শহীদ কমরেড শ্রীবাস হালদার সম্বন্ধে কাল পর্যন্ত কোনো তথ্য সংগ্রহ করতে পারিনি। পার্টির তরফে বা রেড ভলেন্টিয়ারদের তরফেও কোনো অফিসিয়াল বিবৃতি আসেনি।
কোনো এক অজানা কারনে হঠাৎ করে ভাবনাস্থল গর্ভবতী হওয়ার কারনে অক্ষরের রূপে প্রসবিত কিছু প্রলাপের সংকলন এই ঠেক। গুনী লেখকের সমৃদ্ধশালী লেখনি পড়তে পড়তে, অক্ষমের প্রয়াসে কম্পিউটারের কিবোর্ডে হাত চলে যায়। ফল স্বরূপ, ঘটে চলা রাজনীতি, সমকাল, মানবিক বিকার, সময়চর্চা, ছ্যাঁচোর এর মত রিকেটগ্রস্থ লেখনীর জন্ম হয়। এরই রেশ ধরে সময়চর্চা, রবিবাসরীয়, সমকাল সহ রম্য, রচনা, গল্প ইত্যাদি ভুলভাল গুলোকে সংরক্ষিত করা হয়েছে এই টোলে। এটা সমমনষ্ক মানুষদের ভাব বিনিময়ের স্থান। উন্মাদের টোলে সকলকে স্বাগতম জানাই।
মঙ্গলবার, ২৫ মে, ২০২১
শহীদ কমরেড শ্রীবাস হালদার- রেড ভলেন্টিয়ার
আমাদের অমূলক আশঙ্কাকে সত্য প্রমাণ করে আজকের গণশক্তির ৫ নম্বর পাতা গোটাটাই প্রায় রেড ভলেন্টিয়ারর্সের জন্য বরাদ্দ থাকলেও, সেখানে হতভাগ্য 'রেড ভলেন্টিয়ার' কমরেড শ্রীবাস হালদার নিজের জন্য শহীদ শব্দটুকুও বরাদ্দ করাতে পারেননি। না সিপিআইএম দলের পক্ষে ওয়েবসাইট বা সোস্যাল মিডিয়াতে কোনো শোকবার্তা বরাদ্দ হয়েছে।
রেড ভলেন্টিয়ারগিরির দরুন- ব্যর্থ সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা পুঞ্জীভূত গণক্ষোভ প্রশমিত হচ্ছে এই স্বেচ্ছাশ্রমদান মূলক অরাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে। কিন্তু বিনা চিকিৎসায় প্রাণ হারাচ্ছে, প্রান্তিক শ্রেণীর কমরেড।
আরও নিকৃষ্টতম, ঘটনাটা ঘটার পরেই- যারা ঠাণ্ডাঘরে বসে সবচেয়ে বেশি উৎসাহ দিচ্ছিল, তারাই আজ দায় ঝেড়ে ফেলার জন্য নানান অপচেষ্টা শুরু করে দিয়েছে।
প্রথম বিপ্লবী- "রেড ভলান্টিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির কোনো ওপর থেকে নির্দেশ আসার পরে তৈরি সংগঠন নয়। রেড ভলান্টিয়াররা তৈরি হয়েছে নিজেদের অঞ্চলেই। নিজেরা সংগঠিত হয়েই তৈরি...."
দ্বিতীয় বিপ্লবীঃ "রেড ভলেন্টিয়ার কোনো ম্যাণ্ডেটারি এক্টিভিটি নয়, পার্টি এটা করতে বলেনি। পার্টির শক্তি তলানিতে, তাই এটা ব্যক্তিগত স্তরের উদ্যোগ......."।
এই লিস্ট লিখতে থাকলে তা শেষ হবে না। এর মধ্যে 'থান, আধলা, ডেরি' সব নেতারা যেমন চলে আসবে- তেমনই স্বঘোষিত সোভিয়েত বিপ্লবীর দল, ভিয়েতনামের কঞ্চি চিবিয়ে খাওয়া যোদ্ধার দল, হাভানা চুরুটে সুখটান মারা গেরিলা যোদ্ধাদের দল.... কে নেই তাতে!
এরাই 'প্রশিক্ষণ ও সুরক্ষা' হীন হয়ে, আবেগি গল্প ফেঁদে গরীবের শিক্ষিত ছেলেগুলোকে ময়দানে নামিয়ে দিয়েছে- সাম্প্রতিক নির্বাচনে নিজের ব্যর্থতা থেকে পার্টির কর্মী সমর্থকদের দৃষ্টি ঘুরিয়ে দেবার লক্ষ্যে।
শহীদ কমরেড শ্রীবাস হালদার সম্পর্কের, 'কয়া পিএএস স্কুলের' শিক্ষিকা মাননীয়া রিম্পি ভৌমিক মহাশয়ার এক স্মৃতিচারনা শেয়ার করলাম। কমরেড হালদার ওই স্কুলেরই অস্থায়ী কর্মচারী ছিলেন।
এই স্কুলে প্রথম যেদিন পা রাখি, এই ছেলেটাই নতুন দিদিমণি বলে স্টাফ রুমে নিয়ে গেল। একটা হাফ প্যান্ট পরে স্কুলের উঠোনে মাটি খুঁড়ছিলো। হ্যাঁ এই আমাদের শ্রীবাস, এতদিন আমাদের মধ্যে ছিল,আজ সকালে দিনের আলোতেই আকাশের তারা হয়ে গেল।
আমি আসার ও অনেক বছর আগে থেকেই কয়া পিএএস হাই স্কুলের সাথে ও জড়িয়ে ছিল। স্কুলের ভোকেশনাল স্টাফ হয়েও,অফিসিয়াল, নন অফিসিয়াল সমস্ত দায়িত্ব পালন করতো।মিড ডে মিল থেকে কন্যাশ্রী কি ছিল না ওর দায়িত্বে। আর আমরা টিচার রাও ওর ওপরেই ছিলাম সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল।
সেই শ্রীবাস,ছেলে মেয়েদের শ্রীবাস দাদা, শ্রীবাস কাকা মাত্র 30 বছর বয়সে আজ না ফেরার দেশে চলে গেল।
স্কুলে সবার আগে পৌঁছে যেতাম বলে 10 টায় এসে গেট খুলে বসে থাকতো। ফ্যান চলছে না তো শ্রীবাস। কিছু খুঁজে পাচ্ছি না তো শ্রীবাস,স্পোর্টস এর মাঠ থেকে সরস্বতী পুজো,পরীক্ষার হল থেকে স্কুলের অনুষ্ঠান শ্রীবাস তোকে ছাড়া অচল।
স্কুল খুললে আর তোকে দেখতে পাবো না। আমি সিকিমে ঘুরছি,তুই ফোন করে বললি ম্যাডাম এবার ছুটি পাবেন ই পাবেন, ফোর্সের চিঠি এসে গেছে।
আর কোনো আনন্দ আমরা পাবো না রে। একসাথে পাত পেরে বসে মাংস ভাত ও খাওয়া হবে না। আমাদের কত আবদার তুই পূরণ করেছিস, কিন্ত নিজের শরীরের আবদার পূরণ করতে পারলি না।
কি আর বলবো, যেখানেই আছিস ভালো থাকিস, শান্তিতে থাকিস।
তোর অবদান কয়া স্কুল কোনোদিন ভুলতে পারবে না।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না
⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...
-
(১) জাতীয় ডিম্ভাত দিবস ১৯৯৩ সালের ২১শে জুলাই এর জমায়েত কী উদ্দেশ্যে হয়েছিলো জানেন? তোলামূলের রাজ্যে না জানাটাই আপনার অধিকার। ভোটার তাল...
-
ছোটবেলায় বাবা বলতেন "শাগ খেলে বাঘের বল"। যদিও তিনি ওটাকে শাকই বলতেন আমরা কচি কানে বাঘের সাথে মিলিয়ে শাগ শুনতাম। এহেন পরিস্থ...
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন