রবিবার, ৬ আগস্ট, ২০১৭

।। স মা লো চ ক ।।


আপনি চোর বা ডাকাত? কেপমারি করেন? হাতেনাতে ধরা পড়েছেন? জেল জরিমানা খেটে সমাজের পরিচিত বা বিখ্যাত (!) বা কুখ্যাত মুখ! 
তাহলে চিন্তা নেই, নিশ্চিন্তে ফেসবুক করুন।
ধর্ষন করেছেন? রাজনীতিও করেন! আরিব্বাস, তাহলে তো সোনায় সোহাগা। ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল, পিছনে হাঁড়িচাঁচার দল ভিড় জমাবে শিগগীরই, নিশ্চিন্তে ফেসবুক করুন।
আপনি কোনো উগ্রবাদী দলের সমর্থক? গরম গরম বিস্ফোরক লাইন ঝাড়ছেন নিজ সংগঠনের সমর্থনে? তাহলে তো কথাই নেই বস, আপনাকে যমেও ছোঁবেনা। উপরন্তু কিছু গুয়ের মাছি ভনভনিয়ে ভিড় জমাবে আপনাকে কেন্দ্র করে। 
কিন্তু.........

যদি আপনি দুকলম লিখে ফেলেন এই সকলের বাইরে? কি লিখেছেন সেটা বড় কথা নয়, কেন লিখেছেন সেটাই বড় কথা। অতএব আপনিই হলেন সেই বিষয়।
এবার আসি একটু অ-দরকারি ইতিহাসচর্চাতে।
সদ্য ব্যাবসাতে ঢুকেছি তখন, গোঁফের রেখা স্পষ্ট আর সোশ্যাল মিডিয়া বলতে অর্কুটকেই বুঝি। তখনও ওয়াল বিষয়টা বাজারে আসেনি, ছিল স্ক্র্যাপবুক। কলেজের বন্ধু অয়ন তখনও ছাত্র যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের, গবেষণারত। কোলকাতাতে কোনো কাজে গিয়ে মেসের কথা মাথাতে আসতেই পাড়ি লাগালাম ঝিল রোডের সেই মেসের উদ্দেশ্যে, যেখানে আমার ৩ টি বছর কেটেছিল।
ইন্টারনেট তখনও চাঁদমারি, সন্ধ্যাতে এক রেস্টুরেন্টে টিফিন খেয়ে ঢুকলাম এক ইন্টারনেট কাফেতে। আমি অর্কুট খুলছি, অয়ন বলল নতুন একটা অর্কুটের মত এসেছে, নাম ফেসবুক; সেই শুরু আজও চলছে।
ফেসবুক
দিনের অনেকটা অংশই আমাদের এই মুহূর্তের হাত ধরে কেটে যায়। সেই ২০০৮ এর প্রায় শুরুর দিন থেকে থাকার সুবাদে এই প্রায় এক দশকে অভিজ্ঞতাটা নিতান্ত কমও নয়। কত নতুন বন্ধু, কত পুরাতন বন্ধু আত্মীয় পরিজন ভাই-বন্ধু-বান্ধবী নিয়ে এই সংসার। আমার মত অনেকেই শুরুর দিকে ভীষণ ন্যালা-পাগলা থাকে ও ছিল। আমি টানা ৩ বছর প্রায় তেমন কিছুই জানতাম না বা বুঝতাম না; বলাভাল চেষ্টাও করিনি জানার। অধিকাংশেই আমারই মতন। পুরাতন অনেক সদস্যদেরই আমি চিনি তারা আমাকে না চিনলেও বা আমাকেও অনেকেই স্বনামে বেনামে চেনেন বা জানেন আমি না চিনলেও। বয়সটাও বাড়ছে, তাই কালের নিয়মেই হয়তো এখন সামান্য অল্প অল্প কিছু বুঝি এই আর কি, তাহলে কিরকম সেই অভিজ্ঞতা!
বছর পাঁচেক আগেও ফেসবুক ধারণাটা তেমন জেঁকে বসেনি সমাজে, আজকের মত। অনেকে অনেককিছুই করে তার সাথে ফেসবুকও। মানুষের চরিত্রই হল পরিবেশের সাথে খাপ খেয়ে বাকিটা নিজের আয়ত্তে নিয়ে চলে আসা, ফেসবুককেও তেমনই করে নিয়েছে। বাংলাতে লিখছে, বাংলাতে পড়ছে আর কি চাই! একটা টিপিক্যাল বাঙালিয়ানা কালচারের ঘরানা বাঙালীরা ফেসবুকে আনতে সক্ষম হয়েছে। মানুষ তিন ধরনের সাধারণত এই ফেসবুকে; এক ধরনের মানুষ বিনোদন জগতের সাথে যুক্ত, বিনোদনের পসরা সাজিয়ে বসেন। অন্যদল নিজ নিজ পছন্দের বিনোদন সামগ্রী চয়ন করে নিজেকে বিনোদিত করে থাকেন। এখানে কারোর সাথে কোনো বিরোধ নেই। মুশকিলটা তৃতীয় লিঙ্গদের নিয়ে থুড়ি তৃতীয় পন্থা অবলম্বনকারীদের নিয়ে। এনারা খান কম ছড়ান বেশি, শোনেন কম বলেন বেশি, এনারা পরামর্শ দানের নিমিত্তেই মূলত জন্মগ্রহন করেছেন। কি বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন, সেটা বড় কথা নয়, কাকে দিচ্ছেন সেটাও নয়; কিভাবে দিচ্ছেন সেটাই বড় কথা। অনু থেকে অনুব্রত হয়ে জ্যোর্তিবিদ্যা থেকে জ্যোতিষচর্চা সকল বিষয়েই এনাদের অবাধ যাতায়াত, গতিবেগ আলোর চেয়েও সময়ে সময়ে বেশি। খাটের তলা থেকে ঝাপানতলা সর্বত্র।
এনাদের পোষাকি নাম সমালোচক।
সনাতন ধর্ম মতে বিদেহী আত্মারা পুণরায় ধরাধামে জীবদেহে জন্মগ্রহণ করেন। পাপী আত্মারা কাক, শৃগাল বা সারমেয় রূপে এলেও অতৃপ্ত আত্মারা মনুষ্যরূপেই ধরাধামে অবতীর্ন হন। এনাদের থেকেই যোগ্যতমের উদবর্তনের নিয়ম মেনে সমালোচক নামক প্রানীটি বিকাশ লাভ করে। এমনিতে এদের বিশেষ কোনো বিশেষত্ব নেই চরিত্রে বা রূপে। এদের দুইটি অবস্থার সামান্যতম তারতম্যকে খুব দ্রুত অনুধাবন করতে পারে, তাই দ্রুত পাল্টি খেতে এনারা উস্তাদ। একটি নাসিকা, যেটা মিষ্টতার আস্বাদ পেলেই সেইমুখে দ্রুত ধাবিত হয়ে পারেন। একটি জিভ, চাটার জন্য বিশেষভাবে অভিযোজিত। দুইটি কান থাকলেও সেটা এপেনডিক্সের ন্যায় নিষ্কর্মা, কারণ সমালোচকরা কারো কোনো কথা শুনেছেন বলে কেউ বদনাম দিতে পারবেনা। দুটো প্রসারিত হাত রয়েছে এই প্রজাতির, একই সাথে একটি গলাতে ও অন্যটি পদযুগল স্পর্শ করার মত বিলুপ্তপ্রায় ক্ষমতা যুক্ত। প্রয়োজন অনুসারে এনারা যে হাতটা দরকার সেটাই ব্যবহার করে থাকেন। এদের দুইটি রিকেটগ্রস্থ কিন্তু সবল পা বর্তমান, যা পলায়নে উপযুক্ত। ঝামেলা লাগিয়ে দিয়ে ভদ্রতার দোহাই দিয়ে এনাদের পালানোর কৌশল বিশ্ববন্দিত। বাকি জননাঙ্গ সম্ভবত ক্লীব শ্রেণীর, বা ক্লাউন ফিসের মত বদলিযোগ্য। সম্ভবত বললাম এইজন্য, কারণ ব্যক্তিগতভাবে কখনও এদের সাথে মৈথুনের সুযোগ পাইনি, পেলে সেই বিষয়ে একটা পূর্ণাঙ্গ চটি লেখার অগ্রিম প্রতিশ্রুতি দিলাম।
রিস্তে মে তো হাম সবকে বাপ লাগতে হ্যাঁয়, নাম হ্যাঁয় সমালোচক।
এই প্রজাতিটির এমনই গুণ যে কঠিনপণ তপস্যাকারীকেও এনারা নির্বীজ করে দিতে সক্ষম এনাদের জিহ্বা নামক অস্ত্র প্রয়োগে। আমাদের আজকের আলোচ্য ফেসবুকীয় সমালোচক, অতএব তাদের দিকে দৃষ্টিপাত করা যাক। ধরা যাক একজন বিজ্ঞানী যিনি ইসরো মঙ্গলযান প্রোজেক্টের সাথে যুক্ত, কিন্তু মনের দিক থেকে ইনি কবিও বটে, ফেসবুকে কবিতা লিখতে শুরু করেছেন হালফিল। তার গুণমুগ্ধ পাঠকের সংখ্যাও নেহাত কম নেই, অতএব সমালোচকের নজর গেল, ব্যাস। বিজ্ঞান চর্চা বিষয়ে জ্ঞান থাকতেই হবে এমন মাথার দিব্যি যেহেতু কেউ দিইনি অতএব সমালোচক তাঁর সমালচোনা শুরু করেদিলেন। তার বিশ্বস্ত সূত্রে পাওয়া ঘটনা দিয়ে রটনা স্টার্ট, বিজ্ঞানী জ্ঞানী হলেও প্যান্টের ভিতরে জাঙ্গিয়া পড়েননা, এবং বাসর রাতে ইনি নাক খুঁটে হাত ধোননি। আর কি চাই, লাইক- কমেন্ট- শেয়ারের বন্যা। ফেসবুকে অধিকাংশ সময়ই সত্যতা প্রমানের দায় থাকেনা, তাই স্বঘোষিত অভিভাবক হতে খুব বেশি বেগ পেতে হয়না। সমালোচনা ব্যবসা পচা ছানার মত ফুলে ফেঁপে উঠতে দেরি হয়না।
মন্টু মাতব্বর আমাদের চেনাজানা এ রকমই একজন বিশিষ্ট বিদ্বজন তথা সমালোচক। ইনি সম্ভবত সেই হিমু ট্রমার শিকার, যিনি বিশ্বাস করেন তালিম দিলেই মহাপুরুষ হওয়া সম্ভব। কিন্তু তেমন ইস্কুল কি আর এই পোড়া ভূ-ভারতে আছে! অগত্যা নিজে থেকেই শুরু করে দিলেন ইস্কুল, যেখানে তিনিই অধ্যাপক আবার তিনিই ছাত্র। যথারীতি তিনি ফেসবুকের পাড়াতে নিজের অস্তিত্ব জাহির করলেন। ইনি বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী, গান লেখেন, গান গান, বাজনা বাজান, ছবি আঁকেন, পুতুল গড়ান , কবিতা লেখেন, গদ্য বমি করেন। তবে এনার পছন্দের বিষয়টা হল জীবনশৈলী। ধর্মে নাস্তিক, নাম দেখে বোঝার উপায় নেই ইনি কোন জাতের। তাই সর্ব ধর্মকে নিয়ে খিল্লি করার লাইফটাইম লাইসেন্স এনার কোঁচড়ে বাঁধা আছে। আর সেটাই করেন ফেসবুকের দেওয়াল জুড়ে তাঁর বিজ্ঞাপনএর রেতঃপাতে রঞ্জিত করে চলেন মুহুর্মুহ।
ফেবু সমালোচক হওয়ার অন্যতম বড় গুণ হচ্ছে প্রায় সর্বত্র এনাদের নীরব উপস্থিতি। অকুস্থলে এনারা কেউই কিছু বলেননা বা করেননা। এনারা সর্বঘট থেকে কাঁড়া আকাঁড়া খুদ কুঁড়ো নিয়ে বেশ গুছিয়ে নিজের পাড়ায় এসে গোছা করে কালিপটকার পেটো ফাটান। কপি পেষ্টে এনাদের দড় মেলা ভার, এনারা সর্বত্র মন্তব্য করেননা তাতে নাকি ইজ্জতের হানি হয়! মেকুরের মত মাটি যদি নরম বোঝেন তবেই সেখানে বাহ্য করেন রীতিমত আঁচড় কেটে নচেৎ নয়। হ্যাঁ, জ্ঞানত ইনারা জ্ঞান আর রেচন পদার্থ ছাড়া কিছুই ত্যাগ করেন না।
মন্টুবাবুদের মত নমুনাগুলো নিজেকে নিন্মমেধার বলেই পরিচয় দেন স্বগর্বে। এখন আপনি ভবঘুরে ফেসবুকার, মেধার গভীরতা খুঁজতে গিয়ে গুগুলে মেধা পাটেকরের জীবনীতে পি এইচ ডি করে ফেলেছেন প্রায় ,তবুও মেধার পরিভাষা রপ্ত করতে পারেননি। অগত্যা মন্টুদার দেওয়াল ভুলে গ্রুপে ঢুঁ মারলেন। হ্যাঁ, এই গ্রুপ। কদিন আগেও সমালোচক বাবুদের একটা প্রসিদ্ধ খিল্লি করার বিষয় ছিল গ্রুপবাজি। আশ্চর্যজনক ভাবে এনারা প্রত্যেকেই নিজেরা একাধিক গ্রুপ খুলে বসেছিলেন, বা গ্রুপ, পেজের এডমিন। অধিকাংশ জন হালে সেভাবে পানি না পেয়ে গণেশ উল্টিয়ে আবার পুনঃর্মুষিক ভব, পেশাদারীভাবে সমালোচনার ব্যাবসাতে মন দিয়েছেন। সমালোচনার খেয়ালে মুতে চলেন দেওয়ালে।
ফেসবুকের সংসারে মুখ্য যে কয় ধরনের পাবলিক দেখা যায় তাদের দিকে একটু দৃষ্টিপাত করা যাক। কিছু লোক শুধুই জোকসের ভক্ত, কেউ প্রিয়জনের মৃত্যু সংবাদ দিলেও এনারা একটা অট্টহাস্যের ইমোজি সেঁটে দেবেন। একদল সারাদিনই কমেন্ট করেন, এনারা মূলত কমেন্টার। জেনিভা চুক্তি থেকে হরপ্পা সভ্যতা হয়ে আমস্টারডামের ব্রথেল হোক বা তৃতীয় বিশ্বের দারিদ্রতা সকল বিষয়েই এনাটা চটপট কমেন্ট করে দেন, তীব্র জ্বালাময়ী সব ভাষণ দিয়েই এনারা বিখ্যাত। অন্যান্য সমমতাদর্শীরা তর্কস্থলে এদের নাম উল্লেখ করে ডেকে এনে রীতিমত স্টারের মর্যাদাও প্রদান করে থাকেন। সারা বছরে কালে ভদ্রে এনারা পোষ্ট বা শেয়ার করেন।
একদল শুধুই কবিতা গল্প উপন্যাস লেখেন, নিজেরটা টুক করে পোষ্ট করে দিয়ে ফেরারি আসামির মত গায়েব হয়ে যান পরবর্তী পোষ্টের আগে পর্যন্ত। একদল পেজ বা গ্রুপের এডমিন, এনারা সারাদিন ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর ব্রতে দীক্ষিত। এনারাই আসলে মিনি সেলিব্রিটির মর্যাদা ভোগ করে নিজ নিজ এলাকাতে। এদের আচরণ অনেকটা আমলা বা মন্ত্রী সুলভ, যদিও যাবতীয় নিত্যনতুন আইডিয়া গুলো এদেরই মস্তিষ্কপ্রসুত।
একদল আছেন, যারা সারাদিন শেয়ার করেন। সেটা ধর্ষনের খবর হোক বা বর্ষনের, ডোন্ট কেয়ার। একদলের আবার গ্যালপিং চিন্তাভাবনা, তাও আবার হাই লেভেলের, এদের ছোটখাটো ষ্টেশন ধরেনা। এদের বিষয় পানাগরিয়ার কত গুলো নীতি মোদী এপ্রুভ করবেন! ডোকোলাম নিয়ে চিনের আভ্যন্তরীণ কূটনীতি কী ভাবছে! রাশিয়ার উপরে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা বিশ্ব বানিজ্য মানচিত্রে কতটা এফেক্ট ফেলবে ইত্যাদি।
একদল নিজের ও নিজের পরিবারের বস্তা বস্তা ছবি শেয়ার করেই সেলিব্রিটি, কেউ কেউ আবার ওই করেই এক আধটা পেজও খুলেছেন বলে খবর আছে। শেষের দলটি আমি আর ফেসবুক করব না’, সুপ্রভাত শুভরাত্রি, ‘এতো কষ্ট কেন”, এই ধরনের আঁতেল পোষ্ট করেই মানসিক তৃপ্তি লাভ করেন।
বাপে বলেছে সুধীরভাই, আনন্দের আর সীমা নাই, এই একটা প্রজাতীর প্রাণী ফেসবুকের সমাজে সবর্ত্র বিরাজমান, এবং এরাই সংখ্যাধিক্য। এরা সকল কিছুতেই ভয়ঙ্কর ভয়ঙ্কর জটিল, বাছা বাছা কঠিন অব্যয় আর বিশেষণ ব্যবহার করেন। এরাই সমালোচকদের মূল খদ্দের। কারন বাকি সকলেই নিজ নিজ কর্মে ব্যস্ত, সুতরাং মধু আর মালতির এ এক বিচিত্র গন্ধ শোঁকাশুঁকি।
 
বাকিরা? নাহ এখানেই শেষ নয়, শেষেরও একটা শেষ থাকে, বাকি হলে তারা...
আরে বাওয়া, এরাই তো হলেন ওই মন্টু বাবু, বিদগ্ধ সমালোচক। নাম না দিয়ে কেউ যদি একটা রবি ঠাকুরের কবিতা বা সেক্সো কবির ড্রামা পোষ্ট করে ফেলেছেন, এনারা নির্দ্বিধার তার মা মাসি উদ্ধার করে দেবেন অবলীলাক্রমে।
কবি ঠাকুরের কথায় মনে এল ইনি অনেক বই ছাপিয়েছিলেন বা প্রকাশকে এনার বই ছাপে। আজকের এই ট্যাকস্যাভি যুগে আড্ডার পরিসরটা বা চেনা পরিচিতের গন্ডিটা ফেসবুক ভায়া হয়েই বস্তু দুনিয়ার প্রান্তে উন্মুক্ত হচ্ছে। অনামি তথা শখের লেখকেরাও একটা চটজলদি পাঠক প্রতিক্রিয়াও পাচ্ছেন, হ্যাঁ-না করতে করতে কিছু জন বইও ছাপিয়ে ফেলছেন। ঘটনা হচ্ছে ছাপাছাপির বিষয়টা আগের চেয়ে অনেক অনেক কমে গেছে যেটা বই পাড়াতে যাতায়াত করলেই মালুম হয়। কিন্তু ছাপার অক্ষরে নিজেকে দেখার বাসনা কার না হয়! উন্নত যোগাযোগ ব্যাবস্থার সুবাদেই ফেসবুকের মঞ্চ থেকে আরো অনেক সংগঠিত কর্মের মত বই ছাপানোও হচ্ছে।
তাহলে আর বলছি কি!! সমালোচকেরা কি বসে থাকবেন হাত গুটিয়ে? আলবাত নয়, ইজ্জতের প্রশ্ন আছে না বস! অতএব লাগাও কাঠি।
ফিরে যাই শুরুর লাইনে, আপনি যদি রাজনৈতিক নেতা হল, চোর, ডাকাত, খুনী, ধর্ষন হোন আপনি অনেকটা সেফ সমালোচকদের থেকে। কারণ কোষ বলতে এদের শুধুই অন্ড, বাকিটা চর্বি আর জ্ঞান। সুতরাং পাল্টা আসতে পারে এমন বাক্সের ধারেকাছে এনারা যাননা। কিন্তু যদি আপনি নিরীহ নির্বিরোধী লেখক হন? তাহলে আর আপনার রক্ষে নেই। আপনার যাবতীয় সকল কিছু ঠিকেদারি এনারা নিজ দায়িত্বে কাঁধে তুলে নেবেন। শুরু হয়ে যাবে নিরন্তর কাঠিবাজী, কাঠির টান পরলে হাতে পায়ে কুড়িটা আঙুল হ্যায় না...
কেউ মদের নেশা করেন, কেউ মেয়েছেলের, কেউ রেসের মাঠে যান। গাঁজা, চরস, হেরোইন তো আছেই। একটাকেও সমাজ ভাল চোখে নেয়না। কিন্তু আপনি যদি বই লেখা বা ছাপানোর মত নিরীহ নেশা করেছেন!! অমনি সমালোচকের দল এমন ফেনাতে শুরু করে দেবে, যে আপনার খাটের তলা অবধি পৌঁছে যাবে। আপনি হয়ত বিনিদ্র রজনীতে পেটে অম্বলের দোষ করে বসে আছেন। আনন্দের বিষয় হল আপনার পায়ুরন্ধ্রে সমালোচকের দল হয় কাঠি বা আঙুল কিছু একটা গুঁজে রেখেই দিয়েছেন। সমালোচোকরা সেটা টেনে মাঝে মাঝে বের করে শুঁকবেন, দেখবেন গন্ধটা ঠিকঠাক মনমতো ঝাঁঝালো হল কিনা।
সমালোচক সকল কিছুই করেন শুধু এটুকু বোঝেননা, আঙুল বা কাঠি করতে করতে আঙুলের ডগাতে যে হলুদ বর্ণটা শোভা বর্ধন করে ওটা তরল কাঞ্চণ নয়, পাতি নরগোবর। কিন্তু বিজ্ঞ সমালোচককে  কে বোঝাবে! তিনি তাতেই মোক্ষ লভেছেন।
ফেসবুকের পরাকাষ্ঠা, স্ট্যাটাসের ভিড়ে অক্ষম রমনের প্রয়াসে নিত্যনতুন খুঁত খুঁজে ফেরা অতৃপ্ত আত্মা।


******* 

শনিবার, ৫ আগস্ট, ২০১৭

।। অংশুমানের গল্প ।।

রোববারের সকালে একটু বেলা করেই ঘুম ভাঙে অংশুর। এসিটা ২৪শেই আছে, সুতরাং ঘরটা মিনি দার্জিলিং এ পরিণত; এখানেই হানিমুন চলছে ওদেরআসলে করবীর সাথে লাভ ম্যারেজটা গত পরশুই করেছে অংশুমান।

ব্যাঙ্গালোরে এসেছে বছর পাঁচেক হল, IT Sector এ এক বিদেশি কোম্পানির উচ্চপদস্থ চাকুরে। পুরুলিয়ার ঘটিব্রাহ্মন সন্তান সে, ছুটির দিনেও মন্দিরে যাওয়ার ভক্তিতে কমতি ছিলনা অংশুমানের। বছর তিনেক আগে এক ভোরে সে করবীকে দেখে। সূর্যের নরম আলোতে কোনো রকম প্রসাধন ছাড়া এক অপরুপ দেব প্রতিমা মনে হয়েছিল অংশুর। তারপর থেকে ওই সপ্তাহে এক আধবার দেখা সাক্ষাৎ কয়েক মুহুর্তের তরে ব্যাস এটুকুই। ওদিকে বাড়িতে অংশুর মা তার রায়গঞ্জের সইএর একমাত্র মেয়ে অমলার সাথে যে বিয়ে প্রায় পাকা করে ফেলার উপক্রম। একথা জানতেই কিছু বন্ধুর সাহায্যে বিয়েটা চটাপট সেরে নেয় অংশু। তারপর বাড়িতে বাবাকে ফোন করে খবরটা দেয়। যাই হোক এ খবর শুনে তারা আর কালক্ষেপ না করে আজই দুপুর ১২টা কুড়ির ফ্লাইটে চড়ে বসেছেন।
চাদরের বাইরে বেড় হয়ে থাকা মুখটুকুতে হঠাত বৃষ্টির ফটা মত পরতেই আধাঘুমের ম্যাড়ম্যাড়ে চোখে চেয়ে দেখলো করবী ওর দাড়ি সেভ করা ছোট্ট আয়নাটা নিয়ে কপালে সোহাগের সিঁদুর লাগাচ্ছে। আর সেই ভিজে চুল থেকেই শিশিরবিন্দুর মত জল ঝরে পরছে। চাদর থেকে হাতদুটো বের করে যেইনা কোমরটা ধরছে, অমনি পাঁকাল মাছের মত শরীরটাকে হিলহিলিয়ে কপট রাগ সহ চোখ বড় বড় করে করবী ইশারা করল অংশুকে ফ্রেশ হয়ে নিতে। পটে আঁকা সুন্দরী না হলেও, যে রূপ থেকে চোখ ফেরানো যায়না, করবী সেই সুন্দরী।

প্রাতঃরাসে পোহা মানে চিড়ের একটা পদ সাথে একটা ডিমের পোচ আর এক পেয়ালা চা। লাঞ্চের জন্য বাবা মায়ের পছন্দের সব্জি আর মাছ এনে, পাশের ফ্ল্যাটের বাঙালী সহকর্মীর বাঙালী স্ত্রী ইশানী বৈদিকে ডাকতেই, তিনি সোৎসাহে রান্নাবান্না করে দিয়ে গেলেন।

বৌদিই করবীকে একটা ঢাকাই জামদানি শাড়ি সুন্দর করে পরিয়ে দিয়ে গেল। ত্রয়োবিংশি করবীর চোখেমুখে শিশুসুলভ উচ্ছ্বাস। যথা সময়ে হৈ হৈ করে অংশুর বাবা ফ্ল্যাটে পৌঁছে গেলেন ওর মাকে সাথে করে। করবী শ্বশুর শাশুড়িকে টিপ করে প্রণাম করে এক্কেবারে লজ্জাবতী লতার মত ঘরের এক কোনে সরে দাঁড়িয়ে রইল। এদিকে মা বাবার সাথে অংশু, শরীর স্বাস্থ্য, চাকুরি, এলাকা ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা মগ্ন রইল। করবী সবটাই দেখছে কিন্তু সে অংশগ্রহন করলনা। অংশুর মাও যেন বৌমা হিসাবে করবীকে ঠিক মেনে নিতে পারছিলনা। যাই হোক, ক্লান্ত শরীরে বাবা মা ফ্রেশ হয়ে বিশ্রাম নিতে গেলে করবীও একটু গা এলিয়ে দিল।

হঠাতই অফিস থেকে বসের জরুরী একটা ফোনের জন্য অংশু বেড়িয়ে গেল। মা বাবা, করবী তিনজনেই ঘুমাচ্ছে, ‘এই যাব আর এই আসব, অযথা জাগিয়ে লাভ কি’ এই ভেবে অংশু বেড়িয়ে গেল। ঘুমভাঙা শ্বাশুড়ি বৌমার দরজার সামনে গিয়ে অনেক ডেকেও সারা না পেয়ে রুষ্ট মনে বললেন-
-       বাব্বা, মেয়েছেলের এতো দেমাক কেন বাবা। ছেলেটা যেন আমার নয়, টিকলে হয়।
সন্ধ্যার দিকে অংশুর সাথে ফোনে কথা বলে ওর বাবা জানলো তার আসতে লেট হবে। ওদিকে ওর মা স্থানীয় বাজারে যাবার জন্য উদগ্রীব, বিবাহ আশীর্বাদের লোকাচারের সামগ্রী কেনার জন্য। তিনি অংশুকে সে কথা বলতেই অচেনা জাইগার জন্য করবীকে সাথে নিয়ে যেতে বললেন-
-       মা, আমি করবীকে মেসেজ দিয়ে দিচ্ছি। ওর সাথে চলে যাও।
মায়ের ঠিক মনপুতঃ নাহলেও ছেলের কথাটা ফেলতে পারলেন না। তিনি বৌমার ঘরের দিকে যাওয়ার আগেই দেখেন করবী একটা শালোয়ার স্যুট পড়ে এক্কেবারে তৈরি। শ্বাশুড়ি কোনো কথা বাড়ালেন না, চুপচাপ করবীর পিছনে অনুসরণ করল।

ব্যাঙ্গালোরের ভিড় রাস্তাতে করবী, শ্বাশুরির হাতটা কয়েকবার ধরার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তিনি বললেন-
-       থাক, আর আদিখ্যেতা করতে হবেনা, আমিও গড়িয়াহাটে সপিং করি। গেয়ো ভূত ভেবোনা। উঁ, আমার সোনার টুকরো ছেলেটার উপরে কালাজাদু করে বস করে আবার ঢং হচ্ছে।
ফেরার সময় রাস্তাটা শ্বাশুরি বৌমা পার হচ্ছিলেন, হঠাত দড়াম করে একটা শব্দ। তার পর লোকে লোকারণ্য।

আউটার রিং রোডের একটা হাসপাতালের মর্গের সামনে লাশ শনাক্ত করছে অংশু। ওর স্ত্রী করবী গাড়ি এক্সিডেন্টে মৃত। যাকে তিন দিন আগে একটি মন্দিরের অনাথ আশ্রম থেকে বিবাহ করেছিল। অংশুর মা ও কপাল চাপড়ে কেঁদে চলেছেন,
-       যদি জানতাম বৌমা আমার মুক ও বধির, আমি কি ওর হাত ছাড়তাম?        


শুক্রবার, ২৮ জুলাই, ২০১৭

অকপট কেন!


ভূতের রাজা দিল বর, জবর জবর তিন বর। অকপট নামটা আমাদের কাছে এমনই; একত্রিত হওয়া, ভাবনার সঙ্গম ও শুরুর শুরু এই তিনটে অকপট বর বৈকি। হঠাৎ করে কতকগুলো সমমনষ্ক মানুষের কাছাকাছি আসা থেকে বাস্তবের মাটিতে নিজেকে প্রকাশ করার আধুনিক নামকে যদি অকপট বলা হয়, নিশ্চয়ই সেটা অত্যুক্তি হবেনা। নেই এর দুনিয়া, যেখানে একজন মানুষ মানে কতকগুলো সাদা কালো অক্ষরে ছাপা শব্দমালা, প্রতিদিন, প্রতিনিয়ত, প্রতি সপ্তাহে জুড়ে সেই অক্ষরমালার আদানপ্রদান চলা কয়েকটা বছর জুড়ে। হাসি, ঠাট্টা, আড্ডা, আমোদ, প্রমোদ, আলাপ, প্রলাপ, রাজনীতি, ধর্ম, সামাজিকতা, রাগ, অভিমান, বৈঠকি, সম্মিলনী, চড়ুইভাতি ইত্যাদিতে সাওয়ারি হয়ে শুধুমাত্র নিখাদ বন্ধুত্বের সম্পর্কের উপরে লগ্নি করে সাহিত্য দুনিয়ায় বালি কাঁকড় রূপে আত্মপ্রকাশ করার মাঝে আগামীর ভবিষ্যৎ দিশা খুঁজে নিয়েছে।
অকপট নামটা একসময় ছদ্মনাম হিসাবে স্বয়ং কবিগুরু নিজে ব্যবহার করেছেন, অকপটচন্দ্র ভাস্কর। অকপট মানে ঋজু, অকৃত্রিম, ছলাকলাহীন স্পষ্টভাষ। আজকের কৈতববাদ সর্বস্ব সমাজে সকল কিছুকেই প্রায় পণ্য করে তুলেছে তথাকথিত আধুনিক সমাজ। কিন্তু সাধারণ ছাপোষা খেটে খাওয়া মানুষের দল দিনের শেষে পেটে একটু শান্তি চায়, আর মনে অনন্ত সুখ। অকপট এমন একটা সমাজের স্বপ্ন দেখে যেখানে ঐশ্বর্যের ঝকমারির চেয়ে কুড়িয়ে পাওয়া টুকরো টুকরো খুদকুঁড়োর মুহূর্ত সুখ দিয়ে বোনা একটা স্বস্তির আসিয়ানা বানিয়ে একসাথে বসবাস করার।
আজকের এই দ্রুত গতির জীবনধারাতে অখন্ড অবসর বলে কোনো শব্দগুচ্ছের স্থান নেই, বরং কার্যকরি কর্মমুক্তিই হল হাল নগদ আধুনিকতা। শিক্ষা আনে চেতনা, চেতনা আনে বিপ্লব আর বিপ্লবই আনে মুক্তি। শুধুমাত্র কেতাবি শিক্ষা দিয়ে কাগুজে বাঘ তৈরি করা সম্ভব, একজন চেতনা সম্পন্ন মানুষের প্রয়োজন অকপট শিক্ষাতে দীক্ষিত হওয়া। যার জন্য প্রয়োজন সামাজিক শিক্ষা। সমাজের নানান ধরনের মানুষের সংস্পর্শে এসে দৈনন্দিন অভিজ্ঞতাগুলো ভাগ করে নেওয়া। কিন্তু বাড়ি বাড়ি গিয়ে তেমন মানুষদের সাথ পাওয়া তো আর চাইলেই পাওয়া যায়না; অতএব মুশকিল আসান হল তাদের ভাবনাগুচ্ছের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া সেই ভাবনার লিখিত রূপে ডুব দিয়ে। সেটা যদি হয় কাব্যিক ভাষার মোড়কে অবশ্যই সেটাকে অকপট আস্তানা বলা যায়।
এটাই অকপট।
লক্ষ্য


আমরা সবার আগে মানুষ, তাই সামাজিক রীতিতে গোষ্ঠীবদ্ধ। সেই সূত্রেই আমরা সবার আগে বাঙালী, তার পরে যাবতীয় সকল পরিচয়, এটাই অকপট বিশ্বাস। আমরা বিশ্বাস করি একটা পরিবর্তনশীল পৃথিবীতে, পরিবর্তনে বিশ্বাস রাখাটাই অকপটুতা তথা আধুনিকতা। স্থবিরতা কখনই অকপটের পরিচয় বহন করতে পারেনা, সময়ের দাবীকে মান্যতা দিয়ে জ্ঞান, বিজ্ঞান, ধর্ম, রাজনীতি সহ গোটা সভ্যতাকে জনগণ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে প্রভাব সৃষ্টিতে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ করাটাই আমাদের প্রাথমিক ও অকপট লক্ষ্য।
সামাজিক সংস্কারের লক্ষ্যে সর্বদা একটা নিঃশব্দ বিপ্লবের অদৃশ্য ফল্গুধারা সমাজেরই মধ্য দিয়ে বয়ে চলেছে। যেখানে যদি সমাজের সকল স্তরের মানুষের ভাবনার মেলবন্ধন ঘটে, তবেই তা ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করতে সক্ষম। সভ্যতার সমোয়োযোগী জরুরী সংস্কারের লক্ষ্যে প্রয়োজন, সমাজের মধ্যে শত শত অনুসমাজের নিজস্ব মতাদর্শগুলোকে একটা সাধারণ লক্ষ্যে বেঁধে অগ্রসর হওয়া। অকপট বিশ্বাস করে ‘আমরা’ প্রত্যেকে স্বেচ্ছাসেবী হিসাবে ওই সংস্কারের পতাকা বহন করার শক্তি ধারণ করি তথা অঙ্গীকারবদ্ধ। বার্ট্রান্ড রাসেলের একটা একটা বিখ্যাত উক্তি -“আমি আমার বিশ্বাস নিয়ে মরতে চাইনা”; অকপটও সেই ভাবধারাতেই সম্পৃক্ত। সৎ ভাবনাকে বিশ্বাসের পর্যায়ে উন্নিতকরণ ও তার ক্রমঅনুশীলনের জন্য প্রয়োজন মঞ্চ। নিয়মিত আলাপ আলোচনার মাধ্যমে কর্মসূচী গ্রহন ও রূপায়নের মধ্যেই সফলতার আসল চাবিকাঠি, আর অকপট সেই মঞ্চ প্রদান করতে বদ্ধপরিকর, যেখানে গঠনমূলক সমালোচোনার উপরে ভিত্তি করে পৃথক ভাবনাগুচ্ছর পরিস্ফুটন হবে, পারস্পরিক আলাপ আলোচোনার মাধ্যমে। যার উপরেই অকপট উদ্যোমী পদক্ষেপের বুনিয়াদি ভূমি প্রস্তুত হবে।
দর্শন
**** 
গভীর জীবনবোধের সাথে প্রকৃত শিক্ষার সঙ্গমই, সুচিন্তার অধিকারী সম্পন্ন ও নিরীক্ষণ ক্ষমতাপূর্ণ দর্শনবোধ জাগ্রত করে। দুটি মানুষের ফারাক আসলে তাদের দর্শনে। যে দর্শন তাদের ভাবনা নিয়ন্ত্রণ করে। আমাদের পাঁচটি অকপট দর্শন-
১) স্বেচ্ছাসেবক – মানবসম্পদের চেয়ে বড় সম্পদ আর কিছু হতে পারেনা। একাগ্র, কর্মদক্ষ, সৎ ও সাহসী স্বেচ্ছাসেবার মধ্যে দিয়ে একটি দিনের সময়কে বহু দীর্ঘায়িত করা সম্ভব বৃহত্তর পরিসরে, যা কল্যাণকর কর্মের মধ্যে দিয়ে নিজেদের মেধা ও প্রতিভার ছাপ রাখবে।

২) অপরাজেয়ঃ- নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, গঠনমূলক সমালোচনা এবং প্রগতিশীল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে নিজেদের অপরাজেয় হিসাবে তুলে ধরা, যেখানে প্রত্যেকের জয় অন্যজন উপভোগ করবে ও পরাজয় থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে।
৩) অসাধারনত্বঃ- দ্বন্দ্বের সাথে চির সখ্যতা বজায় রেখে, যেকোনো প্রকার গঠনমূলক কর্মে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ।
৪) উত্তরাধিকারঃ- সফল মানুষদের সৎ কর্মধারা ও জীবনবোধকে নিজের মধ্যে গ্রহণ করা ও ভবিষ্যৎকে একটি সদুপায়ী সুচিন্তাধারার বিশ্বাসী সমাজ উপহার দেওয়া উত্তারিকার স্বরূপ।
৫) জবাবদিহিতাঃ- আমরা আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে অনুসরণ করে নিজের কাছে জবাবদিহি করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

মঙ্গলবার, ১১ জুলাই, ২০১৭

।। মিডিয়ার হেডলাইন ।।

বাদুরিয়া অতীত, আর মাত্র দু তিন দিন। ব্যাস, পাবলিক ভুলে গেল বলে। যেমন ইন্দ্রানী বরা বা ব্যাপম দূর্নীতি আজ 'অতীত'। রবার্ট ভদ্রা বা খনি দুর্নীতির ফাইলে পুরু ধুলোর আস্তরন। নারদা সারদা নিয়ে চু কিত কিত চলছে, দমের খেলা তো। যে দম ধরে রাখতে পারবে জয় তার। মিডিয়া ব্যাস্ত কে হাসপাতালে গেল তা নিয়ে। একঘেয়ে দার্জিলিংকে সরিয়ে বাদুরিয়া একটু স্বাদ বদল করল বটে। কিন্তু এ খাবার বেশি খেলে অম্বল হয়। তবে মনমরা হওয়ার কারণ নেই-
অনন্তনাগ পেয়ে গেছে মিডিয়া।
মৃত্যুর থেকে বড় দু:খ আর অভিশাপ দ্বিতীয়টি হয়না। ৬-৭ জন মানুশ বিনা অপরাধে প্রান দিল। তারা কোন জাত, কি করছিল, কি পেশা এগুলো কখনই মুখ্য হতে পারেনা। সিভিলিয়ান দের মৃত্য কেন হবে? যদিও অরণ্যে রোদন, তবুও রাষ্ট্রকে জবাব দিতে হবে। কাশ্মীরের স্বাধীনতা কি নিরীহ মানুষ মেরে আসবে? আসলে খুনী মানুষরূপী হিংস্র শ্বাপদগুলর একটা ধর্মীয় খোলস চাই। নাহলে এমন 'মহান' কর্মের সাথে নিজেকে নিয়োজিত করা যায়না, সেটা লস্কর হোক বা আধুনা গোরক্ষক দল। মৌলবাদ ক্যান্সার, যাকে রাষ্ট্রের একটা অংশর চরিত্র কার্সিনোজেনের মত, তাই মৌলবাদ মরেও মরছেনা।
এরই সাথে বেশ কিছু 'সেকুলার' ফেবুজীবিদেরও স্ট্যাটাস করার সুযোগ খুলে দিল। তাদের রাজনৈতিক বাপেরা যতই কোলাকুলি খোলাখুলি করুকনা কেন, ফেবুর দেওয়াল জুড়ে দেশপ্রেমিক দের তীব্র আস্ফালন দেখে ভিন গ্রহের কোনো এলিয়েন ভাবতেই পারে এরা প্রত্যেকেই লাল রক্তের। তারা ঠিকিই ভাববে, তবে ওটা মানুষের রক্ত নয় কেঁচোর লাল রক্ত। এতোদিন তাদের সামনে গোরক্ষকদের হয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলার সুযোগ ছিলনা, কারন তাদের 'খোঁজা বিকাশ পুরুষ' মুখে ছিপি এঁটে ছিল। এতো হত্যায় তারা মুখ খোলেনি অথবা তাদের বিবেক বুদ্ধিতে এক্সট্রা ডটেড কন্ডোম লাগানো ছিল, যা কিনা অনেক বেশিক্ষণ উত্তেজনা দেয়। আজ বুক ফেটে যাচ্ছে! যন্তরমন্তর ঘরে মগজধোলাই করে পবিত্র গোবর ভরে দেবার কারনে বুক আজ একমুখী। এরা শেয়ালের হুক্কাহুয়ার সাথে তাল মিলিয়ে হাঁক ছারে। কে জানে কেন ছারে তবে অভ্যেস একটা কারন বটে।
বাদুরিয়া যতনা বেশি সাম্প্রদায়িক তার চেয়েও শত গুন বেশি উন্নয়নের জোয়ারে আগত পাঁকে পাঁকালমাছ ধরতে গিয়ে গন্ধ ছরিয়েছে, এটা আজ প্রমানিত। মাঝ খান থেকে কিছু বেকার আবাল ছেলেছোকড়ার ভবিষ্যতে আলকাতরা। লোকে প্রকাশ্যে জানল পিসিরও নাকি সম্মান আর অপমানবোধ আছে, যদিও পাবলিক ইভেন্টটা খায়নি। ফটোশপ পার্টি এটাকে মাতৃমুক্তিপন করে একটা সর্বভারতীয় দাঙ্গার রূপ দিতে চেষ্টা করল বটে, কিন্তু কপালে নেইকো ঘি- ঠক ঠকালে হবে কি!! পাবলিক দাঙ্গা খেলনা।
অতএব আবার পাবলিক GST নিয়ে প্রশ্ন তুলবে। বাকি লক্ষ লক্ষ বাসি প্রশ্ন ডিপ ফ্রিজে বন্দি, তবে তাজা। জ্যান্ত টাটকা রক্তাক্ত ঈশ্যু না পেলে পাবলিক ফ্রিজের ডিপারে হাত বাড়াবে, অতএব.........
একটা অনন্তনাগ খুব দরকার ছিল মিসকল পার্টির। আপনি মানবেন না জানি, কে মাথার দিব্যি দিয়েছে যে মানতে হবে! মিলিয়ে নেবেন এবারে মৃত নিরীহ মানুষ, সেনার থেকেও মাইলেজ বেশি দেবে। ২০১৯ এর নিঁখুত প্রস্তুতি।
যে প্রশ্নগুলো মোটেই তুলিবেননা, সেগুলো হল-
১) ওই ধরনের হাই সিকিউরিটি জোনে বিনা নথিবদ্ধ করে বাস গেল কিভাবে? কে পাঠালো! কি উদ্দেশ্য? 
২) বাসের নাম্বার গুজরাটি। ভাল, বর্তমান পরিস্থিতিতে গুজরাত থেকে বাস নিয়ে যাওয়া কিভাবে সম্ভব?
৩) অন্ধকারে বাস চলাটা কি এবারে ওখানে নতুন নিয়ম? কে লাগু করল সেই নিয়ম! কবে?
৪) দেশের ইন্টেলিজেন্স কি ডান্ডিয়া খেলছে? নাকি বিকাশ পুরুষের মত "৫৬" ইঞ্চির খোঁজা!!
৫) ওখানে তো একটা নির্বাচিত সরকারও আছে। PDP আর কাদের মিলিজুলি একটক সমকামী সরকার। তারা সারাক্ষন কি স্বমৈথুনে ব্যাস্ত? নাকি ইট কুড়োতে? নাকি গুলমার্গে হানিমুন চলছে!
আরো শত শত প্রশ্ন আছে, কিন্তু দেশদ্রোহী ট্যাগ ঝুলে যাবার তুমুল সম্ভাবনা। তারও পরে পাকিস্থান পাঠিয়ে দেবার হুমকি। যদিও আমাদের খোঁজা বীরপুরুষ আজ ৫-৬ খানা চটাপট টুইট করে জানান দিয়েছেন, খোঁজা হলেও তিনি পুরুষ বটে। দুদিন পরে দেখব আমি জেলে আর দেশপ্রেমিকরা লাহোর বা ইসলামাবাদের জুলুসে।
সত্যিই তো, আমরা ১৩৫ কোটির গিজগিজে জাতি, যদি ২-৪০০ জন বেঘোরে মরে যায় রাষ্ট্রের কিইবা এসে যায়, এমনিতেই তো মরবই, দু দিন আগে আর পরে এই যা। যদি লগনচাঁদা কপাল হয় তাহলে মৃত্যুর কারন হিসাবে একটা ধর্মীয় ট্যাগ জুড়লে নামটা লোকে জানবে, তা সে আখলাক হোক বা কার্তিক ঘোষ বা কালীবুর্গী। এখানে কোন ভেদাভেদ নেই।
ভাগ্য আরো সুপ্রশন্ন থাকলে দেহ নিয়ে একটা মিছিলও হবে, বউ ট্যাক্স কেটে কিছু টাকাও পাবে। এগুলো কি ফ্রিতে! আজ্ঞে না ; এগুলোই পুঁজি, ভোট বড় বালাই। চার বছরে জনগনের হাতে বাবাজিকা ঠুল্লু। তাই আন্তর্জাতিক ও অন্তর্দেশীয়, দাঙ্গা আর যুদ্ধের থেকে ভাল মায়া কাজল আর কিছু আছে কি!
চীন এদিকে বিনা জাপানী তেলে ড্যাস মেরে দিলেও মৌনি সাধু হয়ে আছেন বীর ফটোশপ পার্টির ক্যাডার সমেত মাথারা। আগামীকাল থেকে মুখেই পাকিস্থানকে উড়াতে লাগবে ভার্চুয়াল বীরপুঙ্গবের দল, আনুষ্ঠানিক নিন্দা প্রস্তাব হবে, ট্রাম্প বাবার দয়াদাক্ষিণ্যর দিকে চাতকের মত চেয়ে থাকবে। কাজের কাজ বা পাল্টা জবাব কিছু হবে কি? মাথা খারাপ, যুদ্ধ যুদ্ধ খেলটা ২০১৮ জুন জুলাই মাসের শেষ দিকে শুরু হবে। এগুলো তার পটভুমি। উরির ঘা আজও টাটকা, এত কান্নার জন্য চোখে আর জল থাকবে তো?
আমরা কিন্তু ধর্ম আর দেশপ্রেমের বাইরে গিয়ে যেন কোনো যুক্তি খোঁজার চেষ্টা না করি।


বৃহস্পতিবার, ৬ জুলাই, ২০১৭

।। 'না' বলতে কবে শিখব! ।।



"আমার কি?
কুতাই কি ঘোটচে তানিয়ে আমার বাপু মাতাবেতা করে লাব নেই। আমি বরন কোবতে লিকি, জোকস শেয়ার করি। মামনিদের পোষ্টে জালাময়ী কমেন্ট করি।
আমার কি!
বাদুরিয়ার ঘটনাতে যারা ভাবছেন 'আমার কি!'
তাহলে মনে রাখুন পরবর্তী শিকার যদি আপনি হন তখন বাকি অন্যরাও আপনার মতই বলবে 'আমার কি'। তেরোটা নিউজ চ্যানেলের ১১ ঘন্টা ধরে স্ক্রলে আপনার নাম দেখাতে থাকবে আর পরদিন সংবাদপত্রে জ্যোতিষ বিজ্ঞাপনের পরে দু লাইনের একটা 'খবর', ব্যাস। সোস্যাল মিডিয়াতেও আপনার টপিক ততক্ষণ, যতক্ষ নতুন টপিক না আসছে। এপাড়াতে ঐশ্বর্যের মনোপজের শুষ্ক খবর বন্যাধসের মত খবরের গুরুত্বকেও এক লহমাতে শুঁষে নিতে সক্ষম।
ইন্দিরার জরুরী অবস্থা দেখিনি, ইনফ্যাক্ট আমার জন্মের আগেই ইন্দিরা গান্ধী খুন হন। চমকের বিষয়ে তিনি কোনো অংশে কম ছিলেননা। মমতা ব্যানার্জী কিছুটা সেই জুতোতেই পা গলিয়েছেন, দক্ষিনী প্লাস গবলয় প্লাস ইন্দিরার কম্বো ককটেল। ইন্দিরা আমলে না ছিল টিভি না ইন্টারনেট, সবেধন নীলমণি শুধু সংবাদপত্র। তাকেও ইচ্ছামত নিয়ন্ত্রণ করার পরেও পতন কিন্তু রোখা যায়নি। আজকে গোটা বিশ্বজুড়েই প্রচার সর্বস্ব অর্ধশিক্ষিত উন্মাদ হাল্লা রাজাদের দাপট, সেটা ট্রাম্প হোক বা মোদীজি বা মমতা ব্যানার্জী। আসলে এটা তথাকথিত শিক্ষিত সম্প্রদায়েরই অপদার্থতা। কেন্দ্রের শকথেরাপি সরকার বা রাজ্যের লুটেরাদের দলেরও পতন হবেই, সেটা আমি বা আপনি চাই বা না চাই, তাতে কারো যায় আসেনাএখন আমরা বাঙালী বীরপুঙ্গবরা যদি বউএর সায়ার নিচে নিশ্চিন্ত যাপনের সুখ ত্যাগ করে, "না" কথাটা মিনমিন করেও একযোগে বলার শক্তি রাখি, চোরচাপ্টার দলেরা নপুংসক হয়ে যাবে শীঘ্রই
সকাল থেকে আপনি বাস্তব দুনিয়াতে নানান রোজদিনকার কাজ সেরে ঘরে ঢুকলেন, এতক্ষণ কোথাও ধর্ম বালাই অত্যাবশ্যকীয় ছিলনা, অথচ ফেসবুকে যেই এলেন আপনি কিন্তু তীব্র ধার্মিক। কি আশ্চর্য দেখুন, জনৈক ঘোষ বাবু হিন্দু সংহতির পোষ্টার ছাপাতে প্রেস পাড়াতে যাবার আগে রাজাবাজারের সস্তা হোটেলে বিফ ভুনা দিয়ে তিন প্লেট ভাত সাবড়ে, একটা নিরামিষ পান স্বাত্তিক মতে তুলসি (রজনীগন্ধা থাকলে এক্সট্রা সোহাগ) সহযোগে মুসলমানের মা মাসি করতে বসলেনঅন্যদিকে মঞ্চে ওঠার আগে গ্রীনরুমে কাঁচের গ্লাসে বিশুদ্ধ হুইস্কি নিট, গলায় ঢেলে জনৈক হকসাহেব, মাথায় ফেজ টুপি চড়িয়ে হিন্দুত্বের মা মাসি করতে লাগবেন। এগুলো সবটা মিথ্যা, কারন আপনি এগুলো একটাও নিজে চোখে দেখেননি তাই। অথচ এরা যখন বলবে অমুকে স্থানে গোমাংস বিক্রি করছে তমুকে বা ওই গ্রামে মসজিদে কিছু লোক হামলা করেছে, অমনি রে রে করে লেগে পরবেন সত্যতা যাচাই না করেই। আপনি সত্যিই বিপ্লবী।  আর কবি! তুমি প্রেমের কবিতা আঁকো, তোমার কোনো দায় নেই, শুধু তোমাজ জন্য আমরা দায় বায়।
বাস্তবের মাটিতে আপনি একজন নিপাট ভদ্দরলোক। ফেসবুক বা টুইটারে আপনি বাঘমারা পালোয়ান, আসলেতে আপনি অমেরুদণ্ডী ক্লীবলিঙ্গ। আপনার মনুষত্বের ধ্বজভঙ্গ হয়েছে, যেটা ফেসবুকে এলে খানিক চিরিক মারে বাকিটা শীঘ্রপতন। যদি মানুষ হন, তাহলে যেভাবে পারেন প্রতিবাদ করুন। ফেসবুকে আছেন তো? পোষ্ট লিখুন , কমেন্ট করুন, প্রতি পদে বুঝিয়ে দিন আপনি হুলিগানদের দলে নেই।  কি বলছেন! কেও শুনবেনা? কেও পড়বেনা? ভিড় বাসে যখন বাতকর্ম করেছিলেন কে দেখেছিল? বা অপত্য সুখে যখন ভরা বাজারে সন্তানের কপালে চুমু এঁকেছিলেন কাকে দেখাবার জন্য? দুটোই তো স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে করেছিলেন। এবারেরটাও নাহয় তেমনটাই করুন। কেউ কেউ সোশ্যালমিডিয়াকে দোষ দিচ্ছে, তাদের বলি যখন সোস্যালমিডিয়া ছিলনা তখন কি এই ধরনের হানাহানি হয়নি! আসলে পেটোয়া মিডিয়া যখন যার খায় তার মানমত খবর সম্প্রচার করে। সোস্যালমিডিয়া যেমন দ্রুত গুজব ছড়ায় তেমনই তেতো সত্যিটাও প্রকাশ্যে আনে পরমুহুর্তেই। কই একটা রক্ত চেয়ে কোনো পোষ্টে স্বঘোষিত সমাজরক্ষকদের আতসকাঁচ দিয়ে খুঁজে পাওয়া যায়না।    
ভার্চুয়াল বলে আদতে কিছু হয়না, বস্তু পৃথিবীতে বসেই আমরা হাওয়াতে ফানুশ ওড়াচ্ছি, আদপে ব্লক করা যায়না কাওকেই, ওটা উটপাখির মত বালিতে মাথা গুজে নেওয়ার নামান্তর। আমাদের দেশে গননন্ত্র নেই এটা প্রজাতন্ত্র, তাই রাজা আর প্রজার বিস্তর প্রভেদ। এদেশে পাই টু পাই মুল্য চোকাতে হয় নিজেকেই
মূল সমস্যাটা হচ্ছে দেশের যুবসমাজে, কর্মসংস্থান না থাকাতে বেকারের সংখ্যা হু হু করে রোজ বৃদ্ধিপাচ্ছে। যারা পুঁথিগত ভাবে অশিক্ষিত, আর যাই হোক তারা অন্তত বেকার নয়, মোট বয়েও রুজিরোজগার করছে। এদের কাছে জিওর ফ্রির নেট বড় জোর পানু আর নতুন গান ডাউনলোড করতে লাগে। ফেবু টুইট্যার এদের দুনিয়া নয়। সমস্যা তাদের নিয়ে, যাদের পেটে ভিক্ষার ঝুলিতে থাকা কাঁড়া চালের মত একটা ধারাপাত আর আর্ধেক পর্ণপরিচয় আছে, থুরি ওটা বর্ণপরিচয় হবে। এরা কাঠ বেকার, নিজের বাপ-মা এদের উপরে ভরষা করে বাড়ির সবজির বাজারে পাঠায়না, অন্যে এদের কি কাজ দেবে? বাইরে গিয়ে বাতলামো বা মাতলামো করলে নিশ্চিত ক্যালানি, আবার ভদ্রসমাজের আলচনাও এদের এন্টেনাতে নোসিগন্যালএদিকে মুহুর্মুহ বিজ্ঞাপনের হাতছানি ও নেশার প্রয়োজনে দু পয়সার জন্য এরা মরিয়া। হাতে অগাধ সময়, যারজন্য সমস্ত মৌলিবাদী ও রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে এই বেকার যুবাদের দলই সফট টার্গেট। ভাল আর মন্দের ফারাক বোঝার জ্ঞান এদের নেই, তাই অধিকাংসই অজান্তে এদের ফাঁদে পা দেয়। এদের কারো নাম জামাল কারো নাম তারক। অথচ জামালের বাড়ির দুধটা সমীর ঘোষই দিয়ে যায়, আবার তারকের বাড়ির সস্তা সব্জিটা মনসুরের জমির। এক্ষেত্রে কারোর জাত যায়না। যেমন মিয়া খলিফা বা সানি লিয়নের ভিডিও ক্লিপিংসের জাত নেই।
এখনও দাঁড়িয়ে মুতলে যাদের ১ ফুট দূরে ফেলার দম নেই, সোস্যাল মিডিয়াতে সব একেকজন জন সিন এর মত ফুটখানেক লম্বা লিঙ্গওয়ালা পুরুষ ভেবে জ্বালাময়ী সব পোষ্ট বা মন্তব্য করে। সৌভিক না কি যেন নাম, কাল নামটা সামাদ হতে পারে, পরশু অরুন বরুন, বাবর, শুকুর যে কোনো নাম হতে পারে। তালিকাটা রোজ লম্বা হচ্ছে। এদের পরিচয় এরা বেকার, হ্যাঁ ছাত্র হলেও তারা ছাত্র হিসাবেও তলানি শ্রেণীর। এরা সকলেই আভা টেলর, দিলো হার্পার, সিডনি কোল বা স্তোয়ার একনিষ্ঠ ভক্ত। ভক্তি রসে না হলেও খেয়ালি চুলকানি রসের প্রকোপে, বিকৃত ধর্মস্থানের বা ধর্মগুরুদের ছবিগুলোও মোফোস থেকে পানু ডাউনলোড করার ছলে ফেবুতে শেয়ার বা আপলোড করে দিয়েছে। রেন্ডিয়া, ফাকিস্থান বা কাংলাদেশীও ট্রলগুলোও এরাই বিপণন করে সযত্নে।  ভাবুন আমরা বাড়িতে বউ এর ক্যালানি পীড়িত মানুষ, কিম্বা বউ পিটিয়ে বিল্পবী। নিজে ইজের নিজে রক্ষা করতে পারিনা প্রায় সকল ক্ষেত্রে, আমরা সমাজকে রক্ষা করতে পারিনা, আমরা ধর্মকে কিভাবে রক্ষা করব? আর যে ধর্মকে কয়েকজন মানুষকে রক্ষা করতে হয় সেটা অদৌ ধর্ম?
সোস্যালমিডিয়াতে সবচেয়ে বেশি পোষ্ট ও কমেন্ট করেন তরুণ প্রজন্মের গবেষক ও শিক্ষকেরা। তারপর অন্যান্য চাকুরিজীবিরা, বাকি পেশাদারেরা এদের অনেক পরে। যারা আক্ষরিক অর্থে গতর খাটিয়ে তাদের সময় হয়না এই সব আতিসায্যের। অথচ কিছু শিক্ষক ও উচ্চশিক্ষিত (!) মানুষজনই লাইক আর কমেন্টের লোভে বিদ্বেষ বিষকে ক্যান্সারের মত ছরিয়ে দিয়ে মজা লোটেন। যাবতীয় অপপ্রচারের উস্কানিমূলক ট্রল বা ভিডিও গুলও এদের তৈরি। অধিকাংশই সংগঠিত মৌলবাদী সংগঠনের অদৃশ্য অঙ্গুলিহেলনে বাকিটা নিজ দুরভিসন্ধিতে। আর সেগুলোকে অবশিষ্ট অকর্মা শেয়ারবাজদের দল শেয়ারবাজারের সূচক বাড়বে মনে করে যা পাই সবের সাথে এগুলোও নির্বিচারে শেয়ার করে চলে। এই সকল শিক্ষক তথা শিক্ষিত(!) অ-মানুষদের থেকেই সবার আগে নিজেদের বাঁচাতে হবে, কারন এরা আসলে মাতুল বীর্যজাত জারজ। প্রতিদিন প্রতিনিয়ত এরাই স্লিপার এজেন্টের কাজ করে চলেছে, আর সমাজের সেই বেকার অর্ধ শিক্ষিত অংশকে হিংস্র করে তুলে হানাহানিতে ঘৃতাহুতি দিচ্ছে। এদের রঙিন মুখোশের আড়ালের কদর্যরূপটা অবলোকন করা অত্যন্ত দুরূহ কিন্তু অসম্ভব নয়। সবার আগে এদের বয়কট করুন।
তাই 'না' বলতে শিখুন।
ঠাকুরের মুর্তির মাটি কি হিন্দুর জমিরই হয়? কবরের ছাওনির বাঁশও কি মুসলমানের ঝাড়ের? মন্দিরে মসজিদে যে ধুপকাঠি জ্বলে সেগুলোর বানানেওয়ালারা কি সকলে স্ব স্ব জাতের? মাজারে বা মন্দিরের ফুলফুলো কি সব নিজ নিজ ধর্মের গাছের? কোন গাছের কি ধর্ম? ধুতি নামাবলী কি জোলারা বোনেনা? বোরখা বা কাফনের সুতো মুসলমানের তৈরি? হাসপাতালের বেডে শুয়ে কোনোদিন ডাক্তারের জাত শুধিয়েছেন? ছেলের স্কুলে কোন হিন্দু প্রথম হচ্ছে বলে আপনি হিন্দুবীর কখনও কি নিজের ছেলেকে বলেছেন - " না বাবা তোমার ফার্স্ট হয়ে লাভ নেই, তোমার হিন্দু ভাই ফার্স্ট হচ্ছে তো"আপনি তো মুসলমান, আর ইসলামে কোনো সাবকাষ্ট নেই বলেই জানি। তাহলে চাকরিতে সুবিধে পেতে OBC সার্টিফিকেটের জন্য যখন আবেদন করলেন তখন আপনার জাতিসত্বাতে কি কন্ডোম লাগিয়ে রেখেছিলন?
আপনার কি আছে একা লড়ার দম এই সংগঠিত মৌলবাদের বিরুদ্ধে? RSS হোক বা সিমি বা আধুনা জামাতপুষ্ট একটা অংশ, এরা ISIS বা তালিবানি দের ভারতীয় এডিশন, যাদের রাষ্ট্র পুষে রেখেছে জামাই আদরে নাহলে আপনি যদি প্রশ্ন করেন গঙ্গা প্রকল্পের টাকা কোথায়? বা এতো কৃষি বাজার করে কি বা কার লাভ হয়েছে! নায্যমূল্যের দাম কতটুকু চাষী নিজে পাচ্ছে! নোট বাতিলের সুবিধা কি হল! ক্লাব উন্নয়নের টাকা বিলি চার বছরে পড়ল, কটা যুব এথলিট আবিষ্কার হয়েছে! আসলে এই সরকারগুলো ঢক্কানিনাদের মধ্যদিয়ে অধিষ্ঠান লাভ করেছিল, পলেস্তারা খসতেই কুৎসিত কাঠামো গিলে খেতে আসছে বোকা জনগনকে। সেই আদি অনন্ত থেকেই এদের কোনো নীতি নেই, দাঙ্গা বা সামাজিক বিভেদ সৃষ্টির মাঝেই এদের অস্তিত্ব, যেমন গলা পচা স্থান ছাড়া ছত্রাক জন্মেনা তেমনই ঘৃণা আর হিংসা বিনে এরা ক্ষমতা পায়না, এদের সংবিধান গোয়েবলসীয় তত্ব। আমরা পাঁঠা জনগন, আমাদের সম্বল শুধু গাণ্ডেপিণ্ডে গেলার জন্য চামড়ার গলা  আর হাগার জন্য নধর পাছা; যেগুলো বলি ও মারার জন সদাই উন্মুক্ত। ওরা ঠান্ডা মাথার ক্রিমিনাল, আমাদের পাছা মেরে নিজেদের আখের গোছায়, আমরা মারিয়ে মৈথুন সুখ ভোগ করি। দুপক্ষের মিউচুয়াল বোঝাপড়া , দু পক্ষই খুশি।
আমরা কবে 'না' বলতে শেখার মত সাবালক হব?
কখনও সমুদ্রগড়, দেগঙ্গা, কখনও কালিয়াচক, কখনও ধুলাগড়, কখনও চন্দ্রকোনা রোড তো এবারে বাদুরিয়া বা বসিরহাট। বরকতির ঘরে কি আগুন জ্বলেছে? দীলিপ ঘোষ বা তপন ঘোষ কি পালিয়ে বেড়াচ্ছে? ইদ্রিশ আলী বা হাজি নুরুল কি কোর্টে চক্কর কাটছে? না কাটছে না। এরা সকলে বহাত তবিয়তে আছে। নেতা, নেতা থেকে কাউন্সিলর,সেখান থেমে MLA MP হয়ে মন্ত্রী হওয়ার ধাপ গুলো টপকে এরা ক্ষমতা ও সম্পদের চুড়োতে। ভাবুন একটা জাতীয় রাজনৈতিক দল কতটা শয়তান হতে পারে আর রাজ্যের ক্ষমতাশীল দলের নেত্রী সেই শয়তানির পালে হাওয়া লাগাচ্ছেন। উপায় নেই তার গোটা দলের সর্বাঙ্গ যে দূর্নীতির পাঁকে ডুবে।
রাজ্য ও তার প্রশাসন আসল ঘটনা পাস কাটিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তেনার মান অপমানের প্রশ্নে। সত্যিটা কে বলবে? এই শুভেন্দুই প্রকাশ্য মঞ্চে শিরা ফুলিয়ে বলেছিল আনন্দ দেখবেননা। সত্যিই এরা একজনও বিন্দুমাত্র বিশ্বাসযোগ্য? চ্যানেলের কথায় মনে এলল, অর্ণব গোঁসাই নিজেই একটা খুলে ফেলেছে ঘৃনা আর বিদ্বেষ বেচে, আর সেগুলো আমরাই খেয়েছি। তাহলে এই বিদ্বেষ পন্যটাকে অন্য ব্যাবসায়ী লোকেরা কেন ব্যাবহার করবেনা? আপনার রক্ত ঝরুক বা ধনেপ্রাণে শেষ হন, ওদের ঝুলি ভরে উঠছে, ওটা ওদের রাষ্ট্র স্বীকৃত ব্যাবসা। আজ একটা গোঁসাই, কাল দশটা গোঁসাই সাথে পাঁচটা ওয়াইসির আঙুল ফুলে কলাগাছ হবে, ওরা লড়িয়ে দেবে। কেলাকেলি ফাটাফাটি করার জন্য আমাদের মত আমোদগেঁড়ের দলেরা তো আছিইএর পরের এপিসোডের জন্য বাবা হামিদেব আছেনই, চোখে স্বদেশাঞ্জলীর এমন লেপ লাগিয়ে দেবে যে, আচ্ছেদিন আর উন্নয়নের জোয়ার ছারা কিচ্ছুটি দেখবেননা।
আজকে রাষ্ট্রে ধর্মের দোহায় দিয়ে খুনখারাপি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটা একটা কেন্দ্রিয়ভাবে সুনিয়ন্ত্রিত দীর্ঘমেয়াদি ধারাবাহিক কৌশল। যে খুন হল সে এবং তার পরিবার তো উচ্ছন্নে গেলোই, যারা মারল থানা-পুলিশ-কোর্ট-জেলের চক্করে তারা নিজেরা ও তাদের পরিবার গুলোও শেষ। ভারতের সংবিধান কি ধর্ম দেখে আজ পর্যন্ত কাওকে রেহায় দিয়েছে? তাহলে কার লাভ হয় এই দাঙ্গা হাঙ্গামাতে? বরবাদি ছাড়া অন্ধ ধর্ম বিশ্বাস থেকে কি সুফল পেল সেই ধর্মযোদ্ধার দল ও তাদের পরিবারগুলো?
আমাদের কি উন্নতি হয়েছে? বরং গোপোনাঙ্গের দাদ হাজা আরো ছরিয়েছে চুলকানির প্রকোপে। কিছু বুদ্ধিজীবী, ফেসবুকের স্বঘোষিত লেখক, কবি, ছবিওয়ালা, আমলা, ফলোয়ারের গামলা, ঝিঙ্কু মামনি, সামাজিক রক্ষাকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রিয় পেজের মালিক, গ্রুপের এডমিন এমন সব বৃহন্নলার মত পোজ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি যে দেখে বোঝে কার সাধ্যি ইনি কোনদিকে! এরা এমন ভয়ানক যে, যেকোন সময় পালটি খেয়ে বিয়েতে শ্রাদ্ধের মন্ত্র পড়তে শুরু করে দেবে।
আপনারা যারা ধর্ম নিয়ে বিপ্লব করলেন, অদুর ভবিষ্যতে শহীদ হবেন, সর্বসান্ততে দৃঢ়সঙ্কল্প, তাদের শুধাচ্ছি, একটা নাম কারো মনে আছে হে বুদ্ধিমান জ্ঞানী বন্ধুরা, যিনি গত গতবছরে আপনার পূর্বসুরী ছিলেন?? তাহলে কিসের জন্য এই রগরগে তাপ উত্তাপ?
এটা সতী সেজে থেকে পলিটিক্যালি কারেক্ট উত্তর দেবার সময় নয়। পরিষ্কার পক্ষ নিতে হবে সমাজের স্বার্থে, রাজ্যের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে আমার আপনার পরিবার পরিজনের স্বার্থে। হয় মানুষের দলে নতুবা ধর্মীয় উন্মাদের দলে। আপনি ধার্মিক! কোন ধর্মে আপনি দিক্ষিত? যেখানে সহনশীলতার কথা নেই, যদি সত্যিই না থাকে তাহলে ধর্মের গোঁড়া থেকে ধর্মকে মূল্যায়ন করুন। যে ধর্ম অন্যকে সম্মান করতে শেখায়না তাকে কন্ডোমে ভরে কমোডে ফ্লাশ করে দিন। যারা গো সন্তান বা যাদের দাড়ির ডগাতে ধর্ম দোল খায় তাদের পরিষ্কার ভাষায় বলে দিন- আমি তোমার দলভুক্ত নই- আমি মানুষ।
যে ধর্মই হিংসার আঁচে হাওয়া দিকনা কেন, "মানুষ" এর দল রুখে দেবে।
এখনই সজাগ হোন, নাহলে আর সুযোগ পাবেননা। গরু, শুয়োর, পীর, মৌলানা, ফতোয়াবাজ মোল্লা, রাম, বাম, ভাম, ছাগু, চাপাতি, মক্কা, অযোধ্যা, মোদী মমতা, দীলিপ, সেলিম, ইদ্রিশ আলী,..... একদিন রোজগার না থাকলে এরা কেও খাওয়াবেনা আপনার পরিবারকে।
আপনি আজ মরলে কাল দুদিন। সপ্তাহ ঘোরার আগেই পরিজনেরা দোরে দোরে ভিখ করে বেরাবে। মৃত্যু পরবর্তী অধ্যয়ের অদেখা সুখের লোভে, জীবিত কালটাকে জাহান্নাম বা নরক বানিয়ে ফেলবেননা দয়া করে। আপনি নাহয় বৈকুন্ঠধামে ইন্দ্রদেবের পারিষদ হয়ে অপ্সরীদের নাচ দেখবেন সুরাপাত্র সহ বা জান্নাতে ৭২ টি হুর নিয়ে লুডো খেলবেন বিনা রকেট ক্যাপসুলে।
এদিকে আপনার বিধবা বৌ বা কুমারী মেয়েকে জাপানী তেল দিয়ে প্রতিদিন সাতবেলা নরক দর্শন করাবে যোনীপথ বেয়ে। আনন্দের বিষয় হল যোনীর জাত হয়না, ওখানে হিন্দু, মুসলমান, আদিবাসী, সাদা, কালো চোর, সাধু, আস্তিক, নাস্তিক সকল লিঙ্গের অবাধ প্রবেশ। ওখানে একটাই ধর্ম, সেটার নাম টাকা। তাহলে কোন ধর্মের জন্য এতো লড়াই বিপ্লবী বন্ধু?
আপনি নিশ্চই স্বর্গ সুখ পাচ্ছেন এগুলো পড়ে? অবশ্যই পাবেন, কারন আপনি ধার্মিক লোক বটে।
ধার্মিক পরিচয়কে ঘরের সর্বোচ্চ পবিত্র আসনে তুলে রেখে, একবার সাহস করে বলুন আমি "মানুষ"
দেখবেন শান্তি খুঁজতে ধর্মযাত্রা করতে হবেনা, নিজের পাড়া, নিজের মহল্লা, নিজের দেশেই সর্বপরি নিজের অন্তরের মধ্যেই ইশ্বর-আল্লাহ-রামকে খুঁজে পাবেন।

সদা সতর্ক থাকুন, অজান্তেই হয়ত আপনি বা আমি পরবর্তী ভিক্টিম।
@উন্মাদ হার্মাদ 

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...