বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২০

ফেসবুকের ফুলেফেঁপে উঠা



ফেসবুকের বিজ্ঞাপন থেকে আয় 3600% বেড়েছে 2010 সালের নিরিখে, কিন্তু ব্যবহারকারী সংখ্যা কেবল 310% বৃদ্ধি পেয়েছে।

2019 সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত হিসাব প্রকাশিত করেছে একটি মার্কিন সংস্থা, সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী- আসল হোক বা নকল, আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশ অঞ্চলের প্রতিটি প্রোফাইল পিছু ফেসবুক $27 বা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২০৫০ টাকা রোজগার করেছে প্রতি বছর। যা যে কোনো অন্য সোশ্যাল মিডিয়া জায়েন্ট গুলোর চেয়ে অনেক অনেক গুন বেশি।
গুগলের নানাবিধ পরিসেবা থাকা সত্বেও 2019 সালে তাদের সবক্ষেত্রের বিজ্ঞাপন থেকে প্রাপ্ত সর্বাধিক আয় ছিল 134 বিলিয়ন ডলার, প্রতি ব্যবহারকারী পিছু প্রায় ৫০০০ টাকার কাছাকাছি।
ফেসবুককে আমরা আমাদের বহুমূল্য সময় ও আমাদের পছন্দ অপছন্দের খুঁটিনাটি তথ্যের বিনিময়ে কিনে ব্যবহার করি, ফেসবুক কোনো বিনামুল্য দাতব্যসেবা নয়।
ফেসবুকের অফিসিয়াল চাড্ডিগিরির হাতে হ্যারিকেন ঝুলিয়ে দিতে পারি আমরা এই ব্যবহারকারীরাই। হোয়াটসঅ্যাপে বিজ্ঞাপনের সুযোগ নেই, ফেসবুকের আয়ের একটাই উৎস, সেটা ফেসবুকের বিজ্ঞাপন, আর চুরির তথ্য বিক্রি। যত বেশি প্রোফাইল, তত বেশিক্ষণ ফেবুতে এক্টিভ, তত বেশি রোজগার তাদের।
7 দিন যদি আমরা একটা অংশ কোনোভাবে সংগঠিত হয়ে একে বয়কট করে দেখাতে পারি, বিজ্ঞাপনদাতারা মুখ ফিরিয়ে নেবে, ভক্তবৃন্ধ তো ক্ষনিকের ছেলে তাদের জুকারবার্গ বাবা পর্যন্ত শুধরে যাবে রাতারাতি।
সুতরাং, আপনি যতই বয়কট ফ্রান্স বা মুসলমান তাড়াও, চাড্ডি-ছাগু, বিজেপি-বাম বা অন্য আন্দোলন করবেন তাতে আপনার লাভ কি হবে তা কেউ জানেনা, কিন্তু ফেসবুক যে উত্তরোত্তর আরো ধনী হবে তা বলাই বাহুল্য।
ও হ্যাঁ, ঘরে বৌ বা গার্লফ্রেন্ডের এর সাথে যখন আদর মোহাব্বত করি- কাকে দেখিয়ে করি? তাহলে আমার ধর্মের নবী (সাঃ) বা আমার ইসলাম প্রেমের প্রমান স্বরুপ ফেবুতে বিজ্ঞাপন দিয়ে আমাকে জানাতে হবে কেন? ইসলাম কি প্রচারনা সর্বস্ব না কি কর্মসম্পাদন সর্বস্ব!
প্রতিবাদ করুন, কিন্তু সেটা শুধুই বাহ্যআড়ম্বরপূর্ণ না হয়ে দাঁড়ায়, বস্তু জীবনে যা অনুশীলিত হচ্ছে সেটার প্রতিফলন ঘটুক সোস্যাল মিডিয়াতে, আমরা তো উল্টোটা করছি। এতে আমার আপনার লাভ কি হচ্ছে কেউ জানেনা, ফেসবুক কিন্তু লাভবান হচ্ছে প্রতি সেকেন্ডে- উপরের ৩৬০০% বৃদ্ধি তারই প্রমান।

শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২০

গোয়ার্তুমি


বহু সময় আমাদের সৎ প্রচেষ্টা থাকে গোয়ার্তুমি ছেড়ে দেওয়ার, কিন্ত গোয়ার্তুমি আমাদের ছেড়ে যায়না- যখন তা চরিত্রের সমার্থক হয়ে যায়। কোনো কিছুর মুল্যেই যখন চরিত্রে বদল আসেনা তখনই এগুলো হয়।

আসলে যা আমি চাইছি তা কেবল আমার জন্যই চাইছি, এবং সম্পূর্ণ আমার মতো করেই চাইছি এটা মহা সমস্যার।
আমি সময় চাইছি, কিন্তু সময় দেবনা, আমি সমাধান চাইছি কিন্তু সমস্যা তৈরি ছাড়বনা, আমি নিবেদিত প্রাণ কিন্তু নৈবেদ্য চাই- আমি তোমাকে চাই কিন্তু আমি তোমার নয়, তুমিই সবকিছু কিন্তু আমি তার চেয়ে সামান্য বেশি, আমি তোমারই অংশ কিন্তু সেটা কেবল ধ্বনাত্বক টুকু, আমি সবকিছু চাই সম্পূর্ণ ভালটুকু, আমি পরিপূর্ণ মনোযোগ চায় কিন্তু আমি অবজ্ঞার বাইরে কিছু দেবনা, আমি পরিপূর্ণ অধিকার চায় কিন্তু বিরক্ত হতে চাইনা- আমি দোষারোপ করবো কিন্তু নিজেকে আয়নায় দেখবোনা, আমি স্বত্তের দাবী জানাবো কিন্তু দায়ভার নেবোনা- আমি জলে সাঁতার কাটবো, গা ভিজবেনা-
এমনই সকল কিছু যখন চরিত্রের অংশ হয়ে যায় তখন তা আর ব্যাক্তির থেকে এগুলোকে আলাদা করা যায়না। তখন ব্যাক্তি মানেই এগুলোই- এটাই দৃঢ় বিশ্বাস জন্মে যায়।

সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২০

ছেলেবেলা থেকেই মেয়ে প্রোগ্রামার হয় যেন...



ভাবছেন হঠাৎ সুমনের গানের লাইনটা পাল্টে লিখলাম কেন? কারণ, কিছুদিন ধরেই আশেপাশে দেখছি - বাবামায়েদের নতুন অ্যাসপিরেশন - ছেলেমেয়ে যেন অল্পবয়স থেকেই ভালোভাবে কোডিং (বা প্রোগ্রামিং) শিখে নেয়। শুধু বাবামা নয়, আমাদের স্কুলশিক্ষা দপ্তরও মনে করে ভবিষ্যতে প্রতিটা বাচ্চাই প্রোগ্রামার হবে, নইলে জীবন চলবে না, অতএব স্কুলে মানুষ হয়ে ওঠা শেখার চেয়ে সি, পাইথন, জাভা শেখা বেশি দরকারি।

এইটা নিয়েই দুচারটে কথা বলার ছিলো।

একেবারে অনভিজ্ঞ নই। আইটি ইন্ডাস্ট্রিতে বিশ বছরের বেশি আছি, কোডিং ইত্যাদি ভালোই পারি। বহুদিন নানা টেকনোলজি নিয়ে গবেষণার ফলে খান সত্তর পাব্লিকেশন আর খান কুড়ি গ্রান্টেড পেটেন্টও রয়েছে। একদম ক অক্ষর গোমাংস নই কো বাবুমশাইরা।

মানে বলে রাখলাম আর কী...যদি একটু মন দিয়ে পড়েন আর ভাবেন।

আমার একটা ছোট মেয়ে আছে, ক্লাস এইটে পড়ে। ক্লাস সেভেন অবধি এদের ICT বলে একটা সাবজেক্ট ছিলো - Information and Communication Technology, লক্ষ্য কম্পিউটারের ব্যবহারিক দিকগুলো সম্পর্কে ছেলেমেয়েদের ওয়াকিবহাল করা। আপাতদৃষ্টিতে ঠিকই আছে। হ্যাঁ, ডিজিটাল ডিভাইডের জন্য আমার আপনার ছেলেমেয়েদের স্কুলেই এসব পড়ানো হয়, এরা বাড়িতে ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ পেয়ে হাত মকশো করতেও পারে। নইলে বাদবাকি ক'টা স্কুলের ছেলেমেয়েরা এসব সুযোগ পায় বলুন...

তা সেই প্রিভিলেজের গল্প না হয় আপাতত থাক। যেটা নিয়ে বলছিলাম - এই মেয়ের ক্লাস এইটেও ICT পড়ানো হয়, আর এতদিন যে শুধুমাত্র ব্যবহারিক দিকগুলো ছিলো - মানে ওই বাক্সটার মধ্যে কী থাকে, জিনিসটা চলে কী করে, ডকুমেন্ট বানায় কী করে, স্লাইড বানায় কী করে...ইত্যাদি... - এর বাইরেও জানলাম আরো অনেক কিছু আছে। মেয়ে একদিন বললো - BlueJ ইনস্টল করে দাও। আমি অবাক হওয়াতে জানালো এই ক্লাস এইটে নাকি জাভা প্রোগ্রামিং আর অবজেক্ট ওরিয়েন্টেশন শেখাবে! ক্লাস এইটে অবজেক্ট ওরিয়েন্টেশন? আমার এক বন্ধুর কাছে শুনলাম সিবিএসই বোর্ডে ক্লাস নাইনে আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্সের কোর্স রয়েছে, তাতে নিউরাল নেটওয়ার্কও রয়েছে। ক্লাস নাইনে নিউরাল নেটওয়ার্ক! যার ভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে ম্যাট্রিক্স অ্যালজেব্রা আর ডিফারেনশিয়াল ইকুয়েশনের ওপর!

ক্লাস এইট, নাইনে এইসব কীভাবে পড়ানো সম্ভব, যখন এই কনসেপ্টগুলো যে সমস্ত বিষয়ের ওপর দাঁড়িয়ে তার কিছুই এই বয়সে পড়ানো হয় না?

এরপর খেয়াল করে দেখতে শুরু করলাম - ফেসবুক বা গুগলের নতুন বিজ্ঞাপণগুলো - যেমন WhiteHat Junior, বা Vedantu - এইসব বেসরকারি অনলাইন টিউশন স্টার্টাপগুলোর। এরা স্কুলের বাচ্চাদের অনলাইনে কোডিং শেখায়। অবশ্যই বিনা পয়সায় নয়। একটা উদাহরণ যেমন ৪৮টা ক্লাসের প্যাকেজের দাম ৩৫,০০০ টাকা। কেন শেখায়? বরং, বলা ভালো কেন এই প্যাকেজগুলো বিক্রি হয়? কারণ, এরা আমার আপনার মধ্যে একটা সংশয় তৈরী করে দিতে পেরেছে - যে ভবিষ্যতে আমার আপনার ছেলেমেয়েগুলো ইন্ডাস্ট্রিতে করে খেতে পারবে তো? তাছাড়া, ভবিষ্যতে সবকিছুই যদি কম্পিইউটারাইজড হয়ে যায়, সফটওয়্যারের ওপরেই চলে, তাহলে নিজের ছেলেমেয়েকে সেসব কীভাবে বানায় সেইটা শেখানোই কি ঠিক রাস্তা নয়?

আর এখনকার সামাজিক অর্থনৈতিক রাজনৈতিক অবস্থা এই সংশয়কে আরো বাড়িয়েছে...যেমন জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ এর "স্কিলনির্ভর শিক্ষা" - যেখানে স্পষ্টই ক্লাস সিক্সের পর কোডিং বা প্রোগ্রামিং শেখানোর সুপারিশ করা হয়েছে। আপনাকে বাধ্য করা হচ্ছে ওরা যেভাবে চায় সেইভাবে ভাবতে।

আপনি শুধু একটু চেষ্টা করুন বাস্তবটাকে চিনতে।

(১) কোডিং অবশ্যই বিরাট হাতিঘোড়া কিছু বস্তু নয়। বেসিক লজিক বুঝতে পারলে একটা অ্যালগরিদম বোঝা কঠিন নয়। আর আমাদের শিক্ষার স্ট্যান্ডার্ড কারিকুলাম এই লজিকের ভিত তৈরী করার জন্য যথেষ্ট পোক্ত। ধরুন, আপনি আপনার বাচ্চাকে শেখালেন কীভাবে চা বানাতে হয় - তার পরপর কিছু ধাপ আছে - পাত্রে জল নাও, গ্যাস জ্বালাও, পাত্রটাকে গ্যাসে বসিয়ে জল ফুটতে দাও...ইত্যাদি। সেই ধাপগুলো লিখে ফেলে সে কিন্তু তার বন্ধুদেরও একই কাজ শেখাতে পারবে। সাথে, আপনি তাকে এক্সপেরিমেন্ট করে দেখতে বললেন যে ধাপগুলোকে উল্টোপাল্টা করে দিলে কী হয়...কোডিং বাস্তবে এরকমই অ্যালগরিদমগুলোকে কম্পিউটারের পক্ষে বোঝা সম্ভব এমন ভাষায় - মানে সি, জাভা, পাইথন ইত্যাদিতে লিখে ফেলা। স্কুল লেভেলে আমরা যদি লজিকালি ভাবতে শেখাতে পারি, তাহলেই কিন্তু অনেকটা কাজ এগিয়ে যায়।

(২) কিন্তু ঠিক যেমন বেসিক অঙ্ক না শিখে অ্যালজেব্রার ইকুয়েশন সলভ করা যায় না, বলা ভালো বোঝা যায় না, ঠিক যেমন নিউটোনিয়ান মোশন বা মেকানিক্স না শিখে কোয়ান্টাম মেকানিক্স শেখা যায় না, একইভাবে কিছু গাণিতিক প্রিন্সিপল না শিখে ভালো প্রোগ্রামার হওয়া যায় না। হ্যাঁ, কিছুটা প্যাটার্ন চিনে ফেলে সেইটা দিয়ে গরুর রচনা লেখা যায় অবশ্যই, কিন্তু তাই দিয়ে ইন্ডাস্ট্রি চলে না। উল্টে যেটা হয় (আর এটা আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলা) সেটা হল এর পরে, কলেজ-ইউনিভার্সিটি বা কর্মক্ষেত্রে, এই শেখাকে ভুলিয়ে নতুন করে আবার সবটা শেখাতে হয়। ভেবে দেখুন - ছয় বছর বা আরো বেশি সময় ধরে আধাখ্যাঁচড়া ব্যাটিং শেখার পর আপনাকে যদি ওয়াসিম আক্রমের সামনে ফেলে দেওয়া হয়...

(৩) খেলাচ্ছলে প্রোগ্রামিং অবশ্যই কিছুটা শেখা যায়। এমআইটি মিডিয়া ল্যাবের তৈরী স্ক্র্যাচ দিয়ে গ্রাফিকালি লেগো ব্লক জোড়ার মত ব্লক জুড়ে জুড়ে ছোটোখাটো গেমও বানিয়ে ফেলা যায়। বা, এমআইটিরই অ্যাপ ইনভেন্টর দিয়ে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপও বানিয়ে ফেলা যায় - আর এগুলো ইস্কুলের বাচ্চাদের জন্যেই তৈরী। কিন্তু এগুলো সবই ওই বেসিক কনসেপ্ট বা খেলাধুলোর জন্য। কেউ আগ্রহ পেলে আরো ভিতরে গিয়ে শিখতে পারে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে স্কুলে কোডিং বাধ্যতামূলক করতে হবে। তাছাড়া, প্রোগ্রামিং এর বেসিক কনসেপ্ট, আর অঙ্কের যে নিয়মের কথা আগে বলেছি, সেগুলো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকলে এখানেও সমস্যা হয়ই।

(৪) প্রত্যেকটা বাচ্চার ভবিষ্যতই কি কোডার হওয়া? পৃথিবীতে আর কোনো কাজ থাকবে না, বা অন্য কোনোকিছু চলবে না? বরং, এত যে অটোমেশনের কথা হচ্ছে চারদিকে, তাতে তো বরং এই প্রোগ্রামারদের ভবিষ্যত বরং বেশি আশঙ্কার। গার্ডিয়ান পত্রিকায় GPT-3 নিয়ে একটা আর্টিকল বেরিয়েছিলো অল্প কয়েকদিন আগে (https://www.theguardian.com/.../robot-wrote-this-article...) - আর্টিকলটা লেখা একটি এআই সফটওয়্যার দিয়ে। তাহলে কোনো গ্যারান্টি আছে যে প্রোগ্রামের কন্ডিশনাল স্টেটমেন্টগুলো - অন্ততঃ খুব রিপিটেটিভ স্টেপ যেসব কোডে আছে সেগুলো আরেকটা এআই সফটওয়্যার লিখতে পারবে না? (এই নিয়ে একটা গাণিতিক তর্ক আছে, সেটা আপাতত থাক)

আর সবচেয়ে রূঢ় বাস্তবটা কী জানেন? খুব কম সংখ্যক ছেলেমেয়ের বাবামায়েরাই বাড়িতে এই প্রোগ্রামিং এর ব্যাপারে সাহায্য করতে পারবেন। আমি বা আপনি হয়তো পারবো, বাকি ক'জন পারবে? সেখানেই এই হোয়াইটহ্যাট জুনিয়রদের খেলা। এরা ক্রমাগতঃ আপনার কানের কাছে বলে যাবে - প্রোগ্রামিং প্রোগ্রামিং প্রোগ্রামিং, আপনার বাচ্চার ভবিষ্যত শুধু এর ওপরেই দাঁড়িয়ে রয়েছে - আর আপনিও ছেলেমেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে ৪৮টা ক্লাসের জন্যে কড়কড়ে ৩৫,০০০ টাকা দিয়ে ফেলবেন...আফটার অল, যদি আপনার সন্তান কম্পিটিশনে পিছিয়ে পড়ে, যদি হেরে যায়...

মায়ের ভীষণ ইচ্ছে মেয়ে আঁকার স্কুলেও যাক,
বাবার দাবী তারই সঙ্গে কত্থকটাও থাক...

লেখকঃ অরিজিৎ মুখার্জী

সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২০

রাত জাগানিয়াঃ একটি সুখের ডাকনাম

 


বন্ধু শুভঙ্করদা সেদিন আমাদের আড্ডায় শুধিয়েছিল যে- কেন তুমি রাত্রে জেগে থাক, কীভাবে?
আসলে আমরা অনেকেই সারারাত বা প্রায় সারারাত জেগে থাকি, প্রত্যেকের নানান আলাদা আলাদা কারন৷ আমার কিন্তু জেগে থাকা সম্পুর্ণ অকারণে, যার বস্তুগত কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা নেই, সেই অসামাজিকতার কথাই আজ কিছুটা শোনাবো যদি ধৈর্য থাকে।
অনেকে বলে শিল্প কেউবা বলে প্রতিভা, কিন্তু ভীষণ ঘুম ধরা চোখ নিয়েও মোবাইলের কিংবা কম্পিউটারের পর্দায় আলো জ্বালিয়ে রাখটা কোনো স্বাভাবিক ব্যাপার নয় মোটেও। কি মনে হয়, রাত জেগে কারো সাথে কথা বলি কিম্বা প্রেমালাপ? ম্যাসেজের টুংটাং কিম্বা ভাইব্রেটারের গোঙানি শব্দে ফোনের কম্পন… নাহ এসবের প্রতীক্ষা করিনা, পরোয়াও করিনা। তবুও জেগে থাকি, শুধুই জেগে থাকি রাতভর- জেগে থাকার আতিসায্যে। রাতের একাকিত্ব যখন অন্তরের সবচেয়ে আপন হয়ে যায় তখন সেই চরম সুখের মূহুর্তগুলোকে উপভোগ করার জন্য নিজেকে জাড়িত করে তার শেষ রস বিন্দু টুকু আস্বাদন করার জন্যই তো এই জাগরণ।
সমগ্র চরাচর যখন নিস্তব্ধ, নিশ্চিন্ত ঘুমের পরিরম্ভে মত্ত, দিকচক্রবালে গ্রহ নক্ষত্রেরা নিজেদের ক্লান্ত একঘেয়ে পরিক্রমায় ব্যাস্ত, শ্বাপদেরা অরণ্যে শিকারের জন্য বেরিয়ে পরেছে- তখনই জাগা শুরু হয়। পূর্নিমা রাত্রিতে আকাশের দিকে চেয়ে থাকার যে অপার্থিব সুখ তা ঘুমের মাঝে কোথায়? অমাবস্যার সীমাহীন অন্ধকারের মাঝে দিকচক্রবাল জুড়ে কালো কালো প্রেতসম ছায়া, এক আকাশ তারাদের মাঝে নিজেকে ওই তাদেরই একজন হিসাবে কখনও কি ভাবতে পারতাম যদিনা রাত্রিতে জেগে থাকতাম?
এই জেগে থাকতে থাকতেই তো নিজেকে চিনেছি, কখনও রবি ঠাকুরের লেখায় ডুবে গেছি তো কখনও বঙ্কিমের সাথে বাংলা ভাষা শিখেছি। শরৎচন্দ্রের ইন্দ্রের সাথে তো আমার রাত্রেই পরিচয়, কিছুক্ষণ সেক্সপিয়ার হাতড়ে আবার পরক্ষণেই জীবনানন্দের শঙ্খ চিল হয়ে নবান্নের স্বাদ চেখেছি। অপুর পাঁচালী হোক বা ফেলুদার সাথে মগজাস্ত্রে শান সবই এই রাত্রির আঁধারেই ঘটা। কখনও বিভূতিভূষণের ইছামতিতে ভেসে চলা তো কখনও আবার বিমল মিত্রের সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েনের চড়াই উৎরাই পেরানো- জেগে থাকার জন্য আর কোন বাহানা প্রয়োজন!
এই রাত্রিতেই কী অনায়াসে আতালান্তিক পেরিয়ে হাজির হয়ে যায় লাতিন আমেরিকার মানুষখেকোদের ডেরায়, আফ্রিকার উপজাতিদের মাঝে কিম্বা আরবের রঙিন রজনীগুলোতে। কখনও ব্রোঞ্চ যুগে কিছুক্ষণ বিশ্রাম করে ছুটে বেড়ায় ভূমধ্যসাগরের তীর ঘেঁষে, দেখি ইউরোপের আধুনিকতা, ক্লান্ত হয়ে সাঁতার কাটি কৃষ্ণ সাগরের বন্দি জলে। কখনো হেঁটে চলি ইবনে বতুতার সাথে, চলে যায় স্ক্যান্ডেনেভিয়ানদের ভাইকিং রাজ্যে, গোবি মরুভূমির গিরগিটিদের সাথে কিছুক্ষণ সময় লুকোচুরি করে ফিরে আসি গঙ্গার উৎসমুখে, হিমালয়ের কোলে।
ভূগোলের ম্যাপে থাকা সরু সরু শিরা উপশিরা বেয়ে চলতে থাকি জ্ঞানের অন্বেষণে, যত জানি ততই স্তব্ধ হয়ে যায় নিজের অজ্ঞানতা দেখে, পাছে লোকে জেনে যায় এই মূর্খতার কথা, তাই তো রাত্রের আঁধার বেয়ে পাড়ি দিই শান্ত নদী বেয়ে কখনও চীনে, কখনও মিশরে কখনও বা মস্কোর অলিতে গলিতে। বিপুলা এই ভারতের কত সভ্যতা, কত সংস্কৃতি কত ভাষা- লতার মতো চেপে ধরে রাত্রিকে অবলম্বন করে। বিস্মৃতির চোরাবালির আড়ালে একান্ত গোপনে তারা নিজের মধ্যে আপাদমস্তক টেনে নেয় আমাকে রাত্রির আঁধারে।
ভাবনার মাঝে কতশত দ্বন্দ্বেরা যখন নিজেদের মাঝে হুলুস্থুল বাঁধিয়ে রাখে, তখন তাকে কাছ থেকে পরখ করা জন্য রাত্রির নির্জনতা ভিন্ন আর সময় আছে? বাষ্পীয় আত্মার পরিভ্রমণের পথে মুক্ত প্রাণের স্লোগান লেখা চিঠি গুলো তো এই রাত্রের ডাকেই এসে পৌঁছায় হৃদয়ের প্রকোষ্ঠে। ব্যাঙাচির জীবনচক্রে নীতি গ্রন্থের অসহায় আত্মসমর্পন ঘটলে লেজ খসে পরে, মৃত্যুর দূতেরা বার্তা দিয়ে যায় তির্যক দীর্ঘশ্বাসে, পরিচিত গন্ধেরা কুড়ে খায় মগজের ধন- এসব কি জানতে পারতাম রাত্রি না জাগলে?
অপ্রাপ্তিকে হাতড়িয়ে হা হুতাশ না করে নৈঃশব্দকে যারা আপন করতে পারে তাদের কাছে অবসাদই প্রিয়ার বেশে ধরা দেয় আলুথালু বেশে, কালের খাতায় লিপিবদ্ধ হয় ঘড়ির নির্বাক পরিযায়, অভিমানের সীলমোহরে থাকা কলঙ্কেরা ধরা দেয় রঙিন স্বপ্নের বসনে। রাত্রি জেগে থাকার পেছনে বিশেষ কোনো কারণ লাগেনা, দুঃখ সুখ হাসি কান্না ব্যথা আনন্দ বেদনা- এসব কিছুকে বস্তুগত ভাবে স্পর্শ করে তাদের সাথে কিছুটা সময় একান্তে কাটানো যায়না দিনের কোলাহলে।
ব্যার্থ প্রেম, প্রিয় মানুষের ছেড়ে চলে যাওয়াতে যারা কাঁদতে পারেনা, রাত্রির আঁধারই তো তাদের শুশ্রূষা করে পরম মমত্বে, সমৃদ্ধ হয় উপলব্ধির ঝুলি। পুরোনো স্মৃতির সরণীতে পিছলিয়ে না চলে, মাকড়সার ঝুল সরিয়ে সিঁড়ি পথে স্যাঁতস্যাঁতে জমিতে নামার জন্য রাত্রির গভীরতাই যে আদর্শ, আঁধারের আঁধার চোখকে সইয়ে দেয়। তাইতো জেগে থাকি রাতের নিস্তব্ধতার মোড়কে থাকা যত্নেকে অনুভব করতে৷
মুখোশের আড়ালে থাকা বিরহের আগুনকে দীর্ঘদিন ধরে লালনের রমণ আসলে সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেশা, কবিরা কাব্যে তার বিষ্ফোরন ঘটাতে পারেন, কিন্তু আমাদের মতো যারা অকবি তারা রাতের পাহারাদার হয়ে বিরহের সূচ দিয়ে জীবনের কাঁথা সেলাই করে ফুলকারি নক্সা আঁকে। শরতের আকাশে ভেসে যাওয়া সাদা মেঘের মতো অনিশ্চিত এই জীবনে কখন যে কে কোথায় টুক করে ঝরে পড়বে তার ঠিকানা কে রাখে, ব্যর্থতার কালো মেঘ হয়ে জমে থাকা অপ্রিয় স্মরণিকাদের সাথে একান্তে কিছুটা সঙ্গম সুখ নিশীথের একাকিত্বে যার শীৎকারে রোমকূপে শিহরণ জাগে, ঝরে পড়ার ঠিক আগে।
বিরাট এই বিশ্বের মাঝে নিজে যে কি সামান্য ক্ষুদ্র অস্তিত্ব তা রাত্রির আরসির মুখোমুখি হলে তবেই উপলব্ধি করা সম্ভব। আলোকের আনন্দে উল্লসিত প্রাণ, তুচ্ছ আমিত্বকে উপেক্ষা করে শোকসর্বস্ব পৃথিবীর জন্মজন্মান্তরের যে নিগুঢ় রহস্য- তার স্বাদ আস্বাদন করতে পারেনা। জীবনের পথে চড়াই কম উৎরাই বেশি, বিপদেরা ঝাঁক বেঁধে ওৎ পেতে বসে থাকে জোনাকির মতো, যা অমাবস্যার রাত্রিতে আবিষ্কার করা যায়। ভীরুতা, শঠতা, কাপুরুষতাকে অন্ধকার কখনও দৃশ্যমান করেনা লোকসমাজে, দেখনদারির ঝুলন উৎসবে সামাজিক বর্ম পরিহিত ‘আমি’ কে চিনিয়ে দেওয়ার জন্য আঁধারের চেয়ে বড় বন্ধু আর কেউ নেই।
নিজের মাঝে ইশ্বরের খোঁজ পেতে হলে, ভেঙে যাওয়া মুহুর্ত গুলোর প্রতিটি টুকরো খুঁজে আবার নতুন করে বানিয়ে, অলীকের সাথে আবার নতুন করে শুরু করে সেই ভুল শুধরে নেওয়ার মাঝেই তো ঈশ্বরের বাস। দিনের আলো জীবনকে শুষে নিয়েই তো সে উজ্জ্বল হয়, রাত্রি আবার সেই পরমায়ু ফিরিয়ে দেয়।
সকলের মাঝে থেকে সম্পূর্ন একটা নিঃসঙ্গ জীবন যাপন আসলেই একটা কলা, জেদ না থাকলে শিল্পী হওয়া যায়না, প্রয়োজন অধ্যাবসায়। মানবীয় সম্পর্কের বন্ধনে জড়িয়ে থাকা সাংসারিক সদস্য- মা, ভাই, বোন, স্ত্রী, সন্তান, বন্ধু, আত্মীয় স্বজনেরা জীবনের অবিচ্ছেদ্য, কিন্তু তার জন্য নিজেকেও প্রয়োজন, আর নিজেকে জানতে কিছুটা অধিকার নিজের জন্যও সংরক্ষণ করতেই হয়, আর তার জন্যই রাত্রির প্রহর গুলোকে কারোর সাথে ভাগ করতে মন সায় দেয়না।
মাঝরাতে খুব প্রিয় মানুষ ছাড়া বাকি সকল কিছুকেই যেন অনাহূত মনে হয়, কেউ যদি নতুন করে জীবনে আসতে চায়- বস্তু হোক বা জীবন; মনটা শিউরে উঠে, ভয়ে পেয়ে চমকে যায়- যদি সেই সম্পর্ক সেই ভালোবাসা নিজেকে ভালবাসার চেয়েও বেশি শক্তিশালী হয়ে যায়, তখন আমি তো আর আমার সাথে বাঁচতে পারবনা। তাই ভয় পায়, সম্পর্কেরা হারিয়ে যায় সীমান্তে বিলীন হয়ে নিজ কক্ষপথে...
হারিয়ে যাওয়া সকল কিছুই আর কখনও ফিরে আসেনা, এটাকে নগ্ন ভাবে আঁকার জন্য একটা বিস্তৃত ক্যানভাস দরকার হয়, রাত্রের গাঢ় অন্ধকারের চেয়ে মসৃণ ক্যানভাসের বিকল্প আর কিছু আছে কি অদৌ? পোড়া বুকের মাঝে তাজা ফুসফুস বড় বেমানান জুটি, এদের মাঝে সন্ধির জন্য প্রয়োজন সীমাহীন কল্পনার প্রলেপ, যে কল্পনা জন্ম দেয় দুর ভবিষ্যতের, জন্ম দেয় নব নব সৌন্দর্যের- যাকে পুঁজি করে আগামীর সকল রাত্রে জেগে থাকার জন্য রসদ সংগ্রহ হয়।
একা থাকাটা আসলেই ভালোবাসা, নিঃস্বার্থ ভালবাসার জন্য অখন্ড অবকাশ প্রয়োজন যেখানে কেউ শান্তিভঙ্গ করবেনা৷ সারারাত জেগে রাতের নির্জনতাকে উপভোগ করতে শিখে গেলে অবশিষ্ট প্রার্থিব সকল কিছুকেই অত্যন্ত সস্তা বলে মনে হয়। রাতজাগা অস্বস্তির নয়, বরং সুখের- অনন্ত সুখের পরশ; তাই তো বছরের পর বছর ধরে রাত্রিগুলো সুখের ওমেই কাটিয়ে দেওয়া যায় জেগে জেগে।

প্রতিদিন একটা নতুন ভোরের জন্ম দেবার সুখ কেবলমাত্র সে ই জানে যে রাত্রি জেগেছে শখ করে।

রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২০

মরলে চাষা খাবি কি


#Say_No_to_farm_bill

হাথারাস গণধর্ষণ কিম্বা বাবরির ‘আত্মনির্ভর আত্মহত্যার’ রায়- পরিকল্পিত এই দুটো ঘটনা দিয়ে কৃষক বিদ্রোহের আঁচে অনেকটাই জল ঢেলে দেওয়া গেছে আপাতত। কিন্তু এটা জনগণের পাপী পেটের প্রশ্ন, তাই #মরলে_চাষা_খাবি_কি স্লোগান চালাতেই হবে অন্তিম শ্বাস পর্যন্ত।

গত কয়েক বছরে দেশে কৃষকবিদ্রোহ ৭০০% বেড়েছে, স্বভাবতই মিডিয়া জুড়ে কৃষক আর কৃষকের পক্ষে মোদীসেনারা স্তুতি করবে, এটাই ছিল তাদের স্ট্রাটেজি। সেটা ফেল মেরে যেতেই হাথারাসের মেয়েটিকে জ্যান্ত পুড়িয়ে খুন করে দেশের মানুষের নজর ঘুরিয়ে দেওয়া হলো।

জীবনে যারা লাঙ্গল দেখেনি, বৃষ্টি ভেজা আলে হাঁটেনি, সেচের স জানেনা, ফসল কখন কীভাবে কাটে জানেনা, বাজারে গিয়ে সবজি বিক্রির গুঁতো বোঝেনি- তারা এখন সোশ্যাল মিডিয়াতে এখানে কৃষি বিল ও কৃষকের উন্নয়নের কথা বোঝাতে আসরে নেমেছে। স্নো-প্পাউডার-লিপস্টিক মেখে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো তৃতীয় শ্রেণীর ফিল্মি নায়িকা, জীবনের দ্বিতীয় পেশায় এসে এখন রাস্তায় নেমে ‘চাষির কিসে ভালো’ তা বোঝাতে নেমেছে। আমাদের সমাজও এমনই উচ্ছন্নে গেছে যে এদের বলার এক্তিয়ার দিচ্ছে অনেকে। যাদের জন্য এত ভালো ভালো সিদ্ধান্ত, তারা ছাড়াই যে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় সেটা পৃথিবী দেখেছিল কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা রদের সময়, এখন চাষিরা দেখছে।

মোদী সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপের প্রতিটিই ডাহা ভুল নয়, যা করেছে জ্ঞানত করেছে ও আম্বাদানির জন্য করেছে। খুব স্বাভাবিকভাবে প্রত্যেকটি সিদ্ধান্ত জনহিতের বিপক্ষে গেছে। মোদী মন্ত্রী ও RSS এর ভক্তদের দাবী মতো-

1. নোট বন্দিঃ জনগণ ভুল বুঝেছে
2. জিএসটিঃ জনগণ ভুল বুঝেছে
3. অর্থনীতিঃ সারা বিশ্বের তাবড় পন্ডিতরা ভুল বুঝেছে
4. বেকারিঃ ৪৭ বছরে সর্বাধিক এটাও জনগণকে ভুল বোঝানো হয়েছে।
5. করোনাঃ _____________________________ চলছে-
6. পরিযায়ীঃ শ্রমিকদের ভুল বুঝিয়ে হাজার মাইল হাঁটানো হয়েছে।
7. কৃষক বিলেও স্বাভাবিক ভাবেই চাষিকে ভুল বোঝানো হচ্ছে।

সারা দেশের সবাই ভুল, শুধু মোদী ও তার ভক্তেরাই একমাত্র ঠিক। বর্তমান বিশ্বে যে কয়েকটি মহামূর্খ নিকৃষ্ট শাসকবর্গ রয়েছে- ইনি তাদের মধ্যে এক্কেবারে শিরোমণি লেভেলের। ভোটের আগে বলেছিল, ক্ষমতায় এলে ১০০ দিনের মধ্যে জিনিসপত্রের দাম কমিয়ে দেবে, ৫ ট্রিলিয়ন অর্থনীতি স্বপ্ন দেখিয়ে দেশের GDP ডুব সাঁতার দিচ্ছে, রাজকোষ ঘাটতি ১০৯%। ধার করে দেশ চলছে, বাজারে গেলে ভক্ত চাড্ডীদেরও পাছা ফাটে মাল পত্র কিনতে, কিন্তু মুখে ‘মোদী মহান’ কারণ হিন্দু খতরেমে হ্যাঁয়। LIC, রেল, এয়ারপোর্ট সহ দেশের সবই প্রায় বিক্রির দ্বারপ্রান্তে রয়েছে, সেই কাজকে সুগম করার জন্যই বাকি যাবতীয় সবকিছু।

মূর্খ, দাম্ভিক, আত্মকেন্দ্রিক, একনায়কতান্ত্রিক মানসিকতার লোকজনেরা ক্ষমতা দখলের স্বার্থে বৈষম্য আর বিভাজনকে প্রশ্রয় দিয়ে, ধর্মীয় আবেগ উন্মাদনা সহযোগে ঘৃণার চাষ করে মুষ্টিমেয় কয়েকটি ঘুনপোকা গোটা দেশকে আম্বাদানির কাছে বেচে দিয়েছে।

সিনেমার ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের মতো কিছু অসফল গায়ক নায়ককে ভাড়ায় খাটিয়ে, মিডিয়াকে অর্থ ও ক্ষমতার দ্বারা দলদাস করে, আইন ব্যবস্থার মাথায় প্রস্রাব করে দিয়ে এমন একটা আবহাওয়া তৈরি করে রেখেছে যে মানুষ আজ দিশেহারা। কানের কাছে সারাক্ষণ সেই সানাইটা বেজে চলেছে যাতে জনগণের ব্যাথার আওয়াজ ঢাকা পরে যায়, মানুষ সেটাই কেবলমাত্র শুনবে যেটা মোদী সরকার শোনাতে চায়। দ্বিতীয় টার্মে এরা এমন সব বিল আনছে, জনগন ভয়েই অতিষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এরা জানে এসবের কি পরিণতি হবে, তাই বোঝানোর জন্য আলাদা কর্মসুচিও রাখছে। আগের ঘা না মিটতেই আবার এত বড় ঘা তৈরি করে দিচ্ছে যে আগের ঘা টাকে তখন কম বলে মনে হচ্ছে।

চাষির কিসে ভালো তা নিয়ে এরাই জ্ঞান দিতে আসবে চাষি সেজে, ঠিক যেভাবে বিদ্যাসাগর কলেজে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার পর রাতারাতি অসংখ্য বিদ্যাসাগর কলেজের ছাত্র ছাত্রী জন্মেছিল সোশ্যাল মিডিয়াতে। এবারে কিন্তু কোদাল চালানো কড়া পরা হাত, আতঙ্কবাদী স্বৈরাচারী সরকারের ভাড়াটে টাট্টুদের পেঁদিয়ে পঞ্চান্ন করে দেবে চাষির দল।

কৃষকদের ভুল বুঝিয়ে, গরীব গ্রাম্য ফোড়ে-দালালদের রুজি কেড়ে, মহাজন ও পুঁজিপতিদের কাছে চাষের মাল বিক্রি করতে বাধ্য করার নামই নতুন কৃষি বিল। এখন পথে নেমে আন্দোলনই কৃষকদের বাঁচার একমাত্র পন্থা। এই সরকার গরীব মারা সরকার, এদের যারা স্যাঙাত আছে তারাও সানাই এর পোঁ। সিঙুরের মানুষ আজ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে মা-মাটি-মানুষের ধাপ্পা ‘জোর কা ঝটকা’ কেমন ‘ধীরে সে লাগা’। আজ পরিষ্কার, কারা ক্ষতিগ্রস্থ আর কারা লাভবান, গোটা বাংলা এর সাক্ষী। না হয়েছে শিল্প, না অন্য কোনো ব্যবসা, না হয়েছে কারোর চাকরী, না হচ্ছে কোনো চাষ- একবার তৃণমূলের ফাঁদে পড়ে প্রতারিত হয়ে ১০ বছর জলাঞ্জলি গেছে, আবার যদি বিজেপির ফাঁদে পড়ে- এবারে নিজের গু নিজেকেই খেতে হবে। আগের বার ঠকেছে, আবারও রাম ঠকান ঠকবে রামের নামেই।

যেসব চাড্ডি ও নাইটি সেলের ভাড়াটে টাট্টু সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে কৃষক মারা বিলের সমর্থনে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে তাদের বলছি বিলটি যদি কর্পোরেটের দালালির বদলে সত্যিই কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষিত করার জন্য আম্বাদানির চৌকিদার এনেছে- তাহলে বিলে লিখে দিক –

১) সরকারই একমাত্র MSP ঠিক করবে।
২) সরকার যেরকম হারে আজকের দিনে ফসল প্রোকিওর করে ও নিজস্ব ক্যাপাসিটিতে মজুত করে সেরকমই করবে আগামীতে । FCI কখনও উঠবেনা।
৩) ছোট হোক বা বড়, কোনো সংস্থাই MSP এর চেয়ে কমদামে ফসল কিনতে পারবে না।
৪) কৃষি ব্যবসার সাথে যুক্ত প্রতিটি কোম্পানিকে তবেই লাইসেন্স দেওয়া হবে যে, ‘কোনো পরিস্থিতিতেই MSP এর চেয়ে কম দামে কিনবেনা’। এই মর্মে মুচলেকা দিক কোম্পানি গুলো, এবং দুর্নীতি প্রমাণে ফৌজদারি মামলার রাস্তা খোলা থাকুক।
৫) চুক্তি চাষে কর্পোরেটের তরফে প্রতারণা করলে চাষি আইন-আদালতের সহায়তা পাবে।
৬) আগামী দিনে কোনো পরিস্থিতিতেই রাষ্ট্রীয় খাদ্য সুরক্ষা ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন হবেনা। দেশের প্রতিটি পেট যেন দুমুঠো ভাত/রুটির নিশ্চয়তা পায় রাষ্ট্রের তরফে।

আমাদের দেশের মিডিয়া বিকৃত ও বিক্রিত না হলে তারা যে প্রশ্ন গুলো হয়তো করতো-

১) বেসরকারি সংস্থা কেন খাদ্য মজুত করবে?
২) আগামীতে ফসলে কালোবাজারি হবে না তার গ্যারান্টি কে নেবে?
৩) কালোবাজারি থেকে চাষি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে বাঁচানোর জন্য বিকল্প ভাবনা কি রয়েছে?
৪) ফসলের কৃত্রিম শূন্যতা সৃষ্টি করে জনগণের পকেট কাটবেনা তার নজরদারি কে করবে ও কোন দপ্তর?
৫) রাজ্যে রাজ্যে FSD দপ্তর গুলোর ভবিষ্যৎ কি?
৬) এসেনসিয়াল কমোডিটির সংজ্ঞা কি?
৭) সরকার কার স্বার্থে কাজ করছে, জনগণ না আম্বাদানি?
৮) কৃষিক্ষেত্রের উৎপাদনে প্রত্যক্ষ করের বিষয়ে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি কি?

আজকাল আর কিছু বলতে সাংবাদিক সম্মেলন করতে হয়না, টুইটারেই দু’লাইনে মিটে যায়। তার পরেও মোদী ৬ বছরের রাজত্বকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের সামনা করার মুরোদ জন্মা দিতে পারেনি। দেশজোড়া বিরোধের মুখে নাগপুরের কয়েকজন বলদপিতা টুইটে বার্তা দিয়ে পরিস্থিতি নরম করার চেষ্টা করেছে, শিরোমণি আকালির হরসিমরত কৌরের প্রি-প্ল্যানড নাটকীয় পদত্যাগের যাত্রাপালা ফাঁস হয়ে যেতে। সুতরাং, এখন কিছুই আর মুখের কথায় হবে না, প্রস্তাবিত বিল ‘রাবার স্ট্যাম্প রাষ্ট্রপতি’র টিপসইও হয়ে গেছে, শুধু গেজেটে প্রকাশ বাকি। দাবী উঠুক, প্রতিটি আপত্তির বিষয়ে স্পষ্ট দিশা নির্দেশ বিলে লিখে দিক এমেন্ডমেন্ড করে, অথবা সম্পূর্ন বিল প্রত্যাহার করুক।

এই মোদীই বলেছিলো- “৫০ দিন সময় দিন, কালো টাকা ফেরত না এলে রাস্তার মোড়ে যেখানে পারবেন ঝুলিয়ে-জ্বালিয়ে দেবেন”। শুধু হিসেব দিক কালো টাকা কত ফেরত এসেছে, ওনাকে জ্বালাবার বা টাঙাবার কারো কোনো শখ নেই। জ্বালানো তার শখ, গোধরা-গুজরাত জ্বালিয়ে এখন প্রতিটি নাগরিকের ঘরে আগুন পৌঁছে দিয়েছেন সযত্নে। অবশ্য প্রতিটি ফ্যাসিবাদিদেরই শেষটা ওই ঝুলিয়ে-জ্বালিয়েই শেষ হয়েছে মুসোলিনির মতো- তাই এনারা নিজেদের ভবিতব্য জেনেই হয়তো এতোটা কনফিডেন্সের সাথে জ্বালিয়ে ঝুলিয়ে দেবার কথা বলতে পারে।

বাতেলাবাজিতে জনগণ আর কেউ আশ্চর্য হয়না, ‘প্রভুজি’ কামকি বাতের বদলে রেডিওর আড়ালে ‘লোমকি বাত’ এর ভাঁড়ামো করে, আগে পাবলিক রাগ করতো, এখন খিস্তিখাস্তা করে অবিরত। ফাঁকা টানেলে হাত নেড়ে, পান্ডববর্জিত স্থানে গাড়ির ভিতরে নিজের মাথায় নিজেই আলো ফেলে নিজেকে কার্টুন নেটওয়ার্কের জনপ্রিয় জোকার চরিত্রে নিজেকে উন্নিত করেছে। সেই নোট বন্দি থেকে শুরু করে, এরাই সম্মিলিতভাবে বুঝিয়েছিল ২০০০ টাকার নোটে ন্যানো চিপ আছে। জিএসটি, ৩৭০ ধারা লোপ, করোনাকালের শুরুতে থালা-ঘন্টা বাজানো, মোমবাতি জ্বালানো, ফুল ছড়ানো ইত্যাদি নিয়ে খেয়ালী আঁতলামো-মাতলামো কম হয়নি। ২১ দিনে করোনা ‘আল-গায়েব’ হওয়ার চার ফেলেছিল, সে চারও ডুবেছে। বৃষরাজ, ভক্তদের মূর্খ বানিয়ে রেখেছে আর মূর্খদের ভক্ত।

কাজের কাজ কি হয়েছে- প্রতিটা মানুষই নিজের জীবনের দুর্বিষহ সময়গুলো দিয়ে রন্ধ্রে রন্ধ্রে সয়ে বুঝেছে। স্বৈরাচারী সরকারের এটাই চরিত্র হয়, তারাই একমাত্র ঠিক আর বাকিরা ভুল- রাজ্যসভাতে মাইক বন্ধ সেটাকেই প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছে। ‘ইন্টারন্যাশানাল এ্যামেনেষ্টি’ সরকারের অত্যাচারে দেশ ছেড়েছে, সুতরাং সরকারের দিশা কোন পথে তা ভক্ত ছাড়া সকলেই হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছে। এরা আর বুঝতে পারছেনা যে জনগণ আর এদের মানতে চাইছে না, এদের ধাষ্টামো ধরে ফেলেছে। পরিকল্পিত ধর্ষনের পর আমাদের ঘরের মেয়েদের চিতায় তুলে প্রমাণের অবশেষটুকুকে এরা মিটিয়ে দিতে চায়, পুলওয়ামার কণভয়ে হামলা হয় সুরক্ষার অভাবে আর হাথারাসের রাস্তায় হাজার পুলিসের নিশ্ছিদ্র বলয় তৈরি হয় বিরোধী আঁটকাতে- এটাই এরা পারে। তবে এদেরও বোধোদয় হবে, অবশ্য তদ্দিন এদের রাজনৈতিক স্বত্তা ওভাবেই রাতের আঁধারে চিতাতেই যে জ্বলবে তা বলাই বাহুল্য, কারণ এটাই ইতিহাসের শিক্ষা।

অপরিকল্পিতভাবে লকডাউনে অধিকাংশ ব্যক্তিই নিজেকে সুনিশ্চিত ভাবে নিজেকে কর্মহীন করতে পেরেছে, এই সরকারের কাছে লকডাউনের ক্ষয়ক্ষতি তো দুরস্থান- কত MSME কারখানা বন্ধ হয়েছে, কতো পরিযায়ী শ্রমিক মরেছে, দেশে বেকারত্বের হার কতো এ সব বিষয়ে কোনো তথ্যই নেই। তথাপি নির্লজ্জের মতো এগুলো স্বীকার করতেও ইজ্জতে বাঁধেনা এদের। সরকারের উমেদার- গাঁজাখোর সফট পর্ন নায়িকাকে জেড-প্লাস সিকিউরিটি দেওয়া আর সরকারের মানুষ বিরোধী নীতির বিরুদ্ধে মুখ খোলা ব্যক্তিকে মামলা দিয়ে হ্যারেজমেন্ট করার বাইরে এদের কোন তৃতীয় এজেন্ডা নেই।

‘এ কেমন রাষ্ট্রপিতা’ প্রশ্ন তোলার দিন শেষ, এখন গণবিদ্রোহের মধ্য দিয়ে এদের ক্ষমতাচুত্য করাই হোক এক ও অদ্বিতীয় লক্ষ্য।

শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২০

ব্ল্যাকআউটের ভ্রূকুটি

 



চতুর্দিকে নানান গবেষণামূলক প্রবন্ধ পড়ে একটা জিনিস বুঝতে পারছি যে, খুব শিগগিরই আমাদের দেশ সহ গোটা পৃথিবী জুড়েই একটা ব্ল্যাকআউটের থাবা গ্রাস করতে চলেছে সম্ভবত। হতে পারে কোয়ান্টাম কম্পিউটার দিয়ে হ্যাকিং করবে অবশিষ্ট সমস্ত সিস্টেমকে। সেক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, যোগাযোগ ব্যবস্থা ধসে পড়া, নেভিগেশন সিস্টেমের বিকল হয়ে যাওয়া, মোবাইল টেকনোলোজির স্তব্ধ হয়ে যাওয়া থেকে আমাদের ভাবনার অতীত এমন সব দুর্যোগ আসতে পারে। মোবাইল টেকনোলজিই যখন থাকবেনা তখন ইন্টারনেট দ্বারা আজকের এই ‘জ্ঞান ও যোগাযোগের’ যে আদানপ্রদান এ সবই সেদিন স্তব্ধ হয়ে যাবে, কোন কিছুই কাজ করবেনা।

যদিও বিগত দু’দশক ধরে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে ক্রমাগত সাইবার হামলার এমন আশঙ্কাকে বাজারি খবরে নিয়মিত জিইয়ে রেখে দেওয়ার দরুন এ বিষয়ে জনগণ আর সেভাবে ভয় পায়না আজকাল। অনেক সময় নিয়ে এই উদাসীনতা তৈরি করা গেছে জনমানসে। পুঁজিবাদিরা যে ধ্বংসের মাঝেও নিজেদের মুনাফা খুঁজে নেয়, করোনাকালে তা আমরা দেখেছি, তার জন্যই এই প্রস্তুতি। ডলারের পতন আসন্ন এটা নিশ্চিত, পেট্রো ডলারের অর্থনীতি তার ‘ডেট অফ এক্সপেয়ারি’ অনেক আগেই পেরিয়ে গিয়ে এখন বোনাসে চলছে, এই অবস্থায় একটা চরম ঝাঁকুনি দিয়ে নতুন অর্থব্যবস্থার প্রবর্তনা না হলে দেউলিয়া সুদী অর্থনীতি নিজেকে বিস্তার করতে পারবেনা। সুতরাং নতুন অর্থনীতি ব্যবস্থার জন্যই একটা থেমে আবার শুরুর জন্য ‘ব্ল্যাকআউট’ ভীষণ জরুরী, কারণ ধ্বংসের মাঝেই সৃষ্টির বীজ থাকে।

বর্তমানে আবার ‘নিম্ন সৌর’ বৎসরকাল চলছে, হতেই পারে কোনো উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন মহাজাগতিক রশ্মি দিয়ে কিছু একটা করে বসবে ক্ষমতাধরেরা; কিম্বা পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তনের গল্প ফেঁদে আসলে এমন কিছু একটা করা যাতে পৃথিবীর অবাঞ্ছিত গরীব সম্প্রদায়কে অনেকটাই কমিয়ে ফেলা যায় ধর্ম বর্ণ রাষ্ট্র নির্বিশেষে। মোদ্দাকথা ‘ইলুমিনাতি-মেসনস-রেড ল্যান্টার্ন্স-ব্ল্যাক ড্রাগনস-ক্রোকোডাইল-আইরিশ ব্রাদারহুড-অর্ডার অফ স্টার- রসিক্রিয়ানিজম- ব্ল্যাক হ্যান্ড-ডেবিউন্টে’ ইত্যাদিদের মতো সিক্রেট সংগঠন গুলো ভিসন-২১ নামের যে মারণ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে তাতে কমপক্ষে কয়েকশো কোটি মানুষ এর শিকার হতে পারে।

করোনা আরও শক্তিশালী মারণ ক্ষমতা নিয়ে ফিরে আসাটাও এই পরিকল্পনারই অংশ, এক্ষেত্রে মর্টালিটি রেট ২০% এর আশেপাশে রাখাটাই লক্ষ্য। কোনো মাস্ক, ভ্যাকসিনই এর থেকে মুক্তি দেবেনা। ইতি মধ্যেই বিল গেটসের সহযোগী এদেশের সিরাম ইন্সটিটিউটের ‘পুনাওয়ালা’ সরকারের কাছে ৮০ হাজার কোটি মজুদ রাখতে বলেছে ভ্যাকসিনের জন্য, সুতরাং লগ্নিকারীরা যথেষ্ট মুনাফা না কামানো পর্যন্ত এই মহামারী যাবেনা। অতএব, ২০২০ সালের শেষ থেকে ২০২১ এর শেষ পর্যন্ত ভিসন টুয়েন্টি ওয়ান পরিকল্পনার বাস্তবায়নের মধ্যেই ইলুমিনাতিরা এই দুর্যোগ ঘটাতে চলেছে বিশ্বজুড়ে। কিছুদিন আগের একটা নিবন্ধে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলাম বিশ্ব যুদ্ধের, সেটার মধ্যেই হয়তো বাকিগুলো অন্তর্ভুক্ত আছে, আর্মেনিয়া-আজারবাইজান দিয়ে শুভ মহরৎ অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে, পরবর্তীতে তুরস্ক-গ্রিস। এদিকে এলিটরা সেই মতো তাদের নিজেদের জন্য সুরক্ষা বলয় তৈরি করেছে বলেই কন্সপিরেসি থিয়োরিস্টদের দাবি আছে তথ্যপ্রমাণ সহ।

কারা এই সোসাইটির সদস্য! মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা CIA এর একটি রিপোর্ট “Bloodlines of the Illuminati” নামের একটা pdf মতে ১৩টি পরিবারের নাম পাওয়া যায়, যারা বিশ্ব শাসন করছে। প্রসঙ্গত এরা সকলেই ইহুদী জায়নবাদি। প্রত্যেকেই শক্তিশালী পরিবার, একতাই এদের মূল শক্তি। মেলনস ফ্যামিলি, কার্নেগিজ ফ্যামিলি, রথচাইল্ডস ফ্যামিলি, রকফিলার্স ফ্যামিলি, ডিউকস ফ্যামিলি, অ্যাস্টার্স ফ্যামিলি, ডরানসেস ফ্যামিলি, রেনল্ডেস ফ্যামিলি, স্টিলিমানস ফ্যামিলি, বেকারস ফ্যামিলি, পাইনেস ফ্যামিলি, কুইলম্যানস ফ্যামিলি, ওয়াটসনস ফ্যামিলি হলো এই তেরোর মাঝে, এরাই সমস্ত গোপন সমিতি গুলোর কর্ণধার। নতুন শতকে প্যান ইউরোপ ও মার্কিন মুলুকের টুকস ফ্যামিলি, ক্লেইনওয়ার্টস, ডুপন্টস, ওয়ারবার্গস, ফিপ্পিস, গ্রেসস, গুগেনহেমস, মিলার্স, ড্রেক্সেলস, উইনথ্রপস, ভ্যানডারবিল্টস, হুইটনিস, হার্কিনিস দের মতো কয়েকটি অতি ধনী পরিবার এই গোপন সমিতি গুলোর সদস্য হিসাবে যোগ দিয়েছে। এদের অধীনেই বিশ্বজোড়া প্রতিটি সেক্টরে নানান সফল পেশাদারেরা এদের দ্বারা সরাসরি পোষিত হয়ে এদের পক্ষে কর্মসম্পাদন করে থাকে।

কথিত আছে পৃথিবীর মোট অস্থাবর সম্পদের ৯১ ভাগের মালিক এরাই। ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক, ফেডারাল রিজার্ভ সব বিশ্ব ব্যাঙ্কিং সিস্টেম, বিশ্ব মিডিয়া ও সিনেমা-টিভির মালিকানা, বিশ্বের অধিকাংশ মাল্টিন্যাশানাল FMCG কোম্পানির ৯৯% এরাই কুক্ষিগত করে রেখেছে, চীন ও উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি ব্যাতিরেকে। উপরের এই পরিবারগুলোকে কখনও কোনো ধনীর তালিকাতে দেখবেননা, ফোর্বস ম্যাগাজিন হোক বা ‘দ্য ইকোনোমিস্ট’ কোথাও এদের সম্বন্ধে কোনো তথ্য পাওয়া যাবেনা। কিন্তু এরাই মূলত বিশ্বের চালিকাশক্তি।

ষড়যন্ত্রের যে জাল তৈরি করেছে এরা, তা আসলে অনেক পুরাতন একটা এজেন্ডা। ওয়ান অর্ডার ওয়ার্ল্ড। কোয়ান্টাম কম্পিউটার সমৃদ্ধ তথা বেশকিছু উপগ্রহ সিস্টেম মহাকাশে ঘুরছে, যেগুলোর ঘোষিত মালিক চিন। আমেরিকা তথা নাসা কোনো কোয়ান্টাম কম্পিউটার চালিত স্যাটেলাইট পাঠাতে সক্ষম হয়েছে কিনা তার কোনো পরিষ্কার তথ্য নেই, অফিশিয়ালি জানায়নি আজও। বাইনারি কম্পিউটারের এলগরিদম দিয়ে কোয়ান্টাম কম্পিউটারকে হ্যাক করা যায়না, কিন্তু একটা কোয়ান্টাম কম্পিউটার বাইনারির যাবতীয় সুরক্ষা কবজ খেয়ে ফেলতে পারে মূহুর্তে। সুতরাং বুঝতেই পারছেন, এমন একটা ঘটনা সত্যিই যদি ঘটে, বিশ্বে মানচিত্র যে আবার নতুন করে লেখা হবে তা বলাই বাহুল্য। হাইব্রিড গণতন্ত্রের যে চাষ গত শতকে শুরু হয়েছিল, তা আবার নতুন ক্ষমতাধরেদের গোমস্তাতে পরিণত হবে সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। নতুন পোশাকে উপনিবেশবাদের চাষ হবে।

সুতরাং রাশিয়া, চীন বা আমেরিকা যাদের তরফ থেকেই আক্রমণ/অভিযোগ হোক- একটা যে ব্ল্যাকআউট আসতে চলেছে এ বিষয়ে নিশ্চিত থাকতে পারেন; যার ফল ভুগবো আমরা। যদি আপনি চীনা নাগরিক হন, সম্ভবত তাহলে আপনার ভয় বাকিদের চেয়ে অনেকটাই কম। সুতরাং সিট বেল্ট বেঁধে নিন আর মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকুন এমন একটা পরিস্থিতির মোকাবিলা করার জন্য। খাদ্যদ্রব্য, সুরক্ষা বস্তু, নগদ অর্থ, প্রিসিয়াস মেটাল, ওষুধপত্র, জ্বালানী ইত্যাদি সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জরুরী সামগ্রী যতটা সম্ভব অন্তত ছয় মাসের জন্য একটা মজুদ ব্যবস্থা গড়ে রাখাটাই বোধহয় উত্তম।

আর হ্যাঁ, অনলাইনে বা ক্লাউড স্টোরে আপনার যে সকল- স্মৃতি, ছবি, ডকুমেন্টস রয়েছে সেগুলোর মাঝে গুরুত্বপুর্ন গুলো হার্ড কপিতে ট্রান্সফার করে নিতে ভুলবেননা।

এ বিষয়ে আপনি কিছু জেনে থাকলে, কিম্বা আমার কোনো বোঝার ভুল হলে সেই বিষয়টা শেয়ার করতে পারেন কমেন্টে। 

বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২০

কৃষি বিল প্রত্যাহার



কৃষি বিল প্রত্যাহারের প্রতিবাদ, অজয় সিং বিস্তের অন্ধকার-রাজ্যে দলিত কন্যা ধর্ষণ-মৃত্যু ও প্রমান লোপের জন্য প্রতিবাদ, বাবরি মসজিদ ধ্বংসের প্রসহন ও হাস্যকর রায়ের বিরুদ্ধে আওয়াজের পাশাপাশি যে আওয়াজটা সরকার চেপে দিতে চেইবে সেটার দিকেও একটু নজর দিন। আম্বাদানির দালাল মাঙ্কি-বাত ও পোষ্য মিডিয়া দিয়ে পাব্লিককে লোমের গল্প শুনিয়ে ভুলিয়ে রাখার চেষ্টার ত্রুটি রাখবেনা, কিন্তু দেশের অর্থনীতির সাথে আমাদের প্রত্যেকের রুটিরুজি, দেশের অখন্ডতা ও বাকি সকল কিছু নির্ভরশীল।


শেষ ছ'মাসে কেন্দ্রীয় রাজকোষ ঘাটতি পৌঁছেছে বাজেটের ১০৯% তে। CAG এর একটি রিপোর্টে এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ষাণ্মাসিক হিসাব এটা। এই সময়ে সরকারের ব্যায় হয়েছে ১২.৪৮ লক্ষ কোটি টাকা, কিন্তু আমদানি হয়েছে মাত্র ৩.৭১ লক্ষ কোটি টাকা। আয় ও ব্যায়ের মাঝে এই মুহুর্তে ফারাক হচ্ছে ৮ লক্ষ ৭০ হাজার কোটি। অপ্রত্যক্ষ কর আদায় কমেছে ২৪% আর প্রত্যক্ষ করের ক্ষেত্রে এই ঘাটতি ৮৬% প্রায়। কর্পোরেট ট্যাক্স কমেছে ৪২% হারে। বাজারের যা গতি তাতে এই পতনের ধারা অব্যহতই থাকবে বলে আশঙ্কা করছে বিশেষজ্ঞেরা।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, পেট্রোলিয়াম প্রোডাক্টে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি কর মোদী দরকার আদায় করছে, লিটারে ৩২ টাকারও বেশি। এটাই কংগ্রেসের আমলে ছিল পেট্রোলে ১০ টাকা ও ডিজেলে ৪ টাকার একটু বেশি। তাতেও দেশের GDP ১০% এর আশেপাশেই ছিল। গোসন্তানদের সরকারের হাতে দেশের গনধর্ষন এমন হারে হয়েছে যে নিরব মোদী-বিজয় মালিয়ার মতো ফেকু মোদী-অমিত শাহ জুটি না শেষে বিদেশে পালিয়ে যায়- আম্বাদানিকে দেশের সরকার বেচে দিয়ে।

অপরিকল্পিত লকডাউনে ধর্মের জিগিরে বাঁচা, মূর্খ মিথ্যুকের হাতে দেশের শাসন ভার থাকলে যা হওয়ার ছিল, সেটাই হয়েছে। আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের শেষ পর্যন্ত এই নিম্নমুখীতা কোথায় গিয়ে পৌছাবে তা কেবল ভগবানই জানে, কারন এটাও Act of God হিসাবেই বিবৃতি আসবে মোদী-সীতা জুটির থেকে।

আপনাকে আড়াই গ্রাম গাঁজার জন্য এরেস্ট হওয়া অসফল নায়িকার গল্পে বুঁদ করে রাখা তো এই জন্যই, সফট পর্ণ নায়িকাকে Y+ সিকিউরিটি দিয়ে রোজ চ্যাঁটের গল্প ফেঁদে আপনাকে আমাকে ওদের প্রতিই আঁটকে রেখে দেবে স্ক্রিপ্টেড যাত্রাপালায়। শিঘ্রই সেপ্টেম্বর কোয়ার্টারের GDP রিপোর্টও আসবে, যা শেষ জুনের হিসাবে ২৩.৯% মাইনাসে ছিল, তা যে আরো ডুববে সেটা বলাই বাহুল্য। কতো ডুববে এখন সেটাই দেখার।

এর মাঝে ভক্তদের জন্য আনন্দের খবর হচ্ছে, ঠিক শেষ ছ'মাসে আম্বানির সম্পত্তি বেড়েছে ঘন্টায় ৯০ কোটি টাকা হিসাবে মোট সম্পদের ৭৩%। বর্তমানে আম্বানির রিলায়েন্স ইন্ড্রাস্ট্রিজ সম্পূর্ণ ঋণমুক্ত। দেশের ঋণ বেড়েছে প্রায় ৯ লক্ষ কোটি।

আচ্ছে দিনের বিকাশের এটাই গণিত।

বাঁচতে চাইলে বাস্তিল দূর্গের পতন যেভাবে হয়েছিল, আগামীতে নাগপুরের গোয়ালের অবস্থা তার চেয়েও সঙ্গীন না করতে পারলে ভবিষ্যৎকে আমরা সুরক্ষিত করতে পারবোনা। বাংলাদেশে জামাতি-রাজাকারদের যেভাবে ধরে ধরে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছিল বিচারের প্রক্রিয়ায়- মোদী গ্যাং এরও প্রত্যেকের জন্য তেমনই কিছু তোলা রয়েছে হয়তো দেশ বিক্রির ঘৃণ্য অপরাধে- যেটা Act of God এর আওতাতেই গণ্য হবে ইতিহাসে।

নতুবা, আমরা তো এদের সয়ে নিচ্ছি, কিন্তু এর পর?

ছবিটা নেট থেকে ডাউনলোড করা, শুধুমাত্র আপনার মনোযোগ আকর্ষণের জন্য। লেখার সাথে ছবির সামান্যতম যোগ নেই

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...