শুক্রবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

মার্কিন ও ন্যাটো জোট অবিনশ্বর?



যারা ভাবেন মার্কিন ও ন্যাটো জোট অবিনশ্বর, অজেয় ও একমাত্র সত্য, তাদের জন্য কিছু তথ্য-

🔸 জ্বালানি তেলের দাম বিশ্ববাজারে দ্বিগুন হলেও ইউরোপের বাজারে তা ৭-৮ গুন বেড়ে গেছে। গ্যাসের অবস্থাও তথৈবচ।
🔸দু বছর আগে মার্কিনী প্রেসিডেন্ট থেকে তাদের বাঘা কর্মকর্তারা যে ভেনেজুয়েলা দেশটিকে মানচিত্র থেকে মুছে দেবার কথা বলতো- আজ তাদেরই হাতে পায়ে ধরতে গেছে মার্কিন কংগ্রেসের বিশেষ টিম।
🔸রানের উপরেও কম কিছু নিষেধাজ্ঞা ছিলনা পশ্চিমাদের- তাদেরও হাতেপায়ে পরতে হবে অচিরেই।
🔸এদিকে ন্যাটো ভুক্ত দেশ হয়েও মার্কিন ও ন্যাটোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে পোল্যান্ড নিজ সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন ও ন্যাটোর দাবীকে অস্বীকার করে।
🔸মার্কিনীদের দাবী ছিল, সাবেক সোভিয়েতের মিগ বিমানগুলো ইউক্রেনকে দিয়ে দিতে, বিনিময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পোল্যান্ডকে F-16 এর মত সমসংখ্যক অত্যাধুনিক বিমান দেবে। এছাড়া সাবেক সোভিয়েত আমলের ট্যাঙ্কবহর ইউক্রেনকে দিতে।
🔸এর পরেই পুতিন পরিষ্কার জানায়, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার বিপক্ষে অস্ত্র দেওয়া, অবরোধ দেওয়া, সীমানা ব্যবহার বা যেকোনো ধরনের সামরিক সহযোগিতা সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়েছে বলেই ধরে নেবে রাশিয়া।
🔸 ব্যাস, পোল্যান্ড সাফ জানিয়েছে, রাশিয়া সর্বশক্তিতে পোল্যান্ডে আক্রমণ শুরু করলে- ন্যাটো ও মার্কিনী সাহায্য পৌঁছাবার আগেই দেশটি ধ্বংসস্তুপে পরিনত হবে। বস্তুত্ব দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুই হয়েছিল জার্মানির পোল্যান্ড আক্রমণের মধ্য দিয়ে।
🔸 সুতরাং ন্যাটো জোটের মধ্যে ফাটল চুড়ান্ত ও প্রকাশ্যে। ন্যাটোর প্রতি পোলান্ডের আস্থা থাকলে তারা রাশিয়ার বিপক্ষে চলে যেতো, কিন্তু যায়নি। উলটে তারা এখন রাশিয়ার ভয়ে জুজু দেখছে।
🔸এতোদিন পোল্যান্ড সীমান্ত দিয়েই ন্যাটো অস্ত্র পাঠাচ্ছিল ইউক্রেনে। ৭ই মার্চের এক বিবৃতিতে পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা জানিয়েছে- আর তারা কাউকে নিজেদের সীমান্ত ব্যবহার করতে দেবেনা ইউক্রেন যুদ্ধে। এমনকি পোল্যান্ডের কোনো বিমানবন্দর থেকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের কার্যকলাপও চলবেনা।
🔸মার্কিন ভরষার চেয়ে রাশিয়া ভীতি অনেক বেশ কাজ করছে ইউরোপে।
🔸 বিশ্ব দেখছে, নিজেদের বিশ্বপরাশক্তি হিসাবে দাবী করা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র- নিজের থুতুই নিজে চাঁটছে। ভেনেজুয়েলা বা ইরাণের সামনে হাঁটু গেঁড়ে দিয়েছে। কারন যাই হোক-
🔸 এমনিতেই আভ্যন্তরীণ মার্কিন সমাজে দ্বন্দের মসলা কম কিছু মজুদ নেই, তীব্র বেকারত্ব, উচ্চ সুদের হার, বিপুল ঋণ, বর্ণবিদ্বেষ, একে অন্যের প্রতি অবিশ্বাস, আর করোনাতে শুয়ে যাওয়া অর্থনীতি- ভেনেজুয়েলার পায়ে ধরা মার্কিন রাষ্ট্রনেতাদের দেশের মানুষই বা কেন মেনে নেবে? ওদের আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ বেঁধে না যাওয়াটাই আশ্চর্যের।
🔸আগামীতে বাল্টিক, নর্ডিক, স্লাভিক, স্ক্যান্ডেনেভিয়ান ও সাবেক যুগোস্লোভিয়া ভুক্ত দেশগুলোর মাঝে চুড়ান্ত অনৈক্য দেখা দেওয়া কয়েক সপ্তাহের অপেক্ষা, কারন প্রত্যেকের মাঝে ভয় ঢুকেছে রাশিয়ার। ফিনল্যান্ড আর সুইডেনের মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করেছে তারাই রাশিয়ার পরবর্তী লক্ষ্য।
🔸পাশাপাশি আরও বিশ্বাস জন্মাচ্ছে- বর্তমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষক ন্যাটো আসলেই কাগুজে বাঘ, যারা নিরস্ত্র সিরিয়ান, লিবিয়ান ও ইরাকি সাধারন মানুষকে জঙ্গি নাম দিয়ে খুন করলেও- রাশিয়ার সামনে আসলেই নপুংশক নির্বীজ খোঁজা।
🔸ফ্রান্স, ইতালি, পর্তুগাল, স্পেনের সাথে কেবলমাত্র যুক্তরাজ্যই ন্যাটোতে থাকবে সম্ভবত- কে মোঁড়ল হবে এই নিয়েই কুকুরকেত্তন বাঁধবে। কারন দিনের শেষে তেল গ্যাস কিনতে নিঃশ্ব হওয়ার চেয়ে রাশিয়া অনেক ভালো, যেটা জার্মানি হাড়ে হাড়ে বুঝছে মাত্র ১২ দিনে। সুখের চেয়ে স্বস্তি ভালো।
🔸শেষ হাজার বছরের অতীত ইতিহাস বলছে- যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন বা পর্তুগালের মধ্যে আন্তঃখেয়োখেয়ি তাদের বন্ধুত্বের ইতিহাসের চেয়ে ১০ গুন বেশি নৃশংস। সুতরাং ন্যাটোর ঘ্যোঁটের ভবিষ্যৎ কাকের পালকের মত ঝকঝকে ও পরিষ্কার।
🔸এদিকে চীনা বিদেশ দপ্তরের মুখপাত্র প্রকাশ্য সাংবাদিক সম্মেলন করে জানিয়েছে, রাশিয়ার সাথে তাদের সম্পর্ক পাথরের মত মজবুত। এই বন্ধুত্বকে অক্ষুন্ন রাখতে তারা সবধরনের পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে প্রস্তুত।
🔸বৈশ্বিক আর্থিক লেনদেনের অন্যতম মাধ্যম SWIFT এর বিপরীতে চীনা UnionPay বাজারে হাজির করেছে। চীনা সফটলোনে ডুবে থাকা দেশগুলো থেকে এভাবেই পশ্চিমা swift হারাকিরি দিয়ে দিল। রাশিয়ার সাথে ব্যবসা করতে হলে এখন UnionPay দিয়ে করো- যা পশ্চিমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
🔸বিশ্বের একতৃতীয়াংশ দেশ মার্কিনী তথা পশ্চিমাদের দেওয়া নানান অবরোধের শিকার, ইরাণ যাদের অন্যতম। তারা swift এর ব্যবহার নিজেরাই ছেড়েছে। তারাও চীনা UnionPay কে উচ্ছাসের সাথে স্বাগত জানিয়েছে। এমনকি তারা ডলারে ব্যবসা করবেনা বলেও ঘোষনা দিয়েছে ১৯৯৯ এর পর আবার ২০২২ এর ৭ই মার্চ।
🔸পেট্রোডলারের খেল খতমের এটা প্রাথমিক সিঁড়ি।
🔸
আমেরিকা ক্ষ্যাপা কুত্তার মত আজ ভেনেজুয়েলার পা ধরিতে গেছে, কাল ইরানকে বাপ বলে ডেকে তাকেও লোভ দেখাবে, শেষ পা ধরবে। সৌদির সামনেও সাষ্টাঙ্গসিজদা করা সময়ের অপেক্ষা।
🔸ওদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সিরিয়া ও ইরাক থেকে কুর্দিশ সৈন্যরা রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে চলেছে। বস্তুত, ভাড়াটে সৈন্য হিসাবে কুর্দিদের কয়েক হাজার বছরের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য রয়েছে। এটা ন্যাটোর কাছে যে কতটা ভীতিকর তা গত ১০ বছরে শিরায় শিরায় টের পেয়েছে।
🔸বর্তমানে রাশিয়ার সৌজন্যে ইউরোপের অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র দিয়ে চলমান পশ্চিমা শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধটা মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপে এনে ফেলার মাঝে কি যে বিরাট নৈতিক জয় রয়েছে, তা জনান্তিক মাত্রই জানে। এটাই রাশিয়ার সাফল্য।
🔸গত ২০২২ জানুয়ারিতে কাজাখস্তানে মার্কিন ও ন্যাটোর ষড়যন্ত্রে সরকারের বিরুদ্ধে একটা অভ্যুত্থান ঘটে, সেটাকে চীন ও রাশিয়ার সহযোগে কঠোরভাবে ফমন করে কাজাখস্তান। ঠিক যেমন তুরস্কে অভ্যুত্থান ঘটানো হয়েছিল তৎকালীন মার্কিন বিদেশসচীব বাইডেনের নেতৃত্বে।
🔸ন্যাটোর অবস্থা- শ্যাম রাখি না কুল রাখি! এগোলে সর্বনাশ আর পিছোলে নির্বংশ। চীনের মদতপুষ্ট রাশিয়ার পুতিন এখন আক্ষরিকভাবেই শাঁখের করাত।

🟢 সব শেষে পুতিনকে ধন্যবাদ- তার কল্যানে আজ ১৩ দিন বাজার থেকে করোনা গায়েব হয়ে গেছে। মিডিয়া আজকাল যুদ্ধ নিয়ে ব্যাস্ত, করোনার ছানাপোনারাও টিভির সামনে বসে যুদ্ধের আপডেট নিতে ব্যস্ত।
বস্তুত- করোনাও যে ৮০% পশ্চিমা মিডিয়াশক্তির দ্বারা পরিচালিত একটা চক্রান্ত তা আজ দিনের মত পরিষ্কার। করোনা পুঁজিবাদী বিশ্বের অর্থনৈতিক রোগ, গরীব খেটে খাওয়া মানুষের কখনই করোনা ছিলনা, আজও নেই। আর যুদ্ধের বাজারে প্ল্যানডেমিক বিষয়টাই অপ্রাসঙ্গিক ও হাস্যকর হয়ে গেছে।
তাহলে- নজর থাকুক চলমান ঘটনাপ্রবাহের উপর।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...