সোমবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

।। ক্ষানিক্ষনের বাচ্চাদের বীরত্বঃ গেরুয়া সন্ত্রাস ।।

ভোটের রাজনীতির জন্য স্বদেশীয়ানার মোড়কে গেরুয়া সন্ত্রাস।
**************

কাশ্মীরে লাষ্ট ৪ বছর বিজেপি ক্ষমতাতে ছিল, বর্তমানেও জম্মু কাশ্মীরে রাষ্ট্রপতি শাসন চলছে।
এই হামলার দায়ভার কে নেবে? ব্যার্থতা কার?
"১০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ সালে একটা সেনা জঙ্গি সংঘর্ষে আলতাফ আহমেদ নামের একজন এনকাউন্টারে মারা যায়, সেই দিন সেনার হেফাজতে যে জঙ্গিটি জীবন্ত ধরা পরেছে বলে সেনার তরফে বিবৃতি দেওয়া হয়- তার নাম আদিল আহমেদ দার। কাশ্মীর টাইমসে এই নিউজ ফলাও করে ছাপা হয়েছিল।"
তাহলে আদিলকে ছেড়ে দিল কে? কেন? কিসের স্বার্থে? জাতিকে জানানো হয়েছিল? আর সে যদি আর্মির হেফাজতেই থাকে তাহিলে আত্মঘাতীটা হল কে? আমাদের মত ছাপোষা মানুষেরা জানতে চাইবোনা?
সত্যটা কি?
।কেন দেশের সুরক্ষাপ্রদানকারীদের সুরক্ষা এতো নড়বড়ে? কেন তাদের প্রান যাবে এমন মুড়িমুড়কির মত?

চলুন লাভ ক্ষতির হিসাব করি।
এই সুপরিকল্পিত নারকীয় সেনাবাহিনীর হত্যালীলাতে একমাত্র কার কার বা কাদের লাভ?
লাভ দু ধরনের, তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি।
নিশ্চিতভাবেই এটা পাকিস্থান পোষিত জঙ্গিগোষ্ঠীর দ্বারায় হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী ভাবে পাকিস্থানের কাশ্মীর দখলের ঘৃণ্য প্রচেষ্টা, তাদের লাভ।
কিন্তু তাৎক্ষণিক ভাবে?
একমাত্র বিজেপির লাভ।
যুদ্ধ পরিস্থিতি বাঁধালেই অস্ত্র কেনার জন্য বিপুল টাকা জাতীয় কোষাগার থেকে বরাদ্দ করতে পারবে, বিরোধীরাও কিচ্ছু ট্যাঁ ফোঁ করতে পারবেনা।
যুদ্ধ পরিস্থিতি বেঁধে গেছে, অতএব এই আবহে বেশ কিছু অস্ত্রের ডিল হয়ে যাবে আমেরিকা পিতার সাথে। এমনিতেই আমেরিকা অর্থনৈতিক ভাবে দেউলিয়া, তার উপরে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করে মেক্সিকোর পাঁচিলের টাকা যোগারে ব্যাস্ত। "ভাজপা সারকার" সেই টাকার বন্দবস্ত করতে ব্যাস্ত।
৪৪টা নয়, ৪০০টা হলেও লাশ ফেলে দেবে বিজেপি সরকার। তাই জঙ্গিহানার আশঙ্কাজনিত গোয়েন্দাদের রিপোর্ট সত্বেও কোন সুরক্ষামূলক সাবধানতা নেয়নি।
এই মৃত্যু মিছিলে একমাত্র ভাজপার লাভ, ভোটের আগে বিপুল কাটমানি পাবে অস্ত্রের ডিলারদের কাছে। ওই টাকা দিয়ে ভোটের বাজারে সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়ানো যাবে। দেদার খরচা করবে।
চুরান্ত দেশপ্রেমের ফেনাওঠা বিজ্ঞাপনে রাফাল দুর্নীতি চাপা পরে যাবে। ভারন এটা দেশের অখন্ডতার প্রশ্ন তাই প্রশ্ন করা যাবেনা, রাজনীতি করা যাবেনা। একটা অতি দূর্বল সরকারের বাঁচার জন্য যাবতীয় রসদ এই হামলাতে লুকিয়ে যাছে। চোর চৌকিদার আবার মসিহা রুপে আবির্ভূত হতে চায়।
*********

নিকৃষ্টতা যে দলের পোষাক- 
ভক্তোদল তাদের নাম। ধ্রুব সাক্সেনা বা বলরাজ সিংকে আমরা চিনিনা ধরে নিয়ে এ লেখা পড়বেন।

জম্মু-তাওয়াইতে আরামসে তৎকাল বুকিং মিলছে, এবিং কোলকাতা থেকে রোজই ছাড়ছে। এটা জনস্বার্থে প্রচারিত।
এবার আসল পালাতে আসিঃ- কাঁচা বোদ্ধা ভাষাতে।
আজ মুডটা খুবই খারাপ। আজও ওই পুলওয়ামাতেই ৪ জন সেনা শহীদ হলেন। কেন আজও কোনো বলার মত পদক্ষেপ নিলনা, আমাদের আর্মি কোন অংশে কমা.? চারটে চুনো জঙ্গির জন্য ১৪ লক্ষ সেনা সমৃদ্ধ একটা দেশের সরকার বিধবার মত বিহ্বল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে?
কোথায় মোদীজির সেই ফুটানি মারা ডায়লোগবাজি, স্মৃতি ইরানির চুড়ি? বাকি জীবজন্তুগুলোর নামও মনে থাকেনা যে লিখব।
জবাব দাও, কেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেশটার ছেলের ব্যবসায়ী পার্টনার একজন পাকিস্তানি? দেশের সুরক্ষার গোপন তথ্য নিয়ে ব্যাবসা হচ্ছেনা তো?
কেন বিজেপি ক্ষমতাতে এলেই জৈশ নামের পশুরা জেগে উঠে? কার স্বার্থে এদের সমূলে ধ্বংসের এজেন্ডা নেওয়া হচ্ছেনা। মেনে নিলাম কংগ্রেস কিচ্ছু করেনি, ৫ বছরে তোমরা কি আঁটি পাকিয়েছো? সবচেয়ে বেকারত্ব বেশি, সবচেয়ে বেশি সেনা আত্মহত্যা করেছেন ও শহীদ হয়েছেন।
উরি, পাঠানকোট থেকে কোন শিক্ষা গ্রহন করেছিলেন?
ভাবছিলাম খিস্তি দেবনা, পাকিস্থানীদের দালাল ডোভাল নামের বেশ্যার বাচ্চারা যদি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রক হয়, সর্বত্র এর ফেলিওরের ইতিহাস, তাও পদে বহাল আছে। এর সাথে আছে মোদীজির জুমলা- সেনাবাহিনী করবেটা কি?
কফিনের টাকা চোরেরা রাফাল থেকে দালালি করতেই ব্যাস্ত ছিল। সময় কোথায় সেনার জন্য ভাবার?
দেশপ্রমের কাজল পরিয়ে, ভক্ত গুলোকে বোকাচোদা বানিয়ে রাখা যায়, যেমন জান্নাতের লোভে চুতিয়াগুলো মানববোমা হয়ে যায়। জন্মের ইতিহাস অনুযায়ী- এদের গাই এক শুধু ষাঁড় গুলো আলাদা আলাদা।
নির্লজ্জ পশুর দল এখনও ভোট চাইছে কেউ, কেউ বলছে মন্দির ওহি বানায়েঙ্গে, কেউ দাঁত কেলিয়ে র‍্যালি মারাচ্ছে, কেউ সেলফি তুলিছে, কেউ তো আবার নাচছে। এদের মুখে পেচ্ছাপ করে দিলে তবে দেশমাতৃকার প্রতি সঠিক সম্মান করা হবে। ওরে চুদির ব্যাটারা মাত্র ২-৩ ঘন্টা আগে দেশের মাটিতে সবচেয়ে ভয়াবহ আঘাতটা এসেছে। আমাদের সেনাদের লাশ বারুদের সাথে দলা পাকিয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে- এরা কেউ ঘোষিত প্রোগ্রাম বন্ধ করেনি। কতবড় সাহস এদের?
কিছু ভাড়াটে টাট্টু দিয়ে সোস্যাল মিডিয়াতে বাজার গরম করতে চেয়েছিল, আর আমাদের সেই উদগান্ডু ভক্তের দল "বাপ বলেছে চুদির ভাই, আনন্দের আর সীমা নাই" করতে করতে- আত্মলিঙ্গম পশ্চাদপুরম করে মোদীর ভাইয়েরা হো হো করে দেশপ্রেমের ন্যাকাকান্না কাঁদতে বসেছে। সারা বছর কোথায় থাকে দেশপ্রেম? পারেনা মারাতে উঠে রাত থাকতে। পাড়ার নীরিহ মুসলমানটাকে মেরে, রোগা পটকা প্রশ্নকারী ছেলে মেয়েটিকে ধমকে, পাবলিক সেমিক করে, শুয়োরের মত দল বেঁধে আক্রমন করে, একটা মেয়ের বাড়িতে হামলা করে, কাওকে কমরেন্ডি বলে, কিম্বা শালোয়ালা কাশ্মীরিটার দোকানে আগুন লাগিয়ে দেশপ্রেম চোদাচ্ছে।
কারন? লাশ দেখিয়ে দেশপ্রেম বেচতে হবে। ক্ষমতাতে আসতে হলে লাশ চাই। লাশের উপরে দাঁড়িয়ে ধর্মীয় মেরুকরন করে ভোট ভাগাভাগি করে দাও। যত তোরা চেষ্টা করবি, তত ন্যাংটা হবি। বিকাশের মাকে বিজেপি সরকার পাহাড়গঞ্জের গলিতে বেচে দিয়েছে, রামমন্দির হয়নি, নোটবন্দি, GST ফেলিওর, বেকারত্ব, কৃষক আত্মহত্যা, রাফাল দুর্নীতি সহ দুর্নীতির পাঁকে নাক পর্যন্ত ডুবে, কিসের ভিত্তিতে ভোট চাইবে? অতএব লাশ লাও। যাতে গেরুয়া সন্ত্রাস চালানো যায়।
চীন দেশ থেকে হাজার হাজার কোটির মুর্তি বানিয়ে পায়ের গোঁড়াতে ইউনিটি মারাচ্ছেন, অথচ সেনাদের বাহন হিসাবে সেই লজ্ঝরে আদ্দিকালের বাস। কোনো উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা নেই, যা বিস্ফোরণ প্রতিরোধক। শিবাজী আর প্যাটেলের মুর্তি দিয়েই রো জঙ্গি নিকেশ হবার কথা। কারন ৫ বছরের শাসনাকালে ওইগুলোই বানিয়েছেন। আর দেশের সেনাবাহিনীকে বাপত্ব সম্পত্তি হিসাবে বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করেছে ভোটের মাঠে।
শুয়োরের বাচ্চারা। দেশপ্রেম চোদাচ্ছে। নিজেরা হেলিকপ্টার ছাড়া কোথাও যায়না, সেনাদের পাঠায় বাসে? সামান্য এয়ারপোর্টে একটা নেলকাটার নিয়ে যেতে দেয়না, ৩০০ কেজি RDX বাল ছিড়ে চলে এলো? বলে রাজনীতি করবেনা, মুখে মুতি তোদের যারা এই কথা বলে। আখলাকের ব্যাগে মাংস খুজে পেয়ে যাস, কানাইয়ার দেশদ্রোহী খুঁজে পাস। খাগড়াগড় হলে মমতা মমতাজ হয়ে যায়, আজ রাজনীতি হবেনা? বাঞ্চোতের দল, কার গাফিলতিতে আমাদের মায়ের কোল খালি হল?
বাঁদির বাচ্চারা লেগে গেছে- ফেসবুকে কে কি লিখছে তার গাঁড়ে লাগতে। বাল ছেঁড়ার মুরোদ নেই - হোল ধরে টানাটানি। আর দুমাস, ফেসবুকে এই ঘৃনার চাষের বদলা আগে নেওয়া হবে, গুনে গুনে। নাগপুরের বাবারা তোদের আগে পিঠটান দেবে।
ধরে নিলাম সত্যিই কেউ দেশবিরোধী লেখা লিখেছে- হতেই পারে। কারন দেশের ভিতরে বিভীষণ আছে বলেই না বাইরের শত্রুরা সুযোগ পায়। কিন্তু এই বাঁদিরবাচ্চা চাড্ডিগুলোকে কে দায়িত্ব দিয়েছে, সমস্যা হলে পুলিশে যা, কোর্টে যা। ভারতীয় আইন ব্যবস্থাতে ভরসা নেই বন্ধু? হাম হ্যায় শের বলে দল বেঁধে হামলা? জায়গা মত পরলে, গাঁড়ে শুধু বাঁশ নয়, গোটা ঝাড় শুদ্ধু ঢুকিয়ে দেবে। গুনে গুনে সব কটার,। মনে রাখবি, এটা বাংলা- গোবলয় নয়।
শৌর্য ডোভাল, আদানী, আম্বানীদের দেশপ্রেমের পরিক্ষা দিতে হয়না, যখন তারা সরাসরি মধু খাচ্ছে সে দেশে ব্যবসা করে। আর ছাপোষা কোনো কলমচি, সরকারকে দু লাইনের প্রশ্ন করলেই সে দেশদ্রোহী। তোদের মায়েরা কি গাছে চড়ে নাঙ করে তোদের জন্ম দিয়েছিল??
Purandar Bhat এর পোষ্টে জানলাম, ১০১টা পেজ আর নিউজ পোর্টাল বানিয়ে রেখেছে, প্রোপাগান্ডা ছড়াবার জন্য। "হিন্দুত্ব" চাড় আর খাচ্ছেনা দেখে- নলেজ, রসিক বাঙালি ইত্যাদি নামে রাগমোচন করছে ইন্ডিয়ারাগ নামের সন্ত্রাসী ভার্চুয়াল সংগঠন। যারা সমাজে জাতি দাঙ্গা লাগাবার তীব্র প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মর্কটের বাচ্চারা এগুলোকেই নির্বিচারে শেয়ার করে যাচ্ছে।
৩টে দিন চলে গেল, একটা সংখ্যাগরিষ্ঠ স্থিতিশীল সরকার কি করেছে?
১) সিধুকে কপিল শর্মা শো থেকে তাড়িয়েছে।
২) পাকিস্থানের পতাকা পুড়িয়েছে।
৩) RSS প্রতিবারের মত নাগপুর থেকে মুখ দিয়ে পেঁদেছে।
৪) T series পাকিস্থানোদের ভিফিও সরিয়ে নিয়েছে
৫) D sports আর রিলায়েন্স এন্টারটেনমেন্ট ক্রিকেট প্রদর্শনী বন্ধ রেখেছে।
৬) দু চারটে সাইট হ্যাক করেছে
৭) আর?

কাজের কাজ এর বেলায়- বাল ছিঁড়েছে
যেন জঙ্গিগুলোর গান শোনে বা ক্রিকেট দেখে। আর গান, ক্রিকেট আর পাকিস্থানী শিল্পী ক্যালালেই সব সমস্যার সমাধান হবে মন্ত্রের মত। তোদের কোন ডাক্তারে চিকিৎসা করে ভাই?
গোটা দেশ যখন রাগে, প্রতিশোধের আগুনে ফুটছে, বালবেটারা জনসভা মারাচ্ছেন, ট্রেন চোদাচ্ছেন।
তারা অপেক্ষা করছে- কবে শ্রীজাত কবিতা লিখে প্রতিবাদ জানাবে। পালটা প্রশ্ন করছে কবে নাসিরুদ্দিন শাহ বা আমির খান নিন্দা করবে। ওরে গুদ্মারানির ভাইয়েরা, এরা কিছু না বললে আমাদের সেনাদের রক্ত মিথ্যা হয়ে যাবে?
বেশি ক্যালোয়াতি না মেরে, অবলা নিরন্ত্রের উপরে হামলা না করে, সীমানে হাফপ্যান্ট পড়ে খাঁড়া হয়ে যাও। হোমিওপ্যাথিক শিশির মাপের পুরুষাঙ্গ আর ফলসার সাইজের বিচি নিয়ে বাতেলা করা যায়, যুদ্ধ নয়। আমাএ কি সাইজ এর পরেই জানতে চাইবি নিশ্চই? ইনবক্স কর, ছবি পাঠিয়ে দিলে অর্গাজম এসে যাবে পাক্কা। নিজেরা নুনু ধরে ঠিক করে মুততে পারেনা, হাফপ্যান্ট ভিজিয়ে ফেলে- এরা আবার নাকি ইনসাস/এসল্ট ধরবে। ফোঃ
কাঠ ক্যালানি দরকার এই দেশপ্রেমের ঠিকাদারগুলোকে, ভোটের বাজার গরম করতে- মেকি দেশপ্রেমের গ্যাঁজলা করলে রাস্তায় ফেলে ক্যালাবো ভক্তরুপী ছালগুলোকে। এরা ঠিক করবে কে দেশে থাকবে আর কে দেশদ্রোহী!! বাঞ্চোতের দল আগে বাপের খোঁজ কর- কার চোদনে তোদের জন্ম- ষাঁড় বা মর্কট। তারপর দেশপ্রেমিক সাজবি। ফেসবুকে চারটে তেরে গেলি দিয়ে দেশপ্রেমিক হলে আজ থেকে আমি তোদের বাপ।
কাশ্মীর সমস্যা অনেক গভীরে, আমি আলোচনাতেই ঢুকছিনা, পাকিস্থানের মদতেই যখন এগুলো হচ্ছে- আক্রমন করতে কার অনুমতির জন্য প্রতিক্ষা করছে? সেনাকে ক্ষমতা দিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী- সে কে ক্ষমতা দেবার? সংবিধান বদলে গেছে? কবে? কখন? রাষ্ট্রপতি তাহলে শুধু ২৬শে জানুয়ারির জন্য? এত সব নতুন নতুন অস্ত্র কেনাকাটা হচ্ছে দীওয়ালিতে ফাটাবার জন্য? কবে কাজে আসবে ওগুলো?
আরে মোদীজির বাতেলার জুমলা তো প্রমানিত, দলের নেতা গড়কিরীজিই সকাল সন্ধ্যা ধুয়ে দেন। সে বুঝে গেছে নিজের সেরা সময়ে ৩১% ভোটের প্রধানমন্ত্রী। এখন জামানত টুকু থাকবেনা।
আদানির ব্যাবসা গুটিয়েছে পাকিস্থানে? আম্বানীর লক্ষ কোটির প্রোজেক্ট? লে পাকিস্থানকে ব্যবসায়ের জন্য সেরা ঠিকানা দিতে বলেছিল? তারা আজ গাদ্দার হয়েছে? 
গুজরাটের প্রায় প্রতিটি সিন্ধি ব্যাবসায়ী পাকিস্থানে ব্যবসা করে, কেউ ঝাঁপ গুটিয়েছে?

রাষ্টের সাথে দেশের মানুষ আছে, চাড্ডির বাচ্চারা রাষ্ট্রকে RSS বিজেপির মাদারি গুলোর সাথে সমান করে দেবার চেষ্টা চালাচ্ছে।
১০০ বার প্রশ্ন করব, ভিডিওতে ওঠা প্রশ্ন গুলোর জবাব চাই। নাহলে এদের আস্তাকুঁড়ে ছুড়ে ফেলে দাও। ছড়ছড় করে মুতে দাও, অবশ্য গোমুত্র খাওয়ার অভ্যাস তো আছেই, নরমুত্রও নাহয় চেখে নেবে।
লজ্জা বোধ থাকলে, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন কর নিজেকে।
বালবেটারা এটা তোদের জন্য এক্সক্লুসিভ - যারা আমাকে কমেন্টে আর ইনবক্সে থ্রেট দিয়ে যাচ্ছিস লাগাতার। দম থাকলে সামনে আসিস, তোদের বাপ ষাঁড় বা মর্কট গুলোকেও গবনা করে দেব কাছে এলে।
যারা আমাকে চিনিস বা জানিস, তোরা আমার এক খেই বগলের লোম ছিঁড়ে দেখাস, জানব বাপের ব্যাটা। এখানে কুত্তার মত ভৌ ভৌ করবিনা। পারলে খোঁজ নিয়ে বাস্তবের মাটিতে কিছু করে দেখা। গাঁড়ে কন্ডোম লাগিয়ে পা ঢুকিয়ে দেব অন্যায়ভাবে কিছু করতে এলে। সেই মুরোদ আছে।
_______
জয় হিন্দ
বন্দেমাতরম 
RSS , জৈশ, পাকিস্থান মুর্দাবাদ। 
(একই থলের কাঁড়া চাল, নাম আলাদা শুধু)

রবিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

।। ... বিষাদরে ...।।

তুই আমার বড় আদরের ছিলি। ততোধিক আদরে তোকে একটা মিষ্টি উদ্ভট ডাকনাম দিয়েছিলাম। আমার অন্য সকল দেহাংশের সাথে, তোর আদর কোনো অংশে কম ছিলনা।
বড়কি আসলে আমার অবিভাবক বেশি। বন্ধু কম, আমার পরিপালক বেশি। সে কখনই প্রেমিকা ছিলনা, তাই হয়ত শাসন ছিলনা কিন্তু নিয়মানুবর্তিতা ছিল বা আছে পরিপূর্ণ রূপে।
তুইই আমার বন্ধু ছিলি, প্রেমিকা ছিলি। আমার অবসরের একমাত্র একমাত্র উপভোগ্য সাথী ছিলি। আমার যাবতীয় প্রগলভতা তোর কাছে গিয়ে শান্ত হয়ে চুপটি মেরে বসে থাকত, তোকে দেখবে বলে। তোর সাথে পৃথিবীর সব কিছু শেয়ার করতে করতে একদিন নিজেকেই তোর কাছে শেয়ার করে দিয়েছিলাম। তোর বুকে আশ্রয় নিয়েছিলাম, আমার যাবতীয় হারানোর শোক, অনুতাপ, সব তোকে জড়িয়ে ধরে ভুলে যেতে চেয়েছিলাম। তোর ওমে নিজেকে সেঁকে তোর প্রশ্বাসের বায়ুতে নিজেকে একটু একটু করে মুলস্রোতে ফিরে আসার শ্বাস নিচ্ছিলাম। আমার গোটা অস্তিত্বে শেষ আশ্রয়স্থল হিসাবে তোর মাঝেই ঘর বেধে ফেলার সিদ্ধান নিয়েছিলাম।
আমি বদরাগী, কুরুপ, কুৎসিত, মুখে অস্রাব্য গালিগালাজ, নেশা বাজ, মাগীবাজ,... বাতেলাবাজ কিনা রোগ ছিলনা আমার চরিত্রে-
তাও তোর কাছে আমি শিশুর মত উচ্ছলিত হয়ে কাছে যেতাম। তুই চরম ভালবাসা দিয়ে, চুরান্ত স্নেহের প্রশ্রয়ে আমার বদগুনগুলোকে শুষে নিয়ে সম্পূর্ণ মানুষ হবার স্বপ্ন দেখিয়েছিলি। তোর সহচর্য পেলে মনে হত, পরিস্থিতি যত প্রতিকুলই হোক, এর থেকে ঠিক ঘুড়ে দাঁড়াতে পারব, আমি পারবই, কারন তুই পাশে আছিস।
তোকে নিয়েই আমার নেশা করে দিন কাটত। কাজের সময়টুকু ছাড়া সারাদিনিই তোর ভাবনাতে বুঁদ হয়ে থাকতাম। কখনও তোর ভাললাগা মন্দলাগা আমি জানতে চাইনি, কারন তোর দিকে একটিবার চাইলেই আমি হিতাহিতজ্ঞান শুণ্য হয়ে যেতাম। ভালমন্দ সবই আপেক্ষিক লাগত। আমি যা অগোছালো- আর যে পরিমান চারত্রিকভাবে দুরন্ত, ওই প্রেমের পথে নিজেকে ব্যাক্ত করার মত সাহসী হয়ে উঠতে পারিনি কোনোদিনি। তাই ভালবাসি কথাটা সেই ভাবে আজকের আগে বোধহয় একবারও বলিনি।
বলিনি মানে ভালবাসতে কি খামতি রেখেছিলাম? কৃপণের ধনের মত জমা রাখা আমার অন্তরের সমস্ত ভালবাসা দিয়ে তোকে নিরন্তর স্নান করিয়ে দিয়েছিলাম ভাবনাতে, শরীরে, স্বপনে। ভীষন ঔধ্বত্ব অহংকারে সমাজকে ছোহঃ বলে এক চুটকিতে উড়িয়ে দিয়েছিলাম তেপান্তরে, যার আধার ছিল এক পৃথিবী গাঢ় সবুজ ভালবাসা। যা ছিল সমুদ্রের চেয়েও গভীর, অমাবস্যার অন্ধকারের চেয়েও গহিন, সোনার চেয়েও উজ্জ্বল, হীরকের চেয়েও কঠিন,..... ফেভিকলের চেয়েও মজবুত।
বড় অসহায় লাগছে আজ।
আজ আমি নিঃস্ব। তোকে হারিয়ে নয়, আমি আমার বিশ্বাস হারিয়েছি। আমার অপূর্ণ অশান্ত প্রেমকে হারিয়েছি। আমার আদর খুইয়েছি। বন্ধু খুইয়েছি। মধ্যরাতের সাথীকে খুইয়েছি, যাকে যা খুশি বলা যেত। আমার মননকে খুইয়েছি, যার সাথে ঘন্টার পর ঘন্টা যা খুশি তাই নিয়ে আলোচনা করা যেত।
আমি তোকে হারিয়েছি। হ্যাঁ, তুই ই ছিল আমার মনের কবিরাজ। সকল ব্যামোর জড়িবুটি।
জানিনা তুই কি হারালি, কিন্তু আমি সব হারিয়েছি। সারাজীবন চেষ্টা করলেও আমার যৌবনের এই ভালবাসা আর নতুন করে সঞ্চার হবেনা। যে ভালবাসাতে তোকে রঞ্জিত করে, আমি রাঙা হয়েছিলাম। আমার স্বপ্নেরা ভাষা পেয়েছিল তোর ওই মায়াভরা চাহনির অতলে তলিয়ে যেতে যেতে।
তোকেই আমি ভালবেসেছিলাম, বিষাদ বালিকা। মিথ্যে অভিমানই সব শেষ করে দিল।
বেসেছিলাম।
আজ ঘৃণা করতেও ঘৃণা হয়, নিজের উপরে- কেন তোকেই ভালবেসেছিলাম। তবে তোকেই ভালবেসেছিলাম এতে সন্দেহ নেই। তুই ছাড়া আমার যৌবনের ৭ টা বছর নিস্তরঙ্গ ঘটনাবিহীন।
তুই আমাকে ধোঁকা দিয়ে ঠিক করলিনা। ভালবাসার প্রতি এ এক চুরান্ত আঘাত। ঈশ্বরের আসনও টালমাটাল হয়ে যায়, এমন বিশ্বাসঘাতে, মিথ্যাচারে।
সব সময় কেঁদে, ঈশ্বরের দিব্যি দিয়ে তার আশ্রয়ে, চেঁচিয়ে জয় পাওয়া যায়না। ভালবাসার জন্য আমাদের কোনো শর্ত ছিলনা, শর্ত এসেছিল ঘর বাঁধতে চেয়ে।
এই শর্ত বাস্তবের দাবিকে মেনে ছিল। তুই আবেগকে ভালবাসার উপরে রাখলি ঘর বাঁধার পর থেকে গোটাটাই। তোর যাবতীয় মুগ্ধতার আবেশকে বিষাদ দিয়ে পিষে মেরে ফেললি। অচেনা হয়ে গেল আমার দেখা সেই প্রেমিকা। আমি হাঁতরে খুঁজতে খুঁজতে অনেক অনেক অনেক দূরে চলে এলাম। তুইও টের পেলিনা, কারন ভালবাসতে গিয়ে যাদের কথা কখনও ভাবনাতে আসেনি, ঘড় বাঁধতে গিয়ে "লোকেরা" তোর তাৎক্ষণিক পাওয়ার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ালো। তারাও যে আমাদের উভয়ের বড় ভালবাসার ও আদরের সেটা ভুলে গেলি, উন্মত্ত হয়ে উঠলি রিপুর আদিমতায়। আমিও ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হতে লাগলাম, পরিবর্তিত প্রেমিকার সাথে। কিন্তু পরিবর্তনের দ্রুততার সাথে আমার মনন সাথে সাথে ছুটতে গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়ল।
আমি আমাদের সংসার বাঁধার পর সবচেয়ে বেশি সময় ব্যায় করেছি - এমন এক ব্যাক্তির সাথে, যিনি একজন পুরুষ বন্ধু। অথচ ওখানে তোমার থাকার কথা ছিল।
আমার আদরের প্রেমিকা তখন আর আমার কাছে সব কথা বলার স্থান হিসাবে অজান্তেই বিশ্বাসযোগ্যোতা হারিয়েছে। আসলে শেষের শুরুটা ওই অফিসয়ালি ঘর বাঁধার সিদ্ধান্তেই সন্নিহিত ছিল।
আজ হারিয়ে খুঁজতে গিয়েও কালসিটে পাংশুটে বর্ণের কুটিল তোমাকে খুঁজে পাচ্ছি প্রতি পদে। আমাকে তীব্র যন্ত্রনা দিয়ে সেই তুমি তোমার উপস্থিতি ব্যাক্ত করছে, বিশ্বাস হীন প্রেমের এ যে কি করুন পরিস্থিতি- আমার চেয়ে কেউ বেশি উপলব্ধি করেছে কিনা জানিনা।
হৃদয় ফাটলে আওয়াজ হয়না। চাইলেই কাঁদতেও লজ্জা বোধ হয়। কিন্তু এই হাহাকার আমি তোর ছাড়া কার কাছেই বা বলব?
জানি এ অর্থহীন, তবুও শেষবারের মত বলে নিই-
আমি পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভাল বেসেছিলাম আতুকে, আর তারপরে তোকে।
আতুকে হারিয়েছি সহদোরার জন্য, আক্ষেপ নেই যন্ত্রনাও নেই বরং অসীম শ্রদ্ধা আছে তার প্রতি। বন্ধুর ভালবাসাও আছে।
তোকেও ভালবেসেছিলাম
হ্যাঁ, বেসেছিলাম। অতীত কাল।
বোধহয় জীবনের অন্যতম বড় ভুল, শাস্তি পাচ্ছি। তবে তোর সাথে সস্তার হোটেলে বা আঁদারে-পাঁদারে কাটাবো মুহুর্ত গুলোই ব্যাক্তি আমার জীবনের সবচেয়ে মুল্যবান ছবি।
না অন্যের জন্য নয় এ ছবি, এ সবই স্মৃতির মনিকোঠায় সংরক্ষিত রয়েছে পরম মমত্বে, যত্নে, আদরে। ঠিক যেমন তোকে ভালবাসতাম।
আশির্বাদ করি, ভাল থাকি অবশিষ্ট জীবন কালে। আর কাওকে আমার মত ধোকা দিসনা, নতুন ভালবাসা আসুক তোর জীবনে। তবে বসন্ত যেন না আসে। আমার বাগান তছনছ করে তুই ভাল থাকবি, কিন্তু সুখী হবিনা এটাই আমার প্রার্থনা ঈশ্বরের কাছে।

শুক্রবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

।। পুলওয়ামাঃ এর পর কি কি হবে? ।।




"How is Josh" এর স্যাড সংস্করণ বাজারজাত হয়ে পাবলিক টয়লেটের ঝাঁঝালো গন্ধের মত অক্ষম বিছানা বিলাসী বিপ্লবীদের বীরগাথা বমন চলবে পথে ঘাটে বাটে সর্বত্র।
সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিয়ে ভিকি কৌশল বা তার মত অনেকেই পরিচালকের সাথে যোগাযোগ শুরু করবে।

মোদী বিরোধীরা, নোট বাতিল, জুমলা, সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, ইত্যাদির ফাটা ক্যাসেট বাজাবে। রাহুল গান্ধী... কিছু তো একটা বলবেনই।
যুদ্ধ বিমানগুলো কেনা হবে দুর্নীতির জন্য আর ২৬শে জানুয়ারি এয়ার শো এর জন্য। এর পরেও ওরা হ্যাঙ্গারেই থাকবে। জি নিউজ দেখবেন পায়লটেরা। রাফালের মত চুক্তি গুলো হবে দেউলিয়া আম্বানির কোষাগার ভরতে।
অমিত শাহ, গত সন্ধ্যার মত এখনও বলবেন "মন্দির ওহি বানায়েঙ্গে"। কারন তাহলেই শোধ নেওয়া হবে পাকিস্থানে বিরুদ্ধে, এবং আগামীর এই নাশকতা রোখার একমাত্র রাস্তা ওটাই।
টিভি চ্যানেলগুলোতে বসে বুদ্ধিসৈনিকেরা এমন চেঁচামেচি করবেন বিশেষত সন্ধ্যায়, সন্ত্রাসীরা ওখানেই নিকেস হয়ে যাবার উপক্রম হবে।
সোস্যাল মিডিয়াতে তীব্র জঙ্গি বিরোধিতা, ক্ষোভ, যন্ত্রনা ইত্যাদি, মুসলমান ও বামেদের উপরে উদগীরণ করে "জোশ" জাহির করবে।
নেতারা বিশেষ করে বিজেপি ও সঙ্ঘ সহযোগী দলগুলি- একটা দাঙ্গা লাগাবার ছক কষবে।
সন্ধ্যায় AC স্টুডিও থেকে বাক মিশাইল ছুড়ে দেশজ দেশপ্রেমিকদের মনের উষ্মাকে নিয়ন্ত্রণ করবে। নিন্দার কড়াপাকে দেশপ্রেমের সাইরেন বাজিয়ে আশেপাশের সংখ্যালঘু ও বাম মনস্ক মানুষগুলির মা বোন সোনাগাছীজাত করবে।
চৌকিদারের মত দালালেরা যুদ্ধ যুদ্ধ একটা পরিস্থিতিতে (যুদ্ধ করার মত বিচি এদের নেই, থাকলে করত) বেশ কিছু অস্ত্রের দালালি করে টাকা কামাবে। মোদী ঘোষনা করে দেবে কৌশলে- যুদ্ধ হবেনা।
সমবেদনার ফেনাতে ভেসে থাকতে থাকতেই ভোটের ঘোষনা হয়ে যাবে।
দাঙ্গা দাঙ্গা বিষয়টার উপরে, শর্ট ফিল্ম টাইপ সংস্করণ সমাজের সর্বত্র ঘটে চলবে।
নেতারা ভোটলীলা শুরু করে দেবে। আপনাকে বোঝাবে RSS পরিচালিত সরকারের পাশে থাকা মানেই শহীদদের পাশে থাকা। BJP সরকারকে সহানুভূতি দেখালেই শহীদদের আত্মা শান্তি পাবে। সন্ত্রাসীরা জব্দ হবে। মিডিয়াও বলবে সরকার মাসুম, বরং আপনিই পারেন খিস্তির মিশাইল দিয়ে জঙ্গিবাদ দমন করতে।
আমি আপনি ভুলে যাব। কারন বসন্ত এসে যাবে। ২০ তারিখ থেকে আবার রাজিব কুমার কেস শুরু... আর কি চাই গুরু!!
পাকিস্থানে বসে জঙ্গিরা আবার নতুন ছক কষবে, আমাদের অসহায় রাজনীতির শিকারে বন্দি ভারতীয় জওয়ানদের রক্তে হোলি খেলতে।
আন্তর্জাতিক ভাবে আমেরিকা পাকিস্থানকে আর্থিক সাহায্য দেবার ফাঁকে, তীব্র নিন্দা করবে জঙ্গিবাদের।
ভার্চুয়ালি গোটা পাকিস্থানকে ৭২ হুরের কাছে পাঠাবার সংকল্প নিয়ে এমন উষ্ণ হয়ে যাব, একটু নটি আমেরিকা ঘুড়ে এসে সেই রাগমোচন করব।
আমরা আবার ফেসবুকে রগের শিরা ফুলিয়ে পোষ্ট করার আগে, প্রধানমন্ত্রীর লাহোরি বিরিয়ানির কেচ্ছা মন দিয়ে পড়ে বলব- ৫৬" ছাতি দিয়ে মুসলমান মুক্ত ভারত চাই।
যাবতীয় বিপ্লব বাম আর মুসলমানের উপরে ন্যাস্ত করে আবার নতুন টপিক খুঁজব।
"গোরক্ষার জন্য মন্ত্রক হয়েছে তো। অর্থ বরাদ্দ কি করেননি গোয়েল সাহেব? তাহলে ৪৪ টা মৃত্যু নিয়ে এতো শোরগোলের কি আছে? RSS কে একবার শুধু অর্ডার দিলে, জঙ্গিবাদের ঠাকুরদাকে নিকেশ করে দেবে এরা। শুধু কংগ্রেসের জন্য এটা হচ্ছেনা।" এমন মেসেজ ১০ টা ফরোয়ার্ড করলেই আপনি পদ্ম পুরষ্কার পেতে পারেন।
আপনি প্রশ্ন করবেননা যে এত বড় দেশের এত ক্ষমতাবান প্রধানমন্ত্রী ২৪ ঘন্টা পরেও একটা টুইট ছাড়া কি করেছেন এ প্রশ্ন কেউ করবেনা। সকলে আমার মত মন কি বাতের অপেক্ষা করবে।
পাকিস্থানের মাটিতে অজিত ডোভালের ছেলের ব্যাবসা, আদানি আম্বানির ব্যাবসা এর পরেও গোটাবেনা এটা আপনি জানবেননা।
জঙ্গিদের উদ্দেশ্য ভারতীয় মারা, তারা আর্মি মারছে কেন? সমস্যাটা কোথায় তাহলে? আর্মি তো আর্মড।
সুকমা, দান্তেওয়ারা সহ দেশজ জঙ্গিদের হিংসাতে নিহত ব্যাক্তিদের জন্য সমবেদনা ছাড়া জঙ্গিদমনে কি পদক্ষেপ নিয়েছিল?
ইয়ে, আমাদের একজন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ছিলেননা? ওহ সরি। উনি তো এখন রাফাল চুক্তির এমেন্ডমেন্টের জন্য প্যারিস দিল্লি ডেলিপ্যাসেঞ্জারি করে চৌকিদার বাঁচাতে ব্যাস্ত। এসব তুচ্ছ ছোটখাটো ব্যাপার নিয়ে ভাবার জন্য সুধীর চৌধুরী, অর্ণব গোস্বামী আর সম্বিৎ পাত্র আছেন।
পিসি নেই, তাই কেমন খালি খালি লাগছে।
বোমা কেষ্টাকে কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী করা হলে রাস্তাতে উন্নয়ন দাঁড় করিয়ে দিতে পারত এটা ভুলে যাবেন। কিম্বা আমাদের অধিকারী ব্রাদ্রার্স.... হাইজ্যাকে উস্তাদ তো ইনি। পিসির ধর্ণাও হবেনা একটা। তবে টুইটারে বিবৃতি দেবেন- পিসি। অনুব্রত অতশত বোঝেনা, মস্তিষ্কে অক্সিজেনের অভাব বলে কথা, শুধু উন্নয়ন বোঝেন।
কেমন হয়, উন্নয়ন বাহিনী আর RSS এর ক্যাডারেরা বর্ডারে দাঁড়িয়ে..... জঙ্গিরা কি রেল গুমটিতে চপ বেচবেনা?? ভাবুন ভাবুন


তবে-
এই পোষ্টে এসে আমারও মা-মাসি না করলে জওয়ানদের রক্তের বদলা নেওয়া অসম্পূর্ণ রয়ে যাবে। কারন আপনি আর যাই করুন মোদীজির দোষ বা গুনের বিচার বিশ্লেষন করতেই পারেননা। ভক্তদের চোখে ওটাই সন্ত্রাসবাদ। এখানে যথাক্রমে আমি ওটাও করেছি। সেনার বীরত্বের গল্প যিনি রাজনৈতিক মঞ্চে ব্যবহার করেন, আজকে ৪৪ জন ভারতমাতার সন্তানের লাশ... এর দায় নেবেননা? এখন বলবেন রাজনীতি খুঁজছেন? দাদা প্রতিরক্ষা মন্ত্রী, সরাষ্ট্র বিভাগ, গোয়েন্দা বিভাগের দায়িত্বে তো রাজনেতারাই বসে আছেন, এবং সকলেই দেশপ্রেমিকের শংসাপত্র দেওয়া দলের।
রামচন্দ্র বানরসেনা নিয়ে যুদ্ধ জয় করেননি, তার সাথে ছিল বিভীষণ। সরকার সাধারন কাশ্মীরিদের বিভীষণ বানিয়ে সন্ত্রাসীদের কাজ সহজ করে দিচ্ছে নীতির পরিবর্তন না করে। দেশে গো সন্তান আর বানরসেনা দিয়ে রাজ্যপাট চালাচ্ছেন। রামচন্দ্রেরও কিছু শিক্ষিত মানুষজন ছিলেন বানর সেনার পাশাপাশি।
আসুন, এর বাইরে আমরা কি করতে পারি দেখান। যেখানে আমরা সত্যিকারের প্রতিশোধ নিতে আগামীর এমন হামলা রুখব।
ওহ, আপনি তো আবার নাগপুরের পরবর্তী মেসেজে কি আসে তার প্রতিক্ষা করছেন।

সোমবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

।। ভালবাসাঃ নিঃশর্ত, হৃদয় এবং মস্তিষ্ক ।।


ভ্যালেন্টাইন ডে'র আগে কিছু উন্মাদীয় প্রেমালাপ
°°°°°°°°°°°°°°′°°°°°°°°°



কাব্যে হৃদয় বললেও, আসলে ভালবাসার সবটাই নিয়ন্ত্রণ হয় আমাদের মস্তিষ্ক থেকে। আমাদের পছন্দ অপছন্দ সবটারই একসেট করে ডেটা স্টোরেজ আছে আমাদের grey cell data sheet এ। যেটার অধিকাংশ মিলে যায় সেটা পছন্দ হয়, পছন্দ ভাললাগাতে পরিনত হয়। ভাললাগার নিত্য অনুশীলন আমাদের সেই গুচ্ছ অনুভুতিকে- ভালবাসাতে convert করে নিতে বাধ্য করে। আর এ জন্যই কবিরা বলেন- হৃদয়ের উপরে নিয়ন্ত্রণ চলেনা। বিষয়টা আসলে নিত্য অভ্যাস আমাদের অভিযোজিত করে তোলে পরিস্থিতির জন্য, যা আজকের সময়কে কালকে দ্বারা প্রতিস্থাপিত করে। এভাবেই আমরা অনুশীলন দ্বারা পরিচালিত হয়ে - হৃদয় নামক নিরীহ একটা অঙ্গের উপরে কৃতিত্ব বা দোষারোপ করে দিই প্রেমের বিষয়ে। অপরপক্ষে অপছন্দ আমাদের কাছে অস্বস্তিকর, স্বাভাবিক ভাবেই- নিয়মিত অস্বস্তির কারকেরা ঘৃণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যাকিছু আমাদের কাছে উন্মোচিত নয়, সেগুলোতেই ভয় লুকিয়ে থাকে, যারা ভয় নিয়ে ভয় দেখিয়ে স্বার্থ হাসিল করে বা করার চেষ্টা করে, তারাও ঘৃণার পাত্র হয়ে উঠে।
ভালবাসা তাহলে কাকে বলে? এক কথাতে না হলেও এর একটা সংজ্ঞা আমার মত করে দেবার চেষ্টা করলাম।
"ভয়কে অতিক্রম করে নিজের বা অন্য আরেকজনের কাছে, নিজের অস্বিত্বকে অক্ষুন্ন রেখে, যাবতীয় অনুভুতিকে সমর্পন করে, আত্মবিসর্জন না দিয়েও আত্মস্থ হয়ে, পারিপার্শ্বিক চাহিদাকে অনুধাবন করে, অনুভুতির উন্মত্ততায় উদভ্রান্ত না হয়ে, অন্য আরেকটি জীবনধারাতে নিজেকে সম্পৃক্ত করে, আগামীর জন্য পরিকল্পিত জীবনধারা রচনা করা যায়, তাকেই সম্ভবত ভালবাসা বলে"। এর মাঝে কোনো একটিরও অভাব থাকলেই ভালবাসাতে টান পরবেই পরবে।
অনুভুতিই সবচেয়ে বড় শত্রু মানব সম্পর্কের। এর উপরেই যাবতীয় পছন্দ অপছন্দ নির্ভর করে; কিন্তু অনুভুতি ভীষন রকমের আপেক্ষিক। এই জন্যই ব্যাক্তিভেদে অনুভুতির প্রকাশ সম্পর্কের মাঝে সমস্যা তৈরি করে। নিয়ন্ত্রিত আবেগই যেকোনো সম্পর্কের মূলধন। বিশ্বাস বা ভরষা আসলে পুঞ্জীভূত আবেগের ধ্বণাত্বক উপলব্ধি মাত্র। ভালবাসাতে বিশ্বাস প্রাথমিক মূলধন, একটু একটু করে জমা হওয়া বিশ্বাস- সময়ের আঁচে পরিপাক হয়ে ভালবাসার ছাঁচে দানা বাঁধে ও একটা শারিরীক গঠন লাভ করে।
পছন্দ ও অপছন্দের বেশিরভাগটাই আমাদের জৈবিক। বাকি অবশিষ্ট সকল কিছু আমাদের আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিশ্বাসের পরিমণ্ডলে গড়ে উঠে। আমাদের ভাবনারাও সেই পথেই আবর্তিত হয়ে আমাদের মস্তিষ্কের পছন্দ ও অপছন্দের তথ্যপঞ্জির নিরিবিচ্ছিন্ন ক্রম নবীকরণ করতে থাকে। ভালবাসাও তার ব্যাতিক্রম নয়।
প্রেম কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটাই সবচেয়ে চলনশীল বিষয়, যার জন্য প্রতিটি রিপু ও ইন্দ্রিয় কর্মশীল। হতে পারে এ ভালবাসা অন্যের তরে বা নিজের জন্য। কিন্তু ভালবাসা ছাড়া মানুষ অচল। কেউ প্রকাশ করতে পারে কেউ পারেনা, প্রত্যেকের নিজশ্ব ভাষা আছে প্রকাশের। যে বা যারা এটা ধরতে পারে, তারা জুটি বেঁধে নিয়ে একসাথে জীবন উপভোগ করে। যখন এই বুঝতে পারাটা দুর্বোধ্য মনে হয়, তখনই বিচ্ছেদের প্রয়োজন হয়। আত্মহত্যাও আসলে নিজেকে বুঝতে না পারার ফল। নিজের প্রতি ভালবাসা ফুরিয়ে যাবার ফল। উদভ্রান্ত উন্মাদেরও নিজশ্ব বুঝ থাকে, কিন্তু অবুঝের পরিনতি একমাত্র - বিচ্ছেদ বা মৃত্যু। একাকিত্ব আসলে নিজেকে অচেনা করে ফেলারই নাম।
ভালবাসাতে যদি চাহিদা না থাকে? কিম্বা ধরা যাক সবটাই নিঃশর্ত! আসলে নিঃশর্তের মাঝেও একটা শর্ত আছে যা ঋণাত্বক নিঃ শব্দের সাথে জুড়ে। এখানেই বিশাল একটা বিভ্রমের সৃষ্টি হয়।
নিঃশর্ত ভালোবাসা হয়? সেটা কি অপরাধ?
হয়, তবে তা দোষের কিছু না। কিন্তু, নিঃশর্ত ভালোবাসা বুঝিয়ে দেওয়াটা বোকামি। তুমি কারো জন্য পারফেক্ট বলেই সে তোমায় ভালোবেসেছে। পারফেক্ট মানে তোমার কাছে কেউ ১০০% দাবি করেনি। তুমি যেমন তেমনটাই তোমার পারফেকশন, অঙ্কের নিয়মে যা ধরা অসাধ্য। ভালবাসাকে যেভাবেই ব্যাখ্যা করা হোক, এটা আদপেই state of mind, এর বেশি কিছু নয়। ধারাবাহিক চলাটা একসময় অভ্যেসে পরিনত হয়ে যায়। এর জন্য সময় দিতে হয় ও নিতে হয়। যতক্ষণ না একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠা হচ্ছে, ততক্ষণ নিজেকে পরিবর্তন করেছো কি ডুবেছো।
অচেনা কাউকে তুমি ভালবাসতেই পারোনা, সিনেমা গল্পে যা ই দেখাক - যাকে তুমি চেনোনা তাতে নিয়ে খুব বেশিক্ষণ ভাবতেই পারবেনা। যত বেশি দেখবে, জানবে, বুঝবে তত বেশি আগামীর স্বপ্ন দেখবে। এভাবেই যত বেশি বদলাবে অকারনে, তত বেশী অচেনা হয়ে যাবে, তত দূরে সরে যাবে। সদর্থক পরিবর্তনের ভিড়ে কিছু সামান্য ভ্রান্তি অদেখা হয়ে এড়িয়ে গেলেও, নাঞার্থক বা নেতিবাচক বা ঋণাত্বক চারিত্রিক বৈশিষ্ঠে যখন বেশি করে শান দেওয়া হয় তখন যাবতীয় "ভাল" গুলি দৃশ্যান্তরে হারিয়ে যায়। এটা বোঝার জন্য যে বুদ্ধিমত্তার প্রয়োজন হয় সেটার জন্য সম্পৃক পরিমণ্ডল চায়, যেখানে উত্তম বন্ধু মণ্ডল ও মুল্যবোধ যুক্ত পরিবারের সমাহার ঘটবে।
অতীতকে পর্যালোচনা না করে, বারংবার একই "ভুলের" পুনরাবৃত্তি অন্যজনকে হিংস্র করে তোলে। ভালবাসার জন্য ১০০টি গুনকে ছাপিয়ে, ঘৃণার জন্য ১০১ টা জেদ এসে চেপে বসে। যা সমকালকে অন্ধ করে দেয় পর্যালোচনার জন্য। মস্তিস্কের ধুসর কোষের সঞ্চিত তথ্যকে অস্বিকার করে চর্মচক্ষের illusion কে সত্য হিসাবে দ্রুত গ্রহন করে পরিস্থিকে জটিল বানিয়ে তুলি নিজ দায়িত্বে।
সম্পর্কের শুরুতে তুমি যা ছিলে তেমনটাই ছিল তার ভালো লাগা। এই সত্যকে আমরা অজান্তেই অস্বিকার করতে শুরু করে দিই। সেটার জন্যই সম্পর্কের শুরু সেগুলোকে আমরা উপেক্ষা করতে শুরু করে দিই। খুব ছোট ছোট বিষয়গুলো তখন নজরে আসে, যেগুলো আকর্ষণ করে ও ক্রমশ সম্পর্কটাকে জমাট বাঁধিয়ে দেয়। তুমি অসংলগ্ন বা পরিপাটি, কালো ফর্সা, মোটা বেঁটে লম্বা সব সব সব কিছু, আসলে ঐ ছিল তোমার পরিপূর্ণতা। সেটাই ছিল একমাত্রিক ভালবাসার রুপ। এটা দেখেই সে মুগ্ধ হয়েছিল।
অধিকাংশ সম্পর্কেই যে বিষয়টা ঘটে সেটা হল, যেটা দেখে একদিন নিজেই মুগ্ধ হয়েছিল সেটাই সে লুকিয়ে ফেলতে চায়। পরিপূর্ণতা আনতে গিয়ে পরিপুরক এনে হাজির করে মৌলিক সত্তাকে না বদলিয়েই। সেক্ষেত্রে কি হয়, পরিপূরক অচেনা হলেও খামতি গুলো বড্ড চেনা হয়ে সামনে একমাত্র পরে থাকে। এক ধরনের identify Crisis তৈরি করে; এবং প্রায় প্রতিটিক্ষেত্রেই শুধরানোর চেষ্টা করতে গিয়ে আরো জটিল করে তোলে মানবীয় আবেগ গুণ।
কেউই চায় না অন্য কেউ তার সাথীকে দেখে নতুন করে মুগ্ধ হয়ে যাক, যেমনটা সে হয়েছিল। ভালোবাসার মানুষটাকে নিয়ে পৃথিবীর সাথে স্বার্থপর হওয়াটা দোষের কিছু না, কিন্তু মানব চরিত্র একবার যেটার অনুশীলন শুরু করে, সেটাই অভ্যাসে পরিনত হয়ে যায়। সেই স্বার্থপরতার ঘাত তার উপরেই বেশি প্রতিফলিত হয়- যার জন্য এই ক্রিয়াকলাপ শুরু হয়েছিল। একজন ভাবেন সে দূরে সরে যাচ্ছে, অপরজন ভাবে ও কেন বদলে গেল। তখন যুক্তি দূরে সরে যায় আর দুজনকেই নিয়ন্ত্রণ করতে থাকে অনিয়ন্ত্রিত আবেগ। একে অন্যকে Dominan করতে শুরু করি এমন ভাবে যেন অন্যজন একজন পণ্য বা যন্ত্রমাত্র। এগুলো সবটাই fact। দোষটা তখন থেকে শুরু হয় যখন কেউ কাউকে ডোমিনেট করতে করতে নিজেকে প্রায় দেবদূতে পর্যায়ে নিয়ে গিয়ে ভাবি- "এসবই তো আমার স্বাভাবিক মানবিক প্রতিক্রিয়া ছিল যা তাৎক্ষণিক "। আর এই ভাবনাই সম্পর্ককে মরুভূমি বানিয়ে দেয়।
কেউ যখন এক তরফা ভাবে তোমাকে সম্পূর্ণ জেনে একপৃথিবী ভালোবাসা দিয়ে অবশিষ্ট পৃথিবী থেকে পৃথক করে একটা নতুন দুনিয়া তৈরি করেছিল তোমারই জন্য, সেটা যদি মনে হয় " আজই" রাতারাতি তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়ল, বা "আমাকে অসহায় করে স্বার্থপরের মত পালালো", তাহলে বুঝতে হবে, খালিটা একদিনে হয়নি। একটু একটু তোমারই উদাসীনতা তোমার উন্নাসিকতা তোমার আত্ম অহংকার তোমার চতুর্দিকে এমন নিশ্চিদ্র বর্ম বানিয়ে রেখেছিল, যে তুমি বুঝতেই পারোনি তোমার পরিপূরক চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য আসলে তোমাকে একা করে দিয়েছেল। ভালবাসা বিদায় নিয়েছিল ঋতুর মত।
তোমাকে যে ভালোবাসে সে যদি সারা দুনিয়া থেকে তোমায় আলাদা করে ফেলে, তাকে ছাড়া একদিন তুমি অচল হয়ে যাবে।এটাই মানুষের ধর্ম কেউ যদি বুঝে ফেলে তাকে ছাড়া কেউ অচল হয়ে আছে সে এক তরফা শর্ত জুড়ে দেয়। হাজারটা নিয়মে বেঁধে ফেলে অসহায় মানুষটাকে। অথচ শুরুতেই লিখেছি নিঃশর্ত ভালোবাসা দোষের কিছু না তবে বুঝিয়ে দেওয়াটা বোকামি।
শর্তের বদলে শর্ত জুড়ে দেওয়াটা আর যাই হোক ভালোবাসার নাম হতে পারেনা। "আপস" মানুষটাকে ধরে রাখার কৌশল হিসাবে পরিক্ষিত, কিন্তু সেটা খুবই ক্ষণস্থায়ী। গোটা দুনিয়ার মাঝে তোমরা এককাছে এসেছিলে শুরুর দিনের তোমাদের সেই মিল্গুলোর জন্য, যেগুলোকে আজ ভুলে গেছো বা জলাঞ্জলি দিয়েছো। সময়ের নিজশ্ব শর্ত আছে তার দাবি আমরা মানতে বাধ্য। এর উপরে যখন আমাদের অহং শর্ত, তার পরিবর্ত শর্ত- এভাবে পাল্টা পাল্টি শর্তে কেউ আত্মসমর্পণ করে তো পরবর্তী সময়ে 'শোধ' নিতে নিতে ভালবাসাটা একটা বদলে যাওয়া নিকৃষ্ট ঘৃণ্য খেলাতে পরিনত হয়ে যায়।
ভালোবাসতে গিয়ে ভালবাসাটাই মূল্যহীন হয়ে হারিয়ে যায় সময়ের আবর্তে। শুরুহয় Blackmail নামক চুরান্ত এক মারন খেলার, তখন প্রতিশোধ নেওয়াটাই মুখ্য হয়ে যায়। উভয় জনই নিজের মূল্য ধরে রাখতে সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রয়োগ করে। যে মানুষটা তোমাকে ভালবেসে আপন করেছিল, তাকে বদলে দিয়ে অদৃষ্টের উপরে দায় চাপিয়ে প্রেমিক যুগল থেকে উন্মাদে পরিনত হয়ে গেলেন। এটা উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য।
বদলের অনেক প্রতিশ্রুতি থাকে প্রতিটি ভালবাসার পরতে পরতে, কিন্তু মূল মানুষটার চরিত্রটা অক্ষুন্ন রেখে যেটা দেখে ভালবেসেছিল। নতুবা বহমান সময়ের নিরন্তর স্রোত ভালবাসার কঙ্কালটুকুও অবশিষ্ট রাখেনা।
প্রেম ছাড়া বন্ধনের যাবতীয় যুক্তিই বড্ড একপেশে ও খেলো। প্রেমে যুক্তি লাগেনা, আবেগ লাগে, আর অনিয়ন্ত্রিত আবেগ প্রেমের সলিলসমাধি ঘটায় শুষ্ক মরুভুমিতেও। তখন হরেক যুক্তি সাজিয়েও, নিত্যনতুন পরিপূরক আমদানি করেও "ভালবাসা" reload বা recharge করা যায়না। নিজেকে অন্যের মাঝে দেখিতে গেলে আপস নয়, সমর্পন নয়, সময়কে অনুধাবন করে, নিজেকে চাহিদার উপযোগী করে তোলার নামই সংসার।
যেখানেই শর্তহীন আপস, জানতে হবে রোগ অনেক গভীরে। রোগ নির্নয়ের আগে রোগীর মৃত্যুই বহুলাংশে ঘটে থাকে। I am the best, এ মহামারী চিকিৎসা নেই কোনো চিকিৎসক এর কাছে, উপলব্ধি বিনা। আর এ উপলব্ধি আসে অভিজ্ঞতা থেকে। তিক্ত অভিজ্ঞতা অনেকটা জীবন নিংড়ে অনিচ্ছাতে সঞ্চয় হয়। তাই ভালবাসাটা জিইয়ে রাখাটাই জীবনের সবচেয়ে বড় শর্ত। আঁধারের আধার চাইলেই হাসিল করা যায়, যেখানে সবটাই অন্যের ইচ্ছাধীন। মৌলিকতাকে অপরিবর্তিত রেখে সময়কে নিয়ন্ত্রণ করতে পারাটাই জীবনের একমাত্র achievement। ওই খানেই সকল কিছু বৈধ, কারন-
ভালবাসার আধারে আসলে সকল কিছুই ঐচ্ছিক।
__________
১০/০২/২০১৯

বৃহস্পতিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০১৯

গল্পের আত্মহত্যার গল্প



গল্পের আত্মহত্যার গল্প

১)
ভীষণ রকম হতাশ হয়ে তিনকড়ি চাঁদ কুণ্ডু,
বিচ্ছিরি সিদ্ধান্ত নিল, যার নেইকো মাথামুণ্ডু;
নিরুদ্দেশে যাবে! নাকি করবে আত্মহত্যা!
কৌশল তার যাই হোক, সে রাখবেনা তার সত্ত্বা।
ভাবতে ভাবতে দিন ফুরিয়ে রাতের পরে ভোর,
ফকির সাধুর আবাস হয়ে গনৎকারের দোর;
তাবিজ কবজ ঝাড়ফুঁকেতে হয়নি কোনো কাজ,
বাস্তুশাস্ত্র যোগবিদ্যাও মিথ্যা হল আজ।
প্রথম বারে বিফল চেষ্টা, রেল লাইনে শুয়ে,
শিরদাঁড়াতে হিমেল স্রোত, ভয়ের পালক ছুঁয়ে।
জলে ডুবে মৃত্য! অতি উত্তম। সাঁতার সাধল বাধ,
উঁচু উঠলে ঘোরে মাথা, তাই ভাবনাতে নেই ছাদ।
গলায় দড়ি, কী বীভৎস- জিভ বেড়িয়ে ভয়ানক;
বিষ খেয়ে যে ছটপটানি, সয়ে থাকা যায় কাঁহাতক!
মরতে তাকে হবেই, সে স্বপ্নে দেখে রোজ-
কিন্তু সেটা কোন উপায়ে! চলছে তারই খোঁজ।
২)
চক বাজারে মোড়ের মাথায় দশকর্মার টঙ,
তিনকড়ি চাঁদ কবিতা লেখে, ভাবনাতে নেই জং।
গাজন মেলায় ফি-বছরে সাজে শিবের সঙ,
নিন্মবিত্ত জীবনযাত্রা, হরেক রকম রঙ।
পুরুল্যাতে শ্বশুরবাড়ি, ললিতার বাপ ঘর,
পাল-পাবনে পাড়ার সভায়, তিনুর ভীষণ দড়।
খুকির বিয়ে শ্রীরামপুরে, জামাই দা-রোগা
খোকাটাই শুধু অকর্মন্য, ভীষণ পেট রোগা।
গিন্নির উপর বলবে কথা, এমন সাধ্যি নাই,
তার আদরে বাঁদর খোকা, বাপের হোটেলে খায়।
কাজের প্রশ্নে ধমকায় মাকে, বয়স ছুঁয়েছে পঁয়ত্রিশ;
কথার মাত্রা- ‘ঘর ছাড়ব, কিম্বা খাবো বিষ’।
আট কেলাসে তিনবার ফেল, অঙ্কে ভিক্ষাজীবী,
ইতিহাস জ্ঞান ভুগোলের খাদে, বিলাপের পৃথিবী।
বসলে টঙে করে চুরি, কুঁড়ের হদ্দ খোকা;
বাজার গেলে কানা দরবেশ, চারঅক্ষরের বোকা।
৩)
নির্বোধ ওই ছেলের দয়ায়, মুখ লুকানো দায়-
আজকাল নাকি পড়েছে প্রেমে, মাঝরাতে গান গায়।
ছেলের মা সে ভীষণ খুশি, আহ্লাদে আটখানা,
বিয়ে দিলেই দুদিন পরে ঘরভর্তি ছানা।
তিনকড়ি চাঁদ ভাবে, ‘ছেলের নেই কোনো রোজগার-
ঝোঁকের মাথায় করলে বিয়ে, বাড়তি পেটের ভার…’;
ছেলের জন্য করল মানত, ভক্তি বাড়ল দেবদ্বিজে,
দোকানে কম, থানে বেশি- শঙ্কিতভাব নিজে।
বহুকষ্টে জুটিয়ে চাকুরী, পাঠিয়েও ছিল বিদেশ;
গুণধর ছেলে বিভূঁই গিয়েও, ঝামেলা বাধালো বেশ।
বিপুল ঋণে পনবন্দি, ঘরে পাঠালো তার,
ভগিনীপতি ফন্দি বানায়ে, সে যাত্রায় ছার।
রাজনীতিতেও হয়েছিল শখ, মাস আষ্টেক আগে;
নধর পাঁঠা, চামচার দল- পেল তাকে বেশ বাগে।
নেতার পাপ মাথায় নিয়ে গণপিটুনির শিকার,
ডান পায়েতে রিঙটাল হল, মস্তিষ্কে বিকার।
৪)
বহু শখ করে ছেলের নাম, রেখে- ছিল ঈশ্বর;
নামার্থ আজ গঞ্জনা দেয়, বুকে এসে বাঁধে শর।
ঈশের প্রণয়ী মেয়েটির পিতা, দালালির কারবারি
বদমেজাজী, অতিশয় ধুর- টাকা আছে কাঁড়ি কাঁড়ি।
কীভাবে যেন পেয়ে সে খবর, ছুটলো তিনুর বাড়ি
ধমকি দিলো- ‘বোঝাও ছেলেরে- নইলে ভাঙব হাঁড়ি।
তারও পরে না শোধরালে ভিটেয় চড়াবো শকুন,
আমার মেয়ের ছায়া মারালে, বংশ করব খুন’।
নিখোঁজ হল ঈশ্বরচাঁদ, সাথী সেই দালাল কন্যা!
সালিস সভায় তিনকড়ি চাঁদ, বেইজ্জতির বন্যা।
ভিন জাতেতে করল বিয়ে! এত্তোবড় সাহস!
শত অপমানেও তিনকড়ি চাঁদ- মনে পায় পরিতোষ।
ছেলের মা’ও কেঁদে ভাসে, সান্তনা দেয় স্বামী;
সময় থাকতে মানুষ করলে, হতনা সে আসামী।
জামাই বলে- ‘সাবালক, তাদের নেইকো কোনো ভুল।
থাকবে তারা, আমরা কারা? সরাও মনের ঝুল’।
৫)
মোল্লা পাড়ার নিদান আসে, মুন্ডুটা চায় কুন্ডুর
টিকিধারীরাও সমানে-সেয়ানে, ধর্ম যাতনা ভরপুর।
দুটো মানুষ নিজের মত, বাঁচতে চাওয়ার অধিকার,
সমাজ নামের ব্যবস্থা কেন করবে সেটা ছারখার?
তিনকড়ি চাঁদ নিঃশ্বাস নেয়, বুকে নিয়ে এসে বল-
করবে লড়াই সমাজের সাথে, নয় সে যে হীনবল।
ওমা সেসব কোথায় কী! পাঁচটি দিন পরে-
গুড়গুড়িয়ে ঈশ্বর চাঁদ এলো একা ফিরে ঘরে।
বলল এসে-‘ভুলবশত ভুল ট্রেনেতে চড়ে;
ভুল জায়গায় পৌঁছে- ভয়ে, ধরেছিল তাকে জ্বরে।
অচিন গঞ্জে চিকিৎসা সেরে, ফিরতি রেলের গাড়ি,
দিবা-রাত্রি সফর শেষে, ফিরল যে নিজ বাড়ি।
দালাল বাবুর কন্যাটি শাদি, করেছে চাকুরীজীবীকে
ঈশ্বর চাঁদ বিফল মাকাল, নির্গুন সবই দিকে।
এমন ছেলের বাপ হয়ে বেঁচে থাকাটাও পাপ-
আত্মহত্যা বিধির বিধান, নেই তাই কোনো মাফ।

শনিবার, ৩ নভেম্বর, ২০১৮

।। উন্মাদনামা ৩৩ ।।

হাড়ভাঙা ব্যাথা দারুন কষ্ট
উপশম তবু মেলে;
তার চেয়ে বড় আঘাত লাগে
পেট্রোল পাম্পে গেলে।
যখন দেখি ফ্লেক্সে ছাপা
গায়েতে জহর কোট,
মিত্রোঁ আছেন দাঁতক্যেলিয়ে
গুজরাতি মর্কট।।

সোমবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১৮

।। একটি শীতকালীন ছ্যাঁচোড় ।।

হিম পরেছে উঠোন জুড়ে
শীতল আবেশ ছেয়ে,
ছুঁয়ে দেখ আমি আজও বেঁচে
তোর প্রেমে, ও মেয়ে।
তোর বক্ষ মাঝের উপত্যকায়
ছিল, অনুভুতির চাষ;
ও মেয়ে তুই নিড়েন দিলি
হল আমার সর্বনাশ।
কোমর বেয়ে নাভিপদ্ম,
যেথা সুখের বসবাস;
সেখানে আজ অনুপ্রবেশ
জবরদখল, খাস।
নিঃশ্বাস জুড়ে ছিলাম আমি
তোর শিক্ত ঠোঁটের খাঁজে;
অনিঃশেষ জিহ্বা বিলাস
বিনি সুতোর সাজে।
কাম রসেতে সাঁতার কেটে
রাত সাগরে পাড়ি,
সোহাগপুরের সাকিন ভুলে
কেমনে দিলি আড়ি?
ও মেয়ে তুই কই হারালি
কোন সে অন্ধ বাঁকে!
আলিঙ্গনে বাঁধব কারে
দুইটি বাহুর ফাঁকে?
কঠিন শৈত্য, আপন হারা
মৃত্যুময় এ বাঁচা,
গচ্চা যাবে বসন্তদিন
শূণ্য হৃদয় খাঁচা।
তোর, চোখের শাসন ফিরুক আবার
প্রখর গ্রীষ্ম বেয়ে!
চেনা ঘামের গন্ধ মেখে.....
শুনলি কি! ও মেয়ে?
________________
মিস্ত্রিঃ উন্মাদ হার্মাদ

বৃহস্পতিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০১৮

।। ...ও মেয়ে ।।

তোর সুখেতে মাতাল সুখী,
দুঃখে পাগলপারা;
তোর পিপাসায় চাতক আমি,
উন্মাদ তোকে ছাড়া।
প্রতীক্ষাতে ক্ষণযাপন, কখন-
প্রেমের ভেলা ভাসবে!
ও মেয়ে বল আমার মত
তোকে আর কে ভালবাসবে!
কে ভাঙাবে তোর অনুরাগ
কার ছোঁয়াতে জাগবি
ও মেয়ে তুই জীবনটা ভর
আমার সাথে থাকবি?
টক ঝাল মিঠে ঝগড়া মাখা
আদর পাবি সারাক্ষণ;
ও মেয়ে তুই খুঁজে পাবিনে
আমার মত আপনজন!
বন্ধু হয়ে থাকবি পাশে?
মানিয়ে নিবি সব ধারে?
ও মেয়ে তুই সব ভুলবি
যদি, আঁকড়ে ধরিস আমারে।

রবিবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১৮

।। ব্যতিক্রমী শারদ শুভেচ্ছা ।।



নির্দিষ্ট কাউকে উদ্দেশ্য করে এই পোষ্ট নয়। ছ্যাকা খাওয়ার পর হতভম্বতা কাটিয়ে উঠে খানিক বার্ণল লাগালাম নিজের ক্ষতস্থানে। বলা ভাল এটা ডিসক্লেইমার টাইপ।  সকল বন্ধুদের জন্য।

আমি আপনাদের কাছে বিনীত আবেদন/অনুরোধ করছি, আমার কোনো পোষ্টে, আমার কমেন্টের প্রত্তুতরে, আমার সাথে একসাথে মেনসন করে কাউকে ডাকার আগে, তাঁর থেকে অনুমতি নিয়ে নেবেন। তাঁর সাথে আপনার কোনো ক্ষার থাকলে বা বিশেষ সম্পর্ক (ঝগড়া বা ভালোবাসা যা ই হোকনা কেন) আমার পোষ্টে কাউকে 'মেনসন' করে কোনো পোষ্ট বা মন্তব্য করবেননা। কে কোথায় কার সাথে কি করে রেখেছেন সেটা আমি জানিনা, জানার আগ্রহও নেই (তর্কে গেলে জেনে নেবার সম্পূর্ণ অপশন খোলা রয়েছে)। কিন্তু সেটার দায় নিয়ে হলে খুব কষ্ট হয় বৈকি।

আমি চাইনা আমার জন্য কেউ অপ্রস্তুতে পড়ুক। কারন কারোর চার পয়সা উপকার করতে পারিনি, অহেতুক ক্ষতিই বা কেন করব?

ফেসবুকে একই সাথে আমি সকলের কাছে ভালো থাকতে পারবনা, তাই বিগত ১০ বছরে আমার ঘোষিত শত্রুর সংখ্যা অনেকের বন্ধু চেয়ে বেশি। যাদের সাথে আপনাদের অনেকেরই যথেষ্ট দহরম মহরম, এতে আমার কোনো গাত্রদাহ নেই। কারন আমি যাকে ছুড়ে ফেলেছি জীবন থেকে, সেটা জেনে ছুঁড়েছি। লোম যতক্ষন শরীরে আছে, ততক্ষণই তাঁর পরিচর্যা, তাই ছুঁড়ে ফেলা মালগুলো অবাছিত লোক। কারোর থেকে ১ পয়সার হেল্প নিইনি, বা কে আমার কাছে বকেয়া কিছু রেখে যায়নি। আপনাদের কখনো কাউকে আমি কোনোদিনও মানা করিনি, যে ওর সাথে আমার এতো ঝামেলা- আপনি দয়াকরে মিসবেননা, - নাহ একটিবারও বলিনি। বলবও না। কারন আমার ঝগড়ার দায় আমার, আপনার নয়।

প্রত্যেকের নিজস্ব স্পেস, ভাবধারা, ও মতামত আছে। যেটা আমি অত্যন্ত সম্মান করি।

আমি ফেসবুককে যথেষ্ট সিরিয়াসলিই নিই, এখানে বন্ধু পেয়েছি, প্রেম করেছি, ঝগড়া করেছি, ব্যাবসা পেয়েছি, ইনভেষ্টর পেয়েছি, সব সব সব পেয়েছি। মজা আর আড্ডাই হচ্ছে এর ধারক, মজা বা হালকা চটুলতা গুলো বাদ দিলে জীবন পানশে এটা আমি মানি ও জানি। বন্ধুদের কাছে আমার সকল কিছু ওপেন। নিজের মত চাপিয়েও দিইনা, অন্যের মতকেও গিলে নিইনা।

এরও পর যদি কেউ কিছু কমেন্ট , পোষ্ট করেন তার দায় সম্পূর্ণ যিনি যিনি লিখছেন তাঁর। আমার মেনশন কৃত সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তির নয়। তারও পরে যদি কিছু অসঙ্গতি হয়- তখন পুরাতন ফর্মে ফিরে BAD BOY হয়ে "তুমি আমি এক দেহে লীন' ভেবে নিয়ে চোখ বুজে 'তুমি' সেজে যাওয়া কিছুক্ষণের জন্য। তারপর? ব্রহ্মা জানে গোপন কম্মটি।

যারা ২০১৫ সাল ও তার আগের উন্মাদকে দেখেননি, তারা দয়া করে এই পোষ্ট পড়বেননা। এটা আপনার কমেন্টের উপযোগী নয়, এবং আপনি মিসিং লিঙ্ক গুলোর সন্ধান জানেননা। জাষ্ট এটাকে ইগনোর করুন। এই পোষ্ট যিনি সিরিয়াসলি নেবেন, তাঁর জন্য সিরিয়াস, মজা ভাবলে মজা। কারন স্পষ্ট কথাতে আমার কোনো কষ্ট নেই।

আমি পৃথিবীতে সকলের কাছে ভাল হতে পারবনা, ইচ্ছা ও ক্ষমতা কোনোটাই নেই। যার কাছে আমি ঋণী তাঁর/ তাঁদের ছাড়া বাকিদের নিয়ে আমার এতটুকু আগ্রহ নেই, এক্সট্রা মান ইজ্জতেরও স্টক নেই। 'বন্ধু'দের কাছে আমার জীবন উতসর্গীত, এবং জীবনের শেষদিন পর্যন্ত জ্ঞানত জুতোজোড়া বয়ে দেব, এমন মানসিকতা যুক্ত। যেটা কখনই বদলাবেনা, মস্তিষ্কে আঘাত পেয়ে স্মৃতি (ইরানি নয়) না হারালে।

প্রসঙ্গ অকপটঃ এখানে কেউ যখন থাকেন, সেটা সম্পূর্ণ তাঁর ইচ্ছাতেই থাকেন। এখানেও কোনো জোর নেই। অকপটে থাকাটা আমার দুর্বলতাও নয়, শক্তিও নয়। এটা আমার প্যাশনের জাইগা, এখানে টাকা ও সময় উভয়ই খরচা করি অকাতরে। এর পরেও অকপট পার্ট অফ লাইফ ভায়া ফেসবুক, হার্ট অফ লাইফ নয়। কাল অকপট না থাকলেও আমি ও আপনি থাকব। সুস্থ সম্পর্কটা টিকে যাবে আজীবন।

ছোট পরামর্শঃ মজা ততটাই করুন, যতটা আপনি নিজে নিতে সক্ষম।

উপসংহারঃ আমার যাবতীয় সকল ভাল কিছুর দায় বা কৃতিত্ব যেমন আমার, তেমনই আমার খিস্তি, দুর্ব্যবহার, অসামাজিকতা, মাগিবাজি, এক্সট্রা গাড়পেয়াজি, ক্যালোয়াতি, সবজান্তা গেঞ্জিওয়ালাভাব, অন্যের পিছনে কাঠিবাজি, ফাঁপা ডায়লোগবাজি, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, সহ যাবতীয় খারাপ কিছুরও সমস্ত দায়ভার আমার একান্ত নিজস্ব। কেউ এর জন্য দায়ী নেই, বা দায় নিয়ে হয়না। বিগত দিকে কাউকে নিতে হয়নি, আগামীতেও কাউকে নিতে হবেনা।
ধন্যবাদ।
শারদীয়ার শুভেচ্ছা।

বুধবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৮

।। দুর্গাপূজা ।।





শ্রী শ্রী চন্ডি গ্রন্থের প্রথম অধ্যায়ের কাহিনী অনুসারে:- প্রলয়কালে পৃথিবী একবিরাট কারণ–সমুদ্রে পরিণত হলে শ্রীবিষ্ণু সেই সমুদ্রের উপর অনন্তনাগকে শয্যা করেযোগনিদ্রায় মগ্ন হলেন। এই সময় বিষ্ণুর কর্ণমল থেকে মধু ও কৈটভ নামে দুই দৈত্যে নির্গত হয়ে বিষ্ণুর নাভিপদ্মে স্থিত ব্রহ্মাকে বধ করতে উদ্যত হল। ভীত হয়ে ব্রহ্মা বিষ্ণুকে জাগরিত করবার জন্য তাঁর নয়নাশ্রিতা যোগনিদ্রাকে স্তব করতে লাগলেন। সন্তুষ্ট হয়ে দেবী শ্রীবিষ্ণুকে জাগরিত করলে তিনি পাঁচ হাজার বছর ধরে মধু ও কৈটভের সাথে মহাযুদ্ধে রত হলেন। পিতৃপক্ষ আর দেবীপক্ষর সন্ধক্ষিণ হচ্ছে মহালয়া৷ ভাদ্র মাসের কৃষ্ণা প্রতিপদ শুরু হয়ে পরর্বতী অমাবস্যা র্পযন্ত সময়কে দেবীপক্ষ বল৷ পুরাণ মতে ব্রহ্মার নির্দেশে পিতৃপুরুষরা এই ১৫ দিন মনুষ্যলোকের কাছাকাছি চলে আসনে৷ তাই এই সময় তাঁদরে উদ্দেশ্যে কিছু র্অপণ করা হলে তা সহজেই তাদের কাছে পৌছায়। তাই গোটা পক্ষকাল ধরে পিতৃপুরুষদেব স্মরণ ও মননের মাধ্যমে র্তপণ করা হয়৷ যার চূড়ান্ত প্রকাশ বা মহালগ্ন হল এই মহালয়া৷
অনেকেই এই দিনটিকে দেবীপক্ষের সূচনা বলে থাকেন। যদিও এটি একটি জনপ্রিয় ভ্রান্ত ধারণা৷ মহালয়া পিতৃপক্ষরে শেষ দিন৷ পরের দিন শুক্লা প্রতিপদে দেবীপক্ষের সূচনা হয়৷ সেই দিন থেকে কোজাগরী পুর্ণিমা পর্যন্ত ১৫ দিনিই হল দেবীপক্ষ৷
মহালয়া শব্দরে র্অথ অনুসন্ধান করলে দখো যাবে মহান+আলয় =মহালয়৷ সঙ্গে স্ত্রীকারাত্মক আযুক্ত হয়ছে, আবার মহ শব্দের র্অথে পায় পুজা এবং উত্সব৷ অর্থাৎ মহালয়া একটি র্অথে দাঁড়ায় পুজা বা উত্সবের আলয়৷ অন্যদিকে, মহালয়া বলতে পিতৃলোককে বোঝায়৷ যখন, বিদেহী পিতৃপুরুষ অবস্থান করেন৷ সেক্ষত্রে পিতৃলোককে স্মরণের অনুষ্ঠানই মহালয়া৷ এই দিনটিকে পিতৃপূজা ও মাতৃপূজার পরম লগ্ন বলে মনে করা হয়৷
মহালয়ার মূল মন্ত্রের দিকে যদি তাকানো যায়, তাহলে তারমধ্যে এক বিশ্বজনীন চেতনা লক্ষ্যকরা যাবে, সেখানে বলা হচ্ছে, “ময়া দত্তনে তোয়নে তৃপ্যান্ত ভুবনত্রয়ম”৷ অর্থাৎ র্স্বগ, র্মত, পাতাল এই তিন ভুবনকে এই মন্ত্রর মাধ্যমে স্মরণ করা হয়৷ এই মন্ত্রোচ্চারণ করে তিন গণ্ডুষ জল অঞ্জলি দেওয়াই রীতি। এর মাধ্যমে বিদেহী পিতৃপুরুষ ও তাঁদরে র্পূবপুরুষকে স্মরণ করা হয়৷ এখানে কোনও জাতপাত বা শ্রেনীবৈষম্য নেই। আত্মীয়– অনাত্মীয় ভেদ নেই৷ হিন্দু অহিন্দু দ্বন্দ্ব নেই৷ দেশ–কালের সীমা নেই৷ আব্রহ্ম স্তম্ভ পর্যন্ত জগত তৃপ্যতু৷ এই মন্ত্র উচ্চারন করলে ব্রহ্ম থেকে পদতলে তৃণ র্পযন্ত সকলরে উদ্দেশ্যে র্তপণ করা হয়৷ মহালয়ার এই র্তপণ ভারতীয় সংস্কৃতির অন্যতম ঐতহ্যি, যা র্সবজনীন তথা বশ্বিজনীন চেতনা থেকে উদ্ভূত।
মহালয়ার আগের পনেরটি তিথী হলো - প্রতিপদ, দ্বীতিয়া, তৃতীয়া, চতুর্থা, পঞ্চমী, ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী, দশমী, একাদশী, দ্বাদশী, ত্রয়দশী, চতুর্দশী, ও অমাবশ্যা।
মহালয়ার দিন মা দূর্গা সন্তানাদি,সখী জয়া ও বিজয়াকে নিয়ে দলবলসহ পৃথিবীতে আগমন করেন। এইদিন চন্ডীপাঠ করে মা দূর্গাকে আমন্ত্রন জানানো হয়।
সনাতন হিন্দু সমাজের বেশীরভাগ বাড়িতে ঘট,ফুল, জল,নৈবদ্য সহকারে মা কে আমন্ত্রন জানানো ভক্তি এবং সাথে আলপনা এঁকে মায়ের ধরনীতে ও গৃহে আসার পথকে শোভনীয় করতে শিল্পমনের পরিচয় বহন করেন।

পুরাণ মতে, রাজা সুরথ প্রথম দেবী দুর্গার আরাধনা শুরু করেন। বসন্তে তিনি এই পূজার আয়োজন করায় দেবীর এ পূজাকে বাসন্তী পূজাও বলা হয়। কিন্তু রাবণের হাত থেকে সীতাকে উদ্ধার করতে যাওয়ার আগে শ্রীরামচন্দ্র শরৎকালে দেবী দুর্গার পূজা করেছিলেন। অকালে তথা শরৎকালে অনুষ্ঠিত হওয়া এই পূজা তখন থেকেই অকালবোধন নামে পরিচিত ।
স্কন্দপুরান বর্ননা অনুসারে রুরু দৈত্যর পুত্র দূর্গকে বধ করেছিলেন বলেই পার্বতীর নাম হয়েছে দেবীদূর্গা। তবে বাঙ্গালীর দূর্গোৎসবে দেবী কিন্তু স্কন্দপুরানের বর্ননামতে দূর্গাসুর বধকারী রুপে তিনি পূজিত নন। এখানে তিনি পূজিত হন মহিষাসুর মর্দিনী রুপে। দেবী দূর্গার এই আবির্ভাবের পরিচয় পাওয়া যায় মার্কন্ডেয় পুরানে। ভাগবত পুরান অনুসারে ব্রম্মার মানস পুত্র মনু পৃথিবীর শাসনভার পেয়ে ক্ষীরোদ সাগরের তীরে মৃম্ময়ী মুর্তি নির্মান করে দেবী দূর্গার আরাধনা করেন। মার্কন্ডেয় পুরান মতানুসারে এই দুগোৎসবের আয়োজন করেন রাজা সুরথ। আর রাজা সুরথ এই দূর্গাপূজা করেছিলেন বসন্তকালে।
“যা চন্ডি মধুকৈটভারী, দৈত্য দলনী, যা মহিষমর্দিনী, যা দূর্গে চন্ড মুন্ডোমালিনী, যা রক্ত বিজশ্বরী, শক্তি সুন্দরী সুন্দর দৈত দলনী—যা—“। আশ্বিনের শারদ প্রাতে বেঁজে উঠেছে আলোক মঞ্জিল, ধরনীর বর্হিআকাশে–অন্তরিত মেঘমালা, প্রকৃতির অন্তর আকাশে জাগরিত জোর্তিময়ী জগৎমাতার আগমন বার্তা, আনন্দময়ী মহামায়ার পদ্ধধ্বনি অসিম ছন্দে বেজে ঊঠে রুপলোক ও রশলোকে আনে নবভাব মাধুরীর সঞ্জিবন, ত্রাহি আনান নন্দিতা শামলী মাতৃকার চিন্ময়ীকে–মৃন্ময়ীকে আবাহন। আজ শক্তিরুপীনি বিশ্বজননীর শারদও শ্রীমন্ডিত প্রতিমা মন্দিরে মন্দিরে ধ্যানগ্রহিতা।
কথিত রয়েছে মহালয়ার দিন ঘট বসে। সেদিন থেকেই নিয়মিত ঘট পুজো করা হয়। মহাষষ্ঠীর দিন মায়ের বোধন হয়। সেদিনই বোধনের ঘট বসে। মহাসপ্তমীর দিন নিয়ম মেনেই কলাবউ স্নান ও পুজোর অন্য আচার পালন করা হয়। মহাষ্টমীতে পুজোর পাশাপাশি সন্ধিপুজোরও আয়োজন করা হয়। তন্ত্রমতেই করা হয় সন্ধিপুজো। নিয়মমেনে ১০৮ প্রদীপ ও পদ্ম দেওয়া হয়। হোম ও যজ্ঞ করা হয় নবমীতেও। দশমীর দিনই প্রতিবার নিয়ম মেনে বিসর্জন দেওয়া হয়।
উপমহাদেশে জমিদারী প্রথা বিলোপের পর শারদীয় দূর্গপূজায় জমিদারদের অংশ গ্রহন স্বাভাবিক ভাবেই অনেকটা কমে যায়। নব্য ধনীক শ্রেনীর উদ্ভবের পরিপ্রেক্ষিতে দূগোৎসব আয়োজক কমিটিতে যুক্ত হয় অনেক নতুন নতুন মূখ। তবে প্রতিটি দুর্গোৎসবই তখনকার সময় আয়োজিত হত সম্পূর্ন একক উদ্যোগে। আনুমানিক ১৭৯০ খ্রীষ্টাব্দে অবিভক্ত বাংলার পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলার গুপ্তিপাড়ায় ঘটে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
গুপ্তিপাড়ার একটি ধনী পরিবারের আকস্মিক অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের ফলে অনিশ্চয়তার সন্মূখীন হয় ঐ বাড়ীটির বাৎষরিক দূর্গাপূজার আয়োজন। তখন গুপ্তিপাড়ায়ার ১২ জন বন্ধু মহলের যুবক এগিয়ে আসেন যৌথ উদ্যোগে দূর্গাপূজা পালন করার জন্য। এই ১২ জন ইয়ার বা বন্ধু সংঘবদ্ধভাবে গ্রহন করে পূজা পালনের সার্বিক দায়িত্ব। আর গুপ্তিপাড়ার এই পূজাটি মানুষের কাছে পরিচিত হয় “বারোইয়ারী” বা বারোয়ারী পূজা নামে। এই বারোয়ারী পূজার সুত্র ধরে একক উদ্যোগে সম্পাদিত দুর্গাপূজাই আজ পরিনত হল সার্বজনীন শারদীয় উৎসবে। ধনীর আঙ্গিনা থেকে দূর্গাপূজা নেমে এলো অনেকটা সাধারন মানুষের সাধ্যের মাঝে। গুপ্তিপাড়ার আদর্শ অনুসরন করে সম্মিলিত উদ্যোগে বারোয়ারী পূজা ছড়িয়ে পড়ল ভারতীয় উপমহাদেশসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।
রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রের এই নৈকট্য সাধারন মানুষকে সাহস জোগালো র্দূগাপূজা মতো সর্ববৃহৎ ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্টানে বিত্তশালীদের একচেটিয়ে অধিকারে ভাগ বসানোর। ব্যক্তি বা বারোয়ারীর সীমা ছাড়িয়ে দূর্গাপূজা আজ পরিনত হল সার্বজনীন শারদীয় উৎসবে।
উরিষ্যার রামেশ্বরপুরে একই স্থানে ৪০০ শত বছর ধরে সম্রাট আকবরের আমল থেকে দূর্গা পূজা হয়ে আসছে। ১৯১০ সালে সনাতন ধর্মউৎসাহিনী সভা ভবানীপুরে বলরাম বসু ঘাট লেনে এবং একই জেলায় অন্যান্যরা রামধন মিত্র লেন, সিকদার বাগানে একই বছরে ঘটা করে প্রথম বারোয়ারী পুজার আয়োজন করে।
ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে দূর্গা স্বাধীনতার প্রতীক হিসাবে জাগ্রত হয়। বিংশ শতাব্দির প্রথমার্ধে এই পূজা ঐতিহ্যবাহী বারোয়ারী বা কমিউনিটি পূজা হিসাবে জনপ্রিয়তা লাভ করে। আর স্বাধীনতার পর এই পূজা পৃথিবীর অন্যতম প্রধান উৎসবের মর্যাদা পায়।

ভারতের দ্রাবিড় সভ্যতায় মাতৃতান্ত্রিক দ্রাবিড় জাতির মধ্যে মাতৃদেবীর পূজার প্রচলন ছিল। সিন্ধু সভ্যতায় (হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো সভ্যতা) দেবীমাতা, ত্রিমস্তক দেবতা, পশুপতি শিবের পূজার প্রচলন ছিল। দূর্গা শিবের অর্ধাঙ্গিনী সে হিসাবে অথবা দেবী মাতা হিসাবে পূজা হতে পারে। তবে কৃত্তিবাসের রামায়নে আছে, শ্রী রাম চন্দ্র কালিদহ সাগর (বগুড়ার) থেকে ১০১ টি নীল পদ্ম সংগ্রহ করে সাগর কূলে বসে বসন্তকালে সীতা উদ্ধারের জন্য সর্বপ্রথম শক্তি তথা দুর্গোৎসবের (বাসন্তি পূজা বা অকাল বোধন) আয়োজন করেছিলেন। মারকেন্দীয়া পুরান মতে, চেদী রাজবংশের রাজা সুরাথা খ্রীষ্ট্রের জন্মের ৩০০ বছর আগে কলিঙ্গে (বর্তমানে উরিষ্যা) নামে দূর্গা পুজা প্রচলন করেছিল। যদিও প্রাচীন উরিষ্যার সাথে নেপালের পূজার কোন যোগসূত্র আছে কিনা জানা নাই।
ইতিহাস থেকে যতটুকু জানা যায় মধ্য যুগে বাংলা সাহিত্যে দূর্গা পূজার অস্তিত্ব পাওয়া যায়। ১১শ শতকে অভিনির্ণয়-এ, মৈথিলী কবি বিদ্যাপতির দূর্গাভক্তিতরঙ্গিনীতে দূর্গা বন্দনা পাওয়া যায়। বঙ্গে ১৪শ শতকে দুর্গা পূজার প্রচলন ছিল কিনা ভালভাবে জানা যায় না। ১৫১০ সালে কুচ বংশের রাজা বিশ্ব সিংহ কুচবিহারে দূর্গা পূজার আয়োজন করেছিলেন। ১৬১০ সালে কলকাতার বারিশার রায় চৌধুরী পরিবার প্রথম দূর্গা পূজার আয়োজন করেছিল বলে ধারণা করা হয়। ১৭৯০ সালের দিকে এই পূজার আমেজে আকৃষ্ট হয়ে পশ্চিম বঙ্গের হুগলি জেলার গুপ্তি পাড়াতে বার জন বন্ধু মিলে টাকা পয়সা (চাঁদা) তুলে প্রথম সার্বজনীন ভাবে আয়োজন করে বড় আকারে দূর্গা উৎসব। যা বারোইয়ার বা বারবন্ধুর পূজা নামে ব্যাপক পরিচিতি পায়।
দেবী দূর্গা হলেন শক্তির রূপ, তিনি পরব্রহ্ম। অনান্য দেব দেবী মানুষের মঙ্গলার্থে তাঁর বিভিন্ন রূপের প্রকাশ মাত্র। হিন্দু ধর্মশাস্ত্র অনুসারে দেবী দূর্গা ‘দূর্গতিনাশিনী’ বা সকল দুঃখ দুর্দশার বিনাশকারিনী। পুরাকালে দেবতারা মহিষাসুরের অত্যাচারে স্বর্গ থেকে বিতাড়িত হয়েছিল। ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর’র শরীর থেকে আগুনের মত তেজরশ্মি একত্রিত হয়ে বিশাল এক আলোক পূঞ্জে পরিণত হয়। ঐ আলোক পুঞ্জ থেকে আর্বিভূত এক দেবী মূর্তি। এই দেবীই হলেন দুর্গা। দিব্য অস্ত্রে সজ্জিত আদ্যাশক্তি মহামায়া অসুর কুলকে একে একে বিনাশ করে স্বর্গ তথা বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে শান্তি স্থাপন করেন।
দেবী দূর্গা ত্রি-নয়না বলে তাঁকে ‘ত্রৈম্বক্যে’ বলা হয়। তাঁর বাম চোখ হলো বাসনা (চন্দ্র), ডান চোখ কর্ম (সূর্য) ও কেন্দ্রীয় চোখ হলো জ্ঞান (অগ্নি)। দূর্গার দশ বাহুতে যে দশটি অস্ত্র রয়েছে, সেই অস্ত্রসমূহও বিভিন্ন প্রতীকের ইঙ্গিতবাহী। শঙ্খ ‘প্রণব’ বা ওঙ্কার ধ্বনির অর্থবহতা নির্দেশ করে। তীর ধনুক দেবীর শক্তিমত্তার প্রতীক। মায়ের হস্তে ধৃত বজ্রাগ্নি হলো ভক্তের সঙ্কল্পের দৃঢ়তা। দূর্গা’র হাতের পদ্ম বা ‘পঙ্কজ’ অর্থ হলো পদ্ম যেমন কাদামাটির ভেতর হতে অনাবিল হয়ে ফোটে, তেমনি দেবীর উপাসকরাও যেন লোভ-লালসার জাগতিক কাদার ভেতর হতে আত্মার বিকাশ ঘটাতে পারে। দেবীর তর্জনীতে ধরা সুদর্শন চক্র তাঁর শুভতার লালন ও অশুভের বিনাশের ইচ্ছার প্রকাশ। দূর্গার হাতে ধরা তলোয়ার জ্ঞানের ইঙ্গিত ও ত্রিশুল হলো সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ গুণের প্রকাশ। হিন্দু শাস্ত্র মতে, দৈত্য, বিঘ্ন, রোগ, পাপ ও ভয়-শত্রুর হাত থেকে যিনি রক্ষা করেন, তিনিই দুর্গা।
নেউর ও ধেঙুড় ছিলেন দুই ভাই ও তারা কর্মসূত্রে ছিলেন তান্ত্রিক। আনুমানিক ১৪৫০ খ্রিষ্টাব্দকালে তাঁরা খড়দহের শ্মশান ঘাটে তন্ত্র সাধনা করতে আসতেন। পণ্ডিত কামদেব যিনি ছিলেন রাধাকান্ত মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা, তাঁর একদিন গঙ্গাস্নান করতে এসে এদের দুজনের সাথে পরিচয় হয়। তারপর তিনি তাদের সেই রাধাকান্ত মন্দির দর্শন করাতে নিয়ে যান। কিছু সময়ের আলাপ আলোচনার পর পণ্ডিত কামদেব দুই ভাই কে খড়দহে বসবাসের জন্যে অনুরোধ করেন আর একই সাথে অনুরোধ করেন রাধাকান্তের সেবার জন্যে। বিনা পয়সা তে জমি নেবেন না বোলে মোট একুশ গণ্ডা কড়ি দিয়া খড়দহের একটি জায়গা কেনেন যা আজ ভট্টাচার্য পাড়া নামে খ্যাত। তারপর ওনারা সেখানে বসবাস শুরু করেন।
কিছুদিন পর হঠাৎ নেউর স্বপ্নাদেশ পান খড়দহের কোন অরণ্যে এক সাধকের কাছে যাওয়ার। সেখানে সেই দুই ভাই যান ও সত্যিই সেখানে সেই সাধকের দেখা পান। সেই সাধক তাদের একটি শিবলিঙ্গ দেন এবং সেটিকে তাদের গৃহে প্রতিষ্ঠা করার অনুরোধ করেন। তাঁর অনুরোধে প্রতিষ্ঠিত হয় সেই শিবলিঙ্গ। সেই শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠানের ৩ বছরের মধ্যেই শুরু হয়ে দেবী দুর্গার পূজা। এই পূজা নেউর ও ধেঙুড় নিজেরাই মন্ত্র পাঠ করে করতেন এবং এই পুজ হত এবং আজও হয়ে আসছে 'তান্ত্রিক মতে'। এবং এই দুর্গাপূজাটি হল ২৪ পরগণার সবচেয়ে পুরানো পূজা। এই পূজাতে আগে মহিষ বলি হত। তারপর নিত্যানন্দ মহাপ্রভুর অষ্টম গর্ভের সন্তান বীরচন্দ্রের অনুরোধে তা বন্ধ করা হয় এবং তার পরিবর্তে ফল বলি শুরু হয়।
◘ পূজার বৈশিষ্ট্য –
ক) কলাবৌ কে গঙ্গাজলে স্নান কোরানোর পরিবর্তে ১০৮ টি ঘটের জলে স্নান করানো হয় এবং এই ১০৮ টি ঘটে ১০৮ রকমের জল থাকে।
খ) এই পূজাতে আগে মহিষ বলি হত। তারপর নিত্যানন্দ মহাপ্রভুর অষ্টম গর্ভের সন্তান বীরচন্দ্রের অনুরধে তা বন্ধ করা হয়ে এবং তার পরিবর্তে ফল বলি শুরু হয়।
গ) বীরচন্দ্র গোস্বামীর কথায় দেবী দুর্গার পূজার সময়ে শ্রী শ্রী গোপাল ও নারায়ণ এর ও পুজ হয়।
ঘ) সন্ধিপুজার সময়ে দেবীর ভোগ হিসাবে এঁচোর দাওয়া হয়।
মহাষষ্ঠীর দিন প্রতিমাকে লুচি ও বিভিন্ন নিরামিষ তরকারি ভোগ হিসেবে দেওয়া হয়। ওইদিন বাড়ির মায়েরা উপবাস করেন। মহাসপ্তমীর দিন থাকে খিচুড়ি ভোগ। সঙ্গে থাকে বেগুনি, লাবড়া, আলুর দম, বাঁধাকপির তরকারি, চাটনি ও তিন রকমের মিষ্টি। মহাষ্টমীর দিন থাকে লুচি ভোগ। সঙ্গে ধোকার ডালনা, ছোলার ডাল, কুমড়ো-আলুর ছক্কা, চাটনি ও তিন রকমের মিষ্টি। নবমীর দিন মাকে পুষ্পান্ন (বৈষ্ণব মতে পোলাওকে পুষ্পান্ন বলা হয়) এছাড়া পনিরের পকোড়া ও তরকারি, আলুর দম, ছানার ডালনা, চাটনি ও তিন রকমের মিষ্টি দেওয়া হয়।
সনাতন ধর্ম বিশ্বাস করে, “মানুষের দেহ পাঁচটি উপাদান দিয়ে তৈরি”। যথা: আকাশ, বায়ু, অগ্নি, জল ও মাটি। তাই মৃত্যুর পর এই দেহ আগুনে দাহ করা হয় অথবা মাটি দেওয়া হয়। অর্থাৎ যে উপাদান দিয়ে এই দেহ তৈরি, মৃত্যুর পর আবার সেই একই উপাদানে মিশে যায়।
তেমনি প্রতিমার ক্ষেত্রেও তাই, তা মাটি দিয়ে তৈরি। মাটির প্রাণহীন মূর্তিতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করলে সেটি প্রতিমা হয়। আর পূজা শেষে দেবীকে বিদায়ের পর সেই প্রতিমাটি আবার প্রাণহীন মূর্তি হয়ে যায়। আর তাই তাকে আবার পঞ্চতত্ত্বের একটি, সেই জলেই বিসর্জন দেওয়া হয়।
এই প্রতিমা পূজার সর্বশেষ ধাপ হচ্ছে বিসর্জন। জলের মাধ্যমেই যেন মাটির প্রতিমা পুনরায় প্রকৃতিতে মিশে যায়, সেই জন্যই আমরা গঙ্গার জলে প্রতিমা বিসর্জন দেই। আমাদের হৃদয়ে যে নিরাকার ঈশ্বর রয়েছে, উপসনার জন্য মাটির প্রতিমা তৈরি করে তাকে “সাকার রূপ”দেওয়া হয়।
পূজা শেষে পুনরায় সেই “সাকার রূপ”কে বিসর্জন দিয়ে নিরাকার ঈশ্বরকে হৃদয়ে স্থান দেওয়া হয়। সেই কারণেই দুর্গা পূজার সময় যখন প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয় তখন মায়ের প্রতি আমাদের প্রার্থনা থাকে, “মা, তুমি আবার এসো আমাদের মাঝে।
যে জন্ম নিয়েছে, তার মৃত্যু অনিবার্য ৷ এটাই প্রকৃতির শাশ্বত নিয়ম ৷ ঠিক তেমনি যাকে আবাহন করা হয়, তার বিসর্জনও অনিবার্য ৷ বিসর্জনের মাধ্যমেই “পুনরায় আগমনের” আশা সঞ্চারিত হয় ৷ এটিই প্রতিমা পূজা ও প্রতিমা বিসর্জনের মূল তাৎপর্য।
___________
সংকলনঃ উন্মাদ হার্মাদ
তথ্যঃ ইন্টারনেট

রবিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

।। মিশ্র আদালত ।।




সর্বোচ্চ আদালত, তথা দীপক মিশ্র মোদীকে বাঁচতে একের পর এক কন্ট্রোভার্সি রায় দিয়ে যাচ্ছে।
আপনি আমি খেটে খাওয়া মানুষ, কে পোঁদ মারবে আইনত, কে বৌদির ঝাঁপ খুলবে আইনকে সাথে নিয়ে, মুসলমানেরা কোথায় নামাজ পড়বে, হিন্দুরা কোথায় মন্দির বানাবে, খ্রীষ্টানেরা কি খাবে, ইত্যাদি ইত্যাদি
সত্যিকরে বলুনতো, এ সবে আপনার কিচ্ছু যায় আসে? এগুলো হবার দরুন আপনার কিছু সুরাহা হয়েছে দৈনন্দিনের আগুনে ঘর খরচাতে? প্রেট্রোপন্য থেকে রুপির দাম, বেনিয়া চোরের কোনো ভ্রুক্ষেপ আছে? চোর গান্ডূটা আজ গান্ধী মুর্তির গলাতে মালা পরাচ্ছে, গত চার বছরে RSS দেশদ্রোহী নাত্থুরাম গডসের মুর্তিতে মালা পড়িয়ে এসেছে।
মুখ থেকে মুখোশ খসে পরেছে। তাই তো আজ সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নামের একটা বুদ্বুদের ছায়াতে নিজেকে বাঁচাতে চাইছে।
যেমন গোটা বিজেপি দলটা রবার্ট ভাদ্রা নামের একটা নামের আড়ালে লুকিয়ে পরতে চাইছে। কারন? কারন চুরি ধরা পরে গেছে, আর অজুহাত দেবার মত কিছু বেঁচে নেই।
সীমাহীন দুর্নীতি আর হিমালয় সম মিথ্যার পর্বতের নিচে চাপা পড়ে আছে একটা ধর্মীয় উগ্রবাদী সঙ্ঘ। এর পরেও মানুষকে বোকাচোদা ভাবছে!!
ঠিক এখনই কেন এই রায় গুলো? যাতে মানুষ বাকি সব সমস্যা ভুলে থাকে, থাকছেও।
এই সেই দীপক মিশ্র, যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির চরম অভিযোগ এনেছিল পাঁচ বিচারক।
এর পর খুব শিজ্ঞির "যুদ্ধ যুদ্ধ" ভাব বাজারে চলে আসবে। এখন যুদ্ধ পুজোর প্যান্ডেল গড়া চলছে।
দেশপ্রেমের রজঃস্রাবে ভক্তরা রমন খুঁজে পাবে।
বুঝে পাইনা কজন ভক্ত বা নাগপুরী বলদ/মর্কট সেনাতে আছে? এরা তো ভাবে সেনা বোধহয় এদের বাপের সম্পত্তি। হতেই পারে সেনাদের বাপেরা এদের মায়ের ঘরে এসেছিল।
বাজারে "যুদ্ধ" এলো বলে, অপেক্ষায় থাকুন।
কিন্তু- এবারে ঘুঘু তোমার বাঁচার চান্স নাই-
"খোদা পাহাড়, নিকলা খটমল, চোর"

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...