রবিবার, ৭ জুন, ২০১৫

ভয়

উন্মাদীয় রবিবাসর

ভয়


যাকে কখনই চামড়ার চোখে দেখা যায় , সেই দুর্বোধ্য বস্তুর নামই  “ভয়”

“বিজয় বাবু অফিস থেকে এই কিছুক্ষন আগেই ফিরেছেন, স্ত্রী, পুত্রকে সাথে নিয়ে, স্কুলের গরমের ছুটিতে বাপের বাড়িতে গেছে। ঘরে ঢুকেই ফ্যান টা চালিয়ে দিলেন, আর তার সাথে টিভিটাও। এবার ঘরের জানালা গুলো সব খুলে দিলেন আর পর্দা টেনে দিলেন। অফিসের ব্যাগে সংরক্ষিত সাদা হুইস্কির বোতল বিজয় বাবুকে “আয়-আয়-আয়’ করে হাতছানি দিয়ে ডাকছে।


বাথরুমের যাবতীয় কার্য সাধন করে, চেয়ারে বসে গা টা এলিয়ে দিয়ে টিভিটার দিকে তাকালেন, IPL এর ম্যাচ চলছিলো, তাই মিউট মোডেই ছিলো। জানালার কাঁচ আর পর্দা ভেদ করে চাদের আলো বিজয় বাবুর মুখে এসে পড়ছে। ব্যাপারটা আরো উপভোগ করার জন্য তিনি জানালাটা পুরো খুলে দিলেন। চাদের আলো আর সাথে হালকা শীতল বাতাস। এবার চানাচুর আর সোডার বোতল টা নিয়ে মৌতাত রেডি। ঘরে ডিম লাইট, টিভির আলো আর চাঁদের আলোর সংমিশ্রণে এক মায়াবী পরিস্থিতি। বসে বসে গুন গুন করে এক কলি গান ও গাইতে লাগলেন।



হটাৎ করে রান্না ঘরের দিকটায় খুট করে একটা শব্দ, চমকে তাকালেন। ভাবলেন ইদুর বোধ হয়। আবার নীরবতা খানিক পর সদরে লোহার দরজাতে একটা যান্ত্রব আর্তনাদ। বিজয় বাবু ধরফরিয়ে সদরের দিকে গেলেন দেখলেন কেউ কোত্থাও নেই। আবার ছিটকিনি লাগিয়ে যথাস্থানে এসে বসলেন। আবার নীরবতা। এবার হঠাৎ একটা রুদ্ধ বায়ু যেন প্রান পনে খোলা জানালা দিয়ে প্রানপনে পালিয়ে গেলো, সব পর্দা তছনছ।



বিজয় বাবুর শ্বাস নিতে যেন কষ্ট হচ্ছিল।তাঁর হৃদয়ে ঘোড়দৌড় শুরু হয়ে গেছে. পেশী গুলো সব শিথিল হয়ে আসছে।
সারা শরীর অবশ”.......................................



বিজয় বাবু ভয় পেয়েছিলেন।



ভয়।



জীব মস্তিষ্ক একটি জটিল কোষীয় অঙ্গ। আমাদের ইন্দ্রিয় দ্বারা সংগ্রীহিত নানান অনুভুতি গুলো কে আমরা স্নায়ুর মাধমে মস্তিষ্কে চালান করি। এক্ষেত্রে শুধু মাত্র পঞ্চইন্দ্রিয় নয়, একটা অদৃশ্য ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের ও উপস্থিত থাকে। যা আমাদের এই জটিল স্নায়বিক নেটওয়ার্কের মধ্যে দিয়ে তাহার কার্য প্রনালী চালনা করে।



এখন এই ভয় হল একটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, মোটেই তাৎক্ষনিক কিছু নয়। আসলে আমাদের স্মৃতির হার্ড ডিস্কে অসংখ্য TB, নানা ধরনের মেমোরি সেভ আছে। এবার মজা হলো যে কোন ঘটনা আমরা আমাদের ইন্দ্রিয় দিয়ে অনুভব করে মস্তিষ্কে চালান দিতেই, মস্তিষ্ক সেটার মানানের পূর্বঅভিজ্ঞতা সেটা নিজের বা অন্যের যা ই হোক না কেন, সেটা ফ্রাকসান ওফ সেকেন্ডে সেটা খুঁজে নেয়। আর সেটার মতন করে শরীর কে নির্দেশ প্রদান করে। আর সেটা যদি ভয়ের হয়, সাথে সাথে গলা শুকিয়ে যাওয়া, চোখা লাল, পেশি শৈথিল্য, ইত্যাদি ইত্যাদি। যেটা একটা উদ্দিপনার মধ্য দিয়ে হৃদয় কে সরাসরি আক্রমন করে। কিন্তু এ তো গেলো থিওরিটিক্যালি কূটকাচালি।



“ভয় পেওনা ভয় পেওনা তোমায় আমি মারবো না, সত্যি বলছি তোমার সাথে কুস্তি করে পারবো না”।



ভয়, নামটা শুনলেই যেন কেমন ভয় অনুভুত হয়।অন্তত আমার বা আমাদের মত, লোকের। অনেকেই ভয় কে ভালোবেসে সেটার পিছু পিছু ধাওয়া করে। কিন্তু ভয় কি ইচ্ছা করে পাওয়া যায়!! না চাইলেই তাঁকে তাড়ানো ও যায়??

ভয় কি ভালোবাসার সমার্থক শব্দ নয়!! আমরা যাকে বা যে জিনিস টা কে খুব ভালো বাসি , সেটা নিয়েই তো ভয় পাওয়া শুরু হয়। সেটা বস্তু-ব্যাক্তি-যশ , যা কিছু হতেই পারে।ভয় পাওয়ার মধ্যেও যে একটা অপত্য সুখ লুকিয়ে থাকে। আমরা কি সন্তানের জন্য অযথা ভয় পেয়ে সুখী হই না!!


ভয় হয়তো সরাসরি পরিবর্তন ঘটাতে পারে না, কিন্তু ভয়ের ফলাফল সুদুর প্রসারী। মানব যদি ভয় না পেত, চুরি, খুন ধর্ষন, অসম্মান এই শব্দ গুলো শব্দকোষে থাকতো না। আর মানুষ কিছু না কিছু নিয়ে ব্যাস্ত থাকেই, সেটা খেয়ালি পোলাও ও হতেই পারে। তাই ভয়ার্ত পরিবেশ অস্বাস্থকর হলে, পরিমিত ভয় কিন্তু পুষ্টিকর।



মনের মধ্যে যদি স্বর্গ হারাবার বা নরকে যাবার ভয় না থাকতো, আমরা কি অদৌ ধর্ম নিয়ে মাথা ঘামাতাম?? না কি জাতের নামে হানাহানি করা বজ্জাত গুলো বিশাক্ত ফনার আস্ফালন করতে পারতো? আসলে ধর্মের বীজ ও তো সেই ভয়ের গর্ভে ই প্রথিতো।



যারা নাকি অকুতো ভয়, তারাও কি আসলে ভীতু নয়!! নিজের সাহসিকতা হারানোর ভয়। পুরাতণ কোন অর্জিত কৃতিত্ব থাকলে সেটা ধরে রাখার ভয়। সামাজিক ভাবে প্রসঙ্গিক থাকার ভয়।



সব থেকে বড় সামাজিক ভয় বোধহয়, ক্ষমতা হাবাবার ভয়। যেটা এই পৃথিবীর সবথেকে সব থেকে বড় জীবন্ত সমস্যা। যেটা আমাদের রাজনৈতিক নেতা বা নেত্রীরা শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। ক্ষমতার দম্ভে ক্ষমতার অপব্যাবহার করতে করতে শেষে যখন ক্ষমতা হারানোর ভয় চেপে বসে, তখন যেকোন মুল্যে সেই ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য, জনগন কে একটা ভয়ের পরিবেশের দিকে ঠেলে দেয়।



রাষ্ট্র বলে যে শব্দবন্ধ টা তে আমরা অবলোকন করি, সেটাও তো আসলে কোটি কোটি ভয়ার্ত কোষের সমষ্টি। পুলিস, মিলিটারি, কামান , আলোচোনা, যুক্তি, চুক্তি... সমস্ত কিছুই তো সেই ভয়ের সমাহার। সত্যিই কি বন্দুকের নল ক্ষমতার উৎস?? নাকি ভয় ই হলো ক্ষমতার উৎস, যেটা যেভাবেই সৃষ্ট ভয় হোক না কেন!!



অনেক ক্ষেত্রেই ভয় দূর করার নামে মানুষকে আরো ভীত করে দেওয়া হয়। অগুন্তি উদাহরন চোখের সামনে। যেটা আমাদের ভূতপূর্ব রাজ্য নির্বাচন কমিসনার সুনীল কুমার গুপ্তা জীর “ভ্যায়” ও হতে পারে আবার নিরীহ ম্যাগি নিয়ে জনসমাজে ভয়ার্ত প্রচার। সকল কিছুই এর অন্তর্গত।



এখন দুর্বল হৃদয়ের মানুষজন অনেক সময় ভূতের ভয়ে ভীত হয়ে যান, সেটা কোন অলীক কল্পনা ও হতে পারে। যেটাকে বিদ্যা বুদ্ধি দিয়ে বিশ্লেষণ করা যাই না , তাকেই আমরা ভুতেও আখ্যা দিয়ে দিই, আর ভয় পেতে ভালো বাসি। কেউ কেউ মামদো-বেম্মোদোত্তি- বা শাঁকচুন্নি দের দেখেও ফেলি। আর মনে মনে একটা ব্যাপক ভয়ের সুখ লালন পালন করি।



কারো জীবনে ভূত আবার তার ভূতকাল, ফেলে আসা জীবনের সুখ, আনন্দ পাওয়া না পাওয়া সব গুলো তাকে তারা করে বেড়ায়। সেটা ধরে রাখার ভয় ও হতে পারে, হারানোর ভয় ও হতে পারে, আক্ষেপের ভয়, পুরাতন পাপ স্খলনের জন্য যে অনুশচোনা, আর সেটা থেকেই ভয়।



এই বহমান সময়, প্রতি মুহুর্তে একটু একটু করে মৃত্যুর দিকে যখন এগিয়ে চলেছি, সেই সময় ভাবনার ভয়, কি কি করতে পারলাম, কি কি করতে পারতাম, কি কি না করলেও পারতাম। কোনটা এখোনো বাকি রয়ে গেলো, সেটা কি শেষ করতে পারবো ?? সেই ভয় ই শুধু আমাদের তারা করে নিয়ে বেড়াচ্ছে না সর্বক্ষন!



ভালোবাসা তে আবার ভয় না থাকলে যেটা আবার যেন কোথায় অপূর্ন থেকে যায়। প্রণয়ের ভয় ভালোবাসার প্রাচীর কে মজবুত করে। এই ভয় একটা অপরিনত মনকে বড্ড শক্ত ও জটিল করে চলে। এই ভয় সটান জীবন কে কল্পনার আকাশ থেকে বাস্তবের মাটিতে আছরে ফেলে। এই ভয় সর্বক্ষন সেই সঙ্গী সঙ্গিনী টিকে মনে করাতে বাধ্য করে, তার প্রেমে আরো তলিয়ে যেতে কি সাহায্য করে না!!



এই ভয়ের কারনে কেউ কেউ মনের মাঝে একটা গোটা ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরি পুষে রেখেছে, যার লাভা গুলো কান্নার ফোঁটার আকারে চোখ দিয়ে বিন্দু বিন্দু বয়ে চলে। কিন্তু গোপনে। কারন প্রকাশ্যে এলেই সেই আবার বদনামের ভয়।

শয্যা সঙ্গী বা সঙ্গিনীর সাথে রতিক্রীড়া কালীন বেশিরভাগ জীব ই অন্ধকার পছন্দ করেন, ওই, চক্ষুলজ্জার ভয়। অনেক সময় শুধু মাত্র বাক্যালাপেই অনেক ক্ষেত্রে উষ্ণ শরীর কামনাতুর নয়ে উঠে, বহু কিছু পেতে ইচ্ছা করে, চীৎকার করে বলতে ইচ্ছা করে, কিন্তু ওই আবার চক্ষুলজ্জার ভয়, তাতে তুমি যতই ভিজে যাও না কেন, বলতে পারবে না, নাহ, ওই আপন সঙ্গী বা সঙ্গীনিটিকে ও না। মন্দ ভাবাবে কিনা তার ভয়। বিবেকের কাছে জবাবদিহির ভয়। সমাজের কাছে প্রকাশ পেয়ে যাবার ভয়।


উন্মাদের অবশ্য, এত শত ভয় পাওয়ার কথাই নয়। তবুও মাঝে মাঝেই ভয় পেয়ে যাচ্ছি। তবে সেটা অল্প ক্ষনের জন্যই। কারন যতটা বিবেক ও বুদ্ধি দিয়ে ভয়কে জিইয়ে রাখতে হয়, ততটা আমার মাঝে নেই।আর স্মৃতি শক্তি ও প্রচন্ড দূর্বল। আসলে সব পাগল রা ই বোধহয় এরকমই।



আচ্ছা যারা আত্মঘাতী হয়, তারা কি ভীতু নই?? ভয়ের তারনায় পালাতে পালাতে এক সময় চিরকালীন
ছুটি পেতে, যাবতীয় ভয়ের থেকে মুক্তি পাবার জন্য আত্ম হনন। আবার স্বর্গের রাস্তার শর্ট কাট খুজতে বা নরকের রাস্তা টপকে ডিঙিয়ে পাড় হতে, অনেক কে মেরে অবশেষে নিজেকে হত্যা। এ ও এক ভয়ের পরিনাম।



ভয়ের তো নানা কারন। তবে মানুষ অকারনে ভয় পেয়ে মজা পেতে ভালোবাসে। আবার অকারনে ভয় পাইয়েও। সেটা গুজব ছরিয়ে আম মানুষ কে ভয় পাওয়ানো। কেউ উজ্বলতা কে ভয় পাচ্ছে তো কেউ অন্ধকারে একা থাকতে। কারো ভয় নির্জনতা আবার কারো কোলাহলে।কেউ খেতে ভয় পায় কেউ খাওয়াতে, কেউ আবার কালকে দুমুঠো জুটবে কি তা তার ভয়ে অস্থির।



সাপ কে আমরা যত না ভয় পায়, সাপ আমাদের ততোধিক ভয় পায়, আর সেটা নাহলে সে হয়ত ছোবল ই মারতো না। নিরীহ মানুষ গুলোকি তাই নয়? ভয় পেতে পেতে, এক সময় নতুন করে আর ভয় পাওয়া টা থাকে আর না। কালু দা বলে একজন আমার অতি পরিচিতো ব্যাবসায়িক সহচর কে বলতে শুনেছি, একটু মজার ছলেইঃ “ওরে পাগলা ভয় আমি আর পায় না, তুই ভয় পেয়ে কাঁদছিস! আমায় দেখ আমি আর কাঁদি না, তুই কাঁদছিস আর আমি পাথর হয়ে গেছি। আর পাথরে রস কষ কিচ্ছু নেই যে বেড়োবে”। 



সত্যিই তো পাথর যখন হয়ে যায়, তখন তো আর ভয় তাঁকে ভীত করতে পারে না, সে যা খুশী করতেই পারে।

কেও কাজে ভয় পায়, কারো কাজ না থাকলে অলস মস্তিষ্ক কিছু “অকাজ” করে ফেলার ভয়। কারো পড়তে ভয় লাগে, কারো পড়াতে। ফেল করার ভয় অনেক সময় ই, বহু উঠতি প্রতিভাকে সমাজের মুলস্রোত থেকে দূরে ছুরে ফেলে দেয়, অনেক সময় এমনও হয় যে আর ফিরে আসার সময় টুকুও পায় না, যখন নাকি তার ভয় কেটে যায়।


কেউ উষ্ণতা কে ভয় পায়, কেও শীতলতা টা কে। সেটা সম্পর্ক থেকে খাদ্যবস্তু যা কিছুই হতে পারে। কেউ শিশু দের ভয় পায় সংখ্যাধিক্যের কারনে, কেও যে সেই শিশুর জন্যই কেঁদে ফেরে আর সারাজীবন একা একা ভয়ে ভয়ে। কারো উচ্চতাতে ভয় কারন তার মন-লক্ষ-চোখ সমস্ত ধ্যান টা ই তো খাদের পানে থাকে। কেউ কেউ যখন সুস্থ থাকে সেটা অজান্তেই ভয়ের কারন হয়ে যায়, কারো আবার অসুস্থ হবার ভয়।



নিজেকে আয়নাতে দেখা বড় ভয়ের, সবসময় না হলেও সেটা কিন্তু কম ভীতী দায়ক নয়, কারন নিজের ন্যাংটো কদাকার রুপ কে ত আমরা মানতে চাই না সকল সময়, তাই ওই রুপ চোখের সামনে এলেই ভয়ে শিউরে উঠি।

বাকি অনেক অনেক কিছুই রয়ে গেলো, আসলে এই ভয় নিয়ে কিছু লিখতে বসাটাও বেশ ভয়ের, সেটা এখন টের পাচ্ছি। তবে যৌনতা নিয়ে কিছু না বললেই নয়। মানবের এটা এতোটাই গোপনীয়তাতে ভরা যে, সকল সময় ই প্রকাশ্যে আসার ভয়ে আমরা প্রত্যেকে ভীত, তাতে তিনি যদি গনিকা হন তাতেও। আর এই ভয়ে ভয়ে থাকাটা এ এক আশ্চর্য সুখ, কিছুটা ভয়াবহ ও বলা যায়।


আর সব শেষে যেটা পরে থাকে সেটা হল অবিশ্বাসের ভয়। যেটা মৃত্যু ভয়ের থেকেও যন্ত্রনা ময়, মৃত্যু তো কয়েকটা মুহুর্তের যন্ত্রনা, আর অবিশ্বাসের জ্বালার জন্য সৃষ্ট ভয়, প্রতিটা শ্বাস-প্রশ্বাসে মৃত্যুর শীতলতা অনুভব করিয়ে দেয়। সেটা স্বামী-স্ত্রী, প্রেমিক প্রেমিকা, পিতা পুত্র, মালিক কর্মচারী, বন্ধুতে বন্ধুতে, সম্প্রদায়ে সম্প্রদায়ে, ভাইয়ে ভাইয়ে, নানা রকমের ভয়। আর এক এক সময় নিজেকেই যখন অবিশ্বাস্য লাগে, নিজের প্রতি টি অঙ্গ প্রত্যঙ্গ কে ভয় লাগে, তখন ভয় টা যন্ত্রনা তে পরিতন হয়, নিয়ন্ত্রন হারানোর যন্ত্রনা।



ভয় তাই জয় করা যায় না। এভারেষ্টের চুড়াতে পৌছানো গেলেও বেঁচে ফেরার ভয় টা কিন্তু চরম ভাবে থেকেই যায়। কারন আমাদের সহ্য শক্তি সীমিত কিন্তু ভয় পাওয়ার কোন সীমা নেই।আমি আরো কিছু হয়তো লিখতাম, কিন্তু পাঠক কুলের ধৈর্য থাকবে কি না সেই ভয় টা ও থেকেই যায়। উন্মাদ কে আবার সুস্থ ভেবে নেবার ভয়।

বেশ ভয়ার্ত পরিবেশের মধ্যে ভয়ে ভয়েই এই লেখা।


চলুন সবাই ভয় কে ম্যানেজ করে নিয়ে ভয়াবহ এই পরিস্থিতি গুলোকে ভূত কালে পরিনত করে দিয়ে, নতুন কালের ধরে ঝাপ দিই।



(উন্মাদীয় বানানবিধি তে দুষ্ট)
উন্মাদ হার্মাদ।

বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০১৫

উন্মাদের ভাবনাগুচ্ছ ~ ৭

উন্মাদের ছড়া- ছরি
(৭) 


আজ বিকালে, সুর্য্যি মামা
যখন পেল ছুটি,
প্রজাপতিরা ফুলের সাথে 
করছে লুটোপুটি।

আনমনেতে, চেয়ে পাখী
সাঁঝের আকাশ পানে,
“শুনছো পাখী”? অচেনা পুরুষ 
বললো কানে কানে।

চমকে উঠে একলা পাখী
কাঁটা দিলো তার গা’য়,
কিন্তু যে তার আসে পাসে
কেউ কোত্থাও নাই।

চাইলো পাখী শূন্য পানে
চক্ষে বিহ্বলতা,
ওই যে দু...রে, আবছা তারা
সে ই কি কইলো কথা!!

......ক্রমশ 

সোমবার, ১ জুন, ২০১৫

উন্মাদের ভাবনাগুচ্ছ~ ৬


(৬) 

হটাৎ করে আজ কি হোলো!
ব্যাথাতুর এই বুকে!
উত্তেজনায় বাকরুদ্ধ,
অজানা পিরিত সুখে।

রাখবে কোথায় আজকে পাখী
হঠাৎ পাওয়া সুখ,
সবাই কি হয় এতটাই খুশি!
যায় কি ভরে বুক?

পাই কি সবাই, প্রানের প্রিয়
বুক চেরা এই ধন!
নাকি পাখী, একাই সুখি
আকুলপাথার মন।

মানবে না যে, তার পরিজন
বুঝবে না কেও তাকে,
থাকতে হবে একা হয়েই?
হাজার পাখীর ঝাঁকে?

...ক্রমশ 

শুক্রবার, ২৯ মে, ২০১৫

উন্মাদের ভাবনাগুচ্ছ ~ ৫



(৫)


প্রখর রৌদ্র, তপ্ত গ্রীষ্ম
নিঝুম দুপর বেলা,
মন যে পাখীর অসীম পানে
নিজের সাথেই খেলা।

শীতের রাত্রি, আর পাখীরা
ডানা তে মুখ গুঁজে,
অবুঝ পাখী মন মানে না
নিরবে প্রান খোঁজে।

এমনি করেই দিন কেটে যায়
মাসের পরে মাস,
এটাই জীবন ,মেনেই নিলো
ছারলো প্রেমের আশ।

মুচকি হাসে প্রেমের দেবী
দেখে পাখীর কীর্তি।
হৃদ মাঝারে আঁকলো দেবী
ওই তারাটির মুর্তি।

বুধবার, ২৭ মে, ২০১৫

খোলা চিঠি ~ ৭


খোলা চিঠি


বেশ কয়েকদিন আগে আমাদের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ একটা ফেসবুক গ্রুপে একটা ট্রল পোষ্ট হয়, যেখানে আমরা কয়েকজন বিশ্লেষনের অছিলায় এঁড়ে তর্কে জড়িয়ে পরি।

ফলস্রুতি হিসাবে লাভের ঘরে জমা হয়, ব্যাক্তিগত আক্রমন। যুক্তি সেখানে শেষ হয়, মুখ খারাপ বা "loose Talking " এর শুরু হয়।


আমাদের ই এক বন্ধু Soutik Hati এর সাথে আমার, সেটা বেশ বাড়াবাড়ির পর্যায়ে পৌছায়। #সৌতিক বাবু ও, উত্তেজনার বসে আমার উপর রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে, আমার প্রানাধিক প্রিয় অন্যান্য বন্ধু সকল সহ ওই গ্রুপের Admin দের সম্বন্ধেও ও অবাঞ্চিত মন্তব্য করে ফেলেন। রাগের যেটা হয়ে থাকে আর কি।



ফলাফল স্বরুপ #সৌতিক দা গ্রুপ থেকে ন্যায্য কারনে বহিষ্কৃত হন। এবং তার সাথে #সুভম_দাস নামে আরেক বন্ধুর ও একই পরিনাম হয়।



এখন ইনবক্সে নিজেদের মধ্যে, প্রচুর ভালো-কালো আলোচোনার পর আমার মনে হয়েছে, আমি নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্যাক্তিগত আক্রমনে ব্রতী হয়ে ভুলই করেছিলাম। আমার আরো সংযত হওয়া উচিৎ ছিলো ভাষার ব্যাপারে।

ভুল সকলেই করে, আমরা তো মানুষ, ইমোশন গুলোকে কন্ট্রোল করতে পারি না সকল সময়। 


আমার আবেদন, আমার সহ #সৌতিকের অন্যায় টা সকলে নিজ গুনে মার্জনা করে দেবেন। যারা যারা প্রতক্ষ ভুক্তভোগী আবেদনটা সকলের কাছে। 


উন্মাদ হার্মাদ

রবিবার, ২৪ মে, ২০১৫

উন্মাদের ভাবনাগুচ্ছ ~ ৪



(৪)

একাকীত্বের শিকল থেকে
মুক্তি পাবার জন্যে,
মাতাল নেশায় মত্ত পাখী
বিরহ কাতর কন্যে।

পিছনে পাখির সোনার খাঁচা
আপনজনে ভরা,
ভয়াল শাসন, উড়তে বারন,
নিষেধ মানায় গড়া।

ছোট্ট পাখী, আঙিনা জুরে
গুমরে মরত একা,
রক্তচক্ষুর আড়ালেতে প্রেম
এই বুঝি দিলো দেখা।

আষাঢ় কালে, আকাশ ভেঙ্গে
নামত যখন ধারা,
মনের ঘরে নিঃস্ব পাখী
কেঁদে’ই পাগলপারা।

লেবুদার ষষ্টি বিলাস

ছবিঃ ইন্টারনেট 

ষষ্টীবিলাস 

জামাইষষ্টীর বাজার।

সকাল থেকেই বেশ সাজো সাজো রব। বাঙালীর আপামর হাঘরে স্বামীর দল সকাল থেকেই আজ চরম মুডে। আমাদের লেবু দা ই বা আর বাদ যাই কেন? দর্পনারায়ন মল্লিক, নামটা শুধু রেশন কার্ড আর ভোটের ফটোতেই আছে, বাকি সবাই ই লেবু বলেই ডাকে, এমন কি ছেলে ‘মুঙলা' ও যে  লেবু দা বলে, সে কথা আগেই বলেছি। বিল্বমঙ্গল এর মত একটা সুন্দর নামটাকে যে বেমালুম চেপে গিয়ে, পার্মানেন্ট মুঙলাতে এসেই দাড়িয়েছে সেটা কারো খেয়াল ই করা হয় নি।

এই গরমে বিভিন্ন অপিসে গদিতে জীবনবিমাপত্র বেচার ঘানি কল থেকে একদিনের অতরিক্ত পাওয়া ছুটি টা যাও বা পাওয়া যেত, রোববার পরে সেটাও মাটি। তাতে করেও, মেঝেতে খালি গায়ে শুয়ে শুয়ে বিড়ি টেনে, মাথার গোড়ায় টেবিল ফ্যান চালিয়ে কাটিয়ে দেবে ভেবেছিলো। কিন্তু ভোর রাত থাকতেই বিঘ্নেশ্বরী দেবীর রুদ্র মুর্তীর কাছে মুড টা নেতানো পাঁপর হয়ে গেল। স্ত্রী মানে তো স্বামীর কাছে মোনোরঞ্জনা, যেখানে মন আর রঞ্জন বৌদিমনির দু- দশ মাইলের মধ্যে নেই। শুধু বাপের বাড়ির পদবি সুত্র প্রাপ্ত সিংহ টার কেশর ই উত্তোরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সারা বচ্ছর বউয়ের মুখঝামটা আর নেতিয়ে পরা জীবনে যে কটা হাতেগোনা দিন আঁশটে পিরিত উথলে পরে, ষষ্টীর দিন তার একটা। বউ আজ সক্কাল সক্কাল চান টান করে নিয়ে সেই বিয়ের সময় কার সেরা শাড়ী টা পরে নিয়ে গলায় পাওডার, হাতে নখপালিস, ঠোঁটে লিপস্টিক  গালে স্নো-ক্রিম, স্যাম্পু করা চুল খুলে এলোকেশী সেজে, দরদর করে ঘামতে ঘামতে হাঁক পারছেন “বলি, ও মুকপোড়া মিনসে? পাছাকাত কতে তো অনেক ঘুমুলে, এবার তো উটে পরো, লুচি পাতে পরার আগে পৌছাতে হবে না কি?” ইত্যাদি বলতে বলতে মুঙলা কে হিরহির করে টানিতে টানতে নিয়ে গেল, জিন্সের প্যান্ট টা পরানোর জন্য, কশার ছোট মামা বমু, মানে ব্যোমকেশ, তার একটা বাতিল চসমা সে এক কোন কালে, লেবুদাকে গিফট করে ছিলো, ওটাই আজ মুংলার সম্পত্তি, ডান্ডাতে শুধু ছোট্ট করে দড়ি বাঁধা।

মেয়েদের সামনে পরিক্ষা, সুতরাং তারা এ যাত্রায় বাবার সঙ্গী হতে পারলনা। লেবু দা প্রস্তুত, একটা হ্যান্ডেল ওয়ালা ব্যাগ, একটা বিগ সপার, আর একটা ঝোলা ব্যাগ নিয়ে। শ্বশুরের দেওয়া এক মাত্র পছন্দের জিনিস , ১২ বছরের পুরানো ফ্যাটফ্যাটে বিকট আওয়াজ ওয়ালা ইয়াম্মা মোটর সাইকেলের কেরিয়ারে বিগ সপারটাকে কষে বাঁধলেন  । আর দুটো ব্যাগ দুপাসে ঝুলিয়ে, চেপে বসলেন, মাঝখানে মুঙলা, আর তার পিছনে সুধা বৌদি, সোয়ামি সন্তান কে সাথে করে নিয়ে, তিন থাক চর্বিওয়ালা পেটটার প্রদর্শনী করতে করতে হুগলি জেলার গুড়াপের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন।

মাঝ পথে মোটর একবারই শুধু দাঁড়ালো মিষ্টি নেবার জন্যে। লেবুদার ইচ্ছা ছিলো বোঁদে নেবার, কিন্তু সুধা বৌদির ভয়ে রসোগোল্লাই নিলো, তবে চড়ুই পাখীর মাথার সাইজের থেকে সামান্য বড় সেই রসগোল্লার কলেবর। তাছারা খুড়তুতো শ্যালিকা লতিকার রজনীগন্ধা সেন্ট শোঁকার জন্যও প্রতিদান কিছু দিয়ে হয়, বেচারি জামাইবাবুর জন্য সেজেগুজে বসে থাকবে যে।

সাড়ে দশটার মধ্যেই পৌছে গেল। বাড়িতে ঢুকতেই একটা গামছা দিয়ে, টাকের ঘাম মুছতে মুছতে... বিনোদবাবু কান পর্যন্ত এঁটো করে হাসতে হাসতে এগিয়ে আসতেই, লেবুদা শ্বশুর বাবাকে টুক করে পেন্নামটা সেরে নিলেন। ততক্ষনে পাকা ফলারের গন্ধ নাকে চলে এসেছে। মুঙলা তো গাড়ি থেকে নেমেই বাগান পানে দে দৌড়। সুধা বৌদিও সোজা হেঁসেল ঘরে, ওখানে বসেই একটা লুচির টেষ্ট করতে করতে মায়ের সাথে সুখ দুঃখের গল্প শুরু করে দিলো। বীরু, গাড়ি থেকে ব্যাগ গুলো নামিয়েই সাইকেল নিয়ে পাড়ার তেঁতুল তলায় ডিউটি দিতে গেল। শ্যালিকা লতিকাই লেবুদাকে সাথে করে নিয়ে বসার ঘর পানে, তারপর গিয়ে সিলিং ফ্যান টা ছেরে দিলো।

আর এটাই লেবুদার সমস্যা, এই গরমে ফুলপ্যান্ট আর জামা পড়ে থাকা যে কি কষ্টের... যাই হোক, খানিক পরেই ‘ভালো আচো বাবা, শরীর সাসতো সব ভালো তো! সুধার শরীর টা দিনদিন কেমন যেন খারাপ হয়ে যাচ্চে বাবা...... ইত্যাদি ইত্যাদি , বলতে বলতেই শ্বাশুরি মায়ের প্রবেশ, বড় খঞ্চা তে খইদইয়ের প্রসাদী মন্ড, গরম লুচি, ঘুগনি, মিষ্টান্ন... আরো কত কি। খেতে খেতে শ্বাশুরি মা অনেক কথাই বলছিলো, খাবারের প্রতি লেবুদার এতো টাই মনঃসংযোগ ছিলো যে, ও সব আর কানেই যাইনি।

সে যাই হোক, বেশ রসিয়ে রসিয়ে টিপে টিপে প্রায় পুরো খঞ্চা টা সাবার করতে করতে, লতিকার কথায় ঘোর কাটলো, “ও জামাই বাবু, কি আর এমন খেলেন? আর দুটো লুচি ত নেন, কমপক্ষে ২ টো মালপো। ততক্ষনে লেবুদার কুঁচকি কন্ঠ সেম পজিসনে এসে গিয়েছে। যাই হোক ডাবের জল টা খেতে খেতে কোন রকমে আঁচিয়ে এসেই আমতলার টালির ঘড় টাতে এসে ফ্যান টা চালিয়ে চিৎপটাং হয়ে শুয়ে পড়লো। এক তলার সিমেন্টের পাকা ছাদ যা গরম, কাঁচা ডিম রাখলে, কিচ্ছুক্ষনের মধ্যেই হাফবয়েল হয়ে যাচ্ছে।

এতোক্ষন টানা বাইক চালানো, তার উপরে সুধাবৌদিকে নিয়ে টেনসান, আর এই গলা পর্যন্ত ঠেসে খাওয়ার ফলে, চোখ বুজতেই ঘুমে শুরশুরি দিতে লাগলো। ঘুম টা একটু গাঢ হতেই, লুচি গুলো কোথা থেকে সব জীবন্ত হয়ে গেল, আর বিভিন্ন রকমের কৈফিয়ত দাবি করতে লাগলো।



ওই ফুলো লুচি গুলো বোধহয় মহিলাই হবে, ইনিয়ে বিনিয়ে নানা ধরনের ঝগড়া দেখে অন্তত লেবুদার তা ই মনে হলো। লুচির আরো কাহিনি ছিলো, সে ঘটনা আরেকদিন বলবো না হয়।




প্রচন্ড একটা ধাক্কা খেয়ে লেবুদা ধরফরিয়ে উঠে বসলো, “ মরণ, ঘাটের মড়া... যক্কোনি দেকচি, তক্কোনি শুদু ঘুম, ঠাকুর... সেই তালে মুংলার জন্ম না হলে , আমি বোধহয় নিঃসন্তানই থেকে যেতাম” এই কথাটা ঝড়ের বেগে পুকুর ঘাটের দিকে মিলিয়ে গেলো। বলার বাহুল্য রাখে না যে... কথা গুলো সুধা বৌদির। আর মেয়েদের অনুপস্থিতিতে তাদের কথা বেমালুম ভুলে মেরেছে।


লেবুদা কুয়ো তলাতে গিয়ে স্নান সেরে ফিরে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো সোয়া তিনটে।



দুপুরের খাবারে শ্বাশুরিকুল বাদে, শ্বশুরেরা দুই ভাই, শ্যালক শ্যালিকা সহ সকলেই দাওয়ার বারান্দায় চাটাই পেতে এক সাথে খেতে বসলো। সে নানা রকমের আয়োজন। এমনিতেই ফলাহার টা বাদ গেছে বলে শ্বাশুরি মায়ের কষ্টের শেষ নেই। লেবুদা চিরকাল আমাশা আর গ্যাসের রোগে ভোগা ব্যাক্তি। তবে তেলেভাজার প্রতি শুধু দুর্বলতা টা রয়ে গেছে।


নানা ধরনের রেগুলার খাবারের সাথে, কচি পাঁঠার মাংসের কোর্মা, চিতল পেটির কালিয়া, চিংড়ীর মালাইকারী , ইলিশের পাতুরি ছিলো অন্যতম। আর শেষ পাতে ছিলো গোটা মিষ্টান্ন ভান্ডার। লেবুদার পেটে লুচিরা যেভাবে বিদ্রোহ ঘোষণা করে বসে ছিলো, এই পদ গুলো র উপর তেমন সুবিচার করতে পারলো না। সব শেষে কোল্ডড্রিংস, যদিও গরমের চোটে সেটা আর যাই হোক কোল্ড ছিলো না। 

লেবুদার যদিও আবার শোবার ইচ্ছাই ছিলো, কিন্তু লতিকার অনুরোধ আর সুধাবৌদির স্বলজ্জ চোখরাঙানী উপেক্ষা করতে পারলো না। বিকালে ফুচকা খাওয়াতে নিয়ে যেতেই হলো। লেবুদা শুধু মাত্র একটা পান খেলো।

সন্ধ্যে বেলায় একটু দূর্গামন্ডপের আটচালায় ছোঁয়া দিয়েই সাততাড়াতাড়ি শ্বশুরের ঘরে ফিরে এলো। মনে একটু রসের সঞ্চার হয়েছিলো। মুংলা নিশ্চই তার দিদার কাছের শোবে। আর বিঘ্নেশ্বরীও নিশ্চই তাকে আজ অন্তত মানা করবে না। 

সুতরাং আজ মনে হয় চান্স আছে।



দুঃখের ঘটনা টা হলো যে, সুধা বৌদি তার ওজন নব্বই ছোঁয়ার পর থেকেই বড্ড ফিগার সচেতন হয়ে গেছেন। তাতে লাভের কি হয়েছে তার হিসাব অবশ্য কেও রাখেনি, কিন্তু লেবুদার কপাল যে ফুটো হয়েছে, সেটা বলাই বাহুল্য।


সন্ধ্যে বেলা বসার ঘরে ঢুকে, IPL এর ফাইনাল দেখবে বলে টিভিটা অন করতেই, জানালার পাশ থেকে অন্ধকার ফিসফিসিয়ে উঠল। লেবুদা বুঝল এ আওয়ার শ্বশুরের সেই জোড়া পাঁঠা, বীরু- বমুর। জামাইবাবু আমরা একটু পর আসছি, তুমি ছাতের ঘরে গিয়ে বসো, ওখানেই ঠেক বসাবো। বলেই আবার অন্ধকারে মিলিয়ে গেলো।

“তোমরা যুবক ছেলে, সারাদিন কত পরিশ্রম করো, চলো আজ একটু বসা যাক, লজ্জা কোরো না লেবু, এই বয়সে তো আমরা বন্ধুই হলাম নাকি হে...” বললে বলতে মূর্তীমান শ্বশুর বাবা হাজির। বিনোদবিহারি সিংহ। বললেন, ছাতের ঘর পান একটু এসো হে। ও পাড়ার পল্টু মাস্টার আর কবি তীর্থঙ্কর বাড়ুই মহাশয় ও আসবে। ওনারাই সব সব সরঞ্জাম নিয়ে আসবেন ।



আজ লেবু দা কে সামনে রেখে বাপ-বেটা তিনজনেই সুরাশিক্ত হবার প্ল্যান করেছে। আলাদা আলাদা করে। ওদিকে সুধা  বৌদির মনেও আজ লাড্ডু ফুটেছে। বার তিন চার গভীর ভাবে নিজেকে আয়নাতে প্রদক্ষিন করে, তিনিও মানসিক ভাবে প্রস্তুতি নিয়েই ফেলেছেন, আজ বেচারাকে একটা চান্স দেওয়াই যায়।


খানিক পরেই দুই শালা, তাদের দুই স্যাঙাৎ সমেত সমস্ত উপাচার নিয়ে হাজির। লেবুদা ও দু-ঢোক কারণ সুধা কন্ঠস্থ করে ধাতস্ত হতে না হতেই, সিড়িতে পায়ের শব্দ। সিংহ বাবার গায়ের গন্ধ পেয়েই বীরু,  পুরো পল্টন সমেত পগার পার।

“ আরে তুমি তো জামাই, জলসা বসিয়েই ফেলেছো দেকছি... এ হে হে হে... গেলাস টেলাস সব রেডি..., ও পল্টু আমি বলেছিলাম না, আমার জামাই খুব করিৎকর্মা, এখোন দেকচো তো...” এর পর নানা ধরনের সাংসারিক আলাপ-বিলাপের মাঝে, দুটো সড়ে সাতশোর বোতল উদরস্থ করে, চার জনই যথারীতি হুশ খুইয়ে তক্তা তে দেহ রেখেছেন।

রাত্রি একটু গভীর, ঘড়ির কাঁটা ১২ ছুঁই ছুঁই, মনা বৌদি প্রতীক্ষায়, এই বোধহয় লেবু এলো। হাজার হোক বাবার কাছে বসে আছে, লজ্জার মাথা খেয়ে ডাকতেও পারছেনা ...

লেবু দা ও... স্বপ্ন লোকে... আজ বোধহয় চান্স ছিলো...

সক্কাল সক্কাল উঠে ছাদ থেকে নেমেই কোনক্রমে স্নানটা সেরেই লেবুদা ইয়াম্মা নিয়ে একাই ভোকাট্টা। 

আসছে বছর আবার হবে।


(আজ একটু হালকা মুডের, উচ্ছাসের দরুন সৃষ্ট ভাষা গুলো কে নিজ গুনে মার্জনা করিবেন, এক্ষেত্রেও উন্মাদীয় বানানবিধি প্রযোজ্য)

উন্মাদ হার্মাদ
২৪-০৫-২০১৬

শুক্রবার, ২২ মে, ২০১৫

উন্মাদের ভাবনাগুচ্ছ ~ ৩



(3)

তারার আছে গোটা আকাশ।
নেইকো কোথাও মানা,
স্ব-লাজ পাখির সাহষ শুধু
ছোট্ট দুটি ডানা।

প্রানের ধনের প্রতীক্ষাতে
পাখির মর্মে ক্ষত,
তারা কে যে, পেতেই হবে
এই হল তার ব্রত।

পাখির হৃদয়, ব্যাকুল আজি
অনুরাগের ছোঁয়া
প্রতিক্ষার'ই অন্ধকারে
তারা’য় গেছে খোয়া।

প্রেমে বিভোর বক্ষে সুধা
আজ মনে নেই ভয়
পাখি- তারা'র অ-সম প্রেম
হোক অমরক্ষয়।

বুধবার, ২০ মে, ২০১৫

উন্মাদের ভাবনাগুচ্ছ ~ ২


(২)

দিগ্বিদিক শূন্য পাখী
অন্তহীনের পানে,
দৃষ্টি শুধু সমুখ পানে
অধরা সুখের টানে।

অবুঝ পাখী, জানেনা যে সে
তারার কাছে গেলে,
ছোট্ট শরীর ঝলসে যাবে
তারার স্পর্শ পেলে।

তারা’ও ছোটে আলোর বেগে
পাখির আকাশ পান,
আজকে রাতেই পাখির হাতে
সঁপতে হবে প্রান।

প্রণয় নেশায় কোন প্রেমাতুর
ঝিকুটে পেলেছে জ্ঞান!
প্রেমের ভাষা’ই, প্রানের ভাষা,
হৃদ মাঝারের ধ্যান।

...............ক্রমশ


সোমবার, ১৮ মে, ২০১৫

উন্মাদের ভাবনাগুচ্ছ ~ শুরু





যাত্রাশুরু 

পূব আকাশে একটি তারা, 
হন্যে হয়ে ঘোরে..
রাতজাগা ঐ একটি পাখি
আকাশ পথেই উড়ে।

তারা'র - পাখির দুরত্ব টা 
অনেক আলোক বর্ষ, 
পাখি ও তারা, পাগল পারা, 
চাইছে পেতে স্পর্শ। 

রঙীন নেশা পাখির চোখে, 
সাথে, স্বপ্ন এক রাশ, 
চাই সে ছুঁতে তারা কে আজ 
চাই পেরোতে আকাশ। 

তারা'ও ভাবে আজ সে যাবে, 
ছোঁবে পাখির ডানা, 
ছাই হবে সে, আসলে কাছে 
নেই তো যে তার জানা। 

পলকা ডানায় আজ যে পাখির, 
তারকা ছোঁবার সাধ, 
মন্দ ভালোর বিভেদ ভুলে 
আজ যে সে উন্মাদ।

ক্রমশ...

রবিবার, ১৭ মে, ২০১৫

ডিজিটাল বিন্দাস



উন্মাদীয় রবিবাসর
*******************


শীত গ্রীষ্ম বা বরষা, হালতু হোক বা গোবরডাঙা, সকাল ছটার আগে গা ধোয়াটা এক চিরকালীন অভ্যাস নমিতা বৌদির।

বৃন্দাবনদা সাধারনত সাড়ে সাতটার আগে বিছানা ছারেন না। আবগারি দপ্তরের বড়বাবু। ডানহাতে বাঁ হাত সব মিলিয়েমিশিয়ে দারুন রোজগার। তবে ঘুমটা খুবই বেশি। উনার কথায়ঃ –
~আরে বাওয়া আবগারি দপ্তোর বলে কতা, নেশার জিনিস তো, ঘোর তো লাগবেই।
অকাট্য যুক্তি, তাবলে এতো ঘুম!!
বৃন্দাবন দাশগুপ্ত, উদারমনষ্ক সামাজিক প্রানী উনি। সমাজের প্রায় প্রত্যেক কাজে উনি নিজের কন্ট্রিবিউশন রাখেন, মানে যে গুলো ওনার কাছ পর্যন্ত এসে পৌঁছায় আর কি। তা সে কালী পুজোর আরঙ হোক বা কারো মেয়ের বিয়ে, ২১ টাকা বরাদ্দ আছেই, তবে ওর বেশী যদিও কাওকে দেন নি আজ পর্যন্ত। উনি প্রায় সকল ধর্মেই বিশ্বাস করেন। ভুডু মন্ত্রবিশ্বাস থেকে ফকির বাবার তেলপড়া বা তারাপীঠের সিদ্ধ বশীকরণ মাদুলি, সবেতেই ওনার অবাধ বিচরন। তবে উনি নিজেকে নিও-সেকুলারিজমের এক জন অগ্রগন্য দূত ভাবতেই পছন্দ করেন।
উনি এক গ্লাস গোমূত্রে এক ছিপি “যমযমের জল” মিশিয়ে অনায়াসে খেয়ে ফেলেন, দার্জিলিং গিয়ে ক্যাভেন্টারে বসে হট চকোলেটের সাথে পর্ক রোল যেমন খেয়েছেন, তেমনই স্বস্তার বিফ বিরিয়ানি তো ওনার সপ্তাহান্তের সান্ধ্যকালীন খোরাক। কিন্তু উনি নিজেকে তেমন প্রকাশ করতে পারেন না, মিশুকে বলে তেমন খ্যাতিও নেই। নিজেকে এক সময় উত্তম কুমার মনে করতেন, তবে এখন সে যুগ গেছে।
সেকুলারিজমের বিভিন্ন ট্রিটমেন্ট নিয়েই তার তার দিনাতিপাত হয়। ছেলের নাম রেখেছেন আব্দুল দাশগুপ্ত, মেয়ের নাম জয়শ্রী মূর্মু। নার্সারি স্কুলে পড়া ছেলের তেমন সমস্যা না হলেও ষোড়শী কন্যার নাম নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই। চারধাম যাত্রা শেষ করেছেন সে কবেই, এর ফাঁকে আজমীঢ় টাও সেরে ফেলেছেন। স্বয়ংসেবক সদস্য তাও প্রায় বছর দশেক, আর নিমন্ত্রন না করলেও জমিয়তে উলেমার মিটিং মন দিয়ে শোনেন। বছরে এক আধটা রোজাও করেন। রবিবার নিয়ম করে চার্চে যান আবার সোমবার সরনার চর্চাও করেন। তবে রাজনীতি উনি সহ্য করতে পারেন না। ডান বাম বা রাম, সবেতেই আপত্তি। বরং উনি পুরাতন রাজত্ব প্রথাতে বিশ্বাসী। উনার মতে রাজনীতিতে সাধারন মানুষের মাথা ঘামানোর ফলে নাকি মানুষের বুদ্ধির বেশিরভাগটাই ওই কাজে ব্যাবহৃত হচ্ছে। মানুষ অনেক বেশী স্বার্থপর হয়ে গেছে।
ওনার ইচ্ছা ছেলেকেও নিজের মত লিবারাল বানাবেন। শেখার জন্য আর আগ্রহ মেটেবার জন্য ধর্মপালন করুক সে, অন্ধ বিশ্বাসের পাঁকে যেন সে জড়িয়ে না যায়, এই তার ইচ্ছা। সমকামিতার উপর উনার পূর্ন সমর্থন থাকলেও, ছেলের ব্যাপারে যথেষ্ট রক্ষণশীল, অন্তত এই নির্দিষ্ট ব্যাপারটাতে, নিজেও কখনো ওই পদ্ধতি করেননি। পাড়াপড়শি বা আত্মীয়স্বজন রীতিমত অতিষ্ট হলেও, বৃন্দাবনদা কিন্তু নিজ সিদ্ধান্তে অবিচল। এবং অত্যান্ত স্যাটেস্ফায়েড। আজ পর্যন্ত উনি সোশ্যাল মিডিয়ার জালে বন্দি হননি, ওনার মতে সেটা আধুনিক হলেও ওতে নাকি কর্মক্ষমতা ও ভাবার ক্ষমতা হ্রাস পায়, তাই আজও উনি অবসর যাপনে লেখা লেখির ফাঁকে দাবা খেলতেই বেশী পছন্দ করেন। হাজার হোক সেকুলার বলে কথা।
যদিও অনেকেই জানেনা, তবুও ওনার একটা ডাকনাম আছে, সেটা বৃন্দাবনদা নিজেই নিজেকে দিয়েছেন, নিজের নামটা একটু ছোট করে নিয়ে বিনদাশ করে নিয়েছেন। এ নাম নিয়ে তার গর্বের শেষ নেই।

নমিতা বৌদির অবিশ্যি অন্তহীন অভিযোগ।
~বুড়ো মিনশে, আপিস থেকে আসা ইস্তোক টিবিটার পিচোনে, আর তাপ্পোর খেয়েদেয়েই মরন ঘুম। বলি ঘরে কি আমি নেই? যার ঘরে এমন তাজা টগবগে যুবতি বউ, সে ঘুমায় কি করে? আমি ভাবি এই মিনসেই কি সে? যে সোহাগ করে নাগোরদোলায় আমার আদর করেছিলো, নাহলে আমি বিয়ে করতুম এই উলাউঠো ভাম টাকে। আজ এতোদিন হয়ে গেলো, একদিনও কি নিজে থেকে সোহাগ করতে নেই! কি ই বা আমার বয়স।
এখন তাহলে নিন্দুকে প্রশ্ন তুলবে জয়শ্রী-আব্দুল তাহলে কোত্থেকে এলো! বৃন্দাবনদার সোহাগ না থাকলে ওটা কার সোহাগের ফসল? সে যাই হোক উপাই কি দেশে কম।
নমিতা বৌদি তখন মাধ্যমিক পরিক্ষা দিয়ে মেজোমাসির বাড়ি উলুবেড়ে বেড়াতে গেছিলো। তখন অবিশ্যি নমিতা সান্যালই ছিলো, নমিতা বৌদি হননি। সেখানেই বৃন্দাবনদার দিদি, বৌদিকে দেখে নিজের ভাইয়ের জন্য পছন্দ করেন। বয়সটা একটু বেশিই ছিল নমিতা বৌদির তুলনায়। বৃন্দাবনদার সাঁইত্রিশ আর বৌদির তখন ষোলো। এর পর দু চারদিন কুটুম্বিতে ব্যাস। চার হাত এক হয়ে গেল। এখন বৌদি ৩১ আর দাদা ৫২। তবে বৃন্দাবনদা দা একটু কেয়ারলেসই বটে। চুল সব পেকে গেছে। ছিপছিপে বেতের মত ঋজু শরীরে একঝাকা ওই চুলের বস্তা দেখতে কিন্তু বেশ লাগে।
আর পাঁচটা বাঙালী সংসারের গৃহবধুর যা হাল, নমিতা বৌদিও তার ব্যতিক্রম নন। মাত্র ৩১শে ই ৪৮ এর ধক। চুলে প্যারাসুট নারকেল তেল, শীতে মুখে মাখার ক্রিম (যা হোক একটা হলেই হয়), আর সর্বহরা বোরোলিনই ভরসা। সুতরাং সরষের তেলে জারিত নধর শরীরটা গোসাপের মত খসখসে না হলেও কম কিছু নয়। তার উপরে নখের কোনগুলোতেও বাসনমাজা সাবান, রান্নার মসলা, আর ডিটারজেন্টের পার্মানেন্ট কালচে নিশান গিন্নি হবার সকল নিদর্শন জাহির করছে।
এমনিতে বাড়িতে বৌদি নাইটিই পড়েন, তাতে দশচাকা গাড়ির হাওয়া ভর্তী টিউবের মত থলথলে চর্বির ব্লাডার কে সাময়িক ভাবে আড়াল তো করাই যায়। শাড়ির সাধ্যি কি, ওই চর্বির শোরুমকে নিজের নিয়ন্ত্রনে রাখে। তবে ওনার ওড়না সামলানোর দায় নেই, অনিয়ন্ত্রিত চর্বির মন্ত্রবলে শ্রীফল প্রায় নাভিকুন্তক স্পর্শ করেই যেত , যদি না মধ্যপ্রদেশ এতটা সঞ্চয়শীল হতো। তবুও বৌদির ফিগার নিয়ে একটা চাপা গর্ব আছে। নিন্দুকেরা হিংসে করে বোলে, বাপের বাড়ি গিয়েও, উনি কলের জলেই স্নান করেন, সাধের পুকুরের পাড়টিও মাড়ান না। এই ওবেসিটির জন্য ডাক্তারও দেখিয়েছেন, থাইরয়েডের সমস্যা। এই ভাবেই দিন কেটে যায়। তবে বৌদির একটা মহৎ গুন আছে, উনি বৃন্দাবনদাকে শত গালমন্দ করুক, ভুলেও বিবাহ বহির্ভুত সম্পর্কের মত জটিল সন্দেহের আওতায় মোটেও ফেলেন না।
বৌদি আজ ইচ্ছা করেই আর দাদা কে ঘুম থেকে উঠালো না। ফলাফল যা হবার তাই, আফিস যাওয়া ফক্কা হয়ে গেল। তাতে যে বৌদির কিছু লাভ হবে না হয়, ওই – শুধু একটু মনের ঝালটা মেটানো হলো। সাড়ে নটা নাগাদ দাদার ঘুম ভাঙতেই তড়াক করে হুড়মুড়িয়ে বিছানা থেকে নেমে দেখেন যা সর্বনাশ হবার হয়ে গেছে। খানিক তন্ত্রাচ্ছন্ন হয়ে মনমরা ভাবে বসে থেকে প্রাতঃকালীন জরুরী কর্মসম্পাদন করে, রেডি হয়ে বাজারের ফলে নিয়ে বাজার পান চললেন। যদিও গতকাল রোববারই বাজার করেছেন, তবুও। সময় টা তো কাটাতে হবে নাকি!!
বাজার থেকে ফিরে এসে খানিক মিত্তিরদের রোয়াকে গিয়ে বসলেন। সোমবারের দিন, তাই কেউই নেই। তাছারা আজ কালকার বখাটে ছোঁড়া গুলোও তো সারাদিন মোবাইল নিয়ে খুটখাট করতেই থাকে, রকের আড্ডা আর কোথায়? উদাস মনেই কি যেন কি ভাবতে ভাবতে বৃন্দাবন দা জুলপিতে তা দিচ্ছিলো। হঠাত দেখে সামনে দিয়ে ন্যাপলাটা যাচ্ছে।
ন্যাপলা সরখেল, এক সময় স্বঘোষিত ত্রাস ছিল এলাকার মেয়েদের। ওর বিচ্ছিরি তোতলা সিটি থেকে, ক্লাস সেভেনের টুম্পা থেকে খগেনের মা আরতি মাসি অবধি বাদ যেত না। বেশ কয়েকবার পাবলিকের হাতে কাঠক্যালানি খেয়ে ওই কাজ থেকে সম্প্রতি অবসর নিয়েছে। ও এখন খোঁড়া নীলুর চ্যালা হয়ে পকেটমারির ট্রেনিং নিচ্ছে।
বৃন্দাবনদার ডাক দেখে ন্যাপলা উদ্ধশ্বাসে পালাবে, এমন সময় বৃন্দাবনদাই চেচিয়ে বলে উঠলেন, আরে আর রে পাগলা আয়, একটু সুখের দুখের গপ্পো করি। আয় আয়, নে একটা বিড়ি নে। একাই তো আমি বসে আছি। ন্যাপলা কি রকম যেন একটা ভরসা পেল। আস্তে আস্তে গুটিসুটি মেরে বৃন্দাবনদার পাশে গিয়ে চুপটি করে বসে পড়লো। বৃন্দাবনদাও প্রতিশ্রুতি মত একটা বিড়ি দিয়ে , হালহকিকৎ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করতে যাবে, ঠিক এমন সময় এক বিচিত্র গগনভেদী আওয়াজে থতমত খেয়ে হিচকি শুরু হয়ে গেল বৃন্দাবনদার। যেন কানের ককলিয়াতে একটা ড্রিল মেসিন লাগিয়ে ছেঁদা করছে। যাই হোক প্রাথমিক বিহ্বলতা কাটার পর আসল ব্যাপারটা উদ্ধারর করা গেলো। ওটা ছিলো ন্যাপলার মোবাইল ফোনের নোটিফিকেশনের আওয়াজ।

বৃন্দাবনদা আর রিস্ক নিতে পারলেন না। বললেনঃ-
~ন্যাপলা, ভাই তোর ম্যাসেজের যদি এই আওয়াজ হয়, বাইচান্স ফোন এলে তো আমি অক্কা পাবো। একেই হাই প্রেশারের রুগী, তার উপরে সুগার।
ন্যাপলা অভয় দিয়ে বললো, ওর ফোনে কোন ফোন আসেনা, ওটা শুধু ফেসবুক করার জন্য। বৃন্দাবনদা যদিও অতশত বোঝেনা, তবুও সময়তো কাটাতে হবে তাই অগত্য বুঝতে লাগলো। নাহলে তো বাড়ি গিয়ে সেই স্থলহস্তি নমিতা বালার খপ্পরে পড়তে হবে। তার চেয়ে বরং ন্যাপলাই ভালো।
~ তা ন্যাপলা, আমায় একটু ফেসবুক শেখা না ভাইটু।

~সেকি, আপনি অপিসার মানুষ, এই সব বোঝেন না। মাইরি একটা লোক বটে আপনি।
বৃন্দাবনদা বুঝে পেলেননা, অফিসারের সাথে ফেসবুকের সম্পর্ক টা ঠিক কি। ওটা তো অফিসে কোথাও কাজে লাগে না। সেটা ন্যাপলাকে বলতেই, ন্যাপলার চটজলদি উত্তর...
~দেসের পোধানমোনতির লাগচে, আর আপনার লাগবে না? এই দেকুন, আমিও পোধানমোনতিরির সাতে আচি। ফেসবুকের মালিক আমাদের পোধানমোনতিরিকে খুব চাটচে। সব তিরঙ্গা করে নিয়েচি আমাদের ছোবি গুলো।

বৃন্দাবনদা বুঝলেন না যথারিতী।
~দে তো দেখি তোর মোবাইলটা, কি বলছিস দেখি আমি একবার।
ন্যাপলা অকপট চিত্তে তার ফোন বৃন্দাবনদার হাতে তুলে দিয়ে, সে আরেক বিপত্তি। আরেকটু হলেই হাত থেকে পড়ে গিয়েছিল আর কি। বৃন্দাবনদার মনে হলো অন্তত কেজি খানিক ভারী হবে বোধহয় , মোবাইলটা টা।
এবার পড়ে বৃন্দাবনদা পুরো ব্যাপারটা বুঝতে পারলেন। ফেসবুক কর্তা আর আমাদের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে কিছু একটা ব্যাপার, সরকারি স্তরে। এবং সৌজন্যমূলক ভাবে তারই একটা বহিঃপ্রকাশ চলছে সোশ্যাল মিড়িয়ার এই মাধ্যমে। বললেন- আমায় একটু শেখাবিরে ন্যাপলা, তোদের এই ফেসবুক। ন্যাপলা বলতে যাচ্ছিলো যে জয়শ্রী ও ইয়ে ইয়ে... কিন্তু চেপে গেলো ব্যাপারটা। হঠাৎ করে মাথায় দুষ্টু বুদ্ধি খেলে গেলো। বললো-
~আপনাকে কয়েকটা ভিটামিল ক্যাপসুল খেতে হবে, নাহলে মাথায় কাজ করবে না ব্যাপারটা। রাত্রে শোবার আগে খাবেন একটা, পরপর তিনদিন। এর পর ইন্টারনেট কানেকসন নিয়ে কম্পিউটারের সামনে বসলেই, আমাদের মত ফটাফট ফেসবুক করতে পারবেন। খানিক বসো, আমি এনে দিচ্ছি। শ খানিক টাকা দাও। বৃন্দাবনদা ও সরল বিশ্বাসে টাকাটা দিয়ে ন্যাপলার মোবাইল ঘাঁটতে লাগলো।
খানিক পরেই ন্যাপলা একটা র্যাবপারে মোড়া প্যাকেট এনে বল্লো, রোদ্রের আলোয় এটা খুলোবেন না। অন্ধকারে দেখবেন, নাহলে এটা খারাপ হয়ে যাবে। ওদিকে তখন প্রায় বেলা একটা। ন্যাপলাকে বিদায় জানিয়ে বৃন্দাবনদা বাড়ি ফিরে এলেন। দেখেন বৌদি পা ছরিয়ে বসে সিরিয়াল দেখছেন। ক্যাপসুল প্যান্টের পকেটেই রয়ে গেলো। নমিতা দেখলে যদি হাসাহাসি করে! স্নান সেরে আসতেই দেখলেন, বৌদি ভাত বেড়ে রেখেছেন। গোগ্রাসে ভাত কটা উদরস্থ করে একটা চাদর গায়ে দিয়ে খাটে শুয়ে পড়লেন। আর হ্যাঁ, এর মাঝেই দু
টো ক্যাপসুল খেয়ে নিয়েছেন। বুদ্ধি বাড়ানোর পন্থাতে আর তর সইছেনা তার। তাই রাত পর্যন্ত আর ওয়েট করে কে!
বৌদি খানিক পর রান্নাঘরের কাজ শেষ করে এসেই দেখেন খাওয়া শেষ। এঁটো বাসনটা কলপাড়ে রেখে, ঘরমোছা ন্যাতা টা নিয়ে উবু হয়ে এঁটো জাইগা টা পুছছিলেন। দাদা ওদিকে ঘুমাবেন বলেই শুয়েছিলেন। হঠাৎ কেমন যেন অস্বস্তি একটা হচ্ছে, ভাবলেন অধিক ভোজনের জন্য হয়তো হাঁসফাসানি হচ্ছে, জলখেয়ে একটু হাঁটাচলা করার জন্য উঠলেন। নিচে মেঝেতে বৌদির দিকে নজর পড়তেই, বিন্দাসদার মনে হল তিনি যেন দেবরাজ ইন্দ্র- আর নাটমঞ্চে নৃত্যপটীয়সী অপ্সরা তার কলা প্রদর্শন করছে সমগ্র দেহবল্লরি দিয়ে।
নমিতা বৌদি বেশী কিছু বোঝার আগেই দাদার টানা হ্যাচড়াতে ততক্ষনে খাটে পৌছে গেছেন, হাতে এঁটো ন্যাতা- কিন্তু সে সব দিকে খেয়ার কার!! গায়ের ঘামের গন্ধ, কেঁদো চর্বির দোকানটা নিয়েই সে কি রমনলীলা। এই অচেনা বৃন্দাবনেদার কীর্তি নমিতা বৌদির যথেষ্ট আশ্চর্য আর কৌতূহল জাগালেও, এই ইচ্ছাটাই তো এতোদিনের তার লালিত ইচ্ছা ছিলো। বেশ একটা তৃপ্তি অনুভব করতে দেখা গেল। বেশ খানিকপর সব শান্ত হল।
ছেলেমেয়ের স্কুল থেকে ফেরার সময় হয়ে এসেছে। ন্যাতানো পাঁপড়ের পূর্বাবস্থায় যথারীতি ফিরে এসেছেন বৃন্দাবনদা, শরীরটার উপর প্রচুর ধকল গেছে যদিও, ফুরফুরে মেজাজে বাগানে বসে একটা অতুলপ্রাসাদী গুনগুন করছেন। বৌদিও এই ভর বিকালে স্নান করতে গেছেন কিছুক্ষণ আছেই। ন্যাপলা এসেছিল, দাদার সাথে আড্ডা মারতে, জানালা দিয়ে উঁকি মারতেই যেটা দেখলো...
এলোমেলো বিছানার চাদর, আর তার উপর লালাঝোলা জাতীয় তরল কিছু দিয়ে ইতস্তত বিক্ষিপ্ত ডিজিটালাইজড নক্সা। বুঝতে আর কিছু বাকি রইলো না।

ডিজিটাল ইন্ডিয়ার সূত্রপাত।
(উন্মাদীয় বানানবিধী সহ)

ফেসবুকীয় সিপিএমঃ ফিউজড আইনগাইডেড কামিকাজে ড্রোন

  ফেসবুকের ‘সিপিএম’ নামক এই চুড়ান্ত আঁতেল ও প্রায় সর্বজ্ঞ গোষ্ঠীটার পূর্ণ বোধোদয় বা পূর্ণ বিনাশ না ঘটা অবধি রাজ্যের বাম নেতৃত্বের খুব বেশী ...