বৃহস্পতিবার, ২৫ আগস্ট, ২০১৬

অকবির জন্মকথা.

লেখাঃ মতিউল ইসলাম
—————–
জন্মেছিস যখন একটা দাগ রেখে যা,

এই উক্তি আমার এমন অনুপ্রেরণা দিল যে ছোট থেকেই ভাবনার শেষ রইলো না,কি ভাবে দাগ রাখা যায় বিষম চিন্তার বিষয় হয়ে দাড়ালো শেষে অনেক ভেবে ভেবে শেষে চক দিয়ে গোটা বাড়ি আঁক কেটে দিলাম, মা এই সব দেখে ভালোই উত্তম মধ্যম দিলেন, শেষে বললেন কেন এই ভাবে বাড়ি নোংরা করেছিস বল,ফোঁপাতে ফোঁপাতে মা কে দাগ রেখে যাবার কথা বললাম, মা তো হেসে বাঁচেনা, বাবা কে গিয়ে বললেন, বাবা বললেন ব্যাটা দাগ এভাবে নয় কাজের মাধ্যমে রাখতে হয়.
ভীষণ চিন্তায় পড়লাম কি করা যায়? 

মনে মনে নেতাজী গান্ধীজি কে খুব রাগ দেখালাম কেন ওরা ইংরেজ দের দেশছাড়া করলো?আর কিছুদিন থাকলে কেমন বিপ্লবী হয়ে দাগ রাখতাম,

বহু চেষ্টা করলাম দাগ রাখার দাগ আর পড়ে না,অভিনেতা হতে গেলাম কাঁদতে বললে হাসি আর হাসতে বললে কাঁদি,
ঘাড় ধরে বের করে দিল,গান শিখতে চেয়ে প্রথম দিনেই এমন চিৎকার দিলাম গুরুজীর কানে তালা ধরে গেল,খবর পেয়েছি আজো সেই তালা খোলেনি,খেলাধূলা ও শরীরে সহ্য হলো না.
তারপর হঠাৎ একদিন পরশ পাথর পেয়ে যাবার মতো পেয়ে গেলাম দাগ রাখার অমোঘ অস্ত্র,
সদ্য যৌবনপ্রাপ্ত হয়েছি কাছের বান্ধবী কে অন্য চোখে দেখতে শুরু করেছি একদিন দুম করে ওর খাতায় লিখে দিলাম



তোর কালো চুল
আমার চুলবুল.



ও তো মহা খুশি আমি ও কবতের প্রেমে পড়লাম.
পরদিন আবার লিখলাম



তোর ওই বুক
আমার ধুকপুক.
রেগে গিয়ে আমার ত্যাগ করলো, 

নারী গেল কবিতা এলো জীবনে. লিখলাম


তুমি গেলে চলে
কবিতার কোলে ফেলে.
পেয়ে গেলাম দাগ রেখে যাবার ব্রম্ভাস্ত্র.



তার পর শুধু কবিতা আর কবিতা আর কবিতা,ভরে গেল সমস্ত পুরানো ডাইরির পাতা,বন্ধু রা ত্যাগ করলো কাতুকুতু বুড়োর মতো দেখা হলেই কবিতা শুনাতাম যে.



বড়ো বিপদে পড়লাম লিখছি গোঁয়ারের মতো কিন্তু কেউ শুনছে না,মন ভারাক্রান্ত, হঠাৎ আমার দুঃখে জুকারবার্গ বানিয়ে দিলেন ফেবু,আর আমার পায় কে পাতলা পায়খানার মতো কবিতার স্রোত ভাসিয়ে দিলাম বন্ধুদের টাইমলাইনে,পড়বি না নে ট্যাগ ট্যাগ আর ট্যাগ,



সুন্দর, ভালো,অসাধারণ লিখে লিখে অনেকে ক্লান্ত হয়ে আনফ্রেন্ড করলো আমি ও দ্বিগুণ উৎসাহে আরো বন্ধু জোগাড় করে ট্যাগাতে লাগলাম,আমার হাতে পড়ে মৃত্যু হলো কতো ছন্দ অলংকার আর রুপকের,কিছু দিন আগে খবর পেলাম আমার বিরুদ্ধে কবিতা আর ট্যাগে অস্তির হয়ে অনেক গ্রুপ খোলা হয়েছে, আন্দোলন চলছে জেলায় জেলায় শ্লোগান উঠছে ট্যাগানো কবিতা পড়ছি না পড়বো না।

আমি লিখেছি তোরা যে যাই বলিস ভাই,



আমার কবিতা ট্যাগা চাই.
মনে বড়ো সন্তোষ হচ্ছে দাগ পড়ছে হোক না লাল দাগ,দাগ তো.শেষে একটি নতুন কবতে বলি,
যতোই বন্ধ রাখো ট্যাগানো অপশন,
থামবে না আমার কলম,
জোৎস্নার চাঁদ নয়কো রুটি
যেন কবতের খাতা,
লিখবো আমি, কবতে নাই বা হলো?
হোক অকবিতা,
ফেসবুকের বন্ধু দের কাছে
এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার,
দাগ রেখেই যাব আমি.

বুধবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৬

আমি ও অকপট



শুরুটা সেদিন একটু অন্যভাবে। গত বছর এই সময়ের কিছুমাস আগে যাবৎ একটা ব্যক্তিগত সমস্যায় সম্পূর্ন জর্জরিত ছিলাম, অন্য একটা বিশা…ল গ্রুপের সেবা করার কিছু সুযোগও পেয়েছিলাম, সেখানে বেশ কয়েকজনের আমিত্বের ভীড়ে হাঁসফাঁস করা অবস্থায় কিছু লিবারাল দশকর্মা ভান্ডার টাইপের গ্রুপেই সাধারনত নিয়মিত থাকতাম। সেখানেও অতিরিক্ত ধর্মীয় কচকচানি আর একটা কাঁচা খিস্তির কর্মশালাতে চরম হতাশ হয়ে বন্ধু সন্দীপের দ্বারস্থ হই। চলোনা আমরাও একটা গ্রুপ খুলি। পুঁজি ছিল শুধু উন্মাদীয় ভাবনার রসদ।
আমরা জানতাম আমরা বাঁদর, বেদে নই। নাচতে পারি নাচাতে নয়। গ্রুপ চালাতে যে নীতি (অল্প হলেও লাগে বৈকি) ধৈর্য অধ্যাবসায় ও ফেসবুকীয় জ্ঞান থাকা প্রয়োজন তার কিছুই আমাদের নেই। তবে অনেক সফল গ্রুপেরই, বন্ধু সৌমেনদার ভাষায় “অ্যাডমিন প্যালাদার” চাকুরি করেছি। বেশ কিছু জনপ্রিয় পেজের অন্যতম দায়িত্বেও থাকার অভিজ্ঞতা ছিল। আর প্রথমে অর্কুট পরে দীর্ঘ আট বছর এই ফেসবুকের সাথে সাথে সোস্যাল মিডিয়া পরিক্রমা।
সুতরাং শুরুটা এভাবেই। প্রথমে নাম দেওয়া হয়েছিল যুক্তি-তক্কো। বন্ধু সন্দীপের পরামর্শেই আমি অকপট নামটা নির্দিষ্ট করি। প্রথমে গোটা দশেক মেম্বার, তার মধ্যে ৮ জনই এডমিন। প্রসেনজিৎ গুহ, প্রশান্ত ঘোষ, রজত মালিক, সন্দীপ দাস, শেহনাজ আলম, সুদীপ্তা নাথ, সুধা মজুমদার, তন্ময় হক আর আমি। সঙ্গে ছিল অন্যতম মেম্বার রুমি হক ম্যাম আর শিল্পী গুহ দিদির শুভকামনা। এই পথ চলার শুরু। এর পরে প্রসেনজিৎ দা , প্রশান্ত আর রজত দিন ৩-৪ এর মধ্যেই ব্যক্তিগত কারনে অ্যাডমিন থেকে নিজেদের সরিয়ে নেন। প্রথম বাইরের মেম্বার মৃদুল কান্তি ঘোষ। প্রথম পোষ্ট আমার, আজকের বিচারে সেটি অবশ্যই অশ্লীলতার দায়ে অভিযুক্ত।
এর পর যেমনটি হয়, সকলে মিলে নিজ নিজ বন্ধুদের অ্যাড করার পালা। এক সপ্তায় সংখ্যাটা দাঁড়ায় দেড়শোর কাছাকাছি। কেউই প্রায় আসতেন না তখন। জয়দা আমার পরের পর করে চলা পোষ্টে দুয়েকটা লাইক কমেন্ট করেন মাত্র। আর বাকি অ্যাডমিনদের গুটিকয়েক সাবধানি পোষ্ট। এর পর নিজেরাও কেমন উৎসাহ হারিয়ে ফেলার দশায় উপস্থিত হই। তবুও আমরা হাল ছাড়িনি, ধিকিধিকি করে হলেও জ্বলছিলাম। ঠিক কদিন পর জানিনা, দেবেশ সিংহ নামের এক অতি উৎসাহী সদস্য গ্রুপে প্রায় সর্বক্ষণের জন্যই উপস্থিত থাকতে শুরু করল। সে নিজেও তার কয়েকজন বন্ধুদের গ্রুপে অ্যাড করে, এভাবেই একটু একটু করে চলতে চলতে, তনিমা, দেবাশীষ দা আমাদের সাথে যুক্ত হন। এরপর গ্রুপের শ্রীবৃদ্ধি ঘটান অ্যাডমিনে এসে, দেবেশ নিজে, হৈমন্তী, আরো বেশ কয়েকজন। যাদের ছাড়া আজকের যেটুকুই “অকপট” বর্তমান, তার অন্যতম কৃতিত্বের দাবিদার এনারা সকলেই।
দুর্ভাগ্যজনক ভাবেই আমরা সন্দীপ আর সুদীপ্তা কে আমাদের অকপট এর কার্যনির্বাহ বৃত্ত থেকে হারিয়ে ফেলি। সে দুঃখ আজও যাবার নয়। আজ অকপট একবছরের গ্রুপ হিসাবে তেমন কিছু উল্লেখযোগ্য কিছু করেছে বলে দাবি করতে পারিনা। তবে আমাদের ভবিষ্যত লক্ষ্য এই অকপটকে একটা প্রাতিষ্ঠানিক রুপ প্রদান করা। যেখানে থাকবে আর্ত পীড়িতদের জন্য নিঃশুল্ক সেবার ব্যবস্থা, থাকবে দুঃস্থ মেধাবীদের জন্য শিক্ষা সরঞ্জাম, অনাথ, পথশিশু আর বৃদ্ধাশ্রমের জন্য সাহায্যমূলক সামাজিক ভাবনা। আমাদের পরিচয় হবে নিজস্ব প্রকাশনা সংস্থা, যাদের মূল উদ্দেশ্য নতুন ও উঠতি সাহিত্য প্রতিভাদের জন্য প্রাথমিক মঞ্চ প্রদান, ইত্যাদি। আর এই সকল কিছুর জন্য প্রয়োজন একটি দলগঠনের। আর অকপট সেই লক্ষ্যের পথে একটি পদক্ষেপ মাত্র।
আমি শুরুটা করি আরো সমসাময়িক পাঁচ জনের আগেই, কিন্তু আমার ধারাবাহিককরণে বেশ সমস্যা। এটা আমার একটা স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য । ঠিক সেই রকম ভাবেই আমার বন্ধুরা যখন নেট বা ফেসবুকের নামই শোনেননি তার আগেই এই দুনিয়ায় আমার হাতেখড়ি হয়ে গেছে। তারপর সেই খারা-বরি-থোর । বছর দু-তিন প্রায় গায়েব। মাঝ মাঝে আসতাম বটে কিন্তু কোন এক এক্টিভিটিই ছিলনা। ২০০৯ থেকে একটু একটু করে নিয়মিত ফেসবুকে আসা শুরু করেছি। তবে এখনকার মত মোটেই নয়, এখন তো জৈবিক প্রয়োজন ব্যতিত ফেসবুকেই থাকি।
তখন গ্রুপ কি জিনিস তেমন জানিই না। তবে বিভিন্ন পেজের বিজ্ঞাপন টাইমলাইনেই আসত। তবে এখনকার মত এত সমৃদ্ধ টাইমলাইন কারোরই ছিলনা বোধহয়। এর পর একটু একটু করে একটা একটা করে ফেবু বিজ্ঞাপিত গ্রুপে নিজেকে সেঁধিয়ে দিই আর ভাল লাগলে টিকি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিতাড়িত, কারন এই অন্তর্জালে সকলেই প্রশংশা শুনতেই পছন্দ করেন। অন্যথায় তোমার পিছলে লাথ। আমি পুরুষ, মহাপুরুষ নই, তাই আমার ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা শত শতাংশই সঠিক ও প্রযোজ্য। আমার মতে এই গ্রুপ বাজির রমরমাটা ২০১২ সালের শেষের দিক থেকেই হবে বোধহয়।
মোটামুটি তো সবই বলে দিলাম সংক্ষেপে । আমার লেখার রোগ অতি পুরাতন, ক্লাস সেভেন কিম্বা এইট থেকেই কালিতে আরশোলা মাখিয়ে সাদা রুলটানা ডায়েরির খাতায় ছাড়ার অভ্যেস ছিল। ল্যাপটপ এসে তাতে নতুন মাত্রা জুড়ল। ভুল সংশোধনের সুযোগ ও রক্ষা করার হরেক পন্থা। আর এই ফেসবুক একটা বিচিত্র জগত খুলে দিল সামনে। তখন জানতাম না এই সীমা কোথায়, আর আজ তো পুরোটাই ঘেঁটে গেছে। শুধু জানি আমিই সত্য, বাকিরা সংখ্যা। অবশ্য নদীর অপর প্রান্তেও এই ধারনারই ভীড়। তবে মুখের থেকে এই পাড়ায় যেহেতু মুখোশ বেশি, তাই নিজেকে মানিয়ে নিতে অসুবিধা মোটেই হয়নি।
এরপর ডাস্টবিনের পচা ছানার মত একটা আধটা ছেঁড়া পোষ্ট করতে লাগলাম। এক দুজন বন্ধুরা কষ্ট করে পড়তেও লাগলেন। বুভুক্ষুর রাজ্যে এই কি কম পাওনা! আমিও আশাবাদী হয়ে উঠলাম । এর পরেই শুরু হল নিয়মিত লেখালেখি। আমি কবিতা তেমন লিখতে পারিনা, বা যেগুলো দু একটা লিখেছি সেগুলোকে আর যাই হোক কবিতা বলা চলেনা। কোন সন্দেহ নেই , সেই জন্যেই গদ্য আকারের ছোট কলেবরে বিষয় ভিত্তিক লেখা লিখে গুটিকয়েক অনেক পাঠকের নজরে পড়তে শুরু করি। তবে আমি মনোযোগী পাঠক মাত্র, আর ওই ভাল ভাল লেখা পড়েই নিজের লেখার সাধ। তখন শেয়ার ব্যাপারটা ভাল বুঝতাম না। অন্যের ভাল লেখা পেলেই নিজের টাইমলাইনে দিয়ে দিতাম, পরে একজনের অপমান খেয়ে তার নাম কৃতজ্ঞতায় দিয়ে শুরু করি।আজও যার ব্যতিক্রম হয়না। তারও অনেক পরে বাংলা হরফ এভেলেভেল হলে বাংলায় লেখা চালু করি।
তখনও আমার কাছে গ্রুপ কনসেপ্টটা পরিষ্কার নয়, কয়েকজন বন্ধু নিয়মিত আমার ওই ছেঁড়া কাথার মত লেখা নিয়মিত পোষ্ট করতেন, মূলত তাঁরাই লেখার উৎসাহটা যোগাতেন। প্রথমে ভাবতাম এই লাইকই বোধহয় কতজন পাঠক পড়লেন তার একমাত্র মাপকাঠি, আর কমেন্ট সমালোচনার। অনেক পরে বুঝেছি, এগুলো কোনোটাই নয়। লাইক জনপ্রিয়তার মাপকাঠি হতে পারে, কিন্তু আমার ভাবনাগুলো লিখিত আকারে প্রকাশের পর সেগুলো মানুষ পড়েন কি পড়েন না সেটা বুঝলাম একটা সিক্রেট গ্রুপে এড হবার পর। সেখানে লেখা থাকে যে কত জন পোষ্টটি পড়েছেন। আমরা বা আমাদের মত পাবলিক প্রথমত ফেসবুক করেন মূলত সময় কাটানোর মাধ্যম হিসাবে। কিন্তু এই সময়ে আমদের বর্হিঃবিশ্বের সাথে যোগাযোগের সবচেয়ে বড় মাধ্যম বোধহয় এই ফেসবুক।
একটাসময় ছিল যখন কেবলমাত্র মজা করার উদ্দেশ্যে অনলাইনে আসতাম, এখন তো সময় খুঁজি কখন একবার গ্রুপে বা টাইমলাইনে ঢুঁ মারব। হাজার একঘেঁয়ে জোকস উতপটাং কবিতার ভীড়েও কিছু মানুষের লেখা নিয়ম করে পড়ি। অনেক লেখার সাথে নিজেকে মেলাতে পারি। বেশ কয়েকজন বন্ধু আমার লেখাও পড়েন হয়ত কষ্ট করেই, তাদের মতামতও জানান, বেশ লাগে ব্যাপারটা। সকলেই মানবেন গঠন মূলক সমালোচনা ভীষণ মূল্যবান বস্তু। তবে সকলের কথাতেই খুব গুরুত্ব দিইনা কেননা এ জগতে সকলেই নিজেকে জ্ঞানদা ভাণ্ডারের কর্তা ভাবেন নিজেকে। নিজের যোগ্যোতা না মেপে, শ্রীজাতর কবিতাতে সমালোচনা করেন, বা তসলিমার বিরোধিতা করেন। জাতি ধর্ম নির্বিশেষে হুজুগে মাতালের দলের বাড়বাড়ন্তকে টপকে নিশ্চুপ একজন পাঠকের দাম আমার কাছে সবচেয়ে মূল্যবান।
ফেসবুকে আমার সবচেয়ে পছন্দের হচ্ছে ইনস্ট্যান্ট ইমোজিগুলো । কি সুন্দর একটা ছোট্ট ইমোজি দিয়ে অনেক কিছু বা সমগ্র পরিস্থিতিটাকে বর্ণনা করা যায়। একঘেয়ে জীবনে যাঁতাকলে, এই ফেসবুকে নিজের পুরাতন আপলোড করা পোষ্টগুলো দেখে বা বন্ধুদের রঙিন মুহুর্তের ছবিগুলো দেখে মন ভাল না হয়ে উপায় নেই। এটা রোজজীবনের একটা চটজলদি রিফ্রেশমেন্ট। ফেসবুকের মত এতো বৈচিত্রের পাশাপাশি সহাবস্থান খুব কমই বাস্তব সমাজে প্রতিফলিত হয়। অসভ্যের মত উত্তেজনা ও তার পরিণতি হিসাবে কাঁচা খিস্তির ফোয়ারাকে ড্রিবল করে এগিয়ে যেতে পারলে তার থেকে মজা আর কিচ্ছুটিতে নেই বলেই আমার ধারণা।

অনেকেই আজ কত নতুন নতুন জিনিষ শুরু করছেন। খুবই ভাল বিষয় সেটা, তবে এটা আমি মাথায় রাখি যার কাছ থেকে শিখেছি, তিনি যেন গুরুর মর্যাদাটুকু পান, তাতে ভার্চুয়ালই হোক বা বাস্তবে। তবে এটাও মাথায় রাখতে হবে, যিনি শুরু করেছেন, এগিয়ে নিয়ে যাবার গুরুদায়িত্বও তারই কাঁধে থাকে। অনেকেই এটা বোঝেননা, যার জন্য তাকে ফেলে রেখেই বাকিরা এগিয়ে যায়।
আজ যখন ফিরে দেখি একটা বছর, তখন পাওনার চেয়ে হতাশা বেশি। প্রাপ্তির ঝুলি অনেক, কিন্তু আমরা ব্যর্থ আমাদের অনেক পুরাতন বন্ধুদের এই অকপটের বৃত্তে ধরে রাখতে। তাদের ভুলের থেকেও আমি নিজেকে আরো আরো বেশি বেশি করে দোষী করতে চাই। যাতে এমন ভুলের পুনরাবৃত্তি না ঘটে। আমরা একটা বিষয় ভুলে যাই, যে আর পাঁচজনকে শোধরানোর চেয়ে নিজেকে বদলে ফেলা অনেক সহজ। আর আমার মতটাই সেরা ও অন্তিম নয়। এই জায়গা থেকে আমাদের আরো সহনশীল হতে হবে। বিরুদ্ধমতের ক্ষেত্রেও আমাদের উদ্ধত্বতা প্রকাশ পেয়েছে বারেবারে। তবে এটাকে নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে আগামীর ভবিষ্যৎ যে নিদারুণ কষ্টের হবে সেটা বলাই বাহুল্য। আসলে আমরা তো চরিত্রগত ভাবেই ত্যাগ করতে শিখিনি। সকলের আগে ইগো , অহমিকা আর আমিত্ব কে যতটা সম্ভব হত্যা করতে হবে। তাহলেই হয়ত অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে পারব।
এই ভার্চুয়াল গ্রুপগুলোর অধিকাংশেরই বাস্তব কোন ভিত্তি নেই। আমরা সেই ছক থেকে আগামীতে বেরিয়ে এসে সমাজের জন্য কিছু করার প্রয়াস করতে পারব বলেই বিশ্বাস রাখি। আমরা বিশ্বাস করি যে গাছ দ্রুত বেড়ে উঠে , তার কাঠ দিয়ে জ্বালানি ছাড়া আর কিছুই ভাল করা সম্ভব নয়। এবং হালকা ঝড়েই তার অস্তিত্ব টালমাটাল করে। বট বৃক্ষ হতে পারি বা না পারি চেষ্টা করতে ক্ষতি কি?

অন্তত একটা ছাতিম বা কদম হতে পারলেই আমরা সার্থক বলে ধরে নেব। আর তার জন্য প্রয়োজন সময়। কারন দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক কখনই সময়ের আঁচে অগ্নিপরীক্ষা না দিয়ে কুলিন হতে পারেনা। যেহেতু আমাদের লক্ষ্য স্থির, তার কোন তারাহুড়ো নেই আমাদের। শত শত হাজার হাজার সদস্যদের ভিতর থেকে আগামী তিনবছরে উদ্যমী রুচিশীল ধর্মীয় কূটকাচালির উর্ধ্বে থাকা কিছু হৃদয়বান মানুষের খোঁজ অবশ্যই পাবো, এই বিশ্বাস আছে। দরকার তো ১৯ টি জেলার জন্য কমপক্ষে ৩৮ জনের। যিনি লাভের আশা না করেই কিছু সৎ সামাজিক কর্মের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রাখতে পছন্দ করবেন। অনেকেই ইতিমধ্যেই কাজ নিঃশব্দে করে চলেছেন, তাদের খোঁজ করে আমাদের দলে আনার চেষ্টা চালাবো আমরা, কারণ আমরা শিখতে চাই তাদের থেকে।
তাই অকপটকে শুধু মাত্র এক একটা সময় কাটানোর ঠেক হিসাবে আমরা ভাবিনা। এখানেই আমাদের সাথে সুব্রত দা, সোমনাথ দা, প্রবাল দা, মতিভাই, দেবাশিষ দা, সহ গোপালদা, আশরাফুল, সুব্রত সহ অনেকে মানুষই আছেন, যাদের নিয়ে হয়ত আজ থেকে শুরু করলেই কোন সেবামূলক কাজ শুরু করাই যায়, কিছু দিতে পারুক বা না পারুক, উৎসাহ আর খানিকটা সময় দেবেন বলেই আমার বিশ্বাস। কিন্তু আমরা আরো দেখে শুনে আরেকটু দলে ভারি হয়ে , নূন্যতম তৈরি হয়েই বাস্তবের মাটিতে নামতে চাই। কারন নাচতে নেমে ঘোমটা টেনে হাসির খোরাক হওয়ার থেকে দু-টো দিন অপেক্ষা ভাল।

অকপটের সকল বর্তমান ও প্রাক্তন সদস্যদের জানাই গ্রুপের ও আমার পক্ষ থেকে অকপট ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা।
অকপট এগিয়ে চলুক নিজের গতিতে।
উন্মাদ হার্মাদ
চব্বিশে আগষ্ট,২০১৬

বৃহস্পতিবার, ৪ আগস্ট, ২০১৬

হাগু পুরাণ



শ্রীযুক্ত বাবু সৌমেনর একটা ট্রলের প্রেক্ষিতে এই লেখা। আমার আজীবন লালিত, সুখসমৃদ্ধ বাল্য স্মৃতিপট(টি)কে মুছে দেবার যে চক্রান্ত রাজ্য-কেন্দ্র মিলিত সরকার স্বচ্ছভারত অভিযানের মাধ্যমে করতে যাচ্ছে, তার জন্য শুধুই ধিক্কার। আমি সকল সুধী অকপট জনগনকে আমাদের “চিরকি” সঙ্ঘে একবার ঘুরে “যাবার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানালাম।
“হাগা” শুধুই একটা জৈবিক দৈন্দনিন কর্ম নয়। ইহা একটি শিল্প। চোখের ইশারাতে নিবিষ্ট হয়ে রসনা তৃপ্তির মাধ্যমে যে সকল সুস্বাদু খাবার, আমরা ভক্ষন করে থাকি, তাহাই আমাদের পাক যন্ত্রে পিষ্ট হইয়া ভীষন মমত্বে আমাদেরই পেটে, উচ্চস্তরীয় গন্ধ বিশিষ্ট ঈষৎস্বর্ণাভ বর্নের এক প্রকার পরিবেশবান্ধব দ্রব্য উৎপাদন করে থাকি , যাকে ‘গু” বলা হইয়ে থাকে। আর এই গু কে তার মর্জিমত আমরা হেগে থাকি। সুতরাং হাগা একটি সয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া মাত্র।
আমরা প্রানীকুল সকলেই হাগি, কিন্তু সেটা নিজেদের মর্জিতে নয়। গু যখন নিজে থেকে বেগবান হয়ে পরিবেশে মিশে যেতে চায়, তখনই একমাত্র সে বাহির হয়। যার জন্য হাগা কখনই আমাদের ইচ্ছাধীন নয়। পৃথিবীর সকল গুরুত্বপূর্ন মানুষের রুটিন থাকে, খাওয়া, সাক্ষাত, ঘুম, প্রেম থেকে সব্ব। শুধু মাত্র হাগা এমন শিল্প, যার জন্য কোন সময় নেই, হাগা চাইলে, আপনি যে ই হন না কেন, আপনাকে তার জন্য সময় নির্দিষ্ট করতেই হবে। তাহলে হাগার স্থানকে নির্দিষ্ট করে দেওয়া কি চক্রান্ত নয়?
প্রবাদে কথিত সুখ স্বপনে শান্তি শ্মশানে। মিথ্যা কথা। আসল শান্তি হেগে। পৃথিবিতে হাগাবিলাসিরাই একমাত্র উজ্জ্বল মুখশ্রীর অধিকারী। হাগা নেই যার, পোড়া কপাল তার। যারা পায়খানায় হাগেন তারা শুধু কল্পনা করুন , ওই রকম একটা ছোট্ট বদ্ধ স্থানে আপনাকে বন্দি করে রাখা হয়েছে পাঁচ মিনিটের জন্য, আমি নিশ্চিত আপনি পারবেন না। অথচ হাগতে গিয়ে ঘেমে নেয়ে একসা হয়েও অধিকাংশ মানুষই একমুখ প্রশান্তি নিয়ে পায়খানা থেকে হেগে বের হন। এটাই হাগাকে শুধু মহান করেনি, হাগা নিজে থেকেই উচ্চমার্গের। অনেকে একাকিত্ব কে যন্ত্রনা বলেন, তারা যানেননা কোষ্ঠকাঠিন্যের জ্বালা।
লোকে বলে কর্ম জরুরী, কেউ আবার বলে ধর্ম। এগুলো সবই হাগাকে হেও করার কুৎসা। কারন একবার হাগা পেলে তার থেকে গুরুত্বপূর্ন জরুরী কাজ আর পৃথিবিতে থাকেনা। মায়ের স্নেহ বা মমত্ব নিয়ে নিশ্চই কেও প্রশ্ন তুলবেন না আশাকরি। তাহলে আজকের আধুনিক মায়েদের কথা ভাবুন, তারা হাগা কে ভালবেসে কি সুন্দর একটা নিকনেক দিয়েছে, আর এটা বিশ্বজনীন, নাম “পটি”। কটা এমন উদাহরন আছে মশাই?
পৃথিবিতে নানা ভাষা, নানা জাতি, অর্থনৈতিক বৈষম্য, সাদা-কালো বিভেদ। কিন্তু আদর্শ সাম্যবাদ এই হাগার ক্ষেত্রে। ওই উচু হয়ে বসেই আপনাকে হাগতে হবে। ওই বিশিষ্ট ভঙ্গিটার নামই হাগতে বসার ভঙ্গি। আছে পৃথিবিতে, এই ধরনের নির্দিষ্ট কোন ভঙ্গি? হাগতে বসার পোজ। যেটা শুধুই একটা বিশেষ কার্যসিদ্ধি ছাড়া আর কাওকে বোঝায় না। ধনী গরীব, চোর থেকে সাধু, জর্জ বুশ থেকে লাদেন… সবাই ওই একই কায়দায় হেগে থাকে।
অনেক ছিদ্রান্বেশি মানুষ হাগা কে এক বাক্যে শেষ করে দেয়। যেন কমোডের ফ্লাস। কিন্তু ব্যাপারটা অতোটা সহজ নয়। যেহেতু হাগা একটা শিল্প, সেহেতু সেই শিল্পের বিন্যাস রয়েছে, সুধীজনের এ বিষয়ে অবগত হওয়া বিশেষ প্রয়োজন। যেমন

১) ডেলা বাঁধা কোয়া হাগা।
২) ডেলা বাঁধা সসেজ হাগা
৩) ছদ্মবেশী সসেজ হাগা, যার গায়ে ফাটলের নক্সা আঁকা
৪) সর্পিল নরম হাগা অনেকে একে সুস্বাদু জিলাপির সাথেও তুলনা করে থাকে।
৫) স্পষ্ট প্রান্ত কাটা মোটা হগা, যাহাতে কালো রেখা সহ রক্তের ছাপ দেখা যায়।
৬) নাদি হাগা
৭) জীর্ণ প্রান্ত সঙ্গে ফুঁয়োফুঁয়ো টুকরা, এটি একটি আবেগপ্রবণ হাগা। এককথায় ভসকা হাগা, যাতে বায়ুর মিশ্রন থাকে।
৮) পলকা ডট হাগা, এটি সাধারনত তীব্র বায়ু নির্গমনের সাথেসাথে নির্গত হয়, যার দ্বারা মূলত প্যানে বা কমোডে শৈল্পিক দাগ গুলো রচিত হয়।
৯) ল্যাদ হাগা।
১০) তরল হাগা (এর মধ্যেও প্রচুর শ্রেনি বিভাগ রয়েছে)
এগুলো আমরা প্রত্যেকেই কখনো না কখনো হেগেছি। সুতরাং এগুলোকে আমরা অগ্রাহ্য করতে পারিনা। নিখিলবিশ্ব হাগন্তি সম্মেলনে কখনো যোগদান করলে এ বিষয়ে জ্ঞান আরো খোলতাই হতে বাধ্য। আপনি যদি, প্রায় অন্ধকার ঘরে রোজ হাগতে থাকেন, কিভাবে এই বিশাল বিষয় সম্বন্ধে জানতে পারবেন? এক বালতি জনেই তো জ্ঞানের সলিলসমাধি। আপনি ঠিক কতবড় হাগুরে শিল্পী , সেটা অধরাই থেকে যাবে। আমরা কি ঝাল তরকারি খেয়ে জ্বলুনি হাগার তীব্রতায় জীবনের জ্বালা কি ভুলে থাকিনা? এই দ্রুত যোগাযোগ ব্যাবস্থা ও ব্যাস্ততার যুগে ওই হাগার সময়টুকুই তো প্রাকৃতিক ভাবে একান্তে নিজের সাথে কাটানোর সময়। তাহলে সেই সময়ে কেন রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ? কে কোথায় শান্তিতে হাগবে সেটা তার মৌলিক অধিকার হওয়া উচিৎ।
তাই শুধুমাত্র পায়খানায় নয়, খোলা স্থানে হাগার অধিকার দিতেই হবে। মৃদুমন্দ বাতাসে পাছায় কভু মুথাঘাসের সুরসুরি সহ, একা বা বন্ধুবৃত্ত হয়ে মুখে বিড়ি বা গান সহযোগে হাগার মাধুর্য কি জানেন রাষ্ট্র যন্ত্রের কারবারিরা? এই রাজনিতির কারবারিদের পাল্লায় পরেই “অনসন” নামক সামাজিক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে কত জন যে হাগতে ভুলেছে তার ইয়াত্তা নেই।
তাই সুধী হাগামোদী বন্ধুগণ একজন সুস্থ নাগরিক হিসাবে হাগার উপরে এই রাষ্ট্রীয় জুলুমের প্রতিবাদে আপনাকেও সামিল হবার আহ্বান জানাচ্ছি। এই আন্দোলনের পরবর্তী ধাপ আমরা আমাদের মাঠে হাগার ছবি প্রোফাইল পিকচারে দেবো আগামিতে, #হোকমাঠেহাগা। তবেই হবে আসল চ্যালেঞ্জ এক্সেপটেড। পৃথিবিতে কতশত দিবস আছে, আমরাও মুক্ত হাগা দিবসের দাবি জানাবো। কবির সেই মহান ছড়া মনে করুন

হাগছি মোরা হাগছি দেখো
মুক্তস্থানে আহ্লাদী
ধরফরিয়ে ভরভরিয়ে
মুক্তহাগার পাল্লা দিই।
অথবা

হারে রে রে রে রে
আমায় হাগতে দেরে দেরে
যেমন হাগে বনের পাখি
মনের আনন্দে… রে।
একটা হাগা বিপ্লবের সুচনা করতে চাই আমরা। হাগুগীতির সংকলনের জন্য সরকারি উদাসিনতা মানছিনা মানব না। বিশিষ্ট হাগিয়ে শিল্পীদের বাৎসরিক গুয়েশ্রী সম্মানে ভুষিত করার সম্মান দাবি করছি। যাতে সবাই গর্বের সাথে বলতে পারে, একবার বিদায় দে মা… হেগে আসি।
মনে করুন সেই বানী, হাগন্তির লাজ নেই দেখন্তির লাজ। মানে সমল হাগাবিলাসি মানুষজন লজ্জার উর্ধ্বে। শুধু মন থেকে কপট লজ্জাকে দূর করে যে যেখানে পারেন হেগে দেখিয়ে দিন। এই হাগা শব্দ টি থেকেই গোরারা জড়াজড়ি কে হাগ বলে থাকে। আজ দেশে গরুর হাগা, মানে গোবরকে ওষুধ হিসাবে খাওয়া হচ্ছে, আমরাই খাচ্ছি অস্পৃশ্য শুদ্ধিকরনের জন্য। এখন গোবরে নাকি সোনা পাওয়া যাচ্ছে, ওই গরু কি কখনো নির্দিষ্ট স্থানে হাগে? তাহলে মানুষের জন্য কেন এই অবিচার? কেন আইন গোবরের পথে চলবে না?
আমাদের সমবেত গনহাগা মন্ডলী তে সরকারকে সামিল করলে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত নিশ্চই আর পুনরায় করবেন না। মনে রাখবেন আপনি কাল হেগেছিলেন, আজ হেগেছেন কালও হাগবেন। আপনিও মুক্তমন ও মুক্তস্থানে হাগুন ও অন্যকেও সাহায্য করুন। শুধু আপনার দুর্গন্ধ যেন অন্যের দমবন্ধের কারন না হয়ে দাঁড়ায়।
হাগতে গিয়ে কেউ মৃত্যবরন করে না, কিন্তু মৃত্যুকালে অনেকেই হেগে ফেলেন, তাই হাগা পৃথিবীর অন্য তম সহজ কাজ। যেকোন বীর বা সাধারন মানুষ যদি কোন কাজে অসমর্থ হয়, তাকে টিপ্পনি করে বলে হেগে ফেলেছে, ভাবুন এটাই কি যথেষ্ট প্রমান নয় যে, হাগাই সবচেয়ে সহজ কাজের মধ্যে একটা। অবশ্য অসুস্থতা হলে ভিন্ন কথা। হাগার জন্য কারো অসুখ করে না, অসুখ করলে মানুষ অনেক সময় হাগে।
সময় বদলাচ্ছে আগামিতেও বদলাবে, খাদ্যাভাস থেকে সব কিছুই বদলাচ্ছে, বদলায়নি শুধু হাগা, সৃষ্টির আদি মানুষও হেগেছিল, শেষ মানুষও হাগবেই। তাই হাগা কে হাগার মত থাকতে দিন।
মৃত্যুর আগে হাগাই একমাত্র সত্য।

বৃহস্পতিবার, ২১ জুলাই, ২০১৬

মেলার গান



মেলা আর মিলন শব্দটি বোধ হয় একই ধাতু থেকে উৎপত্তি। মেলাতেও মিলন হয়, আবার মিলনবেলাতেও মেলা বসে যায়, হয়ত সেটা সুখের মেলা বা সোহাগের। তাই মিলন আর মেলা একে অপরের পরিপূরক। মেলা ব্যাপারটা এই প্রজন্ম কিছুটা জানলেও আগামী ডিজিটাল প্রজন্ম কিন্তু জানবেও না কি ছিল এই মেলা। ফিল্ম আর কাব্যেই হয়ত উল্লেখ পাবে। জানবেই না, যে কি অমোঘ টান ছিল এই মেলার, সারা সারা বছর অনন্ত প্রতিক্ষা

ইন্টারনেট উত্তর যুগে তথা আজ থেকে কমবেশি ২৫ বছর আগেও মেলা কতটা প্রাসঙ্গিক ছিল জনজীবনে, আজ হয়ত পুরোটা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যায়নি, তবে আজকের বিশ্বায়নের ভারতীয় জীবনে মেলার প্রাসঙ্গিকতাও নেই। হয়ত এভাবেই যুগের পরিবর্তন হয়। আজকাল ফুড ফ্যাস্টিব্যাল হয়, ট্যুর ফ্যাস্টিব্যাল, শপিং ফ্যাস্টিব্যাল। গালভরা নাম সাথে তার মুল্য, যেন দেখনদারিটাই মুখ্য, ওতেই আত্মতৃপ্তি। সিঙ্গাপুর -দুবাই-হংকং-ব্যাঙ্কক- আজকের পৃথিবীর মেলার টপ গন্তব্য, যত মাদারির ভিড় ওখানেই। যদিও গোটা অন্তর্জালের পৃথিবিটাই তো একটা মেলা। কত্ত মানুষ গিজগিজ করছে সব সময়। হরেক স্যোস্যাল মিডিয়া, কোটি কোটি মানু সারা বিশ্বজুড়ে, পোষ্ট লাইক কমেন্টের বন্যা। আপন বাপন চৌকিচাপনের দিন শেষ, সবসময় হৈহৈ রইরই কান্ড- ২৪x৭ মেলা

যা ইচ্ছা কেনা যায়, আলাপ বিলাপ সব কিছুই। শুধু মাধ্যমটা পাল্টেছে। দ্রুততম যুগে সংজ্ঞা বদলাচ্ছে সবকিছুরই, সেখানে মেলাও বদলাচ্ছে

আগে সার্কাসে বাঘ সিংহ থাকত, ওরা হিংস্র জানোয়ার, আজকাল সরকার থেকে বন্ধ করে দিয়েছে, মাবিক কারনে। শুধু মানুই খেলা দেখায়, হয়ত এটা রূপক, কারন মানুষের হিংস্রতা আজ পশুর হিংস্রতাকে শত গুন ছারিয়ে গেছে। তাই সবচেয়ে ভয়ঙ্কর জীব তো মানুষই, তাই ওরাই আজ সার্কাস করে। মেলায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়

আজকাল মেলা আমার কাছে কিছুটা আতঙ্কের, আমার মত ভিতুর সংখ্যা দেশে কম নেই। কোথায় যে কখন কোন হিংস্র জানোয়ার থুরি মানুষ থাবা বসাবে কেউ জানেনা।

ইথারীয় জগতেও বা শান্তি কই! এখানে মুখ কম মুখো বেশি। আগেকার অনেক বড়লোকের পার্টিতে মুখো পরে নাচ হত, এখন এমন অবস্থা যে নিজের আসল মুখকেই লোকে চেনেনা, সবাই মুখোশ দেখেই অভ্যস্ত। আসলে মেলার অত্তো বড় মাঠ আজ ৬ ইঞ্চি স্ক্রিনে বন্দি, হাঁটছি দুই হাতের দুটো বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে। কতদূর আর পারা যায়

 

গ্রামীণ মেলার উৎপত্তি হাজার হাজার বছরের পুরনো, যেগুলো নানান ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং স্থানীয়  গ্রাম্য সংস্কৃতি থেকে উদ্ভূত হয়েছিল। গ্রামীণ জীবনে আনন্দ ও প্রাণচাঞ্চল্য নিয়ে আসত তাদের কৃষি পণ্য, কুটির শিল্প, খেলনা, সুস্বাদু খাবার বিকিকিনির মাধ্যমে। মেলা ছিল মূলত অর্থনৈতিক উৎসব, সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন যুক্ত হয়েছিলো গ্রামীণ জীবনে প্রাণচাঞ্চল্য নিয়ে আসতে ও মেলাকে আকর্ষনীয় করে তুলতে। ফলত যাত্রাপালা, পুতুল নাচ, জারি-সারি, নাগরদোলা, লাঠি খেলা, হাডুডু, ষাঁড় ও মোরগের লড়াই আয়োজন করা হতো। সমাজের প্রত্যেক শ্রেণীর মানুষকে একে অপরের সাথে মেলামেশা ও ভাব বিনিময়ের এ এক চমৎকার সুযোগ ছিলো।

মেলার ইতিহাস সম্পর্কে খুব কমই জানা যায় তবে ৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে এজেকিয়েলের বইতে কৃশষকদের একটা মেলার উল্লেকখ পাওয়া যায়। ৫৮৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দে টায়ার-কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার এবং মেলা কেন্দ্র হিসেবে বর্ণনা করে মেলার বিবরণ লেখা রয়েছেমেলা শব্দটি ল্যাটিন শব্দ ফেরিয়া থেকে এসেছে যার অর্থ একটি পবিত্র দিনমধ্যযুগে ইউরোপের গির্জাগুলি মেলা এবং উৎসব আয়োজন করত মূলত বিকিনির মাধ্যমে রাজস্ব আদায় করতে।

আমাদের দেশের মেলাগুলির বৈচিত্র একলপ্তে শ্রেণীবদ্ধ করা সাধ্য প্রায়। চরিত্র্য বিচারে মোটামুটি সাতটি শ্রেণীতে বিন্যস্ত করা যেতে পারে-

) ধর্মীয় মেলা

) কৃষিভিত্তিক পণ্য মেলা

) ঋতুভিত্তিক মেলা

) সাধু-সন্তের মেলা

) বরেণ্য ব্যক্তিত্ব কেন্দ্রিক স্মারক মেলা

) জাতীয় দিবস উপলিক্ষ্যে সাংস্কৃতিক মেলা

) বাণিজ্যিক সামগ্রী প্রদর্শনী মেলা

 

ছোটবেলায় পৌষ সংক্রান্তি মেলায় যেতাম বাঁশি কেনার লোভে, সাথে প্রচুর সস্তার খেলনা। মাদারি, সাপখেলা, দড়ির উপর হাঁটা, জিমন্যাস্টিকস, চড়কি, কালিপটকা বাজি, ফুলছড়ি, তারাবাজি, জিলাপি, প্যাঁদানি পরোটা, চিনেবাদাম, বুড়ির চুল সাথে বায়োস্কোপ আরো কত্তো কি। সে এক মায়াবি পৃথিবী। তখন ভাবতাম বড় হয়ে যখন নিজে পয়সা রোজগার করব যখন আর ভিড়ে হারিয়ে যাবার ভয় থাকবেনা, লম্বা হব, সবটা দেখতে পাব, তখন সবটা একা একা ঘুড়ব আর যা ইচ্ছা খাবো। আজ প্রায় ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি, পকেটে টাকাও থাকে, অন্তত সেই দিনের থেকে ঢের বেশি, হারাবার ভয় ঘুনাক্ষরেও নেই। কিন্তু সেই কচি মনটা আর নেই। তেতো একটা মানসিংহ আজ উলঙ্গ সমাজে ধর্ষিত হচ্ছি, পারলে নিজেও ধর্ষন করছি। লম্বা হলে যে মেলা দেখার বদলে নিজেদের ঘাঁ ভরা ন্যাংটা স্বরূপটা আবিষ্কার করব তা স্বপ্নেও ভাবিনি

মাঝে স্কুল লাইফের শেষে খুচরো প্রেমের হিরোগিরি চলত, ভিড়ে সাইকেল চালানোর কেরামতি দেখিয়ে কোন বিশেষ জনের দৃষ্টি আকর্ষন পেতে। মনে পরে নগদ ২০ টাকা দিয়ে কাঁচের শিশিতে একটা রজনীগন্ধা সেন্ট মেলা থেকেই কিনেছিলাম, ওটাই আমার কেনা প্রথম প্রসাধন। হরেক রকমের সস্তার সিগারেট খাওয়ার মজা আজ বেনসন হেজেসেও পাইনি। তার সাথে থাকত ওই বয়সের দুর্নিবার আকর্ষন স্বল্পপোষাক পরিহিত সভ্য সমাজের চোখে অশ্লীল নেটো গান। একমাত্র মেলাতেই সেটা সহজলভ্য ছিল। সেদিন বক্ষবিভাজিকা, থলথলে চর্বিযুক্ত নাভি সহ বেঢপ থাই দেখেই পিসার টাওয়ার হেলে যেতোআজও দেখি, তবে দর্শনটা অন্যত্র এটাই যা ফারাক

 

গ্রামীণ মেলা ক্রমশ প্রযুক্তির অগ্রগতি ও আধুনিক জীবনের চাহিদার সাথে দৌড়াতে না পেরে। টেলিভিশন, মোবাইল ফোন, এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিনোদন পাচ্ছে, ঘরে বসে মনের মত পণ্যের ডেলিভারি পেয়ে যাচ্ছে, ফলে মেলার প্রতি আগ্রহ ও প্রয়োজন দুটোই কমে যাচ্ছে।

অথচ গ্রামীণ মেলা আমাদের স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি মূল্যবান অংশ। স্থানীয় গ্রামীণ অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানও বটে।  সঠিক উদ্যোগ এবং পরিকল্পনার মাধ্যমে আমরা মেলাগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতেই পারি। গ্রামীণ মেলাগুলোকে পর্যটন শিল্পের সঙ্গে সংযুক্ত করে পর্যটকদের জন্য  আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে। প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধরে রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়াটাই গৌরবের। নতুবা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে এককালের বাংলার জনপ্রিয় গৌরবময় অধ্যয় চিরতরে হারিয়েই যাবে।

এখনও আমি নিয়ম করে মেলায় যায়, তবে শুধু মানুষ দেখতে। তবে দিনে কম, রাতের দিকেই যায়। বয়েস বাড়ার সাথে সাথে লম্বাতেও যেমন বেড়েছি, দৈহিক ও সামাজিক আয়তনেও প্রয়োজনের তুলনায় বেশিই বেড়েছি, তাই সমাজটাকে খুব কাছ থেকে দেখা যায়। কত ধরনের মানুষ মেলাতে ভিড় করে, দোকানদার, সস্তায় মাল খোঁজা খদ্দের, বাবাজী, ফকির, জ্যোতিষ, দালাল, মজুর, চাষী, প্রেমিক, শিল্পী, বাবু, সেচ্ছাসেবক, পুলিশ, সাইকেল স্ট্যান্ডের ডাকপার্টী , চাঁদা কালেক্টর, পকেটমার, মাইক হাতে ঘোষোক, বাউল, সেবাদাসী, পর্ন সিডির দোকানি, বাঁশি, ক্যাটক্যাট করে আওয়াজ করা বাজনার ভিড়ে রাজনৈতিক নেতাদের ভিড় সহ বেশ্যা, তার দালাল, নব্য প্রেমিকের ছোঁকছোঁক করা হাত- অগুন্তি উদ্দেশ্যের ছড়াছড়ি।

কত্তো কিছু-

কত ধরনের গন্ধ যে মেলাতে উড়ে বেড়া তার খবরই বা কজন রাখে! মেলার প্রতিটি ধুলোতে একটা করে গল্প লুকিয়ে থাকে। তাদের না শুধালে তারা বলেনা। সমাজকে এতো কাছথেকে দেখা ও উপলব্ধি করার আজও সেরা উপাই এই মেলা

শুধু এগুলো দেখতেই আমি কমপক্ষে চারপাঁচটা মেলা ঘুরি, শান্তিনিকেতন পৌষ মেলা, আমাদের উৎরান্তি মেলা, কলকাতা বইমেলা, নবদ্বীপ রাসমেলা- জীবন জানতে হলে মেলাই সেরা স্থান। নিজের মুল্যায়ন টাও এখানেই করা যায়, যদি আপনি চান

 

শুক্রবার, ২০ মে, ২০১৬

রূপচর্চা

 


রূপচর্চা

ইহার পর সুজি দি পায়েস রন্ধন করিয়া রোগীনির খাবার পরিবেশন করিবার জন্য প্রস্তুত হইতে লাগিলাম। রোগীনি আমার গৃহিনী, তাহার রুগ্ন হইবার যথাযথ কারণ রহিয়াছে। কয়েক দিবস যাবত আটা-ময়দা-সুজি না মাখিতে পারিয়া, আমার উপর অভিমান করিয়া সে খানা- পিনা ছাড়িয়া দিয়াছিল। না খাইবার সেই তুমুল প্রচেষ্টা ইস্তক ক্রমশ সে অসুস্থ হইতে থাকে। আমি মরিয়া যাই অভাবের তাড়নায়, আটা-ময়দা- সুজিও না খাইয়া; আর সে মরিতে চায় সেই সকল অন্নদ্রব্যাদি না মাখিতে পারিয়া। তাহার মুখব্যাদানে জাবনার প্রতি আমার আপত্তি নাই; কিন্তু সেই খাদ্যদ্রব্য বিলেপনের প্রতি আপত্তি রহিয়াছে, এবং ঘোরতর আপত্তি।

পয়সার অভাবে যখন তাহার রূপচর্চার নিমিত্তে আটা-ময়দা-সুজি খরিদ করিতে পারিলামনা; তখন সে অভিমান করিয়া, না খাইয়া, ঝগড়া-ঝাঁটি করিয়া দিনাতিপাত করিতে লাগিলএমতাবস্থায় আমার শ্বশুরকুল্যের বোধোদয় ঘটিয়া নিজের কন্যাকে বাপের বাড়িতে লইয়া গেলেন। সর্বসাকুল্যে আমার দোষ নির্ধারন করিয়া কর্ণ মলিয়া দিতে চান। শ্বশুর আমার কৃষক, তাহার উপরে অতিশয় কৃপণ, স্বভাবতই তাহার অবস্থা আমা অপেক্ষাও অতি দীনতাই তাহার তুলনায় অবস্থাপন্ন আমাকেই তিনি তাহার পঞ্চম কন্যাকে পাত্রস্থ করিয়াছিলেন। সুতরাং ধনী স্বামীর নিকটে রূপচর্চার আবদার করাটা মৌলিক অধিকারের অন্তর্গত, কিন্তু সেটা পূরণ করা আমার বুনিয়াদী কর্তব্যের মধ্যে পরেনা।

আমার গৃহিণীর প্রতি আমার অনুরাগ প্রশ্নাতীত, তথাপি স্ত্রী বিয়োগের অভাব জনিত কারনে অন্তরে অন্তরে কাঁদিয়া বেড়াইতাম। তাহাকে পিতৃগৃহ হইতে প্রত্যার্পনের নিমিত্ত পৌঁছাইয়া ভেউভেউ করিয়া ক্রন্দন করলে পর- তৎক্ষণাৎ সে আমাকে ঘেউঘেউ করিয়া বিতারণ করিয়া দিত। তবুও অবস্থার বেগতিক দেখিয়া আমি বুদ্ধি আঁটিলাম যে, পুরাতন ফেসওয়াসের টিউবে আমার সমস্ত ক্রন্দনের জল আর তরল নাকের সর্দি জমা রাখিব, তাহাই করিলাম। টিউবটি পূর্ণ হইলে ফেসওয়াসের লোভ দেখাইয়া তাহাকে আনিয়া লইলাম বটে; তবে কথা লইয়াছিল তাহার আটা- ময়দা-সুজির অভাব অপূর্ণ রাখা যাইবেনা।

তৎক্ষণাৎ মনে মনে ভাবিলাম, প্রয়োজনে দশ টাকা দিয়া এক প্যাকেট চক(খড়ি) কিনিয়া তাহা পিষিয়া পাউডার বলিয়া চালাইয়া লইব। কারন পোড়া মুখে খড়ি হউক বা ল্যকমে, ফলাফল সেই একই। তদহেতু, বৌ এর রোগটাও যখন মানসিক, তখন এটাই যথেষ্ট।

অতএব, আমি বলিলাম, আচ্ছা-তাহাই হইবে। যাহাই হোউক, বাড়িতে ফিরিয়া ফেসওয়াস পাইয়া অতি খুশিতে বউ আমার লক্ষী হইয়া উঠিল, নিত্যদিন মনের আনন্দে বউটি সেই ফেসওয়াস মাখিয়া চলিল; আমি কেবলই অতি ক্লেশে দিনের খাবার দিনে যোগাড় করিয়া যাই। পায়ের ঘাম মাথায় তুলিয়া সারাদিনে যাহা রোজগার করি, তাহাতে সুজির লোনা পায়েস আর আটা-ময়দার পোড়া রুটিই কেবল গলাধঃকরণ করার জন্য জুটিতে পারে। তবুও ঠিক মতো যোগাড় করিতে পারিনা- দাম অতি চড়া, রোজগার অতি সামান্য। ওদিকে রুটি পুড়িয়া যায় কারন আমার বউয়ের বারবার আয়না দেখিবার জন্য সময়ের বেঘা ঘটে ।

আটা-ময়দা-সুজি, হলুদ আর মুসুরির ডালের দাম কেবলই বাড়িয়া চলিয়াছে। যার অন্যতম কারন বোধহয় আমার বউয়ের মতো বউ সকলই এসব দিয়া রূপচর্চা করিয়া বাড়তি অপচয় করিয়া থাকেন; ফলস্বরূপ দ্রব্য সীমিত হইয়া যাওয়ায় দরুন দাম বাড়িয়া গিয়াছে। আমাদের মতো পতির পক্ষে রূপচর্চা তো দূরে থাউক; খাইবার জন্যও তাহা কিনিবার সামর্থ্য হারাইতেছি। তাছাড়া খাইবার জন্য যখন এইসমস্ত দ্রব্য কিনিয়া আনি, তখন আমার বউ আর আমার সহদোরা তাহা হইতে অধিকাংশ টাই ঠাইয়া আলাদা করিয়া রাখিয়া দেন, আর তাহাতে পোড়া বেগুনের মত ক্ষত ভরা মুখমন্ডলের রূপচর্চা হইয়া থাকে- তাহা সত্বেও বারবারই কম পড়িয়া যায় প্রসাধনে। প্রথমে মাখিবার জন্য ও পরে খাইবার জন্য

আমি যখন বিষয়টা বুঝিতে পারিলাম, বোনকে মৃদু ভর্তসনা করিলাম ও তাহাকে যথাসাধ্য বোঝাইলাম যে সে কেন এই সকল খাদ্য দ্রব্যের অপচয় করা থেকে বিরত থাকিবেনা। ইহাতে সে ক্রুদ্ধ হইল, এবং স্বদর্পে তাহার বৌদির সহিত সেই ফেসওয়াস তৈরির গোপন ফর্মুলা ফাঁস করিয়া দিল। ব্যাস ভুকম্পের আর অবশিষ্ট রহিল না। সেই যাবৎ না খাইয়া, ঝগড়া-ঝাটি করিয়া আমার স্ত্রী রত্নটি অসুস্থ রহিয়াছে। ভাবিয়াছি- আগামী কাল্য হইতে আমার রুটি- পায়েসের ভাগে যে আটা-ময়দা-সুজি ব্যয় হয়, সেসমস্ত তাহাদের রূপচর্চার তরে ব্যয় করিব।

তাহাদিগকে খুশি রাখিতে, প্রয়োজনে আমি না খাইয়া থাকিব, যদি তাহাদের কিছু অবশিষ্ট থাকে তাহাই আমি ভক্ষন করিব। কোন কূলবধু হয়তো বলিবেন, স্বামীর সুস্থ থাকার জন্য ইহার অতি প্রয়োজন রহিয়াছে, কারন বেশি খাইলে মেদ বাড়িয়া যাইবার ঝুঁকি প্রবল, সুতরাং কম খাইবার দরুন খে না থাকায় শ্রেয়। এক্ষনে কেহ বলিবে স্বামীর মনে শান্তি না রাখিয়া শুধু রূপ দেখাইয়া সুখ দিতে যাওয়া অতি নিম্ন কর্ম, কিন্তু আমি বলি প্রথমে পেটে শান্তি প্রয়োজন, মানসিক শান্তি তো পরবর্তী পরিচ্ছদের পাঠ্য। বউ আমাকে ছাড়িয়া বাপের বাড়িতে যাইয়া থাকিতে পারিবেন; কিন্তু আটা-ময়দা-সুজি ছাড়িয়া রহিতে পারিবেন না, এ সত্য প্রমানিত। পাশাপাশি আমিও বউ বিনা রহিতে পারিব না।

একেক সময় ভাবি, কোনটা স্ত্রীজাতির অঙ্গ। শুভ্র সজ্জা বিশিষ্ট বহিরাঙ্গ? নাকি জন্মগত সুত্র প্রাপ্ত চর্ম সম্বলিত একটি কোমল স্ত্রী হৃদয়

যে যাহাই হউক, পেটে ও মন দুটোই অভুক্ত। কারন ঘরে ও মনে কোথাও আপাতত স্ত্রী নাই, আছে শুধু অনেক অনেক বেশী রোজগারের প্রয়াস। তাহাতে প্রান বাঁচুক আর নাই বা বাঁচুক

 

বুধবার, ১৮ মে, ২০১৬

অদ্বুধুরে

 


‘কি করে তোকে বলব, তুই যে চামার’। না পেশাদার চসমখোর না হলে দুম করে কাওকে চামার বলা যায় না। তবে গলায় গলায় বন্ধু হলে অবশ্য সবটাই সম্ভব। অবিশ্যি আজকাল গলায় গলায় বন্ধুত্ব আর হয় কোথায়, সবটাই জালি বন্ধুত্ব, মানে অন্তর্জালের মায়া। তার পরেও যদি বন্ধুত্বটা গলাতে কফের মত এসে আটকে যায়, তাহলে নির্ঘাত আপনি রামধনু পতাকার নিশ্চিন্ত ছায়াতলে।
রামধনুর কথা উঠলে বঙ্গ রাজনীতির কথা আর চাপা থাকে কি করে! অম্বলের চোয়া ঢেকুরের মত ঠিক টাকরার কাছে জ্বালা করবেই। জোট ঘ্যোট রামধনু এই শব্দগুলো সারদা নারদা উড়ালপুলের মতই প্রাসঙ্গিক। তাই, মমতাহীন সূর্যের তাপে রাজনীতির মানসপুত্র পাবলিক, অধীর আগ্রহে চাতকের মত ফলের প্রতিক্ষায় অমিতবিক্রম দেখানোর জন্য প্রস্তুত। অনু, পরমানুবোমা নিয়ে ভেরীকাঘাতের জন্য প্রস্তুত। বিমান বাহিনী থেকে অর্জুনাশিষ্য সক্কলেই সব্যসাচী স্বরুপ পঞ্চহস্তে প্রত্যাঘাতের জন্য প্রস্তুত। গণতন্ত্রের ভোটোৎসব, বঙ্গদেশে যেখানে চোদ্দতম পার্বন রুপে অত্যান্ত ভক্তিভরে ও সমারোহে পালিত তথা পূজিত, এবং আরাধ্য দেব-দেবীরাও অত্যন্ত জাগ্রত, সেখানে বিনা রক্তপাতে পূজাচার সম্পন্ন হবে, সেটা ভাবার মত ম্লেচ্ছতর কর্ম আর দ্বিতীয়টি নাই।
রক্তের কথায় মনে পরে, প্রথম দৃশ্যঃ- কোলকাতায় মাথার উপরে, বিরোধীদের ভাষায় উন্নয়ন ভেঙ্গে পড়ল, বাম –ডান –রাম সকলেই ছুটিয়া চলেছে নিজের নিজের ইস্টাইলে। শাষক গোটা মহাকরণটিকেই ঘন্টা দুয়েকের জন্য ভাঙ্গা ব্রিজের তলে স্থানান্তরিত করে ফেল্লো, তো আবার বাম মানিকতলায় রক্তারক্তি কান্ড ঘটাচ্ছে, আর ‘রাম’ মাঝ রাতের কিছু আগে সুসজ্জিত হইয়া একবার আবশ্যিক হাজিরা দিয়ে মুখ রক্ষা করল। সমগ্র বঙ্গবাসীর সে কী আকুল হায় হায় রব। এমনকি তাসলিমা নাসরিনও ফেসবুকে একটা গোটা প্রবন্ধ লিখে ফেল্লো। সমবেত দীর্ঘশ্বাসের গরম হাওয়াতেই যাবতীয় ঘা- ফুসকুরির উপরে পুরু মামরি জমে গেল।
এবার দৃশ্য দুইঃ শান্তিপুর।
আবার ঘটল নৌকাডুবি। না, এ মোটেই কাব্যের নৌকাডুবি নয়, তাই অন্যের বউ লাভের সৌভাগ্য ঘটে নাই। যেটা ঘটেছিল তা হল শুধু হাহাকার। স্থানের নাম কাল-না হলে কি হবে, কালবিলম্বের অন্য তম সাক্ষী এই নৌকাডুবি এবং কালনা মহকুমা হাসপাতাল। চুরান্ত প্রশাসনিক অদক্ষতা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতা। আমাদের বিদায়ী (জানিনা পরবর্তী তে আসবেন কিনা তাই) মুখ্যমন্ত্রীর দর্শনে “ ওটা তো গ্রামের ঘটনা”, বলিয়া উনি হয়ত আসেন নাই। যেহেতু ওখানে শাসক নেই, তাই খুব স্বাভাবিক ভাবেই মানুষের মহাজোটও নেই। লম্বা দাড়ির জমিয়েত নেই, হাফপ্যান্টের গলার শির ফোলানো দেশপ্রেমিকের দলও নেই।
তবে জাতীয় কংগ্রেসের প্রার্থীর মারের চোটে লাল হয়ে ফুলে যাওয়া লোমশ পৃষ্ঠদেশ যতটা ফুটেজ পেয়েছে, মূল নৌকাডুবি কিছুক্ষনের জন্য TRP হারিয়েছিল। আসলে এমনিতেই বিরাট কোহলির ফর্ম সপ্তমে, তাই আইপিএল আর ভোটের ফলের পূর্বাভাস দেওয়া হাফ জ্যোতিষী হবার মত গরম রগরগে টপিক ছেড়ে কে ওই ঘোলা জলে যায় বলুন তো?
আরে বাবা কটা হিন্দু মরলো, কটাই বা নেড়ে পাপীষ্ঠ, কতগুলো দেশদ্রোহী, গুন্তি করার জন্য কেউ নেই। দাড়ি হয়ত ভাবল , আরে ও কটা তো হিঁদু, মরুকগে। টিকির দল ভাবল , এ হল ইশ্বরের আশীর্বাদ, সরাসরী গঙ্গাপ্রাপ্তি। এ বড়ই সৌভাগ্যের, তাই ভগবানের কর্মে কাঠি না করায় শ্রেয়। পাবলিক কিন্তু ভাবিয়াছে। তাদের যাবতীয় ক্ষোভ সহ সলিলসমাধি হওয়া মানুষ গুলোর আত্মার তর্পনের উদ্দেশ্যে কয়েকটা নৌকা ট্রলার পুড়িয়ে শ্রাদ্ধ শান্তি দায়িত্ব সহকারে করেছেন। মাঝখান থেকে ভবাপাগলা মুচকি হেসে এককুড়ি লাশের তর্পন অত্যন্ত প্রসন্ন চিত্তে গ্রহন করিয়া নিজেকে জাগ্রত প্রমান করিলেন।
দুঃখের কথাটা অন্য স্থানে। নির্বাচন কমিশনকে ভোটে লড়তে হয়না, তাই তাদের মৃত পরিবারকে ক্ষতিপূরন দেবারও দায় নেই। ঘটনাক্রমে রাজ্যটা এখন তাদেরই অধীনে। দিদি বা দাদা কেউই পরবর্তী উৎপীড়ক পদের জন্য ঠিকঠাক আত্মবিশ্বাসী নয়, তাই কেও জলে ঝাঁপিয়ে পড়েনি। ২০ টা লাশ মিলুক বা নিখোঁজ, এখন সেটা ৪০ হলেও কী আসে যায় তাতে, কারন জল বা জলপথ কোনটাই যে ইঞ্চিতে মাপা সম্ভব নয়।
ধর্ষণ এখন, বোরোলীনের বিজ্ঞাপনের মতই “বঙ্গ জীবনের অঙ্গ”। আজকাল বৈদুত্যিন মিডিয়ার কল্যানে জাপানী তৈল আর রকেটে ক্যাপসুলের দরাজ উপস্থিতিই চোখের তথাকথিত পটিকে উল্টিয়ে দিয়েছে। তাই দুই হস্ত ও পদযুগল ব্যাতিরেকেও পুরুষলিঙ্গ এক্ষেত্রে পঞ্চম হস্ত স্বরূপ। রাগ হলে ধর্ষণ করা যায়, একাকিত্ব কাটাতে ধর্ষণের জুড়ি নেই, হর্ষ ও উল্লাসের আধুনিকতম মূর্ত প্রতীক হল এই ধর্ষণ। ক্লাবে, রকে, ঠেকে, কোর্টে, সংবাদপত্রে, আইনসভা থেকে মাচা সর্বত্র ধর্ষণ সম্বন্ধীয় গূঢ় আলোচোনায় নিমগ্ন। মুড়ি আর আলু শুনেছিলাম সব কিছুতেই চলে, ধর্ষণটা নবতম সংযোজন। এর পর জন্মদিন বা শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের মেনুতে হয়ত একটা ধর্ষণের পদ রাখা হবে। কারন বৈবাহিলক সম্পর্কে ইতিমধ্যেই ধর্ষণ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
অনেকেই সুখ পেতে চায়, কারো সুখ ত্যাগে- তো কারো ভোগে। ঠিক তেমনই কেউ কেউ যন্ত্রণা চায়। কারন তারা একঘেয়ে সুখের জীবনে আর বৈচিত্র পাচ্ছেনা, তাই যন্ত্রনাই চাই, যাতে সুখকে আবার খুঁজে পাওয়া যায়। আজকাল দেশের হত্তাকর্তারা চারিদিকে মৌলবাদী মেরুকরনকে এলাকোষীর মত, চুলকানির কারক হিসাবে ছিটিয়ে , দ্রব্যমুল্য বৃদ্ধি ও দুর্নীতির রাম চিমটি কেটে , পাবলিককে বলছে “একটু হাসুন”। বলি কাকা, আফনেরা যা কত্তিচেন, তাতে ঘোড়াতেও হাসতিসে, আমি তো কোন ছাড়।
দোলে দোদুল দোলে দোলোনা... কি করে আর দোদুল দুলবে! আন- দোলনের চোটে ত্রাহী ত্রাহী রব বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর গুলোয়। বিশেষ করে যেখানে লাল ঝান্ডার রাজত্ব। ঐতিহাসিক ভাবে সত্য এটাই যে, চুরান্ত ধান্দাবাজ ছাড়া কোন শিক্ষিত চিন্তাশীল রুচীবান মানুষ উগ্র মতাদর্শবাদী কোন দল বা সংগঠনের সাথে নিজেকে জড়াবেন না। তার পরেও যদি কেউ জড়িয়ে যান, সেটা নিশ্চই তার সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবে। আর এ রোগ বড় ছোঁয়াচে।
বিগত শতাব্দীর হাম, যক্ষা বা কলেরার থেকেও মহামারী। সমগ্র বিশ্বে নানা বেশে, নানা রঙে রাঙানো এদের পতাকা। নাম আর অবস্থান ভেদে এদের মৌলিক চরিত্রের কোন পার্থক্য নেই। আমাদের দেশের সমস্যাটা হল, এরাই দেশপ্রেমের সার্ভিস সেন্টার খুলে বসেছে। হয় এদের রঙে নিজেকে রাঙিয়ে নাও, নইলেই চাপাতি। ধুতে বাছতেই সাবার, তো পাগলা খাবি কি!
মধ্যবিত্তের অবশ্য কোন কিছুতেই কোন হোলদোল নেই। মেনকা বৌদির সাথে ঘেমো সম্ভোগে বরং বেশি কসরৎ করতে হয়, আর তা না থাকলে মোবাইলের মায়াবী স্ক্রীনে সানি মামনি। স্খলনের রেডিমেড পন্থা। ওই টুকুই তো রোমান্স, দেড় থেকে বড় জোর ১০ মিনিট, বাকি তো সেই এবিপি আনন্দ নাহলে সাবটিভির জ্যেঠালাল। সকালে উঠে ইলিশের দাম দড় করে চুনো মাছ কিনে বাড়ি এসে, একটা ‘উইন উইন’ ভাব তৈরি করা।
অফিসে... গরমে দুদন্ড শান্তি নাই। গরমকাল এমনিতেই “ফলে ফলে ঢলে ঢলে... , আম জাম কাঠাল তো আছেই সাথে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক জয়েন্ট, আর এবছর তো কুম্ভযোগ। বিধানসভার ফল। আর তার জন্য কী রোমান্টিক দীর্ঘ প্রতিক্ষা। প্রতিযোগীদের জন্য অবশ্য কমোডে বসে কোষ্ঠকাঠিন্যের সুখানুভূতি।
একটা দল যদি মনোজদের অদ্ভুতবাড়ি হয়, তাহলে আরেকটি নিশ্চিত হযবরল। নরেন খুড়ো মাঝে মাঝে তারিণী খুড়ো স্টাইলে আষাঢ়ে গপ্পো শুনিয়ে যাচ্ছেন, সে পর্যন্তও মানা যেতেই পারে, বাস্তবিক মানছিও। কিন্তু এরা টম জেরির স্টাইলে মারামারিটা করতে পারেনা। মারবে কিন্তু মরবে না। কথায় কথায় বাপ-মা তুলে উদোম খিস্তি। বলি সাগর ঘোষ বেনে বা বানিয়ে কি লাভ! আদপে তো সব্বাই সেই হৃদয়।
দেশ যে দ্রুত হারে উন্নয়ন করছে তা আমাদের শাষক দলের নেতাদের দেখলেই বোঝা যায়। দেখুন কেউ তো আর দাতা কর্ন নয়, যে সব ভুলে পরোপকার্থে ঝাঁপিয়ে পরবেন। আরে বাবা ঝাঁপানোর জন্য দেহে বল প্রয়োজন, তার জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন নিজের উন্নতি, স্ব-উন্নয়ন চুরান্ত সীমা অতক্রম করে নিশ্চিত উপচে পরবে, আর আগামীতে তারা ক্ষমতায় এসে এই উপচে পরা উন্নয়নের বন্যায় দেশবাসীকে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে। বিরোধী আসনে বসলে শক্তিশালী বিরোধী হবেন যে তাতে সন্দেহ নাই।
বিপ্লব স্তিমিত নেই, কোথাও প্রেমের তো কোথাও যৌনতার। বিপ্লব এখন রিলে রেস হিসাবে চলছে। আজ রোহিত ভেমুলা তো কাল কানাইয়া কুমার। অবশ্যই মাননীয় শঙ্কু স্যার প্রবাদপ্রতিম। মাঝে ঘোষ বাবুও লাইমলাইটে আসার কম চেষ্টা চালাচ্ছেন না। কিন্তু লাইম মানে চুন, আর পরিমান না জেনে খেলে গাল পুড়বে, হচ্ছেও তাই। ইথারের দুনিয়া বিপ্লবের পরিসরকে বাড়িয়ে দিয়েছে সন্দেহ নাই। কিন্তু সমাজটা তো মধ্যবিত্তের। যারা সেফ খেলতেই পছন্দ করেন। এনারা অন্তর্জালের সম্রাট, নিতান্তই ভাতের থালায় লাথ না পরলে পথে নামেন না, তাও সেলফি তুলতেই অর্ধেক সময় কেটে যায়।
এর পর আছে ঠিকিঠাক প্রফস নির্বাচন। বায়ু আর ইশ্বরের মতই তৃতীয় সত্য হচ্ছে মিডিয়া, জলে স্থলে অন্তরিক্ষ সহ এরা সকল স্থানেই হাজির। কিছু কিছু মানুষের মনেও। বিপ্লবের শীঘ্রপতন। বাটিকা স্বরুপ যে সকল জরিবুটির আমদানি হচ্ছে তাতে স্ট্যান্ড আপ কমেডিকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে- বিপ্লব বাবু। যেন, চুমু- ন্যাপকিন বা ব্রা-প্যান্টি।
চটির স্বর্ণযুগ কখনও লেখা হলে, তা নিশ্চত এই সময়কালটাই যে হবে তাতে কারো সন্দেহ নাই। নবান্নে হোক বা সাংবাদিক বৈঠকে- বক্তাকে লক্ষ্য করে ছুড়ে, আবার বটতলার চটির অনলাইন সংস্করণের একনিষ্ঠ পাঠক হয়ে, চটিকে আমরা অমরত্ব প্রদান করেছি।
বিগত পাঁচ বছরে ভাগ্যিস আর কোন শিক্ষক নিয়োগ হয়নি, নাহলে সমাজে ক্লীব লিঙ্গের সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পেত আদমশুমারিতে। শিক্ষক প্রজাতি এক বিশেষ ধরনের অজানা ভাইরাসের প্রভাবে অভিযোজিত হয়ে এই পর্যায়ে উপনীত। এরা সময়ে বেতন পান না, কাজের ঠিক নেই, অনেক শিক্ষক আছেন যাদের ছাত্রদের পড়ানো ছাড়া বাকি সকল কিছুই করতে হয়।
এনারা নিজেদের প্রাচীন যুগের দাস হিসাবে ভাবতে পছন্দ করেন। প্রতিবাদ কী জিনিস এনারা জানেননা, কেও কেও তো এই শব্দটার নামই শোনেননি, কেও ভুলক্রমে শুনে ফেললে এটা নিষিদ্ধতালিকায় ফেলে ব্লক করে দিয়েছেন। নিতান্ত হাতেগোনা ব্যাতিক্রম ছাড়া কেউ শত অপমানেও মুখে রা কাটেন না, কিন্তু ফেসবুকে নীতিকথায় ফোয়ারা ছোটান। মোটকথা সমাজের সবচেয়ে ভীরু প্রজাতি হল শিক্ষক সমাজ।
উদয়ন পন্ডিতেরা আজ রাজার আস্তিনের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন। এবিপিতেও এক উদয়ন আছে বটে। বাকি যারা ছিলেন তাদের জন্য যন্তরমন্তর ঘরের মগজধোলাই। ব্যাস, বৃত্ত সম্পূর্ন। তাই কেউ বলার নেই ‘দড়ি ধরে মারো টান”... তবে হ্যাঁ, আধুনিক শিক্ষকেরা ফেসবুকটা করেন মন দিয়ে, সাথে এঁড়ে তর্ক। আমার চেনা পরিচিত এমন কয়েকজন আছেন, আগামিতে বিএড করার পাশাপাশি ফেসবুকের এক্টিভিটিও যেন মার্কসে যোগ হবে এই ভেবে ফেসবুক করেন ও করতে উৎসাহ দেন।
আসলে পেটের গন্ধবায়ু পায়ুদেশ দিয়ে নির্গমন হবার যেমন রাস্তা, বর্তমানে ফেসবুকও শিক্ষকদের গন্ধবায়ু নির্গমনের স্থান। যাবতীয় না পাওয়ার ক্ষোভগুলো ফেবুতে এসে বমি করেন। শিক্ষকদের জাতীয় মুখ যদি বিজন সরকার হয়, তাহলে বলতে হবে এটাই হওয়ার ছিল। আমার লেখায় যাদের যাদের গাত্রদাহ শুরু হল, তাদের বলি একটু নবরত্ন ঠান্ডা কুল পাওডার মেখে উলটো কাতে শুয়ে পরুন। কারন ওর বেশি কিছু করতে মন চাইলেও মুরোদ নেই।

সুতরাং, নিঃবংশের নাতি মরে আগে, সেই অমোঘ সুত্র মেনেই সকলের আগে, এককালে কথিত সমাজের মেরুদন্ড স্বরুপ শিক্ষক জাতটার মেরুদন্ডই ঘুন পোকায় ঝনঝনে হয়ে গেছে। বাঁচাবে কে আমাদের? নিন্মমেধার বা অশিক্ষিত রাষ্ট্রনায়কদের দাপাদাপি তাই তলিয়ে যাওয়া সমাজের প্রকৃষ্ট বিজ্ঞাপন।

ফেসবুকীয় সিপিএমঃ ফিউজড আইনগাইডেড কামিকাজে ড্রোন

  ফেসবুকের ‘সিপিএম’ নামক এই চুড়ান্ত আঁতেল ও প্রায় সর্বজ্ঞ গোষ্ঠীটার পূর্ণ বোধোদয় বা পূর্ণ বিনাশ না ঘটা অবধি রাজ্যের বাম নেতৃত্বের খুব বেশী ...