প্রকৃতিই তো আমাদের নারী বা পুরুষ বা সমকামি বানায়।
আস্তিকরা বলবেন ঈশ্বর। তাহলে তো সমস্যাই শেষ।
কোনো এক অজানা কারনে হঠাৎ করে ভাবনাস্থল গর্ভবতী হওয়ার কারনে অক্ষরের রূপে প্রসবিত কিছু প্রলাপের সংকলন এই ঠেক। গুনী লেখকের সমৃদ্ধশালী লেখনি পড়তে পড়তে, অক্ষমের প্রয়াসে কম্পিউটারের কিবোর্ডে হাত চলে যায়। ফল স্বরূপ, ঘটে চলা রাজনীতি, সমকাল, মানবিক বিকার, সময়চর্চা, ছ্যাঁচোর এর মত রিকেটগ্রস্থ লেখনীর জন্ম হয়। এরই রেশ ধরে সময়চর্চা, রবিবাসরীয়, সমকাল সহ রম্য, রচনা, গল্প ইত্যাদি ভুলভাল গুলোকে সংরক্ষিত করা হয়েছে এই টোলে। এটা সমমনষ্ক মানুষদের ভাব বিনিময়ের স্থান। উন্মাদের টোলে সকলকে স্বাগতম জানাই।
কালো টাকাটা কি?
ট্যাক্স না দেওয়া রোজগারই হল কালো। কালো টাকা কারা কামাই করে?
একজন ভিখারীও কালো টাকা রোজগার করতে পারে, যদি না সে তার আয়ের উৎস রাষ্ট্রকে জানায়। কর ব্যাবস্থা রাষ্ট্রের একমাত্র
চালিকাশক্তি, সেটা প্রতক্ষ্য কর হোক বা
পরোক্ষ কর। প্রতক্ষ্য কর হল ইনকাম ট্যাক্স, সেল ট্যাক্স, ভ্যাট, সার্ভিস ট্যাক্স ইত্যাদি। পরোক্ষ ট্যাক্স রাষ্ট্র তার
ব্যাবসা থেকে আমদানি করে বা পুঁজির উপরে লাগু করে। যেমন শুধু আমদানির হিসাবে যে প্রট্রোল ভারতের বাজারে লিটারপ্রতি ২৬ টাকায় পাওয়া উচিৎ সেটা কিনতে হয়
কমবেশি ৭০ টাকাতে। সুতরাং ৪৪ টাকা হল পরোক্ষ কর। আমাদের দেশের আয়ের ১৩% সম্ভবত
প্রতক্ষ্য কর থেকে প্রাপ্ত, বাকি সবটাই
পরোক্ষ কর।
আমাদের ১২০ কোটির মাত্র
দেড় কোটি মানুষ ইনকাম ট্যাক্স দেয়। এটাই আমার মতে কালোধন জমা হওয়ার সবচেয়ে বড়
কারন। আমাদের দেশে ট্রেড লাইসেন্স দেওয়ার নিয়মে IT File ম্যান্ডেটারি করলেই অনেকটা লাভ হত বলে আমার ধারনা। কালো
কামাই বন্ধ না হলে কালো ধন জমা বন্ধ হবে কিভাবে?
আমার ৫০ বিঘা সম্পত্তি রয়েছে, তার থেকে একটা রোজগার হয়। আমি যদি কালো টাকা রোজগার করি, সেটা আমি বেশি বেশি করে দেখাবো আমার এই বিপুল রোজগার
কৃষি থেকে এসেছে যেটা সম্পূর্ন কর মুক্ত। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় আমার জমি আমার
খাতায় কলমে, সেটা ভেস্টেড বা ভাগচাষী বর্গাদারেররা চাষ করে আমায় সৎসামান্য দেয়। এই
কালো টাকা কিভাবে বন্ধ করবে সরকার?
কালো টাকা আমার কাছে কালো, কিন্তু
আমি যখন বাজারে গিয়ে দু’কিলো খাসির মাংস কিনতে ১২০০ টাকা কখরচা করলাম, কিম্বা এককিলো গলদা চিংড়ি ১০০০ টাকায় কিনে নিয়ে এলাম, অমনি সেটা সাদা হয়ে গেল। কারন ওই মাংস বা চিংড়ি
বিক্রেতারা প্রান্তিক মানুষ, যারা করের আওতাতেই আসেনা।
এভাবেই কালো টাকা বাজারে খাটে, যেটা আমাদের আভ্যন্তরীন বাজার
অর্থনীতির চালিকা মূল শক্তি। যতটা না একলপ্তে, ঢের বেশি ছোট ছোট এই ভাবে। তৃতীয় শ্রেনির একটা কর্মচারীর ঘুষের ৫০০০
টাকা, সরকারি স্কুলের একজন শিক্ষকের গৃহশিক্ষকতা করে
রোজগারের কালো টাকা- ভোগ্যপন্যের পিছনেই ব্যায় হয়ে যায়।
ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধিপায়, উৎপাদন বাড়ে, কর্মদিবসের সৃষ্টি হয়। রোজগার ছড়িয়ে পরে। ফ্রিজ, টিভি, মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেল থেকে বালিস লেপ কম্বল সবটাই- অতিরিক্ত
ভোগ্যপণ্যের অতিরিক্ত রোজগার থেকেই খরিদ করি, আর সেটা নগদে। ব্যাঙ্কার্স চেক বা নেট ব্যাঙ্কিং দিয়ে আমরা কজন এই জাতীয় বিকিকিনি করি! বাড়ির খাবারের চালটা, আলুটা, কেউ চেক বা
কার্ডে কিনিনা মুষ্টিমেয় কিছু
শহুরে বা উৎসাহী মানুষ ছাড়া। সবটাই নগদের কারবার, সেটা সাদাতে হোক বা কালোতে। তাই কালো রোজগারের পথটা কঠোর পথে বন্ধ করার
পাশাপাশি নগদে কেনাবেচার পদ্ধতিতে কোনো বিকল্প সিস্টেম আনতে হবে, যাতে নগদের লেনদেন
বন্ধ করা না গেলেও অধিকাংশটা কমানো যায়।
কালো টাকা বাজারেই থাকে, সেটাও রোজকার
অর্থনীতিরই অংশ। সমস্যা অর্থ পাচার, সেটা হাওয়াল মাধ্যমে
হোক বা গোপনে সুইস ব্যাঙ্কে, কিম্বা সেল কোম্পানি বানিয়ে তার মাধ্যমে টাকা চালান করা,
এগুলো ক্ষমার অযোগ্য পাপ। এই সত্যটা না অনুধাবন করে নোটবন্দির
ফলে সমাজে আজকের এই দুরবস্থা। সমাজ বিরোধীর হাতের চাকু আর ডাক্তারের চাকুর পার্থক্যটাই এখানে।
নোট বাতিলের প্রভাবে জঙ্গী হামলা কমেনি, সরকারের সেই দাবি ফোলা বেলুনের মতই চুপসে গেছে। সংবাদে প্রকাশ সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পর আমাদের ২৫ জন বীরসেনা শহীদ হয়েছেন। আর পারিক্কর বাবু মোদীজীর নামসঙ্কীর্তন গাইতেই ব্যাস্ত, বর্তমান জনগনকে বিভ্রান্ত করে রাখতেই উৎসাহী। রাজ্যই হোক বা কেন্দ্র, দুটোই মিছরির ছুরি- নাচ গান উৎসব দিয়ে অপ্রাপ্তির ব্যাথা ভুলিয়ে রেখেছে। “একটা লাঠিকে না ভেঙ্গে কিভাবে ছোট করবেন, সিম্পল - পাশে একটা বড় রেখেদাও। আপনা থেকেই আগেরটা ছোট দেখাবে”- মোদী সরকার এইটাই করছে।
একে আমাদের যন্ত্রণার
শেষ নেই, তার উপরে অকারনে নতুন নতুন বেফালতু ইস্যু তৈরি করছে RSS, কখনও গোমাংস, কখনও সীমান্তে যুদ্ধ পরিস্থিতি, মেকি জাতীয়তাবাদ আর এখন অর্থনীতিকে কোমায় পাঠিয়ে মানুষের
রোজকার মৌলিক সমস্যাগুলোর সামনে পর্দা টাঙিয়ে রেখেছে, বালির বাঁধ দিয়ে জনগণের ক্ষোভ প্রমোশন করছে। এদিকে
মিডিয়ার আচরণ বড় বিভ্রান্তিকর, তারাও সরকারের সমালোচনার পরিবর্তে
জনহিতে করছে বলে সরকারের
বিজ্ঞাপনের হ্যাঁ এ হ্যাঁ মেলাচ্ছে। প্রশ্ন করা মানা, শুধালেই নেহেরুর ব্যার্থতা, অতীতের সাথে অসম তুলনা আর
দেশদ্রোহিতার ছাপ্পা মেরে যাচ্ছে। আরে বাবা আগের সরকার
ব্যার্থ বলেইনা আপনারা দায়িত্বে এসেছেন।
যুগেযুগে পন্ডিতরা বলে এসেছে পেটে টান পরলে মানুষ ধর্মগ্রন্থ ছিঁড়ে খায়, আজকের পরিস্থিতি পেটে লাথ মেরেছে। রাজনীতির রং, দল, জাত, সাদা কালো ভুলে এই নরনারায়নের দল কতদিন
রাষ্ট্রের এই ভাঁওতাতে ভুল থাকবে। ধর্ম
নিয়ে ভয়াবহ রকমের উন্মাদনা তৈরি করতে হবে, পাকিস্তানের সাথে অনেক যুদ্ধ বাঁধাতে হবে,
নতুবা তোষামোদি বংশবদের দল আগে পালটি খাবে। যন্তরমন্তর ঘর থেকে
মগজধোলাই করে যে নমুনাগুলোকে BJP/RSS বাজারে ছেড়ে রেকখেছে,
যারা চেঁচিয়ে বাজার গরম করে রেখেছে, প্রথমত তাদের মগজটাই ধোলাই এর জন্য উপযুক্ত। দ্বিতীয় শ্রেনীটা সবচেয়ে ভয়ঙ্কর, ভক্ত শ্রেনী। এটা
হারামের টাকা কামাই এর লোভে ধর্মান্ধ জম্বি সেজে বসে গেছে। জানিনা এই অজ্ঞানতার শেষ
কোথায়, যেদিন BJP/RSS থেকে উন্নত
যন্তরমন্তর কেউ তৈরি করবে সেদিন এই
জম্বি গুলোই রঙ বদলে ফেলবে- সেদিন এরা বিজেপিকেই খাবে। সেদিন RSS বিজেপিকে আবার ৫০ বছরের জন্য
গর্তে চলে যেতে হবে, আর বড় নেতাদের দেশ ছেড়ে পালাতে হবে।
জানুয়ারিতে নাকি বেনামি সম্পত্তির উপরে নজর দেবেন মোদী, বেনামী সম্পত্তি- হো হো করে হেসে উঠার পালা। বিজেপি ও তার স্যাঙাৎ আদানি, রামদেবের মত জোঁক গুলো দেশসেবা করতে এসেছে বলে মনে হয়? নামে কী যায় আসে, আজ যে দেশপ্রেমিক সেজে বসে আছে, কাল ছেলের নামে কোম্পানি খুলে হারামের টাকা কামাবে। যারা অবৈধ সম্পত্তি যারা বানায়, যারা হারামের কারবারি তারা মোদীকে কেন বেছেছে! কারন তারা অনেকের থেকে থেকে বেশী সেয়ানা আর ধুর্ত, তারা শিক্ষিত ও সংঘবদ্ধ। আগে ডিসেম্বরটা কেন্দ্র উৎরাক তারপর জানুয়ারি নিয়ে ভাবব।
আমার ব্যাক্তিগত বিশ্বাস, কেন্দ্র সরকার ক্রমশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যাবে ২০০৯ সালের রাজ্যে সিপিএম এর মত, যদিনা কংগ্রেস এর দালাল গুলো ভেতর থেকে নিজেদের ভেঙে দিয়ে- মোদীর সামনে কোনো বিকল্প না দাঁড় করাতে পারে। BJP যে হায়না গুলোকে হিংসার তালিম দিচ্ছে বিরোধী স্বর দমন করাবার জন্য, বিরোদধীদের পায়ে কামরানোর জন্য, সেই মালগুলোই একদিন প্রভুকদের ছিঁড়ে খাবে। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি এভাবেই হয়, সমস্যা হচ্ছে সেই দিনটা আসবে কবে! কেন্দ্রের বিরোধী হিসাবে রাহুল গান্ধী সত্যিই পাপ্পু, ওকে না খাওয়া যায় না মাখা যায়- এই অপদার্থগুলোর জন্যই আজ মোদী প্রদধানমন্ত্রী।
পশ্চিমবঙ্গের মূল সমস্যা
বিরোধীরা। রোজ কেউ না কেউ তৃনমূলে ভিড় জমাচ্ছে সিপিএম কংগ্রেস থেকে। আগামী ৫ বছর পর
সিপিএম ছাড়া বাকি দল গুলোর অস্তিত্ব থাকবে কিনা আমার সন্দেহ হয়। যারা সরাসরি তৃণমূলে
গেলো তারা নাহয় চিহ্নিত হয়ে গেলো, কিন্তু যারা গেলোনা তারা যদি গুপ্তচর হয়ে তৃনমূলের
হয়ে খেপ খাটে মহান বামনেতা সেজে- তখন কী হবে! কারন তৃনমূল ক্রমশ সমাজবিরোধীদের হাতে
চলে যাচ্ছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস একশ্রেনীর বাম নেতা মমতার হাতে তামাক খাচ্ছে। তবে দেশের
হাল দল সিপিএমের মত এতটাও খারাপ নয়, এদের নিচেতলার মাটি ক্ষয়ে গেছে। কিন্ত ভাবসাবে
জমিদারি, জনগণ মমতাকে তাড়িয়ে আবার বামেদের জবরদস্তি রায়টার্সে বসিয়ে দেবে। কর্মীরা
মার খাচ্ছে, খুন হচ্ছে, বাস্তুহারা হচ্ছে, ওদিকে বাবুরা আলিমুদ্দিনে বসে জাবর কাটছেন।
উপর তলার নেতারা জলসাঘরের ছবি বিশ্বাসের মত একটা দুর্বোধ্য অহং নিয়ে বসে
আছে, সবজান্তা ভাব, আগামীতে এই অবস্থা চললে এদের শূন্য হয়ে যাওয়া সময়ের দাবী। ক্রমশ
মাটির সাথে সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
গ্রামেগঞ্জে বেকারের সংখ্যা রোজ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। গতমাসেও একটা ভাল
ড্রাইভারের জন্য মাথাকুটে মরেছি। আজকাল রোজ সকাল হলেই ২-৪ জন কর্মপ্রার্থী অফিসে
আসছেন,
যার ভিতরে একজন ড্রাইভার তো আছেনই। রাজ্যে কাজ নেই, এরা অধিকাংশ পরিযায়ী হয়ে যাবে। মুম্বই, সুরাতে যারা কাজ করতেন গহনা শিল্পে, তারা ফিরে আসছেন, পর্যটন শিল্পেও মন্দার দররুন বেকারত্ব। এনারা না জানে মাঠের কাজ, না ভ্যান রিক্সা চালাতে পারে। তাই চার দেওয়ালের ভিতরে স্থানীয় কলকারখানাতে মোট বওয়ার কাজ হলেও সেটাই
চাইছেন।
কাল আমাদের ফ্যাক্টারিতে দেখি
মুটিয়া দিলের কিছু লেবার দামি বাইক নিয়ে কাজে এলেন।
সর্দারকে শুধাতে জানলাম, গাড়িটা আগের
কেনা। এখন ওই গাড়ি আর তার স্টেটাস রক্ষা করার জন্য এই ঘেড়াটোপের আড়ালে ভদ্রশিক্ষিত
সন্তানের মুটেগিরি করা। এরা তো
আপাতত বেঁচে গেল, কিন্তু যারা
এটাও করে উঠতে পারলনা? বেকার মস্তিষ্ক আরো ভয়াবহ, একখানেই সাম্প্রদায়িকতার চাষ করবে
RSS, এক্ষেত্রে বিজেপি আর তৃণমূলে কোন তফাৎ নেই, দুটোই ওই গোয়ালের প্রডাক্ট। রাজ্যেও
তামিলনাড়ুর জয়ললিতার মত মাসিক দানের টাকার রাজনীতি না নিয়ে আসে মমতা, তার মতিগতিও ভালো
ঠেকছেনা। বেকার ছেলেপুলেকে টার্গেট করে তাদের দিয়ে ভোট লুঠ করাতে, সরকারি টাকা দিয়ে
মোচ্ছোব করাবেনা কে বলতে পারে! যুবসমাজকে মদ, IPL এর মত জুয়ো, আর উৎসবে মাতিয়ে রাখলে-
TMC নেতাদের চুরি করতে বড় সুবিধা হবে। যেটা বাজারে আসছেনা সেটা হলো এদের তোলা আদায়,
সর্বত্র কাটমানির অত্যাচার। আমাদের ধান কিনতে, চাল বেচতে হেলেও একপ্রকারের হুমকি পাচ্ছি,
মিডিয়াতে আসছেনা বলে সবাই চুপ। তৃনমূলের এই নেতাগুলোকে কোনোমতেই সৎ বলে মনে হয় আপনাদের?
আমাদের ব্যাবসা সুত্রেই সমাজের নানান মানুষের সাথে উঠাবসা। তেমনই একজনের
কাছে কৌতুহল বসতই জানলাম, পতিতাপল্লিগুলোর
অবস্থা শিউরে উঠার মত। কাষ্টমার নেই। কারন এখানে সাধারনত “কালো টাকার” কারবারিদের আর
স্কুল কলেজের ছাত্রদেরই আনাগোনা নগদ টাকার ফোয়ারা। অথচ রোজ এই আদিম পেশাতে অনেকেই
অভাবের জ্বালায় ভিড় জমাচ্ছে। বলুন কে কার্ডে পেমেন্ট করে বেশ্যাবাড়ি গিয়ে? মোদীজি বোধহয় সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা এই ব্যাবসাতেই দিয়েছেন।
শীতে ফুল ও ফুলগাছের ব্যাবসা জাষ্ট ধ্বংস হয়ে গেছে। আমাদের সমুদ্রগড়ের তাঁতের ব্যাবসাতে সেলাইন ঝুলছে, GST লাগু হলে
আগামী 5-7 বছরের মধ্যে তাঁত শিল্পে লালবাতি ঝুলবে। মালিকদের
হাতে নগদ নেই, কারিগরেরা অধিকাংশেই ঘরে ফিরে গেছে। চালের
এক্সপোর্ট বন্ধ। তার সাথে জুড়ে থাকা ঠিকাশ্রমিকগুলোও কর্মহীন। কন্টেনার ট্রেলার তাদের ড্রাইভার মালিকেরা কড়িকাঠ গুনছেন। পেঁয়াজ সরষে চাষে
ব্যাপক ঘাটতি।
সম্পুর্ণ ম্যাসাকার অবস্থা।
প্লাস্টিক কার্ড হলেই দেশ ডিজিটাল হয়না, দিনের শেষে আমরা কার্ড দিয়ে নগদ টাকাই তুলি, ব্যাঙ্কের বদলে ATM থেকে। আমাদের দেশে অনলাইন সপিং করি, কিন্তু পে-অন ডেলিভারি
সিস্টেমে। এই তো আমাদের ডিজিটাল দেশের নাগরিক। কোনো বিকল্প সিস্টেম নেই।
ডিজিটাল হবে কিনা সময় বলবে, রিংটাল যে হয়ে বসে আছে সেটা দেখাই যাচ্ছে।
"সুধা হতে সুধাময় দুগ্ধ তার ; দেখে তারে পাপ ক্ষয় হয়,
মাতৃরূপা, শান্তিস্বরূপিনী, শুভ্রকান্তি, পয়স্বিনী ৷"
রবীন্দ্রনাথ এ ভাবেই গরুর গুন কীর্তন করেছেন ৷ শুধু গরু না, আমার ধারণা কিছু কিছু মানুষ দেখেও পাপ ক্ষয় হতে পারে - যেমন বুড়ি মা
খোয়া ভাঙছেন, বুড়ো রিক্সা চালক, গার্মেন্টস কারখানার কিশোরী শ্রমিক, বাড়ির কাজের মেয়ে ৷ আর কাদের দেখলে পাপ বেড়ে যায় ? এদেরকে যারা অসন্মান করে তাদের ৷ অতি সামান্য মজুরির বিনিময়ে ক্লান্ত দেহে, বিনা অভিযোগে এই মানুষগুলো সবার কাজের বোঝা বয়ে বেড়ায়
৷ গরুর মতই পরোপকারী, সংবেদনশীল, কোমলপ্রাণ ৷ জীবনে পূণ্য
সঞ্চয় তেমন ঘটেনি, তাই সুযোগ পেলেই
এদের দিকে তাকিয়ে থাকি, পাপের বোঝা
কিছুটা যদি হাল্কা হয় ৷
দশ হাজার বছর আগে মেসপটামিয়ার ইউফ্রেটিস-টাইগ্রীস, মিশরের নীলনদ, ভারতের সিন্ধু, চীনের
হুয়াং-ইয়াংযী নদীর আশেপাশে মানুষ প্রথম ঘর বাঁধলো ৷ শুরু হলো কৃষিকাজ, সেই সাথে পশুপালন ৷ যে কয়েকটি বন্য প্রানীকে বশ করা গেলো গরু তাদের মধ্যে প্রধান ৷ গরুকে কাজে লাগিয়ে মানুষের কপাল গেল খুলে ৷ লাঙ্গলের সামনে গরু, গাড়ির সামনে গরু, গরুর দুধ, মাংস, রক্ত, চামড়া, হাড়, গোবর সবই মানুষের কাজে লাগে ৷ গরু ছাড়া জীবন চলে না ৷ গরু হয়ে পড়লো সম্পদ আর প্রাচুর্যের প্রতীক ৷ টাকা আবিষ্কারের আগে গরুই ছিলো টাকা ৷ যে বন্য গরু থেকে আজকের গৃহপালিত গরুর জন্ম, তারা চার'শ বছর আগেই পৃথিবী থেকে লুপ্ত হয়ে গেছে ৷ ঠিক গরু নয়, তবে গরুর মতো কিছু প্রাণী - আমেরিকার বাইসন, আফ্রিকার বিশাল আকৃতির মহিষ, ভারতের জল-মহিষ এখনো বনজঙ্গলে নিজের দায়ে কোনোরকমে টিকে আছে ৷
"Cowards die many times before their deaths;
The valiant never taste of death but once."
জুলিয়াস সিজারের মতো বীর আর কজনেই বা আছে, আমরা মরার আগেই অনেকবার মরি ৷ মরার দুশ্চিন্তা সারা জীবন মানুষকে তাড়া করে বেড়ায় ৷ গরু-মোষ-মেষ এদিক দিয়ে বেশ আছে, মরার কষ্ট একবারই পায় ৷ শিকারী প্রানীদের চোখ থাকে মাথার সামনে, চোখের মনি হয় গোলাকার - যেমন মানুষ, সিংহ, শেয়াল, পেঁচা ৷ শিকারের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য সামনে দেখা এবং শিকারের দূরত্ব বোঝা ভীষণ
জরুরী ৷ যে প্রাণীরা
শিকার,
তাদের চোখ থাকে মাথার দুধারে, চোখের মনি হবে লম্বাটে - যেমন গরু-মোষ-হরিন ৷ ওদের বিপদ আসে প্রধানত পেছন থেকে, সামনে পেছনে দু-দিকে দেখার জন্য এটাই চোখের মোক্ষম
অবস্থান ৷ শিকার আর শিকারী
দু'দলকেই একদিন মরতে হবে, তবে শিকারী প্রানীদের মরার কষ্ট বেশী ৷ বৃদ্ধ বয়েসে দীর্ঘ সময় ধরে মানুষকে ধুঁকে ধুঁকে মরতে
হয় ৷ বুড়ো বয়েসে
সিংহের একই দুর্দশা ৷ কয়েক মিনিটের
মধ্যে বাঘের হাতে একটা হরিনের মৃত্যু ঘটে ৷ মানুষের হাতে গরুর মরণ ঘটে মিনিট দুয়ের মধ্যে ৷ যে প্রাণীরা শিকার তাদের প্রতি আমাদের সহানুভূতি বেশী, কিন্তু শিকারী প্রাণীর জীবনেও দুঃখ কিছু কম নয়, তার উপরে আছে দীর্ঘ দিনের মরণ যন্ত্রণার পালা ৷
পৃথিবীতে প্রতি বছর মানুষের খাদ্যের প্রয়োজনে তিরিশ কোটি গরু, ষাট লক্ষ কোটি মুরগী, এবং বিশ লক্ষ কোটি শুকর বধ করা হয় ৷ সবচেয়ে গরু-খেকো দেশ হচ্ছে হংকং, ওখানে একজন লোক গড়ে বছরে ষাট কেজি গোমাংস খায়, তারপরেই আছে আর্জেন্টিনা এবং ব্রাজিল ৷ আমেরিকা এবং ইউরোপের ধনী দেশগুলো খুব পিছিয়ে নেই - ওদের
পেটে যায় প্রায় পঁচিশ কেজি ৷ গরু-খাওয়া মুসলমান বলে যে কথাটা প্রচলিত আছে সেটা ঠিক নয় ৷ জনবহুল মুসলিম দেশগুলো - যেমন ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ভারত, মিশর, সৌদি আরব, এবং ইরানে গড়ে প্রতিবছর একজন মানুষ খায় মাত্র চার থেকে
দেড় কেজি গরুর মাংস ৷
পৃথিবীর সব প্রাণীর প্রাকৃতিক খাদক (natural predator) আছে, মানুষের নেই ৷ মানুষ খাদ্য শিকলের (food chain) একেবারে উপরে বসে আছে ৷ শিকলের মাঝে যারা আছে তারা উপরের প্রানীদের খাদ্য আর
নীচের প্রানীদের খাদক ৷ একমাত্র ঘাস বা গাছের পাতা সূর্যের আলো, বাতাসের কার্বন ডাই অক্সাইড, আর জল মিশিয়ে খাদ্য বানাতে পারে ৷ আমরা সবাই সেই খাবারে ভাগ বসাই ৷ মানুষের প্রাকৃতিক খাদক নেই বলে মানুষের সংখ্যা অন্য
প্রাণীর তুলনায় ভয়ানক বেগে বেড়ে চলেছে ৷ আগে কলেরা, বসন্ত, প্লেগ জাতীয় মহামারীতে লক্ষ লক্ষ
লোক মরতো ৷ চিকিৎসা
বিজ্ঞানের উন্নতির কারণে তা আর এখন হয় না, মানুষের গড় আয়ু অনেক বেড়ে গেছে ৷ মানুষের খাবার যোগাড়ের আয়োজনে বনাঞ্চল উঠে যাচ্ছে, আকাশের ওজোন স্তরে ফাটল ধরেছে, পৃথিবীর তাপমাত্রা যাচ্ছে বেড়ে ৷ এরকম চললে একসময় এই পৃথিবী মানুষের বসবাসযোগ্য থাকবে না, অগনিত মানুষকে মরতে হবে, সমগ্র মানুষ জাতি-ই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে ৷ পরিবেশ বদলে গেলে অনেক প্রাণী লুপ্ত হয়ে যায় ৷ মানুষ জাতিকে বাঁচাতে হলে মানুষের সংখ্যা আর বাড়তে
দেওয়া যায় না ৷ তার জন্য চাই
জন্ম নিয়ন্ত্রণ - পরিবার পরিকল্পনা ৷
ধরা যাক মানুষ গরুর মাংস খাওয়া বন্ধ করে দিল ৷ বলদ বা ষাঁড় দিয়ে লাঙ্গল এবং গাড়ী চালনোর প্রয়োজন আজ
আর নেই ৷ ওদেরকে পালন করে কৃষকের কি লাভ ? ওদেরকে মুক্তি দেওয়া হবে ৷ কিন্তু ওরা যাবে কোথায় ? একটা গরু যতদিন
দুধ দিচ্ছে ততদিন তাকে পোষা লাভজনক, কিন্তু বুড়ো বয়েসে কৃষক ওর গলার বাঁধন খুলে দিবে ৷ ও যাবে কোথায়, খাবে কি ? ওদের জন্য
বৃদ্ধাশ্রম খুলতে হবে ৷ পৃথিবীর আর কোথায় না হলেও, ধর্মীয় কারণে ভারতে হয়তো এরকম গোশালা খোলা সম্ভব যেখানে বিনা পরিশ্রমে
বলদ এবং বুড়ো গরুদের খাবার মিলবে ৷ তবে আমার সন্দেহ আছে ৷ একজন সংখ্যালঘু বৃদ্ধ গোমাংস খেয়েছে এই গুজব শুনে তাকে পিটিয়ে হত্যা করার
মতো বীরপুরুষের অভাব হয়তো নেই, কিন্তু নিজের
পরিশ্রমের টাকা নি:স্বার্থভাবে গরুর পেছনে দীর্ঘদিন ব্যায় করবে এমন মহানুভব লোক
খুব বেশী নেই ৷ গরুভক্ত
বকধার্মিকদের মুখোশ দ্রুত খুলে যাবে ৷ শরৎচন্দ্রের মহেশ তার স্বাক্ষী ৷ গফুরের কান্না মনে আছে কি - "আল্লাহ ! আমাকে যত খুশি সাজা দিয়ো, কিন্তু মহেশ আমার তেষ্টা নিয়ে মরেছে ৷ তার চ'রে খাবার এতটুকু
জমি কেউ রাখেনি ৷ যে তোমার দেওয়া
মাঠের ঘাস, তোমার দেওয়া তেষ্টার জল তাকে
খেতে দেয়নি, তার কসুর তুমি যেন কখনো মাপ ক'রো না ৷"
একটা গরু বেঁচে থাকে প্রায় বিশ বছর এবং প্রতি বছর সন্তান জন্ম দেয় ৷ তার কন্যা দুই বছর বয়সে মা হবে, তারপরে তার নাতনির পালা ৷ বুড়ো বয়েসে মরার আগে একটি গরু থেকে জন্ম নেবে অসংখ্য
গরু ৷ কয়েকশ' বছরের মধ্যে ভারত গরুতে ছেয়ে যাবে, মানুষের ঠাঁই হবে না ৷ প্রানীদের পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাবে, অগনিত প্রাণী প্রাণ হারাবে, অনেক প্রজাতি চিরতরে লুপ্ত হয়ে যাবে ৷ শেষপর্যন্ত গরুরা ধ্বংশ করে ফেলবে নিজেদের আবাসস্থল এবং
পরিবেশ,
অসংখ্য গরুকে মরে যেতে হবে ৷ গরুকে বাঁচাতে হলে গরুর সংখ্যা আর বাড়তে দেওয়া যায় না
৷ প্রাকৃতিক নিয়মে মানুষ হচ্ছে
গরুর খাদক, গরুর মাংস খেয়েই সে বাঁচাতে পারে
আরো অনেক গরুকে ৷ অথবা মানুষের মত
গরুর জন্যেও চাই জন্ম নিয়ন্ত্রণ - পরিবার পরিকল্পনা ৷
একটি গরু দিনে প্রায় তিন'শ লিটার মিথেন
গ্যাস বাতাসে ছড়ায় ৷ সেই সাথে আছে এমনিয়া এবং নাইট্রাস অক্সাইড ৷ জাবর-কাটা প্রানী গরুর পাকস্থলীতে আছে চারটি কক্ষ, যেখানে ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে খাবার হজম করা হয় ৷ এই প্রক্রিয়া তৈরি করে প্রচুর মিথেন গ্যাস ৷ পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিতে মিথেন গ্যাসের জুড়ি
নেই,
এই গ্যাস কার্বন ডাই অক্সাইডের চেয়েও অনেক
গুন ভয়ঙ্কর ৷ পৃথিবী জুড়ে
যদি গরুকে রক্ষিত প্রাণী করে রাখা হয় তবে বাতাসে বাড়তে থাকবে মিথেনের পরিমান, সেই সাথে বাড়বে পৃথিবীর তাপমাত্রা, গলতে থাকবে মেরু অঞ্চলের বরফ, সমুদ্র গ্রাস করবে পৃথিবীর নীচু অঞ্চলগুলি, ভারত মহাসাগর হিমালয় পর্যন্ত পোঁছে যাবে, মানুষ-গরু, হিন্দু-মুসলমান, গরু-ভক্ত, গরু-খাদক কেউ রেহাই পাবে না ৷
কলমে- খন্দকার করিম
Disclaimer: অত্যন্ত অশ্লীল ভাষায় কথাবার্তা লেখা আছে এখানে, প্লিজ কেউ পড়বেন না। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদকে যারা ঘৃণা করেন, তারা কিন্তু এটা পড়ল...