শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১২

উন্মাদ নামা ~ ০৭

স্মৃতি সততই সুখের হয় না। কখনো কখনো তা চরম দু:খের ও হয়। এখন যার ভাগ্য যেমন। দু:খ সর্বস্ব যার জীবন, তাকে দু:খের মাঝেই সুখের ঠিকানা খুজতে হয়।


যে জিনিস একবার হারায়, শত চেষ্টা তেও তা খুঁজে পাওয়া যায় না। এটাই বাস্তব সত্য। কেউ বেঁচে থেকে প্রায়শ্চিত্ত করে, কেও মড়ে গিয়ে শান্তি তে বাঁচে।



চরম ভালোবাসা না থাকলে সত্যিই কি ঘৃনা করা যায়?? অন্তত মন থেকে??

সুখ..........


পেলে পূর্নতা.... না পেলে কাব্য। তা এক অন্য সুখময় পুর্ণতা। গরলবানী ইচ্ছাধীন হয় না। কষ্ট দেখতে পাওয়া আর কষ্ট অনুভব করার মধ্যে আকাশ ও জমীনের ফারাক।



এতো বড় নরক কারা ভর্তী করবে!! যদি দেশে পাপাচার না হয়?? তবে সেটাই একমাত্র স্বর্গের বিকল্প নয়, এই সুন্দর মুহুর্ত গুলো.... আমরা যাদের কেনা গোলাম। অন্যতম বিকল্প।



কান্না হাসি.... হা হা হা হা.... ও ও ও ও.... একটু সুসংবদ্ধ করে নিলেই যা ইচ্ছা তা ই করা যায়। কেউ শোকে কাঁদে, কেউ সেটাও পারে না। সে পাথর হয়ে গেছে যে। কোন যাদুদন্ডই তাকে আর জাগানোর ক্ষমতা রাখে না। শুধু পর্বত হতে চাই। অনেকে বাসা বাধুক, মাথায় হিমবাহ জমুক, নিচে ঘিরে ধরা মেঘের রাশি। নদী প্রবাহিত হোক। অগুন্তি।



একদিন কালের নিয়মে ক্ষয় হবে। ওই নদী গুলোই তো কান্না। মেঘ গুলো জমে থাকা দলা পাকানো অভিমান, ক্ষোভ, নিজের উপর অত্যাচারের ফসল।


বন্যা সাময়িক সব কেরে নেয়, দাবানল সব ছারখার করে দেয়, খরা দূর্ভিক্ষ কে নিমন্ত্রন করে। কিন্তু নিজে জ্বলে একটা সুন্দর ভবিষ্যত আগামীকে দান করে যায়।


ক্ষমা না করতে পারলে প্রেমে সফল হবো কি করে!! অস্ফুটবাক...... জনান্তিক জানে। সে সব আলেয়ার ঘুনসি তে বাধা। আলোর রানার ছুয়ে চলেছে। সময় মামরি ফেলবে। নতুন সবুজেরা উল্লাস করবে। ক্ষত শুকিয়ে যাবে। আবার ফুল ফুটবে, রঙীন ফুল। রসালো ফল। আবার প্রান ছুটবে দুর্বার গতিতে।



মনের বয়য় বাড়ছে... এটা যখন বাড়ে দুম করেই বাড়ে। ভারে নুজ্ব হয়ে গেছি। ক্লান্ত......



আমি সফল। দাড়িপাল্লা নিখুঁত। কমবেশি হবার জো মোটেই ছিলো না। রত্নহার সজ্জিত, বর্ম পরিহিত। অস্ত্র ত্যাগ করেছি। হনহনিয়ে বনবন করে উড়ার সময় আগত, দ্বারপ্রান্তে.....



এটাই স্বার্থকতা।


উন্মাদ হার্মাদ

বৃহস্পতিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১২

উন্মাদ নামা ~ ০৬

জীবনটা এক অদ্ভুত অন্ধকারের সমাহার। সারাক্ষন সেই আলোর খোঁজেই ছুটে চলা। আশ্চর্য সব সম্পর্কের জটিল সমীকরণ। কে যে কাকে চাই, আর কিভাবে চাই বোঝা বড্ড মুসকিল। অন্যকে বোঝার চেষ্টা করবো কি, নিজেকেই নিজে চিনতে পারিনা মাঝে মাঝে, কে আমি?? কি আমার উদ্দেশ্য??


তাই অন্যকে জানার বৃথা চেষ্টাও করিনা। কিন্তু যখন দেখি যে একটাই ভয়, আর তার প্রতিক্রিয়া টাও একই। তখন অনুভুতি গুলো ও হরতাল ডেকে বসে। কেমন যেন স্থবির হয়ে যায়। কাঁদতে গিয়েও হেঁসে ফেলি।



আচ্ছা যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে পিছু হটতে হয়, সেটা যুদ্ধের ই অঙ্গ, পলায়ন টা অবশ্যই নয়। জীবন টা ও যুদ্ধ ই। বা তার থেকেও বেশি। সেখানে আত্মহত্যা করাটা ই সব থেকে গৌরবের কি!! তাতে যত দু:খ ই পাই না কেন!! বা উচ্চারন করা টা ও অন্যায়, খুব খুব অন্যায়।


আর পলায়ন কারি কে এক কথায় ঘৃনা করি। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এটা এটা সবটাই আমার আভ্যন্তরীণ। একটা ফুসফুস, সে বলছে আমি আর নিশ্বাস নেবো না, আরে হৃদয় তাহলে বাঁচে কি করে??


সব স্বার্থপর। আসলে কিছুতেই নিয়িন্ত্রন নেই। সব যে ভালোবাসার ক্লোরোফর্মে অবশ।



সেই একই কথার পূনরাবৃত্তি, নিজেকে রেকগনাইসড করা মুসকিল হয়ে যাচ্ছে।



একটু বাতাস পাওয়া যাবে??? ধার.......



একটু শ্বাস নিতাম..... গলা বুজে আসছে। অভিমানেরা অবরোধ করেছে। রক্তও চাক্কা জ্যামের হুশিয়ারি দিয়ে রেখেছে। পাকস্থলি VRS নেবে বলে বায়না ধরেছে। কিন্তু চোখ সেই শিবরাত্রির সলতের মত স্বপ্নের জাল বুনে চলেছে।



যার জন্য, এই বাতাসের খোঁজ.... একটা দমকা বাতাস। যা কিছু খারাপ সব উড়ে পালাবে।এক পলকে। পারলে সাথে আমাকেও। কোন অনির্দিষ্ট ঠিকানায়। তার শান্তির ক্রোড়ে।



সুদুরে.........


উন্মাদ হার্মাদ 

বৃহস্পতিবার, ৮ নভেম্বর, ২০১২

উন্মাদ নামা ~ ৫

গত কয়েকদিন ধরেই মান ও সম্মান নিয়ে বেশ কয়েকটা লেখা পরেচে। আমাদের এক বিশেষ ঠেকে।


যদিও আমার ওটা সাবজেক্ট নাই বলে, তেমন উৎসাহিত হইনি।



আমার তো শালা, সম্মান ই নেই, যে অসম্মানিত হবো। আমার তো...


বাপ বললে মোদির ভাই (এক্ষেত্রে আপনি মনে মনে যা খুশি বসাতেই পারেন), আনন্দের আর সীমা নাই।


লোকে জন্মাবার পর ছ্যাবলা হয়, আমি মায়ের পেট থেকেই ত্যাদোঁড়।আমার লেখা বা মন্তব্যে কারোর খারাপ কিছু লাগলে এক টাই কাজ করবেন, খুবই সহজ আর রেডিমেড, ২ মিনিটস নুডলসের মতো:-



একটা গ্লাস নিন, একটু ঠান্ডা জল ঢালুন, হালকা ইসব গুলের ভুষি বা কায়মচূর্ন মিসিয়ে নিন। এবার মানসিক ভাবে নিজেকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করুন। মনে রাখবেন বাঙালীর যুদ্ধ, আধাঘন্টার বেশী সময় লাগার কথা না।



মিনিট পনেরো পর কমোড ওয়ালা প্যানে গিয়ে টাইম নিয়ে বসুন, সঙ্গে করে পকেটে ২ টো মাড়ি বিস্কুট  আর এক বোতোল ফ্রিজের জল। অবশ্যই ইজের খুলে বসবেন। ব্যাটা ছেলে হলে, আগে বিড়ি টা শেষ করুন। মেয়েরা শ্বাশুরী বা ননদের নাম বারবার  নিলেই ও কাজ টা ত্বরান্বিত হবে।



এবার নেট অন করে ফেসবুক অন করুন। আর তার আগে উইকিপিডিয়া তে গিয়ে একবার নিজের খিস্তির স্টক টা ঝালিয়ে নিন। আর তার সাথে হিমেসের নিজের গাওয়া গান চালিয়ে দিন। উপায়ান্তরে হানি সিং ও চলবে।



কারন বলছি।



হিমেসের গান শুনলেই, মুখে অটোমেটিক বিকৃতি শুরু হয়ে যাবে, যেটা আপনাকে কোঁথ পারতে সাহায্য করবে। এবার নিম্নচাপের টুপটাপ বর্ষন শুরু হয়ে গেলেই, ওই বিকৃতি মুখের যাবতীয় এক্সপ্রেশন এক্সটেন্ডেড করুন। আমার লেখায় বা মন্তব্যের প্রত্তুত্তর গুলো যাবতীয় কাঁচা গালাগালি সহ পরিবেশন করুন সমস্ত রেভুলিউসন সহ।। কারন ততক্ষন আপনার উদরলঘুতার কারনে মনেও হালকা প্রাশান্তি ভাব বিরাজমান।



এবার বিস্কুট দুটো খেয়ে নিন, একটু ঠান্ডা জলো গলায় ঢালুন। আবার বেগ টা ফিরে পাবেন।



আবার এক প্রস্থ মন কে সুখ দিয়ে নিন, আমায় গাল দিয়ে, অন্য অনেকের প্রতি যত্তো  ও যাবতীয় ক্ষোভ, সব আমার উপর ঢেলে দিন। সাথে সাথে যত্তো রাগবেন, পেট টা ও রিলাক্স ফিল করবে।



এবার একটু হালকা ঘাম মুছে নিন। ছেলারা লুঙ্গি দিয়ে, মেয়েরা নাইটির অতিরিক্ত অংশ দিয়ে। যদিও আমার আবার ওই সুবিধা নেই। আমি বাথরুমে জন্মাবস্থার সময়কালেই বিশ্বাসী। জীবনে নাগা হবার যে সুপ্ত বাসনা টা ছিলো,  সেটা ওখানেই মেটায়।



সে যাই হোক। পেটের এবং মনের যাবতীয় স্খলন পরিপূর্ন করে, টয়লেট পেপার দিয়ে মুছে নিন, আপনার হলুদ পাখীদের। তার সাথে আমার নাম, ২১ বার অত্যন্ত ঘৃনামিশ্রিত স্বরে উচ্চারিত করুন। এবং কমোডে ফেলার আগে জয় অকপট জয় আপনজন বলে, অরিজিত সিং এর একটা রোমান্টিক গান চালিয়ে, হাত ধুয়ে(ডেটল সাবান দিয়ে) একটা সরি পোষ্ট করে দিন ফেসবুকে।



ব্যাস....
সাপ-লাঠি দুই ঈ অক্ষত।


(ক্যালাবেন না প্লিজ)

শনিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০১২

উন্মাদ ণামা ~ ০৪

না পাওয়ার কষ্ট সহ্য করা যায়, কারন সান্তনা নামক শব্দ টি সেখানে উপস্থিত থাকে। 
মনকে ভুলিয়ে রাখা যায়।

আর পেয়ে হারানোর জ্বালা অসহ্য। সে যন্ত্রনা জাষ্ট নেওয়া যায় না।আর সেটা যখন আপনি বুঝতে পারছেন যে, এই সুখ প্রাপ্তি শুধু মাত্র ক্ষনিকের। তখন শরীর টা সম্পূর্ন কোমা তে চলে যায়।

সেটাই বড্ড কুঁরে কুঁরে খাচ্ছে।


শান্তি চাই। মনেও সমাজেও।

বৃহস্পতিবার, ৪ অক্টোবর, ২০১২

উন্মাদ নামা ~ ০৩

অসুস্থ ভারাক্রান্ত শরীরটাকে নিয়ে পরন্ত বৈকালের আলো অন্ধকারের আবছায়াতে, অনিচ্ছার চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে, কোন ক্রমে হামাগুড়ির ন্যায় হিঁচরে পায়চারি করছি।


হঠাৎ খেয়াল করলাম, আমার সুন্দর সুবাসিত বাগিচায় এ কি? ডানা ওয়ালা নির্বিষ থেকে বিষাক্ত সব কীট পতঙ্গের দল। চর্তুদিক থেকে তারা দলে দলে তারা বেড়িয়ে আসছে। হঠাৎ ঈ কেন না জানি, অতিরিক্ত মাত্রায় শঙ্কিত হয়ে পরলাম।


আচ্ছা শরীর সুস্থ থাকলে কি এই সকল তুচ্ছ বিষয় কি আমার গোচরে আসত?? তাহলে কি সাময়িক অসুস্থতা আমাদের সংকীর্ণ মনন কে প্রসারিত করে??


এই সকল ভাবনা ভাবতে ভাবতেই, ভাবলাম, এই পৃথিবী কি শুধুই আমার জন্য তৈরি? তা তো মোটেই নয়? তাহলে আমি শঙ্কিত কেন?



আমরা তো সাম্যের কথা বলি, তাহলে তো এই পৃথিবীরর সমস্ত রং রুপ গন্ধ, আলো বাতাসে কীটেরও সমান অধিকার, তাহলে কেন এই তুচ্ছ তাচ্ছিল্য?



হতেই পারে কোন কোন কীটের উজ্জ্বল রং রুপের ছলনাময় অকর্ষনে আমি তাৎক্ষণিক মোতান্বিত হয়েছি, এবং ছুঁয়ে বিষাক্ত রসে জ্বল্বছি, তাতে ঈ ওই কীটের কি দোষ?? লালসার বশবর্তী আমি হয়েছিলাম। কীট শুধু তার লীলা প্রদর্শন করে ছিল মাত্র।



হৃদয়ের ব্যাকুলতা আরো কিছুটা প্রশম হল, যখন ভাবলাম, প্রকৃতিগত কারনেই এ এক বিচিত্র নিয়ম, কীট পতঙ্গের মস্তিষ্ক নেই, সুতরাং বুদ্ধিও নেই। তাদের নিজস্ব ভাবনা চিন্তাও কিছু নেই। জৈবিক দৈনন্দিন ক্রীড়াকলাপ ব্যাতিরেকে।



তাদের জীবনীশক্তি কালের নিরিখে অত্যন্ত সীমিত। তাই কালক্ষেপ না করে দ্রুত নিরাপত্তার আস্তিন, শয়নকক্ষের দিকে ধাবিত হইলাম। এই কীটেরা আমাদের বৃহত্তর পৃথিবীর আনাচেকানাচে ছরিয়ে ছিটিয়ে আছে বলেই আমাদের শয়নকক্ষ এতটা নিরাপদ! হয়ত শুম্ভনিশুম্ভের বিবাদ থাকতো না।হয়ত ভাল এতটা ভালো হত না।



প্রতক্ষ বিপদের হাত থেকে হয় তো বাঁচলাম, কিন্তু সত্যিই বাঁচলাম কি?? 😩 এমনিতেই সাহস কম আমাদের, কলহ প্রীয় নিন্দাচর্চায় পারদর্শী জাতি আমরা, কঙ্কালসার প্রায় অন্ত:সারশুন্যের দিকে ধাবমান।



বাতানুকূল যন্ত্রের শীতল বাতাস, একটা নতুন ভাবনা জন্ম দিল,



আচ্ছা আমাদের বর্তমান সমাজটা ও কি আমার পরন্ত বিকালের বাগিচার ন্যায় নয় কি??



শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১২

উন্মাদনামা ~ ২

প্রলাপ


আমি তোমাকে বৃষ্টির মত চাইনা, যে ভালবাসার স্পর্শে খানিকক্ষণ ভিজিয়ে চলে যাবে।



চাই তোমাকে বাতাসের মত, যে সারাটিখন আমার পাশে থাকবে।


আমি তোমাকে জোছনার মত চাইনা, যে হটাৎ করে আসবে আবার হারিয়ে যাবে।



চাই তোমাকে তাঁরার মত, যে তুমি সারাটিরাত আমার বুকে ভালবাসার জলন্ত ফুল হয়ে চুপটি করে ঘুমিয়ে থাকবে।


আমি তোমাকে চাঁদের মত চাইনা যে সবসময় চুপটি করে থাকবে,



চাই তোমাকে সূর্যের মত, যে তুমি প্রভাত হলে মিষ্টি হেসে আমার ঘুম ভাঙাবে, 


আবার কখনো দুপুরের রাগি সূর্যের মত কারণে অকারণে রাগ করে লাল হয়ে যাবে, 

আবার কখনো বিকেলের ক্লান্ত সূর্যের মত আমার ভালবাসার আকাশকে রাঙিয়ে অস্ত যাবে।

আমি তোমাকে রংধনুর মত চাইনা, যে কিছুক্ষন আনন্দ দিয়ে মুছে যাবে।



চাই তোমাকে নীল আকাশের মত, যে তুমি আমার হাসি-কান্নায়, রাগে-অভিমানে, সর্বত্র বিরজমান থাকবে।



বৃহস্পতিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১২

উন্মাদ নামা ~ ১

একে ছাল ক্যেলানো গরম। সকাল থেকেই মনে হচ্ছে, যে মোমো প্যানের ভিতর গ্যোঁত হয়ে বসে আছি। আমার সিল মাছের ব্লাডারের গুঁতো, চর্বিতে চর্বিতে টের পাচ্ছি।


তার উপর সক্কাল সক্কাল ধামাধরা দলের কেষ্টু বিষ্টু দের আনাগোনা। শ্লাদের সারা বচ্ছরই তো মোচ্ছোব। আর আমার মত পাবলিকদের কাছে তাদের গনতান্ত্রিক অধিকার, তবে চাওয়াটা জুতসই হলেও পাওয়াটা তাদের সন্তোষজনক হলো না।একটু অসম্মানেই বিদেয় হলো। তার মধ্যে একটা ছিনাল ও ছিলো। ইচ্ছা তো হচ্ছিলো ওটাকেই একটা কিছু দিই। কি উৎকট পোষাক রে বাওয়া। ওনার জীবনের পথে, যৌবনের টায়ারের দাগ টা ও মিলিয়ে যাবার পথে। অনন্ত একটা ডিও দেবার  ইচ্ছা শেষমেশ হয়েছিলো। যা বোটকা ঘামের গন্ধ।



আমারই বা কম কি!!! সাইটে একবার রাউন্ড দেবো কি, আধা পথে যেতেই পায়ের জুতো ভিজে সপসপ। অনেকেই লক্ষ্য করেছে ঠিকিই, সাহষ করে বলতে পারছে না.. 

ভাবছে প্যান্টে মুতেছি।


ওরে পাগলা, ওটা ঘামের গঙ্গা জমুনা। মাথার গোমুখ থেকে খরস্রোতা ঘামনদী,  বুক বেয়ে বাকি শরীর থেকে কালেকসন করতে করতে ধারা নিচের দিকে নেমেছে। যার জন্য অস্বস্তি ঠিকিই আছে, কিন্তু সে রকম কষ্ট নেই। তবে চাঁদি ফাটছে রোদ্রে। আর মাথার চুল ও শ্লা হালকা হয়ে গেলো, জাষ্ট ঘেমে ঘেমে।মাথার চুলের সুললিত বাগিচা লবনজলের প্রভাবে আজ ধু ধু মরুভুমি। এদিকে লিটার লিটার জল গিলছি। 

এক্কেবারে নরকগুলজার। একে তো গাড়িতে গাড়িতে জীবন জেরবার। তার ওপর ফোন!! কেন যে এটা আবিষ্কার হয়েছিল কে জানে, মুষ্ঠিযন্ত্র কম, মিথ্যা যন্ত্র বেশি... জ্বলে গেলো জীবনটা।

তার ওপর আমার চিরাচরিত অভ্যাস, দেশলাই আমার হারাবেই। শ্লা দরকারের সময় আর খুঁজে পাবো না। যে পকেটেই হাত দিই সিগারেট ১-২ প্যাকেট ঠিকিই বেড়োবেই। কিন্তু দেশলাই বা লাইটার!!!! কোন মতেই না। কোথায় যে ফেলি, না কি যে হয় কিছুই জানি না। ওদিকে নেশা মাথায় চড়ে নেত্ত করছে, অপিসে এলেই লোকে খিস্তি খাচ্ছে......


সারমর্ম:- দেশলাই না হারানোর কৌশল জানা আছে কারো??

please help me, এবার মনে হচ্ছে খ্যাপা ই হয়ে যাবো।

শনিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১১

উন্মাদের প্রিয় কবিতা



আমার প্রিয় কবিতাঃ কবি বিষ্ণুজ্যোতি রায় মহাশয়


মাগো আমায় লাইক দিতে বল ,
সকাল থেকে পোষ্ট দিয়েছি মেলা -
এখন আমি চ্যাটবক্সে বসে
করবো শুধু প্রেম পিরিতির খেলা ।

তুমি বলছো নেট ভরেছি সবে-
ঘরে কী তোর নেইকো ওয়াইফাই !
এক দিনও কী নেট প্যাক শেষ হলে
ফোন করে কি খবর নিতে নাই ?

আমিতো বেশ ভাবতে পারি মনে
পৌঁছে গেলাম কলকাতাতে শেষে -
হটসিনেমা করছি ডাউনলোড
চুপটি করে পার্কস্ট্রিটেতে বসে ।

আঁধার হলো মাদার চোখের তলা ,
কালি হয়ে ঝরছে চোখের জল -
সুন্দরীরা চ্যাট করেনা কেও
যতই কেন করি না ফ্রীকল !

মনে কর না জ্বলল সবুজ বাতি,
মনে কর না পিং করলি যেনো ,
আসল লোকের ফেক আইডি হলে
ফেক আইডি আসল হয়না কেন !

শুক্রবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১১

পুরুষেরা দীর্ঘজীবি হউক

 


নারীশক্তির জাগরণ হউক, নারীরা বিভবে ও বৈভবে সমৃদ্ধিশালী হউক, ইহাতে বিন্দুমাত্র আপত্তি নাই। কিন্তু এই যে নারীগণ বর্তমানে পুরুষজাতির নিন্দাবাদ করেন, তাহাদের বিনাশ কামনা করেন, তাহা আত্মহননের সমতুল নয় কি? পুরুষদল সমূলে বিনাশ হইলে নারীর স্তুতিগান কে গাহিবে? যুগ যুগান্তরের ধারাকে অক্ষুন্ন রাখিয়া নারীকে প্রেম নিবেদন কে করিবে? নারীর মস্তকে বরাভয় আশীষ ও নিরাপত্তার ছত্রচ্ছায়া কে প্রদান করিবে?

কালিদাস, জয়দেব, রবীন্দ্রনাথ ও জীবনানন্দ হইতে শুরু করিয়া বর্তমানের কবিকুল কাহাদের রূপ বর্ণনায় কবি প্রতিভার বিকাশ ঘটায়, তাহা নারীগণ একবার ভাবিয়াছেন কি? অলঙ্কারে ব্যবহৃত হয় বলিয়াই স্বর্ণ এত মূল্যবান, নচেৎ উপযোগিতার বিচারে উহা লৌহ অপেক্ষাও শতগুণে নিকৃষ্ট। নারী পুরুষের অঙ্গভূষণ, তাই না নারী নিজেকে বহুবিধ প্রকারে সুসজ্জিত করিয়া, নানা বিহঙ্গে কবরী বন্ধন করিয়া, বহুবিধ চিত্রবিচিত্র পোশাক পরিধান করিয়া, নানা ভাব ভঙ্গিমার মাধ্যমে নিজেকে মেলিয়া ধরার প্রয়াস পায় চাতক পান করে বলিয়াই স্ফটিক জলের এত কদর, নয়তো ভূমিতে পতিত হইলে সে জল কর্দমে মিশিয়া মূল্যহীন হয়।

নারী পুরুষের শ্রেষ্ঠ আকর্ষণ বিন্দু বলিয়াই যুগে যুগে নারীর এত কদর। নারীর রূপের প্রশংসা না করিলে সে রূপের কদর কোথায়? পুরুষে কবিত্ব করিয়া বলে মৃগনয়না, তাই না রমণী নয়নযুগল কজ্জ্বল শোভিত করিয়া পুরুষের মুগ্ধ দৃষ্টি প্রত্যাশা করে! পুরুষ মুগ্ধ হয় বলিয়াই না নারী ললাটে কুঙ্কুম বিন্দু, ওষ্ঠে ওষ্ঠরঞ্জনী, পদযুগলে অলক্তক ও কুন্তলে পুষ্পসুগন্ধী তৈল লেপন করে? জীবনানন্দ বলিয়াছেন বলিয়াই বনলতা সেনের চুল অন্ধকার বিদিশার নিশা, মুখ শ্রাবস্তির কারুকার্য বলিয়া বন্দিত হয়। নচেৎ কোন মহিলা কবি প্রাণ বিয়োগের সম্ভাবনা থাকিলেও স্বেচ্ছায় বনলতা সেনকে ঐ প্রশংসায় ধন্য করিতেন না। বরঞ্চ অবকাশে পরনিন্দা ও পরচর্চার আসরে বিকৃত মুখভঙ্গী করিয়া কথ্য ভাষায় বলিতেন, “মাগীর মুখ না যেন রান্না ঘরের পাতিল, আর চুলগুলো যেন কালো পাটের ফেঁসো

আমার বক্তব্যে সন্দেহের অবকাশ মাত্র ঘটিলে নারীগণই প্রমাণ করুন, কোথায় এক রমণী অপর রমণীর প্রশংসা করিয়াছে? নারীই যে নারীর অশ্রদ্ধা ও লাঞ্ছনার কারণ এমন প্রমাণ কদাপি বিরল নহে

পুরুষের অকুন্ঠ ভালবাসা না পাইলে নারীজীবনের সার্থকতা কোথায়? পুরুষ পতঙ্গের ন্যায় নারীর রূপাগ্নিতে প্রজ্জ্বলিত হইয়া নারীর নিকটেই শীতলতা কামনা করে। তাই তো জয়দেব রচিত গীতগোবিন্দে দেখিতে পাই, লক্ষকোটি প্রেমিক পুরুষের প্রতিভু শ্রীকৃষ্ণ নিঃসঙ্কোচে রাধিকাকে আপন মান, অভিমান সর্বস্য বিসর্জনের গৌরবে বলিতে পারেনঃ

ত্বমসি মম ভূষণং ত্বমসি মম জীবনম্ ত্বমসি মম জলধিরত্নম্

ভবতু ভবতীহ ময়ি সততম অনুরোধিনী তত্র মম হৃদয়মতিযত্নম্।।

নীলনলিনাভমপি তন্বি তব লোচনম্ ধারয়তি কোকনদ রূপম্

কুসুমশর-বাণ-ভাবেন যদি রঞ্জয়সি কৃষ্ণমিদম এতদনুরূপম্।।

স্ফুরতু কুচকুম্ভয়োরুপরি মণিমঞ্জরী রঞ্জয়তু তব হৃদয়দেশম্

রসতু রসনাপি তব ঘন জঘনমণ্ডলে ঘোষয়তু মন্মথনিদেশম্।।

স্থলকমলগঞ্জনং মম হৃদয়রঞ্জনম্ জনিত-রতি-রঙ্গ-পরভাগম্

ভণ মসৃণ-বাণি করবাণি চরণদ্বয়ং সরস –লসদ অলক্তকরাগম।।

স্মর-গরল-খণ্ডনং মম শিরসি মণ্ডনমঃ দেহি পদ পল্লবম্ উদারম্

জ্বলতি ময়ি দারুণো মদনকদনানলো হরতু তদুপাহিত বিকারম।।

 

অর্থ্যাত তুমিই আমার অঙ্গের ভূষণ, তুমিই আমার জীবন, এই ভব সংসারে তুমিই আমার নিধিরত্ন। হে রাধে, তোমার প্রীতিলাভার্থে এই ভুবন মাঝে সতত কেবল তোমাকেই আমি হৃদয় ভরিয়া যত্ন করিতে সচেষ্ট। নীল নলিনী তুল্য তোমার নয়ন যুগল ক্রোধে ও অনুরাগে রক্তবর্ণের কমল তুল্য রূপ ধারণ করিয়াছে। যদি ঐ রক্ত আঁখি পল্লবে কৃষ্ণকে মুগ্ধ করিতে সক্ষম হও, তবেই কমলের সঙ্গে তুলনা সফল হয়। তোমার সুগোল কুম্ভের ন্যায় স্ফুরিত কুচ যুগলের উপরিভাগে শোভিত মণিখচিত মঞ্জরি তোমার হৃদয়দেশকে কি সুষমাতেই না রঞ্জিত করিয়াছে! তোমার ঘন জঘনমণ্ডলে মেখলার বারংবার নিনাদ যেন মদনদেবের কাম নির্দেশ ঘোষণা করিতেছে।  মধুর স্বরে শুধু একবার আদেশ দাও –‘স্থলকমলকেও গঞ্জনা দিতে সক্ষম, আমার হৃদয় রঞ্জনকারী তোমার ওই পদযুগলকে রতি রঙ্গে আমার হৃদয়ে ধারণ করতঃ আলতারাগে রঞ্জিত আমার শিরঃপীড়া নাশ করিয়া, কামযন্ত্রনার গরল নাশ করিয়া তোমার ঐ পদপল্লব কে মমতা ও উদারতায় প্রসারিত করো। মদনের দারুণ অনল জ্বালা নিবারণার্থে তোমার দেহবল্লরীতে সংযুক্ত হইয়া আমার সমস্ত বিকার নাশপূর্বক শীতল

হে স্বভাবমুখরা রমণী কুল, একবার আপন হৃদয়োপরি আপন হস্ত স্থাপন করিয়া সত্য কহ– ‘পুরুষের এমন আকুতি, এমন প্রেম নিবেদন, এমন সমর্পণের পরেও কোন নারী স্থির থাকিতে পারে কি? যদি কেহ পারে, তবে সে রমণী প্রস্তরবৎ নীরস বলিয়াই জানিবে। তাহার সংস্পর্শ ত্যাগ না করিলে পদার্থের পার্শ্বটানের ধর্মানুযায়ী তোমার হৃদয় রসকেও সেই শুষ্ক প্রস্তর শুষিয়া লইবে

নারী দ্বিবিধ উপায়ে পুরুষের নিকট সম্পুর্ণ বশীভূত হয়। যথা-

) উদ্যত তরবারির সন্মুখে  

) পুরুষের অকপট সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণে।

প্রাচ্য ও মধ্যপ্রাচ্যের কিছু যুদ্ধপ্রিয় জাতি তরবারির সন্মুখে বহু নারীকে বশীভূত করিয়াছেন। কিন্তু ইহাতে বংশ বৃদ্ধি ঘটিলেও কোন গৌরব বৃদ্ধি ঘটে নাই। কারণ পরাজিতের ভীতিজনিত বশ্যতা স্বীকারে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণের গৌরব বিলুপ্ত হয়। সেখানে পরাজিতের সন্মান হননপূর্বক বিজয়ীর মিথ্যা ইতিহাস রচিত হয় বলিয়া সুললিত কাব্যের সৃষ্টি হয় না। যে প্রেমে অনুরাগ নাই, উভয়ের চরম আত্মসমর্পণ নাই, সেই প্রেম পশুর পাশবিক শরীর সুখের সঙ্গেই তুলনীয়। আত্মসমর্পণে শতকরার হার হিসাব করার অর্থই বাকি শতকরার অংশ সেখানে ভেজাল। আমি হলফ করিয়া বলিতে পারি, যদি কবি জয়দেবের মতো এমন কাব্য সৃষ্টির সুযোগ পাই, তবে বারংবার জন্মগ্রহণের কষ্ট স্বীকারে প্রস্তুত আছি

অতএব হে রমণী কুল, এখন ও কি বলিবে– পুরুষ জাতির বিনাশ চাই? পশুর স্বভাব বিশিষ্ট যে কাপুরুষ অসহায় রমণীকে ধর্ষণ করে, ধন জনের শক্তিতে ক্ষমতাশালী যে নির্দয় পুরুষ নারী জাতির উপর নানা অত্যাচার করে, সুযোগ সন্ধানী যে কামাতুর পুরুষ আপন স্ত্রীকে অন্যায় পথে পরিত্যাগ করে, সেই অশুভ শক্তিরূপ অসুরের বিনাশ তো স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলেই চাহে। তাহাদের কারণে কেন তোমাদের জীবনের একান্ত কামনার ধন মহাপুরুষদের বর্জন করিবে?

তাই বলি, হে গান্ধারীর মত কৃষ্ণবস্ত্রে নয়ন আচ্ছাদনকারী অবলা নারীকুল, সময় থাকিতে সতর্ক হও। বৃক্ষের অবলম্বন ব্যতীত লতিকা সকল উর্ধগামী আলোকের সাক্ষাত পায় না। যে অহঙ্কারী লতিকা অহঙ্কার বলে বৃক্ষের সহায়তা গ্রহণ করে না, সেই লতিকা অবাঞ্ছিত জঙ্গল পরিবেষ্টিত অবস্থায় অন্ধকারে পশুদিগের পদ দলন সহ্য করিতে বাধ্য হয়। তোমরাও আপনার বাঞ্ছিত পুরূষের সন্ধানে সচেষ্ট হও। নূতন নুতন কবি, সাহিত্যিক ও শিল্পীর প্রেরণার উৎস হও। আইস, তোমাদের লইয়া আমরাও কালিদাস, জয়দেব, রবীন্দ্রনাথ, জীবনানন্দ ও অন্যান্য প্রথিতযশা কবি সকলের মতো কাব্য রচনা করি। তোমরা একবার বলো, পুরুষের ভালবাসার তুল্য ভালবাসা নাই।

বারংবার বলো পুরুষেরা দীর্ঘজীবি হউক।

 

বুধবার, ৮ জুন, ২০১১

রীতিকার কথা

 


রবিকাহন

প্রেম প্রেম খেলা

সম্পর্কের টানাপোরেন আনেক দিনের, শেষমেশ যেটা ভেঙেই গেল। হঠাৎ করেই কাল বৈশাখি যেন সব কিছু ওলঠ পালট করে দিল। সুদীপ্তর জীবনে এটাই ছিল সব চাইতে বেশি হারানোর যন্ত্রণা, কারন রীতিকাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখে ছিল সে। জীবনের প্রথম ভালো লাগা, প্রথম প্রেম। এভাবে সব কিছু শেষ হয়ে যাবে কোনো দিন কল্পনাও করেনি সুদীপ্ত । শ্রাবনে অঝোর ধারা যেমন বৃষ্টি ঝরে তেমনি প্রতি রাতেই বালিশ ভিজে যেত কান্না, দুচোখ বাঁধ মানেনি। রীতিকার হঠাৎ করে এই পরিবর্তনের মানে খুঁজতে গিয়ে বারবার জড়িয়ে পরেছে স্মৃতির অন্তরালে। মনে পরে যায় সেই সব দিন গুলোর কথা, একদিন রীতিকা সুদীপ্তকে না দেখলে থাকতে পারতো না। আজ ভাবলে অবাক লাগে সুদীপ্তর।

কী সেই রীতিকা যে সুদীপ্তর মুখে একবার “এই শোনোনা” শোনার জন্যে হাপিত্যেশ করে বসে থাকত। হ্যাঁ, সত্যিই সব কিছুর পরিবর্তন হয় সময়ের সাথে, তাই আজ সব কিছু নকল লাগে, নকল ভালোবাসা, মনে হয় সব অভিনয়! কাছে আসা, হাজার প্রতিশ্রুতি আর ভালোবাসা। তবু তো চলতে হবেই, জীবন থেমে থাকেনা। সুদীপ্তও তাই ব্যাথাকে সঙ্গী করেই আইন পড়া শেষ করে। দেখতে দেখতে অনেক গুলো বর কেটে যায়, শুনেছে রীতিকার বিয়ে হয়ে গেছে এ শহরেরই এক বড় শিল্পপতির সাথে। সেটাও নাকি আবার লভ ম্যারেজ।

সুদীপ্ত ভালবাসাকে তার জীবনের অভিশাপ মেনে নিয়ে দ্বিতীয়বার আর কাউকে আনতে চাইনি জীবনে, কিম্বা বলা ভাল আনতে পারেনি। অবশ্য মনে মনে স্ত্রী জাতির প্রতি কেমন যেন একটা বিতৃষ্ণা। দেখতে দেখতে আরো তিনটে বর কেটে যায়। আজও স্মৃতির কপাট গলে থেকে ঝরে পরে অতীতের টুকরো টুকরো মান, অভিমানে জড়ানো কথার দলেরা। এখনো মাঝে মাঝে ঘুম ভেঙে যায়, অজান্তেই চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পরে। সে রাতে আর ঘুম আসেনা। মোবাইলে আজগুবি জিনিস খুঁজতে থাকার বাহানাতে ডুবে যায়

সুদীপ্ত বড় আইনজীবি আজ, সুনামও করেছে আনেক। লক্ষীর কৃপায় ধন সম্পদ উপচে পরেছে। হাজারো বস্তু সুখের ভিড়েও মানসিক সুখ যেন চাতক পাখি, আজও প্রথম প্রেমকে ভুলতে পারেনি। মাঝে মাঝে ককিয়ে ওঠে মনের অন্তঃকোনে লুকিয়ে থাকা নিষ্পেষিত যন্ত্রণারা। তাই কাজের ব্যাস্ততার মধ্যে জোর করে ভুলে থাকার চেষ্টা

সেদিন সুদীপ্ত তার বৈঠকখানায় বসে মক্কেলদের সাথে কথা বলছিল, হঠাৎ চমকে ওঠে একটা চেনা গলার স্বর শুনে। আতে পারি সুদীপ্ত বাবু? পক্ককেশ এক বৃদ্ধ দ্বারপ্রান্তে, রীতিকার বাবা। যিনি এক সময় সুদীপ্তকে নিজের সন্তানের থেকে কম স্নেহ করতেননা, সুদীপ্তও তাঁকে বাবামশাই বলে ডাকতো। তাই নাম ধরে ডাকা মানুষটার কন্ঠে বাবু ডাক শুনে সুদীপ্ত একটু চমকেই উঠেছিল। সে উঠে গিয়ে প্রণাম করে, তাঁকে নিয়ে অতিথিশালায় গেল। সোফা বসে অমল বাবু সুদীপ্তর দিকে কাষ্ঠল দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে। তাঁর চোখ এড়াইনা সুদীপ্তর পরিপাটি করে সাজানো গোছান ঘরবাড়ি। সুদীপ্তর কথাতেই ধ্যান ভাঙার মতো চমকে ওঠে,

~কেমন আছেন বাবামশাই,

~তোমার কিছুই পাল্টাইনি সুদীপ্ত, তুমি সেই আগের মতই আছো

সুদীপ্ত এবার তার আবেগ আর ধরে রাখতে পারেনা, হ্যাঁ বাবা মশাই আমি সেই আগেরই সুদীপ্ত। শুধু মনের গভীরে একটা বিরাট এক জ্বালাময় ক্ষত জীবনের গতিপথটাই পরিবর্তন করে দিয়েছে। মজার ব্যাপার হল সেটা আপাতদৃষ্টিতে দেখা যায় না। অমল বাবু মাথা নিচু করে নিশ্চুপ হয়ে যান।

সুদীপ্ত- ছাড়ুন সে সব কথা, বলুন আজ এতো গুলো বৎসর পর!

চোখের কোনায় তখন জল অমল বাবুর। জানো সুদীপ্ত, “জীবন বড় বৈচিত্রময়, কখন আলো আবার কখন আঁধার, কখনো ভালো কখনো মন্দ, আবার কখনো জোয়ার তো কখনো আবার ভাটা, অসহিষ্ণু সময়ে আজ আমরা বড় অসহায় সুদীপ্ত। পেনশানের সঞ্চয় বেঁচে আর প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকায় তোমার মাসিমার চিকিৎসা করা হয়, তারপরও শেষ রক্ষা হয়নি

মাসিমা ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই- রোড এক্সিডেন্টে রীতিকাও বিধবা হয়। শেষের দিকে ব্যাবসা ভালো যাচ্ছিল না, মোটা টাকার লোন নিয়েছিল রমেশ। এক্সিডেন্টের পর ওর সব সম্পত্তি নিলাম করিয়ে নেয় ব্যাঙ্ক কতৃপক্ষ। রীতিকা এখন আমার কাছেই থাকে, পেনশানের সামান্য টাকায় কোনোমতে চলে যাচ্ছে

সুদীপ্তর মনে হল- যেন মথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ল, এই পরিস্থিতির জন্য ও মোটেও প্রস্তুত ছিলনা। ঠিক কি উত্তর দেবে, বা কি উত্তর হওয়া উচিৎ সেটা ভুলে খানিক ভ্যাবাচ্যাকা হয়ে থাকল। আনন্দ হচ্ছে, নাকি করুণা হচ্ছে, নাকি প্রিয়জন বিয়োগের বেদনা- নাহ সুদীপ্ত কিছুই মনে করতে পারলোনা

ভৃত্য মন্টুর ডাকে সুদীপ্তর সম্বিৎ ফিরল। কল্পনার জগত এক লহমায় বাস্তবের রুক্ষ জমিতে আসতেই সে ভাবল- এই রীতিকাই একদিন তাকে অপমান আরস্বীকার করে চলে গেছিল, কারন সেদিন তার কাছে আয়েশ করার মত যথেষ্ট ধনসম্পদ ছিলনাসেদিনের বাগদত্তা দীর্ঘ দিন বিয়েটা ঝুলিয়ে রেখেছিল স্থায়ী রোজগার আসার বাহানা দেখিয়ে। সেদিন দোষ ছিল বেকারত্বের, ওর সরকারি চাকুরে বাবার তুলনায় বড্ড গরীব ছিলাম, অসহায়ও বটে। সেদিন সকলেই দায় এড়িয়েছিল। সামনে বসা বাবামশাইও......

সুদীপ্ত কেমন যন্ত্রের মত বলে ফেলল, এখন আমি কী করতে পারি বাবা মশাই! আমার কাছে কী ধরণের প্রত্যাশা রাখেন!

~ রীতিকা ভীষন ভেঙে পরেছে। কারোর সাথে কথা বলেনা, ঘর থেকে বাইরে বের হয়না নিতান্ত প্রয়োজন না হলে। তোমার সামনে এসে দাঁড়াবে তার সে সাহই বা কোথা। নিয়তির মারে সব হরিয়ে আমাদের শেষ সম্বল রমেশের করা ইন্সুরেন্সের এর টাকা টুকু। কিন্তু ইন্সুরেন্স কোম্পানি নানা আজুহাত আর কাগজ পত্র চেয়ে ক্রমাগত হয়রান করাচ্ছে, যদি আমাদের একটু আইনি সাহায্য করো, চিরজীবন ঋণী হয়ে থাকব।

সুদীপ্ত আমতা আমতা করে শুধাল,

~ সব কগজ পত্র এনেছেন।

~ না বাবা সবতো আনা হয়নি, তবে কাল যদি তুমি একবার আমাদের বাড়িতে আসো তাহলে ভালো হয়। এটা আমার অনুরোধ।

সুদীপ্ত আজান্তেই হারিয়ে যায় পুরানো স্মৃতির সরণীতে, এমন কত শত বিকালেই সে রীতিকার সাথে দেখা করতে যেত ওদের বাড়িতেমনে পরে সেদিন বিকালের কথা, যেদিন আকাশে কালো মেঘে ছেয়ে ছিল। মুলধারে বৃষ্টি শুরু হলে সুদীপ্ত ভেবেছিলো আজ বিকালে আর গিয়ে কাজ নেই, বৃষ্টি থামলে দেখা যাবে। বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমেছিলো, তবু সেদিন বৃষ্টি চছিলো নাছোড়বান্দা মেজাজেমোবাইলে রীতিকার নাম ভেসে উঠল, হ্যালো বলতেই -সোনা তুমি আজ এলেনা যেদেখনা মা -বাবা নেই বাড়িতে, শপিং করতে গিয়ে বৃষ্টির জমা জলে আঁটকে পরেছে, ছোট মাসির বাড়িতে রয়ে যেতে পারে

কাতর কন্ঠে রীতিকা বলে- আমার ভীষন ভয় করছে, তারাতারি এসো না প্লিজ। সুদীপ্ত আর কিছু ভাবতে পারেনা, রীতিকার কাতর মায়াভরা কন্ঠে বশ হয়ে যাওয়া সুদীপ্ত ছাতা নিয়ে বেরিয়ে পরে। আকাশে ঘন ঘন বিদ্যুৎ, সারা শহর যেন একটা বিশাল দিঘী। সুদীপ্ত ডোর বেল বাজাতেই ত্রস্তপদে বেরিয়ে আসে রীতিকা, সুদীপ্তর জন্য সে অপেক্ষায় বসে ছিল। বিদ্যুৎহীন শহরের এই বাড়ির চতুর্দিক ঘন অন্ধকারে ঠাসা

মোমবাতির নরম আলো তুলে ধরে রীতিকা শুধালো- এমা তুমি তো একদম ভিজে গেছো

সুদীপ্ত মুচকি হাসি হেসে মুখে- তুমিও তো ভিজে রয়েছো

বাইরের বজ্রপাত রীতিকা আর সুদীপ্তকে আলিঙ্গন বদ্ধ করার জন্য অনুঘটকের কাজ করল। দুজনের শরীরে যেন বিদ্যুৎ খেলা করেএই প্রথম এতো কাছে আসা, বৃষ্টিতে ভেজা শীতল শরীরে সুদীপ্ত তপ্তদিনের সুর্যের উষ্ণতা খুঁজে পায় এক আজানা শিহরনে। রীতিকার চিবুক তুলে ধরে কম্পিত ওষ্ঠে এঁকে দেয় প্রথম চুম্বনের রেখা

সুদীপ্তকে উন্মত্তের মত আঁকড়ে ধরে রীতিকা, আন্ধকার ঘরে দুজনেই চুপ। সলজ্জ আকুতি তাকে সাহষী হতে তখনও বাঁধা দিচ্ছে। আরেকটা বজ্রপাত... তার পর আর কোন বাধা মানেনি দুটি ঘামে ভেজা শরীর। জীবনের প্রথম আলিঙ্গনে হয়ে ওঠে যৌবনের আদিম খেলা। থরথর করে কাঁপা উষ্ণ ঠোঁট, প্রতিটা রোমকূপ বিন্দু বিন্দু যৌনতার মধু শুষে নিচ্ছে। শৃঙ্গার ভালোবাসার আজানা সুখের পরশ, উত্তেজিত মাংসপেশীর আঘাত করাঘাতের পর, দুজনেই দুজনকে আরো মোহিত করে, শৈথিল্য সুখের সাগরে ভেসে যায়। বিছানার চাদর সাক্ষী থেকে যায় সেই মধুর সন্ধ্যার... কারন চাঁদ তারা কেউ ছিলনা সেদিন।


 


বুধবার, ৪ মে, ২০১১

মৌলবাদী

 


সাতদিন না খেয়ে থাকুন, তারপরে কোন হিন্দুকে গিয়ে বলুন- আমি রামভক্ত, আমি হিন্দু, শুধু এই কারনে আমাকে দুটো ভাত দিন। দেখি কয়জন আপনাকে খেতে দেয়। একই ব্যাপার আমি ধর্মান্ধ মুসলীম বা অন্য সম্প্রদায়কেও করে দেখতে বলি। দরিদ্র মুসলমান যদি পয়সাওয়ালা মুসলিমকে বলে আমি আল্লাহর একনিষ্ঠ মুমিন, আমায় শুধু এই কারনে সারা জীবন ভাতকাপড় দিন, তাকে দেবে?

যতক্ষন ভরাপেট ততক্ষনই ধর্মের জিগির তুলতে মজা লাগে। সমস্ত দাড়িওয়ালা, টিকিওয়ালা, জোব্বা আর নামাবলীধারীদের খাওয়া পরা বন্ধ করে দিয়ে জিজ্ঞাসা করুন পেট আগে না ধর্ম? যদি কোথাও কাজ করেন তাহলে সেখানকার হিন্দু মালিককে গিয়ে বলুন আমি হিন্দু, তাই আমার মাইনে বাড়ান, যদি মুসলমান হয়ে কোন মুসলিম মালিকের অধীনে কাজ করেন, তাহলে তাকে গিয়ে বলুন আমি পাঁচবেলা নামাজ পড়ি, আমাকে বছরে পাঁচবার বোনাস দিন, দেখুন তো দ্যায় কিনা? বাড়িতে রাজমিস্ত্রী, প্লাম্বার আর কুয়ো কাটার লোক ঢোকানোর আগে জাত জিজ্ঞাসা করে নেবেন।

রাস্তায় কিছু খাওয়ার আগে, কাপড় সেলাই করাবার আগে দোকানী বা দর্জির জাত জেনে নেবেন। ডাক্তার দেখানোর আগে আর গাড়িতে চড়ার আগে ডাক্তার আর ড্রাইভারের জাতধর্ম জেনে নেবেন। তিনিদিন এইভাবে সমাজে চলাফেরা করুন- যদি পাগল প্রতিপন্ন হয়ে কোথাও গনধোলাই না খান, তাহলে তিনদিন পরে আমার ঠিকানাতে লিখবেন। সমস্ত ধর্মের মৌলবাদীদের উদ্দেশ্য করে লিখলাম

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...