শুক্রবার, ৪ জুন, ২০২১

ভ্যাক্সিন ব্যবসাঃ একটা বাজে অঙ্ক


গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসানোতেই কি একমাত্র সমাধান?

টিভি খুলুন, সারাক্ষণ মারাত্মক ভয়ের পরিবেশ- এই বোধহয় আপনার পালা। সোশ্যাল মিডিয়াতে ‘ভলেন্টিয়ার’, এর সাথে রয়েছে মোদী-মমতার ইমেজ বাঁচানো হরেক পেইড বিজ্ঞাপন, যেগুলো ঠিক খবরের মতোন করেই আপনার কাছে পরিবেশন করা হচ্ছে। আপনি এইসবের মধ্যে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পরেছেন।
ধর্ম দিয়ে মানুষকে সফট টার্গেট বানানো যায় অনায়াসে, ফলত ধর্মও যে কখনও কখনও সফট টার্গেট হবে তা বলাই বাহুল্য। যার জন্য কখনও নিজামুদ্দিন জামাত কিম্বা এবারের কুম্ভ- দেগে দেওয়ার একটা সহজ পন্থায় মানুষকে কটা দিন এই সব ফালতু চর্চার মধ্যে রেখে সরকার দিব্যি গা বাঁচিয়ে নিল।
আচ্ছা বলুন তো, এতে আপনার কী লাভ হয়েছে?
মিডিয়া জুড়ে সারাক্ষণ চিতা জ্বলল, এলাহাবাদ গঙ্গার তীরে সারি সারি শব- আপনার ভয় পাওয়াটাই স্বাভাবিক। একবারও ভেবেছেন, মিডিয়ার যেখানে আপনাকে সচেতন করার কথা ছিল, সেটা না করে আপনাকে সন্ত্রস্ত করে রাখার মাঝে ওদের লাভ কী? ওরা শুধু চিতাল কেন দেখানো হল, কবর কী দেখান যেতনা! এক্ষেত্রে শুধুই হিন্দু কেন?
কেউ জানে না করোনা কীভাবে ছড়াচ্ছে, হ্যাঁ আজও কেউ জানে না। যে যা বলছে মনগড়া বলছে, সে মাস্ক হোক, দূরত্ব বজায় হোক বা অন্যান্য সাবধানতা অবলম্বন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) যারা এই প্যানডেমিক ও ইত্যাদি বিষয়ে মূল মোড়লের ভূমিকাতে, তারাও নিশ্চিতভাবে কিছু লিখিত দিতে পারেনি, উল্টে প্রায় প্রতিটি কথা একে অন্যের সাথে পরস্পরবিরোধী। এরা ক্ষুধিত পাষাণের মেহের আলী সেজে বসে আছে। লকডাউনের জন্য সর্বোচ্চ সাওয়াল করে বিশ্বের অর্থনীতিকে কোমায় পাঠিয়েছিল, এ বছরে বলছে ওটা ভুল ছিল।
গত বছর কেন্দ্র সরকার লকডাউন করেছিল, এ বছর রাজ্য সরকার করেছে, মানুষের ভোগান্তি একই আছে। প্রতীক্ষায় আছি, এরাও কবে বলবে- “তফাত যাও, তফাত যাও! সব ঝুট হ্যায়, সব ঝুট হ্যায়”।
আমরা সাধারণ জনগণ, পাকা আতার মতো বুদ্ধিমান; ঠিক ভুলের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব করি তার সাধ্য কী! তার উপরে- সরকার যাহা বলে তাহাই সত্য, তাহার ব্যত্যয় ভাবি সাধ্য নেই, পেয়াদা পাঠিয়ে কবে দেয় শ্রীঘরে ভরে। তার পরেও কিছু অসভ্য, প্রশ্ন তোলে বৈকি- যেমন আমি। দেশে অক্সিজেনের অভাব, এই নিয়েই সকলে মেতে রয়েছে। এর ফাঁকে বহু প্রশ্ন বর্ষার লবণের মতো গলে- সময়ের ড্রেনে মিশে হারিয়ে যাচ্ছে।
ভারতে এই মুহূর্তে উপলব্ধ দুটি ভ্যাক্সিনই তার তৃতীয় দফার ‘ট্রায়ালে’ রয়েছে। সরকার পরিষ্কার বলে দিয়েছে, ভ্যাকসিন নিয়ে সরকারের কোনো দায় নেই, নিলে নিজ দায়িত্বে নিন। পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী যা বলার বলে দায় সেরে রেখেছে।
দুটো ভ্যাক্সিন কোম্পানি- কোভিশিল্ড ও কোভ্যাক্সিন, তাদের ওয়েবসাইটেই গোটা গোটা অক্ষরে লিখে দিয়েছে- কেবলমাত্র ‘ইমারজেন্সি রোগীর ক্ষেত্রে’ ব্যবহারের জন্য। কিন্তু সুস্থ মানুষেরা পিঁপড়ের ঝাঁকের মতো ভ্যাক্সিনের জন্য হিতাহিতজ্ঞানশূণ্য হয়ে দৌড়াচ্ছে। প্রথম ডোজ নেওয়ার পরই শুধু নয়, দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পরেও তাদের মাঝে মৃত্যুহার ব্যাপক। গ্রামাঞ্চলে সেভাবে ভ্যাক্সিনেশন হয়নি, যা হয়েছে শহরাঞ্চলের মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তদের মাঝে, অথচ আশ্চর্যজনক ভাবে সেখানেই মৃত্যুহার বেশি। স্পষ্ট করে বললে দেখা যাচ্ছে- যারা মারা যাচ্ছে, তাদের অধিকাংশই ভ্যাক্সিন নেওয়া সুস্থ মানুষের দল।
গত পয়লা জুন তারিখ হিন্দি সন্মার্গ পত্রিকাতে একটা প্রতিবেদন বেড়িয়েছে, একটি RTI এর তথ্যে সরকার যা জবাব দিয়েছে- তাতে মৃতেরা আবার প্রশ্ন করতে পারে, “আমাদের কেন শুধুশুধু গিনিপিগ বানানো হলো!” সত্যি বলতে আপনাকে গিনিপিগ কেউ বানায়নি, না সরকার কোনো GO বেড় করেছে ‘ভ্যাক্সিন বাধ্যতামূলক’ মর্মে না ভ্যাক্সিন কোম্পনি নিজে বলেছে ভ্যাক্সিন কিনুন। আপনি মিডিয়ার নিরবিচ্ছিন্ন প্রচারেই মেতে গেছেন। অপেক্ষা করুন এরপর ‘ডিজাইনার ভ্যাক্সিন’ শপিংমলেও পাবেন।
কোনো বায়োকেমিষ্ট বলতে পারেনি, কেন করোনা জাতের অন্য ভাইরাসের ভ্যাক্সিন বাজারে নেই, তাও করোনার ভ্যাক্সিন বাজারে বিক্রি হচ্ছে। যে সরকার মূলত ভ্যাক্সিন কোম্পানির এজেন্টের ভূমিকাতে, সেই সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রকও স্বীকার করে নিয়েছে, দুটো ভ্যাক্সিনই হৃদয়ে রক্ত জমাট বাঁধাচ্ছে। আপনি চ্যালেঞ্জ করবেন, সে উপায় নেই- কারণ করোনাতে মরা রোগীর পোস্টমর্টেম হয় না কোনো এক অজানা কারনে। ভ্যাক্সিন-কোম্পানি ও সরকারের এক্কেবারে উইন-উইন সিচুয়েশন, কারণ আইন তারা আগেই ফেঁদে রেখেছে; তাছাড়াও ১৪০ কোটির গুন্তিতে আমাদের জান-মালের কোনও মূল্য আছে কি?
যাই হোক, নিজের ভাল ক্ষ্যাপাতেও বোঝে। প্রত্যেকে তার নিজের বুদ্ধি মতো সিদ্ধান্ত নিক, এই লেখায় প্রভাবিত না হয়ে। আমরা এই প্রবন্ধে একটা অন্য বিষয়ের উপরে নজর দেবো।
ভারতের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি কারা জানেন? ২০২১ সালের মার্চে প্রকাশিত ফোর্বস পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী অবশ্যই প্রথমে মুকেশ আম্বানি এবং দ্বিতীয়তে গৌতম আদানি।
এই তালিকাতে অষ্টম নম্বরে একটা নাম আছে- সাইরাস পুনাওয়ালা। শেষোক্ত দুইজন শেষ ৭ বছরে ৭ ধাপের চেয়েও বেশি উপরে উঠেছে।
একজন সামান্য ঘোড়ার ব্রিডার থেকে ভ্যাক্সিন কোম্পানির মালিক হওয়াটা তেমন আশ্চর্যের নয়, কারণ ভ্যাক্সিন তৈরির প্রক্রিয়ার সাথে ঘোড়ার সম্পর্ক অঙ্গাঙ্গী। কিন্তু সে কীভাবে এই জুনের শেষে ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ ধনী হয়ে যাতে পারে! ইয়ে, একবার আগুনও ধরে গেছিল- ব্যাস নথি নেই বলার জন্য আর কি চায়!
একটা আনলিস্টেড কোম্পানি, যার অথোরাইজড ক্যাপিটাল ৫৫ কোটি টাকা, সে ৩০০০ কোটির ঋণ পেয়ে পায় পাবলিক ব্যাঙ্ক থেকে। তার পরেও সরকার তাকে সুদমুক্ত ৩০০০ কোটি টাকার সফট লোন দেয় ২০ বছরের মেয়াদে। এর জন্য নিশ্চই প্রয়োজনীয় আইনের সংশোধন যা করার দরকার ছিল, সেটা করে নিয়েছে।
POONAWALLA REAL ESTATES AND HOTELS
Jaypee Hotels
POONAWALLA CONSTRUCTIONS LLP
এই তিন কোম্পানি ২০১৩ সালে খোলা হয়েছিল। ২০১৮ পর্যন্ত সেভাবে আহামরি কোনো কর্মকাণ্ড ছিল না জেপি হোটেলস ছাড়া। তবে এসব নামে বেশ কিছু বড় বড় ব্যাঙ্ক লোন ছিল, যেটা ২০২১ সালে এসে সকলই ঋণ মুক্ত হয়ে গেছে। এই মুহূর্তে এই কোম্পানি তিনটেই ঋণহীন ব্যক্তিগত মালিকানাধীন। কেন ও কীভাবে নিজে বুঝে নিন- এটাও বুঝে নিন, শাসক দলের নির্বাচনী তহবিলে কীভাবে হাজার হাজার কোটি টাকা উড়ে আসে!
আরেক কোম্পানি, POONAWALLA PROPERTIES PRIVATE LIMITED, এদের একজন হোলটাইম ডিরেক্টর রয়েছে যার নাম দীপক শাহ্, গুজরাটি। আমি সূত্র দিচ্ছি মাত্র, যোগ করে দেখার দায়িত্ব আপনার।
কিছু লোন, যেগুলো শোধ হয়ে গেছিল গত বছরে। প্রসঙ্গত, এরা বিল গেটসের থেকে গত বছর মোটা অনুদান পেয়েছিল।
১) 2020-06-16,
1,842,012,000
BNP Paribas
২) 2020-06-02
2,500,000,000
KOTAK MAHINDRA PRIME LIMITED
৩) 2020-06-08
2,500,000
INDUSIND BANK LTD.
৪) 2020-06-15
579,000,000
KOTAK MAHINDRA INVESTMENTS LIMITED
৫) 2020-05-29
3,279,060,000
The Hongkong and Shanghai Banking Corporation Limited
এছাড়াও-
KOTAK SECURITIES LIMITED
AMBIT CAPITAL PRIVATE LIMITED
PHILLIPCAPITAL (INDIA) PRIVATE LIMITED
ICICI SECURITIES LIMITED
BANK OF BARODA
EXPORT--IMPORT BANK OF INDIA
JULIUS BAER WEALTH ADVISORS (INDIA) PRIVATE LIMITED
Citi Bank N.A.
এই সকল ব্যাঙ্কগুলোতে এই মুহূর্তে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ বাকি ছিল, যা এই বছর শোধ হয়ে গেছে। মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্সের পদাঙ্ক অনুসরণ করে অন্যতম ঋণমুক্ত কোম্পানি হয়ে গেছে, এবারে ইংল্যাণ্ডের অভিজাত পার্ক কেনার বিড করেছে ‘সিরামের’ মালিক, হয়ত বা ছোটখাটো একটা দেশও কিনবে শিগগিরি।
একটা অবাস্তব হিসাবের গল্প শোনায়। অঙ্কটা কিছুটা এমন- গড়ে প্রতি ডোজ (সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে) ৩০০ টাকা। বছরে দুটো করে ডোজ, ৩ বছর- অর্থাৎ ৬ টা ডোজ। ১০০ কোটি ভারতীয়কেই যদি কাস্টোমার ধরা হয়- ১৮০০ টাকা x ১০০ কোটি। কত হয়? ওই ১ লাখ ৮০ হাজার কোটির মতো। নতুন ১৮ বছর বয়সী, পড়শি দেশ মিলিয়ে ওটা ওই রাউন্ড ফিগারে ২ লাখ কোটি ধরেই নিন, মানা তো কেউ করছে না। ভ্যাক্সিনের দাম হয় আমার আপনার পকেট থেকে সরাসরি যাবে, নতুবা ট্যাক্সের টাকা থেকে সরকার দিয়ে দেবে- ভ্যাক্সিন কোম্পানি টাকা উশুল করে নেবে।
মিডিয়াকে ধরুন- ২০ হাজার কোটি
শাসক দলের ফান্ডে- ৩০ হাজার কোটি
ভ্যাক্সিন ওয়ালার- ৫০ হাজার কোটি
বাকিটা মাস্টারমাইন্ড- গেটস ফাউইন্ডেশনের।
লগ্নি কিন্তু ছিল- ৭ হাজার কোটি মাত্র।
আমার কচকচানি শেষ, চলুন- টিভিটা খুলে এবার ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের গল্পটা শুনি।

মঙ্গলবার, ১ জুন, ২০২১

পক্ককেশ সিপিএমের নেতারা সব পেয়েছেন, তাতে আপনার লাভ কী!

 



ওনারা সব পেয়েছেন, আপনি কী পেয়েছেন?


১) একটা ‘নীতিনির্ধারক কমিটির’ ৭৯% সদস্য কখনও না কখনও জনপ্রতিনিধি ছিলেন

২) সেই কমিটির ৭০ শতাংশেরও কিছু বেশি জনের স্ত্রী/ঘরের লোক সরকারি চাকরি করেন বা করতেন- যা পুর্বতন সুসময়ে, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার থাকাকালীন সময়ে প্রাপ্ত

৩) অতএব, ওই সকলেরই মাস শেষে পেনশনের আর্থিক সুরক্ষার নিশ্চয়তা রয়েছে। এনারা নিজেরা কেউ সর্বহারা নন, প্রত্যেকের ভাত ডাল রুটির সংস্থান আছে। সেই অর্থে কেউ কৃষক, শ্রমিক শ্রেনীর প্রতিনিধিও নয়, বরং সুবিধাবাদী মধ্যবিত্তের প্রতিনিধি

৪) অল্প বিস্তর ব্যাঙ্ক ব্যালেন্সের সাথে হরেক রকমের বীমাপত্র রয়েছে প্রায় নব্বই ছুঁইছুঁই শতাংশ জনের

৫) ৮০ শতাংশের কিছু বেশি জন- কখনও না কখনও লালবাতি লাগানো গাড়ি চড়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা চেটেপুটে ভোগ করেছেন, চুইয়ে চুইয়ে সব রস আস্বাদন করেছেন দীর্ঘদিন ধরে

৬) তাদের মধ্যে ৯০% জনের অনেকটাই বেশি - দলীয়ভাবে উঁচু উঁচু পদে পৌঁছে গেছেন সেইকালেই, অর্থাৎ চূড়ান্ত দলীয় ক্ষমতা ভোগ করেছেন ও করছেন

৭) ৮২ শতাংশের কিছু বেশি জনই, ভাল ভাল জায়গাতে ঘরবাড়ি বানিয়ে নিয়েছিল, হাতে যখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ছিল। অর্থাৎ কেউ ভূমিহীন নন

৮) ৭২ শতাংশের কিছু বেশি জন, তাদের ছেলেপুলেকে সেই আমলে নানান সরকারি-বেসরকারি সুযোগ-সুবিধা দিয়ে ভাল ভাল স্থানে ঢুকিয়ে দিয়েছে। তাদের অধিকাংশের সন্তানেরা আজ সুরক্ষিত

৯) এখানে যারা আছেন, তাঁরা সকলেই কমপক্ষে কলেজ পাস কিম্বা উচ্চশিক্ষিত। ভূমীহীন কৃষক, ক্ষেতমজুর, খনিশ্রমিক, পরিবহণ শ্রমিক, চা বাগান শ্রমিক, নির্মান শিল্প শ্রমিক, মাঝিমাল্লা, মৎস্যজীবী, রাইসমিল শ্রমিক, কোল্ডস্টোরেজ শ্রমিক, তন্তুবায়, কুটির শিল্প, কুলি, মুটিয়া, হকার, দিনমজুর এমন অসংখ্যা ক্ষেত্র, যারা আসল শ্রেনীর প্রতিনিধিত্ব করেন- এই সমিতির ৯৭% সদস্য উপরোক্ত পরিবার থেকে আসেননি

১০) সংখ্যালঘু মুসলমানের প্রতিনিধিত্বও মাত্র ১১%, মহিলা ১৫%, আদিবাসী ৪%। অথচ প্রায় ২৭% ব্রাহ্মণ্যবাদী পদবী যুক্ত

১১) মূল কমিটিতে একজনও রেগুলার প্রাক্টিসরত আইনজীবি নেই, একজনও অর্থনীতিবিদ নেই। কোনো কমার্স বিশেষজ্ঞ নেই, কোনো চাটার্ড একাউটেন্ট নেই, না রয়েছে কোনো স্ট্যাটেস্টিসিয়ান, না কোনো তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, না কোনো কৃষিবিদ, না কেউ ম্যানেজমেন্টের ছাত্র

অর্থাৎ এনারা না জানেন আইন, না বোঝেন অর্থনীতি, না বোঝেন বানিজ্যিক হিসাব, না বোঝেন রাশিবিজ্ঞান। আর তথ্যপ্রযুক্তি থেকে এনাদের যা দুরত্ব, তার চেয়ে চাঁদ- পৃথীবির অনেক কাছে। গোটা কমিটিটাই কার্যত মধ্যমেধার অকারণ মানুষজন দিয়ে ভর্তি

১০) এই কমিটির ৭০%ই সরকারি হিসাবে অবসরের বয়স পেরিয়েছে বেশ কিছু বছর আগে

১১) এনাদের ১০০% কেউ কখনও জঙ্গি আন্দোলন করেননি সারা জীবনে, ৪৮% সারাজীবনে কোনো আন্দোলনই করেননি

আপনিই বলুন, এমন বিচক্ষণ মানুষেরা- ‘সেটেলড’ নির্ভাবনাময় অবসর জীবন ছেড়ে, কেন আন্দোলনমুখী হয়ে অযথা স্থিতিশীল জীবনে হুজ্জতি আনবেন? গুছিয়ে অবসর জীবন উদযাপন করছেন ৮৭% জন

সমস্যায় আপনি আছেন, সমস্যায় আপনার পরিবার আছে, সমস্যায় আপনার প্রতিবেশী আছে, সমস্যায় রাজ্য তথা দেশ আছে, চাকরি আপনার ছেলের দরকার, মাসিক রোজগারের সুরক্ষা আপনার দরকার, মাথায় স্থায়ী ছাদ আপনার দরকার, শিক্ষা ও চিকিৎসার মৌলিক দাবী আপনার ব্যাক্তিগত, রাজনৈতিক উচ্চাশা আপনার রয়েছে, আপনার ঘরের লোক বেকার, আপনার সন্তানের শিক্ষা নেই। আপনি আন্দোলন করুন, লড়াইয়ের ময়দানে যায়- দায় আপনার। মার খান, গুলি খান, মামলাতে জর্জরিত হোন- যা খুশি হয়ে যাক, আপনার যাবে

উপরোক্ত ওই কমিটির কীসের অভাব রয়েছে! একটা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের কোন কোন চাহিদা থাকে যা তাঁরা পাননি? একটা রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বের কোন অধরা আকাঙ্ক্ষা থাকলে পরে লড়াইয়ের উদগ্র বাসনা জন্মায়? তেনারা নতুন করে কী পাবার জন্য মিছিমিছি হল্লাচেল্লা করবেন?

এনারা একপ্রকার সর্বদিক থেকে মোক্ষ লাভ করে মহানির্বাণ প্রাপ্ত হয়েছেন, তাই পরিস্থিতি যতই জটিল, যতই উত্তাল হোক না কেন, এনাদের ব্যক্তি জীবনের প্রশান্তিবলয় ভেদ করে- আমার, আপনার সমস্যার কথা ঢোকাবার সাধ্যি নেই। ধ্যানস্থ বুদ্ধের মতোই এনারা বোধিসত্ত্বে উত্তীর্ণ মহাপুরুষে পরিণত হয়ে অপার্থিব হয়ে উঠেছেন

খেয়াল রাখতে হবে, শৃঙ্খলা যেন ভঙ্গ না হয়। কারণ প্রশান্তির ধ্যান তাতে ভঙ্গ হতে পারে


সকলকে জানাই বর্ণালিমিতি সেলাম

কিছু একটা জিন্দাবাদ


(
আস্তে আস্তে মনে মনে পড়বেন, ভগবান নিদ্রা গিয়েছেন, কুপিত হতে পারেন)


শুক্রবার, ২৮ মে, ২০২১

ফিলিস্তিন ২০২১- পর্ব- 4



পর্ব- 4

বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিচার করলে দেখা যাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রাষ্ট্রগুলির কৌশলগত মিত্রের যে জায়গা দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টাতে পূর্বতন ভারত তৈরি করতে পেরেছিল, সেই জায়গা থেকে এক প্রকার বিতাড়িত হয়ে গেছে মোদীজির সুযোগ্য নেতৃত্ব গুণে। যথারীতি সেই শূন্যস্থানগুলো তুরস্ক এবং চিন ভাগাভাগি করে দ্রুত দখল করে নিয়েছে। মোদী সরকার কাশ্মীরকে জনবিচ্ছন্ন করতেই ব্যস্ত, বাংলাকে ৩টে খণ্ডে ভাগ করতেই বেশি মনোযোগী। পড়শি হিসাবে তার একমাত্র টার্গেট পাকিস্তান বর্ডার, কারন ভোটে জিততে একেই দরকার।
সৌদির সঙ্গে মোদীর অতিরিক্ত মাখামাখি সম্পর্কের ফলে ভারত এমনিতেই ইরানকে হারিয়েছে, তাই সস্তার অশোধিত পেট্রপন্য আর পায়না আমরা, এখন সৌদি জোটের সাথেও আমাদের সম্পর্ক তলানিতে। পেট্রোলিয়াম পণ্যের দামাদামি কারণেই সৌদি যুবরাজের সাথে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের বেশ কয়েকবার মনোমালিন্য সংবাদ শিরোনামে এসেছে ২০২১ সালে।
বছর চারেক আগে, সৌদির সাথে একটা সামরিক চুক্তি স্থাপন করেছিল মোদীর বিদেশমন্ত্রক। এর পরেই মোদীর একের পর এক মাস্টারস্ট্রেকের কারনে দেশের অর্থনীতির পাতাল প্রবেশ ঘটেছে। লকডাউন পীড়িত ভারতীয় অর্থনীতির মাজা ভাঙা দশাতে- সৌদির সাথে সামরিক সম্পর্ককে অনির্দিষ্ট কালের জন্য স্থগিত করে দিয়েছে ভারতীয় বিদেশমন্ত্রক- আর এতেই নিরেটমুর্খ আয়াশপ্রিয় সৌদি যুবরাজ ক্ষেপে গেছে। সুতরাং, এই সম্পর্ক যে মোদীর রাজত্ব আর জোড়া লাগবেনা সেটা বলাই বাহুল্য। ফলত দর্শক ছাড়া মধ্যপ্রাচীয় রাজনীতিতে ভারতের কোনও ভূমিকা নেই, মোদীজির চরম অদুরদর্শীতার কারনে আজ আমরা অপাংক্তেয় হয়ে গেছি আন্তর্জাতিক পরিসরে।
ওদিকে সামান্য হামাসের সাথে লড়তে গিয়েই ইজরায়েল নাকানিচুবানি খেয়ে সাদা পতাকা দেখিয়ে এ যাত্রায় রক্ষা পেয়েছে; যে হামাসের না রয়েছে আধুনিক অস্ত্র না রয়েছে উন্নত প্রশিক্ষন প্রাপ্ত সেনাবহর। এই ইজরায়েল আসলে একটা ‘সাদা হাতি’ তা আর নতুনকরে বলার অপেক্ষা রাখেনা। এদিকে এই প্রথম তারা আমেরিকা বা ইউরোপ থেকে কোনও সাহায্য পেলনা তারা। কেন পেলনা? নেতৃত্বের সঙ্কটে ভোগা গোটা ইউরোপ প্রথমত করোনাতে কাবু, দ্বিতীয়ত তাদের অর্থনৈতিক মন্দা চলছে, ক্রমবর্ধমান বেকার সমস্যার দরুন নিজেদের দেশেই যথেষ্ট চাপে রয়েছে সরকার গুলো। চিনের অগ্রাসনের ফলে আফ্রিকা ও এশিয়ার বাজারে তারা প্রায় হারিয়ে গেছে, দেশের উৎপাদন শিল্প ধুঁকছে। প্যারিসের রাস্তায় প্রায় ৪০০০ অমুসলিম মানুষ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মিছিল করেছে যা ভীষণভাবে আশ্চর্য করেছে ফরাসি সরকার সহ ইজরায়েল দরদী বিশ্বকে। স্বভাবতই নতুন করে অন্যের ঘরের অশান্তিতে কেউ যেচে পা বাড়ায়নি তথা সেই ক্ষমতাও ছিলনা।
বর্তমান মার্কিন রাজনীতিতে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, তাদের কংগ্রেস ও সেনেট সদস্যের ২৩% হিস্প্যানিক, আফ্রিকান, এশিয়ান, যা ২০ বছর আগে ছিল ৭% মত। গত দশক পর্যন্ত কংগ্রেস ও সেনেটে ইহুদি সদস্য ছিল ৩৫% এর কাছাকাছি, মার্কিন বুরোক্রেসিতে ৫০% এর বেশি শীর্ষপদে ইহুদিরাই থাকত। বর্তমান কংগ্রেস ও সেনেটে ইহুদি ৪%, বুরোক্রেসিতে মাত্র ১১%। ঠিক কী কারনে মার্কিনিদের প্রচলিত ইজরায়েল প্রীতিতে প্রকাশ্য ব্যাতিক্রম এসেছে সেটা উপরের পরিসংখ্যান থেকে সহজে অনুমেয়।
বাম ঘেঁষা প্রবীণ মার্কিন সেনেটর বার্ণি স্যান্ডার্স সহ অন্যান্য প্রগতিশীল সেনেটর ও কংগ্রেস সদস্যেরা মিলে- ২০১৬ সালে ওমাবা প্রশাসনের করা, ইজরায়েলকে বার্ষিক ৩৮০০ কোটি ডলার আর্থিক অনুদান প্রক্রিয়াটি চিরতরে বন্ধের জন্য প্রস্তাব উত্থাপন করেছে। পাশাপাশি বিগত ৫ বছরে এই বিপুল অনুদান ইজরায়েল কোন কোন খাতে খরচা করেছে তার পুর্নাঙ্গ হিসাব চেয়েছে ইজরায়েল ও মার্কিন প্রশাসনের কাছে। বস্তুত, নব্য প্রগতিশীল আইনপ্রণেতাদের চাপে একপ্রকার বাধ্য হয়ে জো বাইডেন গাজা পুনর্গঠন, ফিলিস্তিন জনগণের অধিকার ও দ্বি-রাষ্ট্র গঠনের গল্প ফেঁদেছে।
এদের কারনেই তীব্র ব্যাক্তি ইচ্ছাকে দমন করে ‘ঘোষিত জায়োনিষ্ট বাইডেন’ ইজরায়েলকে কোনো সহায়তা দিতে পারেনি। শুধু তাই নয়, সেনেটের চাপে মার্কিন বিদেশসচিব ‘এন্থনি ব্লিঙ্কন’কে তড়িঘড়ি জেরুজালেম পাঠিয়ে দিয়েছে। ২৫শে মে ৪ দিনের মধ্যপ্রাচ্য সফরে এসে হাজির হয়ে, প্রথম দিনেই জেরুজালেমে দাঁড়িয়ে নেতানিয়াহুকে পাশে রেখেই ঘোষণা দিয়েছে- ‘আমরা ফিলিস্তিনিদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে সূচনা করতে এসেছি’। মনে বিষ থাকলেও তা হজম করতে হচ্ছে মার্কিন প্রশাসনকে। সফরের বাকি ৩টে দিনের একদিন পশ্চিম তীরের ‘রামাল্লা’য় ফিলিস্তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করবে, অন্য দু’দিন জর্ডন ও লেবানন সফর করবে। অর্থাৎ বর্তমান মার্কিন নীতি হলো- ভারসাম্য বজায় রেখে এই অস্ত্রবিরতিকে দীর্ঘমেয়াদী করাই একমাত্র লক্ষ্য। আগামীতে ইজরায়েল কিন্তু মার্কিন ছত্রছায়া থেকে বেড়িয়ে আসার চেষ্টাতে থাকবে। ইজরায়েল বিনা শর্তে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে, এটা যদি ফিলিস্তিনিদের পক্ষে বড় জয় হিসাবে দেখা হয়, তাহলে দীর্ঘ সাত দশকের ইতিহাসে ইজরায়েলের জন্য এটা চরম লজ্জাজনক ও অপমানকর পরাজয়।
ইজরায়েল এই অপমানের বদলা নেওয়া শুরু করেছে নিজ দেশের মধ্যে বাস করা সেমেটিকদের উপরে অকথ্য অত্যাচারের মাধ্যমে। শেষ ১ সপ্তাহে ১৬০০ এর কাছাকাছি অ-ইহুদি ইজরায়েলি জনগণকে মারধর করে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে ভরে দিয়েছে। প্রসঙ্গত ইজরায়েলের ৮০% অধিবাসী ইউরোপীয় খাজার বংশদ্ভুত হলেও ২০% সেমেটিক ফিলিস্তিনি জনগষ্ঠীরই- যারা গাজা বা ওয়েষ্টব্যাঙ্কের ফিলিস্থিত রাষ্ট্রে না গিয়ে ইজরায়েলেই রয়ে গেছে। ইজরায়েল এখন তাদেরও উচ্ছেদ করে ফিলিস্তিন মুক্ত ‘ইজরায়েল রাষ্ট্র’ গঠন করতে চায়। হামাসের মুখপাত্র জানিয়েছে- এটাও একধরণের যুদ্ধ ঘোষণা, আমরাও পরিস্থিতির উপরে নজর রাখছি, এমন অন্যায় অত্যাচার আমরা বসে বসে দেখবনা।
ইরানের মত একটা ছোট্ট ও সীমিত ক্ষমতাশালী দেশের উপর হাজার রকম ‘অবরোধ’ দিয়েও মার্কিনীরা আজ পর্যন্ত ইরানের ওপর কোন প্রকাশ্য হামলা করতে পারেনি, কারণ এরা যদি ইরানের ওপর হামলা করে- ইরানও সাথে সাথে মার্কিনিদের ব্যাথার ওপর হামলা করবে। এর ফলে ‘মৃত সাগর’ পেরিয়ে যে পরিমান রকেট গিয়ে আছড়ে পড়বে- তা আটকানোর ক্ষমতা আয়রন ডোম কেন, গোল্ডেন ডোম থাকলেও তার নেই। এই কারনেই পারতপক্ষে এরা ইরানকে ঘাঁটায় না, ওই হুমকি-ধামকি, কিছু গুপ্তহত্যা আর অবরোধের মাঝেই বীরত্ব সীমাবদ্ধ রাখতে বাধ্য হয়। উল্টে ইরান আফ্রিকাতে নিজেদের অবস্থান অনেকটা শক্ত করেছে চিকিৎসা কুটনীতি দিয়ে। কাতার, তুরস্ক ও রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক এতটাই ভাল করে ফেলেছে যে এখন চাইলেই আর আমেরিকা ইচ্ছামত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেনা। উল্টে গত সপ্তাহে ঘোষণা দিয়েছে তারা আর তাদের পরমাণু কার্যকলাপ সম্বন্ধে কোনো তথ্য দেবেনা বিশ্বকে, যদিনা আমেরিকা তাদের উপর থেকে অবরোধ তুলে নেয়। সুতরাং সব দিক থেকেই পরিস্থিতি জটিল আমেরিকার জন্য।
ইজরায়েল ও তাদের জায়নিষ্ট ছত্রাকেরা কিন্তু সহজে হার মানবেনা। হামাসকে বদনাম করতে ২৪শে মে তারিখে বেলারুশের একটা বিমানে মিথ্যা হুমকি চিঠি দেয় কেউ, বেলারুশ সরকার সেই বিমানকে মাঝ আকাশ থেকে নামিয়ে এক সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করে। এর ফলে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে বেলারুশকে সাময়িক বরখাস্তও করা হয়েছে, অর্থাৎ সাজঘরে বড় মঞ্চের রিহার্সাল কিন্তু থেমে নেই।
সেই বাইডেনই এখন মার্কিন রাষ্ট্রপতি, যার প্রকাশ্য উদ্যোগে ২০১৬ সালে তুরস্কে এরদয়ানের বিরুদ্ধে ব্যর্থ অভ্যুত্থান ঘটানো হয়েছিল, আবারও সেই চেষ্টা করবেই- এমনকি সাময়িকভাবে তুরস্ক হাতছাড়া হলেও আশ্চর্যের কিছু নেই- কারন লুসার্ণ চুক্তি উত্তর তুরস্ককে থামাতে এটাই একমাত্র পন্থা। রাশিয়া এক্ষেত্রে তুরস্কের পাশে দাড়াবেনা, কারন তুরস্ক রাশিয়াকে অগ্রাহ্য করে ইউক্রেনের সাথে সামরিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে যা রাশিয়ার জন্য এক বিশাল হুমকি।
আমেরিকা যদি ইহুদিদের সাহায্য না করে, সেক্ষেত্রে মার্কিন মুলুকেও আভ্যন্তরীণ অশান্তি বাঁধিয়ে দেবে ইজরায়েল, তারা এই একটা কাজেই পারদর্শী। সেক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র, কতদিন যুক্ত থাকবে সেটাই বড় প্রশ্ন। অন্যদিকে ব্রেক্সিট পরবর্তী ব্রিটেন কিন্তু নতুন করে আবার আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে পদার্পন করার ঘোষণা দিয়েছে, তারাও চাইবে বিশ্বজোড়া মার্কিন দাদাগিরি কিছুটা কমুক, যাতে জেরুজালেমে আবার তারা এন্ট্রি নিতে পারে অনায়াসে। সুতরাং আগামী বিশ্বের রাজনৈতিক ভরকেন্দ্রের পরিবর্তন যে অবশ্যম্ভাবী সেটা বলার অপেক্ষা রাখেনা।
গৃহযুদ্ধে জর্জরিত মিশরে ব্রাদারহুড আবার সক্রিয় হচ্ছে, তাদেরকে ইথিওপিয়া ও সুদানের সাথে লড়িয়ে দিয়ে পারে পুরাতন খেলোয়ার MI-6। মোসাদ বাহিনী লেবাননের বৈরুতে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তাদেরকে এমনিতেই একঘরে করে দিয়েছে, এবারে MI-6 এর সাথে মিলে গুপ্তভাবে ক্ষতির চেষ্টার ত্রুটি রাখবেনা। MI-6 মানেই পুরাতন শোধ নেবার পালা। সৌদিও কয়েকখন্ডে ভেঙে যেতে পারে, সেক্ষেত্রে মক্কাকে কেন্দ্র করে নতুন দেশ গঠন করতে পারে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। আফগানিস্তান, পাকিস্থান সহ ভারত, বাংলাদেশ ও মায়ানমারেও ব্রিটেন কিন্তু গুঁতিয়ে ঢুকে আসবেই। সব মিলিয়ে যেদিকে যা ই হোক, আগামী দশকগুলোতে জেরুজালেম কিন্তু সংবাদ শিরোনামে থাকবেই।
বর্তমান আপডেট হচ্ছে- ইজরায়েল গাজায় মোটেই সুবিধা করতে না পেরে আল-আকসা মসজিদ চত্বরে নিরস্ত্র মুসলমান মুসল্লিদের উপরে মসজিদে হামলা শুরু করেছে বা বজায় রেখেছে বলা যেতে পারে। গত ২৩শে মে রোববার, বিপুল অস্ত্রে সজ্জিত ইজরায়েল পুলিশ ৬ জনকে এরেষ্ট করে ও আরো কয়েকজনকে মারধর করে। পরদিন এক রাষ্ট্রীয় বিবৃতিতে তারা ঘোষণা দিয়েছে ৪৫ বছরের নিচে কোন মুসলমানকে আকসা মসজিদে নামাজ পড়ার অনুমতি দেবে না তথা টেম্পল মাউন্ট চত্বরে ঢোকারই অনুমতি দেবেনা- অর্থাৎ এলাকাটা ইজরায়েলের একার পৈতৃক সম্পত্তি। বিষয়টি মুসলিম ওয়াকফ বোর্ড মোটেই মানতে রাজি হয়নি সুতরাং অশান্তিতে শেষ হয়েও যে হবে না' তা বলাই বাহুল্য
ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী ২৪শে মে এক সরকারি বিবৃতিতে নতুন ডায়লগ বাজি শুরু করেছে- হামাসের নেতাদের সবাইকে আমরা হত্যা করব ইত্যাদি ইত্যাদি। এর পাল্টা হিসেবে সোমবার জোহরের নামাজের পর গাজার রাজপথে হামাসের অন্তত ৩০০ সশস্ত্র সদস্য, অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রতীকী প্যারেড করে ইসরাইলকে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছে- তোমরা যদি আবার অগ্রাসন চালাও, আমরাও বসে থাকবনা।
এর ফাঁকে আসলে ইজরায়েলের মিথ্যাটা ধরা পরে গেছে এবং কার্যত ফিলিস্তিনিদের কাছে ভিক্ষা চাইছে বলেই মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত। গাজা পুনর্দখলের কথা না বলে ইজরায়েলী অর্থমন্ত্রী ‘ইস্রায়েল কার্টজ’- গাজা পূনর্বাসনের প্রস্তাব দিয়েছে, বিনিময় দেড়শোর অধিক ইসরাইলি সেনা যারা গাজায় নিখোঁজ হয়েছিল, রয়েছে তাদেরকে ফিরিয়ে দিতে হবে; অর্থাৎ একে একে ঝুলির বিড়াল বের হচ্ছে। বিপুল পরিমাণে ক্যাজুয়ালিটি যা ইসরাইলের তরফে ঢেকে রাখা হয়েছিল তা প্রকাশ্যে আসতে শুরু হয়েছে।
পৃথিবীর সবচেয়ে গোঁড়া জাতি ইহুদিবাদী ইজরায়ায়েল পার্মানেন্টলি গোল্ডেন টেম্পলের অধিকার ছেড়ে দেবেনা। যদিও অনেকেরই ভ্রান্ত ধারণা আছে- সোনালী গম্বুজের স্থাপত্যটাই বোধহয় ‘আল-আকসা’ মসজিদ, কিন্তু তা হয়। ইহুদিদের উপাসনাস্থল সোনালী গম্বুজের ৫০ ফুট দূরত্বে অপেক্ষাকৃত ছোট আর নিচু একটা রুপালী গম্বুজের স্থাপত্য রয়েছে, সেটাই মুসলমানেদের উপাসনাস্থল। তার পরেও এসব এলাকাতে তারা ইচ্ছাকৃত অশান্তি বাঁধিয়ে রাখে গোটা ‘টেম্পল মাউন্ট’ এলাকাটা কুক্ষিগত করার জন্য। টেম্পল মাউন্টের কী হবে তা আগামী বলবে, কিন্তু যা হবে তা বিশ্বের মানব জাতির পক্ষে যে খুব একটা সুখকর হবে না সেটা বলাই বাহুল্য। সুতরাং অদূর ভবিষ্যতে যদি আমরা আরও একটা বিশ্বযুদ্ধের সম্মুখীন হই তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।

রেড ভলেন্টিয়ার্স- সাফল্যকথা (Part-3)


 

কী ভেবেছিলেন, আমি গণসংগঠনের শত্রু?

সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রকাশ্যে লিখে কোনো কাজ হয় না?

এখন কী প্রমাণ হচ্ছে!

সোশ্যাল মিডিয়াতে আমার লেখা অধিকাংশ দাবী- অক্ষরে অক্ষরে মেনে নিয়েছে দল


আসলে চামচাবাজিটা শিখিনি, তাই মেরুদণ্ডটা সোজা আছে। মগজটাও বন্ধক দিইনি, তাই বিকল্প ভাবার মুরোদ আছে। অনেকেই ভাবে- “আমি ‘পার্টি সদস্য’ তাই ‘আমার’ একগাছা লোমশ লেঙুড় রয়েছে, যেটা তোমাদের চেয়ে আমাকে অনেক উচ্চতর আসনে রেখেছে”- এমন ভোঁদড় মার্কা ভাবনাজীবীদের জন্য একগামলা করুণা রইলো

ঠাণ্ডা ঘরে বসে কম্পিউটার স্ক্রল করতে নেমে আমার প্রস্তাবগুলো তাই তেঁতো লেগেছিল। অযোগ্য ধামাধরাদের তেঁতো না লাগলে বরং বেশিই আশ্চর্য হতাম। অযোগ্য ব্যর্থ হয়েও শুধু বাপের দয়ার টিকে থাকা প্যারাসাইটদের, আমার প্রেসক্রিপশনে এলার্জি হওয়াটা স্বাভাবিক

পার্টি সদস্যেরা নাহয় পার্টির ভিতরে বলবে, সমর্থকেরা কোথায় বলবে? বললে শুনবেটা কে? পার্টিসদস্যের নিচুতলার কথাই কি শোনা হয় অদৌ? অতএব সোশ্যাল মিডিয়া জিন্দাবাদ, মুমূর্ষু রোগীর লজ্জাস্থান লুকাবার দায় থাকেতে নেই। যেহেতু প্রাপ্তির লোভ নেই, তাই হারাবার ভয় থেকেও মুক্ত সমর্থকেরা। ‘ফোরাম অফ এ্যাপ্লিকেশনের’ গল্প ফেঁদে পার্টি সদস্যপদ বাঁচাবার জন্য যদি- ‘ভুল হচ্ছে’ কিম্বা ‘এভাবে করা উচিৎ’ এই সামান্য কথা দুটো বাক্য বলতে না পারি, ধিক এই শৃঙ্খলাতে। পার্টি বাঁচলে তো সদস্য পদের গুরুত্ব। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে থাকা বারে বারে ব্যর্থ নেতারা উপরোক্ত শৃঙ্খলা দিয়েই পদে আসিন রয়েছে নির্লজ্জ নিকৃষ্টতায়। টুইটারে এক ছাত্র নেতা আবার লিখেছে- ‘জিরোরা জিরোয়না’, নতুন আইডিয়া তো কিছু নেই- তাই জিরোর সুখেই অর্গাজম হয়ে যাচ্ছে এদের মত কারো কারো

সঠিক কথা সঠিক সময়ে বলেছিলাম বলেই হয়ত অনেক ক্ষয়ক্ষতি আঁটকে দেওয়া গেছে। গোটা সিস্টেমে একটা ছন্দবদ্ধ রূপ এসেছে, অনেক বেশি গঠনমূলক হয়েছে। অনেকেই ভেবেছিলেন আমি আমার কলম দিয়ে বেশিরভাগ মানুষের মনের কথাটা বলে ফেলেছিলাম, অবশ্যই সময়ের আগে। আসলে মাটিতে ছিলাম, মাটিতে আছি, আর মাটিতেই থাকব, কারণ আমি মাটির গন্ধ পাই। তাই মাটিতে দাঁড়িয়ে বাস্তবের মুখোমুখি হয়ে ভাবতে পারি, সিদ্ধান্ত নিতে পারি, যা ভাবছি সেইটা লিখতেও পারি৷ এ লেখা আঁতলামো নয়, সহজবোধ্য- তাই আমার লেখা সফল

আমার প্রকাশ্য পোস্টে গালাগালি, হ্যাটা, নাম ধরে খিস্তি, বডি সেমিং, ফেক প্রোফাইল থেকে পরিবার নিয়ে খেউর, ইনবক্সে হুমকি আর গোপনে ‘ওর পোস্টে যাবে না’ মার্কা হরেক আলোচনার অন্ত ছিল না। পার্টি তথা সংগঠনের ক্ষতি করছি বদনাম দেওয়া, গোষ্ঠী কোন্দল উসকে দেওয়ার দুর্নাম, গ্রুপ বানিয়ে পোস্টে লাইক কমেন্ট না দেওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা ইত্যাদি অনেক কিছু হয়েছে- আমি তাদের বিন্দুমাত্র পাত্তা দিইনা, কারণ খেটেখুঁটে লিখতে মেধা আর পড়াশোনা প্রয়োজন যা ওদের নেই, ওরা কেউ বাপ ধরে এসেছে নতুবা সেই বাপ ধরাদের পোষ্য পশ্চাদচাঁটাদের দল

আমি বাস্তবকে অস্বীকার করে যাইনি। এই বাস্তবতার জন্যই, প্রাসঙ্গিক দাবীগুলো মেনে নিয়ে সদর্থক পদক্ষেপ নিয়েছে স্থানীয় নেতৃত্ব। এটা আমাকে আগামীতে আরও বেশি বেশি লেখার জন্য বিপুল উৎসাহ দেবে। কেউ কেউ বলে- কটা শেয়ার হয়েছে কিম্বা কটা লাইক কমেন্ট হয়েছে! তাদের জন্য বলি- ‘১০টা লাইক পাওয়া লেখা যদি একটা ৫৭ বছরের দলে পুঙ্খানুপুঙ্খ ইমপ্লিমেন্ট হয়, তার কাছে সেই দলেরই সদস্যের ৫ হাজার জনের লাইকের কোনো মূল্য থাকেনা’? দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়াতে এক্টিভ এমন নেতাদের অধিকাংশ জনই আমার ফ্রেন্ডলিষ্টে রয়েছেন স্বনামে-বেনামে, তাঁরা পড়লেই যথেষ্ট। আমার লেখা তাদের জন্য যাদের বোধবুদ্ধি ও বিচারজ্ঞান রয়েছে; উমেদার ও ভাঁড়েদের জন্য নয়

রেড ভলেন্টিয়ার্স নিয়ে এতদিনের প্রস্তাব আর ফলাফলগুলি বর্তমান অবস্থা কেমন হলো একবার চোখ বুলিয়ে নিন

১) রেড ভলেন্টিয়ারদের মধ্যে অধিকাংশর কোনো রকম ট্রেনিং নেই, এমনকি স্বাস্থ্য পরিষেবা বিষয়ে কোনো জ্ঞান নেই

প্রস্তাবঃ এদের উপযুক্ত ব্যক্তিদের অধীনে ট্রেনিং দিতে হবে৷

ফলাফলঃ ডক্টর অরুণ সিং সহ অনেক অভিজ্ঞ ডাক্তারের অধীনে ট্রেনিং শুরু হয়ে গেছে৷ বিন্দুমাত্র অভিজ্ঞতা আর ট্রেনিং না থাকা রেড ভলেন্টিয়ার্সরা বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে কর্মক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে বুঝতে পেরেছেন- আমার বক্তব্যের গুরুত্ব কতটা ছিল

২) শুধু মুখে মাস্কের নামে এক টুকরো কাপড় বেঁধে নয়। উপযুক্ত সুরক্ষা পোশাক তথা কিট পরে তবে সংক্রামক রোগীর কাছে যেতে হবে। নতুবা ভলেন্টিয়াররাই আক্রান্ত হয়ে যেতে পারেন, কিম্বা উপসর্গহীন রোগী হয়ে নিজেই করোনা ছড়াতে পারেন৷

প্রস্তাবঃ উপযুক্ত কিট পরে তবে সংক্রামক রোগীর কাছে যেতে হবে

ফলাফলঃ বেশিরভাগ অঞ্চলের রেড ভলেন্টিয়ার্সের অধিকাংশ জনই PPE কিট পরে রোগীর কাছে যাওয়ার প্রচেষ্টা শুরু করেছে৷ সমস্ত সচেতন নেতা-নেত্রী কিট পরে যাওয়ার ব্যাপারে পরামর্শ দিচ্ছেন৷ সাধারণ মানুষ কিট ও সুরক্ষা সরঞ্জাম দেবার জন্য অনুদান দিচ্ছেন

৩) প্রতিটি রেড ভলেন্টিয়ার্স “যারা শুধুমাত্র রাস্তায় আছে” পার্টি নির্দিষ্টভাবে তাদেরকে অফিশিয়ালি স্বীকৃতি দিক

দাবীঃ প্রতিটি রেড ভলেন্টিয়ার্সকে সিরিয়াল নম্বর যুক্ত ‘আইডেন্টি কার্ড’ দিতে হবে

ফলাফলঃ অধিকাংশ স্থানেই এই কাজ চালু হয়েছে, পার্টির ছাত্র সংগঠনের এক নেত্রী নিজে সহ বহু তরুণ কর্মী যারা গত বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন- তাদের টাইমলাইনে ‘আই কার্ড’ এর ছবি পোস্ট করেছেন

৪) ইউনিসেফ, রেড ক্রশের স্বীকৃত ভলেন্টিয়ারিয়ারি সার্ভিসে থাকা সভ্যদের মোটা অঙ্কের ইনসুরেন্স করানো থাকে, যদি তারা আক্রান্ত হয় সেক্ষেত্রে ইনসুরেন্স কাজে আসে। রেড ভলেন্টিয়ার্সদের করানো হয়েছে কি?

প্রস্তাবঃ প্রতিটি রেড ভলেন্টিয়ার্সকে বিমা করিয়ে দিতে হবে

ফলাফলঃ ‘সিপিআইএম দেশপ্রিয় নগর এরিয়া কমিটির পক্ষ থেকে আমাদের ১০ জন রেড ভলেন্টিয়ারকে ৫ লক্ষ টাকা করে মেডিক্লেইম করিয়ে দেওয়া হলো তাদের সুরক্ষার জন্য’। আমি ব্যক্তিগত ভাবে অভিনন্দন জানাই ওই নেতৃত্বদের

৫) এই বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়েরা নিজেরা সংক্রমিত হয়ে গেলে এদের চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ করাবার কোনো পরিকল্পনা কে নেবে? পার্টি কি দায়িত্ব নিয়েছে?

প্রস্তাবঃ পার্টি দায়িত্ব নিক

ফলাফলঃ SFI DYFI এর পক্ষ থেকে সরকারের কাছে লিখিত প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে প্রত্যেক রেড ভলেন্টিয়ারকে বিনামূল্যে টিকাকরনের জন্য। (যদিও আমি নিজে এই সিরাম ইন্সিটিটিউশনের টিকার মান নিয়ে যথেষ্ট সন্দিহান, এ নিয়েও আমার বিস্তারিত লেখা আছে)

৬) ফেসবুকে এই খয়রাতি শ্রমের স্বপক্ষে যারা ক্রমাগত লিখছেন- তাদের কজনের ছবি দেখেছেন রাস্তায় দৌড়াতে? শুধান- আপনি কয়টি স্থানে গেছেন? আপনার বাড়ির কতজন রেড ভলেন্টিয়ার্স । রাজ্য কমিটি, জেলা কমিটি দূরের কথা, এরিয়া কমিটির কতজন সিনিয়র সদস্যের ছেলেমেয়েরা রেড ভলেন্টিয়ার্স এর সাথে যুক্ত, যারা মাঠে নেমে সরাসরি করোনা রোগীদের ঘরে/বাড়িতে যাচ্ছেন! এবারে প্রশ্নটা নিজেকে করুন, উত্তর পেলে নিজের সন্তানকে কেন নামাননি সেই জবাবটা দেবেন দয়া করে

প্রস্তাবঃ নেতারা রাস্তায় নামুন, আপনাদের সন্তানকেও রেড ভলেন্টিয়ার্স হিসাবে নামিয়ে বাকিদের উৎসাহিত করুন

ফলাফলঃ কমরেড তাপস সিনহা, কমরেড তন্ময় ভট্টাচার্য, কমরেড দীপ্সিতা ধর, কমরেড নিহার ভক্ত সহ এমন অনেক নেতাই রাস্তায় নেমেছেন। কোলকাতা জেলা কমিটির এক নেতা অশোক ভাণ্ডারি তাঁর পুত্রের রেড ভলেন্টিয়ার্সের কার্ডটির ছবি দিয়েছেন গর্বের সাথে। এগুলো ভীষণ সাধু পদক্ষেপ। কিন্তু এটা এখনও সীমাবদ্ধভাবে রয়েছে, এটা আর বৃহত্তরভাবে ছড়াতে হবে

৭) দাবীঃ- গণসংগঠনকে রেড ভলেন্টিয়ারদের সহযোগিতা করতে হবে

ফলাফলঃ মহিলা সমিতির পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া এসেছে, তারাও শীঘ্রই সামিল হবে

কিন্তু এখনও কয়েকটি দাবী আছে, যেগুলো পূরণ হয়নি। আশা করছি- সেই ক্ষেত্রগুলোতেও অবিলম্বে কাজ শুরু হবে

১) সমস্ত গ্রামাঞ্চলে রেড ভলেন্টিয়ার্স সার্ভিস পৌঁছে দিতে হবে

এখনও অবধি যারা ভলেন্টিয়ারি সার্ভিস দিয়েছে, কোলকাতা ও তার শহরতলীর বাইরে অন্য কর্পোরেশনগুলোতে মূলত মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্তদের অক্সিজেন পৌঁছে দিয়েছে। জেলা সদর ও মফঃস্বলে মূলত ওষুধ, বাজারহাট তথা খাদ্যদ্রব্য পৌঁছে দিয়েছে। আর গ্রামে সামান্য কয়েকটি স্থানে বাড়ি স্যানেটাইজ করার বাইরে মূলত মড়া পুড়িয়েছে

দাবীঃ এখনও ‘শ্রেণীর’ কাছে রেড ভলেন্টিয়ার্স সার্ভিস পৌঁছাতে পারেনি, এটা পৌঁছে দিতে হবে নানান আঙ্গিকে। পশ্চিমবঙ্গের গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ এবং জঙ্গলমহলে রেড ভলেন্টিয়ারদের আরও দক্ষতার সাথে ব্যবহার করতে হবে। সামনে বর্ষা, গরীবের রোগবাগ বিপদ-আপদ বেশি হয়, এখানেই আসল পরীক্ষা রেড ভলেন্টিয়ারের

২) ভলেন্টিয়াররা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে, তারা যেকোনো সময় অসুস্থ হতেই পারে। এক-দু’জনের জীবনহানিও হয়েছে

দাবীঃ প্রতিটি মহকুমা হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতাল, কোলকাতা, তৎসংলগ্ন শহরতলীর বড় হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে কমপক্ষে ২-৫ টা পর্যন্ত বেড- ভলেন্টিয়ারদের জন্য স্পেশালি সংরক্ষণ করতে হবে

কোনো ভলেন্টিয়ারের জীবনহানী হলে সরকার থেকে কমপক্ষে কুড়ি লক্ষ টাকা তার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং তার পরিবারের একজন সদস্যকে যেকোনো সরকারি দফতরে পার্মানেন্ট চাকরির ব্যবস্থা করে দিতে হবে

৩) অধিকাংশ রেড ভলেন্টিয়ারই ছাত্রযুব, এরা প্রতিযোগিতামূলক সরকারি চাকরির পরীক্ষাতে বসে। অধিকাংশ পরীক্ষার ইন্টারভিউতে ‘extracurricular activities’ উপরে একটা নম্বর থাকে। এই কোভিড মহামারীকালে রাস্তায় থেকে মানুষের পাশে থাকার চেয়ে বড় extracurricular activities আর কী হতে পারে?

দাবীঃ সরকারকে সার্টিফিকেট ইস্যু করতে হবে, যা সর্বভারতীয় পরীক্ষার ক্ষেত্রে কাজে আসবে

৪) বিষয়টা থেকে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক লাভ নিতে হবে

দাবীঃ ABTA, মহিলা সমিতি ও লোকাল কমিটিকে কাজে লাগিয়ে নিয়মিত ডেটা কালেক্ট করে সেগুলো সেন্ট্রালি প্রিজার্ভ করে রাখা হোক। কারণ আমরা কেউ জানি না, রেড ভলেন্টিয়ার্সের সুবিধা আমাদের সিপিআইএমের কোনো নেতা বা তার পরিবার পেয়েছে? পেলেও কতজন পেয়েছে? অধিকাংশ বিজ্ঞাপনই তো অপরাজিতা আঢ্য, দেবের আত্মীয়, তৃণমূল ফেসবুক গ্রুপের এডমিন, বিজেপি নেতার বউ, তৃণমূল MLA এর আত্মীয়- এই সব তথ্য সামনে এসেছে। আসলে আমরা যাদের পরিষেবা তথা স্বেচ্ছাশ্রম দিলাম- তারা আসলে কারা! এদের মাঝে কতজন গরিব, কতজন মধ্যবিত্ত আর কতজন উচ্চবিত্ত, কতজন বাম সমর্থক ইত্যাদি

৫) টোল ফ্রি নম্বরঃ- রেড ভলেন্টিয়ার দের কার্যকারিতা এবং জনগণের সচেতনতা উদ্দেশ্যে মানুষের সাথে জনসংযোগ বাড়াবার প্রয়োজনে পার্টির তরফে টোল ফ্রি নম্বর আশু প্রয়োজন

৬) গ্রামে গ্রামে সচেতনতা শিবির গড়ে তুলতে হবে। সাধারণ মানুষকে সরকারি পরিষেবা নেওয়ার ব্যাপারে উৎসাহী করে তুলতে হবে। এতে আমজনতা সরকারের কাছ থেকে বিনা পয়সায় চিকিৎসা-ঔষধ এবং বিনা পয়সায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সুযোগ পাবে। সরকারি পরিষেবা ও স্বাস্থ্য সাথী কার্ড আমাদের অধিকার, এটা কোনো দান নয়৷ এই অধিকার আমরা ভোটাধিকারের মাধ্যমে অর্জন করেছি- এই জিনিসটা সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচার করতে হবে। পরিষেবায় ব্যাঘাত হলে সত্বর সচেতনতা শিবিরে যোগাযোগ করার কথা বলতে হবে অথবা ঐ ‘টোল ফ্রি নম্বরে’ অভিযোগ করতে হবে

বিশদে এই পোস্টে রয়েছে-

https://www.facebook.com/story.php?story_fbid=148739867222980&id=104624104967890

৭) পিরামিডের চূড়া থেকে পাদদেশ- সামান্য কয়েকজন নেতা সহ তাদের ছেলেপুলেরা রাস্তায় নামলেও, অধিকাংশ জন আজও রাস্তায় নামেনি। ঠাণ্ডা ঘরে ফোনের ওপারে আর ফেসবুকে বিপ্লব না করে, অবিলম্বে তারা রাস্তায় নেমে সাধারণ ছাত্রযুবদের পাশে দাঁড়াক। এদের সকলকে সচেতনতা শিবিরগুলোতে বসিয়ে দেওয়া হোক মহিলা সমিতির কমরেডদের সাথে। এরা রোজ পালা করে শিবিরে বসে এরিয়া কমিটি, রেড ভলেন্টিয়ার্স ও জনগণের সাথে সমন্বয় সাধন করুক

৮) দেশের প্রথম সরকার হিসাবে কেরালার বাম সরকার- মাস্ক, পিপিই কিট, গ্লাভস ইত্যাদি চিকিৎসা সামগ্রীর দাম সস্তা করে তা নির্দিষ্ট দামে বেঁধে দিয়েছে। করোনার বিরুদ্ধে লড়াই এর জন্য মানুষকে অর্থনৈতিক ভাবে সুরক্ষা দিতে পেরেছে। যেখানে আমাদের রাজ্য সরকার করোনাকালে সকল ধরনের কালোবাজারি রুখতে ব্যর্থ, মানুষ চূড়ান্ত হেনস্থার শিকার। এ নিয়ে #keralamodel হ্যাশট্যাগ দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে আন্দোলনের ঝড় উঠুক। রাস্তাতেও মানুষকে বোঝানো হোক

তারাই প্রশ্ন করতে ভয় পায়, যারা লড়াই না করে অসদুপায়ে পদে বসেছে কিম্বা পার্টির সদস্যপদ হাসিল করেছে- সেই সব এঁটোকাঁটাকে আমি ‘আবহাওয়া’ বিষয়ে আলাপের যোগ্যও মনে করি না, আপনিও সেটাই করুন যাতে দলের মঙ্গল। পার্টি ও সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য লড়াইটা চালিয়ে যান কমরেড- ভিতর থেকে হোক বা বাইরে থেকে


ইনকিলাব জিন্দাবাদ

#redvolunteer 


তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...