শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২০

নোট বন্দি খেলা- রহস্যটা কোথায়?

 



ব্ল্যাক মানি’র গল্প শুনিয়ে তথা অসদুপায়ে উপার্জিত অর্থকে নিয়ন্ত্রণ করার নামে ২০১৬ সালে ভক্ত সম্রাট মোদীজি নোট বন্দি করেছিলেন সে সময় কোটি কোটি টন নিউজ প্রিন্ট সহ, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া হোক বা সোস্যাল মিডিয়া- সর্বত্র হাহাকার পরে যাওয়া বিভিন্ন ধরনের বিষয়গুলো সামনে এসেছিল পক্ষে বা বিপক্ষে। অবশ্য এমন অবিবেচকের মত কোন উদ্দেশ্যে কিছু (মোট জন সংখ্যার ১-২% বড়জোর) অসাধু ব্যবসায়ী-আমলা- রাজনীতিবিদদের জন্য দেশের আমজনতা কেন এই চরম নারকীয় ভোগান্তির শিকার হবে!

প্রশ্ন করতে গেলেই “হামারে জাওয়ান সিয়াচেন মে লড় রাহা হ্যায়” জাতীয় কথাবার্তা সামনে আনা হয়েছিল বিজেপির প্রোপাগান্ডা মেসিনারি দ্বারা, এবং নাগপুর নিয়ন্ত্রিত দিল্লি কেন্দ্রিক টেলিভিশন সংবাদ মাধ্যমের দ্বারা। সেই সময়ে আমি বহুবার বলার চেষ্টা করেছিলাম- এখানে একটা দীর্ঘমেয়াদী ষড়যন্ত্র রয়েছে। জানিনা সে সময় কতজনের মাথায় ঢুকেছিল, আমাকে পাগল ছাগল ভাবেনি এমন মানুষের সংখ্যা বেশি ছিল

গোটা বিশ্বজুড়ে ওয়াল্ড অর্ডার নামে যে বিষয়টা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছে তার অন্যতম কান্ডারী বিল গেটস তা আজ প্রমানিত সত্য, গত করোনাকালে সময়ে আমরা না ভাবে এই বিল গেটসকে দেখেছি চিকিৎসা ব্যবসায়ী কিভাবে পয়সা লাগিয়েছে আপনার আশ্চর্য হয়ে যাবেন যদি একটু নিজেরাই গবেষণা করেন তাহলে দেখতে পাবেন আশি খানা দেশের সরকার যারা এই এক বিশ্ব শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এগোচ্ছে তাদের মূল ফাইন্যান্স স্যার হচ্ছে বিল গেটসএদের উদ্দেশ্য কি উদ্দেশ্য একটাই মানুষের সম্পদকে নিয়ন্ত্রণ করা? ২০১৬ এর আগে UPI কোন বিষয় আমাদের কোথাও ছিল না অথচ আজকে দিনে দাঁড়িয়ে ইউপিআই ছাড়া google pay ফোন-পে ইত্যাদি বাদ দিলে জীবনটাই যেন অন্ধ হয়ে যায়. এটা করে আমাদের সুবিধা হয়েছে বিস্তর কিন্তু তলে তলে ক্ষতির পরিমাণটাও কম কিছু নয়

আগে আপনার হাতে সম্পদ থাকলে আপনি সেটা দেখতে পেতেন, আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকতো আজকে এই 500 টাকা আর হাজার টাকা ডি-মনিটাইজেশনের মাধ্যমে আপনার কাছে আপনার মনে ভয় ঢুকিয়ে দিয়েছে ক্যাশ টাকা রাখা দেবে যাবে না শিকারি সেটারই সিকুয়েল হিসেবে আজ ২০০০ টাকার নোটও ব্যান করে দেয়া হলো এতে করে মানুষ আরো ডিজিটাল কারেন্সির দিকে ঝুঁকে যাবে সেদিন খুব বেশি দূরে নয় যেদিন সরকার চাইলেই আপনার একাউন্ট ব্লক করে দেবে। রাতারাতি ফকির হয়ে যাবেন কয়েক মুহূর্তে হ্যাকিং এর নাম করে যেকোনো দাদাগিরি কোন সংস্থা আপনার অ্যাকাউন্ট জিরো করে দিতে পারে, কারণ আপনার কাছে সম্পদ বলতে খাওয়া দাওয়া সামান্য টাকা আর একটা বাড়ি গাড়ি

সম্পত্তি হিসেবে স্থাবর কিছু, যদি না সেগুলো লোনে থাকে বাকি সবকিছুই কিন্তু অ্যাকাউন্টে ছিল এবার আপনাকে দিয়ে যা খুশি কুড়িয়ে নেওয়া যাবে, কারণ আপনার সমস্ত সম্পদ স্বীকৃত সরকার দাড়া কোন একটা বিশেষ গোষ্ঠী আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করছে বা করবে সেই দিনটা খুব বেশি দূরে নয় হয়তো আগামী ১০ বছর, ততদিনে যাবে কিনা সন্দেহ আজকের এই কথাগুলো সেদিন চোখের সামনে ফলতে দেখবেন। তাই অনুরোধ করব অর্থ যদি আপনার থেকে থাকে সেটাকে স্থাবর সম্পত্তিতে কনভার্ট করে ইনভেস্ট করুন জমিতে ইনভেস্ট করা সবথেকে ও সহজ কিন্তু এর বাইরেও একটা সত্য আছে যেটা লাগতে পারে ফানি কিন্তু সোনা মজুদ করার চেয়ে ভালো অপশন আর কিচ্ছু নেই কিচ্ছু নেই

আগামী দিনে বিশ্বপ্রভুদের একটা গোষ্ঠী সরকারকে কেন্দ্র করে শ্রমজীবী মানুষের উপরে কি পরিমান যে যথেচ্ছাচার চালাবে সেটা আজকের দিনে স্পষ্ট এরা পেপার কারেন্সির মাধ্যমে সর্ব প্রথমে নিজেরা সোনা মুদ্রা হস্তগত করে নিয়ে আপনার হাতে কাগজ ধরিয়ে দিয়েছিল এরপরে প্লাস্টিক মানি তারপরে বুলি বা বন্ড আর এখন সংখ্যা এরপর সংখ্যা তো যে কোন মুহূর্তে জিরো হয়ে যেতে পারে। তাই এর পিছনের কন্সপিরেসি খুব ঠান্ডা মাথায় না বুঝলে আপনার আগামী প্রজন্মের জন্য আপনি হাহাকার ছাড়া কিছু রেখে যাবেন না

হয়তো বলবেন সকলের যা হবে আমারও তাই হবে, কিন্তু না গরিব খেটে খাওয়া মানুষ তারা যারা দিন আনে দিন খায় তাদের খুব একটা অসুবিধা হবে না কেননা তাদের মজুদ সঞ্চয় বলে কিছু নেই, কিন্তু আপনি আজকে গোটা জীবন ধরে যেটা সঞ্চয় করলেন কালকে সরকারকে শিখন্ডী বানিয়ে বিশ্বপ্রভুদের একটা অংশ আপনার সেই কষ্টার্জিত অর্থ ভোগ করবে অথবা আপনাকে দিয়ে এমন কাজ করাতে বাধ্য হবে যা আপনি কখনো চান না আর এই ফাঁদ থেকে বাঁচার কোন অপশন নেই, আপনাকে ডিজিটাল কারেন্সিতে ঢুকতেই হবে, সে আপনি চান না চান

আমি আপনাকে প্রেসক্রাইব করব ব্যাংকে ততটুকু টাকায় রাখুন, যতটুকু না রাখলে নয় বাকিটা সোনা বা ওই জাতীয় সম্পদ এবং স্থাবর সম্পত্তিতে কনভার্ট করে ফেলুন বাকিটা আপনার মর্জি আমাদের স্মরণকালের মধ্যেই কিন্তু ২০০০ নোট এর জন্ম হয়েছিল, পরবর্তী ইউপিআই এর প্রচলন, সেটার ব্যাপকভাবে প্রসারের জন্য করোনা নাম দিয়ে প্রোপাগান্ডা এবং আজ ২০০০ নোট সুতরাং সময় খুব দ্রুত গতিতে চলছে, এই গতি রোজ আরো ত্বরান্বিত হবে আপনি নিজেই দেখে যাবেন এদের চক্রান্তটা, কিভাবে আপনাকে সর্বস্বান্ত করার জন্য করা ছিল

বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২০

২১শে বামফ্রন্টঃ নিয়মাবলী

 


২১শে বামফ্রন্ট

 কি ও কেন?

ফ্যাসিবাদী, সাম্রাজ্যবাদী রাজনৈতিক শক্তিগুলো বর্তমানে রাজ্য ও দেশের ক্ষমতাতে, সাম্প্রদায়িক বিষ দ্বারা সমাজের বুকে বিভাজন ঘটিয়ে সংসদীয় রাজনীতির ‘ভোটব্যাঙ্ক’ রাজনীতির দ্বারা ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে চাইছে- শাসনে টিকে থাকার ঘৃণ্য প্রয়াসের দরুন আজ প্রকাশ্যে উলঙ্গ হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে শাসক। আইনশৃঙ্খলা অবনতি দেখে CCTV ক্যামেরাও মুখ লুকাচ্ছে, প্রশাসন যন্ত্র অসহায়, কিছু স্বার্থপর ধান্দাবাজকে বুদ্ধিজীবী বানিয়ে তাদের দিয়ে ভণ্ডামির বলয় তৈরি করে রাষ্ট্রের বুকে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে। চতুর্দিকে হাহাকার, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, শিল্পের কফিনে পেরেক ঠোঁকা সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিষেবা সহ প্রতিটি দপ্তরের নাভিশ্বাস তুলে দিয়েছে। 

সুশাসন দুরঅস্ত, সরকারি কোষাগারের অর্থ বিভিন্ন বাহানাতে লুঠে নেওয়ার জন্যই যেন এদের জনপ্রতিনিধি হয়ে আসা, যেকোনো দুর্যোগে আক্রান্ত পরিবারের বদলে শাসকদলের নেতার ‘উন্নয়ন’ আজ স্বীকৃত সত্য; অবশ্য যারা বুকে ‘আমরা সবাই চোর’ লিখে প্রকাশ্য শহরের রাজপথে মিছিল করতে পারে তাদের জন্য চুরি ও তার ৭০:৩০ হারের সুষম বখরার মাঝেই টিকে আছে ‘চটি’ সরকার। ফাঁপাবুলি সর্বস্ব ভাঁওতাবাজি দিয়ে সমাজের গরীব জনগণকে ধোঁকা দেওয়া লুটে খাওয়া সরকারের আমলে দেশে বেকারত্বের হার সর্বোচ্চ সীমা ছুঁয়েছে। নীতিহীন তাই দিশাহীন জনবিরোধী ‘পরিকল্পিত’ প্রোপ্যাগান্ডা, বামেদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ইত্যাদিকে প্রতিহত করে- এই গ্রুপের মূল উদ্দেশ্য বামপন্থা ও তৎসংক্রান্ত বিষয়গুলোকে সমাজে প্রচার করা।

সুতরাং, বামপন্থী মানসিকতা ব্যাতিরেকে এই গ্রুপের সাথে যুক্ত না হবেননা; কারন এখানে নিয়মিত বাম সমর্থকদের মাঝে আপসে ভাবের তথা মতের আদানপ্রদান, পার্টি নেতাদের সাক্ষাৎকার প্রচার ও রাজ্য তথা দেশজুড়ে ছিটিয়ে ছড়িয়ে থাকা কমরেডদের মানসিকভাবে উদ্বুদ্ধ করাই এই গ্রুপের এক ও অদ্বিতীয় লক্ষ্য; যাতে করে ২১শে বামফ্রন্ট সরকার গঠিত হয়।

নিয়মাবলী

 1.    প্রথমেই আমাদের মাথায় রাখতে হবে- এটা পাবলিক গ্রুপ, বামপন্থী রাজনীতি একটা শৃঙ্খলাবদ্ধ অনুশীলন, যা নির্দিষ্ট নীতিমালার উপরে প্রতিষ্ঠিত আদর্শের উপরে ভিত্তি করে চালিত হয়। সুতরাং এমন কোনো শব্দ, ভাষা, প্রবন্ধ, প্রতিবেদন, মন্তব্য বা ওই জাতীয় কিছু ‘পোষ্ট বা কমেন্ট’ করা যাবেনা যা পার্টি লাইনের বিরোধী বা পার্টি তথা সম্মিলিত বাম ঐক্যের স্বার্থবিরোধী। ‘আপনার যাবতীয় অপ্রসন্নতা ও অভিযোগ’ পার্টির অভ্যন্তরে দলীয় গণতন্ত্র মেনে আপনার উর্ধ্বতন নেতৃত্বকে জানান, সেখানেই আপনি প্রতিকার পাবেন। প্রকাশ্য মঞ্চে ‘খাপ’ বসিয়ে প্রতিকার মিলবেননা।

 2.    পরিচ্ছন্ন ভাবমুর্তিই বাম রাজনীতির গ্রহণযোগ্যতার প্রাথমিক শর্ত।

 3.    ২১শে বামফ্রন্ট গ্রুপ কোনো প্রকার প্রতক্ষ্য অর্থনৈতিক লেনদেনের সাথে যুক্ত নয়, এটি কোনো পরিষেবামূলক প্রতিষ্ঠানও নয় তথা কাউকে কিছু পাইয়ে দেবার প্রতিশ্রুতি দেয়না। এটি বামঘরাণার রাজনৈতিক সমর্থকদের দ্বারা পরিচালিত স্বেচ্ছাশ্রম ও পারস্পরিক আদানপ্রদানের নিমিত্ত একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মঞ্চ।

4.    প্রাকৃতিক বা সামাজিক বিপর্যয় হেতু ব্যাতিক্রমী সময়ে জনসেবার প্রয়োজনে কোনও আবেদন হলে তা কখনই গোপনে কিছু সংগঠিত হবেনা, সঞ্চালকমণ্ডলীর বরিষ্ঠ সদস্যের দ্বারা- গ্রুপে ‘সাহায্য’ সংক্রান্ত প্রকাশ্য পোষ্ট এলে, তার ‘কমেন্ট সেকশনে’ মন্তব্য প্রতিমন্তব্যের প্রতি খেয়াল রেখে তবেই এ সম্বন্ধে নিশ্চয়তা গ্রহণ করবেন। 

 5.    প্রোফাইল লক করা থাকলে সঞ্চালকদের সত্যাখ্যান করা সম্ভবপর হবেনা, সেক্ষেত্রে গ্রুপের যুক্ত হওয়ার আর্জি খারিজ হবে।

 6.    ‘২১শে বামফ্রন্ট’ গ্রুপ কোনো ধরনের ‘Plagiarism’ বা রচনাচুরিকে সমর্থন করেনা। অন্যের লেখা, ছবি, শ্লোগান ইত্যাদি শেয়ার করলে লেখকের নাম উল্লেখ থাকা আবশ্যিক। প্রতিটি পোষ্টের দায় সংশ্লিষ্ট সদস্যের, সেক্ষেত্রে উক্ত সদস্যটি সঞ্চালকমণ্ডলীর অন্তর্ভুক্ত নিয়মের ব্যত্যয় হবেনা।

 7.    ২১শে বামফ্রন্ট গ্রুপের কাছে এমন কোনো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নেই যার দ্বারা এই গ্রুপের সঞ্চালকেরা প্রতিটি সত্যমিথ্যার প্রভেদ নিরুপন করতে সক্ষম, তাই ব্যাক্তির ভুলের দায় কখনই গ্রুপের উপরে বর্তাবেনা।

 8.    Fake news তথা মিথ্যা বা ভুয়ো খবর আজকের সমাজে একটা মহামারী; তাই একে কঠোর ভাবে প্রতিরোধ করতে সমাজের কাছে দায়বদ্ধ ‘২১শে বামফ্রন্ট’। কমরেডদের কাছে অনুরোধ, রীতিমত যাচাই করে সম্পুর্ণ নিশ্চিত হয়ে তবেই কোনো পোষ্ট করুন গ্রুপে। জেনেবুঝে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে মিথ্যা গুজব ছড়ালে তাকে শুধু গ্রুপ থেকে বহিষ্কারই করা হবেনা, বরং পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচারে সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তির বিরুদ্ধে প্রশাসনের দ্বারস্থ হতেও পিছুপা হবেনা ‘২১শে বামফ্রন্ট’ গ্রুপ।

 9.    কমরেডরা নিজেদের মাঝে উত্তেজনা বা ভুলবোঝাবুঝি বসত অশালীন ভাষার ব্যবহার করবেননা, প্রতিকুল পরিস্থিতিতে পারস্পরিক সৌর্হার্দ্যই মুখ্য পাথেয়, অন্যথায় আবেগী ব্যাক্তিকে পথভ্রষ্ট হতে হয়। রাজনৈতিক আবেগ যেটুকু, সবটাই পার্টির জন্য সংরক্ষিত থাক, যা আদর্শের উপরে ভিত্তি করে নির্মিত। মতের মিল না হলে হয় যুক্তি দিয়ে যুক্তি খণ্ডন করুন নতুবা পোস্ট উপেক্ষা করুন।

 10.  গ্রুপে অনেক সক্রিয় মহিলা সদস্যেরা রয়েছেন, সঞ্চালক মণ্ডলীতেও রয়েছেন। আপনার পোষ্ট, কমেন্টে তিনি লাইক বা প্রত্যুত্তর করেছেন মানেই আপনি তার ইনবক্সে যাওয়ার ছাড়পত্র পাননি। বামপন্থীর ভেক ধরে প্রণয়ের ছিপ ফেলবেননা গ্রুপে, প্রমাণ সহ এমন সঙ্কেত পেলে শুধু গ্রুপ থেকেই নয়- ফেসবুক থেকেই আপনার ID টিকে অবলুপ্ত করে দেওয়া হতে পারে প্রযুক্তির সহায়তায়। এ বিষয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সতর্কতা অবলম্বন করবেন।

11.  ব্যাতিক্রমী ক্ষেত্র ছাড়া ‘শেয়ার্ড পোষ্ট’ এপ্রুভ হবেনা। নির্দিষ্ট কিছু ব্যাতিক্রম যেমন, পার্টির ওয়েবসাইট, পার্টির ফেসবুক পেজ, টুইটার হ্যান্ডেল, রাজ্য বা কেন্দ্রীয় স্তরের নেতার ভাষণ ইত্যাদির মত ক্ষেত্রে সঞ্চালক মণ্ডলীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শেয়ার্ড পোষ্ট এপ্রুভ হবে। তবে নিজের টাইমলাইনের শেয়ার কখনই এপ্রুভ হবেনা।

12.  ভিডিও পোষ্টের ক্ষেত্রে অধিকাংশ সদস্যই শেয়ার করে থাকেন, এক্ষেত্রেও ‘অতি গুরুত্বপুর্ণ’ পর্যায়ের পোষ্ট না হলে তা এপ্রুভ হবেনা।

13.  এটা কোনো মনোরঞ্জনধর্মী গ্রুপ নয়। টু’লাইনার জাতীয় পোষ্ট গুলোকে যথাসম্ভব এড়িয়ে চলা হবে, নতুবা বিশ্লেষণ মূলক ও গুরুত্বপূর্ন বার্তা সম্বলিত পোষ্ট গুলো গ্রুপ টাইমলাইনের অন্ধকূপে হারিয়ে যায়। এছাড়া গল্প, উপন্যাস, চুটকি, কবিতা, সুপ্রভাত-শুভরাত্রির বার্তা, নীল ঘাস, সবুজ পাখী, গোলাপি আকাশ ইত্যাদি বিষয়ে পোষ্ট করার জন্য ফেসবুকে অন্য লক্ষ গ্রুপ আছে, ‘২১শে বামফ্রন্ট’ শুধুমাত্র বাম রাজনীতি বিষয়ক আলোচনার মঞ্চ, অন্য কোনো কিছুর জন্য নয়।

 14.  আপনার লেখনী বা ভিডিওতে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, নৃগোষ্ঠী, ধর্মীয় সম্প্রদায়, ভাষাভাষিগত গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আপত্তিজনক কিছু থাকলে তা এপ্রুভ হবেনা।

15.  নিজে ‘যা খুশি একটা পোষ্ট’ করার চেয়ে, ইতিমধ্যে গ্রুপে থাকা পোষ্ট গুলো পড়ে তার কমেন্টে মন্তব্য করে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অন্যান্য কমরেডদের মাঝে আলাপচারিতার বিকল্প নেই। বহু কমরেড বাম মতাদর্শের উপরে প্রবন্ধ লেখেন, বা সাম্প্রতিক সামাজিক-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক-প্রশাসনিক সমস্যার কথা সুন্দর করে তুলে ধরেন, সেগুলোর বিতর্কসভাতে অংশ নিয়ে কমেন্ট বক্সে, ভাব ও যুক্তির আদানপ্রদান করে নিজেকে এমন ভাবে গড়ে তুলুন যাতে আপনার পাশে ঘটা কোনও কুকর্ম বা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে পারেন, জনগণকে ভরষা দিতে পারেন পার্টির পক্ষ থেকে।

16.  নিতান্ত ব্যাতিক্রমী পরিস্থিতি ছাড়া এপ্রুভ হওয়া কোনো পোষ্ট ‘ডিলিট’ হবেনা; যেকোনো জটিল পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট পোষ্টটির কমেন্টিং বন্ধ করে দেওয়া হবে, কারন তাতে পোষ্ট ও কমেন্টের নথি তথ্য ইত্যাদিও ডিলিট হয়ে যায়। ইনেক্টিভিটির দরুন অচিরেই পোষ্টটি গ্রুপ টাইমলাইনের অন্ধকূপে হারিয়ে যাবে।

17.  একই লেখা বার বার পোস্ট করা থেকে বিরত থাকুন, পোষ্ট করার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন যে এই লেখাটিই অন্য কেউ গ্রুপে ইতিমধ্যে পোষ্ট করেছেন কিনা। আলাদা আলাদা সঞ্চালক দ্বারা একই পোষ্ট আলাদা আলাদা কমরেডদের দ্বারা পোষ্ট হয়ে গেলে তা নজরে আসা মাত্র দ্বিতীয় পোষ্টটির কমেন্টিং বন্ধ করে দেওয়া হবে।

18.  একটি লেখা অ্যাপ্রুভ হবার অন্তত চার ঘন্টা পর অন্য লেখা পোস্ট করুন। গ্রুপের কোন লেখাই না পড়ে অ্যাপ্রুভ করা হয় না, সুতরাং পোস্ট অ্যাপ্রুভ হতে সময় বেশি লাগলে অনুগ্রহপূর্বক অপেক্ষা করুন।

19.  নির্দিষ্ট ইভেন্ট ব্যাতিরেকে নিজের ছবি গ্রুপে পোস্ট করা নিষেধ।

20.  কোনো রকমের ধর্মীয় প্রচার মূলক পোস্ট করা নিষেধ, তা সপক্ষে হোক বা বিপক্ষে।

21.  আপনার পণ্যের বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য এই গ্রুপ নয়, তাই পোষ্ট করার মুহুর্তে বিষয়টি মাথায় রাখবেন।

22.  বাজারী যেকোনো সংবাদমাধ্যমের কোনো রকম ভোটাভুটির পোস্ট পরিহার করুন, এতে পার্টির আখেরে কোনও লাভ হয়না।

23.  গ্রুপের লোগো গ্রুপের সঞ্চালক ছাড়া ব্যবহার করা অবৈধ।

24.  সরকারের নীতির সমালোচনা করুন, ব্যাক্তির নয়; কারন বাম ঘরানার রাজনীতিতে ব্যাক্তির চেয়ে নীতি ও সমষ্টির মূল্য সকলসময়ই বেশি।

25.  কুরুচিপূর্ণ অন্ধ বিরোধিতা মার্কা কোনও পোষ্ট না করে, যুক্তিগ্রাহ্য পার্টির প্রচারনামূলক ও দৈনন্দিন হরেক সমস্যার বিষয়কে তুলে ধরুন।

26.  গ্রুপের যেকোনো ধরনের গঠনমূলক সমালোচনা আমরা সাদরে আহ্বান করছি, কিন্তু সকল শুভাকাঙ্ক্ষীগণের কাছে আবেদন- সেটা প্রকাশ্য পোস্ট বা কমেন্ট করে প্রকাশ করা নিষেধ। ২১শে বামফ্রন্ট পেজের ইনবক্সে আপনার অভিযোগ বা পরামর্শ লিখুন, সঞ্চালক মণ্ডলীতে আলোচনার ভিত্তিতে আমরা দ্রুত আপনাকে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দেব।

27.  ছদ্মনাম ব্যবহারে গ্রুপের পক্ষ থেকে কোনো বিধিনিষেধ নেই, শুধু গ্রুপের নিয়ম ভঙ্গ না করলেই হল।

28.  নিয়মিতভাবে উপরোক্ত নিয়মমালা ভঙ্গ করলে তাকে একটা নির্দিষ্ট সময়ের পর বিনা নোটিশে গ্রুপ থেকে মুক্ত করে দেওয়া হবে।

29.  সঞ্চালকেরা কেউ নির্ভুল যন্ত্র নয়, তাই ভুলবশত কোনো অসংলগ্ন পোষ্ট-কমেন্ট কোনও সঞ্চালক দ্বারা এপ্রুভ হয়ে গেলে কমেন্টে কেউ জবাব না দিয়ে সরাসরি “রিপোর্ট টু এডমিন” করবেন; কিছুক্ষনের মধ্যেই সঞ্চালক মণ্ডলী ব্যবস্থা নেবে। অনুগ্রহকরে মাথায় রাখবেন, সঞ্চালকেরা কেউ বেতনভুক কর্মচারী নয় যে, কেউ ডাকা মাত্রই তিনি হাজির হতে বাধ্য; ব্যাক্তি ও বন্তু জীবনের কর্ম সম্পাদন করার ফাঁকে সময় বের করে তিনি এখানে স্বেচ্ছাশ্রম প্রদান করে, বাম আদর্শে ব্রতী হয়ে। তাই অপেক্ষা করবেন।

30.  উত্তেজনা, আবেগ বা প্ররোচনার কারনবসত কোনো কমরেড ভুল করে ফেললে, তা সঞ্চালকদের নজরে আসা মাত্র তাকে সতর্ক করে দেওয়া হবে, কিন্তু পরবর্তীতে সংশোধন না হলে গ্রুপে থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিকে মুক্ত করে দিতে বাধ্য হবে আমাদের ‘সঞ্চালক পরিষদ’।

 

** মনোযোগ সহকারে পুরোটা পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ **

রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২০

ভূমিকম্প, বজ্রপাতঃ বর্তমান সময় ও সোলার মিনিমাম

 

ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, অধিকাংশ প্রাচীন সভ্যতাই মাটি খুঁড়ে বা ঢিবি সরিয়ে আবিষ্কার করেছে নৃবিজ্ঞানীরা। সুতরাং, বড় বড় সভ্যতার শহরাঞ্চলে ভূমিকম্পের নমুনা ইতিহাসে কিন্তু ভুরিভুরি। আমাদের দেশের হিমালয় থেকে হিন্দুকুশ পর্যন্ত অঞ্চলটি ভূ-কম্প পীড়িত এলাকা হিসাবে প্রসিদ্ধ, ২০১৫ সালের কাঠমান্ডু ভূমিকম্পই সাম্প্রতিক কালের সবচেয়ে বড় প্রমাণ। আমাদের দেশের রাজস্থান অঞ্চলে মাসে এক আধবার ভূমিকম্প হওয়াটা স্বাভাবিক জীবনযাত্রারই অংশ হিসাবে মেনে নেওয়া হয়। মাউন্ট আবু থেকে আরাবল্লী পর্বতশ্রেণী পর্যন্ত এই ভূ-প্রাকৃতিক ক্রিয়া চলতেই থাকে।
প্রখ্যাত ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ‘হর্ষ গুপ্ত’র, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া একটা সাক্ষাৎকার মোতাবেক- প্রতিবছরই গোটা পৃথিবীতে হাজার খানেক বড় ভূমিকম্পের ঘটনা রেকর্ড করা হয়, যেগুলো মূলত আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণের ফলেই সৃষ্টি হয়। বর্তমানে দিল্লী সংলগ্ন অঞ্চলের এই মুহুর্মুহু ভূমিকম্পের কারণের উৎস সম্বন্ধে তিনি ও তাদের বিজ্ঞানী মহলও ভীষণ রকমের উদ্বিগ্ন, কারণ দিল্লীর সাথে হিমালয় অঞ্চলের টেকটোনিক প্লেটের কোনো সম্পর্ক নেই, যেখানে দুটি টেকটোনিক প্লেট একে অপরের সাথে সংস্পর্শে আসছে এমন কোনো ‘প্লেট বাউন্ডারি’ ওই অঞ্চলে পড়ে না। ভূ-আভ্যন্তরীণ কোনও ত্রুটি-বিচ্যুতিও ভূমিকম্পের আগে পরিলক্ষিত হচ্ছে না, সুতরাং গোটা বিষয়টি বিজ্ঞানী মহলে বিশ্রী রকমের ধোঁয়াশার জন্ম দিয়েছে।
জানুয়ারি ২০২০ তে ভারতে রেকর্ড করা হয়েছিল ৫টি ৪ মাত্রার উপরের ভূমিকম্পের ঘটনা, ফেব্রুয়ারিতে সেটা দাঁড়ায় ২৩টি তে। মার্চে ২৪টি, এপ্রিলে ২৬টি, মে মাসে ১৭টি, জুন মাসের ২৯ তারিখ পর্যন্ত ৪৩টি ভূমিকম্পের ঘটনা রেকর্ড করেছে ‘National Center for Seismology’. বর্তমান কম্পিউটার সভ্যতার ইতিহাসে শেষ দুই শতকে ৬ মাসে ১৩৮টি ভূমিকম্পের কোনো বিবরণী নেই।
শুধু দিল্লিতেই যে এমন বিষয়টা ঘটছে তেমনটা নয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশ বাদ দিন, আমাদের পড়শি দেশগুলোর দিকে খেয়াল করলে দেখা যাবে, চিনে ৪২৩টা, শুধুমাত্র জুনেই ৫৪টা। আফগানিস্তানে ৩০৮টা, পাকিস্তানে ৫৬টা, বাংলাদেশেও শেষ ২ মাসে ২০টিরও বেশি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে ৪ মাত্রা বা ততোধিক। শুধুমাত্র এশিয়াতেই জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে ২৯ তারিখ পর্যন্ত ১৫২টা ভূমিকম্প রেকর্ড করেছে, যা কয়েক শতাব্দীতে সর্বোচ্চ।
জাপানকে ভূমিকম্পের দেশ বলে অবহিত করা হয়, যেখানে রিখটার স্কেলে ১-৪ মাত্রার মধ্যে দৈনিক কমবেশী ২০-২৫টি ভূ-কম্পণ হয়। তাই জাপানকে বাদ দিয়ে বাকি বিশ্বের পরিসংখ্যানের দিকে তাকিয়ে দেখলে বিষয়টা বোঝা যাবে যে, এটা ঠিক কোন ভয়াবহ পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছে।
বিশ্বের নিরিখে ছোট বড় মিলিয়ে (৩ থেকে ৭ মাত্রার), জানুয়ারি ২০২০ সালে ১১১৮৫টি, ফেব্রুয়ারিতে ৯৭৮২টি, মার্চে ১১০৮০টি, এপ্রিলে ১১০৯১টি, মে মাসে ১২৫১৩টি ও জুন মাসে ১২১০৪টে নিয়ে সর্বমোট ৬৭৭৫৫টি ভূমিকম্প রেকর্ড করেছে বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো, তাদের বরাতে এই তথ্যগুলো প্রকাশ করেছে ‘ভলকানো ডিসকভারি’ নামের একটি ওয়েবসাইট, যা মার্কিন-ইউরোপীয় ভূ-বিশেষজ্ঞ দল দ্বারা পরিচালিত। ২০২০ পূর্ববর্তী দশ বছরে এই ভূ-বিশেষজ্ঞ দলটির দ্বারা রেকর্ড করা ছোট বড় মিলিয়ে মোট ভূ-কম্পনের পরিমাণ ছিল- ১১৭৬৪৩টি। সেখানে ২০২০ সালের প্রথম ৬ মাসেই ৬৭৭৫৫টি ভূমিকম্প রেকর্ড হয়েছে।
গতপরশু মানে ৩রা জুলাই তারিখে মিজোরামের চম্ফাই অঞ্চলে এক স্থানেই পর পর ক্রমান্বয়ে তিনবার চার মাত্রার উপরে ভূমিকম্প হয়েছে, এই দিন সন্ধ্যাতেই দিল্লিতে ভূমিকম্প হয়েছে দুবার, হরিয়ানাতেও একই ঘটেছে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি সূত্রের বরাতে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে।
মাসখানেক বা তার কিছু আগে একটা বিষয়ে খুব ছোট্ট করে একটা প্রবন্ধ লিখেছিলাম, ‘সোলার মিনিমাম’ বিষয়ে। এই ধরণের সময়গুলিতে কী হয়, কী হয় না ইত্যাদি বিষয়ে কিছুটা প্রাথমিক ধারণা দেবার প্রচেষ্টা করেছিলাম। অনেকেই হেসে উড়িয়ে দিয়েছিলেন, বেশ কিছু গ্রুপে সেই পোস্ট বন্ধুদের কেউ কেউ শেয়ার করলে সেটা নিয়ে বেশ খিল্লিও করেছিলেন, তো সে যাই হোক- সেই প্রবন্ধ কোনো মনগড়া গল্পকথা ছিল না, প্রতিটির তথ্য বিভিন্ন বিজ্ঞান বিষয়ক ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত, যার লিঙ্ক দেওয়া ছিল।
আজকের দিনে এসে কিন্তু এই মহাজাগতিক ঘটনাবলির প্রতিক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে ভূ-মন্ডলে। বর্তমান সময়ে যদি আমরা খেয়াল করি তাহলে শুধু ভারত ভূ-খন্ডেই আমরা অতি অস্বাভাবিক অনেক কিছু বিষয় পরিলক্ষিত করতে পারছি। কোনো বিষয়টাই যে কাকতালীয় হয় না বা হচ্ছে না এ নিয়ে আমরা নিশ্চিত থাকতে পারি। কিছু আমুদে পাবলিক সবেতেই মজা খোঁজেন, খুঁজতে দিন তাদের।
একটু শান্তভাবে ভেবে দেখুন তো, এ বছরের গ্রীষ্মে কি সেই রৌদ্র তেজ রয়েছে যেগুলো বিগত বছরগুলোতে ছিল! নাহ কোনো বৈজ্ঞানিক হওয়ার প্রয়োজন নেই, শীত-গ্রীষ্মের স্বাভাবিক প্রাঞ্জল অনুভূতি আপনাকে কী জানান দিচ্ছে? এ বছরে সেই উত্তাপ নেই, কিছুটা হলেও কম, যা আমরা সকলেই অনুভব করতে পারছি, বিগত বছরগুলোর সাথে যার প্রভাব লক্ষ্যনীয় ভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে।
এবারে আসি বজ্রপাতের বিষয়ে।
BBC এর একটা রিপোর্ট অনুযায়ী বজ্রপাতের কারণে, ভারতে গড়ে ২০০০-২৩০০ মানুষের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়। ‘লাইটনিং রেসিলিয়েন্ট ক্যাম্পেন ইন্ডিয়া’ এর চেয়ারম্যান কর্ণেল সঞ্জয় কুমার শ্রীবাস্তবের একটা সাক্ষাৎকার অনুযায়ী- মোট বজ্রপাতের ৬৪.৫৭% ই IC (In cloud) জাতীয়, বাকি ৩৬.৪৩% হচ্ছে CG (cloud to ground). ভারতের রাজ্যগুলোর মাঝে সবচেয়ে বেশি বজ্রপাত হয় উড়িষ্যাতে, সারা দেশের মোট বজ্রপাতের ১৫%ই এই রাজ্যে হয়। এর পর মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটকের পর আমাদের পশ্চিমবঙ্গ চতুর্থ স্থানে, সারা দেশের নিরিখে ৮%। উত্তরপ্রদেশ ৮ নম্বরে ও বিহার ১১ নম্বরে এই তালিকাতে; দেখা যাচ্ছে এই দুই রাজ্যতেই বর্তমানে বজ্রপাতের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি।
ইন্ডিয়ান মেট্রলজিক্যাল ডিপার্টমেন্টের অধীনে থাকা IAF সেন্সর, পুণের IITM সেন্সর নেটওয়ার্ক ও INSAT-3D উপগ্রহ চিত্র, ইত্যাদি এক বিশাল কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে পাওয়া সূত্রানুযায়ী কোনো এক অজানা কারণে IC মাত্রার বজ্রপাতগুলো মাটিতে ছুঁয়ে যাচ্ছে বা আছড়ে পড়ছে কয়েকটা। শুধু তাই নয়, ভূমিতে (CG) যে ধরনের বজ্রগুলো আঘাত হাতে সেগুলো মোটের উপরে উলম্ব প্রকৃতির খাঁজকাটা ধরণের হয়ে থাকে, কিন্তু যেগুলো মেঘের মাঝেই সীমাবদ্ধ থেকে যায় (IC), সেগুলো চাদরের মতো আনুভূমিক ভাবে পতিত হয়, বিমানচালকদের কাছে এ অতি পরিচিত একটা দৃশ্য। কিন্তু বর্তমানে কোনো এক অজানা মহাজাগতিক কারণে ভূমিতে যে বজ্রগুলো স্পর্শ করছে তাদের মধ্যে অনেকগুলোই উলম্ব হয়ে না আঘাত হেনে চাদরের মতো আনুভূমিক ভাবে মাটিতে আছড়ে পড়ছে।
উলম্ব হয়ে পড়লে সাধারণত যে বিন্দুতে পড়ল সেই বিন্দুই ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যেমন বিদ্যুতের খুঁটি, তালগাছ, চিমনি ইত্যাদি। এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কম হয়, কিন্তু আনুভূমিকভাবে পড়লে তার ব্যাপ্তি বিশালাকার ধারণ করে, আর এই কারণেই বিহার, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এত বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে রোজ। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, কিছুদিন আগে ব্রাজিলে একটা এমনই আনুভূমিক বজ্রপাত হয়েছিল যার দৈর্ঘ্য ছিল ৭০০ কিলোমিটারেরও বেশি, জাতিসঙ্ঘের পরিবেশ সংক্রান্ত ওয়েবসাইটে গেলেই এই বিষয়ে বিশদে তথ্য পেয়ে যাবেন। শুধু তাই ই নয়, চিলি, ইকুয়েডর, আর্জেন্টিনা, কলম্বিয়া জুড়েও এমন আনুভূমিক বজ্রপাত বিস্তর মানুষ ও গবাদি পশুর প্রাণহানি ঘটাচ্ছে, বনাঞ্চলে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। সাম্প্রতিক কানাডা, মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ চীন সাগর অঞ্চল, ক্যারাবিয়ান সমুদ্রাঞ্চল, পশ্চিম আফ্রিকা, স্ক্যান্ডেনভিয়ান দেশ সকল, ইস্টব্লক, রাশিয়া, অষ্ট্রেলিয়াতেও এই ধরণের বজ্রপাত লক্ষ্য করা গেছে নাসার জলবায়ু সংক্রান্ত উপগ্রহের মহাকাশ চিত্র থেকে। কিছুদিন আগে জুন মাসেই কাশ্মীর ও হিমাচল প্রদেশের বহু পার্বত্য এলাকাতে এমন আনুভূমিক বজ্রপাতের কারণে কয়েক হাজার গবাদি পশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জাতীয় বিপর্যয় সূত্রে খবর বেরিয়েছে।
সুতরাং কোনো কিছুই যে কাকতালীয় হচ্ছে না, এটা কিন্তু পরিষ্কার। এ বছরে বর্ষাও অন্যান্য বছরের তুলনাতে বেশি, জুন মাসেই সারা দেশে গড় বৃষ্টিপাত ১৮% বেশি, রাজস্থানে ৪০ দিন আগে বর্ষা পৌঁছেছে, আসামে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, গোটা উত্তর-পূর্ব ভারত সহ উত্তরবঙ্গ, বিহার, উত্তরপ্রদেশে একাংশ তথা গাঙ্গেয় অববাহিকা অঞ্চলকে বন্যার অরেঞ্জ জোন হিসাবে আগাম ঘোষণা করে সতর্ক করে দিয়েছে কেন্দ্র সরকার।
এ বিষয়ে বিজ্ঞান তার সাধ্যমতো প্রচেষ্টা চালাচ্ছে আগাম খবর সংগ্রহ করে বা আবহাওয়া বিশ্লেষণ করে মানুষের ক্ষতির পরিমাণ কমাতে। আমরা সাধারণ মানুষ বিজ্ঞান ততটা জানি না, যতটা ধর্ম বিষয়ে জানি। আমি আমার ইসলাম ধর্মের হাদিসে এমন বেশ কিছু টিকা পড়েছিলাম, যেখানে ভবিষ্যৎ বাণী করা আছে এমন বজ্রপাত বিষয়ে, যে- “এমন একটা সময় আসবে যখন মানুষের দৈনন্দিন আলোচনাতে এটাই মুখ্য বিষয় থাকবে, কতজন আজ বজ্রপাতে মারা গেছে”। প্রসঙ্গত ২রা জুলাই ২০২০ তারিখেই বিহারে কমপক্ষে ৩১ জন মারা গেছে বজ্রপাতে, উত্তরপ্রদেশে ২৭ জন, ৩রা ও ৪ঠা জুলাই বিহারে যথাক্রমে মারা গেছে ৩৩ ও ২২ জন। যা এই সময়ের জন্য এই অঞ্চলগুলোতে এক ভয়াবহ রেকর্ড তৈরি করে চলেছে রোজই।

যার যার ধর্ম বিশ্বাস তার কাছে, বিজ্ঞান সর্বজনীন। জীবন বাঁচাতে ‘আল্লা-ভগবান-গড’ সকলের একটাই ওষুধ- প্রাথমিক সতর্কতা অবলম্বন করুন। বৃষ্টির সময় ঘরেই থাকুন, জানি না পরবর্তী মুহূর্ত আমাদের জন্য কী নিয়ে অপেক্ষা করছে। প্রসঙ্গত সোলার মিনিমাম সবে শুরু হয়েছে, ২০২৫ এ এটা সর্বোচ্চ দশায় পৌঁছাবে, যদি এই কারণেই এমন প্রাকৃতিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয় তাহলে আগামী যে আরও অনেক বেশি ভয়ংকর তা বলাই বাহুল্য।

শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২০

এর চেয়ে মুন্নাভাই MBBS এর সেট বেশী বিশ্বাসযোগ্য ছিল

দেখুন, ধাপ্পাবাজ মোদি কিভাবে ভক্তদের বোকা বানাচ্ছে। ভালো করে পড়ে, পার্থক্য বুঝুন।


দেশদ্রোহী চীনের সাথে লড়ার মুরোদ নেই, ফটোসেশান করতে গিয়ে লেজে গোবরে


ছবি: 1 লাদাখের নিমুতে সেনাবাহিনীর কমিউনিটি হল। যাকে মোদীর জন্য তড়িঘড়ি করে অভিনয়ের জন্য হাসপাতালের সেট বানিয়েছেন। যেখানে ভালো সুস্থ সেনাদের পেশেন্টের পোশাক পরানো হয়েছে। হাসপাতালে নেই কোনো নার্স, ডাক্তার, অক্সিজেন, চিকিৎসা সামগ্রী এমনকি হসপিটাল সংক্রান্ত কিছুই নেই।
শুধুই উনি ভালো অভিনেতা বলে ছবি তুলে প্রচারে আসতে চাইছেন।



ছবি: 2 ঐ কমিউনিটি হলেই সেনার পোশাকে ধোনীর সাথে সেনাদের বিশেষ মুহূর্ত(অবশ্যই পুরোনো ছবি)



ছবি ৩- ১০ দিন আগে এই ব্যাক্তি আলাদা বেডে, যখন সেনা প্রধান গেছিল। আশেপাশে কোনো মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট নেই, এমন আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি, ইভেন একটা জলের বোতল পর্যন্ত নেই।



ছবি ৪ঃ মোদীর সামনেও ওই একই ব্যাক্তি, শুধু বেডটা বদলেছে। মুখে মুখোশ, চিকিৎসা সরঞ্জাম নেই, নেই জলের বোতল টুকুও।

ঝুট বোলো ঝুট বোলো অউর ঝুট বোলো

শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২০

ইসলামে পদবীর ইতিহাস সন্ধানে


ইসলামে পদবীর ইতিহাস সন্ধানে

 

পদবীর ইতিহাস মানব সভ্যতার ইতিহাসে খুব পুরাতন নয়, সাকুল্যে হাজার খানেক বছর হবে। মধ্য যুগে রাজা মহারাজের থেকে প্রাপ্ত নানান উপাধি ও পেশাগত পরিচয়ই পদবী বা ‘ফ্যামিলি নেম’ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছিল দশম শতাব্দী ও তার সমসাময়িক সময়ে। তবে প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যে নাম, গোত্র, স্থান বা পিতার নাম নয় এমন পৃথক শব্দ অনেকে নামের সাথে ব্যবহার করত- অনেক ঐতিহাসিক একে ‘পদবী’ ব্যবহারের আদি সুত্র হিসাবে উল্লেখ করেন। কিছু প্রাচীন চীনা নথিতেও খ্রিস্টপুর্ব দ্বিতীয় শতাব্দীতে পদবীর উল্লেখ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে জার্মানী সহ পশ্চিম ইউরোপের কিছু দেশ ও মধ্য এশিয়ার পারস্যে আধুনিক পদবীর প্রচলন শুরু হয়। তার আগে বাইজ্যান্টাইন সভ্যতা ও আনাতোলিয়া অঞ্চলের ‘তাতার’ জাতিরা সামাজিক সম্মানের সাথে যুক্ত কিছু পদবী ব্যবহার করত, কিন্তু তা খুবই সংক্ষিপ্ত আকারে ও স্বল্প পরিসরে সীমাবদ্ধ ছিল

সনাতন ধর্মেও কোনও পদবী ছিলনা, শ্রীকৃষ্ণ, পান্ডব, কৌরব বা শ্রী রামচন্দ্রও পদবীহীন; স্বর্গের দেবতা বা দানবেরাও পদবীহীন। কালিদাস, বরাহমিহির, শঙ্কু, বেতালভট্ট, ধন্বন্তরি প্রমুখদেরও কোনো পদবী নেই। বৌদ্ধদেরও সেভাবে কোনো পদবীর ইতিহাস নেই। খ্রিষ্টানদেরও মধ্যযুগের আগে পদবী নেই, একক-দ্বিতীয়-তৃতীয় বা ততোধিক শব্দদ্বারা নামই বোঝানো হত। প্রাচীন ইহুদী জাতিদের মাঝেও পদবীর চল ছিলনা, ছিলনা মেসোপটেমিয়া বা প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতাতে

পদবীর উদ্ভব ঘটে মূলত প্রায় ৮০০ বছর আগে, সেন রাজবংশের অধীনে। তখনই বাংলায় জাত ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয় এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের উচ্ছেদ করে ব্রাহ্মণবাদ প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়  প্রাচীনকালে শুধু নাম ও বাবার নাম ছিলো বল্লাল সেনের সময়কালে বাংলায় ধর্মান্তরকরণ ও জাতের গুরুত্ব বাড়ানো হয় এবং এর সঙ্গে সমাজে বিভিন্ন পেশাগত ও সামাজিক পরিচয়ের ভিত্তিতে পদবীর প্রচলন শুরু হয় 

 

ইসলামেও পদবীর কোনও চল ছিলনা। নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর যুগেও পিতার পরিচয়ে বা স্থানের পরিচয় দিয়ে মানুষকে নির্দিষ্ট করা হত। ইসলামের প্রবক্তা খোদ নবীজির নাম হচ্ছে- ‘আবু আল-কাসিম মুহাম্মদ ইবনে ʿআবদুল্লাহ ইবনে ʿআবদুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম’; এখানে আবু আল কাশিম মুহাম্মদ হচ্ছে ওনার পুরো নাম, আবদুল্লাহ হচ্ছে ওনার পিতার নাম, আব্দুল মুত্তালিব হচ্ছেন ওনার দাদুর নাম ও দাদুর পিতার নাম হাশিম। এই হচ্ছে তৎকালীন নামের সিস্টেম

ইসলামিক নামে পিতার পুত্র বোঝাতে বিন শব্দটা ব্যবহৃত হয়, তেমনই ‘ইবনে’ দ্বারাও পুত্র বোঝানো হয়। বাংলাদেশী ক্রিকেটার ‘মাশরাফি বিন মুর্তাজা’ মানে মুর্তাজার পুত্র মাশরাফি। অনেক দেশে ‘ইবনে’ দ্বারা মায়ের পুত্রও বোঝানো হলেও, ‘বিন’ দ্বারা শুধুমাত্র পিতার পুত্রই বোঝানো হয়। যীশু খ্রিষ্টকে ইসলামে ‘ঈশা ইবনে মরিয়ম’ অর্থাৎ মরিয়মের পুত্র ‘ঈশা’ নামে ডাকা হয়। তেমনই ‘বিনতে’ দ্বারা পিতার মেয়েকে বোঝানো হয়, যেমন ‘ইবনুল’ দ্বারা মায়ের মেয়েকে বোঝানো হয়

যেমন, আমার নাম তন্ময়, পিতার নাম সামসুল হক ও আমার বড় মেয়ের নাম মিঠি। এক্ষেত্রে আমার নাম লেখা হবে ‘তন্ময় বিন সামসুল হক’ কিম্বা ‘তন্ময় ইবনে সামসুল হক’। আমার মেয়ের নাম সেই হিসাবে হওয়া উচিৎ ‘মিঠি বিনতে তন্ময় বিন সামসুল হক’। মিঠির মায়ের নাম রুমি, সেক্ষেত্রে মিঠি মায়ের পরিচয় দিতে গেলে লিখবে – ‘মিঠি ইবনুল রুমি’

ইসলামে ধর্মীয় শব্দ বা প্রতিশব্দ নামের সাথে জুড়ে পদবী হিসাবে ব্যবহারের চল ভীষণ জনপ্রিয়, তারসাথে রয়েছে নবী (সাঃ) এর নাম-উপনাম সহ তাঁর অনুচর ও বংশধরেদের নাম যুক্ত করা। বিভিন্ন খলিফা, সুলতান, সম্রাটদের- নিজেদের জন্য ব্যবহৃত ‘রাজকীয়’ উপাধির ব্যবহার রয়েছে পদবী হিসাবে। এছাড়া রাজা-নবাব-সুলতানদের দ্বারা দেওয়া বিভিন্ন উপাধির পরম্পরার সাথে জুড়ে গেছিল পেশাগত পরিচয়, যা কালক্রমে পদবীতে পরিণত হয়েছে। তেমনই কিছু উপাধি বিষয়ে জেনে নেওয়া যাক-

· মুহাম্মদ বা মহম্মদ বা মোহাম্মদ- এটা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা যে নবীর (সাঃ) নাম নিজের নামের সাথে জুড়ে নেওয়া। মহঃ যার short form.

· আহমেদ, আহম্মদ বা আহমদঃ নবীর (সাঃ) এর অপর একটি নাম ছিল আহমদ, যার বাংলা প্রতিশব্দ ‘প্রশংসিত’। অনেকেই নবী (সাঃ) এর সাথে সম্পৃক্ততার স্বার্থে নামের শেষে এটা জুড়ে পদবী বানিয়ে নিয়েছেন

ইসলাম- ইসলাম ধর্মালম্বী বোঝাতে নামের শেষে ইসলাম লেখাটাও পদবী হিসাবে ভীষণ জনপ্রিয়

· আলী- নবীর (সাঃ) জামাতা, আলী (রাঃ) এর নামকে নিজের নামের সাথে জুড়ে নেয় অনেক মুসলমান, বিশেষ করে শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষেরা। শিয়া শব্দের গোটাটা হচ্ছে ‘শিয়াতুল আলী’ অর্থাৎ আলীর অনুগামী

· হাসান- আলী (রাঃ) এর পুত্র ও নবী (সাঃ) এর দৌহিত্র হাসান (রাঃ) এর নাম নিজের নামের সাথে জুড়ে নেওয়ার চল অতি পরিচিত

· হোসেন বা হুশেন বা হুশাইন- হাসানের অনুরূপ

· উল্লাহঃ এটি একটি আরবি বিশেষণ পদ, যা বিভিন্ন নামের শেষে জুড়ে আলাদা আলাদা অর্থ সৃষ্টি করে। বিশেষত আল্লাহর অনুগ্রহের অধিকারী বোঝাতে এই শব্দ পদবীতে ব্যবহারের প্রচলন হয়েছে

· আবদুল্লাহ- অনেকেই নামের আগে পিছনে এই শব্দ ব্যবহার করেন। আবদ ও আল্লাহ দুটি আলাদা শব্দ, ‘আবদ’ শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ ‘দাস বা ভৃত্য’; একত্রে যার অর্থ ‘আল্লার ভৃত্য’

· আবুল- আবুল শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ পিতা, কারো নাম ‘আবুল বাসার’, মানে তিনি বাসারের পিতা

· উল, উর, উজ, উদ ও উস- এগুলিও আরবি অব্যয়সূচক শব্দ, যা নামের মূল ধাতুর সাথে যুক্ত হয়ে একটি আলাদা শব্দ তৈরি করে

· আল- অনেকের নামের মধ্যম শব্দ বা পদবীতে আল শব্দ দেখা যায়, এটি একটি আরবি প্রত্যয় মূলক শব্দ, যার বাংলা প্রতিশব্দ ‘সুনির্দিষ্ট বা একমাত্র’, যা আল্লাহকে বোঝায়

· রহমান- এই শব্দের আক্ষরিক বাংলা প্রতিশব্দ ‘ভাগ্যবান’, ‘আল্লাহর করুণাপ্রাপ্ত’ বোঝাতে রহমান শব্দ নামের সাথে জুড়ে দেন অনেকে

· সৈয়দ- নবী (সাঃ) এর কন্যা ফাতিমা (রাঃ) এর বংশধরেদের সৈয়দ বলা হয়। তাদের বংশের সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে সৈয়দ পদবী ব্যবহৃত হয়ে থাকে

· শেখ- এটা নিয়ে নিচে বিশদে রয়েছে, যেহেতু আমাদের পদবী সেখ, উচ্চারণ ভেদে শেখ বা শাইখ

· উদ্দিন- আরবি শব্দ ‘আদ-দ্বীন’ থেকে উদ্দিনের আবির্ভাব; যার বাংলা প্রতিশব্দ- ‘সত্য ধর্মের অনুসারী’

· মীর- আরবি শব্দ আমীর এর অপভ্রংশ থেকে মীর শব্দের উৎপত্তি। হায়দ্রাবাদের নিজামদের পদবী ছিল মীর, যা রাজকীয় উপাধি ‘পরিচালক’ বোঝাতে ব্যবহৃত হত। অনেক পণ্ডিতের মতে ফার্সি শব্দ পীরের অপভ্রংশ থেকে মীরের উৎপত্তি বলে ধারণা করা হয়। যার বাংলা প্রতিশব্দ- শ্রেষ্ঠ

· আনসারী- আনসারের বাংলা প্রতিশব্দ ‘বন্ধু ও সাহায্যকারী’। মক্কায় নতুন ধর্ম ‘ইসলাম’ প্রচারের সময় সেখানকার মানুষদের দ্বারা অত্যাচারিত হয়ে নবী মুহাম্মদ (সাঃ) মদীনাতে আশ্রয় গ্রহণ করেন, যাকে হিজরত বলা হয়। সেই সময় যে সকল মদীনাবাসিরা নবী (সাঃ) ও তাঁর অনুচরবর্গদের সহযোগিতা করেছিলেন, তাদের ‘আনসারী’ বলা হয়। তাদের ওই পবিত্র কাজের সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে অনেকে নিজের নামের সাথে আনসারী শব্দ জুড়ে নিয়েছেন

· গাজী- আরবিতে ‘গজওয়া’ শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ হচ্ছে যুদ্ধ, যুদ্ধে জয়ী বীরকে বলা হয় ‘গাজী’

· শাহীদ- যিদি যুদ্ধে বীরত্বের সাথে মৃত্যু বরণ করেন তাদের শাহীদ বলায় হয়

· চিশতী- এটি একটি ফার্সি শব্দ, যা সুফি ঘরনার। এর বাংলা প্রতিশব্দ ‘প্রেম ও সহনশীলতা’

· ফকির- এটিও একটি ফার্সি শব্দ, যার বাংলা প্রতিশব্দ ‘সর্বস্ব ত্যাগী সন্ন্যাসী’। নিজেকে রিপুর উর্ধ্বে বোঝাতে অনেকে এই পদবী ব্যবহার করতেন, যে পরম্পরা আজও চলে আসছে

· মোল্লা- এটি একটি আরবি শব্দ, যার বাংলা প্রতিশব্দ হচ্ছে ‘পরিপূর্ণ জ্ঞান বিশিষ্ট মহাপন্ডিত’

· মিয়াজী- মূল ফার্সি শব্দ ‘মিঞা’ যার বাংলা প্রতিশব্দ ‘মহাশয়’, আর জী হচ্ছে আমাদের উপমহাদেশে উর্দু ও হিন্দিতে মানুষকে ডাকার একটা পদ্ধতি, এই দুই মিলে মিয়াজী

শরীফ- শরীফ আরবি শব্দ, যার বাংলা প্রতিশব্দ ‘ভদ্র’ ও ‘পবিত্র’। নিজেকে ভদ্র হিসাবে জাহির করতেই এই পদবীর উদ্ভব

 

· শাহ্‌- বেদের সমসাময়িক গ্রন্থ, পারসিক ‘জিন্দা-আবেস্তা’ গ্রন্থে আবেস্তীয় ভাষায় রাজাকে বলা হয় ‘Xšâyathiya’ যা সংস্কৃতের ‘ক্ষত্র’ শব্দের সাথে ভীষণ রকমের মিল; ক্ষত্র মানে সমরশক্তি। পার্শিয়ান ‘Xšâya’ শব্দটিকে পারশ্যের রাজারা নিজেদের নামের সাথে জুড়ে দিতেন নিজেকে রাজা বোঝাতে। সেখান থেকেই শাহ্‌ পদবীর উদ্ভব। পরবর্তীতে এটা একটা জনপ্রিয় পদবীতে রুপান্তরিত হয়ে যায়

· খাজা- খোয়াজা বা খাজা শব্দটিও ফার্সি শব্দ। যার বাংলা প্রতিশব্দ বহুল ভাবে ব্যবহৃত আছে ফারসি সাহিত্যে, ‘সম্মানী, ধনী, গুরু, জ্ঞানী, শক্তিশালী, স্বামী অথবা দুঃখহরণকারী’ ইত্যাদি বোঝাতে ‘খাজা’ উপাধি প্রদান করা হত শাসকদের দ্বারা, আর সেখান থেকেই পদবীতে স্থান করে নিয়েছে শব্দটি

· ফরাজি- এই শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ হচ্ছে ‘হুবহু’ বা ‘অবিকল’। ইসলামের শুরুর দিকে প্রারস্য প্রদেশে যারা অবিকল আরবের মত করে বা কোরানের কপিবুক স্টাইলে অনুসরণ করত তাদের ‘ফরাজি’ বা ‘ফরাজী’ বলা হত। যা পরর্তীতে পদবীতে রুপান্তরিত হয়

· সিদ্দিকী- এটি একটি আরবি শব্দ, যার বাংলা প্রতিশব্দ ‘সত্যবাদী’। নবী করিমের (সাঃ) ঘনিষ্ট বন্ধু তথা অনুসারী সাহাবী, শ্বশুর তথা আয়েষা (রাঃ) এর পিতা ‘আবু বকর সিদ্দিকি’ এর নামের সাথে জুড়ে থাকার জন্য অনেকে এই শব্দকে নামের সাথে পদবী হিসাবে ব্যবহার করে থাকেন

· পাশা- প্রাচীন তুরস্কের উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তাদের ‘পাশা’ উপাধি দেওয়া হত

· বেগ- এটি মূলত একটি মঙ্গোল শব্দ, যা মঙ্গোল সেনাপ্রধানদের উপাধি ছিল। পরবর্তীতে পারস্যের সেলজুক সাম্রাজ্যে মঙ্গোল আক্রমণ হলে তাদের আধিপত্য বিস্তার লাভ করে; এরও পরে অটোমান সাম্রাজ্যে সময়কালে তৎকালীন সুলতানেরা বিভিন্ন স্থানীয় যাযাবর গোত্রপ্রধান, সেনা অধ্যক্ষ, ও শাসনকর্তাদের ‘বেগ’ উপাধি প্রদান করতেন। বেগের স্ত্রী লিঙ্গ হল বেগম

· মির্জা- আরবি শব্দ আমীর এর বাংলা প্রতিশব্দ হল নেতা, আমিরের যে পুত্র তাকে মির্জা উপাধি দ্বারা সম্মানিত করা হয়। মূলত মঙ্গোল শাসক তৈমূল লং- তার পুত্র ও বংশধর দের জন্য মির্জা পদবীর ব্যবহার ব্যপক হারে শুরু করেন, যার বাংলা প্রতিশব্দ রাজপুত্র। যার জন্য আরবিতে আমীর শব্দ দেখা গেলেও মির্জা শব্দ নেই

· রেজা- এটি একটি আরবি শব্দ, যার বাংলা প্রতিশব্দ ‘তৃপ্তি’। আল্লাহর প্রেমে পরিতৃপ্ত বোঝাতে রেজা শব্দ পদবীতে ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে

· সুলতান- তুরস্কে রাজা বোঝাতে সুলতান শব্দ ব্যবহৃত হয়, যেমন রাজার ইংরাজি প্রতিশব্দ King, তেমনই রাজার তুর্কি প্রতিশব্দ ‘সুলতান’

· খাতুন- মঙ্গোল শব্দ ‘খাং’ এর স্ত্রীবাচক ‘খাওয়াতিং’ শব্দ যখন সেলজুক সাম্রাজ্য হয়ে তাতার যাযাবরদের মধ্যে সঞ্চারিত হয় তখন তা তাতারদের উচ্চারণে ‘খাতুন’ শব্দে রুপান্তরিত হয়ে তুর্কি শব্দমালায় জাইগা করে নিয়েছিল। খানম ও খাতুন একই শব্দের ভিন্ন রূপ, যার বাংলা প্রতিশব্দ ‘রাজরানী’

· বিবি- এটি একটি ফার্সি শব্দ, যার বাংলা প্রতিশব্দ ‘আরামবিলাসি সুন্দরী নারী’

· নাহার- এটি একটি আরবি শব্দ যার প্রতিশব্দ ‘দিবস’ বা ‘উজ্জ্বল’। নিজেকে দিনের মত উজ্জ্বল বোঝাতে এই শব্দ নামের শেষে পদবী হিসাবে ব্যবহারের প্রচলন শুরু হয়

· বেগম- বেগের স্ত্রী লিঙ্গ বেগম

· আরা- এটি একটি আরবি শব্দ, যার প্রতিশব্দ ‘সৌন্দর্য’

· বেওয়া- মুসলমান বিধবাদের ‘বেওয়া’ বলা হয়ে থাকে, যা একটি ফার্সি শব্দ। এর আভিধানিক বাংলা প্রতিশব্দ – ‘অসহায়’

· হাজী- যারা হজ্ব করেছে এসেছে, অর্থাৎ আরবের মক্কা শহরে গিয়ে বিধি অনুযায়ী ধর্মীয় রীতি পালন করেছেন তাকে হাজী বা হাজ্বী বলা হয়। প্রতিজন হজ্ব সম্পন্নকারীকেই হাজী নামে ডাকা হয়, যদিও পারিবারিক সুত্র এটাকে কেউ কেউ পদবী হিসাবেও ব্যবহার করে থাকে

· লায়েক- লায়েক একটি আরবি শব্দ, যার প্রতিশব্দ যোগ্য

· হক- আমার নামের অংশ বলে তা আলাদা করে নিচে দেওয়া আছে বিশদে

 

· আলম- এটি একটি আরবি শব্দ, যার বাংলা প্রতিশব্দ ‘বিশ্ব বা পৃথিবী’। নামের শেষে বিশেষণ হিসাবে পদবীতে যুক্ত হয়

· ইরানী- সোজা অর্থে, নিজেকে ইরাণ জাত বোঝাতে এই পদবীর ব্যবহার

· মাদানী- মদিনার মানুষদের মাদানী বলা হয়, যেমন আমরা বাংলার মানুষ বাঙালী। অনেকে যারা মদিনায় পড়াশোনা করেন, তাদের মাঝে মাদানী পদবী ব্যবহারের চল রয়েছে

· মওলানা- আরবিতে ‘মওলা’ শব্দের প্রতিশব্দ ‘অভিভাবক বা প্রভু বা মালিক’। ‘আনা’ মানে আমি, দুটো একত্রে হয় ‘মালিক ও আমি’। মালিক বা প্রভুর অধীনস্থ যেকোনো ব্যাক্তিকেই মাওলানা বলা যেতে পারে। যদিও বর্তমানে ইসলামিক মাদ্রাসা, মক্তব, (বিদ্যালয়), জামিয়া (বিশ্ববিদ্যালয়) এর যারা অধ্যক্ষ বা প্রিন্সিপ্যাল তাদের ‘মাওলানা’ উপাধিতে ডাকা হয়ে থাকে। তাই অনেকে মাওলানা শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ ‘জ্ঞানী’ বলে থাকলেও- কোরান বা হাদিসের কোথাও কোনও পণ্ডিতকে সম্বোধন করতে ‘মাওলানা’ শব্দের ব্যবহার নেই। পারস্যের পন্ডিতদের আমদানি করা এটা একটা আরবি অপভ্রংশ, যা কালক্রমে ভীষণ জনপ্রিয় প্রত্যয় মূলক পদবী হিসাবে প্রচলিত রয়েছে ভারতীয় উপমহাদেশ ও ইরাণে

· মুফতি- ইসলাম শাস্ত্রের আইনগত সকল বিষয়ে যিনি বিশেষভাবে পারদর্শীও সুপণ্ডিত তাকে মুফতি উপাধিতে ডাকা হয়। যা অনেকের পদবী হিসাবে ব্যবহৃত হয়। কোরানের যে শরিয়তি সংবিধান তার ‘ব্যারিস্টার’ সম ডিগ্রী হল মুফতি

· কাজী- কাজী মানে বিচারক বা জাজ; যিনি কোরানে বর্নিত আল্লার হুকুমকে সমাজে প্রতিষ্টিত করেন খলিফার নির্দেশে। এটাই পরে পদবী হয়ে যায়

· হাফিজ- পবিত্র কোরানের দাঁড়ি, কমা, কোলন, সেমিকোলন, উচ্চারণ অবিকল হুবহু বজায় রেখে ক্রমান্বয়ে ৩৩৮৬০৬ শব্দের তথা ৭৭৯৩৪ টি বাক্যের পুস্তককে যা ১১৪ টি অধ্যয়ে বিভক্ত, অবিকৃতভাবে সম্পুর্ন মুখস্ত করে ফেলেছেন ও যে কোন সময় তা নির্দিষ্ট সুরে পাঠ করতে পারেন- তাকেই হাফিজ উপাধি দান করা করা হয়

· মৌলভী- এটিও একটি ফার্সি শব্দ, যার বাংলা প্রতিশব্দ ‘অধ্যাপক’

· খোন্দকার- এটি একটি ফার্সি শব্দ, খোন্দ শব্দের প্রতিশব্দ ‘পড়া’ ও কার শব্দের প্রতিশব্দ ‘কারী’ বা যিনি করান। অর্থাৎ শিক্ষক বোঝাতে খোন্দকার শব্দ পদবীতে জুড়ে দেন অনেকে

· দেওয়ান- এটিও একটি ফার্সি শব্দ, যার বাংলা প্রতিশব্দ খাজনা আদায়কারী। বর্তমানে যারা Income Tax বা GST দপ্তরে চাকুরি করেন, সকলেই দেওয়ান

· নিয়াজী- নিয়াজ শব্দতি একটি আরবি শব্দ, যার বাংলা প্রতিশব্দ ‘প্রিয়’। আর যিনি প্রিয়তম তাকে নিয়াজী বলে সম্মানিত করা হয়ে, এক্ষেত্রে যিনি আল্লার প্রিয়তম তিনিই নিয়াজী

· চৌধুরী- এর আক্ষরিক মানে একটা নির্দিষ্ট সীমানার চারিদিকের মালিক। ভূস্বামীদের বোঝাতে এটা উপাধি হিসাবে ব্যবহৃত হত, যা কালক্রমে পরবীতে পরিণত হয়েছে

· তালুকদার- তালুকও ফার্সি শব্দ, যার বাংলা প্রতিশব্দ ‘সম্পত্তি’। যারা তালুকের মালিক তাদের নামের শেষে এই উপাধি জুড়ে দেওয়া হত, যা পদবীতে পর্যবাসিত হয়েছে

· ভুইঞা- ভুঁই এর মালিকদের ভূঁইয়া বলা হত। ভুঁই শব্দটা ফার্সিজাত যার বাংলা প্রতিশব্দ- জমি

· মজুমদার- ফার্সি শব্দ ‘মহজৌম’ থেকে মজুম শব্দের উৎপত্তি। যে সকল ভূস্বামীর অধীনে একাধিক মৌজা থাকত, তাকে মজুমদার উপাধিতে ডাকা হয়

· খাসনবীস- নবাব বা সুলতানের ব্যাক্তিগত সচীবের উপাধি ছিল এই শব্দ

· জমাদার- আরক্ষা বাহিনীর সাথে যুক্ত পদস্থ কর্তাদের ‘জমাদার’ বলে সম্মানিত করা হত

· মণ্ডল- এটি সংস্কৃত অপভ্রংশ থেকে উৎপত্তি হওয়া একটি শব্দ, ভারতীয় উপমহাদেশেই এই ধরনের পদবি দেখা যায়, যার বাংলা প্রতিশব্দ মীমাংসাকারী। মোড়ল মণ্ডলেরই অপভ্রংশ। যদিও মণ্ডল শব্দের আক্ষরিক প্রতিশব্দ হচ্ছে ‘গোলাকার স্থান বিশিষ্ট নির্দিষ্ট পরিধি’ যুক্ত এলাকা। ভারতীয় উপমহাদেশে সভা সমিতিগুলো গোলাকার ভাবেই বসত, আর সেই সভার সভাপতিত্ব যিনি করতেন তাকেই মূলত ‘মণ্ডল’ নামে ডাকা হয়। বস্তুত মণ্ডল, নন্দী, ভুইঞা বা চৌধুরী ইত্যাদি গুলো এলাকা ভেদে সবই প্রতিশব্দ

 

· মাতব্বর- মণ্ডলের অনুরূপ

· মল্লিক- আরবি শব্দ ‘মালিক’ থেকে ‘মল্লিক’ শব্দের উৎপত্তি। ইসলামিক শাসনাকালে যে সকল ব্যাক্তিরা পুঁথি, দলিল, দস্তাবেজ ইত্যাদির দারুণ ভাবে নকল করতে পারতেন তাদের মল্লিক উপাধি দেওয়া হত। ফার্সি শব্দে ‘মলিক’ হল জোতদারদের উপাধি বিশেষ

· মুন্সী- এই শব্দটিও ফার্সি, যার বাংলা প্রতিশব্দ ‘সচিব’। ব্রিটিশ ভারতে ভাষাবিদ, লেখক, উচ্চপদস্থ করণিক ও ঠিকাদারদের মুন্সী উপাধি দানের প্রচলন ছিল

· মৃধা- মিরদাহ’ নামক কামানের গোলা বিষয়ে পারদর্শী মানুষদের মৃধা পদবী দান করা হত নবাবী আমলে

· বিশ্বাস- নবাবের আস্থাভাজন কর্মচারিদের এই উপাধি দান করা হত

· কানুনগো- নবাবী আমলের ভূসম্পত্তি বিষয়ে বিশারদ ব্যাক্তিকে এই উপাধি দান করা হত

· লস্কর- সৈন্যদলে বা জাহাজে চাকুরিকরা কর্মচারীদের লস্কর নামে ডাকা হত

· বাছার বা বাশার- সর্বশ্রেষ্ট মানব’ অর্থে নবী (সাঃ)কে বোঝাতে ‘বাশার’ শব্দ ব্যবহৃত হয়, যা বাঙালীর অপভ্রংশ হিসাবে ‘বাছার’ পদবীতে রুপান্তরিত হয়েছে

· সরকার- এটি একটি ফার্সি ভাষা, রাজকার্য পরিচালনার সাথে যুক্ত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সরকার উপাধিতে ডাকা হত, সেই থেকেই পদবীর চল

· সরদার বা সর্দার- সর’ একটি ফার্সি শব্দ, যার বাংলা প্রতিশব্দ হুকুম। এই সর শব্দের সাথে কার, দার, জমিন, পঞ্চ ইত্যাদি হরেক প্রত্যয়মূলক শব্দ যুক্ত হয়ে আলাদা আলাদা বিশেষন যুক্ত শব্দ গঠিত হয়েছে। সরদার শব্দটিও হচ্ছে যিনি হুকুম প্রদান করেন এমন ব্যাক্তি। সেখান থেকেই এই পদবীর উৎপত্তি

· হাওলাদার- হাওলা’ শব্দটি ফার্সি যার প্রতিশব্দ জমি, দার শব্দের প্রতিশব্দ মালিক। জমিদারের একটা প্রতিশব্দ হাওলাদার

· শিকদার- আরবি শব্দ ‘শিক’ শব্দের প্রতিশব্দ খন্ড বা বিভাগ। একটি রাজত্ব বা জমিদারীর একটা অংশের ইজারাদারের উপাধি ছিল শিকদার

· ওয়াদেদ্দার- নবাবী আমলে যারা কর আদায়ে অসমর্থ ব্যাক্তির সম্পত্তি নিলাম করত

· দস্তিদার- নবাবী আমলে যারা দলিল, দস্তাবেজ, চিঠিপত্রের দেখভাল ও সংরক্ষণ করত

· কয়াল- নবাবী আমলে যারা দাঁড়ি পাল্লা নিয়ে মূলত ভুষিমালের ব্যবসা করত

· পোদ্দার- নবাবী আমলে যারা সোনা রুপার ব্যবসা করত

· নিয়োগী- নবাবী আমলে রাষ্ট্রকার্যে যে ব্যাক্তি নিয়োগ সংক্রান্ত কার্যের সাথে যুক্ত থাকতেন তাদের নিয়োগী নামে ডাকা হত

· চোঙাদার- বিভিন্ন সরকারী ফরমান, যারা গ্রামে গ্রামে চোঙা বা মাইক ফুঁকে জানান দিত

· জানা- নবাবদের জমিজমা যে সকল চাষারা দেখাশনা করত

· মহলানবিশ- নবাবী আমলে যারা সরকারী ফরমান লিখত

· পাটোয়ারি- নবাবী আমলে যারা জমি জাইগা কেনাবেচার দালালি করত তাদের পাটোয়ারি নামে ডাকা হত

· মাঝি- নৌ পরিচালনা ও মাছের ব্যবসার সাথে জড়িত ব্যাক্তিদের মাঝি নামে ডাকা হত

· জোলা- তাঁতী পেশার মানুষদের এই নামে ডাকা হয়

· ঢালী- যুদ্ধক্ষেত্রে যে ব্যাক্তিরা ঢাল শস্ত্রে সজ্জিত থাকতেন তাদের ঢালী উপাধিতে ভুষিত করা হত

· মুস্তাফী- আরবি শব্দ মুস্তাফা শব্দের প্রতিশব্দ ‘প্রিয়’, নবাবের প্রিয় পাত্রদের মুস্তাফী উপাধি দান দেওয়া হত

· সানা- এটি একটি আরবি শব্দ, যার বাংলা প্রতিশব্দ ‘উচ্চতম মর্যাদাসম্পন্ন’। নবাব বা সুলতানের রাজসভার প্রিয়পাত্রদের এই উপাধি দান করা হত

· মিস্ত্রী- লাতিন শব্দ ‘maestro’ শব্দের প্রতিশব্দ কারিগর, যা মূলত সংগীতের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হলেও, গ্রীক ও রোমান শিল্পীরা যখন মধ্যযুগে মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন স্থাপত্যকলার জন্য এসেছিল, পার্শিয়ান উচ্চারণে তারা ‘মিস্ত্রী’ হয়ে গিয়েছিল মঙ্গোল পূর্ববর্তী সময়ে। সেই থেকেই শিল্পীদের মিস্ত্রী উপাধিতে ভূষিত করার চল রয়েছে। প্রসঙ্গত আমাদের পুর্বপুরুষের পদবীও মিস্ত্রীই ছিল

এছাড়া বহু নাম এমন হয়, যেখানে আলাদা আলাদা শব্দ জুড়ে একজন ব্যাক্তিকে চিহ্নিত করা হয়, যেমন- ওয়াসিম আক্রম, ওয়াসিম জাফর, ইরফান হাবিব, প্রমুখ। বিশেষ করে শিয়া’রা তাদের নামের সাথে আলী (রাঃ) বা তাঁর পুত্রদ্বয় হাসান (রাঃ) ও হোসেন (রাঃ) এর নাম মধ্যনাম তথা middle name হিসাবে জুড়ে দেন। যেহেতু ভারতে ইসলামটা এসেছে পারস্য হয়ে, তাই ভারতীয় উপমহাদেশের ইসলামে পারস্য সংস্কৃতির ছাপ সবচেয়ে বেশি, মূল আরবি সংস্কৃতির চেয়ে

 

এবারে আসি খানেদের ইতিহাসে

আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশে জনপ্রিয় ধারণা হল চেঙ্গিস খাং হল একজন মুসলমান, ইতিহাস বিষয়ে মুর্খতা ও অজ্ঞতা যে পর্যায়ে পৌঁছালে এমন ভুল হওয়া সম্ভব; বর্তমান ভারতীয় উপমহাদেশের সমাজের বিপুল অংশ সেখানেই পৌঁছেছে। চেঙ্গিস খাং এর জন্ম- চীনের ঠিক উপরের একটা দেশ মঙ্গোলিয়াতে, যেখানে আজকের এই ২০২০ সালেও মুসলমানের সংখ্যা মাত্র ৩%। চেঙ্গিস খাং ছিল ‘টেং-রি’ দেবতার উপাসক, তার বর্বরতা যাদের উপরে নেমে এসেছিল তাদের অধিকাংশই ছিল মুসলমান ও খ্রিস্টান। বস্তুত ইহুদী ও মুসলমানেদের প্রকৃত মানুষ বলেই মানতনা চেঙ্গিস খাং। তার মতে এই দুই ধর্মগোষ্ঠীর লোকেরা হচ্ছে জন্মগত ‘দাস’, অতএব দাসেদের দিয়ে যা খুশি করানো যায় এমন মতই পোষণ করতেন। এমনকি মঙ্গোলদের যে ঐতিহ্যবাহী খাদ্য সামগ্রী, তা মুসলমানেদের জন্য নিষিদ্ধ করেছিলেন চেঙ্গিস, কারন দাসেরা প্রভুদের খাবার খাওয়ার মত সম্মানের অধিকারী নয়

চীনাদের অন্যান্য নাম যেমন তুং, পিং, লিং, সাং, মুং ইত্যাদির মত চেঙ্গিস তথা জিংগিস খাং ও হচ্ছে বিশুদ্ধ ‘মেড ইন চায়না’ প্রডাক্ট (আসলে মঙ্গোলীয়া)। চেঙ্গিস খাং এর শত শত পুত্র থাকলে, স্বীকৃত জ্যেষ্ঠ পুত্রের নাম ছিল ‘যোচী খাং’, তিনিও ওই টেংরি ধর্মের অনুসারী ছিলেন, কিন্তু চেঙ্গিস খাং এর নাতি ‘বির কাই খাং’ এক মুসলমান যাযাবর দলের চরমা সুন্দরী স্ত্রীকে জবরদস্তি তুলে এনে বিয়ে করেন বুখারা প্রদেশে। পরবর্তিতে এই রমণীর প্রভাবেই ‘বির কাই খাং’ ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন ও আজারবাইজানে থিতু হয়। এভাবেই মিশরের তৎকালীন মামলুক শাসকদের সাথে সখ্যতা গড়ে উঠে ইসলামিক সংস্কৃতি সৌহার্দের বিনিময়ে, ও বিপুল সংখ্যক মঙ্গোল সেনা ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়। মঙ্গোলদের দল তিনটি আড়াআড়ি ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়; বির কাই খাং এর দল, চেঙ্গিসের অন্য ছেলের দরুন নাতি ছাগতাই খাং এর দল ও চেঙ্গিসের আরেক ছেলের পক্ষের নাতি হলাগু খাং এর দল। টেং-রি ধর্মের অনুসারী হলাগু খাং তৎকালীন ইসলামিক শিল্প সংস্কৃতির পীঠস্থান বাগদাদের উপরে হামলা চালিয়ে গোটা শহরকে ধুলিস্যাত করে দিয়েছিল

এর জন্য মুসলমান হয়ে যাওয়া ‘বির কাই খাং’, হলাগুকে নিজের মঙ্গোল সেনাদল থেকে বহিষ্কার করে দেশে ফিরত পাঠায়, সাথে তার আরেক সহযোগী কিটবুক খাং কেও। কিন্তু দেশে ফিরে কুবলাই খাং কে হাত করে বির কাই খাং এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় ও পরে প্রকাশ্য যুদ্ধ ঘোষণা করে হলাগু। প্রথম দিকে ‘বির কাই খাং’ মোঙ্গলের তলোয়ারে আরেকটা মোঙ্গলের রক্ত ঝড়ুক এটা চাননি, কিন্তু হলাগু ‘বির কাই’ এর ধর্ম পরিবর্তনের ক্ষোভে অন্ধ হয়ে আক্রমনের তিব্রতা ক্রমশ বাড়ালে ‘বির কাই খাং’ এর ভাগ্নে ‘নোগাই’ হলাগুকে হত্যা করে

দীর্ঘদিন এই খাং বংশ রাজত্ব করেছিল মধ্য এশিয়ার বিস্তীর্ন অঞ্চলে, এবং এরা ইসলাম ধর্মাবলম্বী হয়ে যাওয়ার দরুন তুর্কি, আফগানী ও ইরানি মেয়েদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। রাজক্ষমতার সাথে যুক্ত এই পদবী কালক্রমে তাতার, তুর্কি, আফগান, ইরানী ও পামিরীয় স্তেপ অঞ্চলের যাযাবরদের মাঝে ভীষণ জনপ্রিয় হয়ে উঠে আভিজাত্যের নিদর্শন হিসাবে, যা আজকের দিনের সালমান খান, শাহরুখ খানের মধ্যমে ঐতিহ্য বহন করে চলেছে

আজকের চীনেও ঐতিহ্যবাহী চীনা ভাষায় ‘কান’ (Kan) অতি পরিচিত একটি পদবী, যা মন্দারিনে উচ্চারণ করে ‘Gan’ক্যান্তনেসি, হোক্কান, মিন্নান ও কুয়েনঝ্যাং নামক চীনা ভাষা গুলিতে ওই চেঙ্গিস খাং এর ‘খাং’ পদবীকে ‘জিয়ান’ বলে উচ্চারণ করা হয়, যা ডোরেমন নামক কার্টুন চরিত্রে নোবিতা, সোনিওর সাথেই সমান জনপ্রিয় চরিত্র। জাপানে পৌঁছাতে পৌঁছাতে এই খাং ‘কান-জি’ উচ্চারণে রুপান্তরিত হয়েছে কালক্রমে। যেমন ওলন্দাজ, সাইবেরীয় ও ডায়েসল্যান্ডে তা ‘কান’ (Kann বা Kan) নাম নিয়ে বহাল তবিয়তে রয়েছে

 

তৎকালীন মধ্যপ্রাচ্যের ইহুদীরা যখন খাং পদবীর মালিক হল সাম্মানিকতা স্বার্থে, তাদের হিব্রু ভাষায় সেই খাং উচ্চারণ বদলে গেল ‘কোহেন’ এ। গোজোসিয়ন যুগে যে চীনা দলটি আরো পুর্ব অভিমুখে যাত্রা করেছিল তাদের নাম ছিল ‘হাঞ্জা’, এরা ওই খাংকেই অপভ্রংশ করে ‘কোরেং’ উচ্চারনে ডাকত, যা থেকে আজকের কোরিয়া নামের উৎপত্তি বলে ধারনা করেন একদল ইতিহাসবিদ

প্রসঙ্গত ইসলামের শুরুর যে ইতিহাস ও কোরান হাদিসের যে রচনা কাল সেখানে কোনো খান পদবীধারী ব্যাক্তির উল্লেখ নেই, এখান থেকেও প্রমাণিত হয় যে আজকের খান কোনো ইসলামিক – আরবি সংস্কৃতি নয়, বরং তা বর্বর মঙ্গোল নেতা চেঙ্গিস খাং এর আভিজাত্যের পরিচায়ক। যার পরবর্তী বংশধরেরা ইসলামের শত্রু থেকে ইসলামে সম্পৃক্ত হয়েছিল

এই হল খান পদবীর শিকড়ের সন্ধান

ভারতীয় যে মুঘল সাম্রাজ্য, তা সরাসরি মঙ্গোল চেঙ্গিস খাং ও তৈমুর লং এর বংশ থেকে উদ্ভূত। মঙ্গোল শব্দের ফার্সি অপভ্রংশ হল মুঘল। ভারতীয় রাজপুতেরা নিজেদেরকে সগৌরবে সূর্য্যবংশী, চন্দ্রবংশী, অগ্নিবংশী, যুগবংশী হিসাবে পরিচয় দিয়ে গর্ববোধ করলেও ইতিহাস হচ্ছে ‘হুন’ জাতি তৎকালীন শতদ্রু নদী অঞ্চলে আক্রমণ শানালে বহু সংখ্যক পুরুষকে হত্যা করে ও নারীদের গর্ভবতী বানিয়ে দেয় সৈনিকেরা, যা প্রায় প্রতিটি সাম্রাজ্যবাদী শক্তিই করত। গুর্জর নারী ও হুন সেনাদের সংমিশ্রণে নতুন যে জাতির উদ্ভব হয়েছিল তারাই রাজপুত

আমার নামের প্রথমাংশ অর্থাৎ ‘তন্ময়’ শব্দটি একটি বিশুদ্ধ সংস্কৃত শব্দ, যার বাংলা প্রতিশব্দ ‘মনোনিবেশ, মগ্ন বা একাগ্রচিত্ত’; প্রক্ষান্তরে বলা যেতে পারে ‘যা বস্তুনিষ্ঠ নয়, বরং আত্মিক দশা’। পদবী ‘হক’ আবার একটা ফার্সি শব্দ, যার বাংলা প্রতিশব্দ ‘ ন্যায্য দাবী, সত্য, বা যথার্থ’। আকিকা’র সময় আর একটা নাম রাখা হয়েছিল, যা কালক্রমে হারিয়ে যায় নথিতে না থাকার কারনে- সেটা ছিল সেখ জিয়াউল হক। সেখ বা শাইখ হল একটা আরবি শব্দ, যা বিভিন্ন গোত্রপতিদের আভিজাত্য ও ক্ষমতার নিদর্শন স্বরূপ ‘উপাধি’ বিশেষ; যা খ্রিস্টান, ইহুদী বা পৌত্তলিক (মুর্তি পূজারী) সহ যে কেউ প্রভাবশালী ব্যাক্তি হলেই তাকে শাইখ নামে ডাকা হয় প্রাচীন আরবে, যে চল আজও বিদ্যমান। কিন্তু আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশে ‘সেখ বা শাইখ’ ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের পরিচয়জ্ঞাপক পদবীতে রুপান্তরিত হয়েছে। এবারে ‘জিয়াউল’, এর মানে ‘জ্যোতি’। আরবিতে জিয়া বা দিয়া, দুটো শব্দের প্রতিশব্দই আলো

আমাদের বংশের আদি পদবী হচ্ছে মিস্ত্রী, বিভিন্ন দস্তাবেজ ঘেঁটে লিখিত তথ্যে যা পাওয়া যায় সেই অনুযায়ী আমার উর্ধ্বতন পুর্বপুরুষের নামগুলো হচ্ছে-

  •  সেখ মোহাম্মদ সামসুল হক (আমার পিতা)
  •  সেখ ফজলুল হক
  •  সেখ নাকিবুদ্দিন হক মিস্ত্রী
  •  সেখ বাবুলাল মিস্ত্রী
  •  সেখ আমিন মিস্ত্রী
  •  সেখ হানিফ মিস্ত্রী
  •  সেখ আলি হোসেন মিস্ত্রী
  •  সেখ ইফতিকার মিস্ত্রী

ইফিতিকার মিস্ত্রীর পূর্বের কোনো পুরুষের লিখিত ইতিহাস নেই। ইতিহাসের পথে পদবীর অন্বেষণ যাত্রা এ দফায় এটুকুই


তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...