বুধবার, ১৫ মে, ২০১৩

চোরের কোরবানি

 


এক প্রসিদ্ধ চোর জুমার নামাজ আদায় করতে গিয়ে , মসজিদে ইমাম সাহেবের মুখে কোরবানীর ফযিলত সম্পর্কে বয়া শুনে অন্তরটা খুব নরম হয়ে গেলো। বাড়ি ফিরে যে প্রতিজ্ঞা করলো- যা হয় হবে, এমন ফযিলত পূর্ণ কোরবানী এবারে বাদ দেওয়া যাবে না। যেমন ভাবা তেমন কাজ, রাতেই পাশের গ্রাম থেকে একটি গরু চুরি করেতে বের হয়ে গেলো কোরবানীর নিয়তে।

পরদিন, ইমাম সাহেব ফজরের নামাজ পড়তে উঠে দেখেন, সেই চোর একটা গরু নিয়ে বাড়ি ফিরছে। ইমাম সাহেব শুধালেন- তুমি তো গরীব, রাতারাতি গরু কোথায় পেলে? চুরি করে আনলে নাকি?

চোর বললো-- হুজুর আপনি জুমার খুৎবাতে কোরবানীর ফযিলত সম্পর্কে যে বয়ান করেছেন তাতে আমার অন্তরটা নরম হয়ে গেছে তাই গরুটি কোরবানী দিতে নিয়ে যাচ্ছিআপনি কোরবানির অংশেই ফোকাস করুন আমার মত, গরু কোথা থেকে কীভাবে এলো সে সব জানা- সময়ের বাজে খর্চা, সবই উপওয়ালার তরফে…

ইমাম সাহেব বললেন, চুরি করে কোরবানী দিলে সেটা কোরবানী তো হবে না বরং গুনাহ হবে৷

চোর বল, হুজুর এ নিয়ে আপনি টেনশন করবেন না৷ আমি এর হিসেবও মিলিয়ে রেখেছি, চুরি করলে যে গুনাহ হবে তা কোরবানীর সাওয়াব দিয়ে কাটাকাটি হয়ে যাবে৷ মাঝখানে গোস্তটা ফাও খাওয়া যাবে

উপসংহারঃ গল্পটি রূপক আমাদের দেশে গরু/ছাগল চুরি করে কেউ কোরবানী না দিলেও- সুদের টাকা, ঘুষের টাকা, শ্রমিকের হকের মারা টাকা, তোলার টাকা, চিটারি বাটপারির টাকা, গরীবের জন্য  বরাদ্দ সরকারী প্রকল্পের টাকা, এমন হরেক চুরির টাকা দিয়ে কিন্তু ঠিকই অহরহ কোরবানী দিচ্ছে একশ্রেনীর মুসলমান। তাই ঐ চোর আর এদের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই

আল্লাহ্র নাবী (সাঃ) বলেছেন- খিয়ানাতের সম্পদ থেকে সদাকাহ কবুল হয় না। সহিহ মুসলিম ১ম খন্ড, হাদিস নং- ৪২৩

 


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...