বৃহস্পতিবার, ৮ জুন, ২০১৭

।। নদিয়া ২ বর্ধমান ।।


নিরুপায় দশা মাঝামাঝেই চর্ম চক্ষুর সাথে সাথে মনের চোখও খুলে দেয়। নাহলে এই ভরা জ্যৈষ্ঠের গ্রীষ্মে কেনই বা বাইক নিয়ে সফরের ভূত মাথায় উঠবে। প্রান্তিক নদীয়া থেকে যাব আধুনা পূর্ব বর্ধমান জেলা সদর বর্ধমানে, মিহিদানার শহর বর্ধমান। গ্রামীণ বর্ধমানের গ্রামাঞ্চলের প্রবাদ “ধান-আগুরি-মুসলমান , তিন নিয়ে বর্ধমান”। কথাটা যে কতটা সত্যে, সেটা একমাত্র এসেই উপলব্ধি করতে হবে। অবশ্য বর্ধমানকে সাবেক বাম আন্দোলনের আতুর ঘর বললেও অত্যুক্তি হয়না। গতমাসে আমাদের পিসিমনি বর্ধমানের লেজ কেটে দিয়েছে, শিল্পাঞ্চল আলাদা, বাকিটা গ্রামীণ।

গ্যারাজে আমার বুলেট বাবাজি স্টার্ট নিলেননা সকালসকাল, অবশ্য সুইচ টিপেই চেষ্টাটা করছিলাম। মেন গেটের বাইরে ঠেলে এনে লাগালাম কিক, এ কি আর যার তার কম্ম! গতরাত্রের ঝড়-বৃষ্টির স্যাঁতসেঁতে পনাতে সম্ভবত ব্যাটারি চার্য ছেরে দিয়েছে। যাই হোক বার পাঁচেকের চেষ্টায় ৫০০ সিসি এর ইঞ্জিন গগনভেদি চিৎকার করে জানান দিল, সে ছোটার জন্য প্রস্তুত। পিঠে হালফ্যাসানের একটা ব্যাকপ্যাক; তাতে একটা গামছা, একটা লুঙ্গি, পাতলা টিশার্ট, ডেলি ব্যবহারের টয়লেট এক্সেসারিজ, পানীয় জলের, আধুনা মোবাইলের পাওয়ার ব্যাকআপ, একটা বোতল আর দুটো বিস্কুটের প্যাকেট একটা খোপে থাকেই থাকে। বাকিগুলোতে যে উদ্দেশ্য নিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছি, তার মানানের কাগজপত্র ফাইল ইত্যাদি। আমার কাছের দুটো পাওয়ার ব্যাকআপই জয়দার দেওয়া। এমাসের বাক্সপ্যাটরাতে নতুন সংযোজন বলতে একটা বিগসপার সাইজের ঢাউস নাইলন ব্যাগ। তাতে অত্যন্ত সযত্নে মুড়ে রাখা আমাদের অকপট সাহিত্য পত্রিকা। পথে যদি বড় ও চালু কোনো ম্যাগাজিন স্টল পায়, ২-৫ পিস রেখে যাব এই অভিপ্রায়ে।

আজকাল পিসির ‘সেফ ড্রাইভ- সেভ লাইফ’ বিজ্ঞাপনের জন্য নয়, সেই বাইক প্রেমের শুরুর দিন থেকেই স্টাইলিশ হেলমেটের প্রতিও একটা ভীষণ দুর্বলতা রয়েছে আমার। এখন অবশ্য স্টাইল আর বেঁচে নেই তেমন, কিন্তু হেলমেটের সু অভ্যাসটা যথারীতি রয়েছে। রওনা শুরু করতে করতে দেখি পৌনে নটা, প্রাতরাশ হয়নি; পথে কোথাও একটা করে নিলেই হবে।

প্রথম আধা ঘন্টা তেমন কিছু বলার মত নয়। গঙ্গার উপরে শ্রীচৈতন্য সেতু, পশ্চিমমুখী হয়ে ডানদিকে নদীর নিচে অনেকটা স্থান জুড়ে চড়া পরেছে, ডানদিকে নব নির্মীয়মান ISCON মন্দিরের সুউচ্চ চূড়া চূড়ান্ত বৈভবের প্রতিমূর্তী হয়ে নিজেকে জানান দিচ্ছে। রাস্তার দুধারে টিপিক্যাল নদীয়ার খালবিল, আর দূরে দিগন্তরেখানে কিছু গ্রাম ও মন্দিরের চুড়ো অথবা মসজিদের মিনার। নদীর চড়াতে বেশ কিছু সব্জির চাষ, ফুটি, তরমুজ, শশা, পটল, ঝিঙে ইত্যাদি। দূরে আখ ও ভুট্টার ক্ষেতও জনজরে আসছে। গাঙ্গেয় পলিমাটির উর্বরতার প্রভাবে গঙ্গার দুইপাড়ের বেলেমাটিতে সব্জির চাষ সেই নদীমাতৃক সভ্যতার শুরু থেকেই যে সমৃদ্ধ, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। নদীয়ার সীমানা অতিক্রম করে বর্ধমানে ঢুকে কয়েক কিমি এসেই একটা তেমাথার মোর মত জাইগাতে জানলাম দুটো রাস্তাই বর্ধমান যাচ্ছে; একটা ভায়া ধাত্রি গ্রাম, অন্যটা ভায়া কুসুমগ্রাম। শেষেরটা ৫-৭ কিমি কম ও সোজা রাস্তা, অতএব সেই পথেই পা বাড়ালাম। তবে আসার পর দেখলাম, এ পথের আসেপাসের ঘরবাড়িগুলোর উঠোন কিন্তু এই রাস্তাটাই।

রাস্তার কথাতে বলি, বেশ কিছুদিন ধরেই দেখছি, গ্রাম বাঙলার রাজ্যসড়ক গুলোর দারুণ ভাবে হাল ফিরেছে। বেশ চওড়া, দুপাশে সহ মাঝে সাধা রঙের বর্ডার, গাঢ় সবুজ বোর্ডে সাদা রঙ দিয়ে জনপদের নাম লেখা ইত্যাদিজনপদগুলোতে দেখি রাস্তার পিচে রেডিয়াম লাইট রিফ্লেক্টার বসানো। বেশ ঝকঝকে, আর বাইক আরহীদের জন্য এই ধরনের রাস্তা এক কথায় স্বর্গ। কিন্তু শুধু সুন্দর রাস্তা আমি বা আমরা বললে তো হবেনা, অন্যেদেরও সুন্দর লাগে অন্যভাবেঅতএব অনেক চাষির কাছে এটাই খামার, ফসল পেটাচ্ছে, শুকাচ্ছে, গাদা দিচ্ছে সহ আর কতো কি। দুএক স্থানে তো গোটা হাটটাই রাস্তার উপরে বসে পরেছে, সে এক কেলেঙ্কারিয়াস কাণ্ডকারখানা। আর সেই দানা বা শাকপাতারির লোভে যতো রাজ্যের পোষ্যের আমদানি এই রাস্তার উপরেই; হাঁস, মুরগি, ছাগল, ভেড়া, গোমাতা, গোপিতা, গোহধর সহ কুকুর, বেড়াল সকল কিছুর অবাধ বিচরন ক্ষেত্র। আর দুরন্ত আবাল মানবশিশুর কথা তো জাষ্ট ইচ্ছা করে উহ্য রাখলাম। জানিনা এমন রাস্তা বাঙলার আর কোথায় আছে গাড়ি ঘোড়ার চাপ তুলনামূলক বেশ কম, অথচ উপরোক্তদের দাপটে মাইল মিটারের কাঁটা ৩০ থেকে পঞ্চাশের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে।

বর্ধমান জেলা ঢুকে প্রায় ৫-৭ কিলোমিটার যাবার পরেই জীবনানন্দের বাংলার সেই চিরাচরিত রূপ। গ্রামীণ বর্ধমানের পরিবেশের সাথে আমি কিছুটা হুগলী, দক্ষিন ২৪ পরগনা আর পূর্ব মেদনীপুর জেলা ছারা সবুজের সাথে মাটির এমন মমত্ব ও এই বিপুল বৈচিত্র আর কোথাও দেখিনি। চাষি ধান কেটে নিয়ে গেছে গত মাসেই, কোথাও সামান্য পাটের ক্ষেত কোথাও কিছু তিল বোনা; বাকিটা কাটা ধান গাছের গোঁড়া বা চলতি ভাষায় নাড়া ভর্তি খালি জমি মাইলের পর মাইল। মাঠে ট্রাক্টারের চাকার ধান বয়ে নিয়ে যাবার দাগ এখনও স্পষ্ট, সেখান থেকে ঝরে পরা ধান গুলো ইতি মধ্যেই অঙ্কুরিত হয়ে বিঘৎ খানিক করে লম্বা হয়েছে বিনা পরিচর্যাতেই। দিগন্ত জোড়া সেই সবুজ গালিচার মধ্যে, জলে পচা, রোদে পোড়া সেই নাড়াগুলো গোটা মাঠটাকে একটা অদ্ভুত সুন্দর পান্ডুর সবুজাভ বর্ণ দান করেছে। মাটি যথারীতি ফুটিফাটা, চাষিও বৃষ্টির প্রতীক্ষায়, এই অনাহুত ঝরে পরা ধান থেকে জন্ম নেওয়া চারা গুলোও বৃষ্টির প্রতীক্ষাতে। অথচ দুজনের লক্ষ্য আলাদা, চাষী এই নাড়া সহ সবুজ চারাগুলোকে ট্রাক্টারের ধারালো ফাল দিয়ে কাঁদার মধ্যে মিশিয়ে দেবে। যেগুলো সার হিসাবে পুষ্টি প্রদান করবে বর্ষার ধানের চারাগুলোকে। আর এদিকে এই ঝরে পরা ধান থেকে জন্মানো চারাগুলো বৃষ্টির আকুল প্রতীক্ষাতে শুধু বেড়ে উঠার জন্য , বাঁচার জন্য। এ এক চরম ও অসম প্রতিযোগিতা।

গোমাতা-পিতা-ভাতৃ-ভগীনের দল রীতিমত পিকনিকের মুডে মাঠের আলের লকলকে ঘাস সহ, কচি ধানের চারা খেয়ে চলেছে। সাথে মোষও চড়ছে ভারী সংখ্যাতে। একটা জিনিস কিছুতেই ভেবে উদ্ধার করতে পারিনি, আজও সেই ভাবনাই ভাবতে লাগলাম। গরুও ঘাস খায়, খড় খায়, খোল খায়, পাচনের বারিও একই। দুজনেই গোবর নাদে, ছরছর করে বালতি বালতি মোতে, সিং আছে, একই ধরনের লেজ এমনকি গাছে মাছি ভনভন করে, গুঁতায় সুযোগ পেলেই এবং হাটেই কেনাব্রচা হয় উভয়েই হাম্বা ডাকে, জাবর কাটে, চাঁট মারে। দুজনেই দুধ দেয়, চারটে করে বাঁট। কারোরই ছাগলের মত দাড়ি নেই যে বুদ্ধিজিবী হিসাবে গন্য হবে। বরঞ্চ মোষ পরিমাণে অনেকটা বেশি দেয়। দুজনেরই মাংস খাওয়া হয়, সারা পৃথিবী জুড়ে। শরীরে যৌনাঙ্গের অবস্থান থেকে রতিক্রিয়ার পদ্ধতিও একই স্টাইলের।

পিতা মোষ বেশি শক্তিশালী গোপিতার চেয়ে, অতএব গাড়ি বা নাঙল- যোঙাল জুড়তে মোষই শ্রেষ্ঠ। গোপিতা মহাদেবের সাথে পূজিত হলে, মোষ মা দূর্গার সাথে পুজিত হয়। এমন কত্তো কি সিমিলারিটিস ছরাছরিঅথচ গো মাতা হয়ে গেল, আর মোষ? সে কিনা মোষই রয়ে গেল? সৎ মা না হয় নাইবা হল, মাতার পিতৃকুল মাতৃকুলের কোনো আত্মীয় তো হতেই পারত। শ্যালিকা, বৌদি, বান্ধবী, সই, সেলুজ ইত্যাদি গুলো নাহয় ফচকে সম্পর্ক, কিন্তু মাসীমা, পিসিমা ঠাকুমা, দিদিমা, রাঙ্গাপিসি, ফুল মাসি, ইত্যাদি নামে তো ডাকাই যেত, এগুলো কি গম্ভীর রিলেসন নয়! মায়ের অধিকার গোমাতা পেলেও এমন তো নয় যে গোমাতার জন্মদাত্রী মা টিকে দিদিমা ডাকার বিলটাও পাস হয়ে গেছে! চূড়ান্ত ফেমিনিজমে আক্রান্ত এই সমাজের সংবিধানে তো শুধুই মা শব্দ ভাই, ভগীনি, নাতি পুতি তো কোন ছার এমনকি পিতারও কোনো ক্রেডিট নেই। গোমাতা যেন এ্যামিবার মত নিজে নিজেই গোহদরা বা গোহদরি প্রসব করেন। 

গো পিতার এমন দুর্ভোগ যে গেরস্তের ঘরে থাকলে আগেই নর সন্তানেরা শিশুপিতার অন্ডকোষ কেটে খোঁজা করে হাতে ধরিয়ে দেয়, থুড়ি মুখে জাল পরিয়ে দেয়। অন্য ভাগ্য হল ভগার নামে রাস্তাতে ছেরে দেওয়া। যত রাজ্যের ফল পাকুরের দোকানে হুজ্জুতি বা তোলা আদায় করার পাশাপাশি ময়লা ফেলা ভ্যাটগুলোর সবুজ সাফ করা, পাইকারি হারে গুতানো ও রাস্তা অবরোধতার ফাঁকে রাস্তা গোবর নাদার ফাঁকে কোনো গোমাতা সু-নজরে এলো, নধর দেহ ছুটিয়ে ইমানদন্ড তরিবারির মত উঁচিয়ে তাঁকে ধাওয়া করে আদর সোহাগ করা। এবিষয়ে অবশ্য কুমারি বা বাচ্চার মাতা ইত্যাদির বাছবিচারের মত নিকৃষ্ট বিলাসিতা গোপিতাদের থাকেনা। অথচ এদিক থেকে মোষ এই সকল চরিত্র গুণ থেকে মুক্ত। প্রকাশ্য রাস্তাতে ধাওয়া করে লাগাতার অন্যের স্ত্রী কন্যা পুত্রবধু ইত্যাদি সম্পর্কিত মহিলাদের ধর্ষনের ইতিহাস মোষেদের বংশে নেই। পার্থক্য বলতে মোষের বাসস্থান খাটাল হয় আর গরুর গোয়াল। দু স্থানেই মশার ভনভনানি, রক্তচোষা ডাঁশ, আর বিচ্ছিরি গন্ধ।

তাহলে এই বৈষম্যের পিছনে কি কারন থাকতে পারে? একটা চক্রান্ত, সেই চিরাচরিত বর্ণ প্রথা। মোষ এলোমেলো লোমযুক্ত কালো বলে ব্রাত্য, আফ্রিকান মানুষদের মত। সেখানে গরু হল গিয়ে হিপিদের মত, কত রঙের বাহার, পেলব কোমল শরীর। তাই গো হল মাতা, আর মোষ রয়ে গেল অসুরই।

এরই নাম কপাল। সে যাই হোক, মাথা থেকে এই সকল আলতু ফালতু ভাবনা ঝেড়ে ফেলতে একটা সিগারেট না ধরালেই নয়, একটা ছোট জনপদে দাঁড়ালাম। আরো কিছু দূর চলে এসেছি, এখানে মাটির চরিত্রে কিছুটা বদল লক্ষ্যনীয় হলজনপদগুলোতে চা, পান, বিড়ি, মিষ্টান্ন, মোবাইল রিচার্জ এর দোকানই বেশি, তাছারা বাকিগুলো সবই প্রায় ব্যাবসায়িক ছোট ছোট আড়ত। গোটা রাস্তা জুড়েই ধানের বস্তা বোঝায় ট্রাকের ছড়াছরি, নিকটবর্তী চালকল গুলো খোরাক এই ট্রাক গুলোই প্রায় প্রতিটি জনপদের কাছে একটা করে স্কুল বিশেষ লক্ষ্যনীয়। দূরে ঘন কালচে সবুজ গাছের সারির ফাঁক দিয়ে ছোট্ট ছোট্ট গ্রাম নজরে আসছে, বাকিটা সেই তেপান্তরের সমতুল্য। রাস্তার ধারের কয়েকটি  বাড়ির পাশের জমিতে কচু, ভেন্ডি, বরবটি, করলা বা উচ্ছে, বারমেসে লঙ্কা, বেগুন সহ বিক্ষিপ্তভাবে শব্জি চাষ হচ্ছে, তবে গোটা রাস্তা জুড়ে মাংসের জন্য বিক্রি হওয়া পোল্ট্রি ফার্ম বেশ উল্লেখযোগ্য সংখ্যাতে চোখে পড়ল। এছারা বলার মত একমাত্র চালকলের চিমনীগুলো। পরিবেশ দূষনের ভারী ভারী আপ্তবাক্য তথা নিষেধাজ্ঞাকে মধ্যমা আঙুল দেখিয়ে গলগল করে ছাই সহ কালো ধোঁয়াতে আকাশকে ঢেকে দেবার ব্যার্থ প্রচেষ্টাতে রত।

যাত্রা শুরু থেকে প্রায় ৩৫ কিমি চলে এসেছি, সময় ৪৫ মিনিট। এবারে রোদের তেজ বেশ অনুভূত হচ্ছে। হেলমেট মাথাকে এক্সট্রা ঘামিয়ে দিচ্ছে। অতএব আবার বাইক দাঁড় করাতেই হত। কিন্তু রাস্তা চওড়া করতে গিয়ে রাস্তার ধারের গাছগুলো সব আত্মাহুতি দিয়েছে, বেড়েছে শুধু দুধারের নয়ানজুলি গুলো, আড়ে ও বহরে। একটু ছাওয়া খুঁজতে গিয়ে সামান্য দুরেই সেটা পেলাম। একটা বাবলা গাছ। এই চাঁদি ফাটা রোদ্দুরে বাবলা গাছের ওই ছোটছোট পাতার পাতলা ছায়াও যে কতটা স্বস্তিদায়ক, সে শুধু ভুক্তভোগীই জানে। এর আগে বোধহয় কখনই বাবলা গাছকে এতোটা ভাললাগেনি, এতো ভালো করে দেখিওনিএই গরমেও দেখি কি সুন্দর হলুদ হলুদ ফুল ফুটেছে। দু ঢোক জল খেয়ে, একটা পিওর শান্তিনিকেতনী সুতির বড় রুমালকে; বীরেন্দ্র সেহবাগ স্টাইলে মাথায় ব্যান্ডেনা মত বেঁধে মুখটাও মাওবাদীদের মত করে চোখে খোলা রেখে আবৃত করে নিলাম।  নচেৎ পোড়া মুখ আরো পুড়ে জয় বজরঙবালীড় বংশতুতো ভাই সদৃশ্য ধারণ করব।

ওই বাবলার ছায়া এক আশ্চর্য পরিবর্তন আনল মনজগতে, আলফাল ভাবনা সরিয়ে হঠাত করেই দেখার পরিসরকে বিস্তৃত করে দিল। বাইক যত এগোয় ততই দুধারের অবশিষ্ট গাছগাছালি গুলোকে খেয়াল করি মন দিয়েতিরতিরে হাওয়ায় সোনাঝুড়ির ডালে যেন হলুদ রঙের বন্যা লেগেছে, আবার কোথাও কৃষ্ণচূড়ার লাল আগুনে ফুলে সেজে গ্রীষ্ম তার নিজের রূপ জাহির করছে। রংগনের লাল থোকা হোক বা শিরীষের সাদা তীব্র গন্ধ যুক্ত গোটা পরিবেশকে একটা অন্য মাত্রা দান করেছে। রাস্তার ধারের ঝোপ গুলোতেও টগর, জবা, বুনো বেলফুল, সহ অনামী নানান গুল্মতে যে কত রকমের রঙের পসরা, আমরা যাত্রা পথে যদি একটু খেয়াল করি, গরম কোথায় যেন উধাও হয়ে যায়। হলুদ টিকুমা, রাধাচূড়া, কলকেফুল, চাঁপা এমনকি আকন্দও নিজেকে ফুলের সাজে সাজিয়ে রেখেছে। গোটা মাঠ জুড়ে অসংখ্য তাল গাছে জলভরা তালকাঁদি গুলো দুর থেকে পুঁই মিচুরির মত লাগছে, আবার পুরুষ তালগাছ গুলোতেও পুরুষ ফুলের দণ্ড অনেক সুউচ্চে কি গাম্ভির্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এলোমেলো হাওয়ার জন্য পথের ধারের কলাগাছের পাতা গুলো শতচ্ছিন্ন হয়ে কি সুন্দর ছন্দবদ্ধভাবে হাওয়াতে নেচে চলেছে। 

ইউক্যালিপটাস বা ওই জাতীয় কোন গাছের চ্যাপ্টা শুকনো কালো সিমের মত ফলগুলো গোটা রাস্তাময় বিছিয়ে ছরানো। দুধারে পিটুলি, বহল, আঁশ ফল, কড়ুই, গামারি, আঁটির আম, প্যাঁক গজানো সজনের গুড়ি, জারুল, ফলসা, পাকুড়, শ্যাওড়া, ঘোড়ানিম, পাহাড়ি শিমুল, বকুল, কদম সহ কত্তকি যে আমরা অদেখা করে চলে যায় তার লেখাজোখা নেই। বাঁশ ঝাড়েও নতুন কোঁড়া গজিয়েছে, কোঁড়া মানে নতুন চারা বাঁশ গাছ। একটা গ্রাম্যক উন্নয়ন সমিতি দেখলাম লোহার খাঁচা দিয়ে ঘিরে বেশ কয়েক কিলোমিটার জুড়ে রাস্তার দুধারে কলম আমের চারা বসিয়েছে, যদিও তাতে আমের চিহ্ন মাত্র নেই। তাছারা ফল যুক্ত গাছের মধ্যে জাম আর তেঁতুল লক্ষ্যনীয়, ফলের ভারে যেন প্রতিটি গাছই ভেঙে পড়ার উপক্রম। নয়ানজুলির ভিজে জমিতে বড় চওড়া ও ধারালো প্রান্ত যুক্ত লম্বা ঘাসেরই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য, পাশে ঢোলকলমির ঝাড়, কোথাও নোটে শাক, কোথাও মেঠো লতানে কলমি, খারকোন, মানকচুর ঝোপ; এটাই তো আমার শস্য শ্যামলা বাংলা। শুধু কিছু স্থানে পার্থেনিয়ামের বিষ প্রায় সমগ্র অঞ্চলটাকে গ্রাস করে নিয়েছে, যা এক অশনি সঙ্কেত।

কতকিছুই আমাদের রোজকার চলতি পথে দেখেও অদেখা রয়ে যায়, অথচ আমরা বৈচিত্রের খোঁজে কি কি না করে বেড়ায়। সামান্য বট বা অশ্বত্থের নতুন গজানো কালচে পাতা গুলোতে এই নির্দয় জ্যৈষ্ঠের সূর্যকিরন প্রতিফলিত হয়ে চোখে আসলে যে কি এক অপরূপ রূপ পরিলক্ষিত হয় তা কেবল জনান্তিকিই জানে। এর মধ্যেই কখন যে এই গরম, দুরত্বকে অনায়াসে টপকে বর্ধমান শহরের উপকন্ঠে নির্মিয়মান রেলওভার ব্রিজে পৌঁছে গেলাম সেটাই জানিনা। এর পর তো সেই পুর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী কাজে হারিয়ে গেলাম। প্রাতরাশটাও কি সুন্দর মধ্যাহ্ন ভোজে রুপান্তরিত হয়ে গেল। 

রবিবার, ৪ জুন, ২০১৭

।। খেউর নামা ।।



কিছু বন্ধু আজকাল আমার অধিক কাছেরজন হয়ে গেছেন দেখছি, যারজন্য তাঁরা আমাকে সযত্নে এরিয়ে চলছেন। কি আর বলি তাদের, একটাই কথা ‘আপনাদের দ্যায় কে’? কিছুজন আবার ছোঁয়াচ বাঁচায়, তাদের বলি কাকা/পিসিমা, আমার পোষ্ট বা টাইমলাইনে এলে মাথায় একটা কন্ডোম পরে নিয়েন প্লিজ, এখানে HIV ভাইরাস চিলুচিলু করে ঘুরে বেড়ায়। খপাৎ করে আপনার ঢাউস সাম্মানিক ফানুশ ফাসিয়ে দিতে পারে। কিছুজন কোনো কারন ছারায় আমায় দেখে এমনধারা নাক সিটকায়, যেন আমার হাত দিয়ে হস্তমৈথুন করতে গিয়ে তার লিঙ্গের নুনছাল উঠে গেছে। বলি ও মশাই, এতো পতিভা কি ঘরের লোক জানে? কয়েকজন তো আবার আমার ঠিকেদারি নিয়ে রেখেছে, কে জানে বিবাহযোগ্যা মেয়ে বা বোনের জন্য মনেমনে আমি তাদের মানসপুত্র ছিলাম কিনা। এমনও হতেই পারে নিজের অতৃপ্ত শয্যা সঙ্গী বা সঙ্গীনির জন্য আমাকে নিতান্ত মনোনীত করা হলেও আশ্চর্যের কিছু নেই। এগুলো দেখলেই আমার মনে এমন ভাব চলে আসে যে, কেঁদে ফেলি মাইরি, আর আজকাল কে আর না জানে চোখের জলেও গর্ভসঞ্চার হয়।
গত কয়েকদিন ধরেই মান ও সম্মান নিয়ে বেশ কয়েকটা সুতো ইতিউতি নজরে পরেছে। আমাদের এক বিশেষ গ্রুপ সহ বেশ কিন্তু বন্ধুর সময় সারণীতেও যার চোরাবালি অপসৃতমান; চেরানোবিল পারমাণবিক তেজস্ক্রিয়ার মত বেশ ভালই ঘা করেছে পরিচিতমহলে।  
যদিও আমার ওটা সাবজেক্ট নয় বলে, তেমন উৎসাহিত হইনি। আমার তো শ্লা হল গিয়ে, সম্মানই নেই,  তো অসম্মানিত হবো সে উপায় মোটে নাই। দুটো দিন ধরে বেশ পবিত্র চেষ্টা চরিত্র করলাম, ভোরে প্রাণায়াম, সকালে কাঁচা দুধে ডিম ফাটিয়ে দুপিস আমন্ড, দুপুরে চাউমিন, সন্ধ্যায় ছাতু ও রাত্রে বাংলা... নাহ। মানই গজালোনা, তো যাবে, লোম অবশ্য গজানো বন্ধ নেই, নির্দিষ্ট মাত্রাতে বাড়ছে। চেষ্টা করলে অবশ্য ঘরের পিছনের ছাঁচতলাতে, যেখানে ছোটবেলা হিসি করতাম সেখানে দুটো কচু বুনলে নিশ্চিত ‘মান’- বাঁচিয়ে দিত, একটা লম্বা গজিয়ে, নিচের দিকে।
আমার তো...
বাপ বললে মোদির ভাই (এক্ষেত্রে আপনি মনে মনে যা খুশি বসাতেই পারেন), আনন্দের আর সীমা নাই।
লোকে জন্মাবার পর ছ্যাবলা হয়, আমি মায়ের পেট থেকেই ত্যাদোঁড়। হতেই পারে, নিষিক্তকরণকালে কোনো ফলিডল বা গ্যামাক্সিনের প্রকোপ থাকলে সেটা আশ্চর্যের কিছুনা। তাই বলে রাখি কিছু রেমিডি আমার টাইমলাইন ও গ্রুপের উপরোক্ত অবন্ধু, শুভান্যুধায়ী  ও বন্ধুদের জন্য-
আমার পোষ্ট বা কমেন্টে কারোর খারাপ কিছু লাগলে, আমার ভাবনা অনুযায়ী একটাই কাজ করতে পারেন, খুবই রেডিমেড প্রায় ২ মিণিটস নুডলসের মতোই আরকি:-
একটা গ্লাস নিন, একটু ঠান্ডা জল ঢালুন তাতে। হালকা ইসব গুলের ভুষি বা কায়মচূর্ন মিসিয়ে ঢক করে গিলে নিন। এবার মানসিক ভাবে নিজেকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করুন। মনে রাখবেন বাঙালীর যুদ্ধ, আধাঘন্টার বেশী সময় লাগার কথা না।
এবারে মনে করুন শ্বশুর বাড়ির প্রথম অপমানের কথাটা, নাহ আত্মা জাগলনা তো? রোজ ডেলিপ্যাসেঞ্জারি করেন যে জন-বাহনটিতে, সেখানের সেই বিশেষ যাত্রীটিকে মনে করুন, তার বগলের গন্ধ... দেখুন এবারে আপনার রোমকূপের ছিদ্রগুলো খুলে গেছে। এবারে ভাবুন, প্রাক ভার্চুয়াল যুগে যখন কাওকে টাইমলাইনে গালি দেবার সুযোগ ছিলনা, তখনকার দিনের অফিসে বা কর্মস্থলে সেই অপমানের কথাগুলো, কয়েকবিন্দু ঘাম টপ করে দেখবেন ঝরে পড়ল বলে। এবারে হালকা করে একবার পাছায় হাত বুলিয়ে নিন, এটা সামান্য বিরতি মাত্র, মানসিক প্রশান্তি পাবেন নিশ্চিত। দিয়ে আবার ভাবুন, যেবারে হিসি করতে গিয়ে অসাবধানতা বসত অর্ধেক হিসিটা প্যান্টেই পরেছিল, আর আপনি সেটা লুকাতে কলের জলে হাত ধোয়ার বাহানাতে আরো খানিকটা প্যান্ট ভিজিয়ে ঢাকাবার চেষ্টাটা , চায়ের দোকানের ছোঁড়া চাঁদু সকলকে বলে দিয়েছিল... ব্যাস, রাগে কপাল ফেটে দরদর করে ঘাম ঝরছে। রগের শির ফুলে উঠেছে, ঠিক এই সময় ঘড়িটা দেখে নিন।
মিনিট পনেরো এভাবেই কাটিয়ে ফেলেছেন ইতোমধ্যে, অতএব আপনি সম্পূর্ন প্রস্তুত সমরের জন্য। এবারে একটা কমোড ওয়ালা প্যানে গিয়ে হাতে সময় নিয়ে বসুন, সাথে ২ টো মাড়ি বিস্কুট রাখা অবশ্যকর্তব্য। আর এক বোতল ফ্রিজের জল তো থাকতেই হবে, এটা জীবনদায়ী। হ্যাঁ, অবশ্যই ইজের খুলে বসবেন। এবারে আগের কাজ আগে, ব্যাটা ছেলে হলে, আগে বিড়ি টা শেষ করুন। কারন ওই সুখটান পৃথিবীর আর কিচ্ছুতেই নেই। মেয়েরা শ্বাশুরী বা ননদের নাম নেবেন ১১ বার, ভরভর করে ও কাজটা ত্বরান্বিত হবে।
এবার বারমুডার পকেট থেকে, বা লুঙি না নাইটির কোঁচর থেকে এন্ড্রোয়েডটা বের করে নেট অন করে ফেসবুক এপসে ক্লিক মারুন। এই এক ফেসবুক, আমাদের প্রতিষ্ঠিত ক্লিকবাজে পরিণত করে সার্টিফিকেট দিয়ে দিয়েছে। ফেবু তার নোটিফিকেশনের আপডেট দিতে থাকুক, তার মত সময় নিয়ে; আপনি উইকিপিডিয়াতে গিয়ে একবার নিজের খিস্তির স্টকটা ঝালিয়ে নিন। যাঁহারা তরলমতি, তাদের কোষ্ঠে কাঠিন্য অতি স্বাভাবিক, অতএব এবারে একটা উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত চালিয়ে দিন ওই মোবাইলেই, যাদের বায়ুর দোষ আছে তারা হিমেশের নিজের গাওয়া গান লাগিয়ে দিন, কারন নাক টিপে গুনগুন করলে ওটা যাবে ভাল, বাকিরা হানি সিং,
কারন বলছি।
হিমেসের গান শুনলেই, মুখে অটোমেটিক বিকৃতি শুরু হয়ে যাবে, যেটা আপনাকে কোঁথ পারতে সাহায্য করবে। এবার নিম্নচাপের টুপটাপ বর্ষন শুরু হয়ে গেলেই, ওই বিকৃতি মুখের যাবতীয় এক্সপ্রেশন এক্সটেন্ডেড করুন। ফিরে আসুন ফেসবুকে, সোজা চলে আসুন আমার পোষ্টে। যাবতীয় কাঁচা গালাগালি সহ ইত্যাদি ইত্যাদি পরিবেশন করুন থরে থরে, সমস্ত রেজুলেসন ভুলে রেভুলিউসন সহ। কারন ততক্ষন আপনার উদরলঘুতার কারনে, মনেও হালকা প্রাশান্তি ভাব বিরাজমান।
এবার বিস্কুট দুটো খেয়ে নিন, একটু ঠান্ডা জলো গলায় ঢালুন। বেগটা আবার ফিরে পাবেন।
আবার এক প্রস্থ নিজের মনকে সুখ দিয়ে নিন, আমায় গাল দিয়ে, অন্য অনেকের প্রতি যত্তো ক্ষোভ, নিজের যাবতীয় না-পারা সহ সকল কিছুর দায় ভার্চুয়ালি সব আমার উপর ঢেলে দিন। কেও মানা করবেনা, সব্বাই দাঁত ক্যালাবে। আর মাইরি বলছি, শৌচাগারে আমি নেই দেখার জন্য, নিশ্চিবতে করুন। সাথে সাথে যত্তো রাগবেন, পেট টাও রিলাক্স ফিল করবে।
এবার একটু হালকা ঘাম মুছে নিন। ছেলারা লুঙ্গি দিয়ে, মেয়েরা নাইটির অতিরিক্ত অংশ দিয়ে। বারমুডা বিলাসীরা হাত দিয়েই ঘাম ঝাড়ুন। যদিও আমার আবার ওই সুবিধা নেই। আমি বাথরুমে জন্মাবস্থার সময়কালেই বিশ্বাসী। জীবনে নাগা হবার যে সুপ্ত বাসনা টা ছিলো, ওখানেই মেটায়।
সে যাই হোক। পেটের এবং মনের যাবতীয় স্খলন পরিপূর্ন করে, টয়লেট পেপারে গুহ্যদ্বার মুছে নিন, আপনার হলুদ পাখীদের আপাতত টাটা করুন। তার সাথে আমার নাম ২১ বার অত্যন্ত ঘৃনামিশ্রিত স্বরে উচ্চারিত করুন। কমোডে ফেলার আগে জয় সতীনাথের জয় বলে, অরিজিত সিং এর একটা রোমান্টিক গান চালিয়ে, হাত ধুয়ে (ডেটল সাবান দিয়ে) আরেকটা সরি পোষ্ট অথবা কমেন্ট করে দিন।
ব্যাস....
সাপ-লাঠি দুই ই অক্ষত।
যারা আমাকে ব্লক করে রেখেছেন তাদের জন্য বলি, ফেক একাউন্ট থেকে দেখছেন সেটা আর লজ্জা লজ্জা মুখ করে বলতে হবেনা, আমি আমার সেই সকল কাছের মানুষ নিয়েই সুখী ও খুশি, যাদের জাত যায়না আমিত্বের দায়ে।

আপনি থাকছেন স্যার।

(ক্যালাবেন না প্লিজ)


শনিবার, ৩ জুন, ২০১৭

।। হতাশা ।।

সারমেয় যখন উলঙ্গ থাকে, তখন আরেকটি সারমেয় কখনো মনে করে না যে এটা অশ্লীলতা। কারন সে নিজেও উলঙ্গ। সে আবার যখন প্রকাশ্যে যৌন কাজ করে, তখনো আরেকটি সারমেয়র মনে আসে না, যে এটা অশ্লীলতা। তাতে মানুষই লজ্জা পায়, আবার কিছু নিকৃষ্ট রুচির মানুষ তারিয়ে তারিয়ে সেই রতিদৃশ্য উপভোগ করে, কারন হিসাবে বলে "বাওয়া, এতো রাস্তার মোড়ে হচ্চে, দেকবো না?"। কেও আবার তাদের সেই জটিল শারীরবৃত্তীয় অন্তিম কৌশলের দরুন, আঘাত হানতেও লজ্জিত হয়না।

এটাই পৃথিবী।
কারন সারমেয়র বিবেক নাই, মনুষ্যত্ববোধ নাই। সন্দেহ, ওই আঘাতকারী ব্যাক্তি বর্গ বা বিকৃতকাম মানুষগুলোর মনুষত্ব বা বিবেকবোধ নিয়েও বড় জিজ্ঞাসা অবশিষ্ট পৃথিবীর। যদিও এটা তারা শুনলেই আবার মস্তিষ্কে বদবায়ুর সঞ্চার ঘটিয়ে সুললিত বাণীর প্রবাহ ঘটাবেন নির্দ্বিধায়।

মানুষের বিবেক যখন লোপ পায়, তখন সেও হয়তো সারমেয় সদৃশ্য আচরণ করে। সেও তখন অশ্লীলতাকে আর অশ্লীলতা মনে করে না। প্রধানত অহং থেকেই এই যাবতীয় রোগের সুত্রপাত। কিন্তু এইসব মানুষ এইটুকুতেই থেমে থাকে না, তারা চায় এই অশ্লীলতা সমাজেও ছড়িয়ে যাক। তার দলে লোকবল বৃদ্ধি পাক।
.
বড় আক্ষেপ আমাদের এই সমাজ নিয়ে নিয়ে। সকলেই একটা অদৃশ্য লেজ নিয়ে চলছেন। কখনও সেটা সর্প সদৃশ্য, ফোঁস করে ওঠার জন্য, কখনও বাঁদরের মত, ঝুলে থাকতে, কখনও শেয়ালের মত, শিকার ধরতে, প্রয়োজন মাফিক ব্যবহার চলে। উপকার গ্রহন করার সময় লেজটি সারমেয় সদৃশ্য থাকে, সেই তাৎক্ষণিক বৈতরণী পার হয়ে গেলেই, গরুর লেজের মত চাবুক সদৃশ্য হয়ে প্রহার করতে থাকে।
নপুংসক এর দল তালি বাজিয়ে অসাড়গর্ভে রসসঞ্চারের ব্যার্থ চেষ্টা চালালেও, আদতে সেই তৃতীয় লিঙ্গের মর্যাদা নিয়ে দন্তবিকশিত করে লজ্জা নিবারণ করেন, ঘোমটার নিচে।
নাহ, এর থেকে রক্ষা পাওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সলিউসন নেই। চুপ থাকা, আর অনুমান ক্ষমতা বাড়ানো ছাড়া।
জ্ঞান আর জ্ঞানীর ফারাকটা হল, ফলিত প্রজ্ঞার সঠিক প্রয়োগ।


মঙ্গলবার, ২৩ মে, ২০১৭

।। সুখ ।।

সুখ; তুই ছিলি ভীষন দামী
একলা মনের ঠাঁই 
আজ, জ্যান্ত শুধু কাগজেকলমে 
মেখে সোহাগের ছাই।

সুখ; তোর মনের ভাঁজে; খাঁজে খাঁজে 
লুকিয়ে রাখা উষ্ণতা
কিভাবে তোকে বোঝায়! আমার
ফুরিয়ে গেছে কথা।

সুখ; চাইনা তোর গঠনমূলক 
আদরের কথা বলতে
মানমন্দির আঁধার কালো
শ্মশানভূমির সলতে।

সুখ; আজ শুধু হাঁতরে খুঁজি
কোনখানটাতে ভুল
ফারাকটা শুধু বড্ড বেশি
মিলবেনা দুই কুল।

।। মু-ক্ত ।।

মুক্ত আমি ভুবনডাঙায়

প্রযত্নে: স্বাধীনতা
যেথা খুশি সেথা যাব
ভাবনা অযথা।

আমি সমর্থ আমিই সত্য
মোর পিছে অবশিষ্ট
খামবন্দি অভিভাবক ছাপ
আত্মিক সন্তুষ্ট।

অর্থ আছে গুনও আছে
রয়েছে রূপের জোর
অভীষ্ট লক্ষ্য পূর্ণ যখন
প্রয়োজন কি তোর?

রবিবার, ২১ মে, ২০১৭

।। হাটে বাজারে ।।

চলতে চলতে - ৩

একে ছাল ক্যেলানো গরম। সকাল থেকেই মনে হচ্ছে, যে মোমো প্যানের ভিতর গ্যোঁত হয়ে বসে আছি। আমার সিল মাছের ব্লাডারের গুঁতো, চর্বিতে চর্বিতে টের পাচ্ছি। বগলে পাওডারের পুরু স্তর প্রবাল প্রাচীরের মত শক্ত হয়ে যাচ্ছে।
তার উপর সক্কাল সক্কাল ধামাধরা দলের কেষ্টু বিষ্টুদের আনাগোনা। শ্লাদের সারা বচ্ছরই মোচ্ছোব; আজ রোববার ঠিক জানে বাড়িতে থাকবো, তাই আমার আপনার মত ম্যাঙ্গো পিউপিলের কাছে চাওয়াটা তাদের তো গনতান্ত্রিক অধিকারজুত অবশ্য খুব একটা হলো না, একটু অসম্মানেই বিদেয় হলো। তার মধ্যে একটা ছিনাল ও ছিলো। ইচ্ছা হচ্ছিলো ওটাকেই একটা কিছু দিই, নিদেনপক্ষে একটা ঝিঙ্গালিলাকি উৎকট পোষাক রে বাওয়া; যৌবনের টায়ারের দাগ টাও মিলিয়ে যাবার পথে, কিন্তু সেটাকে দৃশ্যমান করে রাখার কি আপ্রান প্রচেষ্টা অন্তত একটা ডিও দেবার ও ইচ্ছা শেষমেশ হয়েছিলো। যা ঘামের গন্ধ, আঁতুড়ের স্যারেলাক উঠে আসার যোগার
আমারই বা কম কি!!  একবার মাথা মুছলে এক জামবাটি ভর্তি ঘাম বেড় হচ্ছে, সত্যিকারের হিসু বলতে রাত ছারা গোটাদিনে মোটেই হচ্ছেনা। কিডনির পরিশ্রুত বদ জল সবটাই ঘামের জন্য ব্যবহার হচ্ছে, হিসির ট্যাঙ্কিতে তাই সাপ্লাই নেই। কাজ শুরুর কাজ চলছে, সাইটে একবার রাউন্ড দেবো কি; আধা পথে যেতেই পায়ের জুতো ভিজে সপসপ। অনেকেই লক্ষ্য করছে, সাহস করে বলতে পারছে না, ভাবছে প্যান্টে মুতেছি।
ওরে পাগলা, ওটা ঘামের গঙ্গা যমুনা। মাথার গড়ানো মাল, বুক পিঠ থেকে কালেকসন করতে করতে সরস্বতীর ফল্গু ধারা নিচের দিকে নামছে। যার জন্য অস্বস্তি ঠিকিই আছে, কিন্তু সে রকম কষ্ট নেই। ওটাই কলেবরকে শীতলতা যোগাচ্ছে; তবে চাঁদি ফাটছে। মাথার চুলও শ্লা হালকা হয়ে গেলো, জাষ্ট ঘেমে ঘেমে। লিটার লিটার জল গিলছি, শরবত বৎসর বৎস বাৎসায়ন এক্কেবারে নরকগুলজার। এই গরমেই কেন জামাইষষ্টি হয়? আর সন্ধ্যের কালবোশেখিতেই যত্ত বিয়ের নেমন্তন্ন। একে তো গাড়িতে গাড়িতে পথে ঘাটে ট্রেনে বাসে হাঁসফাঁসে জীবন জেরবার, তার ওপর ফোন! কেন যে এটা আবিষ্কার হয়েছিল কে জানে, মুষ্ঠিযন্ত্র কম, মিথ্যা যন্ত্র বেশি... জ্বলে গেলো জীবনটা।
সকালে উঠে কি খাবো কি খাবো এ একটা ভীষণ যন্ত্রণা। ঝিঙ্কু মামনি বা ডাম্বেলওয়ালা বীরপুরুষ নিদেনপক্ষে মেনিমুখো স্ত্রৈণ মাতৃভক্ত নেকুপুসুটিও নই; যে আধ বাটি দুধে বাইশদানা কর্ণফ্লেক্সের সাথে কুচি কুচি করে কাঁঠালি কলা আর হলুদ কিসমিস ফেলে সাঁটবো। দই চিঁড়ে পোষায়না, মুড়ি চেবানোর সময় নেই। বাকি ম্যাগি, পাস্তা দিয়ে নাস্তা করার মত পকেট সায় দেয়না। পরোটা খাবো তার উপায়ও নেই, সারাটাদিন বদ ঢেঁকুর উঠবে। পেটে বুদ্ধি না থাক, অম্বলের কমতি নেই। অগত্যা দুটো মারি বিস্কুট, চিনি ছারা ঘন দুধচা ই সম্বল, সেটাই এক মগ পুরো। ভারী খাবার মানেই সুজির বিস্বাদ হালুয়া। জলখাবারে লেবু বিট লবন দিয়ে একড্রাম ছাতুর শরবত। আহা, যতই কোন্ডড্রিংকস, রাসনা, গ্লুকনডি বাজারে আসুক ঘোল বা ছাতুর সরবতের কোনো বিকল্প নেই।
এরপর আধা ঘন্টার কমোড সাধনা, আগে আনন্দবাজার নিয়ে ঢুকতাম, সাথে দুটো সিগারেট; এখন মোবাইল। আজ সাদা দাড়ির সুদীপদাকে দেখে বেশ আমলাশোলের মত লাগছিল, বেশ একটা শান্ত পরিতৃপ্ত হয়ে সুকর্মটি করছিলাম, বাইরে থেকে শৌচাগারের লাইট আর এক্সহষ্ট টি বন্ধ হতেই বুঝলাম বেড়োতে হবে ঘড়ির কাঁটা নটার ঘর ছাড়িয়েছে, হাতে বাজারের থলে। পটল আর উচ্ছেতে মানা, তাজা বাটা বাছ আর কাটা পোনার হুকুম হল। বাইকে স্টার্ট দিয়ে পিচ রাস্তাতে নামতেই টের পেলাম, জৈষ্ঠ কাহারে কয়। কোনোক্রমে বাজারের সম্মুখে বাইকটি স্ট্যান্ড করলাম, একটু ছায়া দেখে রাখলয়ামনতুবা কালো সিট রোদের তাপে পুরো তাওয়া হয়ে আমার জন্য অপেক্ষা করবে; আর তাতে নধর পাছাটি ঠেকলেই ওটি পুড়ে তুন্দুরি হয়ে চকিতেই ওরাংওটাং সদৃশ্য হয়ে যাবে।
ছোটবেলায় দাদুর হাত ধরে বাজারে যাবার পায়েখড়ি। বাজারে যাবার প্রথম আকর্ষন ছিল প্যাঁদানি পরোটা আর জিলাপি। কারন মায়ের কড়া শাসনে ঘরে ওগুলোর কোনো এন্ট্রি ছিলনা। দাদুর সামনে মা কাকিমারা যেতেননা, তাই ওনার সাথে করা যাবতীয় কর্ম মাফ। তখন সপ্তাহে দুদিন বাজার বসত, বাড়িতে ফ্রিজও ছিলনা তাই কাঁচা শব্জি আর কিছু নির্দিষ্ট প্রজাতির মাছই বাড়িতে আসত। পোলট্রি মাংস দেশে আসেনি। বাজার থেকে মাংস এসেছে মানেই পাঁঠার মাংস বুঝতাম। বাকি মাছের প্রয়োজনে পুকুরে জাল ফেললেই হত, সপ্তাহে ২-৩ বার জাল টানা হত ভোরের দিকে। বেশ কয়েকটা পুকুর ছিল তারাই যাবতীয় মাছের যোগান দিত, ইলিশ আর চিংড়ি ছারা। সব্জিও নিজেদের জমিতেই মুনিষ দিয়ে সারা বছর চাষ করা হত; কারন তখন একান্নবর্তী পরিবারে কমবেশি একেকবারে ১০০ পাত পড়ত এক বেলাতে কাজের লোক নিয়ে। পথে কত লোকের সাথে আলাপ হত দাদুর, কত কথাবার্তা আলাপ কুশল বিনিময়। সাথে দুজন লোক, একজন ছাতা ধরে, অন্যজন ব্যাগ আর আমাদের ধরে। আমরা সংখ্যায় জনা চার পাঁচ তো থাকতামই।  হিরে থেকে জিরে কিনা জিনিস বিক্রি হত বিস্তর দামদড়ের সাথে। বাজারের মাঝে দাদুর ভুষিমালের গদিঘর, সেখান থেকে বসে বসেই বাজার সারা। সে এক দিন ছিল, আজকাল আর সেই দিন নেই, সকলেই ব্যাস্ত, ভীষন ব্যাস্ত। বাইক হাঁকিয়ে এক দৌড়ে কাজ সেরেই ঘরে ফিরে কাজ আর কাজ, হুম ফেসবুক করাটাও কাজই বটে।  
বাজারের মুখেই খারকোন পাতা, কচুর লতি, কচি নিমপাতা, বুড়ো পাটশাক, ছালউঠা তালের শাঁস, ন্যাতানো লাউ শাক, ব্রাহ্মী শাক, অনাথ পুঁই ডাটারা যেভাবে স্বাগত করল, তাতে মনে হল কৃপণ বাড়ির ভোজে এসেছি। চার কেজি আলু ৩৬ টাকা, দুকেজি পেয়াজ ২৪ টাকা, আর শুধাইনি, আদা, রসুন, কাঁচা লঙ্কা, কাঁচা আম, লালশাক, ঝিঙে, ধনেপাতা, পাতিলেবু, ভেন্ডি, একটা ছাঁচিকুমড়ো, এক ফালি মিষ্টি কুমড়োর সাথে, টমাটো, বরবটি, বেগুন, কাঁচকলা, বাঁধাকপি, কাঁকরোল, মাচার শশা ও কেজি দুয়েক কচু। এ দিকের সব্জি বাজার শেষ। মাথার উপরে কালো ত্রিপল চাঁদি ছুঁয়েছে, তার যেন হাত খানেক উপরেই সূর্য বাবাজীবন রোদের শোরুম খুলেছেন। বাজারের সেই ঠিক এক হাত সরু হাঁটা পথের দুপাশে ঝাঁকা নিয়ে শব্জি বিক্রেতারদল শব্জি শিকারীদের সাথে অদৃশ্য যুদ্ধে নিয়োজিত। গোটা চারেক খাসির লাশকে পাশ কাটিয়ে, খাঁচায় বন্দি মুরগী গুলোর ভবিষ্যতকে অগ্রাহ্য করে, গুণে গুণে ১৯ কদম পর পৌছালাম তীব্র আঁশটে গন্ধ ওয়ালা মাছের বাজারের দিকে।
মাছের বাজার, পৃথিবীর এক আশ্চর্য শোরুম। কিনবে লোকে একটিই প্রজাতি, কিন্তু দেখবে গোটা বাজার আর দামদড় করে আর্ধেক বাজারের; নতুবা বাঙালী বাজুরেদের আত্মা শান্তি হবেই না। শিলভারকার্প আজও যথারীতি সস্তা, ৮০ টাকা কেজি ওটাই বেশি বিকোচ্ছে; তার পরেই লোটে, ভোলা, পাঙ্খা ইত্যাদি গঙ্গার চিঙড়ি ৩০০ টাকা কেজি, মোটামুটি ৫০-৬০ গ্রাম সাইজের একেকটা ও ছোট মাথাযুক্তঅন্ধ্রের রুই, একেকটা ১০-১৫ কেজি সাইজের, ভিড় ওখানেও। কিন্তু সবচেয়ে বেশি ভিড় জ্যান্ত কাতলার কাছে, একেকটার সাইজ ৬০০ গ্রাম সাইজের। জল থেকে তুলতেই দেখি আমারই মত মুখ হা করে খাবি খাচ্ছে; সুতরাং স্বজাতীয় ভেবে এদের অগ্রাহ্য করতে পারলাম্না। খান তিনেক নিলাম, ২০০ টাকা করে কেজি। পাশের মাছওয়ালার আমাকে দেখে হাঁকাহাঁকি শুরু করেছে, তার কাছে কিছু গঙ্গার মিক্স-চুনো, কিছু ডোবার ল্যাঠা ও শিঙ্গি রয়েছে। একটা মৃদু হাসি দিয়ে বোঝালাম আজ তোমার দিন নয় আমার জন্য। আরেকটুদুর এগোতেই দেখি ইলিশ... নোলা ছোঁকছোঁক করে উঠল। পাশে বড় পুঁটি, মৃগেল, চিতলও আছে।
অসময়ের ইলিশের দামদড় করাটা ঠিক স্ট্যাটাসে খাপ খায় কি খায়না বুঝে উঠতে পারছিলামনা। ‘দে পচা দুটো ইলিশ দে’ বলতেই পচার হাজা ওয়ালা হাতটা তুলে আমাকে থামানোর ভঙ্গিতে হেসে বলল, কাকা- ইটা ইলিশ লয় গো, চোকটা দেকোনা কেনে...
সত্যিই তো মড়া মাছ গুলো আমাকে বেশ বড় বড় করে চোখ দিয়ে ভর্তসনার ভঙ্গিতে দেখছে, ইতি মধ্যেই পচার ভাই উজো বলে দিয়েছে এটা খয়রা মাছ, কিন্তু বড় সাইজের। যাই হোক ওটাও নিলাম দু পিস, সাড়ে আটশো গ্রাম। ধনেপাতা দিয়ে পোড়াপোড়া চচ্চড়ি বেশ জমে এই মাছের। ঘেমেনেয়ে বাজার সেরে বেড়োচ্ছি, এক্কেবারে গেটের মুখে পাকরাও করল মাতাল সাহেব। আগে ও ছিঁচকে চোর ছিল, পুলিসের ক্যালান খেয়ে আজকাল আর ছুটতে পারেনা। তাই আম বাগান পাহাড়ার কাজ করে, তাদের হয়েই সম্ভবত আম বেচতে এসেছে।
ভাইপো তুমি বাজারে? ছেলেটা আসেনি বুঝি? বুঝলামনা বাজারে আসতে আমার মানা কোথায়। সে আমার বাবার বয়সী, বাপকে নিয়ে একগাদা কথার ফাঁকেই বেশ কয়েক কেজি আম আমার থলেতে দিল। বেছে বেছে কিছু আঁটির আম আর হিমসাগর; এক্কেবারে গাছপাকা। একটা আমের একটা সাইড কালোহয়ে পচ ধরেছে, সেটাকে হাতে দিয়ে বলল, ভাইপো এটা খা; কোকিলেপাদা আম। আমি বুঝে পেলামনা কোকিলের পাদে এমন কালো হয়ে যাবার কারনকি? আর কোকিল বেছে বেছে আমেই বা কেন পাদ দিতে আসবে? অদৌ কি কোকিল পাদ দেয়? বললাম ব্যাগে দাও খুড়ো, হেব্বি গরম, বাড়ি ফিরে খাবো। কুড়ি টাকা কেজি আম, সাথে একগাদা ঝাড় পাতা সমেত লিচুও আছে। টাকা মেটাতে গয়ে প্রমাদ গুনলাম। টাকা শেষ, মুখ দেখে খুড়ো বলল বাড়ি যা, আমি বিকালে গিয়ে নিয়ে আসব।
বাড়ির মহিলাদের এ এক চিরন্তন কীর্তি। সুযোগ পেলে পকেট মারাটা যেন জন্মগত অধিকার, আর তারই ফলাফল উপরের ঘটনা। বাইকে স্টার্ট দিয়ে গিয়ে একটা সিগারেট মুখে নিলাম, তাতেই আবিষ্কার করলাম পকেটে দেশলাই নেই। ছাতা সাইকেলের পর এই দেশলাই। আমার চিরাচরিত অভ্যাস, দেশলাই হারাবেই। শ্লা দরকারের সময় আর খুঁজে পাবো না। যে পকেটেই হাত দিই সিগারেট ১-২ প্যাকেট বেড়োবেই। কিন্তু দেশলাই বা লাইটার!!!! কোন মতেই না। কোথায় যে ফেলি, না কি যে হয় কিছুই জানি না। ওদিকে নেশা মাথায় চড়ে নেত্ত করছে, বাড়িতে অপিসে সর্বত্র লোকে খিস্তি খাচ্ছে......

সারমর্ম:- দেশলাই না হারানোর কৌশল জানা আছে কারো?
Please help me, এবার মনে হচ্ছে উন্মাদই হয়ে যাবো।


।। সুখে রাখুন ও সুখে থাকুন ।।

যখন কেও সুখের প্রাচুর্যে থাকে তখন সে বাস্তব ভুলে যায়; দু:খকে চিনতে পারেনা। সামান্য অহেতুক কারন গুলোকে এমন ভাবে উপস্থাপন করে যেন এর থেকে ভয়ঙ্কর কিছু আর পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি নেই। আসলে নেই নেই করাটা একধরনের মানসিক সঙ্কীর্ণতা ও স্থুল বুদ্ধির পরিচায়ক।
রিপুর চাহিদার শেষ নেই তার সে স্বপ্ন দেখে, যার কোনো সীমা নেই। এই স্বপ্ন দেখাটা এক সময় এমন অবাস্তব পর্যায়ে চলে যায় যে কল্পনা আর বাস্তবের ভেদাভেদটা চর্মচক্ষুতে উপলব্ধ হয়না। যে কোনো কিছুতে সেই চরম ফ্যান্টাসি প্রয়োগ হতে থাকে। সেই মুহুর্তগুলো আপন বোঝেনা, পর বোঝেনা, ভাল বোঝেনা, মন্দ বোঝেনা, পরিস্থিতি বোঝেনা, সমাজ, ধর্ম, রাষ্ট্র, সম্পর্ক কিচ্ছু বোঝেনা। তৈরি হয় এক বিচিত্র প্রকারের মানসিক স্থিতি। যেন যেনতেন প্রকারে নিজেকে নির্যাতিত প্রমান করতে পারলে তবেই আত্মসুখী হওয়া সম্ভব।
বুঝিয়ে, পরামর্শ দিয়ে, গল্পচ্ছলে বন্ধুবেশে এই পরিস্থিতিগুলোকে নিয়ন্ত্রন করা সাধ্যাতীত। অথচ সেই সময় উক্ত ব্যাক্তি দ্বারা এমন নেগেটিভ এনার্জি প্রবাহিত হয় অন্য ব্যাক্তি সেই স্রোতে খেই হারিয়ে উদভ্রান্ত হতে খুব বেশি সময় নেবেনা।
এই ধরনের মানসিক বিকারগ্রস্ত ব্যাক্তিরা কোনো অবস্থাতেই তার দোষ বা খামতি খুঁজে পাবেনা, এটা এই প্রাদুর্ভাবের প্রথম লক্ষণ ; কারন দোষগুন নিয়ে মানুষ হলেও এরা সেটা মানেনা। সর্বক্ষন ক্ষমাপ্রার্থনার ঢঙে স্টিমরোলার চালিয়েই আত্মতৃপ্তি। নিজেকে হেরো প্রমাণিত করেই শান্তি, যেন তার সাথেই যাবতীয় অন্যায় গুলো ঘটছে।
সর্বক্ষণ এদের পায়ের তলার মাটি খসে যায়, এতোটাই ভঙ্গুর জমিতে এরা বাস করে, যেখানে যেখানে আছাড় খাওয়া, হাত পা মাথা সহ গোটা শরীর টনটন ভনভন ও বনবন করে ঘোরা ইত্যাদিস্থানীয় নানা রকমের উপসর্গ হাজির করে ফেলে, সাথে অজস্র অশ্রুধারা। অথচ এদের কোনো পিছুটান সেই অর্থে থাকেনা, সামনে সোনালী ভবিষ্যত গড়া যায় একটু এডজাষ্ট করলেই, খাওয়া পরার সমস্যা হয়ত নেই অন্তত এই জীবনকালের জন্য, সারাটিক্ষন মাথার কাছে টিকটিক করার কেও নেই, স্বাধীন স্বচ্ছন্দতা যুক্ত স্বচ্ছল জীবনে একটাই প্রোমোদ.....
দু:খ বিলাস।
তাহলে এই রোগ থেকে মুক্তি কি?
না মেরে ধরে বা লক্ষবার বুঝিয়ে সুঝিয়ে কোনো লাভ হয়না বা হবেনা। কুত্তার ল্যাজের মত এ অপরিবর্তনীয়।
তবে একটা চেষ্টা করে দেখা যেতে পারে। বহু রোগের ক্ষেত্রে অব্যার্থ প্রমানিত "শক থেরাপি"। রোগটা মানসিক, মানে স্নায়ু সংক্রান্ত। তাই অত্যন্ত স্বযত্নে মানসিক ভাবে একটা দারুন আঘাতের প্রয়োজন, যাতে সেই রূপকথার কল্পরাজ্য থেকে বাস্তবের আলো-বাতাসে ফিরতে পারে। আর আসল যন্ত্রনা কাকে বলে সেটা হাড়েহাড়ে টের পায়। তাহলেই নকল বুঁদির কেল্লাটা ভাঙতে পারে নচেৎ নয়।
নাহ, মোটেই শারিরীক আঘাত নয়, ওটা সেরে যায়। আঘাত সকল সময় বিলো-দ্যা-বেল্ট হওয়া উচিৎ; এবং সেটাই বলুন যেটা সত্যি সত্যি আপনি করার হিম্মৎ রাখেন। চরম আঘাত করুন, এতে রোগ বা রোগী দুইয়েরই বিনাশের সম্ভাবনা, কিন্তু নিরুপায়।
এইবারে সেই ব্যাক্তি চরম উপলব্ধি করতে পারবে যে, চলমান নাটকের ঠিক আগের অঙ্কে জীবনটা ঠিক কতটা সুখের ছিল।
সুখ, বড় অভিমানি। সে থাকাকালীন তাকে অবজ্ঞা করলে, সে মুখে প্রস্রাব করে বিদায় নেবে।
যার ভালবাসাটা পাগলের মত হয়, ঘৃণার প্রকাশও সেই অনুপাতেই প্রকট হয়। যে টুকরো সুখের মালা গাঁথতে শেখেনি তার জীবনে কান্না ছাড়া কিচ্ছু অবশিষ্ট থাকেনা। সে না নিজে সুখী হয় আর অন্যকে সুখ দেবার তো কোনো প্রশ্নই নেই।
যার জন্যই তারা জিজ্ঞাসা করে...
"সুখ পাচ্ছো?"
আরে বাবা সন্দেহ দিয়ে গোয়েন্দাব্যাবসা চলতে পারে, সংসার নয়।
আসুন তাদের মানসিক শান্তির উদ্দেশ্যে কিছুক্ষণ নিরবতা পালন করি। সে যদি আপনার নিকট আত্মীয় হয় তাহলে তার সত্যিকারের কঠিন মানসিক যন্ত্রনার সাথে আপনার দৈনন্দিন সুখ ঠিক সমানুপাতিক। অতএব এদের জন্য যন্ত্রনার পরিসর তৈরি করুন, এরা যন্ত্রনা বিলাস করে; তাই আসল যন্ত্রনা দান করাটা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
সুখে রাখুন ও সুখে থাকুন।


শনিবার, ২০ মে, ২০১৭

।। রূপচর্চা ।।

(লেবুপূরাণ)
অতঃপর সুজি দিয়া পায়েস রন্ধন করিয়া রোগীনির খাবার পরিবেশন করিবার জন্য প্রস্তুত হইতে লাগিলাম। রোগীনি আমার গৃহিনী, তাহার রুগ্ন হইবার যথাযথ কারণ রহিয়াছে সর্বপ্রথম কারনটি অবশ্যই আমি তাহার ভর্তা। আনুষ্ঠানিক ভাবটি অন্য, কয়েকদিন যাবৎ শ্রীমতী বিঘ্নেশ্বরী দেবী আটা-ময়দা-সুজি ইত্যাদি না মাখিতে পারিয়া, আমার উপর অভিমান স্বরূপ আহারাদি পরিত্যাগ করিয়াছেন। না খাইবার সেই তুমুল প্রচেষ্টার কারনে ক্রমশই সে অসুস্থতার দিকে ধাবিত হইতেছে এদিকে আমি মরিয়া যাই অভাবের তাড়নায়, খাদ্যের প্রয়োজনে আটা-ময়দা-সুজির সংস্থান করিতে না পারিয়া; আর সে মরিতে চায় সেই সকল খাদ্য দ্রব্যাদি মুখমন্ডল ও গ্রাত্রে মাখিতে না পারিয়া।
সে যত পারে গলাধঃকরণ করুক, তাহার খাবার প্রতি আমার কোনো আপত্তি নাই; কিন্তু সেই খাদ্যদ্রব্য মাখিবার নামে অপচয়ের প্রতি আপত্তি রহিয়াছে, এবং ঘোরতর প্রবল আপত্তি। এখন ঘোর গ্রীষ্মকাল, বয়স বাড়িইয়াছে; প্রত্যুষ ১০ ঘটিকার পর রুদ্র রবির দহন তেজে মাথার ব্রহ্মতালু অবধি শুকাইয়া কাষ্ঠলন্যায়, উচ্চরক্তচাপজনিত কারনে এই প্রখর তপ্ত দিবসে বীমাপত্রের মুৎসুদ্দি গিরি করিলে, নামোল্লেখন বলে অচিরেই শ্রীময়ী আমাকৃত বীমারাশির যে মালকিন হইবেন, তাহা বলাই বাহুল্য। অর্থের অনটনে যখন তাহার রূপচর্চার নিমিত্তে আটা-ময়দা-সুজি, মুসুরডাল, বেসন, অন্ড ইত্যাদি প্রভূত দ্রব্য খরিদারি করিতে অসমর্থ হইলাম; তখনই সে অভিমান করিয়া, না খাইয়া, ঝগড়া-ঝাটি করিয়া দিনাতিপাত করিতে লাগিল সাফল্যের সহিত।
সপ্তাহান্তের অভ্যন্তরেই জামাইষষ্ঠী, সুতরাং সেই হেতুই যে এই বায়না তাহা সহজেই অনুমেয়। নাভিকুন্তল উদ্গমের পরবর্তী অধ্যয়ে পুরুষের বয়স উক্ত বস্তুর সমহারে বাড়িতে থাকে, এক্ষেত্রে স্ত্রীধনটি স্বামীর প্রতি যত্নশীল হইলে তাহা পরিচর্যাগুনে দৃশ্যত নিয়ন্ত্রণে থাকে, অন্যথা সমবয়সী হইবা সত্বেও অকাল বৃদ্ধের ন্যায় চেহারার রংরূপ পরিবর্তিত হয়। আমি শ্রী দর্পনারায়ন মল্লিক, ওরফে হাড়কাটা গলির সুবিখ্যাত মল্লিক বাড়ির জ্যেষ্ঠ সন্তান লেবু। বছর দুয়েকের মধ্যেই ধরাভুমে অবতীর্ণ হওয়ার অর্ধশত বৎসর পূর্ণ করিব, গৃহিণী আমা হইতে মাত্র ছয় বৎসরের ফারাকে জন্মগ্রহণ করিয়াছিল, তথাপি আজিকের দিবসে তাহার বয়স ত্রিশের কোঠা অতিক্রম করে নাই ভাবনাতে, মননে যাহা আরো নিন্মমুখী। এদিকে মুংলার কিশোরবেলা মধ্যাহ্নক্রমে। অতএব সহজেই অনুমেয় যে, আসন্ন জামাইষষ্টি উপলক্ষে পিত্রালয়ে গমন হেতু দৃশ্যমান বয়সের মুখে উজ্জ্বল্য আনয়নের ব্যার্থ প্রয়াসের তরে এই সকল মুদিখাদ্যাদ্রব্যাদি বিলাস।
এমতাবস্থায় আমার শ্বশুরকুল্যের বোধোদয় ঘটিল, শ্বশুরমহাশয় স্বয়ং আসিয়া নিজ কন্যাকে স্বগৃহে লইয়া গেলেন। ভাবটি এমনতর যেন, সর্বসাকুল্যে আমার দোষ নির্ধারন করিয়া জনসমক্ষে কর্ণ মলিয়া দিতে চান। শ্বশুর আমার অবসরপ্রাপ্ত, তাহার অবস্থা বর্তমানে আমা অপেক্ষাও অতি দীন, তাই তাহার তুলনায় অবস্থাপন্ন আমাকেই তিনি তাহার একমাত্র কন্যাকে পাত্রস্থ করিয়াছিলেন। সুতরাং ধনী স্বামীর নিকটে রূপচর্চার আবদার করাটা স্ত্রীর মৌলিক অধিকারের অন্তর্গত, এবং সেটা পূরণ করাই যেন স্বামিদিগকের একমাত্র দায়িত্ব  কিন্তু এই চল্লিশ উত্তীর্ণ জীবনে সেই কিশোরী রূপের আনয়ন কিভাবে সম্ভব?
আমার স্ত্রীকে আমি প্রচণ্ড ভালোবাসি নিঃসন্দেহে, কিছুটা স্ত্রৈনও বটে; তাই গৃহে তাহার অভাবে অন্তরে অন্তরে কাঁদিয়া-কাঁটিয়া বেড়াইতেছিলামতাহাকে পিত্রালয় হইতে আনয়নের উদ্দেশ্যে যতবার ভেউভেউ করিয়া কাঁদিতাম সেই অকুস্থলে; তৎক্ষণাৎ তিনি রুদ্ররূপিনী সাজিয়া আমাকে ঘেউঘেউ করিয়া তাড়াইয়া দিত। এদিকে গৃহ আমার প্রতিক্ষনে চুরান্ত অগোছালো অবস্থার মধ্য দিয়ে প্রায় ভাগারে রুপান্তরের দশা উপস্থিত হইল। অবস্থার বেগতিক দেখিয়া আমি বুদ্ধি আঁটিলাম যে, পুরাতন মুখমন্ডল পরিষ্কারক চুঙ্গিতে আমার সমস্ত ক্রন্দনের জল আর তরল নাকের সর্দি জমা রাখিব এবং উহাই ভেষজ ও প্রাকৃতিক উপাদান বলিতা তাহার সম্মুখে উপহার স্বরূপ প্রদান করিব। তাহাই করিলাম, চুঙ্গিটি পূর্ণ হইলে বিদেশী প্রযুক্তির দেশীয় মুখমন্ডল পরিষ্কারক আনিয়াছি ইত্যাদি বলিয়া তাহাকে আনিয়া লইলাম বটে; তবে কথা লইয়াছিল তাহার আটা- ময়দা-সুজির-ডিম্ব-মুসুর দানা ইত্যাদির অভাব অপূর্ণ রাখা যাইবেনা। তৎক্ষণাৎ মনে মনে ভাবিলাম, প্রয়োজনে দশ টাকা দিয়া এক প্যাকেট চক(খড়ি) কিনিয়া তাহা পিষিয়া তাহাতে দুফোটা সুগন্ধী মিশাইয়া পাউডার বলিয়া চালাইয়া লইব। কারন পোড়া মুখে খড়ি হউক বা ল্যকমে , ফলাফল সেই একই। আর বৌ এর রোগটাও যখন মানসিক, সেক্ষেত্রে এটাই যথেষ্ট। অতএব, আমি বলিলাম, আচ্ছা-তাহাই হইবে। যাহাই হউক, বাড়িতে ফিরিয়া মুখমন্ডল পরিষ্কারক পাইয়া অতি খুশিতে বউ আমার লক্ষী হইয়া উঠিল, নিত্যদিন মনের আনন্দে সেই ফেসওয়াস মাখিয়া চলিল; কিছুটা আক্ষেপ ছিল , ইহাতে নাকি কোন খুশবু নেই।
আমি অতি ক্লেশে দিনের খাবার দিনে যোগাড় করিয়া যাই, পায়ের ঘাম মাথায় তুলিয়া সারাদিনে যাহা রোজগার করি, তাহাতে সুজির লোনা পায়েস আর আটা-ময়দার পোড়া রুটিই কেবল গলাধঃকরণ করার জন্য জুটিতে পারে। তবুও ঠিক মতো যোগাড় করিতে পারিনা- দাম অতি চড়া, তুলনায় রোজগার অতি সামান্য। আর রুটিও পোড়াই জোটে, কারন আমার বউয়ের বারবার আয়না দেখিবার জন্য সময়ের বেঘাত ঘটে, অগত্যা...
আটা-ময়দা-সুজি,হলুদ, অন্ড, বেসন, ফলমাকর আর মুসুরির ডালের দাম কেবলই বাড়িয়া চলিয়াছে। যার অন্যতম কারন নিশ্চিন্তে স্ত্রী জাতীর রূপচর্চা জনিত বাড়তি অপচয়; ফলস্বরূপ দ্রব্য সীমিত হইয়া অর্থনীতির হিসাব অনুযায়ী দাম বাড়িয়া গিয়াছে। আমাদের মতো স্বামীর পক্ষে রূপচর্চা তো দূরে থাকুক; খাইবার জন্যও তাহা কিনিবার সামর্থ্য ক্রমে হারাইতেছি। তাছাড়া খাইবার জন্য যখন এইসমস্ত দ্রব্য কিনিয়া আনি, তখন আমার বউ আর আমার সহদোরা তাহা হইতে অধিকাংশ টাই ঊঠাইয়া আলাদা করিয়া রাখিয়া দেন, আর তাহাতে পোড়া বেগুনের মত ক্ষত ভরা মুখমন্ডলের রূপচর্চা হইয়া থাকে- প্রথমে মাখিবার জন্য ও পরে খাইবার জন্য, যদি অবশিষ্ট থাকে।
আমি যখন বিষয়টা বুঝিতে পারিলাম, বোনকে মৃদু ভর্তসনা করিলাম কারন বৈকে ভর্তসনা করা যায় না এই পরিস্থিতিতে। সহোদরাকে যথাসাধ্য বোঝাইলাম যে, সে যেন এই সকল খাদ্য দ্রব্যের অপচয় করা থেকে বিরত থাকে। ইহাতে সে ক্রুদ্ধ হইল, এবং সে স্বদর্পে তাহার বৌদির নিকট সেই আমাকতৃক মুখমন্ডল পরিষ্কারক তৈরির গোপন ফর্মুলা ফাঁস করিয়া দিল। ব্যাস ভুকম্পের আর কোন কারন অবশিষ্ট ছিল না। সেই যাবৎ না খাইয়া, ঝগড়া-ঝাটি করিয়া আমার স্ত্রী রত্নটি অসুস্থ রহিয়াছে। ভাবিয়াছি- আগামী কাল্য হইতে আমার রুটি- পায়েসের ভাগে যে আটা-ময়দা-সুজি ডাল, ডিম্বপাক ব্যয় হয়, সেসমস্ত তাহাদের রূপচর্চার তরেই ব্যয় করিব। তাহাদিগকে খুশি রাখিতে, প্রয়োজনে আমি না খাইয়া থাকিব তাহাতেও আক্ষেপ নেই, এবং যদি তাহাদের কিছু অবশিষ্ট থাকে তাহাই আমি ভক্ষন করিব।
কোন কূলবধু হয়তো বলিবেন, স্বামীর সুস্থ থাকার জন্য ইহার অতি প্রয়োজন রহিয়াছে, কারন বেশি খাইলে মেদ বাড়িয়া যাইবার প্রবল ঝুঁকি, সুতরাং কম খাইবার দরুন খেলো না হওয়াই শ্রেয়। এক্ষনে কেহ বলিবে স্বামীর মনে শান্তি না রাখিয়া শুধু রূপ দেখাইয়া সুখ দিতে যাওয়া অনেক নিম্নবর্গের কর্ম, কিন্তু আমি বলি প্রথমে পেটে শান্তি প্রয়োজন মানসিক শান্তি তো পরবর্তী পরিচ্ছদের পাঠ্য। বউ আমাকে ছাড়িয়া বাপের বাড়িতে যাইয়া থাকিতে পারিবে; কিন্তু আটা-ময়দা-সুজি, ডাল, বেসন, ডিম্ব ইত্যাদি ছাড়িয়া রহিতে পারিবে না, এ সত্য প্রমানিত। পাশাপাশি আমিও বউ বিনা রহিতে পারিব না।
একেক সময় ভাবি, কোনটা স্ত্রীজাতির অঙ্গ। শুভ্র সজ্জা বিশিষ্ট বহিরাঙ্গ? নাকি জন্মগত সুত্র প্রাপ্ত চর্ম সম্বলিত একটি কোমল স্ত্রী হৃদয়।

যে যাহাই হউক, পেটে ও মন দুটোই অভুক্ত। কারন ঘরে ও মনে কোথাও আপাতত স্ত্রী নাই, আছে শুধু অনেক অনেক বেশী রোজগারের প্রয়াস। তাহাতে প্রান বাঁচুক আর না ই বা বাঁচুক সেই পায়েস বর্তমানে প্রস্তুত, জামাইষষ্টির পূর্বে বউকে উতসর্গ করিয়া আমিই গ্রাসাচ্ছাদন করি। 

বৃহস্পতিবার, ১১ মে, ২০১৭

যাতা...

পুরানো সেই দিনের কথা....
তখন সময়টা বড় গোলেমেলে। সেক্সোকবি ক্যালিফোর্নিয়া থেকে সুমিষ্ট আঙুরের রস এনেছেন ডারউইনের সেই জাহাজে, উপলক্ষ্য বিশ্বকবির অনশন ভঙ্গ। চারিদিকে লোকে লোকারন্য, মাঝখান কে যেন যুদ্ধবিমানের হস্তমৈথুনের কথাটা প্রকাশ্যে হাতমাইকে ঘোষনা করে দিতেই সন্ত্রস্ত লোকজন ছিঃ উৎসবের আয়োজন করতে শুরু করেদিল।
পিসি তখন নিতান্তই কাঁচা বয়েস, তাতেও তিনি অন্যপক্ষের হয়েও টুক করে ধরে নিলেন যে এটা কুৎসা... তবে তিনি সম্যকভাবে বুঝলেন যে, ওই আঙুরের রস গেঁজে গেছিল, আর ভাবী চেয়ারম্যান হিসাবে যুদ্ধবিমান সেটা চাখতেই নাকি এই প্রকোপ। তিনি পরদিনিই গুরুদেবের সাথে আলোচোনা করতে বসলেন কিভাবে এই আঙুরের রস না গেঁজিয়ে টাটকা রাখা যায়। গুরুদেবের সাথে বুনিপ বেদ আর অরূপকে সাথী করে জাপানে পাঠালেন।
এদিকে এই ঘটনাতে তরুন বিপ্লবী " গুঁফো মন্ডা"র বৈপ্লবিক চেতনাতে আঘাত হানলো। গেরিলা নাম ছিল "গুঁফো মন্ডা" (মন্ডলের অপভ্রংশ)। তিনি মলমোদ্দিন থেকে সোজা তৎকালীন রাজ্যের মুখ্য কার্যালয় "ভাদু" তে গিয়ে যুদ্ধবিমানের কুৎসার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করলেন। পিসি তখন তাকে গুরুদেবের সাথে একই জাহাজে গুঁফো মন্ডাকেও জাপান পাঠালেন।
জাহাজ মাঝ সমুদ্রে ঝড়ের কবলে পড়ল, এক অজানা দ্বীপের তীরে ঠেকতেই জলদস্যুদের কবলে পরল। বিপ্লবী গুঁফো মন্ডা ইতিমধ্যেই সেই গেঁজে যাওয়া আঙুরের রস খেয়ে চুড় ছিল, পকেট থেকে দুম করে বোম চার্জ করে বসল।
পরে অবশ্য বিচারে জজসাহেব পুরো অমরেশ পুরি মুডে, ভিলেন মদনপুরি র মত ভেবে গুঁফোকে এক্কেবারে তরীপার।
জেল হওয়ার কারন ছিল, পকেটে কালিপটকা নিয়ে মহান মেদিনীপুরী বলে নিজের পরিচয় দিয়েছিলেন সেই অনাম্নী দ্বীপ রাষ্ট্রে।
সেই দ্বীপের মহান বিজ্ঞানীরা সেই আঙুরের রস নষ্ট হওয়া থেকে বাঁচাতে তাতে মেশালেন নবরত্ন তেল আর ডার্মিকুল পাওডার। ব্যাস তৈরি হল এক যুগান্তকারী প্রোডাক্ট।
কবিগুরু দেশে ফিরে এলেন। এদিকে রানী ভিক্টোরিয়া, মাউন্টব্যাটেন, নাত্থুরাম আর বরকতির সাথে গ্রুপ চ্যাট করে পিসি সিদ্ধান্ত নিলেন যে, জাহাজ জাপানে না পৌছানোর বিষয়টা চেপে যাওয়া হবে, আর অবশিষ্ট হার্মাদ গুলোকে মেরে বালি চাপা দেওয়া হবে। এই ডাইলোগটাই রণিদা পাগলুতে ব্যবহার করেছিল।
জাপান ফিরত সেই তেলের নামকরণ করলেন পিসি নিজে, একটি ঘন্টাখানেক অনুষ্ঠানে। অতিপরিমান নবরত্ন তেল সেই আঙুরের রসের সাথে মিশে যে নতুন শালসাটা তৈরি হয়েছিল তার নাম দিলেন " জাপানী তেল" আর পাওডারের থিতিয়ে যাওয়া মণ্ড দিয়ে তৈরি হল রকেট ক্যাপসুল। এর ফলে দেশে সকলের সাইজ বেড়ে যেতে লাগল, সর্বপ্রথম সেই তেল যিনি বুকে মালিশ করেছিলেন, আর তাঁর ছাতির সাইজ ৫৬ ইঞ্চি। বাকিটা ইতিহাস...
দস্যুদের সেই দেশের নাম পিসি দিলেন "উন্নয়ন"। আর সেই ফিরতি জাহাজের অবশিষ্ট হার্মাদের বংশধর হিসাবে ইতিহাসের অবহেলিত সত্যকে আজ আমি হাজির করলাম। সাথে দিলাম মহান বিপ্লবী "গুঁফো মন্ডা"র সেলুলার জেলে থাকাকালীন একটা দুষ্প্রাপ্য ছবি। এখন অবশ্য সেলুলার জেলের সেলুলোজ খেয়ে খেয়ে চর্বি জমিয়েছেন। তবে....
গোঁফের আমি গোঁফের তুমি, গোঁফ দিয়ে যায় চেনা।



ফেসবুকীয় সিপিএমঃ ফিউজড আইনগাইডেড কামিকাজে ড্রোন

  ফেসবুকের ‘সিপিএম’ নামক এই চুড়ান্ত আঁতেল ও প্রায় সর্বজ্ঞ গোষ্ঠীটার পূর্ণ বোধোদয় বা পূর্ণ বিনাশ না ঘটা অবধি রাজ্যের বাম নেতৃত্বের খুব বেশী ...