শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২০

বিদঘুটে খেয়াল


(১)

করোনা আবহে গৃহবন্দীর অস্বস্তি যখন কিছুটা সয়ে যাব যাব করছে, ঠিক তখনই ছাল ক্যালানো গরমটা আবির্ভুত হল এলাকাতে। কিছুদিন আগেই একটা বিধ্বংসী অগ্নিকান্ডে বাড়ির ইলেকট্রিক ওয়্যারিং সিস্টেমের অনেকটা জ্বলে পুড়ে যাচ্ছেতাই পরিস্থিতি করে দিয়েছিল। কিছু লাইট ফ্যান ছাড়া অধিকাংশ ইলেকট্রনিক্স গেজেটই বর্তমানে কোমায়, তার মাঝে এসি থেকে ইনভার্টার সবই আছে। লকডাউনের বাজারে এই গাঁ-ঘরে মিস্ত্রী পাওয়া দুষ্কর, থাকলেও তাকে ঘরে ঢুকতে দিতে মন সায় দেয়না, কে জানে সেই লোক করোনার বাহক কিনা। অগত্যা, ‘জান হ্যায় তো জাহান (নুসরত নয়) হ্যায়’, গরমকে এঞ্জয় করা ছাড়া উপায় থাকেনা। কারেন্ট চলে যাওয়া মানেই গরমের তাণ্ডবে মশাদের চড়ুইভাতির জন্য কুলকুল করে ঘামা কুঁদো শরীরটাকে আহুতি দেওয়া

গতকাল রাত্রেও তার ব্যাতিক্রম হলনা, আকাশে মেঘের সঞ্চার হয়ে পরিবেশ গুমোট হতেই কারেন্ট চলে গেল। কিছুক্ষণ ছাদে ঘোরাঘুরি করে অবশেষে নিচের তলার ঘরে সিফট হলাম বালবাচ্চা সহ। বালবাচ্চা মশারির মাঝে খানিক বিদ্রোহ করে ঘুমিয়ে যেতেই তাদের মা ও আমার মা দুজনেই দ্রুত তাদের অনুসারী হল। আমার এদিকে ঘুমই আসেনা, বারান্দায় এসে খানিক শুলাম- ওমা, সেটা শুধু মশাদেরই ‘ধারাবি’ ছিল তা নয়, বরং সামান্য দূরের উঠোনে হরেক কীটপতঙ্গ ও রাতচড়া পাখিদের রেওয়াজ করার স্টুডিও ছিল সেটি। সুতরাং অবৈধ অনুপ্রেবেশের দায় থেকে মুক্তি নিয়ে অগত্যা দোতলার দক্ষিণের ঘরে এসেই ডেরা নিলাম, মোবাইলেও চার্জ নেই যে ফেসবুক টুইটারে গুঁতাবো

জুলুজুলু চোখে জানালার গ্রিলের ওপাড়ে, পেয়ারা গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে- নিম গাছের কল্পিত পেত্নিকে খোঁজার চেষ্টা করতে লাগলাম, তারপরই একটা ন্যাড়া শিমুল গাছ কঙ্কালের মত দাঁড়িয়ে। সামনের ছোট্ট চত্বরটাকে ঘিরে থাকা কিছু হাতির শুঁড়, চটকাঠি, শেয়ালকাঁটার ঝোপের মাঝে গলা উঁচিয়ে থাকা শ্যাওড়া, জিবলি, বাঁদরলাঠি, ফলসা, নারকেল, কাঁঠালগাছ ইত্যাদির মত জাঁদরেল পার্শ্ব চরিত্রদের উপস্থিতি- পরিবেশের হন্টেড লুকটাকে একটা আদর্শ টেক্সচার দান করেছে। কোনও কিছুতেই কিছু খুঁজে পেলামনা, অথচ মাঝরাত্রের আদুরে চাঁদের আলো, সামান্য দূরে কুকুরদের একটা স্ট্রীট কর্ণার, ব্যাঙেদের সমবেত স্লোগান, ঝিঁঝিঁদের গলা সাধা, ডাহুকের ছমছমানি ডাক, কয়েকটি পেঁচার পেট্রোল ডিউটির চোটে রাতকানা পায়রার ঝাঁকের কলরব ইতাদির উপস্থিতি ব্যাকগ্রাউন্ডকে একদম সিনেমাটিক সিল্যুয়েড মোডে রেখেছিল ভয় পাওয়ানোর জন্য

ভয় কিন্তু অধরায় রয়ে গেল। আসলে সেই যবে থেকে বিয়ে করেছি, যা কিছু প্রেতজনিত ক্রীড়াকলাপ সবই দাম্পত্যের মাঝে ঘটতে দেখেছি একতরফা ভাবে। আমার চোখ স্ত্রীজাতির দানবীয় ঘটনার সাক্ষী বলেই হয়ত, ফচকে ভূত-পেত্নীর মত কোনো তুচ্ছ অতিপ্রাকৃত বিষয় ধরা দেয়না চর্মচক্ষে। হয়ত সেই অশরীরীর দল ভাবে, “এই বেচারার কাঁধে এমনিতেই আমাদের গুরুমার বাস- অগত্যা কেন মিছিমিছি সেখানে গিয়ে নিজেদের বেইজ্জত করব”! নিশ্চই বুঝতে পারছেন, সাধু-ফকিরেরা কেন প্রেতাত্মাদের দেখা পায় বা তাদের বশীকরণ করতে পারে। কারন তাদের ঘরে বৌ থাকেনা বলেই ভূতপ্রেত আসতে সাহস পায়

তো সে যাই হোক, চোখটা বুজে যেই বালিশে মাথা রেখেছি- ওমা দেখি কে যেন পায়ের দিকটাতে কাঁদছে। ভূত দেখার যে আনন্দটা ছিল সেটা ছোট্ট করে আতঙ্কে পরিণত হল, কয়েক মুহুর্তের সেই আতঙ্ক বিলাস সামলে কানটা খাড়া করে শুনতেই বুঝলাম, মাল সে যেই হোক- আছে কিন্তু ঘরের মধ্যেই। জেগে উঠে দেখার চেয়ে ঘুমের ভান করে পরে রইলাম, কার্যক্রম বোঝার জন্য। কান খাড়া করে শুনলাম- মিনমিনে আওয়াজ কিন্তু একজন নয়, অনেকের আওয়াজ

- কাঁদিসনা ভাই, সবুর কর আরো কিছুদিন। নিশ্চই উপরওয়ালা আমাদের উপরে সদয় হবেন

- সমানে মাথার উপরে টকাটক এমন বারি কাঁহাতক সহ্য হয়রে বোন!

- কিইবা করার আছে বল, আমিও তো কোমরের যন্ত্রণাতে মাজা সোজা করতে পারছিনা মোটেই

- হুম পিঠে হাত রেখেই তো সারাক্ষণ কুট কুট করে ভাঙা জাইগাটাতে টিপে যাচ্ছে হতচ্ছাড়াটা

তৃতীয় একজন কেউ ওমনি বলে উঠল,

- তবু তো তোদের টিপেটাপেই ছেড়ে দেয়, আর আমাকে তো জ্বালিয়ে রেখে দেয় দুপুর থেকে ভোর পর্যন্ত। এখান দিয়ে সেখান দিয়ে গোঁজাগুঁজি চলে। আমি তো গরম হয়ে উঠি তীব্রতাতে, তবুও কী আমার নিস্তার মেলে!

একটা চোখের কোনা একটু খানি খুলে যা দেখলাম তাতে চক্ষু চড়কগাছ

ল্যাপটপটা ভেন্টিলেশনে থাকা রোগীর মত ব্যাথাতুর আওয়াজে কথা বলছে কিবোর্ড আর মাউসের সাথে। কিবোর্ডের সুইচ গুলো কোন নিয়মে ভাই হয়েছে সেটা যেমন বুঝতে পারলামনা, তেমনি মাউসকে কেন বোন বলে সম্বোধন করছে সেটাও অজানা; আজব কেলেঙ্কারিয়াস ব্যাপারস্যাপার

হঠাৎ ডাইনিং থেকে একটা দেঁতো হাসির আওয়াজ এলো, অন্ধকারের মধ্যেই ঘাড়টা একটু তেরছাভাবে তাকাতেই পিলে তড়াক তড়াক করে লাফাতে লাফাতে মুখ দিয়ে বাইরে বেড়িয়ে আসার উপক্রম হল। দেখি ফ্রিজটা হাতপা ছুড়ে গড়াগড়ি দিয়ে হাসছে, সাথে অনেক কিছুই বলছে সবটা বুঝতে পারলামনা। এটুকু বুঝলাম যে সে ল্যাপটপকে নিয়েই তামাশা করছে। ল্যাপটপ ও তার সম্প্রদায়েরা কখনও হয়ত ফ্রিজের ওই সারাক্ষণ চালু থাকা বিষয়ে কখনও খোঁটা দিয়েছিল, এখন সেটাই উশুল করছে ফ্রিজ ব্যাটা। আমি যতটা সন্তর্পনে দেখতে গিয়েছিলাম, তার চেয়েও বেশি সাবধানতা অবলম্বন করে আবার স্বস্থানে ফিরে এসে, কিবোর্ডের সুইচগুলোর বেদনা গাথা শুনতে লাগলাম

 

(২)

একটু ঢুলুনি এসেছে কী আসেনি, শুনলাম মাথার দিক থেকে বাঁশির মত পিঁ পিঁ আওয়াজে নাকডাকার শব্দ ভেসে আসছে। নিজের নাকে হাত দিয়ে দেখলাম, উঁহু সেখানে কোনো গোলোযোগ নেই। ভাবতে লাগলাম, হচ্ছেটা কী আজ আমার সাথে! কিবোর্ডের মাথা যন্ত্রণা, ফ্রিজের হাত পা ছুড়ে নাচ, মোটেই গতিক ভাল ঠেকছেনা। বৌকে হাঁক দিতে যাব, ওমনি মাথার নিচে থেকে বালিশের আওয়াজ এলো-

- মরণ দশা, মিনসে নাক ডেকে ঘুমানোর ছিরি দেখো। বলি ও ঠাকুরপো, তোমার নাক ডাকাটা একটু কম করো বাপু, সারাদিন কনুয়েই গুঁতো খেয়ে খেয়ে আমার সারা পাঁজরে পাকা ফোঁড়ার মত ব্যাথা তো ছিলই, এখন ওই ন্যাড়া মাথার খোঁচা চুলের খোঁচায় প্রাণ ওষ্ঠাগত। একটু শান্তিতে ঘুমোতে দাও বাপু

পাশবালিশটা খৈনি মুখে রাখা আওয়াজে বলে উঠল, “ও ছোট, ওকে জাগাসনা ভাই। ও জেগে গেলেই কর্তা আবার আমার উপরে তোকে ফেলে, মাথা চড়িয়ে দেবে। বড্ড শ্বাসকষ্ট হয় রে আজকাল, ওকে শান্তিতে ঘুমোতে দে

বিছানাটার ছাদরটা দেখি ফ্যাচ ফ্যাচ করে হেঁচে নিয়ে, সর্দি ধরা গলায় সুর করে বলল, “টয়লেটে যাওয়া ছাড়া আমার কোনো রক্ষা আছে! এখানেই খাচ্ছে, হাত মুছছে, নাকের শিকনি থেকে চোখে পিঁচুটি, কানের খোল, পাছার ফুসকুড়ির রস সব পুঁছছে আমার উপরে”। ভীষণ রকমের চোটে গিয়ে গদিটা বলে উঠল, “ওলো চাদর মাগি- তোর তো তবু শিফটের ডিউটি, হপ্তায় দু’দিন চান করারও সুযোগ পাস, দড়িতে দোলনাতে হাওয়াও খেয়ে আসিস। আর আমরা! আমার কথা ভাব দেখিনি, সারাটা দিন আমার উপরে নেত্ত করছে, গড়াগড়ি খাচ্ছে, খেলা করছে, লাইট বন্ধ করে অন্ধকারে শোয়ার নামে যা সব বিচ্ছিরি কাজকম্ম করে- ম্যা গো, ছিঃ ছিঃ ছিঃ, লজ্জায় তাকাতে পারিনা নিজের পানেই। এসব তো আমাকেই সইতে হচ্ছে”

এবারে একটা কফ বসা ধরা গলায়, গলাখাঁকারি দিয়ে কাঁপা কাঁপা স্বরে খাটটা বলে উঠল, “আমি বুড়ো হয়ে গেছি বলে কি তোরা আমাকে হিসাবের মাঝেই আনছিসনা মনে হচ্ছে। কাঠের তৈরি খাট বলে কী আমি মানুষ নয়! আমার এই চার পায়ার উপরেই তো তোদের পৃথিবী। দীর্ঘদিন নড়াচড়া না করে দাঁড়িয়ে থেকে থেকে বাতের ব্যাথায় বড় কাহিল, অনেকদিন ইউরিক এ্যাসিডের লেভেলটাও চেক করা হয়নি রে। তার উপরে ওই হাতির মতন শরীর নিয়ে ধম্বল মারা, আর যে সহ্য হয়না রে। আগে তো এমন জলহস্তী ছিলনা, হঠাৎ এমনতর কেন হল রে!

এদের আলাপচারিতার মাঝেই, ‘ওরে আমার কি হলো রে, এবারে আমাদের কি গতি হবে রে!’ বলে কারা যেন মাতন করছে। রাজস্থানে রুদালি নামের এক মহিলাদের দল আছে যারা দল বেঁধে এমন করে মড়াকান্না গেয়ে থাকে, পেশাদার বিলাপকারীর দল, কিন্তু আমার ঘরে আবার রুদালি কোত্থেকে এলো! ঘুরঘুট্টি অন্ধকারের মাঝে আমিও যেমন কাউকে দেখতে পাচ্ছিনা আমাকেও কেউ দেখতে পাচ্ছেনা। ল্যাপটপ সম্প্রদায়ের খচরমচরের মধ্যেই আমি নিঃশব্দে উঠে গেলাম সেই রুদালির কান্না লক্ষ্য করে। কান খাড়া করে সামান্য অনুসন্ধানের পরেই উৎসস্থল খুঁজে পেলাম, আমার জামাকাপড়ের আলমারি থেকে আওয়াজ আসছে

খুব সন্তর্পনে দরজাটা ঈষৎ খুলতেই কে যেন হেঁড়ে গলায় গেয়ে উঠল, “We're on our way, way, way/We're on our way somehow”কথাটা বিশুদ্ধ সাহেবি উচ্চারণে, সাহেবি কেতায়, কতকটা যেন টনি গ্রেগের ধারাভাষ্য দেওয়ার মত লাগল। মনে মনে ভাবলাম, ইংরেজ দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার আগে কী এই আলমারিতেই কোনো গোরা ভুতের আরক রেখে গিয়েছিল নাকি! ভূত দেখার আতঙ্কে ও আনন্দে একটা লাফ দিতে যাব, ওমনি একটা ডেঁপো গোছের কেউ বিচ্ছিরি ভাবে বলে উঠল- “আরে ও কাক্কা, তোমাকে তো ওয়াড়া ঠিক কেউ না কেউ দখল করে গায়ে চড়াবেই। কখনও কাউকে দেখেছো ব্লেজার-কোট ফেলে দিতে! অতো ইঞ্জেরি না ফুটিয়ে আমাদের কথাটা একটু ভাবো বস, মৃত্যুর আগে পর্যন্ত শতচ্ছিন্ন ঘরমোছা ন্যাতা হয়ে বাঁচা ছাড়া আমাদের আর কোনো গতি হবে”!

মাঝ বয়সী কাকু টাইপের কেউ একজন বলে উঠল, “ওরে ও জাঙিয়া, তুই থামতে বাপু কত নিবি বলতো? অসভ্য স্থানে যাদের সাথে ঘরকন্না করিস, তাদের নাম নিয়ে কী ডাকাডাকি না করলেই নয়? ভদ্রসমাজে ওগুলোকে গালিগালাজ বলেরে হতভাগা, বলি মানুষ হবি কবে”! পাল্লাটা আরো একটু খুললাম, চোখ ততক্ষণে সয়ে গেছে অন্ধকারে। উদাস মুখে স্যান্ডো গেঞ্জিটা যেন নিজেই নিজেকে বলল, “আগে বগলের গন্ধে অতিষ্ট হয়ে, কিম্বা ডিও’র স্প্রের গন্ধে হেঁচে হেঁচে প্রাণ যেন; এখন বাকি জীবনটা রান্না ঘরের ন্যাতা হয়ে হাঁচতে থাকবো ফোঁড়নের গন্ধে। এই তো জীবন, টি-শার্টদা”

আরেকটা ফুলহাতা জামা যেটা গতবছর কে যেন গিফট দিয়েছিল, সে মঞ্চে ভাষণের মত বলে উঠল- “বন্ধুগণ, সুখ দুঃখ নিয়েই এই ক্ষণস্থায়ী পোশাকজীবন, তোমরা তবুও জানো তোমাদের ভবিষ্যৎ কোনদিকে। আমাদের কথা ভাবো একবার, কোথায় ওয়াসিং মেশিনে স্নান করতাম দামি সুগন্ধি ডিটার্জেন্ট দিয়ে, কত সুন্দর ইস্তিরি করে ভাঁজে ভাঁজে রাখা হত, হাওয়া খাওয়ানোর জন্য হ্যাঙ্গার ছিল। দামি পারফিউমের বিন্দু গুলোও তো আমার শরীরেই ছেটনো হত। এখন ভাবো, মালিকের বৌ নিশ্চই গরীবদের বস্ত্র দানের নামে আমাদের ইজ্জত লুন্ঠন করবে। সেখানে কোথায় ডিটার্জেন্ট, কোথায় ইস্ত্রি আর কিসের পারফিউম। মালটা যদি মাতাল হয় তাহলে তো কথায় নেই, আমার এই রেশমি শরীর মদের গন্ধে মাখামাখি হয়ে কোনো নর্দমাতে পরে থাকবে, পারফিউমের বদলে নেড়ি কুত্তার হিসু স্প্রে হবে”। বলেই ডুকরে কেঁদে উঠে হাতা দিয়ে চোখের জল মুছল। তখনই একটা হাফহাতা জামা যেটাকে সেই বিয়ের আগে কিনেছিলাম, সে রাশভারি বয়স্ক গলায় বলে উঠল- “আচ্ছা তোমরা সবাই কি গো! আমাদের মালিকের মৃত্যু হয়েছে। অশৌচ চলছে, কোথায় তোমরা কান্নাকাটি করবে তা নয়- খুনসুটি আর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছো, বলিহারি তোমাদের পোশাকিকতা”। বুঝলাম দীর্ঘদিন এদের ব্যবহার হয়নি বলে ওরা ভেবে নিয়েছে আমি নিশ্চিত মরে গেছি

দরজাটা যেই বন্ধ করে খাটে ফিরৎ যাব, কেউ যেন সিটি মেরে ডাকল আমাকে। চতুর্দিকে জানলা দরজা সব দেখলাম, উঁহু কেউ তো কোথাও নেই। আবার আওয়াজ এলো, “করনা, দরজা বন্ধ করনা”। শুনলাম সে আবার উর্দু শায়ারি বলছে- ‘কবসে ইস পিয়াসী কন্ডেন্সারমে বারিসকে বুন্দ তক নেহি গিরি, আব বৈশাখী আয়া”। নিশ্চই কোনো দুশ্চরিত্রা মেয়েমানুষ, নাহলে এভাবে সিটি মেরে, দরজা বন্ধ করার অবৈধ ইঙ্গিত কে করবে! ভেবেই নিলাম, যে হবি হ বাবা- আমি আর তাকাবোনা। কে কে না কথাবার্তা বলছে আজকে, শেষে কী আমি ক্ষ্যাপাই হয়ে গেলাম! বালিশে যেই চিৎ শুয়েছি, দেখি উঁচু দেওয়াল থেকে কুৎসিত ইঙ্গিত করছে এসিটা। ভাবখানা এমন, সে যদি নিচে চলাফেরা করতে পারত এক্ষুনি আমার ইজ্জত লুটে নিত। এসিটা সমানে আমাকে হাকাডাকা করে যেতে লাগল যাতে তাকে চালু করি। আমরা মাত্র ১ মাসের লকডাউনেই হাফিয়ে উঠেছি, সে বেচারি ৭-৮ মাস বন্ধ, ব্যাকুলতা তো স্বাভাবিক

 

(৩)

নাহ, ঘুম আসছেনা। ভাবলাম- যাই দেখি বাইরের বাকি সব আসবাবপত্রের কী দশা। রান্নাঘর থেকে কিছু খেলাধুলার আওয়াজ পেলাম, কিন্তু যেতে সাহস পেলামনা। ওটা বৌ এর এক্তিয়ারে, তাছাড়া আমি দীর্ঘদিন ও মুখো হইনা- পরপুরুষ দেখে যদি চালডাল, শাকসব্জি, মশলাপাতি, হাঁড়িকুড়ির দল চেঁচিয়ে উঠে- মানসম্মানের ব্যাপার। সিঁড়ি দিয়ে নিচে যেতে যেতে দেখলাম, বেসিন- ওয়াসিং মেসিন আর জলের দেওয়াল ফিল্টারটা মস্তিসে গানের লড়াই আন্তাক্সরি খেলছে। তাদের উপেক্ষা করে নিচের ড্রয়িংরুমে যেতেই দেখি বুক সেলফে কিসের যেন উৎসব চলছে জমায়েত করে। মনে হল সবকটা বেল্লিকের কান থাবড়ে বলি- ওরে বোকাচন্দ্রের দল, দেশে লকডাউন চলছে; এভাবে গাদাগাদি ভিড় করে ফুর্তি করা মানা। যেই কথাটা বললাম, একটা মোটামত বই বেশ দাঁত খিচিয়ে বলে উঠল- “ওহে ছোকরা, আমরা বই- আমাদের বেশি জ্ঞান দিতে এসোনা, বিশ্বের যাবতীয় জ্ঞান সব আমাদের জ্ঞাতি ভায়েদের বুকেপেটেই রাখা আছে। তাছাড়া গাদাগাদি করেই আমরা সেলফে থাকি চিরকাল, আমরা কেউ এয়ারপোর্ট হয়ে একখানে ঢুকিনি যে করোনা হবে…”

লম্বা ভাষণ দিতে শুরু করেছিল আরকি, পালিয়ে বাঁচলাম। যেটুকু বুঝলাম- বহুদিন পর ওদের ধুলো ঝেরে একে একে বের করে পড়েছি বলে তাদের আতিসায্যের শেষ নেই, বারংবার হাতের ছোঁয়া পেয়ে তারা ভীষণ উজ্জীবিত। যদিও অন্ধকারে আমাকে চিনতেও পারেনি ব্যাটারা, তাই ভুলকরে মালিককেই দুটো ছোটবড় কথা কয়ে ফেলেছে মুখ ফসকে; ক্ষমাই করে দিলাম । গ্যারাজে গিয়ে দেখি বাইকটা আর গাড়িটা যুগলবন্দী করে কীর্তন গাইছে। জুতোগুলো তাদের যোগ্য সঙ্গত দিচ্ছে দোহারে তালি বাজিয়ে। কী জানি বাবা, এরা হয়ত আমার শ্রাদ্ধ শান্তিই করে এখন কীর্তনের আসর বসিয়েছে। সামনে যাওয়াটা সমীচীন মনে করলামনা, ধর্মকর্মে বাঁধা এলে রাগ হওয়া স্বাভাবিক। তাছাড়া অন্ধকারে জুতো পেটা হোক বা গাড়ির চাকায় পিষে যাওয়া, কোনোটাই সুখকর হবেনা

মানে মানে পালিয়ে এসে দেখি, বালিশটা সমানে গজর গজর করে যাচ্ছে কারো একটা নাক ডাকাকে কেন্দ্র করে। এবারে আমি সেই বাঁশির মত নাকডাকার পাত্রকে খুঁজতে গিয়ে দেখি, আমার মোবাইলটা ওই দুষ্কর্ম করছে। বালিশের হাঁকাহাকিতে সে স্ক্রিন মেলে চাইল ম্যাড়ম্যাড়ে ব্রাইটনেসে। কিছুটা আড়মোড়া ভেঙে বলল, “তোদের এত সুখ তবুও অভিযোগের শেষ নেইরে বর্বরের দল। আমার কথা ভেবেছিস কখনও, ঘুমের ঘোরে হাত ফসকে মুখের উপরে না পরা পর্যন্ত, কবে আমাকে ছেড়েছে বল দেখি! সারাটাক্ষন তো আমারই পিছনে পড়ে আছে কারনে অকারণে। বই পড়লেও আমায় দিয়ে ট্রান্সস্টেলর খোলাবে, উইকিপিডিয়া, গুগুল, ফেসবুক, টুইটার, ক্যামেরা, গেম খেলা, সিনেমা দেখা, গানশোনা, পেমেন্ট করা, কথা বলা সহ নটি আমেরিকা হয়ে ক্যালকুলেটর সেজে কিনা করতে হয় বলতে পারিস? রণে বণে জলে জঙ্গলে স্বর্গে নরকে তো বটেই, বাথরুমেও আমাকে নিস্তার দেয়না। মালিক ঘুমালেও কী আমার শান্তি আছে, ওমনি পিছনে চার্জার গুঁজে দেবে সারারাত। তবুও তো তোরা কাঁদছিস, এদিকে আমি শোকে পাথর হয়ে গেছি

বারে আমাকে জেগে উঠতে দেখে- ল্যাপটপ সম্প্রদায়, বালিশ, বিছানা, খাট ও মোবাইল সবাই মিলে একসাথে প্রশ্ন করল। আমার এই ঘরে থাকার পিছনের রহস্যটা কি! ধীরে সুস্থেই বললাম, বিশ্বজোড়া অতিমারি পরিস্থিতির জন্য দায়ী করোনা ভাইরাসের কথা। ওমা সে কথা শোনা মাত্রই ল্যাপটপ থেকে মোবাইল হো হো করে হেসে উঠল। ল্যাপটপ বলল, এ আর কি এমন বড় কথা! ভাইরাস তো জলভাত ব্যাপার, আরেকবার আন ইনস্টল করে ইনস্টল করে নিলে মালফাংশন দূর হবে। মোবাইল বলল- আরে বস লেটেস্ট ভার্সনটা আপডেট মেরে নাও না, বাজারে কি স্ক্র্যাপ মাল লিক হয়নি!। সমানে তাদের জ্ঞানের ঝুলি থেকে একের পর এক পথ্য দিতে পাগল; বুঝলাম, এদের কাছে ভাইরাস নিয়ে আলোচনাই বৃথা

আমার নিজেরই কেমন মায়া হয়েছিল, সান্ত্বনা দিয়ে কিছু বলতে যাব ভেবেছিলাম, এখন ওদের ভাইসার জ্ঞানের ভাঁট আলোচনা শুনে কান গরম হয়ে উঠল। আমি চেঁচিয়ে কিছু বলতে যাব, ঠিক তখনি খানিক দুলে উঠে সিলিং ফ্যানটা ভয়ানক রাগী মুখে বলে উঠল- “আমাকেও কী একটু শান্তিতে বিশ্রাম নিতেও দিবিনা আহাম্মকের দলেরা? সময়ে ঘুম তো আমার জীবন থেকে কবেই গায়েব হয়ে গেছে, সামান্য লোডশেডিং এর সময় টুকুই তো বিশ্রাম এই জীবনে। আজকাল কারেন্টও যায়না নিয়মিত, এদিকে চৈত্রের শুরু থেকে তো সমানে চলেই যাচ্ছি। আজকের এই সুখ টুকুও কি ছিনিয়ে নিবি উজবুকের দল”। বলেই ভীষণ রেগে গিয়ে বনবন করে ঘুরতে লাগল নিজের চারপাশে

ফ্যান অমন রেগে পাগলের মত বনবন করে ঘুরতে শুরু করতেই, আমি ধড়মড় করে জেগে উঠে বসলাম, নিরাপদ দূরত্বে সরে যাব বলে। জানালা দিয়ে চেয়ে দেখি বাইরের অমানিশা কেটে ভোরের আলো এই ফুটলো বলে, কারেন্ট চলে এসেছে তাই ফ্যানটা চালু হতেই ঘুমটা ভেঙে গেছে। মানে ওই গরমের মধ্যেই চোখটা লেগে গিয়েছিল। তারপরেই মনে পরল সেই সব অদ্ভুতুড়ে ঘটনা গুলো। যাই হোক, আজ ল্যাপটপ মোবাইলকে কিছুটা বিরাম দিয়ে, জামাজুতো পরে গাড়িটা নিয়ে একটু চক্কর মেরেই আসি। যতই স্বপ্ন হোক, ব্যাথার কথা গুলো তো নিজে কানেই শুনেছি

ও হ্যাঁ, তোমরা যেন আবার কেউ পাঁচকান কোরোনা এসব কথা, লোকে উন্মাদ বলবে

-সমাপ্ত

 

বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

ফিবোনাচি ক্রম

 


এতো দিনে আমি বুঝলাম- 0 ও 1 এর বাইনারি থেকে অ্যালগরিদম, সবটাই রয়েছে এই বিজ্ঞানসম্মত আকারের আধারে। এটাই মানব পুরুষের সাথে বিজ্ঞানের সামঞ্জস্যপূর্ণ একমাত্র শারিরীক আকার, যা ইউনিভার্সের নিয়মের সাথে সংযুক্ত করে।
0, 1, 1, 2, 3, 5, 8, 13, 21, 34, 55, 89, 144, ....
এবং অনন্ত (আম্বানীও)
এটাই ফিবোনাচি ক্রম ও তার সোনালি অনুপাত। যা প্রকৃতির স্বাভাবিকতা এবং সৌন্দর্যকে প্রদর্শিত করে। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় এই সজ্জার ভূমিকা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।
যারা বলে মোটা- তাদের ঠোঁটে হাজা হোক
✊✊✊✊

শুক্রবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

ভয়ের অকপট

 


ভয়,

ভয় শব্দটাই ভয় পাইয়ে দেবার জন্য যথেষ্ট। ভয় পায়নি এমন বীরপুরুষ না আগে জন্মেছে না ভবিষ্যতে জন্মাবে। ভবিষ্যতের কথাতে বলি, ভয় আমরা অতীত বা বর্তমান নিয়ে পায়না, ভয়ের গোটা সাম্রাজ্যের বাসই ভবিষ্যত জুড়ে। অসম সাহসীর ভুতে ভয় না থাকলেও ঈশ্বরে ভয় রয়েছে, ঈশ্বরে বিশ্বাস না থাকলে দেখবে ঠিক পাপপূণ্যে ভয় রয়েছে, পাপপুণ্যে ভয় না থাকলে ছেলেপুলের ভবিষ্যতের জন্য ভয় রয়েছে। ভয় না থাকলে আমাদের জীবন কখনও এতটা বৈচিত্রপূর্ণ হতনা, কতজনই কত কিছু হতে পারতাম ভয়কে জয় করতে পারলে, কিন্তু হইনি বা হয়েছি। এই একটুকুনি ভয়ের জন্য কত বড় বড় দণ্ড যে জীবন জুড়ে আমাদের দিতে হয়েছে বা আগামীতেও দিতে হবে তার কি কোনো হিসাবপত্র আছে!

ভয় আসলে কি? ভয় হল একটা অনুভূতির নাম। একটা বিশেষ দশা যা আমাদের হৃদয়, মস্তিষ্ক, সারা শরীর ও ভাবনাকে একত্রে আচ্ছন্ন করে রাখার ক্ষমতা ধরে। এই ভয়ের জন্মস্থান মানুষের অবচেতন মন, দুম করে কেউ ভয় পায়না; দুম করে আশ্চর্য হয়, সেই আশ্চর্য ভাব কেটে গেলে যখন তাকে ব্যাখ্যা করি, এবং তাতে সন্দেহজনক কিছু থাকলে তবে ভয়ের চাষ শুরু হয়। বাকি প্রানীদের বিষয়ে জানিনা কিভাবে তাদের ভয়ের শুরু হয়। ভয় থেকে আসে আতঙ্ক, আতঙ্কগ্রস্থ প্রাণী যা খুশি করতে পারে। এই ভয় আমাদের অনেকেরই আবার যাচ্ছেতাই মাত্রার উন্নতিরও কারন।

সাপে ভয়, ব্যাঙে ভয়, অন্ধকারে ভয়, ভুতে ভয়, ঈশ্বরে ভয়, সন্তানের ভবিষ্যতে ভয়, পাপে ভয়, প্রেমে ভয়, মারের ভয়, সুখের দিন চলে যাবার ভয়, প্রিয়জন বিচ্ছেদের ভয়, ভুলে যাবার ভয়, আর্থিক কষ্টের ভয়, নিঃসঙ্গতার ভয়, ঘুম থেকে উঠতে না পারার ভয়, ইমেজের ভয়, চরিত্রের ভয়, মৃত্যুর ভয়, অজানা বিপদের ভয়, রোগের ভয়, জলের ভয়, উচুর ভয়, গতির ভয়, থেমে যাবার ভয়, খোয়া যাবার ভয়, পরীক্ষার ভয়, স্যারের ভয়, অঙ্কের ভয়, ইংরেজির ভয়, জাঁদরেল বৌ এর ভয়, সেই বৌয়েরই আবার আরশোলা দেখে ভয়, উফ... ভয়ের কি আর গোনাগুন্তি আছে। কতজন শুধু ভয়ের জন্য একলাইনও লেখার চেষ্টাটাই করেনা, মান সম্মানের ভয়ে। সর্বত্র ভয়ের কেন্নোরা জীবনের প্রতিটি বিন্দুতে কিলবিলিয়ে থিকথিক করছে। পড়তে পড়তেও ভয় লাগছে, বাপ্রে কত বড় লেখা...।  

ভয় ওপাড়ে সুখের বাস। যেহেতু কেউই চিরঞ্জীব নয়, তার পরেও আমাদের মৃত্যুভয়ের অন্ত নেই। কত শত প্রিকোশন, ইনস্যুরেন্স, ইত্যাদি এই ভয়ের ব্যাবসাতে। জ্যোতিষ ব্যাবসাটা কৌতুহল কম, ভয়ের কারনের এদের দাপট নবরত্নের পসরা সাজিয়ে। তাবিজ, মাদুলি, ঝাড়ফুঁক, পীর-ফকীর, সাধুদের মন্ত্রতন্ত্রের দোকানটাই বন্ধ হয়ে যাবে, যদি ভয়ের পণ্যগুলো জীবন থেকে মুছে যায়। কেউ যদি পাঁচকান না করেন তো চুপিচুপি বলি, কন্ডোম বা কন্ট্রাসেপ্টিভ পিলও আসলে অনাকাঙ্ক্ষিত অপত্যের ভয়েই! যদি আঁটি কলিয়ে যায়!  কত বড় বড় ইন্ড্রাষ্ট্রি শুধু ভয়ের কারনে রমরমা। সেপাই, লস্কর, পল্টন, গোয়েন্দা, দারোগা প্রমুখেরা সবাই আসলে ভয়ের পাহারাদার। এত সব গালিগালাজ, বন্ধুক, তলোয়ার, হুমকি, পরমাণু বোমা, মব লিঞ্চিং, আইসিস, কিম জং উন সবই সেই ভয় দেখানোর জন্য।

শুধুই কি মানুষ? অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সাপ নামের সরীসৃপ প্রাণীটি শুধুমাত্র ভয় পেয়েই ছোবলের চুমু খেয়ে নেয়, হিংস্র জন্তুরা জঙ্গলে ভয় থেকেই মানুষের উপরে আক্রমণ করে। যেকোন দ্বিধাগ্রস্থ প্রানীই ভয়ে ভীত হয়, এটা প্রানীর একধরনের জৈবিক ক্রিয়া।

এই ভয় কিভাবে কাজ করে? অশুভ আশঙ্কারা কল্পনাশক্তির পথ বেয়ে আমাদের আড্রেনাল গ্রন্থিকে উত্তেজিত করে এপিনেফ্রিন হরমোনের প্রবাহ ঘটায় যা সবার আগে আমাদের পিলেটিকে খানিকটা চমকে দিয়ে আমাদের স্নায়ুজালকে আচ্ছন্ন করে তোলে। যারা কিডনি বেচে আইফোন কিনে ফেলেছে তারা অবশ্য ভয় পায়না। আমাদের এড্রেনালিন গ্রন্থিদুটি ওই কিডনির মাথাতেই টোপরের মত চুপটি করে বসে থেকে, আমাদের আবেগের দোকানের ঝাঁপ খোলা বন্ধ করে। ভয় পেলে কেন পেট কেন গুরুগুর করে জানা হল তো এবারে! এড্রিনালিনের শোরুমে থরে থরে সাজানো কয়েকটি প্রোডাক্ট, ভয়, আনন্দ, দুঃখ, হতাশা, হাসি, কান্না সব রয়েছে। যেটা উপলব্ধি করতে পারলাম সেটা তেমন ভাবেই বহিঃপ্রকাশ করবে, এড্রিলানিনের ক্ষরণ বেয়ে; আর যেটা বুঝলামনা, সেটা - ‘জানালায় কাক, আমি তো অবাক’ দশা হয়। এই কিডনির সাথেই এট্টূ খানি আর্থিং করে আমাদের পিলে মহাশয় ঘাপটি মেরে বসে থাকে, যখন তখন চমকে যাবার জন্য।

ভয় নিয়ে অনেকে আবার নেশা করে, তা নেশার যোগ্যও বটে। অতিপ্রাকৃত বা অলৌকিক ব্যাপারস্যাপার অল্প অল্প হোমিও প্যাথিক ডোজের মত করে আমরা ভয়ের নেশা হেব্বি পছন্দ করি। সিনেমা নাটক গল্প উপন্যাসে পড়ে ভয় পেতে পছন্দ করি। এ তো গেল সাধারন মানুষের নেশা, যারা লিজেন্ড টাইপের মানুষ যারা, তেনারা বেগুনকোদরের স্টেশন টাইপের ‘চুড়েল কি হাভেলি’তে গিয়ে রাত কাটান, রোলার কোস্টারে চড়েন, স্কুবা ডাইভিং এ যান, বাঞ্জি জাম্পিং করেন, প্যারাগ্লাইডিং করেন, স্কাই ফলিং করেন, মদন মিত্রের লাইভ দেখেন ও পিসির কবিতা আবৃত্তি করেন ইত্যাদি।

আপনি জানেন অটোগ্রাফ আসলে সেলিব্রিটিদের সাক্ষরের নাম, অটোমোবাইল মানে গাড়ি শিল্প, কিন্তু অটোফোবিয়া মানে কিন্তু একাকীত্বের ভয়। অনেকের আবার গোলোটোফোবিয়া থাকে, মানে নিজেকে নিয়ে মজা সহ্য না করতে পারার ভয় আরকি। আমার যেমন বিচ্ছিরিভাবে ট্রিপানোফোবিয়া বা সুচের ভয় রয়েছে, যার দরুন জ্ঞানত কখনও ইঞ্জেকশন নিইনি। এন্ডয়েড ফোন ব্যবহার করলেও আমরা কী জানি এই শব্দের মানে? এন্ড্রোয়েড মানে সেই রোবট যা প্রায় মানুষের সমতুল্য। আর এই থেকেই বোধহয় এন্ড্রোফোবিয়া মানে মানুষের ভয়। আমাদের সুব্রত মণ্ডলদা, কখনই সিবোফোবিয়াতে ভোগেননা, এই রে এর মানে কী? সিবোফোবিয়া মানে হল খাবার দেখে ভয় পাওয়ার নাম। আজকের দিনে বামেরা ডেসিডোফোবিয়াতে আক্রান্ত, মানে সিদ্ধান্তহীনতার ভয়। আমাদের দেবেশ ইমোটোফোবিয়াতে ভোগে, যাকে বলে বমি করার ভয়, এর জন্য রেলে চাকরি করলেও কখনও রেলে সে চড়েনি। আর ট্রিকসইডিকাফোবিয়া বা তেরোর গেরোর ভয়ে যে কতজনা আক্রান্ত তার ইয়াত্তা নেই। লিখতে হবে ভেবে কলম ভুতের পাল্লায় পরে, ফেসমোফোবিয়াতে আক্রান্ত হয়ে মুর্চ্ছো গেলেও আমাদের সে গল্পটা জানাই হয়ে উঠবেনা, লোকলাজের ভয়ে।

এর পরেও আপনি সাবজেক্ট খুঁজে পাবেননা ভয় নিয়ে লিখতে? এটা আমাদের বিশ্বাস করতে হবে?

এই সকল ভয়ের কিছুনা কিছু আপনার জীবনেও নিশ্চিত রয়েছে, অথবা খুব নিকট কোনো বন্ধু আত্মীয় পরিজনের জীবনে ঘটতে দেখেছেন বা তাদের থেকে শুনেছেন। এই ভয় বা ফোবিয়া নিয়ে গল্পের শেষ নেই পৃথিবীতে। সেই বিষয়েরই এক বা একাধিক গল্প অকপটের #ভয়পেয়োনা... ইভেন্টের জন্য আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন। আমাদের এডমিনেরা প্রতিদিন নিশিরাতে এক বা একাধিক গল্প প্রকাশিত করে, বন্ধুত্বের আবহে অকপটে সেই কাহিনী ভাগ করে নেবেন। তাহলে আর দেরি কেন! আজই ভয় না পেয়ে লিখতে শুরু করে দিন, ভয় পেলে আর ভয়ের গল্প অকপটে জানানো যাবেনা। আপনার গল্প পাঠকের বিচারে সেরা প্রমাণিত হলে, আপনাদের প্রথম তিনজনের জন্য থাকবে অকপটের পক্ষ থেকে একটা করে দারুণ গল্পের বই। তাহলে, দেখা হচ্ছে গল্পের কমেন্টে।

বৃহস্পতিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

অকপট ইভেন্টঃ ভয় পেয়োনা

 


নিয়মাবলী

আমাদের ‘ভয় পেয়োনা’ শীর্ষক অকপট সাহিত্যবাসর তথা ইভেন্টটি শুরু হচ্ছে দীপাবলির পরদিন সোমবার তথা ২৮/১০/২০১৯ তারিখ থেকে, চলবে ৩০/১১/২০১৯ তারিখ পর্যন্ত।

লেখা জমা করার শেষ তারিখ ১৭/১১/২০১৯ তারিখ পর্যন্ত।

লেখা পাঠাবার ঠিকানা-

Email- okopot.event@gmail.com

Whatsapp: 7001718580

 

এই ইভেন্টের জন্য আমাদের গল্পের ‘খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ বিষয়ক’ দল গঠন করা হয়েছে, সেখানে পাঠক তথা অকপটের বিশিষ্ট সদস্যদের মধ্য থেকে ট্যেকনিক্যাল তথা প্রয়োগিক কমিটিতে থাকছেন মালিকা মাফরুদা বানু, বাপ্পাদিত্য মণ্ডল ও সৌরভ নন্দী। বাকিরা সাথে আমাদের পরিচালকমন্ডলী থেকে সুব্রত মণ্ডল, দেবেশ সিংহ ও নয়ন রঞ্জন দাস। শেহনাজ আলম ও এন্টিগ্রাভিটি শ্যাম থাকছে ইভেন্ট পরিচালনা ও খতিয়ান বিষয়ক বিবিধ দায়িত্বে। গ্রুপের পক্ষ থেকে প্রতিদিন গল্প গুলো প্রকাশ করবেন- জয় ব্যানার্জী, প্রীতিকণা জানা, মোমিন মণ্ডল, নয়ন রঞ্জন দাস, শেহনাজ আলম প্রমুখেরা #ভয়_পেয়োনা হ্যাসট্যাগ সহ।


শর্তাবলীঃ লেখকের জন্য


১. প্রধান ও প্রথম শর্ত - লেখা হতে হবে মৌলিক। যে লেখা ইতিপূর্বে কোথাও প্রকাশিত হয়েছে (কাগজ বা বৈদ্যুতিন মাধ্যমে ,সোশ্যাল মিডিয়ার কোনো গ্রূপ, পেজ বা নিজের টাইমলাইন) তা কোনো পরিস্থিতিতেই গ্রহণযোগ্য নয়। লেখক এমন কোনো লেখা জ্ঞানত বা অজ্ঞানত আমাদের দিলে, এবং পরবর্তীতে তা জানা গেলে সেই মুহূর্তে লেখকের সংশ্লিষ্ট গল্প বাতিল বলে বিবেচিত হবে।

২. “ভয়” সম্বন্ধীয় যেকোনো লেখা গ্রহণযোগ্য, কিন্তু তাতে ভয়ের বিষয়টা থাকতেই হবে নতুবা সেটা এই ইভেন্টের জন্য বিবেচিত হবেনা। গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ বা নাটক যেকোনো ফরম্যাটে লেখা জমা দেওয়া যাবে। তবে লেখার ভাষা ও শব্দের ব্যবহার কোনো ধর্ম বা রাজনৈতিক ভাবে কোনো সম্প্রদায়ের অনুভূতিতে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে আঘাত করে তা অকপটের দেওয়ালে প্রকাশ পাবেনা। তবে লেখা যদি অতি সংবেদনশীল হয় সেক্ষেত্রে সে সে লেখা প্রকাশ পাবে কিনা তা প্রয়োগিক ও পরিচালকমণ্ডলীর সম্মিলিত সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে। তবে সমসাময়িক ঘটনাবলীর উপরে কোনো ভয়ের গল্প, ‘রুপকের’ মোড়কে লিখলে সেটাকে আমরা বিশেষ অগ্রাধিকার দেব।

৩. আপনার লেখাটি আপনি নিজে অকপট গ্রুপের টাইমলাইনে পোষ্ট করবেননা। আপনি আমাদের অকপটের ইমেল আইডি okopot.event@gmail.com তে অথবা অকপটের হোয়াটসএপ নাম্বার -৭০০১৭১৮৫৮০ (7001718580) পাঠিয়ে দিন। হ্যাঁ, ইমেলে বা হোয়াটসএ্যপে পাঠানো লেখাই প্রতিযোগিতার জন্য একমাত্র বিবেচ্য। হোয়াটসএপ নাম্বারটি সেভ করুন ও পাঠিয়ে দিন সেখানে। অবশ্যই লেখকের নাম পরিষ্কার ভাবে উল্লেখ করবেন।

৪. প্রতিদিন দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো পরিচালক বা নির্বাচিত সদস্যদের দ্বারা সন্ধ্যা ৭টা ও রাত্রি ১০ টার সময়ে গল্প গুলি অকপটের দেওয়ালে আসবে। নির্দিষ্ট সময় থেকে ৭২ ঘন্টা পর্যন্ত প্রতিটি গল্পের পোষ্টের কমেন্ট বক্স খোলা থাকবে। এই সময়ের মধ্যে পাঠককে গল্পটি বা ধারাবাহিকটি পড়ে নির্ধারিত নিয়মে নাম্বার প্রদান করতে পারবেন।

৫. প্রতিযোগিতা শেষ হওয়া তথা ফলপ্রকাশ পর্যন্ত প্রতিটি লেখকের পরিচিতি গোপন থাকবে আমাদের পরিচালক ও লেখকের নিজের পক্ষ হতে। কোনো গল্পের লেখক তার নিজের গল্পের ক্ষেত্রে পাঠক হিসাবে কমেন্ট করতে পারেন, কিন্তু তাতে কোনোভাবেই নিজের পরিচয় যাতে প্রকাশ না পায় তার দায়বদ্ধতা সংশ্লিষ্ট লেখকের। এক্ষেত্রে কোনো বেনিয়ম হলে সেটা প্রয়োগিক ও পরিচালক মন্ডলীর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।

৬. গল্পের শব্দসংখ্যা কমপক্ষে ৮০০ হতে হবে, সর্বোচ্চ ১০০০০, এর বাইরে তা ইভেন্টের উপযোগী বলে বিবেচিত হবেনা। শব্দসংখ্যার উচ্চসীমা ভেদে নিম্নলিখিত শ্রেণী থাকবে।

 

(i)           "ক" শ্রেণী -২০০০ শব্দ সংখ্যার মধ্যে। এগুলো সন্ধ্যা ৭টার সময় গ্রুপে আসবে।

(ii)         "খ" শ্রেণী - ২০০১ থেকে ১০০০০ শব্দের মধ্যে। রাত ১০ টার সময় ধারাবাহিক ভাবে গ্রুপে আসবে।

 

৭. এবার ‘অকপট’ লেখক লেখিকাদের জন্য নিয়ে আসছে বোনাস নাম্বার। নতুবা লেখক বড় লেখা কেন লিখবেন?

·       ১০০০ শব্দ পর্যন্ত লিখলে কোনো বোনাস নাম্বার পাওয়া যাবেনা।

·       ১০০১-২৫০০ শব্দের মাঝে হলে অতিরিক্ত ১ নাম্বার পাবে।

·       ২৫০১-৪০০০ শব্দের মাঝে হলে অতিরিক্ত ২ নাম্বার পাবে।

·       ৪০০১-৫৫০০ শব্দের মাঝে হলে অতিরিক্ত ৩ নাম্বার পাবে।

·       ৫৫০১-৭০০০ শব্দের মাঝে হলে অতিরিক্ত ৪ নাম্বার পাবে।

·       ৭০০১-১০০০০ শব্দের মাঝে হলে অতিরিক্ত ৫ নাম্বার পাবে।

 

৮. যে কোনো প্রকারের Plagiarism কে অকপট সমর্থন করেনা। যদি কেউ এটা করে থাকে, সে দায় একান্তই সেই লেখকের। অকপট গ্রূপ বা সাহিত্য পত্রিকা কোনো দায় গ্রহন করবেনা।

৯. লেখককে লেখার স্বাধীনতা দিচ্ছে অকপট। আপনার সংখ্যা গননা করার প্রয়োজন নেই, সংখ্যা কত হলো এবং কত বাকি আছে আমরা আপনাকে জানিয়ে দেব।

১০. গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট - কেবলমাত্র বাংলা ভাষা ও হরফেই লেখা গ্রহণ করা হবে। বিশেষ ক্ষেত্রে টাইপ করতে অসমর্থ কেউ থাকলে তার গল্পটি ঝকঝকে হাতের লেখায় লিখে ছবি তুলে আমাকে কাছে পাঠালে সেটা আমরা টাইপ কর নেব। কোনো অবস্থাতেই ইংরেজি বা হিন্দিতে অথবা অন্য ভাষাতে লেখা দিলে তা গ্রহণ করা হবেনা।

 

পাঠকদের জন্য শর্তাবলী

১. সাধারণ সদস্য তথা পাঠকদের ক্ষেত্রে, যারা অন্তত ৮০ শতাংশ গল্পে নাম্বার প্রদান করবে, শুধুমাত্র তাদের নাম্বারই অন্তিম হিসাবে গ্রহণ করা হবে। পরবর্তী পরিস্থিতিতে এই মানের হেরফের হতেই পারে।

২. নাম্বার প্রদানের যে নির্দিষ্ট পদ্ধতি রয়েছে, একমাত্র সেইভাবে নাম্বার প্রদান করলে তবেই সে নাম্বার গৃহীত হবে।

৩. নাম্বার প্রদানের নিয়মাবলীঃ

·       অংশগ্রহণ ও নামকরণের জন্যঃ ৩+৩= ৬

·       গল্পের প্লট বা অবকাঠামোঃ ৬

·       গল্পের চরিত্র সৃজনঃ ৫

·       গল্পের ভূমিকা রচনাঃ ৫

·       ক্ল্যাইম্যাক্স তথা পরাকাষ্ঠাঃ ৫

·       গল্পের পরিসমাপ্তিঃ ৬

·       ভাষা ব্যবহার ও বাক্যগঠনঃ ৩+৩= ৬

·       বানান ও ব্যাকরণঃ ৩+৩= ৬

·       সামগ্রিক নান্দনিকতা তথা পাঠ্যসুখঃ ৫

·       মোটঃ ৫০

মানে এই ভাবে দিলেও চলবেঃ ৬+৬+৫+৫+৫+৬+৬+৬+৫=৫০

৫. প্রতিটি ধারাবাহিক পর্বে পাঠকেরা তাদের পছন্দ জ্ঞাপন করে কমেন্ট করতেই পারেন, অন্তিম ধারাবাহিক পর্বে আমাদের কোনো এক পরিচালক সকল পাঠকদের মেনসন করে নাম্বার প্রদানের বিষয়টা স্মরণ করিয়ে দেবে যারা আগের পর্বগুলোতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। এবং সেই অন্তিম পর্বেই সংশ্লিষ্ট গল্পের প্রদেয় নাম্বার প্রদান করবেন পাঠক কুল।

৬. প্রতিটি লেখকই উত্তম পাঠক। লেখকরা শুধুমাত্র লেখা দিয়েই দায়িত্ব সারবেন, এটা অন্যের লেখা পড়ে দেখবেন না, এটা অকপটের পরিপন্থী। আবার লেখক নিজের লেখা প্রকাশ পাওয়া অবধি থাকলেন, তারপর আর অন্য লেখা পড়ে নাম্বার প্রদান করলেন না, সেটাও অকপটুতা নয় বরং অসৌজন্যতা। তাই যেসব লেখক ইভেন্টের অন্তত ৫০ শতাংশ গল্পে নাম্বার সহ উপস্থিত থাকবেন তাদের গল্পই শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগীতায় থাকবে। এই ব্যাপারে সকল লেখকের সহযোগিতা একান্তভাবে কাম্য।

৭. অনেকসময় দেখা যায়, ‘আমি প্রতিযোগিতাতে আছি’ এই ধারণার বসবর্তী হয়ে অনেকেই টেনে টেনে নাম্বার দিচ্ছেন যেন কিডিনি চেয়ে নিয়েছে। যোগ্যতার বাইরে গিয়ে অকপট কোনো রচনার মূল্যায়ন করার জন্য উৎসাহ দিচ্ছেনা, কিন্তু ঋণাত্বক ভাবনারও বিরোধী। ধরা যাক ১০ নাম্বারর সর্বোচ্চ, এক্ষেত্রে কোনো লেখক লাগাতার ধারাবাহিক ভাবে অন্য লেখকদের লেখাতে কমিয়ে নাম্বার দিয়ে গেলেন, কিন্তু অন্যান্য পাঠকেরা গড়ে যে নাম্বার দিচ্ছেন তার চেয়েও প্রত্যেক ক্ষেত্রেই কম। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট লেখকের দেওয়া সর্বোচ্চ প্রদেয় নাম্বারকে ধ্রুবক ধরে তার গল্পে অন্য পাঠকদের নাম্বরকেও আনুপাতিক হারে কমিয়ে দেওয়া হবে। উদাঃ তন্ময় হক নামের কোনো ‘লেখক ও পাঠক’, তিনি প্রতি গল্পে ১০ এর মধ্যে গড়ে ৪ করে নাম্বার দিয়েছেন, অতি ভাল গল্পেও ৬ এর বেশি দেননি যেখানে অন্তত ৫০ শতাংশ পাঠক নাম্বারের বর্ষন করেছেন। সেক্ষেত্রে ওনার নিজের গল্পে কেউ ১০ এ ১০ দিলে সেটাকে ৬ হিসাবে গন্য করা হবে, ও বাকি পাঠকদের নাম্বার গুলোও এই আনুপাতিক নিয়মে হ্রাস পাবে তন্ময় বাবুর লেখা গল্পে। 

৮. কোনো সদস্য বা অকপট পরিচালক, মন্তব্যে অন্যায় সুযোগ সুবিধা দেবার বা নেবার চেষ্টা করার দরুন ধরা পড়লে , তাকে আমরা সসম্মানে গ্রুপ থেকে মুক্ত করে দেওয়া হবে।

লেখক, পাঠক ও ইভেন্টের বাইরে যারা থাকবেন সকলের জন্য নিয়মাবলী

১. প্রতিদিন সন্ধ্যা সাতটার সময় ‘ক’ শ্রেনীর তথা ২০০০ শব্দের মধ্যে থাকা গল্প গুলো প্রকাশ পাবে। ২০০০ শব্দের উপরের গল্প গুলো ধারাবাহিক রূপে প্রতিদিন রাত্রি দশটার সময় গ্রুপে প্রকাশিত হবে। একটি গল্পের জন্য সর্বোচ্চ, ৬ টি ধারাবাহিকের সারিবান্ধা পেতে পারে। একটি গল্পের ধারাবাহিক শেষ হলে তবেই পরবর্তী ধারাবাহিক আসবে।

২. লেখা প্রকাশিত হওয়ার আধাঘন্টা আগে ও একঘন্টা পরে পর্যন্ত অত্যন্ত জরুরী কোনো পোষ্ট ছাড়া সকল ধরনের পোষ্ট ট্রাফিকিং করা থাকবে। এই দেড় ঘন্টা আমাদের ইভেন্টের জন্য বরাদ্দ। তবে পূর্বে প্রকাশিত কোনো পোষ্টের কমেন্টিং বন্ধ হবেনা।

৩. যেকোনো প্রকার বিবাদে নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কোনো রকমের পক্ষপাতমূলক ব্যাবহার করা যাবেনা, পাঠক লেখক নির্বিশেষে।

৪. আবারও একবার অনুরোধ করছি, লেখকেরা অকপটের নির্দিষ্ট মেল আইডি- okopot.event@gmail.com এই ঠিকানাতে লেখা পাঠাবেন। লেখা পাঠাতে পারেন এই ৭০০১৭১৮৫৮০ (7001718580) হোয়াটসএ্যাপ নাম্বারেও।

৫. সকল সদস্যকে ইভেন্ট চলাকালীন এই নিয়মের মধ্যে থেকে পোস্ট করার অনুরোধ করছে টিম অকপট।

৬. ইভেন্টের প্রথম তিন স্থানাধিকারীকে পুস্তক দ্বারা সম্মাননা প্রদান করবে অকপট। এছাড়া প্রথম স্থানাধিকারীকে আগামী ১৩ই ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে অকপটের ডুয়ার্স ভ্রমণে বিনামূল্যে ভ্রমণের উপহার দেওয়া হবে টিম অকপটের তরফ থেকে যদি তিনি নিজে ইচ্ছুক থাকেন।

-ধন্যবাদান্তে।

 

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...