সোমবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৬

জনস্বার্থে প্রচারিত

৫০০ বা ১০০০ টাকার নোট বদলাতে বা খুচরো আনতে ব্যাঙ্কে, ডাকঘরে বা ATM যাবেন আপনি? তাহলে যাবার আগে কিছু অবশ্যকরনীয় টিপস-
**************************
১) একটা বিগ শপার নেবেন।


২) সচিত্র পরিচয় পত্র। যেমন আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ভোটার আইডি, পাসপোর্ট ইত্যাদি


৩) ব্যাঙ্ক একাউন্ট নাম্বার, যে ব্যাঙ্কের লাইনে যাচ্ছেন।
৪) একটা পেন নেবেন।


৫) জলের বোতল কমপক্ষে ৪ বোতল প্রতিদিন। কদিনে ইউরেকা বলতে পারবেন কে জানে!


৬) মধ্যাহ্নভোজ পেট কি আর কালাধন বোঝে! আহাম্মক শুধু খাবার ছাড়া কিচ্ছু চেনেনা। অবশ্যই দেখে নেবেন কোন কু মাংস না থাকে


৭) ছাতা অবশ্যই সাথে রাখবেন, লাইনের অধিকাংশটাই প্রায় রাস্তায় কাটাতে হবে।


৮) খাটিয়া হলে ভাল হত ঠিকিই, কারন মাসল ক্রাম্প হলে একটু গা গড়িয়ে নিতেই হবে। অগত্যা থলেতে একটা শতরঞ্জি মাষ্ট।


৯) জরুরীকালীন যাবতীয় ঔষুধ সাথে রাখুন। কারন আপনার সাথে থাকা নিষিদ্ধ কাগজগুলো দিয়ে ঔষুধ কিনতে পারবেননা, আসেপাসের লোকেদের কাছেও ওই একই, সুতরাং সাবধানের মার নাই।


১০) অতক্ষন লাইনে করবেনটা কি? অতএব মোবাইলে ডেটাপ্যাক যথেষ্ট পরিমানে মজুদ রাখবেন।


১১) এটাকে দুর্ভোগ ভাববেননা মোটেই, সেটাই রাজ-কীয় সিদ্ধান্ত। অতএব মুড বানাতে কয়েক ঠ্যোঙা পপকর্ন হলে ভাবনার ঘরে এক পরত দেশপ্রেমের পোঁচ পরবে। সেই ফাঁকে সুযোগ পেলে একআধকলি দেশাত্ববোধক গান গুনগুনালে বাকিরা অনুপ্রানিত হবেন


১২) হেডফোন লাগবেই, ফেসবুক ক্যান্ডিক্রাশ করে হাত ভেরিয়ে গেলে, গান শুনবেন।


১৩) মোবাইল চার্জিং এর সুবিধা লাইনে নেই, পাওয়ার ব্যাঙ্ক না নিলে ভুগবেন।
১৪) কিছু শুকনো খাবার রাখবেন, বিস্কুট চানাচুর ইত্যাদি। ওগুলো মাইন্ড ফ্রেস করে।


১৫) লাইনে দাঁড়িয়েই শুরু থেকে আগে পিছের জনদের সাথে সেধো-পিরিত শুরু করুন। নাহলে প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে গেলে লাইন মিস হয়ে যাবে, ওনা দের সাথে সুসম্পর্ক থাকলে উনি এখানেই ছিলেনবলে সাক্ষীদেবেন। মহিলাদের ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য নয়, তাদের জন্য আত্মবলিদান করতে চাওয়া স্বেচ্ছাসেবী সৈনিকের অভাব পৃথিবীর কোথাও নেই।


১৬) একটা ছোট মগ, বড় বাইরে চালপে মাঠেই দৌড়াতে হবে যে।
১৭) অবশ্যই সাস্নক্রিম মেখে বেরোবেন, নাহলে সেলফিতে কেলে পাঁচু মার্কা ছবি আসবে।


১৮) এবার সবশেষে টাকা হাতে পেলে, সবার আগে তার সাথে একটা সেলফি তুলে সাথে সাথে সোসাল মিডিয়ায় আপডেড দিলে তবেই গোটা মিশনটা কমপ্লিট হবে।


এবার আত্মগর্ব অনুভব করুন। সবসময় মাথার রাখবেন জাতীর স্বার্থে আপনার এই মহান আত্মত্যাগ । সুতরাং


জয়হিন্দ।


রবিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৬

অপ- দেবতার গ্রাস



(সব চরিত্র কাল্পনিক)


গ্রামে গ্রামে সেই বার্তা রটি গেল ক্রমে
সহস্র তার অর্ধ, অবৈধ করেছেন নমে
কালাধন লাগি। ভক্তদল গেল জুটি
কত আবালবৃদ্ধ উমেদারি; আঁতেল-গুটি
প্রস্তুত হইল পথে।


মহা ধনপতি
মুকেশ কহিল আসি, "হে ছাপ্পান্নঠাকুর,
আমি তব কোথা যাই।' শিলপো পতি,
দুখানি শাসিত আঁখি মানে না যুকতি,
কেবল ফরমান করে--হুকুম তার
এড়ানো কঠিন বড়ো--"উপাই কোথা আর'
আমোদী কহিল তারে- "পায়ে ধরি তব'
মুকেশ কহিল ভাবি "পাচার করি লব
যেকোনোমতে এক ধারে।' ভিজে গেল মন,
তবু দ্বিধাভরে তারে, শুধালো আমোদী জন,
"নাবালক ভাইটির কী করিবে তবে?'
উত্তর করিল মুকু, "অনিল? সে সরাবে
আপন বিদেশি খাতে। তারও পরে
বহুজন ভুগিবেন অনর্থক জ্বরে,
বাঁচিবার থাকিবে না আশা; আদানি এখন
আপন মাথা কুটিতেছে প্রাচীরে ঘনঘন;
মানুষ করেছে যত্নে যারা- তুমি ঘরের ছেলে;
আদরে বাঁদর করেছে সকল কর্ম ফেলে।
সুধীরও মানিবেনা বারন, করিলে শাসন
পদচ্যুত হইয়া অশ্রুজলে ভরিবে নয়ন
কোলে তারে টেনে লও। আমরা থাকিলে সুখে
রাজ্যপাট চলিবে তোমার ভারতের বুকে।


সম্মত হইল নরেন। মুকেশ সত্বর
প্রস্তুত হইল বাঁধি পয়সা-পত্তর,
সুইস ব্যাঙ্ক দ্বারে, সখাদলবলে
ভাসাইয়া সম্পদ সব-স্থলেজলে।
পোতে আসি দেখে--সেথা আগেভাগে ছুটি
যোগবাবা রুধিয়া আছে দুয়ার-'পরে উঠি
প্রাণায়াম রবে। "তুই হেথা কেন ওরে'
অমিত শুধালো; সে কহিল, "যাইব সাগর পারে।'
"যাইবি সাগরপারে! ওরে অনু-লোম ছেলে,
নেমে আয়।' পুনরায় দৃঢ় চক্ষু মেলে
সে কহিল দুটি কথা, "যাইব সাগরপারে।'
যত তার শ্মশ্রু ধরি টানাটানি করে
রহিল সে বিমান আঁকড়ি। অবশেষে
নরেন করুণ স্নেহে কহিলেন হেসে,
"থাক্‌ থাক্‌ সঙ্গে যাক্‌।' জেটলি রাগিয়া বলে
"চল তোরে দিয়ে আসি সাগরের জলে!'
যেমনি সে কথা গেল আপনার কানে
অমনি নরেনের বক্ষ অনুতাপবাণে
বিঁধিয়া কাঁদিয়া উঠে। মুদিয়া নয়ন
"নাগপুর নাগপুর' করিল স্মরণ।
শ্মশ্রু ধরি কৈপিন তুলি, তার সর্বদেহে
করুণ কল্যাণহস্ত বুলাইল স্নেহে।
আমোদীয় তারে ডাকি ধীরে চুপি চুপি কয়,
"ছি ছি ছি এমন কথা প্রকাশ্যে বলিবার নয়।'


রামাও যাইবে সাথে স্থির হল কথা--
রতন লোকের মুখে শুনি সে বারতা
ছুটে আসি বলে, "বাছা, কোথা যাবি ওরে!'
নরেন কহিল হাসি, "চলিনু সাগর পারে,
আবার ফিরিব, টাটা!' পাগলের প্রায়
রতন কহিল ডাকি, "মন্ত্রইমশায়,
বড়ো যে যাচ্ছেন সেথা ফেলিয়া আমার,
কে মোরে সামালিবে? জন্ম হতে যার
করেছি লালন, সামান্য চাঁদা কোথাও--
দিইনি এমন নাই , সেগুলি ফিরৎ দিয়ে যাও।'
নরেন কহিল, "রতু, যাইছি সাগর পারে,
আবার ফিরিব আমি।' বিপ্র স্নেহভরে
কহিলেন, "যতক্ষণ আমি আছি ভাই,
তোমার রাখাল আমি, কোনো ভয় নাই।
এখন নলখাগড়ার ভীর ক্ষিপ্ত জনপদ,
অনেক কালাধনীর মেলা, পথের বিপদ
শেষ নাই; যাতায়াত একটি হপ্তা কাল,
তোমারেও লইয়া যাব, আমি তোমারও রাখাল।'


অলীক ভাষনবাজ, জাপান দিল পাড়ি,
হয়রান হইল সবে যত নরনারী
অশ্রুচোখে। হেমন্তের প্রভাতশিশিরে
হা হুতাশ করে দেশ গঙ্গানদীতীরে।

**************************

(কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দেবতার গ্রাস উন্মাদের গ্রাসে)

ফেসবুকীয় সিপিএমঃ ফিউজড আইনগাইডেড কামিকাজে ড্রোন

  ফেসবুকের ‘সিপিএম’ নামক এই চুড়ান্ত আঁতেল ও প্রায় সর্বজ্ঞ গোষ্ঠীটার পূর্ণ বোধোদয় বা পূর্ণ বিনাশ না ঘটা অবধি রাজ্যের বাম নেতৃত্বের খুব বেশী ...