শুক্রবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

মদনগীতি

 


একটা ভক্তিগীতি পেশ করলাম, সাতদিন ত্রিসন্ধ্যা জপ করুন, অষ্টম দিন মিরাকেল ঘটবেই ঘটবে। (শঙ্খ বাজিয়ে মাকে ঘরে এনেছি, সুগন্ধে ধূপ জ্বেলে আসন পেতেছি।) সুরে সুরে সমবেত ভাবে গাইবেন।


পেটো ফাটিয়ে তোমায় ঘরে আনবো

ফরেন লিকার দিয়ে আতর বানাবো

ত্রিফলা জ্বেলে, নেবো তোমায় বরণ করে

মামা-টি গর্মেন্টে ফেরো আলো করে

এসো পিসির ভাই, বোসো ঘরে

সাজাও চোলাই ঠেক আলো করে।

কচি কচি মালে তোমায়, সাজিয়ে দেবো ঘর

বাইস মাসের খিদে ভুলে, খাটে উঠাও ঝড়

জাপানি তেল, রকেট- দিলাম দু’হাত ভরে

উৎসব করো তুমি একমাস ধরে।

 


উন্মাদনামা - ২১

কবিগুরুর মহান উক্তি, 

পৃথিবীতে ভয়কে যদি কেহ সম্পূর্ণ অতিক্রম করিতে পারে, বিপদকে তুচ্ছ করিতে পারে তবে তাহা প্রেম।



- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

ভয়কে জয় করা যায়, কিন্তু দায় আর দায়িত্ব কে বিসর্জন দিয়ে প্রেমকে প্রতিষ্ঠা করা কি বড় বিশ্বাসঘাতকতা নয়? তাই গুরুদেবের পায়ে প্রণতি রেখেই বলছি, সবটা বোধহয় ঠিক নয়, দায়িত্ব অনেক সময় মানুষকে বিপন্ন করে তোলে , একদিকে তার নিজস্ব চাওয়া পাওয়ার অনুভূতি আকাঙ্ক্ষা দিয়ে সাজানো পৃথিবী, যার নাম প্রেম, অন্যদিকে কতগুলো নিরপরাধ নিঃসহায় মুখ......... 

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রেমকে যুপকাষ্ঠে তুলে দায়িত্ব পালন করতে হয়। এক্ষেত্রে ত্যাগটা বোধহয় সবচেয়ে কঠিন, আর পবিত্র ত্যাগ। ভালবাসা হয়ত লৌকিক পূর্নতা পেলনা ঠিকিই, কিন্তু তাবলে প্রেম কি মিথ্যা হয়ে যায়??

উন্মাদনামা ~ ২০

আমার পদবি পুরাণ
******************* 

এই পদবীর ইতিহাস কিন্তু ইতিহাস ঘেঁটে পাওয়া দুষ্কর।

চোদ্দশো থেকে ষোলশো শতকের মাঝা মাঝি ব্রিটিস রয়াল নেভির বিকল্প হিসাবে স্পেনের রাজা, স্প্যানিশ আর্মাডা নামে সমুদ্র সেনাবাহিনী পত্তন করেন, অথবা পূর্বেই পত্তনকৃত বাহিনীর নামকরন করেন ওই নামে। এবং এই সেনার শক্তি বৃদ্ধি ঘটান। 

তাতে করে পর্তুগীজ জলসীমান্তের জলদস্যুদের দস্যুবৃত্তিতে খুবই অসুবিধা হতে লাগত। আগে তারা, জলপথে ইতস্তত বিক্ষিপ্ত ভাবে চুরি ডাকাতি করত। স্প্যানিশ আর্মাডার দাপট, ওই পর্তুগীজ ও স্প্যানীয় জলদস্যুদের অনেক ছোট ছোট দলগুলোকে এক যোগ হতে বাধ্য করল। 

তারাও নিজেরা বাহিনি গড়ল। স্প্যানিশ আর্মাডা আর রয়াল নেভির সাথে লড়ার জন্য।


স্প্যানিশ বাহিনির নামের সাথে সাযুস্য রেখে আতালান্তিক মহাসাগর আর প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে জন্ম নিল এক কুখ্যাত বাহিনি, যারা নিজেদের হার্মাদ বলে পরিচয় দিত। পরবর্তী কালে জলদস্যু বা পাইরেটস আর হার্মাদ প্রায় সমার্থক হয়ে যায়। সকল জলদস্যুদেরই হার্মাদ বলা হত।


বিখ্যাত সিনেমা সিরিজ "দ্যা পাইরেটস অফ ক্যারাবিয়ান" এ অনেক সময় হার্মাদ শব্দটি শোনা গেছে।

এবার আমি।

আমি সেই কুখ্যাত বংশের স্থলজ বা মতান্তরে ভার্চুয়াল এসেন্স। অনলি ফ্লেভার। কনেন্ট টোটাল প্রিজারভেটিভ।

মন চুরি ছারা দ্বিতীয় কোন অপরাধ মূলক অভিযোগ নেই। জল নিয়ে রীতিমত জলাতঙ্ক, কারন মূল নাম। উন্মাদ। 

অনেকেই ভাবতেই পারেন, এ নাম তাঁর অনুপ্রেরণা কৃত নাম। যার অনুপ্রেরনা বিনে এ রাজ্যে কিচ্ছুটি হবার জো নেই কিন্তু সেটা সবটা সঠিক নয়।

এই হল আমার পদবীর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।

সোমবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

পদাবলি সাহিত্য

 


বৈষ্ণব সাহিত্য

 

বৈষ্ণব ধর্ম ও দর্শনকে কেন্দ্র করে মধ্যযুগে রচিত একটি কাব্যধারার নাম হলো বৈষ্ণব সাহিত্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা যার মূল উপজীব্য। বারো শতকে সংস্কৃত ভাষায় রচিত জয়দেবের গীতগোবিন্দম্ এ ধারার প্রথম কাব্য। পরে চতুর্দশ শতকে বড়ু চন্ডীদাস বাংলা ভাষায় রচনা করেন শ্রীকৃষ্ণকীর্তন নামে একখানি আখ্যানকাব্য। বাংলা ভাষায় রচিত এটিই প্রথম কাব্যগ্রন্থ

এতে রাধাকৃষ্ণের লীলাবিষয়ক বিভিন্ন ভাবের ৪১৮টি স্বয়ংসম্পূর্ণ পদ রয়েছে। পদগুলি গীতোপযোগী করে রচিত; পদশীর্ষে সংশ্লিষ্ট রাগ-তালের উল্লেখ আছে। নাটগীতিরূপে পরিচিত শ্রীকৃষ্ণকীর্তন নানা কারণে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে আজও অতুলনীয়। এ শতকেরই দ্বিতীয় ভাগে চন্ডীদাস নামে আরেকজন পদকর্তা আবির্ভূত হন।

তিনি রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে উৎকৃষ্ট মানের অনেক পদ রচনা করেন। পনেরো শতকে মিথিলার কবি বিদ্যাপতি (আনু. ১৩৭৪-১৪৬০) ব্রজবুলি ভাষায় রাধাকৃষ্ণের লীলাবিষয়ক অনেক পদ রচনা করেন। পদগুলি বাঙালিদের নিকট এতই জনপ্রিয় হয়েছিল যে, সেগুলির কারণে ব্রজবুলি ভাষাটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং পরবর্তীকালে অনেক বাঙালি কবি এ ভাষায় বৈষ্ণবপদ রচনা করেন। এক্ষেত্রে হিন্দু-মুসলমান ভেদ ছিল না।

বর্ধমানের কুলীন গ্রাম নিবাসী মালাধর বসু- শ্রীকৃষ্ণবিজয় (১৪৭৪) নামে সংস্কৃত শ্রীমদ্ভাগবতের দশম-একাদশ স্কন্ধের বঙ্গানুবাদ করেন। এতে শ্রীকৃষ্ণের প্রেমলীলা অপেক্ষা ঐশ্বর্যলীলা অধিক প্রকটিত হয়েছে। একই সময়ে মুসলমান কবি আফজল, রাধাকৃষ্ণের প্রেমের রূপকে কিছু পদ রচনা করেন। পরে বাংলাদেশে চৈতন্যদেবের (১৪৮৬-১৫৩৩) আবির্ভাব ঘটে। তিনি, জয়দেব, বিদ্যাপতি ও চন্ডীদাসের পদ আস্বাদন করে আনন্দ পেতেন এবং কৃষ্ণস্মরণে আবেগাপ্লুত হতেন

 

চৈতন্যদেবের আবির্ভাবের পূর্বে যাঁরা কৃষ্ণচরিত্র প্রকাশ করেছেন, তাঁরা কেউ বৈষ্ণব ছিলেন না। উপরন্তু তাঁদের রচিত পদাবলিতে রাধাকৃষ্ণলীলার আধ্যাত্মিক দিক প্রকাশ পায়নি; তাঁরা রাধাকৃষ্ণের রূপকে লৌকিক প্রেমের কথা ব্যক্ত করেছেন। এজন্য কেউ কেউ প্রাকচৈতন্য পর্বের এসব রচনাকে বৈষ্ণব সাহিত্য বলার পক্ষপাতী নন। কিন্তু বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এগুলি বৈষ্ণব সাহিত্য বলেই আখ্যাত ও আলোচিত হয়ে আসছে

ব্রাহ্মণ-সন্তান শ্রীচৈতন্য তরুণ বয়সে কেশব ভারতীর নিকট বৈষ্ণবমতে দীক্ষা নিয়ে সন্ন্যাসী হন এবং কৃষ্ণপ্রেমে বিভোর হয়ে বাকি জীবন অতিবাহিত করেন। তিনিই গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্মমতের প্রবর্তক। মানবতাবাদে উদ্বুদ্ধ চৈতন্যদেব পার্ষদ-পরিকর, ষড়গোস্বামী এবং অসংখ্য ভক্ত সহযোগে দেশব্যাপী একটি ধর্মীয় আন্দোলন গড়ে তোলেন, যা ইতিহাসে বৈষ্ণব আন্দোলন নামে পরিচিত। চৈতন্যোত্তর বৈষ্ণব সাহিত্য এ আন্দোলনেরই স্বর্ণফসল।

এর মধ্য দিয়ে রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলার দিগন্ত বিস্তৃত হয় এবং এক সময় এর সঙ্গে চৈতন্যদেবের লৌকিক-অলৌকিক জীবনলীলাও যুক্ত হয়। চৈতন্যলীলা বিষয়ক গৌরপদ ও বিশাল আকৃতির চরিতকাব্য এ পর্বেই রচিত হয়েছে। শুধু তাই নয়, এ সময় অনেক মহান্তজীবনীও রচিত হয়েছে। বৈষ্ণবধর্মের তত্ত্ব-দর্শন ও চৈতন্যদেবের জীবনী নিয়ে সংস্কৃত ভাষায় অনেক গ্রন্থ রচিত হয়েছে ( চৈতন্যচরিতামৃত, চৈতন্যচন্দ্রোদয় ইত্যাদি)। বাংলা ভাষাতেও রসসমৃদ্ধ পদাবলি, তথ্যসমৃদ্ধ চরিতকাব্য, তত্ত্ববহুল শাস্ত্রগ্রন্থ ইত্যাদি রচিত হয়েছে

 

পদাবলি

ষোলো থেকে আঠারো শতক পর্যন্ত তিনশ বছর ধরে বৈষ্ণবপদ রচিত হয়েছে। গীতোপযোগী ও ভণিতাযুক্ত ছন্দোবদ্ধ রচনা ‘পদ’ নামে অভিহিত। প্রেমের একেকটি ভাবকে অবলম্বন করে পদগুলি রচিত। প্রতিটি পদের শীর্ষে রাগ-তালের উল্লেখ আছে। চৈতন্যোত্তর কালে বৈষ্ণবপদের ভাব ও রসের ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় বাৎসল্য ও সখ্য রসের নতুন পদাবলি। বন্দনা, প্রার্থনা ও আধ্যাত্মিক সাধনাযুক্ত পদগুলিও নতুন মাত্রা যোগ করে।

এ যুগের কবিগণ রাধাকৃষ্ণের প্রেমবিষয়ক পদে ঐশী মহিমা ও আধ্যাত্মিকতার রূপক আরোপ করেন। তাঁদের কাছে বৈষ্ণব কবিতা ছিল বৈষ্ণবতত্ত্বের রসভাষ্য। এ পর্বে কতজন কবি কী পরিমাণ পদ রচনা করেছেন, তা সঠিকভাবে বলা দুষ্কর। দু-চারজন ছাড়া অন্যান্য কবির রচনার পান্ডুলিপিও পাওয়া যায়নি। সম্ভবত তাঁরা তা লিপিবদ্ধ করেননি; কীর্তন গায়কদের মুখে মুখে পদগুলি প্রচারিত হতো এবং ভণিতা থেকে কবির নাম ও তাঁর রচনা শনাক্ত করা হতো।

 

আঠারো শতকের গোড়া থেকে কিছু পদ-সংকলন পাওয়া যায়, যেমন বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর ক্ষণদাগীতচিন্তামণি (১৭০৫), রাধামোহন ঠাকুরের পদামৃতসমুদ্র, বৈষ্ণবদাসের পদকল্পতরু (১৭৬০), নরহরি চক্রবর্তীর গীতচন্দ্রোদয় ইত্যাদি। পদকল্পতরুতে প্রায় দেড়শত কবির তিন হাজার বৈষ্ণব পদ সংকলিত হয়েছে। এতে পদগুলি বৈষ্ণব রসতত্ত্বের নিয়মানুযায়ী বয়ঃসন্ধি, পূর্বরাগ, দৌত্য, অভিসার, সম্ভোগ, মান, বিরহ, প্রেমবৈচিত্ত, ভাবসম্মেলন ইত্যাদি ক্রমে বিন্যস্ত। আবার নায়িকার অবস্থাভেদেও মানিনী, খন্ডিতা, অভিসারিকা, বিপ্রলব্ধা, বাসকসজ্জা ইত্যাদি প্রকার বিভাজন আছে।

উনিশ শতকের শেষ দিকে দীনেশচন্দ্র সেন বঙ্গভাষা ও সাহিত্য (১৮৯৫) গ্রন্থে ১৬৪জন পদকর্তার নাম এবং ৪৫৪৮টি পদসংখ্যার উল্লেখ করেন। পরবর্তীকালে নতুন পুরাতন কবির আরও অনেক পদ পাওয়া গেছে। বর্তমানে বৈষ্ণবপদের সংখ্যা সাত-আট হাজার। এগুলির মধ্যে মুসলমান কবির রচিত পদও রয়েছে। আফজল, আলাওল, সৈয়দ সুলতান, সৈয়দ মর্তুজা, আলি রজা প্রমুখ মুসলমান কবি চৈতন্যলীলা, রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা, ভজন, রাগানুরাগ প্রভৃতি বিষয়ক পদ এমনভাবে রচনা করেছেন যে, বৈষ্ণব কবিকৃত পদাবলি থেকে সেগুলিকে পৃথক করা যায় না। মুসলমান কবিরা সম্ভবত সুফিতত্ত্বের আলোকে শ্রীচৈতন্যকে পীর-গুরু এবং রাধাকৃষ্ণকে জীবাত্মা-পরমাত্মার প্রতীকরূপে দেখেছিলেন

পদকর্তা হিসেবে ষোলো শতকে মুরারি গুপ্ত, নরহরি সরকার, বাসুদেব ঘোষ, লোচনদাস, জ্ঞানদাস, গোবিন্দদাস, বলরাম দাস, দ্বিজ চন্ডীদাস; সতেরো শতকে কবিরঞ্জন (ছোট বিদ্যাপতি), কবিশেখর, রাধাবল্লভ দাস, ঘনশ্যাম দাস, রামগোপাল দাস; আঠারো শতকে বৈষ্ণব দাস, চন্দ্রশেখর, রাধামোহন ঠাকুর, নরহরি চক্রবর্তী, যদুনন্দন প্রমুখের নাম উল্লেখ করা যায়। এঁদের মধ্যে আবার জ্ঞানদাস, গোবিন্দদাস, চন্ডীদাস, কবিরঞ্জন, যদুনন্দন প্রমুখ শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার। নানা ভাবের পদ রচনা করেও যেমন বিদ্যাপতি বিরহের পদ ও চন্ডীদাস প্রেম-মিলনের পদ রচনায় অধিক কৃতিত্ব অর্জন করেছেন, তেমনি জ্ঞানদাস অনুরাগের এবং গোবিন্দদাস অভিসারের পদ রচনায় দক্ষতা দেখিয়েছেন।

তাঁদের শিল্পগুণসম্পন্ন পদগুলি ধর্মের মোড়ক ভেদ করে সার্বজনীন সাহিত্যের মর্যাদা লাভ করেছে। রাধাকৃষ্ণের প্রণয় বর্ণনা করতে গিয়ে বৈষ্ণব কবিরা মর্ত্যের নরনারীর আবেগ-অনুভূতিকেও স্পর্শ করেছেন। তাঁদের ভাব এবং ভাষার কুশলতায় বৈষ্ণব কবিতার এক অর্থ অপ্রাকৃতলোকে আধ্যাত্মিকতার দিকে গেছে, অপর অর্থ মর্ত্যের মানব-মানবীর সুখদুঃখপূর্ণ চিরন্তন প্রেমের দিকে গেছে। সমালোচকদের মতে কিছু কিছু পদ ভাব, রস ও শিল্পগুণে বিশ্বসাহিত্যের অঙ্গনে সহজেই স্থান করে নিতে পারে। নিঃসন্দেহে বিদ্যাপতি, চন্ডীদাস, জ্ঞানদাস ও গোবিন্দ দাসের পদাবলি এরূপ চিরায়ত কাব্যসৌন্দর্য ও মর্যাদার অধিকারী

 

বিষয় ভিত্তিতে বৈষ্ণবপদগুলি চার ভাগে বিভক্ত-

গৌরলীলা, ভজন, রাধাকৃষ্ণলীলা ও রাগাত্মিকা।

 

প্রথম শ্রেণির পদে গৌরলীলা অর্থাৎ চৈতন্যলীলার বর্ণনা আছে।

দ্বিতীয় শ্রেণির পদে গুরু-মহাজনের প্রতি বন্দনা-প্রার্থনা করা হয়েছে।


তৃতীয় শ্রেণির পদে ব্রজধামে রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলার বিস্তৃত বর্ণনা আছে। এ ধারার পদ রচনায় কবিরা সবচেয়ে বেশি সাফল্য অর্জন করেছেন। আর এরূপ পদের সংখ্যাও সর্বাধিক। তত্ত্বভিত্তিক রাগাত্মিকা পদগুলিতে গুহ্য সাধনার কথা আছে। ফলে পদগুলি সরলতা হারিয়ে দুর্বোধ্য হয়ে উঠেছে। সময়ের বিচারে ষোলো শতক বৈষ্ণবপদ রচনার শ্রেষ্ঠ সময়, সতেরো শতকে এর বিকাশ সাধিত হয়, আর আঠারো শতকে অবনতি ও সমাপ্তি ঘটে। বৈষ্ণব সাহিত্যের অপরাপর রচনা সম্পর্কেও একই কথা প্রযোজ্য। বস্ত্তত বৈষ্ণব আন্দোলনের উত্থান-পতনের সঙ্গে বৈষ্ণব সাহিত্যও সম্পৃক্ত ছিল

চরিতকাব্য

শ্রীচৈতন্য ও তাঁর কয়েকজন সহযোগীর জীবনবৃত্তান্ত নিয়ে বৈষ্ণব চরিতশাখা গড়ে ওঠে। কেবল বৈষ্ণব সাহিত্যেই নয়, মধ্যযুগের সমগ্র বাংলা সাহিত্যেই চরিতকাব্য একটি অভিনব ধারা। সমকালের অথবা ঈষৎ পূর্ববর্তী কালের ঐতিহাসিক ব্যক্তিদের নিয়ে বিশালাকার এরূপ কাব্য অন্য সম্প্রদায়ের মধ্যে দেখা যায় না। সংস্কৃতে রচিত প্রথম জীবনীগ্রন্থ চৈতন্যচরিতামৃত। এর রচয়িতা মুরারি গুপ্ত ছিলেন চৈতন্যদেবের সতীর্থ। গ্রন্থখানি গদ্য-পদ্যের মিশ্রণে ‘কড়চা’ বা ডায়রি আকারে রচিত। এজন্য এটি ‘মুরারি গুপ্তের কড়চা’ নামেও পরিচিত। এতে শ্রীচৈতন্যের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত জীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার বর্ণনা আছে।

বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম জীবনীকাব্য চৈতন্যভাগবত (১৫৪৮) তাঁর মৃত্যুর ১৫ বছর পরে রচিত হয়। শ্রীচৈতন্যের ঘনিষ্ঠ সহচর নিত্যানন্দের উৎসাহে বৃন্দাবন দাস প্রায় ২৫ হাজার জোড় চরণে এ বিশাল কাব্য রচনা করেন। মুরারি গুপ্ত রাধাকৃষ্ণের যুগলরূপ হিসেবে চৈতন্যদেবের ভাবমূর্তি তুলে ধরেন, আর বৃন্দাবন দাস শ্রীকৃষ্ণের অবতাররূপে চৈতন্যলীলা প্রচার করেন। সময়ের দিক থেকে লোচনদাসের চৈতন্যমঙ্গল (১৫৭৬) দ্বিতীয় এবং ষোলো শতকের শেষদিকে একই নামে জয়ানন্দ রচনা করেন তৃতীয় গ্রন্থ।

তুলনামূলকভাবে লোচনদাসের চৈতন্যমঙ্গল অধিক পরিশীলিত ও বৈদগ্ধ্যপূর্ণ। তিনি নিজ বাসস্থান শ্রীখন্ডের ভাবধারা অনুযায়ী ‘গৌরনাগর’ রূপে শ্রীচৈতন্যের ভাবমূর্তি তুলে ধরেন। চৈতন্যদেবের চতুর্থ জীবনীকাব্য কৃষ্ণদাস কবিরাজ রচিত 'চৈতন্যচরিতামৃত' (১৬১২)। কৃষ্ণদাস বৃন্দাবনের অন্যতম গোস্বামী রঘুনাথ দাসের শিষ্য ছিলেন। প্রামাণিক তথ্য, বিষয়বৈচিত্র্য, রচনার পারিপাট্য প্রভৃতি গুণে কাব্যখানি পাঠকমহলে সমাদৃত হয়েছে।

চৈতন্যজীবন মুখ্য বিষয় হলেও এতে বৈষ্ণবধর্মের তত্ত্ব, দর্শন, বিধিবিধান, সমকালের ইতিহাস, সমাজ এবং ঐতিহ্যের নানা তথ্য পরিবেশিত হয়েছে। রাধাকৃষ্ণের যে ঐশী প্রেম ও ভক্তিবাদের ওপর গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্ম প্রতিষ্ঠিত, কৃষ্ণদাস কবিরাজ শ্রীচৈতন্যকে তারই বিগ্রহরূপে চিত্রিত করেছেন। পাঠকনন্দিত এ কাব্যখানির একাধিক সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। সম্প্রতি হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এডওয়ার্ড সি ডিমকের ইংরেজি গদ্যানুবাদ টনি কে স্টুয়ার্টের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে।

    চৈতন্যপরিকরদের মধ্যে সবচেয়ে বর্ষীয়ান অদ্বৈত আচার্যের জীবনী নিয়ে সংস্কৃতে একখানি এবং বাংলায় চারখানি কাব্য রচিত হয়েছে। বাল্যলীলাসূত্র (১৪৮৭) নামে সংস্কৃত গ্রন্থ রচনা করেন হরকৃষ্ণ দাস। এতে অদ্বৈত আচার্যের বাল্যলীলার বিবরণ আছে। বাংলা ভাষায় অদ্বৈতপ্রকাশ (১৫৬৯) নামে প্রথম কাব্য রচনা করেন ঈশান নাগর। এরূপ দ্বিতীয় কাব্য হরিচরণ দাসের অদ্বৈতমঙ্গল। একই নামে শ্যামদাস তৃতীয় কাব্য রচনা করেন, তবে তার পান্ডুলিপি পাওয়া যায়নি। নরহরি দাস অদ্বৈতবিলাস নামে চতুর্থ কাব্য রচনা করেন আঠারো শতকে। এসব কাব্যে অদ্বৈত আচার্যের সঙ্গে চৈতন্যদেবেরও অনেক প্রসঙ্গ স্থান পেয়েছে


অদ্বৈত আচার্যের পত্নী সীতাদেবীর জীবনী সীতাচরিত ও সীতাগুণকদম্ব যথাক্রমে লোকনাথ দাস ও বিষ্ণুদাস আচার্য রচনা করেন। চৈতন্যদেবের অপর ঘনিষ্ঠ সহচর শ্রীনিবাসের জীবনচরিত প্রেমবিলাস (১৬০১) রচনা করেন নিত্যানন্দ দাস। যদুনন্দন দাসের কর্ণানন্দ (১৬০৮), গুরুচরণ দাসের প্রেমামৃত এবং মনোহর দাসের অনুরাগবল্লরী কব্যেও শ্রীনিবাসের কথা আছে। নরোত্তম আচার্যের জীবনী নিয়ে নরোত্তমবিলাস রচনা করেন নরহরি চক্রবর্তী। তাঁর অপর কাব্য ভক্তিরত্নাকরে একাধারে শ্রীনিবাস, নরোত্তম আচার্য ও শ্যামানন্দের জীবনী স্থান পেয়েছে

সতেরো শতকে শ্রীচৈতন্যের অন্যতম পার্ষদ বংশীবদনের জীবনীকাব্য বংশীবিলাস রচনা করেন রাজবল্লভ। এগুলি ছাড়া আঠারো শতকে আরও কয়েকখানি চরিতকাব্য রচিত হয়। অকিঞ্চিৎকর হলেও বৈষ্ণব সাহিত্যের ধারাবাহিকতায় সেগুলির ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে। ব্যতিক্রম ছাড়া চরিতকাব্যের সাহিত্যিক মূল্য কম, কিন্তু বৈষ্ণব ধর্ম ও সম্প্রদায় সম্পর্কে বিশেষভাবে এবং বাংলার সমকালীন সমাজ-সংস্কৃতি সম্পর্কে সাধারণভাবে জানার জন্য এগুলি আকর গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হয়। ধর্ম, আধ্যাত্মিকতা ও দেবদেবীর প্রভাব-প্রতিপত্তিতে ভারাক্রান্ত মধ্যযুগের সাহিত্যাঙ্গনে মানুষ মানুষের কথা লিখেছে; এতে মানুষের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধাই প্রকাশ পেয়েছে

নাটক

কবিকর্ণপূর সংস্কৃতে চৈতন্যচন্দ্রোদয় নামে চৈতন্যলীলাশ্রিত নাটক রচনা করেন। প্রেমদাস চৈতন্যচন্দ্রোদয়কৌমুদী নামে বাংলায় এর স্বচ্ছন্দ অনুবাদ করেন। দশ অঙ্কের এই নাটকে চৈতন্যদেবের সন্ন্যাস জীবনের ওপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। চৈতন্যদেব এ পর্বে কৃষ্ণের প্রতি প্রেম ও ভক্তিভাবে বিভোর থাকতেন। চৈতন্যের জীবনী অবলম্বনে রামানন্দ রায় সংস্কৃতে রচনা করেন জগন্নাথবল্লভনাটকম্, যার বঙ্গানুবাদ করেন লোচনদাস

আখ্যানকাব্য

    প্রধানত ভাগবতের অনুসরণে কৃষ্ণলীলা বিষয়ক কিছু আখ্যানকাব্য রচিত হয়েছে। তবে লৌকিক ও পৌরাণিক উৎস থেকেও তথ্য গৃহীত হয়েছে। ষোলো শতকে মাধবাচার্যের শ্রীকৃষ্ণমঙ্গল, সতেরো শতকে কৃষ্ণদাসের শ্রীকৃষ্ণমঙ্গল, অভিরাম দাসের গোবিন্দবিজয়, ঘনশ্যাম দাসের শ্রীকৃষ্ণবিলাস, রঘুনাথের শ্রীকৃষ্ণপ্রেমতরঙ্গিণী প্রভৃতি এ শ্রেণির কাব্য। কাব্যগুলির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো শ্রীকৃষ্ণের প্রেমলীলার সঙ্গে ঐশ্বর্যলীলার বর্ণনা

বৈষ্ণববাদ ভগবান বিষ্ণু বা কৃষ্ণকে ভক্তির মাধ্যমে ভজনা করা বৈষ্ণববাদ বা বৈষ্ণব ধর্মীয় মতবাদের মূল ভিত্তি। এখন বাংলাভাষী অঞ্চলে বৈষ্ণব ধর্ম গৌড়ীয় ধর্ম-দর্শনের প্রায় সমার্থক, যা প্রধানত কৃষ্ণের আদি রসাত্মক লীলায় ভরপুর। এই ধর্ম-দর্শনের প্রেরণা ও প্রতিষ্ঠাতা হলেন কৃষ্ণচৈতন্য (১৪৮৬-১৫৩৩), যাঁর ভক্তরা বিশ্বাস করেন যে, তিনি হলেন স্বয়ং ভগবান পরমেশ্বর কৃষ্ণের প্রতিমূর্তি এবং যিনি চির মিলনে ও বিরহে রাধাকৃষ্ণের যুগলসত্তাস্বরূপ।

চৈতন্য ও কৃষ্ণ এতটাই একীভূত যে, একজনকে পূজা করা মানে অন্য জনকেও পূজা করা। গৌড়ীয় ধর্মতত্ত্বের চমৎকারিত্ব এবং এর প্রাথমিক কৃত্যসমূহের সহজ রূপ, যেমন, কীর্তন গানে খুব সহজভাবে কৃষ্ণের সংকীর্তন, পাঁচ শতক ধরে বাংলার প্রত্যেক রাজনৈতিক ভাঙ্গাগড়ায় বৈষ্ণব সম্প্রদায়কে অভূতপূর্ব সাফল্যের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সক্ষম করেছে

যদিও আজকের দিনে ব্রজকেন্দ্রিক গৌড়ীয় ভজনারীতি এই অঞ্চলে প্রধান, তবু ঐতিহ্য হিসেবে বৈষ্ণব ধর্মের অন্যান্য রূপও অনুসৃত হয়ে চলেছে, যেমন বিষ্ণুর সঙ্গী লক্ষ্মীর পূজা সনাতন হিন্দু পরিবারে মেয়েদের ব্রত-পার্বণের কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে পরিগণিত। উড়িষ্যার পুরীতে জগন্নাথ দেবের প্রধান মন্দির থেকে সূচিত হওয়া তাঁর পূজা প্রাচীন পঞ্চরাত্র রাষ্ট্রধর্মের ঐতিহ্য নির্মাণ করেছে এবং এখন এটি চৈতন্যের নিজের ধর্মব্যবস্থার স্বাধীন মর্যাদা বজায় রেখেও নতুন দিক হিসেবে গৃহীত হয়েছে। বৈষ্ণববাদ বৃহৎ বঙ্গে সত্যপীরের মতো প্রান্তিক দেবতাকেও বুকে টেনে নিতে হাত বাড়িয়েছে। ইসলাম ধর্মের আদর্শের সাথে বৈষ্ণব মতের কিছু মিল ও সাদৃশ্যের স্বীকৃতিস্বরূপ সত্যপীর ও সত্যনারায়ণ সমার্থক গণ্য হয়েছেন

শাস্ত্রকথা বৈষ্ণব ধর্মতত্ত্ব, দর্শন, সমাজ, সঙ্গীতবিদ্যা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কিছু নিবন্ধ বা খন্ড কবিতা রচিত হয়েছে। নিত্যানন্দের প্রেমবিলাস, যদুনন্দনের কর্ণানন্দ, মনোহর দাসের অনুরাগবল্লরী, অকিঞ্চন দাসের বিবর্তবিলাস প্রভৃতি এ জাতীয় রচনা। সঙ্গত কারণেই সাধনভজনসংক্রান্ত এসব রচনায় সাহিত্যগুণের তেমন প্রকাশ ঘটেনি

মধ্যযুগে কৃষ্ণকথা, রাধাকৃষ্ণ প্রেম, চৈতন্যলীলা, ধর্মতত্ত্ব প্রভৃতি অবলম্বনে যে বিশাল বৈষ্ণব সাহিত্য রচিত হয়েছে, তার মূল প্রেরণা ছিল শ্রীচৈতন্যের অনন্যসাধারণ ব্যক্তিত্ব ও ধর্মবোধ। এসব বিচিত্র বিষয় রচনার অঙ্গীভূত হওয়ায় বাংলা ভাষার চর্চা ও প্রকাশ ক্ষমতা অনেক গুণ বৃদ্ধি পায়। কবিগণ পদাবলির মাধ্যমে মানব মনের অতি সূক্ষ্ম ভাব, ব্যক্তিজীবনের বিচিত্র ঘটনাপঞ্জি, শাস্ত্রের নিগূঢ় তত্ত্ব ইত্যাদি বর্ণনা করায় বাংলা ভাষা নানা মাত্রিকতায় বিকাশ লাভ করে।

ফলে বৈষ্ণব পদাবলি একটি বিশেষ ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বিষয় হয়েও সাহিত্যগুণে কালের সীমা অতিক্রম করে সর্বশ্রেণীর পাঠক-গবেষকের মনোযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়। তাই বৈষ্ণব সাহিত্যের ব্যাপ্তির ও গভীরতার পাশাপাশি বাংলা ভাষার উৎকর্ষ ও উন্নতির কথাও সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়


~
ইন্টারনেট থেকে সংগ্রীহিত ও সংযোজিত


রবিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

রিলায়েন্স জিও - জুয়াচুরি নাকি বাস্তব!


 

আগামীকাল মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স কোম্পানি ‘Jio’ নামের একটা নতুন মোবাইল পরিষেবা কোম্পানি লঞ্চ করতে চলেছে, অবশ্য তার আগেই চারদিকে সাড়া পড়ে গেছে।

বহুদিন ধরে বদ্ধ জলার মত স্থির থাকা ইন্ডিয়ান টেলিকম মার্কেটে জিও-র আবির্ভাব প্রায় ছোটখাটো সুনামি বললে অত্যুক্তি হবে না। এখন স্বাভাবিক ভাবেই প্রায় ৫০% কম রেটে কিভাবে রিলায়েন্স এত ডাটা এত মানুষকে প্রোভাইড করবে সেটা নিয়ে অনেকেরই কৌতুহল। তার উপর রয়েছে আনলিমিটেড ফ্রি ভয়েস কল! শুনতেও অবাস্তব লাগে। আমাদের এই প্রজন্মটা এতো দ্রুত বদলে যাচ্চছে যে কী বলব, আগামীতে হয়ত ইন্টারনেট ব্যবহার করেই লাইভ ক্রিকেট ম্যাচ দেখব গ্রামে বসে।

এরমধ্যে নরেন্দ্র মোদী জিও-এর প্রায় ব্র‍্যান্ড আইকন হয়ে গিয়ে, এতে কিছু রাজনৈতিক মশলাও মিশিয়ে দিয়েছেন। তাই রাজনৈতিক লাভের জন্য বা নেহাতই ভারতীয় সুলভ সংশয় থেকে অনেকেই বলছেন এটা জালিয়াতি, মুকেশ আম্বানি ডাকাত ইত্যাদি ইত্যাদি

তাহলে প্রশ্নটা দাঁড়ালো এটা কী জালিয়াতি? কিভাবে এত কিছু সম্ভব? প্রশ্নটা সহজ। উত্তরটা বেশ বড়। কিন্তু এককথায় উত্তর হ্যাঁ সম্ভব। এর মধ্যে কোন জালিয়াতি নেই। পুরোটাই প্রযুক্তিগত উন্নতি এবং ব্যবসায়িক ভিশন এর ফল। গোটা ব্যাপারটা বুঝতে হলে আমাদের শুরু করতে হবে একদম গোঁড়া থেকে

১. কিভাবে ডাটা নেটওয়ার্ক কাজ করে?

সহজ ভাষায় বললে আমাদের চারপাশের টাওয়ার গুলো অনেকটা বাড়ির ওয়াইফাই হটস্পটের মত, শুধু সাইজে বড় এবং রিচ অনেক বেশি। যেমন বাড়ির রাউটার কানেক্টেড থাকে নেটের কেবল এর সাথে, তেমনই টাওয়ার এর কানেকশন থাকে তার নীচের অপটিকাল ফাইবারের সাথে। অপটিকাল ফাইবার হচ্ছে আধুনিকতম কমিউনিকেশন সিস্টেম যাতে টেরাবিটস পার সেকেন্ড রেঞ্জে ডাটা ট্রান্সমিশন হয়। এবার আমরা মোবাইল বা ডঙ্গল থেকে যে ডাটা পাঠাই তা টাওয়ার রিসিভ করে এবং অপটিকাল ফাইবারের মধ্যে দিয়ে যে টাওয়ারে দরকার পাঠিয়ে দেয়।

এই ফাইবারের আবার বিভিন্ন কোয়ালিটি হয়। ২জি-৩জি এর জন্য যে ফাইবার ব্যবহার করা দরকার 4G বা 5G এর জন্য স্বাভাবিক ভাবেই তার থেকে অনেক বেশি দামী ও গুণমানের ফাইবার প্রয়োজন হবে। এখানে ব্যান্ডউইডথ ব্যাপারটাও জেনে রাখা দরকার। কথাটা অনেক জায়গায় বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়। এক্ষেত্রে ব্যান্ডউইডথ হল সেই ফ্রিকোয়েন্সি রেঞ্জ যেটার মধ্যে কোন একটা কোম্পানি ডাটা পাঠাতে পারে। স্বাভাবিক ভাবেই যার হাতে যত বেশি ব্যান্ডউইডথ যে তত বেশি সংখ্যক মানুষকে হাইস্পিড ডাটা দিতে পারবেআগামীতে আমাদের দেশেও 5G আসবে, গোলগোল ঘোরা হয়তবা বন্ধ হবে।

২. এখন ভারতে টেলিকম কোম্পানি গুলোর কি হাল?

ভারতের বেশিরভাগ টেলিকম কোম্পানি চায় একটা পুরস্থবির সিস্টেম টিকিয়ে রেখে ব্যবসা চালিয়ে যেতে। তাদের কেনা ব্যান্ডউইডথ যেমন কম তেমনই তাদের কেবল নেটওয়ার্ক বহু পুরনো যা মূলত ভয়েস কলের জন্য বানানো। তাতে ডাটা পাঠালে স্বাভাবিক ভাবেই স্পিড বা কোয়ালিটি কমবে। এয়ারটেল বা ভোডাফোন কিছু 4G কোয়ালিটি কেবল লাগালেও তার সংখ্যা কম। তারা বরং অন্য নন-টেলিকম কোম্পানির থেকে অপ্টিকাল ফাইবার ভাড়া নিয়ে কাজা চালাতেই বেশি উৎসাহী। এখন টেলিকম অনেকটাই ওয়ান টাইম ইনভেস্টমেন্ট। অর্থাৎ শুরুতে সমস্ত টেকনোলজি গড়ে তুলতে প্রচুর খরচা, কিন্তু তারপর সেই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সার্ভিস দিতে খরচা প্রায় নেই। তাই বাকি কোম্পানি যাদের অলরেডি একটা প্রযুক্তি গড়ে তোলা আছে তারা নতুন প্রযুক্তিতে ইনভেস্ট করতে আগ্রহী নয়। তারা ওই পুরনো প্রযুক্তি ব্যবহার করেই কাজ চালাচ্ছে। ফলস্বরূপ আমরা স্লো নেট পাচ্ছি এবং টাকাও বেশি গুনতে হচ্ছে। বেশির ভাগ টেলিকম কোম্পানি নিজেদের মধ্যে অলিখিত চুক্তি করে একই রকম রেট রেখে গ্রাহককে মুরগী করে যাচ্ছে। এয়ারটেল ভোডাফোন আইডিয়ার নেটপ্যাকের দামগুলো দেখলেই আইডিয়া পাওয়া যাবে সেটারএকচুয়ালি আমাদের দেশের মত এতোবড় বাজারে ইন্টারনেট এর জন্য পয়সা নেওয়াই উচিৎ নয়। শুধুমাত্র Call এর পয়সা দিয়েই আদধুনিক প্রযুক্তিতে ডাটা সার্ভিস দেওয়া সম্ভব।

৩. জিও কোথায় আলাদা?

প্রথমেই জানা দরকার জিও রিলায়েন্সের নিজস্ব ভেঞ্চার না। ইনফোটেল ব্রডব্যান্ড নামক একটি কোম্পানি ২০১০ সাল নাগাদ ভারতের সব সেক্টরে 4G স্পেকট্রাম (ব্যান্ডউইডথ এর-ই অন্য নাম সহজ ভাবে বুঝতে গেলে) জেতে। মূল কারণ ছিল অন্য বড় কোম্পানিরা তখন 3G সামলাতেই ব্যাস্ত, 4G নিয়ে কারো মাথা ব্যাথা ছিলনা। কিন্তু মুকেশ আম্বানি এইসময়েই ইনফোটেলের ৯৬% শেয়ার কিনে নেন এবং পরে নামকরণ হয় জিও।

প্রশ্ন উঠবে ২০১০ এই 4G স্পেক্ট্রাম পেয়ে গেলে ৬ বছর ধরে অপেক্ষা করার কারণ কী ছিল! কারণ হল এই ৬ বছর ধরে গোটা ভারতে রিলায়েন্স বিশাল বড় অপ্টিকাল ফাইবার নেটওয়ার্ক তৈরী করেছে। কতটা বড়? রিলায়েন্স প্রায় ২৫০০০০ কিমি ব্যাপী অপ্টিকাল ফাইবার, ৯০০০০ টাওয়ার স্থাপন করেছে। এই নেটওয়ার্ক শুধুই বিশাল নয়, অত্যাধুনিক মান সম্পন্নও বটে। এখানে ২৮৮ বা ৯৬ ফাইবারের কেবল ব্যবহার হয়েছে যেখানে বাকি কোম্পানিরা ১২-২৪ ফাইবারের কেবল ব্যবহার করে। বেশি ফাইবার মানে একসাথে বেশি ডাটা পাঠানো সম্ভব। সাথে এটাও বলা দরকার এই কেবল এতই উন্নত যে এই গোটা সিস্টেম 5G ব্যবহার করারও উপযোগী। আগামী ২-৩ বছরের মধ্যেই আমাদের দেশের ইন্টারনেট ব্যবস্থায় বিল্পব আসতে চলেছে।

অর্থাৎ জিও পুরো থমকে থাকা প্রাচীন একটা সিস্টেমে এক ঝটকায় কাটিং এজ প্রযুক্তি এনে ফেলেছে। এদের কভারেজ ভারতের প্রায় ৭০% এরিয়া যা বাকি সমস্ত 4G প্রোভাইডারদের এরিয়া যোগ করলে যা হয় তার থেকেও বেশি। তাই এয়ারটেলের ওয়াইডেস্ট 4G নেটওয়ার্কএর দাবিটা যে একেবারেই ফালতু হয়ে যাবে তা বলাই বাহুল্য।

৫. আনলিমিটেড ফ্রি কল? কিভাবে সম্ভব?

যারা হোয়াটস্যাপ বা ফেসবুক বা স্কাইপ কলের সাথে পরিচিত তাদের কাছে এটা খুব বিস্ময়ের নয়বর্তমান কোম্পানি গুলো ডাটা ও ভয়েস কলের জন্য আলাদা আলাদা প্রযুক্তি ব্যবহার করে যা প্রাচীন এবং ধীরগতির। সেখানে জিও ভয়েস কলকে ডাটায় পরিবর্তন করে তাদের 4G নেটওয়ার্ক এর মাধ্যমেই ট্রান্সমিট করবে। যার ফলে ভয়েস কলিং এর জন্য আলাদা কোন খরচ বা প্রযুক্তি তাদের লাগবেই না। তাই একবার ডাটাপ্যাক রিচার্য করলে ইন্টারনেট সার্ফিং এর মত আনলিমিটেড ভয়েস কলিং ফ্রি করতে দিতে কোন সমস্যাই নেই। কল কোয়ালিটি নিয়েও চিন্তার কারণ নেই, স্কাইপ বা হোয়াটস্যাপ যেখানে সর্বোচ্চ ৩জি ব্যাবহার করে- সেখানে জিও 4G ব্যবহার করবে। ভয়েস কল বা ভিডিও কল দুটোই উন্নত মানের হবে

৪. কেন জিও সব মোবাইলে পাওয়া যাবেনা?

জিও ভয়েস কলিংএর জন্য VoLTE প্রযুক্তিযুক্ত 4G সেট দরকার, নর্মাল 3G বা তার থেকে কম মানের হ্যান্ডসেটে এই প্রযুক্তি কাজ করবেনা। VoLTE টেকনোলজি ব্যবহার হয় ভয়েস কলকে ডাটায় কনভার্ট করতে। আগেই বলেছি জিও নর্মাল ভয়েস কল সাপোর্ট করেনা। তাই এই আদধুনিক এই টেকনোলজি না থাকলে জিও সিম কাজ করবে না। এখন ৪০০০ টাকাতেও VoLTE স্মার্টফোন পাওয়া যাচ্ছে, আর অদূর ভবিষ্যতে সব ফোনই যে এই টেকনোলজিতে কনভার্ট হয়ে যাবে তা বলাই বাহুল্য।

৬. তাহলে জিও কি আমার খরচা বাঁচাবে?

উত্তরটা একইসাথে হ্যাঁ এবং না। জিওর ১৪৯ টাকার প্যাকে 300MB 4G ডাটা এবং আনলিমিটেড কল পাওয়া যাবে। যারা মোটামুটি দৈনিক নেট ব্যবহার করে তাদের কাছে 300MB কিছুই না। কিন্তু শুধু Call করতে হলে এই অফারটা অসাধারণ। এরপরের অফার হল ৪৯৯ টাকা। খেয়াল করা দরকার মাঝে কিছুই নেই। এবার ৪৯৯ টাকায় গ্রাহক 4GB ডাটা আর ফ্রি ভয়েস কল পাবে

এখনকার অন্য সমস্ত কোম্পানির 4G স্কিমে সারা মাস কল করলে আর 4Gবি ডাটা চাইলে ১০০০ টাকার বেশী খরচা হয়। সেদিক দিয়ে জিও টাকা বাঁচবে। কিন্তু, আমরা সাধারণতথেকে ২ জিবি ডাটায় সারামাস চালিয়ে দিই এবং তাতেও ৪০০-৫০০ খরচা পড়ে। দ্রুতগতির ইন্টারনেট পেলে, মাসে ৫ জিবিও আমাদের কম পরতে পারে। আর জিও এই হিউম্যান বিহেভিয়ারটা নিয়ে অবশ্যই রিচার্য করেছে, তাই এদের ১-২ জিবির কোন প্যাকেজই নেই। তারা গ্রাহককে প্রলুব্ধ করছে ৪৯৯ এর প্যাকটাই নিতে।

তাই দেখতে গেলে বেশিরভাগ গ্রাহকই হয়তো একই পরিমাণ টাকা খরচা করবে মাস গেলে। তাতে ভ্যালু ফর মানি’র হিসাবে দু থেকে তিন গুন বেশি পরিষেবা পাওয়া যাবে। তাই খরচা একই থাকলেও অনেক বেশি ভাল ইন্টারনেট ব্যবহারের অভিজ্ঞতা পাওয়া যাবেআগামীতে ৪ জিবিও কম পরবে এটা জিও জানে, তারা মাসিক দৈনিক হাফ জিবি করে, মাসিক ১৫জিবির প্ল্যানও আনবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। ভাবুন ১৫ জিবি মাসে! যদিও সেই প্ল্যানের সফলতা নিয়ে প্রশ্ন আছে, এতো ইন্টারনের নিয়ে সাধারণ মানুষ করবটা কী!

সবদিক থেকে বলা যায়, সস্তার জিও প্ল্যানগুলো সবার জন্যই উইন উইন সিচুয়েশন। আগামীতে রিলায়েন্স জিও ভারতের একটা বিশাল সংখ্যক গ্রাহক নিজেদের দিকে নিয়ে আসবেই, কারন তারা ‘স্টেট অফ দ্যা আর্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। আগামীতে টেলিনর, আইডিয়া বা ভডাফোনের মত বিদেশি কোম্পানিগুলো অস্তিত্বের সণঙ্কটে পরবেই, তখন জিও মনোপলি তাদের প্যাকেজের দাম সেট করে একচেটিয়া মুনাফা লাভ করবে।

গ্রাহক অবশ্যই উন্নত পরিষেবা পাবে একই খরচায়। সবচেয়ে বড় কথা, টেলিকম মার্কেটে কম্পিটিশন বাড়বে, অন্য সব কোম্পানি বাধ্য হবে আধুনিক পরিষেবা নিয়ে আসতে। জিও বেসলাইন থেকে শুরু করেছে নতুন প্রযুক্তি গড়ে তুলে, তাই অভূতপূর্ব কম দামে দিতে পারছে এটা কোনো সমাজসেবা নয়, জালিয়াতি নয়; পুরোটাই প্রযুক্তির কামাল। এই প্রযুক্তিগত বিপ্লবটা ভারতের টেলিকম শিল্পে খুব দরকার ছিল। জিও সেই অভাবটাই পূর্ণ করেছে এই যা

বিজ্ঞাপনে মোদীজির মুখ আছে, মানে কেন্দ্রীয় সরকারেরও একটা প্ল্যান থাকবে এই দ্রুতগতির সস্তার ইন্টারনেটকে ব্যবহার করে প্রযুক্তিগতভাবে উন্নয়ন করার। আগামীতে ব্যাঙ্কিং শিল্প বদলে যেতে পারে, হয়ত ঘরে বসেই লেনদেন প্রযুক্তি এসে যাবে ‘নেট ব্যাঙ্কিং’ এর বিকল্প হিসাবে। লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটার যন্ত্রনা ফুরাতে পারে। বিদেশের মত অনলাইন শিক্ষা চালু হয়ে যেতে পারে। অফিসিয়াল বহু মিটিং দ্রুতগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করেই হয়ত হবে, অফিসে যাওয়ার দরকারই হবেনা হয়ত। টিভির গুরুত্ব কমে যাবে, মাসিক রিচার্যের যা খরচা, ইন্টারনেটেই দেখে নেবে অনেকে।

এন্টারটেনমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিতেও মোবাইল ইন্টারনেট নির্ভর সিনেমা সিরিয়াল তৈরি হবে, মূলধারার সিঙ্গেলস্ক্রিন সিনেমাহল আগেই উঠে গেছে, সিনেমা হল কনসেপ্টটাই উঠে যেতে পারে আগামীতে, সিনেমা তৈরির ধরনও বদলে দেবে। সিকিউরিটি, স্বাস্থ্য, তথ্য সংরক্ষণ, কৃষি, শ্রমিকের ধরন বদলে যেতে পারে। ওলা নামের যে ট্যাক্সি এ্যাপটা চালু হয়েছে, এই ধরণের আরো বেশী বেশী ইন্টারনেট ভিত্তিক পরিষেবা গুণিতক হারে বৃদ্ধি পাবে। শপিং এর ইন্টারনেট নির্ভর প্ল্যাটফর্মগুলো ভয়ানকভাবে বুষ্ট হবে সন্দেহ নেই। কে বদলতে পারে ব্যাঙ্গালোর শহরে তৈরি হওয়া জোমাটো জাতীয় এ্যাপ গুলো একদিন আমার গ্রামেও খাবার পৌঁছে দেবেনা!

এগুলো অতিকল্পনা মনে হতেই পারে, কিন্তু প্রযুক্তি যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, এসব দ্রুতই ঘটবে। তবে ভয়ও আছে, সস্তার ইন্টারনেট সকলকে সব বিষয়ে ‘বিশেষজ্ঞ’ সাজিয়ে তুলবে। নিয়ন্ত্রণহীন একটা বেহায়া সমাজ তৈরি হয়ে যেতে পারে। অনলাইন গেমিং, অনলাইন জুয়ো, বিভিন্ন সোস্যালমিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতে মানুষ আরো বেশী বেশী বুঁদ হয়ে যাবে। আগামী দিনের রাজনীতির ধারা এখান থেকেই নির্ধারিত হলেও আশ্চর্য হবোনা। পরিচয় লুকিয়ে মানুষ যা খুশি করতে পারে অন্তর্জালে, ফেসবুকের ফেক প্রোফাইলের মত আর যে কত কত বিষয়ে ফেক হবে কেউ জানিনা।

শিল্প, চারুকলা, ললিতকলা, মৌলিক লেখনি– এসব দ্রুত কমে যাবে দ্রুত গতির ইন্টারনেট পেলেই। পাবলিক ভিজুয়াল দেখতে পায় বলেই সে টিভি আপন করেছিল রেডিও ছেড়ে। পড়ার চেয়ে শোনা কম খাটনির, শোনার চেয়ে দেখা আর বেশী আকর্ষনীয়। তাই আগামীতে ভিডিও নিয়ে গবেষণা হবেই। হাতের মোবাইল মানেই ব্যক্তিগত পরিসর, সুতরাং ব্যাক্তি তার পছন্দভিত্তিক বিষয় বেছে নেবার স্বাধীনতা পাবে, এটার বাজে দিক হলো- যুবসমাজে নিষিদ্ধ সিনেমার সুনামি আসবে, যদি বিনা থেমে স্ট্রিমিং পায় দ্রুতগতির ইন্টারনেটের সৌজন্যে, কেউ আর বলিউডি গান বা দুষ্ট ছবি ডাউনলোড করতে যাবেনা পাড়ার কম্পিটারওয়ালা দোকানির কাছে। আগামীতে চোরডাকাতেরাও দ্রুতগতির ইন্টারনেট এর অপব্যবহার করবে। কীভাবে হবে জানিনা, তবে এটা বাড়বে।

যেটাই হোক, সব মিলিয়ে আগামী ভালোর দিকে যাবে, তার চেয়েও বড় কথা দ্রুত সব কিছু বদলে যাবে আমাদের চেনা পৃথিবীটা।

তথ্যসূত্র: কোরা এবং বিভিন্ন সংবাদপত্র


উন্মাদীয় বিজ্ঞাপন


ছবিঃ ইন্টারনেট 

ফুলশয্যার খাট সাজাতেও কাওকে দরকার? যদি সময়মত সুযোগ হয় তো এই কন্ট্রাক্টটা পুরাতন প্রেমিককে দেওয়াটাই নতুনত্বকে প্রাধান্য দেওয়া কারন এটা বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত। 

অবশ্যই নিচের লাইনগুলো পড়ে শরীরের রোম খাঁড়া হয়ে যেতেই পারে, তাহলে ওই অসভ্য রোম গুলোকে ভিট দিয়ে ক্লিন করে সুদ্ধ হয়ে পড়ুন। তৃপ্তি পাবেন।

একা সুন্দরী ললনা ঘরে, বাড়িতে কেও কোত্থাও নেই। নিষিদ্ধ নিষুতির হাতছানি। সেই উগ্র ঘামের গন্ধ, চুলের গুমোট, অসফুট ওষ্ঠ, থরথর দেহপট, লজ্জায় শক্ত করে কষে বন্ধ করে রাখা চোখ, পায়ের শিরা টানটান, আঙুল গুলো পা থেকে খুলে পড়তে চাইছে, চিবুকের নিচে বিন্দু বিন্দু ঘাম, শরীরে বিদ্যুৎ বয়ে যাচ্ছে মুহুর্মুহু, বুকের ধুকপুকানি শতগুন, আর এক শরীর রাক্ষুসে খিদে।

হ্যাঁ এটাই তো আমরা ভেবে থাকি। হবেও বা।

জিভ হাহাকার করছে, প্রানপনে লেহন চলেছে প্রেমিকের ওষ্ঠদ্বয়, উপর উষ্ঠ- নিন্মাষ্ঠ- বা শুধুমাত্র লালামিশ্রিত জিহ্বা লেহন। ললাটে বিন্দু বিন্দু কামনার ঘাম, ধেবরে যাওয়া চোখের কাজল, লিপস্টিক কবেই তো সঙ্গীর উদরস্থ, ক্রমাগত লেহনে বাকি সমস্ত প্রসাধন ও সেই পথাভিমুখে ,শুধু অষ্ফুট কিছু গোঁঙানির আওয়াজ। তীব্র যন্ত্রনার এক অপার্থিব পরিতৃপ্তি। শরীরের প্রতিটি রোমকে আলাদা করা যায়। বুকের শ্রীফল যেন জমাট বাঁধা বরফ, প্রেমের উষ্ণ গরলে আজ যে গলে যেতে চাই। প্রায়বন্ধ শ্বাসপ্রশ্বাস। তলপেটে নাভির চারপাসটা হালকা উঠানামা করে চলেছে, প্রানের অবশিষ্টাংশ বোধহয় ওখানেই আস্তানা গেঁড়েছে। আরেকটু দুরের জীবন্ত আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ। শত সহস্র লিটার জলন্ত লাভার স্রোত, চোরা সরসত্বীর মত ক্রমপ্রবাহমান। বাঁধ চাই একটা শক্ত বন্ধন। একটা শক্ত বাহুডোর ভেঙেদিক সকল পিঞ্জরাস্থি। প্রণয়ের আকুতি কবেই বা লোকলাজের ভয় করেছে! পরিণয় না হোক, আমিও তো পরী নই। অবৈধ্য? সে তো সমাজের সৃষ্ট একটা শব্দ, যে সমাজ আজও আমায় ধর্ষন করছে কুমারি সাজিয়ে রেখে। গলে যেতে চাই আমি, কামরে খাঁমচে সারা শরীরে বাহ্যিক ক্ষত তৈরি হোক। গভীর ক্ষত। সোহাগের ঘা তে ভরে উঠুক আমার সারা অঙ্গ।

মনের জ্বালা তো মিটুক।

সুরভিত এন্ট্যিসেপটিক ক্রিম বোরোলিন।  সকল প্রকার বাহ্যিক ঘা এর মারনাস্ত্র।

*************** এটা আন অফিসিয়াল বোরোলিনের বিজ্ঞাপন মাত্র****************

টিং টিং টি টিং
@উন্মাদ হার্মাদ

ফেসবুকীয় সিপিএমঃ ফিউজড আইনগাইডেড কামিকাজে ড্রোন

  ফেসবুকের ‘সিপিএম’ নামক এই চুড়ান্ত আঁতেল ও প্রায় সর্বজ্ঞ গোষ্ঠীটার পূর্ণ বোধোদয় বা পূর্ণ বিনাশ না ঘটা অবধি রাজ্যের বাম নেতৃত্বের খুব বেশী ...