শুক্রবার, ২৮ মে, ২০২১

রেড ভলেন্টিয়ার্স- সাফল্যকথা (Part-3)


 

কী ভেবেছিলেন, আমি গণসংগঠনের শত্রু?

সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রকাশ্যে লিখে কোনো কাজ হয় না?

এখন কী প্রমাণ হচ্ছে!

সোশ্যাল মিডিয়াতে আমার লেখা অধিকাংশ দাবী- অক্ষরে অক্ষরে মেনে নিয়েছে দল


আসলে চামচাবাজিটা শিখিনি, তাই মেরুদণ্ডটা সোজা আছে। মগজটাও বন্ধক দিইনি, তাই বিকল্প ভাবার মুরোদ আছে। অনেকেই ভাবে- “আমি ‘পার্টি সদস্য’ তাই ‘আমার’ একগাছা লোমশ লেঙুড় রয়েছে, যেটা তোমাদের চেয়ে আমাকে অনেক উচ্চতর আসনে রেখেছে”- এমন ভোঁদড় মার্কা ভাবনাজীবীদের জন্য একগামলা করুণা রইলো

ঠাণ্ডা ঘরে বসে কম্পিউটার স্ক্রল করতে নেমে আমার প্রস্তাবগুলো তাই তেঁতো লেগেছিল। অযোগ্য ধামাধরাদের তেঁতো না লাগলে বরং বেশিই আশ্চর্য হতাম। অযোগ্য ব্যর্থ হয়েও শুধু বাপের দয়ার টিকে থাকা প্যারাসাইটদের, আমার প্রেসক্রিপশনে এলার্জি হওয়াটা স্বাভাবিক

পার্টি সদস্যেরা নাহয় পার্টির ভিতরে বলবে, সমর্থকেরা কোথায় বলবে? বললে শুনবেটা কে? পার্টিসদস্যের নিচুতলার কথাই কি শোনা হয় অদৌ? অতএব সোশ্যাল মিডিয়া জিন্দাবাদ, মুমূর্ষু রোগীর লজ্জাস্থান লুকাবার দায় থাকেতে নেই। যেহেতু প্রাপ্তির লোভ নেই, তাই হারাবার ভয় থেকেও মুক্ত সমর্থকেরা। ‘ফোরাম অফ এ্যাপ্লিকেশনের’ গল্প ফেঁদে পার্টি সদস্যপদ বাঁচাবার জন্য যদি- ‘ভুল হচ্ছে’ কিম্বা ‘এভাবে করা উচিৎ’ এই সামান্য কথা দুটো বাক্য বলতে না পারি, ধিক এই শৃঙ্খলাতে। পার্টি বাঁচলে তো সদস্য পদের গুরুত্ব। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে থাকা বারে বারে ব্যর্থ নেতারা উপরোক্ত শৃঙ্খলা দিয়েই পদে আসিন রয়েছে নির্লজ্জ নিকৃষ্টতায়। টুইটারে এক ছাত্র নেতা আবার লিখেছে- ‘জিরোরা জিরোয়না’, নতুন আইডিয়া তো কিছু নেই- তাই জিরোর সুখেই অর্গাজম হয়ে যাচ্ছে এদের মত কারো কারো

সঠিক কথা সঠিক সময়ে বলেছিলাম বলেই হয়ত অনেক ক্ষয়ক্ষতি আঁটকে দেওয়া গেছে। গোটা সিস্টেমে একটা ছন্দবদ্ধ রূপ এসেছে, অনেক বেশি গঠনমূলক হয়েছে। অনেকেই ভেবেছিলেন আমি আমার কলম দিয়ে বেশিরভাগ মানুষের মনের কথাটা বলে ফেলেছিলাম, অবশ্যই সময়ের আগে। আসলে মাটিতে ছিলাম, মাটিতে আছি, আর মাটিতেই থাকব, কারণ আমি মাটির গন্ধ পাই। তাই মাটিতে দাঁড়িয়ে বাস্তবের মুখোমুখি হয়ে ভাবতে পারি, সিদ্ধান্ত নিতে পারি, যা ভাবছি সেইটা লিখতেও পারি৷ এ লেখা আঁতলামো নয়, সহজবোধ্য- তাই আমার লেখা সফল

আমার প্রকাশ্য পোস্টে গালাগালি, হ্যাটা, নাম ধরে খিস্তি, বডি সেমিং, ফেক প্রোফাইল থেকে পরিবার নিয়ে খেউর, ইনবক্সে হুমকি আর গোপনে ‘ওর পোস্টে যাবে না’ মার্কা হরেক আলোচনার অন্ত ছিল না। পার্টি তথা সংগঠনের ক্ষতি করছি বদনাম দেওয়া, গোষ্ঠী কোন্দল উসকে দেওয়ার দুর্নাম, গ্রুপ বানিয়ে পোস্টে লাইক কমেন্ট না দেওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা ইত্যাদি অনেক কিছু হয়েছে- আমি তাদের বিন্দুমাত্র পাত্তা দিইনা, কারণ খেটেখুঁটে লিখতে মেধা আর পড়াশোনা প্রয়োজন যা ওদের নেই, ওরা কেউ বাপ ধরে এসেছে নতুবা সেই বাপ ধরাদের পোষ্য পশ্চাদচাঁটাদের দল

আমি বাস্তবকে অস্বীকার করে যাইনি। এই বাস্তবতার জন্যই, প্রাসঙ্গিক দাবীগুলো মেনে নিয়ে সদর্থক পদক্ষেপ নিয়েছে স্থানীয় নেতৃত্ব। এটা আমাকে আগামীতে আরও বেশি বেশি লেখার জন্য বিপুল উৎসাহ দেবে। কেউ কেউ বলে- কটা শেয়ার হয়েছে কিম্বা কটা লাইক কমেন্ট হয়েছে! তাদের জন্য বলি- ‘১০টা লাইক পাওয়া লেখা যদি একটা ৫৭ বছরের দলে পুঙ্খানুপুঙ্খ ইমপ্লিমেন্ট হয়, তার কাছে সেই দলেরই সদস্যের ৫ হাজার জনের লাইকের কোনো মূল্য থাকেনা’? দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়াতে এক্টিভ এমন নেতাদের অধিকাংশ জনই আমার ফ্রেন্ডলিষ্টে রয়েছেন স্বনামে-বেনামে, তাঁরা পড়লেই যথেষ্ট। আমার লেখা তাদের জন্য যাদের বোধবুদ্ধি ও বিচারজ্ঞান রয়েছে; উমেদার ও ভাঁড়েদের জন্য নয়

রেড ভলেন্টিয়ার্স নিয়ে এতদিনের প্রস্তাব আর ফলাফলগুলি বর্তমান অবস্থা কেমন হলো একবার চোখ বুলিয়ে নিন

১) রেড ভলেন্টিয়ারদের মধ্যে অধিকাংশর কোনো রকম ট্রেনিং নেই, এমনকি স্বাস্থ্য পরিষেবা বিষয়ে কোনো জ্ঞান নেই

প্রস্তাবঃ এদের উপযুক্ত ব্যক্তিদের অধীনে ট্রেনিং দিতে হবে৷

ফলাফলঃ ডক্টর অরুণ সিং সহ অনেক অভিজ্ঞ ডাক্তারের অধীনে ট্রেনিং শুরু হয়ে গেছে৷ বিন্দুমাত্র অভিজ্ঞতা আর ট্রেনিং না থাকা রেড ভলেন্টিয়ার্সরা বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে কর্মক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে বুঝতে পেরেছেন- আমার বক্তব্যের গুরুত্ব কতটা ছিল

২) শুধু মুখে মাস্কের নামে এক টুকরো কাপড় বেঁধে নয়। উপযুক্ত সুরক্ষা পোশাক তথা কিট পরে তবে সংক্রামক রোগীর কাছে যেতে হবে। নতুবা ভলেন্টিয়াররাই আক্রান্ত হয়ে যেতে পারেন, কিম্বা উপসর্গহীন রোগী হয়ে নিজেই করোনা ছড়াতে পারেন৷

প্রস্তাবঃ উপযুক্ত কিট পরে তবে সংক্রামক রোগীর কাছে যেতে হবে

ফলাফলঃ বেশিরভাগ অঞ্চলের রেড ভলেন্টিয়ার্সের অধিকাংশ জনই PPE কিট পরে রোগীর কাছে যাওয়ার প্রচেষ্টা শুরু করেছে৷ সমস্ত সচেতন নেতা-নেত্রী কিট পরে যাওয়ার ব্যাপারে পরামর্শ দিচ্ছেন৷ সাধারণ মানুষ কিট ও সুরক্ষা সরঞ্জাম দেবার জন্য অনুদান দিচ্ছেন

৩) প্রতিটি রেড ভলেন্টিয়ার্স “যারা শুধুমাত্র রাস্তায় আছে” পার্টি নির্দিষ্টভাবে তাদেরকে অফিশিয়ালি স্বীকৃতি দিক

দাবীঃ প্রতিটি রেড ভলেন্টিয়ার্সকে সিরিয়াল নম্বর যুক্ত ‘আইডেন্টি কার্ড’ দিতে হবে

ফলাফলঃ অধিকাংশ স্থানেই এই কাজ চালু হয়েছে, পার্টির ছাত্র সংগঠনের এক নেত্রী নিজে সহ বহু তরুণ কর্মী যারা গত বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন- তাদের টাইমলাইনে ‘আই কার্ড’ এর ছবি পোস্ট করেছেন

৪) ইউনিসেফ, রেড ক্রশের স্বীকৃত ভলেন্টিয়ারিয়ারি সার্ভিসে থাকা সভ্যদের মোটা অঙ্কের ইনসুরেন্স করানো থাকে, যদি তারা আক্রান্ত হয় সেক্ষেত্রে ইনসুরেন্স কাজে আসে। রেড ভলেন্টিয়ার্সদের করানো হয়েছে কি?

প্রস্তাবঃ প্রতিটি রেড ভলেন্টিয়ার্সকে বিমা করিয়ে দিতে হবে

ফলাফলঃ ‘সিপিআইএম দেশপ্রিয় নগর এরিয়া কমিটির পক্ষ থেকে আমাদের ১০ জন রেড ভলেন্টিয়ারকে ৫ লক্ষ টাকা করে মেডিক্লেইম করিয়ে দেওয়া হলো তাদের সুরক্ষার জন্য’। আমি ব্যক্তিগত ভাবে অভিনন্দন জানাই ওই নেতৃত্বদের

৫) এই বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়েরা নিজেরা সংক্রমিত হয়ে গেলে এদের চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ করাবার কোনো পরিকল্পনা কে নেবে? পার্টি কি দায়িত্ব নিয়েছে?

প্রস্তাবঃ পার্টি দায়িত্ব নিক

ফলাফলঃ SFI DYFI এর পক্ষ থেকে সরকারের কাছে লিখিত প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে প্রত্যেক রেড ভলেন্টিয়ারকে বিনামূল্যে টিকাকরনের জন্য। (যদিও আমি নিজে এই সিরাম ইন্সিটিটিউশনের টিকার মান নিয়ে যথেষ্ট সন্দিহান, এ নিয়েও আমার বিস্তারিত লেখা আছে)

৬) ফেসবুকে এই খয়রাতি শ্রমের স্বপক্ষে যারা ক্রমাগত লিখছেন- তাদের কজনের ছবি দেখেছেন রাস্তায় দৌড়াতে? শুধান- আপনি কয়টি স্থানে গেছেন? আপনার বাড়ির কতজন রেড ভলেন্টিয়ার্স । রাজ্য কমিটি, জেলা কমিটি দূরের কথা, এরিয়া কমিটির কতজন সিনিয়র সদস্যের ছেলেমেয়েরা রেড ভলেন্টিয়ার্স এর সাথে যুক্ত, যারা মাঠে নেমে সরাসরি করোনা রোগীদের ঘরে/বাড়িতে যাচ্ছেন! এবারে প্রশ্নটা নিজেকে করুন, উত্তর পেলে নিজের সন্তানকে কেন নামাননি সেই জবাবটা দেবেন দয়া করে

প্রস্তাবঃ নেতারা রাস্তায় নামুন, আপনাদের সন্তানকেও রেড ভলেন্টিয়ার্স হিসাবে নামিয়ে বাকিদের উৎসাহিত করুন

ফলাফলঃ কমরেড তাপস সিনহা, কমরেড তন্ময় ভট্টাচার্য, কমরেড দীপ্সিতা ধর, কমরেড নিহার ভক্ত সহ এমন অনেক নেতাই রাস্তায় নেমেছেন। কোলকাতা জেলা কমিটির এক নেতা অশোক ভাণ্ডারি তাঁর পুত্রের রেড ভলেন্টিয়ার্সের কার্ডটির ছবি দিয়েছেন গর্বের সাথে। এগুলো ভীষণ সাধু পদক্ষেপ। কিন্তু এটা এখনও সীমাবদ্ধভাবে রয়েছে, এটা আর বৃহত্তরভাবে ছড়াতে হবে

৭) দাবীঃ- গণসংগঠনকে রেড ভলেন্টিয়ারদের সহযোগিতা করতে হবে

ফলাফলঃ মহিলা সমিতির পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া এসেছে, তারাও শীঘ্রই সামিল হবে

কিন্তু এখনও কয়েকটি দাবী আছে, যেগুলো পূরণ হয়নি। আশা করছি- সেই ক্ষেত্রগুলোতেও অবিলম্বে কাজ শুরু হবে

১) সমস্ত গ্রামাঞ্চলে রেড ভলেন্টিয়ার্স সার্ভিস পৌঁছে দিতে হবে

এখনও অবধি যারা ভলেন্টিয়ারি সার্ভিস দিয়েছে, কোলকাতা ও তার শহরতলীর বাইরে অন্য কর্পোরেশনগুলোতে মূলত মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্তদের অক্সিজেন পৌঁছে দিয়েছে। জেলা সদর ও মফঃস্বলে মূলত ওষুধ, বাজারহাট তথা খাদ্যদ্রব্য পৌঁছে দিয়েছে। আর গ্রামে সামান্য কয়েকটি স্থানে বাড়ি স্যানেটাইজ করার বাইরে মূলত মড়া পুড়িয়েছে

দাবীঃ এখনও ‘শ্রেণীর’ কাছে রেড ভলেন্টিয়ার্স সার্ভিস পৌঁছাতে পারেনি, এটা পৌঁছে দিতে হবে নানান আঙ্গিকে। পশ্চিমবঙ্গের গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ এবং জঙ্গলমহলে রেড ভলেন্টিয়ারদের আরও দক্ষতার সাথে ব্যবহার করতে হবে। সামনে বর্ষা, গরীবের রোগবাগ বিপদ-আপদ বেশি হয়, এখানেই আসল পরীক্ষা রেড ভলেন্টিয়ারের

২) ভলেন্টিয়াররা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে, তারা যেকোনো সময় অসুস্থ হতেই পারে। এক-দু’জনের জীবনহানিও হয়েছে

দাবীঃ প্রতিটি মহকুমা হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতাল, কোলকাতা, তৎসংলগ্ন শহরতলীর বড় হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে কমপক্ষে ২-৫ টা পর্যন্ত বেড- ভলেন্টিয়ারদের জন্য স্পেশালি সংরক্ষণ করতে হবে

কোনো ভলেন্টিয়ারের জীবনহানী হলে সরকার থেকে কমপক্ষে কুড়ি লক্ষ টাকা তার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং তার পরিবারের একজন সদস্যকে যেকোনো সরকারি দফতরে পার্মানেন্ট চাকরির ব্যবস্থা করে দিতে হবে

৩) অধিকাংশ রেড ভলেন্টিয়ারই ছাত্রযুব, এরা প্রতিযোগিতামূলক সরকারি চাকরির পরীক্ষাতে বসে। অধিকাংশ পরীক্ষার ইন্টারভিউতে ‘extracurricular activities’ উপরে একটা নম্বর থাকে। এই কোভিড মহামারীকালে রাস্তায় থেকে মানুষের পাশে থাকার চেয়ে বড় extracurricular activities আর কী হতে পারে?

দাবীঃ সরকারকে সার্টিফিকেট ইস্যু করতে হবে, যা সর্বভারতীয় পরীক্ষার ক্ষেত্রে কাজে আসবে

৪) বিষয়টা থেকে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক লাভ নিতে হবে

দাবীঃ ABTA, মহিলা সমিতি ও লোকাল কমিটিকে কাজে লাগিয়ে নিয়মিত ডেটা কালেক্ট করে সেগুলো সেন্ট্রালি প্রিজার্ভ করে রাখা হোক। কারণ আমরা কেউ জানি না, রেড ভলেন্টিয়ার্সের সুবিধা আমাদের সিপিআইএমের কোনো নেতা বা তার পরিবার পেয়েছে? পেলেও কতজন পেয়েছে? অধিকাংশ বিজ্ঞাপনই তো অপরাজিতা আঢ্য, দেবের আত্মীয়, তৃণমূল ফেসবুক গ্রুপের এডমিন, বিজেপি নেতার বউ, তৃণমূল MLA এর আত্মীয়- এই সব তথ্য সামনে এসেছে। আসলে আমরা যাদের পরিষেবা তথা স্বেচ্ছাশ্রম দিলাম- তারা আসলে কারা! এদের মাঝে কতজন গরিব, কতজন মধ্যবিত্ত আর কতজন উচ্চবিত্ত, কতজন বাম সমর্থক ইত্যাদি

৫) টোল ফ্রি নম্বরঃ- রেড ভলেন্টিয়ার দের কার্যকারিতা এবং জনগণের সচেতনতা উদ্দেশ্যে মানুষের সাথে জনসংযোগ বাড়াবার প্রয়োজনে পার্টির তরফে টোল ফ্রি নম্বর আশু প্রয়োজন

৬) গ্রামে গ্রামে সচেতনতা শিবির গড়ে তুলতে হবে। সাধারণ মানুষকে সরকারি পরিষেবা নেওয়ার ব্যাপারে উৎসাহী করে তুলতে হবে। এতে আমজনতা সরকারের কাছ থেকে বিনা পয়সায় চিকিৎসা-ঔষধ এবং বিনা পয়সায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সুযোগ পাবে। সরকারি পরিষেবা ও স্বাস্থ্য সাথী কার্ড আমাদের অধিকার, এটা কোনো দান নয়৷ এই অধিকার আমরা ভোটাধিকারের মাধ্যমে অর্জন করেছি- এই জিনিসটা সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচার করতে হবে। পরিষেবায় ব্যাঘাত হলে সত্বর সচেতনতা শিবিরে যোগাযোগ করার কথা বলতে হবে অথবা ঐ ‘টোল ফ্রি নম্বরে’ অভিযোগ করতে হবে

বিশদে এই পোস্টে রয়েছে-

https://www.facebook.com/story.php?story_fbid=148739867222980&id=104624104967890

৭) পিরামিডের চূড়া থেকে পাদদেশ- সামান্য কয়েকজন নেতা সহ তাদের ছেলেপুলেরা রাস্তায় নামলেও, অধিকাংশ জন আজও রাস্তায় নামেনি। ঠাণ্ডা ঘরে ফোনের ওপারে আর ফেসবুকে বিপ্লব না করে, অবিলম্বে তারা রাস্তায় নেমে সাধারণ ছাত্রযুবদের পাশে দাঁড়াক। এদের সকলকে সচেতনতা শিবিরগুলোতে বসিয়ে দেওয়া হোক মহিলা সমিতির কমরেডদের সাথে। এরা রোজ পালা করে শিবিরে বসে এরিয়া কমিটি, রেড ভলেন্টিয়ার্স ও জনগণের সাথে সমন্বয় সাধন করুক

৮) দেশের প্রথম সরকার হিসাবে কেরালার বাম সরকার- মাস্ক, পিপিই কিট, গ্লাভস ইত্যাদি চিকিৎসা সামগ্রীর দাম সস্তা করে তা নির্দিষ্ট দামে বেঁধে দিয়েছে। করোনার বিরুদ্ধে লড়াই এর জন্য মানুষকে অর্থনৈতিক ভাবে সুরক্ষা দিতে পেরেছে। যেখানে আমাদের রাজ্য সরকার করোনাকালে সকল ধরনের কালোবাজারি রুখতে ব্যর্থ, মানুষ চূড়ান্ত হেনস্থার শিকার। এ নিয়ে #keralamodel হ্যাশট্যাগ দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে আন্দোলনের ঝড় উঠুক। রাস্তাতেও মানুষকে বোঝানো হোক

তারাই প্রশ্ন করতে ভয় পায়, যারা লড়াই না করে অসদুপায়ে পদে বসেছে কিম্বা পার্টির সদস্যপদ হাসিল করেছে- সেই সব এঁটোকাঁটাকে আমি ‘আবহাওয়া’ বিষয়ে আলাপের যোগ্যও মনে করি না, আপনিও সেটাই করুন যাতে দলের মঙ্গল। পার্টি ও সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য লড়াইটা চালিয়ে যান কমরেড- ভিতর থেকে হোক বা বাইরে থেকে


ইনকিলাব জিন্দাবাদ

#redvolunteer 


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...