শুক্রবার, ১১ জুলাই, ২০১৪

উন্মাদ নামা ~ ১৪

ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাসের জন্য কেবল ভক্তি আর শ্রদ্ধা ই যথেষ্ট।


কিন্তু অবিশ্বাস করতে হলে প্রচুর পড়াশোনা আর জ্ঞানের প্রয়োজন।

সোমবার, ৭ জুলাই, ২০১৪

বালখিল্যতা

ছোট বেলার ঘটনা।

বিচিত্র ইচ্ছা আমাদের অনেকের ই থাকে। আমার সেকেন্ডারি স্কুলের সময়কার ঘটনা, বাবা মাত্র ৫০ পয়সা বরাদ্দ দিতেন, সারাদিনে, স্কুলে যাবার সময়। এখন বিড়ির নেশা থাকার দরুন, জমা তো দুরস্থান, উল্টে প্রচুর ধার থাকতো, যেগুলো উৎসবের মরসুমে পাওয়া ভেট থেকে শোধ করতাম। এক ভদ্রলোক যাকে আমরা সকলেই দাদা বলতাম। তাকে নিয়েই ঘটনা।

তাকে তো আমি সহ আমার বন্ধুমহলের প্রায় সকলেই জাতিশত্রু করে রেখেছিলাম। এই মাস ছয়েক আগে হঠাৎ দেখা, প্রায় ১৬ বছর পর। একটা হোটেলে খেতে গিয়ে। উনি চিনতে পারেন নি সেটাই স্বাভাবিক। আমি কাছে গেলাম, একটু হাসলাম। জড়িয়ে ধরলাম। বললো ওনার একমাত্র ছেলে নাকি বিদেশে কাজ করতে গিয়ে নাকি আর ফেরেনি। বেঁচে আছে কিনা তাও জানেন না।

বেচারা একটু হতভম্বময় অপ্রস্তুত অবস্থা, বয়স প্রায় ৬০ এর উপর। গরীব, হোটেলের থালাবাসন ধোয় বোধহয়। আমি যথাসাধ্য সাহায্যের প্রতিশ্রুতি সহ, কিছু নগদ ওনার হাতে দিয়ে এলাম।

আমার সাথের বন্ধু টি তো আকাশ থেকে পরলো, যে আমার হলো কি। অচেনা লোককে এভাবে...............

তখন ওকে বলিলাম:---
ইনি হলেন নারাণ দা, আমার বাবার ক্লাসমেট ছিলেন। আমার ভালোবাসা টা ওই জন্য নয়। আসলে আমি বহুদিন ওনাকে বাবা হিসাবে কামনা করেছি। এবং বড় হয়ে ওনার মত হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সেটা তো আর উনি জানতেন না। তাই আমার মনের এই স্পেশাল ইচ্ছার জন্য, কোন স্পেশাল খাতির ও পেতাম না। সেখান থেকেই রাগের সুত্রপাত।

-আমার বন্ধু টি বললো, তো ওনার সাথে তোর সম্পর্ক কি??

-আমি বললাম, ইনি আমাদের স্কুলের সামনে আলুকাবলি, ছোলা বারোভাজা, আচার, পেয়ারা, কামরাঙা, কয়েতবেল ইত্যাদি বিক্রি করতেন। ওনার একমাত্র ছেলে পরেশ ও আমাদের সাথেই পড়তো। টিফিনের সময় বা ছুটির সময়, ওনার ছেলে ওনাকে হেল্প করতো।

আমার পকেট তখন এমনিতেই গড়ের মাঠ। আমার বন্ধুদের ও তথৈবচ অবস্থা। ওই চটকা খাবার লোভ হতো। মাঝেমাঝে ফ্রি খাওয়াতেন অনেককেই। আবার ধারও দিতেন। সেটা আমি অধিকার ভেবে নিয়েছিলাম। কিন্তু রোজ রোজ দেবেন কেন, আর ধার ই বা দেবেন কেন?? তাছারা ধারের কারবারে শোধ বলেও একটা চ্যাপ্টার আছে, আমি তো সেটা মানতাম না। রোজ ফ্রি তো দুরস্থান। তখন এখানে মানুষের অভাব টা একটু বেশিই ছিল। সেই থেকেই আমার রাগের সুত্রপাত।

বহুবার ঈশ্বরের কাছে জবাবদিহি চেয়েছিলাম, যে ইনা কেই কেন আমার বাবা বানাওনি। কমপক্ষে ওই হেল্পারি করার ফাঁকে রোজ ও গুলো চাখতে তো পারতাম।ওনার ছেলের মত।

শেষে ওতে ফেল হয়ে, সিদ্ধান্তি নিয়ে ফেলেছিলাম। যে বড় হয়ে যদি কিছু হতেই, তো এই স্কুলের সামনে এই রকম একটা স্টল ঈ দেব। বিক্রিবাটা যা হলো হলো। বাকিটা আমিই খাবো। নিজের দোকান তো। সুতরাং পয়সা সেবার ঝামেলা টা থাকবে না।

সেই রাগ। আর রাগ থেকে শত্রু। শেষে তো স্কুলের পিছন গেট গিয়ে যাতায়াত করতাম, তখন ক্লাস সেভেন। তার পর হঠাৎ এই ভদ্রলোক গায়েব। খুব আনন্দ হয়েছিল, যে ব্যাটা ফ্রি দিবি না?? যাহ তোর দোকানটাই উঠে গেলো।

এখন বুঝি, ওনার ফ্রি খায়ানোর চোটে আর ধার শোধ না হিবার কারনে, পুঁজিতে টান পরেছিল, হয়তো অন্য বিকল্প কিছুর পেশা নিয়েছিলেন। বাকিটা আর জানি না। ছেলের পড়াশোনার পাসাপাসি সংসার চালানোর ও খরচ বাড়ছিলো। ক্লাস এইট থেকে নতুন দোকানদার বসতে শুরু করলো।

আমিও বাবার ব্যাবসার পার্টটাইম হেল্পার হয়ে যাওয়াতে, পকেটের টান তো ছিলোই না, উপরন্ত একটা পঞ্চাশ টাকার নোট সকল সময় পেনসিলের বাক্সে থাকতো।

সুতরাং এই নারাণ দা ই, আমার ব্যাবসায়িক জীবনের গুরু, যাকে দেখে নিজে কিছু ব্যাবসা করবো ভাবনা টা মাথায় এসেছিল।

আজকের দিনে নিছক মজার শোনাবে। কিন্তু সেদিনের ওই ১১-১২ বছরের ছেলের স্বপ্ন টাই আজকে ওই মানুষটিকে বুকে টেনে নিয়েছে। সময় চলে যায়, ওই সেইদিনকার হাসিমুখের নারান দার মুখটাকে মনে পরলেই, মনটা খুব নষ্টালজিক হয়ে যায়।

ভালো থেকো নারান দা।

রবিবার, ২৯ জুন, ২০১৪

মোমবাতির ঠিকানা


স্লিভলেস সমাজসেবিকাদের বাড়িতে ও ভ্যানিটি ব্যাগে ও যত্রতত্র মোমবাত্তি পাওয়া যায়।


স্বয়ংসম্পূর্ন নারীয়ায়নের অন্যতম হাতিয়ার, মোমবাত্তি। জাদুদণ্ড বা ইঞ্জিরিতে জয়স্টিক।

শনিবার, ২১ জুন, ২০১৪

সময়চর্চা - ৩


সময় চর্চা 
তৃতীয় খন্ড 

কে কথা দেয় আর কে কথা রাখে?

এই বিচিত্র ট্যালিপ্যেথির জন্যই সংসদে দিদির গুনর্কীতন,

ফলাফল- হিরো হিরন (!)



আচ্ছে দিন আ আ গায়ে হ্যায়....

নেতা কি কম পরিয়াছে??


যাই হোক, বুলেটট্রেন আসার আগেই ডেমো হিসাবে তার ভাড়া উপস্থিত। একে সদা আনন্দ, তার উপরে গৌড়, প্রেমের সাগর, ভাবখানা যেন " ভর্তুকি বাবু " কে কন্যাদায় থেকে মুক্তিদানের কসম খেয়েছেন। সুতরাং ২য়ে ২ য়ে পাঁচ।
সস্তিকা মুখার্জী, বিচিত্র রকমের সমাজসেবি। যদিও উনি সু-মনের ও অধিকারিণী, তা ক্রমশ প্রকাশ্য হল, বেচারা স্ত্রী, থানাতেও গেলেন ছারাতে, টিপিকাল ভারতীয় নারী।

এতে করে সুদিন অর্নবের, চান্স অএ ডান্স। প্রতিবাদ কাহারে কয়?? অর্পিতা - প্রসেনজিৎ? না ব্রাত্য বসু? একবারে ঝোপবুঝে কোপ। আমাদের ছেলেবেলার স্বপ্ন:- পড়াশোনা থেকে ছুটি দিয়ে, বেড়াতে পাঠানো। আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাশে.... ব্যাথা - অজুহাত - ব্রাত্য :)। 

প্রতিবাদ - নাচনি - ঝিঙ্কু - মীর........


ইলেক্ট্রনিক কমপ্লেক্স থানা.... ১০২ নং কেস, আমি আবার সমন পাবো না তো...??


ভাঙ্গাগড়া, মানে আগে ভাঙ্গো, পারলে গড়ো না পারলে ওই অবস্থায় ছেড়ে দাও, কিন্তু ভাঙ্গতেই হবে। তৃতীয় পান্ডব, মানে অর্জুন মানে পার্থ ( মুকুল - ও মদনের পর) শিল্পে ডিনামাইট সেট করে শিক্ষায় প্রবেশ। যদিও ভাঙার কিছু নেই, ত্রি-শঙ্কু দের নিশ্চয় গড়ে দিয়ে, শিক্ষাকে গড়ের মাঠে ঘোড়ার নাদের মধ্যে কবর দেবেন।

সুদিন আমারও, IPL শেষ তো কি? FIFA World Cup হাজির, সাথে ফ্রিতে রাত জাগা, যদিও বউ বলেছে, রাত ঘুমের নাকি দুর্দিন চলছে। তা চলুক (!), পতির পুন্যেই যে সতীর পুন্য...

সারাবছর বিশ্ব ফুটবলের শুধু মাত্র ছবিই দেখি, নেইমার - মেসি - রোনাল্ডো, আর্টিকেলের ৯০ শতাংশ ঈ পড়িনা কিন্তু বিশ্বকাপের সিজিন এলেই যেন "বাপ- মা" মড়া দায়, রাত হোক বা দিন, দেখতে তোমাই হবেই, 

বেচারা ব্রাত্য, অন্তত গোয়ার মন্ত্রী হলে সরকারি খরছে ব্রাজিলটা ঘোরা যেত। সবাই সুমন দে ও নয় আর সবার ABP আনন্দ ও নেই, তবে জাপানি তেল আছে, সোনি আট চ্যেনেলে দেখছি যে... 


সামনের বিশ্বকাপে রাশিয়ায়, ফ্রিতে নীল সাদা জার্সির খেলা দেখতে, রাজ্যপালের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠিত হল বলে, সঙ্গে দেব হিরন শঙ্কু ঝিঙ্কু.. আর কি চাই??


প্রথা ভেঙে ভুটান তালি বাজাচ্ছে, দিলমা রুফেজ ফাইনালে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে, ভারতীয় কমিউনিস্ট পাটি (মম -তাবাদি), নবান্নে ছাপান্ন ভোগের মুলো নিয়ে, পাকা চুলে কলপ লাগাচ্ছে, যদিও তা গোবর। গৈরিক অভিনন্দন ছিল এখন নাকি সন্ত্রাস ও হয়। নীল সাদা কাপরের সাধুদের কোলকাতা শহরতলি তে সাড়ে ৩ শতক করে বিনামুল্যে জমি দান, কোথা থেকে আবার, মুস্কিল আসান - বন্ধ চটকল... আরো কত কি..।

কোলিকাতা কে লন্ডন বানাতে সর্বপ্রথম একজন "রানী " দরকার, মেজাজের উপর বিচার করে একজনইমাত্র যোগ্য,  তবে আমৃত্যু না হলে খেলব না।

আজকাল মা সিরিয়াল ছেড়ে " পাড়ুই " সিরিয়াল টা দেখছি, সাথে " চিট ইডি সিবি আই ", এক্কে বারে একতা কাপুর স্টাইল, ভ্রু কোঁচকালেন কেন?? ডোকোমো কেন? কাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন? হৃদয়ের ডিগবাজির অপেক্ষায় দিনগুনি, সাথে সাথী কেষ্ট।

চক্রান্ত?? সেও আছে বহাল তবিয়তে, রোদ নেই কিন্তু চটচটে ঘাম, পুরো চক্রান্ত।

রুদ্র রোষে আমরা তো দেশদ্রোহী,। ৬৪ তে বাংলাদেশ অল আউটের নো সেলিব্রেশন। এক দিক থেকে এই মাসে তা ভালোই। স্পেন আর ইংল্যান্ড এর দু:খে ৪দিন হোব্যিশি, আর ব্রাজিল - আর্জেন্টিনারর জয়ে রাত ৩ টেয় একটু হালকা ঢুকুঢুকু, আরে নাহ না, চুল্লু নয়, ফরেন...

এর পর কি, সামনে তো কোন ইস্যুঈ নেই.....


..................চলবে

শুক্রবার, ১৩ জুন, ২০১৪

রিপোর্টার উন্মাদ- ৭

আমার নিজস্ব সংবাদদাতার খবর অনুযায়ী বিশ্লেষণ



রিপোর্টারঃ হবু (মাতাল) সেখ।

পরমবীর চক্র হিন্দুহৃদয় সম্রাট রাজাধিরাজ শ্রী শ্রী নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদীর থেকে, নাকি মুসলিম দরদী নাকি দেশে আর নেই। জয় নুরু বাবা কি।
আরে নুরুবাবা পার করেগা।
দাঙ্গা হাঙ্গামা, বাতেলা আতেলা, যেখানে ঠেকে যাইবে, আমাকে স্মরন করিও, ঝাড়িবাজি আপনে আপই এসে যাবে।
আরে নুরুবাবা পার করেগা।
(এটা মাল খেয়ে, লাল চোখে রিপোর্টিং)
দেখ ভায়া, কুরবানির ঠিক আগে, গোমাতা গোমাতা করে যদি এই হুজুক টা না তুলতো, এতো কি লুকোচুরি হতো? গরু জবাই নিয়ে।
লুকিয়ে চুরিয়ে জবাই করতে গিয়ে বিক্রিবাটা কমে গেলো, এমনিতেই ৪-৫ টা রাজ্যে গোমাংস বিক্রি বন্ধ। অতিরিক্ত গরু কোথায় যাবে?? সব মাল কমদামে ঝেরে দিলো। আরে ৩০ হাজারের গরু ১৬ হাজারে কিনেছি। বিক্রি করতেই হবে উপাই নাই। কারন বাংলাদেশ ও বন্ধ।
নরেন খান। আসলি পায়গম্বর।
(এটা সাদা চোখে, তবে বাবা খেয়েছিলো কিনা গ্যারান্টি দিতে পারবো না)
ভেবে দেখলাম, সত্যিই তো, শেষ নবী এসে গেছে তাই, সাক্ষাৎ পয়গম্বর ই বটে। আরব যাচ্ছে। মন্দিরের ঈশ্যু নিয়ে ভোট করছে, কিন্তু মন্দির করছে না। গরু সস্তা করছে। আরো কতকি।
জয় নরেন্দ্র মোদি খান।

রবিবার, ৮ জুন, ২০১৪

উন্মাদ নামা ~ ১৩


রসরঙ্গ : একটি ঋণগ্রস্ত জাতির সং সম্ভর্ধন


একটা ন্যাক্ক্যার জনক সামাজিক পাপ কার্য যখন সমবেত ভাবে উদযাপিত হয়, তখন তা কি শুধু আর পাপ কথাটির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে??


শেষের বেশ কিছু বছর ধরেই এই অনাচার বা সামাজিক অবক্ষয় দ্রুত গতিতে বহমান। যার পুরোধায় সমাজের কতিপয় নেতৃ স্থানীয় ব্যাক্তিত্ব।


বিরক্তের মাত্রা তখন আরো চরমে উঠে, যখন দেখি, অতিথযশা বেশকিছু ব্যাক্তি, বিশেষ কাওকে  চামচান্যায় পরিবেষ্টিত করে রেখে, পরিবেশ আরো দূষিত করে তোলে। এক এক সময় মনে হয় খাঁমচে নিজের চামরাই তুলে ফেলি। পারিনা। 



কারন আমরা কাপুরুষ না হলেও বীরপুরুষ মোটেই নই যে।



ভবিষ্যতের আয়নায় এনারা নিজেদের দেখলে যে লজ্জিত হবেন, সে দু:রাশা করা অতি বড় মূর্খের ও সাহস হবেনা।

ইতিহাসের নিজস্ব একটা ঘরানা আছে। সে কালের গহ্বরে প্রতেকেই সমানভাবে স্থান দেয়। এনারাও স্থান পাবেন, আমাদের যুগের সংস্কৃতি কতটা উচ্চাঙ্গের ছিল, এই তামাসা গুলো না থাকলে, ভবিষ্যতের হয়ত সঠিক মুল্যায়ন করতে বেগ পেতে হত। 


ঘটনাচক্রে সমৃদ্ধ ভবিষ্য-ইতিহাসের জন্য মুল্য টা আমাদের দুর্বিসহ দৈনন্দিন জীবনের বিনিময়ে লব্ধ। কালের চক্রে প্রতেকেই চলনশীল ও বিলিয়মান, আজ যা সত্যি কাল তাহাই ইতিহাস।



আশা একটাই ** সুর্য মধ্যগগনে যেরকমভাবে সত্যি, সুর্য আস্ত যাবে তাহাও একই রকমভাবে সত্যিই। *



শুক্রবার, ৩০ মে, ২০১৪

সময় চর্চা ~ ১




সময় চর্চা 

প্রথম খন্ড

কদিন ধরেই মনটা বেশ খারাপ, দিন দিন সেটা আরো তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। 




আসলে আমরা প্রতেকেই কিছু না কিছু বিষয়ের সাথে জুরে বা জরিয়ে থাকতে ভালোবাসি।


ভোট শুরু হবে শুরু হবে করে ২০ দিন কাটলো, দিন ঘোষনার উৎকন্ঠা শেষ হতে না হতেই চারিদিকেতে সাজসাজ রব, প্রচার প্রচার আর প্রচার। লাল সবুজ হলুদ গেরুয়া আরো কত রঙ। দেশপ্রেমী থেকে দেশদ্রোহী প্রতেকেই ভীষণ ভাবে ব্যাস্ত হয়ে পরল।তর্ক, তর্কের পিঠে তর্ক, আক্রমন প্রতি আক্রমন, প্রতিশ্রুতিপত্র, থেকে হিংসা।



রক্তপাতযুক্ত অথচ মৃত্যুবিহীন, সেই দিন প্রবল ভাবে উপস্থিত হল, একটা লুকানো ভয়ের পরিবেশের সাথে নিয়ে। আমরা যথারিতি সমোৎসাহে উৎযাপন করলাম, আরো একটা সরকারি ছুটির দিন, দুপুরে ভাত ঘুম, টিভি তে লাইভ ভায়োলেন্স,। কম্পলিট প্যাকেজ।


ভোটদিয়ে বাড়ি ফিরে শুরু অনন্ত প্রতিক্ষা, আবকি বার কে??? বাম না রাম?? দিদি না দাদা?? ইত্যাদি ইত্যাদি। এর ঈ মাঝে ভোর থেকে শেষ রাত পর্যন্ত ফেসবুক টুইটার ব্লগ ইত্যাদিতে বিপ্লবের বমনক্রিয়া। ঘামাচির ন্যায় পোষ্ট বপন, ভার্চুয়াল জীবনের অন্যতম শর্ত, " লাইক " বোতামে ধাক্কা। ফি সন্ধ্যে বৈদুতিন মাধ্যমে পরচর্চা পরনিন্দার চর্বিত চর্বণ, ঢকঢক করে গিলেছি। এর মাঝে বড় কোন হিন্দি সিনেমা রিলিজ নেই। সুতরাং চাপ কম।

বেশ ছিলাম,

তার আরো কারন আছে।

আই পি এল -৭


...............চলবে

শুক্রবার, ২৩ মে, ২০১৪

আধুনিক পোষ্টমাস্টার ~ ৩


কবিপক্ষের অবসান হইয়াছে, উন্মাদীয় সাহিত্যচর্চার প্রত্যক্ষ পক্ষাঘাতের জন্য সুধী মাননীয়/মাননীয়া গন আপনারা হারেহারে জর্জরিত??? সামান্য প্রহসনের আশ্রয়ে , গুরুদেবের পোষ্টমাস্টারের চরিত্রটি আগেই মন্দ হইয়াছে, উন্মাদের পাল্লায় পড়িয়া...

আধুনিক পোষ্টমাস্টার 

রোগসেবা হইতে নিষ্কৃতি পাইয়া রতন দ্বারের বাহিরে আবার তাহার স্বস্থান অধিকার করিল। কিন্তু পূর্ববৎ আর তাহাকে ডাক পড়ে না; মাঝে মাঝে উঁকি মারিয়া দেখে, পোস্টমাস্টার অত্যন্ত অন্যমনস্কভাবে চৌকিতে বসিয়া অথবা খাটিয়ায় চিৎ হইয়া শুইয়া আছেন। এযাবৎ এক টানা বেশ কিছু দিন সেবা করিয়া রতনের মনের কোণেও যেন একটি গোপন অভিসারের জন্ম হইয়াছিলো। রতন চঞ্চলা, প্রগলভ, অস্থির চিত্ত, চপলমতি, নিত্যগতীশিল মননের অধিকারিণী সন্দেহ নাই, কিন্তু তাহারও বক্ষের বামপার্শে মর্ম বলিয়া একটি মাংস পিন্ড বর্তমান, যাহা কাম ব্যাতিরেকেও অন্য কিছুর সন্ধান দেয়, প্রনয়ের অনুরাগ তার হৃদেও দোলা দিয়ে যায়।

রতন যখন দ্বারের বাহিরে আহ্বান প্রত্যাশা করিয়া বসিয়া আছে, তিনি তখন অধীরচিত্তে তাঁহার তরঙ্গায়িত দরখাস্তের উত্তর প্রতীক্ষা করিতেছেন। যুবতী কন্যা দ্বারের অভ্যন্তরে আসিয়া পরিগনক যন্ত্র টিকে চালু করিয়া, খটাং খটাং স্তনন সহকারে, পরিগনকের নিজস্ব বাকপ্রণালি সমূহ, বহুবার পরিমার্জন করার হেতু পোষ্ট মাষ্টারের দৃষ্টি আকর্ষনের চেষ্টা করিল। পোষ্টমাষ্টার এর হৃদয়ের স্মৃতিপটে নিজের একটি প্রশংসনীয় উৎকর্ষিসম্পন্ন চিত্র অঙ্কনের জন্য, পাছে যেদিন সহসা ডাক পড়িবে সেদিন তাহার অবিন্যস্ত বর্নসজ্জা ও পরিগনকের বাকেরা নির্বাক না হইয়া যায়। তাহার মধ্যে কি নারীস্বত্তার বিকাশ পূর্ন মাত্রায় ঘটে নাই!! সে কি সত্যিই কুৎসিত তথা কি চরিত্রের অধিকারিণী? তাহার মধ্যে কি কমনীয়তা নেই? তাহা হইলে যে সকল দয়িতের দল তাহার পিছনে, মুষ্ঠি যন্ত্রে, ঈশারায় পঙ্গপালের ন্যায় ক্রমাগত ধাওয়া করে চলেছে, তাহারা কি ধর্ষকামি মনের অধিকারী সকলে? না হলে এই বাবু টি কেন তাহাকে এতো কাছে পাইয়া ও এই রুপে নির্লিপ্ত থাকিতে পারে? ইহাতে রতনের মনে প্রবল শঙ্কার উদ্রেগ হইলো।

অবশেষে সপ্তাহখানেক পরে একদিন সন্ধ্যাবেলায় ডাক পড়িল। উদ্‌‌বেলিতহৃদয়ে রতন গৃহের মধ্যে প্রবেশ করিয়া বলিল, “দাদাবাবু, আমাকে ডাকছিলে? ”


পোস্টমাস্টার বলিলেন, “রতন, কালই আমি যাচ্ছি।”
রতন। কোথায় যাচ্ছ, দাদাবাবু।
পোস্টমাস্টার। বাড়ি যাচ্ছি।
রতন। আবার কবে আসবে।
পোস্টমাস্টার। আর আসব না।


রতন আর কোনো কথা জিজ্ঞাসা করিল না। পোস্টমাস্টার আপনিই তাহাকে বলিলেন, তিনি বদলির জন্য দরখাস্ত করিয়াছিলেন, নবান্ন তাহা নামঞ্জুর করিয়াছে; তাই তিনি কাজে জবাব দিয়া বাড়ি যাইতেছেন। অনেকক্ষণ আর কেহ কোনো কথা কহিল না। মিটমিট করিয়া জ্বলিত থাকা নিবিড় প্রতিপ্রভ বাতিটিও যেন রতন কে দ্বগ্ধ করিতে লাগিল এবং খোলা বাতায়ন দিয়ে দূরে কোথাও কোন এক রাজনৈতিক দলের সভাস্থল হইতে রোজ সন্ধ্যার মত উচ্চস্বরের প্রলাপ ভিন্ন নিশুতি যেন গ্রাস করিয়াছিলো।

কেননা এই সিঙ্গুর গ্রামটিতে কেবিল মাত্র পড়িয়া থাকিবার জন্য অনেক কিছুই আছে, ১০০০ বিঘা জমি সহ তাহার সুদীর্ঘ প্রাচীর। টাটা গোষ্ঠীর চতর্চক্রজানের কারখানার অবশিষ্ট কঙ্কাল সহ অনেক কিছু। পোষ্টমাস্টারের জীবন তো পাশ দিয়ে বয়ে চলা ঐ চতুর্গলি বিশিষ্ট পাকা রাস্তার ন্যায় হতে যায়, যাঁহার অবসান বলিয়া কোন শব্দবন্ধ থকিবে না, অবিরাম অবিরত ছুটে চলাই হবে যার জীবন। এই সিঙ্গুর তাহাকে নিঃসঙ্গ অবসন্নতা ভিন্ন কিছুই দেইনি। যদিও ইহা লইয়া তাহার তেমন কোন ক্ষোভ নাই, এই সিঙ্গুর আন্দোলনের ভারে আজ ক্লান্ত, আমাত্ব আজ শিক্ষকতা ছারিয়া ধীবরে পর্যবাসিত হইয়াছে, অবরোধ অনশনের প্রহসনে ঋদ্ধ আজ ৬০০-৪০০ এর দ্বন্দ্ব ভুলে রুজির সন্ধানে দিশেহারা।

ইহার কাছে তাই কোন কিছুর প্রত্যাশা করা নিতান্তই বাতুলতা, তাহা সম্বন্ধে পোস্টমাস্টার সথেষ্ট ওয়াকিবহাল। কিন্তু রতন? তাহার কাছে তো বিপুল প্রত্যাশা ছিলো, তাহার আবেগময় মনের সঙ্গিনী হিসাবে তো সে রতন কেই অঙ্কন করিয়াছিলো, তাহার মধ্যে তো কোনরূপ কুরুচিপূর্ন অমার্জিত কিছু ছিলো না, তাহা হইলে এতো নিরুত্তাপ কেন!! এই ভাবনা তাহারে ঘুণ পোকার ন্যায় কুরিয়া খাইতে লাগিল।

কিছুক্ষণ পরে রতন আস্তে আস্তে উঠিয়া রান্নঘরের হিমায়িত যন্ত্র হইতে ওবেলার বাসি ভক্ষ্যসামগ্রী গুলো উত্তাপ করনের জন্য উনুনের নিকট নিয়ে গেলো, শরীর ও অনেকটা এই রকম ই, যখন খুশি তাহাতে উত্তাপের সঞ্চারণ ঘটানো যায়, কিন্তু মন?? একটি দ্বীর্ঘশ্বাস ভিন্ন আর কোন আওয়াজ ই শোনা যাইলো না। অন্যদিনের মতো তেমন চট্পট্ হইল না। বোধ করি মধ্যে মধ্যে মাথায় আরো অনেক ভাবনা উদয় হইয়াছিল। পোস্টমাস্টারের আহার সমাপ্ত হইলে পর যুবতী তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিল, “দাদাবাবু, আমাকে তোমাদের বাড়ি নিয়ে যাবে?”

এই প্রশ্ন শুনিয়া পোস্টমাস্টারের তাহার মনের কোনে দলা পাকিয়ে থাকা অপূর্নতার বাষ্প যেন শ্বাস নালি অবরুদ্ধ করিবার উদ্যম করিতেছিলো। পোস্টমাস্টার তাচ্ছিল্যের হাসি, হাসিয়া কহিলেন, “সে কী করে হবে।” ব্যাপারটা যে কী কী কারণে অসম্ভব তাহা আর বুঝানো আবশ্যক বোধ করিলেন না। 


সমস্ত রাত্রি স্বপ্নে এবং জাগরণে যুবতীর কানে পোস্টমাস্টারের তাচ্ছিল্যভরা হাস্যধ্বনির কন্ঠস্বর বাজিতে লাগিল— ‘সে কী করে হবে’। জীবনে সে ও বহু সংগ্রামের সাক্ষী, জয় পরাজয়ের নানা লেখচিত্রে ভরা তার জীবন। কি আজিকের মত এত যন্ত্রনা বোধ হয় আগে কখনো সে অনুভব করেনি।


ভোরে উঠিয়া পোস্টমাস্টার দেখিলেন, তাঁহার স্নানের জল ঠিক আছে; কলিকাতার অভ্যাস-অনুসারে তিনি গগনচন্দ্রাতপে অবস্তিত আধারের জলে স্নান করিতেন। এই স্থানে সেই সুবিধা নাই, তাই তোলা জলেই প্রত্যত স্নানাকার্য সম্পন্ন করিত। কিন্তু কখন তিনি যাত্রা করিবেন সে কথা ওই যুবতী কী এক অজানা কারণে জিজ্ঞাসা করিতে পারে নাই; পাছে প্রাতঃকালে জলের আবশ্যক হয় এইজন্য রতন তত রাত্রেই সে পার্শবর্তী নলকূপ হইতে তাঁহার স্নানের জল তুলিয়া আনিয়াছিল। স্নান সমাপন হইলে রতনের ডাক পড়িল। 

রতন নিঃশব্দে গৃহে প্রবেশ করিল এবং আদেশপ্রতীক্ষায় একবার নীরবে প্রভুর মুখের দিকে চাহিল। কহিল দাদাবাবু আপনার মুষ্ঠিবার্তালাপ যন্ত্রের চিহ্নিতকরণ অঙ্ক টি কহিবেন? আমি আপনার জন্য অন্তর্জাল হইতে আপনার যাত্রাপথের রেল অংশের নিদর্শন পত্র টি সংগ্রহ করিতে সক্ষম হইয়াছি, আপনার শিক্ষায় শিক্ষিত হইয়া, এখন যদি আজ্ঞা করিয়া আপনি আমার নিকট হইতে এই বার্তা টি আপনার যন্ত্রে প্রেরণ করিতে সক্ষম হই, তাহা হইলে আমি অত্যন্ত পরিতুষ্ট হইবো। পোস্টমাস্টার যত না বেশী আনন্দিত হইল, তাহার থেকেও অনেক বেশী বিস্মিত হইল। ইহা কি অস্ফুট প্রেমের বহিঃপ্রকাশ না কি তাহার উপস্থিতি চরম ভাবে উপেক্ষা!

পোষ্ট কহিলেন, “রতন, আমার জায়গায় যে লোকটি আসবেন তাঁকে বলে দিয়ে যাব, তিনি তোকে আমারই মতন যত্ন করবেন; আমি যাচ্ছি বলে তোকে কিছু ভাবতে হবে না। আগামিতে এস্থান মুদ্রালেনদেনের প্রতিষ্ঠান হইবে, তোর চাকুরিও পাকা হইয়া যাইবে, ভালো বেতন পাইবি ” এই কথাগুলি যে অত্যন্ত স্নেহগর্ভ এবং দয়ার্দ্র হৃদয় হইতে উত্থিত সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নাই, কিন্তু নারীহৃদয় কে বুঝিবে। রতন অনেকদিন প্রভুর অনেক তিরস্কার নীরবে সহ্য করিয়াছে কিন্তু এই নরম কথা সহিতে পারিল না।

একেবারে উচ্ছ্বসিত হৃদয়ে কাঁদিয়া উঠিয়া কহিল, “না না, তোমার কাউকে কিছু বলতে হবে না, আমি থাকতে চাই নে।”


পোস্টমাস্টার রতনের এরূপ ব্যবহার কখনো দেখেন নাই, তাই অবাক হইয়া রহিলেন।



ক্রমশ.....

একটি সম্পূর্ন উন্মাদীয় ভাবনার ফসল
****************************************
(নিজ দায়িত্বে পাঠ করিয়া মর্ম্নদ্ধার করিবেন, কারন ইহার বানান বিধিও উন্মাদীয়)

শুক্রবার, ১৬ মে, ২০১৪

আধুনিক পোষ্টমাস্টার ~ ১

কবিপক্ষের পূন্যলগ্ন চলিতেছে, উন্মাদীয় সাহিত্যচর্চার প্রত্যক্ষ পক্ষাঘাতের জন্য কি মাননীয়/মাননীয়া গন প্রস্তুত??? সামান্য প্রহসনের আশ্রয়ে , আজ উন্মাদের পাল্লায় পড়িয়া, গুরুদেবের অঙ্কিত কিছু চরিত্র মন্দ হইল, ...
একটি সম্পূর্ন উন্মাদীয় ভাবনার ফসল


আধুনিক পোষ্ট মাষ্টার 



প্রথম কিস্তি

প্রথম কাজ আরম্ভ করিয়াই সিঙ্গুর গ্রামে পোস্টমাস্টারকে আসিতে হয়। গ্রামটি অতি সামান্য। কিছুকাল পূর্বে যদি টাটা দের বিতারিত না হইতে হইতো, তাহলে বলা যায় না, এখন আর এ গ্রাম অদৌ গ্রাম থাকিত কি না। নিকটে একটিই নতুন কৃষকমান্ডি গজাইয়াছে, তাই উন্নয়নের স্বার্থে রবিবাবুর কৃপায় ও ও উনার অনুপ্রেরনায়, বহু কষ্ট করিয়া এই পোস্টআপিস টি বন্ধের হাত থেকে রক্ষা করা গিয়াছে, সুতরাং কৃষক মান্ডির অভ্যন্তরেই আপাতত ঠিকানা।

আমাদের পোস্টমাস্টার কলিকাতার ছেলে। জলের মাছকে ডাঙায় তুলিলে যেরকম হয়, এই শহীদের পূন্যভুমি তথা বিশ্ববাঙলা গ্রামের মধ্যে আসিয়া পোস্টমাস্টারেরও সেই দশা উপস্থিত হইয়াছে। একখানি শিলাপ্রেথিত অর্ধসমাপ্ত কৃষকমান্ডির পলেস্তারা বিহীন ঘরের মধ্যে তাঁহার দপ্তর; অদূরে একটি “পার্টি অফিস” এবং তাহার চারি ধারে বিশেষ গোত্রের পুষ্পরাজি শোভিত নিশান পতপত করিয়া অহঙ্কারের প্রামানই দিতেছে। পিছনে অবশিষ্ট স্ফটিক নির্মিত সুরা পাত্রের ধ্বংস স্তুপ। পার্টি অফিসে সে সকল ক্ষুদ্র বৃহৎ, কুচো প্রভৃতি যে-সকল নেতৃবৃন্দ আছেন, তাহাদের ফুরসত প্রায় নাই এবং তাহারা ভদ্রলোকের সহিত মিশিবার উপযুক্তও মনে করেন না, কারন উনি এ অঞ্চলে ভোটাধিকার প্রদানের অধিকারী নন।

বিশেষত কলিকাতার ছেলে ভালো করিয়া মিশিতে জানে না, যেটুকু যোগাযোগ, কেবল মাত্র অন্তর্জালেই সীমাবদ্ধ, অথবা মস্তকশ্রবণ যন্ত্র কর্ণকুহরে লইয়া সংগীতের আস্বাদন। অপরিচিত স্থানে গেলে, হয় উদ্ধত নয় অপ্রতিভ হইয়া থাকে। এই কারণে স্থানীয় লোকের সহিত তাহার মেলামেশা হইয়া উঠে না। অথচ হাতে কাজ অধিক নাই। কখনো কখনো দুটো-একটা কবিতা লিখিতে চেষ্টা করেন, মুখপুস্তকে। এখানে অন্তর্জালের “দ্বিতীয় প্রজন্মের” গতি ও অত্যান্ত মন্থর। সমস্ত দিন মুখপুস্তকে প্রজ্ঞাপনের কম্পন এবং “ভিক্টোরিয়ার গোপন দেবীদের ” দেখিয়া জীবন বড়ো সুখে কাটিয়া যায়— কিন্তু অন্তর্যামী জানেন, যদি সানি লিওনের মতো কোনো উষ্ণবালিকা আসিয়া এক রাত্রের মধ্যে এই যাবতীর গোপনীয়তার সমস্ত লতাবিতানগুলা কাটিয়া চক্ষুতে রঙ্গিন কাজল পরাইয়া দেয় এবং “ও বেবি ডল ম্য সোনে দি” বলিয়া দ্বার রুদ্ধ করিয়া রাখে, তাহা হইলে এই আধমরা ভদ্রসন্তানটি পুনশ্চ নবজীবন লাভ করিতে পারে।

পোস্টমাস্টারের বেতন অতি সামান্য, পূর্বে কিছুদিন “শ্যামল নাগরিক স্বেচ্ছাসেবক” এর দ্বায়িত্ব পালন করিয়াছিলো। আজিকাল কেউ ই আর তেমন কাগজে কলমে চিঠিপত্র লেখালাখি করে না। তবুও ভবিষ্যতে আর্থনৈতিক লেনদেনের প্রতিষ্ঠান হইলে, বেতনের কিছু সুরাহা হইবে এই আশায় এই চাকুরিতে বহাল হইয়াছে।

মুষ্ঠিবার্তালাপ যন্ত্রের পূনর্জীবন, অন্তর্জালীয় মোড়ক, ধুম্রপান, দুর্গন্ধবিতারনকারক ইত্যাদি সহ, সপ্তাহয়ান্তে একবার বহুবিধ গৃহে  একা একা নৈশকালিন বিলাতী ছবি দেখার রোজগার টুকু হইলেই হইলো। দুপুরে নিজে রাঁধিয়া খাইতে হয়, সকালে ভূট্টার পরত ও রাত্রে ম্যাগি বানাইয়া খাইয়া থাকে। গ্রামের একটি পিতৃমাতৃহীন চপলা বালিকা তাহার কাজকর্ম করিয়া দেয়, আধুনিক কেতার বিলিতি গান শুনতে পাওয়ার লোভ আর, দ্বিপ্রহরে পোষ্ট মাস্টারের বাড়িতে স্টারজলসা বা জি-বাঙলা দেখিতে পাইবার সুযোগ, কোনরূপ পিছুটান ব্যাতিরেকে। মেয়েটির নাম রতন। বয়স উনিশ-কুড়ি।

বিবাহের বিশেষ সম্ভাবনা দেখা যায় না। সারাদিন কাজের ফাঁকে, অন্তত ছয় সাতটি পুরুষ মানুষের সহিত মুষ্ঠিবার্তালাপ যন্ত্রে সদা প্রেমালাপ করিতে থাকে।

সন্ধ্যার সময় যখন স্টারজলসা হইতে দিদি নাম্বার ওয়ান এর শীর্ষসঙ্গীত বাজিয়া উঠিত, পাখিকে দেখিবে বলিয়া গ্রামের সকল রমণীকুল, হেঁসেলের কর্ম দ্রুত গুছাইয়া লইতো , দূরে গ্রামের পার্টির দাদাদের দল “ডিজে-ব্যাঞ্জো” বাজাইয়া উচ্চৈঃস্বরে গান জুড়িয়া দিত— যখন ৫ ওয়াটের পিএল এর আধো অন্ধকার দাওয়ায় একলা বসিয়া কোন পূর্নযৌবনা রমনীকে, মুষ্ঠিবার্তালাপ যন্ত্রে তীব্র উষ্ণ বার্তালাপ শুনিলে কবিহৃদয়েও ঈষৎ হৃৎকম্প উপস্থিত হইত, তখন ঘরের কোণে একটি এন্ড্রোয়েড মোবাইলের স্ক্রিন জ্বালিয়া পোস্টমাস্টার ডাকিতেন 'রতন' ।

রতন দ্বারের আড়ালে বসিয়াই মুষ্ঠিবার্তালাপ যন্ত্রে প্রেমালাপ করিতে থাকিত কিন্তু এক ডাকেই ঘরে আসিত না- বলিত,
- “কী গা বাবু, কেন ডাকছ।”
পোস্টমাস্টার- তুই কী করছিস।
রতন। (দ্রুততার সাথে মুষ্ঠিবার্তালাপ যন্ত্র লুকাইতে লুকাইতে)—এখনই আপনার কফি টা বানাইতে যেতে হবে ___ হেঁশেলের—
পোস্টমাস্টার। তোর হেঁশেলের কাজ পরে হবে এখন— এক প্যাকেট বাদাম আর এক বোতল শীতল পানীয় আনিয়া দে তো।

অনতিবিলম্বে ঝোলা দোলাইয়া অতিরিক্ত একটি “কুরকুরের” থলি সহ রতনের প্রবেশ। হাত হইতে সকল বস্তু কটা লইয়া লইয়া পোস্টমাস্টার ফস্‌ করিয়া জিজ্ঞাসা করেন,
- “আচ্ছা রতন, তোর প্রেমের কথা কইতে ইচ্ছে করে না ? ”

- সে অনেক কথা; কতক মনে পড়ে, কতক মনে পড়ে না। পাড়ার ছেলেদের চেয়ে বেপাড়ার ছোকড়ারাই তাহাকে বেশি ভালোবাসিত, দুলে পাড়ার ষষ্টিকে অল্প অল্প মনে আছে। পরিশ্রম করিয়া যাহাকিছু রোজগার করিত সন্ধ্যাবেলায় আমার ঘরে আসিইয়া সকই ই দিয়া যাইতো, তাহারই মধ্যে দৈবাৎ দুটি-একটি সন্ধ্যা তাহার মনে পরিষ্কার ছবির মতো অঙ্কিত আছে। এই কথা হইতে হইতে ক্রমে রতন পোস্টমাস্টারের পায়ের কাছে মাটির উপর বসিয়া পড়িত। মনে পড়িত, তাহার একটি শিশুপ্রেম ছিল— বহু পূর্বেকার বর্ষার দিনে একদিন একটা ডোবার ধারে দুইজনে মিলিয়া গাছের ভাঙা ডালকে ছিপ করিয়া মিছামিছি মাছধরা খেলা করিয়াছিল, দু এক বার আরো অন্য কিছু প্রাপ্তবয়স্ক ক্রীড়া ও খেলিয়াছিলো— অনেক গুরুতর ঘটনার চেয়ে সেই কথাটাই তাহার মনে বেশি উদয় হইত।

এইরূপ কথাপ্রসঙ্গে মাঝে মাঝে বেশি রাত হইয়া যাইত, তখন আলস্যক্রমে পোস্টমাস্টার শুধু পানাহার করিয়াই সন্তুষ্ট থাকিত। রতন সকালের বাসী ব্যঞ্জন গুলা হিমায়ক যন্ত্রের অভ্যন্তরে ভরিয়া, নির্মেদ শরীর রক্ষার্তে সামান্য “লবন শর্করা” পান করিয়া, পুনরায় মুষ্ঠিবার্তালাপ যন্ত্রে মন নিবিষ্ট করিত। এভাবেই উভয়ের দিবারাত্রের নির্ঘন্ট চলিয়া যাইত।

.........ক্রমশ

****************************************
(নিজ দায়িত্বে পাঠ করিয়া মর্ম্নদ্ধার করিবেন, কারন ইহার বানান বিধিও উন্মাদীয়)
####################################################

মঙ্গলবার, ১৩ মে, ২০১৪

ব্লাইন্ড ডেট



নখগুলোর প্রান্ত ঘষে নিয়ে হালকা নেলপালিশ দিয়েই, বৌদিকে হাঁক

- কিরে, চেল্লাছিস কেন!

- দাও না বৌদি, ভ্রুটা একটু সাইজ করে। এখন পার্লারে গেলে, বাবা, দাদা কেও পুজোর সময় পয়সা দেবেনা

- তা, যাওয়াটা কোথায় হবে শুনি?

- প্লিজ বৌদি, একটু বোঝার চেষ্টা করো, আর দাদা বা বাবা কে কিছু বোলোনা লক্ষ্মীটি । আমার সোনা বৌদি...

- হয়েছে হয়েছে, তার তেল মারতে হবেনা, বোস শান্ত হয়ে

মাধ্যমিক পরিক্ষার সময়েও এতো তারাতারি কোনোদিন স্নান করেনি সে। তার উপরে আবার বেশ করে স্যাম্পু ডলে কন্ডিসনার লাগিয়েছে। ভিজে গায়ে আচ্ছা করে , প্রায় আধা বোতল রেভলনের ম্যাডলি র্যরদেভুর বোতল উড়িয়ে, হুটোপাটা করে একটু ফাউন্ডেসন দিয়ে ব্রনের ক্ষতে প্রলেপ ঢেকে, হালকা মেবিলাইন কম্প্যাক্ট বুলিয়ে, ঠোটের প্রতি নজর দিল। যেমন করেই হোক কাঁটায় কাঁটায় এগারটায় গোলপার্ক CCD পৌছাতেই হবে। লিপস্টিক লাগালে সুন্দর করেই লাগাতে হবে, তাই জাষ্ট লিপলাইনার আর একটু স্মুজলেস কাজলের আলতো টান, ব্যাস। মনে মনে ভাবল, যা রুপচর্চা হয়েছে এতেই অস্থির

আনারকলি স্যুটটা গায়ে গলাতে গলাতেই, ঘরের প্রশস্ত আয়নাতে বার কয়েক নিজেই নিজেকে জড়িপ করে নিল। কোনমতে জুতোটা পায়ে গলিয়েই, ব্যাগটা বগলদাবা করে দে ছুট। পিছন থেকে বৌদি হেঁকেই চললেন...

- বলি যাচ্ছিসটা কোথায়! গরম ভাত নেমে গেছে, খেয়ে গেলেই তো পারতিস, এক্ষুনি বাবার কানে গেলে, আমাকেই আবার ক্যাঁচক্যাঁচ করবে ইত্যাদি ইত্যাদি

- উফ... বৌদি, যাওয়ার সময় না টুকলেই নয়, তোমরা আর শোধরাবেনা...

- উঁ...... কি আমার মহারানি এলো রে, দেশোদ্ধারে যাচ্ছেন, ঢং দেখলে বাঁচিনা। আমাদের কি আর ও বয়েস এসেছিল... বলি আসবি কখন...

কে কোথায় শোনার জন্য!! ততক্ষনে ম্যাডাম, তিন তিরিক্ষে জোড়া গির্জার বাসস্ট্যান্ডে হাজির।

এমনিতে স্বচ্ছল পরিবারের একলা মাতৃহারা কন্যা, বাবা সদ্য রিটায়ার্ড করেছেন। নিঃসন্তান রোজগেরে দাদার একমাত্র প্রিন্সেস ছোট বোন, বৌদির ননদ কম , মেয়ে বেশি। সবে কলেজে উঠেছে। বেশ একটা প্রেম প্রেম ভাব মনে। পাইকারি হারে কাওকে খুজছে, মনের মাপে হচ্ছেনা একটাও।

প্রিয়জন” বলে একটা গ্রুপে মাস খানেক হল জয়েন করেছে “ধানি লঙ্কা”। শুরু থেকেই দেখছে “অলীক মানুষ” নামের প্রোফাইলটা গ্রুপটাকে প্রায় একাই মাতিয়ে রেখেছে। দারুন দারুন সব হিউমারে ঠাসা চটজলদি কমেন্ট, আর অবলীলায় লিখেফেলা ভারী ভারী বিষয়ের উপর লম্বা লম্বা প্রবন্ধ। গ্রুপের সকলেই ধন্য ধন্য করে। গ্রুপের সিনিয়র মেম্বার পরেশ ঘটক, বা এডমিন সুরঞ্জন হালদার থেকে শুরু করে হেডমিষ্ট্রেস জয়ীতা দি, আরেক এডমিন NRI রিমা বৌদি পর্যন্ত “অলীক মানুষকে” নিয়ে গদগদ। তার উপরে সপ্তর্ষী আর প্রশান্ত তো রীতিমত গুরু গুরু করে অস্থির।

গ্রুপে প্রথম প্রথম ধানি লঙ্কার কেমন একা একা লাগলেও, প্রিয়জনেরা ওকে আপন করে নিতে সময় নিলেন না। তার উপরে সাহিত্য প্রীতি আর নিজে লিখতে না পারার দরুন, লেখক মানুষদের প্রতি ধানি লঙ্কার এক্সট্রা ক্রাশ ছিল। তাই অলীক মানুষের বন্ধু হতে সময় লাগলনা।

হপ্তাদুয়েক যাওয়ার পর, অলীক মানুষকে ঘিরে ক্রমেই আগ্রহ বাড়তে লাগল ধানি লঙ্কার। শেষে গেল রোববার রাত্রে “করব কি করব না” ভাবতে ভাবতে, সাহস জমিয়ে ইনবক্সে ম্যাসেজটা করেই ফেল্লো

- আচ্ছা আপনার নামটা বলতে পারবেন?

- অবশ্যই পারব, কিন্তু বলব কেন?

- এমনিই। আমার ইচ্ছা জেগেছে তাই

- উদ্দেশ্যহীন যেকোন ধরনের কাজকর্ম, শরীর স্বাস্থের জন্য খারাপ। আর ইচ্ছেকে একটু বশে রাখুন

- থাক আর জ্ঞান বিলি করতে হবেনা, নাম বললে বলেন, থাকলে থাক, অতো ঘ্যাম নিতে হবেনা

- ঘ্যাম আর আমি!! ঘ্যাম নেওয়ার হলে কি আর “অলীক মানুষ” সাজতাম ম্যাডাম..

- আমি কি সাজতে বলিছি...

এইভাবে পাক্কা আট দিন অনেক চ্যাটের পর অবশেষে অলীক মানুষের মনের বেশ কাছাকাছি চলে এসেছে বলে আবিষ্কার করল ধানি লঙ্কা। মনের কাছাকাছি যখন এসেছে, তখন তো আর সেই প্রাচীন কালের মেয়েদের মত, লজ্জা পেয়ে, গান গেয়ে বা কবিতা লিখে “জো” নষ্ট হতে দেওয়া যায়না। সুতরাং নিজে থেকেই অলীক মানুষের সাথে একটা এ্যাপো ফিক্স করে ফেললো।

এক্কেবারে ব্লাইন্ড ডেটিং, কেওই প্রায় কিচ্ছুটি জানেনা একে অপরের সম্বন্ধে। কেও কারোর ছবিটুকুও দেখেনি। ধানি লঙ্কার প্রোফাইলে একটা হার্ট সাইন, আর অলীক মানুষের প্রোফাইল পিকচার তো বিশিষ্ট ঘটনার লাইভ টেলিকাষ্টের সাথে সাথেই পরিবর্তন হয়, প্রায় প্রতিদিনিই। গতকাল রাতেই অবশ্য মোবাইল নাম্বার বিনিময় ঘটে গেছে, সুতরাং অকুস্থলে আগে পৌছানো যাক, তারপরে দেখা যাবে, এমনটাই দুজনেরই ভাব।

ম্যাসেঞ্জারের নীল বোতাম জ্বলজ্বল করেই আছে ধানি লঙ্কার। ধানি লঙ্কা CCD তে ঢুকে একটা চেয়ার টেনে বসতেই ফোন এলো অলীক মানুষের। সেও ওখানেই উপস্থিত, নুন্যতম রিস্ক না নিয়ে, শুধু দেখে নিল কোন মেয়েটা। সাজলে খারাপ লাগেনা ধানি লঙ্কাকে, তার উপরে হলুদ জমিতে সবুজ জড়ির কাজকরা আনারকলি চুড়িদার, গাঢ় সবুজ লেগিন্স, সাজের কথা তো আগেই বলেছি, মারাকাটারি রূপসী না লাগলেও বেশ ঝকঝকে মাজা সুন্দরী লাগছে। দীর্ধাঙ্গী, নির্মেদ শরীর, টানাটানা মায়াভরা চোখ, নির্দিষ্ট মাপজোখের নাক ঠোঁট চিবুক। শুধু গায়েরং টা সামান্য দাবা। তবে ওটাকে উহ্য করাই যায়।

- হাই, আমি অলীক মানুষ

একমনে ফেসবুকের টাইমলাইন ঘাটতে ঘাটতে হঠাৎ ডাকে চমকিয়ে মুখটা উপরে তুলে হাতটা ঈষৎ বাড়িয়ে কোনরকমে হাতের তর্জনী আর মধ্যমাটা ছুঁয়ে, একটু থতমত খেয়ে সত্যি নামটাই বলে ফেলল...

- হাই, আমি রঞ্জু

- রঞ্জু? ছেলেদের নাম?

- (মনে মনে বাবা মায়ের উপর ভীষন রাগ করে) আমার নাম রঞ্জাবতী।

- শুধু রঞ্জাবতী!

- (এবার একটু রাগই হল রঞ্জুর) আচ্ছা বাবা, আগে জানলে কোষ্ঠীটা সাথে করে আনতাম, আমার নাম রঞ্জাবতী গড়গড়ি, বাবার নাম নকুলেশ্বর গড়গড়ি, মায়ের নাম আশালতা দেবী... আর কিছু??

কথা কটা এক নিশ্বাসে বলেই থামল রঞ্জু। যে দুঃখে ধানি লঙ্কা নাম নিয়েছিল, ঠিক সেই ব্যাথা স্থানেই আঘাত!! বড় মনে লাগল রঞ্জুর। ওদিকে অলীক মানুষ মুখে “গড়গড়ি গড়গড়ি” বিড়বিড় করতে করতে সানগ্লাস পড়া চোখে একমনে নিরিক্ষন করছিল রঞ্জুকে।

এতোক্ষনে রঞ্জুর হুশ হল, সে এবার চেয়ে দেখল সামনের অলীক মানুষটাকে! এটা কে? চোখ মুখ হাঁ হয়ে গেল। মাথা থেকে দেখা শুরু করল, চাঁদিতে চুলের অবশিষ্টাংশ টুকু বর্তমান, মুখে গোঁফদাড়ির জঙ্গল, বোধহয় বিড়ি সিগারেটে ছ্যাকায় পোড়া, পুরু কালো ঠোঁট। ঘাড়ে গর্দানে সমান। এটুকু তবুও ঠিকিই ছিল, বেশ স্মার্ট। এর পরেরটুকু যে কোন কাওকে রীতিমত অসুস্থ করে দেবার পক্ষে যথেষ্ট । বাঁহাতে ঘড়ি, ডান হাতের কড়ে আঙুলে একটা সবুজ পান্না সোনায় বাধানো। চোখে মোটা কালো ফ্রেমের ফ্যাসন চসমা। এক্কেবারে গোলগাল রবিঠাকুরের দামোদর শেঠ মার্কা চেহারা, ধুতির বদলে হাফ শার্ট আর জিন্স পরে আছে। ভুঁড়িটা মনে হচ্ছে এক্সট্রা একটা জুড়ে রাখা লাগেজ

- তুমিই অলীক মানুষ?

- হ্যাঁ, কোন সন্দেহ!

- না মানে, একটা জামার ভিতর তো জনা চারেককে ভরে এনেছো মনে হচ্ছে?

- কি আর করব বলো!

- এতো মোটা কোন মানুষে হয়!! কত ওজন?

- দূর সাধ করে কি কেও এমন হয়, এই আপাতত ১১৩ কেজি

এভাবেই কথাবার্তা এগিয়ে চলল। উৎসাহ আর নানা প্রগলভতার ভীরে রঞ্জু অলীক মানুষের আসল নামটাই শুধাতে ভুলে গেছে। মানুষটি মোটা কদাকার কাদাখোঁচা মার্কা ঠিকিই, কিন্তু ওই দশাশই চেহারাটার আড়ালে থাকা একটা নরম প্রেমিক মনের মানুষের সন্ধান পেল রঞ্জু। ওয়েটার ওর্ডার নিতে এসে শুধালো- অর্ডার প্লিজ, দুজনেই নিজের নিজের পছন্দের অর্ডার করে আবার গল্পে মেতে উঠল, মাঝে একবার আসল নাম শুধালেও, অলীক সযত্নে বিষয়টা এড়িয়ে গেল।

ঘন্টা খানেক পর বিল মেটানোর জন্য ওয়েটার একটা চামড়ার মলাটওয়ালা ফাইল আনলে, অলীক মানুষ তার মানিপার্স থেকে একটা ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড গুজে দিয়ে এবার উঠার প্রস্তুতি করতে লাগল

দুজনেরই ফোন এতক্ষন সাইলেন্ট মোডে ছিল, অলীক মানুষ ফোনটা খুলতেই কোন জরুরী ফোন নাম্বারের মিসকল চোখে পড়াতে , চোখে চোখেই রঞ্জুর কাছে একটা এক্সকিউজ মি- চেয়ে নিয়ে একটু দূরে কথা বলতে গেল। এরই মাঝে ওয়েটার বিল সমেত ডেবিট কার্ডটি ফিরিৎ দিয়ে গেছে। অলীক মানুষ আসতে লেট করছে দেখেই রঞ্জু চামড়ার ফাইলটা নিয়ে নাড়াচারা শুরু করে দিল। হঠাৎই কিছু একটা দেখে প্রায় অক্কা পাবার দশা রঞ্জুর

এ যে টকের জ্বালায় দেশ ছেরে তেঁতুল তলায় বাস। এক গড়গড়ির অত্যাচারে রঞ্জাবতী ধানি লঙ্কা হয়েছে। আজ নতুন স্বপ্ন নিয়ে এসেছিল এখানে। টাকলু, মোটা, গোঁফ দাড়ির জঙ্গল পর্যন্ত সবটা মেনে নিয়েছিল। কিন্তু এটাকে মানিবে কি করে!

কার্ডের উপরে বড় বড় হরফে লেখা ছিল “BIPAD TARAN GUCHAIT”

শুভ, অর্ঘ্য, আদিত্য না হোক একটা চলনসই তো হতে হবে!! রঞ্জু যত ভাবে ততই মুষড়ে পরে। আগামীতে যে মাথায় বিপদ আর পিছনে গু, বাকিটা জীবন ওকেই তারিয়ে নিয়ে বেরাবে !! রঞ্জু আর কিছু ভাবতে পারছে না, মাথা ভোঁ ভোঁ করছে

 

ফেসবুকীয় সিপিএমঃ ফিউজড আইনগাইডেড কামিকাজে ড্রোন

  ফেসবুকের ‘সিপিএম’ নামক এই চুড়ান্ত আঁতেল ও প্রায় সর্বজ্ঞ গোষ্ঠীটার পূর্ণ বোধোদয় বা পূর্ণ বিনাশ না ঘটা অবধি রাজ্যের বাম নেতৃত্বের খুব বেশী ...