রবিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২

KiD- BabY- ChilD নিয়ে চাইল্ডিস অভিজ্ঞতা


 

বিধিসম্মত সতর্কীকরণঃ এটা সমাজের একটা অংশের বিরুদ্ধে খাপ বসানো, যাতে সন্দেহের অবকাশ নেই 

মাঝে মাঝে বড্ড আত্মশ্লাঘায় ভুগি আমাদের এই জাতিটার জন্য, হলোটা কি আমাদের!

ভ্রমণ শিল্পের সাথে যুক্ত থাকার সুবাদে ভারতের প্রায় প্রতিটা প্রদেশের মানুষেরই সাথেই প্রতক্ষ্যভাবে যোগাযোগের সুযোগ নিয়মিতভাবে ঘটে। এছাড়া বাংলাদেশ, নেপাল, এবং ইংল্যান্ড সহ ইউরোপের বেশ কিছু দেশের নাগরিকদের সাথেও আলাপচারিতা হয় নিয়মিত অবসরে

হলফ করে বলতে পারি- ধাপ্পাবাজি করা, কীভাবে ফাঁকি দিয়ে আর্থিক লাভবান হবো, কীভাবে তথ্য গোপন করে ‘বিনা মাশুল’ এর অনৈতিক মুনাফা নেবো- এই মানসিকতা সবচেয়ে বেশী ভারতীয় বাঙালীদের মধ্যে, আরো নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে- গোটা মধ্যবিত্ত সমাজের মহিলাদের মধ্যে। অবশ্য এটার জন্য আমার এই পোষ্ট দিয়ে সেটা প্রমান করার কিছু নেই- ৫০০ টাকার লক্ষীর ভান্ডারের জন্য যে জাতি হত্যে দিয়ে লাইনে পরে থাকাতে পারে, তারা এই চিটিংবাজি করবেনা তো কারা করবে। বিনামূল্যে পাওয়াটা তো জন্মগত অধিকার ভেবে নিয়েছেন অনেকেই

সস্তার জন্য দর কষাকষি করাটা অন্যায় নয় বরং এটা উপভোক্তার অধিকার। বাজেট অনুযায়ী গোটা ভ্রমণকে একটা সুষ্ঠু পরিকল্পনা দিতে- দামদস্তুর করাটা অতি স্বাভাবিক বিষয়। আমরা সারাদিনে যে পরিমান ফোন বা মেসেজ পায়- তার ৩০%ও যদি ফাইনাল হয়, আমাদের রেভিনিউ তাজ হোটেল গোষ্ঠীকেও ছাপিয়ে যাবে, আমাদের সাফল্যের হার মাত্র ৩-৪ % কখনও একটু বেশী, অত্যন্ত সফল প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও সেটা কখনই ১০% এর উপরে নয়। আর এটাই স্বাভাবিক।

গ্রাহক দামদড় জিজ্ঞাসাবাদ করবেই, তার পোষালে বা পছন্দ হলে, ভরসা পেলে তিনি নেবে না হলে নেবেনা। আমি দোকান খুলে বসে আছি মানে দাম বলতে বাধ্য, এটাই ন্যায্য অনুশীলন। এখানে বিরক্তি বা অধৈর্য্যের নুন্যতম জাইগা নেই। তাবলে কেউ চালাকি করে অন্যায্য লাভ পেতে গেলে তাকে সমুচিত জবাব দেওয়াও ন্যায্য অনুশীলনেরই অঙ্গ বলে আমি বিশ্বাস করি

সম্প্রতি এক ভদ্রমহিলা নিজেকে একটা স্কুলের শিক্ষিকা হিসাবে পরিচয় দিয়ে- শুরু থেকেই ফোনে হিন্দিতে কথা বলছিলেন, যদিও আমি বাংলাতেই কথোপকথন চালিয়ে গেছি, উনার হিন্দি কষ্ট করে উচ্চারিত বাংলা উচ্চারণশৈলী যুক্ত, তবুও হিন্দিতেই চালিয়েই গেলেআত্মবিশ্বাসের সাথে। মেসেজেও প্রথমে হিন্দি ও পরে ইংরেজি ও তারও পরে রোমান হরফে বাংরেজিতে আলাপচারিতা চালিয়ে গেলেন।

ওনারা মোট কতজন আছে উনি কিছুতেই বলবেননা, শুধু ওনার ডাবল এ্যাকোমোডেশন বেডরুম হলেই হবে সেটাই জানালেন ফোনে বা মেসেজে লিখিত

সমস্যা হয়- বাচ্চাদের বয়স না জানলে খাটে হবে কিনা সেটা নিয়ে; শীতের দেশ- এক্সট্রা বালিশ - কুইল্টের বিষয় আছে। খাবার দাবারের পরিমানের বিষয় আছে। পাহাড়ে জল কেনা, তার খরচা আছে। সুতরাং সাথে বাচ্চা আছে কিনা বা থাকলে কত বছর বয়সের সেটা জানা আমাদের জন্য বাধ্যতামূলক

বড়দের থেকে বাচ্চাদের নিয়ে ঝামেলা সবচেয়ে বেশী, এটা আমাদের মত হোটেলিয়ার বা ট্রাভেল কোম্পানি চালানো মানুষেরা কমবেশী সকলেই জানি। বাচ্চা বলে তো আর তাকে ডিম বা মাছের পিস কেটে আর্ধেক দেওয়া যানা, মাংসও ১ পিস দেওয়া যাবেনা। বাচ্চা খায় কম নষ্ট করে বেশী, প্রসঙ্গত- আজকালকার বাবা মায়েরা কখনও আক্ষেপ করেনা বাচ্চার দরুন নষ্ট হওয়া খাবারের জন্য।

প্রাপ্তবয়স্কদের চেয়ে বাচ্চাদের পরিষেবা বেশী দিতে হয়। গরম জল দাও বারে বারে, প্রেসারকুকারে গলানো খাবার দাও, ঝাল ছাড়া তরকারী দাও ইত্যাদি সহ নানান গল্পকাহিনী থাকে। এগুলো করতে তো খরচা লাগে, কিন্তু অধিকাংশ বাঙলী বাবা মা বাচ্চার খাবারকে হিসাবেই ধরেনা- ও তো আমাদের পাতেই খেয়ে নেবে। আমরা পালটা শুধাতে পারিনা- ঐ পাতে খেয়ে নেবার খাবারের দামটা তাহলে দেবেননা? কিম্বা বাচ্চার জন্য গাড়িতে সিট দরকার, কোলে কেউ আনেনা বা সেটা সম্ভবও নয়- কিন্তু তার জন্য অর্থব্যয় করতে নারাজ

এছাড়াও, রুমের বিছানায় খাবার ফেলে বিছানা বালিস কম্বল নষ্ট করা, অর্ধেক সময় যা আর ব্যবহারের যোগ্য থাকেনা, হলুদের ছোপ পরে যায়। বমি বা পায়খানা করা, রুমে দেওয়ালে আঁকিবুঁকি, পর্দা ছেঁড়া, বাথরুমের কল নষ্ট করা, বেসিনে বমি করে নালি বন্ধ করা, কমোডে ন্যাপকিন ফেলে পয়ঃপ্রনালী জ্যাম করা নিত্য দিনের ঘটনা। টিভি বা ইলেকট্রনিক গেজেট নষ্ট এগুলো আছেই

তাবলে কী বাচ্চা আসবেনা? অবশ্যই আসবে, সবটা নিয়েই তো একটা ফ্যামিলি। বাচ্চা আমার আপনার প্রতিজনের ঘরেই আছে। বাচ্চার জন্য পরিষেবা সবটা নেবো, শুধু তার জন্য কোনো অর্থ খরচা করবোনা- এটা নিকৃষ্ট ধরণের নোংরামি। আমার বাচ্চা ক্ষয়ক্ষতি করলে সেটা আমাকেই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, আমার বাচ্চা কেন হোটেলওয়ালার টাকায় খাবে?

অথচ এই টুরিষ্টরা রেলকে বা বিমান কোম্পানিকে কেউ শুধায়না ১ বছরের বাচ্চার জন্য কেন টিকিট নেবেন? চকোলেটের দোকানে বা দুধের দোকানে কেউ বাহানা জোড়েনা- এ তো বাচ্চা খাবে, কেন দাম নেবেন! বাচ্চা বাড়িতে বাবামায়ের পাতে যে খাবারটা খায়, সেই চাল, ডাল, আটা, সব্জি বা মাংসটা কী দোকানদার ফ্রিতে দিয়েছিলো বাচ্চার জন্য? স্কুলবাসের সিটের জন্য কিন্তু এনারাই পুরো পয়সা দেয়, সেখানে বলেনা- বাচ্চার বসার জাইগার জন্য আবার পয়সা নেবেন? বাচ্চার জামাকাপর কী কেউ ফ্রিতে দেয় বাচ্চার বাপমায়ের কাপ কিনলে?

এরাই ঘুরতে এলে যেনতেন প্রকারে বাচ্চাটার ভ্রমণের জন্য পয়সা না দেবার- সব ধরনের অপচেষ্টা করবেই, সেটা যত নিকৃষ্টই হোকনা কেন; কিছু সফল হয়, অধিকাংশ হয়না। কিন্তু চেষ্টার ঘাটতি থাকেনা মধ্যবিত্ত বাঙালী মায়ের। ভাবখানা এমন- যেন বাচ্চাটার যাবতীয় আর্থিক দায়ভার হোটেলের বা ট্রাভেল এজেন্সিরকিম্বা আমরা বেড়াতে এসে হোটেলিয়ার বা ট্রাভেল এজেন্সির উপরে দয়া করেছি, তাই বাচ্চার কোনো দায়িত্ব আর অভিভাবকের নয়।

কিছুজন অসাধারণ নির্লিপ্ততা সহ আশ্চর্যের সপ্তমাকাশে চড়ে বিহ্বল হয়ে শুধান- বাচ্চার খরচাও লাগবে? আচ্ছা, আমাকে বলুন- বাচ্চাটাকে দুনিয়াতে আনা ইস্তক আপনার ব্যয় রোজই বেড়ে চলেছে পাল্লা দিয়ে। দৈনন্দিন জীবনে কোনটা ফ্রিতে পান বাচ্চার অজুহাতে? কোথায় তার জন্য খরচা লাগেনা, যে ভ্রমণে গেলে ট্রাভেল এজেন্ট বা হোটেলওয়ালা বাচ্চার খরচের কথা বললে- আকাশ থেকে পরেন? অবশ্য হাতে বাটি নিয়ে অনেকেই বাচ্চার অজুহাতে মাধুকরীবৃত্তি করে- সেটা হলে আলাদা

সত্য বলতে ৯৯% হোটেলিয়ার ৪-৫ বছরের বাচ্চার কোনো খরচা নেয়না, কিন্তু ৬ বছরের উপরে গেলে খাবারের দরুন একটা খরচা যোগ করে যেটা একটা প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের অর্ধেক খরচা বা তারও কম। তবে ৯-১০ বছরের বা তার বেশী হলে খাবারের খরচা পুরোটাই লাগে, ১২ বছরের বাচ্চার জন্য লজিং এর খরচাও লাগে বৈকি।

উপরোক্ত ভদ্রমহিলা মোনোভাবেই বলবেননা কতজন আছেন। শেষে আমি আর এন্টারটেইন না করাতে উনি বললেন হাজব্যান্ড ওয়াইফ এন্ড কিড। কজন কিড আর কতবছরের কিড সেটাও বলবেননা- প্রায় ৭ দিন পর জানালেন। ১৫ বছরের কিড। মেসেজ করতেই পুরো সত্যটা জানা গেল, ৩টে বাচ্চার মধ্যে ১টি পূর্ণ এডাল্ট ও ২ জনের জন্য আধা-আধা করে একজন পূর্ণ বয়সের খরচা যুক্ত হবে। অর্থাৎ ২ জনের ৫-৬ দিনের খরচা মোটামুটি ১-২০ হাজারের কমে হবেনা কোনোভাবেই। সেটাকেই ইনি চেপে গিয়ে বুকিং করতে চেষ্ট ছিলেন।

বাইচান্স এমন নোংরা গেষ্ট চলে এলে কী হয়? এনারা আসা ইস্তক সপ্তম মুডে থাকে, মানে অফেন্স ইজ দ্য বেষ্ট ডিফেন্স। হোটেলিয়ার কিছু বলবে কি, গেষ্ট শুরুটাই এমন রেঞ্জে করে- যেন মধ্যযুগীয় ক্রীতদাসদের উপরে জমিদারের আচরণ। মোদ্দা কথা- বাচ্চাদের লুকিয়ে যাওয়াটা যেন কথোপকথনের মধ্যেই না আসে চেক-আউটের আগে অবধি

হোটেল ওয়ালারাও বদমায়েশি শুরু করে, নিম্নমানের রুম দেয়, খাবারের মান কমিয়ে দেয়। মানে টুরিস্ট ৪ জনের হিসাবে পেমেন্ট করেছেন বা করবেন, কিন্তু ৪ জনের বদলে ৬ জনে খাবে। স্বভাবতই ৪ জনের জন্য প্রদেয় অর্থতেই ৬ জনের জন্য বানিয়ে দেওয়া হয়, তাতে যেমনটা হওয়া উচিৎ তেমনই হবে পরিমান ও মানের নিরিখে

আর তখনই আসে- আমি কেন ছবিতে দেখানো রুম পেলামনা? কেন প্রতিশ্রুতি মত পরিষেবা পেলামনা! অথচ এরা কোথাও উল্লেখ করবেনা, ৬ জন বলে আন্ডা বাচ্চা সহ ১১ জন হাজির হয়েছি। অনেকে আবার পার্সোনাল ড্রাইভার বা বাচ্চাধরার জন্য maid নিয়ে আসেন, যাদের উপস্থিতি একমাত্র জানা যায়- এসে পৌছাবার পর। এদের জন্যও গেষ্ট কোনো ধরনের অর্থ দিতে রাজী থাকেনা সিংহভাগ ক্ষেত্রে

সুতরাং, অবধারিত একটা ক্যাঁচালময় পরিস্থিতি উদ্ভুত হয়। হোলেটিয়ার কেন সে থাকা খাওয়ার দাম ছাড়বে ২ জনের, এরাও দেবেনা। অনেক ক্ষেত্রেই থানা পুলিশে দৌড়ায়

এবারে এনারা ঘরে ফিরে, সোস্যালমিডিয়াতে ইয়া লম্বা লম্বা পোষ্ট দিয়ে হোটেল, গাড়ি বা ট্রাভেল এজেন্টের নামে খাপ বসিয়ে বিকৃতকাম মস্তিষ্ককে আরেকটু পুষ্টি দেয়

আবারও বলি, বাঙালী ছাড়া এই রোগ অন্য প্রদেশের গরীবস্য গরীবদের মাঝে যেটা দেখা যায়, সেটা শতাংশের বিচারে ১ অঙ্কেই থাকে

আফশোস হয়- পশ্চিমবঙ্গের বাঙালীর এই অংশটার জন্য

 

মঙ্গলবার, ১৪ জুন, ২০২২

চে


উন্নয়নের পূর্বশর্ত হলো, পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা।


এক জীবন থেকে অন্য জীবনে অথবা এক জীবনেই এক স্তর থেকে অন্য স্তরে। যে সমাজে জনগণের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা নেই, সে সমাজ স্থবির, বদ্ধ ডোবার মতো। তাই বিপ্লবীর প্রথম কাজই হলো জনগণের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তোলা। তারপর তাঁদের শিক্ষিত করে তোলা আর শিক্ষার প্রথম সোপান হলো স্বাধিকারচেতনা। তাঁদের শেখাতে হবে শ্রম, পুঁজি, কারখানা, যন্ত্র, মেশিন, বাজার, সমাজ, রাষ্ট্র ইত্যাদি সব। কার্ল মার্ক্সের ভাষায়, শেখাতে হবে, পুঁজি হলো ঘনীভূত শ্রম। অতএব, উদ্বৃত্ত মূল্যে কার কী অবদান, বোঝাতে হবে সেই রহস্য। ব্যক্তিমালিকানায় শ্রমিক মালিক কর্তৃক কীভাবে শোষণের শিকার হন, শেখাতে হবে এ তত্ত্ব। এ তত্ত্ব, এ জ্ঞান হলো স্বাধিকারচেতনার ভিত্তি।

এ পৃথিবীতে দেশে দেশে একদা বিপ্লব হয়েছিল। রাশিয়া থেকে শুরু করে কিউবা, পূর্ব ইউরোপের অনেক দেশ, চীন, পূর্ব জার্মানি, উত্তর কোরিয়া, ভেনেজুয়েলা ইত্যাদি অনেক দেশ ছিল এ বিপ্লবের তালিকায়। কিন্তু আজ আর তেমন অবশিষ্ট নেই। কোথাও পুরোপুরি বিদায়, কোথাওবা টিকে আছে বিকৃতরূপে। কেন অবশিষ্ট নেই, এর জবাব আমরা কীভাবে দেব? বিপ্লবের অর্থ যদি হয় মনোজাগতিক পরিবর্তন, তাহলে এই মনোজাগতিক পরিবর্তনই ঘটেনি কোথাও। এই হলো সারসংক্ষেপ, এই হলো উপসংহার।

একজন বিপ্লবীর প্রতিকৃতি যদি আমরা স্মরণ করার চেষ্টা করি, তাহলে প্রথম কমিউনিস্ট দেশ রাশিয়ার বিপ্লবের মহান নায়ক লেনিনের চেয়েও যে নাম আরও উজ্জ্বল হয়ে ভেসে ওঠে, তিনি হলেন চে গুয়েভারা; যিনি রোমান্টিক বিপ্লবী হিসেবে খ্যাত। কারণ, দেশে দেশে চে গুয়েভারার ছবিখচিত টুপি আর টি-শার্ট পরে তরুণেরা আজও ঘুরে বেড়ান, ঘরের মধ্যে আজও তাঁরা চের ছবি টাঙান। একটা কথা প্রায়ই বলা হয়: যৌবনে অন্তত একবার চে গুয়েভারা হতে চাননি, এমন মানুষ হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না। কারণ, যৌবন হলো সেই কাল, যখন মানুষ সাম্যের চেতনায় উজ্জীবিত, অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেন না, যুদ্ধে যান, বিপ্লব নিয়ে ঘরে ফেরেন।

চের জন্ম আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে ১৯২৮ সালের ১৪ জুন। বুয়েনস এইরেস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেডিকেল সায়েন্সে পাস করার পরপরই রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে পড়েন চে, প্রথমে নিজ দেশ আর্জেন্টিনায়, তারপর পাশের দেশ বলিভিয়া ও গুয়াতেমালায়। ১৯৫৫ সালের কোনো এক মাহেন্দ্রক্ষণে মেক্সিকোতে দেখা হয়ে যায় ফিদেল কাস্ত্রো আর তাঁর ভাই রাউলের সঙ্গে। চে যুক্ত হয়ে যান কিউবার স্বৈরশাসক বাতিস্তার বিরুদ্ধে সংঘটিত ফিদেল কাস্ত্রোর নেতৃত্বে সর্বাত্মক যুদ্ধ ও সংগ্রামে। তিনি কাস্ত্রোর সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন ও গেরিলাযুদ্ধে নেতৃত্ব দেন। ১৯৫৯ সালে বিপ্লব সফল হলে কাস্ত্রোর সরকারে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন চে। কিউবার ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জায়গায় সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

১৯৬১ সালের ৮ আগস্ট উরুগুয়েতে অনুষ্ঠিত ইন্টার-আমেরিকান ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কাউন্সিলের মিনিস্টেরিয়াল অধিবেশনে কিউবা সরকারের পক্ষ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন চে। সেখানে তিনি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ দেশে দেশে কীভাবে মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে ধূলিসাৎ করেছে, তার একটি দীর্ঘ বিবরণ পেশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সামনে তিনটি পথ খোলা আছে: আমরা যৌথ উদ্যোগে একটি সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে সুখী, সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে পারি; সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে একটি সর্বাত্মক ও দীর্ঘস্থায়ী নতুন যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে পারি অথবা নিজ নিজ দেশে জেঁকে বসা কায়েমি শত্রুর বিরুদ্ধে তাদের হাতিয়ার কেড়ে নিয়ে শোষণযন্ত্র গুঁড়িয়ে দিতে পারি, কিউবা যে পথ একবার বেছে নিয়েছিল।’

১৯৬৪ সালের ১১ ডিসেম্বর চে গুয়েভারা জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেন। এ ভাষণেও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে দেশের আকৃতি, রাষ্ট্রের শক্তি ও রাজনৈতিক ব্যবস্থানির্বিশেষে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ অসম্ভব করে তুলছে। তিনি বলেন, শান্তি শুধু শক্তিধর রাষ্ট্রেরই প্রাপ্য নয়, একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ জীবন সব দেশের, সব নাগরিকেরই প্রাপ্য। তিনি পরিষ্কার জানান, ‘আমরা মার্ক্সিস্ট-লেনিনিস্ট আদর্শের আলোকে সমাজতন্ত্র নির্মাণ করতে চাই, কিন্তু একই সঙ্গে আমরা জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনে শামিল।

কারণ, জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার। আমরা শান্তি চাই, জনগণের জন্য উন্নত জীবন চাই। মার্কিনরা চায় আমরা তাদের উসকানিতে পা দিই, যাতে আমাদের শান্তির জন্য অনেক বেশি মূল্য দিতে হয়। আমরা তাদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে এই মূল্য আত্মমর্যাদার সীমা অতিক্রম করতে পারে না।’ গুয়েভারা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘নিজেকে রক্ষা করার জন্য নিজ ভূখণ্ডে সমরাস্ত্র সংররক্ষণ করার অধিকার কিউবার আছে এবং নিজের ভূখণ্ড, জল-স্থল ও আকাশ রক্ষা করতে কোনো শক্তির কাছে কিউবা নতিস্বীকার করবে না, তা সে যতই ক্ষমতাধর হোক না কেন।’

কিউবাতে অনেক সম্মানের সঙ্গে মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে একটি নির্ঝঞ্ঝাট জীবন যাপন করে বাকি জীবন কাটিয়ে দিতে পারতেন চে। কিন্তু মানুষের মুক্তির জন্য পৃথিবীব্যাপী একটি অখণ্ড কমিউনিস্ট ব্যবস্থা নির্মাণের ডাক শুনতে পেয়েছিলেন এই মহান বিপ্লবী। লেনিনবাদ তাঁকে শিখিয়েছে, কমিউনিস্ট ব্যবস্থা যদি বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত না হয়, এ ব্যবস্থা টিকে থাকতে পারে না। বিপ্লব সংগঠিত করার জন্য কিউবা থেকে তাই তিনি চলে যান মধ্য আফ্রিকার দেশ কঙ্গো, তারপর বলিভিয়া। কিউবাতে রেখে যান স্ত্রী হিল্ডা ও পাঁচ সন্তানকে। বলিভিয়ার গহীন অরণ্যে তিনি আস্তানা গাড়েন সহযোদ্ধাদের নিয়ে, সিআইএর মদদপুষ্ট বলিভিয়ান সরকারকে উৎখাত করার লক্ষ্যে।

কিন্তু একসময় ধরা পড়ে যান চে বলিভিয়ান আর্মির কাছে। গুলি করতে উদ্যত সৈনিককে চিৎকার করে চে বলেন, ‘আমি চে গুয়েভারা। দাঁড়াও! গুলি কোরো না! মৃত চের চেয়ে জীবিত চে অনেক বেশি মূল্যবান তোমাদের কাছে।’ মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে এক সৈনিক যখন তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, ‘তুমি কি তোমার অমরত্বের কথা ভাবছ?’ উত্তরে চে বললেন, ‘না। আমি বিপ্লবের অমরত্বের কথা ভাবছি।’ এখানেই চের বিশেষত্ব। চে মনে করতেন, বিপ্লবীকে হত্যা করা যায়, কিন্তু বিপ্লবকে কখনো নয়। বিপ্লবীকে হত্যা করলেও বিপ্লবের সুফল ঠিকই থেকে যায় প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। ৯ অক্টোবর এই মহান বিপ্লবীকে নির্মমভাবে হত্যা করে মানবতার শত্রু মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের দোসররা। মাত্র ৩৯ বছর বয়সে অবসান ঘটে চে গুয়েভারার বর্ণাঢ্য জীবনের!

চে গুয়েভারা চেয়েছিলেন একটি বহুমাত্রিক পরিপূর্ণ জীবন। জীবনকে পূর্ণ করার কী বিস্ময়কর আকাঙ্ক্ষা ছিল তাঁর! চে গুয়েভারাকে হত্যার প্রায় ৩০ বছর পর যখন বলিভিয়ার জঙ্গলে তাঁর মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া গেল, দেখা গেল, তাঁর জামার এক পকেটে পাবলো নেরুদার কবিতার বই, আরেক পকেটে ‘প্রবলেমস অব ম্যাথমেটিকস’ বইটি।

কত যে গান, কবিতা, নাটক, সিনেমা নির্মিত হয়েছে চের জীবন নিয়ে, তার ইয়ত্তা নেই। বাঙালি কবি সুনীল গঙ্গোপাধায় লিখেছেন, ‘চে, তোমার মৃত্যু আমাকে অপরাধী করে দেয়।’ চে নিজেও কবিতা লিখতেন। ফিদেল কাস্ত্রোকে নিয়ে লেখা কবিতাটিই সম্ভবত চের সেরা কবিতা, যে কবিতা শুধুই স্বপ্নের কথা বলে, জীবনের জয়গান করে, এই মাটির পৃথিবীতে সবার জন্য একটি দারিদ্র্যহীন, ক্ষুধাহীন জীবন ও অপার সম্ভাবনার ডাক দেয়:

‘ফিদেল, তুমি বলেছিলে সূর্যোদয় হবে।’

আর আমরা আজ একবিংশে দাঁড়িয়ে বলি: কিন্তু কোথায় সূর্য? হতাশা আমাদের ঘিরে ধরে, অন্ধকার ধেয়ে আসে। তারপরও বেঁচে থাকার প্রেরণাটা আমরা বিপ্লবের চেতনা ও বিপ্লবীর জীবন থেকেই পাই। আবার স্বপ্ন দেখি। চে–ও এভাবে বেঁচে থাকেন আমাদের সেই স্বপ্নে, গল্পে, গানে, কবিতায়...।

লেখকদ্বয়ঃ

ড. এন এন তরুণঃ - রাশিয়ার সাইবেরিয়ান ফেডারেল ইউনিভার্সিটির অর্থনীতির ভিজিটিং প্রফেসর।

ড. শুভ বসুঃ- কানাডার ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটিতে সাউথ এশিয়ান হিস্ট্রির অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর।

শুক্রবার, ২২ এপ্রিল, ২০২২

হাঁসখালি



মাতৃত্বের মর্ম উপলব্ধি করতে হলে 'মা' হতে হয়, যাত্রা পার্টির সং সাজা হিংস্র বর্বর চোর-খুনি-ধর্ষকদের দিয়ে তৈরি মামা-টিমা-নুষ নয়।


একটিই প্রশ্ন- আমার আপনার মেয়েরা সুরক্ষিত তো এই বাঁ'জা সর্বখাকীর রাজত্বে!

প্রতিটি বেশ্যালয়ে একটা একটা মাসি থাকে যে নতুন আসা বা 'শিকার' মেয়েদের জবরদস্তি ট্রেনিং দেয়। সুতরাং মহিলার হাতেই মহিলারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমাদের রাজ্যটার অবস্থাও তাই। ওখানে মাসী নামের এক দালাল থাকে, রাজ্যের সমস্ত মাতাল লম্পট খুনী চোর ডাকাত ছ্যাচোর ছিনতাইকারী ধর্ষক গুণ্ডা পোষা থাকে সে মাসীর অন্ধকারের 'বেশ্যালয়' ব্যবসা চালাতে- আমাদের রাজ্যে পিসি নাম নিয়ে আছে সেই 'মাসী'।

আসলে সুশীল সমাজ বলে আর কিছু নেই, কিছু চামচা শ্রেনীর নির্কষ্মা অসভ্য নিকৃষ্ট ধান্দাবাজ ইতরকে 'ভাড়াটে' বুদ্ধিজীবী সাজিয়ে রেখেছে 'পতিতা' সংবাদমাধ্যম।

আমাদের নিজেদেরই চামড়া মোটা হয়ে গেছে, কোনো তাপউত্তাপ আর ভিতরে পৌঁছায়না, কান থাকতেও শুনিনা, চোখ থাকতেও দেখিনা, বোধ বুদ্ধি সব গাধার গাঁ'ড়ে চলে গেছে। খাচ্ছি, হাগছি, পেলে লাগাচ্ছি, না পেলে জোর করে ধর্ষণ করছি, আর সবাই 'তিনোমুল' করে পেট চালাচ্ছি।

সকালে উঠে হাগা মোতার মতই চুরি-ধর্ষণ-খুন-রাহাজানি-দুর্নীতি অত্যন্ত স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে গেছে, আমরা দারুনভাবে এগুলোতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি বলেই আমরা মনুষ্যতর ইতর জানোয়ারে রুপান্তরিত হচ্ছি ক্রমশ।

এই সমাজের উপরে অভিশাপ আসুক

ছিঃ 

শনিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২২

বর্তমান পশ্চিমা সভ্যতার পতন ও উত্থান

 



বর্তমান বিশ্বের চলমান রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ দেখে যেটা মনে হচ্ছে- গণতন্ত্রের নামে বর্তমানে দেশে দেশে যে প্রহসন চলছে, তার এক মর্মান্তিক অবসান হতে চলেছে অতিশীঘ্র

যারা ইতিহাস জানেনা বা বিস্মৃত- তারা আমাকে পাগল বলতেই পারেন, কিন্তু সত্যটা হলো আধুনিক গণতন্ত্র কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী একটা শাসনব্যবস্থা, যার বয়স মেরেকেটে সর্বোচ্চ ৮০ বছর। এর মাঝে আমরা যাকে গণতন্ত্রের ধ্রুবক হিসাবে মানি সেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫২টা রাজ্যের মধ্যে গত ১০০ বছরে সরকার পরিবর্তন হয়নি এমন রাজ্যের সংখ্যা ৩৬, বুঝে যান কেমন গণতন্ত্রের চাষ হয় সেখানে। এর পর গোটা বিশ্বজুড়ে সামরিক অভ্যুত্থান লেগেই আছে দেশে দেশে

মজা হলো, বিশ্ব পরাশক্তিদের আজ্ঞাবহ দাসানুদাস না হলে আপনি যতই জনগণের ভোটে নির্বাচিত হননা কেন- আপনার সরকারকে ফেলে দেবেই দেবে। এর উদাহরণ নিষ্প্রোয়োজন। আমরা যে সভ্যতার ধ্বজা উড়িয়ে চলছি- সেই ব্রিটেনে আজও রাজতন্ত্র স্বমহিমায় বিরাজমান। তথাকথিত কমিউনিস্ট শাসিত দেশ গুলোতে অন্তত "গণতন্ত্র" ছিল বলে কেউ অন্তত বদনাম দেবেনা, এখানে পলিটব্যুরো তন্ত্র চলে

ইতিহাসে উল্লেখিত প্রাচীন গ্রীক বা রোমে যে গণতন্ত্র ছিল, তার সাথে আজকের দিনে যে সব গণতন্ত্রের প্রাক্টিস হচ্ছে তার সাথে কোনো মিল নেই। এথেনিয়ান গণতন্ত্রের জনক 'ক্লিসথেনিস' এর যে ফান্ডা ছিল তার সাথে আধুনা পশ্চিমা সভ্যতার সৃষ্ট এই গণতন্ত্র আসলে একটা মস্ত বড় ধোঁকা- যা আজকে দেশে দেশে প্রমানিত।

বর্তমান পশ্চিমা সভ্যতার যে দর্শন, তার জনক এ্যারিস্টটলের "পলিটক্সে" বর্ণিত গণতন্ত্র সম্বন্ধে ধারনা, কিম্বা তাঁর গুরুদ্বয়- প্লেটো ও সক্রেটিস, কিম্বা তারও আগে মেটাফিজিক্স এর জনক ডেমোক্রেটাস- এদের কারোর কথিত গণতন্ত্রের চর্চা আজ কোথাও হয়না।

প্রসঙ্গত বলে রাখি- এই মেটাফিজিক্সের 'মেটা' কে ইউনিভার্সের সাথে জুড়েছিলেন উপন্যাসিক নীল স্টিফেনসন তার কল্পবিজ্ঞান বই "স্নো ক্রাশ" উপন্যাসে। আর আজকের ফেসবুক কর্তা সেখান থেকেই মেটা শব্দটিকে নিয়ে তাদের কোম্পানির নাম রেখেছে। যাই হোক, প্রসঙ্গে ফিরি...

গণতন্ত্রের নামে আজ আমাদের পড়শী দেশ গুলোর হালত দেখুন, শ্রীলঙ্কায় রাজাপক্ষেতন্ত্র, বাংলাদেশে বিরোধী বল্লেই কল্লা কেটে যাবে, পাকিস্তানের মত টয়লেটের কথা নাইবা বললাম। নেপাল তথৈবচ, আফগানিস্তানে তালিবান

আমাদের দেশে?

তীব্র ধর্মীয় মেরুকরন আর লুটেপুটে খাওয়া। বাকিটা বললে দেশদ্রোহী তকমা জুটতে সময় নেবেনা, পদবী দেখে গন্ধবিচার চলছে যখন, বালবাচ্চা আছে ঘরে

রাজ্যে- জনগণ কোথায়! কিছু চোর চাট্টা আর গায়ক নায়ক তাদের বিকল্প কিন্তু নিশ্চিত রোজগারের প্রকল্পে লুঠতরাজ চালাচ্ছে গণতন্ত্রের নামে

গণতন্ত্রের যে মূল পিলার- সেগুলোর প্রতিটা আজ দেশে দেশে ধর্ষিত

১) ফ্রিডম অফ অ্যাসেম্বলি- আপনার ক্ষমতা নেই ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে গিয়ে খুব বেশি সভাসমাবেশ করার। লোক দেখানি কিছু অনুমতি দিলেও সেটাও থাকে কঠোর নজরদারির মধ্যে

২) বাকস্বাধীনতা- সত্য বললেই জেলে চালান ও বিনা বিচারে জীবন শেষ। চাটুকার হও, রাষ্ট্রীয় জামাই সেজে মন্ডা খাও

৩) ভোটের অধিকার- ভোটের নামে যে কি হয়, তা আমাদের পশ্চিমবঙ্গ বাসীর চেয়ে এই তামাশার মর্ম আর কে বেশি জানে

৪) নাগরিকত্ব- সংখ্যালঘু মানেই তাদের খেদাও, এটাই বিশ্বজুড়ে চলছে প্রতিটা গণতান্ত্রিক দেশে, সেটা ভারতে NRC নামে হোক বা বাংলাদেশে মালাউন হত্যা কিম্বা মিয়ানমারে রোহিঙ্গা- সীমানা বদলালেও অত্যাচারের ভাষা বদল হয়না

৬) সংবাদ মাধ্যম- বিষয়টাই এতোটা হাস্যকর যে এ নিয়ে আর একটা শব্দও যদি লিখি- লেখাটারই গুরুত্ব হারিয়ে যাবে যদি সামান্যতম গুরুত্বও থেকে থাকে

তাহলে ভবিষ্যৎ কি?

ডেমোক্রাটাস, পিথাগোরাস সহ অনেকেই সেকালে নতুন আমদানী "ডেমোক্রেসি" কে একটা মেটা বা কল্পনা বলে বর্ননা করেছিলেন। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে মনে হয়না তারা খুব ভুল ছিলেন। ইয়ে, সেই পিথাগোরাসই, যার উপপাদ্য করেছিলাম। আসল গণতন্ত্র সত্যিই একটা সোনার পাথরবাটি- যাকে নিঃসন্দেহে মেটা বলাই যায়। গণতন্ত্রের নামে দুর্নীতি আর জনগণকে ধোকা দিয়ে শোষণের একটা নতুন পন্থা চলছে সমাজে

আমার মতে ইউক্রেন যুদ্ধর ফলাফল- সভ্যতার এক মাইলফলক হতে যাচ্ছে। যদি ন্যাটো-মার্কিন জোট টিকে যায় তাহলে গণতন্ত্র নাম নিয়ে থাকলেও "ডেমোক্রেসি" শব্দটা আরো কয়েকদশক টিকে থাকবে। কারন মার্কিন সভ্যতার এটাই অন্যতম হাতিয়ার।

আর যদি রাশিয়া জেতে, দীর্ঘমেয়াদি কাল হলেও- সেক্ষেত্রে অটোক্রেসি খুব দ্রুত বিশ্বকে গ্রাস করবে। একদিকে পুতিন অন্য দিকে জিংপিং। এর মাঝে মোদী-মমতারাবতো আছেই যারা একনায়কতন্ত্র চালাচ্ছে গণতন্ত্রের চাদর গায়ে। এর মাঝে প্রযুক্তিগত ভাবে শীর্ষে থাকা ইজরায়েলের লক্ষ্যই "One world order" নামে এক নায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা।

আমাদের এই তথাকথিত যে ভার্চুয়াল দুনিয়া, এটাও রাতারাতি বদলে যাবে যদি ন্যাটো ভেঙে যায়। মার্কিন আধিপত্যে থাকা সেন্ট্রালাইজড ডাটাবেস যুক্ত ইন্টারনেট পরিসেবার রাতারাতি বিলুপ্তি ঘটবে। ঠিকিই পড়ছেন, আজকের এই গুগুল, ফেসবুক, মাইক্রোসফট সহ সব বিগ বুল কোম্পানি অপ্রাসঙ্গিক হয়ে ঝাঁপ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে- আর এটা আগামী ৫ বছরের মধ্যেই হয়তবা হতে পারে। তার বদলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত ওপেনসোর্স ডিসেন্ট্রালাইজড ব্লকচেইন সিস্টেম ইন্টারনেট এর সূচনা হবে

হ্যাঁ সেই ব্লকচেইন- যা দিয়ে ক্রিপ্টোপারেন্সি তৈরি হয়

আসলে কিছুই কাকতালীয় বা সমাপতন নয়, সবটাই একটা বৈশ্বিক প্রোগ্রামিং এর ফসল

তাহলে কি দাঁড়ালো!

খাদের কিনারাতে- ডেমোক্রাসি, সেন্ট্রালাইজড ডেটাসেন্টার যুক্ত ইন্টারনেট যুগ, ডলার ও পশ্চিমা সভ্যতা, সাদা চামড়ার প্রভুত্ব

আগামী পৃথিবী = অটোক্রেসি বা ব্যুরোক্রেসি, AI নির্ভর ব্লকচেইন ওপেনসোর্স ইন্টারনেট, ক্রিপ্টোকারেন্সি ও এশিয়ান দাদাগিরি

আপনি কি মনে করেন?


 


শনিবার, ২৬ মার্চ, ২০২২

একমাস পর কোথায় দাঁড়িয়ে ইউক্রেন যুদ্ধ!

 

পশ্চিমা মিডিয়ার গণ প্রোপাগাণ্ডা মূলক মিথ্যাচারের বাইরে গিয়ে তুলনামূলক নিরপেক্ষ কিছু সংবাদমাধ্যম এর দ্বারা প্রচারিত সংবাদ ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে একটা প্রাথমিক ধারনার উপরে ভিত্তি করে চলমান ঘটনাপ্রবাহের উপরে এই লেখা। আমাদের গোদি মিডিয়ারও বাপ এই পশ্চিমা মিডিয়া, যার পেটে ছেলে নেই তাদের কোলে ছেলে করে দিতে এরা উস্তাদ। কিন্তু মজা হল, প্রোপ্যাগান্ডা দিয়ে যুদ্ধে জেতা যায়না, গেলে হি’টলার ও তার প্রোপ্যাগান্ডা মন্ত্রী গোয়েবলস জিততো।
যদিও ঠান্ডা ঘরে বসে গলায় পাউডার, মুখে স্নো লাগিয়ে বুদ্ধিজীবী সেজে বসা কিছু আবাল, আর ইজেরে মগজ রাখা একাংশ ফেসবুকীয় বিশ্লেষক, সোস্যাল মিডিয়ার তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ লাগিয়ে দিয়ে সর্বজ্ঞ পন্ডিত সাজার ভান করলেও বাস্তব পরিস্থিতি মোটেও তেমন নয়। প্রাক্তন KGB চর ও পরে তাদের সার্বিক প্রধান ভ্লাদিমির পুতিন- সাদ্দাম হোসেন বা মুয়াম্মার গাদ্দাফি নয়। প্রতিপক্ষের প্রতিটি সম্ভাব্য চাল কী হতে পারে সেই সম্বন্ধে সম্যক ধারনা রেখে ক্যালকুলেটেড রিস্ক নিয়েই যুদ্ধে নেমেছে- যা রাশিয়ার পরিভাষায় “বিশেষ সামরিক অভিযান”।
১) আজদের দিনে দাঁড়িয়ে রাশিয়া তার লক্ষ্যে ৯০% সফল, কাল কী হবে জানিনা তবে রাশিয়ার বিপক্ষে যাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীন। ইউরোপের খোঁজা রাষ্ট্রপ্রধানগুলো সবকটা কাগুজে বাঘ, সিরিয়া-ইরাক-লিবিয়া-আফগানিস্থানের মানুষদের উপরেই যত কেরামতি ছিল। পুতিনের রাশিয়া যেই একটা করে হুমকি দিচ্ছে, অমনি লেঙ্গুর গুটিয়ে আরো চারটে বাক্যবাণ ছুড়ে ‘চাচা আপন প্রাণ বাঁচা’ প্রকল্পের অধীনে ‘অবরোধ অবরোধ’ খেলায় ছক্কা-পুট গুনছে।
রাশিয়ার লক্ষ্য কখনই গোটা ইউক্রেনের দখল নেওয়া ছিলনা, তাদের মূল লক্ষ্য ছিল নিপার নদীর উত্তর-পূর্ব অংশটা। ইউক্রেনের মোট উর্বর কৃষিক্ষেত্রের ৭০% এই অঞ্চলেই অবস্থিত, যেখানে উৎপাদিত গম বিশ্বের ১৭% চাহিদা মেটায় ও সূর্যমুখী তেলের ৬৫% এর চাহিদা মেটায়। এর বাইরে আরো যে সব অন্যান্য কৃষিজাত ফসল রয়েছে সেগুলো নাহয় উহ্যই থাকুক।
ইউক্রেনের প্রাকৃতিক গ্যাসের ভান্ডারের ৭৭% এই নিপার নদীর উত্তরপূর্ব প্রান্তেই অবস্থিত। সেটাকেও প্রায় নিজেদের দখলে করে এনেছে রাশিয়া। এই প্রান্তেই ইউক্রেনের ৬০% তেলের কূপ গুলো রয়েছে। পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালাতে সুপেয় জলের দরকার হওয়ার দরুন প্রায় সবকটি ইউক্রেনীয় পারমানবিক চুল্লি এই প্রান্তেই অবস্থিত। এর জন্যই ইরপিন নদী লাগোয়াও অঞ্চলও রাশিয়া দখল করে নিয়েছে।
ইতিহাস বলছে, হি’টলারের অজেয় বাহিনী যখন রাশিয়া আক্রমণ করেছিল, এই নিপার নদী অতিক্রম করে করে যাওয়া অধিকাংশ জার্মান সৈন্য বেঁচে ফেরেনি। সুতরাং ভূপ্রকৃতিকগত ভাবেই এই নদীর সীমানা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে ইউক্রেনের সাথে কৃষ্ণসাগরের একমাত্র সম্পর্ক ছিল মারিওপোল সমুদ্রবন্দর, সেটাও রাশিয়ার করায়ত্ত হয়েছে বা দু-এক দিনেই হবে বলে ধারনা করাই যায়। সব মিলে রাশিয়ার জন্য ১০১% ‘উইন উইন সিচুয়েশন’ না হলেও ক্ষতিতে অন্তত নেই।
২) রাশিয়া বা বলা ভালো পুতিন- পশ্চিমা জোট ন্যাটোকে এমন আব্বুলিশ দুদুভাতের দলে ফেলে রেখেছে যে তারা নিজেদেরই নিজেরা চিনতে পারছেনা। এতোদিন তারা নিজেদের বিশ্বের মড়ল ভাবতো ও সেটা অন্তর থেকে বিশ্বাসও করত, পুতিনের এক ইউক্রেন আক্রমন রাতারাতি তাদের নেড়িকুত্তার দশাতে পরিনত করে দিয়েছে। পুতিন ন্যাটোর সাথে যে আচরণ করছে তার নিরিখে- 'চল ফোট' বা কুত্তা তাড়ানো ‘ছেই’ তার চেয়ে অনেক বেশি সম্মানের। অবরোধের ফাঁপা বুলি আউরানো কয়েকটা ইউরোপিয়ান জোকারকে অনেক বেশি হাস্যকর মনে হতো- কিন্তু রোজ পুতিনের হাতেপায়ে ধরা আরো বড় ভাঁড় জেলেনস্কি এদের ভাঁড়ামো গুলোকে একাই অনেকটা ঢেকে দিয়েছে।
সুতরাং গতকাল রাশিয়ার দাবী করা প্রথম মিশন সফলের যে দাবী করা হয়েছে, তা অনেককাংশেই সফল। উল্টো দিকে পশ্চিমা জোট সকাল বিকেল কিছু অশ্বডিম্ব প্রসব করে- শীৎকার করে যাচ্ছে রাশিয়ার রমণ সুখের চরম সুখানুভূতির পালে হাওয়া দিয়ে। এটাও রাশিয়ার নৈতিক জয়, কারন রাশিয়া ন্যাটোকে বাধ্য করেছে মুখ দিয়ে নিয়মিত বাতকর্ম করতে।
৩) ইউক্রেনের দক্ষিন পশ্চিম প্রান্ত নিয়ে রাশিয়ার সামান্যতম মাথা ব্যাথা নেই, অথচ এই দিকের পোল্যান্ড সীমানা দিয়ে আমেরিকা সহ ন্যাটোর বৃহন্নলারা অস্ত্রসহ পাঠাচ্ছেল, রাশিয়া চাইলেই বেলারুশ সীমান্ত দিয়ে সেনা পাঠিয়ে এটাকে আঁটকাতে পারত অতি সহজে। কিন্তু ন্যাটোকে খাটো করে বাঁদরনাচ নাচাবার জন্যই সম্ভবত- এই প্রান্ত অবাধে খুলে রেখেছে। ভাবখানা এমন, "পারলে লড়ে দেখা"। পুতিন তথা রাশিয়া, ৩০ দেশের জোট ন্যাটোকে চুড়ান্ত অপমান করে উলঙ্গ করে দেওয়ার খেলাতে এই যাত্রায় চুড়ান্ত সফল। ন্যাটো যেটুকুও চুড়ুং ফুরুং করছিল- রাশিয়া পরমানু অস্ত্রের গল্প শোনাতেই ‘জোঁকের মুখে নুনের’ মত ন্যাটো আবার পাড়ার বাইড়ে গিয়ে ঘেউ ঘেউ শুরু করেছে।
৪) যুদ্ধে যদি কেউ লাভবান হয়, দৃশ্যত সেটা অস্ত্র বেচে মুনাফা করা আমেরিকা- যাদের প্রেসিডেন্ট গতকাল ইউরোপে গিয়ে গ্যাস বিক্রির একটা অবাস্তব মুলো ঝুলিয়ে দিয়ে এসেছে। কিন্তু যার লাভটা খালি চোখে দেখা যাচ্ছেনা তার নাম হল চীন। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক লেনদেন ব্যবস্থা "SWIFT" থেকে রাশিয়াকে বাদ দিতেই, মার্কিন বিরোধী দেশগুলো সবাই চীনের CIPS এর দিকে ঝুঁকে গেছে। এই সুইফট মূলত মার্কিন ডলার ভিত্তিক একটা সিস্টেম, চীনা বিকল্প অবশ্যই চীনা মুদ্রা দ্বারা পরিচালিত।
সুইফট থেকে বাদ তো দিয়ে দিয়েছে মার্কিন বাবার চাপে, কিন্তু রাশিয়ান তেল গ্যাস বন্ধ করলে তো রাতারাতি ইউরোপে লালবাতি জ্বলবে। সুতরাং, এই সুযোগে রাশিয়া কি করেছে, ইউরোপীয় সমস্ত দেশ গুলোকে আত্মলিঙ্গম পশ্চাদপূরম দশাতে এনে- বাধ্য করছে নিজেদের মুদ্রা রুবেলের বিনিময়ে তেল, গ্যাস ও কয়লা কিনতে। এখানেও ডলারের ঘরে লালবাতি। এ যেন যেই গ্রাম্য প্রবাদের মার্কিন সংস্করণ- “ভাতার মরলে মরুক, সতীন যেন বিধবা হয়”।
সাধে কি আর বাইডেন তড়িঘরি ব্রাসেলসে উড়ে এসে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছে। কিন্তু সে গুড়ে বালি, এক্ষেত্রেও হম্বিতম্বি টুকুই সার। রাশিয়ার উপরে দেওয়া নিষেধাজ্ঞায় রাশিয়ার যা ক্ষতি হয়েছে, ইউরোপের ক্ষতির পরিমাণ তার চেয়ে কয়েকগুন বেশি। তবে যেহেতু হানিমুন পিরিয়ড শেষ, তাই মুখ ফোটার পাশাপাশি- বুক ও পেছন একসাথে ও স্বশব্দে ফাটছে সকলের। বেলজিয়াম সাফ জানিয়ে- যুদ্ধ আমাদের দেশে বাঁধেনি, তাই রাশিয়ান তেল-গ্যাস তারা বন্ধ করবেনা। জার্মানি, অষ্ট্রিয়া, নেদারল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, লাটাভিয়া, এস্তোনিয়া সহ ২৪টা ন্যাটো ভুক্ত দেশ কাগজে কলমে নিষেধাজ্ঞা দিলেও বস্তুত রাশিয়া থেকেই গ্যাস আনছে। তবে আগে লেনদেন হতো ডলারে, এখন হচ্ছে রুবেলে বা চাইনিস ইউয়ানে।
তাহলে আসলে ফাটলো কার! মারছে ইউক্রেনে, লাশ পরছে আমেরিকায়। তবে সবচেয়ে শকিং বিষয়টা পোল্যান্ডের, তাদের রাষ্ট্রপতি- বাইডেনের সাথে দেখা করার জন্য যে প্রাইভেট প্লেনে রওনা দিয়েছিল- কোনো এক অজানা কারনে সেটা জরুরী অবতরন করেছে ও রাষ্ট্রপতি অন্তর্ধানে চলে গেছেন। কেউ জানেনা এর কারন কি! পুরো ঘ্যেটে ঘ...
বাইডেন তার ছেলে হান্টার বাইডেনের ব্যবসা বাঁচাতে এসেছে, আর তার মাঝে যদি একটা অবাস্তব শর্তে ইউরোপে কিছু গ্যাস বিক্রি করা যায় চড়া দামে- সেটা তো চাঁদমারি। কিন্তু ইউরোপের চাহিদা যদি একটা কুমড়োর সাইজের হয় সেখানে আমেরিকার গ্যাসের সাপ্লাই বড়জোর একটা আঙুরের মাপের। অতএব, রাশিয়া বিনে গতি নেই। গোটা ইউরোপ যতই তম্বি আর মুখে ও খাতায় বাঘ মারুক, তাদের মিডিয়া যতই রাশিয়ার অর্থনীতিকে আতালান্তিকে তলিয়ে দিন- রোজ পয়সা দিয়ে তেল গ্যাসটা রাশিয়া থেকেই কিনছে ও কিনবে। G-20 থেকে রাশিয়াকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করা মাত্রই চীন যেভাবে রে রে করে বিরোধিতা করেছে, বাকি একটা সেয়ানাও আর টুঁ শব্দটি করেনি। তাহলে দাঁড়ালো কি! ন্যাটো আসলে হাতির দাঁত মাত্র, যাদের আগামী অস্তিত্ব সঙ্কটে।
ডুবছে আসলে ডলার, বিশ্ববানিজ্যের লেনদেনগত স্থিতাবস্থা ঘ্যেটে গেছে, নতুন বৈশ্বিক অর্থব্যবস্থার আগমন আসন্ন আর সেটা কখনই ডলার নির্ভর না, হবে এটা লিখে দিয়ে গেলাম।
গল্পটা কিন্তু এখানেই শেষ নয়।
<<<<><<>>>>>>>>>><<>>>
আরব আমিরাত বা বলা ভালো দুবাই যে দেশের অর্থনৈতিক রাজধানী, যাদের OPEC এর বাইরে অস্তিত্ব পোস্তদানার সাইজের, তারাও গত দু-এক দিনের মধ্যে মস্কো সফর করে এমন তম্বি করছে - যেন সেও কিম জং এর মত একটা মিনি সুপার পাওয়ার। প্রশ্ন হচ্ছে, এরা তো এতোদিনের মার্কিন রক্ষীতা, আজ সেই "বাবু" আমেরিকার বিরুদ্ধে যাবার সাহসটা কে দিল বা কোথা থেকে পেলো?
ওদিকে গত সপ্তাহে মার্কিন বিদেশমন্ত্রী এ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন সৌদি সফর করেছিল, সেখান থেকে ঠনঠন গোপাল হয়ে ফিরেছে। ইরাণ, ভেনেজুয়েলা, কাতার সহ অন্যান্য তেল সমৃদ্ধ দেশ গুলোও যুক্তরাষ্ট্রকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দর্শন করিয়ে রাশিয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে একপ্রকার।
মধ্যপ্রাচ্যে বন্ধুত্বের সংজ্ঞা বদলে যাওয়ার সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। ইজরায়েল কখনই রাশিয়াকে চটাবেনা, সেক্ষেত্রে সিরিয়ান বিদ্রোহীদের যদি রাশিয়া অস্ত্র সরবরাহ শুরু করে, ইজরায়েলের দখলে থাকা গোলান মালভূমি সহ অনেকটা জমি খুইয়ে ফেলবে। নিজের ভালো ক্ষ্যাপাতেও বোঝে, সেখানে ইজরায়েল তো মহা সেয়ানা।
এদিকে বাকসর্বস্ব আমেরিকার ফাঁপা দশা আমাদের মত তৃতীয় বিশ্বের নাগরিকেরা দেখে নারকীয় সুখ অনুভব করলেও- দাদা হওয়ার নেশায় বুঁদ ইজরায়েল কিন্তু বসে থাকবেনা। সে আমেরিকাকে মেরেই উত্থান ঘটাবে, এই মার হাতে নয়, ভাতে হবে।
সৌদি, মিশর, বাহারাইন, জর্ডন, সুদান, আমিরাতের মত দেশ গুলোকে নিয়ে যদি কোনো নতুন একটা গোষ্ঠী বানিয়ে ফেলতে সক্ষম হয়- দাঁওটা ইজরায়েলই মারবে দিনের শেষে। প্রযুক্তিগতভাবে তেলসমৃদ্ধ ইসলামিক দেশগুলো বস্তুত "ক অক্ষর গোমাংস", উলটো দিকে ইজরায়েলই আজকের দিনে প্রযুক্তিগত ভাবে বিশ্বের টপ বস। সুতরাং উপরোক্ত দেশগুলো সহ- ইরাক, সিরিয়া, ওমান বা কাতারের মত দেশগুলোর সাথে দৌত্য করে রাতারাতি কোনো আঞ্চলিক গ্রুপ বানিয়ে না ফেলাটাই এখন আশ্চর্যের হবে। এমন একটা অসম্ভব ‘আঞ্চলিক মিত্র গ্রুপ’ তৈরি হয়ে গেলে মরোক্কো থেকে সুদান কেউ ই কিন্তু যোগ দিতে বাদ থাকবেনা। অচিরেই আমরা এমনই কিছু একটা অসম্ভব দেখতে চলেছি সম্ভবত।
এতে অনেক পাখি একসাথে মরবে। প্রথমত মার্কিন যুগের অফিসিয়াল পরিসমাপ্তি ঘটবে। রাশিয়াকে সুইফটে ব্যান করার মাধ্যমে নিজেরাই নিজেদের তৈরি ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে রুবেলে তেল কিনছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এখন তেল কেনা দেশ গুলো যদি ডলারে লেনদেন না করে, তাসের ঘরের মত রাতারাতি ধ্বসে যাবে ঋণে জর্জরিত মার্কিন অর্থনীতি। সোনা সম্পদ লুঠ করে কাগজকে বৈশ্বিক মুদ্রা বানানো ভুঁয়ো অর্থনীতির সলিলসমাধি ঘটতই, সেটা এখন দিনের আলো দেখবে।
চীনেরও সামরিক অগ্রগতি রুখে দেওয়া যাবে। কারন চীনের ৯৫% জ্বালানি তেল বাইরে থেকে আনতে হয়, যার ৭০% সরবরাহ করে মধ্যপ্রাচ্য। সুতরাং ইজরায়েল যদি এমন একটা জোট বানাতে সক্ষম হয়, সেক্ষেত্রে চীন যতবড় অর্থনীতিই হওক আর যত অস্ত্রেরই মালিক হোকনা কেন, তেলের জন্য ইজারেয়েলের মাথায় কখনই চড়তে পারবেনা চীন।
গোদা বাংলায় মোদ্দা কথা হচ্ছে, খনিজ তেলের নিয়ন্ত্রণ যার হাতে আগামীর বিশ্বের দাদা সে হবে।
আর মুর্খ ইসলামিক দেশগুলোর গাণ্ডু বাদশা সুলতানগুলোর ঘটে সেই বুদ্ধি নেই যে নিজেরা জোট বেঁধে এই মুহুর্তে পূর্ব পশ্চিমের সব ব্যাটাদের জুতো চাঁটতে বাধ্য করে।
উপসংহার
++++++
গত শতকের ধারাবাহিকতা অনুযায়ী, বিশ্বের প্রতিটি যুদ্ধ থেকে একটা দেশই লাভবান হয়েছে- তার নাম ইজরায়েল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট থেকে ফিলিস্তিনের ভূখন্ডের সনদ পেয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে সেই সনদপ্রাপ্ত দখলি ফিলিস্তিনি জমিতে বসতি স্থাপন করে হলোকাস্টের জুজু দেখিয়ে। তাই, এই ইউক্রেন যুদ্ধ শেষে কে হারলো- রাশিয়া না ন্যাটো সেই গল্প ভুলে যান।

কারন এখানেও জিতবে ইজরায়েল।
মিলিয়ে নেবেন, উত্তর ২০২৩ ই দিয়ে দেবে।

বুধবার, ৯ মার্চ, ২০২২

নতুন এক বিশ্বব্যবস্থার দ্বারপ্রান্তে পৃথিবী

 



পরিষ্কার বাংলায় যদি প্রশ্ন করা হয় এই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধটা কে বা কারা লাগিয়েছে, তাহলে এর একটাই উত্তর- আমেরিকা লাগিয়েছি।
Complete Conflict Analysis না করলে এই জটিল আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিন্দুবিসর্গ বোঝা যাবেনা। তাই যারা টু’লাইনারে স্বচ্ছন্দ্য এ পোষ্ট প্লিজ তাদের জন্য নয়।
এক দশক আগে শুরু হওয়া সিরিয়া যুদ্ধের সাথে একই তারে বাঁধা এই ইউক্রেন সঙ্কট। কেন? তাহলে গোটা নিবন্ধটা পড়তে হবে।
অনেকেই ভাবে ইসলামী ‘মৌলবাদীদের’ শায়েস্তা করতে ছিল সিরিয়ান যুদ্ধ। কেউ বলে রাশিয়া ত্রাতা হিসাবে দাঁড়িয়েছে মুসলমানেদের পাশে, কেউ বলে মার্কিনীদের উচিৎ শিক্ষা হয়েছে, কেউ আবার হরেক ধরনের জটিল জিও-পলিটিক্স খুঁজে পায়। কিন্তু আসলে যে বিষয়টা- চরম স্বার্থান্বেষী পুঁজিবাদী পশ্চিমাদের গ্যাসের পাইপলাইন সংক্রান্ত দ্বন্ধ সেটা ভুলিয়ে দেয়- সিয়া-সুন্নীর মিথ্যা প্রচারনা দিয়ে। আমাদের মত তৃতীয় বিশ্বের সর্বজ্ঞ সার্টিফায়েড মুর্খদের কাছে পশ্চিমা মিডিয়াই একমাত্র সত্য - তাই গ্যাসের দুর্গন্ধ আমাদের ইন্দ্রিয়ের কাছে অধরাই রয়ে যায়।
আজ ইউক্রেন-রাশিয়া সঙ্কটে ‘ইসলামী মৌলবাদ’ নেই, সেখানে জঙ্গিবাদ নেই, তবে যুদ্ধ আছে, মৃত্যু আছে, বিভীষিকা আছে, মিথ্যা প্রচারনা আছে, স্বার্থ আছে, গ্যাস আছে, তেল আছে, ন্যাটো আছে, আমেরিকা আছে, রাশিয়াও আছে। তবে, এটাই সম্ভবত এদের একত্রে শেষ থাকা। এর পরেও যুদ্ধ থাকবে, মিথ্যা থাকবে, গ্যাস থাকবে, স্বার্থ, দম্ভ, রাজনীতি, অর্থনীতি সব থাকবে- শুধু আমেরিকা আর রাশিয়া নামদুটো একসাথে সাথবেনা, পক্ষে বা বিপক্ষে। একটা পক্ষের রাজনৈতিক ভাবে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হওয়ার মাঝখান দিয়েই নতুন বিশ্বব্যবস্থার সূচনা হবে।
বাইডেন পূর্ববর্তী বিগত ৪ বছরে ট্রাম্পের জামানাতে একদিকে জার্মানির তৎকালীন চ্যান্সেলর মার্কেল যেমন মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটোর বর্তমান যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল, ঠিক তেমনই ফরাসি প্রেসিডেন্ট ওঁলাদ বা হালের ম্যাঁকোও প্রশ্ন তুলেছিল- কেন আমরা মার্কিন সেনাদের জামাই আদর করে নিজেদের দেশে পুষবো ন্যাটোর নামে। ইতালির প্রেসিডেন্ট নাপোতালিনো একধাপ এগিয়ে- ইউরোপের জন্য এক্সক্লুসিভ একটা শক্তিশালী সেনা জোট বানাবার প্রস্তাব দেয়, যেখানে আমেরিকা থাকবেনা। ব্রিটেন এবং ফ্রান্স ন্যাটোর রেজুলেশনকে উপেক্ষা করে ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের প্রতিপত্তি বিস্তারে বিশেষভাবে উদ্যোগী হয়েছে। করোনার সঙ্কটে থাকাকালীন দুটো বছর ন্যাটোর ভবিষ্যত ভূমিকা নিয়েই গবেষণা চলছিল ইউরোপের রাষ্ট্র নেতাদের মাঝে, প্রমাদ গোনে আমেরিকা।
ট্রাম্প আদতে ছিল একজন ব্যবসায়ী, বাইডেনের মত ‘I love war’ বলা টিপিক্যাল মার্কিনী নয়। স্বভাবতই ইউরোপ সহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করে, তাদের নিজ দেশের আভ্যন্তরীণ সমস্যা মেটাতে উদ্যোগী হয়েছিল। ট্রাম্প তার আমলে একটাও নতুন যুদ্ধের সূচনা করেনি।
মার্কিনীদের নেতৃত্ব নিয়ে যখন প্রশ্ন উঠেছে গোটা বিশ্বজুড়ে, তারই মাঝে বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক, সামরিক, প্রযুক্তিগত ও প্রবল সাংস্কৃতিক ভাববোধক শক্তিকে পুজি করে বিশ্ব পরাশক্তি হিসাবে চীন আবির্ভূত হয়েছে। আসলে সোভিয়েতের পতনের সময় রাশিয়া ছিল নিতান্তই শিশু রাষ্ট্র, চীনও তখন আভ্যন্তরীণ সংস্কারে ব্যস্ত ছিল। এরই মাঝে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একমুখী আধিপত্যের শীর্ষে পৌছে- ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, সিরিয়া সহ একাধিক যুদ্ধ বাঁধিয়ে তাদের প্রাকৃতিক সম্পদ লুঠ করে দুটো দশক ধরে এবং ন্যাটো ভুক্তদেশগুলোর মাঝেও বখরার ভাগ বিলিয়েছে। বর্তমানে পশ্চিমা জোটকে চ্যালেঞ্জ জানানোর জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে চীন, রাশিয়া, তুরস্ক, ইরান, ভেনেজুয়েলা সহ একাধিক দেশ মিলিতভাবে বা কখনও এককভাবে কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। স্বভাবতই মার্কিনীদের সেই আশি-নব্বই এর দশকের ক্ষমতায় ভাটা আসতেই শুরু হয় বাইডেনের ইউরোপ সফর, অতীতকে পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা।
মার্কিন ফ্রাঙ্কেনস্টাইন ওসামা-বিন-লাদেনের টুইন টাওয়ার ধ্বংসের মাধ্যমে আমেরিকার যে পতন শুরু হয়েছিল, তা ২০২২শে এসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌছেছে। আমেরিকার অবস্থা বুড়ো সিংহের মত, এককালে শিকারের জন্য নিজেই যথেষ্ট ছিল, এখন আর সেই বল নেই। অথচ দাপট না থাকলে বিশ্ব মুদ্রা ব্যবস্থার অচিরেই পতন ঘটবে, যা মার্কিনীদের দাদাগিরির প্রাণভোমরা। ডলারের পতন ঘটলে কোনো পরমানু বোমাই আর দাদাগিরি টিকিয়ে রাখতে পারবেনা, কারন ঐ বোমা আরো ৮টি দেশের ভাড়ারে মজুদ আছে। অতএব নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা ফিরিয়ে আনতে একটা যুদ্ধ বাঁধাও।
ভৌগলিকভাবে যেহেতু আমেরিকা সম্পূর্ণ অন্য ভূখণ্ডে যেখানে কানাডা ছাড়া ইম্মিডিয়েট কোনো পড়শি নেই যাদের সাথে বিস্তীর্ণ সীমান্ত রয়েছে। তাই এশিয়া, ইউরোপ বা আফ্রিকাতে যুদ্ধ বাঁধালে সরাসরি তার কোনো প্রভাব পরেনা মার্কিন ভূখণ্ডে। তাই অন্যের ঘরে যুদ্ধ বাঁধাতে আমেরিকার শখের অন্ত নেই। কিন্তু সেই সুখের ঘরেও জুজু ঢুকেছে দূরপাল্লার মিশাইল গুলোর মাধ্যমে, মিথ্যা প্রচারনার বুদ্বুদ দিয়ে যে ভয় ঢাকা সম্ভব নয়।
যুগে যুগে ইতিহাস ভাঁড়েদের ভাঁড়ামোর সাক্ষী থেকেছে, ইউক্রেনও থাকল বা বলা ভালো রক্ত দিয়ে মুল্য চোকালো। এই ভাঁড় জেলেনস্কিকে বাবা-বাছা করে লেজে হাত বোলাতেই, রাজনীতি ও কূটনৈতিক জ্ঞানে মূর্খ ভাঁড় নিজেকে মহান ও গুরুত্বপূর্ণ ভেবে বসে ঠিক ততটা বাড়াবাড়ি শুরু করে দিল, যতটা করলে রাশিয়া আক্রমণ করতে বাধ্য হয়। জেলেনস্কি ভেবেছিল, তার জন্য গোটা ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ঝাঁপিয়ে পরবে।
মূর্খ জেলেনস্কি ইতিহাস পড়েনি, মার্কিনীদের গাছে তুলে মই কেড়ে নেওয়ার ন্যাক্কারজনক ঐতিহ্য হয় জানতনা বা আমল দেয়নি কিম্বা নিজেকে সর্বোচ্চ বুদ্ধিমান বিচক্ষণ ভেবে ধরে নিয়েছিল- যে ইতিহাস বদলে দেব। আসলে রুপোলী পর্দা আর বাস্তবের মাঝে মোটা দুরত্বটা অনুধাবন করতে পারেনি। প্রতটি মূর্খের ক্ষেত্রে এটাই ঘটে।
ইউক্রেনের মাঝখান দিয়ে পাইপলাইন দ্বারা ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাস পাঠাবার জন্য রাশিয়াকে ভীষণ চড়া মূল্যের ট্রানজিট ফি দিতে হয় বা হতো। কিন্তু ইউক্রেন প্রতিবছর প্রায় কয়েক লক্ষ ঘন মিটার গ্যাস চুরি করা শুরু করে, যা ২০০৬ সালের ১লা জানুয়ারি রাশিয়া ধরে ফেলে। ইউক্রেন ভেবেছিল রাশিয়া ধরতে পারবেনা, কিন্তু ররা পরতেই গা-জোয়ারী করা শুরু করে, পশ্চিমা মিত্ররা চোরের সাথ দেয়। কিন্তু রাশিয়া বেঁকে বসে, হুমকি দেয় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেবে এবং ইউক্রেনের উপরে শোধ নেওয়ার পরিকল্পনা শুরু করে।
ইউরোপ প্রমাদ গুনলো, রাশিয়া বেঁকে বসলে গোটা ইউরোপ শীতে জমে যাবে, আধুনিক পশ্চিমা সভ্যতার তুষারসমাধি ঘটবে। তারা বিকল্প জ্বালানী উৎসের সন্ধান করতে লাগল। মার্কিন উপনিবেশ কাতার প্রস্তাব দিল, হরমুজ প্রনালীর নিচে থাকা গ্যাস- তারা ইরাক, সিরিয়ার মধ্য দিয়ে ইউরোপে গ্যাস পাঠাবে। এদিকে ইরান দাবী করলো, ঐ গ্যাসের এক তৃতীয়াংশের মালিক আমি, সুতরাং আমি এই পাইপলাইন বিছাবো। ইরান তুরস্ককে বললো আমি তোমার দেশের মাধ্যমে এই লাইন নিয়ে যাব, তুরস্ক ইরানের দোসর হয়ে গেল। ইরানের গ্যাসের ভান্ডার অল্প, তাতে রাশিয়ার একচেটিয়া ব্যবসা মার খাবেনা তেমন, তাই রাশিয়া ইরানের পক্ষ নিল। স্বভাবতই দুটো যুযুধান পক্ষ লেগে গেলো ছায়া যুদ্ধে। ইরাক নিয়ে সমস্যা ছিলনা, কারন ২০০১ থেকে বোমা মেরে মেরে তাকে আগেই ধ্বংস করে দেওয়া গেছে, বাদ সাধলো সিরিয়া।
ব্যাস, সিরিয়ার বাসারের কাছে একদিকে কাতারের হয়ে মার্কিন দৌত্য শুরু হয়ে গেল, অন্যদিকে ইরানের হয়ে রাশিয়ান দৌত্য। সুন্নি অধ্যুষিত কাতার চায় সিয়া বাসারের উচ্ছেদ, কারন সে রাশিয়ার পক্ষে সিয়া ইরানকে পাইপলাইন বসাতে অনুমতি দিয়েছে। আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চায়- কাতারের পাইপলাইন এর মাধ্যমে রাশিয়াকে ইউরোপের গ্যাসের বাজার থেকে অপ্রাসঙ্গিক করে দিতে। বিষয়টা ছিল গ্যাসের সাপ্লাই লাইন, পশ্চিমা মিডিয়া বানিয়ে দিল সিয়া-সুন্নী দ্বন্দ্ব, সুক্ষ সুচারুভাবে।
শুরু হয়ে গেল সিরিয়ান যুদ্ধ। কাতারের প্রতক্ষ্য সহযোগিতায় মার্কিন সমরাস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ISIS নামের মিলিশিয়া জঙ্গিগোষ্ঠী বাসারকে উচ্ছেদে ধ্বংস যজ্ঞ শুরু করে দিল। আর তাদের ঠেকাতে রাশিয়া ও ইরাণ পালটা অস্ত্রের সাপ্লাই দিলো বাসারকে। কে জিতলো বা কে হেরেছে সেটা বড় কথা নয়, কিন্তু সিরিয়ান মানুষেরা শেষ হয়ে গেলো। সেই পাইপলাইন আজও কেউ সম্পূর্ণ করতে পারেনি। ইউরোপেও গ্যাসের বাজার থেকে রাশিয়াকে নামাতে পারেনি মার্কিনীরা। আজও গোটা ইউরোপ রাশিয়ার মুখাপেক্ষী গ্যাস সাপ্লাই এর জন্য, মাঝখান থেকে সিরিয়া কবরের দেশে পরিনত হলো।
সুতরাং, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা রাশিয়া- কেউ মসিহা নয়। গুয়ের এপিঠ-ওপিঠ। তবে বন্ধু হিসাবে মন্দের ভালো রাশিয়া, অন্তত প্রয়োজনের সময় একা ছেড়ে পালায়না।
সুতরাং, সিরিয়া নিয়ে ন্যাটো বা রাশিয়ার এতো যুদ্ধ প্রীতির বিষয়টা নিশ্চই এবারে বোধগম্য হয়েছে পাঠকের। নিজেদের অন্ধ স্বার্থে এরা কেউ সাধারন সিরিয়ান নাগরিকদের কথা ভাবেনি। না পোপ কোনো বিবৃতি দিয়েছে, না পশ্চিমা মিডিয়াতে সিরিয়ান শিশু মহিলাদের দুর্দশার কথা উঠে এসেছিল। বরং তাদের জঙ্গি দাগিয়ে দিয়ে মুহুর্মুহু বোমাবর্ষণ করে ছাড়খার করে গণকরবে পরিনত করে দিয়েছে দেশটাকে।
আজ ইউক্রেন সেটারই মূল্য দিচ্ছে, পাপের সাজা। কাল অন্য ইউরোপীয় দেশগুলোকেও মুল্য চোকাতে হবে, কাওকে দুদিন আগে কাওকে দুদিন পরে। নিয়তির ভবিতব্য এভাবেই সংসারে সাম্যতা বজায় রাখে।
বস্তুত আজকের দিনে দাঁড়িয়ে, আমেরিকা বা ন্যাটো কিম্বা ইউরোপীয় ইউনিয়ন কারোরই ইউক্রেনকে বাঁচাবো বা যুদ্ধ বন্ধ হোক- এ নিয়ে নুন্যতম মাথাব্যাথা নেই। কমপ্লিট সিরিয়া প্ল্যান। বরং এই যুদ্ধ থেকে কে কীভাবে লাভবান হতে পারে সেই নিয়ে নিজেদের মাঝে তৎপরতা তুঙ্গে। সকলে হিসাব কষতে ব্যস্ত- স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী লাভের।
জেলেনস্কি দৈনিক নিয়ম করে ন্যাটোকে হাতেপায়ে ধরছে যাতে ‘নো ফ্লাই জোন’ ঘোষনা দেয় বা অস্ত্র ও সেনা পাঠায় ন্যাটো সহ পশ্চিমা মিত্ররা। আসলে এর মাধ্যমে দুটো সম্ভাব্যতা খুলে রাখছে কূটনৈতিকভাবে-
১) নো ফ্লাই জোন ঘোষনা মানে সেখানে রাশিয়ান বিমান উড়লেই তাকে গুলি করবে ন্যাটো, অর্থাৎ রাশিয়া ও ন্যাটো সম্মুখ সংঘাত। না ন্যাটো এটা কখনই করবেনা। আমেরিকারও সেই মুরোদ নেই- রাশিয়ার সাথে সম্মুখ সমরে যাবে এই মুহুর্তে।
২) এদিকে ন্যাটো ইউক্রেনকে সাহায্য না করলে রাশিয়ার পায়ে ধরার একটা সম্মানজনক অজুহাত দিতে পারবে জেলেনস্কি।
দ্বিতীয়টি ঘটার সম্ভাবনা ৯৯.৯৯%, এক্ষেত্রে জেলেনস্কিকে ন্যাটোই খুন করে দিয়ে রাশিয়ার নামে দোষ চাপাবে। মার্কিন বিদেশ সচিবের ইঙ্গিতে এটা স্পষ্ট, আসলে ভাঁড় জেলেনস্কিকে চাপে রাখার এটা একটা কৌশলও বটে।
এদিকে রাশিয়ার বিরুদ্ধাচারণ এর প্রেক্ষিতে পোল্যান্ড আগেই বেঁকে বসেছে, রাশিয়ার তেল-কয়লা রপ্তানিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় জার্মানি, নেদারল্যাণ্ড, পোল্যান্ড সহ ১৪টি ন্যাটো তথ্যা ইউরোপীয় দেশ সম্মতি দেয়নি। কারন রাশিয়া ঘোষনা দিয়েছে, তেলে নিষেধাজ্ঞা দিলে তারা গ্যাস বন্ধ করে দেবে। গোটা ইউরোপে অন্ধকারময় এক চরম অরাজকতা সৃষ্টি হবে। শিল্প উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে, কারন ইউরোপের ৩০% কয়লা ও অর্ধেক গ্যাস সাপ্লাই এর একমাত্র উৎস সেই রাশিয়া।।
নেতৃত্বাধীন ইউরোপে এই চুড়ান্ত দৈন্য দশা সৃষ্টি করাই আমেরিকার মূল লক্ষ্য ছিল, এবং তাতে চুড়ান্ত সফল। এবারে ভেনেজুয়েলা ও ইরানের তেল মার্কিন কোম্পানি গুলো চড়া দাবে ইউরোপে বিক্রি করবে এমনটা মার্কিনিদের ধান্দা। কিন্তু রাশিয়াকে টাইট দিতে গিয়ে মার্কিনিরা উলঙ্গ হয়ে গিয়েছে, ইউরো দেখতে ও বুঝতে পারছে- তারা নিজেরাই মার্কিনী লালসার শিকার হয়ে গেছে। মার্কিনী জায়োনিষ্ট মিডিয়ার মিথ্যা সম্প্রচার দিয়েও রাশিয়ার বাজারে বা সাধারণ জনজীবনে তেমন সামান্যতম অসুবিধা সৃষ্টি করতে পারেনি গত ১৩ দিনের যাবতীয় অবরোধ সত্বেও। উল্টে ইউরোপের জনজীবনে চুড়ান্ত ভয় ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পরেছে, বিশ্ব বাজারে তেল-গ্যাস ক্রমেই মহার্ঘ্য পয়ে পরেছে- যার শিকার বিশ্বের প্রতিটি দেশ।
আসলে, সাবেক সোভিয়েত আমল থেকেই রাশিয়া যে অর্থনীতির প্রাক্টিস করে, সেটা অনেক বেশি রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত। ইরান, ভেনেজুয়েলা, কিউবা বা চীনের মত মার্কিন বিরোধী প্রায় সকল দেশগুলোতে এমন অর্থনীতির চাষ বহু দিন থেকেই। আমাদের ভারতে ঠিক যেভাবে পেট্রোলিয়াম দ্রব্য বিক্রি হয় ওই সব দেশের সমস্ত অর্থনীতিটাই সেভাবে চলে, একটা কঠোর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রাধীন সংস্থা দ্বারা। তাই রাতারাতি কোনো নিষেধাজ্ঞা চালু করে এই সব দেশের সাধারন জনজীবনে সেভাবে কোনো প্রভাব ফেলা যায়না, ফলত রাশিয়াতেও পরেনি। বরং রাশিয়া পশ্চিমাদের মূল প্রোপ্যাগান্ডা অস্ত্র- মিডিয়াকে বন্ধ করে দিয়েছে। CNN, BBC, Facebook, Twiter, Google সহ ডয়েচে ভেলে সহ বহু সংবাদ মাধ্যমকে জাষ্ট তাড়িয়ে দিয়েছে দেশ থেকে। লোক খ্যাপানো বন্ধ রাশিয়াতে, ঠিক যেভাবে গত ১৩ দিন যুদ্ধের আবহে করোনা গায়েব মিডিয়া থেকে, আমাদের স্বাভাবিক জনজীবনেও করোনা গায়েব হয়ে গেছে এই ভরা ফাগুনে।
উলটে মার্কিনীদের ফাঁদে পা দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ন্যাটো এখন চুড়ান্ত সঙ্কটের সম্মুখীন। একে ইউরোপের সর্বজনগ্রাহ্য কোনো নেতা নেই, তার উপরে পেট্রোলিয়াম সঙ্কট- রাশিয়াকে প্যাঁচে ফেলতে গিয়ে ইউরোপকে অন্ধকারে ঢোকাবার পাকা প্ল্যানে ঘিরে ফেলেছে মার্কিনীরা।
রাশিয়া অতীত যুদ্ধ কৌশলই হলো- ফুঁ দিয়ে ঠান্ডা করে চিবিয়ে খাওয়া। হিটলারও এই নীতির কাছে তলিয়ে গিয়েছিল, তবু সে অন্তত সম্মুখ সমরে গিয়েছিল। বর্তমান ক্ষয়িষ্ণু মার্কিনী শক্তি বা নেতৃত্ব, ও দিশাহীন ছন্নছাড়া ইউরোপীয় দেশগুলো তো ‘মুখে মারিতং জগত’ এর মাঝেই সীমাবদ্ধ।
চর্মচক্ষুতে আমরা দেখছি লড়াইটা রাশিয়া ও ইউক্রেনের মাঝে হচ্ছে- আসলে লড়াইটা আমেরিকার প্রতিপত্তির জমি রক্ষার লড়াই। আসলে লড়াইটা ন্যাটোর প্রাসঙ্গিকতা টিকিয়ে রাখার লড়াই। আসলে লড়াইটা- বিশ্বের দাদাগিরিতে, বিশ্ব অর্থনীতিতে মার্কিন প্রতিপত্তি টিকিয়ে রাখা অন্তিম লড়াই।
প্রদীপ নেভার আগে দপ করে শেষ বারের মত জ্বলে উঠে। ইউক্রেন তো ‘বোরে’ মাত্র, মরার জন্যই যাদের জন্ম। আমেরিকা ন্যাটোকে জিইয়ে রেখে ইউরোপের মাথায় বেল ভেঙে দীর্ঘদিন খাওয়ার সিস্টেম চালিয়ে যেতে পারবে কিনা এ যুদ্ধ তার জবাব দেবে।
সবচেয়ে হাস্যকর হলো, আজ মার্কিন বিদেশ সচিব এ্যন্টনি ব্লিঙ্কেন বলেছে, “ফলাফল যা ই হোক, তাদের কাছে ইউক্রেনই বিজয়ী”। ঘোড়াতেও হাসবে এসব কথায়। আজকের ফেসবুক লাইভের যুগে এই সব চড়া মেলোড্রামা যাত্রাতেও চলেনা সেটা ভুলে গেছে মার্কিনীরা। ২০১১ সালে ইরাক যুদ্ধের ৩ মাসের মধ্যেই বিজয়ী হওয়ার ঘোষণা দিয়েও, ১০ বছর পর লেজে গোবরে হয়ে পালাতে পথ পায়নি যুক্তরাষ্ট্র।
আমরা এশিয়ানরা, বরাবর পশ্চিমাদের চোখে বাজার হসাবে ছিলাম। আমাদের উপরে এরা সারাবছর যুদ্ধ ভীতি বজায় রেখে অস্ত্র ব্যবসাইয় বিপুল মুনাফা কামিয়েছে। এখন এশিয়া যুদ্ধে যুদ্ধে মোটামুটিভাবে সম্পৃক্ততা অর্জন করেছে।
তবে যে যা খুশি করুক, ইজরায়েল কিন্তু ইউক্রেনীয় ইহুদিদের পুনর্বাসন দেওয়ার জন্য বিমান পাঠিয়ে, দখলকৃত ফিলিস্তিন ভূমিতে ঘর বানিয়ে দিচ্ছে। নিজেদের সংখ্যা বাড়ানোর সামান্যতম সুযোগ ছাড়তে তারা রাজি নয় ইহুদিরা। আর আপনি ভাবছেন- RSS বা জামাতিরাই একমাত্র ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে, এরাই সাম্প্রদায়িক দল। ইজরায়েল বা ইহুদিদের চেয়ে বড় সাম্প্রদায়িক আর কেউ নেই তার প্রমান আলাদা করে দেওয়ার দরকার নেই এই প্রেক্ষাপটে।
গোটা মধ্যপ্রাচ্যে দুটো দশক জুড়ে পশ্চিমারা হত্যাযজ্ঞ চালালেও পোপের মুখের ছিপি কখনও খোলেনি ভুলক্রমে। অথচ একটা খ্রীষ্টান দেশ আক্রান্ত হতেই রোজ ‘মুখ-পায়ু’ সহ শরীরের সমস্ত ছিদ্রপথ দিয়ে পোপের গোঙানী আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। এমনকি পশ্চিমা সাংবাদিকদের অভিবাসন নীতির প্রশ্নে লাইভ টিভিতে- সোনালী চুল, নীল চোখের সপক্ষে যেভাবে বর্ণবাদী মন্তব্য শোনা গেছে ও যাচ্ছে, তাতে তাদের তথাকথিত অসাম্প্রদায়িক ও আধুনিকতার মুখোশ খসে পরছে।
একটা যুদ্ধ অনেকের মুখোশ খুলে দিয়েছে। একটা যুদ্ধ ভারত-পাকিস্তান-চীনের মত নিজেদের মধ্যে খেয়োখেয়ি করা তিন পরমানু শক্তিধর রাষ্ট্রকে একযোগে মার্কিনীদের বিপক্ষে থাকার শক্তি ও বুদ্ধিমত্তা দেখাতে পেরেছে। ওদিকে তুরস্ক মার্কিনীদের বিরুদ্ধে চলে গেছে ন্যাটোতে থেকেও।
কিন্তু সারাবছর অবরোধ দিয়ে রাখা মাদুরোর ভেনেজুয়েলা কোন মন্ত্রে মার্কিনী ফাঁদে পা দিলো, সেই বিষয়টা বেশ ধোঁয়াসার। অবশ্যই এর জন্য চড়া মুল্য দিতেই হবে যদি তারা মার্কিনীদের সাথে সাথ দেয়। সাপের সাথে ঘর করা গেলেও মার্কিনীদের সাথে যায়না। কারন মার্কিনীরা যাদের বন্ধু, তার শত্রুর দরকার নেই- জেলেনস্কি হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে এটা।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যে তেল অর্থনীতি দিয়ে ডলারকে বিশ্বমুদ্রায় নিয়ে গিয়ে বৈশ্বিক সম্পদ লুন্ঠন করেছে দশকের পর দশক। সেই তেল সঙ্কটই আমেরিকার নেতৃত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে। আসলে আমেরিকা 'অবরোধ-অবরোধ' খেলতে গিয়ে নিজেরাই একটা চক্রব্যুহে আঁটকা পরে গেছে। যেখানে বাঁচতে গেলে দম্ভ ও ভয় টিকিয়ে রাখতে হবে। যেখানে কোনো বন্ধু নেই, স্বার্থই একমাত্র সত্য।
এই যুদ্ধ কতদিন চলবে জানা নেই, তবে নতুন এক বিশ্বব্যবস্থার দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এই যুদ্ধপরিস্থিতি। একটা নতুন নেতৃত্বের হাতে অর্পিত হবে বিশ্বের অর্থনৈতিক ও সামরিক রাশ। সে আমেরিকার নেতৃত্বে পশ্চিমা জোট হোক কিম্বা রাশিয়া কিম্বা তৃতীয় কেউ। চলমান বিশ্বব্যবস্থার এখানেই মোটামুটি ইতি ঘটতে চলেছে যা গত সাত-আট দশক থেকে চলে আসছে।
কালচক্র এখন অস্তাচলের পথে, সে কোনো একটাকে সাথে নিয়েই ডুববে। কে সেই অমিত ক্ষমতাধর শক্তি? রাশিয়া? ন্যাটো? নাকি যুদ্ধবাজ আমেরিকা?

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...