রবিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

রিলায়েন্স জিও - জুয়াচুরি নাকি বাস্তব!


 

আগামীকাল মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স কোম্পানি ‘Jio’ নামের একটা নতুন মোবাইল পরিষেবা কোম্পানি লঞ্চ করতে চলেছে, অবশ্য তার আগেই চারদিকে সাড়া পড়ে গেছে।

বহুদিন ধরে বদ্ধ জলার মত স্থির থাকা ইন্ডিয়ান টেলিকম মার্কেটে জিও-র আবির্ভাব প্রায় ছোটখাটো সুনামি বললে অত্যুক্তি হবে না। এখন স্বাভাবিক ভাবেই প্রায় ৫০% কম রেটে কিভাবে রিলায়েন্স এত ডাটা এত মানুষকে প্রোভাইড করবে সেটা নিয়ে অনেকেরই কৌতুহল। তার উপর রয়েছে আনলিমিটেড ফ্রি ভয়েস কল! শুনতেও অবাস্তব লাগে। আমাদের এই প্রজন্মটা এতো দ্রুত বদলে যাচ্চছে যে কী বলব, আগামীতে হয়ত ইন্টারনেট ব্যবহার করেই লাইভ ক্রিকেট ম্যাচ দেখব গ্রামে বসে।

এরমধ্যে নরেন্দ্র মোদী জিও-এর প্রায় ব্র‍্যান্ড আইকন হয়ে গিয়ে, এতে কিছু রাজনৈতিক মশলাও মিশিয়ে দিয়েছেন। তাই রাজনৈতিক লাভের জন্য বা নেহাতই ভারতীয় সুলভ সংশয় থেকে অনেকেই বলছেন এটা জালিয়াতি, মুকেশ আম্বানি ডাকাত ইত্যাদি ইত্যাদি

তাহলে প্রশ্নটা দাঁড়ালো এটা কী জালিয়াতি? কিভাবে এত কিছু সম্ভব? প্রশ্নটা সহজ। উত্তরটা বেশ বড়। কিন্তু এককথায় উত্তর হ্যাঁ সম্ভব। এর মধ্যে কোন জালিয়াতি নেই। পুরোটাই প্রযুক্তিগত উন্নতি এবং ব্যবসায়িক ভিশন এর ফল। গোটা ব্যাপারটা বুঝতে হলে আমাদের শুরু করতে হবে একদম গোঁড়া থেকে

১. কিভাবে ডাটা নেটওয়ার্ক কাজ করে?

সহজ ভাষায় বললে আমাদের চারপাশের টাওয়ার গুলো অনেকটা বাড়ির ওয়াইফাই হটস্পটের মত, শুধু সাইজে বড় এবং রিচ অনেক বেশি। যেমন বাড়ির রাউটার কানেক্টেড থাকে নেটের কেবল এর সাথে, তেমনই টাওয়ার এর কানেকশন থাকে তার নীচের অপটিকাল ফাইবারের সাথে। অপটিকাল ফাইবার হচ্ছে আধুনিকতম কমিউনিকেশন সিস্টেম যাতে টেরাবিটস পার সেকেন্ড রেঞ্জে ডাটা ট্রান্সমিশন হয়। এবার আমরা মোবাইল বা ডঙ্গল থেকে যে ডাটা পাঠাই তা টাওয়ার রিসিভ করে এবং অপটিকাল ফাইবারের মধ্যে দিয়ে যে টাওয়ারে দরকার পাঠিয়ে দেয়।

এই ফাইবারের আবার বিভিন্ন কোয়ালিটি হয়। ২জি-৩জি এর জন্য যে ফাইবার ব্যবহার করা দরকার 4G বা 5G এর জন্য স্বাভাবিক ভাবেই তার থেকে অনেক বেশি দামী ও গুণমানের ফাইবার প্রয়োজন হবে। এখানে ব্যান্ডউইডথ ব্যাপারটাও জেনে রাখা দরকার। কথাটা অনেক জায়গায় বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়। এক্ষেত্রে ব্যান্ডউইডথ হল সেই ফ্রিকোয়েন্সি রেঞ্জ যেটার মধ্যে কোন একটা কোম্পানি ডাটা পাঠাতে পারে। স্বাভাবিক ভাবেই যার হাতে যত বেশি ব্যান্ডউইডথ যে তত বেশি সংখ্যক মানুষকে হাইস্পিড ডাটা দিতে পারবেআগামীতে আমাদের দেশেও 5G আসবে, গোলগোল ঘোরা হয়তবা বন্ধ হবে।

২. এখন ভারতে টেলিকম কোম্পানি গুলোর কি হাল?

ভারতের বেশিরভাগ টেলিকম কোম্পানি চায় একটা পুরস্থবির সিস্টেম টিকিয়ে রেখে ব্যবসা চালিয়ে যেতে। তাদের কেনা ব্যান্ডউইডথ যেমন কম তেমনই তাদের কেবল নেটওয়ার্ক বহু পুরনো যা মূলত ভয়েস কলের জন্য বানানো। তাতে ডাটা পাঠালে স্বাভাবিক ভাবেই স্পিড বা কোয়ালিটি কমবে। এয়ারটেল বা ভোডাফোন কিছু 4G কোয়ালিটি কেবল লাগালেও তার সংখ্যা কম। তারা বরং অন্য নন-টেলিকম কোম্পানির থেকে অপ্টিকাল ফাইবার ভাড়া নিয়ে কাজা চালাতেই বেশি উৎসাহী। এখন টেলিকম অনেকটাই ওয়ান টাইম ইনভেস্টমেন্ট। অর্থাৎ শুরুতে সমস্ত টেকনোলজি গড়ে তুলতে প্রচুর খরচা, কিন্তু তারপর সেই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সার্ভিস দিতে খরচা প্রায় নেই। তাই বাকি কোম্পানি যাদের অলরেডি একটা প্রযুক্তি গড়ে তোলা আছে তারা নতুন প্রযুক্তিতে ইনভেস্ট করতে আগ্রহী নয়। তারা ওই পুরনো প্রযুক্তি ব্যবহার করেই কাজ চালাচ্ছে। ফলস্বরূপ আমরা স্লো নেট পাচ্ছি এবং টাকাও বেশি গুনতে হচ্ছে। বেশির ভাগ টেলিকম কোম্পানি নিজেদের মধ্যে অলিখিত চুক্তি করে একই রকম রেট রেখে গ্রাহককে মুরগী করে যাচ্ছে। এয়ারটেল ভোডাফোন আইডিয়ার নেটপ্যাকের দামগুলো দেখলেই আইডিয়া পাওয়া যাবে সেটারএকচুয়ালি আমাদের দেশের মত এতোবড় বাজারে ইন্টারনেট এর জন্য পয়সা নেওয়াই উচিৎ নয়। শুধুমাত্র Call এর পয়সা দিয়েই আদধুনিক প্রযুক্তিতে ডাটা সার্ভিস দেওয়া সম্ভব।

৩. জিও কোথায় আলাদা?

প্রথমেই জানা দরকার জিও রিলায়েন্সের নিজস্ব ভেঞ্চার না। ইনফোটেল ব্রডব্যান্ড নামক একটি কোম্পানি ২০১০ সাল নাগাদ ভারতের সব সেক্টরে 4G স্পেকট্রাম (ব্যান্ডউইডথ এর-ই অন্য নাম সহজ ভাবে বুঝতে গেলে) জেতে। মূল কারণ ছিল অন্য বড় কোম্পানিরা তখন 3G সামলাতেই ব্যাস্ত, 4G নিয়ে কারো মাথা ব্যাথা ছিলনা। কিন্তু মুকেশ আম্বানি এইসময়েই ইনফোটেলের ৯৬% শেয়ার কিনে নেন এবং পরে নামকরণ হয় জিও।

প্রশ্ন উঠবে ২০১০ এই 4G স্পেক্ট্রাম পেয়ে গেলে ৬ বছর ধরে অপেক্ষা করার কারণ কী ছিল! কারণ হল এই ৬ বছর ধরে গোটা ভারতে রিলায়েন্স বিশাল বড় অপ্টিকাল ফাইবার নেটওয়ার্ক তৈরী করেছে। কতটা বড়? রিলায়েন্স প্রায় ২৫০০০০ কিমি ব্যাপী অপ্টিকাল ফাইবার, ৯০০০০ টাওয়ার স্থাপন করেছে। এই নেটওয়ার্ক শুধুই বিশাল নয়, অত্যাধুনিক মান সম্পন্নও বটে। এখানে ২৮৮ বা ৯৬ ফাইবারের কেবল ব্যবহার হয়েছে যেখানে বাকি কোম্পানিরা ১২-২৪ ফাইবারের কেবল ব্যবহার করে। বেশি ফাইবার মানে একসাথে বেশি ডাটা পাঠানো সম্ভব। সাথে এটাও বলা দরকার এই কেবল এতই উন্নত যে এই গোটা সিস্টেম 5G ব্যবহার করারও উপযোগী। আগামী ২-৩ বছরের মধ্যেই আমাদের দেশের ইন্টারনেট ব্যবস্থায় বিল্পব আসতে চলেছে।

অর্থাৎ জিও পুরো থমকে থাকা প্রাচীন একটা সিস্টেমে এক ঝটকায় কাটিং এজ প্রযুক্তি এনে ফেলেছে। এদের কভারেজ ভারতের প্রায় ৭০% এরিয়া যা বাকি সমস্ত 4G প্রোভাইডারদের এরিয়া যোগ করলে যা হয় তার থেকেও বেশি। তাই এয়ারটেলের ওয়াইডেস্ট 4G নেটওয়ার্কএর দাবিটা যে একেবারেই ফালতু হয়ে যাবে তা বলাই বাহুল্য।

৫. আনলিমিটেড ফ্রি কল? কিভাবে সম্ভব?

যারা হোয়াটস্যাপ বা ফেসবুক বা স্কাইপ কলের সাথে পরিচিত তাদের কাছে এটা খুব বিস্ময়ের নয়বর্তমান কোম্পানি গুলো ডাটা ও ভয়েস কলের জন্য আলাদা আলাদা প্রযুক্তি ব্যবহার করে যা প্রাচীন এবং ধীরগতির। সেখানে জিও ভয়েস কলকে ডাটায় পরিবর্তন করে তাদের 4G নেটওয়ার্ক এর মাধ্যমেই ট্রান্সমিট করবে। যার ফলে ভয়েস কলিং এর জন্য আলাদা কোন খরচ বা প্রযুক্তি তাদের লাগবেই না। তাই একবার ডাটাপ্যাক রিচার্য করলে ইন্টারনেট সার্ফিং এর মত আনলিমিটেড ভয়েস কলিং ফ্রি করতে দিতে কোন সমস্যাই নেই। কল কোয়ালিটি নিয়েও চিন্তার কারণ নেই, স্কাইপ বা হোয়াটস্যাপ যেখানে সর্বোচ্চ ৩জি ব্যাবহার করে- সেখানে জিও 4G ব্যবহার করবে। ভয়েস কল বা ভিডিও কল দুটোই উন্নত মানের হবে

৪. কেন জিও সব মোবাইলে পাওয়া যাবেনা?

জিও ভয়েস কলিংএর জন্য VoLTE প্রযুক্তিযুক্ত 4G সেট দরকার, নর্মাল 3G বা তার থেকে কম মানের হ্যান্ডসেটে এই প্রযুক্তি কাজ করবেনা। VoLTE টেকনোলজি ব্যবহার হয় ভয়েস কলকে ডাটায় কনভার্ট করতে। আগেই বলেছি জিও নর্মাল ভয়েস কল সাপোর্ট করেনা। তাই এই আদধুনিক এই টেকনোলজি না থাকলে জিও সিম কাজ করবে না। এখন ৪০০০ টাকাতেও VoLTE স্মার্টফোন পাওয়া যাচ্ছে, আর অদূর ভবিষ্যতে সব ফোনই যে এই টেকনোলজিতে কনভার্ট হয়ে যাবে তা বলাই বাহুল্য।

৬. তাহলে জিও কি আমার খরচা বাঁচাবে?

উত্তরটা একইসাথে হ্যাঁ এবং না। জিওর ১৪৯ টাকার প্যাকে 300MB 4G ডাটা এবং আনলিমিটেড কল পাওয়া যাবে। যারা মোটামুটি দৈনিক নেট ব্যবহার করে তাদের কাছে 300MB কিছুই না। কিন্তু শুধু Call করতে হলে এই অফারটা অসাধারণ। এরপরের অফার হল ৪৯৯ টাকা। খেয়াল করা দরকার মাঝে কিছুই নেই। এবার ৪৯৯ টাকায় গ্রাহক 4GB ডাটা আর ফ্রি ভয়েস কল পাবে

এখনকার অন্য সমস্ত কোম্পানির 4G স্কিমে সারা মাস কল করলে আর 4Gবি ডাটা চাইলে ১০০০ টাকার বেশী খরচা হয়। সেদিক দিয়ে জিও টাকা বাঁচবে। কিন্তু, আমরা সাধারণতথেকে ২ জিবি ডাটায় সারামাস চালিয়ে দিই এবং তাতেও ৪০০-৫০০ খরচা পড়ে। দ্রুতগতির ইন্টারনেট পেলে, মাসে ৫ জিবিও আমাদের কম পরতে পারে। আর জিও এই হিউম্যান বিহেভিয়ারটা নিয়ে অবশ্যই রিচার্য করেছে, তাই এদের ১-২ জিবির কোন প্যাকেজই নেই। তারা গ্রাহককে প্রলুব্ধ করছে ৪৯৯ এর প্যাকটাই নিতে।

তাই দেখতে গেলে বেশিরভাগ গ্রাহকই হয়তো একই পরিমাণ টাকা খরচা করবে মাস গেলে। তাতে ভ্যালু ফর মানি’র হিসাবে দু থেকে তিন গুন বেশি পরিষেবা পাওয়া যাবে। তাই খরচা একই থাকলেও অনেক বেশি ভাল ইন্টারনেট ব্যবহারের অভিজ্ঞতা পাওয়া যাবেআগামীতে ৪ জিবিও কম পরবে এটা জিও জানে, তারা মাসিক দৈনিক হাফ জিবি করে, মাসিক ১৫জিবির প্ল্যানও আনবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। ভাবুন ১৫ জিবি মাসে! যদিও সেই প্ল্যানের সফলতা নিয়ে প্রশ্ন আছে, এতো ইন্টারনের নিয়ে সাধারণ মানুষ করবটা কী!

সবদিক থেকে বলা যায়, সস্তার জিও প্ল্যানগুলো সবার জন্যই উইন উইন সিচুয়েশন। আগামীতে রিলায়েন্স জিও ভারতের একটা বিশাল সংখ্যক গ্রাহক নিজেদের দিকে নিয়ে আসবেই, কারন তারা ‘স্টেট অফ দ্যা আর্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। আগামীতে টেলিনর, আইডিয়া বা ভডাফোনের মত বিদেশি কোম্পানিগুলো অস্তিত্বের সণঙ্কটে পরবেই, তখন জিও মনোপলি তাদের প্যাকেজের দাম সেট করে একচেটিয়া মুনাফা লাভ করবে।

গ্রাহক অবশ্যই উন্নত পরিষেবা পাবে একই খরচায়। সবচেয়ে বড় কথা, টেলিকম মার্কেটে কম্পিটিশন বাড়বে, অন্য সব কোম্পানি বাধ্য হবে আধুনিক পরিষেবা নিয়ে আসতে। জিও বেসলাইন থেকে শুরু করেছে নতুন প্রযুক্তি গড়ে তুলে, তাই অভূতপূর্ব কম দামে দিতে পারছে এটা কোনো সমাজসেবা নয়, জালিয়াতি নয়; পুরোটাই প্রযুক্তির কামাল। এই প্রযুক্তিগত বিপ্লবটা ভারতের টেলিকম শিল্পে খুব দরকার ছিল। জিও সেই অভাবটাই পূর্ণ করেছে এই যা

বিজ্ঞাপনে মোদীজির মুখ আছে, মানে কেন্দ্রীয় সরকারেরও একটা প্ল্যান থাকবে এই দ্রুতগতির সস্তার ইন্টারনেটকে ব্যবহার করে প্রযুক্তিগতভাবে উন্নয়ন করার। আগামীতে ব্যাঙ্কিং শিল্প বদলে যেতে পারে, হয়ত ঘরে বসেই লেনদেন প্রযুক্তি এসে যাবে ‘নেট ব্যাঙ্কিং’ এর বিকল্প হিসাবে। লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটার যন্ত্রনা ফুরাতে পারে। বিদেশের মত অনলাইন শিক্ষা চালু হয়ে যেতে পারে। অফিসিয়াল বহু মিটিং দ্রুতগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করেই হয়ত হবে, অফিসে যাওয়ার দরকারই হবেনা হয়ত। টিভির গুরুত্ব কমে যাবে, মাসিক রিচার্যের যা খরচা, ইন্টারনেটেই দেখে নেবে অনেকে।

এন্টারটেনমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিতেও মোবাইল ইন্টারনেট নির্ভর সিনেমা সিরিয়াল তৈরি হবে, মূলধারার সিঙ্গেলস্ক্রিন সিনেমাহল আগেই উঠে গেছে, সিনেমা হল কনসেপ্টটাই উঠে যেতে পারে আগামীতে, সিনেমা তৈরির ধরনও বদলে দেবে। সিকিউরিটি, স্বাস্থ্য, তথ্য সংরক্ষণ, কৃষি, শ্রমিকের ধরন বদলে যেতে পারে। ওলা নামের যে ট্যাক্সি এ্যাপটা চালু হয়েছে, এই ধরণের আরো বেশী বেশী ইন্টারনেট ভিত্তিক পরিষেবা গুণিতক হারে বৃদ্ধি পাবে। শপিং এর ইন্টারনেট নির্ভর প্ল্যাটফর্মগুলো ভয়ানকভাবে বুষ্ট হবে সন্দেহ নেই। কে বদলতে পারে ব্যাঙ্গালোর শহরে তৈরি হওয়া জোমাটো জাতীয় এ্যাপ গুলো একদিন আমার গ্রামেও খাবার পৌঁছে দেবেনা!

এগুলো অতিকল্পনা মনে হতেই পারে, কিন্তু প্রযুক্তি যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, এসব দ্রুতই ঘটবে। তবে ভয়ও আছে, সস্তার ইন্টারনেট সকলকে সব বিষয়ে ‘বিশেষজ্ঞ’ সাজিয়ে তুলবে। নিয়ন্ত্রণহীন একটা বেহায়া সমাজ তৈরি হয়ে যেতে পারে। অনলাইন গেমিং, অনলাইন জুয়ো, বিভিন্ন সোস্যালমিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতে মানুষ আরো বেশী বেশী বুঁদ হয়ে যাবে। আগামী দিনের রাজনীতির ধারা এখান থেকেই নির্ধারিত হলেও আশ্চর্য হবোনা। পরিচয় লুকিয়ে মানুষ যা খুশি করতে পারে অন্তর্জালে, ফেসবুকের ফেক প্রোফাইলের মত আর যে কত কত বিষয়ে ফেক হবে কেউ জানিনা।

শিল্প, চারুকলা, ললিতকলা, মৌলিক লেখনি– এসব দ্রুত কমে যাবে দ্রুত গতির ইন্টারনেট পেলেই। পাবলিক ভিজুয়াল দেখতে পায় বলেই সে টিভি আপন করেছিল রেডিও ছেড়ে। পড়ার চেয়ে শোনা কম খাটনির, শোনার চেয়ে দেখা আর বেশী আকর্ষনীয়। তাই আগামীতে ভিডিও নিয়ে গবেষণা হবেই। হাতের মোবাইল মানেই ব্যক্তিগত পরিসর, সুতরাং ব্যাক্তি তার পছন্দভিত্তিক বিষয় বেছে নেবার স্বাধীনতা পাবে, এটার বাজে দিক হলো- যুবসমাজে নিষিদ্ধ সিনেমার সুনামি আসবে, যদি বিনা থেমে স্ট্রিমিং পায় দ্রুতগতির ইন্টারনেটের সৌজন্যে, কেউ আর বলিউডি গান বা দুষ্ট ছবি ডাউনলোড করতে যাবেনা পাড়ার কম্পিটারওয়ালা দোকানির কাছে। আগামীতে চোরডাকাতেরাও দ্রুতগতির ইন্টারনেট এর অপব্যবহার করবে। কীভাবে হবে জানিনা, তবে এটা বাড়বে।

যেটাই হোক, সব মিলিয়ে আগামী ভালোর দিকে যাবে, তার চেয়েও বড় কথা দ্রুত সব কিছু বদলে যাবে আমাদের চেনা পৃথিবীটা।

তথ্যসূত্র: কোরা এবং বিভিন্ন সংবাদপত্র


উন্মাদীয় বিজ্ঞাপন


ছবিঃ ইন্টারনেট 

ফুলশয্যার খাট সাজাতেও কাওকে দরকার? যদি সময়মত সুযোগ হয় তো এই কন্ট্রাক্টটা পুরাতন প্রেমিককে দেওয়াটাই নতুনত্বকে প্রাধান্য দেওয়া কারন এটা বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত। 

অবশ্যই নিচের লাইনগুলো পড়ে শরীরের রোম খাঁড়া হয়ে যেতেই পারে, তাহলে ওই অসভ্য রোম গুলোকে ভিট দিয়ে ক্লিন করে সুদ্ধ হয়ে পড়ুন। তৃপ্তি পাবেন।

একা সুন্দরী ললনা ঘরে, বাড়িতে কেও কোত্থাও নেই। নিষিদ্ধ নিষুতির হাতছানি। সেই উগ্র ঘামের গন্ধ, চুলের গুমোট, অসফুট ওষ্ঠ, থরথর দেহপট, লজ্জায় শক্ত করে কষে বন্ধ করে রাখা চোখ, পায়ের শিরা টানটান, আঙুল গুলো পা থেকে খুলে পড়তে চাইছে, চিবুকের নিচে বিন্দু বিন্দু ঘাম, শরীরে বিদ্যুৎ বয়ে যাচ্ছে মুহুর্মুহু, বুকের ধুকপুকানি শতগুন, আর এক শরীর রাক্ষুসে খিদে।

হ্যাঁ এটাই তো আমরা ভেবে থাকি। হবেও বা।

জিভ হাহাকার করছে, প্রানপনে লেহন চলেছে প্রেমিকের ওষ্ঠদ্বয়, উপর উষ্ঠ- নিন্মাষ্ঠ- বা শুধুমাত্র লালামিশ্রিত জিহ্বা লেহন। ললাটে বিন্দু বিন্দু কামনার ঘাম, ধেবরে যাওয়া চোখের কাজল, লিপস্টিক কবেই তো সঙ্গীর উদরস্থ, ক্রমাগত লেহনে বাকি সমস্ত প্রসাধন ও সেই পথাভিমুখে ,শুধু অষ্ফুট কিছু গোঁঙানির আওয়াজ। তীব্র যন্ত্রনার এক অপার্থিব পরিতৃপ্তি। শরীরের প্রতিটি রোমকে আলাদা করা যায়। বুকের শ্রীফল যেন জমাট বাঁধা বরফ, প্রেমের উষ্ণ গরলে আজ যে গলে যেতে চাই। প্রায়বন্ধ শ্বাসপ্রশ্বাস। তলপেটে নাভির চারপাসটা হালকা উঠানামা করে চলেছে, প্রানের অবশিষ্টাংশ বোধহয় ওখানেই আস্তানা গেঁড়েছে। আরেকটু দুরের জীবন্ত আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ। শত সহস্র লিটার জলন্ত লাভার স্রোত, চোরা সরসত্বীর মত ক্রমপ্রবাহমান। বাঁধ চাই একটা শক্ত বন্ধন। একটা শক্ত বাহুডোর ভেঙেদিক সকল পিঞ্জরাস্থি। প্রণয়ের আকুতি কবেই বা লোকলাজের ভয় করেছে! পরিণয় না হোক, আমিও তো পরী নই। অবৈধ্য? সে তো সমাজের সৃষ্ট একটা শব্দ, যে সমাজ আজও আমায় ধর্ষন করছে কুমারি সাজিয়ে রেখে। গলে যেতে চাই আমি, কামরে খাঁমচে সারা শরীরে বাহ্যিক ক্ষত তৈরি হোক। গভীর ক্ষত। সোহাগের ঘা তে ভরে উঠুক আমার সারা অঙ্গ।

মনের জ্বালা তো মিটুক।

সুরভিত এন্ট্যিসেপটিক ক্রিম বোরোলিন।  সকল প্রকার বাহ্যিক ঘা এর মারনাস্ত্র।

*************** এটা আন অফিসিয়াল বোরোলিনের বিজ্ঞাপন মাত্র****************

টিং টিং টি টিং
@উন্মাদ হার্মাদ

বৃহস্পতিবার, ২৫ আগস্ট, ২০১৬

অকবির জন্মকথা.

লেখাঃ মতিউল ইসলাম
—————–
জন্মেছিস যখন একটা দাগ রেখে যা,

এই উক্তি আমার এমন অনুপ্রেরণা দিল যে ছোট থেকেই ভাবনার শেষ রইলো না,কি ভাবে দাগ রাখা যায় বিষম চিন্তার বিষয় হয়ে দাড়ালো শেষে অনেক ভেবে ভেবে শেষে চক দিয়ে গোটা বাড়ি আঁক কেটে দিলাম, মা এই সব দেখে ভালোই উত্তম মধ্যম দিলেন, শেষে বললেন কেন এই ভাবে বাড়ি নোংরা করেছিস বল,ফোঁপাতে ফোঁপাতে মা কে দাগ রেখে যাবার কথা বললাম, মা তো হেসে বাঁচেনা, বাবা কে গিয়ে বললেন, বাবা বললেন ব্যাটা দাগ এভাবে নয় কাজের মাধ্যমে রাখতে হয়.
ভীষণ চিন্তায় পড়লাম কি করা যায়? 

মনে মনে নেতাজী গান্ধীজি কে খুব রাগ দেখালাম কেন ওরা ইংরেজ দের দেশছাড়া করলো?আর কিছুদিন থাকলে কেমন বিপ্লবী হয়ে দাগ রাখতাম,

বহু চেষ্টা করলাম দাগ রাখার দাগ আর পড়ে না,অভিনেতা হতে গেলাম কাঁদতে বললে হাসি আর হাসতে বললে কাঁদি,
ঘাড় ধরে বের করে দিল,গান শিখতে চেয়ে প্রথম দিনেই এমন চিৎকার দিলাম গুরুজীর কানে তালা ধরে গেল,খবর পেয়েছি আজো সেই তালা খোলেনি,খেলাধূলা ও শরীরে সহ্য হলো না.
তারপর হঠাৎ একদিন পরশ পাথর পেয়ে যাবার মতো পেয়ে গেলাম দাগ রাখার অমোঘ অস্ত্র,
সদ্য যৌবনপ্রাপ্ত হয়েছি কাছের বান্ধবী কে অন্য চোখে দেখতে শুরু করেছি একদিন দুম করে ওর খাতায় লিখে দিলাম



তোর কালো চুল
আমার চুলবুল.



ও তো মহা খুশি আমি ও কবতের প্রেমে পড়লাম.
পরদিন আবার লিখলাম



তোর ওই বুক
আমার ধুকপুক.
রেগে গিয়ে আমার ত্যাগ করলো, 

নারী গেল কবিতা এলো জীবনে. লিখলাম


তুমি গেলে চলে
কবিতার কোলে ফেলে.
পেয়ে গেলাম দাগ রেখে যাবার ব্রম্ভাস্ত্র.



তার পর শুধু কবিতা আর কবিতা আর কবিতা,ভরে গেল সমস্ত পুরানো ডাইরির পাতা,বন্ধু রা ত্যাগ করলো কাতুকুতু বুড়োর মতো দেখা হলেই কবিতা শুনাতাম যে.



বড়ো বিপদে পড়লাম লিখছি গোঁয়ারের মতো কিন্তু কেউ শুনছে না,মন ভারাক্রান্ত, হঠাৎ আমার দুঃখে জুকারবার্গ বানিয়ে দিলেন ফেবু,আর আমার পায় কে পাতলা পায়খানার মতো কবিতার স্রোত ভাসিয়ে দিলাম বন্ধুদের টাইমলাইনে,পড়বি না নে ট্যাগ ট্যাগ আর ট্যাগ,



সুন্দর, ভালো,অসাধারণ লিখে লিখে অনেকে ক্লান্ত হয়ে আনফ্রেন্ড করলো আমি ও দ্বিগুণ উৎসাহে আরো বন্ধু জোগাড় করে ট্যাগাতে লাগলাম,আমার হাতে পড়ে মৃত্যু হলো কতো ছন্দ অলংকার আর রুপকের,কিছু দিন আগে খবর পেলাম আমার বিরুদ্ধে কবিতা আর ট্যাগে অস্তির হয়ে অনেক গ্রুপ খোলা হয়েছে, আন্দোলন চলছে জেলায় জেলায় শ্লোগান উঠছে ট্যাগানো কবিতা পড়ছি না পড়বো না।

আমি লিখেছি তোরা যে যাই বলিস ভাই,



আমার কবিতা ট্যাগা চাই.
মনে বড়ো সন্তোষ হচ্ছে দাগ পড়ছে হোক না লাল দাগ,দাগ তো.শেষে একটি নতুন কবতে বলি,
যতোই বন্ধ রাখো ট্যাগানো অপশন,
থামবে না আমার কলম,
জোৎস্নার চাঁদ নয়কো রুটি
যেন কবতের খাতা,
লিখবো আমি, কবতে নাই বা হলো?
হোক অকবিতা,
ফেসবুকের বন্ধু দের কাছে
এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার,
দাগ রেখেই যাব আমি.

বুধবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৬

আমি ও অকপট



শুরুটা সেদিন একটু অন্যভাবে। গত বছর এই সময়ের কিছুমাস আগে যাবৎ একটা ব্যক্তিগত সমস্যায় সম্পূর্ন জর্জরিত ছিলাম, অন্য একটা বিশা…ল গ্রুপের সেবা করার কিছু সুযোগও পেয়েছিলাম, সেখানে বেশ কয়েকজনের আমিত্বের ভীড়ে হাঁসফাঁস করা অবস্থায় কিছু লিবারাল দশকর্মা ভান্ডার টাইপের গ্রুপেই সাধারনত নিয়মিত থাকতাম। সেখানেও অতিরিক্ত ধর্মীয় কচকচানি আর একটা কাঁচা খিস্তির কর্মশালাতে চরম হতাশ হয়ে বন্ধু সন্দীপের দ্বারস্থ হই। চলোনা আমরাও একটা গ্রুপ খুলি। পুঁজি ছিল শুধু উন্মাদীয় ভাবনার রসদ।
আমরা জানতাম আমরা বাঁদর, বেদে নই। নাচতে পারি নাচাতে নয়। গ্রুপ চালাতে যে নীতি (অল্প হলেও লাগে বৈকি) ধৈর্য অধ্যাবসায় ও ফেসবুকীয় জ্ঞান থাকা প্রয়োজন তার কিছুই আমাদের নেই। তবে অনেক সফল গ্রুপেরই, বন্ধু সৌমেনদার ভাষায় “অ্যাডমিন প্যালাদার” চাকুরি করেছি। বেশ কিছু জনপ্রিয় পেজের অন্যতম দায়িত্বেও থাকার অভিজ্ঞতা ছিল। আর প্রথমে অর্কুট পরে দীর্ঘ আট বছর এই ফেসবুকের সাথে সাথে সোস্যাল মিডিয়া পরিক্রমা।
সুতরাং শুরুটা এভাবেই। প্রথমে নাম দেওয়া হয়েছিল যুক্তি-তক্কো। বন্ধু সন্দীপের পরামর্শেই আমি অকপট নামটা নির্দিষ্ট করি। প্রথমে গোটা দশেক মেম্বার, তার মধ্যে ৮ জনই এডমিন। প্রসেনজিৎ গুহ, প্রশান্ত ঘোষ, রজত মালিক, সন্দীপ দাস, শেহনাজ আলম, সুদীপ্তা নাথ, সুধা মজুমদার, তন্ময় হক আর আমি। সঙ্গে ছিল অন্যতম মেম্বার রুমি হক ম্যাম আর শিল্পী গুহ দিদির শুভকামনা। এই পথ চলার শুরু। এর পরে প্রসেনজিৎ দা , প্রশান্ত আর রজত দিন ৩-৪ এর মধ্যেই ব্যক্তিগত কারনে অ্যাডমিন থেকে নিজেদের সরিয়ে নেন। প্রথম বাইরের মেম্বার মৃদুল কান্তি ঘোষ। প্রথম পোষ্ট আমার, আজকের বিচারে সেটি অবশ্যই অশ্লীলতার দায়ে অভিযুক্ত।
এর পর যেমনটি হয়, সকলে মিলে নিজ নিজ বন্ধুদের অ্যাড করার পালা। এক সপ্তায় সংখ্যাটা দাঁড়ায় দেড়শোর কাছাকাছি। কেউই প্রায় আসতেন না তখন। জয়দা আমার পরের পর করে চলা পোষ্টে দুয়েকটা লাইক কমেন্ট করেন মাত্র। আর বাকি অ্যাডমিনদের গুটিকয়েক সাবধানি পোষ্ট। এর পর নিজেরাও কেমন উৎসাহ হারিয়ে ফেলার দশায় উপস্থিত হই। তবুও আমরা হাল ছাড়িনি, ধিকিধিকি করে হলেও জ্বলছিলাম। ঠিক কদিন পর জানিনা, দেবেশ সিংহ নামের এক অতি উৎসাহী সদস্য গ্রুপে প্রায় সর্বক্ষণের জন্যই উপস্থিত থাকতে শুরু করল। সে নিজেও তার কয়েকজন বন্ধুদের গ্রুপে অ্যাড করে, এভাবেই একটু একটু করে চলতে চলতে, তনিমা, দেবাশীষ দা আমাদের সাথে যুক্ত হন। এরপর গ্রুপের শ্রীবৃদ্ধি ঘটান অ্যাডমিনে এসে, দেবেশ নিজে, হৈমন্তী, আরো বেশ কয়েকজন। যাদের ছাড়া আজকের যেটুকুই “অকপট” বর্তমান, তার অন্যতম কৃতিত্বের দাবিদার এনারা সকলেই।
দুর্ভাগ্যজনক ভাবেই আমরা সন্দীপ আর সুদীপ্তা কে আমাদের অকপট এর কার্যনির্বাহ বৃত্ত থেকে হারিয়ে ফেলি। সে দুঃখ আজও যাবার নয়। আজ অকপট একবছরের গ্রুপ হিসাবে তেমন কিছু উল্লেখযোগ্য কিছু করেছে বলে দাবি করতে পারিনা। তবে আমাদের ভবিষ্যত লক্ষ্য এই অকপটকে একটা প্রাতিষ্ঠানিক রুপ প্রদান করা। যেখানে থাকবে আর্ত পীড়িতদের জন্য নিঃশুল্ক সেবার ব্যবস্থা, থাকবে দুঃস্থ মেধাবীদের জন্য শিক্ষা সরঞ্জাম, অনাথ, পথশিশু আর বৃদ্ধাশ্রমের জন্য সাহায্যমূলক সামাজিক ভাবনা। আমাদের পরিচয় হবে নিজস্ব প্রকাশনা সংস্থা, যাদের মূল উদ্দেশ্য নতুন ও উঠতি সাহিত্য প্রতিভাদের জন্য প্রাথমিক মঞ্চ প্রদান, ইত্যাদি। আর এই সকল কিছুর জন্য প্রয়োজন একটি দলগঠনের। আর অকপট সেই লক্ষ্যের পথে একটি পদক্ষেপ মাত্র।
আমি শুরুটা করি আরো সমসাময়িক পাঁচ জনের আগেই, কিন্তু আমার ধারাবাহিককরণে বেশ সমস্যা। এটা আমার একটা স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য । ঠিক সেই রকম ভাবেই আমার বন্ধুরা যখন নেট বা ফেসবুকের নামই শোনেননি তার আগেই এই দুনিয়ায় আমার হাতেখড়ি হয়ে গেছে। তারপর সেই খারা-বরি-থোর । বছর দু-তিন প্রায় গায়েব। মাঝ মাঝে আসতাম বটে কিন্তু কোন এক এক্টিভিটিই ছিলনা। ২০০৯ থেকে একটু একটু করে নিয়মিত ফেসবুকে আসা শুরু করেছি। তবে এখনকার মত মোটেই নয়, এখন তো জৈবিক প্রয়োজন ব্যতিত ফেসবুকেই থাকি।
তখন গ্রুপ কি জিনিস তেমন জানিই না। তবে বিভিন্ন পেজের বিজ্ঞাপন টাইমলাইনেই আসত। তবে এখনকার মত এত সমৃদ্ধ টাইমলাইন কারোরই ছিলনা বোধহয়। এর পর একটু একটু করে একটা একটা করে ফেবু বিজ্ঞাপিত গ্রুপে নিজেকে সেঁধিয়ে দিই আর ভাল লাগলে টিকি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিতাড়িত, কারন এই অন্তর্জালে সকলেই প্রশংশা শুনতেই পছন্দ করেন। অন্যথায় তোমার পিছলে লাথ। আমি পুরুষ, মহাপুরুষ নই, তাই আমার ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা শত শতাংশই সঠিক ও প্রযোজ্য। আমার মতে এই গ্রুপ বাজির রমরমাটা ২০১২ সালের শেষের দিক থেকেই হবে বোধহয়।
মোটামুটি তো সবই বলে দিলাম সংক্ষেপে । আমার লেখার রোগ অতি পুরাতন, ক্লাস সেভেন কিম্বা এইট থেকেই কালিতে আরশোলা মাখিয়ে সাদা রুলটানা ডায়েরির খাতায় ছাড়ার অভ্যেস ছিল। ল্যাপটপ এসে তাতে নতুন মাত্রা জুড়ল। ভুল সংশোধনের সুযোগ ও রক্ষা করার হরেক পন্থা। আর এই ফেসবুক একটা বিচিত্র জগত খুলে দিল সামনে। তখন জানতাম না এই সীমা কোথায়, আর আজ তো পুরোটাই ঘেঁটে গেছে। শুধু জানি আমিই সত্য, বাকিরা সংখ্যা। অবশ্য নদীর অপর প্রান্তেও এই ধারনারই ভীড়। তবে মুখের থেকে এই পাড়ায় যেহেতু মুখোশ বেশি, তাই নিজেকে মানিয়ে নিতে অসুবিধা মোটেই হয়নি।
এরপর ডাস্টবিনের পচা ছানার মত একটা আধটা ছেঁড়া পোষ্ট করতে লাগলাম। এক দুজন বন্ধুরা কষ্ট করে পড়তেও লাগলেন। বুভুক্ষুর রাজ্যে এই কি কম পাওনা! আমিও আশাবাদী হয়ে উঠলাম । এর পরেই শুরু হল নিয়মিত লেখালেখি। আমি কবিতা তেমন লিখতে পারিনা, বা যেগুলো দু একটা লিখেছি সেগুলোকে আর যাই হোক কবিতা বলা চলেনা। কোন সন্দেহ নেই , সেই জন্যেই গদ্য আকারের ছোট কলেবরে বিষয় ভিত্তিক লেখা লিখে গুটিকয়েক অনেক পাঠকের নজরে পড়তে শুরু করি। তবে আমি মনোযোগী পাঠক মাত্র, আর ওই ভাল ভাল লেখা পড়েই নিজের লেখার সাধ। তখন শেয়ার ব্যাপারটা ভাল বুঝতাম না। অন্যের ভাল লেখা পেলেই নিজের টাইমলাইনে দিয়ে দিতাম, পরে একজনের অপমান খেয়ে তার নাম কৃতজ্ঞতায় দিয়ে শুরু করি।আজও যার ব্যতিক্রম হয়না। তারও অনেক পরে বাংলা হরফ এভেলেভেল হলে বাংলায় লেখা চালু করি।
তখনও আমার কাছে গ্রুপ কনসেপ্টটা পরিষ্কার নয়, কয়েকজন বন্ধু নিয়মিত আমার ওই ছেঁড়া কাথার মত লেখা নিয়মিত পোষ্ট করতেন, মূলত তাঁরাই লেখার উৎসাহটা যোগাতেন। প্রথমে ভাবতাম এই লাইকই বোধহয় কতজন পাঠক পড়লেন তার একমাত্র মাপকাঠি, আর কমেন্ট সমালোচনার। অনেক পরে বুঝেছি, এগুলো কোনোটাই নয়। লাইক জনপ্রিয়তার মাপকাঠি হতে পারে, কিন্তু আমার ভাবনাগুলো লিখিত আকারে প্রকাশের পর সেগুলো মানুষ পড়েন কি পড়েন না সেটা বুঝলাম একটা সিক্রেট গ্রুপে এড হবার পর। সেখানে লেখা থাকে যে কত জন পোষ্টটি পড়েছেন। আমরা বা আমাদের মত পাবলিক প্রথমত ফেসবুক করেন মূলত সময় কাটানোর মাধ্যম হিসাবে। কিন্তু এই সময়ে আমদের বর্হিঃবিশ্বের সাথে যোগাযোগের সবচেয়ে বড় মাধ্যম বোধহয় এই ফেসবুক।
একটাসময় ছিল যখন কেবলমাত্র মজা করার উদ্দেশ্যে অনলাইনে আসতাম, এখন তো সময় খুঁজি কখন একবার গ্রুপে বা টাইমলাইনে ঢুঁ মারব। হাজার একঘেঁয়ে জোকস উতপটাং কবিতার ভীড়েও কিছু মানুষের লেখা নিয়ম করে পড়ি। অনেক লেখার সাথে নিজেকে মেলাতে পারি। বেশ কয়েকজন বন্ধু আমার লেখাও পড়েন হয়ত কষ্ট করেই, তাদের মতামতও জানান, বেশ লাগে ব্যাপারটা। সকলেই মানবেন গঠন মূলক সমালোচনা ভীষণ মূল্যবান বস্তু। তবে সকলের কথাতেই খুব গুরুত্ব দিইনা কেননা এ জগতে সকলেই নিজেকে জ্ঞানদা ভাণ্ডারের কর্তা ভাবেন নিজেকে। নিজের যোগ্যোতা না মেপে, শ্রীজাতর কবিতাতে সমালোচনা করেন, বা তসলিমার বিরোধিতা করেন। জাতি ধর্ম নির্বিশেষে হুজুগে মাতালের দলের বাড়বাড়ন্তকে টপকে নিশ্চুপ একজন পাঠকের দাম আমার কাছে সবচেয়ে মূল্যবান।
ফেসবুকে আমার সবচেয়ে পছন্দের হচ্ছে ইনস্ট্যান্ট ইমোজিগুলো । কি সুন্দর একটা ছোট্ট ইমোজি দিয়ে অনেক কিছু বা সমগ্র পরিস্থিতিটাকে বর্ণনা করা যায়। একঘেয়ে জীবনে যাঁতাকলে, এই ফেসবুকে নিজের পুরাতন আপলোড করা পোষ্টগুলো দেখে বা বন্ধুদের রঙিন মুহুর্তের ছবিগুলো দেখে মন ভাল না হয়ে উপায় নেই। এটা রোজজীবনের একটা চটজলদি রিফ্রেশমেন্ট। ফেসবুকের মত এতো বৈচিত্রের পাশাপাশি সহাবস্থান খুব কমই বাস্তব সমাজে প্রতিফলিত হয়। অসভ্যের মত উত্তেজনা ও তার পরিণতি হিসাবে কাঁচা খিস্তির ফোয়ারাকে ড্রিবল করে এগিয়ে যেতে পারলে তার থেকে মজা আর কিচ্ছুটিতে নেই বলেই আমার ধারণা।

অনেকেই আজ কত নতুন নতুন জিনিষ শুরু করছেন। খুবই ভাল বিষয় সেটা, তবে এটা আমি মাথায় রাখি যার কাছ থেকে শিখেছি, তিনি যেন গুরুর মর্যাদাটুকু পান, তাতে ভার্চুয়ালই হোক বা বাস্তবে। তবে এটাও মাথায় রাখতে হবে, যিনি শুরু করেছেন, এগিয়ে নিয়ে যাবার গুরুদায়িত্বও তারই কাঁধে থাকে। অনেকেই এটা বোঝেননা, যার জন্য তাকে ফেলে রেখেই বাকিরা এগিয়ে যায়।
আজ যখন ফিরে দেখি একটা বছর, তখন পাওনার চেয়ে হতাশা বেশি। প্রাপ্তির ঝুলি অনেক, কিন্তু আমরা ব্যর্থ আমাদের অনেক পুরাতন বন্ধুদের এই অকপটের বৃত্তে ধরে রাখতে। তাদের ভুলের থেকেও আমি নিজেকে আরো আরো বেশি বেশি করে দোষী করতে চাই। যাতে এমন ভুলের পুনরাবৃত্তি না ঘটে। আমরা একটা বিষয় ভুলে যাই, যে আর পাঁচজনকে শোধরানোর চেয়ে নিজেকে বদলে ফেলা অনেক সহজ। আর আমার মতটাই সেরা ও অন্তিম নয়। এই জায়গা থেকে আমাদের আরো সহনশীল হতে হবে। বিরুদ্ধমতের ক্ষেত্রেও আমাদের উদ্ধত্বতা প্রকাশ পেয়েছে বারেবারে। তবে এটাকে নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে আগামীর ভবিষ্যৎ যে নিদারুণ কষ্টের হবে সেটা বলাই বাহুল্য। আসলে আমরা তো চরিত্রগত ভাবেই ত্যাগ করতে শিখিনি। সকলের আগে ইগো , অহমিকা আর আমিত্ব কে যতটা সম্ভব হত্যা করতে হবে। তাহলেই হয়ত অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে পারব।
এই ভার্চুয়াল গ্রুপগুলোর অধিকাংশেরই বাস্তব কোন ভিত্তি নেই। আমরা সেই ছক থেকে আগামীতে বেরিয়ে এসে সমাজের জন্য কিছু করার প্রয়াস করতে পারব বলেই বিশ্বাস রাখি। আমরা বিশ্বাস করি যে গাছ দ্রুত বেড়ে উঠে , তার কাঠ দিয়ে জ্বালানি ছাড়া আর কিছুই ভাল করা সম্ভব নয়। এবং হালকা ঝড়েই তার অস্তিত্ব টালমাটাল করে। বট বৃক্ষ হতে পারি বা না পারি চেষ্টা করতে ক্ষতি কি?

অন্তত একটা ছাতিম বা কদম হতে পারলেই আমরা সার্থক বলে ধরে নেব। আর তার জন্য প্রয়োজন সময়। কারন দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক কখনই সময়ের আঁচে অগ্নিপরীক্ষা না দিয়ে কুলিন হতে পারেনা। যেহেতু আমাদের লক্ষ্য স্থির, তার কোন তারাহুড়ো নেই আমাদের। শত শত হাজার হাজার সদস্যদের ভিতর থেকে আগামী তিনবছরে উদ্যমী রুচিশীল ধর্মীয় কূটকাচালির উর্ধ্বে থাকা কিছু হৃদয়বান মানুষের খোঁজ অবশ্যই পাবো, এই বিশ্বাস আছে। দরকার তো ১৯ টি জেলার জন্য কমপক্ষে ৩৮ জনের। যিনি লাভের আশা না করেই কিছু সৎ সামাজিক কর্মের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রাখতে পছন্দ করবেন। অনেকেই ইতিমধ্যেই কাজ নিঃশব্দে করে চলেছেন, তাদের খোঁজ করে আমাদের দলে আনার চেষ্টা চালাবো আমরা, কারণ আমরা শিখতে চাই তাদের থেকে।
তাই অকপটকে শুধু মাত্র এক একটা সময় কাটানোর ঠেক হিসাবে আমরা ভাবিনা। এখানেই আমাদের সাথে সুব্রত দা, সোমনাথ দা, প্রবাল দা, মতিভাই, দেবাশিষ দা, সহ গোপালদা, আশরাফুল, সুব্রত সহ অনেকে মানুষই আছেন, যাদের নিয়ে হয়ত আজ থেকে শুরু করলেই কোন সেবামূলক কাজ শুরু করাই যায়, কিছু দিতে পারুক বা না পারুক, উৎসাহ আর খানিকটা সময় দেবেন বলেই আমার বিশ্বাস। কিন্তু আমরা আরো দেখে শুনে আরেকটু দলে ভারি হয়ে , নূন্যতম তৈরি হয়েই বাস্তবের মাটিতে নামতে চাই। কারন নাচতে নেমে ঘোমটা টেনে হাসির খোরাক হওয়ার থেকে দু-টো দিন অপেক্ষা ভাল।

অকপটের সকল বর্তমান ও প্রাক্তন সদস্যদের জানাই গ্রুপের ও আমার পক্ষ থেকে অকপট ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা।
অকপট এগিয়ে চলুক নিজের গতিতে।
উন্মাদ হার্মাদ
চব্বিশে আগষ্ট,২০১৬

বৃহস্পতিবার, ৪ আগস্ট, ২০১৬

হাগু পুরাণ



শ্রীযুক্ত বাবু সৌমেনর একটা ট্রলের প্রেক্ষিতে এই লেখা। আমার আজীবন লালিত, সুখসমৃদ্ধ বাল্য স্মৃতিপট(টি)কে মুছে দেবার যে চক্রান্ত রাজ্য-কেন্দ্র মিলিত সরকার স্বচ্ছভারত অভিযানের মাধ্যমে করতে যাচ্ছে, তার জন্য শুধুই ধিক্কার। আমি সকল সুধী অকপট জনগনকে আমাদের “চিরকি” সঙ্ঘে একবার ঘুরে “যাবার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানালাম।
“হাগা” শুধুই একটা জৈবিক দৈন্দনিন কর্ম নয়। ইহা একটি শিল্প। চোখের ইশারাতে নিবিষ্ট হয়ে রসনা তৃপ্তির মাধ্যমে যে সকল সুস্বাদু খাবার, আমরা ভক্ষন করে থাকি, তাহাই আমাদের পাক যন্ত্রে পিষ্ট হইয়া ভীষন মমত্বে আমাদেরই পেটে, উচ্চস্তরীয় গন্ধ বিশিষ্ট ঈষৎস্বর্ণাভ বর্নের এক প্রকার পরিবেশবান্ধব দ্রব্য উৎপাদন করে থাকি , যাকে ‘গু” বলা হইয়ে থাকে। আর এই গু কে তার মর্জিমত আমরা হেগে থাকি। সুতরাং হাগা একটি সয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া মাত্র।
আমরা প্রানীকুল সকলেই হাগি, কিন্তু সেটা নিজেদের মর্জিতে নয়। গু যখন নিজে থেকে বেগবান হয়ে পরিবেশে মিশে যেতে চায়, তখনই একমাত্র সে বাহির হয়। যার জন্য হাগা কখনই আমাদের ইচ্ছাধীন নয়। পৃথিবীর সকল গুরুত্বপূর্ন মানুষের রুটিন থাকে, খাওয়া, সাক্ষাত, ঘুম, প্রেম থেকে সব্ব। শুধু মাত্র হাগা এমন শিল্প, যার জন্য কোন সময় নেই, হাগা চাইলে, আপনি যে ই হন না কেন, আপনাকে তার জন্য সময় নির্দিষ্ট করতেই হবে। তাহলে হাগার স্থানকে নির্দিষ্ট করে দেওয়া কি চক্রান্ত নয়?
প্রবাদে কথিত সুখ স্বপনে শান্তি শ্মশানে। মিথ্যা কথা। আসল শান্তি হেগে। পৃথিবিতে হাগাবিলাসিরাই একমাত্র উজ্জ্বল মুখশ্রীর অধিকারী। হাগা নেই যার, পোড়া কপাল তার। যারা পায়খানায় হাগেন তারা শুধু কল্পনা করুন , ওই রকম একটা ছোট্ট বদ্ধ স্থানে আপনাকে বন্দি করে রাখা হয়েছে পাঁচ মিনিটের জন্য, আমি নিশ্চিত আপনি পারবেন না। অথচ হাগতে গিয়ে ঘেমে নেয়ে একসা হয়েও অধিকাংশ মানুষই একমুখ প্রশান্তি নিয়ে পায়খানা থেকে হেগে বের হন। এটাই হাগাকে শুধু মহান করেনি, হাগা নিজে থেকেই উচ্চমার্গের। অনেকে একাকিত্ব কে যন্ত্রনা বলেন, তারা যানেননা কোষ্ঠকাঠিন্যের জ্বালা।
লোকে বলে কর্ম জরুরী, কেউ আবার বলে ধর্ম। এগুলো সবই হাগাকে হেও করার কুৎসা। কারন একবার হাগা পেলে তার থেকে গুরুত্বপূর্ন জরুরী কাজ আর পৃথিবিতে থাকেনা। মায়ের স্নেহ বা মমত্ব নিয়ে নিশ্চই কেও প্রশ্ন তুলবেন না আশাকরি। তাহলে আজকের আধুনিক মায়েদের কথা ভাবুন, তারা হাগা কে ভালবেসে কি সুন্দর একটা নিকনেক দিয়েছে, আর এটা বিশ্বজনীন, নাম “পটি”। কটা এমন উদাহরন আছে মশাই?
পৃথিবিতে নানা ভাষা, নানা জাতি, অর্থনৈতিক বৈষম্য, সাদা-কালো বিভেদ। কিন্তু আদর্শ সাম্যবাদ এই হাগার ক্ষেত্রে। ওই উচু হয়ে বসেই আপনাকে হাগতে হবে। ওই বিশিষ্ট ভঙ্গিটার নামই হাগতে বসার ভঙ্গি। আছে পৃথিবিতে, এই ধরনের নির্দিষ্ট কোন ভঙ্গি? হাগতে বসার পোজ। যেটা শুধুই একটা বিশেষ কার্যসিদ্ধি ছাড়া আর কাওকে বোঝায় না। ধনী গরীব, চোর থেকে সাধু, জর্জ বুশ থেকে লাদেন… সবাই ওই একই কায়দায় হেগে থাকে।
অনেক ছিদ্রান্বেশি মানুষ হাগা কে এক বাক্যে শেষ করে দেয়। যেন কমোডের ফ্লাস। কিন্তু ব্যাপারটা অতোটা সহজ নয়। যেহেতু হাগা একটা শিল্প, সেহেতু সেই শিল্পের বিন্যাস রয়েছে, সুধীজনের এ বিষয়ে অবগত হওয়া বিশেষ প্রয়োজন। যেমন

১) ডেলা বাঁধা কোয়া হাগা।
২) ডেলা বাঁধা সসেজ হাগা
৩) ছদ্মবেশী সসেজ হাগা, যার গায়ে ফাটলের নক্সা আঁকা
৪) সর্পিল নরম হাগা অনেকে একে সুস্বাদু জিলাপির সাথেও তুলনা করে থাকে।
৫) স্পষ্ট প্রান্ত কাটা মোটা হগা, যাহাতে কালো রেখা সহ রক্তের ছাপ দেখা যায়।
৬) নাদি হাগা
৭) জীর্ণ প্রান্ত সঙ্গে ফুঁয়োফুঁয়ো টুকরা, এটি একটি আবেগপ্রবণ হাগা। এককথায় ভসকা হাগা, যাতে বায়ুর মিশ্রন থাকে।
৮) পলকা ডট হাগা, এটি সাধারনত তীব্র বায়ু নির্গমনের সাথেসাথে নির্গত হয়, যার দ্বারা মূলত প্যানে বা কমোডে শৈল্পিক দাগ গুলো রচিত হয়।
৯) ল্যাদ হাগা।
১০) তরল হাগা (এর মধ্যেও প্রচুর শ্রেনি বিভাগ রয়েছে)
এগুলো আমরা প্রত্যেকেই কখনো না কখনো হেগেছি। সুতরাং এগুলোকে আমরা অগ্রাহ্য করতে পারিনা। নিখিলবিশ্ব হাগন্তি সম্মেলনে কখনো যোগদান করলে এ বিষয়ে জ্ঞান আরো খোলতাই হতে বাধ্য। আপনি যদি, প্রায় অন্ধকার ঘরে রোজ হাগতে থাকেন, কিভাবে এই বিশাল বিষয় সম্বন্ধে জানতে পারবেন? এক বালতি জনেই তো জ্ঞানের সলিলসমাধি। আপনি ঠিক কতবড় হাগুরে শিল্পী , সেটা অধরাই থেকে যাবে। আমরা কি ঝাল তরকারি খেয়ে জ্বলুনি হাগার তীব্রতায় জীবনের জ্বালা কি ভুলে থাকিনা? এই দ্রুত যোগাযোগ ব্যাবস্থা ও ব্যাস্ততার যুগে ওই হাগার সময়টুকুই তো প্রাকৃতিক ভাবে একান্তে নিজের সাথে কাটানোর সময়। তাহলে সেই সময়ে কেন রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ? কে কোথায় শান্তিতে হাগবে সেটা তার মৌলিক অধিকার হওয়া উচিৎ।
তাই শুধুমাত্র পায়খানায় নয়, খোলা স্থানে হাগার অধিকার দিতেই হবে। মৃদুমন্দ বাতাসে পাছায় কভু মুথাঘাসের সুরসুরি সহ, একা বা বন্ধুবৃত্ত হয়ে মুখে বিড়ি বা গান সহযোগে হাগার মাধুর্য কি জানেন রাষ্ট্র যন্ত্রের কারবারিরা? এই রাজনিতির কারবারিদের পাল্লায় পরেই “অনসন” নামক সামাজিক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে কত জন যে হাগতে ভুলেছে তার ইয়াত্তা নেই।
তাই সুধী হাগামোদী বন্ধুগণ একজন সুস্থ নাগরিক হিসাবে হাগার উপরে এই রাষ্ট্রীয় জুলুমের প্রতিবাদে আপনাকেও সামিল হবার আহ্বান জানাচ্ছি। এই আন্দোলনের পরবর্তী ধাপ আমরা আমাদের মাঠে হাগার ছবি প্রোফাইল পিকচারে দেবো আগামিতে, #হোকমাঠেহাগা। তবেই হবে আসল চ্যালেঞ্জ এক্সেপটেড। পৃথিবিতে কতশত দিবস আছে, আমরাও মুক্ত হাগা দিবসের দাবি জানাবো। কবির সেই মহান ছড়া মনে করুন

হাগছি মোরা হাগছি দেখো
মুক্তস্থানে আহ্লাদী
ধরফরিয়ে ভরভরিয়ে
মুক্তহাগার পাল্লা দিই।
অথবা

হারে রে রে রে রে
আমায় হাগতে দেরে দেরে
যেমন হাগে বনের পাখি
মনের আনন্দে… রে।
একটা হাগা বিপ্লবের সুচনা করতে চাই আমরা। হাগুগীতির সংকলনের জন্য সরকারি উদাসিনতা মানছিনা মানব না। বিশিষ্ট হাগিয়ে শিল্পীদের বাৎসরিক গুয়েশ্রী সম্মানে ভুষিত করার সম্মান দাবি করছি। যাতে সবাই গর্বের সাথে বলতে পারে, একবার বিদায় দে মা… হেগে আসি।
মনে করুন সেই বানী, হাগন্তির লাজ নেই দেখন্তির লাজ। মানে সমল হাগাবিলাসি মানুষজন লজ্জার উর্ধ্বে। শুধু মন থেকে কপট লজ্জাকে দূর করে যে যেখানে পারেন হেগে দেখিয়ে দিন। এই হাগা শব্দ টি থেকেই গোরারা জড়াজড়ি কে হাগ বলে থাকে। আজ দেশে গরুর হাগা, মানে গোবরকে ওষুধ হিসাবে খাওয়া হচ্ছে, আমরাই খাচ্ছি অস্পৃশ্য শুদ্ধিকরনের জন্য। এখন গোবরে নাকি সোনা পাওয়া যাচ্ছে, ওই গরু কি কখনো নির্দিষ্ট স্থানে হাগে? তাহলে মানুষের জন্য কেন এই অবিচার? কেন আইন গোবরের পথে চলবে না?
আমাদের সমবেত গনহাগা মন্ডলী তে সরকারকে সামিল করলে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত নিশ্চই আর পুনরায় করবেন না। মনে রাখবেন আপনি কাল হেগেছিলেন, আজ হেগেছেন কালও হাগবেন। আপনিও মুক্তমন ও মুক্তস্থানে হাগুন ও অন্যকেও সাহায্য করুন। শুধু আপনার দুর্গন্ধ যেন অন্যের দমবন্ধের কারন না হয়ে দাঁড়ায়।
হাগতে গিয়ে কেউ মৃত্যবরন করে না, কিন্তু মৃত্যুকালে অনেকেই হেগে ফেলেন, তাই হাগা পৃথিবীর অন্য তম সহজ কাজ। যেকোন বীর বা সাধারন মানুষ যদি কোন কাজে অসমর্থ হয়, তাকে টিপ্পনি করে বলে হেগে ফেলেছে, ভাবুন এটাই কি যথেষ্ট প্রমান নয় যে, হাগাই সবচেয়ে সহজ কাজের মধ্যে একটা। অবশ্য অসুস্থতা হলে ভিন্ন কথা। হাগার জন্য কারো অসুখ করে না, অসুখ করলে মানুষ অনেক সময় হাগে।
সময় বদলাচ্ছে আগামিতেও বদলাবে, খাদ্যাভাস থেকে সব কিছুই বদলাচ্ছে, বদলায়নি শুধু হাগা, সৃষ্টির আদি মানুষও হেগেছিল, শেষ মানুষও হাগবেই। তাই হাগা কে হাগার মত থাকতে দিন।
মৃত্যুর আগে হাগাই একমাত্র সত্য।

বৃহস্পতিবার, ২১ জুলাই, ২০১৬

মেলার গান



মেলা আর মিলন শব্দটি বোধ হয় একই ধাতু থেকে উৎপত্তি। মেলাতেও মিলন হয়, আবার মিলনবেলাতেও মেলা বসে যায়, হয়ত সেটা সুখের মেলা বা সোহাগের। তাই মিলন আর মেলা একে অপরের পরিপূরক। মেলা ব্যাপারটা এই প্রজন্ম কিছুটা জানলেও আগামী ডিজিটাল প্রজন্ম কিন্তু জানবেও না কি ছিল এই মেলা। ফিল্ম আর কাব্যেই হয়ত উল্লেখ পাবে। জানবেই না, যে কি অমোঘ টান ছিল এই মেলার, সারা সারা বছর অনন্ত প্রতিক্ষা

ইন্টারনেট উত্তর যুগে তথা আজ থেকে কমবেশি ২৫ বছর আগেও মেলা কতটা প্রাসঙ্গিক ছিল জনজীবনে, আজ হয়ত পুরোটা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যায়নি, তবে আজকের বিশ্বায়নের ভারতীয় জীবনে মেলার প্রাসঙ্গিকতাও নেই। হয়ত এভাবেই যুগের পরিবর্তন হয়। আজকাল ফুড ফ্যাস্টিব্যাল হয়, ট্যুর ফ্যাস্টিব্যাল, শপিং ফ্যাস্টিব্যাল। গালভরা নাম সাথে তার মুল্য, যেন দেখনদারিটাই মুখ্য, ওতেই আত্মতৃপ্তি। সিঙ্গাপুর -দুবাই-হংকং-ব্যাঙ্কক- আজকের পৃথিবীর মেলার টপ গন্তব্য, যত মাদারির ভিড় ওখানেই। যদিও গোটা অন্তর্জালের পৃথিবিটাই তো একটা মেলা। কত্ত মানুষ গিজগিজ করছে সব সময়। হরেক স্যোস্যাল মিডিয়া, কোটি কোটি মানু সারা বিশ্বজুড়ে, পোষ্ট লাইক কমেন্টের বন্যা। আপন বাপন চৌকিচাপনের দিন শেষ, সবসময় হৈহৈ রইরই কান্ড- ২৪x৭ মেলা

যা ইচ্ছা কেনা যায়, আলাপ বিলাপ সব কিছুই। শুধু মাধ্যমটা পাল্টেছে। দ্রুততম যুগে সংজ্ঞা বদলাচ্ছে সবকিছুরই, সেখানে মেলাও বদলাচ্ছে

আগে সার্কাসে বাঘ সিংহ থাকত, ওরা হিংস্র জানোয়ার, আজকাল সরকার থেকে বন্ধ করে দিয়েছে, মাবিক কারনে। শুধু মানুই খেলা দেখায়, হয়ত এটা রূপক, কারন মানুষের হিংস্রতা আজ পশুর হিংস্রতাকে শত গুন ছারিয়ে গেছে। তাই সবচেয়ে ভয়ঙ্কর জীব তো মানুষই, তাই ওরাই আজ সার্কাস করে। মেলায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়

আজকাল মেলা আমার কাছে কিছুটা আতঙ্কের, আমার মত ভিতুর সংখ্যা দেশে কম নেই। কোথায় যে কখন কোন হিংস্র জানোয়ার থুরি মানুষ থাবা বসাবে কেউ জানেনা।

ইথারীয় জগতেও বা শান্তি কই! এখানে মুখ কম মুখো বেশি। আগেকার অনেক বড়লোকের পার্টিতে মুখো পরে নাচ হত, এখন এমন অবস্থা যে নিজের আসল মুখকেই লোকে চেনেনা, সবাই মুখোশ দেখেই অভ্যস্ত। আসলে মেলার অত্তো বড় মাঠ আজ ৬ ইঞ্চি স্ক্রিনে বন্দি, হাঁটছি দুই হাতের দুটো বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে। কতদূর আর পারা যায়

 

গ্রামীণ মেলার উৎপত্তি হাজার হাজার বছরের পুরনো, যেগুলো নানান ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং স্থানীয়  গ্রাম্য সংস্কৃতি থেকে উদ্ভূত হয়েছিল। গ্রামীণ জীবনে আনন্দ ও প্রাণচাঞ্চল্য নিয়ে আসত তাদের কৃষি পণ্য, কুটির শিল্প, খেলনা, সুস্বাদু খাবার বিকিকিনির মাধ্যমে। মেলা ছিল মূলত অর্থনৈতিক উৎসব, সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন যুক্ত হয়েছিলো গ্রামীণ জীবনে প্রাণচাঞ্চল্য নিয়ে আসতে ও মেলাকে আকর্ষনীয় করে তুলতে। ফলত যাত্রাপালা, পুতুল নাচ, জারি-সারি, নাগরদোলা, লাঠি খেলা, হাডুডু, ষাঁড় ও মোরগের লড়াই আয়োজন করা হতো। সমাজের প্রত্যেক শ্রেণীর মানুষকে একে অপরের সাথে মেলামেশা ও ভাব বিনিময়ের এ এক চমৎকার সুযোগ ছিলো।

মেলার ইতিহাস সম্পর্কে খুব কমই জানা যায় তবে ৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে এজেকিয়েলের বইতে কৃশষকদের একটা মেলার উল্লেকখ পাওয়া যায়। ৫৮৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দে টায়ার-কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার এবং মেলা কেন্দ্র হিসেবে বর্ণনা করে মেলার বিবরণ লেখা রয়েছেমেলা শব্দটি ল্যাটিন শব্দ ফেরিয়া থেকে এসেছে যার অর্থ একটি পবিত্র দিনমধ্যযুগে ইউরোপের গির্জাগুলি মেলা এবং উৎসব আয়োজন করত মূলত বিকিনির মাধ্যমে রাজস্ব আদায় করতে।

আমাদের দেশের মেলাগুলির বৈচিত্র একলপ্তে শ্রেণীবদ্ধ করা সাধ্য প্রায়। চরিত্র্য বিচারে মোটামুটি সাতটি শ্রেণীতে বিন্যস্ত করা যেতে পারে-

) ধর্মীয় মেলা

) কৃষিভিত্তিক পণ্য মেলা

) ঋতুভিত্তিক মেলা

) সাধু-সন্তের মেলা

) বরেণ্য ব্যক্তিত্ব কেন্দ্রিক স্মারক মেলা

) জাতীয় দিবস উপলিক্ষ্যে সাংস্কৃতিক মেলা

) বাণিজ্যিক সামগ্রী প্রদর্শনী মেলা

 

ছোটবেলায় পৌষ সংক্রান্তি মেলায় যেতাম বাঁশি কেনার লোভে, সাথে প্রচুর সস্তার খেলনা। মাদারি, সাপখেলা, দড়ির উপর হাঁটা, জিমন্যাস্টিকস, চড়কি, কালিপটকা বাজি, ফুলছড়ি, তারাবাজি, জিলাপি, প্যাঁদানি পরোটা, চিনেবাদাম, বুড়ির চুল সাথে বায়োস্কোপ আরো কত্তো কি। সে এক মায়াবি পৃথিবী। তখন ভাবতাম বড় হয়ে যখন নিজে পয়সা রোজগার করব যখন আর ভিড়ে হারিয়ে যাবার ভয় থাকবেনা, লম্বা হব, সবটা দেখতে পাব, তখন সবটা একা একা ঘুড়ব আর যা ইচ্ছা খাবো। আজ প্রায় ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি, পকেটে টাকাও থাকে, অন্তত সেই দিনের থেকে ঢের বেশি, হারাবার ভয় ঘুনাক্ষরেও নেই। কিন্তু সেই কচি মনটা আর নেই। তেতো একটা মানসিংহ আজ উলঙ্গ সমাজে ধর্ষিত হচ্ছি, পারলে নিজেও ধর্ষন করছি। লম্বা হলে যে মেলা দেখার বদলে নিজেদের ঘাঁ ভরা ন্যাংটা স্বরূপটা আবিষ্কার করব তা স্বপ্নেও ভাবিনি

মাঝে স্কুল লাইফের শেষে খুচরো প্রেমের হিরোগিরি চলত, ভিড়ে সাইকেল চালানোর কেরামতি দেখিয়ে কোন বিশেষ জনের দৃষ্টি আকর্ষন পেতে। মনে পরে নগদ ২০ টাকা দিয়ে কাঁচের শিশিতে একটা রজনীগন্ধা সেন্ট মেলা থেকেই কিনেছিলাম, ওটাই আমার কেনা প্রথম প্রসাধন। হরেক রকমের সস্তার সিগারেট খাওয়ার মজা আজ বেনসন হেজেসেও পাইনি। তার সাথে থাকত ওই বয়সের দুর্নিবার আকর্ষন স্বল্পপোষাক পরিহিত সভ্য সমাজের চোখে অশ্লীল নেটো গান। একমাত্র মেলাতেই সেটা সহজলভ্য ছিল। সেদিন বক্ষবিভাজিকা, থলথলে চর্বিযুক্ত নাভি সহ বেঢপ থাই দেখেই পিসার টাওয়ার হেলে যেতোআজও দেখি, তবে দর্শনটা অন্যত্র এটাই যা ফারাক

 

গ্রামীণ মেলা ক্রমশ প্রযুক্তির অগ্রগতি ও আধুনিক জীবনের চাহিদার সাথে দৌড়াতে না পেরে। টেলিভিশন, মোবাইল ফোন, এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিনোদন পাচ্ছে, ঘরে বসে মনের মত পণ্যের ডেলিভারি পেয়ে যাচ্ছে, ফলে মেলার প্রতি আগ্রহ ও প্রয়োজন দুটোই কমে যাচ্ছে।

অথচ গ্রামীণ মেলা আমাদের স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি মূল্যবান অংশ। স্থানীয় গ্রামীণ অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানও বটে।  সঠিক উদ্যোগ এবং পরিকল্পনার মাধ্যমে আমরা মেলাগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতেই পারি। গ্রামীণ মেলাগুলোকে পর্যটন শিল্পের সঙ্গে সংযুক্ত করে পর্যটকদের জন্য  আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে। প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধরে রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়াটাই গৌরবের। নতুবা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে এককালের বাংলার জনপ্রিয় গৌরবময় অধ্যয় চিরতরে হারিয়েই যাবে।

এখনও আমি নিয়ম করে মেলায় যায়, তবে শুধু মানুষ দেখতে। তবে দিনে কম, রাতের দিকেই যায়। বয়েস বাড়ার সাথে সাথে লম্বাতেও যেমন বেড়েছি, দৈহিক ও সামাজিক আয়তনেও প্রয়োজনের তুলনায় বেশিই বেড়েছি, তাই সমাজটাকে খুব কাছ থেকে দেখা যায়। কত ধরনের মানুষ মেলাতে ভিড় করে, দোকানদার, সস্তায় মাল খোঁজা খদ্দের, বাবাজী, ফকির, জ্যোতিষ, দালাল, মজুর, চাষী, প্রেমিক, শিল্পী, বাবু, সেচ্ছাসেবক, পুলিশ, সাইকেল স্ট্যান্ডের ডাকপার্টী , চাঁদা কালেক্টর, পকেটমার, মাইক হাতে ঘোষোক, বাউল, সেবাদাসী, পর্ন সিডির দোকানি, বাঁশি, ক্যাটক্যাট করে আওয়াজ করা বাজনার ভিড়ে রাজনৈতিক নেতাদের ভিড় সহ বেশ্যা, তার দালাল, নব্য প্রেমিকের ছোঁকছোঁক করা হাত- অগুন্তি উদ্দেশ্যের ছড়াছড়ি।

কত্তো কিছু-

কত ধরনের গন্ধ যে মেলাতে উড়ে বেড়া তার খবরই বা কজন রাখে! মেলার প্রতিটি ধুলোতে একটা করে গল্প লুকিয়ে থাকে। তাদের না শুধালে তারা বলেনা। সমাজকে এতো কাছথেকে দেখা ও উপলব্ধি করার আজও সেরা উপাই এই মেলা

শুধু এগুলো দেখতেই আমি কমপক্ষে চারপাঁচটা মেলা ঘুরি, শান্তিনিকেতন পৌষ মেলা, আমাদের উৎরান্তি মেলা, কলকাতা বইমেলা, নবদ্বীপ রাসমেলা- জীবন জানতে হলে মেলাই সেরা স্থান। নিজের মুল্যায়ন টাও এখানেই করা যায়, যদি আপনি চান

 

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...