বুধবার, ৮ আগস্ট, ২০১৮

অলবিদা মুঘলসরাই



১৯৬৮ সাল, রাত্রি প্রায় ৩:৩০ মিনিট, মুগলসরাই স্টেশনের ইয়ার্ডে লাইনের প্রায় ১৫০ গজ দূরে, ১২৬৭ নং বিদ্যুত স্তম্ভের প্রায় ৩ (তিন) ফুট দূরে লিভার ম্যান 'ঈশ্বর দয়াল' পড়ে থাকা একটি লাশ দেখতে পেলেন। তিনি সহায়ক স্টেশন মাস্টারকে এই সংবাদ পাঠালেন।
প্রায় পাঁচ (৫) মিনিট পরে সহায়ক স্টেশন মাস্টার ঘটনাস্থলে পৌঁছালেন। তিনি তার রেজিস্টারে রেল লাইনের ধারে পড়ে থাকা এই ব্যক্তির বিষয়ে লিখলেন- 'অল মোস্ট ডেড'।
এই লাশ ভারতীয় জনসঙ্ঘের প্রথম অধ্যক্ষ 'পন্ডিত দীন দয়াল উপাধ্যায়ের' ছিলো।
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৮ সালে সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা চিন্তা করে ভারতীয় জনসঙ্ঘ তাদের ৩৫ জন সংসদীয় দলের সদস্যদের একটি বৈঠক দিল্লীতে ডেকেছিল।
একদিন পূর্বে ভারতীয় জনসঙ্ঘের অধ্যক্ষ পন্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় লখনৌতে ছিলেন। কিন্তু উনি দিল্লী যাওয়ার পরিবর্তে কোন অজ্ঞাত কারণে দিল্লী-হাওড়া এক্সপ্রেসে উঠে পড়েন এবং হাওড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। আর মুগলসরাই স্টেশনের কাছে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
CBI দুইজন আরোপীকে শনাক্ত করে এবং তাদের জবানবন্দী আদালতে পেশ করে। এই বয়ানে অপরাধীরা স্বীকার করেন যে, পন্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় চুরির বিরোধিতা করছিলেন, তাই তাকে ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু 'পন্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের' সামনের আসনে বসে থাকা সহযাত্রী 'এম. পি. সিং' -এর বয়ানে এমন কোনোও ঘটনার কথা উল্লেখ নেই।
আদালত তার রায়ে শোনালেন যে, দুইপক্ষ কেউ এমন সাক্ষী বা প্রমাণ হাজির করতে, আদালতে পেশ করতে পারেননি যে যাতে এই মামলার সঠিক বিচার করা যায়। সাক্ষীর অভাবে দুইজন হত্যার অপরাধীকে আদালত মুক্ত করে দেন।
পন্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের পরে অটল বিহারী বাজপেয়ী ভারতীয় জনসঙ্ঘের অধ্যক্ষ পদে আসীন হোন, তারপরে লালকৃষ্ণ আডবাণী।
'বলরাজ মোধক' তখন এই দুইজনের প্রতিদ্বনদ্বী ছিলেন। তিনি এই দুইজন নেতার নিকটে ভারতীয় জনসঙ্ঘের উপরে RSS -এর প্রভাব ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়ে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। তৎকালীন অধ্যক্ষ 'লালকৃষ্ণ আডবাণী' পার্টি বর্হিভূত কাজ করার অপরাধে 'বলরাজ মোধক'কে ভারতীয় জনসঙ্ঘ থেকে বহিষ্কার করে দিলেন।
যে পার্টি 'ভারতীয় জনসঙ্ঘের' সংবিধান 'বলরাজ মোধক' লিখেছিলেন তাকে সেই পার্টি থেকে বহিষ্কার করে দেওয়ার পরে তিনি বাগযুদ্ধে নেমে এলেন। তিনি দীন দয়াল উপাধ্যায়ের মৃত্যুকে পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যা বললেন। আর এই হত্যার জন্য 'নানাজী দেশমুখ' এবং 'অটল বিহারী বাজপেয়ী' দায়ী বলে বললেন।
আজ সরকারি প্রচেষ্টায় মুগলসরাই স্টেশনের নাম পরিবর্তন করে দীনদয়াল উপাধ্যায় নাম করে দেওয়ার পিছনে ব্যাস এটুকুই ইতিহাস। দীনদয়াল উপাধ্যায়ের সঙ্গে শুধুমাত্র এটুকুই সম্পর্ক রয়েছে মুগলসরাই স্টেশনের।
মুগলসরাই স্টেশনের নাম যদি মুঘলদের নামে না থাকতো তবে পন্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের নামের সঙ্গে 'মুগল' শব্দও জুড়তো না। এই মুগলসরাই স্টেশনের নাম পরিবর্তন করতে নাকি প্রায় ১০০ কোটি টাকা খরচ হবে বা হয়ে গেছে!
যাই হোক, মোদী জী আর যোগী জীর এই পদক্ষেপের ফলে ঐ স্টেশনে সকল ট্রেন এবার সঠিক নিয়মানুবর্তিতা মেনে চলবে। পন্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের আত্মা এতোদিন এইসব করতে বাধা প্রদান করতো, সেটা আর হবে না। ট্রেন পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে যাবে। আর যাত্রীরা যে স্টেশনে নামবেন সেই স্টেশন আসার এক মিনিট পূর্বে আসন পেয়ে যাবেন।
সবাই আনন্দ উৎযাপন করুন।
ভারতে মুসলিমদের রাজত্ব প্রায় ৬৫০ বছর ধরে চলেছিল। তাদের যদি কোনোও স্মৃতি মুছে ফেলার ইচ্ছা থাকতো তবে আজ না থাকতো অযোধ্যা, না থাকতো হাজার ঐতিহাসিক মন্দির, না থাকতো খাজুরাহো, না থাকতো অজন্তা-ইলোরা!

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...