আনন্দবাজারের ওয়েব লিঙ্কে একটা পোস্টার দেখলাম। সেখানে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় জমায়েত বন্ধের জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। মুদিখানা, মিষ্টির দোকান আংশিক খুলে রাখার সিদ্ধান্তের জন্যও ধন্যবাদ জানাই।
কেরল,তামিলনাড়ু পশ্চিমবঙ্গে একসাথেই নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হয়েছে। ওখানেও মুসলিম আছে। সেই সরকারগুলো আগেই লকডাউন ঘোষণা করেছিল। বাংলায় ঈদের পরের দিন ঘোষণা হলো। এভাবেই বিজেপিকে বাড়তে বারবার সুবিধা করে দেওয়া হচ্ছে কেন?
WHO কিন্তু সরকারিভাবে ঘোষনা দিয়েছিল, লকডাউন কোনো প্যান্ডেমিকে সমস্যার সমাধান করেনা, লকডাউন একটা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত ছিল অর্থনীতির জন্য। যদিও WHO প্রচুর ভুলভাল বলে, কিন্তু এই ক্ষেত্রে সুইডেনের মত অনেক দেশ সেটা প্রমান করে দেখিয়ে দিয়েছিল- লকডাউন করোনার সংক্রমণ রোধে কোনো কার্যকরী নয়, এটাতে পুঁজিপতিদের মুনাফা গুনিতক হারে বাড়ে।
আজিম প্রেমজি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক তথ্য সহ দাবি করেছেন যে, গত লকডাউন এর কারণে দেশের ২৩ কোটি জনগণ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। এই তো দেশের জনগনের আর্থিক পরিস্থিতি।
তার পরেও লকডাউনের মত একটা সস্তা সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হলো?
➤ আসলে খেলা হবে শুনে যারা ভোট দিয়েছিলেন গত মাসে, ভোট মিটতেই খেলুড়ে সরকার তাদের নিয়েই খেলা শুরু করে দিল।
☞ লোকাল ট্রেন, বাস, মেট্রো, অটোসহ সব যানবাহন বন্ধ।
ব্যাঙ্ক আংশিক খোলা- কর্মীরা কীভাবে যাতায়াত করবে? কোনো ব্যাঙ্কে তো লজিং সিস্টেম নেই।
রাজ্যের প্রতিটি হাসপাতাল, স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা কীভাবে যাতায়াত করবে?
ফার্মাসিস্ট, প্যাথোলজিস্টরা কীভাবে যাতায়াত করবে?
পেট্রোল পাম্প খোলা ও জুটমিল ৩০% খোলা- এদের কর্মীদের যাতায়াত কীভাবে হবে?
যদি জুটমিল ৩০% খোলা থাকে তাহলে অন্য কলকারখানা কী দোষ করল?
জুটমিলের কাঁচামালই বা আসবে কীভাবে, আর ফিনিস গুডসই বা যাবে কোথায়?
নেই রাজ্যের সবেধন নীলমণি বেসরকারী কারখানা গুলো বন্ধ হলে, সেখানের শ্রমিকদের বেতন কে দেবে?
কারখানার মালিকেরা সকলেই কমবেশি ব্যাঙ্ক থেকে লোন নিয়েছে। তাদের কারখানা বন্ধ থাকলেও ব্যাঙ্কের সুদ তো বন্ধ থাকবেনা। NPA হয়ে লাটে উঠলে সে দায় কার?
অক্সিজেন রিফিলিং সেন্টার, প্রোডাকশন ইউনিট, সিলিন্ডার ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিট- এই তিনটে ইউনিট ১০০% চালু রাখাই শুধু নয়, বরং বাড়াতে হবে। এ বিষয়ে নির্দেশিকা কই?
বিভিন্ন ওষুধের ফ্যাক্টারি সেগুলোও কি বন্ধ থাকবে? বহু মফঃস্বলে ছোট ছোট কারখানাতে হেলথ টনিক, আয়ুর্বেদিক, কবিরাজি, ইউনানি, হোমিওপ্যাথি ওষুধ তৈরি হয় সেগুলোর কী হবে?
গ্রামে গ্রামে যে প্রাইভেট ও কোয়াক ডাক্তারেরা বসেন, সেগুলো সম্বন্ধে কোনো নির্দেশিকা কোথায়? তারা কীভাবে যাতায়াত করবে? তারা যাতায়াত না করতে পারলে লোক তো চিকিৎসাই পাবে না।
বিয়েবাড়িতে ৫০ জন অ্যালাও- এখন বিয়েবাড়ি কেন হবে?
আন্তঃরাজ্য পণ্য পরিবহন বন্ধ জরুরি পরিষেবা ছাড়া। তাহলে এই করোনা পরিস্থিতিতে পুষ্টির জন্য- মাছ, ডিম, পাতিলেবু, ডাল, সোয়াবিন ও ভিটামিন সি এর উৎস ফল কীভাবে রাজ্যে আসবে? কী খেয়ে প্রাকৃতিকভাবে স্বল্পমূল্যে রোগীর ইমিউনিটি বাড়বে?
উপরোক্ত আইটেমগুলো কি জরুরী পণ্যের মাঝে অন্তর্ভুক্ত আছে? থাকলে যে নির্দেশিকা আছে তার উল্লেখ কই?
মাছ ডিমের অভাব হলে, পোল্ট্রি, গরু ও শুয়োরের মাংসের দাম গরিবের নাগালের বাইরে চলে যাবে। তারা কী খেয়ে সস্তার প্রোটিনের ঘাটতি মেটাবে?
অর্থাৎ একটা ধোঁয়াসা পূর্ণ লকডাউন করে কালোবাজারিদের কাছে বার্তা দেওয়া হলো- আমরা খেলে নিয়েছি, এবার তোমাদের খেলার পালা।
রাস্তায় যে কয়েক হাজার রেড ভলেন্টিয়ার্স আর্ত মানুষের সেবায় নিবেদিত, যার পূর্ণ লাভ নিচ্ছে স্বাস্থ্য পরিষেবা দিতে ব্যর্থ সরকার। এই ভলেন্টিয়াররা কীভাবে যাতায়াত করবে? তাদের সরকারি পরিচয়পত্র না দিলে রাস্তায় পুলিশি হেনস্থার শিকার হলে- মানুষই তো ক্ষতিগ্রস্ত হবে ফ্রির পরিষেবা না পেয়ে। মৃত্যু মিছিল বাড়বে।
এই প্রশ্নগুলোর জবাব চান স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে। আর শুধান তাদের ভোট দেওয়া "খেলোয়াড়" ভোটারদের- কেমন এঞ্জয় করছেন সরকারি খেলা?
এত দিন খেলা হবে খেলা হবে শুনছিলাম, চলো এইবারে ১৫ দিনের টুর্নামেন্ট শুরু হয়ে গেছে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন