বুধবার, ৬ মে, ২০২০

বৃত্ত ও অন্তকাব্য

 



মুখবন্ধ
ভাবনা আর বাস্তবের আবর্তক্রম পুনরাবৃত্তি ঘটে আমাদের মনোজগতে- পরিভাষা ভেদে মূর্ত আর পরাবাস্তবের প্রবাহ বলয়ে আমরা প্রত্যেকে বন্দি। চরিত্রভেদে কারো অপলাপ- কারো চিত্রণ হয়ে দাঁড়ায়। আমারটা আমি নিজেকে যতটা উন্মোচন করেছি, এটা তারই আখ্যান। এটা কোনো ‘কাফকায়েস্ক’ নয় যে, প্রচলিত গল্প বলার সীমানা অতিক্রম করব বা আখ্যানের ধরণ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার মুরোদ রাখি। মানব অভিজ্ঞতার ধুসর অপ্রাপ্তিগুলোকে- তন্ময় হয়ে কল্পনা রূপে অন্বেষণের মন্ময়যাত্রা এটা। অত্যুচ্চ প্রশংসার সামান্যতম আকাঙ্খাও নেই, তাই একে প্রলাপ বা বিলাপ ভেবে স্বচ্ছন্দ্যে এড়িয়ে যাওয়াও যায়


()

আমি মফঃস্বলের পাড়া গেঁয়ে ভুত, সেকেলে। যতবার মহানগরের রাজপথে নিজেকে ফেরি করে ফিরি কাজের দোহায় দিয়ে, প্রতিটা মুহুর্তে অনুভব করি- আমি বড় আদিম সঙ্গতিরহিত এই আধুনিক পৃথিবীতে। আমার বাস হওয়া উচিৎ বিবস্ত্র প্রকৃতির সান্নিধ্যে যেখানে লৌকিকতা নেই, জাত নেই, ধর্ম নেই। নেই সম্পর্ক নামের প্রহসন। রাষ্ট্রের কঠোর আইনের ফাঁস নেই, সান্ত্রী নেই, সারাক্ষণ নরজরদারি নেই। খিদে আর লোভের পিছনে ছুটে নষ্ট করার জন্য কোনো জীবনদর্শন নেই। না থাকবে ইঁদুর দৌড়ের শিক্ষা, এগুলোকে বিজ্ঞাপিত করার কোনো ব্রতকেন্দ্রিক বিগ্রহও থাকবেনা যেখানে। আনুষ্ঠানিক আচার-সংস্কার, তত্ত্ব, ভক্তি, কর্ম, বৃত্তি, ব্যঙ্গ, প্রতিষ্ঠার উর্ধ্বে- যেখানে থাকবে অমূল্য পুষ্টি যুক্ত জ্ঞানসুধা বর্ষা, অকৃত্রিম খাদ্যশৃঙ্খল আর শুল্কহীন নিখিল সৃষ্টি জগৎ।

দেহতত্ত্ব, আত্মতত্ত্ব, গুরুতত্ত্ব, দয়ালতত্ত্ব, ভাবতত্ত্ব- নিদেন পক্ষে বাউল, মুর্শিদি, মারফতিও হতে পারিনি। আমার মত অনোভিযোজিত অনুন্নত জীবের জন্য বিচ্ছিন্ন কোনো প্রান্তরই আদর্শ। মন গেলে খাবো, যা জুটবে। মাঝরাত্রে গান গাইব গলা ছেড়ে, খালি গায়ে ঘাসের বিছানাতে শুয়ে আকাশগঙ্গায় পবিত্রতা খুঁজব। মাটিতে আঁক কষব দায় আর দায়িত্বের জটিল গনিতের, ‘নেই সম্পর্কের’ রসায়নের ইতিহাস গুলোকে শরীরের ভূগোল থেকে মিথ্যা বিচ্ছিন্ন করার প্রচেষ্টাতে- সময়কে ব্যবচ্ছেদ করব জৈবিক চাহিদার যুপকাষ্ঠে। আর সেই অলীক বলির অস্তিত্বহীন রক্তে এসবই দুকলম ‘অজ্ঞাত কুলশীল’ লিখে ফেলব নড়বড়ে অনভ্যস্ত হাতে, যেগুলো কেউ কখনও পড়বেনা কোনোদিনও।

সেই ছোটবেলায় জন্ম হবার দরুন বুদ্ধিটা যেটুকুই পেকেছে, তা এই বড় বয়েসে এসে। রোমহর্ষহীন একটা বৃত্ত, যা শুরু হতেই অন্তে পৌঁছে গিয়েছে, তাই বৃত্তান্ত হয়ে উঠতে পারেনি কখনই। স্বভাবতই, কাল থাকতে পড়াশোনা করিনি মোটেই। তার উপর আমার গায়িত্রী মন্ত্র-

পড়াশোনা করিবি, মরিবি দুঃখে

মৎস ধরিবি খাইবি সুখে

সুতরাং, বাল্যকাল থেকে জপা এই ইষ্টমন্ত্রই জীবনে একমাত্র জেঁকে বসে আছে নাছোরবান্দার মত। যা খুশি করি, পড়াশোনা ‘নৈব নৈব চ’।


()

কল্পনা করি, আমি থাকি- মনুষ্য কোলাহল মুক্ত রসিক বিলের এক পাড়ের ছোট্ট কুঁড়েতে। একটু দূরে গাঁয়ের ইস্কুলবাড়ি একতলা, ইস্কুলের আবাসিক ভবনটিও লাগোয়া, দ্বিতল বিশিষ্ট। সন্ধ্যায় লন্ঠনের নিভুনিভু আলো জ্বলে তাদের ঘরে। উপরে ঝাঁকড়া তেঁতুলগাছের শামিয়ানা। আশেপাশে কয়েকটা ফলসা, চালতা, কামরাঙা, কুল, জাম, জামরুল আর বিলাতি আমড়ার ফলদায়ী গাছ। অনেক দূরে সীমানার কোনে জোড়া পাঁকুরের গাছ, সেখানে বহু পাখির বাস, দিনের বেলা এই গাছতলাতে অস্থায়ী দোকান বসে, আলুকাবলি, সিদ্ধছোলা, ঘুগনি, পাঁপড়, বারোভাজা আর শশা বিক্রি হয়।

সামনে একটা বাচরা খেলার মাঠ, তারপর ঢোলকলমি আর নিশিন্দার বেড়া দেওয়া একটা এঁদো ডোবা, এখানে মশার চাষ হয় প্রকৃতির তদারকিতে। দোতলাতে শিক্ষক আবাস, একলা দোকলা, কাচ্চাবাচ্চা নিয়ে চার বা পাঁচকলা পরিবারও থাকে ওখানে। হয়ত তাদের আসা যাওয়া লেগে থাকে ওখানে। ইস্কুলের বাচ্চাদের বড় ভালো লাগে, মানুষের বাচ্চারা ঠিক মানুষ নয়, তারা যেহেতু মানবিক ক্লেদ, গ্লানি, লালসা আর রিপুর উর্ধ্বে- তাই তারা নিজেরা একটা আলাদা প্রজাতি- ছত্রাকের মত ক্ষনস্থায়ী ও পবিত্র

রসিক বিলের মাছ পাহারায় স্বনিয়োজিত রক্ষী আমি। এখন পচা ভাদর, ত্রয়োদশী চাঁদ হোক বা কন্যা, ভাদরের আদর নিতে মেঘের আড়াল থেকে সমানে উঁকিঝুঁকি দিয়ে যায় সামান্য ফুরসৎ পেলেই। মাঠের পাট, বিলের চারি পাড় বরাবর পচাতে দেয় এই সময়, উপরে কলা গাছের লাশ, বিলের কালো পাঁক আর ছটের দড়ির আষ্টেপৃষ্টে সোহাগের জড়াজড়িতে এক আশ্চর্য সহাবস্থান। একঘেয়ে মাছের আঁশটে গন্ধ, দুরের বাঁশবাগানে চ্যাংড়া ছোঁড়াদের গাঁজার উৎকট গন্ধে দুষিত বাতাস আর ইস্কুলের ছেলেদের হিসুর রাসায়নিক গন্ধের ভিড়ে, পচা পাটের গন্ধ- জীবনে একটু ভিন্নতা আনে প্রতি বছর এই সময়টা

পচা পাট মানেই চটুই পাখির সাইজের ডেঁয়ো মশা। জানিনা এগুলো মদ্দা না মেদ্দি। তবে কামরানোর আগে একটা বিনাকা গীতমালা শুনিয়ে বেশ সুড়সুড়ি দিয়ে তবেই প্যাঁক করে হুল ফোটায়, যতক্ষণ জেগে থাকি। এটাই সেই ‘বেশ ভাল আছি’ জীবন। অকৃতদার জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস খেলা প্রো-নিয়ানডারথাল প্রাইমেট আমি। এই পাণ্ডববর্জিত স্থান, তার উপর রাত্রের দিঘীর পাড়, জটপাকানো শালুকের ডাঁটির ফাঁকে ফাঁকে ছোট ছোট শুভ্র সাদা রঙের চাঁদমালা ফুলে মৃদু হাওয়ার ঢেউ লেগে একটা ছন্দ খেলা করিয়ে যায়। ব্যাঙাচির দলেরা হইহই করে গোল্লাছুট খেলে কলমি লতা আর হেলেঞ্চার বনে।


()

মাদারের ডালে হাওয়া লাগে, বহলের বুকে কাঁপন ধরিয়ে। কালো মেঘে আকাশ ছেয়ে গেলে, হিজলের বুকের জমাট অন্ধকার ঝড়ে পরে দীর্ঘশ্বাসের মত নিঃশব্দে। সামনেই শারদীয়া, বড় নল, কাশ আর খাগড়াদের সমাজে তাই সাজসাজ রব, বোবা বাতাসে বুক পাতলে তার গুনগুনানি শুনতে পাওয়া যায়। জারুল গাছের কান্ড বেয়ে ধুধুল আর গোয়াললতার পরকীয়া চলে প্রকাশ্য আঁধারে। একটা বেওয়ারিশ হাসনুহানা তার গন্ধ দিয়ে অবৈধ সম্পরর্কের নোংরা ইঙ্গিত দেয়। সেই ইঙ্গিতে কে কার কাছে কুহকিনীর মত ধরা দেয় জানিনা, আমার শুধু মশারাই একমাত্র সাথী। ওরা আমায় কামড়ে সুখ পায়, আমি ওদের তাড়িয়ে, অদ্ভুত অতীন্দ্রিয়বাদ। এভাবেই দিন কাটে মশাদের সঙ্গে সহাবস্থানে। কখনও ওরা আমাকে একা পেয়ে রক্ত খায় রীতিমত দলবেঁধে। ব্যাপারটা ক্রমশ একতরফা পর্যায়ে পৌঁছালে আমিও ওদের পিটিয়ে মারি, নিষ্ফল ক্রোধ এভাবেই নিষ্ক্রমণের পথ খুঁজে নেয় হয়তো। হৃদয়ের শরীর জুড়ে ছুঁয়ে থাকে দীর্ঘ শুষ্ক চাওয়ারা, মৃত উদ্ভিদের বাকলের মত। অনন্ত, অনন্ত ঘুমের আগে যার থেকে পরিত্রাণ নেই

কিছু রাতচড়া পাখির দল ভয় দেখানো গান গেয়ে যায়, মেঠো ইঁদুরের দলের এটা অফিস টাইম, চুড়ান্ত কর্মব্যস্ততা। অন্ধ ফড়িং এর দল ব্যাঙের খাদ্য হতে চেয়ে তিরতির করে উড়ে উড়ে যায় নক্ষত্রের কানা আলোর পথ বেয়ে। ভেজা মাটিতে সাপের খসখসানি শব্দ না উঠলেও নেউলের দৌরাত্ব টের পাওয়া যায়। জোনাকির পিছনের আলো দেখে ঝিঁঝিঁর দলের একটানা সমস্বরে মড়া কান্নার ফাঁকে- বাঁদুরের ডানা ঝাঁপটানোর আওয়াজে সম্বিৎ ফিরলে, দূর মাঠের মাঝে ক্ষুধার্ত শেয়ালের দলের বিলাপ শুনলে মনটা সেই কৈশরের ভাবনাহীন রাতগুলোতে ফিরে যায়। আবেগ আর অনুভবের বায়বীয় খাদ্যশৃঙ্খল যখন ‘আমিকে’ খেয়ে ফেলেনি, সেই মিষ্টি কৈশরের গন্ধ মাখা এই অন্ধ ভাদর আজও অপলক করে দেয়। গন্ধ শুঁকে শুঁকে চলে আসা একটা খোঁড়া নেড়ি এসে জলন্ত চোখ দেখিয়ে নিরবে বলে যায়- অন্ধকারের অধিরাজ্যে জেগে উঠা পৃথিবীতে ‘মানুষ’ বড়ই অনাহূত

মশা’য় কাটা, আমারই রক্ত খাওয়ার দাগ গুলো ছাড়া, আমার সারা শরীর বা জীবনে কোথাও বিন্দুমাত্র রঙ নেই। প্রেম আমার সধবার একাদশী, মৌনতা দিয়ে যৌনতার মন্থন নির্নয় করি দুর্বিপাকের পরিধি বরাবর। স্বমেহনে গৌন থাকা বিষয়সূচি কর্বুরিত সঙ্গমের লাবন্যে ঋদ্ধ হয় উদ্দীপিত রেতঃক্ষেপে। রাত্রে মাঝে মাঝে ছিপ নৌকা নিয়ে বের হই অন্বেষণে, টহল দিই দিঘীর চারি বেড়া। জিয়লের বনের ধারে মেছো ভুত, মামদো ভুতের উপদ্রব খুব বেশি, জেলেদের উপকথায় শুনেছি। তেনাদের আবছায়া শরীরের শীতলতা অনুভূত হয়, চোখ বন্ধ করলেই। বেম্মোদত্যি আছে কিনা জানিনা, অবিশ্যি তারা সাত্তিক ব্রাহ্মন, মাছ ছুঁয়ে দেখেননা, তবে গন্ধ নেন হয়ত।

আমি মনের সুখে পরিক্রমা করি, গুনগুন করে এক আধটা জারিগান, ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া গানের কলিও ভাঁজি। শ্রমভার নেই, তাই লাঘবতা হীন চিত্তবিনোদনের জন্য এ বড় সরল সঙ্গীতের আয়োজন। আলকাপ, গম্ভীরা, ঝুমুর বা খাম্বাজ- আঁধারের পথে এই বড়লোকি মানায়না। নদীবিধৌত অরণ্যাকীর্ণ এই প্রান্তভূমে কাক চিল পানকৌড়ি মাছরাঙা ছাড়া কারো উপদ্রব নেই, যেহেতু এখানকার কোনো মালিকপক্ষ নেই তাই পাহারাও নেই আমি ছাড়া।

দিত সূর্যের সাথে আমার আজন্ম বিবাদ, সারারাত টো-টো করে ঘুরে বেড়াই হেঁটে বা ছিপ নিয়ে, তাই দিনে ঘুমাই। সকল শখ এখন ছিলিমে বন্দি করে অধ্যাত্মপিপাসা নিবৃত্ত করি


()

কোন একসময় বাইবেলে পড়েছিলাম, “পবিত্র আত্মার স্থায়ী শক্তি ব্যতীত, আমাদের প্রচেষ্টা দৈহিক এবং অকার্যকর”। আমার মাঝে আত্মা থাকলেও তাতে পবিত্রতা নেই, তাই অবশিষ্ট সবটুকুই দেহ। সেই দেহতে দুপুরের তপ্ত সূর্যের জুলুমে ঘুম ভাঙে, মশককুল সৃষ্ট রক্তের লাল ছোপ অংশে হাত চলে যায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে। স্পর্শনাতীত চরাচর থেকে বাস্তবের নীল-সাদা ইমারতের দিকে নজর চলে আপনা হতেই, ইস্কুলবাড়ির দিকে। দেখা যায় কতগুলো অমেরুদণ্ডী প্রাণী বুকে হেঁটে চলেছে মস্তিষ্কহীন জেলিফিসের মত লালসার রসে চোবানো বিষাক্ত একটা দলাপাকানো চটচটে শরীর নিয়ে। এনারাই শিক্ষক।


জীবন হল একটি ত্রুটিপূর্ণ শক্তি, একটা শিল্প। শিল্পীর একমাত্র কর্তব্য সম্ভাব্য তাৎপর্যগুলির অনুসন্ধান চালানো, সুশৃঙ্খল প্রণালীতে যার কোন বৈধত্ব নেই। অননুকরণীয়ভাবে নিশ্চয়াত্মক প্রতিকল্প স্থাপন করতে কর্তৃত্ব লাগে, যা আজকের শিক্ষককুলের নেই। তারা নিজেদের ত্রুটিমুক্ত ও সম্পূর্ণ ভাবেন। নান্দনিকতার মাত্রায় সময়কে মাপা যায়না, এর জন্য বোধ দরকার, শৈল্পিক সুক্ষ বোধ। আমরা সকলেই শিল্পী, যখন আমরা অনুসন্ধান করতে শিখি, প্রশ্ন করতে শিখি, বিশ্লেষণের প্রচেষ্টা করি। আমরা ভুলে যায়- একজনের ন্যায়পরায়ণতার চোখে অন্যকে বিচার করা বিভ্রান্তিজনক, কারন প্রত্যেকের প্রেক্ষিত আলাদা। অথচ আমরা এটাকেই সামাজিকতার নাম দিয়ে সভ্যতা বানিয়েছি। তাই শিক্ষক শিল্পী হতে পারেননি কখনও। পুলিশের মত একটা আলাদা বর্গ বা প্রজাতি হয়ে গেছে সমাজে। সে যাই হোক-

এমনই এক সন্ধ্যায় সামনের শিক্ষকাবাসে হঠাৎই নতুন কেও এলেন বুঝি! একজন একলা মানুষ, একটি একলা দেহ। শিক্ষক সম্প্রদায়ের কি? হবেও বা। আমার ঘর নেই, শনের চালের নিচে বাঁশের মাচা, জানালা দরজার আড়ম্বর নেই। কিন্তু সেই একলা মানুষটির ঘর আছে, রমণীয় ভাদরে সেই ঘরের জানালা খোলা। সম্ভবত ছোট শহর থেকে আগত, তাই চিৎকার নেই। বিদ্যুতশক্তি বিহীন এই পাড়াগাঁ, কালিঝুলি মাখা টিমিটিমে লণ্ঠনের মায়াবি আলোতে একটা অবয়ব ধরা দেয়, কাঁধের নিচ পর্যন্ত ঝুলে থাকা খোলা চুল। বৈরাগী মন দ্রুত এবং সবলীল পদচারনার দৌর্মনস্য তন্ত্রে চর্মচক্ষুকে একক বানিয়ে, বিনুনির খোঁজে বাঁধা পরে যায় আবার। খুঁজে নিই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র তুচ্ছ বিষয়- হাতে একটাই চুড়ি, বেশ মোটা, অবিবাহিত ধরে নেওয়ার মাঝেই ফলাগমের শক্যতা


()

অগত্যা, আমি অনাসক্তির উপরে পুনরায় অনাসক্তি এনে রোজ সন্ধ্যায় ওই অপরিচিতার ছায়ার মায়ায় পড়ে গেলাম। আমার মাচায় একটা কেরোসিনের কুপি ছিল বটে, কিন্তু কখনই জ্বালানো হয়নি, দরকারই ছিলনা। ব্যাটারি টর্চেই জরুরী কাজ মিটত। থাকার মধ্যে মুখের বিড়ি, তাতে উনার দৃষ্টি আকর্ষনের কোন সুযোগ ছিলনা। শুক্লপক্ষের জ্যোৎস্নাতে ঝলসে গিয়ে প্রেতাত্মা স্বরূপ ভৌতিক অবয়ব তার দৃষ্টি আকর্ষণে অক্ষম হলেও, আমার তরফে ক্রমে ভাললাগা অতঃপর ভালবাসা গড়ে উঠল; একতরফাই

তোমার এবং পৃথিবীর মধ্যে দ্বন্দ্বে পৃথিবী দ্বিতীয়”, মানে তুমি প্রথম আর আমি সর্বদা তৃতীয়

আমার অনুসন্ধায়ী ক্ষুধার্ত নাগরবাউল চিত্ত, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিষয়ের উপরে পর্যবেক্ষণ শুরু করে দিলো। ফি’সন্ধ্যায় নিপুনতার সাথে পরিপাটী করে চুলের পরিচর্যা তিনি করেন, অনুমান করি- পোষাক পরিবর্তনও করেন জানালা খোলা রেখে নিভু নিভু আলোতে। উন্নত বক্ষদেশ, আহা। সুতনুকা কটিদেশ, লন্ঠনের মায়াবী আলোতে নেশা ধরিয়ে দেয়। এর পরেরটা বড় বেদনাদায়ক। উপুড় হয়ে শুয়ে হাতের ভরে শরীরটাকে কেমন উপর নিচে করতে থাকেন আধা ঘন্টা প্রায়। ব্যাপারটা পুরোটা বুঝিনা, প্রেম না থাকলে কৌতুহল মেটাতে জানালার ফাঁকে উঁকি দিতাম নিশ্চই, কিন্তু ভালবাসাকে ফাঁকি দিতে নারাজ; ফলত আমি ঝুঁকি নিতে পারলাম না। বরং সেই কষ্টে ঠোঁটে উঠে কাল্পনিক মোহন বাঁশি। ছিপের ধরাটির উপরে এলিয়ে দিই শরীরকে। কোনো সুর জানিনা, তবুও বাঁশি বাজে আপনসৃষ্ট সুরে। ওতে বিষাদ থাকে, তাই ওটা বিষাদসিন্ধুই হবে

কন্যা-ভগিনী-জননীরূপে পরিবারে নারীর অবস্থান সত্য, কিন্তু যাকে কেন্দ্র করে সংসার-সাগরে ভাবরাশি উত্থিত হয়- তা প্রণয়িনী রূপেই। যথাক্রমে, এর পর তিনি গৃহকর্ম সারেন একে একে, আমার অপলক দৃষ্টি তার প্রতি থাকে, অন্তরে বাজতেই থাকে বিষাদসিন্ধুর সুর। রাত বাড়ে, ক্রমশ ঘরের আলো নিভুনিভু হয়ে আসে, এরপর কেন জানিনা চঞ্চল পায়ে পদসঞ্চালনা করেন রোজ। কল্পনার কোন সীমা থাকেনা শুনেছি। আমার কল্পনাও তেমনি ডানা মেলে উড়ে চলে উর্ধ্বপানে।

জ্যোৎস্না রাতের মায়াবী চাঁদও কম্পিত হয় লাজে, ‘তুম্বা আর ডান্ডির’ প্রতিটা তারে পিছলে যায় গতস্পৃহ সুর, সেই লাজে মেঘের ঘোমটা টেনে নেয় শুকতারা, মিটিমিটি চায় আমার ঘুমঘুম চোখের দিকে। চমকে উঠি, হৃদয়ে তোলপাড়, শিহরিত হই মুহুর্মুহ। নবীন যৌবনের উন্মত্ত ঝঙ্কার, সেতারের তীক্ষ্ণ সুর ধৈর্যের প্রতীক হয়ে লুটোপুটি খায় বিলের জলে। অনবিল আনন্দেরা সৃষ্টি সুখের উল্লাসে বাজিয়ে চলে সুরের মুর্চ্ছনা। মধুর দমবন্ধ পরিস্থিতি যা একই সাথে পরমসুখ ও যন্ত্রনার, ক্রমে চেপে বসে বুকের উপরে। নিঃশ্বাসের জন্য হাহাকার করা সমস্ত চেতনা একাকার হয়ে যায় প্রকৃতি, আমি ও সেই কুহকিনীর সাথে।

অসমস্তরের প্রেমে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে সামন্তপতি, তার প্রতিনিধি, বিত্তশালী, ক্ষমতাধর, রূপতৃষ্ণা, প্রণয়বাসনা, কামপ্রবৃত্তি ইত্যাদি অনুগামী হয়ে চলে আসে। অত্যাচার, শোষণ, নির্যাতন, প্রতিহিংসাপরায়ণতা, কৌলীন্য, রক্ষণশীলতা, আভিজাত্যের অহঙ্কার, ইন্দ্রিয়াসক্তি, সম্ভোগপ্রিয়তা, বহুগামিতা এমন শব্দের দল ক্ষতবিক্ষত করে তোলে আত্মাকে। যেন একমাত্র মহাজাগতিক অস্তিত্ব আমি, বাকি সব ভ্রম। এই দ্বন্দ্বে নির্ভার প্রেমের তন্ত্রী ছিঁড়ে যায় উপচানো মায়া বিছানো উঠোনে, অন্তরঙ্গ মুহুর্তেরা হাহাকার করে উঠে

কোন এক বিখ্যাত জনের বানী শুনেছিলাম, আরেক জ্ঞানগম্যিওয়ালা মানুষের কাছে, সেটা এ রকমঃ-
ক্ষুধা ও সৌন্দর্যবোধের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। যে-সব দেশে অধিকাংশ মানুষ অনাহারী, সেখানে মাংসল হওয়া রূপসীর লক্ষণ; যে-সব দেশে প্রচুর খাদ্য আছে, সেখানে মেদহীনতাই সৌন্দর্য্য”।

সেহেতু ওই অপরিচিত সান্ধ্যকালীন আবছায়াটা ঈষৎ চর্বিযুক্ত হলেও, আমার পিরিতসুখের অনাহারী দৈন্য দশাবস্থাতে, যে শুধু মাত্র মশার সাথে সহবাস করে করে, এই মাংসল ছায়াচিত্র আমার মন জগৎকে যথেষ্ট প্রেমাশিক্ত করত। এমনিই চলে কয়েক পক্ষকাল জুড়ে


()

রোববার, ছুটির দিন। বাবুরা নিজেরা ‘থলে আর চাকর’ নিয়ে বাজারে আসেন। আমার অপরিনত ঘুম ভেঙে যায়, ভোরে বিলের জলে জাল ফেলে বাগদী জেলে মহিলারা, সেই মাছ বাজারে যায়। কাজকর্ম থাকেনা, তাই ওই দিন বাজারে আমিও যায়, সংসার পিরীত মানুষ দেখে নিজেকে সুখী ভাবি। শিক্ষকাবাসের অবিবাহিত শিক্ষক শিক্ষিকার দল সাধারনত বাড়ি ফিরে যায় ছুটির দিনে। আজ দেখলাম একজন রয়ে গেছেন, এসেছেন বিলের তাজা সরপুঁটি কিনতে। নতুন মানুষ, আগে দেখিনি। বরেন বাবু এলাকার রেশন ডিলার, ইস্কুলের সেক্রেটারিও বটে। নানান কথাবার্তার ফাঁকে আমার উদ্দেশ্যে তিনিই বললেন- হ্যাঁরে, ইনাকে চিনিস!

- আমি মাথা নাড়লাম। না চিনিনা

- আরে ইনি আমাদের ইস্কুলের নতুন শরীরশিক্ষার মাষ্টার মশাই। এই তো মাস খানেক আগে এসেছেন। মেদিনীপুর থেকে, খুব ভাল মানুষ


আমি খেয়াল করলাম, কি শক্তপোক্ত চেহারা, বুকের দিকটা চওড়া, কোমর সরু, পাক্কা পালোয়ান মার্কা। গালে হালকা দাড়ি, পুরু ঝাঁটার মত গোঁফ। আর দেখলাম প্রসারিত রোমশ হাতে একটা পাঞ্জাবী স্টাইলের স্টিলের বালা, আর দুই বাহুজুড়ে কত কি সব ভয়ঙ্কর উল্কি আঁকা। দেখাই কেমন সম্ভ্রম জাগে মনে

- তুমিই কী সন্ধ্যাবেলা গান গাও বিলের ধারের মাচাতে?

- আজ্ঞে হ্যাঁ, তা গাই বৈকি

- কি নাম আপনার?

- আজ্ঞে মশা, ইয়ে মানে … আমাকে গানওয়ালা বলেই নাহয় ডাকবেন

- তা বেশ তা বেশ, আমি আপনার ওই মাচা ঘরের কোনাকুনি ইস্কুলবাড়ির আবাসনে থাকি। প্রাণ খুলে গলা সাধেন কিন্তু, খুব ভাল লাগে। আমি ডন বৈঠক দেওয়া থেকে, খেয়ে দেয়ে পায়চারি করার সময় অবধি সময় রোজ শুনি। খুব খুব সুন্দর।


বলতে বলতে, একটা মুচকি হেঁসে উনি সেক্রেটারি বাবুর সাথেই চলে গেলেন। আর আমি খেয়াল করলাম, ওই পালোয়ানের মাথায় বেশ লম্বা চুল, ঘাড়ের নিচ পর্যন্ত ঝুলেছে। তাতে আবার ছোট ছোট বিনুনি বাঁধা।


বাকিটা আর নিজেকেও কখনো শুধাইনি।


()
বিলাসিতা কাকে বলে জানেন!

বিলাসিতা হচ্ছে, আমাদের অন্তর যা পছন্দ করছে নিষ্কলুষ ভাবে, কাউকে আঘাত না করে, কাউকে ক্ষতি না করার মাঝে বিলাসিতার আসল বাস। হয়ত বোকাবোকা, কিন্তু বিলাসিতা মানে যে নিজেকে সম্মানিত করা। বিলাসিতা হচ্ছে পরিবারের সঙ্গে থাকা। বিলাসিতা হচ্ছে সন্তানদের সাথে কাটানো সময়গুচ্ছ। কী কে চি বলার মাঝে, ককোলির মত অর্থহীন শব্দে, না কে লা উচ্চারনে কিম্বা মিঠি শব্দের ওমে- এগুলো আমার একান্ত নিজশ্ব বিলাসিতা। যা মূল্য দিয়ে খরিদ করা যায় না

দামি ঘড়ি, মোবাইল বা অলঙ্কারে বিলাসিতা খোঁজা অর্থহীন। অর্থ কিম্বা নৌকার পালে বিলাসিতা নেই। বিলাসিতা হল প্রাণ খুলে হাসতে পারার কারনে, সুখী হওয়ার নির্দিষ্ট উপাদান না থাকার মাঝে। বিলাসিতা থাকে বন্ধুত্বে। বিলাসিতা মুখের পেশিতে খেলে যাওয়া মিষ্টি হাসির ঝিলিকে। আশ্লেষ আলিঙ্গন এবং বুকভরা শ্বাসে নেওয়া দীর্ঘ চুম্বনে। দোকানে বিলাসিতা কেনা যায়না, উপহারের মাঝেও বিলাসিতা নেই। অন্যের ক্ষতি না করে অন্তরে যা কিছু সুখানুভব পৌঁছে দেয়, সেটাই বিলাসিতা। জাঁকজমক আসরে বিলাসিতা খুঁজে ফেরা আপনি যদি একবার একাকীত্বের মাঝে নিজেকে খুঁজে পেয়ে যান, দেখবেন সেই যাপনের মাঝে কি ধরণের স্বর্গীয় বিলাসিতাটাই না রয়েছে।

আবার ফিরে আসি বাস্তবে, কোলাহল কল্লোলিনীর কোলে। দায়ে পরে, পালিয়ে যাওয়ার অনুষঙ্গ পেতে, একা হয়ে যাওয়ার অজুহাত খুঁজতে

সকলে পারেনা মুক্তি পেতে, আমিও সেই দলেই। তাই মনোজগতে বিচরণ করি স্বপ্নবিলাসী হয়ে। চুম্বনহীন প্রেম গণিকার জীবিকা, এতে ভালবাসা থাকেনা। ভালবাসা বিলাসিতা নয়, এটা আবশ্যিক। এটা সমাপ্তিবিহীন, কেবলমাত্র একটি তাৎপর্য মূলক পদ্ধতি, যার কোন সীমাবদ্ধতা নেই। রসিক বিল, বাঁশের মাচা, চাঁদমালা ফুল, মেছো ভুত আর নরম আলোয় দেখা আবছা মুর্তিতে খুঁজে ফিরি বিলাসিতা, হোকনা স্বপ্ন- তবুও বিলাসী হওয়ার মাঝেই তো সুখ, কল্পনার ইতি বৃত্তান্ত। এটাই জীবনের কবিতা



মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২০

জিভে দয়া করে যেই জন


 

হাই-ড-রকসি..... গুলু গুলু কুলু কুলু, ছ্যাঁ ছ্যাঁ এটা আবার কেমনতর নাম যা জিভ উচ্চারণ করতে পারেনা! একটা জীবনদায়ী ওষুধের নাম সহজ হবেনা কেন? সে যুগে ছোটবেলায় জ্বর হলে মায়েরা ডাক্তারের কাছে গিয়ে বড়ি চাইতেন, হাতাওয়াল গেঞ্জি যাকে মেরজাই বা কামা বলে, সেই গায়ে ডাক্তারবাবু হামানদিস্তায় কিছু গুঁড়ো করে পুরিয়া দিতেন, আর সেই খেয়েই আমার দাদু ৭২ তে গিয়ে বোল্ড হয়েছিল by ফুলুরি, বাপটা এই তেষট্টিতেও টগবগে জোয়ান, নটআউট। তাদের এইসব বিটকেলে রোগও যেমন হয়নি, তেমনি এই ওষুধের নামও মনে রাখতে হয়নি।

তারও আগে কোবরেজ মশাই বা হাকিম সায়েব এর পাঁচন খেয়েছিল উর্ধ্বতন পূর্বপুরুষের দল, তারা কি টেঁশে গিয়েছিল অকালে? অথচ আমাদের সর্বাঙ্গ রোগে পটপট করছে, তার উপরে ওষুধের ভিনদেশী শব্দের চোটে লেজে-গোবরে থুক্কুরি জিভে-গয়েরে অবস্থা

পাঠশালাতে এমনিতেই ইতিহাসের সাল মনে থাকতনা, ভুগোলের ম্যাপবই টুকরো করে তাতে আলুকাবলি রেখে খেয়েছি। অঙ্কের ক্লাসে বসে জানলা দিয়ে তালগাছে বাবুই এর বাসা বাঁধা দেখতুম, হাজারহোক শিল্পী মন তো! সাড়ে সাত ঘরের নামতা শিখে ফেলাটা কোনো সাধারণ প্রতিভা ছিলনা। তার উপরে ইঞ্জিরি ক্লাসে নিমুনিয়া, লেফট্যানান্ট, এ্যাসোসিয়েশন ইত্যাদি বানানের চোটে কতজনই যে ক্লাস সিক্স টপকায়নি সে হিসাব সরকারের কাছে আছে? বিজ্ঞানের ক্লাসে গ্যালিলিও বললে গুলি খেলার কথা মনে পরত, কোপার্নিকাশের কথায় মনে পরত- নিচে পাড়ার হারুর সাথে কলআঁটির ঝামেলার হিসাবটা আজও নিকেশ করা বাকি। ভিটামিন মানে ‘গুটা ডিম’ এর বেশি বুঝিনি সেকালে।

ব্যকরণ পড়ে কতজন হাকিম, মোক্তার হয়েছে না জানলেও কত প্রতিভা অকালে ঝরে পড়েছে সে কথার লেখাজোখা কি রয়েছে সরকার বাহাদুরের ঘরে? কোনো মশালচি কী এমন গুরুত্বপুর্ণ বিষয়ের উপরে দস্তাবেজ তৈরি করেছে? নেই! যাদের ছাড়া দেশ চলবেনা, সেই বাসের ড্রাইভার, মুদি দোকানী, ঘুগনি ওয়ালা, জমাদার, গোয়ালা, নরসুন্দর প্রমুখদের ভূগোল-বিজ্ঞান-ব্যাকরণ কোন কাজে লেগেছে? এই ধরুন ঘোষেদের হাবু, আজ লোকের চুল কাটে সে কী এমনি এমনি? রহিম রাজমিস্ত্রির যোগারে হয়েই বুড়ো হয়ে গেল, দীনু লটারির টিকিট বেচে দিন চালায়, সেসব কি স্ব-ইচ্ছায়? আজ্ঞে না মশাই, তিনকড়ি পণ্ডিতের ব্যাকরণের ক্লাস যে কত হাবু, রহিম, মজনু, দীনু, হরিদের ভবিষ্যৎ কেড়েছে, ঘোষের ছেলেকে নাপিত বানিয়েছে, ইতিহাস তা মনে রাখেনি। ওরাও আপিস যেতে পারত যদি উচ্চারণের মহামারীতে ভোগে না যেত। ব্যাকরণের নত্ব-ষত্ব, সন্ধি বিচ্ছেদ, সমাস ছেড়ে দিন- কুজ্ঝটিকা, কিংকর্তব্যবিমূঢ়, আকাঙ্ক্ষা, দুর্বোধ্য শব্দ গুলোকে কেন মহামারী ঘোষণা করা হয়নি, এতগুলো প্রাণ নেবার পরেও? এক্ষেত্রে সুশীলসমাজ, বুদ্ধিজীবীরাও মুখে তালা লাগিয়ে রেখেছে, কেউ কখনও এমন মারাত্বক ছাত্র বিরোধী বিষয়ের উপরে অনশন, মিছিল, ধর্না কিচ্ছুটি করেনি, আদালতও শুয়োমোটো মামলা করেনি, জনস্বার্থের কথা কে আর ভাবে। এসবের পরেও আজকাল কিছু বিদেশী শব্দ এসেছে এই দুর্দিনের সময়, যখন মানুষ ঘরে শুয়ে শুয়ে ক্লান্ত

অথচ শুরুটা আমাদের কি দিয়ে? অ এ অজগরটি আসছে তেড়ে, আঁটকালো কোথাও! ছোট খোকা বলে অ আ, শেখেনি সে কথা কওয়া, জল পড়ে- পাতা নড়ে, কোথাও আঁটকেছিল? সব জিনিসই কি শিখতে হয়, নিজ প্রতিভাতেও তো কতকিছুই শিখে যায়, বোকা যোগে ওই গালিটা, শুয়োরের বাচ্চা, অমুকের ছেলে, তমুকের ভাই এগুলো কে শিখিয়েছিল! সরল ভাষা, তাই সাবলীল ভাবে প্রায় সকলে শিখে নিয়েছে। উপরোক্ত গালি গুলি পর্যায়ক্রমে- মুর্খরতিকারক, বরাহনন্দন, পতিতাতনয়, উদ্দীপ্ত যৌনবিলাসীর ভ্রাতা ইত্যাদি রূপে যদি শেখাতে যান, কেউ শিখবে? হয় তারা উন্মাদ নতুবা সন্ন্যাসী হয়ে যাবে তবুও শিখবেনা

এই যে ধরুন আমাদের রোগব্যাধি গুলো, কত সরল নাম সব। বুনিয়াদী ইশকুলের সব ছেলেরা জানে ‘পেট-বেতা’ কাকে বলে, ঘরের বৌদের ‘মাতা-বেতা’ রোগ কে শিখিয়েছিল! ধরুন আমাশা, যতটা আয়েসে ওখান দিয়ে বের হয়, ততটাই সহজে জিভ দিয়েও বেড়িয়ে আসে। হাগা, বমি, জ্ব, কাশির মত রোগ, যা জিভকে কষ্ট না দিয়ে ফস করে বেড়িয়ে আসে। তারপর ধরুন ‘বাত’ বললেই সর্বাংগে একটা যন্ত্রনার উপন্যাস পড়ে নেওয়া যায়, আবার বাতের শেষে একটা ‘কম্ম’ জুড়ে দিতেই চোখ বন্ধ করে স্বর্গীয় পরিতৃপ্তিটা উপলব্ধি করার মত। বিদেশী রোগ কিন্তু তা নয়, influenza, Tuberculosis, diabetes, diarrhea , appendix, Osteoarthritis, Schizophrenia, Jaundice আরো কত্তকি, যেগুলো উচ্চারণ করতে গেছো কী হেডফোনের তারের মত জিভ জড়িয়ে গিঁট পেকে যাবে

মহামারীর নাম করোনাই হওয়া উচিৎ, কি সুন্দর মুখ দিয়ে বেড়িয়ে আসে। আগে কি মহামারী ছিলনা! লাউঠো, কুট, মায়ের দয়া, ভেদবমি, ধুমজ্বর- একটাও কী জিভে কষ্ট দিয়ে মেরেছে? চুলকানি রোগ তো আমাদের জাতীয় সম্পদ। এদেশে লোকে পাগল হয়ে যেত ঠিকিই কিন্তু তারাও গান, বাজনা সহ নানান আমোদ হরকত দেখাতো, তাদের কখনও lunatic asylum এ রেখে আসতে হয়নি যার নাম উচ্চারণ করতে গিয়ে দম আঁটকে যায়। গু, মুত, ঘামও কত ভাল ভাবে বের করা যায়, অথচ সাদা চামড়ার মানুষ গুলো সামান্য হিসি বোঝাতে গিয়ে ঠোঁট বেঁকিয়ে কত কসরত করে urine বলে বেচারারা। তারপর ধরুন গু, সেটাও বলতে গিয়ে জিভকে টাঁকরায় ঠেকিয়ে stool বলে, অথচ আমরা school কে সেই কবেই সরল ভাবে ইসকুল করে নিয়েছি

তারা যতই ব্রিটিশ বলুক আমরা ওদের গোরা করে দিয়েছিলাম, মেম-সায়েব, দোলান্দ কত্তো সুন্দর করে আমরা নাম দিয়ে দিয়েছি। Government কেও এই হালেই গরমেনট করে দিয়েছে পিসি। তাদের এলোমেলো ভাষার খপ্পরে আমারা আজও আলমন্ড, ডেঙ্গু, পিজ্জা, সোর, কুপন, লিংগারি, প্লাম্বার, এসথেমা, প্রসিডেন্ট, এগজামিন, এমনকি প্রোনাউনসিয়েসনটাও সঠিক করে আজও উচ্চারণ করতে পারিনা আমরা। কারন আমরা তো শিক্ষার যে ইংরেজি শব্দ সেটাকেই এডুকেশন লিখি অথচ গোরা গুলো এজ্যুকেশন বলে। ওদিকে লালচুলো মারকিন হনুটা আমাদের স্বামীজিকে ‘ভিভেকামুন্নোন’, বানিয়ে ছেড়েছে। ব্যাটা বেল্লিকের জাত, ঠিক করে জিভ ছোলেনা বোধহয়, আমাদের বঙ্কু পণ্ডিতের পাঠশালার ছপটির ঘা সপাৎ করে বার দুয়েক পিঠে পরলে জিভের ভুত রাম নাম জপতে জপতে পালাবার পথ পেতোনা। ভুত হয়েও কি শান্তি আছে, সেখানেও ঘোষ্ট না বলে গৌস্ট বলতে হবে।

সবই সেই জিভের বাঙালিয়ানা। সাবুদানা, কচুর লতি, কলাই ডাল, ভেন্ডি খাওয়া জিভে সড়াৎ করে বেড় হবে এমন শব্দ দিয়ে জিনিসের নাম রাখলে তবে না সেগুলো জনপ্রিয় হবে। আমাদের কবি লেখকদের নাম গুলো দেখুন- রবি, শরৎ, সুকুমার, সুনীল, সিরাজ প্রমুখ, কত্তো সরল। জন দূর্গেশনন্দিনী বা কপালকুণ্ডলা পড়েছেন অথবা একটু শক্ত উচ্চারণের বঙ্কিমকে কতজন জেনেছেন। বরং বিভূতি, মাণিক, শংকর অনেক বেশি জনপ্রিয়। গোরাদের কথা ছেরেই দিন, তাদের মহান লেখকের নাম বাঙালী ভদ্র সমাজে নেওয়া যায়? সেক্স দিয়ে নাম কার শুরু হয় বাপু? চার্লস ডিকেন্স আরেকজন, সেখানেও ডিক, ছিঃ, নির্লজ্জতার চুড়ান্ত। তাদের দেশে যা শোভনীয় আমাদের জিভে যে বড়ই বেমানান সেসব।

আমাদের জনপ্রিয় ওষুধ গুলোর কথাই ভাবুন, যেমন ধরুন ডাইজিন, কাজ হোক বা না হোক নামটাই সুন্দর, বিকোয়ও হুড়মুড়িয়ে। ছোট বেলায় জ্যাক এন্ড জিলের স্বাদ মাখানো পেটব্যাথার মেট্রোজিল। মাথাধরার ক্রোসিন আবার রেশনের কেরোসিনের সাথে নেমসেকের মতই, তাড়াতাড়ি কেরোসিন বললে তেমনই শোনায়। সেলাইন, ওয়ারেশ নামগুলোও কী দারুন নির্বিষ, যেন ফিল্ডিংয়ে থাকা গাঙ্গুলি, দাঁড়িয়ে যেখানেই থাকুক বল ঠিক বেড়িয়ে বাউন্ডারি যাবেই যাবে

আমরা যেসব খাবার খায় সেখানেও কত মসৃণ উচ্চারণ, চাল, আটা, মাছ, ডিম, সিম, আলু ইত্যাদি। উচ্চারনে একটু কষ্ট মানেই তা গরীবের জন্য নয়; পোস্ত, বিরিয়ানি, মাংস এগুলো হত-দরিদ্রের জিভের ভাষাই নয়। অনেকেই আমাদেরকে ছোটলোক বলে এই খটমট শব্দ জিভে খেলেনা বলে। ওরে পাগল ডোলানও তো সুচীন, কুলি আর ভিভেকামুমনোন বলেছিল, তাতে তাদের দেশের লোক হেসেছিল নাকি রে হতভাগা কাঁকড়ার জাত?

আমেরিকানরা আগেই জানত তাদের ওই কি যেন ওষুধ যেটার নাম, যে শুরুতেই উচ্চারণ করতে পারিনি। যাই হোক কাজ চালাতে নেট থেকে কপিপেষ্ট মারলাম- hydroxychloroquine, হ্যাঁ- এটা তাদের লাগবে। তাইতো ২০১৯ এর সেপ্টেম্বরে মোদীজি তাদের দেশে যেতেই- সব গোরার দল হাউডি মোদী করে চেঁচিয়েছিল, আসলে তারা শর্ট ফর্মে বলছিল ওই- হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনিন দে মোদী। বাকিটা অপভ্রংশ দোষ- হাউ দে মোদি, হাউডি মোদি। সবই জিভের করিশ্মা, আর আমরা কি না কি বুঝেছিলাম। উন্নত জাতি কত আগে থেকেই তারা সব জানে- আমরা বাপু আঁটকে যাওয়া জিভের হ্যেবলা হয়েই দারুণ খুশি।

কোয়ারেন্টাইন, প্যান্ডামিক, আইসোলেশন, মিউটেশন, জিনোটাইপ এমন কত কত শব্দ জিভ জড়িয়ে গেলেও আজকাল বলতেই হচ্ছে, যা নিজেই একটা মহামারী। এর বিরুদ্ধে সমগ্র বাঙালি জাতির ‘পোতিবাদ’ কই!

 

রবিবার, ৩ মে, ২০২০

তোমার মাঝে বসত করে কয়জনাঃ করোনা ভাইরাস (২)



দ্বিতীয় পর্ব

রোগের হেতু যদি একটাই হয়, তাহলে দেশভেদে মৃত্যু হারে এই ভয়ানক অসামঞ্জস্য কেন? বিজ্ঞানীরা প্রথমে বলেছিলেন মোট ৬টি প্রজাতির করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে যা মানুষকে সংক্রামিত করে, পরে বাদুড়ের মধ্যে আরো ৫০০ প্রজাতির করোনা তারা আবিষ্কার করেছেন, সুতরাং প্রতিটি আলাদা আলাদা দেশের নমুনা গুলো সেই আলাদা কিনা এ বিষয়েও কোনো গ্রহনযোগ্য সমাধান আসেনি। কেউ কেউ বলছে তাপমাত্র, আদ্রতা, উচ্চতা ভেদে ভাইরাস নাকি ভিন্ন ভিন্ন আচরণ করে, কিন্তু শেষ ২ দিনে ভারতে আক্রান্তের হার বৃদ্ধি মোটেই এই কথাকে পুষ্টি করছেনা। ফেব্রুয়ারি ২০২০ থেকে এপ্রিলের ২৬ তারিখ পর্যন্ত সংক্রমণ ছিল- ২৮০০০ জন- সেখানে আজ ৩ রা মে এর মধ্যেই ১২ হাজার বেড়ে ৪০ হাজার পৌঁছে গেছে মাত্র ৭ দিনে। এছাড়া বিবিসি এর একটা প্রতিবেদনে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞদের মতামত উল্লেখ রয়েছে, তারাও এমন কোনো বিষয়ে সদুত্তর দিতে পারেননি।

বরং WHO এর পক্ষ থেকে স্পষ্ট ঘোষণা রয়েছে যে –তাপমাত্রর গল্পটা একটা গুজব। নিচের লিঙ্কে ফ্যাক্ট-চেক দেওয়া রয়েছে। https://www.who.int/.../un-rumour-tracking-english-issue...

তাহলে এমত পরিস্থিতিতে সমাধান কি? আপনি বলবেন ভ্যাক্সিন আবিষ্কার হলেই সব সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু উপরের প্রশ্নগুলো ও তার পরিসংখ্যান অনুযায়ী- যাকে এখনও সঠিকভাবে চিহ্নিতই করা যায়নি, তাকে তাক করে গুলি ছুড়বে কীভাবে? আগামী নিশ্চই এর সমাধান করবে, কিন্তু এখন কি হবে? সেই আগামীর মেয়াদই বা কতদিন?

প্রথমেই বলেছি, এটা সম্ভবত একই ‘গণ’ ভুক্ত বিভিন্ন প্রজাতির সংক্রমণ, যার কোনো নির্দিষ্ট তথ্য হয় WHO এর কাছে নেই বা সত্য গোপন করছে। করোনার ‘এপিসেন্টার’ যদি চীন’ই হয় তাহলে ধরে নিতে হবে এই জীবানু কয়েকদিনের মধ্যেই নিজের বিবর্তন ঘটিয়ে পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে। কিন্তু এ বিষয়ে গবেষকদের তরফে কোনো প্রামাণ্য দলিল নেই, তাই এটা আপাতত হিসাবের বাইরে চলে যায়। বিখ্যাত ব্রিটিশ দৈনিক দ্য ডেইলি মেলও এমনই একটা সন্দেহ জ্ঞাপন করে গত ৯ই এপ্রিলের একটা প্রবন্ধ পাব্লিশকরেছিল, যেখানে প্রথম তারা A, B, ও C ক্যাটাগরির কথা উল্লেখ করে, যেখানে A এর আবার দুটো সাব-কাটাগোরি ছিল। কিন্তু মে’এর ৩ তারিখ পর্যন্ত কোনোটাই গবেষকদের তরফে নিশ্চিত করা হয়নি।

রাজনৈতিক বাকবিতণ্ডার সুত্র ধরে যদি ধরে নিই, চীন’ই রাসায়নিক অস্ত্রের পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে গিয়ে ভুলবশত দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ছড়িয়েছে, সেক্ষেত্রেও রোগের লক্ষণ বিশ্বব্যাপী একই পরিসংখ্যান হওয়ার কথা বিগত চার মাসের নিরিখে। উল্টোদিকে চীনের দাবী মোতাবেক এটা আমেরিকার ষড়যন্ত্র, সেক্ষেত্রেও জীবানুর চরিত্র এতটা অসামঞ্জস্যমূলক হওয়ার ছিলনা। তাহলে দেখা যাচ্ছে দুটো তথ্যই নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে অক্ষম।

বিশ্বের তাবড় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা সকলে মিলে সম্মিলিতভাবে একটা মঞ্চ বানিয়েছে, যেখানে ‘Artificial Intelligence’ ব্যবহার করে গোটা বিশ্বে এই রোগে ব্যবহৃত বিভিন্ন ক্যেমিকেল এজেন্টের ডিজিটাল স্ক্যান করে একটা ‘Common Database’ তৈরি করে তার বিশ্লেষণ করছে। এই কাজে IBM তাদের সুপার কম্পিউটার ব্যবহার করতে দেবার বিষয়েও এগিয়ে এসেছে- যাতে করে জটিল গানিতিক সমাধান অতি দ্রুত সম্পন্ন করে, একটা শক্তিশালী প্রতিষেধক আবিষ্কার করা সম্ভব যা গোটা বিশ্বকে ত্রাসের হাত থেকে মুক্তি দেবে। আতঙ্কের গল্পটা হল- অধিকাংশ বড় ফার্মা কোম্পানিগুলো তাদের ‘ব্যবসায়িক গোপনীয়তা’ রক্ষার স্বার্থে তারা ‘Covid Data’ দিতে সটান মানা করে দিয়েছে, অথচ তাদের কাছে সবচেয়ে বেশি ও বৈচিত্রময় তথ্য থাকার কথা। এই গোপনীয়তা রক্ষার একটাই কারন- মুনাফা।

এদিকে আমাদের দেশের সিরাম ইন্সস্টিটিউট বলছে, অতিশীঘ্র তারা বেশ কয়েকলক্ষ ভ্যাকসিন বাজারজাত করার জন্য প্রস্তুত। প্রশ্ন- এটা কোন ভাইরাসের ভ্যাকসিন? এ বিষয়ে আমেরিকা এমন নিশ্চুপ কেন, যেখানে আমেরিকা প্রায় সমস্ত বড় বড় রিসার্চ সেন্টার গুলোকে অর্থের জোরে কিনে নেবার প্রস্তাব দিতে দিতে অতিষ্ট করে রেখেছে। তেমনই এক জার্মান বায়ো রিসার্চ কোম্পানি CureVac কে কিনে নেওয়ার জন্য বিপুল অর্থের প্রস্তাব দিয়েছিল ট্রাম্প, যাতে তারা যেন শুধুই আমেরিকার জন্য কাজ করে। যদিও ওই CureVac, ট্রাম্পের প্রস্তাব নাকচই করে দেয়নি, বরং এই ঘৃণ্য মুনাফাখোরী চক্রান্তের বিষয়ে প্রকাশ্যে টুইটারে জানিয়েও দেয় বিশ্বকে। সুতরাং, সেই আমেরিকা ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেছে বলে দাবী করা সিরাম ইন্সিটিটিউট নিয়ে এক্কেবারে চুপ। প্রসঙ্গত- এই CureVac কোনো ফার্মা কোম্পানি নয়, এরা শুধুই গবেষণা প্রতিষ্ঠান, তারপরেও তাকে কিনে নিতে চাওয়ার ঘৃন্য প্রয়াস চালিয়েছিল।

মুনাফার জন্য পারেনা এমন কোনো কাজ নেই আমেরিকা ও তার বন্ধুদের কাছে। প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালে HIV এর ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেছিল আমেরিকার ফেডারাল গর্ভমেন্ট, কয়েকটি ফার্মা কোম্পানির সাথে সম্মিলিত উদ্যোগে, সেবারও গবেষণা চুরি ও অনৈতিক ক্ষমতা প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছিল, প্রমানের অভাবে কারো শাস্তি হয়নি। এইডস ভাইরাসের এই AntiRetroViral ভ্যাকসিন সফল প্রমাণিত হতেই, আমেরিকা সেই ফার্মা কোম্পানীগুলোর বকলমে একগাদা পেটেন্ট লাগু করে ভ্যাকসিনের দাম ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে চলে যায়। গরীব দেশ তো ছার- আমাদের ভারতেই ওই ১৯৯৬-২০০৪ পর্যন্ত একেকজনের জন্য তৎকালীন মুদ্রাতে প্রায় ৬ লক্ষ টাকা খরচা পড়ত AntiRetroViral এর জন্য। ২০০৪ সালে T cells চিকিৎসা পদ্ধতি বাজারে আসলে তবে HIV ভ্যাকসিন জনসাধারনের জন্য সহজলভ্য হয়েছিল।

সুতরাং করোনার মত এই মহামারী রোগের প্রতিষেধক থেকে মুনাফা কামাবার জন্য যে, জায়ান্ট ফার্মা কোম্পানিগুলোর জিভের লালা ঝরছে সেটা বলাই বাহুল্য। একটা দল লেগে পরে আছে কীভাবে পরিত্রান পাওয়া যায় সেই গবেষণায়, আরেকটা দল রয়েছে কীভাবে কোনো সফল গবেষণাকে করায়ত্ত করে তা থেকে মুনাফা করা যায় সেই ধান্দায়।

২০১৪ সালে যখন ইবোলা ভাইরাস মহামারির মত ছড়িয়ে পরেছিল আফ্রিকাতে, ইউরোপ-আমেরিকার একটাও বড় ফার্মা কোম্পানী ওষুধ প্রস্তুত করার বিষয়ে নূন্যতম আগ্রহ দেখায়নি। আরব পেনিনসুলার ধনকুবের রাষ্ট্র গুলোও চোখে পটি বেঁধে ছিল। কারন যে দেশটিতে প্রথম এটা ছরিয়েছিল তার নাম- গিনি, যেখানকার মানুষেরা দরিদ্রদের মধ্যে দরিদ্রতম।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা দেখে ‘গ্যারি কোবিঙ্গার’ নামের এক কানাডিয়ান ভাইরাস গবেষক নিজ উদ্যোগে গবেষণা করে- ইবোলার ভ্যাকসিন স্যাম্পেল তৈরি করে WHO এর কাছে সেটা পরীক্ষা করার অনুমতি চেয়েছিল, হু পত্রপাঠ সেটা বাতিল করে দিয়েছিল ফার্মা কোম্পানীদের লবির দৌলতে। পরবর্তীতে মৃত্যুহার আরো বেড়ে গেলে, গিনি, সিয়েরা লিওন, লাইবেরিয়া, মালি এর সরকার নিজ দায়িত্বে ‘কোবিঙ্গারের’ ভাক্সিনের ট্রায়াল শুরু করে, এগুলো কানাডা সরকার বিনামূল্যে দান করেছিল, যাতে সফলতাও আসে।

এই একই বিষয়ে আমেরিকার বিজ্ঞানী ফিল্ডম্যান এবং স্টিভেন জোনস পরিচালিত উইনিপেগ ল্যাব’ নাম্নী একটা গবেষণা সংস্থা- মার্কিন সেনেটের কাছে চেয়ে চেয়েও চার পয়সার অনুদান পাওয়া তো দূরঅস্ত, বরং তাদের ইবোলা সংক্রান্ত গবেষনাই বন্ধ করে দিয়েছিল- “প্রয়োজন নেই” বলে। পরবর্তীতে উইনিপেগ, কানাডায় তাদের পরীক্ষাগার স্থাপন করে কানাডীয় প্রতিরক্ষাখাতের কিছু বরাদ্দের সহযোগিয়তায়। ইবোলা ভাক্সিনের বানিজ্যিক ডেভলপ এরাই শুরু করে।

সুতরাং, দেড় পয়সার মুনাফা না থাকলে উন্নত বিশ্ব এক পা’ও কোথায় ফেলেনা। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ২০১৯ এর সেপ্টম্বরে এই রোগ ও তার ভাইরাসকে মান্যতা দিয়েছে। বাকিদের ভয় দেখিয়ে অস্ত্র বিক্রি করেছে, আর নিজেরা একে অন্যের সাথে টক্কর দিয়ে বিশ্বের সুপার পাওয়ার হওয়ার দৌড়ে লেগে রয়েছে। আমেরিকা তো আছেই, সাথে চীন, রাশিয়া আর ইজরায়েল। ঠিকিই শুনছেন, ইজরায়েল। এ নিয়ে পরবর্তী পর্বে আলোচনা করব।

তাহলে- i) ‘প্রকৃতিগত ভাবে এই ভাইরাস সংক্রমণ করেছে’ তত্ত্ব কিম্বা ii) ‘চীন/আমেরিকার যে কেউ ছড়িয়েছে’ তত্ত্ব- এই দুই সম্ভাবনার মাঝে কি কোনো “তৃতীয় পক্ষ” কাজ সেরে নিচ্ছে কৌশলে? ওই শুরুর বিল্ডারটির মত, যে কৌশলে বস্তির জমিতে নিজের বহুতলটি বানাতে চায়। যদি তাই হয়, তাহলে কে সেই পক্ষ? কি তার গোপন ইচ্ছা? এমন অনেক সদ্যজাত প্রশ্নেরা চেঁচামেচি জুড়ে দেবে। পরবর্তী পর্বগুলোতে এ নিয়ে বিষয়ে আলোচনা করব।

আজকের দিনের এই লকডাউনে গোটা বিশ্বই কার্যত একই আদেশের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, তাহলে কি এটাই সেই ‘New World Order’ এর সূচনা? যে লালসা শতকের পর শতক ধরে লালন করে এসেছে ‘গুপ্ত’ সংগঠনগুলি।

ভবিষ্যৎ নিশ্চই এর জবাব দেবে, দিতে বাধ্য।

…ক্রমশ 

শুক্রবার, ১ মে, ২০২০

তোমার মাঝে বসত করে কয়জনাঃ করোনা ভাইরাস (১)

 


প্রথম পর্ব

অনেকসময় দেখা যায় বস্তির দুটো বাড়িতে আগুন লেগেছে, সকলে ভীষণ কলরবে জলের বালতি নিয়ে সেই আগুন নেভাতে ব্যাস্ত- এই ফাঁকতালে কোনো ‘বিল্ডারের পোষা গুন্ডা’ আরো কিছু ঘরে সেই আগুন ছড়িয়ে দেয়, কারন বস্তির জাইগাটাতে ওই বিল্ডার বহুতল বানাতে চায় মুনাফার লোভে। সিনেমার পর্দাতে আমরা এমন স্ক্রিপ্ট হামেশাই দেখতে অভ্যস্ত।

যে যাই হোক, শুরুতেই একটা প্রশ্ন রাখি- প্রতিটি দেশের করোনা-ভাইরাস কি অদৌ একই প্রজাতির?

মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ২৭শে এপ্রিল ২০২০ তারিখে একটা সরকারী প্রেস কনফারেন্সে নিছক মজা করে ‘করোনা ভাইরাস’ সম্বন্ধে বলেছেন- “একে ফ্লু বলতে পারেন, আবার জীবানু বলতে পারেন, আবার ভাইরাসও বলতে পারেন, আমরা সম্ভবত কেউই জানিনা একে কী নামে ডাকা উচিৎ, তাই যেকোনো একটা নামে ডাকলেই হয়”। ট্রাম্প সুকুমার রায় পড়েছেন কিনা জানিনা, যদি পড়িতেন তিনি নিশ্চই জানতেন, কেউ ভীষণ রকমের ভেবলে গেলে ‘হিজবিজবিজ’ নামটা টুক করে তকাই হয়ে যায়, আবার ধমক দিলে নামটা বিস্কুট হয়ে যায় মুহুর্তেই। শুধু তাইই নয়, গুষ্টি শুদ্ধু সকলেই এই একটাই নাম। যেকোনো একটা নামে ডাকলেই হয়। আক্ষরিক অর্থেই সুকুমার রায় এই ‘ননসেন্স রাইম’ রচনা করেছিলেন, আজকের ননসেন্স গুলো ওনাকেই প্রতিষ্ঠা করছে মাত্র। তো সে যাই হোক, বিষয়ে আসি-

SARS-CoV2/Covid-19 পরিচয়ের যে ভাইরাস বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাস চালাচ্ছে সে কি একটাই প্রজাতি নাকি অনেকগুলো আলাদা আলাদা প্রজাতির। কারন আলাদা বর্গের, আলাদা গণ ও আলাদা গোত্রের এই SARS বা MARS জীবানু ইতিমধ্যেই রয়েছে! হতেই পারে এটা অলীক ও অমূলক, কিন্তু সন্দেহটা আমার প্রথম শুরু হয় ওই কিটের গণ্ডগোল শুরু হওয়ার পর থেকে। এ যেন সেই- ‘হেড আপিসের জাঁদরেল রাশভারী বড়বাবুটি, ঘরে বৌ’এর সামনে পোষ্য মেনি’। চীনে এ কিট রোগ ধরে দিচ্ছে, স্পেনে তা অকেজো, দক্ষিণ কোরিয়ান কোম্পানির কিটে ভারতে আরামসে রোগ নির্নয় হচ্ছে অথচ লাতিন আমেরিকার দেশ চিলি তা ফিরত পাঠিয়ে দিয়েছে, আয়ারল্যান্ড আমেরিকার তৈরি কিট নিয়ে অভিযোগ করেছে। এমনটা কিন্তু হরদম চলছেই।

ঠিক কীভাবে সংক্রমণ শানাচ্ছে মারাত্মক ভাইরাসটি? কতজন মানুষ আসলে সংক্রামিত হয়েছে? সামাজিক নিষেধাজ্ঞাগুলি কতদিন চলবে? এ সব উত্তরহীন প্রশ্নগুলো সকলের, আমি সেগুলোতে যাচ্ছিনা

প্রশ্ন এক
°°°°°°°°
কেউ বেশি অসুস্থ কেউ কম অসুস্থ, কোথাও যুবক মারা আচ্ছে, কোথাও বৃদ্ধ বেঁচে ফিরে আসছেন। কেন?

প্রশ্ন দুই
°°°°°°°°
সাধারণ জ্বর হলে তা প্যারাসিটামলের একটা নির্দিষ্ট মাত্রা শরীরে গেলেই সেরে যায়, তা সেটা আফ্রিকা হোক বা ইউরোপ, এশিয়া হোক বা লাতিন আমেরিকা- চিকিৎসা বিজ্ঞানের নিয়মে আসলে সেটাই হয় বা হওয়া উচিৎ। সামান্য কিছু ব্যাতিক্রমী ক্ষেত্র ছাড়া আমরা প্রেগনেন্সি কিট বিষয়েও এই একই সিদ্ধান্তে আসতে পারি যা প্রায় সর্বত্রই একই রেজাল্ট দেয়। কিন্তু করোনার কিট এই মাত্রার সার্বজনীন ফলাফল দিতে অক্ষম।

প্রশ্ন তিন
°°°°°°°°°
করোনা ভাইরাস নিয়ে WHO এর গাইডলাইন আমাদের মনে করিয়ে দের সেই নোটবন্দির সময়কার বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির কথা, প্রায় প্রতিদিনিই নতুন নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করত। সেটা নাহয় ছিল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রজ্ঞা বিহীন আনাড়ী রাষ্ট্রনেতার নির্বুদ্ধিতা, কিন্তু WHO তো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সংস্থা- গোটা বিশ্বের তাবড় চিকিৎসক, গবেষক ও জ্ঞানীগুণী মানুষদের সম্মেলনে গঠিত একটা সংস্থা, তারাও নির্দিষ্ট করে কিছু জানাতে পারেননি এই মে মাসের শুরুর দিনেও।

কখনও বলছে এটা বায়ুবাহিত জীবানু নয়, কখনও বলছে বায়ুবাহিত। কখনও বলছে অসুস্থ ছাড়া মাস্কের প্রয়োজন নেই, কখনও বলছে আবালবৃদ্ধবনিতা সকলের জন্য মাস্ক বাধ্যতামূলক। কখনও বলছে এটা সবচেয়ে বেশি আক্রমণ করে বৃদ্ধ ও শিশুদের, আবার বলছে এটা মহিলাদের জন্য প্রাণঘাতী। সামাজিক দুরত্ব মানে ঠিক কতফুট হলে একজন সুস্থ মানুষ নিরাপদ, এ বিষয়ে তারা আজও পর্যন্ত ঐক্যমতে পৌঁছাতে পারেনি। কোয়ারেন্টিন পিরিয়ড কতদিনের তাও অজানা!

কখনও জানাচ্ছে ফুসফুস এবং শ্বাসনালীতে সংক্রমণ হয়, কখনও হৃৎপিণ্ড, রক্তনালী, কিডনি, বিভিন্ন অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি এবং স্নায়ুতন্ত্রগুলিতে আক্রমণ শানাচ্ছে বলে জানাচ্ছে, কিন্তু বাকি অঙ্গপ্রত্যঙ্গে কি প্রতিক্রিয়া করছে তা অজানাই রয়ে গেছে। পাতিবাংলায় তারা নিজেরাই ঘ্যেটে ঘ হয়ে রয়েছেন। কেউ জানেনা এটা জলবাহিত কিনা, প্রানীজ বর্জ্য বাহিত কিনা! কোন পৃষ্ঠতলে আসলেই কতক্ষণ বাঁচে ইত্যাদি। গোটাটাই একটা অনন্ত গোলকধাঁধার মত।

প্রশ্ন চার
°°°°°°°°
যারা মারা গেলেন তারা তো মরে বাঁচলেন, কিন্তু যারা সেরে উঠছেন তারা ঠিক ‘কি কারনে’ সেরে উঠছে এবিষয়ে কোনো গবেষণাপত্র বৈশ্বিক মান্যতা পায়নি। সেরে ওঠা ওই ১০ লক্ষ নির্দিষ্ট রোগীর মাঝে কোন উপাদানটা ‘Common element’ যার কারনে ওনারা এই যুদ্ধে জয়ী হয়েছেন, এ নিয়েও গোটা বিশ্ববাসী অন্ধকারে।

প্রশ্ন পাঁচ
°°°°°°°°°
কিছু রোগীর বাহ্যিক উপসর্গ দেখে সনাক্ত করা গেলেও কিছু রোগী সম্পূর্ণরূপে উপসর্গহীন। এরই বা কারন কি? কেনই বা একজন সেরে উঠা রোগী আবার ওই একই জীবানু দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছেন? কীভাবে এই রোগ বিস্তার করছে সেটাই সঠিকভাবে জানা যায়নি। কমিউনিটি স্প্রেডিং এর মাধ্যমেই যদি এ জীবানু বিস্তার লাভ করে, তাহলে আমাদের দেশ তো এতদিনে শ্মশান হয়ে যেত, কারন নামে লকডাউন হলেও আসলে কি হচ্ছে তা আমাদের নিজেদের চেয়ে কেউ বেশি ওয়াকিবহাল নয়। বারো ঘর এক উঠোনের কমন টয়লেট সহ ঘিঞ্জি বস্তিগুলো সেক্ষেত্রে জনশূণ্য হয়ে যেত- সেখানে কোনো লকডাউনই হয়নি। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে তা মোটেই হয়নি।

প্রশ্ন ছয়
°°°°°°°°
মৃত্যুর হারে এত তারতম্য কেন? আমেরিকার ১১ লাখ আক্রান্তে যেখানে মৃত্যু হয়েছে ৬২ হাজারের একটু বেশি, মানে সাড়ে পাঁচ শতাংশের একটু বেশি। আবার মোট ইউরোপ মহাদেশের আক্রান্ত ১৪ লাখের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার, শতাংশের হারে আমেরিকার প্রায় দ্বিগুন। আফ্রিকাতে এই হার ৪ শতাংশ, লাতিন আমেরিকায় সাড়ে চার শতাংশ।

দেশ হিসাবে যদি ধরা হয়, ইংল্যান্ডে আক্রান্তদের মধ্যে মৃতু হার সর্বোচ্চ- ১৬%; কিন্তু জার্মানিতে সেটাই ৪ শতাংশের একটু কম।

‘সেরে উঠা ও মৃত্যুর’ আনুপাতিক হারের নিরিখে ইংল্যান্ডে মৃত্যুহার সর্বোচ্চ, যা ভয়াবহ- 7:93 Ratio। কিন্তু গোটা ইউরোপের নিরিখে এই হিসাব 88:22 । আমেরিকাতে এই হার 70:30 ratio, আমাদের ভারতে এটা 89:11 ratio তে রয়েছে।

প্রসঙ্গত এখানের সমস্ত তথ্যই চীনকে উহ্য রেখে, কারন তাদের প্রকৃত তথ্য সম্বন্ধে কেউই জ্ঞাত নয়।

সুতরাং স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, সব দেশের ভাইরাস আসলে একটাই নয়। আমি আগেও ‘গবেষণা কোরনা’ প্রবন্ধে লিখেছিলাম যে- সকলে ভ্যাকসিন আবিষ্কারে উদ্যোগী, কারন তা লাভজনক। কিন্তু অধিকাংশ গবেষকই- দেশ ভিত্তিক ভাইরাসের জাত বিচার, তার Genetic গঠন বিশ্লেষণ, তার বংশবিস্তার, সংক্রমণের পদ্ধতি ইত্যাদি অর্থনৈতিক ভাবে অলাভজনক বিষয়ে গবেষনাতে খুব একটা উৎসাহী নয়, উপরোক্ত প্রবন্ধে এর কারন সবিশেষে বিশ্লেষণ করা রয়েছে।

প্রশ্ন উঠা কি তাহলে স্বাভাবিক নয় যে, সত্যিই এই ‘Coronavirus Pandemic’ আসলে এক প্রজাতিরিই ভাইরাস নাকি অনেকগুলো জাত?

আগামী নিশ্চই এর জবাব দেবে, কিন্তু ততদিনে ভাইরাস আর তাকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত অর্থনৈতিক দুর্ভোগের শিকার হওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

…ক্রমশ

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...