সোমবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৬

সবাক পোষ্টপাঠ

জগদ্বিখ্যাত ননসেন্স কমেডির রচয়িতা প্রণম্য সুকুমার রায়েরবিখ্যাত সৃষ্টি 'অবাক জলপান' নাটকটিকে আজকের ফেসবুকীয় সংস্কৃতির পরিমন্ডলে ভাবার বিনম্র স্পর্ধা... 

চশমা চোখে এক পাঠকের প্রবেশ। আপাতত “স্পর্শযোগ বার্তালাপ” যন্ত্রের মাধম্যে এই অন্তর্জালে প্রবেশ। যদিও মাঝেমধ্যে “শীর্ষ অধিস্থাপন সুবিধাযুক্ত পরিগনক” যন্ত্রও ব্যাবহার করেন। উষ্কখুষ্ক চুল, শ্রান্ত চেহারা সহ প্রজ্ঞাপিত চিত্রে, সুসজ্জিতের ছাপ মোটেই পরিলক্ষিত হয়না

পাঠকঃ নাহ, ভাল পোষ্ট না পেলে আর চলছেনা। সেই ছুটি পরা থেকে ঘেঁটে আসছি, ছুটি শেষ হতে এখনও বেশ কয়েকদিন বাকি । একঘেয়ে চুটকি আর ‘বখরার’ সুতোর জ্বালায় মগজের ঘিলু শুকিয়ে উঠল। কিন্তু পোষ্ট চাই কার কাছে? চেনা যারা আছেন তারা সবই তো সেই সবজান্তা ‘পরিপালক’। অষ্টম শ্রেণীর নমুনা ন্যায় ‘সম্পাদনা’ ‘উপদলচক্র’ সব।

নামিদামি উপদলচক্র সব নিজেদের গর্বেই ফুলে ফুলুরি হয়ে আছে। যে কয়েকটা অমন “পৃষ্ঠগ্রন্থ উপদলচক্র” সন্ধানে ছিল, তারাও ‘অনুমোদনের’ যাঁতাকলে আঁটকে “সম্পৃক্তি অনুরোধ” শীত ঘুম দিচ্ছেপরিপালকদের “ঝাঁকানি” দিলেও সাড়া দেয় না। ‘পেটিকাভ্যন্তরে’ চেঁচাতে গেলে হয়তো বাকি লোকজন জানিয়ে দিয়ে ‘স্থায়ী প্রতিবন্ধন’ করে দেবে। ‘সময়সরণী’তেও তো লোকজন দেখছিনে যিনি পোষ্ট লিখতে পারেন। যাই হোক একটা সুলুকসন্ধান চেয়ে ‘হা-পিত্যেশ’ নাম্নী একটা অধিচক্রে, সমাধানহেতু ‘সুত্র’ খুলিলেন

পাঠক লিখিলেনঃ “মশাই, ভাল ভাল পোষ্ট আর পাই কোথায় বলতে পারেন”?

গুরুভার অনুগামী’ সহ এক ব্যাক্তির প্রথম মন্তব্য

অনুগামীওয়ালাঃ পোষ্টার? পোষ্টার এখানে কোথায় পাবেন? তো ‘চিত্র-বিপনির’ শিল্পকাজ, সে আমার কম্ম নয়। চলচ্চিত্রের পোষ্টার নিতে চান তো অন্তর্জাল থেকে এনে দিতে পারি-

পাঠক : না না না, আমি তা বলিনি-

অনুগামীওয়ালাঃ না... চলচ্চিত্রের পোষ্টার আপনি বলেননি বটে, কিন্তু পোষ্টার চাচ্ছিলেন কিনা, তা তো আর আমার কাছে পাওয়া যাবে না, সেটাই বলছিলুম-

পাঠক : না হে আমি পোষ্টার চাচ্ছিনে-

অনুগামীওয়ালাঃ চাচ্ছেন না তো কোথায় পাব, কোথায় পাবকচ্ছেন কেন? খামকা এরকম করবার মানে কি ?

পাঠকঃ আপনি ভুল বুঝেছেন- আমি পোষ্ট চাচ্ছিলাম-

অনুগামীওয়ালাঃ পোষ্ট চাচ্ছেন তো 'পোষ্ট' বললেই হয়- 'পোষ্টার' বলবার দরকার কি? পোষ্ট আর পোষ্টার কি এক হল? গড আর গডসে কি সমান? গেঞ্জিও যা Gen-Z তাই? চোরকে কি আপনি এঁচোড় বলেন? বিমানের টিকিট কাটতে কী আলিমুদ্দিন যান? আবাপ কিনতে এসে বাপের খোঁজ করেন?

পাঠকঃ ঘাট হয়েছে মশাই। আপনার সঙ্গে কথা বলাই আমার অন্যায় হয়েছে –

অনুগামীওয়ালাঃ অন্যায় তো হয়েছেই। দেখছেন হা-পিত্যেশ অনুগামীদের সাথে সমাযোজন করছি- তবে পোষ্টই বা চাচ্ছেন কেন? আমার অনুগামী সংখ্যা গুরুভারযুক্ত বলেই কী ভাল পোষ্ট এর সন্ধান রাখতে হবে? লোকের সঙ্গে কথা ক‌ইতে গেলে একটু বিবেচনা করে বলতে হয়, বুঝেছেন!

পাঠকঃ  দেখলে! কি কথায় কি বানিয়ে ফেললে! যাক, ঐ বুড়ো ‘স্বরূপ’ দেখিয়েছে, ওকে একবার বলে দেখি।

 

হাতে কলম, কবি সুকান্তের মত গালে হাত দিয়ে অঙ্গবিক্ষেপিত ‘বিকশিত চিত্র’ সম্পন্ন এক ‘বিঘতবৃদ্ধের’ মন্তব্য

বৃদ্ধ: কে ও? ভক্ত নাকি?

পাঠক: আজ্ঞে না, আমি সামাজিক মাধ্যমে নতুন সংযোজিত হয়েছি, নব্য হা-পিত্যেশি- একটু ভাল পোষ্টের খোঁজ কচ্ছিলুম-

বৃদ্ধ: বল কিহে? পূজোর ছুটিতে বেড়াতে যাওয়া ছেড়ে এখেনে য়েচ পোষ্টের খোঁজ করতে? -হাঃ, হাঃ, হাঃ। তা, যাই বল বাপু, অমন পোষ্ট কিন্তু কোথাও পাবে না। খাসা পোষ্ট, তোফা পোষ্ট, চমৎ‌কা-র-র পোষ্ট

পাঠক: আজ্ঞে হ্যাঁ, সেই ছুটি পরা থেকেই ঘাঁটতে ঘাঁটতে বেজায় হাফিয়ে গেছি, ভাল নতুন পোষ্ট আর পাইনে, ভাল ভাল লেখা, পড়ার বড় পাঠ নেশা পেয়ে গেছে -

বৃদ্ধ: তা ত পাবেই। ভালো পোষ্ট যদি হয়, তা দেখলে অধ্যয়ন পায়, নাম করলে পঠন পায়, ভাবতে গেলে পঠন পায়। তেমন তেমন পোষ্ট তো পড়নি কখনো !  -বলি ‘আপন বাপন চৌকি চাপনের’ পোষ্ট চেখেছো কোনোদিন?

পাঠক: আজ্ঞে না, তা চাখিনি-

বৃদ্ধ: চাখনি? অ্যাঃ! ‘আপন বাপন চৌকি চাপ’ হচ্ছে আমার নিজের উপদলচক্র- আদত পোষ্টের জায়গা। সেখানকার যে পোষ্ট, সে কি বলব তোমায়! কত পোষ্ট চাখলাম- মজার পোষ্ট, সাজার পোষ্ট, নাচার পোষ্ট, কাঁদার পোষ্ট- কিন্তু আমাদেরআপন বাপন চৌকি চাপনের’ যে পোষ্ট, অমনটি আর কোথাও পেলাম না। আহা কি সোয়াদ, ঠিক যেন আফিমের গুলি, ঠিক যেন ভাঙের সরবৎ‌!

পাঠক: তা মশাই আপনার পোষ্ট আপনি মাথায় করে রাখুন- আপাতত এখন এই অবসর সময়, যা হয় কিছু নতুন পোষ্ট আমায় পড়ালেই চলবে-

বৃদ্ধ: তাহলে বাপু তোমার সময়সারনীতে বসে পোষ্ট খুঁজলেই তো পারতে! সারা মাসটা ধরে বেকার বেকার পোষ্ট চাইতে আসবার দরকার কি ছিল? 'যা হয় একটা হলেই হল' ও আবার কি রকম কথা? আর অমন তচ্ছিল্য করে বলবারই বা দরকার কি? আমাদের পোষ্ট পছন্দ না হয়, পোড়ো না- ব্যাস। গায়ে পরে নিন্দে করবার দরকার কি? আমি ওরকম ভালোবাসিনে। হ্যাঁ-

রাগে গজগজ করিতে করিতে বৃদ্ধের প্রস্থান

 

সর্বজনীন আর এক হনুগোছের বান্ধব উপস্থিত হইয়া ‘সচিত্র আবেগ ফুটকি’ জাহির করিলেন, নাম ‘তথাকথিত জনপ্রিয়’

জনপ্রিয়: কি হে? এত তর্কাতর্কি কিসের?

পাঠক: আজ্ঞে না, তর্ক নয়। আমি পোষ্ট চাইছিলুম, তা উনি সে কথা কানেই নেন না- কেবলই সাত পাঁচ গপ্পো করতে লেগেছেন। তাই বলতে গেলুম তো রেগে মেগে অস্থির!

জনপ্রিয়: আরে দূর দূর! তুমিও যেমন! জিজ্ঞেস করবার আর লোক পাওনি? ও হতভাগা জানেই বা কি, আর বলবেই বা কি? ওর যে পরামর্শদাতা তথা বন্ধু, সেই গুঁফোটা এক পঞ্চাশ হাজারি ‘পৃষ্ঠগ্রন্থ শিক্ষক উপদল চক্রের’ ‘সহ-নিয়ামক’, সেটাই ত একটা গাধা। ও মুখ্যুটা কি বললে তোমায়?

পাঠক: কি জানি মশাই- পোষ্টের কথা বলতেই মজার পোষ্ট, সাজার পোষ্ট, নাচার পোষ্ট, কাঁদার পোষ্ট, ‘আপন বাপন চৌকি চাপনের’ পোষ্ট, 'লে পাঁচ রকম ফর্দ শুনিয়ে দিলে-

জনপ্রিয়: হুমঃ- ভাবলে খুব বাহাদুরি করেছি। তোমায় বোকা মতন দেখে খুব চাল চেলে নিয়েছে। ভারি তো ফর্দ করেছেন। আমি লিখে দিতে পারি, ও যদি পাঁচরকম পোষ্টের নাম বলে থাকে তা আমি এক্ষুনি পঁচিশটা বলে দেব-

পাঠক: আজ্ঞে হ্যাঁ। কিন্তু আমি বলছিলুম কি একটু সুপাঠ্য পোষ্ট-

জনপ্রিয়: কি বলছ? বিশ্বাস হচ্ছে না? আচ্ছা শুনে যাও। কবিতার পোষ্ট, বিরহের পোষ্ট, অনুগল্পের পোষ্ট, সংগ্রীহিত পোষ্ট, সমকালীন পোষ্ট, উষ্কানীমূলক পোষ্ট, ভক্তিমূলক পোষ্ট, সুড়সুড়ি পোষ্ট, চুরিকরা পোষ্ট, আবেগময় পো-ষ্ট, উন্মাদীয় পো-ষ্ট, দেশপ্রেমিক পো-ষ্ট, অবুঝ পো-ষ্ট-

মনে ধরলনা বুঝি?

-তাহলে আরো শোনো- চমৎকার পোষ্ট, খুব সুন্দর পোষ্ট, অসাম পোষ্ট, হেব্বি পোষ্ট, ওয়াও পোষ্ট, এক্সিলেন্ট পোষ্ট, অনবদ্য পোষ্ট, সুপার্ব পোষ্ট, দা-রুন পোষ্ট, ব্যা-পক পোষ্ট, ছুঁয়ে গেল পোষ্ট- কটা হল? গোনোনি বুঝি ?

পাঠক: না মশাই, গুনিনি- আমার আর খেয়ে দেয়ে কাজ নেই-

জনপ্রিয়: তোমার কাজ না থাকলেও আমাদের কাজ থাকতে পারে ত? যাও, যাও, মেলা বকিও না। -একেবারে অপদার্থের একশেষ! (একটা নিন্মাভিমুখী বৃদ্ধাঙ্গুলির চিত্রাঙ্কন সহ পলায়ন)

 

পাঠক : নাহ, আর পোষ্টফোষ্ট চেয়ে কাজ নেই- এগিয়ে যাই, দেখি কোথাও পুরাতন পোষ্ট খুঁজেখাঁজে পাই কি না

 

সরিষার তেল দিয়ে পরিপাটি আঁচড়ানো চুল, মধ্যিখানে সিঁথি, কবিকবি চেহারার- পাঞ্জাবি পরিহিত এক সাদাকালো প্রদর্শিত চিত্রের ভদ্রলোক উপস্থিত

লোকটি নেহাৎ‌ এসেই পরেছে যখন, একটু জিজ্ঞাসাই করে দেখি। বলি ও জ্যেঠু, আমি নতুন হা-পিত্যেসি, অনেকক্ষন থেকে সন্ধান করছি, বলি একটু ভাল নতুন পোষ্ট মিলবে না কোথাও?

কবিবর: কি বলছেন? জ্যেঠু? বেআক্কেলে নচ্ছার বেল্লিক, আমাকে জ্যেঠু মনে হল! আমি হলেম শান্তিনিকেতনী সাজে উঠতি কবি-

পাঠকঃ আজ্ঞে ঘাট হয়েছে, মাফ চাইছি কবিবর, দয়াকরে যদি আপনার দ্বারা একটা পোষ্টের সন্ধান মিলে যায়-

কবিবরঃ 'পোষ্ট' মিলবে না? খুব মিলবে। একশোবার মিলবে! দাঁড়ান, এক্ষুনি মিলিয়ে দিচ্ছি- পোষ্ট- রোষ্ট- টোষ্ট- ঘোষ্ট- মোষ্ট- কোষ্ট- মিলের অভাব কি ?

রিপোষ্ট-ল্যাম্পপোষ্ট-ভ্যাকেন্সিপোষ্ট

পিওনপোষ্ট-স্তম্ভপোষ্ট- পুলিশপোষ্ট‌,

বিরহপোষ্ট ছল্‌‌ছল্‌‌ ,

মজারপোষ্ট কল্‌‌কল্‌‌ ,

হাসি শুনি খল্‌‌খল্‌‌,

অ্যাঁকাপোষ্ট বাঁকাপোষ্ট,

কম্পোস্ট, মেলপোষ্ট, গোলপোষ্ট-

-কত চান?

পাঠক: এ দেখি আরেক পাগল! মশাই, আমি সে রকম মিলবার কথা বলিনি

কবিবর: তবে কি রকম মিল চাচ্ছেন বলুন? কি রকম, কোন ছন্দ, সব বলে দিন- যেমনটি চাইবেন তেমনটি মিলিয়ে দেব

পাঠক : ভালো বিপদেই পড়া গেল দেখছি- মশাই ! আর কিছু চাইনে, -আরো বললেন শুধু একটু ভাল পোষ্ট পড়তে চাই !

কবিবর: ও বুঝেছি। শুধু একটু ভালো পোষ্ট পড়তে চাই। এই তো? আচ্ছা বেশ। এ আর মিলবে না কেন!

- শুধু একটু ভাল পোষ্ট পড়তে চাই

-পঠন তেষ্টা, প্রাণ আই-ঢাই।

-চাই কিন্তু কোথা গেলে পাই

-বল্‌‌ শীঘ্র বল্‌‌ নারে ভাই ।

কেমন? ঠিক মিলেছে ত?

পাঠক: আজ্ঞে হ্যাঁ, খুব মিলেছে-খাসা মিলেছে- নমস্কার। নাহ, বকে বকে মাথা ধরিয়ে দিলে- ‘দর্শন চুঙ্গিতে’ একটু গান শুনে মাথাটা ঠাণ্ডা করে নি(একটু পংক্তি বিরাম নিলেন)

কবিবর: (খুশী হ‌তইয়া লিখিতে লিখিতে) মিলবে না? বলি, মেলাচ্ছেটা কে? সেবার যখন কালীপিসি 'ডব্বা ডব্বা রব্বা' কিসের সঙ্গে মিল দেবে খুঁজে পাচ্ছিল না, তখন 'তোবা তোবা আব্বা' বলে দিয়েছিল কে? আব্বা কাকে বলে জানেন ত? দুধেল গাই এর বাবা হলো ‘আব্বা’। (পাঠককে ‘পংক্তি অভিমুখে জাগ্রত’ না দেখিয়া) লোকটা গেল কোথায়? দুত্তোরি! (প্রস্থান)

 

পংক্তি অভিমুখে জাগ্রত’ হইতেই, বাদামি কালোতে ছাপা চুল, চোখ রসগোল্লার মত গোল করে চাহনি, হাঁসের মত ঠোঁট করা উর্ধমূখী প্রদর্শিত চিত্র সম্বলিত, একটি মামনি পছন্দ বোতামে ঠোকা দিয়ে উপস্থিতি জানান দিলেন

মন্তব্যে লিখলেন-

- পৃষ্ঠগ্রন্থের তিন ভাগ পোষ্ট চিত্র, এক ভাগ রচনা। দীর্ঘ রচনাধর্মী পোষ্ট বিরক্তিকর, অতি বিস্বাদ

পাঠক: ওহে খুকি! একটু এদিকে শুনে যাও তো?

রুক্ষমূর্তি, সবজান্তাভাব, মাথায় টাক, ফরাসী দেশীয় কায়দায় ছাঁটা দাড়ি, খুকির ধর্ম দাদাই পরবর্তী মন্তব্যটি করলেন

ধর্ম দাদাই: কে হে? আলাপচারীর সময় ডাকাডাকি করতে এয়েছ?- (পাঠককে দেখিয়া) ও! আমি মনে করেছিলুম পুরাতন কোন সভ্য বুঝি। তা আপনার কি দরকার?

পাঠক: আজ্ঞে, পুরাতন আর একঘেয়ে পোষ্ট পড়ে পড়ে বড় মানসিক কষ্ট পাচ্ছি- তা একটু নতুন ভাল পোষ্টের খবর কেউ বলতে পারলে না

ধর্ম দাদাই: (তাড়াতাড়ি পেটিকাভ্যন্তরে বার্তা পাঠিয়ে) কেউ বলতে পারলে না? আসুন, আসুন। কি পোষ্ট চান, কি জানতে চান, বলুন দেখি? সব আমায় জিজ্ঞেস করুন, আমি বলে দিচ্ছি ।

ওই পেটিকাভ্যন্তরেই তিনি পাঠাতে লাগলেন, তিনি কোন কোন উপদলচক্রে কবে কবে সেরা মনোনিত হয়েছিলেন তার ভিন্ন ভিন্ন সংযোগ সুতিকা ইত্যাদি

-কি বলছিলেন? পোষ্টের কথা জিজ্ঞেস করছিলেন না?

পাঠক: আজ্ঞে হ্যাঁ, সেই কখন একটা সুত্র খুলে জানতে চেয়েছিলাম হাপিত্যেসে-

ধর্ম দাদাই: আ হা হা! কি উৎ‌সাহ! শুনেও সুখ হয়। এ রকম পড়বার আকাঙ্খা কজনের আছে, বলুন তো? বসুন! বসুন! (কতকগুলি শংসামূলক, কিছু পুস্তক আর কিছু টুকরো পুঁথির পৃষ্ঠাচ্ছাদনের চিত্র প্রের করলেন)

-পোষ্টের কথা জানতে গেলে প্রথমে জানা দরকার, পোষ্ট কাকে বলে, পোষ্টের কি গুণ-

পাঠক: আজ্ঞে, একটু অনন্য পোষ্ট যদি-

ধর্ম দাদাই: আসছে- ব্যস্ত হবেন না। একে একে সব কথা আসবে। পোষ্ট হচ্ছে এক ভাগ পদ্য, এক ভাগ গদ্য, এক ভাগ চিত্র আর এক ভাগ ছেঁদা ঠুনকো বা অকর্মণ্য- (সাথে কোষ্ঠী ছকের মত একটা অনুষঙ্গ চিত্র জুড়ে দিলেন)

পাঠক: এই মাটি করেছে !

ধর্ম দাদাই: বুঝলেন? রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় পোষ্টকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে দুটো বস্তু- অনুভুতি আর খরচযোগ্য সময়। খরচ করার মত সময় আর টাটকা অনুভূতির (তা সে নিজের হোক বা লোকের অনুভুতি) রাসায়নিক সংযোগ ঘটাতে পারলেই পোষ্ট জন্মায়! অ মশাই, শুনছেন তো?

পাঠক: আজ্ঞে হ্যাঁ, সব শুনছি। কিন্তু কিছু অনুপম পোষ্ট যদি পড়তে দেন, তাহলে আরো মন দিয়ে শুনতে পারি

ধর্ম দাদাই: বেশ ত! অনুপম পোষ্টের কথাই নেওয়া যাক না। অনুপম পোষ্ট কাকে বলে? যে পোষ্ট ঝকঝকে লেখা, চোখা শব্দবিন্যাস, যাতে উষ্কানির সুড়সুড়ি নাই, অন্য পোষ্টের অনুকরন নাই- কেমন ? এই দেখুন একটা ‘বহনযোগ্য দলিল বিন্যাসাকারে’ পোষ্ট-

-আহা, ব্যস্ত হবেন না । পড়লে মনে হবে বেশ পরিস্কার, কিন্তু অনুবীক্ষন সন্ধিৎসু মন দিয়ে যদি পড়েন, দেখবেন অশ্লীলতার পোকা সব কিলবিল করছে। কেঁচোর মতো, কৃমির মতো সব পোকা- এমনি চোখে দেখা যায় না, কিন্তু অনুবীক্ষন নজর দিয়ে দেখায় ঠিক এত্তো বড় বড়। এই ‘ঠিকানা শিকলিটার’ মধ্যেই দেখুন, ওই ‘হাহাকার উপদল চক্রের’ পোষ্ট আছে এতে; আমি এইমাত্র পরীক্ষা করে দেখলুম; ওর মধ্যে বিদ্বেষ রোগের বীজ সব গিজ্‌‌গিজ্‌‌ করছে- ধর্মীয় উস্কানি, গালিগালাজ, যৌনতা, নির্লজ্জতা- ও পোষ্ট পড়েছেন কি মরেছেন! এই ছবি দেখুন- এইগুলো হচ্ছে রাজনৈতিক সুড়সুড়ির বীজ, এই মেরুকরন, এই ব্যাক্তি আক্রমন, কুরুচি -সব আছে। আর এই এনারা সব হচ্ছে পোষ্টের হোতা- পোষ্টের মধ্যে দুর্গন্ধি ময়লা যা কিছু থাকে ওরা সেইগুলো চেটেপুটে খায়। এই পোষ্টটার কি দুর্গন্ধ শুঁকুন! পচা মনের লেখকের পোষ্ট- সম্পাদনা করে দুর্গন্ধী ছেঁকে নিয়েছি, তবুও গন্ধ

পাঠক: উঁ হুঁ হুঁ হুঁ! করেন কি মশাই? ওসব জানবার কিচ্ছু দরকার নেই-

ধর্ম দাদাই: খুব দরকার আছে। এসব জানতে হয়- অত্যন্ত দরকারী কথা !

পাঠক: হোক দরকারী- আমি জানতে চাইনে, এখন আমার জ্ঞান আরোহণ করার প্রয়োজন নেই-

ধর্ম দাদাই: এই তো জানবার সময়। আর দুদিন বাদে যখন বুড়ো হয়ে মরতে বসবেন, তখন জেনে লাভ কি? পোষ্টে কি কি দোষ থাকে, কি করে সে সব দোষ ধরতে হয়, কি করে তার শোধন হয়, এসব জানবার মতো কথা নয়? এই যে সব বড় লেখকের সুপাঠ্য পোষ্ট পৃষ্ঠগ্রন্থে অহরহ মুদ্রিত হচ্ছে, পৃষ্ঠগ্রন্থের সেই সকল পোষ্ট, সব বাষ্প হয়ে উঠছে, মেঘ হয়ে সেই অনুপ্রেরণা ঢুকে যাচ্ছে নব্য লেখকদের মননে, নতুন লেখার বৃষ্টি ঝরছে- এরকম কেন হয়, কিসে হয়, তাও ত জানা দরকার?

পাঠক: দেখুন মশাই! কি করে কথাটা আপনাদের মাথায় ঢোকাব তা তো ভেবে পাইনে। বলি, বারবার করে বলছি- নতুন পোষ্ট পড়ার নেশায় মনটা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেল, সেটা তো কেউ কানে নিচ্ছেন না দেখি। একটা লোক নতুন নতুন পোষ্ট পড়ার জন্য ছটপট করছে তবু একটাও পোষ্টের সন্ধান পায় না, এরকম কোথাও শুনেছেন?

ধর্ম দাদাই: শুনেছি বৈকি- চোখে দেখেছি। ‘ধামাধরা’ নামের উপদল চক্রে মড়ক নামের একজন সভ্য একটা পোষ্ট করল, অমনি সানাইবাদক নামের আরেকজন সভ্য পুলিশপোষ্টে অভিযোগ জানিয়ে দিল। মড়কের হল শ্রীঘরবাস- শুদ্ধমন্ডলীদের শুরু হল পোষ্টাতঙ্ক। যেকোন ধরনের পোষ্ট না গুছিয়ে লিখতে পারেন, না টিপ্পনি করতে- যেই কোন পোষ্ট পড়ে, মন্তব্য করতে মন চাইল, অমনি আঙুলে খিঁচ ধরে যায়। মহা মুশকিল! আমুদেরা উল্লাস শেষে ক্লান্ত হলে, শেষটায় অনেক বিদ্বজনে প্রতিবাদ করল, আদালত মুচলেকা দেওয়ালো, তারপর আবার নতুন পোষ্ট বমি করে বাঁচল লেখকের দল। ওরকম হয়

পাঠক: না- এদের সঙ্গে আর পেরে ওঠা গেল না- কেন‌ই বা মরতে এসেছিলাম এখেনে? বলি, মশাই, আপনার এখানে নোংরা পোষ্ট আর দুর্গন্ধ পোষ্ট ছাড়া ভালো খাঁটি পোষ্ট কিছু নেই?

ধর্ম দাদাই: আছে বৈকি! এই দেখুন না ‘সূক্ষনরম শব্দ বিন্যাসে” টাটকা খাঁটি গল্পের নিষ্কর্য'- যা থেকে তৈরি হবে একটা গোটা 'রসাল পোষ্ট'

পাঠক: (ব্যস্ত হ‌ৈইয়া) এ পোষ্ট কি পাঠ করা যায়?

ধর্ম দাদাই: না, ও পোষ্ট পাঠযোগ্য না- ওতে স্বাদ নেই- একেবারে বোবা পোষ্ট কিনা, এইমাত্র তৈরি করে আনল- এখনো গরম রয়েছে। ওতে কোন ঘাতপ্রতিঘাত শব্দ ঝঙ্কার অনুপ্রাস সংলাপ ইত্যাদি মেশানো নেই

(পাঠকের হতাশ ভাব)

তারপর যা বলছিলাম শুনুন- এই যে দেখছেন গন্ধওয়ালা নোংরা পোষ্ট- এর মধ্যে দেখুন এই প্রেমের গোলাপী বানী ঢেলে দিলুম- বাস, গোলাপী রঙ উড়ে ফ্যাকাসে হয়ে গেল। দেখলেন ত?

পাঠক: না মশাই, কিচ্ছু দেখিনি- কিচ্ছু বুঝতে পারিনি- কিচ্ছু মানি না- কিচ্ছু বিশ্বাস করি না

ধর্ম দাদাই: কি বললেন! আমার কথা বিশ্বাস করেন না?

পাঠক : না, করি না। আমি যা চাই, তা যতক্ষণ দেখাতে না পারবেন, ততক্ষণ কিচ্ছু শুনব না, কিচ্ছু বিশ্বাস করব না

ধর্ম দাদাই: বটে ! কোনটা দেখতে চান একবার বলুন দেখি- আমি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছি-

পাঠক : তাহলে দেখান দেখি। নির্ভেজাল, খাঁটি চমৎ‌কার, সুপাঠ্য, এক নতিদীর্ঘ অনন্য পোষ্ট পড়িয়ে দেখান দেখি। যাতে ধর্মপোকা নেই, রাজনীতির পোকা নেই, কুরুচিকর কিচ্ছু নেই, তা পড়িয়ে নিজেকে প্রমান করে দেখান দেখি। খুব মনোজ্ঞ এক অনবদ্য কাহিনী সমৃদ্ধ পোষ্টের সন্ধান দিন দেখি তো

ধর্ম দাদাই: এক্ষুনি দেখিয়ে দিচ্ছি- ওরে ট্যাঁপা (ইনিও হাপিত্যেশের অন্যতম নিয়ামক), চটকরে পুরাতন সংগ্রহথেকে একটা প্রকৃষ্ট ‘হককথন’ খুঁজে বের কর তো

হাপিত্যেশ উপদল চক্রের সময় সারনীতে তখন বৎসর অতিক্রান্ত গুচ্ছের বিভিন্ন পোষ্ট পুনঃউত্থাপিত হয়ে চলেছে

বের করুক তারপর দেখিয়ে দিচ্ছি । ঐ পোষ্টে কি রকম হয়, আর এই নোংরা পোষ্টে কি রকম তফাৎ‌ হয়, সব আমি এক্সপেরিমেন্ট করে দেখিয়ে দিচ্ছি

একটি বিশিষ্ট লেখকের এক সমৃদ্ধশালী পোষ্টের মন্তব্যস্থানে, অনুভুতি চিত্রাঙ্কনের মাধমে উহাকে সর্বসম্মুখে পুনরাত্থাপিত করিয়া ট্যাঁপা ক্ষান্ত হইল

নতুন পোষ্ট দেখিবামাত্র পাঠকের যাবতীয় মনোযোগ তাহাতে উপবিষ্ট হইল- ধর্ম দাদাই এর উপস্থিতিকে অগ্রাহ্য করে, সম্পূর্ণ পোষ্টটি এক নিঃশ্বাসে বার কয়েক পড়িয়া দারুন পাঠক মানসিক তৃপ্তি পাইলেন

পাঠক: আ! একটা নির্ভেজাল রচনা পড়া গেল!

ধর্ম দাদাই: (চটিয়া) এটা কি রকম হল মশাই?

পাঠক: পরীক্ষা হল- এক্সপেরিমেন্ট ! এবার আপনি নোংরা পোষ্টটা একবার গেয়ে শোনান ত, শুনি কি রকম হয়?

ধর্ম দাদাই: (ভীষণ রাগিয়া) কি বললেন! ওটা হককথন, ছড়া বা কবিতা নয় যে গেয়ে শোনাবো।

পাঠক: আচ্ছা থাক, এখন নাই বা গাইলেন- পরে গাইবেন নাহয়। আর এই উপদলচক্রে মধ্যে আপনার মতো আনকোরা পাগল আর যতগুলো আছে, সব কটার কানে খানিকটা করে গেয়ে শোনাবেন । তারপর গারদে ভরার দরকার হলে আমার খবর দেবেন- আমি খুশি হয়ে ছুটে আসব- হতভাগা জোচ্চোর কোথাকার !

(দ্রুত প্রস্থান)

সময়সারনীতে ছন্দ মিলাইয়া কে যেন একজন কিছু একটা পোষ্টালো- অবাক পোষ্টপাঠ

 

@উন্মাদীয় বানানবিধি অনুসৃত


বৃহস্পতিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৬

ছড়া- ১

রুদ্ধ মনের আনাচ কানাচ
হৃদি হোক অকপট;
প্রেমের রঙে রাঙিয়ে চিত্ত

মুছুক অসূয়া জট।

লেবুজল

জল সংকল্প
------------- 

স্নান করার মধ্যে যে কি পরিমান মজা লুকিয়ে থাকতে পারে, তা কেবল রসিক জনেই উপলব্ধি করতে পারে। আর পারে স্নানগবেষকেরা। অবশ্য সেটা যদি একটা তীব্র আকাঙ্খার বহিঃপ্রকাশ হয় তবেই।

বিড়িতে একটা দীর্ঘ শেষ সুখটান দিয়ে, অবশিষ্টাংশটা খানিকটা ক্যারামের ঘুঁটির ঢঙে দীর্ঘদিনের নিখুঁত অভ্যাসে, বৃদ্ধাঙ্গুল আর মধ্যমা সহযোগে, উপবৃত্তাকার পথে এক্কেবারে রাস্তার উপরের ফুটপাথে ছুরে ফেললেন। ইজিচেয়ারে গা এলিয়েই উপরের কথাগুলো কিছুটা স্বাগতোক্তির মতকরে বললেন লেবুদা।  

এক বিখ্যাত মহাপুরুষের মতে, এই স্বাদ থেকে আনাড়ীরা চিরবঞ্চিত। এবং যথারীতি এটা ভেবে ঠোঁটের কোনে একটা হাসির ঝিলিক খেলে গেল এই ভেবে, যে ওই মহাপুরুষটি তিনিই স্বয়ং নিজে

আপনারা সকলেই জানেন, লেবুদা নিজেকে সমাজবিজ্ঞানী ভাবতে ভালবাসেন। তাই সামান্য  অবসরেও প্রায় প্রতি দিনিই কিছুনা কিছু পরিক্ষা নিরিক্ষা গবেষনা ইত্যাদি করেই থাকেন। আর স্নানের এই বিষয়টাও যে- তারই সেই গবেষনালব্ধ ফসল, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।

নতুন কেনা এন্ড্রোয়েড ফোনে কিছুদিন আগে লেবুদার একটা ফেসবুক একাউন্ট করে দিয়েছিল শ্যালক বীরু। লেবুদা অবশ্যি অতো কিছু মোটেই বোঝেননা। তবে সময় সুযোগ পেলে মাঝেসাজে একআধবার খুলে বোঝার চেষ্টা করেন বটে অবশ্য ফ্রির wi-fi পেলে তবেইকারন তিনি মোবাইলে ইন্টারনেটের ব্যালেন্স কোনদিনিই ভরেননি। আর এই wi-fi ব্যাপারটা গেলবার পুরী যাবার সময় ছেলে মুঙলা হাওড়া স্টেশনে বসে ব্যাপারটা শিখিয়ে দিয়েছিল।

হপ্তাখানেক আগে শেয়ালদা স্টেশনে এক ক্লায়েন্টের সাথে দেখা করতে গিয়ে, কিছুক্ষন অপেক্ষার সময়টুকু, ফ্রির wi-fi পেয়ে ফেসবুক খুলতেই, একটা পোষ্টে চোখ আঁটকে গেল লেবুদার“জল ও আমাদের ভবিষ্যৎ” শীর্ষক একটা পোষ্টে তার যাবতীয় আগ্রহ শোষন করে নিলযথারীতি মন দিয়ে বার করেক সেটা পড়লেন। তার পর সারাদিনের কাজকর্মের ব্যাস্ততায় জলের বিষয়টা ভুলে গেলেও, রাতে শুয়ে শুয়ে আবার জলের কথাটা মনে আসতেই আগামী পৃথিবীর কথা ভেবে কপাল থেকে নিঃসৃত ঘামরূপী জলে নিজের মুখমন্ডলটা ভিজিয়ে ফেললেন।

সেই রাতেই তিনি ভাবতে বসলেন, জল বাঁচাতে তিনি ঠিক কি কি করতে পারেন বা এই মুহুর্তে কি করা উচিৎ। সেই ভাবনা মত প্রথমেই স্নানের ঘাড়ে প্রথম কোপটা এসে পড়ল। তবে বাঘা বৌদির হালুমের ভয়ে ব্যাপারটা নিজের মধ্যেই রেখে দিলেন।

“প্রতিদিন স্নান করাটা কি খুব জরুরী? মাছেদের কথা নাহয় ছেরেই দিলাম, মানুষ ছারাও পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ পশু পাখি পোকামাকর কৃমি ইত্যাদি আছে তারা কি রোজ স্নান করে! কিম্বা ধরা যাক তুষারমানবেরা বা ঠান্ডার দেশের মানুষেরা, বরফের মাঝে জলটা পাবে কোথায় শুনি, যে তারা রোজ স্নান বিলাস করবে! মরু অঞ্চলের লোকেদের পরিস্থিতিও তাই। তাহলে আমাদের কাছে জলের প্রাচুর্য আছে বলেই কি এমন একটা ধ্বংসাত্বক অপসংস্কৃতি সমাজে চালু করতে হবে! ঘোর কলি না হলে কি সমাজের এমন অবনতি হয়! পুরাকালের মুনিঋষিরাও বছরের পর বছর ধরে ধ্যান করেছেন, তারা কি তখন রোজ স্নান করতেন! নাকি স্নানের জন্য তাদের সিদ্ধপুরুষ হওয়া আটকেছে!”

এক ধাক্কায় এতো গুলো ভাবনা ভেবে ভীষন ক্লান্ত হয়ে, লেবুদা দু ঢক জল খেয়ে পুনরায় ভাবতে বসলেন ইয়ে মানে শুলেন। তবে এবার আর মোটেই ভাবনা এলো না, বরং একটা গাঢ় ঘুম এলো।

পরদিন আপিসে যাবার আগে যথারীতি প্রাত্যহিকি সকল কাজই করলেন, শুধু স্নান টুকু আর করলেন না। ওদিকে বাঘাবৌদি দুবার গজনাদ স্বরে হাঁক পেরেছেন- “বলি মাথায় দু-মগ জল চড়িয়ে আসবে না কি! ভাতে যে মাছি জমবে... ইত্যাদি”। লেবুদা বাঘাবৌদির সাধের চাঁপার তেল দু ফোটা মাথায় মেখে, বেসিনের কল থেকে এক আঁচলা জল দুহাতে লেপ্টে নিয়ে, মাথায় চোখে মুখমন্ডলে ছেটালেন, আর ভিজে হাতটা বুকে আর পেটে বার দুয়েক বুলিয়ে, চুলটা আঁচড়ে শান্তশিষ্ট হয়ে ভাতে বসে গেলেন। 

পচা শেষা ভাদরে এক্কেবারে ঘেমেনেয়ে অস্থির হয়ে বাড়ি ফিরলেন সন্ধ্যেয়। পাখাটা চালিয়ে বসে গা-এর ঘাম মুছে নিয়ে, যতটুকু খরচা না করলেই নয়, ততটুকুই জল দিয়ে হাত পা মুখ ধুয়ে নিলেন। গামছা টা ভাল করে বালতির জলে ভিজিয়ে নিয়ে সারা শরীরটা মুছে নিলেন। বালতির জলটা অবশ্য শৌচকর্মের জন্য বালতিতেই মজুদ রেখে দিলেন। চুরান্ত জল সংরক্ষণ।  

সামনেই উৎসবের দীর্ঘ মরশুম, তার জন্যই ইলেকট্রিকের তারে মেরামতির কাজ চলছিল। সুতরাং লেবুদার পাড়ায় এদিন রাতে কারেন্ট ভোকাট্টা। দুপুরে নিমন্ত্রিত একটা শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের বকেয়া ভোজ, আপিস ফেরতা সন্ধ্যাবেলা ঠেসে খেয়েছেন লেবুদাসুতরাং এই ভ্যাপসা গরমের সাথে টানা স্নান না করা শরীরের গরম, মিলেমিশে লেবুদার পেট ফাঁপিয়ে তুলল। সারা রাত চোঁয়া ঢেকুর আর গন্ধবায়ুর ঝঞ্ঝার প্রকোপে, বাঘাবৌদির রণচন্ডী রূপ ধারনের আগেই সসম্মানে তিনি বারান্দায় শয্যা নিলেন।

পরদিন সকালেও তিনি স্নানের নামটি পর্যন্ত করলেন না। সমাজের স্বার্থে বৈপ্লবিক গবেষনাতে এমন একটু আধটু ত্যাগ তো করতেই হবে, নাহলে আর বিজ্ঞানী বা বিপ্লবী কিসের! কারেন্ট না থাকার দরুন বাড়ির জলের ট্যাঙ্কিতে মজুত জলের যোগান ক্রমেই ফুরিয়ে আসলপাড়ার সরকারি কলে গিয়ে স্নান করার মত ধৈর্য বা পরিস্থিতি কারোরই ছিলনা, সুতরাং বাড়ির কারোরই আর সেদিন স্নান হলনা। লেবুদা মনে মনে বেশ প্রসন্নই হলেন। আবার কারেন্টের প্রতি বেশ রাগও হল। কারেন্ট পূর্ববর্তী যুগে মানুষ বেশ নদী পুকুরে স্নান করত, তাতে স্নানও হত আবার জলের অপচয় হতনা। আজকাল তো নদী পুকুর মানেই ড্রেনের সাগরসঙ্গম। স্নান করা তো দুরস্থান, পা চোবাতেই ঘেন্না লাগে।

গতকাল রাত্রের ওই অম্বলের রেশ, আজরাতেও বহাল রইল লেবুদার। আগের রাত্রে গন্ধবায়ু নিন্মমুখী হওয়াতে বারান্দায় শুয়ে পরিত্রান পেয়েছিলেন, আজ বায়ু উর্ধ্বমুখী। গলা শুকিয়ে কাঠ, শ্বাসপ্রশ্বাস প্রায় রুদ্ধ, কেও যেন গলা টিপে ধরেছে। কুলকুল করে ঘেমে চলেছেন।

তখন রাত সবে এগারোটা, খানিক আগেই নৈশ আহার সম্পন্ন হয়েছে মল্লিক বাড়িতে। আর তার মধ্যেই বাঘাবৌদির ভাষায় লেবুর “মিনিস্ট্রোক”। ছোট মেয়ে বিদ্যা, চটকরে পাড়ার ডাক্তার পরেশ রক্ষিতকে ফোন করতেই, পাঁচ মিনিটে ডাক্তারবাবু M-80 মোটর সাইকেলে চেপে হাজির। আপদকালীন কিছু ওষুধ, জরুরি ভিত্তিতে ইঞ্জেকসানের মাধম্যে দিলেন। নাড়ি টিপে জানালেন, উচ্চরক্তচাপ জনিত সমস্যা প্রবলসাথে হজমের গোলমাল। নানান রকম রক্তের পরিক্ষার নিদানও দিলেন। আর বললেন কম মশলাযুক্ত তরকারি খাওয়ার সাথে সাথে দিনে অন্তত বার দুয়েক স্নান করতে এই বাকি গরমের মরশুমটুকু।

লেবুদা ফিসফিসিয়ে ডাক্তারবাবুকে কিছু একটা বলতে যাচ্ছিলেন। বাঘাবৌদিই বলে উঠলেন, আসলে আজ তো কারেন্ট ছিলনা, তাই জলের মোটর না চলার কারনে আজ স্নানটা করা হয়নি কারোরই। এতক্ষনে লেবুদা একটু বল ফিরে পেয়ে, তার রিসার্চের পুরো ঘটনাটা সংক্ষেপে খুলে বললেন। যে তিনি আজ নিয়ে সাতদিন স্নান করেননি। ডাক্তারবাবু না থাকলে বাঘাবৌদি হয়ত লেবুদাকে তুলে আছারই মারতেনএ যাত্রায় অগ্নি চাউনি দিয়েই ক্ষান্ত হলেন, এবং বুঝিয়ে দিলেন যে কাল লেবু চটকানো হবে

ডাক্তারবাবু রাতে ঘুমের ওষুধ দিয়েছিল বোধহয়, তাই আজ ঘুম ভাঙতেই লেবুদা ঘড়িতে দেখল নটা দশ। “ও বড়খুকি, মাকে একবার ডেকে দে দেখি” বলে হালকা ডাকটা শেষ হবার আগেই বাঘা বৌদির ঘরে প্রবেশ।
-     আজ মিনশে, তোমার একদিন কি আমার একদিন। মুংলা নিয়ে আয় তো বাবা নারকেলের ছোবরা, অনামুখোটার স্নান না করার রোগ জম্মের ছারিয়ে দিই... ঠাকুর ... এই নমুনা ছিল আমার কপালে...ইত্যাদি”

সুতরাং চোখমুখ না ধুয়েই হিড়হিড় করে টেনে সোজা স্নানঘরে। লেবুদার সারাশরীরে বোধহয় কিছুটা ফিনাইল আর ব্লিচিংপাওডার দিয়ে ডলেডলে পাক্কা ১৫ মিনিট ধরে স্নান করালেন, বাঘাবৌদি। এর পরে ইজিচেয়ারে গা এলিয়ে লেবুদার এই মোক্ষোম উপলব্ধি।

“ সপ্তাহে রোজ স্নান নিষ্প্রয়োজন। ভবিষ্যতের পৃথীবির নিরিখে “রোজ স্নান” এক ধরনের অক্ষমাশীল অপরাধ। শরীরের স্বার্থে গরম কালে দুদিন, খুব গরমকালে তিনদিন, আর শীত কালে একদিন স্নান করলেই যথেষ্ট এই বিরামযুক্ত স্নানতৃষ্ণার মধ্যে যে কি অনবিল সুখ, তা কেবল তারাই জানেন, যারা রোজ স্নান করেননা। রোজ স্নান করলে সেটা অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়, আর অভ্যাস চিরদিনিই একঘেয়ে। তাই জীবনে নতুনত্ব আনতে প্রত্যেক দিন স্নান করাটা আইন করে বন্ধ হোক। তাতে করে প্রতিদিন কোটিকোটি বালতি জলও বাঁচল, আবার জীবনে নতুনত্বও এলো”।

আর ঘামের গন্ধ আটকাতে ভেজা গামছা আর বৌদির চাঁপার তেল তো রইলই।  লোডসেডিং কি রোজ রোজ হবে!           

""""""""""""""
@উন্মাদ হার্মাদ        


     


রবিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৬

নোটবন্দিঃ সমবায় সমিতি ও NBFC

 


সকালে বাজারে বাবার ছোটবেলার বন্ধু গড়াই কাকার সাথে দেখা। উনিও বাজার করতেই এসেছেন। পেশাগত ভাবে উনি কোন এক গ্রামীন সমবায় ব্যাঙ্কের ছোট বা মাঝারি মাপের কর্তা। হালচাল শুধাতে সামান্য কথোপকথনে যেটা বুঝলাম, বেচারা বেশ মনমরা। সেটা কথোপকথনটাই তুলে ধরলাম-

- আর বাবারে, রিটায়ার্ডের আগেই বোধহয় চাকরিটা খোয়াবো

- কেনগো, সমস্যাটা কি! তোমাদের কি আর খুচরোর সমস্যা! তোমাদের হাতেই তো সব...

- আমাদের ব্যাঙ্কগুলোর অর্থনৈতিক স্বাস্থ্য এমনিতেই লজঝড়ে বাপু। লাগাতার ঋণখেলাপির জেরে পুঁজিতে টান। সরকার ঋণ মকুব করার কিছু মানুষ দায়মুক্ত হয়েছে ঠিকিই, তাতে আমাদের পুঁজির ঘাটতি কিন্তু মেটেনি। ব্যাঙ্কিং এর পাশাপাশি সার, পাট, বীজ, কীটনাশক বেচেও টিমিটিম করে চলছিল। মাসান্তে মাইনের মুখ দেখছিলাম

- হ্যাঁ, তো আজ আবার কি হল!! এখন তো পয়সাই পয়সা চারিদিকে

- সমস্যাটাও তো ওখানেই।

- বুঝলামনা...

- আরে আমাদের তো সবই প্রায় সেভিংস একাউন্ট, আর সেগুলো গরীর প্রান্তিক মানুষ, মজুর, চাষী, স্বয়ম্ভর গোষ্ঠী বা খুচরো ব্যাবসায়ীদের। সংখ্যার বিচারে এদের ৭৫%ই ইনেকটিভ, বছরে একআধ বার লেনদেন হয়। বড়লোক বা একটু সম্পন্ন ব্যাবসায়িদের কাছে আমরা ব্রাত্য, তাদের জন্য রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাঙ্ক আছে। তার উপরে বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলো আজকাল ঘরের দুয়ারে গিয়ে হরেক কিসিমের পরিসেবা দেয়। তাছারা ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং, RTGS/NEFT, সহ নানান আধুনিক সুবিধা আমাদের এখানে নেই।

আমাদের এখন সারাদিন পুরানো টাকা জমা আর নতুন নোট দিতেই কেটে যাচ্ছে। শেষ সাতদিন ধরে নতুন লোনের যাবতীয় কাজ বন্ধ। যাদের কাছে অবৈধ(কালাধন) টাকা রয়েছে, তারা বিনা ইন্টারেষ্টে একদম কাছের মানুষদের বা তাদের গ্যারেন্টার রেখে, জমির কাগজ বন্ধক রেখে সেই টাকা ঋণ দিয়ে দিচ্ছে। পরের ফসল উঠলে তিন বা ছমাসে শুধু আসলটুকু ফিরৎ দিলেই কেল্লাফতে। তাহলে যারা আমাদের সমবায় থেকে লোন নেয়, তারাও এমন বিনা ইন্টারেষ্টের টাকা খুঁজছে। ঋন দাতা ও গ্রহিতা উভয়ের মুনাফা। বন্ধন ব্যাঙ্কের মত প্রতিষ্ঠানও, লোন পরিসেবা বিজ্ঞাপন দিয়ে বন্ধ রেখেছে যেখানে, সেখানে আমরা তো চুনোপুঁটি, তাই আমদানির ঘরে মাছি তাড়াচ্ছি

রোজ যে এই বিপুল পরিমানে টাকা জমা পড়ছে, তাতেই ভয় লাগছে। এখন আর ইনেকটিভ একাউন্ট শব্দটি নেই বললেই চলে। সেভিংস একাউন্টে টাকা জমা পরার সময় থেকেই তো ৫-৭% বার্ষিক হারে সুদ গুনতে হবে। একেকজন জমা করছেন চল্লিশ-পঞ্চাশ টাকা, দিচ্ছি একআধ হাজার টাকা। বৈধ কারেন্সির যোগান নেই। আগে বড় বড় ব্যাঙ্ক, তার পর ঝতি-পরতি বাঁচলে আমাদের ভাগে।

আমরা সেই টাকা আমাদের রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাঙ্কের একাউন্টে চালান করছি, কিন্তু সেটা তো কারেন্ট একাউন্ট। আমাদের জমা টাকার কোন সুদ নেই। আমাদের ব্যাঙ্কের সব ব্রাঞ্চের চিত্রই সমান। রোজ কাড়ি কাড়ি টাকা জমা পরছে। এতো সুদ কোত্থেকে দেওয়া যাবে? লোন দেবার কোন খবর নেই, ৫০ দিন পরেও পরিস্থিতি নতুন লোন স্যাংসান করার মত স্বাভাবিক হবে কিনা কেও জানেনা।

ঋণখেলাপি জনিত কারনে সকল বড় বড় ব্যাঙ্কগুলির হাঁড়ির হাল তলানিতে ঠেকেছে। নোট বাতিলের হিড়িকে বড় বড় ব্যাঙ্কগুলো অক্সিজেন পেয়ে গেল। তাদের সেই অতিরিক্ত টাকা খাটাবার নানা পন্থা, আমাদের মত সীমত নয়। আমরা সুদ দিতে অসমর্থ হলে পাবলিক ঝামেলা হবে, ব্যাঙ্ক দেওলিয়া হোক বা না হোক গেটে তালা ঝুলবে। NVFC গুলর হালও তথৈবচ, তাদের দুয়ারেও তালা। আমাদের চাকরি বাঁচবে তাহলে? আমাদের কাষ্টমারদের টাকা সুরক্ষিত, সেগুলো রাষ্ট্রায়াত্ব ব্যাঙ্কেই আছে ভায়া আমাদের সমবায়। আমরা না থাকলেও সরকার যাদের টাকা তাদের ঠিকিই দিয়ে দেবে। আমাদের কি হবে!

উনি সবটা বলে গেলেন একনিঃশ্বাসে। সবটা ঠিক বুঝলামনা, আমি ব্যাঙ্কিং অর্থনীতির তেমন কিছুই বুঝিনা

কেও কি এই বিষয়ে কোন আলোকপাত করতে সক্ষম? বিষয়টা কি বাস্তবিকিই সমস্যার? না কি উনি অমুলক ভয় পাচ্ছেন এই হুজুগে?

 


বুধবার, ১২ অক্টোবর, ২০১৬

নোটবন্দি- আসন্ন ভয়াবহতা



একটা সিদ্ধান্ত যখন সরকার নিয়েছে, নিশ্চই সেটা দেশের ভালর স্বার্থেই তাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু সাধারন মানুষ তো সাধারন মানুষই, তারা তো আর সেনা নয়, যে যুদ্ধকালীন সকল পরিস্থিতিতে সকলেই মানিয়ে নেবে বা নিতে পারবে। ইমপ্লিমেন্ট পদ্ধতি নিয়ে সকলকেই চরম সমস্যার স্মমুখীন করে দিয়েছে

ফেসবুক টুইটারে যারা অন্ধভাবে মাতামাতি করছেন, কালাধনের উদ্ধারের আনন্দে দিশাহারা হচ্ছেন যারা, তাদের মধ্যে অধিকাংসেই দেখলাম চাকুরিজীবি বা এখনও পেশাপ্রবেশ ঘটেনি। সব বৈপ্লবিক ভাষনে সমৃদ্ধ প্রবন্ধকজন ব্যাবসাদার এ বিষয়ে কোন পোষ্ট বা মন্তব্য করেছেন? অতি অতি নগন্য।

কিছুজনের ধারনা, ব্যাবসাদার মানেই বাটপার বা চোর সমতুল্য। অনেকেই আবার মনে করেন ব্যাবসাদার? ওরা আবার কি বলবে? যেন এরা একটা সমাজ বহির্ভুত জীব। আরে বাবা আপনিও যে চাকুরিটা করেন সেটা কোন ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানেই। সেটা সরকারি হোক বা বেসরকারি, লাভজনক বা সেবামূলক। তাই ব্যাবসাদারেরা বোকা এমন ধারনাটা বোধহয় সবচেয়ে বড় বোকামো

যাদের যাবতীয় হিসাব মাসিক ৩০-৫০ হাজার টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ, তারা এই লক্ষ কোটি টাকার কালাধন উদ্ধারের স্বপ্নে বিভোর। কোটিতে কটা শুন্য শুধালেই যাদের পেট ফাঁপে তারা আবার আগুনে বুলিতে দুকাঠি এগিয়ে। আমাদের পরিবারের খরচাও এমনটাই যতটা চাকুরীজিবীদের, সেটা আমার স্টার জলসা প্রেমী 'মা' সামলান, তাই এই চাকুরীজিবী বা এখনও বেকার বন্ধুদের মতই তিনিও খুব উত্তেজিত এবং আহ্লাদিত।

ঠিক কোথা থেকে অতিরিক্ত রেভিনিউ আসবে, কতটা তার লক্ষ্যমাত্রা কতটা কিম্বা মূলত কাদের থেকে এই কালাধন কোথায় যাবে এ বিষয়ে বেশি জানতে চাইলেই, মুখ আর অন্তর্বাসের মধ্যে প্রভেদ ঘুচছে

অনেকেই সন্ত্রাসবাদের বিষয় তুলছেন, যে জঙ্গীরা খুব জব্দ হলো। আরে বাবা তালীবান, বোকোহারাম, বা চেচিনিও বা আধুনা সভ্যতার কলঙ্ক ISIS জঙ্গিগোষ্ঠীও তো বিশ্ব অর্থনীতির লেনদেনের চালিকাশক্তি ডলারে পুষ্ট। সুতরাং এই বুদ্ধিতে তো ডলার নিষিদ্ধ করতে হয়। নাকি ধরে নিতে হবে পশ্চিমি দাদাদের এখনও সেই বোধ আসেনি। ব্যান হয়েছে ৫০০-১০০০ টাকার নোট, কিন্তু আকাল লেগেছে যেগুলো চালু আছে- সেই খুচরো নোটেসঠিক কোনটা সেটা সময়ই বলবে, তবে জঙ্গী হামলা মোটেই কমবেনা সেটা লিখে রাখলাম

 

এবারে আমার কতগুলো বাস্তব সমস্যা বলি। আমাদের ব্যাবসায় ৭০% চাষীর প্রত্যক্ষ যোগাযোগ। তারা ধান বেচতে এসে নাজেহাল। নাগদ দেন বাবু, একাউন্টে ঢোকালে বাইরের মুনিশ, গাড়িভাড়া মেটাবো কী করে? সপ্তাহে কুড়ি হাজার তাও দুটো দিন রোজমজুরী কামাই করে। তাদের কী করে বোঝা নগদ আমরাই বা পাবো কোথায়! আমাদের এই দৈনন্দিন বিপুল পেমেন্ট কিভাবে একশ আর পঞ্চাশ টাকায় করব! কাঁচা মালের আমদানি প্রায় বন্ধ, পেমেন্ট করতে পারছিনা। বিক্রিও বন্ধ, খদ্দেরের কাছেও সবচেয়ে কম ১০ টন চাল কেনার জন্য কমপক্ষে দুলাখ টাকা নগদ ১০০ টাকার নোট নেই বা নতুন কারেন্সিও নেই। আলুর জন্যও তাই, বাকি অন্যান্য ব্যাবসার হালও সেম। বিষেষ করে প্রোডাকশন ব্যাবসার ক্ষেত্রে।

এক আধদিনের মধ্যে চাকা বন্ধ হবে কাচামালের অপ্রতুলতায়। ভিন রাজ্যের খদ্দেররা জাষ্ট হাওয়া হয়ে গেছেন। দু এক সপ্তাহে নিশ্চই পরিস্থিতি শোধরাবে, কিন্তু কোম্পানিগুলো এই বিপুল লোকসানে ভার বইবে কিভাবে? নুন্যতম ইলেকট্রিক বিল, পার্মানেন্ট লেবার খরচা, মেসের খাই খরচা, রাহা খরচা, মেন্টেনেন্স... এগুলো কি থেমে থাকবে? ব্যাঙ্কের লোনের টাকা তো বাচ্চা দিচ্ছে সুদের মাধ্যমেএই নোটবন্দি আমাদের মত গ্রামীয় কৃষিভিত্তিক ফ্যাক্টারিগুলোর মরে যাওয়ার সার্টিফিকেট লিখে দিলো, আগামীতে সার্ভাইব করা ভীষণ মুশকিল।

নগদ যোগানের অভাবে বাজারে চাষীর উৎপাদিত পন্যের খদ্দের নাই বললেই চলে এক কুইন্টাল ধানের দাম প্রায় ১৫০০ টাকা, একজন ক্ষুদ্র চাষীর ২০ কুইন্টাল ধানের ৩০০০০ টাকা কিভাবে মেটাবো? ব্যাঙ্কে আড়াই লাখের বেশি জমা করতে যাওয়ার থেকে হেঁটে কোলকাতা যাওয়া সহজ মনে হচ্ছে। অথচ যাদের রোজ ১০০ টন প্রোডাকশন, তাদের দৈনিক ট্রানজাংসান ৪০ লাখ বা তারও বেশি। কিন্তু কে ভেবেছে এদের কথা। ২০ হাজারে খাবে কী আর মাখবে কী?

কাল হাইকোর্টে গেছিলাম। জাজদের ঢোকার গেটের বাঁহাতে একজন বয়স্ক ফুলগাছওয়ালা বিলাপ করছিল, আমার সব গেল। সকলেই বর্তমান দূর্মুল্য ১০০ টাকা বা খুচরো বাঁচাচ্ছেন। তাই কটাদিন ওই 'শখের' ফুলগাছ কিনে কেও 'ফালতু খরচা' করতে নারাজ। তাহলে ওই গাছওয়ালার চলবে কি করে! সবে কোর্ট খুলেছে, সে একটু বেশি করেই ডালিয়া চন্দ্রমল্লিকা সহ সিজিনাল ফুলের চারা তুলেছিল। এতো আর চাল ডাল নয়, যে ১০-২০ দিন সংরক্ষণ করা সম্ভব। বিক্রিবাটা না হলে এগুলো শুকিয়ে মরে যাবে। সুতরাং পুঁজি ফাঁক। আবার কেরালা যেতে হবে রাজমিস্ত্রির জোগাড়ে খাটতে। সে বুঝে পাচ্ছেনা ঠিক কাকে দোষ দেবে। এমন কত শত ব্যাবসাই আছে, এই হঠা করে এই জরুরী অবস্থা পুঁজি ফাঁক করে দিচ্ছে।

কে রাখে সেই খবর!

সবাই দুটো দিনের প্রতিক্ষায়, যখন সব আবার আগের মত হবে। কিন্তু ততদিনে অভাবি বিক্রি তো শুরু হয়ে গেল। সুদি কারবারিদের গুদামে কাঁসা পিতলের হাঁড়িকুঁড়ি, রুপোর অলঙ্কার জমতে শুরু করেছে সবে। সেই সকল কারবারীদের আটকাতে সরকার কোন ব্যাবস্থা নিয়েছে কি? এই সব মিনি মাইক্রো রক্তচোষা বাদুরের সন্ধান আয়কর দপ্তরের সীমানার বাইরে। সব লেনদেনই তো কাঁচাতে হয়। আর এদের সাথে স্থানীয় প্রশাসনের একটা অংশ বখরা খায়। এদের আচ্ছেদিন সন্দেহ নাই। দাদনের ব্যাবসা নতুন উদ্যোমে পাড়াগায়ে গেঁড়ে বসছে। এগুলো মাটির সাথে যোগাযোগশুন্য ফেসবুকের চাকুরীজীবি বন্ধুদের অজানা।

এবার আমাদের কারখানার লেবার পেমেন্ট। গুটি কয়েকজন বাদ দিলে, প্রায় দু লক্ষ টাকা কমবেশি সাপ্তাহিক পেমেন্ট করতে হয় তাদের। সবটাই নগদে। এ সপ্তাহে সব ধারে চলছে। সবাই তো দিন আনে দিন খাই, সামনের সপ্তাহে কোত্থেকে টাকা মেটাবো? তারাই বা খাবে কি? কাচামালের অভাবে ফ্যাক্টরি বন্ধ থাকলে তো ডেলিলেবাররা কর্মহীন আপাতত

চাকুরীজিবীদের নাহয় ব্যাঙ্কে আছে, আজ না হয় কাল ব্যাঙ্ক থেকে চার হাজার বেরোবে। তা দিয়ে কষ্টেসৃষ্টে চলে যাবে। এই লেবারগুলোর চলবে কিভাবে, চাষীগুলোর কি হবে? আমি বা আমাদের মত ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ীরা কোত্থেকে মেটাবেন তাদের ন্যায্য মজুরী? আমি অনলাইন ট্রান্সফার বুঝি, পেটিএম বুঝি, কিন্তু তারা কি পেটিএম জানে? তাছারা নতুন মাপের 500/2000 নোট বতর্মান. ATM carry করতে পারবে না। সুতরাং আগামী কিছুদিন সমস্যা বারবে বই কমবেনা।

সবাই নিজের আয়নাতে নিজেকে দেখে ফেসুবুক টুইটারে ভাষন দিচ্ছি। আমার চেনার দৌড়ে থাকা এই লেবার বা চাষী যারা এই ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডের দুনিয়াতে নেই, তারা কি মিথ্যা?

বিগত তিন দিন থেকে একটা ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি আজও বানাতে পারিনি। ক্লান্ত ব্যাঙ্ক কর্মচারীগুলো কে দেখলেও মায়াই হচ্ছে, সককে ভাল রাখার দায় নিয়ে প্রায় নির্ঘুম কাজের নির্ঘন্ট তাদের

ছোট ব্যাবসাদার, অসংগঠিত শ্রমিক, আর ক্ষুদ্র প্রান্তিক কৃষক। এটাই তো আসল ভারতবর্ষ। এরাই ক্রেতা এরাই উৎপাদক। আর এরাই অসহায়, ভারতবর্ষ অসহায়। সোফায় বসে, ক্যারাম খেলার ফাঁকে আড্ডা মারতে মারতে একটা অম্লমধুর মন্তব্য বা প্রবন্ধ পড়তে ভাল, বাহবা পেতে ভাল। বাস্তবটা লড়ায়ের জাইগা।

একজন লোক কখন চুরি করে জানেন? যখন সে লজ্জায় ডুবে থাকে। হজম হল না তো?

একজন মানুষ যখন অসহায় হয়ে যায়, প্রতিটা বার পিছিয়ে পরে অথচ হাত পাততে পারেনা, তখন অগত্যা অন্ধকারে চুপিসারে চুরি করতে সাহ পায়। এরপর লোভ আর ঘোমটা আঁটা সুশীল সমাজ তাকে অপরাধের বৃহত্তর বিশ্বে প্রবেশ করায়কিছু মানুষ আজ চরম অসহায়তার ঠিক কাঠগড়াতে দাঁড়িয়ে। তারা নিজেও জানেনা সামনের ভবিষ্যৎ টা ঠিক কি।

সবে কলির সন্ধ্যে। সমস্যার সমাধানে দ্রুত উচ্চস্তরীয় সিদ্ধান্ত না নিলে বহু কিছুই মুখ থুবরে পড়বে তাতে সন্দেহ নাই। তাতে আমার এই বিপ্লবী বন্ধুদের ঘর সেই আঁচ থেকে যে রক্ষা পাবেনা সেটা বলাই বাহুল্য।

  

সোমবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৬

আরতী



ঝিরিঝিরি এই বৃষ্টিভেজা অষ্টমীর বিকেল,
বন্দী আমি যাবজ্জীবন, তোমার মনের জেল;
উচাটন মন বুক ধড়ফড়, কি জানি কোন সুখে,
তুমিই যে মোর চিন্ময়ী রূপ, তোমার ছবিই বুকে

একটি পলকের টুকরো দেখা, তুফান তোলে মনে
স্বপ্নালোকের কল্পনা নাও, বয়েছি তোমার সনে;
গরজে বরষে অন্তর বাহিরে  শিবরঞ্জনী রাগ
মনের মাধুরি অক্ষি মুদিয়া, অনিন্দ্য সোহাগ।

তুমিই লক্ষ্মী তুমি মহামায়া, আমি হব উমাপতি
তোমার সনে রচিব আমি নিবড় প্রেমরতি;
আমার ভজন প্রেমাহুতি সব, প্রেমাঞ্জলী তোমায়
প্রেমিকা হও, বা দেবী হও তুমি, আমার তোমাকে চাই।


শনিবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৬

স্বার্থান্ধ



কুড়িয়ে পাওয়া জীবননগর
শুরু থেকে শুধু ধার;
সকল দাতার অভিনয় পিছে
মিথ্যা ঋণের ভার।



হাসি কান্নার দিনযাপনে
সদাই সুখের খোঁজ;
আরো ভালো থাকার নেশায়
বিষাদ বেলা রোজ।



টুকরো টুকরো ছেঁড়া তমসুখ
সেলাই করলে তবে;
রংবাহারি চাঁদোয়াঝালর 
শামিয়ানা হয়ে রবে।



একটি ক্ষনেই জন্ম, আবার
এক পলকেই মরণ;
আর মধ্যখানের সময়টুকু
প্রসন্ন- ক্লেশ বরণ।



প্রবাহমান অশ্রুসিন্ধু, সহচরী
নদী আর সাথী আশ;
সময়ের কাছে বারবার হেরে
বিজিতের নাগপাশ।

পরম বলে কিঞ্চিৎকর
আদপে সবই ছলনা
মহাত্যাগীও স্বার্থান্ধ-প্রান
পুরুষ হোক বা ললনা।

বিবেকের ডাকে উদাসীন সবে
চেতনা দুয়ার রুদ্ধ;
হায় রে মানব, আত্মপ্রশ্নে
সবাই মগ্নবুদ্ধ।

বুধবার, ৫ অক্টোবর, ২০১৬

মহাজন



মহা মানে মহৎ, আর জন মানে মানুষ। মহৎ মানুষ। কিন্তু ব্যাবহারিক প্রয়োগে এর অর্থ সম্পূর্ন বদলে যায়। বাস্তবজীবনের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই, এই মহাজনেরা অত্যন্ত ক্ষুদ্র মানসিকতা যুক্ত নিন্মরুচীর মানুষ হন। ঠিক তেমনই, আমার কাছে আমার এই জীবনটার মর্মার্থ বা আমার চেতনার বিকাশের সাথে, আমার ব্যাবহারিক তথা আক্ষরিক জীবন , যেটা যাপন করছি সেটার সাথে কোন মিলই পায়না। অনেকগুলো স্বত্তার কলহ দিবারাত্র, আর ততগুলো অদৃশ্য দেওয়াল। বিদ্রোহ আর অন্তর্ঘাতে জর্জরিত প্রান। আমার সঙ্গী সাথীরা অবশ্য আমার এই টানাপড়েনের দ্বন্দ্ব সম্বন্ধে প্রায় উদাসীন বা হয়ত জানেনইনা। আসলে “ভালআছি” দেখানোটা একটা সু- অভ্যাস। দীর্ঘ অনুশীলন অধ্যাবসায় দিয়ে এটুকুই রপ্ত করতে পেরেছি।

একটা জনপ্রিয় সংলাপের কথা মনে পরে “ আমার ভাবতেও গা ঘিনঘিন করছে”। সত্যিকারের ওই ঘিনঘিন করাটা অবশ্য শিল্প। অনেকে সেই ভাবনাটা দারুন ভাবে প্রকাশ করতে পারে। যেমন একটা ছেলে খিস্তি দিলে ব্যাপারটা একটা স্বাভাবিক, কিন্তু মেয়েরা দিলেই ব্যাপারটা গা ঘিনিঘিনে। অথচ ব্যাপারটা তো কোন খুন খারাপি নয় বা সমলিঙ্গের মেহনও নয়, খিস্তি একটা ভাষার অপব্যাবহার বা অপভাষা ভিন্ন আর কিছুই নয়। অথচ নারীমুখের খিস্তি মানেই গা ঘিনঘিনে ব্যাপার।

কেন এসব লিখছি!! আসলে লিখতে পারছিনা। ফুরিয়ে গিয়েছে বলার ধৃষ্টতা দেখাবার মুরোদ নেই, কারন মজুত থাকলে তবেনা ফুরানোর প্রসঙ্গ। লেখা আমার কাছে স্বতঃস্ফূর্ত একটা অন্তর্বাহী প্রবাহ। যেটার বেগ তীব্রতর হলে তবেই পেনের ডগা দিয়ে সেই প্রবাহের স্ফুরন ঘটে। লেখা আসলে তবে লেখা যায়, টেনে হিঁচড়ে লেখা যায়না। অনেকেই আনন্দ হলেই সেটা লিখে ফেলেন, দুঃখ পেলেও যথাযথ বিশেষন সহ উগড়ে ফেলেন, আবার কিছু কাজ না থাকলেও , অবসরটা লিখে লিখে কাটিয়ে দেন। আমি লিখি, নিজের কথা লিখি, পাঠকের কথা ভেবে নয়, তায় পাঠকে কি বললেন সেই দায় থেকে মুক্ত। অবশ্য সৌভাগ্যক্রমে যদি কোন পাঠক পড়েন তবেই। তবুও ভালমন্দের দায় পাঠকেরই। তিনি তার পরিপ্রেক্ষিতে লেখাটা বিচার করবেন, আমি আমার প্রেক্ষিতে লিখে যাব, যদি লেখা আসে। অনেকেই কবিতা প্রসব করেন। ছন্দ মিল করেন। আমি চিরদ্বন্দ্বে ভোগা এক ক্ষতবিক্ষত উনপাজুরে জীব। কবিতাবিলাসি হলে কাব্যগর্ভা মোটেই নই।  

আমি নাস্তিক নই, ঈশ্বরে বিশ্বাস অটুট। তাই ভাবি, আমার সাথে বাকি যে সকল আত্মাকে এই পৃথিবিতে পাঠাবার কথাছিল, তারা কি সকলেই আমার সাথে এসেছে? জানার শত ইচ্ছা থাকলেও কোন উপায়ই নেই। ইশ্বর সর্বশক্তিমান হলেও তার সমস্ত উৎপাদন নিখুঁত নয়, হয়তবা ইচ্ছা করেই। তার সৃষ্টিতেও কিছু জন অন্ধ, বধির, শারীরিক ও মানসিক পক্ষাঘাত ও প্রতিবন্ধী হয়ে থাকেন।
    
আমি শারীরিক ভাবে সম্পূর্ন সুস্থ, তবুও আমি ভীরু, প্রানভয়ে বহু সত্য ঘটনাকে দেখতে পায়না, সুতরাং আমি অন্ধ। অপ্রিয় হবার ভয়ে ন্যায়ের কথা বলতে পারিনা, স্বার্থের খাতিতে সত্য গোপন করি, সুতরাং আমি বধির। অন্যের বিপদে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমি অংশগ্রহন করতে পারিনা নিজেকে সুরক্ষিত রাখার তাগিদে, সুতরাং আমি শারীরিক প্রতিবন্ধী। আর আজ পর্যন্ত ভাল কোন কিছু করা তো দুরস্থান, হিতকর কিছু ভাবতেও পারিনি, সুতরাং সম্পূর্ন না হলেও আমি বেশ অনেকটাই মানসিক পক্ষাঘাতের শিকার। আমি প্রকৃতপক্ষে সুস্থমানুষের ছদ্মবেশে একজন পরিপূর্ন শারিরীক ও মানসিক প্রতিবন্ধীর বিজ্ঞাপন। আর এটা কেবল আমিই জানি।

থাকার মাঝে আছে শুধু কিছু অনুভুতি। সেগুলো নাকি সবটা সমাজ স্বিকৃত নয়। যাব তো যাই কোথায়। বস্তুত ওই অনুভুতিগুলোর সর্বমোট যোগফলই তো আসল আমি। আর সেগুলোর বহিঃপ্রকাশ, যেটা চেষ্টা করলে হয়ত পারতাম, কিন্তু সেটার অনেকটা আবার নিষিদ্ধ। আধুনিকতা নেই শুধুই আদিমতা। তাই ওই পথেও হাতে রইল পেনসিল। যা দিয়ে লেখার কথা , সেটা দিয়ে খোঁচায়, সামনে পিছনে চারিপাসে কেও থাকলে তাদের, নাহলে নিজেকেই, চুলকাতে থাকি।  

আবার ফিরি সেই ঈশ্বরের প্রসঙ্গে, আমি যে লটের উৎপাদন, সেই লটে সম্ভবত কিছু প্রতিবন্ধী আত্মাকে মানুষের দেহ প্রদান করেননি ঈশ্বর মহাশয়। আর তাদের সেই আত্মাগুলোর কিছুজনকে বহন করে চলার ভার আমার উপরেই ন্যাস্ত। আর সেই কারনেই আমি একসঙ্গে এতোগুলো অসমঞ্জস্য খুঁতে পরিপূর্ন। অনেক সময় আমি নিজের আমিতে যখন মগ্ন হয়ে থাকি, তখন অনেক ক্ষেত্রেই কেন জানিনা এই দশাশই চেহারাটা কেমন গায়েব হয়ে যায়। আমি ছাড়া আমার উপস্থিতি আর কেওই টের পায়না। আমি যেন কেবলই একটা আত্মা। অনেকটা সন্ধ্যার নিভু নিভু পার্কের আলোতে জোড়ায় জোড়ায় প্রেমিক প্রেমিকা যুগলের মধ্যে উপস্থিত পাহারাদার। যার উপস্থিতি অগ্রহ্য করাটা প্রায় দায়িত্বের মধ্যে পরে। তেমনই অনেক স্থানে, যেখানে আমি নিজেকে জাহির করতে গেছি, অথচ সেখানে আমি থেকেও, আমার উপস্থিতিকে কেও আমলই দিলনা। অতএব ধরে নেওয়াই যায়, আমায় কেও আসলে দেখেইনি। জড় শরীরটা তখন অদৃশ্য হয়ে গেছে, আমি তখন শুধুই একটা আত্মা। আর সবটাই একপেশে উপলব্ধি কোন বহিঃপ্রকাশের সুযোগ নেই।

আমার বন্ধুরা আমার উপরে চোখ বন্ধ করে অবিশ্বাস করতে পারেন, দায়িত্ব নিয়ে অনাস্থা জ্ঞাপন করতেই পারেন। কারন অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে তাদের সাথে লাগাতার ধাপ্পাবাজি করে যাচ্ছি। সুতরাং একটা খাজা- অকর্মন্য- লজ্ঝরে ব্যাক্তিত্বের অধিকারী হয়ে বহাল তবিয়তে, বড্ড গা ঘিনঘিনে অবস্থায় বেঁচে আছি।

আমিও মহাজন। অভিধানিক মতে মহা মানে অতিবড় ও হয়, আর জন মানে একটা মৃতদেহ বা শব। আমি আসলে তো তাইই। একটা “অতিবড় লাশ”।



তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...