শনিবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৬

আচ্ছে দিন - ৫

হাতমুখ ধুয়ে সবে লাঞ্চ বক্সটা খুলেছেন, ওমনি টিভি সঞ্চালিকার রিনরিনে আওয়াজে লেবুদা শুনলেন:-
"দেশের অর্থনৈতিক ব্যাবস্থা যখন নেতিয়ে পরেছে, উনি তখন বিদেশ ভ্রমনে গেলেন"
মাননীয়া বঙ্গেশ্বরীর উক্তি, ওনার উদ্দেশ্যে।
লেবুদা ভাবলেন অন্য কথা-
অর্থনীতিকে সচল রাখতে শুধু কাগুজে বুলিই যথেষ্ট নয়। পিচ্ছিলতার আর গড়গড়িয়ে চলার জন্য তেলও প্রয়োজন। যেমনটি ইঞ্জিনের জন্য মোবিল। আর ব্যাপারটা যখন নেতিয়ে পড়া......
জাপানী তেলের অবদান বাঙালী ভুলবে কিকরে! মোক্ষোম সময়ে মোক্ষম দেশ বেছেছেন। নির্ভীক সাহষী সিদ্ধান্ত।
নমো: নমো:
আচ্ছে দিন নিশ্চই আসবে তৈলাক্ত জাপানি চুক্তি পথে।
লেবুদা তৈলাক্ত এঁটো হাত ধুতে বেসিন পানে হাঁটা জুড়লেন।



ছবি কৃতজ্ঞতাঃ আনঅফিসিয়াল ডা: অর্নব গোস্বামীর ফেসবুক পেজ

শুক্রবার, ১১ নভেম্বর, ২০১৬

আচ্ছে দিন ~ ৪



লেবুদা অফিস যাবেন বলে দুর্গা দুর্গা বলে সবে সদরের চৌকাঠটুকু ডিঙিয়েছেন, ওমনি...
- সব ব্যাটাকে আমি দেখে নেব, আমি নবান্নে যাব, দরকারে আমি সাউথব্লক যেতে ছারবনা। আমার সাথে চালাকি...
-
আরে, জটুদা যে, সাত সকালে এতো রেগেমেগে, বলি ব্যাপারটা কি?
-
আর বোলোনা লেবু, খানিক আগে পাম্পে গেছিলাম পেট্রোল ভরতে, বললাম পুরো ৫০০ টাকারই দাও, তাচ্ছিল্যর সাথে আমাকে ফিরিয়ে দিল.... আজকাল সিনিয়র সিটিজেনদের কোন কেয়ারই করেনা ছেলেছোকড়ারা, আমি বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলব।
- তা এখন যাচ্ছো কোথায়?
-
দক্ষিন কোলকাতা যাব, তেল কোম্পানীর আপিসে। আমার নামও রিটায়ার্ড সুবেদার জটিলেশ্বর সেন। দেখাবো কত ধানে কত চাল।
তা তুমিও কি আপিস যাবে? তাহলে চাপো পিছনের ক্যারিয়ারে।
- আপনি বসুন জটুদা, আমি সাইকেলটা চালাচ্ছি।
তা কখন গেছিলেন পেট্রোল কিনতে?
-
কেন ওখান থেকেই তো ফিরছিলাম, পথে তোমার সাথে দেখা।
লেবুদা সাইকেল থেকে নেমে জটুবাবুকে বললেন,
-দাদা আপনি একটু বেশিই রেগে আছেন। বাড়িফিরে স্কুটারটা নিয়ে পেট্রোল ভরতে যান, দেখবেন এবার আর কেও হাসাহাসি করবেনা, গোটা টাকারই পেট্রোল দেবে।
জটু বাবু বুঝলেন, তিনি মারাত্বক একটা ভুল করে ফেলেছেন। স্কুটারের বদলে বেখেয়ালে সাইকেলে পেট্রোল ভরতে গিয়ে হাসির খোরাক বনেছেন। লজ্জিত মেকি হেসে, বাড়ির পথ ধরলেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা জটুবাবু।
লেবুদা মনে মনে বললেন, হেঁটেই যেতে হবে এটুকু, সাওয়ারির আচ্ছে দিন কে উল্টো পথে তিনিই পাঠালেন যে......


আচ্ছে দিন ~ ৩

লেবুদার কয়েকপিস কালাধন ছিল, কালই বদলে নিয়েছেন লাইনে মাথায় রুমাল দিয়ে।
কারন কদিন আগেই উনি সম্যক বুঝেছিলেন, খোদ আমেরিকাতে কালাধনের দিন ফুরিয়ে এলো।
মিশেল ওবামার জামানা শেষ ফার্স্ট লেডি হিসাবে। হিলারি না জিতলে "কালাধনের" কদর সত্যিই শেষ। অন্তত সুপ্রিম লেভেলে আর থাকবেনা।
এখন সেই ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রচুর ভুসম্পত্তির মালিক হতে পারেন, কিন্তু ওইটি নেই..........
বিদায় বন্ধু "কালাধন"
আমাদের ভারতে তারই রেশ মাত্র। হাজার হোক আমেরিকা বন্ধু দেশ বটে।

কিছু লোকে শুধু শুধু মোদীজিকে দোষ দিচ্ছেন।

বুধবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৬

।। মার্কিন প্রেম ।।


আপাদমস্তক ভারতীয় লেবুদাও একসময় ভীষণ আমেরিকা প্রেমী ছিলেন। এটা অবশ্য তার গোপন কিছু নয়। তার জীবনের অন্যতম চরম আক্ষেপ যে, ব্যক্তি স্বাধীনতার মক্কা হল গিয়ে ওই আমেরিকা, অথচ গ্রহের ফেরে ভীষণভাবে ব্যক্তি স্বাধীনতায় বিশ্বাসী এই শর্মা এই দেশে জন্মেছেন। আর সেই ভাবনা থেকে এমন মুষড়ে পড়েছিলেন যে, তার অভিঘাত প্রতিটি বড় পীক্ষার রেজাল্টে চিরকালের জন্য ছাপ ফেলে গেছে। অন্যের গোলামী করার মত রেজাল্ট তিনি বানাননি, মতান্তরে যোগ্যতা ছিলনা। কিন্তু এটা তার গর্ব। তাই আজ তিনি স্বনির্ভর এজেন্ট।

বেশ কয়েক দশক আগের কথা, লেবুদা তখন সামান্য ছাত্র মাত্র। ওনার স্বর্গীয় পিতার প্রথম ও একমাত্র চারচাকা গাড়িটার কোম্পানী ছিল ফোর্ড। এবং পিতার সেই সিদ্ধান্তের পিছনে তার জেষ্ঠ্যপুত্র দর্পনারায়ণ ওরফে লেবুর প্রকাশ্য হস্তক্ষেপ ছিল। কারন সেই সময়কার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ছিল জেরাল্ড ফোর্ড। সেই শুরু। লোকে আজকাল যখন হলিউডি সিনেমা নিয়ে আদিখ্যেতা করে বেরাচ্ছে, লেবুদা সেই কালেই, বুকে 'জিম কার্টার' লেখা গেঞ্জি পরে কলেজ গেছেন। তাতে অভিনেতা জিম কার্টারের পাশাপাশি তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রপতি জিমি কার্টারকেও ধরতে পেরেছিলেন একমুঠোতে।

আজকের ছেলেছোকরার দল রোলান্ড রোনাল্ড করে পাগল। অথচ সেই আশির দশকের শেষে থেকেই লেবুদা রোনাল্ড ভক্ত। রোনাল্ড রেগন। এর পর কলেজের পাঠ চুকেবুকে গেলে, কিছুদিন পেশাসন্ধানে অতোটা আন্তর্জাতিক খেয়াল রাখতে পারেননি তিনি। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে একটু থিতু হতেই, আবার সেই আমেরিকা প্রেম চাগাড় দিয়ে উঠল। বাবার মত গাড়ি কেনার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু সীমিত রোজগার। অথচ আমেরিকা প্রেমের স্বারক কিছুতো একটা চাই, তাও সর্বক্ষণের জন্য।

অগত্যা......
গ্যালিফ স্ট্রটের পোষ্যবাজার থেকে, স্বস্তাতে একটা খাঁটি দেশীয় কিন্তু তাগড়াই নেড়ি কিনে বাড়ি ফিরলেন। বাড়িতে যে অশান্তি এক্কেবারেই হয়নি তা নয়, কিন্তু তখন যুবক লেবু ‘জল চিবিয়ে খায়’, সুতরাং যাবতীয় বিদ্রোহ কড়াহাতে মোকাবিলা করে আদরের পোষ্যটির নাম দিল ‘বুশ’ । জর্জ হার্বার্ট ওয়াকার বুশ তখন প্রেসিডেন্ট। এর পর থেকেই লেবুদা মানসিক তৃপ্তি লাভ করত ভীষন। বুশ তার উচ্ছিষ্ট খায়, আদরে গাল চেটে দেয়, সোহাগে গররর... গররর... করে ইত্যাদি। সবচেয়ে প্রসন্নতার বিষয়টা ছিল বুশের সাথে গা ঘেঁষাঘেঁষি করে এক ঘরে বাস। এতোটা তৃপ্তি জীবনে তিনি কমই পেয়েছেন।

হাজার হোক, নেড়ি তো। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই, পাড়ার এক মেদ্দির সাথে বুশকে ভয়ঙ্কর আপত্তি জনক অবস্থায় আবিষ্কার করলেন লেবুদা স্বয়ং। প্রথমে ভয়ঙ্কর রাগ হলেও, ভাবনা চিন্তা করে ব্যাপারটা মেনে নিলেন। কারন হাজার হোক নামটা তো আমেরিকান, তাই একটু আধটু বহুগামিতা না থাকলে যে চরিত্রটা খোলতাই হবেনা প্রবাসী মার্কিনি হিসাবে। কিন্তু পরের ভাদরেও সেই একই দৃশ্য, আর বিশ্রী রকমের অহরহ। ঘরের ভালমন্দ খেয়ে দেয়ে উনি পাড়াময় রাসলীলা করে বেড়াচ্ছেন। নাহ এবার আর রেহাই দেয়নি লেবুদা। সোজা বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলেন। যাকে বলে ত্যাজ্যপুত্র।

বছরখানেক প্রায় মনমরা চুপচাপ থাকার পর, বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে আবার আমেরিকান প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচন নিয়ে মহা শোরগোল তখন। লেবুদাও সেই সুযোগেতে গা ভাষাতে দেরি করলেননা। এবার আর নেড়ি নয়, সদ্য বিয়ের বছরে, এক্কেবারে সাদা চুলের স্পেনিয়াল কিনে সোজা বাড়ি এসে বৌদির কোলে গিফট করলেন। আহ্লাদিত বৌদি কিছু একটা নাম দিতে যাচ্ছিলেন বটে, লেবুদা তার আগেই জানিয়ে দিলেন এর নাম ‘ ক্লিন্টন’।

ছোট্ট ক্লিন্টন সবার আদরের হয়ে উঠতে সময় নিল না। আসেপাশের বাড়ির ছোট ছোট ছেলে মেয়ে আর বুড়োদের সময় কাটানোর সাথী হয়ে উঠল ক্লিন্টন। ব্যাস কিছুদিন যেতে না যেতেই নানান গোপন কীর্তি ফাঁস হতে লাগল তারও। লেবুদার আর আনন্দ ধরেনা। দত্তবাড়ির সুন্দরী স্পেনিয়াল কন্যাটির সাথে ক্লিন্টনের পরিনয়ও ঘটিয়ে দিলেন, যাতে কোন পরকিয়াতে না জড়িয়ে পরে। কিন্তু ক্লিন্টন এর পরেও বেপরোয়া হয়ে উঠল। বিরক্ত লেবুদা তাকে সেই, বাজারেই বিসর্জন দিয়ে স্বস্তি পেলেন। আর সিদ্ধান্ত নিলেন খুব হয়েছে, আর আমেরিকা প্রীতি নয়, সব ব্যাটা লুজ ক্যারেক্টার।

ততদিনে লেবুদা দুই মেয়ের বাবা। একদিন সকালে সদর দিয়ে বেরোচ্ছেন, একটা ছোট্ট গাট্টাগোট্টা নেড়ি পায়ের কাছে কাঁওকাঁও করতে লাগল। পোষ্যপ্রীতি তো একটা ছিলই। তাই মনে মায়া জেগে উঠল। ওটাকে বাড়িতে টেনে তুললেন। রাত্রে অফিস থেকে বাড়ি ফিরলে বৌদি খবর দিল যে, লেবুদার প্রথম নেড়িটার ছেলেই নাকি এই পাপ্পিটা। একেই বলে অদৃষ্ট। তাই লেবুদা না চাইলেও 'জর্জ বুশ' বহাল তবিয়তে যে যার জাইগা দখল করল।

মুংলা আর জর্জবুশ এখন খেলার সাথী। মাঝেমাঝে ছোট্ট বুশের সাথে, তার মা দেখা করে যায়। বৌদি তাকেও খেতেটেতে দেয়। এমনি করে সেও লেবুদার বাড়ির স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে গেল। কালো দোভাষী জাতের নেড়িটা। খাবারের লোভে সিনিয়র বুশ বাড়ির আসেপাশে ঘোরাঘুরি করলেও, লেবুদা তাকে ঘরে তোলেনি, বৌদি খেতে দিলে অবশ্য কিছু বলতেননা। লেবুদা মনে মনেই হাসেন। বুশের বাবা মা, ওর বাবা মা , ওবামা...

কি সুন্দর মিলে যাচ্ছে। চোখে মুখে একটা প্রশান্তির ছায়া। মেলালেন, এবার লেবুদা নিজেই মেলালেন। চরৈবেতি ......

এরই মধ্যে দত্তবাড়ির ছেলে ভাল চাকরি পেয়ে আমেরিকাতে প্রতিষ্ঠিত। বৃদ্ধ বাবামা কে সেখানে নিয়ে যেতে এসেছে। যাবার বেলাতে, দত্তজা সেই মেয়ে স্পেনিয়ালটিকে লেবুগিন্নিকে গিফট করে দিয়ে গেলেন। হাজার হোক কুকুরসম্পর্কীয় বৌমা তো বটে, তাই ওনার থেকে ভাল আর কে বাসবে ছোট্ট মাদি স্পেনিয়ালটিকে

লেবুদা আবার হাসলেন। মেলালেন তিনি মেলালেন। তিমি আমেরিকা ভুলতে চাইলে কি হবে! লেডি ক্লিন্টন আবার হাজির।

এরপর কয়েক বছর এমনিই নিস্তরঙ্গ জীবন কাটছিল। কিন্তু এখন ছেলে মুংলা বড় হয়েছে। তারও বাবার মত পোষ্যে ভীষন ঝোঁক। রঙিন মাছ, পায়রা, গিনিপিগ কি না বাড়িতে নেই। কদিন আগেই বাবার কাছে আবদার করল- বাবা আমার ডোনাল্ড চাই” । লেবুদা আজকাল আমেরিকা নিয়ে অতো খোঁজ রাখেননা। ভাবলেন ছেলে কার্টুন ভক্ত, তাই ডোনাল্ড ডাকের প্রেমে পরে একটা হাঁস টাস হয়ত বাড়িতে আনবে।

আজ সকালে খানিক আগে লেবুদার মাথায় হাত।

এক বড়লোকের বখে যাওয়া, ঘেয়ো বয়স্ক গোল্ডেন রিট্রিভার নিয়ে হাজির মুংলা।চেল্লানির চোটে গোটা পাড়াতে ত্রাহি ত্রাহি রব। রাগের চোটে লেবুদা ঘরে গিয়ে টিভিটা খুলে বসলেন।

খবরের চ্যানেল অন হতেই নিচের স্ক্রলে দেখলেন –

Donald J Trump, elected 45th President of the United States

লেবুদা বিড়বিড় করতে লাগলেন.........
“মেলালেন, আবার তিনিই মেলালেন”

স্বাগতম ডোনাল্ড ট্রাম্প।

প্রসঙ্গঃ কারেন্সি ব্যান

সবাই সকলের ছেঁদো যুক্তিকে প্রতিষ্ঠা করতে ব্যাস্ত। কেও কাজের কথাটি বলছেনা। সরকার বলছে ঠিকিই, কিন্তু সরকারের কথা আর শোনে কে, অর্ডার না করা পর্যন্ত। অবশ্য জনগনেরই বা দোষ কি! সরকার আজকাল পরিসেবা কম ধাপ্পা বেশি দেয়। আর এতে কোন রাজ্য কেন্দ্র ভেদাভেদ নেই।

দ্রুত পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিন, চোখ কান খোলা রেখে পরিস্থিতির উপরে নজর রাখুন। হুজুগ নয়, বিচার বুদ্ধি দিয়ে বিবেচনা করো। হাতের গচ্ছিত খরচাযোগ্য সঞ্চয় বুদ্ধিমত্তার সাথে খরচা করুন, ইত্যাদি। নাহ......
কোন আঁতেল-দাঁতাল বুদ্ধিবীচিকে বলতে শুনলাম না। তবে যেগুলো শুনলাম-দেখলাম সেগুলোর কটা নমুনা দিলাম।


************-*

মুখ ফুটলেও বুক ফাটছে। যারা ব্যাপারটা বেশ খানিকটা বুঝেছে, মান যাবতীয় নেগেটিভ - পজেটিভ দিকগুলো, তারা মোটামুটি চেপে গেছে। এমন ভাবে মাথা নারছে, দেখে বোঝার উপায় নাই, হ্যাঁ সুচক না নাসূচক।

আর যেগুলোর মগজে কার্ফু, তাদের নাচনের শেষ নাই। অর্থনীতি খায় না গায়ে মাখে- জীবনেও শোনেনি। তারাও স্ট্যাটাস লিখছে " সাহষী সিদ্ধান্ত, স্বাগত জানাই"। একজনকে আমিই সাহষ করে শুধালাম- দাদা সাহষটা ঠিক কোন বিষয়টা একটু বোঝাবে!! তা তিনি এমন খিস্তি মারলেন, যে এখনও আমার কানে তালা ধরে আছে। বুঝলাম বাজারে যাদের এমন ক্যাডার ছাড়া আছে, তারা সাহষী হবেনা তো কারা হবে। যদিও আমার প্রশ্নটা বেশ নিরীহই ছিল। তাদেরও বলি ও কত্তা, দুটোদিন রোসো। সবে তো কলির সন্ধ্যে। এখনও পুরো পালাটাই যে বাকি। এখনি নেচে আলা হয়ে গেলে, পরে যে আর দম থাকবেনা। আমার আবার নিয়মিত বিরতিতে গালিগালাজ না খেলে শ্রীঘ্রপতন হয়।

দ্বিতীয়দল, দেশ উচ্ছুন্নে গেছে বলে এ ডাল থেকে ওডালে ঝপাঝপ ঝাঁপ মারছে। সব আগুনখেকো বিপ্লবী। ওরে বাবা তোরাও এই মাঝরাত্রি থেকেই মোরগের মত বাঙ দেওয়া সুরু করলি কেন। এগারো ক্লাসে ভর্তির সময় তো দায়িত্ব নিয়ে ইকোনোমিকস এড়িয়ে পলসায়েন্স নিয়েছিলে আর সাথে ফিলোজলি। ওতে নাম্বার উঠবে। BA পাস না বললে, বাপে যে মেয়ের বাপের কাছে দড় পাবেনা।

তোরাও দুটো দিন গড়াতে দে। তখন নাহয় জ্বালাময়ী স্ট্যাটাস লিখবি। পলসায়েন্স আর ফিলোজপির টুকে পাস করা জ্ঞান নিয়ে, ভাবটা এমন যেন এটা ক্লাবের চাঁদা কালেকসন এর বিষয়। বছরে দুচারবার করার অভ্যেস তো আছেই। বিপ্লবের তেলে ভাজা বিদ্রোহী বাছা আমার, এমনটা সারা বিশ্বেই বিরলতম, মোদীজির মতই। সুতরাং তুমিও রোসো। দুটো দিন যে না গেলেই নয়। আপাতত বেবাক জ্ঞ্যান ইজেরের বুক পকেটেই রেখে দাও।

শেষের দলের ভারী ফুর্তি। যারা পেলে-পাব্বনে কাজ করে। তাদের রসের সীমা নাই। একজন তো বলেই দিল " দেখ শালারা, কাজ করে আর টাকা জমাবি!! " ওই ২০ টাকা রোজের মুটে আর কি, অথবা কোন দাদার ৬০ টাকার চামচা। তাদের আনন্দের সীমা নাই।

বাকিরা বিচ্ছন্নতাবাদী দলের। খোঁজই রাখেনা, কোথায় কি ঘটছে। যেমন কিছুজন, কবিতা লিখতেই দারুন ব্যাস্ত।

একটা প্রবাদ আছেনা......
"বাপ বলেছে ড্যাসের ভাই, আনন্দের আর সীমা নাই"

আর যাদের বাঁশ, মানে টাকা মাটি মাটি টাকা হতে বসেছে, তাদের ফাটছে চড়চড় করে নি:শব্দে। তাদের অবশ্য এতো কিছু ভাবার সময়ই নাই। বে খেয়ালে কেঁদে উঠছে, উন্মাদের মত হাত পা ছুরছে। মুখে মোদীর বাপান্ত করতে করতে গভীর চিন্তনে ডুবে......

"আমায় ভাষাইলিরে..... আমায় ডুবাইলি রে....."

।। কালা ধন ।।



মাঝরাত্রে লেবুদার ঘুমটা সবে চোখে জুড়ে বসছে। ওমনি হঠাৎ করে বাঘাবৌদি সোহাগের ঝাঁপি উপুর করে দিলেন।

লেবুদা হাঁ হাঁ হাঁ... করে মানা করতে যাচ্ছিলেন ঠিকিই। কিন্তু বহুদিনের অভুক্ত অতৃপ্ত জৈবিক আত্মা এই সুযোগের সম্পূর্ন সদ্ব্যবহার করে নিল।

ক্ষুদ্র অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘটলে, লেবুদা বেশ তাচ্ছিল্যের সুরেই বল্লেন-

-
আজ হঠাৎ, এমন চ্যাটচ্যাটে পিরিতি জেগে উঠল যে!! বলি মতলবটা কি??
- শোনো না..... ততোধিক আদুরে গলায় সুধা বৈদি বলে উঠলেন...
পরশু ব্যাঙ্ক খুললে আমার একটা কাজ করে দিতে হবে কিন্তু!! এতোগুলো টাকা নিয়ে ব্যাঙ্কে একা যেতে সাহষ হচ্ছেনা। ওদিন আমার সাথে একটি বার যেওনা লক্ষীটি.....
- তোমার আবার ব্যাঙ্কে কাজ কি!! বিস্ময়ে লেবুদা প্রশ্ন ছুরে দিলেন...
-
ইয়ে, মানে কিছু ৫০০-১০০০ টাকার নোট ভাঙিয়ে নিতাম।
-
ততোধিক আশ্চর্য হয়ে লেবুদা বল্লো, একা যাবার সাহষ নেই মানে?? মানে? কতটা ভারি সে অঙ্ক!! বিস্ফোরিত নয়ন সহ মুখদিয়ে অস্ফুটে উচ্চারিত হল “কালা ধন”.........

বৌদি একটু ফুট কেটে বললেন
-        শুধু আমিই একা নয় আমার সোহাগ কালাচাঁদ, সারা বিশ্বের মহিলারাই ভীষন লোলুপ কালাধনের বিষয়ে...
আর কোন কথা না বাড়িয়ে, আরো ঘনিষ্ট হয়ে লেবুদাকে জড়িয়ে শুয়ে পড়লেন।

মুচকি হেঁসে লেবুদা মনে মনেই বললেন, একেই বলে বিচার। যাবতীয় পকেটমারি করে গচ্ছিত কালা ধন, সত্যিই প্রকাশ পাচ্ছে। মোদীজি নিজে সংসার না করুক, সংসাররের মূলটা বোঝেন। সমগ্র ভারতীয় পুরুষদের তরফ থেকে যে একটা আশির্বাদ তিনি পাবেনই, সেটা বলাই বাহুল্য।

কিন্তু মনে একটা খচখচে প্রশ্ন রয়েই গেল, সুধা কালাধন বলতে ঠিক কি বোঝাতে চাইল!!

যাই হোক, কে জানে এমন দিন আবার কবে আসবে, আচ্ছেদিনের আনন্দে লেবুদাও আরো শক্ত ভাবে স্ত্রী সোহাগে নিজেকে গলিয়ে দিলেন।


মঙ্গলবার, ৮ নভেম্বর, ২০১৬

আচ্ছে দিন



লেবু পূরাণের অংশ


অপিস থেকে বাড়ি ফেরার রাস্তা এক্কেবারে শুনসান। হাতকাটা পরেশ, ল্যাংড়া ভুতো, ট্যেরা গনশা সহ কাওকেই রাস্তায় দেখা যাচ্ছেনা। বলি হলটা কি!

রাস্তায় টেনিয়া পিন্টুকে হন্তদন্ত হয়ে সাইকেল চালাতে দেখে, লেবুদা শুধালো, আজ সবাই গেল কোথায় রে?

- সেলে গেছে, দাদা। (সাথে একটা লজ্জা মিশ্রিত হাসি)
-
সেল!! কিসের সেল , এই রাত্রে?
-
ও বাবা, জানোনা দেখছি যে... অবিশ্যি, তোমার সে বয়সই বা কোথায়!
-
তা সেল টা লেগেছে কোথায়?
-
ও মুখে বলা যাবেনা, গেলে আমার সাইকেলের 'কেরিয়ালে' বসে পরো। 
-
কোথায় যাচ্ছি সেটা বলবি তো?

সোজা বিডন স্ট্রিটের মোড়ে এসে সাইকেল থামলো। আর যা দেখলো, তাতে চোখ ছানা বড়া। থিকিথিকে ভীর।গর্মেন্ট থেকে অবশ্য "কুটির শিল্পের উন্নয়ন" খাতে এক্সট্রা পুলিশি বরাদ্দও রয়েছে। যদিও লেবুদার ভাষায় ওটা, কোঠা শিল্প বা কাঁচাচর্ম শিল্প।

৫০০ আর ১০০০ টাকার নোট বাতিল ঘোষনা হওয়ায়, যৌনকর্মীদের আজ মুশকিলের শেষনাই।

কাষ্টমারদের তারাতেও পারছেনা, আমদানির ব্যাপার আছে। আবার বেশি চাইলে খদ্দের নিজেই পালিয়ে যাচ্ছে। চেকে বা ড্রাফটে কেউ লেনদেন করেনা এপাড়াতে।

তবে বিগত যৌবনাদের খুশির সীমা নেই- "দেক কেমন লাগে"
একেই বলে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক। শালা আজ রাত্রে সব নিষিদ্ধ পল্লিতে যেন শীতের সেল।

৪৯৯/- আনলিমিটেড - ফর ওয়ান নাইট।

কে বল্লো আচ্ছেদিন আসেনি? পিন্টু, কথাটা বলেই সেলের মজা নিতে ভীরে মিশে গেল।
লেবুদাও বাড়ির পথে হাঁটা জুড়লো।



শনিবার, ৫ নভেম্বর, ২০১৬

।। কাঙাল ।।

“সীমানা কাকে বলে। কতদূর হাঁটলে সেই সীমানার প্রান্তে পৌঁছানো যায়। সীমান্ত মানে কি শেষ? নাকি চেনা পরিধির ঘেরাটোপের বাইরে অচেনা বৃহত্তর জগৎটা”।
মহালয়ার দুপুরে মধ্যাহ্নভোজন সেরে বৈঠকখানাতে বসে লেবুদা আজকের খবরের কাগজের সম্পাদকীয়টা পুনরায় পড়ছিলেন। পড়তে পড়তে একটু ঝিমুনি আসতেই এই ভাবনার সাগরে তলিয়ে যেতে লাগলেন, তবে সুধা বৌদির বাঁজখাই আওয়াজে সেই তাল কাটতে সময় লাগলনা লেবুদার।
তেতো চোঁয়া ঢেঁকুর পুনরায় গেলার মত মুখটা করে লেবুদা বলল...

- দিলে তো একটা উচ্চকোটির ভাবনা বিনাশ করে...
- উঁ... মিনসে, বলি চারটে দশের মেট্রো ধরব খেয়াল আছে তো! দত্তজা, মান্না বৌদি সহ বাকিরাও চলে এলো বলে, আর উনি এখনো বসে বসে খেয়ালী দেশোদ্ধার করছেন।
- তুমি আর কি বুঝবে বলো, আমার জ্বালা আমিই বুঝি। লেবুদা একটা গভীর দীর্ঘশ্বাসসহ কথা কটা বলেই, ভিতর ঘরে চলে গেলেন।

শেষ দুটো সপ্তাহ থেকেই লেবুদার মত কোয়ালা প্রজাতির মানুষের মেজাজও বিগড়ে তিরিক্ষি হয়ে আছে। হবে নাইবা কেন! টিভিতে, খবরের কাগজে রাতদিন যুদ্ধের খবরে মানুষ যেভাবে ফুটছিল, তাতে করে লেবুদা ভেবেছিলেন, অন্তত কিছু বুদ্ধিমান আর হুজুগে মানুষ যুদ্ধের ভয়ে কিছু জীবন বীমাপত্র খরিদ করবেন। আর সেই দরুন পাওয়া অতিরিক্ত দস্তুরীর টাকাটা এবারের পুজোয় বাঘাবৌদি এন্ড কোম্পানীর শপিং এর নামে, জেহাদি হামলার মুখে কিছুটা এক্সট্রা প্রতিরোধ জোগাবে।
এরই মাঝে কদিন আগেই, মায়ের অসুখ উপলক্ষ্যে পিত্রালয় থেকে দেড় দিনের ঝটিকা সফর সেরে নিয়েছেন লেবুগিন্নি। ছেলে মেয়েদের স্কুলেও সেই পঞ্চমী না ষষ্ঠীতে কবে যেন ছুটি পড়বে। এদিকে লেবুদা সার্জিক্যাল অ্যাটাকের ঘটনাতে চরম উৎসাহিত হয়ে, বড়বাজারের এক মাড়োয়ারি ক্লায়েন্টের পরামর্শমত, জয়-মা বলে ব্যাঙ্কের সিংহভাগ গচ্ছিত টাকা একটি নিশ্চিত লাভজনক ব্যবসাতে গোপনে লগ্নি করে দিলেন। আসন্ন মুনাফার পুলকে লেবুদার মেজাজ তুরীয় আনন্দে টগবগ করে ফুটছিল। এই পঞ্চাশেও শুরুতেও, বিশ বছরের ছোকরার মত আজকাল নাকি জোশ পাচ্ছেন তিনি।
ওমা কোথায় কি! একদিন গেল, দুদিন গেল সাতদিন, ১০ দিন গেল, যুদ্ধ আর বাঁধল না। অথচ মহালয়ার আগেরদিনিই দ্বিতীয় দফার শপিং কমপ্লিট। আজ অবশিষ্ট তৃতীয় দফার জন্য ওই চারটে দশের মেট্রো। যাবতীয় তুরীয় মেজাজে প্রতিদিন এক পরত করে চোনার লোনা স্তর জমা হচ্ছিল।
ডবল মুনাফার স্বপ্নে বিভোর লেবুদার, সিংহ হৃদয় বিকশিত হয়ে উঠেছিল। দূর সম্পর্কের কিছু আত্মীয়দের জন্যও কিছু পোষাক কিনে ফেলেছেন। এমনকি শ্বশুরবাড়ির রান্নার মাসির জন্যও একটা শিফন শাড়ি পাঠিয়েছেন লেবুদা। তবে আজ এসব ভাবলেই লেবুদার চোখ ফেটে যত না কান্না পাচ্ছে, তার চেয়েও টিভি চ্যানেলগুলোর প্রতি বেশি রাগ হচ্ছে। কি সব মিথ্যা তথ্য, সব এক একটা ক্রিমিনাল... শালা... জাষ্ট ভাঁওতা!!... ইত্যাদি ইত্যাদি।
সুধাবৌদি বিঘেশ্বরী মায়ের থানে রূপোর কানের মাকড়ি গড়িয়ে দেবার মানত করেছিল, যাতে লেবুর কিপটেমি সেরে দেয়। যদিও সেটা বিয়ের পরপরই, কিন্তু আজ গিয়ে মা মুখ তুলে চেয়েছেন, সুতরাং বাঘাবৌদি ভক্তিতে গদগদ। অতএব অষ্টমীতে মায়ের নামে একটা কাঙালী ভোজন না করালেই নয়।
লেবুদা এমনিতেই যুদ্ধের দুশ্চিন্তায় ( আসলে যুদ্ধ না হওয়ার দুশ্চিন্তায়) অতশত না ভেবেই স্ত্রীর ইচ্ছাতে ঘাড় শুরুতেই নেড়ে দিলেন। যথারীতি রান্নার ঠাকুর এসে মুদিদ্রব্য, উনুনের কাঠ, কড়াই নৌকা আর ড্রাম খুন্তি ঝাঁঝরি ইত্যাদির লিষ্টি করে দিয়ে চলে গেলেন। নির্বিকার লেবুদা গিন্নিকে ব্যাপারটা শুধাতেই তিনি ফোঁস করে জবাব দিলেন, “আ মোলোযা, তুমি যুদ্ধ নিয়ে ভেবে ভেবে ভেবরে যাও না, টাকের অবশিষ্ট চুলগুলো খিচে তুলে ফেলো, তোমায় এদিকে মাথা ঘামাতে হবেনা। বিরুকে একদিন আগেই আসতে বলে দিয়েচি।
আসলে বাঘাবৌদি তার কত্তাকে একটা অতর্কিতে চমক দিতে চাইছিলেন আরকি।
বুকের ভিতরটা মুচড়ে যাচ্ছে, জ্বলে যাচ্ছে। লোকসানের উপরে লোকসান। এদিকে বোঝার উপরে শাকের আঁটি হয়ে মূর্তিমান মর্কট “শ্যালক বীরুর” আগমন বার্তা লেবুদার রক্তচাপ আরো বাড়িয়ে দিল। লেবুদা এই ভরদুপুরে চোখে ধাঁধাঁ দেখতে লাগলেন। ভাগ্যিস চেয়ারে বসে ছিলেন, নাহলে নিশ্চিত ধপ করে পড়েই যেতেন। না জানি এ কদিন আরো কত অত্যাচার সইতে হবে !
বরং তিনি এই তুচ্ছ সাংসারিক রোজকড়চা থেকে বেরিয়ে, হন্যে হয়ে বিভিন্ন খবরেরকাগজ, টিভির খবরের দিকে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টাতে লেগে রইলেন। একবার তো পাড়ার লাইব্রেরিতেও গেছিলেন কোন যুদ্ধ সংক্রান্ত বই আছে কিনা দেখতে। আসলে তিনি সার্জিক্যাল স্ট্রাইক বিষয়টা গভীর ভাবে বুঝতে চাইছেন। সোজা কথায় সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের ঠিক কতদিন পর আসল যুদ্ধ শুরু হয় ইত্যাদি ইত্যাদি।
অষ্টমির সকাল। সকাল থেকেই হাড়কাটা গলির মল্লিকবাড়িতে রীতিমত মোচ্ছবের মেজাজ। সবাই সাজো সাজো রব শুধু একজন ছাড়া, তিনি অবশ্যই আমাদের আদরের লেবুদা স্বয়ং। রাস্তার ধারের দক্ষিনের বারান্দার ইজিচেয়ারে বসে, একটা বিড়ি ধরালেন। আর ভাবতে লাগলেন, কি করে এই লোকসান উশুল করা যায়। তবে লেবুদার একটা গুণ হল, উনি বেশিক্ষণ ভাবতে পারেননা। সটান সেই মাড়োয়ারী বন্ধুটিকে ফোন লাগালেন। কিছুক্ষণ কথাবার্তার পর খানিকটা স্বস্তি বোধ করলে, এবার তিনি ভিয়ানের কাছে একটা চেয়ার টেনে বসলেন। করার মত কাজ অবিশ্যি কিছুই ছিলনা, কারন ততক্ষণে রান্নার কাজ প্রায় শেষ। ক্লাবের ছেলেরাও মুঙলার সাথে পরিবেশন করবে বলে গেঞ্জি বারমুডা পরে রেডি। লেবুদার ভায়েরাও আছেন প্রায় সকলেই, কিন্তু সমস্তটাই প্রায় একার হাতে তদারকি করছেন বাঘাবৌদি স্বয়ং।
এদিকে দেখতে দেখতে বেলাও পড়ে এলো, ভোগ ভর্তি নৌকার সংখ্যাও ফুরিয়ে এসেছে, আর মাত্র অর্ধেক নৌকা লুচি আছে, সাথে সামান্য ডাল। লেবুদা কাকে যেন ফোন করলেন। সাথে সাথে দু'জন ভ্যানওয়ালা হাজির। এবার লেবুদা ধড়ফড় করে উঠে, তাদের সাথে বাড়ির ভিতরের দিকে গেলেন। কয়েক মুহুর্ত পর একটা তীব্র গোঙানি মিশ্রিত আর্তনাদ শোনা গেল। সকলে হই হই করে বাড়ির ভিতরে গিয়ে দেখল ভ্যানওয়ালা দুজন বেচারার মত মুখ করে কাঁচুমাচু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
সে যাত্রায় লেবুদার জ্ঞান আর ফেরে না। অনেক সাধনাতে জ্ঞান ফিরলে তখন সেই আর্তনাদের কারণ ফাঁস হল।
মাড়োয়ারি বন্ধুর পরামর্শমত লেবুদা বাজার থেকে কিছু নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য মজুদ করেছিলেন। যুদ্ধের বাজারে কালোবাজারি বহু নাম শুনেছেন, একবার সেটার হাতে কলমে করার প্রবল বাসনা। বাজার থেকে আটা, চিনি, ডাল, ভোজ্যতেল ইত্যাদি কিনে সিঁড়ির নিচের ভাঁড়ার গুদামে রেখেছিলেন। যেদিন সুধাবৌদি মায়ের অসুখের জন্য বাপের বাড়ি গেছিলেন সেদিন। ছেলেমেয়েরাও ইস্কুলে কলেজে ছিল, তাই কেও জানতেই পারিনি।
যুদ্ধ লাগলে, বাজারে হাহাকার পড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর। ব্যাস সেই তালে এই মালগুলো চড়া দামে ঝেঁপে দারুন মুনাফা। এর পরেই লেবুদা কিপটে বদনাম ঘোঁচাতে দিলখোলা হয়ে গেলেন। কিন্তু এদিকে আজও পর্যন্ত যুদ্ধ আর বাঁধল না। একটা করে দিন যাচ্ছে লেবুদা উদভ্রান্ত হয়ে যাচ্ছেন। এরই মাঝে বাঘাবৌদি ভাঁড়ার পরিষ্কার করতে ঢুকে দেখেন ভাঁড়ার ভর্তি খাদ্য সামগ্রী। তিনি ভাবলেন লেবুর উপরে মায়ের দয়া হয়েছে, সে কিপটেমি ছেড়ে হাতখোলা হয়েছে। পরের ঘটনা ক্রম আপনাদের সব জানা।
এদিকে সেই মাড়োয়ারি বন্ধু ফোনে বললেন ওই মজুদ মাল এবার বেচে দিতে, কারন যুদ্ধ লাগার সম্ভাবনা আর নাই। তাই লেবুদা দুজন ভ্যানওয়ালা ডেকে আনলেন সেই মজুদ বস্তাগুলোকে কয়েক দফায় বাজারে নিয়ে যাবেন বলে। আর ভাঁড়ারে ঢুকেই দেখলেন ভাঁড়ার অর্ধেক খালি। কারন বাঘাবৌদির এই সুবিশাল কাঙালী ভোজের আয়োজনের উৎস আসলে এই মজুত মুদিদ্রব্য। ব্যাস একটা আর্তনাদ করেই সটান জ্ঞান হারালেন। লেবুদা আজ সম্যক বুঝে গেলেন সার্জিক্যাল স্ট্রাইক ঠিক কাকে বলে।
অবশিষ্ট যা মালপত্র ছিল সেটাই দুটো ভ্যানে চড়িয়ে তাদের বিদেয় দেওয়ার কালে, বৌদি তাদের ভোগ খেয়ে যাবার অনুরোধ করলেন। তারা হাত ধুয়ে এসে রোয়াকে খেতে বসল। এদিকে সুধাবৌদি দেখলেন লেবুদাও একটা শালপাতা নিয়ে তাদের পাশে এসে বসে পরল।
সকলে হা হা করে মানা করতেই মুচকি হেসে লেবুদার জবাব-
- ওরে আজ অন্তত কেউ আমায় মানা করিসনে, আজ আমার থেকে বড় কাঙাল এদেশে আর দ্বিতীয়টি নেই ।


তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...