়বে- দেখা মাত্র শেয়ার করুন

ই মেসেজটি ১১ জনকে শেয়ার করুন আগামি ৭২ ঘন্টার মধ্যেই একটা সুসংবাদ পাবেন, ২৯ বছর ধরে ফ্রন্টের চেয়ারম্যান থাকা কমরেড বোসের গ্যারান্টি।

মেদনীপুরের জনৈক সৌরভ নন্দী নামের একজন শিক্ষক, এটা মিথ্যাপ্রচার মনে করেছিল, গতকাল সন্ধ্যায় হঠাৎ শিরদাঁড়ার নিচে ব্যাথা অনুভব হওয়াতে, তার পরিবারের লোকজন ডাঃ নির্মল মাজির কাছে গেলে ডাক্তারবাবু বলেন - সৌরভের লেজ গজিয়েছেগোবরডাঙার জনৈক চক্রবর্তী বাবু এক মহিলার দেওয়া প্যান্ডেলের ছবিতে কমেন্ট করতে গিয়ে- বুর্জ খলিফার স্থানে ‘মিয়া খলিফার মত লাগছে’ লিখে ফেলায়, গত ২ দিনে ৩ বার খাপ বসেছে।

আরেক জন হুগলি জেলার নয়ন কাকু বলে এক ব্যাক্তিও এটা মিথ্যা মনে করেছিল। স্যান্ডি সাহা ওনাকে ক্রমাগত প্রেমের প্রস্তাব পাঠাচ্ছেউনি বর্তমানে করণ জোহরের ঠিকানা খুঁজছেন প্রতিকারের আশাতে। উত্তরপাড়া নিবাসী ইন্দ্রনীল মন্ডল নামের এক কায়স্ত পুরুষ বিষয়টা নিয়ে স্ত্রীর সাথে ঠাট্টা করেছিলো রাত্রে। পরদিন শ্বশুরবাড়ির যাত্রা কালে লোকল ট্রেনে চড়তেই তার এমন জোরে প্রকৃতির ডাক আসে যে, পান্ডুয়া গামী ট্রেন তালান্ডুতে থামার আগেই প্রায় চলন্ত ট্রেন থেকে হুমড়ি খেয়ে নেমে, দৌড়ে ‘বড় বাইরে’ করে মানে বেঁচেছে।

মুর্শিদাবাদের মোমিন নামের এক দুধেল গাই, হো হো করে হেসে ধুপের ধোয়ার সাথে বিষয়টিকে উড়িয়ে দিয়েছিলো। সকালে ঘুম থেকে উঠা ইস্তক হেঁচকির সাথে শুধু ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি বের হচ্ছে, ডাক্তারে বলেছে সেলাইনের পাইপ দিয়ে শরীরে গো-চোনা না পাঠালে কোনো আশা নেই। ক্যানিং এর এক অন্ধ দিদিভক্ত আব্দুল এটাকে নিয়ে ফেসবুকে মিম ছেড়েছিলো, সে নাকি কুমির হয়ে নদীতে ভেসে বেড়াচ্ছে, কয়েকটা ইউটিউবার সাংবাদিক ও ট্রাভেল ব্লগারের ক্যামেরাতে সেই অলীক দৃশ্য ধরাও পরেছে। যদিও নিন্দুকে তাকে টাকার কুমির বলত পিঠপিছে।   

ঠাকুরপুকুরের নাস্তিক সরকারি চাকুরে সুব্রত মণ্ডল নামের এক অবিশ্বাসীর জীবনের ঘটনা আরো বড় করুণ, তিনিও অবিশ্বাস করেছিলেন, ব্যাস- প্রাক্তন কলেজ লাইফের প্রেমিকা, তার একগন্ডা আন্ডাবাচ্চা সহ সেই পুরাতন প্রেমিক সুব্রত বাবুর বাড়ির নিচতলায় এসে ধর্ণা জুড়েছে- প্রেম আমার ফিরিয়ে দাও প্ল্যাকার্ড সহ

শামিম নামের এক কবি, সুবোধ কবির মত দারুন কবিতা লিখত। আজ সেই কবিতাই শাপগ্রস্থ হয়ে, রঞ্জন বাঁড়ুজ্জের মত রানুর প্রেমের রক্ত ও ভানুশীর্ষক- সেমি পানু চটি-লেখা লিখেই ক্ষান্ত হয়নি, ফেসবুকে পোষ্ট করে ফেলেছে। বলাই বাহুল্য, সে ও চুরান্ত অবিশ্বাসীর দলেই ছিল

বিখ্যাত কমিউনিস্ট ষাঠোর্ধ হালদার মশাই, এর বিপক্ষে প্রচার করার দরুন- কেশবভবন থেকে তার ডাক পেয়েছে দেশপ্রেমিক কোঠায়, এছাড়া বাজারে গুঞ্জন- রাজন্যা নামে তার একটি নাতনি জন্মেছে। দিকে বর্ধমান জেলার বর্ধিষ্ণু স্বাস্থের অধিকারী তন্ময় হক নামের এক অত্যন্ত আস্তিক ও স্বাত্বিক মানুষ, ভীষন নিষ্ঠা ভরে ১১ জনকে শেয়ার করতেই, শবনম তালুকদার নাম্নী এক অতি কৃপণ মহিলা- হক বাবুকে বাড়িতে বিরিয়ানির নিমন্ত্রণ দিয়েছে। আরেক বর্ধমান নিবাসি জমিদার- ‘তা’ বাবুও তাচ্ছিল্যের সাথে এটাকে অবিশ্বাস করেছিলো, পরদিন সকালে তাকে খুঁজে না পাওয়া গেলে, তার স্ত্রী নিকটবর্তী পুলিশ স্টেশনে নিখোঁজের বিজ্ঞপ্তি দায়ের করেন। শেষে মায়াপুরের এক মঠে তিলক কাটা বৈষ্ণব রূপে একটা গোশালায়- একটা নৃত্যরত গরুর পিঠে হাত বুলিয়ে উচ্চরক্তচাপের নিরাময় করতে দেখা গেছে তা-কে।

মারাঠা প্রদেশ নিবাসী এক ব্রাহ্মণ সন্তান প্রদীপ তুলশীতলা, বিষয়টিকে তাচ্ছিল্য করাতে সদ্য খেয়ে উঠা বিরিয়ানি দুদু বার বমি করে ফেলে, গত রাত্রের এক বিয়ে বাড়িতে খাওয়া খাসির চর্বিও উঠিয়ে ফেলাতে বিষয়টা লোকসানের খাতে চলে যায়। তৎক্ষনাৎ সদবুদ্ধির উদয় হওয়াতে, মেসেজ করব বলে শুধু মনস্থির করেছিল। দুঘন্টার মধ্যে চারটে বিয়েবাড়ির নিমন্ত্রণ এসেছে, যেখানে বুফে সিস্টেমে খাওয়া দাওয়া হবে

 

তাই দয়া করে কেউ ম্যাসেজ সেন্ড না করে, আমেন/জয় বাংলা না লিখে এড়িয়ে যাবেন না!

 

প্রচারেঃ ‘ভক্ত’ ছাপ বাম্বাচ্চার দল।

সহযোগিতাতেঃ আমার মত বঞ্চিত বাঞ্চোতের দল

 

 



সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

ভারতীয় চিংড়ি চাষীঃ শুল্কবাণের সমস্যা

 


ভারতীয় চিংড়ি চাষীদের পাশে এ বার চিন

মাই ফ্রেন্ড ‘দোনাল্ড টাম্পের’ ৫০ শতাংশ শুল্ক ধাক্কা সামলাতে আমেরিকা ছেড়ে এ বার চিনের বাজার ধরায় মন দিয়েছেন ভারতীয় চিংড়ি ব্যবসায়ীরা।

রাশিয়া থেকে আম্বানির সস্তার তেল কেনার কারণে জরিমানা গুনছে আরো অনেক ব্যবসার মত আমাদের চিংড়ি চাষীরা। ট্রাম্পের শুল্কনীতির জেরে ভারতের যে সকল আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ধাক্কা খেয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম সমুদ্রজাত খাদাপণ্য তথা সি-ফুডের বহুবিধ পণ্য রফতানির ব্যবসা। সস্তার রাশিয়ান তেলে আম্বানি দিনে দিনে ফুলেফেঁপে ঢোল হলেও, আশঙ্কাজনক ভাবে বিপুল ক্ষতির মুখে পরেছে ভারতের অগনিত জেলে, মাঝি, সি-ফুড মৎস্যজীবী, মৎস্য চাষী ও সি-ফুড রপ্তানিকারীরা

বাংলা, উড়িষ্যা, অন্ধ্রপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, গোয়া ও গুজরাত জুড়ে বিস্তৃত বিশাল উপকূলরেখার কারণে এই অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে চিংড়ি, কাঁকড়া এবং নানান মাছ চাষের কেন্দ্রবিন্দু। বারবার ঘূর্ণিঝড়ের কারণে লবণাক্ত জলের অনুপ্রবেশ ঐতিহ্যবাহী কৃষিকাজ ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠতে মানুষ বিকল্প খুঁজে নিয়েছিলোএতদ অঞ্চলের লবণাক্ত জলাশয়কে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনজীবনের জীবিকা নির্বাহের এটাই একমাত্র কার্যকর পেশা। ফলত, গত দুই দশক ধরে, লবণাক্ত জলের চিংড়ি কাঁকড়া চাষের উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ ঘটেছে দেশে

বিগত কয়েক বছরে সি-ফুড রফতানির দিক থেকে ফুলেফেঁপে উঠেছিল ভারত। বাণিজ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবর্ষে প্রায় ১৭ লক্ষ টন সি-ফুড রফতানি করেছে ভারত। এর মধ্যে শুধু চিংড়ি রফতানি থেকে আয় হয়েছিল প্রায় ৫০০ কোটি ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। চিংড়ি ঠিক কতটা অর্থকরী ফসল, তার জন্য এই ডেটাটাই বোধহয় যথেষ্ট। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ভারত থেকে ২৪০ কোটি ডলার মূল্যের চিংড়ি আমদানি করেছিল আমেরিকা।

ভারতে উৎপন্ন সি-ফুড যতটা না এ দেশে খাওয়া হয়, তার চেয়ে অনেক বেশি রফতানি হয়, মোট উৎপাদনের ৫০ শতাংশেরও বেশি। পরিমাণের দিক থেকে এবং মূল্যের নিরিখে ভারতের সবচেয়ে বেশি রফতানি হওয়া পণ্যগুলির মধ্যে অন্যতম হলো চিংড়ি, স্বাভাবিকভাবেই সি-ফুডের রফতানিতে চিংড়িই শীর্ষস্থানে যা সামগ্রিক সি-ফুডের দুই-তৃতীয়াংশ

ভারতীয় সি-ফুড রফতানির ব্যবসায়িক মূল্য প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার। এই চিংড়ি-সহ রপ্তানি হওয়া সামগ্রিক সি-ফুডের ৩৫ শতাংশের বেশী একাই আমেরিকা নিয়ে নিতোশুধুমাত্র চিংড়ি আর কাঁকড়া উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে যুক্ত প্রায় কোটি মানুষ, ফলে ট্রাম্পের শুল্কবাণে এই ৬০ হাজার কোটির বাজারে হাহাকার উঠে গিয়েছিলো। ওদিকে বিশ্ববাজারে অন্য খেলোয়ারেরা বাজার দখলের জন্য ওৎ পেতে বসে আছে; ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, ইকুয়েডর দেশগুলির সি-ফুড খাদ্যপণ্য উৎপাদনের পরিমাণ আমাদের থেকে বেশি।

ফলত আমেরিকার বিকল্প বাজার ধরতে মরিয়া মৎস্যচাষীরা। আমেরিকা ছাড়া সি-ফুডের চাহিদা রয়েছে এমন দেশ, যেমন রাশিয়া, ব্রিটেন, নরওয়ে, সুইৎজ়ারল্যান্ড, চিন, জাপান, পশ্চিম এশিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলিতে বিকল্প বাজার খোঁজার চেষ্টা চলছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বাজার ধরার চেষ্টা করছে রফতানি কারকেরা। ভারতীয় চিংড়ি চাষীদের বিপদ থেকে রক্ষা করতে দেবদূতহয়ে এগিয়ে এসেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU)। ভারতের সি-ফুড রফতানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে অতিরিক্ত ১০২টি ভারতীয় সংস্থাকে রফতানির অনুমোদন দিয়েছে EU

আমেরিকার পরে চিংড়ির দ্বিতীয় বৃহত্তম আমদানিকারক চিন। ফলত, আমেরিকার শুল্কাঘাত ভারতীয় চিংড়ি রফতানিকারকদের জন্য আশীর্বাদ বলে প্রমাণিত হতেই পারে। চিনের বাজারই সবচেয়ে সম্ভাবনাময়, যারা ভারতীয় চিংড়ির শীর্ষ আমদানিকারক হয়ে উঠতে পারে ভবিষ্যতেভারতীয় সি-ফুড রফতানিকারকদের আবেদনে চিনও সাড়া দিয়েছে চিনা দেশীয় বাজারে সি-ফুড, বিশেষ করে চিংড়ির চাহিদা ব্যাপক। সেই কারণে ভারতীয় চিংড়ি তাদের প্লেটে নতুন স্বাদের জোয়ার আনতে পারে। দুপক্ষের মধ্যে চুক্তি হলে ভারতীয় সি-ফুডের জন্য চিন দ্রুত বর্ধনশীল বাজারে পরিণত হবেইসি-ফুড, প্রক্রিয়াকরণ এবং পুনঃরফতানির জন্য ভারতীয় পণ্যে প্রাধান্য দিয়েছে চিন, ফলে বিগত কয়েক দিনে ভারত থেকে চিংড়ি আমদানির পরিমাণ বেড়েছে।

বিগত কিছু বছরে রপ্তানিতে লাভের মুখ দেখার কারনে সি-ফুড খাদ্যপণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছিল দেশের অভ্যন্তরে। কৃত্রিম ভাবে ভেড়ি তৈরি করে চিংড়ির চাষ বৃদ্ধি পেয়েছিল, কিন্তু ট্রাম্পের শুল্কবৃদ্ধির কারণে তাদের মাথায় হাত পরে যায়আমাদের রাজ্যগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি চিংড়ি চাষ হয় অন্ধ্রপ্রদেশে, সে রাজ্যের চাষীদের উপরই প্রভাব পড়ে সবচেয়ে বেশি। চিংড়ি উৎপাদনে আমাদের রাজ্য দ্বিতীয় স্থানে। বিস্তীর্ন সুন্দরবন অঞ্চল, দুই মেদিনীপুর, উত্তর ২৪ পরগণা জুড়ে চিংড়ি চাষ একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস রাজ্যের ভ্যানামেই চিংড়ি বিদেশের মার্কেটে দারুন চাহিদা রয়েছে 

ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ চিংড়ি রপ্তানিকারক। মানসম্পন্ন চিংড়ি উৎপাদন, প্রজাতি বৈচিত্র্যকরণ, রপ্তানিমুখী প্রজাতির প্রচার, ব্র্যান্ডিং, মান ও সার্টিফিকেশন, প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, ফসল পরবর্তী পুকুরের অবকাঠামো তৈরিতে সহায়তা প্রদানের জন্য ২০২০ সালে প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা (PMMSY) স্কিমে চালু করা হয়েছিল। কিন্তু তার সুফল কৃষক স্তরে সামান্যই পৌঁছেছে, ফলস্বরূপ ট্রাম্পের শুল্কনীতির জেরে অন্যান্য সি-ফুড খাদ্যপণ্যের রফতানি এক ধাক্কায় ২০ শতাংশের বেশী কমলেও, চিংড়ি রফতানি কমেছে প্রায় ৫০ শতাংশ। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই দাম কমাতে বাধ্য হয়েছে চাষীরা, লোকসান হওয়ায় কৃত্রিম ভাবে চিংড়ির চাষও বন্ধ হয়ে গেছে বহু জায়গায়।

তাই একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা বা সমবায় চিংড়ি চাষীদেরও হাতে হ্যারিকেন, বিশেষ করে আমাদের রাজ্যে। দুধেল গাইদের বিজেপি ভয় দেখাবার বাইরে মাননীয়ার সময় তো শুধু মন্দির বানাতে আর মেলা খেলায়। বর্ধিত উৎপাদন খরচ, প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাব, কাজে লাগে এমন কোনো সরকারী কর্মশালা নেই, মাত্রাতিরিক্ত জল ও মাটি দূষণ, নিত্য নতুন রোগব্যাধি, পরিবেশগত নানান অবনতি, রিল প্রজন্মের কারনে অদক্ষ শ্রমিকের অভাব, অদক্ষ খামার ব্যবস্থাপনা, সুষ্ঠু সরাকারি নীতিমালার অভাব- বিশাল অংশের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উপর বৃহত্তর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বৈদেশিক বাজারে শুল্ক আরোপে চাহিদা কমে যাওয়াতে নতুন করে ‘মড়ার উপরে খাঁড়ার ঘা’।

চিংড়ি চাষের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য, বিদ্যুৎ, সমস্ত উপকরণের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে, চাষীদের জন্য টিকে থাকাই বড় চ্যালেঞ্জ। অধিকাংশ চাষীর কাছে অত্যাবশ্যকীয় কোনো প্রযুক্তিগত তথ্য নেই, না আছে আধুনিক চাষ পদ্ধতির জ্ঞান যাতে খরচা কমে, যাবতীয় চ্যালেঞ্জ হয় নিজে মোকাবিলা করো, নতুবা পেশা পরিবর্তন করো। সরকার কর আদায় ছাড়া কিচ্ছুটি করবেনা। আজও রাজ্যের প্রান্তিক পর্যায়ে যথাযথ পরিবহণ, সংরক্ষণ ও স্থানান্তরের নূন্যতম পরিষেবা করে উঠতে পারেনি সরকার। 

যখন তখন বন্যা মাছচাষের জন্য মহামারী সমস্যা, এতে জলবাহিত রোগজীবাণু দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং দুষিত জলে সব চিংড়ি মরে যায়। বৈদেশিক মান ধরে রাখতে আজকাল চিংড়ি চাষে পেস্টিসাইড ব্যবহার করা হয় আন্তর্জাতিক মান মেনে, যেখানে মূলত প্রোবায়োটিকই ভরষা, সেখানে বাণের জল আসলে চিংড়ি চাষীদের কপাল ফাটিয়ে দিয়ে চলে যায়। এছাড়া মাটি ও ভূগর্ভস্থ জলে আর্সেনিকের প্রভাব বাড়ছে, বাড়ছে লবণাক্ততা চিংড়ির উৎপাদনশীলতার পাশাপাশি পরিবেশের স্বাস্থ্যকে চরমভাবে প্রভাবিত করছে।

আমাদের রাজনীতি সর্বস্ব অর্ধশিক্ষিতের দেশে চাষীদের সমস্যার কোনো অভাব নেই, নিত্য কিছু না কিছু লেগেই আছে। বিভিন্ন নদী সঙ্গমের উর্বর ব-দ্বীপ অঞ্চলের শালি, সোনা বা ডাঙা জমি সহ জলাভূমিগুলি বিশাল জীববৈচিত্র্য রয়েছে, যা প্রকৃতির নিজশ্ব সংরক্ষণ প্রক্রিয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সরকারের অসৎ অংশ, স্থানীয় দুষ্কৃতী, দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ আর কোলকাতার নেতাদের উদ্বৃত্ত অবৈধ পুঁজির কল্যাণে সেই সব অংশে চিংড়ি খামার তৈরি হচ্ছে, প্রাকৃতিক ধ্বংসযজ্ঞ বিপর্যয় ডেকে আনার জন্য এগুলো যথেষ্ট। সরকারের উপরতলা ভাগা পেয়েই সন্তুষ্ট। সুন্দরবন অঞ্চলেও পরিকল্পনাহীন উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ ধ্বংস করে চিংড়ি চাষের ভেড়ি তৈরি হচ্ছে সেই শাসক দলের দাদাদের অর্থায়ন ও মদতে। সমস্ত বিধিনিষেধকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সে মুনাফা কামিয়ে যাচ্ছে, যা এলাকার জীবন জীবিকার দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্বকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে

বিশ্বব্যাপী নানা গবেষণায় উপকূলীয় অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করার জন্য ম্যানগ্রোভ-ভিত্তিক জলজ চাষকে একটি কার্যকর, প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে চিংড়ি ও কাঁকড়া চাষ একটি প্রাথমিক জীবিকা। এই সমন্বিত পদ্ধতি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং চিংড়ি চাষ উভয়ের সহাবস্থান নিশ্চিত করে- যা দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য উপকারী। ভিয়েতনাম এবং থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলি জীবিকা নির্বাহের পাশাপাশি অবনতিশীল উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য ম্যানগ্রোভ-সমন্বিত চিংড়ি চাষে দারুন সফলতা লাভ করেছে। দেশে কেরালা এই মডেলে সফলতা পেয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তামিলনাড়ুর কিছু জায়গায়, ছোট জেলেদের সাথে একই রকম পদ্ধতি গ্রহণ করে সফলতা পেয়েছে।

 

তাই বিকল্প বাজার খোঁজার পাশাপাশি আরো নানা ভাবে চাষীকে বাঁচানো সম্ভব, ও তার পথ খুঁজতে হবে।

  • পরিবেশগত নিয়মকানুনকে কাঁচকলা দেখিয়ে যারা উর্বর শালি ও ম্যানগ্রোভ এলাকায় দখলদার চিংড়ি খামার বাইয়ে বসে আছে, তাদের অপসারণের পদক্ষেপ নিলে- আসলে যারা চিংড়ি, কাঁকড়া তথা মৎস্য চাষী এবং শ্রমিক তাদের জীবিকা ঝুঁকিমুক্ত করা সম্ভবএতে সরবরাহ কমলে আসল চাষী, যাদের এটাই মূল জীবিকা তারা উপকৃত হবে।
  • ঘূর্ণিঝড় এবং ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততার কারণে, যেখানে ঐতিহ্যবাহী কৃষিকাজের কোনো বিকল্প নেই- সেই অনুর্বর জমি চিহ্নিত করে সেগুলোকেই চিংড়ি ও কাঁকড়া চাষের জন্য সংরক্ষিত করা হোক।
  • সংরক্ষণ এবং জীবিকার মধ্যে দ্বন্দ্ব কমাতে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করে তাদের যুক্তি ব্যবস্থাপনার একটি কাঠামোগত মডেল নীতি কাঠামো বানাতে হবে, যা চিংড়ি চাষ ও পরিবেশ সংরক্ষণকে একসাথে একত্রীভূত করবে
  • জৈব জলজ চাষ হিসেবে চিংড়ি ও কাঁকড়াকে স্বীকৃতি দিতে হবে। এ বিষয়ে এমএস স্বামীনাথন রিসার্চ ফাউন্ডেশন (এমএসএসআরএফ) এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো আর রামাসুব্রামানিয়ান’ এর মত ব্যক্তিদের পরামর্শ মানতে হবে, তাদের মত ব্যাক্তিদের বেশী বেশী করে এই ধরণের প্রকল্পে নিয়োগ করতে হবে
  • সরকারের স্কিমের সুফলকে যথাসম্ভব দ্রুত প্রতিটি প্রান্তিক চাষীর কাছে পৌঁছে দেবার দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে।
  • লাইসেন্স প্রদান বা তার নবায়নে আমলাতান্ত্রিক বিলম্ব হ্রাস করতে হবে।
  • প্রতিটি রাজ্যের উপকূলীয় জলজ চাষ উপকূলীয় জলজ পালন কর্তৃপক্ষ (CAA) বিধি সংশোধনীর অধীনে এনে, নতুন খামার নিবন্ধন এবং বিদ্যমান খামারগুলির জন্য সিস্টেমকে সহজ বানাতে হবে
  • আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয়ের উপরে ভর্তুকি ও স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে।
  • প্রতি ত্রৈমাসিকে ফসলের রোগ ও তার প্রতিকার বিষয়ে গ্রামে গ্রামে কর্মসুচি করাতে হবে বিভিন্ন কৃষি বিজ্ঞানীদের দল গঠন করিয়ে।
  • প্রতিটা অঞ্চলে পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নতি করতে হবে, প্রক্রিয়াজাতকরণ এর বন্দোবস্ত ও মজুদের জন্য হিমঘর স্থাপন আসু প্রয়োজন।
  • পরিবহনের সময় রাস্তায় পুলিশি জুলুম, বাজারে তোলাবাজদের জুলুম, সরকারি অফিসে চাঁদা ও ঘুষের জুলুম থেকে চাষী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে মুক্তি দিতে।


মোদ্দাকথা সদিচ্ছা থাকতে হবে। যার জন্য একটা শিক্ষিত সরকার প্রয়োজন। একদিকে সর্বক্ষণ ধর্মের মেরুকরণ করা একদল উন্মাদ, অন্যদিকে কোথা থেকে একটু চুরিচামারি করব, সারাদিন তার ফিকিরে ঘোরা একদল চোরের দল সরকারে বসে আছে- কীভাবে চাষীকে উপসম দিতে পারে এরা! সরকার সার ভেবে নিয়ে মাসে ৫ কেজি চাল আর ৫০০-১০০০ টাকার ‘ভিক্ষা’ দিয়ে দায় সেরে ফেলছে। কিন্তু চাষী না বাঁচলে সমাজ বাঁচবে তো? টাকা কী চিবিয়ে খাবেন?

এশিয়া কাপ ও করমর্দন

 


ভন্ডামি আর চোদনামো

এই দুটোর মধ্যে একটা সুক্ষ ফারাক আছে। ভন্ডামিটা অল্পক্ষণেই ধরা পরেই যায় আমার আপনার মত অতি সাধারণ মানুষের চোখেও, কিন্তু চোদনামো হলো সেই শিল্প যা অন্ধভক্তদের একমাত্র খোরাক। যারা গোবর খায়, সাম্প্রদায়িকতা হাগে- তাদের জন্য আমাদের ক্রিকেট টিমকে বলির পাঁঠা বানিয়ে একপ্রকার বাধ্য করে এই চোদনামোটা করিয়ে নিলো বিজেপির মেশিনারি।

সুর্যকুমার যাদব প্রতিভাবান ক্রিকেটার, মোদির মত অভিনেতা নয়। তাই বেচারি বিজেপির তৈরি এই খাজা স্ক্রিপ্টকে মনে রাখতে পারেনি। ক্যামেরার সামনে হ্যান্ডসেকে মানা করেছিলো, কিন্তু CCTV ও অন্যান্য লোকের মোবাইল ক্যামেরা যে রয়েছে সেটা ভুলে গিয়েছিলো, আর এই অহেতুক চোদনামোর ফলে তার ক্রিকেটীয় পারফর্মেন্স খারাপ হয়েছে। এই স্ক্রিপ্ট বিবেক অগ্নিহোত্রীর থেকেও জঘন্য। শুধু প্রকাশ্য ময়দানে ক্যামেরার সামনে হাত মেলানো যায়না, তাহলে মহাগুরু ‘অপারেশন সিন্দুর’ নাম দিয়ে সোস্যালমিডিয়াতে পোষ্ট করে নিজের ডঙ্কা বাজাবে কী করে!

 

ক্যামেরার সামনে জাতীয়তাবাদী নাটক। এদের রক্তে যদি দেশপ্রেম থাকত, শহিদদের প্রতি নুন্যতম সহানুভূতি থাকত তাহলে পাকিস্তানের সাথে মাঠেই নামত না ভারতীয় টিম। ঘরের ভিতরে হ্যান্ডসেক করব, শুধু মাঠে গিয়ে চোদনামো করব। জনগনকে গান্ডু বানাবার জন্য এই সস্তার নাটক করা হচ্ছেকিন্তু নিয়তির পরিহাস বড় নির্দয় ও করুণ, CCTVতে বেচারা সূর্যকুমার এক্সপোজ হয়ে গেলো। এটা টুর্নামেন্ট এর চেয়ে সার্কাস হয়ে গেলো

 

ক্রনোলজিটা কেমন? পেহেলগামে জঙ্গিহানা, ভারতীয় সেনার প্রবল বিক্রমে প্রত্যাঘাত ও বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌছে গিয়ে অফিসিয়াল জয়ের ঘোষনার অপেক্ষা। এবার গল্পে টুইস্ট, মার্কিন প্রভুর আদেশে যুদ্ধবিরতি, তার পরেও ট্যারিফের নামে বিপুল মার্কিন নিষেধাজ্ঞা। মহামানব চীনের কোলে বসার জন্য তাড়াহুড়ো। চারিদিকে ছ্যাঃ ছ্যাঃ রব, অতএব পাবলিককে আফিমের গুলি দাও। কে না জানে আমাদের দেশে ক্রিকেট হলো ধর্ম, অতএব পাকিস্তানের সাথে ক্রিকেট খেলার আয়োজন করো। চু’তিয়াদের বিশ্ব-গুরু তার বৈদেশিক কূটনীতির ব্যর্থতা ঢাকতে ক্রিকেট দলের পিছনে লুকিয়ে পরলো

 

এই সিরিজ থেকে ভারতের প্রাপ্তি পূর্বনির্ধারিত, কিন্তু পাকিস্তান কমবেশি কয়েক হাজার কোটি কামিয়ে ফিরেছে, যা তারা পরবর্তী সন্ত্রাসী হামলার জন্য তহবিলে লগ্নি করে দেবে। বিজেপির প্রোপ্যাগান্ডা মেশিনারি মে’মাসের যুদ্ধকে ক্রিকেটের কমেন্ট্রির মত দেড় ঘন্টার ঝোড়ো ইনিংশে লাহোর করাচি দখল করেছিলো, এরাই ক্রিকেট ম্যাচকে যুদ্ধ বানিয়ে ছেড়েছে। কার্গিলে দেশের হয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা, ২২ বছর ধরে সেনাতে চাকরি করা ‘সেওয়াং থারচিনকে’ অমিত সাহ এর পুলিশ গুলি করে খুন করেছে লাদাখে, তাও পিঠে গুলি করেছে। কারোর মুখ দিয়ে দেশপ্রেমের রজঃস্রাব গড়িয়ে পরেনি, না কোথাও এ নিয়ে খাপ বসেছে। মোদী-শাহ এর মতে নিম্নলিখিত এই শহীদদের আত্মা সুবিচার পেয়েছে ক্রিকেটের যুদ্ধ দিয়ে-

 

মুরলী নায়েক, সমীর গুহ, সুনীল কুমার, দিলীপ দেশাল, দীনেশ কুমার, সুমিত পারমার, বিনয় নারওয়াল, মনীশ রঞ্জন, মঞ্জুনাথ রাও, এন রামচন্দ্র, এস মধুসূধন, তাগে হাইল্যাং, ইয়াতীশ পারমার, ভারতভূষণ, বিতন অধিকারী, দীনেশ আগরওয়াল, সুদীপ নেউপানে, সুশীল নাথিয়াল, জেএস চন্দ্রমৌলি, মোহাম্মদ ইমতিয়াজ, নীরজ উধাওয়ানি, সন্তোষ জগদালে, শুভম দ্বিবেদী, অতুল শ্রীকান্ত মনি, ঝন্টু আলী শেখ, কস্তুবা গণভোটে, হেমন্ত সুহাস জোশী, শৈলেশ কালাথিয়া, সুরেন্দ্র কুমার মোগা, সঞ্জয় লক্ষ্মণ লালী, সৈয়দ আদিল হোসেন শাহ, প্রশান্ত কুমার সাতপাঠী – এনাদের পরিবার স্বজন হারানোর ক্ষতিপূরণ পেয়ে গেছে সম্ভবত BCCI এর যাত্রাপালাতে। সূর্যদের প্রকাশ্যে হাত না মেলাবার চোদমানোই হলো সন্ত্রাসীদের উপরে আসল প্রত্যাঘাত।

 

প্রতিবার কাপ জয়ের পর হুডখোলা বাসে মুম্বই মেরিন ড্রাইভের পরিবর্তে বিজয়োৎসবটা কী পাটনাতে হবে এবারে?

রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

শ্রীমতি কমলা তাই গাভাই



খবরে প্রকাশ (ডেকান হেরাল্ড, দ্য প্রিন্ট) আগামী ৫ অক্টোবর অমরাবতীতে RSS এর শতবর্ষ উদযাপনে, তাদের ঐতিহ্যবাহী খাকি হাফপ্যান্ট ও সাদা জামার পোশাক পরিহিত ১৫,০০০ স্বয়ংসেবক যোগ দেবে, থাকবে বিশ্ব প্রতিনিধিরা।

প্রধান অতিথির নামটা ভারি অদ্ভুত ও অপ্রত্যাশিত। কিন্তু এটা আশ্চর্যের নয়, প্রধান অতিথির নাম শ্রীমতি 'কমলা তাই গাভাই'।
হ্যাঁ, আপনি ঠিক যেটা ভাবছেন সেটাই, উনি তিনিই, ওনার মা। আপনি ভাবছেন RSS এর আদর্শের বিপক্ষে গিয়ে দেশের সর্বোচ্চ বিচারব্যবস্থা সংবিধানের পক্ষে ব্যতিক্রমী কিছু করবে

এসব ফালতু খবর কেন শুনবেন, বরং তাড়াতাড়ি করুন, আসর শুরু হলো বলে। পেহেলগামের শহীদদের আত্মার শান্তি কামনাতে এটা Operation Sindoor-2.0 এর অংশ। আপনার কাছে হোয়াটস্যাপ মেসেজ আসেনি?
আরবের সনাতনী মাটিতে আজ মুজরোর আসরের লাইভ সম্প্রচার দেখাবে PVR INOX, শুরুতে গোটা দেশজুড়ে ১০০ মাল্টিপ্লেক্সে দেখানোর কথা থাকলেও সেটা বেড়ে নাকি ২০০ হয়েছে এতো টিকিটের চাপ। ছাপরি চুলের হার্দিক পান্ডিয়ার মতই এটা বদলে যাওয়া ভারত। সকলেই বোধহয় শ্রদ্ধার্ঘ্য দিতে চাইছেন শহীদের পরিবারকে।
এখানে দেশপ্রেমের সমস্ত কিছু ইজেরে চালান হয়ে গেছে ক্যাপিটালিজমের কাছে। বিজেপিগস আর তাদের বাপ RSS এর মনুবাদী সংবিধান অনুযায়ী শূদ্র, ম্লেচ্ছ ও অন্ত্যজদের সাথে যৌন সম্ভোগ সিদ্ধ। সুতরাং ক্রিকেটিয় বিচারে দূুর্বল পাকিস্তানকে মাঠে ফেলে তাদের মায়ের ১০৮ বার নেওয়ার মাঝেই দেশপ্রেম সুরক্ষিত হয়, কলেবরে বৃদ্ধি পায়।
চলুন মহাষষ্ঠীর সন্ধ্যায় আবেগের দোকান খুলে বসি, দেশপ্রেমকে পোঁ'দে গুঁজে রেখে। কাল সকাল থেকে আবার বয়কট বয়কট খেলা শুরু করতে হবে।

What a busy day...

শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

সোনম ওয়ানংচুক ও কিছু কথা

 


মাননীয় সোনম ওয়াংচুক,

আপনি বড় পন্ডিত ও মনিষী এতে সন্দেহ নেই। কিন্তু আপনি যদি সমাজের একটা নিকৃষ্ট মৌলবাদী ভাবাদর্শে বিগলিত হয়ে, তাদের থেকে কিছু অবৈধ সুবিধা পেতে, কিম্বা মোহ বা যশের লোভে পরে- একপ্রকার তাদের অংশ হয়ে উঠেন, সেই বিভেদকামী ভাবধারাকে নিজের ক্ষেত্রের মানুষের মধ্যে প্রচার ও প্রসারের চেষ্টা করেন নিজের ইমেজ কাজে লাগিয়ে, সেক্ষেত্রে আপনার আজকের পরিস্থিতি হওয়াই নিয়তির সুক্ষ বিচার। আপনাদের সাজা না হলে মানুষের বিশ্বাস উঠে যাবে কর্মা বা ঈশ্বরের প্রতি। দেশের মধ্যে ছড়িয়ে থাকা আপনার মত অসংখ্য ‘বুদ্ধিজীবি’ ভক্তরাই বিভেদকামিদের মূল চালিকাশক্তি। আপনাদের মুখোশের আড়ালে, আপনাদের ব্যবহার করেই লক্ষ কোটি ‘জম্বি’ ভক্ত তৈরি করেছে তারা

বিজেপি RSS এর সাথে আপনার সম্পর্ক ঠিক এমনটাই, অদ্ভুত পরকীয়া। আপনাদের রসায়ণে আর কি কি ছিল তার সত্যতা মানুষ কখনই জানবেনা, কিন্তু শুরু থেকেই আপনি উৎকৃষ্ট লেভেলের মোদী ভক্ত ছিলেন। ৩৭০ ধারা বিলোপ ও লাদাখের ‘কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলের’ মর্যাদা পাওয়াকে- আপনার ব্যক্তিগত বিজয় হিসাবে উদযাপন করেছিলেন। লাদাখের লোকাল বডি নির্বাচনে ৯৫% স্থানে বিজেপি ব্যাতিরেকে কেউ মনোনয়ন টুকু জমা করতে পারেনি, কিন্তু গণতন্ত্রের এরকম ধ্বংসযজ্ঞ দেখেও আপনি চুপ করে বসে ছিলেন। বিজেপি তথা মোদী সরকারের প্রায় প্রতিটি সিদ্ধান্তকেই যুগান্তকারি আখ্যা দিয়েছিলেন আপনি। কখনও কোনো বিষয়ে নুন্যতম বিরোধ পোষণ করেননি গত ১১ বছরে। তাই আজ আপনার জন্য সেভাবে কেউ বিচলিত হচ্ছেনা

সমস্যার প্রাক কথনগুলো কখনও ঝেড়ে কেসে বলেননি, প্রভুদের মন রক্ষাত্রে বুদ্ধিজীবি হিসাবে গোলগোল কথাবার্তা বলে গেছেন এতোদিন। লাদাখের অবস্থান হিমালয় ও তার হিমবাহ গুলোর প্রায় কেন্দ্রস্থলে, তাই হিমালয় কেন্দ্রিক প্রকৃতি রক্ষার একটি মূল স্তম্ভ এই লাদাখ। আপনি জানেন- হিমালয়, এখানকার হিমবাহগুলি মৌসুমি বায়ু, বৃষ্টিপাত, নদীর ভয়াবহতা, ভূমিধ্বস, ভারতের আবহাওয়া, ভারতের কৃষি, তথা ভারতের জনজীবনকে দুর্গের মত রক্ষা করে।

বছরের মধ্যে ৩০০-৩২০ মেঘমুক্ত রৌদ্রোজ্জ্বল দিন সৌরশক্তির সম্ভাবনাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। লাদাখের এই গুণটা আদানির মত কয়েকটা পুঁজিপতিদের নজরে আসতেই মূল সমস্যাটা শুরু হয়। ভোটের মুখে লক্ষ কোটি মিথ্যার মত লাদাখকে ‘পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া হবে’ বলে অমিত শাহ যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো, ভোটে জিততেই যথারীতি ভুলে গেছেন নিয়ম মাফিক। ষষ্ঠ তফশিল থেকে লাদাখকে বের করে আলাদা কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল করাই হয়েছে- এই অঞ্চলের বিপুল খনিজ সম্পদ আদানীর হাতে তুলে দেওয়ার জন্য। আম লাদাখিরা বুঝতে পারুক বা না পারুন, আপনি সোনম ওয়াংচুক এটা বুঝতে পারেননি বললে ডাহা মিথ্যাচার করবেন।

আপনি গবেষক, বুঝেছিলেন এই হিমালয়ান মরুভূমিতে সৌর খামার হলে, এই অঞ্চলের উষ্ণতা আশেপাশের ভূমির তুলনায় ৩-৪ °C উষ্ণতর করে তুলবে, যাকে ‘solar heat island’ এফেক্ট বলা হয়। সৌর শিল্পকে কেন্দ্র করে ওই ৩,৫০০-৫,০০০ মিটার উচ্চতায় নানান অনুসারি শিল্পের কারখানা হবে, রাস্তাঘাট হবে এবং বিপুল মাত্রার কার্বন দুষণ যোগ করুন ফ্রিতে- সব কিছুই অকারন তাপ উৎপন্নের সাথে ভয়াবহ ব্যাঘাত সৃষ্টি করবে পরিবেশে। আগামী ১ দশক পরের প্রভাবটা কী দাঁড়াবে বিষয়টা আপনি অনুমান করতে পেরেছিলেন বোধহয়!

গত এক বছরের বেশি সময় ধরে যে কারণে মনিপুরকে স্তব্ধ করে রাখা হয়েছে, সেই একইভাবে লাদাখকে গিলে খাবার প্রচেষ্টা হবে- এটার না বোঝার মত নির্বোধ তো আপনি নন। তাই পুরনো পাপের থেকে মুক্তি পেতে নতুন করে অনশনের নাটক শুরু করেছিলেন জনগণের সামনে। লাদাখের জনগণ আপনাকে আর বিশ্বাস করবে কিনা জানিনা, কিন্তু দেশের অসংখ্য জনগন যারা আপনাকে ভালবাসতাম, ভরষা করতাম, আপনার স্বপ্নকে নিজেদের স্বপ্ন ভাবতাম, তারা আর বিশ্বাস করবনা এটা নিশ্চিত। আপনি আজও অর্ধসত্য বলছেন, জলবায়ু ছাড়া কোনো দ্বিতীয় শব্দ উচ্চারন করছেননা ইচ্ছাকৃতভাবে। অথচ বিষয়টা অর্থনীতিরও বটে, এই সহজ সত্যটা আপনি স্বীকার করতে চাইছেননা- কেন?

লাদাখের পাহাড়ে বোরাক্স, সালফার, জিপসাম, আয়রন, কপার, নানান জাতীয় দুর্লভ সল্ট ও সোড়া এ্যাশ, মার্বেল ও চুনাপাথর, লিথিয়াম ও টাংস্টেন, ক্রোমাইট এবং সোনার সন্ধান পাওয়া গেছে বিপুল পরিমানে। এটাতো আপনার অজানা থাকার কথা নয়, এতদিন ধরে টেস্টিং হয়েছে প্রকাশ্যেই, আপনি চুপ ছিলেন। এখন খননকার্য শুরু হবার মুখে, আদানির সরকার কেন ফালতু আপনার এই অনশনের নাটক আর যুব সমাজের অশান্তি বরদাস্ত করবে বলতে পারেন?

আজ যেই মাত্র আপনি এর প্রতিবাদ করেছেন, আদানির স্বার্থে আঘাত লেগেছে, ফলত আপনার সমস্ত ভক্তগিরির ইতিহাস ভুলে যেতে বিজেপি RSS এতটুকু সময় নেয়নি। আপনাকে দমন করতে কার্ফু, ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন ও গুলি চালিয়েছে অমিত শাহ এর পুলিশ। PM কেয়ার ফান্ডে বিদেশি টাকা কত আমদানি হয়েছে আজ অবধি তা কেউ জানেনা, আর আপনার ইস্কুলের জন্য সাদা পথে আমদানিকৃত বিদেশি ডোনেশনের কারনে আপনি জেলে। ডিক্টেটর শাহ এর অস্ত্র CBI-ED লেলিয়ে দিয়েছে, কেকের উপরে চেরির মত UAPA/NSA জুড়ে দিতেও ভোলেনি। তাতেও পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী হতে পারেনি, তাই লাদাখ থেকে আপনাকে রাজস্থানের যোধপুরের জেলে এনেছে সাহসী ৫৬ ইঞ্চির মহাদানব

একই দেশে আলদা আলদা আইন, আপনি বা আপনার সম্প্রদায়ের সেটা আজকে মনে পরেছে। গোটা দেশে যখন মুসলমান নিগ্রহ হয়েছে গোমাংসের জেরে- আপনারা চুপ ছিলেন। বিনা বিচারে উমর খালিদ, গুলফিজা ফাতিমা ৫ বছর ধরে কারাবন্দি, এসব আপনারা না কানে শুনেছিলেন না চোখে দেখেছিলেন। আজ আপনাকে UAPA দিতেই সকলের কাছে সহযোগিতা চাইছেন, কত শত প্রশ্ন তুলছেন। যখন কপিল মিশ্র, অনুরাগ ঠাকুর, রামভক্ত গোপাল প্রকাশ্য অপরাধ করার পরেও তাদের নামে একটা FIR অবধি হয়নি, আপনি 'বিশাল' এক্টিভিষ্ট হয়েও কোনো প্রশ্ন তোলেননি

সমগ্র দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কোথাও আম্বানির হাতে, কোথাও আদানির হাতে মানুষ ঠকে গেছে। গত ১ দশকে দেশের মানুষ মূল শয়তানগুলোকে চিহ্নিত করে ফেললেও, কুনকি হাতি গুলোকে ধরতে পারেনি। এখন আপনাদের মত সেই কুনকিরা ক্রমশ চিহ্নিত হয়ে ধরা পরে যাচ্ছেন। সম্পদের লোভে একটা সমগ্র জনগোষ্ঠীতে উৎখাত করার পরিকল্পনাতে নিজেদের নিমজ্জিত করে রেখেছিলেন ক্যামোফ্লেজের আড়ালে, প্রতিটা ষড়যন্ত্রের আপনারা প্রতক্ষ্য অংশীদার। সুতরাং, আপনাকে গ্রেপ্তার করে ‘ফেসভ্যালু’ বাঁচাবার ব্যর্থ চেষ্টা করা হচ্ছেনা তারই বা নিশ্চয়তা কী!

পুঁজিবাদী-রাজনৈতিক অবৈধ জোটের এই সমন্বয়, যারা ভবিষ্যতের ভারত আর তার জনজীবন বিষয়ে কোনো পরোয়া করেনা, তারাও আজ দেশপ্রেমের দোকান খুলে বসেছে। RSS তার সুবিধাবাদী অবস্থান আর ক্রমাগত গিরগিটির মতো রং পাল্টে বিভ্রান্ত করার প্রক্রিয়ায় গত ১০০ বছর ধরে ছত্রাকের মত বিস্তার করেছে, আপনাদের মত মানুষ গুলোকে ট্রাপে ফেলে। কাল অবধি আপনি ওদের দেশপ্রেমের পোষ্টার বয় ছিলেন, ট্রাপটা ধরতে পারেননি। বিজেপির সঙ্গে আপনার যে আন্ডারটেবিল আন্ডারস্ট্যান্ডিং হয়ে যাবেনা সেই গ্যারান্টি কে দেবে?

বিজেপি RSS কোনো সংখ্যালঘুকেই মানুষ বলে মনে করেনা, যেটার প্রথমেই আছে গোটা দেশের মুসলমান সম্প্রদায়। সাথে ঝাড়খন্ড ছত্রিশগড়ের আদিবাসি, কাশ্মিরী, মণিপুরের উপজাতি ও খ্রীষ্টান, সেটা নিম্নবর্ণের হিন্দু হতে পারে কিম্বা লাদাখের বৌদ্ধ- একটাই ট্রিটমেন্ট, বিচ্ছিন্ন করে দাও। বিজেপি সরকারের সংবিধান ও মানবতা বিরোধী কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুললেই, তারা দারুন একটা পলিসি প্রয়োগ করে, প্রোপ্যাগান্ডা মেশিনারি দিয়ে জাষ্ট ‘দাগিয়ে দাও’। বিচ্ছিন্নতাবাদী, টুকরে টুকরে গ্যাং, পাকিস্তানের দালাল, আর্বান নকশাল, মাওবাদী, রোহিঙ্গা, CIA বা জর্জ সোরেসের দালাল, চিনের দালাল, কমি-মাকু, প্রতিবিপ্লবী, হার্মাদ, খালিস্তানী, ইত্যাদি নানা সেগমেন্টের দেশদ্রোহী মডেল রয়েছে এদের। বর্তমানে এই কোম্পানির নতুন মডেল এনেছে Gen-Z নাম দিয়ে।

একটা শ্রেনী রয়েছে দেশে, তারা শিক্ষিত কিন্তু বিজেপি নয়। সবরকম যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বিজেপি ও RSS- বিভিন্ন ধরণের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে, তাকে তার যোগ্যতা মাফিক কাজ থেকে সাময়িকভাবে বা চিরতরে বিচ্ছিন্ন করে দেয় বা করার চেষ্টায় কোনো ত্রুটি রাখেনা। যে কোনো নিরক্ষর কিন্তু সামান্যতম মানবিক বোধসম্পন্ন মানুষ তাদের এই অভিসন্ধি এতদিনে ধরে ফেলেছে, কিন্তু আপনার মত একজন পন্ডিত মানুষ কিসের স্বার্থে সবকিছু জেনে বুঝে- শুধু নিজের জনগণের সামনে মিথ্যাচার করেননি, লাদাখের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষের সাথে সাথে ভারতবাসীদের সঙ্গেও চূড়ান্ত বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন, এবং সজ্ঞানে করেছেন

অন্য একটা ‘প্রিভিলেজ’ শ্রেনী রয়েছে, তাদের কারো নাম আম্বানি বা আদানি; যাদের একমাত্র কাজ সব ধরণের দুর্নীতি করে জনগনণের সম্পদ লুটে নেওয়া। বিজেপির বড় বড় নেতারা এই পুঁজিপতিদের হাতে দেশের সম্পদ তুলে দেওয়ার বিনিময়ে হারামের কামাই এর ভাগা পায়। এই দুই শ্রেণীর ‘প্রিভিলেজ’ নেপো-কিড ছেলেমেয়েরা হারামের টাকায় বিদেশে পড়াশোনা করে, ফুর্তি করে চুটিয়ে। দেশের যাবতীয় ভোগ্য পণ্য যা আজকে রয়েছে এবং যা আগামী দিনে আবিষ্কার হবে- সব কিছু ভোগ করা এবং তাদের আগামী প্রজন্মের জন্য অবৈধ উপায়ে সঞ্চিত রেখে যাওয়া, একমাত্র সেই প্রিভিলেজড শ্রেনীর অধিকার। পাশাপাশি সেই হারামের সঞ্চয় সুরক্ষিত করার জন্য, যাতে আগামী দিনে কেউ হাত দিতে না পারে, সেই উদ্দেশ্যে দেশের আইন বদলে দেয় বিজেপির নেতারা।

দেশে কর্মসংস্থান নেই, সরকারী পরিসেবার নামে সর্বত্র হয়রানি, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যে আগুন, তার উপরে প্রিভিলেজ সমাজের নিকৃষ্ট দেখনদারি- যুবসমাজে ক্ষোভ হওয়া অতি স্বাভাবিক। তাদের সামনে ধর্মের চোলাই রেখে দিয়েছিলো, অবৈধ নিষিদ্ধ ব্লু’ফিল্মের সাথে ড্রাগের সাপ্লাই বাড়িয়ে উন্মত্ত করে মাতিয়ে রেখে দিয়েছিলো। এদের মধ্যে থেকে ‘ভক্ত’ শ্রেনী তৈরি হয়েছিলো। তীব্র সাম্প্রদায়িক, মেরুদন্ডহীন ও নিয়তিবাদী বানিয়ে ফেলাই ছিলো মূল উদ্দেশ্য। হুঁশ ফিরলেই বিরোধিতা করা নব প্রজন্মকে Gen-Z নাম দিয়ে একটা প্যাকেটের মধ্যে ভরে ফেলতে এরা পণ করেছে।

তাই ছলে বলে কৌশলে সহজ উপায়ে যখন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছেনা, তখন রাষ্ট্রশক্তি দিয়ে বল প্রয়োগ করা হচ্ছে। অবৈধ অর্থের মাধ্যমে প্রচারমাধ্যমকে বহু আগেই নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল, যে কোন মূল্যে সামাজিক ঐক্যকে বিভাজিত করে দেওয়ার জন্য এক শ্রেণীর পেটোয়া বুদ্ধিজীবী সমাজে নামিয়ে দিচ্ছে মগজধোলাই করতে। তবেই প্রিভিলেজড নেপো-কিডের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত

বিজেপি যেখানেই ব্যার্থ, সেখানে যাবতীয় দোষ উপরের ওই নানা সেগমেন্টের দেশদ্রোহীদের। দেশপ্রেমের ঠিকাদারি বিজেপির বাপত্ব সম্পত্তি, প্রোপ্যাগান্ডা মেসিনারির জন্য IT Cell আর আম্বানি ও আদানির টিভি চ্যানেল রয়েছে। RSS এর কুত্তারা দেশপ্রেমের সার্টিফিকেট বিলির দোকান খুলে বসে আছে নানা নামে। আদানি আর লাদাখের জমির সমীকরণ যতক্ষণে আপনি টের পেয়েছেন, ততক্ষণে আপনি দেশদ্রোহী হয়ে গিয়েছেন বিজেপির প্রোপ্যাগান্ডা মেসিনারিতে। আপনাকে গিলে ফেলেছে এটা তো সত্য, কিন্তু হজম করতে পারবে বলে আমার মনে হয়না ব্যক্তিগতভাবে। তবে আপনি আন্না হাজারেকে দেখে ‘হাইবার্নেশন মোডে’ চলে যাওয়ার শিক্ষা নিলে আজ জেলে যেতে হতোনা

আজকের দিনে দেশপ্রেমের সংজ্ঞা কিসের হিসাবে ঠিক হয়? পুঁজিপতি আর RSS প্রতি ভক্তি নাকি দেশের সংবিধানের প্রতি ভক্তি? জেল থেকে ছাড়া পেলে আপনার কাছে উত্তরটা চাইবো ইমেল মাধ্যমে। আমাকে জবাব না দিলেও, আশা রাখি সোস্যাল মিডিয়া বা কোনো পডকাস্টে আপনি দেশ, দেশপ্রেম ও গণতন্ত্রের সংজ্ঞাটা দেবেন

শুভ জেলযাত্রা

 

ফেসবুকীয় সিপিএমঃ ফিউজড আইনগাইডেড কামিকাজে ড্রোন

  ফেসবুকের ‘সিপিএম’ নামক এই চুড়ান্ত আঁতেল ও প্রায় সর্বজ্ঞ গোষ্ঠীটার পূর্ণ বোধোদয় বা পূর্ণ বিনাশ না ঘটা অবধি রাজ্যের বাম নেতৃত্বের খুব বেশী ...