কোনো এক অজানা কারনে হঠাৎ করে ভাবনাস্থল গর্ভবতী হওয়ার কারনে অক্ষরের রূপে প্রসবিত কিছু প্রলাপের সংকলন এই ঠেক। গুনী লেখকের সমৃদ্ধশালী লেখনি পড়তে পড়তে, অক্ষমের প্রয়াসে কম্পিউটারের কিবোর্ডে হাত চলে যায়। ফল স্বরূপ, ঘটে চলা রাজনীতি, সমকাল, মানবিক বিকার, সময়চর্চা, ছ্যাঁচোর এর মত রিকেটগ্রস্থ লেখনীর জন্ম হয়। এরই রেশ ধরে সময়চর্চা, রবিবাসরীয়, সমকাল সহ রম্য, রচনা, গল্প ইত্যাদি ভুলভাল গুলোকে সংরক্ষিত করা হয়েছে এই টোলে। এটা সমমনষ্ক মানুষদের ভাব বিনিময়ের স্থান। উন্মাদের টোলে সকলকে স্বাগতম জানাই।
বৃহস্পতিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৬
লেবুজল
রবিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৬
নোটবন্দিঃ সমবায় সমিতি ও NBFC
সকালে বাজারে বাবার ছোটবেলার বন্ধু গড়াই কাকার সাথে দেখা। উনিও বাজার করতেই
এসেছেন। পেশাগত ভাবে উনি কোন এক গ্রামীন সমবায় ব্যাঙ্কের ছোট বা মাঝারি মাপের
কর্তা। হালচাল শুধাতে সামান্য কথোপকথনে যেটা বুঝলাম, বেচারা বেশ মনমরা। সেটা কথোপকথনটাই তুলে ধরলাম-
- আর বাবারে, রিটায়ার্ডের
আগেই বোধহয় চাকরিটা খোয়াবো।
- কেনগো, সমস্যাটা কি! তোমাদের কি আর
খুচরোর সমস্যা! তোমাদের হাতেই তো সব...
- আমাদের ব্যাঙ্কগুলোর অর্থনৈতিক স্বাস্থ্য এমনিতেই লজঝড়ে বাপু। লাগাতার ঋণখেলাপির জেরে পুঁজিতে টান। সরকার ঋণ মকুব করার
কিছু মানুষ দায়মুক্ত হয়েছে ঠিকিই, তাতে আমাদের
পুঁজির ঘাটতি কিন্তু মেটেনি। ব্যাঙ্কিং এর পাশাপাশি সার, পাট, বীজ, কীটনাশক বেচেও টিমিটিম করে চলছিল। মাসান্তে মাইনের মুখ
দেখছিলাম।
- হ্যাঁ, তো আজ আবার কি হল!! এখন তো পয়সাই
পয়সা চারিদিকে।
- সমস্যাটাও তো ওখানেই।
- বুঝলামনা...
- আরে আমাদের তো সবই প্রায় সেভিংস একাউন্ট, আর সেগুলো গরীর প্রান্তিক মানুষ, মজুর, চাষী, স্বয়ম্ভর গোষ্ঠী বা খুচরো ব্যাবসায়ীদের। সংখ্যার বিচারে
এদের ৭৫%ই ইনেকটিভ, বছরে একআধ বার
লেনদেন হয়। বড়লোক বা একটু সম্পন্ন ব্যাবসায়িদের কাছে আমরা ব্রাত্য, তাদের জন্য রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাঙ্ক আছে। তার উপরে বেসরকারি
ব্যাঙ্কগুলো আজকাল ঘরের দুয়ারে গিয়ে হরেক কিসিমের পরিসেবা দেয়। তাছারা ইন্টারনেট
ব্যাঙ্কিং, RTGS/NEFT, সহ নানান আধুনিক
সুবিধা আমাদের এখানে নেই।
আমাদের এখন সারাদিন পুরানো টাকা জমা আর নতুন নোট দিতেই কেটে যাচ্ছে। শেষ
সাতদিন ধরে নতুন লোনের যাবতীয় কাজ বন্ধ। যাদের কাছে অবৈধ(কালাধন) টাকা রয়েছে, তারা বিনা ইন্টারেষ্টে একদম কাছের মানুষদের বা তাদের
গ্যারেন্টার রেখে, জমির কাগজ বন্ধক
রেখে সেই টাকা ঋণ দিয়ে দিচ্ছে। পরের ফসল উঠলে তিন বা ছ’মাসে শুধু আসলটুকু ফিরৎ দিলেই কেল্লাফতে। তাহলে যারা
আমাদের সমবায় থেকে লোন নেয়, তারাও এমন বিনা ইন্টারেষ্টের টাকা খুঁজছে। ঋন দাতা ও গ্রহিতা উভয়ের মুনাফা।
বন্ধন ব্যাঙ্কের মত প্রতিষ্ঠানও, লোন পরিসেবা
বিজ্ঞাপন দিয়ে বন্ধ রেখেছে যেখানে, সেখানে আমরা তো চুনোপুঁটি, তাই আমদানির ঘরে
মাছি তাড়াচ্ছি।
রোজ যে এই বিপুল পরিমানে টাকা জমা পড়ছে, তাতেই ভয় লাগছে। এখন আর ইনেকটিভ একাউন্ট শব্দটি নেই বললেই চলে। সেভিংস
একাউন্টে টাকা জমা পরার সময় থেকেই তো ৫-৭% বার্ষিক হারে সুদ গুনতে হবে। একেকজন জমা
করছেন চল্লিশ-পঞ্চাশ টাকা, দিচ্ছি একআধ
হাজার টাকা। বৈধ কারেন্সির যোগান নেই। আগে বড় বড় ব্যাঙ্ক, তার পর ঝরতি-পরতি বাঁচলে আমাদের ভাগে।
আমরা সেই টাকা আমাদের রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাঙ্কের একাউন্টে চালান করছি, কিন্তু সেটা তো কারেন্ট একাউন্ট। আমাদের জমা টাকার কোন
সুদ নেই। আমাদের ব্যাঙ্কের সব ব্রাঞ্চের চিত্রই সমান। রোজ কাড়ি কাড়ি টাকা জমা
পরছে। এতো সুদ কোত্থেকে দেওয়া যাবে? লোন দেবার কোন খবর নেই, ৫০ দিন পরেও
পরিস্থিতি নতুন লোন স্যাংসান করার
মত স্বাভাবিক হবে কিনা কেও জানেনা।
ঋণখেলাপি জনিত কারনে সকল বড় বড় ব্যাঙ্কগুলির হাঁড়ির হাল তলানিতে ঠেকেছে।
নোট বাতিলের হিড়িকে বড় বড় ব্যাঙ্কগুলো অক্সিজেন পেয়ে গেল। তাদের সেই অতিরিক্ত টাকা
খাটাবার নানা পন্থা, আমাদের মত সীমত
নয়। আমরা সুদ দিতে অসমর্থ হলে পাবলিক
ঝামেলা হবে, ব্যাঙ্ক দেওলিয়া হোক বা না হোক
গেটে তালা ঝুলবে। NVFC গুলর হালও তথৈবচ, তাদের দুয়ারেও
তালা। আমাদের চাকরি বাঁচবে তাহলে? আমাদের কাষ্টমারদের টাকা সুরক্ষিত, সেগুলো রাষ্ট্রায়াত্ব ব্যাঙ্কেই আছে ভায়া আমাদের সমবায়।
আমরা না থাকলেও সরকার যাদের টাকা তাদের ঠিকিই দিয়ে দেবে। আমাদের কি হবে!
উনি সবটা বলে গেলেন একনিঃশ্বাসে। সবটা ঠিক বুঝলামনা, আমি ব্যাঙ্কিং অর্থনীতির তেমন কিছুই বুঝিনা।
কেও কি এই বিষয়ে কোন আলোকপাত করতে সক্ষম? বিষয়টা কি বাস্তবিকিই সমস্যার? না কি উনি অমুলক ভয় পাচ্ছেন এই হুজুগে?
বুধবার, ১২ অক্টোবর, ২০১৬
নোটবন্দি- আসন্ন ভয়াবহতা
একটা সিদ্ধান্ত যখন সরকার নিয়েছে, নিশ্চই সেটা দেশের ভালর স্বার্থেই তাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু সাধারন মানুষ তো সাধারন মানুষই, তারা তো আর সেনা নয়, যে যুদ্ধকালীন সকল পরিস্থিতিতে সকলেই মানিয়ে নেবে বা নিতে পারবে।
ইমপ্লিমেন্ট পদ্ধতি নিয়ে সকলকেই চরম সমস্যার স্মমুখীন করে দিয়েছে।
ফেসবুক টুইটারে যারা অন্ধভাবে মাতামাতি করছেন, কালাধনের উদ্ধারের আনন্দে দিশাহারা হচ্ছেন যারা, তাদের মধ্যে
অধিকাংসেই দেখলাম চাকুরিজীবি বা এখনও পেশাপ্রবেশ ঘটেনি। সব বৈপ্লবিক ভাষনে সমৃদ্ধ
প্রবন্ধ। কজন ব্যাবসাদার এ বিষয়ে কোন পোষ্ট বা মন্তব্য করেছেন? অতি অতি নগন্য।
কিছুজনের ধারনা, ব্যাবসাদার
মানেই বাটপার বা চোর সমতুল্য। অনেকেই আবার মনে করেন ব্যাবসাদার? ওরা আবার কি বলবে? যেন এরা একটা সমাজ বহির্ভুত জীব। আরে বাবা আপনিও যে চাকুরিটা করেন সেটা কোন ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানেই। সেটা
সরকারি হোক বা বেসরকারি, লাভজনক বা
সেবামূলক। তাই ব্যাবসাদারেরা বোকা এমন ধারনাটা বোধহয় সবচেয়ে বড় বোকামো।
যাদের যাবতীয় হিসাব মাসিক ৩০-৫০ হাজার টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ, তারা এই লক্ষ কোটি টাকার কালাধন উদ্ধারের স্বপ্নে বিভোর।
কোটিতে কটা শুন্য শুধালেই যাদের পেট ফাঁপে তারা আবার আগুনে বুলিতে দু’কাঠি এগিয়ে। আমাদের পরিবারের খরচাও এমনটাই যতটা চাকুরীজিবীদের, সেটা আমার স্টার জলসা প্রেমী 'মা' সামলান, তাই এই চাকুরীজিবী বা এখনও বেকার বন্ধুদের মতই তিনিও খুব
উত্তেজিত এবং আহ্লাদিত।
ঠিক কোথা থেকে অতিরিক্ত রেভিনিউ আসবে, কতটা তার লক্ষ্যমাত্রা কতটা কিম্বা মূলত কাদের থেকে এই কালাধন কোথায় যাবে এ
বিষয়ে বেশি জানতে চাইলেই, মুখ আর
অন্তর্বাসের মধ্যে প্রভেদ ঘুচছে।
অনেকেই সন্ত্রাসবাদের বিষয় তুলছেন, যে জঙ্গীরা খুব জব্দ হলো। আরে বাবা
তালীবান, বোকোহারাম, বা চেচিনিও বা আধুনা সভ্যতার কলঙ্ক ISIS জঙ্গিগোষ্ঠীও তো বিশ্ব অর্থনীতির লেনদেনের চালিকাশক্তি
ডলারে পুষ্ট। সুতরাং এই বুদ্ধিতে তো ডলার নিষিদ্ধ করতে হয়। নাকি ধরে নিতে হবে
পশ্চিমি দাদাদের এখনও সেই বোধ আসেনি। ব্যান হয়েছে ৫০০-১০০০ টাকার নোট, কিন্তু আকাল লেগেছে যেগুলো চালু আছে- সেই খুচরো নোটে। সঠিক কোনটা সেটা সময়ই বলবে, তবে জঙ্গী হামলা মোটেই কমবেনা সেটা লিখে রাখলাম।
এবারে আমার কতগুলো বাস্তব সমস্যা বলি। আমাদের ব্যাবসায় ৭০% চাষীর প্রত্যক্ষ যোগাযোগ। তারা ধান
বেচতে এসে নাজেহাল। নাগদ দেন বাবু, একাউন্টে ঢোকালে বাইরের মুনিশ, গাড়িভাড়া মেটাবো কী করে? সপ্তাহে কুড়ি হাজার তাও দুটো দিন রোজমজুরী কামাই করে। তাদের কী করে বোঝায় নগদ আমরাই বা পাবো কোথায়! আমাদের এই দৈনন্দিন বিপুল পেমেন্ট কিভাবে
একশ আর পঞ্চাশ টাকায় করব! কাঁচা মালের আমদানি প্রায় বন্ধ, পেমেন্টই করতে পারছিনা। বিক্রিও বন্ধ, খদ্দেরের কাছেও
সবচেয়ে কম ১০ টন চাল কেনার জন্য কমপক্ষে দুলাখ টাকা নগদ ১০০ টাকার নোট নেই বা নতুন
কারেন্সিও নেই। আলুর জন্যও তাই, বাকি অন্যান্য
ব্যাবসার হালও সেম। বিষেষ করে প্রোডাকশন ব্যাবসার ক্ষেত্রে।
এক আধদিনের মধ্যে চাকা বন্ধ হবে কাচামালের অপ্রতুলতায়। ভিন রাজ্যের
খদ্দেররা জাষ্ট হাওয়া হয়ে গেছেন। দু এক সপ্তাহে নিশ্চই পরিস্থিতি শোধরাবে, কিন্তু কোম্পানিগুলো এই বিপুল লোকসানে ভার বইবে কিভাবে? নুন্যতম ইলেকট্রিক বিল, পার্মানেন্ট লেবার খরচা, মেসের খাই খরচা, রাহা খরচা, মেন্টেনেন্স... এগুলো কি থেমে থাকবে? ব্যাঙ্কের লোনের টাকা তো বাচ্চা দিচ্ছে সুদের মাধ্যমে। এই নোটবন্দি আমাদের মত গ্রামীয় কৃষিভিত্তিক ফ্যাক্টারিগুলোর মরে যাওয়ার
সার্টিফিকেট লিখে দিলো, আগামীতে সার্ভাইব করা ভীষণ মুশকিল।
নগদ যোগানের অভাবে বাজারে চাষীর উৎপাদিত পন্যের খদ্দের নাই বললেই চলে। এক কুইন্টাল ধানের দাম প্রায় ১৫০০ টাকা, একজন ক্ষুদ্র চাষীর ২০ কুইন্টাল ধানের ৩০০০০ টাকা কিভাবে
মেটাবো?
ব্যাঙ্কে আড়াই লাখের বেশি জমা করতে যাওয়ার
থেকে হেঁটে কোলকাতা যাওয়া সহজ মনে হচ্ছে। অথচ যাদের রোজ ১০০ টন প্রোডাকশন, তাদের দৈনিক ট্রানজাংসান ৪০ লাখ বা তারও বেশি। কিন্তু কে
ভেবেছে এদের কথা। ২০ হাজারে খাবে কী আর মাখবে কী?
কাল হাইকোর্টে গেছিলাম। জাজদের ঢোকার গেটের বাঁহাতে একজন বয়স্ক ফুলগাছওয়ালা
বিলাপ করছিল, আমার সব গেল। সকলেই বর্তমান
দূর্মুল্য ১০০ টাকা বা খুচরো বাঁচাচ্ছেন। তাই কটাদিন ওই 'শখের' ফুলগাছ কিনে কেও
'ফালতু খরচা' করতে নারাজ। তাহলে ওই গাছওয়ালার চলবে কি করে! সবে কোর্ট খুলেছে, সে একটু বেশি করেই ডালিয়া চন্দ্রমল্লিকা সহ সিজিনাল ফুলের চারা তুলেছিল।
এতো আর চাল ডাল নয়, যে ১০-২০ দিন
সংরক্ষণ করা সম্ভব। বিক্রিবাটা না হলে এগুলো শুকিয়ে মরে যাবে। সুতরাং পুঁজি ফাঁক।
আবার কেরালা যেতে হবে রাজমিস্ত্রির
জোগাড়ে খাটতে। সে বুঝে পাচ্ছেনা ঠিক কাকে দোষ দেবে। এমন কত শত ব্যাবসাই আছে, এই হঠাৎ করে এই ‘জরুরী অবস্থা’
পুঁজি ফাঁক করে দিচ্ছে।
কে রাখে সেই খবর!
সবাই দুটো দিনের প্রতিক্ষায়, যখন সব আবার আগের মত হবে। কিন্তু ততদিনে অভাবি বিক্রি তো শুরু হয়ে গেল।
সুদি কারবারিদের গুদামে কাঁসা পিতলের হাঁড়িকুঁড়ি, রুপোর অলঙ্কার জমতে শুরু করেছে সবে। সেই সকল কারবারীদের আটকাতে সরকার কোন
ব্যাবস্থা নিয়েছে কি? এই সব মিনি
মাইক্রো রক্তচোষা বাদুরের সন্ধান আয়কর দপ্তরের সীমানার বাইরে। সব লেনদেনই তো
কাঁচাতে হয়। আর এদের সাথে স্থানীয় প্রশাসনের একটা অংশ বখরা খায়। এদের আচ্ছেদিন
সন্দেহ নাই। দাদনের ব্যাবসা নতুন উদ্যোমে পাড়াগায়ে গেঁড়ে বসছে। এগুলো মাটির সাথে
যোগাযোগশুন্য ফেসবুকের চাকুরীজীবি বন্ধুদের অজানা।
এবার আমাদের কারখানার লেবার পেমেন্ট। গুটি কয়েকজন বাদ দিলে, প্রায় দু লক্ষ টাকা কমবেশি সাপ্তাহিক পেমেন্ট করতে হয়
তাদের। সবটাই নগদে। এ সপ্তাহে সব ধারে চলছে। সবাই তো দিন আনে দিন খাই, সামনের সপ্তাহে কোত্থেকে টাকা মেটাবো? তারাই বা খাবে কি? কাচামালের অভাবে ফ্যাক্টরি বন্ধ থাকলে তো ডেলিলেবাররা কর্মহীন আপাতত।
চাকুরীজিবীদের নাহয় ব্যাঙ্কে আছে, আজ না হয় কাল ব্যাঙ্ক থেকে চার হাজার বেরোবে। তা দিয়ে কষ্টেসৃষ্টে চলে
যাবে। এই লেবারগুলোর চলবে কিভাবে, চাষীগুলোর কি
হবে?
আমি বা আমাদের মত ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ীরা
কোত্থেকে মেটাবেন তাদের ন্যায্য মজুরী? আমি অনলাইন ট্রান্সফার বুঝি, পেটিএম বুঝি, কিন্তু তারা কি
পেটিএম জানে? তাছারা নতুন মাপের 500/2000 নোট বতর্মান. ATM carry করতে পারবে না। সুতরাং আগামী কিছুদিন সমস্যা বারবে বই কমবেনা। ।
সবাই নিজের আয়নাতে নিজেকে দেখে ফেসুবুক টুইটারে ভাষন দিচ্ছি। আমার চেনার
দৌড়ে থাকা এই লেবার বা চাষী যারা এই ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডের দুনিয়াতে নেই, তারা কি মিথ্যা?
বিগত তিন দিন থেকে একটা ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি আজও বানাতে পারিনি। ক্লান্ত ব্যাঙ্ক কর্মচারীগুলো কে দেখলেও মায়াই
হচ্ছে, সককে ভাল রাখার দায় নিয়ে প্রায়
নির্ঘুম কাজের নির্ঘন্ট তাদের।
ছোট ব্যাবসাদার, অসংগঠিত শ্রমিক, আর ক্ষুদ্র প্রান্তিক কৃষক। এটাই তো আসল ভারতবর্ষ। এরাই
ক্রেতা এরাই উৎপাদক। আর এরাই অসহায়, ভারতবর্ষ অসহায়। সোফায় বসে, ক্যারাম খেলার ফাঁকে আড্ডা মারতে মারতে একটা অম্লমধুর মন্তব্য বা প্রবন্ধ
পড়তে ভাল,
বাহবা পেতে ভাল। বাস্তবটা লড়ায়ের জাইগা।
একজন লোক কখন চুরি করে জানেন? যখন সে লজ্জায় ডুবে থাকে। হজম হল না তো?
একজন মানুষ যখন অসহায় হয়ে যায়, প্রতিটা বার পিছিয়ে পরে অথচ হাত পাততে পারেনা, তখন অগত্যা অন্ধকারে চুপিসারে চুরি করতে সাহস পায়। এরপর লোভ আর ঘোমটা আঁটা সুশীল সমাজ তাকে অপরাধের
বৃহত্তর বিশ্বে প্রবেশ করায়। কিছু মানুষ আজ চরম অসহায়তার ঠিক কাঠগড়াতে দাঁড়িয়ে। তারা
নিজেও জানেনা সামনের ভবিষ্যৎ টা ঠিক কি।
সবে কলির সন্ধ্যে। সমস্যার সমাধানে দ্রুত উচ্চস্তরীয় সিদ্ধান্ত না নিলে বহু
কিছুই মুখ থুবরে পড়বে তাতে সন্দেহ নাই। তাতে আমার এই বিপ্লবী বন্ধুদের ঘর সেই আঁচ
থেকে যে রক্ষা পাবেনা সেটা বলাই বাহুল্য।
সোমবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৬
আরতী
শনিবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৬
স্বার্থান্ধ
আদপে সবই ছলনা
মহাত্যাগীও স্বার্থান্ধ-প্রান
পুরুষ হোক বা ললনা।
চেতনা দুয়ার রুদ্ধ;
হায় রে মানব, আত্মপ্রশ্নে
সবাই মগ্নবুদ্ধ।
বুধবার, ৫ অক্টোবর, ২০১৬
মহাজন
মহা মানে মহৎ, আর জন মানে মানুষ। মহৎ মানুষ। কিন্তু ব্যাবহারিক প্রয়োগে এর অর্থ সম্পূর্ন বদলে যায়। বাস্তবজীবনের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই, এই মহাজনেরা অত্যন্ত ক্ষুদ্র মানসিকতা যুক্ত নিন্মরুচীর মানুষ হন। ঠিক তেমনই, আমার কাছে আমার এই জীবনটার মর্মার্থ বা আমার চেতনার বিকাশের সাথে, আমার ব্যাবহারিক তথা আক্ষরিক জীবন , যেটা যাপন করছি সেটার সাথে কোন মিলই পায়না। অনেকগুলো স্বত্তার কলহ দিবারাত্র, আর ততগুলো অদৃশ্য দেওয়াল। বিদ্রোহ আর অন্তর্ঘাতে জর্জরিত প্রান। আমার সঙ্গী সাথীরা অবশ্য আমার এই টানাপড়েনের দ্বন্দ্ব সম্বন্ধে প্রায় উদাসীন বা হয়ত জানেনইনা। আসলে “ভালআছি” দেখানোটা একটা সু- অভ্যাস। দীর্ঘ অনুশীলন অধ্যাবসায় দিয়ে এটুকুই রপ্ত করতে পেরেছি।
মঙ্গলবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
সপ্তপদী কৈতব
তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না
⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...
-
(১) জাতীয় ডিম্ভাত দিবস ১৯৯৩ সালের ২১শে জুলাই এর জমায়েত কী উদ্দেশ্যে হয়েছিলো জানেন? তোলামূলের রাজ্যে না জানাটাই আপনার অধিকার। ভোটার তাল...
-
ছোটবেলায় বাবা বলতেন "শাগ খেলে বাঘের বল"। যদিও তিনি ওটাকে শাকই বলতেন আমরা কচি কানে বাঘের সাথে মিলিয়ে শাগ শুনতাম। এহেন পরিস্থ...



