লেবাননের হিজবুল্লাহ নামের একটি গোষ্ঠীও সিরিয়া ও ফিলিস্তিনি সাধারণ মানুষকে সাম্রাজ্যবাদীদের আগ্রাসন, গণহত্যা থেকে নিরাপত্তা দেওয়ার স্বার্থে যুদ্ধ করছে সাম্রাজ্যবাদী ও তাদের দালালদের সাথে। যদিও অনেক ষড়যন্ত্রতাত্ত্বিকেরা বলে এই হামাস বা হিজবুল্লাহ নাকি জায়োনিস্টদেরই তৈরি, সে এক বিতর্কের বিষয়- যার সাপেক্ষে কোনো প্রমাণ নেই।
যাইহোক, হিজবুল্লার রকেটের মান হামাসের চেয়ে উন্নত, এরাও প্রতি মিনিটে বিপুল পরিমাণ ‘আনাড়ি রকেট’ দিয়ে 'আইরন ডোম'কে বিভ্রান্ত করেই দ্বিতীয় মিনিটের আক্রমণে সরাসরি 'আয়রন ডোম’কে টার্গেট করে। ইরানীয় ‘ইসলামিক রেভুলিউশনারি গার্ড’এর উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হতেই ‘আয়রন ডোম’ এর গল্প শেষ হয়ে যায়। প্রসঙ্গত ‘কাশিম সুলাইমানি’ ছিল ইরানের এই ইসলামিক রেভুলিউশনারি গার্ডের প্রধান, যাকে আমেরিকা খুন করে গত বছর।
আরা ও ইলন নামক স্থানের দুটো আয়রন ডোম ধ্বংস হয়ে যায় ১৮ই মে। দিশেহারা ইজরালের গাজা সীমান্তের পুঞ্জীভূত শক্তির অনেকটা অংশকে লেবানন ও জর্ডন সীমান্তে মোতায়েন করতে বাধ্য হয়, কারন মোসাদের কাছে হিজবুল্লার আক্রমণ নিয়ে কোনো তথ্য ছিলনা। ফলত গাজায় ইজরায়েলের আকাশ হামলার পরিমাণ কমে যায়। এই সুযোগে হামাস সমানে তার আনাড়ি রকেট হামলা চালিয়ে যেতেই থাকে, এবং মাত্র যে ১০% রকেট ইজরায়েলের মাটি স্পর্শ করছিল, তাতেই একাধিক সামরিক ঘাঁটি, শপিং মল, আবাসন সহ জনাকীর্ণ এলাকাতে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হওয়া শুরু হয়।
ইজরায়েলের সরকারী মুখপত্রে ঘোষণা করা হয়- ১১ দিনে গাজা থেকে প্রায় ৪০০০ মত রকেট ইজরায়েলের ভূমি লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল, যার ৯৫%কে আকাশেই ধ্বংস করে দেওয়া গেছে। কিন্তু সাহাম দাবী করে তাদের পক্ষ থেকে ছোড়া রকেটের পরিমাণ ছিল ১২ হাজারের কিছু বেশি, ইজরায়েল নিজেদের ব্যর্থতার লজ্জা বাঁচাতে মিথ্যা বলছে।
ইজরায়েল স্পষ্টভাবে স্বীকার করেনি তাদের দেশের নিউক্লিয়ার গবেষণা কেন্দ্র বিষয়ে, ‘বায়ো উইপনস’ গবেষণাগারগুলো দেশের ঠিক কোন প্রান্তে অবস্থিত এ বিষয়েও কিছুই খোলসা করে বলেনি। এরই মধ্যে ‘আইরন ডোম’কে বোকা বানিয়ে ইজরায়েলের ‘আসকেলন’ শহরের বিমানবন্দরে গিয়ে হাজির হয় এক দিকভ্রষ্ট আনাড়ি রকেট। বির’সেবা শহরের প্রান্তেও হামাসের একটি আনাড়ি রকেট পৌঁছে গেলে তারা প্রমাদ গুনতে শুরু করে দেয়। কিন্তু ১৯মে তারিখ রাত্রে একটি আনাড়ি রকেট তাদের রাজধানী তেল-আভিভের একটি গ্যাস স্টেশনে পৌঁছে ব্লাস্ট করলে গোটা রাজধানী শহর কার্যত আতঙ্কের চূড়ান্ত মাত্রায় পৌঁছে যায়। ইজরাইলের অস্ত্র ভান্ডার, সেনাছাউনি, অসামরিক-সামরিক বিমানবন্দরগুলোকে বাঁচাতে ইজরায়েলের পিছিয়ে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। আতঙ্কিত ইজরায়েলি যুদ্ধপ্রিয় নেতারা সহ জনগণ নিজেরা ক্ষতির মুখে পড়তেই, নিজেদের সরকার, গোয়েন্দাদপ্তর ও সেনার বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফেটে পড়তে শুরু করে, রাস্তায় বেড়িয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করে দেয়।
কিন্তু এটাই একমাত্র কারণ নয়, হামাসের আনাড়ি রকেট নিজেও জানে না সে কোথায় গিয়ে পড়বে- যদি সেই বিপুল রকেটের সমাহার থেকে একটাও ইজরায়েলের গোপন কোনো পারমাণবিক কেন্দ্র বা জৈব রসায়নাগারে পৌঁছে গিয়ে ফাটে, মুহূর্তের মধ্যে দেশটা গোরস্থানে পরিণত হবে। সুতরাং, অস্ত্রবিরতিতে যাওয়া ছাড়া কোনো দ্বিতীয় অপশন ছিল না তাদের কাছে।
ওদিকে মিশরের শাসক, মার্কিন পুতুল ‘আল-সিসি’ সরকারের প্রতিনিধি- দালালি করতেই নিজেদের নিয়োজিত করেছিল, কিন্তু সে দেশের মুসলিম ব্রাদারহুড ভীষণ শক্তিশালী একটি রাজনৈতিক সংগঠন, তারা গাজা সংলগ্ন উত্তর সিনাই সীমান্তের নিকটবর্তী অঞ্চলগুলোতে আহত ফিলিস্তিনিদের চিকিৎসার জন্য সমস্ত হাসপাতালগুলো উন্মুক্ত করে দেয়, এবং আফ্রিকার নানান ইসলামিক সংগঠনের তরফে পর্যাপ্ত ডাক্তার ও ওষুধের ব্যবস্থাও করে অস্থায়ী হাসপাতাল বানিয়ে ফেলে। পাশাপাশি যুদ্ধের অষ্টম দিনে হুঁশিয়ারি দেয়- ইজরায়েল না থামলে এবার মিশরের ভূমি থেকেও রকেট হামলা করা হবে। বন্ধুহীন ইজরায়েল চক্রবূহ্যে আঁটকা পড়ে যায়।
এই অবস্থায় যুদ্ধের নবম দিন সকালে ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর অফিসিয়াল টুইটার একাউন্ট থেকে ঘোষণা করা হয় আমাদের- ৯০০০ পদাতিক সেনা তৈরি রয়েছে, যারা খুব শিগগিরই ময়দানে নামবে। ২০১৪ এর অভিজ্ঞতা থেকে গোটা বিশ্বের পাশাপাশি হামাস বা হিজবুল্লাহ জানে- এটা হচ্ছে অসহায় ইজরায়েলের একান্ত নিজস্ব ক্ষমতার শেষ খড়কুটো। এর পরেই ন্যাটো বা আমেরিকা বাপকে প্রয়োজন। সুতরাং দ্বিগুণ উৎসাহে হামাস তার প্রতি আক্রমণ চালিয়ে যায়।
ইজরায়েললি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এমন একটা জায়গায় পৌঁছে গেছিল, যে জায়গা থেকে তারা ফেরার জায়গা ছিল না- ওদিকে তার রাষ্ট্রপতিই তার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। এই পরিস্থিতিতে আপাতদৃষ্টিতে আমেরিকা ‘প্রধানমন্ত্রী না রাষ্ট্রপতি’ কার পক্ষ নেবে- সিদ্ধান্তে না আসতে পারার দরুন, এমনকি মুখেও সেই অর্থে হম্বিতম্বিটুকুও না করাতে ইজরায়েল কার্যত একা হয়ে যায়।
এদিকে সিরিয়াতে থাকা রাশিয়ান সেনার উপরে ইজরায়েলি ‘এরিয়াল’ হামলার কারনে রাশিয়া যারপরনাই খাপ্পা ইজরায়েলের উপরে। গত দশকের শুরুতে সিরিয়ার বিদ্রোহীদের অর্থ আর অস্ত্র দিয়ে ‘আসাদ সরকারের’ বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভায়া ইজরায়েল। এখন সেই বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোই নিজেরা প্রাদেশিক সরকার বানিয়ে অঞ্চল দখল করে বসে আছে, যেখানে না আসাদের প্রবেশাধিকার রয়েছে- না আমেরিকা তথা ইজরায়েল। বর্তমানে ওই সকল বিদ্রোহী সিরিয়ান গোষ্ঠীগুলোর রোজগারের মূল জাইগা- তেলের ট্যাঙ্কার লক্ষ্য করে নিয়মিত দুরপাল্লার রকেট হামলা চালায় ইজরায়েল বিনা কারনে। যার জন্য এরাও ইজরায়েলকে বাগে পেতেই তারা অস্ত্র ও অর্থ সাহায্য পাঠাতে থাকে হামাসকে।
ওদিকে আন্তর্জাতিক দৌত্যর অ্যাডভান্টেজ যদি কেউ পেয়ে থাকে, সেটা ফিলিস্তিনিই পেয়েছিল এইবারে। ইরান শুরু থেকেই হামাস বা হিজবুল্লাহদের সমর্থন দিয়ে আসে, তার সামান্য প্রকাশ্যে বাকিটা গোপনে। এবারে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান নিজে থেকে উদ্যোগ নিয়ে বিভিন্ন মুসলিম দেশগুলোকে একত্রিত করার যে প্রচেষ্টা করেছিল, তাতে তারা কূটনৈতিকভাবে সফলতা অর্জন করেছে বলা যেতেই পারে। একসময় ব্রিটিশরা ছিল মধ্যপ্রাচ্যে শেষ কথা, তাদের লেজ ধরে অন্যান্য পশ্চিমা ইউরোপের দেশগুলো শোষণ চালাত, পরে আমেরিকা তাদের একচ্ছত্র দাপট দিয়ে এলাকা দখল করে নেয়। সোভিয়েতের পতন হতে ৯০ এর দশক থেকে শুরু হয় লাগামহীন মার্কিনি দাদাগিরি ও অত্যাচার।
মার্কিন মদতে ঘটা ২০১১ এর তথাকথিত ‘আরব বসন্তের’ দূষিত বাতাস ব্যর্থ প্রমাণিত হতেই- মধ্যপ্রাচ্যের জনগণের মার্কিন মোহ কাটতে শুরু হয়। ততদিনে চীন বৃহত্তর শক্তি হিসাবে এই অঞ্চলে ঢুকে পড়েছে, রাশিয়াও নতুন করে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে- এদের চেয়েও মার্কিনিদের জন্য সবচেয়ে বড় ভয়ের কারণ হয়ে উঠেছে তুরস্ক- যারা গত শতক পর্যন্ত দীর্ঘ ৭০০ বছর ধরে রাজত্ব করেছিল এইসব অঞ্চলে। সেই তুরস্ককে চীন ও রাশিয়ার সাথে দৌত্য করতেই মার্কিন প্রশাসন সিঁদুরে মেঘ দেখে।
খালি চোখে দেখে মনে হয়েছিল, এরদোয়ানই বোধহয় জর্ডন এবং ইরাকের বিমানঘাঁটি গুলো ব্যবহার করে ইসরাইল উপর আক্রমণ হানার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিল। কিন্তু কুয়েতের আমির ঘনিষ্ট পার্লামেন্ট সদস্য ‘আবদুল্লাহ নাফেসির’ একটা টুইটে গোটা মধ্যপ্রাচ্য সহ আমেরিকা ও ইজরায়েলে ভয়ানক আলোড়ন সৃষ্টি হয়ে যায়। টুইটটির দাবী অনুযায়ী- পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর তরফে সেনা পাঠানোর সবুজ সিগনাল পাঠানো হয়েছিল, সেই মোতাবেক যুদ্ধের নবম দিনে পাকিস্তানি সেনার চিনা যুদ্ধবিমানের তিনটি বহর ইরাক ও জর্ডনের ৫টি সামরিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।
চিন সরাসরি নিজে না লড়ে, আসলে পাকিস্তানকে লেলিয়ে দিয়েছিল। কিছুদিন আগেই পাকিস্তানি সেনাপ্রধান ইরাক সফরে গিয়ে সেদেশের সেনার সাথে বেশি কিছু সামরিক চুক্তি করে আসে। এর ফলে সৌদি আরব ও আরব আমিরাত প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রদর্শন করলেও তাঁর বেশি আর এগোতে পারেনি, তখনই বোঝা গেছিল, এর পিছনে চিনের মদত ছাড়া এটা সম্ভব ছিলনা। অর্থাৎ সাপের ছুঁচো গেলা পরিস্থিতি হয়েছিল ইজরায়েলের জন্য।
এক্ষেত্রে অর্থনীতি একটা বড় ভূমিকা কাজ করেছে যুদ্ধ থামিয়ে দিতে।
প্রথমত, অর্থনীতির কারণেই এবারে মার্কিনিরা আগবাড়িয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েনি, তাদের আভ্যন্তরীণ মাথাপিছু ঋণ বিপুল, সেদেশও বর্ণবাদ ও বেকারত্ব সমস্যায় জর্জরিত। এর সাথে গোটা বিশ্বের মতো মধ্যপ্রাচ্যেও বিপুল পরিমাণে আর্থিক লগ্নি করে রেখেছে চীন। আমেরিকার সঙ্গে চীনের সংঘাত কোন গোপনীয় গল্প নয়, আমেরিকা যদি সরাসরি ইজরাইলের পক্ষ নেয় সেক্ষেত্রে চীন তুরস্ককে দিয়ে ফিলিস্তিনি জোটের পক্ষ নেবে না এ কথাও জোর দিয়ে বলা যাবে না। প্রত্যক্ষভাবে মার্কিন হামলা মানে সরাসরি চীনের সম্পত্তির উপরে হামলা, অবধারিতভাবে যুদ্ধ বাঁধলে চীন তাদের মিত্রদেশ হিসাবে ইরান ও তুরস্কের পাশে দাঁড়াবে। এদের সাথে রাশিয়াও ঝাঁপিয়ে পড়বে মার্কিনিদের বাগে পেয়ে। সুতরাং এই চার শক্তিধর দেশকে অগ্রাহ্য করার শক্তি মার্কিনিদের ছিল না।
আর ঠিক এই কারণেই, প্রতিবার যেরকম ঘুঘুতে ধান খেয়ে ধানের ‘গোলা’টা নিয়েই পালিয়ে যায়, এবারে ইজরাইলের পক্ষে সেই জিনিসটা হয়নি। তাদের গোয়েন্দা ব্যর্থতার চরম মূল্য দিতে হয়েছে। ‘টাইমস অফ ইজরায়েল’ নামের সংবাদপত্র লিখেছে- এটা অপরিকল্পিত যুদ্ধ ছিল, নেতানিয়াহুর একান্ত সিদ্ধান্তে। প্রতিদিন যুদ্ধ চালাবার খরচ ছিল ভারতীয় মুদ্রায় ৩৫০ কোটি টাকার উপরে। এর সাথে বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ও আনুসাঙ্গিক খরচা মিলিয়ে এই ১১ দিনের যুদ্ধে ১৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি খরচা হয়ে গেছে, যা তাদের দুঃস্বপ্নেও ছিল না। মোটকথা চারপাশের সাঁড়াশি আক্রমণে নাস্তানাবুদ হয়ে একপ্রকার রণে ভঙ্গ দিয়েছে কাগুজে বাঘ ‘ইজরায়েল’।
ইজরাইল সারা বছর যে কাজটা করে সেটা হচ্ছে, প্রতিবেশী দেশগুলোতে নিয়মিত অশান্তি লাগিয়ে রাখা। গুপ্তহত্যা, সরকার বিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে ঘুষ দেওয়া, বিচ্ছিন্নতাবাদী ও মৌলবাদী সংগঠনগুলোকে অস্ত্র ও অর্থ সাপ্লাই করা ইত্যাদি। এসবের মাধ্যমে রাজনৈতিক অশান্তি সৃষ্টি হলেই সেখানে আমেরিকার এন্ট্রি ঘটে ও তাদের নিয়ন্ত্রিত পুতুল সরকার বসিয়ে দেয়। এর ফলে ইজরায়েলের সকল পড়শি দেশগুলো কার্যত তাদেরই নিয়ন্ত্রণে রয়ে যায়। রাষ্ট্রপুঞ্জও হিজড়া সেজে থাকে যতক্ষণ না ইজরায়েল আক্রান্ত হয়, তাই তারাও রেকর্ডেড বুলির বাইরে কিছুই বলেনি বা করেনি শুরু থেকে।
শেষ দশ বছরে যদি আমেরিকার সাফল্য দেখা হয় তাহলে তার ঝুলিতে শুধুই শূন্যতা আর হাহাকার ছাড়া কিছু নেই। কাতার হাতছাড়া হয়েছে, সিরিয়া থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছে, লিবিয়া থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে, ইরাক থেকে বিতাড়িত হয়েছে, আফগানিস্তান থেকে পাত্তাড়ি গুটিয়েছে। এমনকি আফ্রিকার বহু দেশ এবং মধ্যপ্রাচ্যের হরেক দেশ থেকে তাবু গুটোতে বাধ্য হয়েছে যে জায়গাগুলোতে একসময় একচ্ছত্রভাবে ব্যবসা করত। ইউরেশিয়াতে আজারবাইজান- আর্মেনিয়া যুদ্ধ ঘটল, আমেরিকার নামটুকু উচ্চারিত হয়নি সেখানে, এমনই অপ্রাসঙ্গিক অবস্থায় চলে যাচ্ছে মার্কিনি ঔদ্ধত্য। এমতাবস্থায় সরাসরি যুদ্ধ ছাড়া নিজেদের হারানো জমি পুনরুদ্ধার করা আমেরিকার পক্ষে অসম্ভব, বরং চীন-রাশিয়া-তুরস্ক-ইরানের উত্থানে তাদের পতনও ক্রমশ ত্বরান্বিত হবে। আর যদি একান্তই যুদ্ধ হয়, তাহলে সেটা অবশ্যম্ভাবীভাবে বিশ্বযুদ্ধই হবে।
…ক্রমশ
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন