কোনো এক অজানা কারনে হঠাৎ করে ভাবনাস্থল গর্ভবতী হওয়ার কারনে অক্ষরের রূপে প্রসবিত কিছু প্রলাপের সংকলন এই ঠেক। গুনী লেখকের সমৃদ্ধশালী লেখনি পড়তে পড়তে, অক্ষমের প্রয়াসে কম্পিউটারের কিবোর্ডে হাত চলে যায়। ফল স্বরূপ, ঘটে চলা রাজনীতি, সমকাল, মানবিক বিকার, সময়চর্চা, ছ্যাঁচোর এর মত রিকেটগ্রস্থ লেখনীর জন্ম হয়। এরই রেশ ধরে সময়চর্চা, রবিবাসরীয়, সমকাল সহ রম্য, রচনা, গল্প ইত্যাদি ভুলভাল গুলোকে সংরক্ষিত করা হয়েছে এই টোলে। এটা সমমনষ্ক মানুষদের ভাব বিনিময়ের স্থান। উন্মাদের টোলে সকলকে স্বাগতম জানাই।
রবিবার, ২৯ জুন, ২০১৪
শনিবার, ২১ জুন, ২০১৪
সময়চর্চা - ৩
কে কথা দেয় আর কে কথা রাখে?
এই বিচিত্র ট্যালিপ্যেথির জন্যই সংসদে দিদির গুনর্কীতন,
ফলাফল- হিরো হিরন (!)
নেতা কি কম পরিয়াছে??
যাই হোক, বুলেটট্রেন আসার আগেই ডেমো হিসাবে তার ভাড়া উপস্থিত। একে সদা আনন্দ, তার উপরে গৌড়, প্রেমের সাগর, ভাবখানা যেন " ভর্তুকি বাবু " কে কন্যাদায় থেকে মুক্তিদানের কসম খেয়েছেন। সুতরাং ২য়ে ২ য়ে পাঁচ।
সস্তিকা মুখার্জী, বিচিত্র রকমের সমাজসেবি। যদিও উনি সু-মনের ও অধিকারিণী, তা ক্রমশ প্রকাশ্য হল, বেচারা স্ত্রী, থানাতেও গেলেন ছারাতে, টিপিকাল ভারতীয় নারী।
এতে করে সুদিন অর্নবের, চান্স অএ ডান্স। প্রতিবাদ কাহারে কয়?? অর্পিতা - প্রসেনজিৎ? না ব্রাত্য বসু? একবারে ঝোপবুঝে কোপ। আমাদের ছেলেবেলার স্বপ্ন:- পড়াশোনা থেকে ছুটি দিয়ে, বেড়াতে পাঠানো। আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাশে.... ব্যাথা - অজুহাত - ব্রাত্য :)।
প্রতিবাদ - নাচনি - ঝিঙ্কু - মীর........
ইলেক্ট্রনিক কমপ্লেক্স থানা.... ১০২ নং কেস, আমি আবার সমন পাবো না তো...??
ভাঙ্গাগড়া, মানে আগে ভাঙ্গো, পারলে গড়ো না পারলে ওই অবস্থায় ছেড়ে দাও, কিন্তু ভাঙ্গতেই হবে। তৃতীয় পান্ডব, মানে অর্জুন মানে পার্থ ( মুকুল - ও মদনের পর) শিল্পে ডিনামাইট সেট করে শিক্ষায় প্রবেশ। যদিও ভাঙার কিছু নেই, ত্রি-শঙ্কু দের নিশ্চয় গড়ে দিয়ে, শিক্ষাকে গড়ের মাঠে ঘোড়ার নাদের মধ্যে কবর দেবেন।
সুদিন আমারও, IPL শেষ তো কি? FIFA World Cup হাজির, সাথে ফ্রিতে রাত জাগা, যদিও বউ বলেছে, রাত ঘুমের নাকি দুর্দিন চলছে। তা চলুক (!), পতির পুন্যেই যে সতীর পুন্য...
সারাবছর বিশ্ব ফুটবলের শুধু মাত্র ছবিই দেখি, নেইমার - মেসি - রোনাল্ডো, আর্টিকেলের ৯০ শতাংশ ঈ পড়িনা কিন্তু বিশ্বকাপের সিজিন এলেই যেন "বাপ- মা" মড়া দায়, রাত হোক বা দিন, দেখতে তোমাই হবেই,
বেচারা ব্রাত্য, অন্তত গোয়ার মন্ত্রী হলে সরকারি খরছে ব্রাজিলটা ঘোরা যেত। সবাই সুমন দে ও নয় আর সবার ABP আনন্দ ও নেই, তবে জাপানি তেল আছে, সোনি আট চ্যেনেলে দেখছি যে...
সামনের বিশ্বকাপে রাশিয়ায়, ফ্রিতে নীল সাদা জার্সির খেলা দেখতে, রাজ্যপালের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠিত হল বলে, সঙ্গে দেব হিরন শঙ্কু ঝিঙ্কু.. আর কি চাই??
প্রথা ভেঙে ভুটান তালি বাজাচ্ছে, দিলমা রুফেজ ফাইনালে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে, ভারতীয় কমিউনিস্ট পাটি (মম -তাবাদি), নবান্নে ছাপান্ন ভোগের মুলো নিয়ে, পাকা চুলে কলপ লাগাচ্ছে, যদিও তা গোবর। গৈরিক অভিনন্দন ছিল এখন নাকি সন্ত্রাস ও হয়। নীল সাদা কাপরের সাধুদের কোলকাতা শহরতলি তে সাড়ে ৩ শতক করে বিনামুল্যে জমি দান, কোথা থেকে আবার, মুস্কিল আসান - বন্ধ চটকল... আরো কত কি..।
কোলিকাতা কে লন্ডন বানাতে সর্বপ্রথম একজন "রানী " দরকার, মেজাজের উপর বিচার করে একজনইমাত্র যোগ্য, তবে আমৃত্যু না হলে খেলব না।
আজকাল মা সিরিয়াল ছেড়ে " পাড়ুই " সিরিয়াল টা দেখছি, সাথে " চিট ইডি সিবি আই ", এক্কে বারে একতা কাপুর স্টাইল, ভ্রু কোঁচকালেন কেন?? ডোকোমো কেন? কাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন? হৃদয়ের ডিগবাজির অপেক্ষায় দিনগুনি, সাথে সাথী কেষ্ট।
চক্রান্ত?? সেও আছে বহাল তবিয়তে, রোদ নেই কিন্তু চটচটে ঘাম, পুরো চক্রান্ত।
রুদ্র রোষে আমরা তো দেশদ্রোহী,। ৬৪ তে বাংলাদেশ অল আউটের নো সেলিব্রেশন। এক দিক থেকে এই মাসে তা ভালোই। স্পেন আর ইংল্যান্ড এর দু:খে ৪দিন হোব্যিশি, আর ব্রাজিল - আর্জেন্টিনারর জয়ে রাত ৩ টেয় একটু হালকা ঢুকুঢুকু, আরে নাহ না, চুল্লু নয়, ফরেন...
এর পর কি, সামনে তো কোন ইস্যুঈ নেই.....
..................চলবে
শুক্রবার, ১৩ জুন, ২০১৪
রিপোর্টার উন্মাদ- ৭
(এটা মাল খেয়ে, লাল চোখে রিপোর্টিং)
(এটা সাদা চোখে, তবে বাবা খেয়েছিলো কিনা গ্যারান্টি দিতে পারবো না)
রবিবার, ৮ জুন, ২০১৪
উন্মাদ নামা ~ ১৩
শুক্রবার, ৩০ মে, ২০১৪
সময় চর্চা ~ ১
...............চলবে
শুক্রবার, ২৩ মে, ২০১৪
আধুনিক পোষ্টমাস্টার ~ ৩
কবিপক্ষের অবসান হইয়াছে, উন্মাদীয় সাহিত্যচর্চার প্রত্যক্ষ পক্ষাঘাতের জন্য সুধী মাননীয়/মাননীয়া গন আপনারা হারেহারে জর্জরিত??? সামান্য প্রহসনের আশ্রয়ে , গুরুদেবের পোষ্টমাস্টারের চরিত্রটি আগেই মন্দ হইয়াছে, উন্মাদের পাল্লায় পড়িয়া...
****************************************
(নিজ দায়িত্বে পাঠ করিয়া মর্ম্নদ্ধার করিবেন, কারন ইহার বানান বিধিও উন্মাদীয়)
শুক্রবার, ১৬ মে, ২০১৪
আধুনিক পোষ্টমাস্টার ~ ১
একটি সম্পূর্ন উন্মাদীয় ভাবনার ফসল
প্রথম কাজ আরম্ভ করিয়াই সিঙ্গুর গ্রামে পোস্টমাস্টারকে আসিতে হয়। গ্রামটি অতি সামান্য। কিছুকাল পূর্বে যদি টাটা দের বিতারিত না হইতে হইতো, তাহলে বলা যায় না, এখন আর এ গ্রাম অদৌ গ্রাম থাকিত কি না। নিকটে একটিই নতুন কৃষকমান্ডি গজাইয়াছে, তাই উন্নয়নের স্বার্থে রবিবাবুর কৃপায় ও ও উনার অনুপ্রেরনায়, বহু কষ্ট করিয়া এই পোস্টআপিস টি বন্ধের হাত থেকে রক্ষা করা গিয়াছে, সুতরাং কৃষক মান্ডির অভ্যন্তরেই আপাতত ঠিকানা।
আমাদের পোস্টমাস্টার কলিকাতার ছেলে। জলের মাছকে ডাঙায় তুলিলে যেরকম হয়, এই শহীদের পূন্যভুমি তথা বিশ্ববাঙলা গ্রামের মধ্যে আসিয়া পোস্টমাস্টারেরও সেই দশা উপস্থিত হইয়াছে। একখানি শিলাপ্রেথিত অর্ধসমাপ্ত কৃষকমান্ডির পলেস্তারা বিহীন ঘরের মধ্যে তাঁহার দপ্তর; অদূরে একটি “পার্টি অফিস” এবং তাহার চারি ধারে বিশেষ গোত্রের পুষ্পরাজি শোভিত নিশান পতপত করিয়া অহঙ্কারের প্রামানই দিতেছে। পিছনে অবশিষ্ট স্ফটিক নির্মিত সুরা পাত্রের ধ্বংস স্তুপ। পার্টি অফিসে সে সকল ক্ষুদ্র বৃহৎ, কুচো প্রভৃতি যে-সকল নেতৃবৃন্দ আছেন, তাহাদের ফুরসত প্রায় নাই এবং তাহারা ভদ্রলোকের সহিত মিশিবার উপযুক্তও মনে করেন না, কারন উনি এ অঞ্চলে ভোটাধিকার প্রদানের অধিকারী নন।
বিশেষত কলিকাতার ছেলে ভালো করিয়া মিশিতে জানে না, যেটুকু যোগাযোগ, কেবল মাত্র অন্তর্জালেই সীমাবদ্ধ, অথবা মস্তকশ্রবণ যন্ত্র কর্ণকুহরে লইয়া সংগীতের আস্বাদন। অপরিচিত স্থানে গেলে, হয় উদ্ধত নয় অপ্রতিভ হইয়া থাকে। এই কারণে স্থানীয় লোকের সহিত তাহার মেলামেশা হইয়া উঠে না। অথচ হাতে কাজ অধিক নাই। কখনো কখনো দুটো-একটা কবিতা লিখিতে চেষ্টা করেন, মুখপুস্তকে। এখানে অন্তর্জালের “দ্বিতীয় প্রজন্মের” গতি ও অত্যান্ত মন্থর। সমস্ত দিন মুখপুস্তকে প্রজ্ঞাপনের কম্পন এবং “ভিক্টোরিয়ার গোপন দেবীদের ” দেখিয়া জীবন বড়ো সুখে কাটিয়া যায়— কিন্তু অন্তর্যামী জানেন, যদি সানি লিওনের মতো কোনো উষ্ণবালিকা আসিয়া এক রাত্রের মধ্যে এই যাবতীর গোপনীয়তার সমস্ত লতাবিতানগুলা কাটিয়া চক্ষুতে রঙ্গিন কাজল পরাইয়া দেয় এবং “ও বেবি ডল ম্য সোনে দি” বলিয়া দ্বার রুদ্ধ করিয়া রাখে, তাহা হইলে এই আধমরা ভদ্রসন্তানটি পুনশ্চ নবজীবন লাভ করিতে পারে।
পোস্টমাস্টারের বেতন অতি সামান্য, পূর্বে কিছুদিন “শ্যামল নাগরিক স্বেচ্ছাসেবক” এর দ্বায়িত্ব পালন করিয়াছিলো। আজিকাল কেউ ই আর তেমন কাগজে কলমে চিঠিপত্র লেখালাখি করে না। তবুও ভবিষ্যতে আর্থনৈতিক লেনদেনের প্রতিষ্ঠান হইলে, বেতনের কিছু সুরাহা হইবে এই আশায় এই চাকুরিতে বহাল হইয়াছে।
মুষ্ঠিবার্তালাপ যন্ত্রের পূনর্জীবন, অন্তর্জালীয় মোড়ক, ধুম্রপান, দুর্গন্ধবিতারনকারক ইত্যাদি সহ, সপ্তাহয়ান্তে একবার বহুবিধ গৃহে একা একা নৈশকালিন বিলাতী ছবি দেখার রোজগার টুকু হইলেই হইলো। দুপুরে নিজে রাঁধিয়া খাইতে হয়, সকালে ভূট্টার পরত ও রাত্রে ম্যাগি বানাইয়া খাইয়া থাকে। গ্রামের একটি পিতৃমাতৃহীন চপলা বালিকা তাহার কাজকর্ম করিয়া দেয়, আধুনিক কেতার বিলিতি গান শুনতে পাওয়ার লোভ আর, দ্বিপ্রহরে পোষ্ট মাস্টারের বাড়িতে স্টারজলসা বা জি-বাঙলা দেখিতে পাইবার সুযোগ, কোনরূপ পিছুটান ব্যাতিরেকে। মেয়েটির নাম রতন। বয়স উনিশ-কুড়ি।
বিবাহের বিশেষ সম্ভাবনা দেখা যায় না। সারাদিন কাজের ফাঁকে, অন্তত ছয় সাতটি পুরুষ মানুষের সহিত মুষ্ঠিবার্তালাপ যন্ত্রে সদা প্রেমালাপ করিতে থাকে।
সন্ধ্যার সময় যখন স্টারজলসা হইতে দিদি নাম্বার ওয়ান এর শীর্ষসঙ্গীত বাজিয়া উঠিত, পাখিকে দেখিবে বলিয়া গ্রামের সকল রমণীকুল, হেঁসেলের কর্ম দ্রুত গুছাইয়া লইতো , দূরে গ্রামের পার্টির দাদাদের দল “ডিজে-ব্যাঞ্জো” বাজাইয়া উচ্চৈঃস্বরে গান জুড়িয়া দিত— যখন ৫ ওয়াটের পিএল এর আধো অন্ধকার দাওয়ায় একলা বসিয়া কোন পূর্নযৌবনা রমনীকে, মুষ্ঠিবার্তালাপ যন্ত্রে তীব্র উষ্ণ বার্তালাপ শুনিলে কবিহৃদয়েও ঈষৎ হৃৎকম্প উপস্থিত হইত, তখন ঘরের কোণে একটি এন্ড্রোয়েড মোবাইলের স্ক্রিন জ্বালিয়া পোস্টমাস্টার ডাকিতেন 'রতন' ।
রতন দ্বারের আড়ালে বসিয়াই মুষ্ঠিবার্তালাপ যন্ত্রে প্রেমালাপ করিতে থাকিত কিন্তু এক ডাকেই ঘরে আসিত না- বলিত,
- “কী গা বাবু, কেন ডাকছ।”
পোস্টমাস্টার- তুই কী করছিস।
রতন। (দ্রুততার সাথে মুষ্ঠিবার্তালাপ যন্ত্র লুকাইতে লুকাইতে)—এখনই আপনার কফি টা বানাইতে যেতে হবে ___ হেঁশেলের—
পোস্টমাস্টার। তোর হেঁশেলের কাজ পরে হবে এখন— এক প্যাকেট বাদাম আর এক বোতল শীতল পানীয় আনিয়া দে তো।
অনতিবিলম্বে ঝোলা দোলাইয়া অতিরিক্ত একটি “কুরকুরের” থলি সহ রতনের প্রবেশ। হাত হইতে সকল বস্তু কটা লইয়া লইয়া পোস্টমাস্টার ফস্ করিয়া জিজ্ঞাসা করেন,
- “আচ্ছা রতন, তোর প্রেমের কথা কইতে ইচ্ছে করে না ? ”
- সে অনেক কথা; কতক মনে পড়ে, কতক মনে পড়ে না। পাড়ার ছেলেদের চেয়ে বেপাড়ার ছোকড়ারাই তাহাকে বেশি ভালোবাসিত, দুলে পাড়ার ষষ্টিকে অল্প অল্প মনে আছে। পরিশ্রম করিয়া যাহাকিছু রোজগার করিত সন্ধ্যাবেলায় আমার ঘরে আসিইয়া সকই ই দিয়া যাইতো, তাহারই মধ্যে দৈবাৎ দুটি-একটি সন্ধ্যা তাহার মনে পরিষ্কার ছবির মতো অঙ্কিত আছে। এই কথা হইতে হইতে ক্রমে রতন পোস্টমাস্টারের পায়ের কাছে মাটির উপর বসিয়া পড়িত। মনে পড়িত, তাহার একটি শিশুপ্রেম ছিল— বহু পূর্বেকার বর্ষার দিনে একদিন একটা ডোবার ধারে দুইজনে মিলিয়া গাছের ভাঙা ডালকে ছিপ করিয়া মিছামিছি মাছধরা খেলা করিয়াছিল, দু এক বার আরো অন্য কিছু প্রাপ্তবয়স্ক ক্রীড়া ও খেলিয়াছিলো— অনেক গুরুতর ঘটনার চেয়ে সেই কথাটাই তাহার মনে বেশি উদয় হইত।
এইরূপ কথাপ্রসঙ্গে মাঝে মাঝে বেশি রাত হইয়া যাইত, তখন আলস্যক্রমে পোস্টমাস্টার শুধু পানাহার করিয়াই সন্তুষ্ট থাকিত। রতন সকালের বাসী ব্যঞ্জন গুলা হিমায়ক যন্ত্রের অভ্যন্তরে ভরিয়া, নির্মেদ শরীর রক্ষার্তে সামান্য “লবন শর্করা” পান করিয়া, পুনরায় মুষ্ঠিবার্তালাপ যন্ত্রে মন নিবিষ্ট করিত। এভাবেই উভয়ের দিবারাত্রের নির্ঘন্ট চলিয়া যাইত।
.........ক্রমশ
****************************************
(নিজ দায়িত্বে পাঠ করিয়া মর্ম্নদ্ধার করিবেন, কারন ইহার বানান বিধিও উন্মাদীয়)
####################################################
বুধবার, ১৪ মে, ২০১৪
মঙ্গলবার, ১৩ মে, ২০১৪
ব্লাইন্ড ডেট
নখগুলোর প্রান্ত ঘষে নিয়ে হালকা নেলপালিশ দিয়েই, বৌদিকে হাঁক।
- কিরে, চেল্লাছিস কেন!
- দাও না বৌদি, ভ্রুটা একটু সাইজ করে। এখন পার্লারে গেলে, বাবা, দাদা কেও পুজোর সময় পয়সা দেবেনা।
- তা, যাওয়াটা কোথায় হবে শুনি?
- প্লিজ বৌদি, একটু বোঝার
চেষ্টা করো, আর দাদা বা বাবা কে কিছু বোলোনা
লক্ষ্মীটি । আমার সোনা বৌদি...
- হয়েছে হয়েছে, তার তেল মারতে
হবেনা,
বোস শান্ত হয়ে।
মাধ্যমিক পরিক্ষার সময়েও এতো তারাতারি কোনোদিন স্নান করেনি সে। তার উপরে
আবার বেশ করে স্যাম্পু ডলে কন্ডিসনার লাগিয়েছে। ভিজে গায়ে আচ্ছা করে , প্রায় আধা বোতল রেভলনের ম্যাডলি র্যরদেভুর বোতল উড়িয়ে, হুটোপাটা করে একটু ফাউন্ডেসন দিয়ে ব্রনের ক্ষতে প্রলেপ
ঢেকে,
হালকা মেবিলাইন কম্প্যাক্ট বুলিয়ে, ঠোটের প্রতি নজর দিল। যেমন করেই হোক কাঁটায় কাঁটায়
এগারটায় গোলপার্ক CCD পৌছাতেই হবে।
লিপস্টিক লাগালে সুন্দর করেই লাগাতে হবে, তাই জাষ্ট লিপলাইনার আর একটু স্মুজলেস কাজলের আলতো টান, ব্যাস। মনে মনে ভাবল, যা রুপচর্চা হয়েছে এতেই অস্থির।
আনারকলি স্যুটটা গায়ে গলাতে গলাতেই, ঘরের প্রশস্ত আয়নাতে বার কয়েক নিজেই নিজেকে জড়িপ করে নিল। কোনমতে জুতোটা
পায়ে গলিয়েই, ব্যাগটা বগলদাবা করে দে ছুট। পিছন
থেকে বৌদি হেঁকেই চললেন...
- বলি যাচ্ছিসটা কোথায়! গরম ভাত নেমে গেছে, খেয়ে গেলেই তো পারতিস, এক্ষুনি বাবার
কানে গেলে, আমাকেই আবার ক্যাঁচক্যাঁচ করবে
ইত্যাদি ইত্যাদি।
- উফ... বৌদি, যাওয়ার সময় না
টুকলেই নয়, তোমরা আর শোধরাবেনা...
- উঁ...... কি আমার মহারানি এলো রে, দেশোদ্ধারে যাচ্ছেন, ঢং দেখলে
বাঁচিনা। আমাদের কি আর ও বয়েস এসেছিল... বলি আসবি কখন...
কে কোথায় শোনার জন্য!! ততক্ষনে ম্যাডাম, তিন তিরিক্ষে জোড়া গির্জার বাসস্ট্যান্ডে হাজির।
এমনিতে স্বচ্ছল পরিবারের একলা মাতৃহারা কন্যা, বাবা সদ্য রিটায়ার্ড করেছেন। নিঃসন্তান রোজগেরে দাদার
একমাত্র প্রিন্সেস ছোট বোন, বৌদির ননদ কম , মেয়ে বেশি। সবে কলেজে উঠেছে। বেশ একটা প্রেম প্রেম ভাব
মনে। পাইকারি হারে কাওকে খুজছে, মনের মাপে
হচ্ছেনা একটাও।
“প্রিয়জন” বলে একটা গ্রুপে মাস খানেক হল জয়েন করেছে “ধানি লঙ্কা”। শুরু
থেকেই দেখছে “অলীক মানুষ” নামের প্রোফাইলটা গ্রুপটাকে প্রায় একাই মাতিয়ে রেখেছে।
দারুন দারুন সব হিউমারে ঠাসা চটজলদি কমেন্ট, আর অবলীলায় লিখেফেলা ভারী ভারী বিষয়ের উপর লম্বা লম্বা প্রবন্ধ। গ্রুপের
সকলেই ধন্য ধন্য করে। গ্রুপের সিনিয়র মেম্বার পরেশ ঘটক, বা এডমিন সুরঞ্জন হালদার থেকে শুরু করে হেডমিষ্ট্রেস
জয়ীতা দি,
আরেক এডমিন NRI রিমা বৌদি পর্যন্ত “অলীক মানুষকে” নিয়ে গদগদ। তার উপরে সপ্তর্ষী আর
প্রশান্ত তো রীতিমত গুরু গুরু করে অস্থির।
গ্রুপে প্রথম প্রথম ধানি লঙ্কার কেমন একা একা লাগলেও, প্রিয়জনেরা ওকে আপন করে নিতে সময় নিলেন না। তার উপরে
সাহিত্য প্রীতি আর নিজে লিখতে না পারার দরুন, লেখক মানুষদের প্রতি ধানি লঙ্কার এক্সট্রা ক্রাশ ছিল। তাই অলীক মানুষের
বন্ধু হতে সময় লাগলনা।
হপ্তাদুয়েক যাওয়ার পর, অলীক মানুষকে
ঘিরে ক্রমেই আগ্রহ বাড়তে লাগল ধানি লঙ্কার। শেষে গেল রোববার রাত্রে “করব কি করব
না” ভাবতে ভাবতে, সাহস জমিয়ে
ইনবক্সে ম্যাসেজটা করেই ফেল্লো।
- আচ্ছা আপনার নামটা বলতে পারবেন?
- অবশ্যই পারব, কিন্তু বলব কেন?
- এমনিই। আমার ইচ্ছা জেগেছে তাই
- উদ্দেশ্যহীন যেকোন ধরনের কাজকর্ম, শরীর স্বাস্থের জন্য খারাপ। আর ইচ্ছেকে একটু বশে রাখুন।
- থাক আর জ্ঞান বিলি করতে হবেনা, নাম বললে বলেন, থাকলে থাক, অতো ঘ্যাম নিতে হবেনা।
- ঘ্যাম আর আমি!! ঘ্যাম নেওয়ার হলে কি আর “অলীক মানুষ” সাজতাম ম্যাডাম..
- আমি কি সাজতে বলিছি...
এইভাবে পাক্কা আট দিন অনেক চ্যাটের পর অবশেষে অলীক মানুষের মনের বেশ
কাছাকাছি চলে এসেছে বলে আবিষ্কার করল ধানি লঙ্কা। মনের কাছাকাছি যখন এসেছে, তখন তো আর সেই প্রাচীন কালের মেয়েদের মত, লজ্জা পেয়ে, গান গেয়ে বা কবিতা লিখে “জো” নষ্ট হতে দেওয়া যায়না। সুতরাং নিজে থেকেই অলীক
মানুষের সাথে একটা এ্যাপো ফিক্স করে ফেললো।
এক্কেবারে ব্লাইন্ড ডেটিং, কেওই প্রায়
কিচ্ছুটি জানেনা একে অপরের সম্বন্ধে। কেও কারোর ছবিটুকুও দেখেনি। ধানি লঙ্কার
প্রোফাইলে একটা হার্ট সাইন, আর অলীক মানুষের
প্রোফাইল পিকচার তো বিশিষ্ট ঘটনার লাইভ টেলিকাষ্টের সাথে সাথেই পরিবর্তন হয়, প্রায় প্রতিদিনিই। গতকাল রাতেই অবশ্য মোবাইল নাম্বার
বিনিময় ঘটে গেছে, সুতরাং অকুস্থলে
আগে পৌছানো যাক, তারপরে দেখা যাবে, এমনটাই দুজনেরই ভাব।
ম্যাসেঞ্জারের নীল বোতাম জ্বলজ্বল করেই আছে ধানি লঙ্কার। ধানি লঙ্কা CCD তে ঢুকে একটা চেয়ার টেনে বসতেই ফোন এলো অলীক মানুষের।
সেও ওখানেই উপস্থিত, নুন্যতম রিস্ক
না নিয়ে,
শুধু দেখে নিল কোন মেয়েটা। সাজলে খারাপ লাগেনা
ধানি লঙ্কাকে, তার উপরে হলুদ জমিতে সবুজ জড়ির
কাজকরা আনারকলি চুড়িদার, গাঢ় সবুজ
লেগিন্স,
সাজের কথা তো আগেই বলেছি, মারাকাটারি রূপসী না লাগলেও বেশ ঝকঝকে মাজা সুন্দরী
লাগছে। দীর্ধাঙ্গী, নির্মেদ শরীর, টানাটানা মায়াভরা চোখ, নির্দিষ্ট মাপজোখের নাক ঠোঁট চিবুক। শুধু গায়েরং টা সামান্য দাবা। তবে
ওটাকে উহ্য করাই যায়।
- হাই, আমি অলীক মানুষ।
একমনে ফেসবুকের টাইমলাইন ঘাটতে ঘাটতে হঠাৎ ডাকে চমকিয়ে মুখটা উপরে তুলে
হাতটা ঈষৎ বাড়িয়ে কোনরকমে হাতের তর্জনী আর মধ্যমাটা ছুঁয়ে, একটু থতমত খেয়ে সত্যি নামটাই বলে ফেলল...
- হাই, আমি রঞ্জু
- রঞ্জু? ছেলেদের নাম?
- (মনে মনে বাবা মায়ের উপর ভীষন রাগ করে) আমার নাম রঞ্জাবতী।
- শুধু রঞ্জাবতী!
- (এবার একটু রাগই হল রঞ্জুর) আচ্ছা বাবা, আগে জানলে কোষ্ঠীটা সাথে করে আনতাম, আমার নাম রঞ্জাবতী গড়গড়ি, বাবার নাম
নকুলেশ্বর গড়গড়ি, মায়ের নাম
আশালতা দেবী... আর কিছু??
কথা কটা এক নিশ্বাসে বলেই থামল রঞ্জু। যে দুঃখে ধানি লঙ্কা নাম নিয়েছিল, ঠিক সেই ব্যাথা স্থানেই আঘাত!! বড় মনে লাগল রঞ্জুর।
ওদিকে অলীক মানুষ মুখে “গড়গড়ি গড়গড়ি” বিড়বিড় করতে করতে সানগ্লাস পড়া চোখে একমনে
নিরিক্ষন করছিল রঞ্জুকে।
এতোক্ষনে রঞ্জুর হুশ হল, সে এবার চেয়ে
দেখল সামনের অলীক মানুষটাকে! এটা কে? চোখ মুখ হাঁ হয়ে গেল।
মাথা থেকে দেখা শুরু করল, চাঁদিতে চুলের
অবশিষ্টাংশ টুকু বর্তমান, মুখে গোঁফদাড়ির
জঙ্গল,
বোধহয় বিড়ি সিগারেটে ছ্যাকায় পোড়া, পুরু কালো ঠোঁট। ঘাড়ে গর্দানে সমান। এটুকু তবুও ঠিকিই
ছিল,
বেশ স্মার্ট। এর পরেরটুকু যে কোন কাওকে রীতিমত
অসুস্থ করে দেবার পক্ষে যথেষ্ট । বাঁহাতে ঘড়ি, ডান হাতের কড়ে আঙুলে একটা সবুজ পান্না সোনায় বাধানো। চোখে মোটা কালো
ফ্রেমের ফ্যাসন চসমা। এক্কেবারে গোলগাল রবিঠাকুরের দামোদর শেঠ মার্কা চেহারা, ধুতির বদলে হাফ শার্ট আর জিন্স পরে আছে। ভুঁড়িটা মনে
হচ্ছে এক্সট্রা একটা জুড়ে রাখা লাগেজ।
- তুমিই অলীক মানুষ?
- হ্যাঁ, কোন সন্দেহ!
- না মানে, একটা জামার ভিতর তো জনা চারেককে
ভরে এনেছো মনে হচ্ছে?
- কি আর করব বলো!
- এতো মোটা কোন মানুষে হয়!! কত ওজন?
- দূর সাধ করে কি কেও এমন হয়, এই আপাতত ১১৩ কেজি
এভাবেই কথাবার্তা এগিয়ে চলল। উৎসাহ আর নানা প্রগলভতার ভীরে রঞ্জু অলীক
মানুষের আসল নামটাই শুধাতে ভুলে গেছে। মানুষটি মোটা কদাকার কাদাখোঁচা মার্কা ঠিকিই, কিন্তু ওই দশাশই চেহারাটার আড়ালে থাকা একটা নরম প্রেমিক
মনের মানুষের সন্ধান পেল রঞ্জু। ওয়েটার ওর্ডার নিতে এসে শুধালো- অর্ডার প্লিজ, দুজনেই নিজের নিজের পছন্দের অর্ডার করে আবার গল্পে মেতে
উঠল,
মাঝে একবার আসল নাম শুধালেও, অলীক সযত্নে বিষয়টা এড়িয়ে গেল।
ঘন্টা খানেক পর বিল মেটানোর জন্য ওয়েটার একটা চামড়ার মলাটওয়ালা ফাইল আনলে, অলীক মানুষ তার মানিপার্স থেকে একটা ডেবিট বা ক্রেডিট
কার্ড গুজে দিয়ে এবার উঠার প্রস্তুতি করতে লাগল।
দুজনেরই ফোন এতক্ষন সাইলেন্ট মোডে ছিল, অলীক মানুষ ফোনটা খুলতেই কোন জরুরী ফোন নাম্বারের মিসকল চোখে পড়াতে , চোখে চোখেই রঞ্জুর কাছে একটা এক্সকিউজ মি- চেয়ে নিয়ে একটু দূরে কথা বলতে গেল। এরই মাঝে ওয়েটার বিল
সমেত ডেবিট কার্ডটি ফিরিৎ দিয়ে গেছে। অলীক মানুষ আসতে লেট করছে দেখেই রঞ্জু চামড়ার
ফাইলটা নিয়ে নাড়াচারা শুরু করে দিল। হঠাৎই কিছু একটা দেখে প্রায় অক্কা পাবার দশা
রঞ্জুর।
এ যে টকের জ্বালায় দেশ ছেরে তেঁতুল তলায় বাস। এক গড়গড়ির অত্যাচারে রঞ্জাবতী
ধানি লঙ্কা হয়েছে। আজ নতুন স্বপ্ন নিয়ে এসেছিল এখানে। টাকলু, মোটা, গোঁফ দাড়ির
জঙ্গল পর্যন্ত সবটা মেনে নিয়েছিল। কিন্তু এটাকে মানিবে কি করে!
কার্ডের উপরে বড় বড় হরফে লেখা ছিল “BIPAD TARAN GUCHAIT”
শুভ, অর্ঘ্য, আদিত্য না হোক একটা চলনসই তো হতে হবে!! রঞ্জু যত ভাবে
ততই মুষড়ে পরে। আগামীতে যে মাথায় বিপদ আর পিছনে গু, বাকিটা জীবন ওকেই তারিয়ে নিয়ে বেরাবে !! রঞ্জু আর কিছু ভাবতে পারছে না, মাথা ভোঁ ভোঁ করছে।
বৃহস্পতিবার, ৮ মে, ২০১৪
উন্মাদ নামা ~ ১২
রবিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০১৪
আমরা স্বাধীন?
*************
ঘটনার সুত্রপাত একটু অন্যভাবে হলো। এক অতি ঘনিষ্ট বন্ধুর সাংসারিক সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে আমি আর আমার আরেক ঘনিষ্ট সহচর রামচন্দ্র, বর্ধমানে কুচুট বলে এক স্থানের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলাম। ঝড় বৃষ্টির দিন আবার যখন তখন ভুমিকম্প হচ্ছে। তাছারা বাড়ি ফিরে “আত্মা”র উপর একটা জাম্পেশ করে রচনা লিখবো বলে মনে মনে তার ভাঁজছিলাম।
পথি মধ্যে ইসলামপুর নামক এক গ্রামে, সেই সুত্রেই গমন। গ্রামে যাবার রাস্তা টা, পাকা রাস্তা থেকে হঠাত সরু হয়ে গেছে MGNRSY এর রাস্তায় এসে, আর এটাও জীর্ন হতে হতে ৮-১০ কিলোমিটারের মাথায় এক্কে বারে কাঁচা আল পথে পরিনত হয়েছে। অনেক কষ্টে আমাদের ড্রাইভার কালু, সে পথ অতিক্রম করে প্রায় ১২-১৫ কিলোমিটার পর গন্তব্যে পৌছালাম, আশ্চর্য হবার তখনো অনেক বাকি ছিলো। এই সকল গ্রামে সাধারনত মোটরবাইক ছাড়া কোন গাড়ি ঢোকে না। তাই বাচ্চা বা বয়স্কদের চারচাকা গাড়ির প্রতি একটা উৎসুখ থাকে, বাচ্চারা তো পিছনে উড়ে চলা ধুলোর সাথে পাল্লাদিয়ে দৌড়ায়। আজকেও দৌড়াচ্ছিলো।
গন্তব্যের একেবারে দোরগোড়ায় আমার হাল ফ্যাসানের সেডান কার পৌছাতে পারলো না, রাস্তা না থাকার দরুন। একটা মোড়ের মাথায় যখন দাড়ালাম। ততক্ষনে আমার দুধসাদা গাড়ি ধুলো আর কাদাতে মোটামুটি পিঙ্গল বর্ণ ধারন করে তার পূর্ব রুপ হারিয়েছে। গাড়ি থেকে নামতেই বেশ কিছু ছেলে চায়ের দোকান থেকে সেচ্ছাসেবকের কাজ করার জন্য দৌড়ে কাছে চলে এলো। গৃহ কর্তার নাম বলাতে , অতি উৎসাহে একটা দঙ্গল সামনে আমাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে চলল।
তাদের ই মধ্যে মোমিন বলে একটা ছেলের সাথে পরিচয় হলো। রাস্তা নেই কেন জিজ্ঞাসা করাতে , খুব তাচ্ছিল্যের সুরে উত্তর দিলো “শালো দের খেই নিবার পর থাকিলে তো দেবে, প্যেত্যেক সময় ভোটের বাবুরা যখন আসে, তখন বর্ষা, নৌকায় চড়ে আসে, তাই ওরা রাস্তা দেখতি পান না। তবে আমাদের কুনু অসুবিদা নেই, ছোটো থেকে একানেই মানুষ তো” । সরল স্বীকারোক্তি।
যেতে যেতে দেখলাম পুকুর ঘাটে সব ইলেকট্রিকের পোষ্ট গুলো শোয়ানো, গ্রামের ছেলে বউরা স্নান করা থেকে কাপর কাঁচা সবই করছে। ইলেকট্রিকের পোল এখানে কেন, জিজ্ঞেস করতে মোমিনের আবার উত্তর , “আর বোলো নি বাবু, কারেন দেবে বলে সেই কবে সরকার থেকে এগুলো পুতে দিয়ে গেছিলো, আমার ই বয়েস এই ধরো ২০ হতে চল্লো, তো আব্বারা সবাই মিলে ওই পুকুরে নাবিয়ে দিয়েচে, কিচু তো একটা কাজে আসচে, আমরা তো আবার মাজে ভেঙে নিয়ে ফুটবলের তেকাঠির বাঁশ বানিয়েছি” ।
কারেন্ট আছে না নেই সেটা জিজ্ঞাস করার সাহস পেলাম না। “হ্যারে তো কত ঘড়ের বাস তোদের এখানে??” , জবাবে পিছন থেকে একজন বলল, তা ধরুন গিয়ে ইসলামপুর-আকবপুর-নিমের-খুজারি-কোদপাড়া মিলে হাজার পনেরো লোকের বাস তো হবেই। মনে মনেই ভাবলাম, ১৫০০০ লোকের বাস, রাস্তা নেই – ইলেকট্রিক নেই!!!! এই পশ্চিমবঙ্গেই!! হায় রে স্বাধীনতা!!
হ্যারে তো মোবাইল চার্জ কোথায় দিস?? না এখানে কারো মোবাইল ই নেই?? আমি শুধালাম। মোমিন বললো,- নেই মানে? বরং বলো একেকজনের কটা করে আছে, একোন তো সব বাড়িতে ২-১ জন একোন কেরল গুজরাত দুবাই এ থাকে গো, টেকার গাদা সবার কাছে। ওই সকালে বাজারে গিয়ে চাজ দিয়ে নিয়ে আসে, ছোরা ছূরিরা তো আবার চাইনা মোবাইল নিয়েচে, ২-৩ টে করে বেটারি।
অভিষ্ট গন্তব্যে পৌছে মিনিট দশেকের একটা সাক্ষাতপর্ব সেরে নিয়ে, সদর দিয়ে বেড়োতেই একটা জটলা চোখে পড়লো। পাশ কাটিয়ে এগিয়ে যেতেই – একজন মধ্যবয়স্কা বৃদ্ধা পিছু থেকে ডাক দিলেন, “এ বাবু, সব লিয়া হয়ে গেচে”। আমি কিছু টা হকচকিয়ে গিয়ে বললাম, আ...আমি তো কিছু নিতে আসিনি। এই এরসাদ চাচার সাথে একটু দেখা করতে এসেছিলাম। আবার বললেন “তো আমাদের নিয়ে যান না কেনে”। আমি আমল না দিয়ে সামনের দিকে পা বাড়ালাম। তার পর খুব করে কাকে বা বলা ভালো কাদের উদ্দেশ্যে, ঐ মহিলা গালি দিতে লাগলেন, উচ্চশ্বরে বিলাপ করে।
ব্যাপার টা আরো পরিষ্কার হলো যখন গাড়ির কাছে পৌছালাম, দেখি বেশ কিছু গ্রাম মেয়ে আমার গাড়ি প্রায় ঘেড়াও করে রেখেছে। সকলের ই বয়স অই ১৪-২০ এর মধ্যেই হবে। কিছুটা ঘাবড়ে গিয়ে, একটু এদিক ওদিক তাকাতেই আমার ড্রাইভার, কালু কে ক্লিষ্ট অবস্থায় আবিষ্কার করলাম। আমি ওকে ডেকে একটু খাটো গলায় বললাম, এরা কারা?? এক্সিডেন্ট করেছিস নাকি?? কালুর বেদনাতুর জবাব, “এরা সব পুবে খাটতে এসেছে, আমন ধান কাটার মুনিষ। ঝাড়খন্ড মেদনিপুর, মুর্শিদাবাদ আসাম থেকে সব এসেছে”।
আমি কিছুটা বিরিক্ত হয়ে বললাম, তো আমার আছে আবার চাঁদা টাদা নেবে নাকি?? দশ বিশ টাকা দিয়েই তো ঝামেলা বিদেয় করতে পারতিস। কালুর উত্তরটা আসা করিনি। বলল, “ওরা কাজের জন্যে এসেছে, তোমার খামারে ওরা কাজ করবে। এখন তুমিই ওদের বিদেয় করো”। যাই হোক, আমার তো জমি সব ভাগে দেওয়া আছে, আমার নিজের কোন চাষ নেই, এখানে এমনিই এসেছিলাম... ইত্যাদি বলে, ওদের হাতে ৫০০ টাকার একটা নোট ধরিয়ে বললাম , এগুলো ভাগ করে নিস, ৯-১০ জন ছিলো। ওরা মোটেও খুশি না হয়েই সরে দাঁড়ালো। এগিয়ে চললাম কুচুটের দিকে, এখান থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার।
যেতে যেতে রামচন্দ্র বললো, কাকা এরা কেন তোমার কাছে এসেছিলো বলো তো?? বললাম কেন? বলল, তোমার দামি গাড়ি দেখে, বড় গেরেস্ত বাড়ি কাজে যাবার বাসনায় এসেছিলো। এরা ওই সুদুর দেশ থেকে কেউ কেউ ৪-৫ দিন আগে, এক্কেবারে অক্ষম বৃদ্ধ ছাড়া পুরো ফ্যামিলি এই বর্ধমান জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পরে, রোজগারের আশায়। জিজ্ঞেস করলাম, কার বাড়ি আসে? এদের চেনাজানা কে আছে? রাম বলল , কেউ নাই কাকা, এমনিই এরা আসে, বিভিন্ন বড় গ্রামের মোড়ের মাথায়, বট তলায় বা বাসস্ট্যন্ডের বিশ্রামাগারে, কারো বৈঠকখানার বারান্দা- পোড়ো বাড়ী, যেখানে সেখানে এরা বসে থাকে, ১ দিন, ২ দিন ৩ দিন। তার পর কোন গেরেস্তর সাথে চুক্তি হয়ে গেলে, তাদের বাড়ির গোয়াল ঘরের পাসে অস্থায়ি ত্রিপল বেঁধে আগামি ১৫-২০ দিনের ঠিকানা হবে, তারপর মজুরি আর সিধের চাল নিয়ে যে যার দেশে ফিরে যাবে। আবার বললাম এতে করে পোষায়?? ও বলল, নিশ্চই পোষায় না হলে আসে কেন!!
তাছারা ওই আছে তো, আমি বললাম কি?? ওই গো। যার জন্যে ওই ছুঁড়ি গুলো তোমার কাছে এসেছিলো।
- কি জন্য রে?
- ভালো বাবু পেলে সুন্দুরীদের খাতির একটু বেশী হয়, তাহলেই খেপে ৫০০-১০০০ টাকা বেশী রোজগার। খেয়াল করো নি, যে ওরা কেমন সেজেগুজে ছিলো!!
- না রে, কই তেমন তো কিছু খেয়াল করিনি। আর আমার ও সব দিকে নজর ও ছিলো না, তোর যেমন বিশাক্ত নজর।এবার তোর বিয়ে না দিলেই নয় দেখছি।
- আরে না গো, ওরা কি আর তোমার আমার বাড়ির মেয়ে বউ দের মত সাজবে, না সে সমর্থ ওদের আছে?? ওরা হাতে কাঁচের চুড়ি পরেছিলো, চুলে খোপা বেধেছিলো লাল কৃষ্ণচূড়া দিয়ে, ১ -২ জন তো আবার ঠোঁটে লিপস্টিক ও দিয়েছিলো। আর ওই মেয়ে মানুষ টা তো এদের কে ই গাল দিচ্ছিলো।
- কেন রে?
- এদের জন্যেই নাকি ওরা শাঁসালো বাবু পাচ্ছে না। বুড়ি হয়ে যাচ্ছে না।
রামচন্দ্র আরো অনেক কিছুই বলছিল। আমার আর সে দিকে মন ছিলো না। ভাবছিলাম, এই কি ৬৮ বছর বয়স্ক আমাদের স্বাধীনতা!! এ আমাদের কেমন অর্থব্যাবস্থা?? এতো সরকারি প্রকল্প, এতো উন্নয়নের বন্য, আচ্ছে দিনের প্রতিশ্রুতি। সব মিথ্যা। পৌরসভা নির্বাচন, IPL, মোদীর মেট্রো যাত্রা, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ঋণ নীতি, নেপালে প্রাকৃতিক বিপর্যয়, রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের সংখ্যা--- সব মিথ্যা।
পেটই শুধু সত্য। আর খিদে, ভাতের খিদে। আজ ও মানুষ কে কুকুর বেড়ালের মত অন্য মানুষের মত দুয়ারে দুয়ারে ঘুড়ে বেড়াতে হয়, কাজের জন্য। খোঁয়াড়ের মধ্যে শুতে হয়। নির্লজ্জের মত সুন্দরী সাজতে হয়। মজার বিষয় হলো এই কাজ করতে আসা মানুষ গুলো নিজেদের মানুষ ভাবতে ভরষা হয় না, আর প্রায় অধিকাংশ গেরেস্ত এদের মানুষ বলে স্বিকার করে না। কারন এরা তো মুনিষ।
এরা জানে!! স্বাধীনতা কি?? মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধই হোক বা আমেরিকার বিদেশ নীতি বা আমাদের এই ভার্চুয়াল দুনিয়া, এরা হয়ত নাম ই শোনেন নি। কেও শুনে থাকলেও সেটা বড়লোকের খেয়াল ব্যাতিত আর কিছু এরা ভাবতে পারবে না। সর্বগ্রাসী পেটের তারনায় এরা ছুটে বেড়াচ্ছে, এদেশ থেকে ওদেশ। এদের জন্য বিমা নেই, এদের জন্য কেও অনশন করে না, এদের ইউনিয়ন নেই, হরতাল নেই, বুদ্ধিজীবি-মোমবাত্তি- ফি সন্ধ্যায় টিভি চ্যানেলে কুকুর কেত্তন। কিচ্ছু নেই। তবে এরা স্বাধীন দেশের নাগরিক। এনারাও গনতন্ত্রে বাস করেন।অনেকে আবার ভোট নাকি দেন, কাজ না থাকলে।
অন্ধকার হয়ে আসছিলো, ঘন কালো করে মেঘ করেছে... তাই মুখ লুকাতে কষ্ট করতে হলো না। এসি চলছিলো বলে আগেই জানালার কাঁচ তোলা ছিলো। এসির ঠান্ডা হাওয়াতেই বোধহয় চোখে একটু জল এসেছিলো। আমার আবার ঠান্ডায় এলার্জির ধাত আছে কিনা, আসলে সুখী মানুষ তো!! ওরা হয়তো এর তার বাড়ির দাওয়াত কোনমতে মাথা গুঁজেছে। আচ্ছা, ওই মেয়ে গুলো কি মনের মোতো কোন বাবু পেল?? আর ওই মধ্যবয়সী মেয়েমানুষ টা?? আর ওদের সাথে থাকা বাচ্চা গুলো, যারা তাদের বাবা মায়ের নিয়ে আসা যথসামান্য মালপত্রের বস্তার উপরে বসে, আদতে সেটা পাহাড়া দিচ্ছিলো?? সব কেমন এলোমেলো হয়ে গেলো...............
দু এক ফোঁটা বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলো, এক্ষুনি ওরা ঝমঝমিয়ে এসে পরবে, ওরা তো স্বাধীন। ওদের গনতন্ত্র লাগেনা। বৃষ্টির জলে রাস্তার সমস্ত ধুলো কাদা ধুয়ে আরো নিকশ কালো অজগরের মত শুয়ে রয়েছে। স্বাধীনতা আরো নতুন নতুন পাঁকের মাঝে রোজ একটু একটু করে ডুবে যাচ্ছে। রামচন্দ্র তখন ও কিছু একটা বলেই চলেছে। দু ধারে সোনালী ধানের ক্ষেত ওই দূরে দিগন্ত কে স্পর্শ করেছে। গাড়ির সাদা রঙ টা নিশ্চই এতোক্ষনে আবার ফিরে এসেছে।
মোবাইলের ঘন্টিতে, হঠাত চকিতে ঘোর কাটলো, উইন্ডস্ক্রিনে বৃষ্টির ধারা প্রচন্ড ক্রুদ্ধতার সাথে করাঘাত করছে। ওয়াইপার গুলো যেন “ওদের” মত একবার এদেশ আর ওদেশ করে চলেছে, নিরন্তর ভাবে। কুচুট ও এসে পরব খানিকক্ষণের মধ্যেই। এর মধ্য কালু বাবা দেখি মিউজিক সিষ্টেমে গান লাগিয়েছে......
“ভগবান হ্যায় কাহা রে তু......” কে জানে ইনি স্বাধীন কি না!!!
তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না
⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...
-
(১) জাতীয় ডিম্ভাত দিবস ১৯৯৩ সালের ২১শে জুলাই এর জমায়েত কী উদ্দেশ্যে হয়েছিলো জানেন? তোলামূলের রাজ্যে না জানাটাই আপনার অধিকার। ভোটার তাল...
-
ছোটবেলায় বাবা বলতেন "শাগ খেলে বাঘের বল"। যদিও তিনি ওটাকে শাকই বলতেন আমরা কচি কানে বাঘের সাথে মিলিয়ে শাগ শুনতাম। এহেন পরিস্থ...





